লোড হচ্ছে…
লোড হচ্ছে…
النازعات
প্রচেষ্টাকারী (An-Nazi'at) · ৪৬ আয়াত · মক্কী
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
وَٱلنَّـٰزِعَـٰتِ غَرْقًا
ওয়ান্না-ঝি‘আ-তি গারকা-।
ভাবো প্রচেষ্টাকারীদের প্রচন্ড-প্রচেষ্টার কথা;
وَٱلنَّـٰشِطَـٰتِ نَشْطًا
ওয়ান্না-শিতা-তি নাশতা-।
আর ক্ষিপ্রগামীদের ত্বরিত এগুনোয়,
وَٱلسَّـٰبِحَـٰتِ سَبْحًا
ওয়াছছা-বিহা-তি ছাবহা-।
আর সন্তরণকারীদের দ্রত সন্তরণে,
فَٱلسَّـٰبِقَـٰتِ سَبْقًا
ফাছছা-বিকা-তি ছাবকা-।
আর অগ্রগামীরা এগিয়েই চলেছে,
فَٱلْمُدَبِّرَٰتِ أَمْرًا
ফাল মুদাব্বিরা-তি আমরা-।
তারপর ঘটনানিয়ন্ত্রণকারীদের কথা!
يَوْمَ تَرْجُفُ ٱلرَّاجِفَةُ
ইয়াওমা তারজুফুররা-জিফাহ।
সেদিন স্পন্দিত হবে বিরাট স্পন্দনে,
تَتْبَعُهَا ٱلرَّادِفَةُ
তাতবা‘উহার রা-দিফাহ।
পরবর্তী ঘটনা তাকে অনুসরণ করবেই।
قُلُوبٌ يَوْمَئِذٍ وَاجِفَةٌ
কূলূবুইঁ ইয়াওমাইযিওঁ ওয়া-জিফাহ।
হৃদয় সেদিন সন্ত্রস্ত হবে,
أَبْصَـٰرُهَا خَـٰشِعَةٌ
আবসা-রুহা-খা-শি‘আহ।
তাদের চোখ হবে অবনত।
يَقُولُونَ أَءِنَّا لَمَرْدُودُونَ فِى ٱلْحَافِرَةِ
ইয়াকূ লূনা আ ইন্না-লামারদূদূনা ফিল হা-ফিরাহ।
তারা বলছে -- ''আমরা কি সত্যিই প্রথমাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হব?
أَءِذَا كُنَّا عِظَـٰمًا نَّخِرَةً
আইযা-কুন্না-‘ইজা-মান নাখিরাহ।
''যখন আমরা গলা-পচা হাড্ডি হয়ে যাব তখনও?’’
قَالُوا۟ تِلْكَ إِذًا كَرَّةٌ خَاسِرَةٌ
কা-লূতিলকা ইযান কাররাতুন খা-ছিরাহ।
তারা বলে -- ''তাই যদি হয় তবে এ হবে সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন।’’
فَإِنَّمَا هِىَ زَجْرَةٌ وَٰحِدَةٌ
ফাইন্নামা-হিয়া ঝাজরাতুওঁ ওয়া-হিদাহ ।
কিন্ত এটি নিশ্চয়ই হবে একটি মহাগর্জন,
فَإِذَا هُم بِٱلسَّاهِرَةِ
ফাইযা-হুম বিছছা-হিরাহ।
তখন দেখো! তারা হবে জাগ্রত।
هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ مُوسَىٰٓ
হাল আতা-কা হাদীছুমূছা-।
তোমার কাছে মূসার কাহিনী পৌঁছেছে কি? --
إِذْ نَادَىٰهُ رَبُّهُۥ بِٱلْوَادِ ٱلْمُقَدَّسِ طُوًى
ইযনা-দা-হু রাব্বুহূবিলওয়া-দিল মুকাদ্দাছি তুওয়া-।
যখন তাঁর প্রভু তাঁকে আহ্বান করেছিলেন পবিত্র উপত্যকা 'তুওয়া’তে --
ٱذْهَبْ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُۥ طَغَىٰ
ইযহাব ইলা-ফির‘আওনা ইন্নাহূতাগা-।
''ফিরআউনের কাছে যাও, সে নিশ্চয়ই বিদ্রোহ করেছে --
فَقُلْ هَل لَّكَ إِلَىٰٓ أَن تَزَكَّىٰ
ফাকুল হাল্লাকা ইলাআন তাঝাক্কা-।
''তারপর বলো -- 'তোমার কি আগ্রহ আছে যে তুমি পবিত্র হও?’
وَأَهْدِيَكَ إِلَىٰ رَبِّكَ فَتَخْشَىٰ
ওয়া আহদিয়াকা ইলা-রাব্বিকা ফাতাখশা-।
''আমি তাহলে তোমাকে তোমার প্রভুর দিকে পরিচালিত করব যেন তুমি ভয় করো’।’’
فَأَرَىٰهُ ٱلْـَٔايَةَ ٱلْكُبْرَىٰ
ফাআরা-হুল আ-য়াতাল কুবরা-।
তারপর তিনি তাকে দেখালেন একটি বিরাট নিদর্শন।
فَكَذَّبَ وَعَصَىٰ
ফাকাযযাবা ওয়া‘আসা-।
কিন্ত সে মিথ্যা আরোপ করল ও অবাধ্য হল।
ثُمَّ أَدْبَرَ يَسْعَىٰ
ছু ম্মা আদবারা ইয়াছ‘আ-।
তারপর সে চলে গেল প্রচেষ্টা চালাতে;
فَحَشَرَ فَنَادَىٰ
ফাহাশারা ফানা-দা-।
তারপর সে জড়ো করল এবং ঘোষণা করলো,
فَقَالَ أَنَا۠ رَبُّكُمُ ٱلْأَعْلَىٰ
ফাকা-লা আনা রাব্বুকুমুল আ‘লা-।
এবং বললো -- ''আমিই তোমাদের প্রভু, সর্বোচ্চ।’’
فَأَخَذَهُ ٱللَّهُ نَكَالَ ٱلْـَٔاخِرَةِ وَٱلْأُولَىٰٓ
ফাআখাযাহুল্লা-হু নাকা-লাল আ-খিরাতি ওয়াল ঊলা-।
সেজন্য আল্লাহ্ তাকে পাকড়াও করলেন পরকালের ও পূর্বের জীবনের দৃষ্টান্ত বানিয়ে।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّمَن يَخْشَىٰٓ
ইন্না ফী যা-লিকা লা‘ইবরাতাল লিমাইঁ ইয়াখশা-।
নিঃসন্দেহ এতে বাস্তব শিক্ষা রয়েছে তার জন্য যে ভয় করে।
ءَأَنتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ ٱلسَّمَآءُ ۚ بَنَىٰهَا
আ আনতুম আশাদ্দুখালকান আমিছ ছামাউ বানা-হা-।
তোমরা কি সৃষ্টিতে কঠিনতর, না মহাকাশ? তিনিই এ-সব বানিয়েছেন।
رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّىٰهَا
রাফা‘আ ছামকাহা-ফাছাওয়া-হা-।
তিনি এর উচ্চতা উন্নীত করেছেন, আর তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন,
وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَىٰهَا
ওয়া আগতাশা লাইলাহা-ওয়া আখরাজা দুহা-হা-।
আর এর রাতকে তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন, আর বের করে এনেছেন এর দিবালোক।
وَٱلْأَرْضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَىٰهَآ
ওয়াল আর দা বা‘দা যা-লিকা দাহা-হা-।
আর পৃথিবী -- এর পরে তাকে প্রসারিত করেছেন।
أَخْرَجَ مِنْهَا مَآءَهَا وَمَرْعَىٰهَا
আখরাজা মিনহা-মাআহা-ওয়া মার‘আ-হা-।
এর থেকে তিনি বের করেছেন তার জল, আর তার চারণভূমি।
وَٱلْجِبَالَ أَرْسَىٰهَا
ওয়াল জিবা-লা আরছা-হা।
আর পাহাড়-পর্বত -- তিনি তাদের মজবুতভাবে বসিয়ে দিয়েছেন, --
مَتَـٰعًا لَّكُمْ وَلِأَنْعَـٰمِكُمْ
মাতা-‘আল্লাকুম ওয়ালি আন‘আ-মিকুম।
তোমাদের জন্য ও তোমাদের গবাদি-পশুর জন্য খাদ্যের আয়োজন।
فَإِذَا جَآءَتِ ٱلطَّآمَّةُ ٱلْكُبْرَىٰ
ফাইযা-জাআত্তিত্তাম্মাতুল কুবরা-।
তারপর যখন ভীষণ দুর্বিপাক আসবে,
يَوْمَ يَتَذَكَّرُ ٱلْإِنسَـٰنُ مَا سَعَىٰ
ইয়াওমা ইয়াতাযাক্কারুল ইনছা-নুমা-ছা‘আ-।
সেইদিন মানুষ স্মরণ করবে যার জন্য সে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল,
وَبُرِّزَتِ ٱلْجَحِيمُ لِمَن يَرَىٰ
ওয়া বুররিঝাতিল জাহীমুলিমাইঁ ইয়ারা-।
আর ভয়ংকর আগুন দৃষ্টিগোচর করানো হবে যে দেখে তার জন্য।
فَأَمَّا مَن طَغَىٰ
ফাআম্মা-মান তাগা-।
তাছাড়া তার ক্ষেত্রে যে সীমালংঘন করেছে,
وَءَاثَرَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا
ওয়া আ-ছারাল হায়া-তাদ্দুনইয়া-।
এবং দুনিয়ার জীবনকেই বেছে নিয়েছে,
فَإِنَّ ٱلْجَحِيمَ هِىَ ٱلْمَأْوَىٰ
ফাইন্নাল জাহীমা হিয়াল মা’ওয়া-।
সেক্ষেত্রে অবশ্য ভয়ংকর আগুন, -- সেটাই তো বাসস্থান।
وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ وَنَهَى ٱلنَّفْسَ عَنِ ٱلْهَوَىٰ
ওয়া আম্মা-মান খা-ফা মাকা-মা রাব্বিহী ওয়া নাহান্নাফছা ‘আনিল হাওয়া-।
পক্ষান্তরে যে তার প্রভুর সামনে দাঁড়াতে ভয় করে এবং আত্মাকে কামনা-বাসনা থেকে নিবৃত্ত রাখে --
فَإِنَّ ٱلْجَنَّةَ هِىَ ٱلْمَأْوَىٰ
ফাইন্নাল জান্নাতা হিয়াল মা’ওয়া।
সেক্ষেত্রে অবশ্য জান্নাত, -- সেটাই তো বাসস্থান।
يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلسَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَىٰهَا
ইয়াছা‘আলূনাকা ‘আনিছ ছা-‘আতি আইইয়া-না মুরছা-হা-।
তারা ঘড়ি-ঘান্টা সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে -- কখন তার আগমন হবে?’’
فِيمَ أَنتَ مِن ذِكْرَىٰهَآ
ফীমা আনতা মিন যিকরা-হা-।
এ-সন্বন্ধে বলবার মতো তোমার কী আছে?
إِلَىٰ رَبِّكَ مُنتَهَىٰهَآ
ইলা-রাব্বিকা মুনতাহা-হা-।
এর চরম সীমা রয়েছে তোমার প্রভুর নিকট।
إِنَّمَآ أَنتَ مُنذِرُ مَن يَخْشَىٰهَا
ইন্নামাআনতা মুনযিরু মাইঁ ইয়াখশা-হা-।
তুমি তো শুধু সতর্ককারী তার জন্য যে এ-সন্বন্ধে ভয় করে।
كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوٓا۟ إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَىٰهَا
কাআন্নাহুম ইয়াওমা ইয়ারাওনাহা-লাম ইয়ালবাছূইল্লা-‘আশিইইয়াতান আও দুহা- হা।
যেদিন তারা একে দেখবে সেদিন যেন তারা মাত্র এক সন্ধ্যাবেলা বা তার প্রভাতকাল ব্যতীত অবস্থান করে নি।