লোড হচ্ছে…
লোড হচ্ছে…
النبإ
মহাসংবাদ (An-Naba) · ৪০ আয়াত · মক্কী
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
عَمَّ يَتَسَآءَلُونَ
‘আম্মা ইয়াতাছাআলুন।
কি সন্বন্ধে তারা পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?
عَنِ ٱلنَّبَإِ ٱلْعَظِيمِ
‘আনিন্নাবাইল ‘আজীম।
সেই মহাসংবাদ সন্বন্ধে --
ٱلَّذِى هُمْ فِيهِ مُخْتَلِفُونَ
আল্লাযী হুম ফীহি মুখতালিফূন।
যে বিষয়ে তারা মতানৈক্যের মধ্যে রয়েছে।
كَلَّا سَيَعْلَمُونَ
কাল্লা-ছাইয়া‘লামূন।
না, তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।
ثُمَّ كَلَّا سَيَعْلَمُونَ
ছু ম্মা কাল্লা-ছাইয়া‘লামূন।
পুনশ্চ, না, তারা অতিশীঘ্রই জানতে পারবে।
أَلَمْ نَجْعَلِ ٱلْأَرْضَ مِهَـٰدًا
আলাম নাজ‘আলিল আরদা মিহা-দা-।
আমরা কি পৃথিবীটাকে পাতানো-বিছানারূপে বানাই নি,
وَٱلْجِبَالَ أَوْتَادًا
ওয়াল জিবা-লা আওতা-দা।
আর পাহাড়-পর্বতকে খুটিরূঁপে?
وَخَلَقْنَـٰكُمْ أَزْوَٰجًا
ওয়া খালাকনা-কুম আঝওয়া-জা-
আর আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি জোড়ায়-জোড়ায়;
وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا
ওয়া জা‘আলনা-নাওমাকুম ছুবা-তা।
আর তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রাম,
وَجَعَلْنَا ٱلَّيْلَ لِبَاسًا
ওয়া জা‘আলনাল্লাইলা লিবা-ছা।
আর রাতকে করেছি পোশাকস্বরূপ;
وَجَعَلْنَا ٱلنَّهَارَ مَعَاشًا
ওয়া জা‘আলনান্নাহা-রা মা‘আ-শা-।
আর দিনকে করেছি জীবিকার সংস্থান।
وَبَنَيْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًا شِدَادًا
ওয়া বানাইনা-ফাওকাকুম ছাব‘আন শিদা-দা-।
আর তোমাদের উপরে আমরা বানিয়েছি সাত মজবুত জিনিস,
وَجَعَلْنَا سِرَاجًا وَهَّاجًا
ওয়া জা‘আলনা-ছিরা-জাওঁ ওয়াহহা-জা-।
আর তৈরি করেছি একটি অত্যুজ্জ্বল প্রদীপ,
وَأَنزَلْنَا مِنَ ٱلْمُعْصِرَٰتِ مَآءً ثَجَّاجًا
ওয়া আনঝালনা-মিনাল মু‘সিরা-তি মাআন ছাজ্জা-জা-।
আর ঝরন্ত-মেঘ থেকে আমরা বর্ষণ করি প্রচুর বৃষ্টি,
لِّنُخْرِجَ بِهِۦ حَبًّا وَنَبَاتًا
লিনুখরিজা বিহী হাব্বাওঁ ওয়া নাবা-তা-।
যেন তার দ্বারা গজাতে পারি শস্য ও গাছপালা,
وَجَنَّـٰتٍ أَلْفَافًا
ওয়া জান্না-তিন আলফা-ফা-।
আর ঘনসন্নিবিষ্ট বাগানসমূহ।
إِنَّ يَوْمَ ٱلْفَصْلِ كَانَ مِيقَـٰتًا
ইন্না ইয়াওমাল ফাসলি কা-না মীকাতা-।
নিশ্চয় ফয়সালা করার দিনের এক নির্ধারিত সময়কাল আছে --
يَوْمَ يُنفَخُ فِى ٱلصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًا
ইয়াওমা ইউনফাখুফিসসুরি ফাতা’তূনা আফওয়া-জা।
সেইদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন তোমরা আসবে দলে-দলে,
وَفُتِحَتِ ٱلسَّمَآءُ فَكَانَتْ أَبْوَٰبًا
ওয়া ফুতিহাতিছ ছামাউ ফাকা-নাত আবওয়া-বা-।
আর আকাশকে বিদীর্ণ করা হবে, সুতরাং তা হবে বহু-দরজা-বিশিষ্ট।
وَسُيِّرَتِ ٱلْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا
ওয়া ছুইয়িরাতিল জিবা-লুফাকা-নাত ছারা-বা-।
আর পাহাড়গুলো ধসে পড়বে, ফলে তা হবে বালুময়-মরীচিকা।
إِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتْ مِرْصَادًا
ইন্না জাহান্নামা কা-নাত মিরসা-দা-।
নিঃসন্দেহ জাহান্নাম -- তা প্রতীক্ষায় রয়েছে --
لِّلطَّـٰغِينَ مَـَٔابًا
লিত্তা-গীনা মাআ-বা-।
সীমালংঘনকারীদের জন্য প্রত্যাবর্তনস্থল; --
لَّـٰبِثِينَ فِيهَآ أَحْقَابًا
লা-বিছীনা ফীহাআহকা-বা-।
সেখানে তারা অবস্থান করবে যুগ যুগ ধরে।
لَّا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرْدًا وَلَا شَرَابًا
লা-ইয়াযূকূনা ফীহা-বারদাওঁ ওয়ালা-শারা-বা-।
তারা সেখানে স্বাদ গ্রহণ করবে না শীতলতার, না কোনো পানীয়ের --
إِلَّا حَمِيمًا وَغَسَّاقًا
ইল্লা-হামীমাওঁ ওয়াগাছছা-কা-।
শুধু ফুটন্ত জল ও হিমশীতল পানীয় ব্যতীত, --
جَزَآءً وِفَاقًا
জাঝাআওঁবিফা-কা-।
এক যথাযথ প্রতিদান।
إِنَّهُمْ كَانُوا۟ لَا يَرْجُونَ حِسَابًا
ইন্নাহুম কা-নূলা-ইয়ারজুনা হিছা-বা-।
নিঃসন্দেহ তারা হিসাবের কথা ভাবে নি,
وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَا كِذَّابًا
ওয়া কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা-কিযযা-বা।
আর আমাদের বাণীসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল জোর প্রত্যাখ্যানে।
وَكُلَّ شَىْءٍ أَحْصَيْنَـٰهُ كِتَـٰبًا
ওয়া কুল্লা শাইয়িন আহসাইনা-হু কিতা-বা-।
আর সব-কিছুই -- আমরা তা লিখিতভাবে সংরক্ষণ করছি,
فَذُوقُوا۟ فَلَن نَّزِيدَكُمْ إِلَّا عَذَابًا
ফাযূকূফালান নাঝীদাকুম ইল্লা-‘আযা-বা-।
সুতরাং স্বাদ গ্রহণ করো, আমরা তোমাদের বাড়িয়ে দেবো না শাস্তি ব্যতীত।
إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا
ইন্না লিলমুত্তাকীনা মাফা-ঝা-।
ধর্মভীরুদের জন্য নিশ্চয়ই রয়েছে মহাসাফল্য --
حَدَآئِقَ وَأَعْنَـٰبًا
হাদাইকা ওয়া আ‘না-বা-।
ফলের বাগান ও আঙুর,
وَكَوَاعِبَ أَتْرَابًا
ওয়া কাওয়া-‘ইবা আতরা-বা-।
আর সমবয়স্ক ফুটফুটে কিশোর,
وَكَأْسًا دِهَاقًا
ওয়া কা’ছান দিহা-কা-।
আর পরিপূর্ণ পানপাত্র।
لَّا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا كِذَّٰبًا
লা-ইয়াছমা‘উনা ফীহা-লাগওয়াওঁ ওয়ালা-কিযযা-বা-।
তারা সেখানে খেলো কথা শুনবে না, আর মিথ্যাকথাও নয়।
جَزَآءً مِّن رَّبِّكَ عَطَآءً حِسَابًا
জাঝাআম মির রাব্বিকা ‘আতাআন হিছা-বা-।
তোমার প্রভুর কাছ থেকে প্রতিফল, -- হিসাবমতো পুরস্কার, --
رَّبِّ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ٱلرَّحْمَـٰنِ ۖ لَا يَمْلِكُونَ مِنْهُ خِطَابًا
রাব্বিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়ামা-বাইনাহুমাররাহমা-নি লা-ইয়ামলিকূনা মিনহু খিতা-বা-।
মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর এবং তাদের মধ্যে যা-কিছু আছে তার প্রভু, পরম করুণাময়, তাঁর কাছে বক্তব্য রাখার কোনো ক্ষমতা তারা রাখে না।
يَوْمَ يَقُومُ ٱلرُّوحُ وَٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ صَفًّا ۖ لَّا يَتَكَلَّمُونَ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ ٱلرَّحْمَـٰنُ وَقَالَ صَوَابًا
ইয়াওমা ইয়াকূমুর রূহুওয়াল মালাইকাতুসাফফাল লা-ইয়াতাকাল্লামূনা ইল্লা-মান আযিনা লাহুর রাহমা-নুওয়া কা-লা সাওয়া-বা-
সেইদিন আর-রূহ ও ফিরিশ্তাগণ সারবেঁধে দাঁড়াবে, পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেবেন সে ব্যতীত তাদের কেউ কথা বলতে পারবে না, আর সে সঠিক কথা বলবে।
ذَٰلِكَ ٱلْيَوْمُ ٱلْحَقُّ ۖ فَمَن شَآءَ ٱتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ مَـَٔابًا
যা-লিকাল ইয়াওমুল হাক্কু ফামান শাআত্তাখাযা ইলা-রাব্বিহী মাআ-বা-।
এইটাই মহাসত্যের দিন। অতএব যে কেউ চায় সে তার প্রভুর কাছে আশ্রয়স্থল খুঁজুক।
إِنَّآ أَنذَرْنَـٰكُمْ عَذَابًا قَرِيبًا يَوْمَ يَنظُرُ ٱلْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ وَيَقُولُ ٱلْكَافِرُ يَـٰلَيْتَنِى كُنتُ تُرَٰبًۢا
ইন্নাআনযারনা-কুম ‘আযা-বান কারীবাইঁ ইয়াওমা ইয়ানযু রুল মারউ মা-কাদ্দামাত ইয়াদা-হু ওয়া ইয়াকূলুল কা-ফিরু ইয়া-লাইতানী কুনতুতুরা-বা।
নিশ্চয় আমরা তোমাদের সতর্ক করছি এক নিকটবর্তী শাস্তি সন্বন্ধে, -- যেদিন মানুষ দেখতে পাবে তার হাত দুখানা কী আগবাড়িয়েছে, আর অবিশ্বাসী ব্যক্তি বলবে -- ''হায় আমার আফসোস! আমি যদি ধুলো হয়ে যেতাম!’’