২৯৫১. সুফইয়ান ইবন ওয়াকী (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা নিশ্চিত ভাবে যা জান তা ছাড়া আমার থেকে হাদীস বর্ণনা ক্ষেত্রে সাবধান থাকবে। যে ব্যক্তি জেনে শুনে আমর প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে সে যেন জাহান্নামকে তার আবাস বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি কুরআনে নিজের মত অনুসারে কথা বলবে সেও যেন জাহান্নামকে তার আবাস বানিয়ে নেয়।
যঈফ, মিশকাত ২৩৫, নাকদুত তাজ, যইফা ১৭৮৩, সিফাতুস সালাত, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৫১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান।
২৯৫২. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... জুন্দুব ইবন আব্দুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের মত অনুসারে কুরআন সম্পর্কে কথা বলে সে যদি শুদ্ধও বলে, তাহলেও সে অপরাধ করল।
যঈফ, মিশকাত ২৩৫, নাকদুত তাজ।
কতক আলিম শ্রেণীর সাহাবা এবং অন্যান্য উলামায়ে কিরাম (রহঃ) থেকে এইরূপ বর্ণিত আছে যে, তাঁরা ইলম ছাড়া কুরআনের তাফসীর করার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর মত ব্যক্ত করেছেন। মুজাহিদ, কাতাদা প্রমূখ (রহঃ) আলিমগণ কুরআন করীমের তাফসীর করতেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। কিন্তু তাঁদের বিষয়ে এই কথার ধারণাও করা য়ায় না যে, তাঁরা ইলম ছাড়া নিজ মত অনুসারে কুরআন সম্পর্কে কথা বলেছেন বা এর তাফসীর করেছেন। তারা ইলম ছাড়া নিজেদের পক্ষ থেকে কিছু বলেন নি বলে আমরা যে মন্তব্য করেছি তাঁদের পক্ষ থেকে বর্ণিত বক্তব্যেও এর প্রমাণ বিদ্যমান। কোন কোন হাদীস বিশারদ সুহায়ল ইবন আবূ হাযম সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। হুসায়ন ইবন মাহদী আল-বাসরী (রহঃ) ... কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, কুরআনের এমন কোন আয়াত নেই যে বিষয়ে আমি কোন রিওয়ায়ত শুনিনি।
সনদ সহীহ, মাকতু।
ইবন আবূ উমর (রহঃ) ... মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি যদি ইবন মাসঊদের কিরাআত পাঠ করতাম তবে কুরআনের অনেক এমন বিষয়ে যেগুলো সম্পর্কে আমি ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে প্রশ্ন করেছি সেগুলো সম্পর্কে আর তাঁকে জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজনবোধ করতাম না।
সনদ সহীহ, মাকতু, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৫২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
২৯৫৪. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না ও বুনদার (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়াহূদীরা হল মাগযূব আলাইহিম বা ক্রোধে নিপতিত আর নাসারারা হল পথভ্রষ্ট।
সহীহ, তাখরীজু শারহিল আকিদাতুত তাহাবিয়া ৫৩১, সহিহাহ ৩২৩৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৫৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এরপর তিনি দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেন।
২৯৫৫. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পৃথিবীর সব জায়গা থেকে এক মুঠ মাটি নিয়ে আল্লাহ্ তা’আলা আদম (আঃ)-কে বানিয়েছেন। যমীনের বৈশিষ্ট্য অনুসারে আদম সন্তানরা এসেছে। তাদের মধ্যে কেউ লাল, কেউ সাদা, কেউ কাল, আর কেউ বা এর মাঝামাঝি। তাদের কেউ কোমল, কেউ কঠোর, কেউ মন্দ, কেউ বা ভাল।
সহীহ, মিশকাত ১০০, সহীহাহ ১৬৩০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন: হাদীসটি হাসান-সহীহ।
২৯৫৬. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বাণীঃ (ادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا) (২ঃ ৫৮) (বানূ ইসরাঈল) তোমরা আনত হয়ে দ্বারে প্রবেশ কর- প্রসঙ্গে বলেছেনঃ তারা (আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে) নিতম্বের উপর ভর করে দ্বারে প্রবেশ করে।
এই সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, (فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا قَوْلاً غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ) কিন্তু এই জালিমরা তাদের যা বলা হয়েছিল তৎপরিবর্তে অন্য কথা বলল (২ঃ ৫৯) সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারা বলল, যবের ভেতর শস্য দানা।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৫৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
২৯৫৭. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবন আমির ইবন রাবীআ তার পিতা আমির ইবন রাবীআ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, এক নিবিড় অন্ধকার রাতে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। কেবলা কোন দিকে আমরা তা জানতে পারলাম না। সুতরাং আমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ বিবেচনানুযায়ী কিবলা নির্ধারণ করে সালাত (নামায)আদায় করে নেয়। সকালে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বিষয়টি উত্থাপন করি। তখন নাযিল হলঃ (فاَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ) (যে দিকে তোমরা মুখ ফিরাবে সে দিকেই আল্লাহর চেহারা (২ঃ ১১৫)।
হাসান, ইবনু মাজাহ ১০২০
হাদীসটি গারীব। আশআছ সাম্মান আবূ রাবী ... আসিম ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রহঃ) এর হাদীস ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আশআছ হাদীসের ক্ষেত্রে যঈফ।
২৯৬১. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ (كََذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا) তোমাদেরকে ’উম্মাত ওয়াসাত’ হিসাবে বানিয়েছি (২ঃ ১৪৩) সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃعَدْلاً বা ন্যায়নিষ্ঠ।
সহীহ, বুখারি ৪৪৮৭, মুসলিম।
হাদীসটি হাসান-সহীহ।
আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (কিয়ামতের দিন) নূহ (আঃ)-কে ডাকা হবে এবং জিজ্ঞাসা করা হবে, আপনি কি (আপনি কি আপনার কওমকে আল্লাহর বাণী) পৌছিয়েছিলেন? তিনি বলবেনঃ হ্যাঁ। এরপর তাঁর কওমকে ডাকা হবে। জিজ্ঞাসা করা হবে তোমাদের নিকট কি (আমার হুকুম-আহকাম) পৌছান হয়েছিল? তারা বলবেঃ আমাদের কাছে তো কোন সতর্ককারী আসেনি। কেউই তো আমাদের কাছে আসে নেই।
(নূহ (আঃ)-কে) বলা হবেঃ তোমার সাক্ষী কে?
তিনি বলবেনঃ মুহাম্মাদ ও তাঁর উম্মত।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন তোমাদেরকে আনা হবে। তোমরা সাক্ষ্য দিবে যে, তিনি (নূহ) অবশ্যই তা পৌছিয়েছেন। এই হল আল্লাহ্ তা’আলার এই বাণীর তাৎপর্যঃ
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا
এইভাবে তোমাদের আমি ন্যায়নিষ্ঠ উম্মত হিসাবে বানিয়েছি যেন তোমরা লোকদের জন্য সাক্ষী হও আর রাসূল হবেন তোমাদের সাক্ষী। (২ঃ ১৪৫)। বুখারি ৪৪৮৭
الْعَدْل - ন্যায়নিষ্ঠ।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আ’মাশ (রহঃ) থেকে অনূরূপ বর্ণিত আছে।
তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
২৯৬২. হান্নাদ (রহঃ) ..... বারা ইবন আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করেন ষোল বা সতের মাস বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে সালাত (নামায) আদায় করেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বার দিকে ফিরে সালাত (নামায) আদায় করা পছন্দ করতেন। তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেনঃ
قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ
"আকাশের দিকে আপনার বারবার তাকানো আমি লক্ষ্য করছি। সুতরাং আপনাকে আপনার পছন্দের কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। অতএব আপনি (সালাতে) মসজিদে হারামের দিকে মুখ ফিরাবেন।" (২ঃ ১৪৩) অর্থাৎ কা’বার দিকে মুখ করুন। আর তিনি নিজেও তা ভালবাসতেন। এক ব্যক্তি তার সঙ্গে (ঐ দিন) আসরের সালাত (নামায) আদায় করে আনসারদের একটি সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তখনও বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে আসরের সালাতে রুকূতে ছিলেন। তিনি সাক্ষ্য দিলেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত (নামায) আদায় করেছেন এবং তাঁকে কা’বার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হযেছে। বর্ণনাকারী বলেনঃ তাঁরা রুকূ অবস্থাতেই কা’বার দিকে ফিরে গেলেন।
সহীহ, সিফাতুস সালাত, বুখারি ৪৪৯২, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৬২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হসান-সহীহ। সূফইয়ান ছাওরী এটিকে আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
২৯৬৪. হান্নাদ ও আবূ আম্মার (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখন (কিবলার বিষয়ে) কা’বার দিকে ফিরানো হল তখন সাহাবীরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের সেই সব ভাইদের কি হবে যারা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে সালাত (নামায) আদায় করেছেন এবং সে যুগে মারা গিয়েছেন? এই প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেনঃ (وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ) "আল্লাহ্ এমন নন যে, তাদের ঈমান ব্যর্থ করে দিবে।" (২ঃ ১৪৩)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ লিগাইরিহী, তা’লীকাতু হাসসান (১৭১৪), বুখারী, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৬৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
২৯৬৫. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে বললাম, যে ব্যক্তি সাফা ও মারওয়ার মধ্যে তওয়াফ (সাঈ) করল না এতে আমি কোন দোষ মনে কনি না, এবং এ দুটির মাঝে তাওয়াফ না করাতে আমি কোন পরোয়া করি না।
তিনি বললেনঃ হে আমার ভাগনে, তুমি অত্যন্ত মন্দ কথা বলেছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও তওয়াফ করেছেন এবং মুসলিমরাও তওয়াফ করেছেন। মুশাল্লাল নামক স্থানে অবস্থিত মানাত মূর্তির নামের যে সকল কাফির ইহরাম বাঁধত, তারা সাফা ও মারওয়ার মধ্যে তওয়াফ করত না। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ
فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا
"যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর হজ্জ করে বা উমরা করে এতদুভয়ের তওয়াফ করায় কোন দোষ নেই" (২ঃ ১৫৮)। তুমি যা বলছ তা যদি হত তবে তিনি বলতেনঃ এতদুভয়ের তওয়াফ না করাতে কোন দোষ নেই।
যুহরী (রহঃ) বলেনঃ আমি আবূ বকর ইবন আবদুর রহমান ইবন হারিছ ইবন হিশাম (রহঃ) এর কাছে এই কথাটির উল্লেখ করলাম। তিনি এতে খুবই আশ্চার্যাম্বিত হলেন। বললেনঃ এই হল ইলম। আমি বহু আলিমকে বলতে শুনেছি যে, যে সব আরব সাফা-মারওয়া-এর তওয়াফ করত না তারা বলত এ দুটো পাথরের মাঝে তওয়াফ করা হল জাহিলী যুগের বিষয়। আনসারদের একদল বলতঃ আমাদের তো বায়তুল্লাহ্ তওয়াফের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাফা ও মারওয়ার মাঝে তো তওয়াফের (সাঈর) নির্দেশ আমাদের দেওয়া হয় নি। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেনঃ
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ
সাফা ও মারওয়া হল তো আল্লাহর বিশেষ নিদর্শনাবলীর অন্যতম (২ঃ ১৫৮)।
আবূ বকর ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ আমার মনে হয় এদের এবং ওদের উভয় দলের ব্যাপারেই আয়াতটি নাযিল হয়েছে।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৯৮৬, বুখারি ৪৪৯৫, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
২৯৬৬. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আসিম আহওয়াল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে সাফা ও মারওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বললেনঃ এ দুটো ছিল জাহিলী আমলের নিদর্শন। ইসলামের আবির্ভাবের পর আমরা এ দুটোর তওয়াফ থেকে বিরত হয়ে গেলাম। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেনঃ
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا
সাফা ও মারওয়া হল আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্যতম। সুতরাং যে ব্যক্তি হজ্জ করে বা উমরা করে তার জন্য এতদুভয়ের তওয়াফে কোন দোষ নেই (২ঃ ১৫৮)।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেনঃ এ হল নফল।
আল্লাহ্ বলেনঃ (فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ) কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎ কাজ করলে আল্লাহ্ তো গুণগ্রাহী এবং সর্বজ্ঞ। (২ঃ ১৫৮)
সহীহ, বুখারি ৪৪৯৬, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
২৯৬৭. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা এলেন সাতবার বায়তুল্লাহর তওয়াফ করলেন। তখন তাঁকে আমি পাঠ করতে শুনেছিঃ (وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى) তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসাবে গ্রহণ কর (২ঃ ১২৫)। তারপর তিনি মাকামের পেছনে সালাত (নামায) আদায় করলেন। এরপর হাজারে আসওয়াদে আসলেন এবং একে চুম্বন করলেন। এরপর বললেনঃ আল্লাহ্ যা প্রথমে উল্লেখ করেছেন। আমরা তা থেকে শুরু করব। এরপর পাঠ করলেনঃ (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ)।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৯৬০, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
২৯৬৮. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের আমল ছিল, যখন তাদের মধ্যে কেউ সিয়াম পালনের পর ইফতারের সময় এসে পড়লে তিনি যদি ইফতার করার পূর্বেই ঘুমিয়ে পড়তেন তবে এই রাত এবং পরের দিন সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছুই আহার করতেন না। কায়স ইবন সিরমা আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার সওম পালন করছিলেন। ইফতারের সময় হওয়ার পর স্ত্রীর কাছে এসে বললেনঃ কোন খাবার আছে কী? স্ত্রী বললঃ নেই তবে আপনার জন্য কিছু তালাশ করে আনতে যাচ্ছি।
সারাদিন তিনি কাজ করে এসেছিলেন। তাই তাঁর দু’চোখে ঘুম ভর করল। তাঁর স্ত্রী এসে তাঁকে দেখে বললেনঃ হায়, আপনিত বঞ্চিত। পরের দিন দুপুরে তিনি বেঁহুশ হয়ে পড়লেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করা হল। তখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ (أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ) ’সিয়ামের রাত্রে তোমাদের জন্য স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে’ (২ঃ ১৮৭)। সাহাবীগণ এতে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। আরো নাযিল হলঃ (فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ) তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না রাত্রির কৃষ্ণ রেখা ঊষার শুভ্র রেখা স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় (২ঃ ১৮৭)।
সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ২০৩৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
২৯৭০. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ..... আদী ইবন হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যখন নাযিল হয়ঃ (حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ এই আয়াতেخيط (সূতা) দ্বারা বুঝান হয়েছে দিনের শুভ্রতা ও রাতের আঁধার।
সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ২০৩৪, বুখারি ৪৫১০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৭০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আহমদ মানী’ (রহঃ) আদী ইবন হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
হাদিস নং ২৯৭১সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّوْمِ فَقَالَ : ( حَتََّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ ) قَالَ فَأَخَذْتُ عِقَالَيْنِ أَحَدُهُمَا أَبْيَضُ وَالآخَرُ أَسْوَدُ فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِمَا فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا لَمْ يَحْفَظْهُ سُفْيَانُ قَالَ " إِنَّمَا هُوَ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)
২৯৭১. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... আদী ইবন হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি উত্তরে বললেনঃ (حَتََّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ) (যতক্ষণ না শুভ্র সূতা কৃষ্ণ সূতা থেকে স্পষ্ট হয়)।
আদী বলেন, আমি দুটো রশি নিলাম। একটি কাল আরেকটি সাদা। আমি এ দুটোকে দেখতে লাগলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু বললেন। কি বলেছিলেন রাবী সুফইয়ান তা স্মরণ রাখতে পারেন নি। তিনি আরো বললেনঃ এ তো হল রাত ও দিন (এর রেখা)।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
২৯৭২. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আসলাম আবূ ইমরান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রোম সাম্রাজ্যের এক শহরে ছিলাম। তখন রোমকদের এক বিরাট বাহিনী আমদের দিকে বের হয়ে আসে। মুসলিমদের দিক থেকেও সে ধরনের বা আরো বেশী সংখ্যক তাদের দিকে অগ্রসর হয়। শহরবাসীর শাসক ছিলেন উকবা ইবন আমির। যার বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন ফাযালা ইবন উবায়েদ। তখন মুসলিমদের মধ্যে থেকে এক ব্যক্তি রোমক বাহিনীর উপর প্রচন্ড আত্রমণ চালান। এমনকি তাদের ভিতরে ঢুকে পড়ল। তখন মুসলিমগণ চীৎকার করে উঠলেন এবং বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! ঐ ব্যক্তি নিজ হাতে নিজকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করছে। এ সময় আবূ আয়্যূব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা আয়াতটির এই ব্যাখ্যা করছ? অথচ এই আয়াতটি আমাদের আনসারী সম্প্রদায়ের বিষয়েই নাযিল হয়েছিল। আল্লাহ্ তা’আলা যখন ইসলামকে শক্তিশালী করলেন এবং এর সাহায্যকারীর সংখ্যা বেড়ে গেল। তখন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে না শুনিয়ে চুপে চুপে পরস্পর বললামঃ আমাদের অর্থ-সম্পদ তো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তা’আলা এখন ইসলামকেও শক্তিশালী করেছেন। এর সাহায্যকারীও হয়েছে অনেক। এখন যদি আমরা আমাদের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষনে অবস্থান করি, তবে আমাদের যা নষ্ট হয়ে গেছে তা আমরা পরিপূরণ করতে সক্ষম হতাম। এর প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর নবীর উপর এই আয়াত নাযিল করলেনঃ (وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلاَ تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ) তোমরা আল্লাহ পথে ব্যয় করবে আর নিজেদেরকে ধ্বংসের মাঝে নিক্ষেপ করবে না (২ঃ ১৯৫)। এর দ্বারা আল্লাহ্ পাক আমাদের মতামত খন্ডন করে দিলেন। সুতরাং ধন-সম্পদ তত্ত্বাবধান, তাতে ব্যস্ত থাকা এবং জিহাদ পরিত্যাগ করাই হল ধ্বংস। এ কারণেই আবূ আয়্যূব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু সব সময়ই বাড়ী ঘর ছেড়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে থাকতেন। অবশেষে রোম দেশেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তথায় তাঁকে দাফন করা হয়।
সহীহ, সহীহাহ ১৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৭২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
২৯৭৩. আলী ইবন হুজর (রহঃ) ...... কা’ব ইবন উজরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সেই সত্তাব কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমার বিষয়েই এই আয়াতটি নাযিল হয়েছে এবং এতে আমার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছেঃ
فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ
তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় কিংবা মাথায় কেশ থাকে তবে সিয়াম বা সাদকা বা কুরবানী দ্বারা এর ফিদয়া দিবে। (২ঃ ১৯৬)
আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হুদায়বিয়ায় ছিলাম। ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। মক্কার মুশরিকরা আমাদের (মক্কা প্রবেশ করা থেকে) বাধা দিয়ে রেখেছিল। আমার মাথায় ছিল বাবরী চুল। সে কারণে তা থেকে উকুন আমার মুখে এসে পড়ছিল। আমার পাশ দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাচ্ছিলেন। তিনি বললেনঃ তোমার মাথার কীটগুলো মনে হয় তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে। আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ মাথা মুন্ডন করে ফেল। তখন এই আয়াত নাযিল হয়।
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, এ ক্ষেত্রে সিয়াম হল তিন দিন রোযা, সাদকা হল ছয়জন মিসকীন খাওয়ান আর কুরবানী হল একটি বকরী বা তদুর্ধ্ব কোন পশু কুরবানী।
সহীহ, বুখারি ৪৫১৭, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৭৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আলী ইবন হুজর (রহঃ) আবদুল্লাহ্ ইবন মা’কিল সূত্রেও কা’ব ইবন উজরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবুদর রহমান ইবনুল ইসপাহানী (রহঃ)-ও আবদুল্লাহ্ ইবন মা’কিলের থেকে বর্ণনা করেছেন।
২৯৭৪. আলী ইবন হুজর (রহঃ) ...... কা’ব ইবন উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন। আমি তখন একটি ডেকচীর নীচে আগুন জ্বালাচ্ছিলাম। তখন উকুন আমার কপালে (বা বললেন আমার ভ্রু দিয়ে) ঝরে পড়ছিল। তিনি বললেনঃ তোমার কীটগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তোমার মাথা মুন্ডন করে ফেল। আর (ফিদইয়া হিসাবে) একটি কুরবানী দাও বা তিন দিন রোযা রাখ বা ছয় জন মিসকীনকে আহার করাও।
রাবী আবূ আইয়্যুব বলেন, কোন বিষয়টি প্রথমে বলেছেন তা আমি জানি না। হাদিসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৭৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
২৯৭৫. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... আবদুর রহমান ইবন ইয়া’মুর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হজ্জ হল আরাফাতের (অবস্থানের) নাম। হজ্জ হল আরাফাতের (অবস্থানের) নাম। হজ্জ হল আরাফাতের (অবস্থানের) নাম। মিনা অবস্থানের দিন হল তিন দিন। কেউ যদি দুই দিন থেকে ত্বরা করে চলে আসে তাতেও কোন গুনাহ নেই। (فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ) ফজর উদয়ের আগে আগে কেউ যদি আরাফা পেয়ে যায় তবে সে হজ্জ পেয়ে গেল।
ইবন আবূ উমর (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, সুফইয়ান ইবন উয়ায়না বলেছেনঃ এটি হল ছওরী বর্ণিত একটি শ্রেষ্ঠ হাদীস। হাদীসটি হাসান-সহীহ। এটিকে শু’বা (রহঃ) বুকায়র ইবন আতা (রহঃ) থেকে রিওয়ায়ত করেছেন। বুকায়র ইবন আতা (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৭৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং ২৯৭৬সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَبْغَضُ الرِّجَالِ إِلَى اللَّهِ الأَلَدُّ الْخَصِمُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
২৯৭৬. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণ্য মানুষ হলঃ আনবরত ঝগড়াটে লোক।
সহীহ, বুখারি ৪৫২৩, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৭৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এই হাদীসটি হাসান।
হাদিস নং ২৯৭৭সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَتِ الْيَهُودُ إِذَا حَاضَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُمْ لَمْ يُوَاكِلُوهَا وَلَمْ يُشَارِبُوهَا وَلَمْ يُجَامِعُوهَا فِي الْبُيُوتِ فَسُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى : (يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى ) فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُوَاكِلُوهُنَّ وَيُشَارِبُوهُنَّ وَأَنْ يَكُونُوا مَعَهُنَّ فِي الْبُيُوتِ وَأَنْ يَفْعَلُوا كُلَّ شَيْءٍ مَا خَلاَ النِّكَاحَ فَقَالَتِ الْيَهُودُ مَا يُرِيدُ أَنْ يَدَعَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِنَا إِلاَّ خَالَفَنَا فِيهِ . قَالَ فَجَاءَ عَبَّادُ بْنُ بِشْرٍ وَأُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَاهُ بِذَلِكَ وَقَالاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلاَ نَنْكِحُهُنَّ فِي الْمَحِيضِ فَتَمَعَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ قَدْ غَضِبَ عَلَيْهِمَا فَقَامَا فَاسْتَقْبَلَتْهُمَا هَدِيَّةٌ مِنْ لَبَنٍ فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي آثَارِهِمَا فَسَقَاهُمَا فَعَلِمْنَا أَنَّهُ لَمْ يَغْضَبْ عَلَيْهِمَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .<br /> <br /> حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
২৯৭৭. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহূদীদের কোন মহিলার হায়য হলে তারা তার সঙ্গে একত্রে আহার করত না, পান করত না এমন কি কোন ঘরে পর্যন্ত একত্রিত হত না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে আল্লাহ্ সুবহানাহু তা’আলা নাযিল করেনঃ
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى
’’আপনাকে তারা জিজ্ঞাসা করে হায়য সম্পর্কে। বলে দিন, তা হল অশুচি।’’ (২ঃ ২২২)
তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সঙ্গে একত্রে পানাহার করতে, ঘরে একত্রে বসবাস করতে এবং সঙ্গত হওয়া ছাড়া আর সব কিছুর অনুমতি দিলেন। ইয়াহূদীরা বললঃ সব বিষয়ে আমাদের সাথে বিরোধিতা করা তার উদ্দেশ্য। রাবী বলেন, তখন আব্বাস ইবন বিশর এবং উসায়দ ইবন হুযায়র রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন এবং তারা তাঁকে ইয়াহূদীদের আলোচনা সম্পর্কে জ্ঞাত করলেন। বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা স্ত্রীদের সাথে হায়য অবস্থায় সঙ্গত হওয়া শুরু করলে কেমন হয়?
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে গেল। এমনকি আমাদের মনে হচ্ছিল তিনি তাঁদের উভয়ের উপর রাগ করেছেন। তাঁরা উভয়ে চলে গেলেন। তাঁদের দু’জনের সামনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কিছু দুধ হাদ্ইয়া এল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তাঁদের পেছনে পেছনে তাঁদের জন্য পাঠিয়ে দিলেন। তাঁরা দু’জনেই তা পান করলেন। আমরা তখন বুঝতে পারলাম যে, তিনি তাদের দু’জনের উপর রাগ করেননি।
সহীহ, আদাবুয যিফাফ ৪৪, সহীহ আবু দাউদ ২৫০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৭৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ। মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ’লা (রহঃ) ... হাম্মাদ ইবন সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَشْعَرِيُّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي الْمُغِيرَةِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ عُمَرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكْتُ قَالَ " وَمَا أَهْلَكَكَ " . قَالَ حَوَّلْتُ رَحْلِي اللَّيْلَةَ . قَالَ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذِهِ الآيَةَ : (نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ ) أَقْبِلْ وَأَدْبِرْ وَاتَّقِ الدُّبُرَ وَالْحِيضَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَيَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَشْعَرِيُّ هُوَ يَعْقُوبُ الْقُمِّيُّ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
২৯৮০. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো হালাক হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ কিসে তোমাকে হালাক করল? উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ রাতে আমার বাহনটি উল্টো করে ব্যবহার করে ফেলেছি। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কোন উত্তর দিলেন না। তখন রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর এই আয়াতটি নাযিল হয়ঃ
نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ
’তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্য ক্ষেত্রে। অতএব যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পার।’ (২ঃ ২২৩)
সুতরাং সামনের দিক থেকেও পার বা পেছনের দিক থেকে সঙ্গত হতে পার। তবে মলদ্বার এবং হায়য অবস্থা থেকে বেঁচে থাকবে।
হাসান, আদাবুয যিফাফ ২৮-২৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৮০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। ইয়াকূব ইবন আবদুল্লাহ্ আশআরী (রহঃ)-ই হলেন ইয়াকূব কুম্মী।
২৯৮১. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... মা’কিল ইবন ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর ভগ্নিকে জনৈক মুসলিম ব্যক্তির কাছে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে বিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি তার কাছে যতদিন জীবন যাপন করার করলেন। পরে তার স্বামী তাকে এক তালাক দিয়ে দেয়। ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি তাকে রাজআত করলেন না। কিন্তু এরপর স্বামীও তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়লেন আর তার স্ত্রীও স্বামীর দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। তাই অন্যান্য প্রস্তাব দানকারীদের মধ্যে তিনিও তাকে আবার বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। তখন ভাই মা’কিল রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেনঃ হে ইতর, এই মহিলার মাধ্যমে তোমাকে আমি সম্মান দিয়েছিলাম। তাকে তোমার কাছে বিয়ে দিলাম। কিন্তু তুমি তাকে তালাক দিয়ে দিলে। আল্লাহর কসম! তুমি আর কখনও তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে নিতে পারবে না। এ-ই তোমার সাথে সম্পর্ক শেষ।
রাবী বলেন, কিন্তু আল্লাহ্ তা’আলা জানতেন এই স্ত্রীর প্রতি তার স্বামীর টানের কথা এবং এই স্বামীর প্রতি ঐ মহিলার টানের কথা। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেনঃ
وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ إِلَى قَوْلِهِ : وَأَنْتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ
’তোমরা যখন স্ত্রীদের তালাক দাও এবং তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করে। তারা যদি বিধিমত পরস্পর সম্মত হয় তবে এই স্ত্রীরা নিজেদের (পূর্ব) স্বামীদের বিয়ে করতে চাইলে তোমরা তাদের বাধা দিবে না। এ দ্বারা তাদের উপদেশ প্রদান করা হচ্ছে তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ্ ও আখিরাত দিবসের উপর ঈমান রাখে। এই তোমাদের জন্য শুদ্ধতম ও পবিত্র বিষয়। আল্লাহ্ জানেন, তোমরা জান না।’ (২ঃ ২৩২)
মা’কিল রাদিয়াল্লাহু আনহু এই আয়াত শোনার পর বললেনঃ আমার পরওয়ারদিগারের আদেশ আমি শুনছি এবং তা শিরোধার্য করে নিচ্ছি। এরপর তিনি উক্ত ভগ্নিপতিকে ডেকে আনলেন এবং বললেনঃ তোমরা কাছে আমি (আমার বোনকে পুনরায়) বিয়ে দিচ্ছি আর আমি তোমার সম্মান রক্ষা করছি।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। হাসান (রহঃ) থেকে এটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে।
হাদীসটি এই কথার প্রমাণ করে যে, ওলী ছাড়া নিকাহ জায়েয নয়। কেননা, মা’কিল ইবন ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ভগ্নি বিবাহিতা ছিলেন। বিবাহের বিষয়টি যদি ওলী ছাড়া তাঁর ক্ষমতাধীন থাকত, তবে তিনি নিজেই বিয়ে বসতে পারতেন। তাঁর ওলী মা’কিল ইবন ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর তিনি মুখাপেক্ষী হতেন না। দ্বিতীয়ত আল্লাহ্ তা’আলা এই আয়াতে ওলীদেরকেই সম্বোন করে বলেছেনঃ (لَا تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ) তোমরা বাধা দিবে না তাদেরকে নিজেদের স্বামীদের বিয়ে করতে।
সহীহ, ইরওয়া ১৮৪৩, সহিহ আবু দাউদ ১৮২০, বুখারি ৪৫২৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৮১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
২৯৮২. কুতায়বা আল আনসারী (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর আযাদকৃত দাস (মাওলা) আবূ ইউসূফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁর জন্য কুরআনের একটি কাপি লিখতে আমাকে নির্দেশ দিলেন এবং বললেনঃ যখন এই আয়াতটি পৌঁছবে আমাকে জানাবে। আয়াতটি হলঃ (حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى) ’তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান বিশেষত মধ্যবর্তী সালাতের।’ (২ঃ ২৩৮) আমি যখন এই আয়াতটিতে পৌছি তখন তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি আমাকে লিখালেনঃ
(حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَصَلاَةِ الْعَصْرِ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ)
’’তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে বিশেষত মধ্যবতী সালাতের এবং সালাতুল আসবের আর আল্লাহর জন্য দাঁড়াবে বিনীতভাবে।’’
তিনি বললেনঃ আমি তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে শুনেছি।
সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ৪৩৭, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৮২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ।
২৯৮৪. হাম্মাদ (রহঃ) ...... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দকের যুদ্ধের দিন বলেছিলেনঃ হে আল্লাহ্! আপনি এদের (কাফিরদের) কবরগুলো এবং ঘরগুলোকে আগুন দিয়ে ভর্তি করে দিন, যেমন এরা আমাদেরকে সালাতুল উসতা থেকে বিরত করে রাখল, এমনকি সূর্য ডুবে গেল।
সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ৪৩৬, বুখারি ৪৫৩৩, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৮৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একাধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে। আবূ হাসসান আ’রাজ (রহঃ)-এর নাম হল মুসলিম।
২৯৮৭ আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ...... বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (وَلاَ تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ) তোমরা নিকৃষ্ট বস্তু দান করার ইচ্ছা করবে না। (২ঃ ২৬৭) আয়াতটি আমাদের আনসারী সম্প্রদায় সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা ছিলাম খেজুর বাগানের মালিক। লোকেরা তাদের খেজুরের বাগান থেকে বেশি বা কম পরিমাণ হিসাবে নিয়ে আসত। কোন ব্যক্তি এক ছড়া বা দুই ছড়া নিয়ে আসত এবং তা মসজিদে ঝুলিয়ে রাখতো। সুফফাবাসী সাহাবীদের খাওয়ার কোন ব্যবস্থা ছিল না। তাদের কারো যখন ক্ষুধা লাগত, তখন তারা খেজুর ছড়ার কাছে এসে তার লাঠি দিয়ে তাতে আঘাত করত। এতে তা থেকে কাঁচা-পাকা খেজুর ঝরে পড়ত। আর তা খেয়ে নিত। কিন্তু যে সব লোকের ভাল কাজের প্রতি তেমন আগ্রহ ছিল না তাদের কেউ এমনও খেজুরের ছড়া নিয়ে আসত যার মধ্যে রদ্দী ও পঁচা খেজুর রয়েছে এবং ভেঙ্গে পড়া ছড়িও নিয়ে আসত এবং তা ঝুলিয়ে দিত। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الأَرْضِ وَلاَ تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ وَلَسْتُمْ بِآخِذِيهِ إِلاَّ أَنْ تُغْمِضُوا فِيهِ
’’হে মু’মিনগণ, তোমরা যা উপার্জন কর এবং আমি যা ভূমি থেকে তোমাদের জন্য উৎপাদন করে দেই তন্মধ্যে যা উৎকৃষ্ট তা ব্যায় কর এবং তা থেকে নিকৃষ্ট বস্তু ব্যায় করার ইচ্ছা করো না অথচ তোমরা তা গ্রহণ করবে না, যদি না চক্ষু এড়িয়ে রাখ (২ঃ ২৬৭)।’’ তিনি বলেন, অর্থাৎ তোমরা যা দান কর এই জাতীয় বস্তু যদি তোমাদের কাউকে হাদিয়া দেওয়া হয় তবে সে তা চক্ষু এড়িয়ে রেখে বা লজ্জায় পড়ে গ্রহণ ছাড়া হৃষ্ট চিত্তে তা গ্রহণ করবে না। বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এরপর আমাদের প্রত্যেকেই তার নিকট যা আছে তার মধ্যে উত্তমটি নিয়ে আসত।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ১৮২২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৮৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব সহীহ। আবূ মালিক (রহঃ) হলেন গিফারী। বলা হয় তাঁর নাম হল গাযওয়ান। সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) ... সুদ্দী (রহঃ) থেকে এই হাদীছের অংশ বিশেষ রিওয়ায়ত করেছেন।
২৯৮৮. হান্নাদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তানের মাঝে শয়তানের স্পর্শ রয়েছে এবং ফিরিশতারও স্পর্শ রয়েছে। শয়তানের স্পর্শ হল মন্দ কাজে প্ররোচিত করা এবং সত্য অস্বীকার করা। আর ফিরিশতাদের স্পর্শ হল ভাল কাজে উৎসাহিত করা এবং সত্যকে স্বীকার করা। কেউ যদি তার নিজের মধ্যে এই জিনিস (ভাল ভাবে) পায় তবে সে যেন এটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকেই জানে এবং এর জন্য যেন আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় আর কোন ব্যক্তি যদি নিজের মধ্যে অন্য ভাব পায় তখন যেন সে শয়তান থেকে আল্লাহর পানাহ চায়। এরপর তিনি পাঠ করলেনঃ (الشََّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ) ’’শয়তান তোমাদের দারিদ্রের ভয়ে দেখায় এবং অশ্লীলতা ও কার্পণ্যের নির্দেশ দেয়।’’ (২ঃ ২৬৮)
সহীহ, মিশকাত, তাহকিক ছানী ৭৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৮৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিসটি হাসান-সহীহ-গারীব। এটি আবুল আহওয়াস (রহঃ) এর রিওয়ায়ত। আবুল আহওয়াস (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি মারফূ’রূপে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই।
২৯৮৯. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে লোক সকল! আল্লাহ্ পবিত্র আর পবিত্র জিনিস ছাড়া তিনি কিছু গ্রহণ করেন না। আল্লাহ্ তা’আলা তার রাসূলগণকে যে বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন মু’মিনদেরও সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেনঃ
يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ
’’হে রাসূলগণ, আপনারা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করুন এবং সৎকর্ম করুন। আপনারা যা করেন সে সম্বদ্ধে আমি সবিশেষ অবহিত (মু’মিনূন ২৩ঃ ৫১)।
হে মু’মিনগণ, তোমাদেরকে আমি যে সব পবিত্র বস্ত দিয়েছি তা থেকে আহার কর(২ঃ ১৭২)
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ তিনি এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, দীর্ঘ সফরে তার অবস্থা উস্কুখুস্ক, ধূলি মলিন, আসমানের দিকে হাত লম্বা করে বলে, হে পরওয়ারদিগার, হে পরওয়ারদিগার, কিন্তু খাদ্য তার হারাম, পানীয় তার হারাম, পোষাক-পরিচ্ছদ তার হারাম। তার লালন-পালন হয়েছে হারাম মাল দিয়ে সুতরাং কেমন করে তার দু’আ কবূল করা হবে?
সহীহ, গায়াতুল মারাম ২৭, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৮৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। ফুযায়ল ইবন মারযূক (রহঃ) এর সূত্র ব্যতীত একটি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। আবূ হাযিম হলেন আশজাঈ। তাঁর নাম হল সালমান (রহঃ)। ইনি হলেন আযযা আশজাইয়্যা-এর মাওলা বা আযাদ কৃত দাস।
২৯৯০. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ
إِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ فَيَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ
তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর বা গোপন রাখ আল্লাহ্ এর হিসাব তোমাদের নিকট থেকে গ্রহণ করবেন। তারপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে খুশি শাস্তি দিবেন (২ঃ ২৮৪)
এই আয়াত নাযিল হলে আমাদের তা খুবই চিন্তিত করে তোলে। আমরা বললাম, আমাদের কেউ মনে মনেও যে কথা বলবে তারও হিসাব হবে। এরপর জানি না কি ক্ষমা করা হবে কি ক্ষমা করা হবে না। এরপর এর পরবর্তী আয়াত নাযিল হয় এবং এই আয়াতের বক্তব্য রহিত করে দেওয়া হয় ইরশাদ হচ্ছেঃ
لاَ يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ
আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যাতীত বস্তর দায়িত্ব অর্পন করেন না। সে ভাল যা উপার্জন করে তা তারই আর মন্দ যা উপার্জন করে তাও তারই (২ঃ ২৮৬)।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৯০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
২৯৯১. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) .... উমায়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে আল্লাহ্ তা’আলার এই ইরশাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেনঃ
إِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ
তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর বা গোপন কর আল্লাহ্ তোমাদের থেকে এর হিসাব নিবেন (مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ) (২ঃ ২৮৪) এবং ............... যে কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে পাবে। (৪ঃ ১২৩)।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেনঃ এই বিষয়ে রাসুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করার পর আজ পর্যন্ত আর কেউ আমাকে এই প্রশ্ন করে নি। রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা জ্বর-জারি, আপদ-বিপদের মাধ্যমে বান্দাকে যে শাস্তি দেন এ হল তা। এমনকি যে সামান্য জিনিস-পত্র সে জামার হাতার মধ্যে রাখে তা হারিয়ে গেলে যে পেরেশানী তার হয় তাও। (তাতেও তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়)। অবশেষে লাল সোনা যেমন হাঁপর থেকে (আগুনে পুড়ে) নির্মল হয়ে বেরিয়ে আসে তেমনি বান্দাও তার গুনাহ্ সমূহ থেকে (নির্মল হয়ে) বেরিয়ে আসে।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৯১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর রিওয়ায়ত হিসাবে হাদীসটি হাসান-গারীব। হাম্মাদ ইবন সালামা (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
২৯৯২ মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ
إِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ
(২ঃ ২৮৪) আয়াতটি নাযিল হলে সাহবীদের অন্তরে এত চিন্তার উদ্রেক হল যে, আর কোন বিষয়ে তাদের এত চিন্তা কখনও হয় নি। তাঁরা বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উল্লেখ করলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা বল, আমরা শুনলাম এবং আমরা আনুগত্য স্বীকার করলাম। আল্লাহ্ তা’আলা তাঁদের হৃদয়ে ঈমান ঢেলে দিলেন। তারপর নাযিল করলেনঃ
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ
’’রাসূল তাঁর প্রতি তার রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল হয়েছে তাতে ইমান এনেছেন এবং মু’মিনগণও (২ঃ ২৮৬ )।
আল্লাহ্ বললেনঃ এটি কবুল করলাম।
হে রব, আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেমন শুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে আমাদের উপর তেমন গুরু দায়িত্ব অর্পণ করো না (২ঃ ২৮৬)।
আল্লাহ্ বললেনঃ কবুল করলাম।
’’হে রব, আমাদের উপর এমন বোঝা দিয়ো না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপ মুছে দাও। আমাদের মাফ কর। আমাদের উপর রহম কর। তুমিই তো আমাদের মালিক। সুতরাং কাফির কওমের উপর আমাদের বিজয় দাও (২ঃ ২৮৬)।’’
সহীহ, মুসলিম ১/৮১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৯২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একাধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
কথিত আছে যে, আদম ইবন সুলায়মান (রহঃ) হলেন ইয়াহ্ইয়া ইবন আদম (রহঃ) এর পিতা।
২৯৯৩. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ
فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْعٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ
যাদের অন্তরে আছে বক্রতা শুধু তারাই ফেতনা-ফাসাদ ও ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহাতের অনুসরণ করে (৩ঃ ৭) আয়াতটি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছেন: এদের যখন দেখবে তখন এদের চিনে রাখবে। ইয়াযীদ (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা তিনবার বলেছিলেন।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৯৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
২৯৯৪. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলঃ
هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ
তিনিই আপনার কাছে এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার কতক তো মুহকামাত-দ্ব্যার্থহীন সুস্পষ্ট এইগুলোই কিতাবের মূল। আর কতক হল মুতাশাবিহাত রূপক (৩ঃ ৭)
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা যখন ঐ সব লোকদের দেখবে যারা মুতাশাবিহাত আয়াতসমূহের অনুসরণ করছে তখন জানবে এরাই তারা যাদের সম্বন্ধে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর কিতাবে (৩ঃ ৭ আয়াত দ্রষ্টব্য) উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তাদের থেকে তোমরা বেঁচে যাবে।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৯৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আয়্যূব ... ইবন আবূ মূলায়কা সূত্রেও এই হাদীসটি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আছে। ইবন আবূ মূলায়কা ... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে একাধিক রাবী এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাদের সনদে কাসিম ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ)-এর উল্লেখ নেই। এই হাদীসে ইয়াযীদ ইবন ইবরাহীম (রহঃ)-ই কাসিম ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ)-এর উল্লেখ করেছেন। ইবন আবূ মূলায়কা (রহঃ) হলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন আবূ মূলায়কা। তিনি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও সরাসরি হাদীস শুনেছেন।
২৯৯৫. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীর জন্যই নবীদের থেকে একজন অভিভাবক থাকেন। আমার অভিভাবক হলেন আমার পিতা এবং পরওয়ারদিগারের খালীল ইবরাহীম। এরপর তিনি পাঠ করলেনঃ
إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِإِبْرَاهِيمَ لَلَّذِينَ اتَّبَعُوهُ وَهَذَا النَّبِيُّ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُؤْمِنِينَ
মানুষের মধ্যে ইবরাহীমের ঘনিষ্ঠতম হল তারা যারা ইবরাহীমের অনুসরণ করেছে এবং এই নবী ও যারা ঈমান এনেছে। আর আল্লাহ্ই মুমিনদের অভিভাবর (৩ঃ৬৮)।
সহীহ, মিশকাত, তাহকিক ছানী ৫৭৬৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৯৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
মাহমূদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এতে মাসরূক (রহঃ)-এর উল্লেখ নেই। আবুয যুহা মাসরুক সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়ত অপেক্ষা এটি অধিক সহীহ। আবুয যুহা (রহঃ) এর নাম হল মুসলিম ইবন সুবায়হ।
আবূ কুরায়ব (রহঃ) আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ নুআয়ম (রহঃ) এর হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত আছে। এতে মাসরূকের উল্লেখ নেই।
২৯৯৬. হান্নাদ (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিমের সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কেউ যদি মিথ্যা কসম করে তবে আল্লাহর সঙ্গে এমনভাবে সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার উপর রাগাম্বিত থাকবেন।
আশআছ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহর কসম, আমার বিষয়েই এটি নাযিল হয়েছিল। আমার ও এক ইয়াহূদীর মাঝে একটা যমীন ছিল। কিন্তু সে ব্যক্তি আমার হিস্যা অস্বীকার করে। তখন আমি বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলাম, তিনি বললেনঃ তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? আমি বললামঃ না।
তিনি ইয়াহূদীটিকে বললেনঃ তুমি কসম করে বল। আমি বললামঃ তা হলে তো সে কসম করে ফেলবে। আর মাল নিয়ে যাবে। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেনঃ
إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً
যারা আল্লাহ্ সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে এরা তারা পরকালে যাদের কোন অংশ নেই। (৩ঃ ৭৭)।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৩২৩, বুখারি ৪৫৫০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৯৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে ইবন আওফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
২৯৯৭. ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালহার একটি বাগান ছিলঃ
(لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ) أَوْ : (مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا)
’তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনও পূণ্য লাভ করতে পারবে না’ (৩ঃ ৯২) অথবা কে সে যে আল্লাহ কে উত্তম ঋণ প্রদান করবে? (২ঃ ২৪৫) আয়াতটি নাযিল হলে আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আমার এই বাগানটি আল্লাহর জন্য দান করলাম। গোপনে এটি আল্লাহর পথে দিতে পারলে সে কথা প্রকাশ করতাম না। তিনি বললেনঃ তোমার নিকট-আত্মীয়দের দিয়ে দাও। অথবা বললেন, অধিক নিকট-আত্মীয়দের দিয়ে দাও।
সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ১৪৮২, বুখারি ৪৫৫৪, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৯৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। মালিক ইবন আনাস (রহঃ) এটিকে ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ্ আবূ তালহা-আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বণানা করেছেন।
২৯৯৮. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে দাঁড়িয়ে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! প্রকৃত হাজী কে? তিনি বললেনঃ যে ধুলি ধূসর আলু থালু কেশধারী ও অপরিচ্ছন্ন লোক। আরেক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! হজ্জের কোন হজ্জটি উত্তম? তিনি বললেনঃ তালবিয়্যার উচ্ছস্বর এবং কুরবানীর রক্ত প্রবাহ। অন্য এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সাবীল - রাস্তা (এর সামর্থ্য) কি? তিনি বললেনঃ (মক্কা পর্যন্ত আসা-যাওয়ার মত) পাথেয় এবং বাহন।
খুবই দুর্বল তবে "তালবিয়্যার উচ্ছস্বর এবং কুরবানীর রক্ত প্রবাহ" এই অংশটুকু সহিহ। ইবনু মাজাহ ২৮৯৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৯৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইবরাহীম ইবন ইয়াযীদ খওযী মক্কী (রহঃ) এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। কোন কোন হাদীসবিদ স্মরণ শক্তির দিক দিয়ে ইবরাহীম ইবন ইয়াযীদের সমালোচনা করেছেন।
২৯৯৯. কুতায়বা (রহঃ) ..... আমির ইবন সা’দ তার পিতা সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, (نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ) ’আমরা আহবান করি আমাদের পুত্রদের এবং তোমাদের পুত্রদের আমাদের নারীদের এবং তোমাদের নারীদের (৩ঃ ৬১), আয়াত নাযিল হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসায়নকে ডাকলেন এবং বললেনঃ ইয়া আল্লাহ! এরা আমার পরিজন।
হাদীসটি হাসান-সহীহ গারীব।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৯৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০০০. আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... আবূ গালিব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু দামেশকের সিঁড়িতে (খারিজীদের কর্তিত) কিছু মাথা রক্ষিত দেখত পেলেন। তিনি বললেনঃ এরা হল জাহান্নামের কুকুর। এরা আসমানের নীচে সবচেয়ে নিকৃষ্ট নিহত ব্যক্তি। আর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিহত ব্যক্তি হল যাদের এরা হত্যা করেছে। এরপর তিনি পাঠ করলেনঃ
يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ
সেদিন (কিয়ামতের দিন) কতক মুখ হবে উজ্জ্বল আর কতক মুখ হবে কাল (৩ঃ ১০৬) আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
আমি আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহ কে বললাম, আপনি কি নিজে তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি যদি তা একবার, দু’বার, তিনবার, চারবার এরূপ সাতবার গণনা করলেন-রাসূলুল্লাহ্ থেকে না শুনতাম তবে তোমাদের কাছে তা বর্ণনা করতাম না।
হাসান, ইবনু মাজাহ ১৭৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০০০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান। আবূ গালিব (রহঃ) এর নাম হল হাযাওয়ার। আবূ উমাম বাহিলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নাম হল সুদায়া ইবন আজলান। তিনি ছিলেন বাহিলা গোত্রের সরদার।
৩০০১. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... বাহয ইবন হাকীম তার পিতা তার পিতামহ থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর বাণীঃ (كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ) তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত মানুষের কল্যাণে তোমাদের আবির্ভাব (৩ঃ ১১০)’ প্রসঙ্গে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা হলে সত্তর উম্মত পূর্ণকারী। তোমরা হলে এর মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান।
হাসান, ইবনু মাজাহ ৪২৮৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০০১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান। একাধিক রাবীূ বাহয ইবন হাকীম (রহঃ) এর সূত্রে এই হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তারা এতে (كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ) আয়াতটির উল্লেখ করেননি।
৩০০২. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উহুদ যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনের চারটি দাঁত শহীদ হয়ে যায় এবং তাঁর চেহারার কপালে আঘাত লাগে। এমনকি তাঁর চেহারায় রক্ত প্রবাহিত হয়। তখন তিনি বললেনঃ এই সম্প্রদায় কিভাবে সফলতা লাভ করবে, যারা তাদের নবীর সঙ্গে এই আচরণ করে! অথচ নবী তাদের আল্লাহর দিকে আহবান জানাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ
এ ব্যাপারে আপনাকে কোন কর্তৃত্ব দেওয়া হয়নি। আল্লাহ্ তাদের তওবার সযোগে দিবেন বা তাদের শাস্তি দিবেন ... আয়াতের শেষ পর্যন্ত (৩ঃ ১২৮)
সহীহ, মুসলিম ৫/১৭৯, বুখারি মু’আল্লাকরূপে ৭/৩৬৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০০২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩০০৩. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ..... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা (উহুদের দিন) যখমী হয়ে যায়, তাঁর সামনের দাঁত ভেঙ্গে যায় এবং তাঁর কাঁধে তীরের আঘাত লাগে। এতে তাঁর চেহারায় রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। তিনি তা মুছতে ছিলেন এবং বলছিলেনঃ কিভাবে এই সম্প্রদায় সফল হবে যারা তাদের নবীর সঙ্গে এই আচরণ করল! অথচ তিনি তাদের আল্লাহর দিকে ডাকছেন। আল্লাহ্ তা’আলা তখন এই আয়াত নাযিল করেনঃ
لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ
’এ ব্যাপারে আপনাকে কোন কর্তৃত্ব দেওয়া হয়নি। আল্লাহ্ তাঁদের তওবার সুযোগ দিবেন কিংবা তাদের শাস্তি দিবেন, কেননা তারা জালিম।’ (৩ঃ ১২৮)
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০০৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০০৬. কুতায়বা (রহঃ) ..... আসমা ইবন হাকাম ফাযারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি যে, আমি এমন ব্যক্তি ছিলাম যে, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন হাদীস শুনতাম, তখন এর দ্বারা আল্লাহ্ তা’আলা আমাকে যে উপকার পৌঁছাতে ইচ্ছা করতেন, সে উপকার আমি লাভ করতাম। আর যদি তাঁর সাহাবীদের কেউ আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করত তবে আমি তার কাছ থেকে হলফ নিতাম। সে হলফ করলে আমি তাকে বিশ্বাস করতাম। আর আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার কাছে একটি হাদীস বর্ণনা করেন এবং আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তো ছিলেন সত্যবাদী। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কোন ব্যক্তি যদি গুনাহ্ করে ফেলে, এরপর সে উঠে তাহারাত হাসিল করে এর পরে সালাত (নামায) আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহ্ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন। এরপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেনঃ
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا
’এবং যারা কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজের প্রতি জুলম প্রতি জুলম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে’ আয়াতের শেষ পর্যন্ত (৩ঃ ১৩৫)।
হাসান, ইবনু মাজাহ ১৩৯৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০০৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
শু’বা প্রমুখ (রহঃ) এই হাদীসটি উছমান ইবনুল মুগীরা সূত্রে মারফু’রূপে রিওয়ায়ত করেছেন। মিসআর এবং সুফইয়ান (রহঃ) এটি উছমান ইবন মুগীরা সূত্রে রিওয়ায়ত করেছেন। কিন্তু তাঁর মারফূ’ রূপে বর্ণনা করেননি। এই হাদীসটি ছাড়া আসমা (রহঃ) এর আর কোন হাদীস আমাদের জানা নেই।
৩০০৭. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের দিন আমি মাথা তুলে তাকাতে লাগলাম। ঐ দিন এমন কেউ ছিল না, যে তার ঢালের আড়ালে তন্দ্রায় ঝিমুচ্ছিল না। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ (ثم انزل عَلَيْكُمْ مِنْ بَعْدِ الْغَمِّ أَمَنَةً نُعَاسًا) আর দুশ্চিন্তার পর আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের উপর নাযিল করলেন প্রশান্তি তন্দ্রারূপে (৩ঃ ১৫৪)।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০০৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ... যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩০০৮. ইউসুফ ইবন হাম্মাদ (রহঃ) ..... আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা উহুদের দিন যুদ্ধের ময়দানেই তন্দ্রাভিভূত হয়ে পড়েছিলাম। তিনি আরো বলেনঃ ঐ দিন তন্দ্রা যাদের আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল তিনি তাদের অন্যতম ছিলেন। তিনি বলেন, আমার তরবারী হাত থেকে পড়ে যায়। আমি তা তুলে নেই। আবার হাত থেকে পড়ে যায় আবার তা তুলে নেই। আরেক দল ছিল মুনাফিকদের। তাদের নিজেদের ছাড়া আর কোন চিন্তা ছিল না। এরা ছিল সবচেয়ে ভীরু। সবচেয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষ পরিত্যাগকারী সম্প্রদায়।
সহীহ, বুখারি ৪০৮৬, ৪৫৬২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০০৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩০০৯. কুতায়বা (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এই আয়াতটি নাযিল হয়ঃ (مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَغُلَّ) ’গোপনে খেয়ানত করা নবীর দ্বারা সংঘটিত হতে পারে না (৩ঃ ১৬১)।’ একটি লাল চাদরের বিষয়ে। বদরের দিন এই চাদরটি হারিয়ে যায়। কিছু লোক বলতে লাগল যে, হয়ত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি নিয়েছেন। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ (مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَغُلَّ) আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
সহীহ, সহীহাহ ২৭৮৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০০৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। আবদুস সালাম ইবন হারব (রহঃ) খুসায়ফ সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কোন কোন রাবী এই হাদীসটিকে খুসায়ফ ... মিকসাম (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা এতে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উল্লেখ করেননি।
৩০১০. ইয়াহ্ইয়া ইবন হাবীব ইবন আরাবী (রহঃ) ..... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সামনে পড়লেন। তিনি বললেনঃ হে জাবির! কি ব্যপার, আমি তোমাকে মন-ভাঙ্গা দেখছি? আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার পিতা শহীদ হয়ে গেছেন। তিনি এক পরিবার ও ঋণ রেখে গেছেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা তোমার পিতার সঙ্গে কী ব্যবহার করেছেন সে সুসংবাদ তোমাকে দিব কি? আমি বললামঃ অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা হিজাবের অন্তরাল ছাড়া কারো সঙ্গে কখনও কথা বলেন নি। কিন্তু তিনি তোমার পিতাকে যিন্দা করেন এবং সামনা-সামনি তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তাকে বললেনঃ হে আমার বান্দা! তুমি তোমার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ কর আমি তোমাকে দান করব। তিনি বললেনঃ হে আমার রব! আপনি আমাকে যিন্দা করে দেন, যাতে আমি দ্বিতীয়বারে আপনার নামে শহীদ হই। রাব্বুল আলামীন বলেছেনঃ আমার পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে যে, এদের কেউ আর ফিরে যারে না। তিনি বলেন আর এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
وَلَاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا
যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে তাদের কখনও মৃত ভেবো না ...... শেষ পর্যন্ত (৩ঃ ১৬৯)।
হাসান, ইবনু মাজাহ ১৯০, ২৮০০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই সূত্রে হাদীসটি হাসান-গারীব। মূসা ইবন ইবরাহীম-এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আলী ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন মাদীনী প্রমুখ বড় বড় হাদীসবিদগণ মূসা ইবন ইবরাহীম (রহঃ) সূত্রে এরূপ রিওয়ায়ত করেছেন। আবদুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আকীল (রহঃ)-ও জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এই হাদীসটি আংশিক বর্ণনা করেছেন।
৩০১১. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত।
(لَاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ)
(৩ : ১৬৯) আয়াতটি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ শোন, আমরাও এই সম্পর্কে জিজ্ঞাস করেছিলাম। আমাদের অবহিত করা হয়েছে যে, তাঁদের (শহীদদের) রূহগুলি সবুজ পাখির ভিতর থাকে। সে পাখি জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা উড়ে বেড়ায় এবং তারা আরশের সঙ্গে লটকানো ঝাড়ে থাকে। তোমার রব একবার তাদের সম্মুখে আবির্ভূত হবেন। বলবেন, আরো কোন জিনিস তোমরা চাও কি? তা হলে আমি তা তোমাদের জন্য বাড়িয়ে দিব।
তারা বলবেঃ হে আমাদের রব! আর কি অতিরিক্ত চাইব? আমরা জান্নাতে অবস্থান করছি। যেখানে ইচ্ছা উড়ে বেড়াই। তারপর আবার তিনি আবির্ভূত হয়ে বলবেন, তোমরা আরো কিছু অতিরিক্ত চাও কি? তোমাদের জন্য তা বাড়িয়ে দিব।
এরা যখন দেখবে যে, তাদের কিছু না দিয়ে ছাড়া হচ্ছে না, তখন তারা বলবেঃ আপনি আমাদের শরীরে আমাদের রূহ ফিরিয়ে দিন, যাতে আমরা দুনিয়ায় ফিরে যাই এবং আবার আপনার পথে শহীদ হই।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৮০১, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
ইবন আবূ উমর (রহঃ) ... ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে আরো আছেঃ আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমাদের সালাম পৌঁছে দিবেন এবং তাঁকে এই সংবাদ দিবেন যে, আমরা সন্তুষ্ট এবং আমাদের উপর (আমাদের রব) সন্তুষ্ট।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান।
৩০১২. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ’রূপে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার সম্পদের যাকাত দেয় না আল্লাহ্ ত’আলা কিয়ামতের দিন তার গলায় একটা আযদাহা পেঁচিয়ে দিবেন। এরপর তিনি এই দিকে ইঙ্গিত বহু কুরআনের আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ
لَاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ
আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে যা তোমাদের দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তা তাদের জন্য মঙ্গলজনক বলে মনে করব না ...... (৩ঃ ১৮০)
কখনও কখনও তিনি বলতেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বিষয়ে ইঙ্গিতবহ এই আয়াতটি পাঠ করতেনঃ (سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ) - যে বিষয়ে তারা কৃপনতা করবে কিয়ামতের দিন তাই তাদের গলার বেড়ী হবে ....... (৩ঃ ১৮০)
কেউ যদি (মিথ্যা) কসম করে তার মুসলিম ভাইয়ের সম্পদ আত্মসাৎ করে তবে আল্লাহর সঙ্গে তার এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ হবে যে, তিনি তাদের উপর ক্রোধান্বিত থাকবেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ইঙ্গিতবহ এই আয়াত পাঠ করলেনঃ (إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ) (৩ঃ ৭৭)।
সহীহ, মুশকিলাতুল ফাকর ৬০, তা’লীকুর রাগীব ১/৬৮, হাদিসের ২য় অংশ বুখারি ৭৪৪৫, মুসলিম ১/৮৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০১২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি সহীহ।
شجاعاً আযদাহা সাপ।
৩০১৩. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতের একটি বেত রাখার মত জায়গা দুনিয়া ও এর মধ্যে যা আছে সবকিছু থেকে উত্তম। ইচ্ছা করলে তোমরা পাঠ করতে পারঃ
فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلاَّ مَتَاعُ الْغُرُورِ
যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে দাখিল করা হবে সেই তো সফলকাম। আর দুনিয়ার জীবন তো ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়। (৩ঃ১৮৫)
হাসান, সহীহাহ ১৯৮৭, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩০১৪. হাসান ইবন মুহাম্মাদ যা’আফরানী (রহঃ) ..... মারওয়ান ইবনুল হাকাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর দারওয়ান রাফি’কে বললেনঃ হে রাফি! ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে যাও এবং তাঁকে বল, নিজেদের কার্যকলাপের প্রতি যারা খুশী এবং যা করেনি সে কাজের জন্য যারা প্রশংশিত হতে ভালবাসে (৩ঃ ১৮৮ নং আয়াত অনুসারে) এমন প্রত্যেকেই যদি আযাব-নিপতিত হয়, তবে আমাদের সবাইকেই তো আযাবে নিপতিত হতে হবে।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তোমাদের সাথে এই আয়াতের কি সম্পর্ক? এই আয়াত তো কিতাবীদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছিল। এরপর ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তিলাওয়াত করলেনঃ
وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلاَ تَكْتُمُونَهُ
স্মরণ কর, যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল আল্লাহ্ তাদের প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন’’ তোমরা (আল্লাহর বিধান) মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না ... আয়াতের শেষ পর্যন্ত (৩ঃ ১৮৭)। তিনি আরও তিলাওয়াত করলেনঃ
لَاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ بِمَا أَتَوْا وَيُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا
যারা নিজেদের কার্যকলাপের উপর আনন্দ প্রকাশ করে এবং যা করেনি সে বিষয়ে প্রশংসিত হতে ভালবাসে ... আয়াতের শষ পর্যন্ত (৩ঃ ১৮৮)।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদেরকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কিন্তু তারা তা গোপন করে এবং এর বিপরীতে তথ্য দেয়। পরে তারা বের হয়ে গেল এবং তাঁর প্রতি এমন ভাব দেখাল যে, যে বিষয়ে তিনি তাদের প্রশ্ন করেছিলেন, সে বিষয়ে যথার্থ তথ্য তারা তাঁকে অবহিত করেছে এবং এর জন্য তারা প্রশংসার দাবীদার হয়েছে। মোটকথা, এরা ছিল যারা তাদের কিতাবে যা পেয়েছে এবং তাদের তিনি যে প্রশ্ন করেছিলেন তাতে আনন্দ প্রকাশ করেছিল।
সহীহ, বুখারি ৪৫৬৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০১৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ।
৩০১৫. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি অসুস্থ ছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে এলেন। আমি তখন বেহুঁশ হয়ে পড়েছিলাম। হুঁশ এলে বললামঃ আমি আমার সম্পদে কি ফায়সালা করব? তিনি চুপ করে রইলেন। তখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلاَدِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنْثَيَيْنِ
আল্লাহ্ তোমাদের সন্তানদের বিষয়ে নির্দেশ দিচ্ছেন। এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। (৪ : ১১)।
সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ২৭২৮, বুখারি ৪৫৭৭, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০১৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। একাধিক রাবী এটি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ফাযল ইবন সাব্বাহ বাগদাদী (রহঃ) জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। ফাযল ইবন সাব্বাহ (রহঃ)-এর রিওয়ায়তে আরো বেশী বক্তব্য রয়েছে।
৩০১৬. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আওতাস যুদ্ধের সময় আমাদের হাতে অনেক নারী বন্দী আসে। তাদের মুশরিক স্বামী ছিল। সাহাবীদের অনেকেই তাদের অপছন্দ করেন। আল্লাহ্ তা’আলা তখন এই আয়াতে নাযিল করেনঃ
وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلاَّ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ
নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভূক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ। (৪ : ২৪ )।
সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ১৮৭১, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০১৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান।
৩০১৭. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আওতাস যুদ্ধে আমাদের হাতে নবী বন্দী হয়ে আসে। নিজেদের কওমে স্বামীও ছিল। সাহাবীগণ এদের বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উত্থাপন করলে এই আয়াত নাযিল হলঃ
وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلاَّ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ
হাদীসটি হাসান। ছাওরী (রহঃ) এই হাদীসটিকে উছমান আল-বাত্তি ... আবুল খালীল ... আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই সনদে আবূ আলকামা (রহঃ) এর উল্লেখ নেই। আবুল খালীল (রহঃ) এর নাম হল সালিহ ইবন আবূ মারইয়াম।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০১৮. মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ’লা সানআনী (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কবীর গুনাহ্ সম্পর্কে রিওয়ায়ত আছে। তিনি বলেছেনঃ তা হল, আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, পিতামাতার নাফরমানী করা, প্রাণ সংহার করা, মিথ্যা বলা।
সহীহ, গায়াতুল মারাম ২৭৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০১৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। রাওহ ইবন উবাদা এটিকে শু’বা (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি সনদে (উবায়দুল্লাহ্-এর স্থলে) আবদুল্লাহ্ ইবন আবূ বকর বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তা সহীহ নয়।
৩০১৯. হুমায়দ ইবন মাসআদা (রহঃ) ...... আবূ বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের সবচেয়ে গুরুতর কবীর গুনাহসমূহের কথা বলব?
সাহাবীগণ আরয করলেনঃ অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, পিতা-মাতার সঙ্গে নাফরমানী করা।
আবূ বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ তিনি কাত হয়ে ছিলেন। সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেনঃ মিথ্যা সাক্ষী দেয়া বা মিথ্যা কথা বলা। আবূ বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটি বারবার এমনভাবে বলতে লাগলেন যে, আমরা মনে মনে বলতে লাগলাম, তিনি যদি চুপ করতেন (তবে ভাল হতো)।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০১৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
৩০২০. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উনায়স জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বর বড় কবীরা গুনাহসমূহ হলঃ আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, পিতা মাতার নাফরমানী করা, মিথ্যা কসম করা, কেউ যদি অপরিবর্তনীয় এবং অবশ্যাম্ভাবী ভাবে যা প্রয়োগ হয় এমন হলফ করে আর তাতে মশার পাখার মত সামান্য মাত্র মিথ্যা ঢুকিয়ে দেয় তবুও তা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তার মনে দাগ হয়ে থাকবে।
হাসান, মিশকাত তাহকীক ছানী ৩৭৭৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০২০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিসটি হাসান গারীব। আবূ উমামা আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু হলেন ইবন সা’লাবা। তার নাম আমাদের জানা নেই। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৩০২৪. হান্নাদ (রহঃ) ....... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সামনে কুরআন তিলাওয়াত করতে নির্দেশ দিলেন, তিনি তখন মিম্বরে উপবিষ্ট ছিলেন। আমি সূরা নিসা থেকে তিলাওয়াত করলাম। যখন এই আয়াত পৌঁছলামঃ (فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا) সে দিন কী অবস্থা হবে যে দিন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে উপস্থিত করব তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসাবে (৪ঃ ৪১)। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর হাত দিয়ে চাপ দেন। আমি তাঁর দিকে তাকালাম। তাঁর দু’চোখ বেয়ে অশ্রু পড়ছিল।
আবুল আহওয়াস (রহঃ) এটি আ’মাশ ... ইবরাহীম ... আলকামা ... আবদুল্লাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আসলে তা হবে ইবরাহীম ... উবায়দা-আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০২৫. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একদিন বললেনঃ তুমি আমার সামনে তিলাওয়াত কর।
আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আপনার কাছে তিলাওয়াত করব? অথচ আপনারই উপর নাযিল হয়েছে তা! তিনি বললেনঃ অন্যের কাছ থেকে শুনতেও আমি ভালবাসি। আমি সূরা নিসা থেকে তিলাওয়াত করতে লাগলাম। অবশেষে যখন (وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا) (৪ঃ ৪১) আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলাম তিনি বলেনঃ তখন দেখলাম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু’চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে।
সহীহ, বুখারি ৪৫৮২, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই রিওয়ায়তটি আবুল আহওয়াস-এর রিওয়ায়ত (৩০২৪ নং) অপেক্ষা অধিক সহীহ। সওয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ) ... আ’মাশ (রহঃ) থেকে মুআবিয়া ইবন হিশাম (রহঃ) এর রিওয়ায়তের অনুরূপ বর্ণিত আছে।
৩০২৭. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ ইবনুয-যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক আনসারী হাররা অঞ্চলের একটি নালা নিয়ে যুরায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত হন। এই নালার মাধ্যমেই তাঁরা তাদের খেজুর বাগানগুলোতে পানি-সেচ করতেন। আনসারী বললেনঃ আপনি পানি আনতে নালা পথটি ছেড়ে দিন। যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু তা করতে অস্বীকার করলেন। উভয়েই বিষয়েটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উল্লেখ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেনঃ হে যুবায়র! তোমার বাগানে পানি সেচ করে তোমার প্রতিবেশীর জন্য পানি ছেড়ে দিও।
আনসারী ব্যক্তিটি এতে রাগান্বিত হয়ে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! (যুবায়র) আপনার ফুফাত ভাই বলেই (এই ফায়সালা দিলেন)। এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ হে যুবায়র! তুমি তোমার বাগানে পানি সেচ কর। এরপর আলগুলো পর্যন্ত পানি ভরাট না হওয়া পর্যন্ত তা ফিরিয়ে রাখবে।
যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমার মনে হয় উক্ত বিষয়েই এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ
কিন্তু না, তোমার রবের কসম, তারা ততক্ষণ মু’মিন হতে পারবে না যতক্ষণ তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার ভার আপনার উপর অর্পন না করে ...... আয়াতের শেষ পর্যন্ত (৪ঃ ৬৫)।
সহীহ, বুখারি ৪৫৮৫, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০২৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেনঃ ইবন ওয়াহব (রহঃ) আবদুল্লাহ্ ইবনুয যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে। শুআয়ব ইবন আবূ হামযা (রহঃ) এটি যুহরী ... উরওয়া ইবনুয যুবায়র (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এতে আবদুল্লাহ্ ইবনুয যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উল্লেখ নেই।
৩০২৮. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ....... যায়দ ইবন ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি (فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ) কি হল তোমাদের যে মুনাফিকদের ব্যাপারে দুই দল হয়ে গেল? (৪ঃ ৮৮) আয়াতটি সম্পর্কে বলেছেনঃ উহুদ যুদ্ধের সময় মুসলিম বাহিনীর একদল লোক (মুনাফিক) যুদ্ধ ছেড়ে ফিরে এসেছিল। তাদের ব্যাপরে সাহাবীগণ দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একদল বলছিলেনঃ এদের হত্যা করা হোক। আরেকদল বলছিলেনঃ না, হত্যার দরকার নেই। তখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ (فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ) (৪ঃ ৮৮)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদীনা হল তায়বা-পবিত্র নগরী। আগুন যেমন লোহার ময়লা-মরিচা বিদূরিত করে দেয় মদীনাও তেমনি মন্দ বিদুরীত করে।
সহীহ, বুখারি ৪৫৮৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবদুল্লাহ্ ইবন ইয়াযীদ হলেন আনসারী খাতমী। তিনি সাহাবী ছিলেন।
৩০২৯. হাসান ইবন মুহাম্মাদ যাআফরানী (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে কপালের চুল ও মাথায় ধরে নিয়ে আসবে। তার গলার কাটা রগসমূহ থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে। সে বলবে, হে আমার রব! এ আমাকে হত্যা করেছে। এমনকি সে তাকে আল্লাহ্ আল্লাহর আরশের কাছে নিয়ে যাবে।
রাবী বলেনঃ ইবন আব্বাসের নিকট হত্যাকারীর তওবা প্রসঙ্গে আলোচনা করলে তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا
কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম ...... (৪ঃ ৯৩ )।
এই আয়াতটি মানসূখও হয়নি বা তার বিধনও পরিবর্তিত হয়নি। সুতরাং তার আর তাওবা কোথায়?
সহীহ, মিশকাত, তাহকিক ছানী ৩৪৬৫, তা’লীকুর রাগিব ৩/২০৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০২৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীসটি হাসান-গারীব। কেউ কেউ এই হাদীসটি আমর ইবন দীনারইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাঁরা এটি মারফু করেননি।
৩০৩০. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, বানু সুলায়ম গোত্রের এক ব্যক্তি একদল সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে তার বকরীর পালও ছিল। সে সাহাবীদের সালাম করল। সাহাবীরা (পরস্পর) বললেনঃ এ তোমাদের থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্যই সালাম করেছে। তখন তারা উঠে দাঁড়ালেন এবং তাকে হত্যা করলেন ও তার বকরীর পাল নিয়ে নিলেন। এই সব নিয়ে তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। তখন আল্লাহ্ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَتَبَيَّنُوا وَلاَ تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلاَمَ لَسْتَ مُؤْمِنًا
হে মু’মিনগণ তোমরা যখন আল্লাহর পথে যাত্রা করবে তখন সব বিষয়ে পরিস্কার পরীক্ষা করে নিবে। যে তোমাদের সালাম করবে তাকে বলবে না যে তুমি মু’মিন নও ..... (৪ঃ ৯৪)।
হাসান, তা’লীক ’আলাল ইহসান ৭/১২২, বুখারি ২৫৯১ সংক্ষেপে, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৩০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান। এই বিষয়ে উসামা ইবন যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
৩০৩১. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ...... বারা ইবন আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ) মু’মিনদের মধ্যে যারা গৃহে উপবিষ্ট তারা সমান নয় (৪ঃ ৯৫) এই আয়াত নাযিল হলে আমর ইবন উম্ম মাকতূম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। তিনি ছিলেন অন্ধ। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি তো অন্ধ। আমাকে আপনি কি নির্দেশ দেন? আল্লাহ্ তা’আলা তখন নাযিল করলেনঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ) তবে যারা অক্ষম তাদের কথা ভিন্ন ...... (৪ : ৯৪)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দোয়াত ও কাঁধের মসৃণ হাড্ডি নিয়ে এস (বা বললেন) তখতী ও দোয়াত নিয়ে এস (এবং তা লিখে নাও)।
সহীহ, বুখারি ৪৫৯৩-৪৫৯৪, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৩১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আমর ইবন উম্ম মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নাম আবদুল্লাহ্ ইবন উম্ম মাকতূম বলেও কথিত আছে। ইনি হলেন আবদুল্লাহ্ ইবন যাইদা। উম্মু মাকতূম হল তাঁর মা-এর নাম।
৩০৩২. হাসান ইবন মুহাম্মাদ যাআফরানী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ) (৪ঃ ৯৫) আয়াতটি প্রসঙ্গে বলেনঃ অক্ষম না হয়েও যারা বদরে শরীক না হয়ে ঘরে বসে রয়েছে তারা এবং যারা বদরে বের হয়েছে তারা এক সমান নয়।
বদরের সময় আবদুল্লাহ্ ইবন জাহাশ (শুদ্ধ হল আবদ আবূ আহমদ ইবন জাহাশ) এবং ইবন উম্ম মাকতূম রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা দু’জন তো অন্ধ। আমাদের জন্য এক্ষেত্রে কোন অবকাশ আছে কি? তখন নাযিল হয়ঃ (৪ঃ ৯৫)
لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ وفَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ عَلََى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً
সহীহ, বুখারি ৪৫৯৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৩২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এখানে যারা অক্ষম না হয়েও ঘরে বসে থাকে তাদের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর পথে যারা জিহাদ করে তাদেরকে আল্লাহ্ তা’আলা অক্ষম না হয়েও যারা ঘরে বসে থাকে তাদের উপর বিরাট প্রতিদান ও বহু দরজা ফযীলত দিয়েছেন।
এই হাদীসটি ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়ত হিসাবে এই সূত্রে হাসান-গারীব। কথিত আছে, মিকসাম হলেন আবদুল্লাহ্ ইবন হারিছ-এর মাওলা বা আযাদকৃত দাস। তিনি আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাওলা। মিকসাম-এর কুনিয়াত হল আবুল কাসিম।
৩০৩৩. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ....... সাহল ইবন সা’দ সাঈদী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মারওয়ান ইবনুল হাকামকে মসজিদে উপবিষ্ট দেখতে পেয়ে সামনে এগিয়ে গিয়ে তাঁর পার্শ্বে বসলাম। তিনি আমার কাছে বর্ণনা করলেন যে, যায়দ ইবন ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে লিখাচ্ছিলেনঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ) এমন সময় ইবন উম্ম মাকতূম এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনও আমাকে লিখাচ্ছিলেন। ইবন উম্ম মাকতূম রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহর কসম আমি যদি জিহাদে শরীক হতে পারতাম তবে অবশ্যই জিহাদ করতাম। ইবন উম্ম মাকতূম ছিলেন অন্ধ।
আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর রাসূলের উপর ওহী নাযিল শুরু করলেন। তাঁর উরু ছিল আমার উরুর উপর। তা এত ভারী মনে হচ্ছিল যে, এর ওজনে আমার উরুর হাড্ডি যেন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়বে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই অবস্থা অপসৃত হয়। আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেনঃ (غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ) যারা অক্ষম তারা ছাড়া (৪ঃ ৯৫)।
সহীহ, বুখারি ৪৫৯২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৩৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীসটি এক সাহাবীর রিওয়ায়ত, একজন তাবিঈ থেকে বর্ণিত। সাহল ইবন সা’দ আনসারী রিওয়ায়ত করেছেন মারওয়ান ইবন হাকাম থেকে। মারওয়ার সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু শুনেন নি। ইনি একজন তাবিঈ।
৩০৩৪. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... ইয়া’লা ইবন উমায়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললাম। আল্লাহ তা’আলা তো বলেছেনঃ যখন তোমরা (শত্রুর) আশংকা করা তখন সালাতে কসর করবে (৪ঃ ১০১)। এখন তো মানুষ নিরাপদ হয়ে গেছে। (ইসলামও প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে)। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহ বললেনঃ তুমি যাতে বিস্বয়বোধ করছ আমিও তাতে বিস্ময়বোধ করেছিলাম এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম। তিনি বলেছিলেনঃ এতো আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ যা তিনি তোমাদের দান করেছেন। সুতরাং আল্লাহর এই দান তোমরা গ্রহণ কর।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ১০৬৫, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৩৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩০৩৫. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাজনান ও উসফানের মাঝে এক স্থানে যাত্রাবিরতি করেছিলেন। মুশরিকরা বললঃ এদের একটি সালাত (নামায) আছে যা তাদের কাছে তাদের পিতা-পিতামহ ও সন্তান-সন্ততি থেকে অধিক প্রিয়। তা হল সালাতুল আসর। তাই তোমরা (তোমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে) দৃঢ় সংকল্প হয়ে থাক। আর তখন এক হামলা চালিয়ে (তাদের শেষ করে) দিবে।
জিবরীল (আঃ)-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন এবং তাঁর সঙ্গীদেরকে দুই ভাগে ভাগ করে তাদের নিয়ে সালাত (নামায) আদায় করতে নির্দেশ দিলেন। অপর দল অস্ত্রশস্ত্র এবং সতর্কতা রক্ষার উদ্দেশ্যে তাদের পেছনে থাকবে। এরপর অপর দলটি আসবে এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক রাকআত সালাত (নামায) আদায় করবে। প্রথম দলটি তাদের অস্ত্রশস্ত্র এবং সতর্কতা রক্ষা করবে। ফলে এদের জন্য হবে এক এক রাকআত করে আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য হবে দুই রাকআত।
আবদুল্লাহ্ ইবন শাকীক ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়ত হিসাবে হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। এই বিষয়ে আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ, যায়দ ইবন ছাবিত, ইবন আব্বাস, জাবির, আবূ আয়্যাশ আয-যুরকী, ইবন উমর, হুযায়ফা, আবূ বকরা, সাহল ইবন হাছমা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ আয়্যাশ আয যুরাকী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নাম হল যায়দ ইবন সামিত।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৩৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৩৭. খাল্লাদ ইবন আসলাম বাগদাদী (রহঃ) ..... আলী ইবন আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কুরআন করীমে আমার কাছে এই আয়াতটি অপেক্ষা প্রিয় আয়াত আর কোনটি নেইঃ (৪ঃ ১১৬)
إِنَّ اللَّهَ لاَ يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-গারীব।
আবূ ফাখিত (রহঃ) এর নাম সাঈদ ইবন ইলাকা। ছুওয়ার (রহঃ) এর কুনিয়াত হল আবূ জাহম। তিনি হলেন, কুফী। তিনি ইবন উমর ও ইবন যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সরাসরি হাদীস শুনেছেন। ইবন মাহদী (রহঃ) তাঁকে কিছু দোষারোপ করতেন।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৩৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৩৮. মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া ইবন আবূ উমর এবং আবদুল্লাহ্ ইবন আবূ যিনাদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ) যে মন্দ করবে তাকে এর শাস্তি প্রদান করা হবে (৪ঃ ১২৩) এই আয়াত নাযিল হলে তা মুসলিমদের জন্য খুব মনোকষ্টের কারণ হয়। তাই তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অভিযোগ করেন।
তিনি বললেনঃ সত্যের নিকটবর্তী থাক এবং সরল-সোজা পথ অবলম্বন কর। মু’মিনের যে ক্লেশই হোক না কেন এমনকি তার গায়ে যদি কোন কাঁটা বিঁধে বা কোন বিপদে-আপদ যদি তার উপর আপতিত হয়- সব কিছুই তার গুনাহর কাফফারা হয়।
সহীহ, তাখরিজুত তাহাবিয়া ৩৯০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৩৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। ইবন মুহায়সিন (রহঃ) এর নাম উমর ইবন আবদুর রহমান ইবন মুহায়সিন।
৩০৩৯. ইয়াহ্ইয়া ইবন মূসা ও আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ وَلاَ يَجِدْ لَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلاَ نَصِيرًا
যে কেউ মন্দ কাজ করবে তার প্রতিফল সে পাবেই এবং আল্লাহ্ ছাড়া সে কোন অভিভাবক ও কোন সহায়ক পাবে না। (৪ঃ ১২৩)
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ বকর! আমি কি তোমার কাছে একটি আয়াত পড়ব না, যা আমার উপর নাযিল হয়েছে? আমি বললামঃ অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি আমাকে তা পড়ে শোনালেন। আমি আর কিছুই জানি না তবে আমার পিঠে যেন একটি আঘাত অনুভব করলাম। এর জন্য আমি পিঠ টান করলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবূ বকর! তোমার কি হল?
আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে মন্দ কাজ করে না? আমরা যা কিছু করি সবকিছুরই কি প্রতিফল ভোগ করতে হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ বকর! তুমি এবং মু’মিনদের তো দুনিয়াতেই এর বদলা হয়ে যাবে। শেষে আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় তাদের সাক্ষাৎ হবে যে, তাদের কোন গুনাহ্ থাকবে না। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে মন্দ সব কিছু জমা করা হবে। অবশেষে কিয়ামতের দিন তাদের সে সবের প্রতিফল প্রদান করা হবে।
হাদীসটি গারীব। এর সনদের সমালোচনা রয়েছে। মূসা ইবন উবায়দা হাদিস রিওয়ায়তের ক্ষেত্রে যঈফ। ইয়াহ্ইয়া ইবন সাঈদ এবং আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) তাকে যঈফ বলেছেন। ইবন সাব্বা-এর মাওলাও অজ্ঞাত।
আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদীসটি অন্যভাবেও বর্ণিত আছে। এর সনদে ও সহীহ নয়। এই বিষয়ে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৩৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৪০. মুহাম্মদ ইবনুল মুছান্না (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর আশংকা হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তালাক দিয়ে দিবেন। তাই তিনি তাঁকে বললেনঃ আমাকে আপনি তালাক দিবেন না। আমাকে আপনার বিবাহে স্থিত রাখুন। আমার জন্য নির্ধারিত দিনটি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর জন্য নির্ধারণ করে নিন। তিনি তাই করলেন। তখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ (فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًا وَالصُّلْحُ خَيْرٌ) তারা (স্বামী-স্ত্রী)) যদি পরস্পর আপস-নিষ্পত্তি করে নেয় তবে তাতে তাদের কোন দোষ নেই; বরং আপস-নিষ্পত্তিই শ্রেয় (৪ঃ ১২৮) যে বিষয়ের উপর তারা আপস করবে তা জায়েয। এটা ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বক্তব্য।
সহীহ, ইরওয়া ২০২০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
৩০৪৩. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... তারিক ইবন শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহুদী উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীনঃ
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا
আজ পরিপূর্ণ করে দিলাম আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন, পরিসমাপ্তি করে দিলাম তোমাদের উপর আমার নেয়ামত আর দ্বীন হিসাবে তোমাদের জন্য ইসলামকে মনোনিত করলাম। (৫ঃ ৩) আয়াতটি যদি আমাদের উপর নাযিল হত তা হলে সেই দিনটিকে আমরা উৎসবের দিন হিসাবে নির্ধারণ করতাম। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি অবশ্যই জানি এই আয়াতটি কোন দিন নাযিল হয়েছিল, এটি আরাফার দিন, জুমাবারে নাযিল হয়েছিল।
সহীহ, বুখারি ৪৬০৬, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৪৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩০৪৪. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আম্মার ইবন আবূ আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ (৫ঃ ৩)
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا
তাঁর কাছে এক ইয়াহুদী উপস্থিত ছিল। সে বললঃ আমাদের উপর যদি এমন একটি আয়াত নাযিল হত তবে সেই দিনটিকে আমরা উৎসবের দিন হিসাবে নির্ধারণ করতাম। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ এটি তো আমাদের দুই ঈদের দিন নাযিল হয়েছেঃ জুমআর দিন এবং আরাফার দিন।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়ত হিসাবে হাদীসটি হাসান-গারীব।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৪৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৪৫. আহমদ ইবন মানী (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দয়াময়ের ডান হাত তো পূর্ণ সব সময় তা অনুগ্রহ ঢালছে। রাত-দিনের বর্ষণ তাতে কোন হ্রাস ঘটাতে পারে না। তিনি আরো বলেনঃ তোমরা লক্ষ্য করেছ কি? যেদিন থেকে তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকে তিনি ব্যয় করে আসছেন কিন্তু তাঁর দক্ষিণ হস্তেও যা আছে তাতেও কিছু কম হয়নি। তাঁর আরশ পানির উপর। তাঁর অন্য হাতে হল মীযান। তিনি তা নিচু করেন এবং উত্তোলন করেন।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ১৯৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৪৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীসটি হলঃ (وَعَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ) ইয়াহূদীরা বলে, আল্লাহর হাত রুদ্ধ। এরাই আসলে রুদ্ধহস্ত (وَقََالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ) (৫ঃ ৬৪) আয়াতটির তাফসীর স্বরূপ। ইমামগণ বলেনঃ কোনরূপ ব্যাখ্যা ও সন্দেহ পোষণ না করে যেভাবে হাদীসে উল্লেখ হয়েছে এই সব হাদীছের ক্ষেত্রে সেভাবেই বিষয়টি বিশ্বাস করতে হবে। সুফইয়ান ছাওরী, মালিক ইবন আনাস, ইবন উয়ায়না, ইবন মুবারক প্রমুখ (রহঃ) ইমামগণ এইরূপ অভিমত বক্তে করেছেন যে, এই ধরনের বিষয় বর্ণনা করা যাবে। এগুলোর উপর ঈমান রাখতে হবে কিন্তু তা কেমন এই কথা বলা যাবে না।
হাদিস নং ৩০৪৬হাসান
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُحْرَسُ حَتَّى نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ : ( وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ ) فَأَخْرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأْسَهُ مِنَ الْقُبَّةِ فَقَالَ لَهُمْ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ انْصَرِفُوا فَقَدْ عَصَمَنِي اللَّهُ " .<br /> <br /> حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَرَوَى بَعْضُهُمْ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُحْرَسُ وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنْ عَائِشَةَ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৩০৪৬. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) .... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পাহারা দেওয়া হত। (وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ) আল্লাহ আপনাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন (৫ঃ ৬৭) আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুজরা থেকে মাথা বের করে পাহারাদারদের বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা চলে যাও। আল্লাহ্ আমাকে হেফজত করেছেন।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৪৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি গারীব। কেউ কেউ এই হাদীসটিকে জুরায়রী ...... আবদুল্লাহ্ ইবন শাকীক (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এতে তারা আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর উল্লেখ করেননি।
হাদিস নং ৩০৪৭যঈফ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَمَّا وَقَعَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ فِي الْمَعَاصِي نَهَتْهُمْ عُلَمَاؤُهُمْ فَلَمْ يَنْتَهُوا فَجَالَسُوهُمْ فِي مَجَالِسِهِمْ وَوَاكَلُوهُمْ وَشَارَبُوهُمْ فَضَرَبَ اللَّهُ قُلُوبَ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ وَلَعَنَهُمْ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ " . قَالَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ مُتَّكِئًا فَقَالَ " لاَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ حَتَّى تَأْطِرُوهُمْ عَلَى الْحَقِّ أَطْرًا " . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ يَزِيدُ وَكَانَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ لاَ يَقُولُ فِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ أَبِي الْوَضَّاحِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَبَعْضُهُمْ يَقُولُ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلٌ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৩০৪৭. আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বানূ ইসরাঈলীরা যখন আল্লাহর নাফরমানীতে লিপ্ত হয় তখন তাদের আলিমগণ তাদের নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তারা নিষেধ শোনে নি। এতদসত্ত্বেও তাঁরা তাদের সাথে তাদের মজলিসে উঠা বসা করেছে, তাদের সাথে (একত্রে) পানাহার করেছে। অনন্তর আল্লাহ্ তা’আলা তাদের কতকের (পাপীদের) সাথে একাকার করে দিলেন এবং দাউদ ও ঈসা ইবন মাইয়াম (আঃ) এর ভাষায় তারা লা’নতগ্রস্ত হল। কেননা, তারা নাফরমানী এবং সীমালংঘন করত।
রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেলান দিয়ে বসে ছিলেন, তিনি তখন সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেনঃ কসম সেই সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমরা রক্ষা পাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের কঠোরভাবে বাধা না দিয়েছ।
যঈফ, ইবনু মাজাহ ৪০০৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৪৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ ইয়াযীদ বলেছেন যে, সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) সনদে আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উল্লেখ করেননি। হাদীসটি হাসান-গারীব। এই হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম ইবন আবুল ওয়াযযাহ ... আলী ইবন বাযীমা-আবূ উবায়দা-আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। কোন কোন রাবী এটিকে আবূ উবায়দা ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন।
৩০৪৮. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ...... আবূ উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বানূ ইসরাঈলের মাঝে যখন ক্রটি দেখা দিল তখন তাদের একজন তার আর এক ভাইকে গুনাহের মধ্যে লিপ্ত দেখতে পেলে তাকে নিষেধ করত কিন্তু তাকে যা করতে সে দেখেছে তার এই দেখা ঐ নাফরমানের সঙ্গে পানাহারে এবং মজলিসে-বৈঠকে এক সঙ্গে শরীক হওয়া থেকে তাকে বাধা দিত না। অবশেষে আল্লাহ্ তা’আলা তাদের কতকের অন্তর অন্য কতকের অন্তরের সাথে একাকার করে দিলেন। তাদের বিষয়েই আল্লাহ্ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করেন এরপর তিনি পাঠ করলেনঃ
لُعِِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ
বানু ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল তারা অভিশপ্ত হয়েছিল দাঊদ ও ঈসা ইবন মারয়াম কর্তৃক। কারণ তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী। তারা যে সব গর্হিত কাজ করত তা থেকে পরস্পরকে বারণ করত না তারা যা করত তা কতই না মন্দ। তাদের অনেককে তুমি কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবে। কত নিকৃষ্ট তাদের কৃতকর্ম- যে কারণে আল্লাহ্ তাদের উপর ক্রোধাম্বিত হয়েছেন এবং তারা স্থায়ীভাবে আযাবে থাকবে। তারা আল্লাহ্, নবী ও তাদের উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাসী হলে এদের বন্ধরূপে গ্রহণ করতে না। কিন্তু তাদের অনেকেই ফাসিক। (৫ঃ ৭৮-৮১)।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাত হয়েছিলেন, তিনি সোজা হয়ে বসে বললেনঃ তোমরা রক্ষা পাবে না, যতক্ষণ না জালিমের হাত ধরে তাকে হকের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছ।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৪৮ [আল মাদানী প্রকাশনী], দেখুন পূর্বের হাদিস।
বুনদার (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
৩০৪৯. আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুর রহামান (রহঃ) ...... উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্! মদের বিষয়ে আমাদের পরিপূর্ণ এবং সুস্পষ্ট বিবরণ দিন। তখন আল্লাহ্ তা’আলা সূরা বাকারার আয়াতটি নাযিল করলেনঃ (يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ) লোকেরা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, উভয়ের মধ্যে মহাপাপ ...... শেষ পর্যন্ত (২ঃ ২১৯)।
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে ডেকে এই আয়াতটি তিলাওয়াত করে শোনান হল। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্! আমাদেরকে মদের বিষয়ে আরো সুষ্পষ্ট ও পরিপূর্ণ বিবরণ দিন। তখন সূরা নিসার এই আয়াতটি নাযিল হলঃ
يا أيها الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَقْرَبُوا الصَّلاَةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى
হে মু’মিনগণ! তোমরা মদ্য নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের নিকটবর্তী হবে না। (৪ঃ৪৩)
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে ডেকে আনা হল এবং তাঁকে এই আয়াতটি তিলাওয়াত করে শোনান হল। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! মদের বিষয়ে আরো পরিষ্কার নির্দেশ দিন। তখন সূরা মাইদার এই আয়াতটি নাযিল হয়ঃ
إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ إِلَى قَوْلِهِ فَهَلْ أَنتُم مُّنتَهُونَ
শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না? (৫ঃ ৯১) উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে ডেকে তাঁকে এটি তিলাওয়াত করে শোনান হল। তিনি বললেনঃ চুড়ান্ত হয়েছে, চুড়ান্ত হয়েছে।
সহীহ, সহীহাহ ২৩৪৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৪৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইসরাঈল (রহঃ) সূত্রে এটি মুরসাল রূপেও বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) ... আবূ মায়সারা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর উবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেছিলেনঃ হে আল্লাহ্! মদের বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট ও পরিপূর্ণ বিবরণ দিয়ে দিন। এরপর তিনি উক্তরূপ বর্ণনা করেছেন। এটি মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ (রহঃ) এর রিওয়ায়ত (৩০৪৯ নং) থেকে অধিক সহীহ।
৩০৫০. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ....... বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদ হারাম হওয়ার পর লোকেরা বললঃ আমাদের সঙ্গীদের কি হবে? তাঁরা যখন ইনতিকাল করেছে তখন তো তাঁরা মদ্যপান করতেন। তখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا إِذَا مَا اتَّقَوْا وَآمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ
যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে তজ্জন্য তাদের কোন পাপ নেই। যদি তারা তাকওয়া অবলম্বন করে ও নেক আমল করেশেষ পর্যন্ত (৫ঃ ৯৩)।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। শু’বা এটি আবূ ইসহাক (রহঃ) ... বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রেও বর্ণনা করেছেন।
পরবর্তী হাদীসের সহায়তায় সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৫০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং ৩০৫১সহিহ
وَقَدْ رَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، أَيْضًا حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ بُنْدَارٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، بِهَذَا قَالَ قَالَ الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ مَاتَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُمْ يَشْرَبُونَ الْخَمْرَ فَلَمَّا نَزَلَ تَحْرِيمُهَا قَالَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَيْفَ بِأَصْحَابِنَا الَّذِينَ مَاتُوا وَهُمْ يَشْرَبُونَهَا فَنَزَلَتْْ : ( لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ ) الآيَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
৩০৫১. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ...... বারা ইবন আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের বেশ কিছু লোক এমন যুগে মারা যান যে যুগে তাঁরা মদ্যপান করতেন। পরে যখন তা হারাম হওয়ার আয়াত নাযিল হয়, তখন সাহাবীদের কতক লোক বললেনঃ আমাদের ঐ সাথীদের কি হবো যারা মদ্যপান করা কালে ইনতিকাল করেছেন? তখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ (لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ) যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে তজ্জন্য তাদের কোন পাপ নেই। (৫ঃ ৯৩)]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৫১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৫২. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, সাহাবীগণ বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মদ হারাম হওয়ার আগে যারা মারা গেছেন অথচ তারা মদ পান করতেন তাদের সম্বন্ধে আপনি কি বলেন? তখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ (৫ঃ ৯৩)
لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا إِذَا مَا اتَّقَوْا وَآمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৫২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৫৪. আবূ হাফস আমর ইবন আলী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি যদি মাংস খাই তবে স্ত্রী সম্ভোগের জন্য অস্থির হয়ে পড়ি এবং যৌন স্পৃহা আমাকে উত্তেজিত করে। তাই আমি নিজের জন্য মাংস হারাম করে দেই। আল্লাহ তা’আলা তখন নাযিল করেনঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلاَ تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لاَ يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ وَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ حَلاَلاً طَيِّبًا
হে মুমিনগণ! আল্লাহ্ তোমাদের জন্য উৎকৃষ্ট যে সব বস্ত হালাল করেছেন সে সব বস্তকে তোমরা হারাম করবে না এবং সীমালংঘন করবে না। আল্লাহ্ সীমালংঘনকারীকে পছন্দ করেন না। আল্লাহ্ তোমাদের যে হালাল ও উৎকৃষ্ট জীবিকা দিয়েছেন তা থেকে তোমরা আহার কর( ৫ঃ ৮৭-৮৮)।
হাদিসটি হাসান-গারীব।
উছমান ইবনু সা’দ (রহঃ) এর রিওয়ায়াত ছাড়া কেউ কেউ এটিকে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন। এতে ইবন আব্বাস (রাঃ) এর উল্লেখ নেই। খালিদ হাযযা এটি ইকরিমা (রহঃ) সূত্রে মুরসাল রূপে রিওয়ায়ত করেছেন।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৫৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৫৫. আবূ সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) ..... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (وَلِِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً) লোকদের মধ্যে যারা সেখানে যাওয়ার সামর্থ আছে আল্লাহর উদ্দেশে ঐ গৃহের হজ্জ করা তার অবশ্য কর্তব্য। (৩ঃ ৯৭) আয়াত নাযিল হলে সাহাবীরা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! প্রতি বছরেই কি তা করতে হবে? তিনি চুপ করে রইলেন। তাঁরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! প্রতি বছরেই কি তা করতে হবে? তিনি বললেনঃ না, যদি হ্যাঁ বলতাম তবে তো তা অবশ্য কর্তব্য হয়ে যেত। আল্লাহ্ তা’আলা তখন এই আয়াত নাযিল করেনঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ
হে মু’মিনগণ! তোমরা সে সব বিষয়ে প্রশ্ন করবে না, যা প্রকাশ হলে তোমাদের খারাপ লাগবে (৫ঃ ১০১)।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়ত হিসাবে হাদিসটি হাসান-গারীব। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা ও ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৫৭. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ....... আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হে লোক সকল! তোমরা এই আয়াত পাঠ করে থাক যে, (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ) হে মু’মিনগণ, তোমাদের নিজেদের সংশোধন করাই তোমাদের কর্তব্য। তোমরা যদি হিদায়তের উপর থাক, তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না (৫ঃ ১০৫)। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মানুষ যখন কোন জালিমকে দেখে আর তার হাত ধরে যদি তাকে নিবৃত না করে তবে আশংকা যে, অচিরেই আল্লাহ্ তা’আলা তাদেরকে ব্যাপক আযাবে নিপতিত করবেন।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। একাধিক রাবী এটি ইসমাঈল ইবন আবূ খালিদ (রহঃ) সূত্রে মারফু’ হিসাবে অনুরূপ রিওয়ায়ত করেছেন। কোন কোন রাবী ইসমাঈল ..... কায়স (রহঃ) সূত্রে আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য রূপে এটি রিওয়ায়ত করেছেন। তাঁরা এটি মারফু’ করেননি।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৫৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৫৮. সাঈদ ইবন ইয়াকূব তালাকানী (রহঃ) ....... আবূ উমায়্যা শা’বানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি আবূ ছা’লাবা খুশানী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে তাঁকে বললামঃ এই আয়াতটির বিষয়ে আপনার কি করণীয় নির্ধারন করেছেন? তিনি বললেনঃ কোন আয়াতটির বিষয়ে বলছেন? আমি বললামঃ আল্লাহ্ তা’আলার ইরশাদঃ (৫ : ১০৫)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ
তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম, তুমি সুবিজ্ঞ লোকের কাছেই প্রশ্ন করেছ। আমি এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বলেছেনঃ বরং তোমরা সৎকাজের আদেশ করতে থাক আর অন্যায় কর্ম থেকে নিবৃত করতে থাক। শেষে যখন দেখতে পাবে কৃপণতার আনুগত্য করা হচ্ছে, প্রবৃত্তির অনুসরন করা হচ্ছে, দুনিয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, প্রত্যেকেই নিজের মতকে সর্বোত্তম মনে করছে তখন তুমি বিশেষ করে তোমাকে নিয়েই থেকো, সাধারণের চিন্তা ছেড়ে দিও। তোমাদের পরবর্তীতে এমন যুগ আসছে যেযুগে (দীনের উপর) ধৈর্য ধরে থাকা জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে রাখার মত যন্ত্রণাকর হবে। ঐ যুগে যে দীনের উপর আমল করবে তার প্রতিদান হবে তোমাদের মত আমলকারী পঞ্চাশ লোকের অনুরূপ। আব্দুল্লাহ ইবন মুবারক (রহঃ) বলেন, উৎবা ভিন্ন অন্যারা তাদের রিওয়ায়তে আরো উল্লেখ করেছেন যে, বলা হলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের পঞ্চাশ জনের, না তাদের পঞ্চাশ জনের ছওয়াব হবে? তিনি বললেনঃ না, তোমাদের পঞ্চাশ জনের সমান তার ছওয়াব হবে।
যঈফ, নাকদুল কাত্তানী ২৭/২৭, মিশকাত ৫১৪৪, কিন্তু হাদিসের কিছু অংশ সহিহঃ সহিহাহ ৫৯৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৫৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-গারীব।
৩০৬০. সুফইয়ান ইবন ওয়াকী (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বানু সাহমের এক ব্যক্তি তামীম দারী এবং আদী ইবন বাদার সঙ্গে সফরে বের হয়। এমন এক স্থানে সাহমী ব্যক্তিটি মারা যায় যেখানে কোন মুসলিম ছিল না। যা হোক উক্ত দুইজন সাহমী-ব্যক্তির পরিত্যাক্ত মাল-আসবাব নিয়ে তার পরিবারের কাছে আসলে তারা এতে স্বর্ণের কারুকাজ করা রূপার একটি পানপাত্র পেলেন না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু’জনকে এই বিষয়ে হলফ করান। পরে এই পানপাত্রটি সাহমীর পরিবারের লোকেরা মক্কায় পান। তাদের বলা হল। এটি তামীম ও আদীর নিকট থেকে কিনে আনা হয়েছে। সাহমী ব্যক্তিটির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে দুই ব্যক্তি দাবী নিয়ে উঠেন এবং আল্লাহর কসম করে বললেনঃ আমাদের সাক্ষ্য এদের দু’জনের সাক্ষ্য অপেক্ষা বেশী সত্য এবং গ্রহণযোগ্য। এই পেয়ালাটি আমাদের লোকের। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এদের বিষয়েই নাযিল হয়ঃ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ) (৫ : ১০৬-১০৮)
সহীহ, বুখারি ২৭৮০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। এটি হল ইবন আবূ যাইদার রিওয়ায়ত।
৩০৬১. হাসান ইবন কাযাআ বাসরী (রহঃ) ....... আম্মার ইবন ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ [ঈসা (আঃ)-এর দু’আয় আল্লাহ্ তা’আলা] আকাশ থেকে রূটি ও মাংস ভর্ত্তি খাঞ্চা প্রেবণ করেন। হাওয়ারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তারা যেন এর খেয়ানত না করে এবং তা থেকে যেন আগামীকালের জন্য সঞ্চয় না করে। কিন্তু তারা এতে খেয়ানত করল তা থেকে সঞ্চয় করল এবং আগামীকালের জন্য তা তুলে রাখল। ফলে তাদের (শান্তি হিসাবে) বানর ও শুকর রুপান্তরিত করে দেওয়া হয়।
এই হাদীসটি গারীব। আবূ আসিম (রহঃ) প্রমুখ এটি সাঈদ ইবন আবূ আরূবা-কাতাদা-খিলাস আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে মাওকূফ রূপে রিওয়ায়ত করেছেন। হাসান ইবন কাযাআ-এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি মারফু রূপে বর্ণিত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।
হুমায়দ ইবন মাসআদা (রহঃ) ... সাঈদ ইবন আবূ আরূবা (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এটি মারফু’ নয়। এটি হাসান ইবন কাযাআর রিওয়ায়ত থেকে অধিক সহীহ। মারফু’রূপে বর্ণনাটির কোন ভিত্তি আছে বলে আমাদের জানা নেই।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৬৪. আবূ কুরায়ব (রহঃ) ....... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, একবার আবূ জাহল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললঃ আমরা তো তোমাকে মিথ্যাবাদী বলি না, তবে তুমি যে বিষয় নিয়ে এসেছ তা আমরা মিথ্যা বলে মনে করি। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ
إِِنَّهُمْ لاَ يُكَذِّبُونَكَ وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ
ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... নাজিয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, আবূ জাহল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল ... এরপর তিনি উক্তরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। এতে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উল্লেখ নেই। এটিই অধিক সহীহ।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৬৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৬৭ আলী ইবন খাশরাম (রহঃ) .... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, (الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ) আয়াতটি নাযিল হলে মুসলিমদের তা খুবই কঠিন বলে মনে হয়। তারা বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের এমন কে আছে যে স্বীয় নাফসের উপর জুলম করেনি? তিনি বললেনঃ বিষয়টি আসলে তা নয়। এখানে জুলম হল শিরক। লুকমান তাঁর পুত্রকে কি বলেছেন, তা কি তোমরা শোন নি?
يَا بُنَيَّ لاَ تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
"হে প্রিয় বৎস, আল্লাহর সঙ্গে শরীক করবে না। শিরক হল মহা জুলম।"
সহীহ, বুখারি ৪৬২৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩০৬৮. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ...... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর এখানে কাত হয়ে বসে ছিলাম। তিনি বলেনঃ হে আবূ আয়িশা তিনটি বিষয় এমন, যে এর কোন একটি বলল, সে আল্লাহ্ সম্পর্কে ভীষণ অপবাদ দিল। যে এই কথা বলে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরওয়ারদিগারকে দেখেছেন সে আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়। অথচ আল্লাহ্ তা’আলা বলছেনঃ
لَا تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الأَبْصَارَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ
তিনি (আল্লাহ) দৃষ্টির অধিগম্য নন, তবে দৃষ্টিশক্তি তাঁর অধিগত এবং তিনিই সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত (৬ঃ ১০৩)। তিনি আরো ইরশাদ করেনঃ
وَ مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلاَّ وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ
মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ্ তার সাথে কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ব্যতিরেখে, অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতিরেকে (৪২ঃ ৫১)।
আমি তো ঠেস দেওয়া অবস্থায় ছিলাম। এবার সোজা হয়ে বসলাম। বললাম হে উম্মুল মু’মিনীন, থামুন, আমাকে সময় দিন, ত্বরা করবেন না। আল্লাহ্ তা’আলা কুরআনে কি ইরশাদ করেননিঃ
وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى ، وَلََقَدْ رَآهُ بِالأُفُقِ الْمُبِينِ
তিনি তো (রাসূলুল্লাহ) তাঁকে (আল্লাহকে) স্পষ্ট দিগন্তে দেখেছেন (২৩ : ৮১)। অন্যত্র ’’নিশ্চয় তিনি তাঁকে আরেকবার দেখেছিলেন’’ (১৩ : ৫৩)।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমিই প্রথম সে জন যে জন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছে। তিনি বলেছেনঃ তিনি তো ছিলেন জিবরীল (আঃ) কেবলমাত্র এই দু’বারই আমি তাঁকে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখেছি। আমি তাঁকে আসমান থেকে অবতরণ করতে দেখেছি। তাঁর বিরাট দেহ ঢেকে ফেলেছিল আসমান-জমিনের মাঝের সবটুকু স্থান।
তিনি আরো বলেনঃ আর ঐ ব্যক্তিও আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়, যে এমন কথা বলে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্ তা’আলা যা নাযিল করেছেন তার কোন গোপন করেছেন। অথচ আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেনঃ
يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ
হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের নিকট থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন (৫ঃ ৬৭)।
কেউ যদি বলে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগামীতে কি হবে তা জানেন তবে সেও আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়। কেননা, আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ
قُلْ لاَ يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ الْغَيْبَ إِلاَّ اللَّهُ
আসমান ও যমীনে আল্লাহ্ ব্যতীত গায়েব সম্পর্কে কেউ জানে না। (২৭ঃ ৬৫)।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ। মাসরূক ইবনুল আজদা’ (রহঃ) এর কুনিয়াত হল আবূ আয়িশা।
৩০৬৯. মুহাম্মাদ ইবন মূসা বাসরী হারাশী (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছূ লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা নিজেরা যা বধ করি তা তো আহার করি আর আল্লাহ্ তা’আলা যা হত্যা করেন (মৃত্যু দেন) তা আহার করি না। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ
فَكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كُنْتُمْ بِآيَاتِهِ مُؤْمِنِينَ إِلَى قَوْلِهِ : وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ
সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ২০৫৮, ২০৫৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। এই হাদীসটি ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে অন্যভাবেও বর্ণিত আছে। কোন রাবী এটিকে আতা ইবনুস সাইব ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন।
৩০৭১. সুফইয়ান ইবন ওয়াকী’ (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, (أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ) আয়াত প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এ নিদর্শন হল পশ্চিম থেকে সূর্যোদয়। সহীহ, মুসলিম ১/৯৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এই হাদীসটি গারীব। কোন কোন রাবী এটিকে মারফূ’ হিসাবে রিওয়ায়ত করেননি।
৩০৭৩. ইবন আবী উমর (রহঃ) ....... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা বলেন- আর তাঁর কথা হক - আমার বান্দা যখন কোন নেক কাজের ইচ্ছা করে তখনই তার একটা নেকী লিখবে। আর যখন সেই নেক সে সম্পাদন করবে তখন একটার জন্য দশগুণ করে নেকী লিখবে। আর যখন কোন বদকাজ করার ইচ্ছা করে তখন সে যদি তা সম্পাদন করে তবে এর সমপরিমাণ বদী লিখবে আর যদি তা না করে তবে তার জন্য একটা নেকী লিখবে। এরপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেনঃ (مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا)।
সহীহ, রাওযুন নাযীর ২/৭৪২, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৭০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩০৭৫. আনসারী (রহঃ) ..... মুসলিম ইবন ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে এই আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলঃ
وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ
উমর ইবন খাত্তাবরাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কেও এই বিষয়ে প্রশ্ন হতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলা আদমকে সৃষ্টি করে তাঁর ডান হাত তার ডান দিক থেকে পিঠে বুলালেন, ফলে তা থেকে তার একদল সন্তান-সন্ততি সৃষ্টি হল। আল্লাহ্ বললেনঃ আমি এদের জান্নাতের জন্য এবং জান্নাতবাসীদের আমলে আমল করার জন্য বানিয়েছি।
এরপর তিনি আদমের পিঠে হাত বুলালেন, এতে তার একদল সন্তান-সন্ততি সৃষ্টি হল। আল্লাহ্ তা’আলা বললেনঃ এদের জাহান্নামের জন্য এবং জাহান্নামবাসীদের আমলে আমল করার জন্য বানিয়েছি। এক ব্যক্তি বললঃ তাহলে আর আমরা কিসের জন্য আমল করব, ইয়া রাসূলাল্লাহ্?
রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা যখন জান্নাতের জন্য তার কোন বান্দাকে সৃষ্টি করেন তাকে দিয়ে জান্নাতবাসীদের আমল করান। মৃত্যু পর্যন্ত সে জান্নাতবাসী হওয়ার কোন না কোন আমলে আমল করে যায়। অনন্তর আল্লাহ্ তা’আলা তাকে জান্নাতে দাখিল করে দেন। আর যদি কোন বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন তবে তাকে দিয়ে তিনি জাহান্নাবাসীদের আমল করান। মৃত্যু পর্যন্ত সে জাহান্নামীদের কোন না কোন আমল করে যায়। পরিণামে তিনি তাকে জাহান্নামে দাখিল করেন।
যঈফ, আয যিলাল ১৯৬, যঈফা ৩০৭১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৭৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান। রাবী মুসলিম ইবন ইয়াসার সরাসরি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস শুনেন নি। কেউ কেউ এই সনদে মুসলিম ইবন ইয়াসার এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাঝে আর একজনের উল্লেখ করেছেন।
৩০৭৬. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা যখন আদম সৃষ্টি করলেন তখন তাঁর পিঠে হাত বুলালেন। এতে তাঁর যে সব সন্তান-সন্ততি কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ্ তা’আলা সৃষ্টি করবেন সব প্রাণই তাঁর পিঠ থেকে বের হয়ে এল। প্রত্যেকটি মানুষের দু’চোখের মাঝে জ্যোতির ঔজ্জ্বল্য প্রকাশ করলেন। এরপর তাদের আদম (আঃ)-এর সামনে পেশ করলন। তিনি বললেনঃ হে পরওয়ারদিগার এরা কারা? আল্লাহ্ বললেনঃ এরা তোমার বংশধর।
আদম (আঃ) এদের আরো একজনকে দেখলেন। তার দু’চোখের মাঝের উজ্জ্বলতায় তিনি বিস্মিত হলেন। তিনি বললেনঃ হে আমার রব! এইটি কে? আল্লাহ্ বললেনঃ এ হলো তোমার সন্তানদের শেষের দিকের উম্মতদের একজন। তার নাম দাঊদ। আদম (আঃ) বললেনঃ হে আমার রব! তার বয়স কত নির্ধারণ করেছেন?
আল্লাহ্ বললেনঃ ষাট বছর।
আদম (আঃ) বললেনঃ হে আমার রব! আমার বয়স থেকে চল্লিশ বছর একে দিয়ে দিন।
পরে আদমের বয়স শেষ হলে মৃত্যুর ফিরিশতা তাঁর জান কবয করতে এলেন। আদম (আঃ) বললেনঃ আমার বয়স থেকে তো এখনও চল্লিশ বছর বাকী।
মৃত্যুর ফিরিশতা বললেনঃ আপনি তো তা আপনারবংশধরর দাউদকে দিয়েছিলেন।
আদম (আঃ) অস্বীকার করলেন ফলে তার বংশধররাও অস্বীকার করে; আদম ভূলে যান তাঁর সন্তানরাও ভূলে যায়; আদম ভূল করেন তাঁর সন্তানরাও ভূল করে।
সহীহ, আয যিলাল ২০৬, তাখরিজুত তাহাবীয়া ২২০, ২২১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৭৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ হুরায়রা ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে।
৩০৭৭. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না ..... সামুরা ইবন জুন্দব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হাওয়া (আঃ) গর্ভবর্তী হলে ইবলীস তাঁর কাছে এল, হাওয়া (আঃ)-এর সন্তান বাঁচত না। ইবলীস তাঁকে বলেনঃ এবার এর নাম রাখবেন আবদুল হারিছ। যা হোক, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তিনি এর নাম আবদুল হারিছ রাখলেন। অনন্তর এটি জীবিত থাকে। এ ছিল শয়তানের প্ররোচণা ও মন্ত্রণা।
যঈফ, যঈফা ৩৪২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৭৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। উমার ইবন ইবরাহীম (রহঃ) সূত্রে রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছূ জানা নেই। কেউ কেউ এটিকে আবদুস সামাদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সেটি মারফূ’ করেননি।
৩০৭৮. আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... মুসআব ইবন সা’দ তার পিতা সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বদর যুদ্ধের দিন আমি একটি তলোয়ার নিয়ে এলাম। বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্ আ’আলা মুশরিকের ব্যাপারে (তাদের পরাজিত করে) আমার হৃদয়কে শান্তি দান করেছেন। অথবা এরূপ কিছু বললেন। আপনি আমাকে এই তলোয়ারটি দিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ এটা তো আমারও নয় তোমারও নয়। আমি বললামঃ আমার আশংকা হয় এটি এমন কাউকে দেওয়া হবে, যে আমার মত পরীক্ষার সম্মুখীন হতে পারবে না। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এসে বললেনঃ তুমি এটি আমার কাছে চেয়েছিলে। তখন তো এটি আমার অধিকার ভূক্ত ছিল না। এখন এটি আমার হয়ে গেছে। সুতরাং এটি তোমাকে দিলাম। তখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ (يَسْأَلُونَكَ عَنِ الأَنْفَالِ)।
হাসান সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ২৭৪৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৭৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। সিমাক (রহঃ)-ও এটি মুসআব ইবন সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে উবাদা সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
৩০৭৯. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) .... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বদর যুদ্ধ থেকে অবসর হলেন তখন তাঁকে বলা হল, কাফেলাটির উপর আপনি আক্রমণ করুন। কারণ, তাদের রক্ষাকারী কেউ নেই। তখন আব্বাস- যিনি তখন যুদ্ধবন্দী ছিলেন- তাঁকে ডাক দিয়ে বললেন, কাফেলার উপর আক্রমণ করা ঠিক হবে না। কারণ, আল্লাহ্ তা’আলা তো আপনার সঙ্গে দু’টো দলের একটির ওয়াদা করেছিলেন। আর তিনি যা ওয়াদা করেছিলেন, তিনি তা আপনাকে প্রদান করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আপনি সত্যি বলেছেন।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৮০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৮০. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (বদরের দিন) আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের দিকে তাকালেন। এরা ছিল এক হাজার। আর তাঁর সঙ্গীরা ছিলেন তিনশ দশের কিছু অধিক। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলার দিকে ফিরে হাত তুলে তাঁর রবকে ডাকতে লাগলেনঃ হে আল্লাহ্! তুমি যে ওয়াদা আমার সঙ্গে করেছ তা পূরণ কর। হে আল্লাহ্! এই মুসলিমদের এই ক্ষুদ্র দলটিকে যদি আজ তুমি ধ্বংশ করে দাও তবে তো পৃথিবীতে আর তোমার ইবাদত করা হবে না।
কিবলার দিকে ফিরে হাত তুলে তিনি তাঁর রবকে ডাকতেই থাকলেন এমনকি তাঁর গায়েব বাদর কাঁধ থেকে গড়িয়ে পড়ে। তখন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কাছে এসে চাদরটি তাঁর কাঁধে তুলে দিলেন এবং পেছন দিক থেকে তাঁকে চেপে ধরে বললেনঃ হে আল্লাহর নবী! আপনার কাছে আপনার এই আহবান যথেষ্ট হয়েছে। তিনি অবশ্যই আপনার সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার আজ পূর্ণ করবেন। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ مُرْدِفِينَ
যখন তুমি তোমার প্রভুর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে তখন তিনি তা কবুল করলেন। অতএব আল্লাহ্ তা’আলা মুসলিমদের ফিরিশতা পাঠিয়ে সাহায্য করলেন। [আনফালঃ ৯]
হাসান, মুসলিম ৫/১৫৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৮১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। ইকরিমা ইবন আম্মার-আবূ যুমায়ল (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর এ হাদীসটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আবূ যুমায়ল (রহঃ) এর নাম সিমাক হানাফী। রাবী বলেনঃ হাদীসোক্ত ঘটনাটি ছিল বদর যুদ্ধের।
৩০৮১. সুফইয়ান ইবন ওয়াকী’ (রহঃ) ..... আবূ বুরদা ইবন আবূ মূসা তার পিতা আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা আমার উম্মতের দু’টো নিরাপত্তার উপায় নাযিল করেছেনঃ
وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ ** وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
আল্লাহ্ এমন নন যে, আপনি তাদের মধ্যে থাকবেন অথচ তিনি তাদের শাস্তি দিবেন; এবং আল্লাহ্ এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদের শাস্তি দিবেন। (আনফাল ৮ঃ ৩৩)
আমি যখন চলে যাব তখন কিয়ামত পর্যন্ত তাদের জন্য ’ইস্তিগফার’-এর উপায়টি রেখে যাব।
হাদীসটি গারীব। ইসমাঈল ইবন ইবরাহীমকে হাদীস রিওয়ায়তের ক্ষেত্রে দুর্বল বলা হয়।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৮২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৮২. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ..... উকবা ইবন আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ (وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ) পরে তিনবার বললেনঃ জেনে রাখ, শক্তি হল, তীর নিক্ষেপ। জেনে রাখ, অচিরেই তোমাদের হাতে পৃথিবী বিজীত হবে এবং তোমাদের নিজে ব্যয়-ভারের চিন্তা থেকে মুক্ত করে দেওয়া হবে। সুতরাং তীরন্দাজীর অনুশীলনী থেকে কেউ যেন কখনো তোমাদের বিরত না রাখে।
হাসান সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৮১৩, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৮৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
কোন কোন রাবী এই হাদীসটিকে উসামা ইবন যায়দ-সালিহ ইবন কায়সান-উকবা ইবন আমির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ওয়াকী’-এর রিওয়ায়তটি অধিক সহীহ। সালিহ ইবন কায়সার উকবা ইবন আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাক্ষাৎ পান নি। তবে তিনি ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন।
৩০৮৩. হান্নাদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, বদরের সময় যখন বন্দীদের নিয়ে আসা হয় তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই বন্দীদের সম্বন্ধে তোমাদের মতামত কি? এরপর রাবী এ হাদীস একটি ঘটনা বর্ণনা করেনঃ
وَمَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুক্তিপণ প্রদান বা শিরোচ্ছেদ ব্যতিরেকে এরা কেউ ছুটতে পারবে না। আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তবে সুহায়ল ইবন বায়যা ছাড়া। কেননা, আমি তাঁকে ইসলামের আলোচনা করতে শুনেছি।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা শুনে নীরব রইলেন। আমার মাথার উপর আসমান থেকে পাথর ভেঙ্গে পড়বে এই আশংকার চেয়েও আজকের দিন আমি বেশী শঙ্কিত ছিলাম। অবশেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সুহায়ল ইবন বায়যা ছাড়া। ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেনঃ এই সময় উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বক্তব্যের সমর্থনে কুরআনের এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
لَوْلاَ كِتَابٌ مِنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
কোন নবীর জন্য সঙ্গত নয় শত্রুকে ব্যাপকভাবে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা ...... আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান। আবূ উবায়দা ইবন আবদুল্লাহ সরাসরি তাঁর পিতা আবদুল্লাহ্ থেকে হাদীস শ্রবণ করেননি।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৮৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৮৪. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববির্তী বনি আদমের কারো জন্য গনীমত লব্ধ মাল হালাল ছিল না। আকাশ থেকে আগুন নেমে আসত এবং তা গ্রাস করে ফেলত।
সুলায়মান আল-আ’মাশ বললেনঃ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু ছাড়া আজকের দিনে এ হাদীস আর কে বলতে পারে? বদরের সময় সাহাবীরা হালাল বলে ঘোষিত হওয়ার পূর্বই গনীমত ব্যবহারে লিপ্ত হয়ে পড়েন। তখন আল্লাহ্ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ
لَوْلاَ كِتَابٌ مِنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
আল্লাহর পূর্বে বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ তার জন্য তোমাদের উপর মহাশাস্তি আপতিত হতো। [আনফালঃ ৬৮]
সহীহ, সহীহাহ ২১৫৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৮৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
৩০৮৫. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ....... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি উছমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললাম আপনারা মাছানীর (যে সূরার আয়াত সংখ্যা একশ’র কম) অন্তর্ভক্ত সূরা আনফাল আর মিঈন এর (একশ’ বা ততোধিক আয়াত বিশিষ্ট সূরা) অন্তর্ভূক্ত বারাআতকে মিলিত করেছেন আরও দুটোর মাঝে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম লাইনটি লিখেন নি সাথে সাথে সূরা আনফালকে সাবা’য়ে তুওয়াল (সাতটি দীর্ঘ সূরা)-এর অন্তর্ভূক্ত করেছেন- এরূপ করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করল?
উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর এমন এক যামানাও এসেছে যখন তাঁর উপর বহুসংখ্যক সূরা এক সঙ্গে নাযিল হয়েছে। ঐ যুগে তাঁর উপর কোন বিষয় নাযিল হলে ওয়াহী লেখকগণের কাউকে ডেকে তিনি বলতেন এ আয়াতগুলো যে সূরায় অমুক অমুক বিষয়ের উল্লেখ আছে, সে সূরায় অন্তর্ভূক্ত কর। কোন আয়াত নাযিল হলে বলতেন, এই আয়াতটি যে সূরায় অমুক অমুক বিষয়ের উল্লেখ আছে সে সূরায় অন্তর্ভূক্ত কর।
মদীনায় প্রথম দিকে যে সব সূরা নাযিল হয় সূরা আনফাল ছিল সেগুলোর অন্যতম আর বারাআত ছিল কুরআনের শেষের দিকে নাযিলকৃত সূরাসমূহের অন্যতম। কিন্তু এর বিষয়বস্ত হল সূরা আনফালের বিষয় বস্তর অনুরূপ। ফলে এটি আনফালের অন্তর্গত বলে আমি মনে করলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকাল হয়ে যায় কিন্তু তিনি এ কথা স্পষ্ট করে বর্ণনা করে যান নি যে, এটি আনফালের অংশ। এ কারণে আমি দু’টোকে মিলিত করেছি কিন্তু এতদুভয়ের মাঝে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম লিখিনি। আর এটিকে সাতটি দীর্ঘ সূরার অন্তর্ভূক্ত করেছি।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান। আওফ-ইয়াযীদ ফারসী ... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিন্তু জানা নেই।
ইয়াযীদ ফারসী (রহঃ) ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একাধিক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাকে ইয়াযীদ ইবন হুরমুযও বলা হয়। ইয়াযীদ রাকাশী (রহঃ) হলেন ইয়াযীদ ইবন আবান রাকাশী। তিনি ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাক্ষাৎ পাননি। আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন। উভয়ই বসরাবাসী। ইয়াযীদ ফারসী (রহঃ) ইয়াযীদ রাকাশী (রহঃ) থেকে বয়সে বড়।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৮৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৮৬. হাসান ইবন আলী কাললাল (রহঃ) ..... সুলায়মান ইবন আমার ইবনুল আহওয়াস (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমার পিতা বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হাযির ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে আল্লাহর হামদ ও ছানা বর্ণনা করলেন এরপর ওয়ায নসীহত করলেন এবং বললেনঃ কোন দিনটি সর্বাধিক সম্মানিত? কোন দিনটি সর্বাধিক সম্মানিত? কোন দিনটি সর্বাধিক সম্মানিত? লোকেরা বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! হাজ্জে আকবারের এ দিনটি। তিনি বললেনঃ তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের সম্মান তোমাদের উপর হারাম যেমন হারাম তোমাদের উপর আজকের দিনটি তোমাদের এই নগরে, তোমাদের এই মাসে। শোন, অপরাধী কেবল নিজের উপরই অপরাধ করে থাকে। পিতার অপরাধ তার পুত্রের উপর এবং পুত্রের অপরাধ তার পিতার উপর বর্তাবে না। শোন, এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। কোন মুসলিমের জন্য মুসলিম ভাইয়ের কিছূ হালাল হবে না যা সে নিজে তার জন্য হালাল করে দেয় তা ছাড়া।
শোন, জাহিলী যুগের সব সুদ বিলুপ্ত করা হল। তোমাদের জন্য তোমাদের মূলধন থাকবে। তোমরা নিজেরাও জুলুম করবে না এবং তোমাদের উপরও কোন জুলুম করা হবে না। তবে আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিবের রক্তের দাবী। সে বানু লায়ছ গোত্রে দুগ্ধ পোষ্য ছিল। হুযায়ল গোত্র তাকে হত্যা করল। শোন, তোমরা নারীদের ব্যপারে সদ্ব্যবহারের ওসীয়ত গ্রহণ কর। তারা তোমাদের কাছে আবদ্ধ। এ ছাড়া তোমরা তাদের মালিক নও। কিন্তু তারা যদি সুস্পষ্ট অন্যায় কর্মে লিপ্ত হয়। তবে তাদের বিছানা পৃথক করে দিবে এবং হালকা ভাবে প্রহার করবে। এতে যদি তারা তোমাদের বাধ্য হয়ে যায় তবে আর তাদের বিরুদ্ধে পথ তালাশ করবে না। শোন, তোমাদের স্ত্রীদের উপরও তোমাদের হক হল যাদের তোমরা অপছন্দ কর তাদের তোমার বিছানায় বসাবে না। যাদের তোমরা অপছন্দ কর তাদের তোমার ঘরে প্রবেশের অনুমতি দিবে না। শোন, তোমাদের উপর তাদের হক হল, তাদের খোরপোষের বিষয়ে তাদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শণ করবে।
হাসান, ইবনু মাজাহ ১৮৫১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৮৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবুল আহওয়াস (রহঃ) এটি শাবীব ইবন গারকাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।
৩০৮৮. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ হজ্জে আকবরের দিন হল ইয়ামুন নাহর - কুরবানীর দিন।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৮৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক (রহঃ) -এর রিওয়ায়ত (৩০৮৭) অপেক্ষা এটি অধিক সহীহ। কেনন, এ হাদিসটি আবূ ইসহাক-হারীছ আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একাধিক সূত্রে মাওকূফ রূপে বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক (রহঃ)-এর বর্ণনা ছাড়া অন্য কেউ মারফু’রূপে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই।
৩০৮৯. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারাআতের ঘোষণার জন্য আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে (মক্কায়) প্রেরণ করেছিলেন। পরে তাঁকে ডেকে বললেনঃ পরিবারের কারো পক্ষ থেকেই এ ঘোষণা হওয়া উচিত। এরপর তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে ডেকে তাঁকে এ দায়িত্ব দিলেন।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়ত হাসান-গারীব।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৯০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং ৩০৯০সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَبَا بَكْرٍ وَأَمَرَهُ أَنْ يُنَادِيَ بِهَؤُلاَءِ الْكَلِمَاتِ ثُمَّ أَتْبَعَهُ عَلِيًّا فَبَيْنَا أَبُو بَكْرٍ فِي بَعْضِ الطَّرِيقِ إِذْ سَمِعَ رُغَاءَ نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقَصْوَاءَ فَخَرَجَ أَبُو بَكْرٍ فَزِعًا فَظَنَّ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا هُوَ عَلِيٌّ فَدَفَعَ إِلَيْهِ كِتَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَ عَلِيًّا أَنْ يُنَادِيَ بِهَؤُلاَءِ الْكَلِمَاتِ فَانْطَلَقَا فَحَجَّا فَقَامَ عَلِيٌّ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ فَنَادَى ذِمَّةُ اللَّهِ وَرَسُولِهِ بَرِيئَةٌ مِنْ كُلِّ مُشْرِكٍ فَسِيحُوا فِي الأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَلاَ يَحُجَّنَّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ وَلاَ يَطُوفَنَّ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ وَلاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلاَّ مُؤْمِنٌ وَكَانَ عَلِيٌّ يُنَادِي فَإِذَا عَيِيَ قَامَ أَبُو بَكْرٍ فَنَادَى بِهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৩০৯০. মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে (মক্কায়) প্রেরণ করেন এবং এ কথাগুলোর (বারাআতের) ঘোষণা প্রদানের জন্য তাঁকে নির্দেশ দেন। পরে তাঁর পেছনে পেছনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে পাঠান। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পথেই ছিলেন হঠাৎ একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উটনী কাসওয়া-এর আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি খুব বিচলিত হয়ে বেরিয়ে আসলেন। তিনি মনে করলেন হয়ত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছেন। পরে দেখতে পেলেন যে, তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি তার কাছে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্রটি হস্তান্তর করলেন এবং তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে এ বাণীগুলো প্রচার করার নির্দেশ দিলেন। পরে উভয়েই রওয়ানা হলেন এবং হজ্জ করলেন। আইয়ামে তাশরীকের সময় আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু উটে দাঁড়ালের এবং ঘোষণা দিলেনঃ মুশরিকদের থেকে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল দায়িত্ব মুক্ত। সুতরাং তোমরা এ ভূমিতে চার মাস চলাফেরা করতে পার। এই বছরের পর আর কোন মুশরিক হজ্জ করতে পারবে না। বায়তুল্লাহর তওয়াফ উলঙ্গ হয়ে আর করা যাবে না। জান্নাতে মু’মিন ছাড়া কেউ প্রবেশ করবে না। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-ই ঘোষণা দিতেন, তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লে আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে এর ঘোষণা দিতেন।
(আবু ঈসা বলেন)ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রিওয়ায়ত হিসাবে এ সূত্রে হাদিসটি গারীব।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৯১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৯১. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... যায়দ ইবন ইউছায়্যি’ (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমরা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনি কি বিষয় নিয়ে হজ্জে (৯ম হিজরী সনে) প্রেরিত হয়েছিলেন? তিনি বললেনঃ আমাকে চারটি বিষয়সহ প্রেরণ করা হয়েছিল। উলঙ্গ হয়ে কেউ তাওয়াফ করবে না; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যাদের মধ্যে কোন চুক্তি আছে তাদের মুদ্দত পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে; আর যাদের সাথে কোন চুক্তি নেই তাদের জন্য অবকাশ হল চার মাসের; মুমিন ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এই বছরের পর আর কোন সময় মু’মিন ও মুশরিকরা এখানে একত্র হবে না।
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এটি হল আবূ ইসহাক থেকে ইবন উয়ায়না (রহঃ) এর রিওয়ায়ত। সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) এটি আবূ ইসহাক - তাঁর কোন সঙ্গী ... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
নাসর ইবন আলী প্রমুখ (রহঃ) ... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৯২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৯২. আলী ইবন খাশরাম (রহঃ) ....... আলীরাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এই উভয় রিওয়ায়তই ইবন উয়ায়না (রহঃ) থেকে ইবন উছায়’ এবং ইউচায়্যি’ (রহঃ) এর বরাতে বর্ণিত আছে। সহীহ হল যায়দ ইবন ইউছায়্যি’ (রহঃ)। শু’বা (রহঃ)-ও আবূ ইসহাক (রহঃ) সূত্রে অন্য হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি এই নামের ক্ষেত্রে ভূল বুঝাবুঝির শিকার হয়েছেন। তিনি এই নামটি যায়দ ইবন উছায়ল রূপে উল্লেখ করেছেন। এই ক্ষেত্রে তার সমর্থনে কোন রিওয়ায়ত নেই।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৯২ এর শেষাংশ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৯৪. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ....... ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ (الَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ) যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে (৯ঃ ৩৪)। আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর এক দিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। কতক সাহাবী তাঁকে বললেনঃ সোনা-রূপার বিষয়ে এ (কঠোর) বাণী নাযিল হয়েছে। আমরা যদি জানতাম কোন সম্পদটি উত্তম তা হলে আমরা সে সম্পদ সঞ্চয় করতাম। তিনি বললেনঃ সর্বোত্তম সম্পদ হল জিকিররত জিহ্বা, কৃতজ্ঞ অন্তর এবং মুমিনা স্ত্রী, যে স্বামীর ঈমানে সহযোগিতা করে।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ১৮৫৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৯৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান। মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল বুখারী (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করে বলেছিলামঃ সালিম ইবন আবুল জা’দ (রহঃ) কি সরাসরি ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস শুনেছেন? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ সাহাবীদের মধ্যে কার নিকট থেকে তিনি সরাসরি হাদীস শুনেছেন? তিনি বললেনঃ জাবির ইবন আবদুল্লাহ্, আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে তিনি সরাসরি হাদীস শুনেছেন এবং আরো কয়েকজন সাহাবীর কথা তিনি উল্লেখ করলেন।
৩০৯৫. হুসায়ন ইবন ইয়াযীদ কূফী (রহঃ) ...... আদী ইবন হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আমি হাজির হলাম। আমার গলায় তখন একটি স্বর্ণের ক্রুশ ঝুলছিল। তিনি বললেনঃ হে আদী! এই মূর্তিটি ফেলে দাও। আমি তাঁকে সূরা বারাআত পাঠ করতে শুনেছিঃ (اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ ) তারা আল্লাহ্ ব্যতীত তাদের পন্ডিতদের ও সংসার বিরাগীদের আহবার রূপে গ্রহণ করেছে। (৯ঃ ৩১)।
তিনি বললেনঃ এ কথা নয় যে তারা এদের ইবাদত করত। বস্তত এরা যদি তাদের জন্য কিছূ হালাল করে দিতে তখন তারা তা হালাল বলে গ্রহণ করত; এরা যখন কোন কিছু হারাম বলে স্থির করত তখন তারাও তা হারাম বলে গ্রহণ করত। হাদীসটি হাসান গারীব। আবদুস সালাম ইবন হারব-এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। রাবী গুতায়ফ ইবন আ’য়ূন (রহঃ) হাদীস বিষয়ে পরিচিত নন।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৯৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৯৬. যিয়াদ ইবন আয়্যূব বাগদাদী (রহঃ) ..... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, (হিজরতের সময়) ছাওর গুহায় আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললামঃ এদের (মুশরিকদের) কেউ যদি তার পায়ের দিকে তাকায় তবে তো তার পায়ের নীচ দিয়ে আমাদের দেখে ফেলবে। তিনি বললেনঃ হে আবূ বকর! তোমার কি ধারণা সে দু’জন সম্পর্কে যাদের তৃতীয় জন হলেন আল্লাহ।
সহীহ, তাখরিজু ফিকহিস সীরাহ ১৭৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৯৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। হাম্মাম (রহঃ) সূত্রে এটি বর্ণিত। হাব্বান ইবন হিলাল প্রমুখ (রহঃ) এ হাদীসটি হাম্মাম (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৩০৯৭. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে আমি বলতে শুনেছি যে, আবদুল্লাহ্ ইবন উবাই-এর মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার সালাতে জানাযা আদায়ের জন্য আহবান করা হল। তিনি সেখানে গেলেন। যখন তিনি সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়ালেন তখন আমি ঘুরে গিয়ে তার সীনার বরাবর দাঁড়ালাম এবং বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহর দুশমন এই আবদুল্লাহ্ ইবন উবাই, যে অমুক দিন তা, অমুক দিন তা, অমুক দিন তা, অমুক দিন তা বলেছিল, আপনি কি তার সালাতে জানাযা আদায় করবেন? রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসছিলেন। শেষে আমি যখন অনেক বেশী বলে ফেললাম তিনি বললেনঃ উমর, সরে দাঁড়াও। আমাকে তো এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, তাই আমি এর সালাতুল জানাযা আদায় করাকেই এখতিয়ার করেছি। আমাকে তো বলা হয়েছেঃ আপনি এদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন, যদি সত্তর বারও এদের পক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তবুও আল্লাহ কখনও এদের ক্ষমা করবেন না। (সূরা তওবা ৯ : ৮০)। আমি যদি জানতাম যে, সত্তর বারের বেশী এর জন্য ক্ষমা প্রর্থনা করলে আল্লাহ্ তা’আলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন তবে আমি তাই করতাম। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এরপর তিনি এর জানাযার সালাত (নামায) আদায় করলেন, তিনি তার জানাযার সঙ্গে গেলেন এবং যতক্ষণ না দাফন শেষ হয়েছে তার কবরে দাঁড়িয়ে রইলেন।
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি আমার দুঃসাহসিকতার জন্য আমি বিস্মত। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। আল্লাহর কসম, অল্পক্ষণ পরেই এ দু’টি আয়াত নাযিল হয়ঃ
اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لاَ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ
وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ
ওদের মধ্যে কারোর মৃত্যু হলে তুমি কখনো তার জন্য জানাযার সালাত (নামায) পড়বে না এবং তার কবর পার্শ্বে দাঁড়াবে না ...... (৯ঃ ৮৪)।
উমর (রাঃ) বলেনঃ এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার ইন্তেকাল পর্যন্ত আর কখনো কোন মুনাফিকের সালাতুল জানাযা পড়েন নি, তার কবর পার্শ্বেও দাঁড়ান নি।
সহীহ, আহকামুল জানাইয ৯৩, ৯৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৯৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ।
৩০৯৮. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবদুল্লাহ্ ইবন উবাই-এর পুত্র আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতার মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেনঃ আপনার জামাটি দিন তা দিয়ে আমি তার কাফন দিব, আপনি তার সালাতুল জানাযা পড়ুন এবং তার জন্য ইস্তিগফার করুন। তখন তিনি তাঁর জামা দিলেন এবং বললেনঃ তোমরা (আনুষঙ্গিক) কাজ শেষ করে আমাকে সংবাদ দিও।
শেষে তিনি যখন তার জানাযার সালাত (নামায) আদায় করতে ইচ্ছা করলেন তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে টেনে ধরে বললেনঃ মুনাফিকদের জানাযার সালাত (নামায) আদায় করতে কি আল্লাহ্ আপনাকে নিষেধ করেননি?
তিনি বললেনঃ আমাকে তো আল্লাহ্ তা’আলা দু’টো বিষয়ের যে কোন একটি গ্রহণের এখতিয়ার দিয়েছেনঃ এদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন ...... শেষে তিনি তার সালাতুল জানাযা আদায় করলেন। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেনঃ
وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ
ওদের মধ্যে কারোর মৃত্যু হলে তুমি কখনো তার জন্য জানাযার সালাত (নামায) পড়বে না এবং তার কবর পার্শ্বের্ দাঁড়াবে না। (৯ঃ ৮৪)। এরপর তিনি মুনাফিকদের সালাতুল জানাযা পড়া ছেড়ে দেন।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ১৫২৩, বুখারি ৪৬৭০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৯৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩০৯৯. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’প্রথম দিন থেকেই যে মসজিদটির ভিত্তি তাকওয়ার উপর’ - সে মসজিদটির বিষয়ে দুই ব্যক্তি বিতর্ক করে। একজন বললঃ এটি হল কুবা মসজিদ। অপরজন বললঃ এটি হল মসজিদে নববী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ হল আমার এই মসজিদ।
সহীহ, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৯৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এটি সূত্রেও বর্ণিত আছে। উনায়স ইবন আবূ ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) তৎপিতা ইয়াহ্ইয়া ... আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এটি রিওয়ায়ত করেছেন।
৩১০০. আবূ কুরায়ব (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এ আয়াতটি কুবাবাসীদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ
فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ
সেখানে এমন লোক আছে যারা পবিত্রতা অর্জন ভালবাসে এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের আল্লাহ্ পছন্দ করেন।(৯ঃ ১০৮)।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এরা পানির সাহায্যে শৌচক্রিয়া করতেন বলে তাঁদের বিষয়ে এ আয়াতটি নাযিল হয়।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩৫৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১০০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি এ সূত্রে গারীব। এ বিষয়ে আবূ আয়্যূব, আনাস ইবন মালিক ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
৩১০১. মাহামূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ...... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শুনতে পেলাম যে, এক ব্যক্তি তার মুশরিক পিতা-মাতার জন্য ইস্তিগফার করছে। আমি তাকে বললামঃ তুমি তোমার পিতা-মাতার জন্য ইস্তিগফার করছ অথচ তারা উভয়েই মুশরিক? লোকটি বললঃ ইবরাহীম (আঃ) কি তাঁর পিতার জন্য ইস্তিগফার করেননি। অথচ সেও তো মুশরিক ছিল। আমি বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সমানে পেশ করলাম। তখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ
মুশরিকদের ব্যাপারে ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী ও মুমিনদের জন্য সংগাত নয়। (৯ঃ ১১৩)।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ১৫২৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১০১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান। এ বিষয়ে সাঈদ ইবন মুসায়্যাব তার পিতা মুসায়্যাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রেও হাদীস বর্ণিত আছে।
৩১০৩. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ...... যায়দ ইবন ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ ইয়ামামা যুদ্ধে (বহু হাফিজ সাহাবীর) শাহাদাতের ঘটনার পর আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে ডেকে পাঠালেন। সেখানে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন। তিনি বললেনঃ উমর আমার কাছে এসে বলেছেন, ইয়ামামার যুদ্ধে কুরআনের অনেক হাফিজ শহীদ হয়েছেন। আমার আশংকা হয় যে, আরো অনেক স্থানে বহু হাফিযে কুরআন শহীদ হতে পারেন। এতে কুরআনের বহু অংশ বিলীন হয়ে যেতে পারে। সুতরাং কুরআন একত্রকরণের নির্দেশ দান করা আমি ভাল মনে করি। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ’উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেন, আমি কি রূপে সে কাজ করি যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আল্লাহর কসম, এ মঙ্গলজনক হবে। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ তিনি আমাকে বারবার এমনভাবে বলতে লাগলেন যে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্ তা’আলা এ বিষয়টি সম্পর্কে আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিলেন। যে বিষয়ে তিনি উমরের বক্ষ প্রশস্ত করেছিলেন। বিষয়টি সম্পর্কে উমর যেমন ভাবছেন এখন আমিও তা ভাবছি।
যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেনঃ তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক, তোমাকে আমরা কোন বিষয়ে সন্দেহ করি না। তুমি রাসূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য ওহী লিখতে। সুতরাং তুমি কুরআন শরীফ তালাশ করে সংগ্রহ করার কাজে লেগে যাও।
যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আল্লাহর কসম, তাঁরা যদি কোন পাহাড় স্থানান্তরিত করার দায়িত্ব আমাকে দিতেন তবে তা আমার কাছে এর চেয়ে বেশী ভারী মনে হতো না। আমি বললামঃ আপনারা কি রূপে এ কাজ করবেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি?
আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আল্লাহর কসম, এটি ভাল কাজ। আবূ বকর এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা উভয়েই আমাকে বারবার বিষয়টি বুঝতে লাগলেন, আল্লাহ্ তা’আলা এ বিষয়ে আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিলেন, যে বিষয়ের জন্য আবূ বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা উভয়ের বক্ষ প্রশস্ত করে দিয়েছিলেন। তারপর আমি কুরআন তালাশ করে সংগ্রহ করতে শুরু করলাম। আমি কাগজের টুকরা, খেজুর গাছের ডাল, মসৃণ পাথর এবং মানষের সীনায় যা রক্ষিত ছিল তা একত্রিত করতে থাকলাম। সূরা বারাআতের শেষের এ আয়াতটি খুযায়মা ইবন ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে পেলামঃ
قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ * فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে এক রাসূল এসেছে। তোমাদের যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্ট দায়ক। সে তোমাদের কঙ্গলকামী। মুমিনদের প্রতি সে দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। এরপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বলবে আমার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নেই। আমি তারই উপর নির্ভর করি আর তিনি মহা আরশের অধিপতি।(৯ : ১২৮)।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১০৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩১০৫. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... সুহায়ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহ্ তা’আলা এ বাণীঃ (لِلََّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ) যারা মঙ্গলকর কাজ করে তাদের জন্য আছে মঙ্গল এবং আরো অধিক (১০ঃ ২৬) প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতীরা যখন জান্নাতে দাখিল হবে তখন এ আহবানকারী ঘোষাণা দিবে আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্য একটি ওয়াদাকৃত বস্তু রয়ে গেছে। তিনি তা তোমাদের জন্য পূরণ করে দিতে চান।
তারা বলবেঃ তিনি কি আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করে দেন নি? আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন নি এবং জান্নাতে দাখিল করেননি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এরপর আল্লাহর হিজাব উন্মোচিত করে দেওয়া হবে। আল্লাহর কসম, তাদের কাছে তাঁর দীদারের চেয়ে অধিক পছন্দনীয় আর কোন জিনিস আল্লাহ্ তা’আলা তাদের দেননি।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ১৮৭, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১০৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাম্মাদ ইবন সালামা (রহঃ) এর এ রিওয়ায়াতটি তাঁর বরাতে একাধিক রাবী এরূপ মারফূ’রূপে রিওয়ায়ত করেছেন। সুলায়মান ইবন মুগীরা এ হাদীসটি ছাবিত (রহঃ) সূত্রে আবদুর রহমান ইবন আবূ লায়লা-এর উক্তি হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি সুহায়ব রাদিয়াল্লাহু আনহু ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উল্লেখ করেননি।
৩১০৬. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... জনৈক মিসরবাসী ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ (لَهُمُ الْبُشْرَى، فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا) তাদের জন্য আছে সুসংবাদ পার্থিব জীবনে (১০ঃ ৬৪)। আয়াতটি সম্পর্কে আমি আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেনঃ এ বিষয়ে যে দিন থেকে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম সে দিন থেকে আজ পর্যন্ত আর কেউ আমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেনি। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিলেনঃ এ আয়াতটি নাযিল হওয়ার সময় থেকে তুমি ছাড়া আর কেউ আমাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেনি। এ হল নেক স্বপ্ন যা মুসলিম দেখে বা তার পক্ষে অন্য একজনকে দেখানো হয়।
সহীহ, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১০৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইবন আবূ উমর (রহঃ) ... আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আহমদ ইবন আবদা যাববী (রহঃ) ... আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এই সনদে আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ)-এর উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে উবাদা ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
৩১০৭. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা যখন ফিরআওনকে ডুবিয়ে দেন তখন সে বলল, আমি ঈমান আনলাম যে, কোন ইলাহ নেই, বানূ ইসরাঈল যে আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে সে ইলাহ ব্যতীত। জিবরীল (আঃ) বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি যদি আমার সে অবস্থা দেখতেন, যখন আমি সমুদ্রের কাল কাদা নিয়ে তার মুখে ঠেসে দিয়েছিলাম এ আশংকায় যে, তার প্রতিও আল্লাহর রহমত হয়ে যেতে পারে।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১০৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং ৩১০৮সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ، وَعَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ذَكَرَ أَحَدُهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ذَكَرَ " أَنَّ جِبْرِيلَ صلى الله عليه وسلم جَعَلَ يَدُسُّ فِي فِي فِرْعَوْنَ الطِّينَ خَشْيَةَ أَنْ يَقُولَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَيَرْحَمَهُ اللَّهُ أَوْ خَشْيَةَ أَنْ يَرْحَمَهُ اللَّهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৩১০৮. মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আলা সানআনী (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আঃ) ফিরআওনের মুখে মাটি ঠেসে ধরছিলেন এই আশংকায় যে, সে হয়ত লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে ফেলবে আর (এমতাবস্থায়) আল্লাহ্ তা’আলা তার উপর রহম করে ফেলবেন।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১০৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১০৯. আহমদ ইবন মানী (রহঃ) ..... আবূ রাযীন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের রব তাঁর মাখলূক সৃষ্টি করার আগে কোথায় ছিলেন? তিনি বললেনঃ তিনি ছিলেন তার নূরের মধ্যে তার উপরেও বায়ূ ছিল না এর নিচেও বায়ূ ছিল না। তিনি তাঁর আরশ পানির উপর সৃষ্টি করেছেন।
যঈফ, ইবনু মাজাহ ২৭১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১০৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আহমদ (রহঃ) বলেনঃ ইয়াযীদ ইবন হারূন (রহঃ) বলেছেনالْعَمَاءُ অর্থ হল তাঁর সঙ্গে অন্য কিছূই ছিল না। হাম্মাদ ইবন সালামা (রহঃ) সনদে উল্লেখিত রাবীর নাম ওয়াকী’ ইবন হাদাস রূপে উল্লেখ করেছেন। শু’বা, আবূ আওয়ানা এবং হুশায়ম বলেছেনঃ ওয়াকী’ ইবন উদাস। আবূ রাযীন রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নাম হল লাকীত ইবন আমির। এ হাদীসটি হাসান।
৩১১০. আবূ কুরায়ব (রহঃ) .... আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলা জালিমকে রাবী কখনো বলেছেনيُمْلِي আর অনেক সময় বলেছেনيُمْهِلُ অর্থাৎ অবকাশ দেন। কিন্তু যখন পাকড়াও করেন তখন তাকে ছাড়েন না। এরপর তিনি পাঠ করলেনঃ
كَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى
এরূপই তোমার প্রতিপালকের শাস্তি! তিনি শাস্তি দেন জনপদসমূহ যখন ওরা জুলুম করে (১১ঃ ১০২)।
সহীহ, বুখারি ৪৬৮৬, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। আবূ উসামা (রহঃ) বুরায়দ (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এবংيُمْهِلُ এর স্থলেيُمْلِي বলেছেন। ইবরাহীম ইবন সাঈদ জাওহারী (রহঃ) ...... আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর তিনিيُمْلِي সন্দেহ ছাড়া উল্লেখ করেছেন।
৩১১১. বুনদার (রহঃ) ..... উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (فمِِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ) আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞসা করলাম, বললামঃ ইয়া নবীয়াল্লাহ্! আমরা কিসের উপর আমল করব? এমন বিষয়ের উপর যা চুড়ান্ত করা হয়েছে কিংবা এমন বিষয়ের উপর যা চুড়ান্ত করা হয়নি। তিনি বললেনঃ হে উমর! না। বরংএমন বিষয়ের উপর যা চুড়ান্ত করা হয়েছে এবং যা যা কলম লিপিবদ্ধ করেছে। তবে যাকে যার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে প্রত্যেকের জন্য তাই সহজ করে দেওয়া হয়।
সহীহ, আয যিলাল ১৬১, ১৬৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ সূত্রে হাদীসটি হাসান-গারীব। আবদূল মালিক ইবন আমর (রহঃ) এর বর্ণনা ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছূ জানা নেই।
হাদিস নং ৩১১২হাসান
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي عَالَجْتُ امْرَأَةً فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَإِنِّي أَصَبْتُ مِنْهَا مَا دُونَ أَنْ أَمَسَّهَا وَأَنَا هَذَا فَاقْضِ فِيَّ مَا شِئْتَ . فَقَالَ لَهُ عُمَرُ لَقَدْ سَتَرَكَ اللَّهُ لَوْ سَتَرْتَ عَلَى نَفْسِكَ . فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا فَانْطَلَقَ الرَّجُلُ فَأَتْبَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً فَدَعَاهُ فَتَلاَ عَلَيْهِِمِ : ( أَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ هَذَا لَهُ خَاصَّةً قَالَ " لاَ بَلْ لِلنَّاسِ كَافَّةً " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهَكَذَا رَوَى إِسْرَائِيلُ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ وَالأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ وَرِوَايَةُ هَؤُلاَءِ أَصَحُّ مِنْ رِوَايَةِ الثَّوْرِيِّ وَرَوَى شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .<br /> <br /> حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، وَسِمَاكٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ .<br /> <br /> حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الأَعْمَشَ وَقَدْ رَوَى سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৩১১২. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, মদীনার শেষ প্রান্তে আমি এক মহিলার সাথে রঙ্গ-রসে লিপ্ত হই এবং সঙ্গম ব্যতীত আমি সব কিছু তার সাথে করেছি। আমি এখন হাযির। আপনার যা ইচ্ছা আমার ব্যাপারে ফয়সালা দিন।
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আল্লাহ্ তোমার বিষয়টি গোপন করেছিলাম। তুমিও যদি বিষয়টি গোপন করতে! কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোন উত্তর দিলেন না। লোকটি চলে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পেছনে একজন লোক পাঠালেন। সে তাকে ডেকে আনল। তখন তিনি তার কাছে এই আয়াতটি তিলাওয়ায়ত করলেনঃ
أَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
সালাত (নামায) কায়েম করবে দিনের দু’প্রান্ত ভাগে ও রাতের প্রথমাংশে, সৎকাজ অবশ্যই অসৎ কাজ মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে এ তাদের জন্য এক উপদেশ (১১ঃ ১২৪)। উপস্থিত এক লোক বললঃ এ বিষয়টি কি এর জন্যই খাছ? তিনি বললেনঃ না, এ সকলের জন্য।
হাসান সহীহ, ইবনু মাজাহ ১৩৯৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১১২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইসরাঈল এটিকে সিমাক-ইবরাহীম-আলকামা ... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ছাওরী (রহঃ) এর এই রিওয়ায়াত থেকে ওঁদের রিওয়ায়ত অধিক সহীহ। শু’বা (রহঃ) এটি সিমাক-ইবরাহীম-আসওয়াদ ... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এতে আ’মাশ (রহঃ) এর উল্লেখ নেই। সুলায়মান তায়মী (রহঃ) এ হাদীসটি আবূ উছমান নাহদী ... ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
৩১১৩. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... মুআয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এক ব্যক্তি অপরিচিতা মহিলার সাথে সাক্ষাৎ করল, আর মানুষ তার স্ত্রীর সঙ্গে যা কিছু করে সে সবই করল, শুধমাত্র তার সাথে সঙ্গম করেনি। এ ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি কি বলেন? তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেনঃ
أَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
সালাত (নামায) কায়েম কর দিনের দু’প্রান্ত ভাগে ও রাতের প্রথমাংশে, সৎকাজ অবশ্যই অসৎ কাজ মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে এ তাদের জন্য এক উপদেশ (১১ : ১১৪)।
লোকটিকে তিনি উযূ করে নামায পড়তে নির্দেশ দিলেন। মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা কি কেবল এ ব্যক্তির জন্যই না অন্যান্য মুমিনদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য? তিনি বললেনঃ না বরং সব মুমিনের জন্যই।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটির সনদ মুত্তাসিল নয়। আবদুর রহমান ইবন আবূ লায়লা (রহঃ) সরাসরি মুআয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস শুনেন নি। মুআয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু ইনতিকাল করেন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর খিলাফত কালে। আর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন নিহত হন তখন আবদুর রহমান ইবন আবূ লায়লা ছিলেন ছয় বছর বয়সের বালক মাত্র। তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে রিওয়ায়ত করেছেন এবং তাকে দেখেছেন। শু’বা এ হাদীসটি আবদুল মালিক ইবন উমায়র-আবদুর রহমান ইবন আবূ লায়লা ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল রূপে রিওয়ায়ত করেছেন।
৩১১৪. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ...... ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, একবার জনৈক ব্যক্তি এক মহিলাকে অবৈধ চুম্বন করে। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে এর কাফফারা সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ
أَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ
সালাত (নামায) কায়েম করবে দিনের দু’প্রান্ত ভাগে ও রাতের প্রথমাংশে। (১১ : ১১৪) লোকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! একি কেবল আমার জন্যই? তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এবং আমার উম্মতের যে কেউ এ কাজ করে।
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১১৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১১৫. আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... আবুল ইউসর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক মহিলা একবার আমার কাছে খেজুর কিনতে আসল। আমি বললামঃ ঘরে আরো ভাল খেজুর আছে, সে তখন আমার সাথে ঘরে প্রবেশ করল। আমি তার দিকে ঝুঁকে তাকে চুমু দেই। পরে আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে তার বিষয়টি বললাম। তিনি বললেনঃ নিজের মধ্যে তা গোপন রাখ, আর তওবা কর। এ বিষয়ে কাউকে জানাবে না। কিন্তু (অনুশোচনায়) আমি স্থির থাকতে পারলাম না। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে বিষয়টি বললাম, তিনিও বললেনঃ নিজের মধ্যেই তা গোপন রাখ, আর তওবা কর। এ বিষয়ে কাউকে জানাবে না। কিন্তু (অনুশোচনায়) আমি স্থির তাকতে পারলাম না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বিষয়টি বললাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জেহদরত একজন যোদ্ধার অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রীর বিষয়ে তুমি কি এ ধরনের আচরণ করলে? ফলে সে কামনা করতে লাগল সে যদি পূর্বে ইসলাম গ্রহণ না করে এ মুহূর্তে ইসলাম গ্রহণ করত এবং ধারণা করতে লাগল যে, সে জাহান্নামী হয়ে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেকক্ষণ মাথা নীচু করে রইলেন অবশেষে তাঁর কাছে ওহী এলঃ
أَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ
সালাত (নামায)কায়েম কর দিনের দু’প্রান্ত ভাগে ও রাতের প্রথমাংশে। সৎকাজ অবশ্যই অসৎ কাজ মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে এ তাদের জন্য এক উপদেশ (১১ : ১১৪)।
আবুল ইউসর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি তাঁর কাছে হাযির হলাম। রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এই আয়াত তিলাওয়াত করে শোনালেন। সাহাবীগণ বললেনঃ এটি কি বিশেষ করে এরই জন্য না সব মানুষের জন্য। তিনি বললেনঃ না বরং এ সব মানুষের জন্যই।
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। রাবী কায়স ইবন রবী কে ওয়াকী’ (রহঃ) প্রমুখ হাদীসবিদগণ যঈফ বলেছেন। শরীক (রহঃ)-ও এটি উছমান ইবন আবদুল্লাহ্ সূত্রে কায়স ইবন রবী’ (রহঃ) এর রিওয়ায়াতের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে আবূ উসামা, ওয়াছিলা ইবন আসকা’ ও আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবুল ইউসর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নাম কা’ব ইবন আমর।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১১৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১১৬. হুসায়ন ইবন হুরায়ছ খুযাঈ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ করীম (সম্মানিত) ইবন করীম ইবন করীম হলেন - ইউসূফ ইবন ইয়াকূব ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহীম (আঃ)। রাসূলু্ল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইউসূফ (আঃ) যতদিন বন্ধীখানায় ছিলেন ততদিন যদি আমি থাকতাম আর আমার কাছে (মুক্তির ফরমান নিয়ে) দূত আসত তবে প্রশ্ন না তুলে) সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিতাম। এরপর তিনি পাঠ করলেনঃ
فَلَمَّا جَاءَهُ الرَّسُولُ قَالَ ارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَاسْأَلْهُ مَا بَالُ النِّسْوَةِ اللاَّتِي قَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ
যখন দূত তার কাছে উপস্থিত হল তখন সে বলল তুমি তোমার প্রভুর কাছে ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞাসা কর, যে নারীরা হাত কেটে ফেলেছিল তাদের অবস্থা কি? (১২ঃ ৫০)।
তিনি আরো বলেন, লূত (আঃ)-এর উপর আল্লাহ্ রহম করুন। তিনি মজবুত খুঁটির (গোত্রের) আশ্রয় আশা করেছিলেন। তাঁরপর আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর কওমের সর্বোচ্চ বংশ থেকে ই সকল নবী পাঠিয়েছেন।
ذروة শব্দের পরিবর্তেثروة শব্দে হাদিসটি হাসান, সহীহাহ ১৬১৭, ১৮৬৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১১৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইবন আমর (রহঃ) সূত্রে ফাযল ইবন মূসা (রহঃ) এর রিওয়ায়াত (৩১১৬ নং)-এর অনুরূপ বর্ণনা করেন তবে এতেذروةٍ এর স্থলে ثَّرْوة শব্দ আছে।
মুহাম্মাদ ইবন আমর (রহঃ) বলেনঃالثَّرْوَةُ অর্থ ধনে জনে বলীয়ান। এটি ফাযল ইবন মূসা (রহঃ) এর রিওয়ায়ত থেকে অধিক সহীহ। এ হাদীসটি হাসান।
৩১১৭. আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক বার কতিপয় ইয়াহূদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এগিয়ে এসে বললঃ হে আবুল কাসিম! আপনি আমাদের বলুন, রা’দ (বজ্র) কি?
তিনি বললেনঃ মেঘ-বিষয়ে দায়িত্বশীল এক ফেরেশত। যার সঙ্গে আগুনের একটি বেত রয়েছে। এর দ্বারা আল্লাহ্ যেখানে চান সেখানেই এই ফেরেশতা মেঘ হাঁকিয়ে নিয়ে যান।
এরা বললঃ আমরা যে শব্দ শুনতে পাই তা কি? তিনি বললেনঃ এ হল মেঘ তাড়ানো হাঁক যখন তিনি মেঘ তাড়িয়ে নিয়ে যান পরিশেষে তা নির্দেশিত স্থানে গিয়ে পৌঁছে। এরা বললঃ ঠিক বলেছেন। এরপর তারা বললঃ ইসরাঈল [ইয়াকূব (আঃ)] তাঁর নিজের জন্য কি বস্ত হারাম করেছিলেন সে সম্পর্কে আমাদের বলুন।
তিনি বললেনঃ ইসরাঈল ইরকুন নাসা (সাইটিকা জাতীয়) রোগে আক্রান্ত হন। উটের মাংস ও দুধ ব্যতীত অন্য কোন জিনিস এর জন্য উপযুক্ত পান নি। তাই সে দুটো জিনিস নিজের জন্য হারাম করে ফেলেছিলেন। এরা বললঃ আপনি ঠিক বলেছেন।
সহীহ, সহীহাহ ১৮৭২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
৩১১৮. মাহমূদ ইবন খিদাশ বাগদাদী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আল্লাহর বাণীঃ (وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ فِي الأُكُلِ) এবং ফল হিসাবে ওদের কতককে কতকের উপর আমি শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকি (১৩ : ৪)। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত তিনি বলেন, এ হল রাদ্দী, ফারসী (এক প্রকার খেজুর), মিষ্টি আর টক।
এ হাদীসটি হাসান-গারীব। যায়দ ইবন আবূ উনায়সা (রহঃ) এটি আ’মাশ (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। সায়ফ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) হলেন আম্মার ইবন মুহাম্মাদের ভাই। আম্মার (রহঃ) তার চাইতে অধিক নির্ভরযোগ্য। ইনি হলেন সুফইয়ান ছাওরীর ভাগনে।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১১৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১১৯. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একটি খাঞ্চা আনা হল। এতে ছিল কিছু তাজা খেজুর। তিনি তখন পাঠ করলেনঃ
مَثَلُ كَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ تُؤْتِي أُكُلَهَا كُلَّ حِينٍ بِإِذْنِ رَبِّهَا
উত্তম কথার তুলনা হল এমন গাছ যার মূল সুদৃঢ় ও যার শাখা প্রশাখা উর্ধে বিস্তৃত যা প্রত্যেক মাওসুমে তার ফল ডান করে। তার প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে ....... (১৪ঃ ২৪)। তিনি বললেন এ হল খেজুর গাছ।
مَثَلُ كَلِمَةٍ خَبِيثَةٍ كَشَجَرَةٍ خَبِيثَةٍ اجْتُثَّتْ مِنْ فَوْقِ الأَرْضِ مَا لَهَا مِنْ قَرَارٍ
কুবাক্যের তুলনা এক মন্দ গাছ, যার মূল ভূপৃষ্ট হতে বিচ্ছিন্ন। যার কোন স্থায়িত্ব নেই (১৪ : ২৬)। তিনি বললেনঃ এ হল মাকাল গাছ।
রাবী শুআয়ব ইবন হাবহাব (রহঃ) বলেন, আমি আবুল আলিয়া (রহঃ)-কে এটি সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি বললেনঃ সত্য ও সুন্দর বলেছেন।
মারফু বর্ণনাটি দুর্বল।
কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তিনি এটি মারফু’ করেননি এবং আবুল আলিয়ার বক্তব্যটিও উল্লেখ করেননি। এটি হাম্মাদ ইবন সালামা (রহঃ) এর রিওয়ায়ত থেকে অধিক সহীহ। একাধিক রাবী এটি মাওকূফরূপে রিওয়ায়ত করেছেন। হাম্মাদ ইবন সালামা ছাড়া আর কেউ মারফূ করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। মা’মার, হাম্মাদ ইবন যায়দ প্রমুখ (রহঃ) এটি রিওয়ায়ত করেছেন। কিন্তু তারা এটি মারফু’ করেননি।
মাওকুফ বর্ণনার সনদ সহিহ।
আহমদ ইবন আবদা যাববী (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে কুতায়বা-এর রিওয়ায়তের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এটি মারফূ’ রূপে বর্ণনা করেননি।
মাওকুফ বর্ণনাটি সহিহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১১৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১২১. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ (يَوْمَ تُبَدَّلُ الأَرْضُ غَيْرَ الأَرْضِ) যে দিন এ পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে (১৪ : ৪৮)। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোকেরা তখন কোথায় অবস্থান করবে? তিনি বললেনঃ সিরাতের উপর।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৪২৭৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে একাধিক সূত্রে এটি বার্ণিত আছে।
৩১২২. কুতায়বা (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ মানুষের মাঝে সবচেয়ে সুন্দরী এক মহীলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে সালাত (নামায) আদায় করত। মুসল্লীদের কেউ সামনে অগ্রসর হয়ে প্রথম কাতারে থাকত যাতে এই মহিলার প্রতি দৃষ্টি না পড়ে আর কেউ পেছনে (পুরুষদের) শেষ কাতারে থাকত যখন রুকু করত তখন বগলের ফাঁক দিয়ে ঐ মহিলাকে দেখত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ (وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِينَ) তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে আমি তাদের জানি এবং পরে যারা আসবে তাদেরও জানি (১৫ঃ ২৪)।
সহীহ, সহীহাহ ২৪৭২, আস সামার আল মুসতাত্বা-ব, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১২২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
জা’ফর ইবন সুলায়মান (রহঃ) -এ হাদীসটি’আমর ইবন মালিক-আবুল জাওযা (রহঃ) এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উল্লেখ নেই। এটি নূহ (রহঃ) এর রিওয়ায়ত (৩১২২ নং) অপেক্ষা অধিক সহীহ হওয়ার মত।
হাদিস নং ৩১২৩যঈফ
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ جُنَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لِجَهَنَّمَ سَبْعَةُ أَبْوَابٍ بَابٌ مِنْهَا لِمَنْ سَلَّ السَّيْفَ عَلَى أُمَّتِي أَوْ قَالَ عَلَى أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم - " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৩১২৩. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নামের দরজা হল সাতটি। একটি দরজা যে ব্যক্তি আমার উম্মতের বিরুদ্ধে তলোয়ার উন্মক্ত করে।
যঈফ, মিশকাত, তাহকিক ছানী ৩৫৩০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি গারীব। মালিক ইবন মিগওয়াল (রহঃ) এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছূ জানা নেই।
৩১২৫. হুসায়ন ইবন হুরায়ছ (রহঃ) ...... উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা তাওরাত ও ইনজীনে উম্মুল কুরআন-এর মত যা হল সাবউল মাছানী কিছু নাযিল করেননি। এটি আমার এবং আমার বান্দার মাঝে ভাগাভাগী। আমার বান্দা যা চাইবে তা-ই তার।
সহীহ, তা’লীকুর রাগীব ২/২১৬, সিফাতুস সালাত, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উদ্দেশ্যে বের হলেন। তখন তিনি সালাত (নামায) রত ছিলেন। এরপর রাবী এ মর্মে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবদুল আযীয ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ)-এর রিওয়ায়তটি পরিপূর্ণ এবং দীর্ঘতর। আবদুল হামীদ ইবন জা’ফর (রহঃ) এর হাদীসের তুলনায় এটি অধিক সহীহ। একাধিক রাবী আলা ইবন আবদুর রহমান থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৩১২৬. আহমদ ইবন আবদা যাব্বী (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, (ولَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ) আমি তাদের সকলকে প্রশ্ন করবই, সে বিষয়ে যা তারা করে (১৫ঃ ৯২) সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই- এ বিশ্বাস প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হবে।
এ হাদীসটি গারীব। লায়ছ ইবন আবূ সুলায়ম (রহঃ) সূত্রেই কেবল এটি সম্পর্কে আমরা জানি। আবদুল্লাহ্ ইবন ইদারীস (রহঃ) এটি লায়ছ ইবন আবূ সুলায়ম ... বিশর-আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এটি মারফূ’ রূপে বর্ণনা করেননি।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১২৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১২৭. মুাহাম্মদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) .... আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমিনের অন্তর্দৃষ্টি সম্পর্কে সতর্ক থাকবে। কেননা সে আল্লাহর নূর দেখে। এরপর তিনি পাঠ করলেনঃ (إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِلْمُتَوَسِّمِينَ) অবশ্যই এতে নিদর্শন রয়েছে পর্যবেক্ষণ শক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য (১৫ঃ ৭৫)।
যঈফ যঈফা ১৮২১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১২৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি গারীব। এ সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। কোন কোন আলিম থেকে এ আয়াতটির তাফসীর প্রসঙ্গে বর্ণনা করা হয়েছে যেঃ (إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِلْمُتَوَسِّمِينَ) অর্থ অর্ন্তদৃষ্টি সম্পন্ন।
৩১২৮. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূর্য পশ্চিম দিকে হেলার পর এবং যুহরের পূর্বে চার রাকআত সালাত (নামায) আদায় সাহারীর সময় সে পরিমাণ সালাত (নামায) আদায়ের সমতুল্য। রাসুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ এমন কোন জিনিস নেই যা এ সময় আল্লাহর তাসবীহ করে না। এরপর তিনি পাঠ করেনঃ (يَتَفَيَّأُ ظِلاَلُهُ عَنِ الْيَمِينِ وَالشَّمَائِلِ سُجَّدًا لِلَّهِ) যার ছায়া দক্ষিণে ও বামে ঢলে পড়ে আল্লাহর প্রতি সিজদবনত হয় (১৬ঃ ৪৮)।
যঈফ, সহীহাহ ১৪৩১ নং হাদিস এর অধীনে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি গারীব আলী ইবন আসিম (রহঃ) এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই।
৩১২৯. আবু আম্মার হুসায়ন ইবন হুরায়ছ (রহঃ) ..... উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উহুদ যুদ্ধে আনসারীদের চৌষট্রি জন এবং মুহাজিরদের ছয় জন শহীদ হন। এই ছয় জনের মধ্যে হামযা অন্যতম। কাফিররা তাঁর লাশ বিকৃত করে। আনসারীরা বললেনঃ আমরাও যদি এই দিনের মত একটা দিন পাই তবে তাদের চাইতে বহুগুণ বেশী তাদের লাশ বিকৃত করব। পরে মক্কা বিজয়ের সময় আল্লাহ্ তা’আলা আয়াত নাযিল করেনঃ
وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ وَلَئِنْ صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِلصَّابِرِينَ
যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর, তবে ঠিক ততখনি করবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে। তোমরা ধৈর্যধারণ করলে তাই তো উত্তম ধৈর্যশীলদের জন্য (১৬ঃ ১২৬)।
এক ব্যক্তি বললঃ আজকের দিনের পর আর কুরায়শ কেউ থাকবে না। রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ চার জন ছাড়া কুরায়শদের হত্যা করা থেকে বিরত থাকবে।
উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়ত হিসাবে হাদীসটি হাসান-গারীব।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১২৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১৩০. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকে যখন সফর করানো হয় তখন মূসা (আঃ)-এর সঙ্গেও আমার সাক্ষাৎ হয়। এরপর তিনি তাঁর আকৃতির বিবরণ দিয়ে বললেনঃ তিনি ছিলেন হালকা পাতলা। যার মাথার চুল কুঁকড়ানো ও সোজার মাঝামাঝি। তিনি যেন শানূআ গোত্রের পুরুষের মত। ঈসা (আঃ)-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয়। এরপর তিনি তাঁর গঠন প্রকৃতির বিবরণ দিয়ে বললেনঃ তিনি ছিলেন মধ্যমাকৃতির লাল বর্ণের। তিনি যেন গোসলখানা থেকে বের হলেন। ইবরাহীম (আঃ) কে দেখেছি। তাঁর বংশধরদের মাঝে আমিই তাঁর অধিক সদৃশ।
আমার কাছে দু’টো পাত্র আনা হয় একটিতে দুধ আরেকটিতে ছিল মদ। আমাকে বলা হল, দু’টো থেকে যে কোনটি আপনার ইচ্ছা গ্রহণ করুন। আমি দুধ গ্রহণ করলাম এবং তা পান করলাম। আমাকে বলা হল আপনাকে ফিতরাতের দিকে হিদায়াত করা হয়েছে, কিংবা বলেছেন, আপনি ফিতরাতে পৌঁছেছেন। যদি আপনি মদ গ্রহণ করতেন তবে আপনার উম্মাত গুমরাহ হয়ে যেত।
সহীহ, বুখারি ৪৭০৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩১৩১. ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। মি’রাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিন পরিয়ে লাগাম লাগিয়ে বুরাক আনা হল কিন্তু সে হঠকারিতা করল। তখন জিবরীল (আঃ) বললেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যাপারেও তুমি এরূপ করছ? আল্লাহর কাছে তাঁর চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কেউ তোমার উপর কখনও আরোহণ করেনি। লজ্জায় বুরাকটি ঘর্মাক্ত হয় উঠল।
এ হাদীসটি হাসান-গারীব। আবদুর রাজ্জাক (রহঃ) এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১৩৩. কুতায়বা (রহঃ) ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরায়শরা যখন (মি’রাজের বিষয়ে) আমাকে মিথ্যাবাদী বলল তখন আমি হাতীমের মধ্যে দাঁড়ালাম তখন আল্লাহ্ তা’আলা আমার জন্য বায়তুল মুকাদ্দাস উদ্ভাসিত করে দিলেন। আমি এর প্রতি তাকিয়ে তাকিয়ে তাদেরকে এর আলামতগুলো সম্পর্কে বিবরণ দিতে লাগলাম।
সহীহ, তাখরীজু ফিকহিস সিরাহ ১৪৫, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয়ে মালিক ইবন সা’সা’আ, আবূ সাঈদ, ইবন আব্বাস, আবূ যর এবং ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীসটি বর্ণিত আছে।
৩১৩৪. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, (ومَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْنَاكَ إِلاَّ فِتْنَةً لِلنَّاسِ) - আমি যে দৃশ্য তোমাকে দেখিয়েছি তা এবং কুরআনে উল্লিখিত অভিশপ্ত বৃক্ষটিও, কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্য (১৭ঃ ৬০)। আয়াতটি সম্পর্কে বলেছেন যে, এ হল চাক্ষুষ দর্শন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যে রাতে বায়তুল মুকাদ্দাস সফর করানো হয় সে রাতে দেখানো হয়েছিল। কুরআনে উল্লিখিত অভিশপ্ত বৃক্ষ সম্পর্কে তিনি বলেছেনঃ এটি হল (জাহান্নামের) যাক্কূম বৃক্ষ।
সহীহ, বুখারি ৪৭১০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩১৩৬. আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (يَوْمَ نَدْعُو كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ) - স্মরণ কর, সে দিনকে যখন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের নেতা সহ আহবান করব (১৭ঃ ৭১) প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এদের একজনকে ডাকা হবে এবং তার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে। তার দেহ ষাট হাত প্রশস্ত করা হবে। উজ্জ্বল করা হবে চেহারা আর তার মাথায় মোতির তাজ পরানো হবে। জ্বলজ্বল করতে থাকবে এর মোতিগুলো। অনন্তর সে তার সঙ্গীদের কাছে ফিরে চলবে। দূর হতে তারা তাকে দেখতে পাবে। তারা বলবে, ইয়া আল্লাহ্! আমাদেরও তা দান করুন এবং আমাদের জন্য তা বরকতময় করুন। শেষে ঐ লোকটি তাদের কাছে আসবে এবং তাদেরকে বলবেঃ তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর, তোমাদের প্রত্যেকের জন্য অনুরূপ পুরষ্কার রয়েছে।
পক্ষান্তরে কাফিরের চেহারা কালো করে দেওয়া হবে। আদম (আঃ)-এর সূরাতে তার শরীর ষাট হাত দীর্ঘ করে দেওয়া হবে। তাকে (অবমাননার) তাজ পরানো হবে। তার সঙ্গীরা তাকে দেখে বলবেঃ এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছেই আমরা পানাহ চাই। ইয়া আল্লাহ্! একে আমাদের কাছে আসতে দিবেন না।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঐ লোকটি তাদের কাছে আসবে। তখন তারা বলবে, ইয়া আল্লাহ্! তুমি একে সরিয়ে দাও। সে বলবেঃ আল্লাহ্ তোমাদের দূরে রাখুন। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য অনুরূপ বস্ত রয়েছে।
হাদীসটি হাসান-গারীব। সুদ্দী (রহঃ) এর নাম হল ইসমাঈল ইবন আবদুর রহমান।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১৩৭. আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বাণীঃ (عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا) - ’’আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে ... (১৭ঃ ৭৯) এর ব্যাখ্যায় অথবা এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এ হল শাফাআত।
সহীহ, সহীহাহ ২৬৩৯, ২৩৭০, আয যিলাল ৭৮৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান। দাঊদ যাগাফিরী (রহঃ) হলেন দাঊদ আওদী। ইনি হলেন আবদুল্লাহ্ ইবন ইদরীসের চাচা।
হাদিস নং ৩১৩৮সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ وَحَوْلَ الْكَعْبَةِ ثَلاَثُمِائَةٍ وَسِتُّونَ نُصُبًا فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَطْعَنُهَا بِمِخْصَرَةٍ فِي يَدِهِ وَرُبَّمَا قَالَ بِعُودٍ وَيَقُولُ : (جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا) : (جَاءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَمَا يُعِيدُ) . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَفِيهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৩১৩৮. ইবন আবূ উমর (রহঃ) .... ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় মক্কায় প্রবেশ করেন। তখন কাবা শরীফের আশেপাশে তিনশত ষাটটি মূর্তি ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাতের লাঠি দিয়ে এক একটিকে খোঁচা দিতে লাগলেন আর বলতে থাকলেনঃ
(جَاءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَمَا يُعِيدُ) *** (جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا)
সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই (১৭ঃ ৮১)। সত্য এসেছে এবং অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃজন করতে, না পারে পুনরাবৃত্তি করতে (৩৪ঃ ৪৯)।
সহীহ, বুখারি ৪৭২০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয়ে ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
৩১৩৯. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মক্কায় তারপর তাঁকে হিজরতের হুকুম দেওয়া হয় তাঁর উপর তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ
قُلْ رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا
আর বল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সাথে এবং আমাকে নিষ্ক্রান্তকরাও কল্যাণের সাথে এবং তোমার নিকট হতে আমাকে দান কর সাহায্যকারী শক্তি (১৭ : ৮০)।
এ হাদীসটি হাসান- সহীহ।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৩৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১৪০. কুতায়বা (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরায়শরা ইয়াহূদীদের বলল, আমাদের কিছু দাও যাতে আমরা এ ব্যক্তিটিকে প্রশ্ন করতে পারি।। ইয়াহুদীটি বললঃ তোমরা তাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কর। তারপর তারা তাঁকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তখন আল্লাহ্ তা’আলা অবর্তীর্ণ করেনঃ
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلاَّ قَلِيلاً
তোমাকে এরা রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত। আর তোমাদের দেওয়া হয়েছে সামান্য জ্ঞানই (১৭ঃ ৮৫)। ইয়াহুদীরা বললঃ আমাদের বিপুল ইলম দান করা হয়েছে। আমাদের দেওয়া হয়েছে তাওরাত। আর যাকে তওরাত দান করা হয়েছে তাকে প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়েছে। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ
قُلْ لَوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ
বল, আমার প্রতিপালকের কথা লিপিবদ্ধ করার জন্য সাগর যদি কালি হয়, তবে সাগর নি:শেষ হয়ে যাবে (১৮ঃ ১০৯)।
সহীহ, আততা’লীকাত আল-হাসসান ৯৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ সূত্রে গারীব।
৩১৪১. আলী ইবন খাশরাম (রহঃ) ....... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মদীনার শস্যভূমি দিয়ে হাঁটছিলাম। তিনি একটি খেজুর ডালে ভর দিয়ে চলছিলেন। এমন সময় ইয়াহুদীদের একটি দলের পাশ দিয়ে তিনি পথ অতিক্রম করছিলেন। এদের একজন (তার সঙ্গীদের) বললঃ একে যদি তোমরা একটি প্রশ্ন করতে, অন্য একজন বললঃ তাকে কোন প্রশ্ন করতে যেয়ো না। তা হলে তিনি তোমাদের এমন কথা শুনিয়ে দিতে পারেন যা তোমাদের পছন্দের নয়।
যা হোক, তারা বললঃ হে আবুল কাসিম, রূহ সম্পর্কে আমাদের কিছু বিবরণ দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন এবং তাঁর মাথা আকাশের দিকে তুললেন। আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর উপর ওহী নাযিল হচ্ছে। ওহী গ্রহণ শেষ হলে তিনি বললেনঃ
الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلاَّ قَلِيلاً
রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত, আর তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দেওয়া হয়েছে।
সহীহ, বুখারি ৪৭২১, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩১৪২. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকদের তিন ভাগে হাশর করা হবে। একদল পায়ে হেঁটে, আরেক দল আরোহী হয়ে, আরেক দল তাদের চেহারার উপর উল্টো হয়ে হাশরে উঠবে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! চেহারার উপর তারা হাঁটবে কি করে? তিনি বললেনঃ যিনি তোমাদের পায়ের উপর হাটাতে পারেন তিনি চেহারার উপর তাদের হাঁটাতে ক্ষমতা রাখেন। শোন এরা (কাফিররা) তাদের চেহারা দিয়েই উঁচু ঢিলা ও কাঁটাবন থেকে নিজেদের বাঁচাতে চেষ্টা করবে।
যঈফ, মিশকাত, তাহকিক ছানী ৫৫৪৬, তা’লীকুর রাগীব ৪/১৯৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান। উহায়ব (রহঃ) ইবন তাঊস তার পিতা তাঊস ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ কিছূ বর্ণনা করেছেন।
৩১৪৩. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) .... বাহয ইবন হাকীম তার পিতা তার পিতামহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের হাশর করা হবে পদাতিক ও আরোহী রূপে এবং তোমাদের চেহারার উপর টেনে-হেঁচড়ে নেওয়া হবে (কতককে)।
হাসান, তা’লীকুর রাগীব, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান।
৩১৪৪. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ..... সাফওয়ান ইবন আসসাল মূরাদী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, একবার দুই ইয়াহূদীর একজন আরেকজনকে বললঃ এই নবীর কাছে আমাদের নিয়ে চল আমরা তাঁকে কিছু প্রশ্ন করি। অপরজন বললঃ তাকে নবী বলবে না। কারণ, যদি শুনতে পায় যে তাকে তুমি নবী বলছ তাহলে আনন্দে আটখানা হয়ে যাবে। এরা উভয়েই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসল এবং তারা আল্লাহর বাণীঃ (وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى تِسْعَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ) - আমি মূসাকে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছিলাম (১৭ঃ ১০১) সম্পর্কে প্রশ্ন করল।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে কিছুর শরীক করবে না, যিনা করবে না, আল্লাহ্ যে প্রাণ বধ হারাম করেছেন শরীয়ত সম্মত অধিকার ছাড়া তাকে হত্যা করবে না, চুরি করবে না, যাদু-টোনা করবে না, কোন নির্দোষ ব্যক্তিকে দোষ চাপিয়ে ক্ষমতাধিকারীর কাছে নিয়ে তাকে হত্যা করাবে না, সুদ খাবে না, কোন নির্দোষ ব্যাক্তিকে দোষ চাপিয়ে ক্ষমতাধিকারীর কাছে নিয়ে তাকে হত্যা করাবে না, সুদ খাবে না, সাধ্বী মহিলাকে অপবাদ দিবে না, যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পলায়ন করবে না। বিশেষ করে হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! তোমাদের জন্য কথা হল তোমরা শনিবারের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। তারপর এরা উভয়েই তাঁর হাতে ও পায়ে চুমু খেয়ে বললঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নবী। তারা বললঃ দাঊদ (আঃ) আল্লাহর কাছে দু’আ করেছিলেন যে, তাঁর বংশেই যেন সব সময় নবীর আগমন হয় আমাদের আশংকা হয় আমরা যদি ইসলাম গ্রহণ করি তবে ইয়াহূদীরা আমাদের মেরে ফেলবে।
যঈফ, ইবনু মাজাহ ৩৭০৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩১৪৫. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... সাঈদ ইবন জুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। অন্য সনদে আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ (وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ) - সালাতে স্বর উচ্চ করবে না এবং অতিশয় ক্ষীণও করবে না (১৭ঃ ১১০)। তিনি আয়াতটি প্রসঙ্গে বলেন, এটি মক্কায় নাযিল হয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি উচ্চঃস্বরে তিলাওয়াত করতেন তবে মুশরিকরা স্বয়ং কুরআন এবং কুরআন যিনি নাযিল করেছেন আর যিনি নিয়ে এসেছেন সকলকে গালি-গালাজ করত।
তখন আল্লাহ্ তাআলা নাযিল করেনঃ ’সালাতে স্বর উচ্চ করবে না।’ তা করলে এরা কুরআন এবং তা যিনি নাযিল করেছেন এবং যিনি নিয়ে এসেছেন সকলকে গালি দিবে। এদিকে ’আপনার সঙ্গীদের থেকে আওয়াজ অতিশয় ক্ষীনও করবেন না।’ বরং তাদেরকে আপনি শুনাবেন যেন তারা আপনার নিকট থেকে কুরআন গ্রহণ করতে পারে।
সহীহ, বুখারি ৪৭২২, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩১৪৬. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ..... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যেঃ (وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلاً) - সালাতে স্বর উচ্চ করবে না এবং অতিশয় ক্ষীণও করবে না বরং এ দুয়ের মধ্যপথে অবলম্বন করবে (১৭ঃ ১১০)। আয়াতটি প্রসঙ্গে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ এ আয়াতটি যখন নাযিল হয় সে সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় লুক্কায়িত ছিলেনঃ তিনি সাহাবীদের নিয়ে যখন সালাত (নামায) আদায় করতেন তখন উচ্চঃস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। মুশরিকরা তা শুনতে পেলে কুরআন এবং যিনি তা নাযিল করেছেন ও যিনি তা নিয়ে এসেছেন সকলকে গালমন্দ করত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর নবীকে বললেনঃ আপনার সালাত (নামায) অর্থাৎ কিরাআত উচ্চ স্বরে করবে না। তা করলে মুশরিকরা শুনতে পাবে এবং কুরআনকে গাল-মন্দ করবে। আর তা আপনার সঙ্গীদের থেকে অতিশয় ক্ষীণও করবেন না এবং দুয়ের মধ্যপথ অবলম্বন করবেন।
সহীহ, বুখারি ৪৭২২, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩১৪৭. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... যির ইবন হুরায়শ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুযায়ফা ইবন ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞাসা করলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বায়তুল মুকাদ্দাসে সালাত (নামায) আদায় করেছেন?
তিনি বললেনঃ না।
আমি বললামঃ অবশ্যই তা আদায় করেছেন।
তিনি বললেনঃ হে টেকো, তুমি এ কথা বলছ? এবং তুমি কেন তা বলছ?
আমি বললামঃ কুরআন থেকে বলছি। আমার ও আপনার মাঝে কুরআন ফায়সালা করবে।
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ কুরআন থেকে যে ব্যক্তি দলীল পেশ করে সে সফলকাম।
সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, তিনি বলেছেন, সে সঠিক দলীল পেশ করেছে। আর অনেক সময় তিনি বলেছেন, সে সফলকাম হয়েছে।
যিরর ইবন হুবায়শ (রহঃ) বললেনঃ (سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى) - পবিত্র ও মহিমাময় তিনি যিনি তার বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় (১৭ঃ ১)।
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তোমার কি মনে হয়, যে তিনি সেখানে সালাত (নামায) আদায় করেছেন?
আমি বললামঃ না।
তিনি বললেনঃ যদি সেখানে তিনি সালাত (নামায) আদায় করতেন তবে তোমাদের জন্য সেখানে সালাত (নামায) আদায় করা জরুরী হয়ে যেত যেমন মসজিদুল হারাম কা’বায় সালাত (নামায) আদায় করা জরুরী।
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো বললেনঃ রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এরূপ (হাত দিয়ে ইশারা করে দেখালেন) সুপ্রশস্ত দীর্ঘ পিঠ বিশিষ্ট একটা জন্তু আনা হল। চোখের দৃষ্টি দূরত্ব পরিমাণ ছিল তার এক একটি পদক্ষেপ। তারা বুরাকের পিঠে আরোহণ করে জান্নাত, জাহান্নাম এবং আখিরাতে ওয়াদাকৃত সবকিছু পরিদর্শণ করলেন, পরে তারা উভয়েই ফিরে আসলেন। যাত্রা শুরু মাত্রই ছিল তাদের এই প্রত্যাবর্তন। (অর্থাৎ বেশী সময় এতে লাগেনি যেন শুরু হতেই তা শেষ হয়ে গিয়েছিল)।
তিনি আরো বলেন, লোকেরা বর্ণনা করে যে, তিনি এটি বেঁধে রেখেছিলেন। কেন বাঁধবেন! পালিয়ে যাবে বলে কি? গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছু সম্পর্কে যিনি জানেন সেই মহাসত্যই এটিকে তাঁর জন্য বাধ্যগত করে দিয়েছিলেন।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১৪৮. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আমিই হব বনী আদমের সরদার। এতে কোন অহংকার নেই; আমার হাতেই থাকবে হামদের পতাকা, এতে কোন অহংকার নেই; আদম এবং অন্যান্য সকল নবীই ঐ দিন আমার পতাকার নিচে থাকবেন। আমিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মাটি বিদীর্ণ করে উঠবে, এতে কোন অহংকার নেই।
ঐ দিন মানুষ তিনবার ভীষন ভীতিকর অবস্থায় পড়বে। তারা আদম (আঃ)-এর কাছে আসবে আর বলবেঃ আপনি আমাদের আদি পিতা আদম, আপনি আমাদের জন্য আপনার প্রতিপালকের নিকট সুপারিশ করুন। তিনি বলবেনঃ আমি তো একটা ভূল করেছিলাম, যদ্দরুন আমাকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বরং তোমরা নূহ (আঃ)-এর কাছে যাও। তারা নূহ (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো পৃথিবীতে একটি দু’আ করেছিলাম। এতে তারা ধ্বংস হয়েছে। তোমরা বরং ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে যাও। তারা ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো তিনটি অসত্য কথা বলেছিলাম।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মূলত এর একটিও মিথ্যা ছিল না। আসলে আল্লাহর দীনের পক্ষে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসাবেই তিনি তা করেছিলেন।
যা হোক, তিনি বলবেনঃ তোমরা বরং মূসা (আঃ)-এর কাছে যাও। তারা মূসা (আঃ)-এর কাছে আসবে।
তিনি বলবেনঃ আমি তো একজনকে হত্যা করে ফেলেছিলাম। তোমরা বরং ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাও। তারা ঈসা (আঃ)-এর কাছে আসবে তিনি বলবেনঃ আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে উপসনা করা হয়েছে। তোমরা বরং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাও। এরপর তারা আমার কাছে আসবে। আমি তাদের সঙ্গে চলব।
ইবন জুদআন (রহঃ) বলেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ আমি যেন এখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখছি। তিনি বলেন, এরপর আমি জান্নাতের দরওয়াজার আংটা ধরে তা খটখটাব। বলা হবে কে?
উত্তরে বলা হবেঃ মুহাম্মাদ।
আমার জন্য জান্নাতের দ্বার তারা (ফিরিশতারা) খুলে দিবেন এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে বলবেনঃ মারহাবা, এরপর আমি (রাব্বুল আলামীনের হুযুরে) সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ্ তা’আলাই আমাকে হামদ ও ছানার ইলহাম করবেন। আমাকে বলা হবেঃ আপনার মাথা তুলুন। যাঞ্ছা করুন আপনাকে তা দেওয়া হবে। সুপারিশ করুন আপনার সুপারিশ গ্রহন করা হবে। আপনি বলুন আপনার কথা শোনা হবে।
এই হল মাকামে মাহমূদ যার কথা আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, (عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا) আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে (১৭ঃ ৭৯)।
সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ই কেবল এই বাক্যটি ’’আমি জান্নাতের দরওয়াজার আংটা ধরে তা খটখটাব’’ বর্ণিত আছে।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৪৩০৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান। কোন কোন রাবী এ হাদীসটি আবূ নাযরা ... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে দীর্ঘ বর্ণনা করেছেন।
৩১৫১. ইয়াহ্ইয়া ইবন মূসা (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খাযিরকে খাযির (সবুজ সতেজ শস্য) বলে নামকরনের কারণ হল তিনি একবার বিশুষ্ক বৃক্ষলতাহীন এক সাদা যমীনে বসা ছিলেন, তখন তাঁর নিচ থেকে সবুজ ঘাস প্রকাশ পায়।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৫১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩১৫৩. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার প্রমুখ (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। (যুল কারনায়ন নির্মিত) প্রাচীর সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এটিকে এরা (ইয়াজুজ মাজূজেরা) প্রতি দিনেই খোঁড়ে। শেষে যখন বিদীর্ণ করে ফেলার উপক্রম হয় তখন তাদের উপর দায়িত্বশীল ব্যক্তিটি বলেঃ তোমরা ফিরে চল। আগামীকাল এসে আমরা এটা বিদীর্ণ করব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এর মধ্যে এই প্রাচীরটিকে আল্লাহ্ তা’আলা আগে যা ছিল তার চেয়েও উত্তমরূপে পুনর্নির্মিত করে দেন। অবশেষে যখন নির্ধারিত দিন এসে পৌঁছবে এবং আল্লাহ্ তা’আলা এদের মানুষের বিরুদ্ধে পাঠানোর ইচ্ছা করবেন সে সময় তাদের দায়িত্বে নিযুক্ত নেতাটি বলবে, তোমরা ফিরে চল তোমরা আগামীকাল ইনশাআল্লাহ্ এটি বিদীর্ণ করবে। সেই ইনশাআল্লাহর সঙ্গে তারা কথা বলবে। পরে তারা যখন ফিরে আসবে তখন গতদিন যেভাবে ছেড়ে রেখে গিয়েছিল সেই অবস্থায়ই তারা এটি পাবে। তখন তারা এটি বিদীর্ণ করে ফেলবে এবং মানুষের বিরুদ্ধে বেরিয়ে পড়বে। তারা সব পানি পাণ করে ফেলবে। আর লোকজন তাদের থেকে পালিয়ে যাবে। এরপর তারা তাদের তীরগুলো আসমানের দিকে ছুঁড়বে। এগুলো রক্ত রঞ্জিত হয়ে ফিরে আসবে। তারা নিজেরা বর্বরতা ও অহংকারে মদমত্ত হয়ে বলবে, পৃথিবীতে যা আছে তাদের পরাজিত করলাম এবং আকাশবাসীদের উপরও জয়লাভ করলাম। তখন আল্লাহ্ তা’আলা তাদের পিঠে একদল প্রেরণ করবেন। এতে তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। কসম সেই সত্তার যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, এদের মাংস ভক্ষণ করে পৃথিবীর জীবজন্তুগুলো মোটা সতেজ ও চর্বিময় হয়ে উঠবে।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৪০৮০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৫৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-গারীব। এ সূত্রেই আমরা অনুরূপ হাদীস জানি।
৩১৫৪. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার প্রমুখ (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ ইবন আবূ ফাযালা আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন একজন সাহাবী, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের দিন যেদিন সম্পর্কে কোন সন্দেহ নাই, যখন আল্লাহ্ তা’আলা সব মানুষ একত্রিত করবেন তখন জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা দিবেন, যে আমল সে আল্লাহর জন্য করেছে তাতে কেউ যদি কাউকে শরীক করে থাকে তবে সে তার ঐ আমলের প্রতিদান আল্লাহ্ ছাড়া আর কারো কাছে তালাশ করুক। কারণ, আল্লাহ্ তা’আলা শিরক থেকে সবার চেয়ে বেশি মুক্ত।
হাসান, ইবনু মাজাহ ৪২০৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৫৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি গারীব। মুহা্ম্মাদ ইবন বকর (রহঃ) এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
৩১৫৫. আবূ সাঈদ আশাজ্জ এবং আবূ মূসা মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ...... মুগীরা ইবন শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নাজরানের দিকে পাঠান। তারা আমাকে বলল, তোমরা কি কুরআনে এ বাক্য পড় না? (يَا أُخْتَ هَارُونَ) - অথচ মূসা ও ঈসার মাঝে কত কালের ব্যবধান? আমি তাদের এ প্রশ্নের কি উত্তর দিব জানতাম না। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফিরে এসে তাঁকে এ কথা জানালাম। তিনি বললেন, তাদের তুমি এ কথা বলতে পারলে না যে, তারা পূর্ববর্তী নবী ও নেককার লোকদের নামে তাদের নাম রাখত।
হাসান, মুখতাসার তুহফাতুল ওয়াদুদ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। ইবন ইদরীস (রহঃ)-এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
৩১৫৬. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেনঃ (وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ) এরপর বললেনঃ সাদা-কাল মিশ্রিত রক্তের এক মেঘরূপে মৃত্যুকে আনা হবে এবং তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝের প্রাচীরের উপর দাঁড় করান হবে। এরপর ডাকা হবে। হে জান্নাতবাসীগণ! তারা মাথা তুলে তাকাবে। আরো ডাকা হবে, হে জাহান্নামবাসীগণ! তারাও মাথা তুলে তাকাবে। বলা হবে, তোমরা কি চিন এটি কে? তারা বলবেঃ হ্যাঁ, এটি হল মৃত্যু।
অনন্তর এটিকে শুইয়ে যবেহ করা হবে। জান্নাতীদের জন্য যদি জীবন ও স্থায়িত্বের ফয়সালা আল্লাহর পক্ষ থেকে না থাকত তবে তারা আনন্দে মারা যেত। এমনি ভাবে জাহান্নামীদের জন্য যদি জীবনের ও তথায় স্থায়িত্বের পূর্ব ফয়সালা আল্লাহর পক্ষ থেকে না থাকত তবে তারা দুঃখে মারা যেত।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
জান্নাতীদের জন্য যদি জীবন ও স্থায়িত্বের ফয়সালা আল্লাহর পক্ষ থেকে না থাকত ... অংশ ব্যতীত হাদিসটি সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৫৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং ৩১৫৭সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، فِي قَوْلِهِ : (ورَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا ) قَالَ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَمَّا عُرِجَ بِي رَأَيْتُ إِدْرِيسَ فِي السَّمَاءِ الرَّابِعَةِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رَوَاهُ سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ وَهَمَّامٌ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ صَعْصَعَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدِيثَ الْمِعْرَاجِ بِطُولِهِ وَهَذَا عِنْدَنَا مُخْتَصَرٌ مِنْ ذَاكَ .
বর্ণনাকারী: কাতাদাহ (রহঃ)
৩১৫৭. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ...... কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণীঃ (ورَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا) প্রসঙ্গে বলেছেন যে, আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে যখন মি’রাজে নিয়ে যাওয়া হয় তখন চতুর্থ আকাশে ইদরীস (আঃ)-কে আমি দেখেছি।
সহীহ, মুসলিম ১/১০০ দীর্ঘ বর্ণনা, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৫৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয়ে আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। সাঈদ ইবন আবূ আরূরা, হাম্মাম প্রমুখ (রহঃ) কাতাদা-আনাস ইবন মালিক-মালিক ইবন সা’সাআ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মি’রাজের সুদীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এটি আমার কাছে ঐটির সংক্ষিপ্ত অংশ।
৩১৫৮. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীলকে বললেনঃ আপনি আমাদের কাছে যেভাবে সাক্ষাৎ করেন, তার চেয়ে বেশী সাক্ষাৎ করতে আপনাকে কিসে বাধা দিচ্ছে? রাবী বলেন, তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ
ومَا نَتَنَزَّلُ إِلاَّ بِأَمْرِ رَبِّكَ
সহীহ, বুখারি ৪৭৩১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৫৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-গারীব।
৩১৫৯. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... সুদ্দী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুররা হামদানী (রহঃ)-কে আল্লাহর বাণীঃ (وإِنْ مِنْكُمْ إِلاَّ وَارِدُهَا) জিজ্ঞেস করলাম করলম। তখন তিনি আমাকে বললেন, আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁদের এ হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল লোকই জাহান্নামের কাছে উপস্থিত হবে। তাঁদের প্রথম দল বিদুৎ চমকানোর ন্যায় পরের দল বাতাসের ন্যায়, পরের দল ঘোড়ার গতিতে, পরের দল উষ্ট্রারোহীর ন্যায় এর পরের দল মানুষের দৌড়ের ন্যায়, এর পরের দল পায়ে হাঁটার মত প্রস্থান করবে।
সহীহ, সহীহাহ ৩১১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান। শু’বা (রহঃ) এটি সুদ্দী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি মারফূরূপে বর্ণনা করেননি।
৩১৬০. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু (وإنْ مِنْكُمْ إِلاَّ وَارِدُهَا) - আয়াতটি প্রসঙ্গে বলেন, তারা তাতে উপস্থিত হবে এরপর তাদের আমল হিসাবে তারা প্রস্থান করবে।
সহীহ, মাওকুফ তবে মারফু এর মতই তার হুকুম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... সুদ্দী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, আমি শু’বা (রহঃ)-কে বললাম যে, ইসরাঈল (রহঃ) বলেন, আমি শু’বা (রহঃ)-কে বললাম যে, ইসরাঈল (রহঃ) আমাকে সুদ্দী-মুররা-আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। শু’বা (রহঃ) বললেনঃ আমি তো সুদ্দী থেকে এটি মারফূরূপে শুনেছি। তবে ইচ্ছা করেই তা সেরূপ বর্ণনা করা ছেড়ে দিয়েছি।
৩১৬১. কুতায়বা (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন তখন জিবরীলকে ডেকে বলেন, আমি অমুককে ভালবাসি। সুতরাং তুমিও তাকে ভালবাসবে। তারপর আসমানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর পৃথিবীবাসীদের মধ্যে তাঁর প্রতি মুহাববত নাযিল করা হয় এ বিষয়ই হল আল্লাহর বাণীঃ
إنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَنُ وُدًّا
আর তিনি যখন কোন বান্দাকে অপছন্দ করেন তখন জিবরীলকে ডেকে বলেন, আমি অমুককে ঘৃণা করি। তারপর আসমানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর পৃথিবীতে তার প্রতি ঘৃণার ফায়সালা নাযিল করে দেওয়া হয়।
সহীহ, যইফা ২২০৭ নং হাদিসের অধীনে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবদুর রহমান ইবন আব্দুল্লাহ্ ইবন দীনার তার পিতা আবদুল্লাহ্ ইবন দীনার আবূ সালিহ্-আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৩১৬২. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... খাব্বাব ইবন আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার একটি পাওনার ব্যপারে তাগাদা করার জন্য আস ইবন ওয়াইল সাহমীরের কাছে এলাম। সে বললঃ মুহাম্মদকে অস্বীকার না করা পর্যন্ত তোমাকে আমি তোমার পাওনা দিব না। আমি বললামঃ তুমি মরে গিয়ে আবার ওঠ, তবু আমি তা করব না। সে বললঃ আচ্ছা, তবে কি আমি মারা যাব এবং আবার যিন্দা হব? আমি বললামঃ হ্যাঁ। সে বললঃ অবশ্য সেখানেও আমার ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি থাকবে তখন তোমাকে তোমার পাওনা পরিশোধ করব। তখন নাযিল হয়ঃ
أَفَرَأَيْتَ الَّذِي كَفَرَ بِآيَاتِنَا وَقَالَ لَأُوتَيَنَّ مَالًا وَوَلَدًا
সহীহ, বুখারি ৪৭৩২, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৬২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হান্নাদ (রহঃ) ... আ’মাশ (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩১৬৩. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বার থেকে ফেরার পথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার রাতে সফর করছিলেন। শেষে তাঁর ঘুম পেয়ে বসল। তিনি উট থামিয়ে বিশ্রামের জন্য অবতরণ করলেন। এরপর বললেনঃ হে বিলাল, আজকের রাতে তুমি আমাদের পাহরাদারী করবে।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু (নফল) সালাত (নামায) আদায় করে পূর্ব আকাশমূখী হয়ে তার হাওদায় হেলান দিয়ে বসে রইলেন। এ সময় তাঁর দু’চোখে ঘুম প্রবল হয়ে আসে, এতে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। তাদের কেউ আর জাগলেন না। সর্বপ্রথম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগলেন। এবং তিনি বললেনঃ হে বিলাল! বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার পিতা আপনার উপর কুরবান। আপনাকে যা পেয়েছিল আমাকেও তা পেয়েছিল।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা উটগুলোকে হাঁকিয়ে নিয়ে চল। এরপর তিনি উট থামিয়ে নেমে উযূ করলেন এবং সালাতের ইকামত দিতে বললেন। পরে ধীর স্থিরভাবে ওয়াক্তের ভেতর যেমন সালাত (নামায) আদায় করেন তেমনিভাবে সালাত (নামায) আদায় করলেন। তারপর বললেনঃ
أقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِي
তুমি সালাত (নামায) কায়েম করবে আমার স্মরণে। [ত-হাঃ ১৪]
সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ৪৬১,৪৬৩, ইরওয়া ২৬৩, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৬৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি মাহফূজ নয় একাধিক হাফিযুল হাদীস রাবী এটি যুহরী-সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা এতে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উল্লেখ করেননি। সালিহ ইবন আবুল আখযারকে হাদীস বর্ণনায় যঈফ বলা হয়, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ কাত্তান প্রমুখ হাদীসবিদ স্মরণ শক্তির দিক থেকে তাকে যঈফ বলেছেন।
৩১৬৪. মুজাহিদ ইবন মূসা বাগদাদী এবং ফাযল ইবন সাহল আ’রাজ প্রমুখ (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে এসে বসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার গোলাম আছে। তারা আমার সাথে মিথ্যা বলে, আমার সাথে খেয়ানত করে। আমার নাফরমানী করে। আমি এদের গাল-মন্দ করি মারধর করি। সুতরাং তাদের বিষয়ে আমি কেমন?
তিনি বললেনঃ তোমার সঙ্গে তারা যে খেয়ানত করেছে, নাফরমানী করেছে ও মিথ্যা বলেছে আর তুমি এ সবের জন্য তাদের যে শাস্তি দিয়েছ তা হিসাব করা হবে। তোমার শাস্তি প্রদান যদি তাদের অপরাধের সম পরিমাণ হয়ে থাকে তবে তা বরাবর হয়ে গেল, তুমিও কিছু পাবে না এবং তোমার কিছু ক্ষতিও হবে না। আর তোমার শাস্তি যদি এদের অপরাধের চেয়ে কম পরিমাণের হয় তবে অতিরিক্ত তোমার পাওনা থাকবে। আর তোমার শাস্তি যদি তাদের অপরাধের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে তবে যা অতিরিক্ত হয়েছে, তোমার নিকট থেকে তার প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
রাবীগণ বলেনঃ লোকটি একপাশে সরে গিয়ে চীৎকার করে কাঁদতে লাগল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি আল্লাহর কিতাব পাঠ কর নাঃ
ونَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلاَ تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ
এবং কিয়ামত দিবসে আমি স্থাপন করব মানদন্ড, সুতরাং কারো প্রতি কোন অবিচার হবে না (২১ঃ ৪৭)।
লোকটি বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহুর কসম, এদের পৃথক করে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আমার ও তাদের জন্য অন্য কিছু পাচ্ছি না। আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি। এরা সব আযাদ।
হাদীসটি গারীব। আবদুর রহমান ইবন গাযওয়ান (রহঃ) এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) এ হাদীসটি আবদুর রহমান ইবন গাযওয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১৬৫. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ওয়ায়ল হল জাহান্নামের একটি উপত্যকা। এর তলদেশে পৌঁছার আগ পর্যন্ত কাফির চল্লিশ বছর নীচের দিকে যেতে থাকবে।
যঈফ, তা’লীকুর রাগীব ৪/২২৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৬৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি গারীব। ইবনে লাহীআ (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া মারফূরূপে এটি সম্পর্কে আমাদের কিছূ জানা নেই।
৩১৬৬. সাঈদ ইবন ইয়াহ্ইয়া ইবন সাঈদ উমাবী (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তিনটি বিষয় ব্যতীত কোন সময়ই অসত্য বলেন নি। একটি কথা হল (إنِّي سَقِيمٌ) আমি অসূস্থ। অথচ তিনি সেদিন অসুস্থ ছিলেন না। তাঁর স্ত্রী সিারাকে ভগ্নি বলে পরিচয় প্রদান এবং (তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের প্রশ্নের জওয়াবে) এ উক্তি (بلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَذَا) এ কান্ড এদের বড়টিই করেছে।
সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ১৯১৬, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩১৬৭. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নসীহত করতে দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে লোক সকল, তোমরা উলঙ্গ ও খাতনাহীন অবস্থায় আল্লাহর কাছে সমবেত হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেনঃ
كما بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا
শেষ পর্যন্ত আমি প্রথমে যেভাবে সৃষ্টি করেছি, সেরূপ তাকে প্রত্যাবর্তন করাব।
এরপর তিনি বলেন, ইবরাহীম (আঃ)-কে সর্বপ্রথম কাপড় পরানো হবে। আমার উম্মতের কিছু লোককে উপস্থিত করা হবে। তাদেরকে বাম দিকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব, আয় রব, এরা আমার সাথী। বলা হবেঃ আপনি জানেন না আপনার পরে এরা কি উদ্ভাবন করেছে। তখন আমি বলব, যে কথা আল্লাহর নেক বান্দা (ঈসা) বলেছিলেনঃ
وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ * إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ
আর যতদিন আমি তাঁদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি ছিলাম তাদের (কার্যকলাপের) সাক্ষী। কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে, তখন তুমিই তো ছিলে তাদের কার্যকলাপের তত্ত্বাবধায়ক এবং তুমি সকল বিষয়ের সাক্ষী। তুমি যদি তাঁদের শাস্তি দাও, তবে তারাতো তোমারই বান্দা। আর যদি তাদের ক্ষমা কর (তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়)। অর্থাৎ বলা হবেঃ আপনি এদের ছেড়ে আসার পর থেকেই তারা ছিল তাঁদের পশ্চাতের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) মুগীরা ইবন নু’মান (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ। সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ)-ও মুগীরা ইবন নু’মান (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৩১৬৮. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... ইমরান ইবন হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সফর অবস্থায় যখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ
يا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ
তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান এ দিন কোনটি?
সাহাবীরা রাদিয়াল্লাহু আনহুম বললেনঃ আল্লাহ্ এবং রাসূলই ভাল জানেন।
তিনি বললেনঃ এটি হবে সে দিন যে দিন আল্লাহ্ তা’আলা আদমকে বলবেন, জাহান্নামের দলটি পাঠাও। তিনি বলবেনঃ হে আমার রব, জাহান্নামের দলের সংখ্যা কি?
আল্লাহ্ বলবেনঃ (প্রতি হাজারে) নয়শত নিরানব্বই জন হল জাহান্নামের আর একজন হল জান্নাতের। তখন মুসলিমরা কাঁদতে শুরু করলেন।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা নিকটবর্তী হয়ে চলতে থাক এবং সঠিক পথে চল। প্রত্যেক নবুওয়াত-এর পূর্বেই এক একটি জাহিলী যুগ অতিক্রান্ত হয়েছে। জাহান্নামীদের এ সংখ্যা জাহেলীয়াতের যুগ থেকে নেওয়া হবে। যদি তাদের থেকে এ সংখ্যা পূরণ না হয়ে তবে তা মুনাফিকদের থেকে নিয়ে পূরণ করা হবে। তোমরা এবং অন্যান্য উম্মতের দৃষ্টান্ত হল, কোন পশুর হাঁটুর দাগের মত বা উটের পার্শ্বের তিলের মত।
এরপর তিনি বললেনঃ আমি আশা করি তোমরা হবে জান্নাতীদের চার ভাগের এক ভাগ।
সাহাবীরা (খুশীতে) বললেনঃ আল্লাহু আকবার! এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি আশা করি তোমরা হবে জান্নাতীদের তিন ভাগের একভাগ। তখন সাহাবীরা ’আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, জানি না তিনি দুই-তৃতীয়াংশের কথা বলেছিলেন কি না।
যঈফ, তা’লীকুর রাগীব ৪/২২৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমরান ইবন হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে।
৩১৬৯. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) .... ইমরান ইবন হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। চলতে চলতে সাহাবীরা একে অন্য থেকে দূরে পড়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চঃস্বরে এই আয়াত দু’টি তিলাওয়াত করলেন।
সাহাবীগণ এ আওয়াজ শুনে বাহনের গতি দ্রুত করে (তাঁর কাছে) এলেন। তাঁরা বুঝতে পারলেন যে, তিনি তাঁদের কোন কথা বলার সমীপরবর্তী। তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান সেটি কোন দিন? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।
তিনি বললেনঃ এ হল সেই দিন যেদিন আল্লাহ্ তা’আলা আদমকে ডাকবেন। আর তাঁর প্রভূ তাঁকে ডেকে বলবেনঃ হে আদম, জাহান্নামীদের পাঠাও।
আদম বলবেনঃ হে আমার রব, জাহান্নামীর সংখ্যা কি?
আল্লাহ্ বলবেনঃ প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন জাহান্নামের আর একজন হল জান্নাতের।
সবাই নিরাশ হয়ে গেলেন। এমনকি তাঁদের স্মিত হাসিও প্রকাশ পাচ্ছিল না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের এ অবস্থা দেখে বললেনঃ তোমরা আমল করে যাও আর সুসংবাদ লাভ কর। যে সত্তার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ সেই সত্তার কসম, তোমরা তো দুই ধরনের মাখলুকের মাঝে রয়েছ। এই দুই সৃষ্টি যার সাথেই থাকে তাকেই বাড়িয়ে দেয়। এরা হল ইয়াজুজ-মাজুজ এবং বানূ আদম ও বানূ ইবলীসের যারা মারা গিয়েছে। অনন্তর সাহাবীরা যে দুশ্চিন্তায় ছিলেন এর কতকটা তাতে বিদূরিত হয়।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমল কর আর সুসংবাদ লাভ কর। কসম সেই সত্তার যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! মানুষের মাঝে তোমরা হলে উটের পার্শ্বের তিলের মত বা কোন জন্তুর হাঁটুর দাগের মত।
সহীহ, বুখারি ৪৭৪১, মুসলিম ১/১৩৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং ৩১৭০যঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا سُمِّيَ الْبَيْتُ الْعَتِيقَ لأَنَّهُ لَمْ يَظْهَرْ عَلَيْهِ جَبَّارٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً .<br /> <br /> حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু-যুবায়র (রাঃ)
৩১৭০. মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল প্রমুখ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (বায়তুল্লাহকে) আল আতীক (মুক্তি) নামকরণ করা হয়েছে, কেননা, আল্লাহ্ তা’আলা এর উপর কোন পরাক্রমশালীকে কখনও বিজয়ী হতে দেননি।
যঈফ, যঈফা ৩২২২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৭০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। যুহরী (রহঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল রূপে বর্ণিত আছে। কুতায়বা (রহঃ)-যুহরী (রহঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
৩১৭১. সুফইয়ান ইবন ওয়াকী’ (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখন মক্কা থেকে বের করে দেওয়া হল তখন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, এরা (মুশরিকরা) তাদের নবীকে বের কের দিল তারা তো অবশ্যই ধ্বংস হবে। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেনঃ
أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ
আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি জানতাম যে, অচিরেই কাফিরদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম অবশ্যই হবে।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান। আবদুর রহমান ইবন মাহদী প্রমুখ (রহঃ) এটি সুফইয়ান-আ’মাশ-মুসলিম আল বাতীন-সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটির সনদে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রয়েছেন। তবে একাধিক রাবী সুফইয়ান-আ’মাশ-মুসলিম আল বাতীন-সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) সূত্রে এটি মুরসাল রূপেও বর্ণনা করেছেন। এতে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উল্লেখ নেই।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং ৩১৭২তাহকীক অপেক্ষমাণ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ لَمَّا أُخْرِجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَكَّةَ قَالَ رَجُلٌ أَخْرَجُوا نَبِيَّهُمْ فَنَزَلَتْ : ( أذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ * الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ بِغَيْرِ حَقٍّ ) النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ .
বর্ণনাকারী: সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
৩১৭২. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ..... সাঈদ ইবন জুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা থেকে বের করে দিল তখন একজন লোক বললঃ তাদের নবীকে বের করে দেয়া হয়েছে। তখন এই আয়াত নাযিল হলোঃ
أذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ * الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ بِغَيْرِ حَقٍّ
অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণকে অন্যায়ভাবে মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।
তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৭২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১৭৩. ইয়াহ্ইয়া ইবন মূসা ও আবদ ইবন হুমায়দ প্রমুখ (রহঃ) ...... উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর যখন ওহী নাযিল হত তখন আমরা তাঁর মুখের কাছে মৌমাছির আওয়াজের মত গুনগুন শব্দ শুনা যেত। একদিন তাঁর উপর ওহী নাযিল হল। আমরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তাঁর থেকে ওহী নাযিল হওয়ার অবস্থা অপসৃত হলে তিনি কিবলার দিকে ফিরলেন এবং দুই হাত তুলে বললেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আমাদের জন্য বর্ধিত কর এবং আমাদের জন্য কম করো না; আমাদের সম্মানিত কর, আমাদের হেয় করো না; আমাদের দান কর, আমাদের বঞ্চিত করো না; আমাদের প্রাধান্য দাও, আমাদের উপর কাউকে প্রাধান্য দিও না; আমাদের সন্তুষ্টি দান কর আর তুমিও আমাদের উপর সন্তুষ্ট থাক। এরপর তিনি বললেনঃ আমার উপর দশটি আয়াত নাযিল হয়েছে। যে এগুলো প্রতিষ্ঠা করবে সে জান্নাতে দাখিল হবে। তারপর তিনি পাঠ করলেনঃ (قدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ) এভাবে ক্রমান্বয়ে দশ আয়াত শেষ করলেন।
যঈফ, মিশকাত, তাহকিক ছানী ২৪৯৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৭৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
মহাম্মাদ ইবন আবান (রহঃ) ... যুহরী থেকে এ সনদে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এটি প্রথমোক্ত রিওয়ায়তটির তুলনায় অধিক সহীহ। ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, আহমদ ইবন হাম্বল, আলী ইবনুল মাদীনী এবং ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) এ হাদীসটি আবদুর রাযযাক-ইউনুস ইবন সুলায়ম-ইউনুস ইবন ইয়াযীদ-যুহরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবদুর রাযযাক (রহঃ) থেকে যারা পূর্বে এই হাদীসটি শুনেছেন তাঁরা এর সনদে ইউনুস ইবন ইয়াযীদ (রহঃ)-এর উল্লেখ করেছেন।
কেউ কেউ এতে ইউনুস ইবন ইযাযীদ (রহঃ)-এর উল্লেখ করেননি। যারা ইউনুস ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) এর উল্লেখ করেছেন, তাঁদের রিওয়ায়াতই অধিক সহীহ। আবদুর রাযযাক (রহঃ) কোন কোন সময় ইউনুস ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) এর উল্লেখ করেছেন আবার কোন কোন সময় তাঁর উল্লেখ করেননি।
হাদিস নং ৩১৭৪সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضى الله عنه أَنَّ الرُّبَيِّعَ بِنْتَ النَّضْرِ، أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ ابْنُهَا حَارِثَةُ بْنُ سُرَاقَةَ أُصِيبَ يَوْمَ بَدْرٍ أَصَابَهُ سَهْمٌ غَرَبٌ فَأَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ أَخْبِرْنِي عَنْ حَارِثَةَ لَئِنْ كَانَ أَصَابَ خَيْرًا احْتَسَبْتُ وَصَبَرْتُ وَإِنْ لَمْ يُصِبِ الْخَيْرَ اجْتَهَدْتُ فِي الدُّعَاءِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَا أُمَّ حَارِثَةَ إِنَّهَا جِنَانٌ فِي جَنَّةٍ وَإِنَّ ابْنَكِ أَصَابَ الْفِرْدَوْسَ الأَعْلَى وَالْفِرْدَوْسُ رَبْوَةُ الْجَنَّةِ وَأَوْسَطُهَا وَأَفْضَلُهَا " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৩১৭৪. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রুবায়্যি’ বিনত নাযর রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। তাঁর পূত্র হারিছা ইবন সুরাকা অজ্ঞাত আততায়ীর তীর লেগে বদরযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। রুবায়্যি’ রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ আমাকে হারিছার খবর বলুন। যদি তার মৃত্যু কল্যাণময় হয়ে থাকে তবে আমি ছওয়াবের আশায় থাকব এবং ছবর করব। আর যদি তার কল্যাণ লাভ না হয়ে থাকে তবে (তার জন্য) আপ্রাণ দু’আ করব।
তখন রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে হারিছার মা, জেনে রাখ, জান্নাতের মধ্যে বহু স্তর রয়েছে। আর তোমার ছেলে ফিরদাওস নামের জান্নাতের উচ্চ স্তরের অধিবাসী। ফিরদাওস হল জান্নাতের সর্বোচ্চ, সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান।
সহীহ, সহীহাহ ১৮১১,২০০৩, মুখতাসারুল ’উলুবি ৭৬, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৭৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং ৩১৭৫সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ وَهْبٍ الْهَمْدَانِيِّ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ هَذِهِ الآيَةِ : ( والَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ ) قَالَتْ عَائِشَةُ أَهُمُ الَّذِينَ يَشْرَبُونَ الْخَمْرَ وَيَسْرِقُونَ قَالَ " لاَ يَا بِنْتَ الصِّدِّيقِ وَلَكِنَّهُمُ الَّذِينَ يَصُومُونَ وَيُصَلُّونَ وَيَتَصَدَّقُونَ وَهُمْ يَخَافُونَ أَنْ لاَ يُقْبَلَ مِنْهُمْ أُولَئِكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَهُمْ لَهَا سَابِقُونَ " . قَالَ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৩১৭৫. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াতটি সম্পর্কে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলাম। (والَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ) ’’আর যারা দান করে এবং তাদের অন্তর ভীত কম্পিত।’’ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, এরা কি তারা যারা মদ পান করে এবং চুরি করে?
তিনি বললেনঃ না, হে সিদ্দীক তনয়া, বরং এরা হল ঐ সব লোক যারা সিয়াম পালন করে, সালাত (নামায) আদায় করে, সাদাকা দেয়। অথচ তাদের পক্ষ থেকে এ সব কবূল না হওয়ার আশংকা করে। এরাই তারা যারা কল্যাণের দিকে দ্রুত ধাবমান এবং তার দিকে অগ্রগামী।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৪১৯৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৭৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আবদুর রহমান ইবন সাঈদ-আবূ হাযিম-আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীসটি অনুরূপ বর্ণিত আছে।
৩১৭৭. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) .... আমর ইবন শুআয়ব তার পিতা তার পিতামহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মারছাদ ইবন আবূ মারছাদ নামে এক ব্যক্তি ছিল। সে বন্দীদের বহন করে মদীনায় নিয়ে আসত। রাবী বলেন, মক্কায় ছিল এক ব্যাভিচারিণী নারী। তার নাম ছিল ’আনাক। সে ছিল মারছাদের বান্ধবী। একবার মারছাদ মক্কার জনৈক বন্দীকে বহন করে নিয়ে যাওয়ার ওয়াদা করে।
মারছাদ বলেন, এক চাঁদনী রাতে আমি এলাম এবং মক্কার দেওয়ালসমূহের এক দেওয়ালের ছায়ায় এসে পৌঁছলাম। তখন আনাক এল এবং উক্ত দেওয়ালের পার্শ্বে আমার ছায়া আকৃতি দেখতে পেল। সে আমার নিকটবর্তী হয়ে আমাকে চিনতে পারল। তখন সে বলল, মারছাদ? আমি বললামঃ মারছাদ।
সে বললঃ শুভেচ্ছা, স্বীয় পরিজনের কাছে আসলে। এস, আমাদের কাছেই আজ রাত্রি যাপন করবে। সে বলল, আমি বললামঃ হে আনাক, আল্লাহ তা’আলা যিনা হারাম করে দিয়েছে।
সে তখন (চিৎকার করে) বলতে লাগল, হে খিমাবাসিগণ, এ লোকটি তোমাদের বন্দীদের বহন করে নিয়ে যায়।
তখন আটজন লোক আমাকে পশ্চাৎধাবন করে। আমি দৌড়ে খুন্দামা পাহাড়ে গেলাম, একটি গুহায় আত্মগোপন করলাম। এরা পেছনে পেছনে এসে আমার মাথার উপর দাঁড়িয়ে গেল। তারপর এরা পেশাব করলে আমার মাথায় তাদের পেশাব গিয়ে পড়তে লাগল কিন্তু আল্লাহ্ তা’আলা আমার থেকে তাদের অন্ধ করে রাখলেন, (তারা আমাকে দেখল না)। পরে তারা ফিরে গেল। তখন আমি আমার ওয়াদাকৃত লোকটির কাছে ফিরে এলাম এবং তাকে বহন করে নিয়ে চললাম। সে ছিল বেশ ভারী। তারপর ইযখীর ঘাসের জঙ্গলে পৌঁছে তার বেল্টগুলো খুলে দিলাম। অতিকষ্টে তাকে বয়ে নিতে লাগলাম। অবশেষে মদীনায় পৌঁছলাম। তারপর রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আনাককে বিয়ে করে নিব? কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব রইলেন। আমাকে কোন উত্তর দিলেন না। অবশেষে নাযিল হলঃ
الزَّانِي لاَ يَنْكِحُ إِلاَّ زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لاَ يَنْكِحُهَا إِلاَّ زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ وَحُرِّمَ ذَلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ
ব্যাভিচারী, ব্যাভিচারিণী বা মুশরিক নারীকে ছাড়া বিয়ে করে না এবং ব্যভিচারিণী - তাকে ব্যভিচারী বা মুশরিক ছাড়া কেউ বিয়ে করে না।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে মারছাদ, ব্যাভিচারী ব্যাভিচারিণী বা মুশরিক নারী ভিন্ন কাউকে বিয়ে করবে না আর ব্যাভিচারিণীও ব্যভিচারী বা মুশরিক ভিন্ন কাউকে বিয়ে করবে না। সুতরাং তুমি তাকে (আনাককে) বিয়ে করতে পার না।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-গারীব। এ সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৭৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১৭৮. হান্নাদ (রহঃ) ...... সাঈদ ইবন জুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুসআব ইবন যুবায়র (রহঃ)-এর আমীর থাকা কালে আমাকে লিআন কারীদ্বয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, এই দুই জনের মাঝে বিচ্ছেদ করে দেওয়া হবে কি না! কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম না, কি বলব, তখন আমি আমার বাসস্থান থেকে আবদুল্লাহ্ ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বাড়ি গেলাম এবং তাঁর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলাম, আমাকে বলা হল তিনি দুপুরের বিশ্রাম নিচ্ছেন। (ইতিমধ্যে) তিনি আমার কথা শুনতে পেয়ে বললেনঃ ইবন জুবায়র? ভিতরে এস, অবশ্য বিশেষ প্রয়োজনই তোমাকে নিয়ে এসেছে। ভিতরে প্রবেশ করে দেখি তিনি তাঁর হাওদার একটি ছাল বিছিয়ে শুয়ে আছেন। আমি বললামঃ হে আবূ আবদির রাহমান, লিআন কারী স্বামী-স্ত্রীকে পরস্পর বিচ্ছেদ করে দিতে হবে কি?
তিনি বললেনঃ সুবহানাল্লাহ্, হ্যাঁ। প্রথম এই বিষয়ে অমুকের পুত্র অমুক প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেছিলেন। ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আমাদের কেউ যদি তার স্ত্রীকে অশ্লীল কাজে লিপ্ত দেখে তবে সে কি করবে? যদি কিছু বলে, তবে তো তাকে সাংঘাতিক কথা বলতে হবে, আর যদি চুপ করে থাকে তবেও সাংঘাতিক এক বিষয়ে সে চুপ রইল।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ করে রইলেন। তাকে তিনি উত্তর দিলেন না। পরে সে প্রশ্নকর্তা আবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ যে বিষয়ে আপনাকে আমি প্রশ্ন করেছিলাম আমি নিজেই তাতে নিপতিত। তখন আল্লাহ্ তা’আলা সূরা নূর নাযিল করেনঃ
والَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিটিকে ডাকলেন এবং তাকে এই আয়াতগুলি তেলাওয়াত করে শুনালেন। তিনি তাঁকে নসীহত করলেন। উপদেশ দিলেন এবং অবহিত করলেন যে, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাবের তুলনায় সহজতর, তখন লোকটি বলল: না, কসম ঐ সত্তার যিনি সত্যসহ আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আমি এই মহিলা সম্পর্কে মিথ্যা বলিনি।
এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেয়েটির দিকে ফিরলেন, তাকে ওয়াজ করলেন, উপদেশ দিলেন এবং অবহিত করলেন যে, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাবের তুলনায় সহজতর। সে বললঃ না কসম ঐ সত্তার, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন! এই পুরুষ সত্য কথা বলে নি।
তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষটির থেকে লিআন শুরু করলেন। সে চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে এই কথার সাক্ষ্য দিল যে, সে সত্যবাদী। পঞ্চম বার বললঃ সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে যেন তার উপর আল্লাহর লা’নত হয়। অতঃপর মহিলাটির দিকে ফিরলেন। সেও চারবার আল্লাহর নামে কসম করে সাক্ষ্য দিল যে, পুরুষটি মিথ্যাবাদী। পঞ্চম বারে বলল, পুরুষটি যদি সত্যবাদী হয় তবে যেন তার উপর আল্লাহর গযব হয়। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দেন।
সহীহ, মুসলিম ২০৬, ২০৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৭৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে সাহল ইবন সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং ৩১৭৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدِيٍّ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ هِلاَلَ بْنَ أُمَيَّةَ، قَذَفَ امْرَأَتَهُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِشَرِيكِ بْنِ السَّحْمَاءِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْبِيِّنَةَ وَإِلاَّ حَدٌّ فِي ظَهْرِكَ " . قَالَ فَقَالَ هِلاَلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا رَأَى أَحَدُنَا رَجُلاً عَلَى امْرَأَتِهِ أَيَلْتَمِسُ الْبَيِّنَةَ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْبَيِّنَةَ وَإِلاَّ حَدٌّ فِي ظَهْرِكَ " . قَالَ فَقَالَ هِلاَلٌ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنِّي لَصَادِقٌ وَلَيَنْزِلَنَّ فِي أَمْرِي مَا يُبَرِّئُ ظَهْرِي مِنَ الْحَدِّ فَنَزَلَ : (والَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ ) فَقَرَأَ حَتَّى بَلَغَ : ( والْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ ) قَالَ فَانْصَرَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَرْسَلَ إِلَيْهِمَا فَجَاءَا فَقَامَ هِلاَلُ بْنُ أُمَيَّةَ فَشَهِدَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْكُمَا تَائِبٌ " . ثُمَّ قَامَتْ فَشَهِدَتْ فَلَمَّا كَانَتْ عِنْدَ الْخَامِسَةِ : ( أنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ ) قَالُوا لَهَا إِنَّهَا مُوجِبَةٌ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَتَلَكَّأَتْ وَنَكَسَتْ حَتَّى ظَنَنَّا أَنْ سَتَرْجِعُ فَقَالَتْ لاَ أَفْضَحُ قَوْمِي سَائِرَ الْيَوْمِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَبْصِرُوهَا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَكْحَلَ الْعَيْنَيْنِ سَابِغَ الأَلْيَتَيْنِ خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ فَهُوَ لِشَرِيكِ بْنِ السَّحْمَاءِ " . فَجَاءَتْ بِهِ كَذَلِكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَوْلاَ مَا مَضَى مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لَكَانَ لَنَا وَلَهَا شَأْنٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ وَهَكَذَا رَوَى عَبَّادُ بْنُ مَنْصُورٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَرَوَاهُ أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ مُرْسَلاً وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৩১৭৯. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হিলাল ইবন উমাইয়া তাঁর স্ত্রীকে শারীক ইবন সাহমার সঙ্গে জড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যিনার অপবাদ দেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সাক্ষী পেশ কর। নইলে তোমার পিঠে হদ প্রয়োগ করা হবে।
হিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কেউ যদি তার স্ত্রীর উপর কোন ব্যক্তিকে আপতিত দেখতে পায় তবে কি সে সাক্ষী তালাশ করতে যায়? কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলতে লাগলেনঃ সাক্ষী আন। নইলে তোমার পিঠে হদ প্রয়োগ করা হবে।
হিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ কসম সেই সত্তার যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন। আমি অবশ্যই সত্যবাদী। আমার এই বিষয়ে অবশ্যই আল্লাহ্ তা’আলা এমন কিছু নাযিল করবেন যদ্বারা হদ প্রয়োগ থেকে আমার পিঠ বেঁচে যাবে। অনন্তর আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ
والَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের দুই জনকে ডেকে নিয়ে আসলেন। হিলাল ইবন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা জানেন তোমাদের একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী। সুতরাং তোমাদের মাঝে তওবা করার কেউ আছে কি?
এরপর মেয়েটি দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দেয়। পঞ্চম বারে যখন ’’পুরুষটি যদি সত্যবাদী হয় তবে তার (মেয়েটির) উপর আল্লাহর গযব আপতিত হোক’’, বলার সময় এল তখন উপস্থিত লোকেরা বললঃ এ গযব অবশ্যম্ভাবী হবে।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ মেয়েটি তখন থেমে গেল এবং মাথা নীচু করে ফেলল। এমন কি আমাদের ধারণা হয় যে, সে বুঝি তার কথা প্রত্যাহার করবে। এরপর সে বললঃ আমি আমার কওমকে সকল সময়ের জন্য বেইজ্জত করতে পারি না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মেয়েটিকে লক্ষ্য কর। সে যদি সুরমা টানা দু’চোখ, ভারি নিতম্ব এবং সুস্পষ্ট জংঘা বিশিষ্ট বাচ্চা প্রসব করে তবে শারীক ইবন সাহমার। শেষে মেয়েটি এই ধরণের বাচ্চা প্রসব করে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই বিষয়ে কিতাবুল্লাহর বিধান যদি আগে থেকেই না থাকত তবে এই মেয়েটির ক্ষেত্রে আমাদের একটা দৃষ্টান্তমূলক বিষয় ঘটত।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২০৬৭, বুখারি ৪৭৪৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৭৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। আব্বাস ইবন মানসূর (রহঃ) এই হাদীসটি ইকরিমা-ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ রিওয়ায়ত করেছেন। আয়্যূব (রহঃ) এটি ইকরিমা (রহঃ) থেকে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর উল্লেখ করেননি।
৩১৮১. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার উযর নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে দাঁড়ালেন, এই কথার উল্লেখ করলেন এবং কুরআন তিলাওয়াত করলেন। আয়াত নাযিল হওয়ার পর দুইজন পুরুষ, একজন মহিলাকে (অপবাদ রটনার জন্য) হদ প্রয়োগের নির্দেশ দিলেন। তারপর তাদের হদ মারা হয়।
হাসান, ইবনু মাজাহ ২৫৬৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৮১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক (রহঃ) এর রিওয়ায়ত ছাড়া এই সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
৩১৮২. বুন্দার (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সবচেয়ে বড় গুনাহ্ কোনটি?
তিনি বললেনঃ আল্লাহর শরীক নির্ধারণ করা, অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।
আমি বললামঃ এরপর কোনটি?
তিনি বললেনঃ সন্তান হত্যা করা, এ আশংকায় যে, সে তোমার সঙ্গে খাবে।
আমি বললামঃ এরপর কোনটি?
তিনি বললেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যাভিচারে লিপ্ত হওয়া।
সহীহ, ইরওয়া ২৩৩৭, সহিহ আবু দাউদ ২০০০, বুখারি ৪৭৬১, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৮২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীসটি হাসান। বুন্দার (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩১৮৩. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলামঃ সবচেয়ে বড় গুনাহ্ কোনটি?
তিনি বললেনঃ আল্লাহর সঙ্গে শরীক নির্ধারণ করা, অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। তোমার খাদ্য থেকে তোমার সঙ্গে খাবে এই ভয়ে তোমার সন্তান হত্যা করা আর প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করা। এরপর তিনি এই আয়াতটি তিলওয়াত করেনঃ
والَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَلاَ يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا * يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৮৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
সুফইয়ান-মানসূর ও আ’মাশ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়তটি শু’বা-ওয়াসিল (রহঃ) এর রিওয়ায়তটির তুলনায় অধিক সহীহ। কেননা সুফইয়ান (রহঃ) এর সনদে একজনের (আমর ইবন শুরাহবীল) অতিরিক্ত উল্লেখ আছে। মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু সত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। শু’বা (রহঃ) এটি ওয়াসিল-আবূ ওয়াইল-আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এইরূপ রিওয়ায়ত করেছেন। এতে আমার ইবন শুরাহবীলের উল্লেখ করেননি।
৩১৮৪. আবুল আশআছ আহমদ ইবনুল মিকদাম আল-আজালী (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (وأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ) আয়াতটি নাযিল হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবদুল মুত্তালিব কন্যা সাফিয়্যা, হে মুহাম্মাদ কন্যা ফাতিমা, হে বানূ আবদুল মুত্তালিব, আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কিছুই অধিকার রাখি না। আমার সম্পদ থেকে তোমার যা ইচ্ছা চাইতে পার।
সহীহ, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৮৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। ওয়াকী (রহঃ) প্রমুখ এই হাদীসটি হিশাম ইবন উরওয়া-তার পিতা উরওয়া-আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান তুফাবী-এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কোন কোন রাবী এটি হিশাম ইবন উরওয়া-তার পিতা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল রূপে বর্ণিত আছে। এতে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর উল্লেখ নেই। এই বিষয়ে আলী ও ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
৩১৮৫. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (وأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ)-আয়াতটি নাযিল হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের সম্ভ্রান্ত ও সাধারণ সকলকে একত্রিত করলেন। তারপর বললেনঃ হে কুরাইশ সম্প্রদায়, তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর। আমি তো আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য কোন লাভ-ক্ষতির অধিকারী নই। হে বানূ আবদ মানাফ, তোমরা তোমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর। আমি তা তোমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন লাভ-ক্ষতির মালিক নই। হে বানূ কুসাই, তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা। কেননা, আমি তেমাদের লাভ বা ক্ষতি করার মালিক নই। হে বানু আবদুল মুত্তালিব, তোমরা নিজেদের জাহান্নামের অগ্নি থেকে রক্ষা কর, কেননা আমি তোমাদের লাভ বা ক্ষতি করার মালিক নই। হে মুহাম্মাদ কন্যা ফাতিমা, তুমি তোমাকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে রক্ষা কর, কেননা আমি তো তোমার কোন লাভ বা ক্ষতি করার মালিক নই। তোমার সঙ্গে আমার আত্মীয়তা আছে এর আর্দ্রতায় তা সিক্ত রাখব (এর হক আদায় করব।)।
সহীহ, মুসলিম ১/১৩৩, বুখারি ৪৭৭১ সংক্ষেপিত, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৮৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান সহীহ; এই সূত্রে গারীব। আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত মর্মে বর্ণিত আছে।
৩১৮৬. আবদুল্লাহ্ ইবন আবী যিয়াদা (রহঃ) ..... আল আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (وأنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ) আয়াতটি নাযিল হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুই আঙ্গুল দুই কানে দিলেন এবং উচ্চস্বরে ডাকলেনঃ হে বানী আবদ মানাফ, সর্বনাশা সকাল সমুপস্থিত।
হাসান সহীহ, বুখারি ৪৮০১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৮৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি আবূ মূসা (আশয়ারী)-এর রিওয়ায়ত হিসাবে গারীব। কোন কোন রাবী এটি আওফ ... কাসামা ইবন যুহায়র (রহঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন। এটি অধিকতর সহীহ। এতে তারা আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উল্লেখ করেননি।
৩১৮৭. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ....... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাববার আবির্ভাব হবে আর তার সাথে থাকবে সুলায়মান (আঃ)-এর আংটি দিয়ে কাফিরের নাকে মোহর অংকিত করে দিবে। এমনকি এক খাদ্যের খাঞ্চায় যখন তারা একত্রিত হবে তখন একজন বলতে পারবে যে, এ মুমিন আর সে কাফির।
যঈফ, যঈফা ১১০৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৮৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান। ’দাব্বাতুল আরদ’ সম্পর্কে এই হাদীসটি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অন্যরূপও বর্ণিত আছে। এই বিষয়ে আবূ উমামা এবং হুযায়ফা ইবন উসায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
৩১৮৮. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা (আবূ তালিব) কে বলেছিলেন, আপনি বলুন, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই আমি কিয়ামতের দিন আপনার পক্ষে সাক্ষী দিব। তিনি বললেনঃ কুরায়শরা যদি আমাকে এই লজ্জা না দিত যে, অধৈর্য ও ভয়ই তাকে তা করতে উৎসাহিত করেছে তবে আমি (ঈমান এনে) তোমার চক্ষু শীতল করতাম। আল্লাহ্ তা’আলা তখন নাযিল করেনঃ
إنَّكَ لاَ تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ
সহীহ, মুসলিম ১/১৪১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৮৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। ইয়াযীদ ইবন কায়সান (রহঃ) এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
৩১৮৯. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ...... সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বিষয়ে চারটি আয়াত নাযিল হয়েছে। এরপর তিনি সেই ঘটনার বিবরণ দিলেন। সা’দ (ঈমান গ্রহণ করলে) সা’দের মা তাঁকে বলেছিলেনঃ আল্লাহ্ কি মার সঙ্গে সদাচারণের নির্দেষ দেননি? আল্লাহর কসম, আমি কোন খাদ্য গ্রহণ করব না এবং পানিও পান করব না, যতক্ষণ আমি মারা না যাই অথবা তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অস্বীকার না কর। রাবী বলেন, লোকেরা তাকে যখন খাওয়াতে ইচ্ছা করত তার মুখ কাফি দিয়ে ফাঁক করত। এই প্রসঙ্গে নাযিল হয়ঃ
ووَصَّيْنَا الإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا
’’আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তার মা-বাপের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে: তবে এরা যদি তোমার উপর বল প্রয়োগ করে, আমার প্রতি এমন কিছু শরীক করতে। (আয়াত নং ৮)।
সহীহ, মুসলিম ৭/১২৫, ১২৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৮৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩১৯১. নাসর ইবন আলী জাহযামী (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের সময় যখন রোম পারস্যের উপর জয়লাভ করে তখন তা মু’মিনদের খুব আনন্দিত করে। এই প্রসঙ্গে নাযিল হয়ঃ
الم* غُلِبَتِ الرُّومُ
অর্থাৎ পারস্যের উপর রোমের বিজয় মু’মিনদের আনন্দিত করে।
পরবর্তী হাদীসের সহায়তায় সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৯২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি এই সূত্রে গারীব। নাসর ইবন আলী (রহঃ) (غَلَبَتِ الرُّومُ) পাঠ করেছেন।
৩১৯২. হুসায়ন ইবন হুরায়ছ (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে (الم * غُلِبَتِ الرُّومُ * فِي أَدْنَى الأَرْضِ) প্রসঙ্গে বলেছেনঃغَلِبَتْ এবংغُلِبَتْ উভয় পাঠই রয়েছে। তিনি বলেন, মুশরিকরা রোমকদের উপর পারসিকদের বিজয় পছন্দ করতো। কেননা ওরা এবং এরা ছিল মূর্তি পূজারী। আর মুসলিমরা ভালবাসত পারস্যের উপর রোমের বিজয়। কেননা রোমকরা ছিল কিতাবী সম্প্রদায়। তারা আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে এই কথা আলোচনা করে। এরপর আবূ আবূ বকর তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উল্লেখ করেন। তখন তিনি বললেনঃ শুনে রাখ, রোমবাসী অবশ্যই অচিরেই জয়লাভ করবে।
আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন তাদের এই কথা বলেন, তারা বলল, আমাদের এবং তোমার মাঝে এর একটা মেয়াদ নির্ধারণ কর। আমরা যদি জয়ী হই তবে আমাদের হবে অমুক অমুক জিনিস আর তোমরা জয়ী হলে তোমাদের হবে অমুক অমুক জিনিস। তিনি পাঁচ বছরের মেয়াদ নির্ধারণ করেন। কিন্তু এই সময়ে তাদের বিজয় হয়নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বিষয়টি আলোচনা করা হলে তিনি বললেনঃ তুমি কেন এর চাইতে বেশী মেয়াদ নির্ধারণ করলে না?
সাঈদ (রহঃ) বলেনঃ (الم * غُلِبَتِ الرُّومُ) হল দশ বছর থেকে কম। পরবর্তীতে রোমকরা বিজয় লাভ করে। এ প্রসঙ্গে হল আল্লাহর এই বাণীঃ (يفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ * بِنَصْرِ اللَّهِ يَنْصُرُ مَنْ يَشَاءُ)
সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, আমি শুনেছি যে, বদর যুদ্ধের দিন রোমকরা পারস্যের উপর বিজয় লাভ করে।
হাদীসটি হাসান-সাহীন-গারীব। সুফইয়ান ছাওরী-হাবীব ইবন আবূ আমরা সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়ত হিসাবেই এটিকে আমরা জানি।
সহীহ, যাইফা ২২৫৪ নং হাদীসের অধীনে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৯৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১৯৪. মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ...... নিয়ার ইবন মুকাররাম আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ
الم * غُلِبَتِ الرُّومُ * فِي أَدْنَى الأَرْضِ وَهُمْ مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ * فِي بِضْعِ سِنِينَ
আয়াতগুলো নাযিল হওয়ার সময় পারসিকরা রোমকদের উপর বিজয়ী ছিল আর মুসলিমরা তাদের উপর রোমকদের বিজয় ভালবাসতেন। কেননা মুসলিমরা আর এরা উভয়েই ছিলেন আহলে কিতাব। এই প্রসঙ্গে ছিল আল্লাহ্ তা’আলার এই বাণীঃ
يوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ * بِنَصْرِ اللَّهِ يَنْصُرُ مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
আর কুরায়শরা ভালবাসত পারসিকদের বিজয়। কেননা এরা উভয়ই আহলে কিতাব ছিল না এবং (মৃত্যুর পর) উত্থানে বিশ্বাসী ছিল না।
যা হোক, আল্লাহ্ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করার পর আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু মক্কার গলিতে গলিতে বের হয়ে পড়েছিলেন এবং চিৎকার করে পাঠ করছিলেনঃ
الم * غُلِبَتِ الرُّومُ * فِي أَدْنَى الأَرْضِ وَهُمْ مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ * فِي بِضْعِ سِنِينَ
কুরায়শদের কতক লোক তখন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলল, এ হল আমাদের এবং তোমাদের একটি বিষয়। তোমার নবী তো বলে থাকে যে, কয়েক বছরের মধ্যেই রোম পারস্যের উপর বিজয়ী হবে। আমরা এই বিষয়ে কি একটা বাজি ধরতে পারি না? আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ অবশ্যই।
তখনও ইসলামে বাজি নিষিদ্ধ হয়নি! আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও মুশরিকগণ পরস্পর বাজি ধরলেন। কুরায়শরা আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলল, মেয়াদ কতদিন নির্ধারণ করবে? বিদআبِضْعِ سِنِينَ শব্দটি তিন থেকে নয় বছর বুঝায় সুতরাং আমাদের এবং তোমার ক্ষেত্রে মাঝামাঝি একটি সময় নির্ধারণ করে নাও, যে সময়ে গিয়ে মেয়াদ শেষ হবে।
অনন্তর তারা ছয় বছর সময় নির্ধারণ করেন। কিন্তু ছয় বছর অতিবাহিত হয়ে গেল এ দিকে রোমকদের বিজয় ঘটল না। মুশরিকরা আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর স্থিরীকৃত বাজির বস্তটি নিয়ে নিল। সপ্তম বছরে রোমকরা পারসিকদের উপর বিজয় লাভ করে। তখন মুসলিমরা ছয় বছর সময় নির্ধারণের কারণে আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে দোষারোপ করেন। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা তো এই বিষয়ে (তিন থেকে নয় বছর সময়) বলেছিলেন। নিয়ার ইবন মুকাররাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এই সময় বহু লোক ইসলাম গ্রহণ করে।
হাসান, যঈফা ৩৩৫৪ নং হাদিসের অধীনে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৯৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। আবদুর রহমান ইবন আবূ যিনাদ (রহঃ) এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
৩১৯৫. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা গায়িকা দাসীর ক্রয়-বিক্রয় করবে না, তাদের গানের তালীম দিবে না, এদের ব্যবসায়ে কোন মঙ্গল নেই, এদের বিনিময় মূল্য হারাম। এদের বিষয়ে এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
ومِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অসার বাক্য কিনে নেয়। [লুকমানঃ ৬]
হাদীসটি গারীব। এটি কাসিম ... আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রেই বর্ণিত। কাসিম ছিকাহ বা আস্থাযোগ্য কিন্তু আলী ইবন ইয়াযীদ হাদীস রিওয়ায়তের ক্ষেত্রে যঈফ। মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল বুখারী (রহঃ) এই কথা বলেছেন।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৯৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩১৯৬. আবদুল্লাহ্ ইবন আবূ যিয়াদ (রহঃ) .... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেঃ (تتَجَافَى، جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ) তারা শয্যা ত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ডাকে আশায় ও আশংকায়। আয়াতটি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, এটি আতামা (ইশা) নামক সালাতের অপেক্ষায় জেগে থাকা সম্পর্কে নাযিল হয়।
সহীহ, তা’লীকুর রাগীব ১/১৬০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৯৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছূ জানা নেই।
৩১৯৭. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন কিছূ তৈরি করে রেখেছি যা কোন চক্ষু প্রত্যক্ষ করেনি, কোন কান শ্রবণ করেনি, কোন মানুষের মনে এর কল্পনাও আসেনি। আল্লাহর কিতাবে এই বিষয়টির সমর্থন বিদ্যমানঃ
فلاَ تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
সহীহ, রাওযুন নাযীর ১১০৬, বুখারি ৪৭৭৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৯৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩১৯৮. ইবন আবী উমর (রহঃ) ...... শা’বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মুগীরা ইবন শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মিম্বরের উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সম্পর্কিত করে বলতে শুনেছি যে, একবার মূসা (আঃ) তাঁর রবকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে আমার রব, সবচাইতে নিম্ন দরজার জান্নাতী কে? তিনি বললেনঃ জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশের পর সবার শেষে এক লোক আসবে। তাকে বলা হবে, প্রবেশ কর। সে বলবেঃ কেমন করে আমি প্রবেশ করব, সবাই তো তাদের নিজ নিজ মনযিলসমূহে অবস্থান নিয়ে নিয়েছে এবং তাদের যা অধিকার করার তা অধিকার করে নিয়েছে।
তখন তাকে বলা হবে। দুনিয়ার সম্রাটদের মধে এক সম্রাটের যা ছিল সেই পরিমাণ (অর্থবৈভব) তোমার হলে কি তুমি সন্তুষ্ট হবে?
সে বলবেঃ অবশ্যই হে আমার রব, আমি তো সন্তুষ্ট।
তাকে বলা হবেঃ তোমাকে তা দেওয়া হল এবং দেওয়া হল এর অনুরূপ, এর অনুরূপ এর অনুরূপ আরো।
সে বলবেঃ আমি তো সন্তুষ্ট, হে আমার রব।
তাকে বলা হবে তোমাকে তা দেওয়া হল এবং অনুরূপ আরো দশগুণ দেওয়া হল।
সে বলবেঃ হে আমার রব, আমি সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম।
তাকে বলা হবেঃ তোমাকে সে সঙ্গে সেই সব কিছু দেওয়া হল যা তোমার মন চায় এবং তোমার চোখ আস্বাদ পায় (আনন্দিত হয়)।
সহীহ, মুসলিম ৬/৪৫-৪৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৯৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। কোন কোন রাবী এই হাদীসটি শা’বী ... মুগীরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মারফু’ করেননি, তবে মারফু’ রিওয়ায়তটিই অধিক সহীহ।
৩১৯৯. আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ...... কাবূস ইবন আবূ যাবইয়ান তার পিতা আবূ যাবইয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললামঃ (ما جَعَلَ اللَّهُ لِرَجُلٍ مِنْ قَلْبَيْنِ فِي جَوْفِهِ) আয়াতটি আপনি লক্ষ্য করেছেন? এর মর্ম কি?
তিনি বললেনঃ একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায) আদায় করতে দাঁড়ালেন। সালাতে তাঁর একবার দ্বিধার উদ্রেক হয়। তখন তাঁর সঙ্গে সালাত (নামায) রত মুনাফিকরা বলল, তোমরা দেখেছ? তাঁর তো হৃদয় দু’টি। একটি হল তোমাদের সাথে আর একটি হল ওদের সাথে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ নাযিল করেনঃ (ما جَعَلَ اللَّهُ لِرَجُلٍ مِنْ قَلْبَيْنِ فِي جَوْفِهِ) - আল্লাহ্ কোন মানুষের অভ্যান্তরে দু’টি হৃদয় সৃষ্টি করেননি।
আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) যুহায়র (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৯৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং ৩২০০সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ عَمِّي أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ سُمِّيتُ بِهِ لَمْ يَشْهَدْ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَبُرَ عَلَيْهِ فَقَالَ أَوَّلُ مَشْهَدٍ شَهِدَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غِبْتُ عَنْهُ أَمَا وَاللَّهِ لَئِنْ أَرَانِيَ اللَّهُ مَشْهَدًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَرَيَنَّ اللَّهُ مَا أَصْنَعُ . قَالَ فَهَابَ أَنْ يَقُولَ غَيْرَهَا فَشَهِدَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ مِنَ الْعَامِ الْقَابِلِ فَاسْتَقْبَلَهُ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فَقَالَ يَا أَبَا عَمْرٍو أَيْنَ قَالَ وَاهًا لِرِيحِ الْجَنَّةِ أَجِدُهَا دُونَ أُحُدٍ فَقَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ فَوُجِدَ فِي جَسَدِهِ بِضْعٌ وَثَمَانُونَ مِنْ بَيْنِ ضَرْبَةٍ وَطَعْنَةٍ وَرَمْيَةٍ فَقَالَتْ عَمَّتِي الرُّبَيِّعُ بِنْتُ النَّضْرِ فَمَا عَرَفْتُ أَخِي إِلاَّ بِبَنَانِهِ . وَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةَُ : (رجالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلاً ) . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৩২০০. আহমদ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার চাচা আনাস ইবন নাযর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নামেই আমার নাম আনাস রাখা হয়েছিল। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বদরে হাযির থাকতে পারেন নি। এটা তাঁর কাছে খুবই গুরুতর বলে মনে হল। তিনি বললেনঃ প্রথম যে যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাযির হলেন তা থেকে আমি অনুপস্থিত থাকলাম, আল্লাহর কসম, তিনি যদি আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কোন যুদ্ধে শরীক হওয়ার তওফীক দেন তবে আমি কি করব, তা অবশ্যই আল্লাহ্ কে প্রদর্শন করব। তিনি এর বেশী অন্য কিছু বলতে ভয় পেলেন। পরবর্তী বছর তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে উহুদ যুদ্ধে শরীক হন। সা’দ ইবন মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সামনা-সামনি সাক্ষাৎ হলে সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হে আবূ আমর, কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেনঃ বাহ, উহুদের পাশ থেকে আমি জান্নাতের সুগদ্ধি পাচ্ছি।
এরপর তিনি লড়াই করতে করতে শহীদ হয়ে গেলেন তাঁর শরীরে আশিরও অধিক তরবারী, বর্শা ও তীরের আঘাত পাওয়া যায়। আমার ফুফু রুবায়’ বিনতে নাযর বলেন, আমার ভাইকে কেবল আঙ্গুলের মাথাগুলো দ্বারাই চিনতে পেরেছিলাম। এ প্রসঙ্গেই এই আয়াতটি নাযিল হয়ঃ
رجالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلاً
(মু’মিনদের মধ্যে) কতক আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ শাহাদাত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করেনি। (আহযাব ২৩)।
সহীহ, মুসলিম ৬/৪৫-৪৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২০০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২০১. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) .... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন তাঁর চাচা বদর যুদ্ধে উপস্থিত হতে পারেন নি। তাই তিনি বলেছিলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম যে যুদ্ধ করলেন তা থেকে ই আমি অনুপস্থিত রইলাম। আল্লাহ্ তা’আলা যদি মুশরিকদের বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধে হাযির হওযার হওয়ার সুযোগ দেন তবে আল্লাহ্ তা’আলা অবশ্যই দেখবেন, আমি কি করি।
উহুদ যুদ্ধের দিন মুসলিমরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্! এরা অর্থাৎ মুশরিকরা যা করেছে, তা থেকে আমি তোমার কাছে আমার সম্পর্কহীনতা এবং এতদবিষয়ে অসন্তুষ্টি ঘোষণা করছি আর এরা অর্থাৎ সাহাবীরা যা করেছে সে বিষয়ে তোমার কাছে ওযরখাহী করছি। এরপর তিনি সামনে অগ্রসর হলে সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। তখন সা’দ তাঁকে বললেনঃ হে আমার ভাই, আপনার সঙ্গে থেকে আমি আর কতটুকু করতে পারি!
সা’দ আরো বলেন, তিনি যা করেছেন আমি তা করতে পারিনি। তাঁর শরীরে তলোয়ার বর্শা ও তীরের আঘাত মিলিয়ে আমিরও অধিক যখম তিনি পান। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা বলতাম, তাঁর এবং তাঁর সঙ্গীদের সম্পর্কেই এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিলঃ (فمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ)।
সহীহ, বুখারি ২৮০৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২০১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চাচার নাম আনাস ইবন নাযর রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৩২০২. আবদুল কুদ্দুস ইবন মুহাম্মাদ কাততান বাসরী (রহঃ) ... মূসা ইবন তালহা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে গেলাম। তিনি আমাকে বললেনঃ আমি কি তোমাকে একটা সুসংবাদ দিব? আমি বললামঃ অবশ্যই। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এর মাঝে তালহাও একজন।
হাসান, ইবনু মাজাহ ১২৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২০২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি গারীব। এই সুত্র ছাড়া মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত রিওয়ায়ত হিসাবে এটি সম্পর্কে আমাদের কিছুই জানা ডনই। মূসা ইবন তালহা-তার পিতা তালহা (রহঃ) সুত্রে এটি বর্ণিত আছে।
হাদিস নং ৩২০৩হাসান
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ مُوسَى، وَعِيسَى، ابْنَىْ طَلْحَةَ عَنْ أَبِيهِمَا، طَلْحَةَ أَنَّ أَصْحَابَ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالُوا لأَعْرَابِيٍّ جَاهِلٍ سَلْهُ عَمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ مَنْ هُوَ وَكَانُوا لاَ يَجْتَرِئُونَ عَلَى مَسْأَلَتِهِ يُوَقِّرُونَهُ وَيَهَابُونَهُ فَسَأَلَهُ الأَعْرَابِيُّ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ إِنِّي اطَّلَعْتُ مِنْ بَابِ الْمَسْجِدِ وَعَلَىَّ ثِيَابٌ خُضْرٌ فَلَمَّا رَآنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيْنَ السَّائِلُ عَمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ " . قَالَ الأَعْرَابِيُّ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا مِمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ يُونُسَ بْنِ بُكَيْرٍ .
বর্ণনাকারী: মূসা ইবনু তালহা (রাঃ)
৩২০৩. আবূ কুরায়ব (রহঃ) ...... তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ একবার জনৈক মূর্খ মরুবাসী আরবকে عَمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ কোন জন - এই সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করতে বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি তাঁদের সম্ভ্রমপূর্ণ ভীতির কারণে তাঁরা নিজেরা এই বিষয়ে প্রশ্ন করতে সাহস পাচ্ছিলেন না। ঐ মরুবাসী আরব তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। কিন্তু তিনি তা উপেক্ষা করলেন। পরে আবার জিজ্ঞাসা করলেও তিনি তা উপেক্ষা করলেন। পুনরায় এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তখনও তা উপেক্ষা করলেন। কিছু পরে আমি মসজিদে নববীর দরজায় এসে হাযির হলাম। আমার গায়ে ছিল সবুজ পোষাক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখে বললেনঃعَمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ প্রসঙ্গে প্রশ্নকর্তা কোথায়? মরুবাসী আরবী বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ আমি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ (তালহা) হল عَمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ এর একজন।
হাসান সহীহ, সহীহাহ ১/৩৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২০৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। ইউনুস ইবন বুকায়র (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
৩২০৪. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর স্ত্রীগণকে (তাকে গ্রহণ করার বা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার) ইখতিয়ার প্রদান করতে নির্দেশিত হলেন তখন তিনি আমার থেকে প্রথম শুরু করেন। তিনি বললেনঃ হে আইশা, তোমাকে আমি একটি বিষয়ের কথা বলতে যাচ্ছি, তুমি তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে এই বিষয়ে কোন তাড়াহুড়া করবে না।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তিনি নিশ্চিত জানতেন যে, আমার পিতা-মাতা তাঁকে পরিত্যাগ করতে আমাকে পরামর্শ দিবেন না। যা হোক এরপর তিনি (নবীজী) বললেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করছেনঃ
يا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ حَتَّى بَلَغَ : للْمُحْسِنَاتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا
হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীগণকে বল, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও ...... মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।
আমি বললামঃ কি বিষয়ে আমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ করব? আমি তো আল্লাহ্, তাঁর রাসূল এবং আখিরাতেরই কামনা করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণ সকলেই এরূপ করলেন, যেমন আমি করেছি। (অর্থাৎ সেরূপ জবাব দিলেন)।
সহীহ, বুখারি ৪৭৮৬, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২০৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। যুহরী (রহঃ) - উরওয়া - আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রেও এটি বর্ণিত আছে।
৩২০৫. কুতায়বা (রহঃ) ..... উমর ইবন আবী সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর ঘরে অবস্থান কালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এই আয়াতটি নাযিল হলঃ (إنمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا) তখন তিনি ফাতিমা এবং হাসান ও হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহুম-কে ডেকে আনলেন এবং একটি চাদরে তাদের আবৃত করলেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন তাঁর পিঠের পেছনে তাঁকে চাদরটি দিয়ে তিনি ঢেকে ফেললেন। এরপর বললেনঃ হে আল্লাহ্! এরা আমার আহলে বায়ত, পরিবার-পরিজন। তাদের থেকে আপনি অপবিত্রতা বিদূরিত করে দিন এবং তাদের পরিপূর্ণভাবে পবিত্র করে দিন। উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেনঃ হে আল্লাহর নবী! আমিও এদের সঙ্গে আছি? তিনি বললেনঃ তুমি তো তোমার স্থানে আছই। তুমি তো কল্যাণের মাঝেই রয়েছো।
সহীহ, রাওযুন নাযীর ৯৭৬,১১৯০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২০৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আতা-উমর ইবন আবী সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত হাদীস হিসাবে এই হাদীসটি গারীব।
৩২০৭. আলী ইবন হুজর (রহঃ) ...... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি ওহী থেকে কিছু গোপন করতেন তবে এই আয়াতটি গোপন করতেন। (আর এটিই যখন গোপন করেননি তখন কিছু আর গোপন করেননি)। আয়াতটি হলঃ (إِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ)
রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর পালক পুত্রের (যায়দ) স্ত্রী (যায়নাব) বিবাহ করেন তখন আল্লাহ্ তা’আলা এ বিষয়ে নাযিল করেছিলেনঃ
أمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ ) إِلَى قَوْلِهِ : (وكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولاً
যায়দ যখন শিশু তখন থেকেই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহন করেছিলেন। তিনি তাঁর কাছেই থাকতে লাগলেন এবং বড় হলেন। তাকে মুহাম্মাদ পুত্র যায়দ বলে ডাকা হত। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ
ما كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ
এই হাদীসটি দাউদ ইবন আবূ হিন্দ-শা-বী-মাসরূক- আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রেও বর্ণিত আছে। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি ওহীর কিছু গোপন করতেন তবে এই আয়াতটি গোপন করতেনঃ
ادعُوهُمْ لآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ
এর এতটুকুই বর্ণিত আছে। এর বেশী দীর্ঘ নয়।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২০৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং ৩২০৮সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ لَوْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَاتِمًا شَيْئًا مِنَ الْوَحْىِ لَكَتَمَ هَذِهِ الآيَةَِ : ( إذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ ) الآيَةَ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৩২০৮. আবদুল্লাহ্ ইবন ওয়াযাহ কূফী (রহঃ) ...... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি ওহীর কিছু গোপন করতেন তবে এই আয়াতটি গোপন করতেনঃ (إِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ)।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২০৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২১০. হাসান ইবন কাযাআ বাসরী (রহঃ) ...... আমির আশ শা’বী (রহঃ) থেকে (ما كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ) মুহাম্মাদ তোমাদের কোন পুরুষের পিতা নন, প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ এর মর্ম হল তোমাদের মাঝে তাঁর কোন ছেলে সন্তান জীবিত থাকবে না।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২১১. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... উম্মু উমারা আল আনসারিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ সবই তো দেখছি পুরুষদের জন্য মেয়েদের জন্য কিছুর উল্লেখ হতে দেখতে পাচ্ছি না। তখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
إن الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-গারীব। এই সূত্রেই আমরা এটি সম্পর্কে জানি।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২১৩. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) .... উম্মু হানী বিনত আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। আমি তাঁর কাছে এ বিষয়ে মাযূরী পেশ করলে তিনি আমার ওযর কবুল করলেন। এরপর আল্লাহ্ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ (وتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ) আমি তাঁর জন্য হালাল নই। কারণ আমি হিজরত করিনি। আমি ছিলাম তুলাকা (মক্কা বিজয়ের সময় যাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল তাদের)-এর অন্তর্ভূক্ত।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ। সুদ্দী (রহঃ) এর রিওয়ায়ত হিসাবে এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
খুবই দুর্বল, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২১৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং ৩২১৪সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ : (وتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ) فِي شَأْنِ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ جَاءَ زَيْدٌ يَشْكُو فَهَمَّ بِطَلاَقِهَا فَاسْتَأْمَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৩২১৪. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ....... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়নাব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর বিষয়েঃ
(وتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ)
আয়াতটি নাযিল হয় (যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর স্বামী) যায়দ তার প্রতি অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। তিনি তাকে তালাক দিতে মনস্থ করেন। এই বিষয়ে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে পরামর্শ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখ এবং আল্লাহ্ কে ভয় কর।
সহীহ, বুখারি ৭৪২০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২১২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২১৫. আবদ (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাজির মুমিন মাহিলা ছাড়া সব ধরনের মহিলার বিবাহ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ
لا يَحِلُّ لَكَ النِّسَاءُ مِنْ بَعْدُ وَلاَ أَنْ تَبَدَّلَ بِهِنَّ مِنْ أَزْوَاجٍ وَلَوْ أَعْجَبَكَ حُسْنُهُنَّ إِلاَّ مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ
এরপর আপনার জন্য কোন নারী বৈধ নয় এবং বর্তমান স্ত্রীগণের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণও বৈধ নয় যদিও তাদের সৌন্দর্য আপনাকে বিস্মত করে তবে আপনার অধিকারভূক্ত দাসীগণের ব্যাপারে এই বিধান প্রযোজ্য নয়। (সূরা আহযাব ৩৩ঃ ৫২)
এখানে আল্লাহ্ তা’আলা অধিকার ভূক্ত মু’মিন নবীদের বৈধ রেখেছেন। অন্যত্র ইরশাদ করেনঃ
ومَنْ يَكْفُرْ بِالإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
যে কেউ ঈমান প্রত্যাখ্যান করবে তার কর্ম নিস্ফল হবে। (সূরা মাইদা ৫ঃ ৫)
কোন মু’মিন নারী নবীর নিকট নিজেকে নিবেনদ করলে এবং নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও বৈধ (সূরা আহযাব ৩৩ঃ ৫২) ইসলাম দ্বীন অবম্বনকারীণী মহিলা ছাড়া তার জন্য বাকী সব মহিলা অবৈধ হল। তিনি আরো ইরশাদ করেনঃ
يا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَاجَكَ اللاَّتِي آتَيْتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْكَ
হে নবী, আমি আপনার জন্য বৈধ করেছি আপনার স্ত্রীগণকে যাদের মহর আপনি প্রদান করেছেন এবং বৈধ করেছি ফায় হিসাবে আল্লাহ্ আপনাকে যা দান করেছেন তা থেকে যারা আপনার মালিকানাধীন হয়েছে তাদের, বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচার কন্যা, ফুফুর কন্যা, মামার কন্যা ও খালার কন্যাকে যারা আপনার সঙ্গে হিজরত করেছে। কোন মু’মিন নরী নবীর নিকট নিজেকে নিবেদন করলে এবং নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সে-ও বৈধ। এ বিধান বিশেষ করে আপনার জন্যই। অন্য মু’মিনদের জন্য নয়। (সূরা আহযাব ৩৩ঃ ৫০)
আরো ইরশাদ করেনঃ إِلَى قَوْلِهِ : (خالِصَةً لَكَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ) সুতরাং এ ছাড়া অন্য সব নারীর বিবাহ তাঁর জন্য হারাম করে দেওয়া হয়।
হাদীসটি হাসান। আবদুল হামীদ ইবন বাহরামের রিওয়ায়ত হিসাবেই এটিকে আমরা চিনি। আহমাদ ইবন হাসান (রহঃ)-কে আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ)-এর বরাতে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেনঃ শাহর ইবন হাওশাব (রহঃ) থেকে আবদুল হামীদ ইবন বাহরামের রিওয়ায়তে কোন অসুবিধা নেই।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২১৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং ৩২১৬সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ مَا مَاتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أُحِلَّ لَهُ النِّسَاءُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৩২১৬. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত্যুর পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য সকল প্রকার মহিলাদের বিবাহ করা বৈধ করে দেওয়া হয়।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২১৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২১৭. মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ...... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তার স্ত্রীর ঘরের দরজায় এলেন যার সঙ্গে তিনি বাসর করেছিলেন। সেখানে তিনি কিছু সাহাবীকে বসা দেখতে পেলেন। তিনি অন্য এক কাজে গেলেন এবং তা সমাধা করলেন। পরে ফিরে এলেন। ততক্ষণে তারা বের হয়ে গিয়েছিলেন।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তিনি আমার ও তাঁর মাঝে পর্দা টেনে দিলেন। আমি এই কথা আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে আলোচনা করলে তিনি বললেনঃ তুমি যেমন বলছ বিষয়টি যদি তাই হয়ে থাকে তবে নিশ্চয় এই বিষয়ে কিছু নাযিল হবে। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ তারপর হিজাবের আয়াত (সুরা আহযাব ৫৩-৫৫) নাযিল হয়।
সহীহ, বুখারি ৫১৬৬, ৫৪৬৬, ৬২৩৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব।
হাদিস নং ৩২১৮সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ، عَنِ الْجَعْدِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضى الله عنه قَالَ تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَخَلَ بِأَهْلِهِ - قَالَ - فَصَنَعَتْ أُمِّي أُمُّ سُلَيْمٍ حَيْسًا فَجَعَلَتْهُ فِي تَوْرٍ فَقَالَتْ يَا أَنَسُ اذْهَبْ بِهَذَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْ لَهُ بَعَثَتْ إِلَيْكَ بِهَا أُمِّي وَهِيَ تُقْرِئُكَ السَّلاَمَ وَتَقُولُ إِنَّ هَذَا لَكَ مِنَّا قَلِيلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ فَذَهَبْتُ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ إِنَّ أُمِّي تُقْرِئُكَ السَّلاَمَ وَتَقُولُ إِنَّ هَذَا مِنَّا لَكَ قَلِيلٌ . فَقَالَ " ضَعْهُ " . ثُمَّ قَالَ " اذْهَبْ فَادْعُ لِي فُلاَنًا وَفُلاَنًا وَفُلاَنًا وَمَنْ لَقِيتَ " . فَسَمَّى رِجَالاً قَالَ فَدَعَوْتُ مَنْ سَمَّى وَمَنْ لَقِيتُ قَالَ قُلْتُ لأَنَسٍ عَدَدُكُمْ كَمْ كَانُوا قَالَ زُهَاءَ ثَلاَثِمِائَةٍ . قَالَ وَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَنَسُ هَاتِ التَّوْرَ " . قَالَ فَدَخَلُوا حَتَّى امْتَلأَتِ الصُّفَّةُ وَالْحُجْرَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِيَتَحَلَّقْ عَشَرَةٌ عَشَرَةٌ وَلْيَأْكُلْ كُلُّ إِنْسَانٍ مِمَّا يَلِيهِ " . قَالَ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا قَالَ فَخَرَجَتْ طَائِفَةٌ وَدَخَلَتْ طَائِفَةٌ حَتَّى أَكَلُوا كُلُّهُمْ . قَالَ فَقَالَ لِي " يَا أَنَسُ ارْفَعْ " . قَالَ فَرَفَعْتُ فَمَا أَدْرِي حِينَ وَضَعْتُ كَانَ أَكْثَرَ أَمْ حِينَ رَفَعْتُ قَالَ وَجَلَسَ مِنْهُمْ طَوَائِفُ يَتَحَدَّثُونَ فِي بَيْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ وَزَوْجَتُهُ مُوَلِّيَةٌ وَجْهَهَا إِلَى الْحَائِطِ فَثَقُلُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ عَلَى نِسَائِهِ ثُمَّ رَجَعَ فَلَمَّا رَأَوْا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ رَجَعَ ظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ ثَقُلُوا عَلَيْهِ قَالَ فَابْتَدَرُوا الْبَابَ فَخَرَجُوا كُلُّهُمْ وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَرْخَى السِّتْرَ وَدَخَلَ وَأَنَا جَالِسٌ فِي الْحُجْرَةِ فَلَمْ يَلْبَثْ إِلاَّ يَسِيرًا حَتَّى خَرَجَ عَلَىَّ وَأُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَاتُ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَهُنَّ عَلَى النَّاسِ : ( يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلاَّ أَنْ يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَى طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ . قَالَ الْجَعْدُ قَالَ أَنَسٌ أَنَا أَحْدَثُ النَّاسِ عَهْدًا بِهَذِهِ الآيَاتِ وَحُجِبْنَ نِسَاءُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْجَعْدُ هُوَ ابْنُ عُثْمَانَ وَيُقَالُ هُوَ ابْنُ دِينَارٍ وَيُكْنَى أَبَا عُثْمَانَ بَصْرِيٌّ وَهُوَ ثِقَةٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ رَوَى عَنْهُ يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ وَشُعْبَةُ وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ .
হাদিস নং ৩২১৯সহিহ
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُجَالِدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ بَيَانٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضى الله عنه قَالَ بَنَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِامْرَأَةٍ مِنْ نِسَائِهِ فَأَرْسَلَنِي فَدَعَوْتُ قَوْمًا إِلَى الطَّعَامِ فَلَمَّا أَكَلُوا وَخَرَجُوا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُنْطَلِقًا قِبَلَ بَيْتِ عَائِشَةَ فَرَأَى رَجُلَيْنِ جَالِسَيْنِ فَانْصَرَفَ رَاجِعًا فَقَامَ الرَّجُلاَنِ فَخَرَجَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ : ( يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلاَّ أَنْ يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَى طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ ) وَفِي الْحَدِيثِ قِصَّةٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ بَيَانٍ . وَرَوَى ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ هَذَا الْحَدِيثَ بِطُولِهِ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৩২১৯. উমর ইবন ইসমাঈল ইবন মুজালিদ ইবন সাঈদ (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন স্ত্রীর বাসর উদযাপন উপলক্ষে আমাকে পাঠালেন। আমি কিছু লোককে খাবার পৌঁছালাম। খাওয়ার পর তারা বের হয়ে গেলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর ঘরের দিকে গেলেন। এরপর দেখলেন, দু’জন লোক বসে আছে। তিনি আবার ফিরে গেলেন। তখন এই দু’জন উঠে দাঁড়াল এবং বের হয়ে গেল। তখন আল্লাহ্ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلاَّ أَنْ يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَى طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ
হে মু’মিনগণ, তোমাদের অনুমতি দেওয়া না হলে তোমরা আহার্য প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা না করে ভোজনের জন্য নবী গৃহে প্রবেশ করবে না (সূরা আহযাব ৩৩ঃ ৫৩)।
সহীহ, বুখারি ৪৭৯১, ৬২৩৯, ৬২৭১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২১৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটিতে আরো ঘটনা আছে। বায়ান (রহঃ) এর রিওয়ায়ত হিসাবে হাদীসটি হাসান-গারীব। ছাবিত (রহঃ) এই হাদীসটিকে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরো দীর্ঘ আকারে বর্ণনা করেছেন।
৩২২১. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মূসা (আলাইহিস সালাম) ছিলেন অত্যন্ত লজ্জাশীল; তিনি খুবই আবৃত অবস্থায় থাকতেন। লজ্জার কারণে তাঁর শরীরের কোন দৃষ্ট হতো না। এই নিয়ে বনী ইসরাঈলের কিছু লোক তাঁকে কষ্ট দেয়। তারা বলাবলী করে যে, শরীরের কোন দোষের কারণেই তিনি নিজেকে এত ঢেকে রাখেন। হয়ত তাঁর শ্বেতকৃষ্ট আছে, নয়ত একশিরা বা অন্য কোন রোগ আছে।
আল্লাহ্ তা’আলা তাদের এই অভিযোগ থেকে তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চাইলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) নির্জন একস্থানে একাকী (গোসলের উদ্দেশ্যে) গেলেন। একটি পাথরের উপর তাঁর কাপড় খুলে রেখে গোসল করলেন। গোসল শেষে কাপড় নেয়ার জন্য সেদিকে অগ্রসর হলেন। কিন্তু পাথরটি তাঁর কাপড়-চোপর নিয়ে দ্রুত ছুটে যেতে লাগল। মূসা (আঃ) তখন তাঁর লাঠি নিয়ে পাথরের পিছনে ছুটলেন এবং বলতে লাগলেনঃ হে পাথর, আমার কাপড়! হে পাথর, আমার কাপড়! অবশেষে বানূ ইসরাঈলের এক সমাবেশে গিয়ে পৌঁছলেন। তখন তারা তাঁকে বিবস্ত্র অবস্থায় লোকদের মধ্যে সুন্দরতম গঠনের এবং তারা যা বলত তা থেকে দোষমুক্ত দেখতে পেল।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পাথরটি থেমে গেল; তিনি তাঁর কাপড় নিয়ে পরিধান করলেন এবং লাঠি দিয়ে পাথরকে আঘাত করতে লাগলেন। আল্লাহর কসম, পাথরটিতে তাঁর লাঠির আঘাতের তিনটি বা চারটি বা পাঁচটি দাগ পড়ে যায়। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَكُونُوا كَالَّذِينَ آذَوْا مُوسَى فَبَرَّأَهُ اللَّهُ مِمَّا قَالُوا وَكَانَ عِنْدَ اللَّهِ وَجِيهًا
হে মু’মিনগণ, মূসাকে যারা পীড়া দিয়েছে তোমরা তাদের মত হয়ো না। তারা যা রটনা করেছিল আল্লাহ্ তা’আলা তা থেকে তাঁকে নির্দোষ প্রমাণিত করেন। আল্লাহর নিকট মর্যাদাবান ছিলেন (সূরা আহযাব ৩৩ঃ ৬৯)।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান- সহীহ। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে।
৩২২২. আবূ কুরায়ব ও আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... ফারওয়া ইবন মুসায়ক মুরাদী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আমি এসে বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, আমার সম্প্রদায়ের যারা ইসলামের দিকে অগ্রসর হবে তাদের নিয়ে, যারা ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব কি?
তিনি আমাকে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অনুমতি দিলেন এবং আমাকে এর আমীর নিযুক্ত করলেন। আমি তাঁর দরবার থেকে বের হয়ে আসলে তিনি আমার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে বললেনঃ গুতায়ফী লোকটি কোথায়? তাঁকে অবহিত করা হলো যে, আমি রওয়ানা হয়ে গেছি। তিনি আমাকে ফিরিয়ে আনতে আমার পেছন পেছন লোক পাঠালেন, আমি এলাম। তিনি তখন সাহাবীদের এক দলের মাঝে উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি আমাকে বললেনঃ তোমার কওমকে ইসলামের দাওয়াত দিবে। তাদের মাঝে যে ইসলাম গ্রহণ করবে তুমি তার ইসলাম গ্রহণ করা মেনে নিবে। আর যে ইসলাম গ্রহণ করবে না তার সম্পর্কে আমার নতুন কোন নির্দেশ তোমার কাছে না পৌঁছা পর্যন্ত তুমি সে বিষয়ে কোন তাড়াহুড়ো করবে না।
ফারওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ সাবা সম্পর্কে যা নাযিল হওয়ার নাযিল হলে এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সাবা কি, একি কোন ভূ-অঞ্চলের নাম না কোন মহিলার নাম?
তিনি বললেনঃ ভূমিও নয়, মহিলাও নয়। সে ছিল এক ব্যক্তি তার ঔরসে দশজন আরব সন্তান জন্ম হয়। এদের মাঝে ছয়জন ইয়ামনে এবং চারজন শামে অধিবাস গ্রহণ করে। শামে যারা অধিবাস গ্রহণ করে তারা হল লাখম, জুযাম, গাসসান ও আমিলা। আর যারা ইয়ামনে অধিবাস গ্রহণ করে তারা হল আযদ, আশআরী, হিময়ার, কিনদা, মাযহিজ ও আনমার।
এক ব্যক্তি বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আনমার কারা? তিনি বললেনঃ যাদের থেকে খাছআম ও বাজীলা গোত্রের উদ্ভব হয়েছে তারা।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-গারীব।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২২২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২২৩. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা আসমানে যখন কোন বিষয়ের ফয়সালা করেন তখন ফিরিশতারা আল্লাহ্ তা’আলার বাণীর সামনে বিনয়াবনত হয়ে তাদের পাখনাসমূহ ছড়িয়ে দেন। বাণীসমূহ যেন সাফওয়ান পাথরে জিঞ্জির পড়ার মত গুঞ্জরিত হয়। পরে তাদের হৃদয় থেকে ভয় কেটে গেলে তারা পরস্পর বলাবলি করেন, তোমাদের রব কি ইরশাদ করেছেন?
তাঁরা বলেনঃ তিনি সত্য বলেছেন, তিনিই তো সমুন্নত এবং সুমহান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ শয়তান জিনরা তখন একজনের উপর আরেকজন উঠে (চুরি করে আলোচনা শোনার জন্য ঘাপটি মেরে) বসে থাকে।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ১৯৪, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২২৪. নাসর ইবন আলী জাহযামী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কয়েকজন সাহাবী নিয়ে বসা ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ একটি নক্ষত্র ছিটকে পড়ল। এতে চতুর্দিক আলোকিত হয়ে উঠল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জাহিলী যুগে যখন এমন হতে দেখতে তখন তোমরা কি বলতে?
তারা বললেনঃ আমরা বলতাম, বিরাট কোন ব্যক্তি মারা যাবেন কিংবা বিরাট কেউ জন্ম গ্রহণ করবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কারো মৃত্যুতে কিংবা কারো জন্মগ্রহণে নক্ষত্র ছুঁড়ে মারা হয় না। বস্তত বিষয় হল বরকতময় নাম সম্পন্ন আমাদের মহান প্রভু যখন কিছুর ফায়সালা দেন তখন আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণ তাসবীহ পাঠ করতে থাকেন। এরপর তাদের নিকটস্থ আসমানের ফেরেশতাগণ তাসবীহ পাঠ করেন। এরপর তাদের নিকটস্থ যারা তাসবীহ পাঠ করেন। এই ভাবে এই আসমানে এসে তা শেষ হয় তারপর ষষ্ঠ আসমানের ফেরেশতাগণ সপ্তম আসমানবাসীদের জিজ্ঞাসা করেনঃ আপনাদের রব কি বলেছেন?
তাঁরা তাদেরকে এ বিষয়ে অবহিত করেন। এইভাবে প্রত্যেক আসমানবাসীগণ তাদের নিকটস্থ আসমানবাসীগণের নিকট জিজ্ঞাসা করে এই বিষয়ে অবহিত হন। শেষে দুনিয়ার এই আসমানে এসে ঐ খবর পৌঁছে। শয়তানরা সে খবর চুরি করে শোনার তৎপরতা চালায়। তখন তাদের বিরুদ্ধে উল্কা পিন্ড ছুঁড়ে মারা হয় তারা তা তাদের বন্ধুদের (জ্যোতিষী, যাদুকর ইত্যাদি) কাছে দ্রুত নিক্ষেপ করে। এর ঠিক ঠিক যা নিয়ে আসতে পারে তা হয় সত্য। কিন্তু এর সাথে তারা বিকৃতি ঘটায় এবং অনেক কিছু (নিজেদের থেকে) বাড়িয়ে দেয়।
সহীহ, মুসলিম ৭/৩৬৩৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীসটি যুহরী (রহঃ) থেকে আলী হুসায়ন-ইবন আব্বাস - কতিপয় আনসারী সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম। অতঃপর উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৩২২৫. আবূ মূসা মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি এ আয়াত সম্পর্কে বলেছেনঃ
ثمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتِ
তারপর আমি কিতাবের অধিকারী করলাম আমার বান্দাদের মাঝে তাদের যাদের আমি মনোনীত করেছি; তবে তাদের তো কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যপন্থী এবং কেউ আল্লাহর ইচ্ছায় কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী। (সূরা ফাতির ৩৫ঃ ৩২) এরা সকলেই (এই উম্মতভূক্ত হওয়ার বিষয়ে) এক মর্যাদার এবং এরা সকলেই জান্নাতী।
(আবু ঈসা বলেন)এই হাদীসটি গারীব।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২২৬. মুহাম্মাদ ইবন ওয়াযীর ওয়াসিতী (রহঃ) ...... আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (আনসারী গোত্র) বানূ সালিমা মদীনার এক কিনারে বসবাস করত। তারা মসজিদে নববীর কাছে চলে আসার ইচ্ছা করে। তখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
إنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ
আমিই মৃতকে করি জীবিত এবং লিখে রাখি যা তারা অগ্রে প্রেরণ করে আর তাদের পদচিহ্ন সমূহ (সূরা ইয়াসীন ৩৬ঃ ১২)। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ তোমাদের পদচিহ্ন সমূহও লিখা হয়। সুতরাং তোমরা স্থানান্তরিত হয়ো না।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৭৮৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২২৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ছাওরী (রহঃ) এর রিওয়ায়ত হিসাবে হাদীসটি হাসান-গারীব। রাবী আবূ সুফইয়ান (রহঃ) হলেন তারীফ সা’দী।
৩২২৭. হান্নাদ (রহঃ) ...... আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সূর্যাস্তের সময় আমি একদিন মসজিদে প্রবেশ করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে বসা ছিলেন। তিনি আমাকে বললেনঃ হে আবূ যার, তুমি কি জানো এই সূর্য কোথায় যায়? আমি বললামঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন।
তিনি বললেনঃ সে যায় এবং সিজদায় সে (পরওয়ারদিগারের) অনুমতি প্রার্থনা করে। তাকে অনুমতি প্রদান করা হয় এবং যেন বলা হয়, যেখান থেকে এসেছ সেখান থেকেই তুমি উদিত হও। অনন্তর (শেষে সে কিয়ামতের আগে) পশ্চিম থেকে উদিত হবে। (আর সে দিনই কিয়ামত হয়ে যাবে) এরপর তিনি পাঠ করলেনঃ (ذلكَ مُسْتَقَرٌّ لَهَا) আর এ হল তার নির্দিষ্ট গন্তব্য স্থল। রাবী বলেনঃ এ হল আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কিরাআত বা পাঠ।
সহীহ, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২২৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২২৮. আহমদ ইবন আবদা যাববী (রহঃ) ...... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন আহবানকারী কাউকে কোন বিষয়ের দিকে আহবান করে তবে কিয়মাতের দিন সে তার জন্য থেমে থাকবে এবং তা তাকেই জড়িয়ে থাকবে তার থেকে কখনও বিচ্ছিন্ন হবে না। যদিও একব্যক্তি মাত্র এক ব্যক্তিকেই আহবান করে থাকে। এরপর তিনি পাঠ করলেন মহান আল্লাহর এই বাণীঃ (وقِفُوهُمْ إِنَّهُمْ مَسْئُولُونَ * مَا لَكُمْ لاَ تَنَاصَرُونَ) - তারপর এদের থামাও, কারণ এদের প্রশ্ন করা হবে; তোমাদের কী হল যে একে অপরের সাহায্য করছ না? (সূরা সাফফাত ৩৭ঃ ২৪-২৫)।
যঈফ, তা’লীকুর রাগীব ১/৫০, যিলালুল জান্নাহ ১১২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি গারীব।
৩২২৯. আলী ইবন হুজর (রহঃ) ..... উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (وأَرْسَلْنَاهُ إِلَى مِائَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ) - তাকে [ইউনুস (আঃ)] আমি লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম (সাফফাত ৩৭ঃ ১৪৭)। আয়াতটি সম্পর্কে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছেনঃ এরা ছিল (এক লক্ষ) বিশ হাজার। যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২২৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি গারীব।
৩২৩০. মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ..... সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত। (وجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُ هُمُ الْبَاقِينَ) তার (নূহের) বংশধরদেরই আমি বিদ্যমান রেখেছি বংশ পরস্পরায় (সূরা সাফফাত ৩৭ঃ ৭৭)। আয়াতটি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এরা ছিল হাম, সাম ও ইয়াফিছ।
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইয়াফিছ (... সহযোগে) এবং ইয়াফিত (... সহযোগে) ও কথিত আছে। ইয়াফাছও বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-গারীব। সাঈদ ইবন বাশীর (রহঃ) এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৩০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং ৩২৩১যঈফ
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " سَامٌ أَبُو الْعَرَبِ وَحَامٌ أَبُو الْحَبَشِ وَيَافِثُ أَبُو الرُّومِ " .
বর্ণনাকারী: সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ)
৩২৩১. বিশর ইবন মুআয আকাদী (রহঃ) ...... সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ সাম হলেন আরবের পূর্বপুরুষ। হাম হলেন হাবশীদের পূর্বপুরুষ আর ইয়াফিছ হলেন রোমকদের পূর্বপুরুষ।
যঈফ, যঈফা ৩৬৮৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৩১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২৩২. মাহমূদ ইবন গায়লান ও আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ তালিব অসুস্থ হয়ে পড়লে কুরায়শরা (দলপতিরা) তাকে দেখতে আসে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তার কাছে আসলেন। আবূ তালিবের কাছে একজন লোক বসতে পারে মাত্র ততটুকু জায়গা ছিল। আবূ জাহল নবীজীকে সেখানে বসতে বাধা দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াল। কুরায়শরা আবূ তালিবের কাছে নবীজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। আবূ তালিব তখন তাঁকে বললঃ হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, তুমি তোমার কওম থেকে চাচ্ছ কি?
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তো তাদের কাছ থেকে এমন একটা কথার স্বীকৃতি চাই যে এদ্বারা সমস্ত আরব তাদের অনুগত হয়ে পড়বে আর সব অনারব তাদের জিযিয়া দিবে।
আবূ তালিব বললঃ মাত্র একটা কথা। নবীজী বললেনঃ হ্যাঁ, মাত্র একটা কথা। হে চাচা, আপনারা বলুন, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। কুরায়শীরা বললঃ একজন মাত্র ইলাহ! আগের মিল্লাত সমূহেও তো এমন কথা আমরা শুনি নি। এতো মনগড়া কথা বৈ কিছূই নয়। রাবী বলেন, এদের বিষয়েই কুরআন মজীদে নাযিল হয়ঃ
ص* وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ * بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي عِزَّةٍ وَشِقَاقٍ إِلَى قَوْلِهِ : ما سَمِعْنَا بِهَذَا فِي الْمِلَّةِ الآخِرَةِ إِنْ هَذَا إِلاَّ اخْتِلاَقٌ
সা’দ কসম উপদেশ পূর্ণ কুরআনের (আপনি অবশ্যই সত্য নবী) কিন্তু কাফিরগণ ঔদ্ধত্য ও বিরোধিতায় ডুবে আছে। এদের পূর্বে আমি কত জনগোষ্ঠী ধ্বংস করেছি; তখন তারা আর্ত চিৎকার করেছিল। কিন্তু তখন পরিত্রাণের কোন উপায় ছিল না। এরা বিস্ময়বোধ করে যে, তাদের নিকট তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী এসেছে। কাফিররা বলেঃ এ তো এক যাদুকর, মিথ্যাবাদী। সে কি বহু ইলাহের পরিবর্তে এক ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? এ তো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার! তাদের প্রধানরা এই বলে সরে পড়ে, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের দেবতাদের উপাসনায় তোমরা অবিচলিত থাক। নিশ্চয়ই এই বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলক। আমরা তো অন্য ধর্মাদর্শে এরূপ কথা শুনিনি। এ তো মনগড়া উক্তি মাত্র। (সূরা সা’দ ৩৮ঃ ১-৭)।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৩২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২৩৩. সালামা ইবন শাবীব্ ও আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদা রাতে সুমহান ও বরকতময় আমার রব আমার কাছে সুন্দরতম রূপে এসেছিলেন। (রাবী বলেন, যতদূর মনে পড়ে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’স্বপ্নে’ কথাটি বলেছিলেন।) তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি কি জানেন, কি নিয়ে মালা-এ-আলা (সর্বোচ্চ ফেরেশতা পরিষদ)-এ বিতর্ক হচ্ছে? আমি বললামঃ না।
নবীজী বলেনঃ তখন তিনি আমার কাঁধের মাঝে তার হাত রাখলেন। এমনকি এর স্নিগ্ধতা আমি আমার বুকেও অনুভব করলাম। এতে আসমান ও যমীনের যা কিছু আছে সব আমি জানতে পারলাম।
তিনি বললঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি কি জানেন, কি নিয়ে মালা-এ আলায় আলোচনা হচ্ছে?
আমি বললামঃ হ্যাঁ, গুনাহের কাফফারা বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। সালাতের পর মসজিদে অবস্থান করাও কাফফারা, জামাআতে পায়ে হেঁটে যাওয়া, কষ্টের সময় পরিপূর্ণভাবে উযূ করাও কাফফারা। যে ব্যক্তি এই কাজ করবে তার জীবন হবে কল্যাণময়, আর মৃত্যুও হবে কল্যাণময়। যেই দিন তাঁর মা তাকে ভূমিষ্ঠ করলেন গুনাহর ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থা হবে সেই দিনের মত। আমার রব বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! সালাত (নামায) শেষে বলবেনঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَإِذَا أَرَدْتَ بِعِبَادِكَ فِتْنَةً فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مَفْتُونٍ
হে আল্লাহ্! আপনার কাছে আমি যাঞ্ছা করি ভাল কাজ করা এবং মন্দ কাজ পরিত্যাগের, দরিদ্রদের প্রতি ভালবাসা পোষণের তওফীক। আপনি যখন বান্দাদের বিষয়ে ফেতনা মুসীবতের ইরাদা করবেন তখন আমাকে যেন ফেতনা মুক্ত অবস্থায় উঠায়ে নেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (মালা-এ-আ’লায় আরো আলোচনা হচ্ছে) উচ্চ মর্যদা লাভের বিষয়ে। তা হল, সালামের প্রসার সাধন, আহার প্রদান এবং লোকেরা যখন নিদ্রাভিভূত তখন রাতের নফল সালাতে (তাহাজ্জুদে) নিমগ্ন হওয়া।
সহীহ, আয-যিলাল ৩৮৮, তা’লীকুর রাগীব ১/৯৮, ১২৬/১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৩৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
রাবীগণ এই হাদীসটির সনদে আবূ কিলাবা ও ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাঝে আরেক ব্যক্তির উল্লেখ করেছেন। কাতাদা (রহঃ) এটিকে আবূ কিলাবা-খালিদ ইবন লাজলাজ-ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে রিওয়ায়ত করেছেন।
৩২৩৪. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার রব আমার কাছে আবির্ভূত হলেন সুন্দরতম সূরতে। বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! আমি বললামঃ প্রভূ আমি হাজির, হে কল্যাণের প্রতিভূ, আমি হাজির।
তিনি বললেনঃ মালা-এ-আ’লায় কি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে? আমি বললামঃ হে আমার রব, আমি তো জানি না।
তিনি আমার কাঁধের দুই হাড্ডির মাঝে তাঁর হাত রাখলেন। এমনকি এর স্নিগ্ধতা আমি আমার বুকে অনুভব করলাম। পূর্ব-পশ্চিমের যা কিছু আছে এতে আমি তা জানতে পারলাম।
তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ!
আমি বললামঃ বান্দা হাজির, হে কল্যাণের প্রতিভূ, আমি হাজির।
তিনি বললেনঃ কি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে মালা-এ-আ’লায়?
আমি বললামঃ উচ্চ মর্যাদা লাভ ও গুনাহে্র কাফফারাসমূহের বিষয়ে। আর জামাআতের দিকে পায়ে হেঁটে যাওয়া, কষ্টের সময়েও পরিপূর্ণভাবে উযূ করা, এক সালাতের পর আরেক সালাতের জন্য অপেক্ষা করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। যে ব্যক্তি এগুলোর হিফাজত করবে, তাতে অবিচল থাকবে জীবন হবে তার কল্যাণময় আর মৃত্যুও হবে তার কল্যাণময়। আর মাতৃ উদয় থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিনের মত গুনাহ্ থেকে সে পবিত্র হয়ে যাবে।
এই সূত্রে হাদীসটি হাসান-গারীব। মুআয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি আরো বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি তন্দ্রালু ছিলাম। অনন্তর গভীর নিদ্রাভিভূত হয়ে গেলাম আমার রবকে দেখলাম সুন্দরতম সূরতে। তিনি বললেনঃ মালা-এ- আলায় কি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে?
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৩৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২৩৭. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আসমা বিনত ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই আয়াতটি পাঠ করতে শুনেছিঃ
يا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لاَ تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا
জানিয়ে দিন, হে আমার বান্দাগণ, তোমরা যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ। আল্লাহর রহমত থেকে তোমরা নিরাশ হয়ো না; আল্লাহ্ তে সমুদয় পাপ মাফ করে দিবেন (যুমার ৩৯ঃ ৫৩) আর তিনি তো কারো পরওয়া করেন না।
হাদীসটি হাসান-গারীব। ছাবিত-শাহর ইবন হাওশাব (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৩৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিস নং ৩২৩৮সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي مَنْصُورٌ، وَسُلَيْمَانُ الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَ يَهُودِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَوَاتِ عَلَى إِصْبَعٍ وَالأَرَضِينَ عَلَى إِصْبَعٍ وَالْجِبَالَ عَلَى إِصْبَعٍ وَالْخَلاَئِقَ عَلَى إِصْبَعٍ ثُمَّ يَقُولُ أَنَا الْمَلِكُ . قَالَ فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ قَالَ : (ومَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ ) . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৩২৩৮. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একবার জনৈক ইয়াহূদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললঃ হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ্ তা’আলা তো এক অঙ্গুলীতে সব আসমান, এক অঙ্গুলীতে সব পাহাড়, এক অঙ্গুলীতে সব যমীন এবং এক অঙ্গুলীতে সব সৃষ্টি ধারণ করে বলছেন, আমিই অধিপতি। আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে হাসলেন এমন কি তাঁর পার্শ্ব দাঁতগুলো পর্যন্ত প্রকাশিত হয়ে গেল। পরে তিনি বললেনঃ (ومَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ) এরা আল্লাহর যথোচিত মর্যাদা প্রদর্শন করে না (যুমার ৩৯ঃ ৫৭)।
সহীহ, আয-যিলাল ৫৪১,৫৪৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৩৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং ৩২৩৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم تَعَجُّبًا وَتَصْدِيقًا . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৩২৩৯. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ....... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (ইয়াহূদীটির কথা শুনে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিস্মিত হয়ে এর সমর্থনে হাসলেন।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৩৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২৪০. আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ইয়াহূদীটিকে বললেনঃ হে ইয়াহূদী, তোমাদের কথা বল।
সে বললঃ হে আবুল কাসিম, যেদিন আল্লাহ্ তা’আলা আসমানসমূহ রাখবেন এতে, যমীনসমূহ রাখবেন এতে, পানি এতে, পাহাড় এতে, আর সব সৃষ্টি রাখবেন এতে সে বিষয়ে আপনি কি বলেন?
রাবী আবূ জা’ফর মুহাম্মাদ ইবনুস সালত ’এতে’ বলে প্রথমবার কনিষ্ঠা অঙ্গুলীর দিকে ইশারা করেন এবং ক্রমে বৃদ্ধাঙ্গুলী পর্যন্ত যেয়ে পৌঁছান। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ (وما قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ) এরা আল্লাহর যথোচিত মর্যাদা প্রদর্শন করে না (যুমার ৩৯ঃ ৬৭)।
হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আবূ কুদায়না (রহঃ) এর নাম ইয়াহ্ইয়া ইবন মুহাল্লাব। মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল বুখারী (রহঃ)-কে এই হাদীসটি হাসান ইবন শুজা’ ... মুহাম্মাদ ইবনুস সালত (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করতে দেখেছি।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২৪১. সুওয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ)...... মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তুমি কি জানো, জাহান্নামের প্রশস্ততা কতটুকু? আমি বললামঃ না।
তিনি বললেনঃ হ্যাঁ ঠিকই, আল্লাহর কসম, তা তুমি জানবে না। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (والأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ ) কিয়ামতের দিন সমস্থ পৃথিবী থাকবে তাঁর (আল্লাহর) হাতের মঠিতে আর আকাশমন্ডলী থাকবে তাঁর ডান হাতে লেপটানো (যুমার ৩৯ঃ ৬৭) আয়াতটি প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, ঐদিন মানুষ কোথায় অবস্থান করবে? তিনি বললেনঃ জাহান্নামের উপর স্থাপিত পুলে।
হাদীসটিতে আরো কাহিনী আছে। এই সূত্রে হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৪১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২৪৩. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক আরব বেদুঈন বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সূর কি? তিনি বললেনঃ শিঙ্গা, এতে ফুৎকার প্রদান করা হবে।
সহীহ, সহীহাহ ১০৮০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৪৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান। সুলায়মান তায়মী (রহঃ) এর রিওয়ায়ত হিসাবেই কেবল এটি সম্পর্কে আমরা জানি।
৩২৪৪. আবূ কুরায়ব (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত। মদীনার বাজারে (কোন এক প্রসঙ্গে) জনৈক ইয়াহূদী বললঃ না, ঐ সত্তার কসম, যিনি মূসা (আঃ) কে সব মানুষের মাঝে নির্বাচিত করেছেন তখন জনৈক আনসারী মুসলিম হাত তুলে তার মুখে এক থাপ্পড় মেরে বললেনঃ আমাদের মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছেন আর তুই এ কথা বলছিস? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এই কথা শুনে) বললেনঃ
ونُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ إِلاَّ مَنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ
আর শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে ফলে যাদেরকে আল্লাহ্ ইচ্ছা করেন তারা ত্যতীত আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সবই মূর্ছিত হয়ে পড়বে। তারপর আবার শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে। তৎক্ষণাৎ তারা দন্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে। (সূরা যুমার ৩৯ঃ ৬৮)। আমিই প্রথম আমার মাথা তুলব। মূসাকে দেখব আরশের পায়াগুলোর একটি ধরে আছেন। জানি না, তিনি কি আমার পূর্বে তাঁর মাথা তুলেছেন না যাদেরকে আল্লাহ্ তা’আলা ব্যত্যয়ী করেছেন তিনিও তাদের অন্তর্ভূক্ত। যে ব্যক্তি বলল, আমি ইউনুস ইবন মাত্তা থেকেও উত্তম সেও তো ঠিক বলল না।
হাসান সহীহ, তাখরীজুত তাহাবিয়া ১৬২, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৪৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২৪৭. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বায়তুল্লাহর কাছে তিন ব্যক্তি বিতর্কে লিপ্ত হয়। এদের দু’জন কুরায়শ গোত্রের আর একজন ছাকীফী। বর্ণনান্তরে দু’জন ছাকাফী একজন কুরায়শী এদের হৃদয়ের অনুধাবন শক্তি ছিল খুবই কম আর পেটের চর্বি ছিল খুবই বেশি। তাদের একজন বললঃ আল্লাহ্ সম্পর্কে তুমি কি মনে কর, আমরা যা বলি তিনি কি তা শুনে না? অপরজন বললঃ আমরা যখন প্রকাশ্যে কথা বলি তখন তিনি তা শুনেন। আর যখন গোপনে বলি তখন তিনি তা শুনতে পান না। আরেক জন বললঃ প্রকাশ্যে বললে যদি শুনতে পান তবে তিনি গোপনে বললেও তা শুনতে পাবেন এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেনঃ
ومَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلاَ أَبْصَارُكُمْ وَلاَ جُلُودُكُمْ
তোমাদের কর্ণ, চক্ষু এবং ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না এই বিশ্বাসে তোমরা কিছুই গোপন করতে না (সূরা আস-সাজদা ৪১ঃ ২২)।
সহীহ, বুখারি ৪৮১৬, ৪৮১৭, ৭৫২১ মুসলিম ৮/১২০-২১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৪৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২৪৮. হান্নাদ (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কা’বা শরীফের পর্দায় লুক্কায়িত ছিলাম। এমন সময় তিনজন লোক এল। এদের পেট ছিল খুবই মেদবহুল কিন্তু হৃদয়ের অনুধাবন শক্তি ছিল খূবই কম। এর একজন ছিল কুরায়শী অপর দুই জন ছিল ছাকাফী গোত্রীয় এবং তার জামাতা। কিংবা এক জন ছিল ছাকাফী, দুই জন ছিল কুরায়শী গোত্রীয় এবং তার জামাতা। তারা এমন সক কথা আলোচনা করল যা আমি বুঝতে পারিনি। এরপর তাদের এক জন বললঃ তোমরা আল্লাহ্ সম্পর্কে কি মনে কর, তিনি কি আমাদের এই কথাবার্তা শুনতে পান? অপর জন বললঃ আমরা যখন সশব্দে বলি তখন তিনি তা শুনতে পান, আর যখন আমাদের আওয়াজ উচ্চ না করি তখন তিনি তা শুনতে পান না। আরেক জন বললঃ তিনি যদি কিছু শুনতেই পান তা হলে তো পুরোপুরিই শুনতে পান।
আবদুল্লহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি এই বিষয়েটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আলোচনা করি। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ
ومَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلاَ أَبْصَارُكُمْ وَلاَ جُلُودُكُمْ إِلَى قَوْلِهِ : أَصْبَحْتُمْ مِنَ الْخَاسِرِينَ
তোমাদের কর্ণ, চক্ষু এবং ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না এই বিশ্বাসে তোমরা কিছু গোপন করতে না। উপরন্তু তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ্ জানেন না। তোমাদের রব সম্পর্কে তোমাদের এই ধারণাই তোমাদের ধ্বংস এনেছে। ফলে তোমরা হয়েছ ক্ষতিগ্রস্থ (সূরা আস-সাজদা ৪১ঃ ২২-২৩)।
সহীহ, মুসলিম ৮/১২১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৪৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এই হাদীসটি হাসান।
৩২৫০. আবূ হাফস আমর ইবন আলী ইবন ফাল্লাস (রহঃ) ...... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তিলাওয়াত করলেনঃ (إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا) যারা বলে আমাদের রব আল্লাহ্, তারপর অবিচলিত থাকে (সূরা আস-সাজদা ৪১ঃ ৩০)। পরে তিনি বললেনঃ লোকেরা এই কথা বলেছে কিন্তু পরে অনেকেই তাতে অবিচলিত থাকতে পারেনি। আর যে এই কথার উপর মারা গেছে সেই হল অবিচলিতদের অন্তর্ভূক্ত।
হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আমি আবূ যুরআ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আফফান (রহঃ) আমর ইবন আলী (রহঃ) থেকে একটি হাদীস রিওয়ায়ত করেছেন।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৫০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
সূরা আশ্-শূরা
হাদিস নং ৩২৫১সহিহ
محمد بن بشار، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ طَاوُسًا، قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ هَذِهِ الآيَةِ : (قل لاَ أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلاَّ الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى) فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ قُرْبَى آلِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَعَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ بَطْنٌ مِنْ قُرَيْشٍ إِلاَّ كَانَ لَهُ فِيهِمْ قَرَابَةٌ فَقَالَ إِلاَّ أَنْ تَصِلُوا مَا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ مِنَ الْقَرَابَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ .
বর্ণনাকারী: তাঊস (রহঃ)
৩২৫১. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ...... তাঊস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ (قل لاَ أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلاَّ الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى) - বল, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের নিকট থেকে আত্মীয়তার সৌহার্দ্য ব্যতীত অন্য কোন প্রতিদান চাই না (সূরা আশ-শূরা ৪২ঃ ২৩)। আয়াতটি সম্পর্কে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) বললেনঃقُرْبَى হল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবার। ইবন আব্বাসরাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তুমি কি জানো না, কুরায়শ গোত্রের এমন কোন শাখা নেই যার সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মীয়তা ছিল না। এর মানে হল, আমার ও তোমাদের মাঝে আত্মীয়তার যে সম্পর্ক তা অক্ষুন্ন রাখা ভিন্ন।
সহীহ, বুখারি ৪৮১৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৫১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে।
৩২৫২. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... বানূ মুররা গোত্রের জনৈক শায়খ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কূফায় আসলাম। সেখানে আমি বিলাল ইবন আবূ বুরদা সম্পর্কে অবহিত হলাম (যে, এক সময় ছিল কাযী আর আজ বন্দী)। আমি ভাবলাম, এর মাঝে বেশ শিক্ষা রয়েছে। আমি তার কাছে উপস্থিত হলাম। সে তখন তার ঐ ঘরেই ছিল বন্দী যে ঘর নিজে বানিয়েছিল। মারপিট ও শাস্তির কারণে তখন তার সব কিছুই ছিল বিগড়ানো। তাকে পরিত্যক্ত মূল্যহীন কিছু জিনিসের মাঝে পেলাম। আমি বললামঃ হে বিলাল, প্রশংসা তো সবই আল্লাহর। তোমাকে দেখেছি, আমাদের সামনে দিয়ে যেতে আর ধূলার কণা থেকে নাক বাঁচানোর জন্য (অহংকারে) তা ধরে রাখতে। আর আজ তুমি তোমার এই অবস্থায় পড়ে আছ!
সে বললঃ তুমি কোন গোত্রের?
আমি বললামঃ মুররা গোত্রের।
আমি তোমাকে একটি হাদীস শুনাব কি? আল্লাহ্ অচিরেই এদ্বারা তোমাকে উপকৃত করবেন।
আমি বললামঃ বল।
সে বললঃ আমার পিতা আবূ বুরদা তার পিতা আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বরাতে আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ বলেছেনঃ বড় বা ছোট যে কোন বিপদই বান্দার উপর পৌঁছে তা তার গুনাহর কারণেই পৌঁছে থাকে। আর আল্লাহ্ যা মাফ করে দেন তার সংখ্যা আরো বেশী এরপর তিনি পাঠ করলেনঃ
وما أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ
তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তো তোমাদের কৃতকর্মের ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দেন (সূরা আশ-শুরা ৪২ঃ ৩০)।
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৫২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২৫৩. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হেদায়াতের পর কোন কওম গুমরাহ হয় না যতক্ষণ না তারা বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হয়। এরপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ
ما ضَرَبُوهُ لَكَ إِلاَّ جَدَلاً بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُونَ
এরা তো কেবল বাক-বিতন্ডার উদ্দেশ্যেই আপনাকে এই কথা বলে, বস্তত এরা এক বিতন্ডাকারী সম্প্রদায় (যুখরুফ ৪৩ঃ ৫৮)।
হাসান, ইবনু মাজাহ ৪৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৫৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। হাজ্জাজ ইবন দীনার (রহঃ) এর সূত্রেই এটি সম্পর্কে আমরা জানি। হাজ্জাজ (রহঃ) নির্ভরযোগ্য এবং মুকারিবুল হাদীস। আবূ গলিব (রহঃ) এর নাম হল হাযাওয়ার।
৩২৫৪. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ...... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললঃ জনৈক কথক বলে থাকে যে, (কিয়ামতের আগে) যমীন থেকে ধূম্র নির্গত হবে আর তা কাফিরদের কর্ম বিনাশ করে দিবে আর মু’মিনদের ধরবে সর্দির মত।
মাসরূক বলেনঃ এই শুনে তিনি ক্রোধাম্বিত হয়ে গেলেন। তিনি টেক লাগান অবস্থায় ছিলেন সোজা হয়ে বসে গেলেন। এরপর বললেনঃ তোমাদের কাউকে তার জানা বিষয়ে যদি প্রশ্ন করা হয়ে তবে সে যেন তা বল দেয়। আর সে যা জানে না এমন বিষয়ে যদি প্রশ্ন করা হয় তবে বলবে, আল্লাহই ভাল জানেন। কারণ একজনের এটাও প্রজ্ঞার বিষয় যে, না জানা কোন বিষয়ে যদি তাকে প্রশ্ন করা হয় তবে সে বলবে, আল্লাহ্ই ভাল জানেন। আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর নবীকে লক্ষ্য করে বলেছেনঃ
قلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ
বলুন, আমি এর জন্য আপনাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না এবং যারা মিথ্যা দাবী করে আমি তাদের অন্তর্ভূক্তনই। (সা’দ ৩৮ঃ ৮৩)।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখলেন যে, কুরায়শরা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করছে, তারা নাফরমানী করছে, তখন তিনি দু’আ করলেনঃ হে আল্লাহ্! এদের ইউসূফ (আঃ)-এর যুগের মত সাত বছরের দুর্ভিক্ষ আপতিত করে আমাকে এদের বিরুদ্ধে সাহায্য করুন। ফলে এরা দুর্ভিক্ষে নিপতিত হয়। এতে সব কিছু নষ্ট হয়ে যায়। এমন কি চামড়া ও মূর্দা (অন্য রিওয়ায়তে আছে হাড্ডি) পর্যন্ত তারা খেতে থাকে। যমীন থেকে ধূম্র উদগীরণ হতে থাকে।
তখন আবূ সুফইয়ান, নবীজীর কাছে এসে বললঃ আপনার কওম তো ধ্বংস হয়ে গেল। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করুন।
এই হল আল্লাহর এই বাণীর মর্মঃ
يوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ * يَغْشَى النَّاسَ هَذَا عَذَابٌ أَلِيمٌ
যে দিন স্পষ্টভাবে ধূম্রচ্ছন্ন হবে আকাশ এবং তা আবৃত করে ফেলবে লোকদেরকে। আর তা হল মর্মন্তুদ শাস্তি (দুখান ৪৪ঃ ১০-১১)।
রাবী মনসূর উল্লেখ করেনঃ
رَبَّنَا اكْشِفْ عَنَّا الْعَذَابَ إِنَّا مُؤْمِنُونَ
তারা বলবে, হে আমাদের রব, আমাদের এই আযাব থেকে মুক্তি দাও (দুখান ৪৪ঃ ১২)।
আখিরাতের আযাব কি (কাফিরদের থেকে ) অপসৃত হবে?)
আবদুল্লাহ্ বলেনঃ বাতশা পাকড়াওয়ের আযাব (৪৪ঃ ১৬)। লিযাম -অপরিহার্য শাস্তি (২৫ঃ ৭৭)। দুখান ধূম্র শাস্তি (৪৪ঃ ১০)। একজন রাবীর বর্ণনায় আছে কামার -চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনা। অপর রাবীর বর্ণনায় আছে রূম-রোমকদের পরাজয়ের পর জয়ের ঘটনা সবই হয়ে গেছে।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৫৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেন, নিযাম হল বদর যুদ্ধের পাকড়াও। হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২৫৫. হুসায়ন ইবন হুরায়ছ (রহঃ) ...... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মু’মিনের জন্যই (আকাশ) দু’টি দরজা রয়েছে। একটি দরজা দিয়ে তার আমল উত্থিত হয় আরেকটি দরজা দিয়ে তার রিযক অবতীর্ণ হয়। এই মু’মিন যখন মারা যায় তখন দুটো দরজা তার জন্য কাঁদে। আল্লাহর কালামে এদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছেঃ
فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ وَمَا كَانُوا مُنْظَرِينَ
আকাশ ও পৃথিবী কেউই এদের জন্য (ফিরআওন গোষ্ঠির জন্য) কাঁদেনি এবং এদের অবকাশও দেওয়া হয় নি (দুখান ৪৪ঃ ২৯)।
যঈফ, যঈফা ৪৪৯১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি মারফূরূপে আছে বলে আমরা জানি না। মূসা ইবন উবায়দা এবং ইয়াযীদ ইবন আবান রাকাশী হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে যঈফ।
৩২৫৬. আলী ইবন সাঈদ কিন্দী (রহঃ) ....... আবদুল্লাহ্ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর জনৈক ভ্রাতুষ্পুত্র থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে যখন (বিদ্রোহীদের কর্তৃক হত্যার) পরিকল্পনা করা হয় সে সময় আবদুল্লাহ্ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কাছে এলেন। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেনঃ আপনি কেন এসেছেন? তিনি বললেনঃ আপনার সাহায্যের জন্য এসেছি।
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আপনি (বিদ্রোহী) লোকদের কাছে যান এবং আমার থেকে এদের হটিয়ে রাখুন। আপনি ভিতরে থাকার চেয়ে বাইরে (গিয়ে এদের হটানো ব্যবস্থায়) থাকা আমার জন্য বেশী কল্যাণকর।
আবদুল্লাহ্ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেলেন। তাদের বললেনঃ হে লোক সকল! জাহিলী যুগে আমার নাম ছিল অমুক (হাসীন)। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নাম রাখেন আবদুল্লাহ আমার বিষয়ে আল্লাহর কিতাবে একাধিক আয়াত নাযিল হয়েছে। আমার প্রসঙ্গেই নাযিল হয়েছিলঃ
وشَهِدَ شَاهِدٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى مِثْلِهِ فَآمَنَ وَاسْتَكْبَرْتُمْ إِنَّ اللَّهَ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
বানূ ইসরাঈলের একজন সাক্ষী (আবদুল্লাহ্ ইবন সালাম) এর অনুরূপ (এক কিতাবে) সাক্ষী দিয়েও এতে (আল-কুরআনে) ঈমান এনেছে। আর তোমরা করলে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন। আল্লাহ্ জালিমদের হেদায়ত করেন না (সূরা আহকাফ ৪৬ঃ১০)।
আমার বিষয়ে আরো নাযিল হয়েছেঃ
قلْ كَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَمَنْ عِنْدَهُ عِلْمُ الْكِتَابِ
আল্লাহ্ এবং যার নিকট কিতাবের জ্ঞান আছে (আবদুল্লাহ) সে আমার ও তোমাদের মাঝে সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট (সূরা রাদ ১৩ঃ ৪৩)।
আল্লাহর তরবারী তোমাদের থেকে খাপবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তোমাদের এই শহর যেখানে তোমাদের নবী অবতরণ করেছেন। ফেরেশতারা এখানে তোমাদের প্রতিবেশী। এই মহান ব্যক্তির (উছমান) হত্যার বিষয়ে তোমরা আল্লাহ কে ভয় কর। আল্লাহর কসম, তোমরা তাঁকে হত্যা করলে তোমাদের প্রতিবেশী (রহমতের) ফেরেশতাগণকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আল্লাহর খাপবদ্ধ কোষমুক্ত হয়ে যাবে। কিয়ামত পর্যন্ত আর তা কোষবদ্ধ হবে না।
রাবী বলেন, তখন বিদ্রোহীরা বললঃ এই ইয়াহূদীটিকে কতল কর, উছমানকে কতল কর।
হাদীসটি গারীব। শুআয়ব ইবন সাফওয়ান (রহঃ) এটিকে আবদুল মালিক ইবন উমায়র-উমার ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন সালাম-তার পিতামহ আবদুল্লাহ্ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে রিওয়ায়ত করেছেন।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৫৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২৫৭. আবদুর রহমান ইবন আসওয়াদ আবূ আমর বাসরী (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মেঘের ঘনঘটা দেখতেন তখন অস্থির হয়ে একবার সামনে যেতেন আরেকবার পেছনে যেতেন। বৃষ্টি হয়ে গেলে তাঁর পেরেশানী বিদূরিত হত। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ আমি এই বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ কি জানি এই মেঘ হয়ত এমনও হতে পারে যেমন আল্লাহ্ তা’আলা এই আয়াতে ইরশাদ করেছেনঃ
فلمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا
তারা যখন তাদের উপত্যকার দিকে মেঘ আসতে দেখল তখন তারা বলতে লাগলঃ এই তো মেঘ আমাদের বৃষ্টি দান করবে। কিন্তু পরিণাম তা তাদের জন্য আযাব বয়ে নিয়ে আসে (সূরা আহকাফ ৪৬ঃ ২৪)।
সহীহ, সহীহাহ ২৭৫৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৫৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান।
৩২৫৮. আলী ইবন হুজর (রহঃ) ...... আলকামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। জিনদের সঙ্গে নবীজীর যেদিন সাক্ষাতকার হয় সেদিন আপনাদের কেউ কি তাঁর সঙ্গে ছিলেন?
তিনি বললেনঃ না, আমাদের কেউ সেদিন তাঁর সঙ্গে ছিল না। মক্কা থাকাকালে একরাতে আমরা তাঁকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আমরা ভাবছিলাম, তাঁকে গোপনে হত্যা করে ফেলেছে না কি? তাঁকে কোন জিনে উড়িয়ে নিয়েছে কি? কি হয়েছে তাঁর? সবচেয়ে অস্থির রাত আমরা কাটালাম। শেষে যখন ভোর হয়ে এল বা ঊষার মুখে হঠাৎ আমরা তাঁকে পেলাম। তিনি হেরার দিক থেকে আসছেন। তাঁরা (সাহাবীরা) তাঁকে তারা যে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তা বললেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জিনদের পক্ষ থেকে একজন আমন্ত্রণকারী আমার কাছে এসেছিল। এরপর আমি তাদের কাছে পৌঁছলাম এবং তাদেরকে কুরআন পাঠ করে শুনালাম।
ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এরপর নবীজী আমাদের নিয়ে চললেন এবং তাদের চিহ্ন ও তাদের আগুনের চিহ্ন আমাদের দেখালেন। শা’বী (রহঃ) বলেনঃ এরা ছিল জাযীরা অঞ্চলের জিন। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে খাদ্যের দরখাস্ত জানায়।
তিনি বললেনঃ যে হাড্ডি (আহারের সময়) বিসমিল্লাহ্ বলে আহার করা হবে তা তোমাদের হাতে আরো অধিক মাংস পূর্ণ হয়ে আসবে। আর উটের বিষ্ঠা বা গোবর তোমাদের পশু খাদ্য রূপে পাবে।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা হাড্ডি ও বিষ্ঠা দিয়ে ইস্তিঞ্জা করবে না। কারণ এ দু’টো হল তোমাদের ভাই জিনদের খাদ্য।
اسْمُ اللَّهِ و عَلَفٌ لِدَوَابِّكُمْ ব্যাতিত হাদিসটি সহিহ, যঈফাহ ১০৩৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৫৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সূরা মুহাম্মাদ
হাদিস নং ৩২৫৯সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه : (واسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ) فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةً " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . - وَيُرْوَى عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَيْضًا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ " . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ " . وَرَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৩২৫৯. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ....... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, (واسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ) - ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার এবং মু’মিন নর-নারীদের ক্রটির জন্য (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭ঃ ১৬)। আয়াত প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি দিনে সত্তরবারও আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার করি।
সহীহ, বুখারি ৬৩০৭, তাতে আছে সত্তর বারেরও বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি আল্লাহর নিকট প্রতিদিন শতবার ইস্তিগফার করি। এটি মুহাম্মাদ ইবন আমর আবূ সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে আবূ হারায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
৩২৬০. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, (وإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لاَ يَكُونُوا أَمْثَالَكُمْ) - যদি তোমরা বিমূখ হও তবে তিনি অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলবর্তী করবেন। আর তারা হবে না তোমাদের মত (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭ঃ ৩৮)। আয়াতটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন। সাহাবীগণ বললেনঃ কারা আমাদের স্থলবর্তী হবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাঁধে হাত মারলেন। পরে বললেনঃ এ এবং এর কওম।
সহীহ, সহীহাহ ২য় সংস্করণ ১০১৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি গারীব। এর সনদটি বিতর্কিত। আবদুল্লাহ্ ইবন জা’ফর (রহঃ)-ও এই হাদীসটি আলা ইবন আবদুর রহমান সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
৩২৬১. আলী ইবন হুজর (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতিপয় সাহাবী একদিন বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যদি বিমুখ হই তবে অন্য জাতিকে আমাদের স্থলবর্তী করা হবে এবং তারা আমাদের মত হবে না বলে আল্লাহ্ তা’আলা যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তারা কারা?
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু সে সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উরূতে থাপ্পড় দিয়ে বললেনঃ এ এবং এর সঙ্গীরা। যাঁর হাতে আমার প্রাণ সে সত্তার কসম, ঈমান যদি ছুরাইয়া নক্ষত্রেও লটকে থাকে তবে পারস্যের লোকেরা সেখান থেকেও তা নিয়ে আসবে।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিমে হাদিসের শেষ অংশ বর্ণিত হয়েছে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইবন জা’ফর ইবন নাজীহ (রহঃ) হলেন আলী ইবন মাদীনী (রহঃ)-এর পিতা। আলী ইবন হুজর (রহঃ) বহু হাদীস আবদুল্লাহ্ ইবন জা’ফর (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটি আলী (রহঃ) আমাদেরকে ইসমাঈল ইবন জা’ফর ইবন নাজীহ (রহঃ) এর বরাতে রিওয়ায়ত করেছেন।
সূরা ফাতহ
হাদিস নং ৩২৬২সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَثْمَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رضى الله عنه يَقُولُ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ فَكَلَّمْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَكَتَ ثُمَّ كَلَّمْتُهُ فَسَكَتَ ثُمَّ كَلَّمْتُهُ فَسَكَتَ فَحَرَّكْتُ رَاحِلَتِي فَتَنَحَّيْتُ وَقُلْتُ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ نَزَرْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَ مَرَّاتٍ كُلُّ ذَلِكَ لاَ يُكَلِّمُكَ مَا أَخْلَقَكَ أَنْ يَنْزِلَ فِيكَ قُرْآنٌ قَالَ فَمَا نَشِبْتُ أَنْ سَمِعْتُ صَارِخًا يَصْرُخُ بِي قَالَ فَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " يَا ابْنَ الْخَطَّابِ لَقَدْ أُنْزِلَ عَلَىَّ هَذِهِ اللَّيْلَةَ سُورَةٌ مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي بِهَا مَا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ : (إنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا ) " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ وَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْ مَالِكٍ مُرْسَلاً .
বর্ণনাকারী: আসলাম (রাঃ)
৩২৬২. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ....... আসলাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছিঃ আমরা কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কথা বলতে গেলাম। কিন্তু তিনি চুপ করে রইলেন। এরপর আবার কথা বললাম কিন্তু তিনি চুপ করে রইলেন। তখন আমি আমার বাহন উটটি চালিয়ে সরে এলাম। আমি নিজেকে লক্ষ্য করে বললামঃ হে খাত্তাবের বেটা, তোমার মা পুত্রহারা হোন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তুমি তিন তিনবার একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছ কিন্তু তিনি একবারও তোমার সঙ্গে কথা বলেন নি। তোমার বিষয়ে কুরআনে কিছু নাযিল হওয়াটা বিচিত্র নয়। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বেশীক্ষণ অপেক্ষা করতে পারি নি অমনি জনৈক আহবানকারীকে আমার নাম নিয়ে ডাকতে শুনতে পেলাম। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম। তিনি বললেনঃ হে খাত্তাব পুত্র। আজ রাতে আল্লাহ্ তা’আলা আমার উপর এমন একটি সূরা নাযিল করেছেন, যার বিনিময়ে সূর্যোদিত হয় এমন সব জিনিস (পৃথিবীর সবকিছু) লাভও আমার প্রিয় নয়। সেটি হলঃ (إنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا)
সহীহ, বুখারি ৪৮৩৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৬২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ।
হাদিস নং ৩২৬৩সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه قَالَ أُنْزِلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمَ : (ليغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ ) مَرْجِعَهُ مِنَ الْحُدَيْبِيَةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَىَّ آيَةٌ أَحَبُّ إِلَىَّ مِمَّا عَلَى الأَرْضِ ثُمَّ قَرَأَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِمْ فَقَالُوا هَنِيئًا مَرِيئًا يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَدْ بَيَّنَ اللَّهُ لَكَ مَاذَا يُفْعَلُ بِكَ فَمَاذَا يُفْعَلُ بِنَا فَنَزَلَتْ عَلَيْهِ : ( ليُدْخِلَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأَنْهَارُ ) حَتَّى بَلَغَ : (فوزًا عَظِيمًا ) قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَفِيهِ عَنْ مُجَمِّعِ بْنِ جَارِيَةَ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৩২৬৩. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (ليغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ) - যেন আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যত ক্রটিসমূহ মার্জনা করেন (সূরা ফাতহ ৪৮ঃ ২)। এই আয়াতটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুদায়বিয়া থেকে ফেরার সময় নাযিল হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার উপর এমন একটি আয়াত নাযিল হয়েছে যেটি আমার নিকট পৃথিবীর সবকিছূ থেকে প্রিয়। এরপর তিনি উক্ত আয়াতটি তাঁদের পাঠ করে শুনালেন। সাহাবীগণ বললেনঃ মুবারকবাদ আপনার জন্য। স্বাচ্ছন্দময় ও অনাবিল জীবন হোক আপনার হে আল্লাহর রাসূল। আপনার সঙ্গে কি আচরণ করা হবে তা তো আল্লাহ্ তা’আলা স্পষ্ট করে বলে দিলেন। কিন্তু আমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে? তখন নাযিল হলঃ
ليُدْخِلَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأَنْهَارُ
আর তা এই জন্য যে, তিনি মু’মিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের দাখিল করবেন জান্নাতে যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত সেথায় তারা স্থায়ী হবে এবং তিনি তাদের পাপ মোচন করে দিবেন। এটাই তো আল্লাহর কাছে মহা সাফল্য (সূরা ফাতহ ৪৮ঃ ৫)।
فَقَالُوا هَنِيئًا ...الخ এই অংশটুকু মুরসাল, মুসলিম ৫/১৭৬ আনাস হতে ওই অতিরিক্ত অংশ ব্যাতিতি, তা শাজ।]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে মুজাম্মি’ ইবন জারিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস নং ৩২৬৪সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ ثَمَانِينَ، هَبَطُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ مِنْ جَبَلِ التَّنْعِيمِ عِنْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ وَهُمْ يُرِيدُونَ أَنْ يَقْتُلُوهُ فَأُخِذُوا أَخْذًا فَأَعْتَقَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللَّهُ : ( هُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ ) الآيَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৩২৬৪. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ....... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস বর্ণিত যে, (হুদায়বিয়ার সন্ধিকালে) তানঈম পাহাড় থেকে আশিজন কাফির নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীদের উপর ফজরের সালাতের সময় অতর্কিতে চড়াও হয় এরা তাঁদের হত্যা করতে চাইছিল। কিন্তু তারা ধরা পড়ে এবং বন্দী হয় অনন্তর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের মুক্ত করে দেন। এতদ সংশ্রবে আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ (هُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ) - তিনিই মক্কা উপত্যকায় এদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত এদের থেকে নির্বারিত রেখেছেন, এদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করার পর। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ্ তার সম্যক দ্রষ্টা (সূরা ফাতহ ৪৮ঃ ২৪)।
সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ২৪০৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৬৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২৬৫. হাসান ইবন কাযাআ বাসরী (রহঃ) ..... উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেকে বর্ণিত যে, (وألْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَى) তাদের সূদৃঢ় করলেন তাকওয়ার কলেমায় (সূরা ফাতহ ৪৮ঃ ২৬) এ তাকাওয়ার কলেমা হল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
হাদীসটি গারীব। হাসান ইবন কাযাআ (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি মারফূ’রূপে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। আমি আবূ যুরআ (রহঃ)-কে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনিও এই সূত্র ছাড়া এটিকে মারফূ’ হিসাবে বর্ণিত বলে চিনতে পারেন নি।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২৬৬. মুহাম্মাদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। আকরা’ ইবন হাবিস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তাকে তার কাওমের প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ করুন।
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তাকে প্রশাসক নিয়োগ করবেন না। তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে কথা কাটাকাটি করতে শুরু করেন। এমনকি তাদের আওয়াজ উচ্চ হয়ে পড়ে। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেন, আমার বিরোধিতা ছাড়া আপনি অন্য কিছু চাচ্ছেন না। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি আপনার বিরোধিতা করতে চাই না। রাবী বলেন, তখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ
হে মু’মিনগণ, তোমরা নবীর কন্ঠস্বরের উপর নিজেদের কন্ঠস্বর উঁচু করবে না (সূরা হুজুরাত ৪৯ঃ ২)।
রাবী বলেন, এরপর থেকে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যখন কথা বলতেন তখন এত নিম্নস্বরে কথা বলতেন যে, পুনঃ জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত তাঁর আওয়াজ শুনা যেত না।
সহীহ, বুখারি ৪৮৪৫, ৪৮৪৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৬৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
বর্ণনাকারী বলেন, ইবন যুবায়র তাঁর মাতামহ আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর আচরণ সম্পর্কে এতে কিছু উল্লেখ করেননি।
হাদীসটি গারীব-হাসান। কোন কোন রাবী এটিকে ইবন আবী মুলায়কা (রহঃ) এর বরাতে মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। সনদে আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নাম তারা উল্লেখ করেননি।
৩২৬৮. আবদুল্লাহ্ ইবন ইসহাক জাওহারী বাসরী (রহঃ) .... আবূ জাবীরা ইবন যাহহাক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের এক ব্যক্তির দুটো তিনটে নাম থাকত। এর কোনটি দিয়ে ডাকা হলে সে সম্ভবত তা অপছন্দ করত। এ প্রসঙ্গে এই আয়াত নাযিল হয়ঃ (وَلاَ تَنَابَزُوا بِالأَلْقَابِ) তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না (সূরা হুজুরাত ৪৯ঃ ১১)।
সহীহ, সহীহ ইবনু মাজাহ ৩৭৪১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ সালামা ইয়াহ্ইয়া ইবন খালাফ (রহঃ) আবূ জাবীরা ইবন যাহহাক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। আবূ জাবীরা ইবন যাহহাক রাদিয়াল্লাহু আনহু হলেন ছাবিত ইবন যাহহাক আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ভাই।
৩২৬৯. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আবূ নাযরা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন তিলাওয়াত করলেনঃ
واعْلَمُوا أَنَّ فِيكُمْ، رَسُولَ اللَّهِ لَوْ يُطِيعُكُمْ فِي كَثِيرٍ مِنَ الأَمْرِ لَعَنِتُّمْ
তোমরা জেনে রাখ, তোমাদের মাঝে রয়েছেন আল্লাহর রাসূল। অধিকাংশ বিষয়ে তিনি তোমাদের কথা মানলে তোমরাই কষ্ট পেতে (সূরা হুজুরাত ৪৯ঃ ৭)। পরে বললেনঃ ইনি তোমাদের নবী। তাঁর কাছে ওহী আসে। (আর সাহাবীরা হলেন) তোমাদের শ্রেষ্ঠ ইমাম। নবীজী যদি অধিকাংশ বিষয়ে তাঁদের মত লোকদের কথা শুনতেন তবে (পরিণামে) তাদেরও কষ্ট হত। আর আজ তোমাদের কি অবস্থা হবে?
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি গারীব-হাসান-সহীহ। আলী ইবন মাদীনী (রহঃ) বলেন, আমি ইয়াহ্ ইয়া ইবন সাঈদ কাত্তান (রহঃ)-কে মুস্তামির ইবন রায়্যান (রহঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেনঃ ইনি ছিকা বা নির্ভরযোগ্য।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২৭০. আলী ইবন হুজর (রহঃ) ...... ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। বললেনঃ হে লোক সকল! আল্লাহ্ তা’আলা জাহিলী যুগের অন্ধ অহমিকা এবং পিতৃপুরুষদের নিয়ে গর্ব করার প্রথা ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন। মানুষ হল দু’ধরনের। এক প্রকার হল সৎ, পরহেযগার এবং আল্লাহর নিকট মর্যাদাবান। আরেক প্রকার হল অসৎ, বদবখত এবং আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট। মানুষ হল আদম-এর সন্তান। আল্লাহ্ তা’আলা আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ
يا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
হে মানুষ, আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, পরে তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে। যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাবান যে অধিক মুত্তাকী। আল্লাহ্ সবকিছু জানেন। সব খবর রাখেন (সূরা হুজুরাত ৪৮ঃ ১৩)।
সহীহ, সহীহাহ ২৭০০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৭০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ছাড়া আবদুল্লাহ্ ইবন দীনার-ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে বর্ণিত হাদীস হিসাবে এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আবদুল্লাহ্ ইবন জা’ফর যঈফ। ইয়াহ্ইয়া ইবন মাঈন প্রমুখ (রহঃ) তাকে যঈফ বলে মত প্রকাশ করেছেন। ইনি হলেন আলী ইবন মাদীনী (রহঃ)-এর পিতা। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা ও আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
৩২৭১. ফাযল ইবন সাহল বাগদাদী আ’রাজ প্রমুখ (রহঃ) ...... সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কুলীনত্ব হল বিত্ত-বৈভবের নাম আর মান-মর্যাদা হল তাকওয়ার নাম।
সহীহ, ইরওয়া ১৮৭০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
সামূরা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়ত হিসাবে হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ। সাল্লাম ইবন আবূ মুতী (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
৩২৭২. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নাম বলতে থাকবে, আরো আছে কি? শেষে সুমহান রব তাঁর পা তাতে স্থাপন করবেন। সে তখন বলবেঃ কাত্ কাত্, হয়েছে হয়েছে। তোমার ইযযতের কসম, হয়েছে। তার একাংশ অন্যাংশের মধ্যে প্রবিষ্ট হয়ে যাবে।
সহীহ, যিলালুল জান্নত ৫৩১,৫৩৪, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৭২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই সূত্রে গারীব। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বরাতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
৩২৭৩. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... রাবীআ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনায় এসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। তাঁর কাছে আদ জাতির প্রতিনিধির কথা আলোচনা করা হয়। আমি বললামঃ আদ প্রতিনিধির মত হওয়া থেকে আমি আল্লাহর পানাহ চাই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদ প্রতিনিধির বিষয়টি কি?
আমি বললামঃ অবহিত একজনের কাছেই জিজ্ঞাসা করেছেন। আদ জাতি যখন অনাবৃষ্টিতে নিপতিত হল তখন তারা কায়লকে তাদের প্রতিনিধি হিসাবে (মক্কায় প্রার্থনার জন্য) প্রেরণ করে। সে মক্কার বকর ইবন মুআবিয়ার আতিথ্য গ্রহণ করে। বকর তাকে মদ পান করায় এবং জারাদা নমের দুই গায়িকা তাদের গান গেয়ে শোনায়। পরে সে মাহরা পাহাড়ের দিকে রওয়ানা দেয় সেখানে গিয়ে সে বললঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কোন অসুস্থ ব্যক্তির বিষয়ে আসিনি যে তাকে চিকিৎসা করাব, কোন বন্দীর বিষয়ে আসিনি যে তার মুক্তপণের ব্যবস্থা করব। আপনার বান্দাদের পানি বর্ষণ করুন, যাদের আপনি পানি সিঞ্চন করছেন না।
মদ্য পান করানোর জন্য বকর ইবন ওয়াইলের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বললঃ এতদসঙ্গে বকর ইবন ওয়াইলের জন্যও পানি বর্ণন করুন। আকাশে বহু মেঘ দেখা দিল। বলা হলঃ এগুলোর একটিকে গ্রহণ কর। সে নিকষ কাল একটি মেঘ গ্রহণ করল। বলা হলঃ বিচূর্ণ ভস্ম নাও। আদ জাতির আর কাউকে ছাড়বে না। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন যে, এই আংটিটির পরিমাণ বায়ূ তাদের বিরুদ্ধে প্রেরিত হয়েছিল। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ
إذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيحَ الْعَقِيمَ * مَا تَذَرُ مِنْ شَيْءٍ أَتَتْ عَلَيْهِ إِلاَّ جَعَلَتْهُ كَالرَّمِيمِ
যখন আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম অকল্যাণকর বায়ূ। যা কিছুর উপর দিয়ে তা প্রবাহিত হল তা সব কিছূই চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল (সূরা যারিয়াত ৫১ঃ৪১-৪২)।
হাসান, যঈফ হাদিস সিরিজ হাঃ ১২২৮ এর একাংশ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৭৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
একাধিক রাবী এই হাদীসটিকে সালাম আবুল মুনযির-আসিম ইবন আবূ নাজুদ-আবূ ওয়াইল-হারিস ইবন হাসসান (হারিছ ইবন ইয়াযীদ নামেও কথিত) রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
৩২৭৫. আবূ হিশাম রিফাঈ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
إِدْبَارُ النُّجُومِ الرَّكْعَتَانِ قَبْلَ الْفَجْرِ وَإِدْبَارُ السُّجُودِ الرَّكْعَتَانِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ
তার পবিত্রতা ঘোষণা কর রাত্রিকালে এবং তারকার অস্তগমনের পরও (সূরা তূর ৫২ঃ ৪৯) হল ফজরের পূর্বের দু’রাকআত সুন্নাত। আর ...... সালাতের পরও (সূরা কাফ ৫০ঃ ৪০) হল বাদ মাগরিব দু’রাকআত সুন্নাত।
যঈফ, যঈফা ২১৭৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৭৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি গারীব। মুহাম্মাদ ইবন ফুযায়ল-রিশদ্বীন ইবন কুরায়ব (রহঃ) সূত্র ছাড়া এটি মারফূ’ বলে আমাদের জানা নেই। মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল বুখারী (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। কুরায়ব-এর দুই পুত্র মুহাম্মাদ এবং রিশদীনের মাঝে অধিকতর আস্থাযোগ্য কোনজন?
তিনি বললেনঃ এরা কতই না পরস্পর সন্নিকট, তবে আমার মতে মুহাম্মাদ অধিক নির্ভরযোগ্য। এই বিষয়ে আবদুল্লাহ্ ইবন আবদুর রহমান দারিমী (রহঃ)-কেও আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেনঃ এরা পরস্পর কতই না সন্নিকট। তবে আমার দৃষ্টিতে তাদের মাঝে রিশদ্বীন ইবন কুরায়ব (রহঃ) অধিকতর নির্ভরযোগ্য।
আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, আবূ মুহাম্মাদ দারিমী যে মত ব্যক্ত করেছে সেটিই ঠিক। মুহাম্মাদ (রহঃ)-এর তুলনায় রিশদ্বীন (রহঃ) অধিকতর আস্থাযোগ্য। রিশদ্বীন (রহঃ) ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে পেয়েছেন এবং তাকে দেখেছেন।
৩২৭৬. ইবন আবু উমর (রহঃ) ...... ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মি’রাজের সময়) সিদরাতুল মুন্তাহায় গিয়ে পৌছলে তাঁকে আল্লাহ্ তা’আলা সেখানে এমন তিনটি জিনিস দান করলেন যা তাঁর পূর্বের আর কোন নবীকে তিনি দেননি। সিদরাতুল মুন্তাহা হল এমন একটি স্থান যেখানে পৃথিবীর যা কিছু আছে তা সেখানে উত্থিত হয় আর ঊর্ধলোকে যা আছে তা অবতারিত হয় সে তিনটি জিনিস হলঃ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায) ফরয করা হল, সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো দেওয়া হল তাঁকে আর আল্লাহর সঙ্গে শিরক না করা পর্যন্ত তাঁর উম্মতের বড় বড় গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হল। ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু (إذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى) - যখন বৃক্ষটি যদ্ধারা আচ্ছদিত হওয়ার তদ্বারা ছিল আচ্ছাদিত ( সূরা নাজম ৫৩ঃ ১৬) প্রসঙ্গে বলেনঃ সিদরা বৃক্ষটি হল ষষ্ঠ আকাশে।
সুফইয়ান (রহঃ) তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে তা নাড়িয়ে বললেনঃ (বৃক্ষটিকে আচ্ছাদিত করে আছে) স্বর্ণ পতঙ্গ। রাবী মালিক ইবন মিগওয়াল (রহঃ) ব্যতীত অন্যান্যরা বলেনঃ সিদরা পর্যন্ত গিয়েই শেষ হয়ে যায় সৃষ্টির জ্ঞান। এর ঊর্ধলোকের জ্ঞান তাদের নেই।
সহীহ, মুসলিম ১/১০৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৭৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২৭৭. আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ..... শায়বানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (فكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى) - তাদের মাঝে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল বা আরো কম (সূরা নাজম ৫৩ঃ ৮) আয়াতটি প্রসঙ্গে যিরর ইবন হুবায়শ (রহঃ)-কে জিজ্ঞসা করেছিলাম। তিনি বললেনঃ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে অবহিত করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ)-কে দেখেছিলেন। তাঁর পাখা হল ছয়শ’।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৭৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
৩২৭৮. ইবন আবূ উমর (রহঃ)..... শাবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আরাফায় ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে কা’ব আহবার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাক্ষাৎ হয়। তিনি কা’বকে একটি বিষয়ে প্রশ্ন করলে কা’ব (এত জোরে) তাকবীর ধ্বনি দেন যে, পাহাড়ে পাহাড়ে তা প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠে। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমরা বানূ হাশিম।
কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর দর্শন ও কথন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মূসা (আঃ)-এর মাঝে বন্টন করে দিয়েছেন। মূসা (আঃ) তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন দু’বার আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখেছেন দু’বার।
মাসরূক (রহঃ) বলেনঃ আমি পরে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর কাছে গেলাম। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাঁর রবকে দেখেছেন?
তিনি বললেনঃ তুমি এমন এক কথা উচ্চারণ করেছ যে ভয়ে আমার লোম খাড়া হয়ে গেছে। আমি বললামঃ একটু ধীরে আম্মাজান। এরপর আমি পাঠ করলামঃ (لقَدْ رَأَى مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَى) তিনি তো তাঁর রবের মহান নিদর্শনাবলী দেখেছেন (সূরা আন-নাজম ৫৩ঃ ১৮)। তিনি বললেনঃ (আসল মর্ম ফেলে) কোথায় নিয়ে চলল তোমাকে? (তিনি যাঁকে দেখেছেন) ইতি তো হলেন জিবরীল। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবকে দেখেছেন বা তাঁকে যে সব বিষয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সে সবের কোন কিছু গোপন করে রেখেছেন বা (إنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ) আল্লাহর কাছেই রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান (সূরা লুকমান ৩১ঃ ৩৪)। আয়াতে যে পাঁচটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে সে পাঁচটি বিষয় তিনি জানেন বলে কেউ যদি তোমাকে খবর দেয় তবে সে আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দিল। আসলে তিনি জিবরীলকে দেখেছেন। কেবল মাত্র দু’বারই তিনি তাঁকে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখেছিলেন। একবার সিদরাতুল মুন্তাহার কাছে। আরেকবার (মক্কার) জিয়াদ উপত্যকায়। ছয় শ, পাখা আছে তাঁর। দিগন্ত ভরাট হয়ে গিয়েছিল তখন।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৭৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
দাঊদ ইবন আবূ হিন্দ (রহঃ) শা’বী-মাসরূক ... আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদীসটির অনুরূপ মর্মে রিওয়ায়ত করেছেন। দাঊদ (রহঃ) বর্ণিত হাদিসটি মুজালিদ (রহঃ) বর্ণিত অপেক্ষা সংক্ষিপ্ততর।
৩২৭৯. মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন নাবহান ইবন সাফওয়ান ছাকাফী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবকে দেখেছেন। আমি বললামঃ আল্লাহ্ তা’আলা কি বলেন নি যে, (لا تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الأَبْصَارَ) তিনি দৃষ্টির অধিগম্য নন কিন্তু দৃষ্টিশক্তি তার অধিগত(সূরা আনআম ৬ঃ ১০৩)। তিনি বললেনঃ বিনাশ হোক, এ অবস্থা হল তো তখন যখন তিনি তাঁর আসল নূরে তাজাল্লী করেন। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবকে দু’বার দেখেছেন।
যঈফ, যিলালুল জুন্নাহ ১৯০/৪৩৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৭৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-গারীব।
৩২৮২. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) .... আবদুল্লাহ্ ইবন শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে যদি পেতাম তবে একটি বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম। তিনি বললেনঃ কি বিষয়ে তাঁকে তুমি জিজ্ঞাসা করতে? আমি বললামঃ তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাঁর রবকে দেখেছেন? তিনি বললেনঃ (نُورٌ أَنَّى أَرَاهُ) - তিনি (আল্লাহ) তো জ্যোতির্ময় নূর। কেমন করে দেখব আমি তাঁকে।
সহীহ, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৮২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান।
৩২৮৪. আহমদ ইবন উছমান আবূ উছমান আল বাসরী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, (الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلاَّ اللَّمَمَ) - ছোট-খাট ত্রুটি করলেও যারা বিরত থাকে কবীরা গুনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে (সূরা নাজম ৩২ঃ ৩২) প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ্, মাফ করবে যদি তবে বড় সব গুনাহ্ই মাফ করে দাও তুমি। এমন বান্দা কে আছে তোমার ছোট ছোট ত্রুটি যে নিপতিত হয় নি?
সহীহ, মিশকাত, তাহকিক ছানী হাঃ ২৩৪৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৮৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। যাকারিয়া ইবন ইসহাক (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
সূরা আল-কামার
হাদিস নং ৩২৮৫সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى فَانْشَقَّ الْقَمَرُ فِلْقَتَيْنِ فِلْقَةٌ مِنْ وَرَاءِ الْجَبَلِ وَفِلْقَةٌ دُونَهُ فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اشْهَدُوا " . يَعْنِي : (اقتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ ) قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৩২৮৫. আলী ইবন হুজর (রহঃ) ..... ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মিনায় ছিলাম। এমন সময় চাঁদ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল- একটি অংশ পাহাড়ের ওদিকে অপর অংশটি এদিকে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেনঃ (قتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ) - কিয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হল (সূরা কামার ৫৪ঃ ১) আয়াতটির মর্ম এই।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৮৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২৮৬. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ....... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কাবাসীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তাঁর নবুওয়াতের নিদর্শন দেখতে চাইল। তখন মক্কায় দু’বার চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ প্রসঙ্গে নাযিল হয়ঃ (اقتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ) - কিয়ামত আসন্ন, চন্দ্র হল বিদীর্ণ। এরা কোন নিদর্শন দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলেঃ এতো চিরাচরিত যাদু (সূরা কামার ৫৪ঃ ১-২)। (سحْرٌ مُسْتَمِرٌّ) যা বিলীন হয়ে যায়।
সহীহ, বুখারি ৩৬৩৭, ৪৮৬৭, ৪৮৬৮, মুসলিম হাঃ ৮/১৩৩; তবে এতে "নাযালাত" (অতঃপর নাযিল হল) শব্দের উল্লেখ নাই। বুখারির বর্ণনায় "মাররাতাইন" (দুই বার) এর স্থলে "ফিরকাতাইন" (দুই টুকরা) শব্দের উল্লেখ আছে। "মাররাতাইন" (দুইবার) শব্দ মুসলিমের বর্ণনায় আছে। তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৮৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং ৩২৮৭সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ انْشَقَّ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اشْهَدُوا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৩২৮৭. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ...... ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে চন্দ্র বিদীর্ণ হয়। তখন তিনি আমাদের বলেছিলেনঃ তোমরা লক্ষ্য করে দেখ (তোমরা সাক্ষী থাক)।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৮৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিস নং ৩২৮৮সহিহ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ انْفَلَقَ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اشْهَدُوا " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৩২৮৮. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) .... ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে চন্দ্র বিদীর্ন হয় তখন তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা দেখে রাখ (তোমরা সাক্ষী থাক)।
সহীহ, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৮৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২৮৯. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ....... জুবায়র ইবন মুতইম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে চন্দ্র বিদীর্ণ হয় এমন কি তা দু’টুকরা হয়ে যায়-এক টুকরা এই পাহাড়ে, আরেক টুকরা ঐ পাহাড়ে।
কাফিররা বললঃ মুহাম্মাদ আমাদের যাদু করেছে। তাদের কেউ কেউ বললঃ সে আমাদের যাদু করতে পারলেও সব মানুষকেই তো আর যাদু করতে পারবে না।
কোন কোন রাবী এই হাদীসটিকে হুসায়ন-জুবায়র ইবন মুহাম্মাদ ইবন জুবায়র ইবন মুত’ইম-তার পিতা-তার পিতামহ জুবায়র ইবন মুত’ইম রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৮৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২৯০. আবূ কুরায়ব ও আবূ বকর বুন্দার (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুশরিক কুরায়শরা একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তাকদীর সম্পর্কে বিতন্ডা করতে এল। এই প্রসঙ্গে নাযিল হয়ঃ
يومَ يُسْحَبُونَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ ذُوقُوا مَسَّ سَقَرَ * إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَ
যে দিন এদেরকে উপুড় করে টেনে নেওয়া হবে জাহান্নামের দিকে সে দিন এদেরকে বলা হবে জাহান্নামের যন্ত্র্রণা আস্বাদন কর। আমি তো প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছি তাকদীর অনুসারে (সূরা কামার ৫৪ঃ ৪৮-৪৯)।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৮৩, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৯০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২৯১. আবদুর রহমান ইবন ওয়াকদ আবূ মুসলিম (রহঃ) ....... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের কাছে বের হয়ে এলেন। তাঁদের কাছে তিনি সূরা আর-রাহমান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন। তাঁর সকলেই চুপ করে শুনলেন। তিনি শেষে বললেনঃ জিন-রজনীতেও আমি এই সূরা জিনদেরকে তিলাওয়াত করে শুনিয়াছিলাম। তোমাদের তুলনায় উত্তম প্রতিউত্তর দাতা ছিল তারা। যখনই আমি, (فبأَىِّ آلاَءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ) ’’সুতরাং তোমরা উভয় সম্প্রদায় তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করব?’’ এ আয়াত তিলাওয়াত করতাম। তখনই তার বলতঃ (لاَ بِشَيْءٍ مِنْ نِعَمِكَ رَبَّنَا نُكَذِّبُ فَلَكَ الْحَمْدُ) ’’তোমরা নিয়ামতের কোন কিছুই আমরা অস্বীকার করি না হে আমাদের প্রভু। সব তারীফ তো তোমারই।’’
হাসান, সহীহাহ ২১৫০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৯১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি গারীব। ওয়ালীদ ইবন মুসলিম-যুহায়র ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীস ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) বলেছেনঃ যে মুহাম্মাদ ইবন যুহায়র শামে ছিলেন তিনি যেন সেই যুহায়র নন, যাঁর বরাতে ইরাকে রিওয়ায়ত বর্ণনা করা হয়ে থাকে। বহু মুনকার হাদীস বর্ণনা করতে দেখে তাঁর নাম বদলে ফেলেছে। মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল বুখারী (রহঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি শামবাসীরা যুহায়র ইবন মুহাম্মাদ-এর রবাতে বহু মুনকার হাদীস বর্ণনা করে থাকে। ইরাকবাসীরা তাঁর বরাতে সহীহ হাদীস বর্ণনা করেন।
৩২৯২. আবু কুরায়ব ...... আবু আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আমার নেক বান্দাদের জন্য আমি এমন সব জিনিস তৈরী করে রেখেছি কোন চোখ যা দেখেনি কোন কান যা শুনেনি, কোন মানুষের হৃদয়ে যা উদয়ও হয়নি, তোমরা এর সমর্থনে ইচ্ছা করলে তেলাওয়াত করতে পারঃ (فلا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ) - কেউ জানেনা তাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদেও কৃত কর্মেও পুরস্কার স্বরূপ। (সূরা সাজদা ৩২ঃ ১৭)
জান্নাতে একশটি বৃক্ষ আছে। কোন আশ্বারোহী এর ছায়ায় শতবর্ষ চলেও তা আতিক্রম করতে পারবে না। ইচ্ছা করলে তোমরা পাঠ করতে পারঃ (وظِلٍّ مَمْدُودٍ) - দীর্ঘ সম্প্রসারিত ছায়া। (সূরা ওয়াকি’আ ৫৬ঃ ৩০)
জান্নাতের এশটি চাবুক পরিমান স্থানও পৃথিবী এবং এর সব কিছুহতে উত্তম। আচ্ছা হলে তোমরা পাঠ করতে পারঃ (فمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلاَّ مَتَاعُ الْغُرُورِ) - যাকে জাহান্নাম থেকে রাখাহবে দুওে এবং দাখিল করা হবে জান্নাতে,সে-ই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন তো ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়। (সূরা আল-ইমরান ৩ঃ ১৮৫)।
হাসান সহীহ, সহিহ হাদিস সিরিজ হাঃ ১৯৭৮, বুখারি "اقْرَءُوا" (তোমরা পাঠ কর) শব্দ ব্যাতিত বর্ণনা করেছেন, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৯২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩২৯৩. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন জান্নাতে একটি বৃক্ষ আছে। এর ছায়ায় কোন আশ্বারহী শতবর্ষ চলবে, তবুও সে তা অতিক্রম করতে পারবে না ইচ্ছা করলে তোমরা পাঠ করতে পারঃ (وَظِلٍّ مَمْدُودٍ * وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ) - (জান্নাতে) সম্প্রসারিত দীর্ঘ ছায়া আর সাদা প্রাবহমান পানি। (সূরা ওয়াকি’আ ৫৬ঃ ৩০-৩১)।
সহীহ, বুখারি ৪৮৮১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৯৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস বর্ণিত আছে।
৩২৯৪. আবু কুরায়ব (রহঃ) ...... আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত (وفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ) (জান্নাতে) সমুচ্চ লাভা সমূহ (সূরা ওয়াকি’আ ৫৬ঃ ৩৪) আয়াত প্রসঙ্গে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এর উচ্চতা যমীন থেকে আসমানের উচ্চতার সমান। আর এতদুভয়ের মাঝে হল পাঁচশ বছরের পথ।
যঈফ, তা’লীকুর রাগীব ৪/২৬২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৯৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। রিশদ্বীন (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
৩২৯৫. আহমাদ ইবন মানী (রহঃ) ...... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত। তিনি বলেন রাসূল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ (وتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ) তোমরা আস্বীকারকেই তোমাদের রিযক বানিয়ানিয়েছ। (সূরা ওয়াকি’আ ৫৬ঃ ৮২) আয়াত প্রসঙ্গে বলেছেনঃ (আল্লাহ কে স্বীকার করে রিযক প্রদানের জন্য তার শোকর আদায় করার স্থলে) বলে থাক যে, তোমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের স্বরূপ হচ্ছে এই যে, তোমরা বলে থাক অমুক রাশিচক্রের কারনে বা অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে। (অথচ উচিত ছিল সব কিছুকে আল্লাহর অনুগ্রহ দানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং তাঁর উপর ঈমান এনে তাঁর শোকর করা)।
হাদীসটি হাসান-গারীব। ইসরাঈলের হাদীস ছাড়া মারফু রূপে আমরা আর কিছু জানি না। সুফিয়ার (রহঃ) হাদীসটি আবদুল আ’লা (রহঃ) এর বারাতে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এটি মারফু করেনি।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৯৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২৯৬. আবু আম্মান হুসাইন ইবন হুরায়ছ খুযাই মারওয়াযী (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হইতে বর্ণিত তিনি বলেন (إنا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءً) তাদের (জান্নাতের নারীদের) আমি সৃষ্টি করেছি বিশেষ রূপে (সূরা ওয়াকি’আ ৫৬ঃ ৩৫) আয়াতটি প্রসঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সব নারী দুনিয়ায় ছিল জ্বারাগ্রস্থ চোখ দিয়ে পুজ পড়ত, চোখের কোনে ময়লা জমে থাকতো, তাদের তিনি জান্নাতে বিশেষ ভাবে সৃষ্টি করবেন।
হাদীসটি গারীব। মুসা ইবন উবায়দার সূত্র ছাড়া এটি মারফু’ রূপে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। মুসা ইবন উবায়দা এবং ইয়াযীদ ইবন আবান রাকাশী উভয়েই হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে যঈফ।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৯৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩২৯৭. আবু কুরায়ব (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন বললেনঃ ইয়া রাসাল্লাহ! আপনি বৃদ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি বললেনঃ আমাকে হুদ, ওয়াকি’আ, মুরসালাত, আম্মা-ইয়াতাসা আলুন-ই এবং ইযাশ-শামসু কুওবিরাত-এই সূরাগুলো বৃদ্ধ কওে ফেলেছে।
সহীহ, সহিহ হাদিস সিরিজ ৯৫৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৯৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। এ সূত্র ছাড়া ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রিওয়ায়াত হিসাবে এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানানেই। আলী ইবন আবি সালিহ (রহঃ) এ হাদীসটি আবু ইসহাক ... আবু জুহাইফা (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু ইসহাক ... আবু মায়সারা (রহঃ) সুত্রেও মুরসাল রূপে এরূপ কিছু বিষয় বর্ণিত আছে।
৩৩০০. সুফয়ান ইবন ওয়াকী (রহঃ) .... আলী ইবন আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বললেনঃ যখন নাযিল হলঃ
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَاجَيْتُمُ الرَّسُولَ فَقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَىْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَةً
হে মুমিনগণ! তোমরা রাসূলের সঙ্গে চুপি চুপি কথা বলতে চাইলে সাদকা প্রধান করবে (সূরা মুজাদালা ৫৮ঃ ১২)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি কি ভাবছ? এক দিনার করে দিতে পারবে? আমি বললামঃ এর ক্ষমতা নেই আমার।
তিনি বললেন তা হলে অর্ধ দীনার। আমি বললাম তাতেও আমি সক্ষম নই। তিনি বললেন তবে কত পার? আমি বললাম একটা যব পরিমান পারি। তিনি বললেন তুমি তো খুব গরীব। তখন নাযিল হলঃ (أأَشْفَقْتُمْ أَنْ تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَىْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَاتٍ) - তোমরা কি চুপি চুপি কথা বলার পূর্বে সদকা প্রধানকে কষ্ট কর মনে কর? তোমরা যখন সাদকা দিতে পারলে না আর আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিলেন। সুতারং তোমরা সালাত (নামায) আদায় কর। যাকাত দাও এবং আল্লাহ এবং তার রাসুলের অনুগত্য কর। তোমরা যা কর আল্লাহ তা সম্যক অবগত। (সূরা মুজাদালা ৫৮ঃ ১৩) আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমার কারনে আল্লাহ তায়ারা এই উম্মতকে এই বিধান সহজ করে দিলেন।
হাদীসটি হাসান-গরীব। এই সুত্রেই কেবল আমরা এই হাদীসটি জানি। ’’একটি যবের দানা’’ অর্থ হল যবের দানা পরিমান স্বর্ণ সদকা প্রধান করতে পারি।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩০০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩০১. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক বার এক ইয়াহুদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীদের কছে এসে বললঃ আসসামু আলাইকুম (আস-সাম অর্থ মৃত্যু, ধ্বংস। কিন্তু ইহুদীটি এমন ভাবে এর উচ্ছারণ করলো যে, সাহাবীগন মনে করলেন সে বুঝি আসসালামু বলেছে) তারা এর জবাব দিলেন। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ কি বলেছে তোমরা কি তা বুঝতে পেরেছ?
সাহাবীরা বলল আল্লাহ এবং তার রাসুলই ভাল জানেন। হে আল্লাহর নবী! এত সালাম করেছে। তিনি বললেন না সে ত অমুক কথা বলেছে। ইহুদীটিকে ফিরিয়ে নিয়ে এস। সাহাবীরা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুকি আমাদেরকে আসসামু আলাইকুম বলেছিলে?
সে বলল হ্যাঁ। তখন নবীজী (সঃ) বললেনঃ কোন কিতাবী ব্যক্তি (ইহুদী বা খৃষ্টান) যদি তোমাদের সালাম দেয় তবে তোমরা এর উত্তরে বলবেঃ ’আলাইকা মা কুলতাু’ তুমি যা বলেছ তাই তোমার উপর আপতিত হোক। আনন্তর তিনি পাঠ করলেনঃ
وإِذَا جَاءُوكَ حَيَّوْكَ بِمَا لَمْ يُحَيِّكَ بِهِ اللَّهُ
এরা যখন তোমাদের নিকট আসে তখন তারা তোমাকে এমন কথা দ্বারা আভিবাধন করে যাদ্বারা আল্লাহ তোমাকে আভিবাদন করেননি। তারা মনে মনে বলে আমরা যা বলি এর জন্য আল্লাহ আমাদের না জানি শাস্তি দিয়ে দেন। জাহান্নামই এদের যথাযোগ্য শাস্তি। যেখানে তারা প্রবেশ করবে। কত নিকৃষ্ট সেই আবাস। (সুরা মুজাদালা ৫৮ঃ ৮)।
সহীহ, ইরওয়া ৫/১১৭, মুসলিম আয়াতের উল্লেখ ব্যাতিত, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩০১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩৩০৩. হাসান ইবন মুহাম্মদ যা’ফরানী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেঃ (ما قَطَعْتُمْ مِنْ لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا) - তোমরা যে খেজুর বাগান গুলো কেটে ফেলেছ এবং যে গুলো কান্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ (সূরা হাশর ৫৯ঃ ৫) আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ (لِينَةٍ) অর্থ খেজুর গাছ। তা এ জন্য যে, আল্লাহ পাপাচারীদেও লাঞ্ছিত করবেন। (সূরা হাশর ৫৯ঃ ৫)
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ তাদের (বনু নাযীর গোত্রের ইয়াহুদীদের) কেল্লা থেকে নেমে আসতে এবং আত্মসমর্পন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এতদুদ্দেশ্যে তাদের খেজুর গাছ গুলো কেটে ফেলতেও সাহাবীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তাদের মাঝে কিছু দ্বিধা সন্দেহের উদ্রেক হয়। সাহাবীগণের কেউ কেউ বললেনঃ আমরাতো কিছু খেজুর গাছ কেটে ফেলেছি আর কিছু রেখে দিয়েছি। এই বিষয়ে অবশ্যই রাসসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করব যে আমরা যেগুলো কেটেছি তাতে কি কোন ছাওয়াব পাব আর যেগুলো ছেড়ে রেখে দিয়েছি সেগুলোর জন্য কি আমাদেও কোন গুনাহ হবে? এতদপ্রসঙ্গে আল্লাহ তা’য়ালা নাযিল করলেনঃ
ما قَطَعْتُمْ مِنْ لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا
হাদীসটি হাসান-গারীব। কোন কোন রাবী এ হাদীসটি হাফস ইবন গিয়াছ ... হাবীব ইবন আবু আমরা ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) সূত্রে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন। এতে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উল্লেখ নেই। আবুদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) সূত্রে মুরসাল রূপে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল বুখারী (রহঃ) এই হাদীসটি আমার নিকট থেকে শুনেছেন।
৩৩০৪. আবু কুরায়ব (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, জৈনক আনসারী ব্যক্তি রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কাছে এক বার এক মেহমান রাত কাটায়। আনসারী সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কাছে নিজের এবং বাচ্চাদের ক্ষুন্নি নিবৃত্তির পরিমান খাদ্য ছাড়া আহার করার মত আর কিছু ছিল না। তাই তিনি তার স্ত্রীকে বললেন শিশুদের ঘুম পাড়িয়ে দাও বাতি নিভিয়ে তোমার কাছে যা আছে, মেহমানের সামনে হাজির করে দাও। এতদপ্রসঙ্গে আয়াত নাযিল হলঃ (ويؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ) - তারা নিজেদের উপর (আন্যের) প্রধান্য দেয় যদিও নিজেরা অভাবগ্রস্ত (সূরা হাশর ৫৯ঃ ৯)।
সহীহ, সহীহ হাদিস সিরিজ ৩২৭২, বুখারি ও মুসলিম আরো পুর্নাঙ্গরূপে বর্ণনা করেছেন, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩০৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْتَحِنُ إِلاَّ بِالآيَةِ الَّتِي قَالَ اللَّهُ : (إذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ ) الآيَةَ .<br /> قَالَ مَعْمَرٌ فَأَخْبَرَنِي ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مَا مَسَّتْ يَدُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَ امْرَأَةٍ إِلاَّ امْرَأَةً يَمْلِكُهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৩৩০৬. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ (إذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ) যখন মুমিন নারীগণ আপনার কাছে বায়াত হতে আসে (সূরা মুমতাহানা ৬০ঃ ১২) আয়াতের বক্তব্যানুসারেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিক্ষা করতেন।
মা’মার (রহঃ) বলেনঃ আমাকে ইবন তাউস তার পিতা তাউস (রহঃ) এর বারাতে আবহিত করেছেন যে, নিজ কর্তৃত্বাধীন মহিলাদের ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাত অন্য কোন মহিলার হাত স্পর্শ করে নি।
সহীহ, বুখারি ৪৮৯১, মুসলিম ৬/২৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩০৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩৩০৭. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) .... উম্মু সালামা আনসারীয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ জনৈকা মহিলা বললঃ আমাদের নাফরমানী করা উচিত নয় বলে যে সৎকাজ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সেই সৎকাজটি কি? নবীজী বললেনঃ তোমরা (মৃতের জন্য) বিলাপ করবে না।
আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! উমুক! গোত্রের মেয়েরা আমার চাচার (বিলাপের) ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করেছিল। আমাকেও তো তাদের এ কাজের বদলা দিতে হবে। কিন্তু নবীজী আমাকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেন। আমি বার বার তাকে অনুরোধ করতে থাকলে শেষে তিনি আমাকে এর বদলা দিতে অনুমতি দেন। সেই ব্যক্তির বদলা হয়ে যাওয়ার পর থেকে এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমি কারো জন্য আর বিলাপ করিনি। ঐ মহিলাদের মধ্যে আমি ছাড়া এমন কেউ ছিল না যে বিলাপ করেনি।
হাসান, তা’লীক আলা ইবনু মাজাহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩০৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। এ বিষয়ে উম্মে আতিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে ও হাদীস বর্ণিত আছে। উম্মু সালামা আনসারীয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা হলেন আসমা বিনত ইয়াযীদ ইবন সাকান।
৩৩০৮. সালামা ইবন শাবীর (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহ তা’য়ালার বাণীঃ (إذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ) - প্রসঙ্গে বলেনঃ ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে যে সকল মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসতেন, তিনি তাদের আল্লাহর নামে শপথ করাতেন যে, আমি আমার স্বামীর প্রতি বিদ্বেষবশতঃ বের হইনি। আমি আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ভালবাসা ব্যতীত আর কোন উদ্দেশ্যে বের হইনি।
যঈফ, বিচ্ছিন্ন, ইতহাফুল খাইরাহ আল মাহরাহ ৮/১৭৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩০৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি গারীব।
৩৩০৯. আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমার (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতিপয় সাহাবী একবার এক সঙ্গে বসে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করলাম। আমরা বললাম আল্লহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি তা যদি জানতে পারতাম তবে তা আমরা করতাম। তখন আল্লাহ তা’য়ালা নাযিল করেনঃ
سبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ * يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لاَ تَفْعَلُونَ
আকাশমন্ডলি ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর প্রবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। হে মু’মিনগন তোমরা যা করো না, তা তোমরা বলো কেন? (সূরা সাফফ ৬১ঃ ১-২)
আবদুল্লাহ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতগুলো আমাদের পাঠ করে শুনান। আবু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে তা পাঠ করে শুনিয়েছেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন আবু সালামা (রহঃ) আমাদেরকে তা পাঠ করে শুনিয়েছেন। ইবন আছির (রহঃ) বলেন আওযাঈ (রহঃ) আমাদেরকে তা পাঠ করে শুনিয়েছেন। আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন কাছীর (রহঃ) আমাদের তা পাঠ করে শুনিয়েছেন।
আওযাঈ (রহঃ) থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে এই হাদীসটির সনদে মুহাম্মদ ইবন কাছীরের বৈপরীত্য রয়েছে। আওযাঈ ইয়াহইয়া ইবন আবু কাছীর-হিলাল ইবন মায়মুনা-আতা ইবন ইয়াসার কিংবা আবু সালামা আবদুল্লাহ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে ইবন মুবারক বর্ণনা করেছেন। ওয়ালীদ ইবন মুসলিম (রহঃ) এই হাদীসটি আওযাঈ (রহঃ) এর বারাতে মুহাম্মদ ইবন কাছীর (রহঃ) এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩০৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩১০. আলী ইবনে হুজর (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ যখন সূরা জুম’আ নাযিল হয় তখন আমরা রাসুলুল্লাহ এর কাছে ছিলাম। তিনি আমাদের তা তেলাওয়াত করে শুনালেন। (وآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ) এবং তাদের অন্যান্যদের জন্যও (তিনি এই রাসূলকে পাঠিয়েছেন) যারা এখন তাদের সঙ্গে মিলিত হয় নাই। (সূরা জুম’আ ৬২ঃ ৩) আয়াতটিতে পৌছলে জনৈক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরা কারা যারা এখনও আমাদের সঙ্গে মিলিত হয় নি?
তিনি এ ব্যাপারে কিছু বললেন না। রাবী বলেনঃ আমাদেও মাঝে সে সময় সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর তার হাত রাখলেন এবং বললেন সে সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ ঈমান যদি সূরাইয়্যা নক্ষত্রেও চলে যায়, তাদের কিছু লোক সেখান থেকেও তা নিয়ে আসবে।
সহীহ, সহীহ হাদিস সিরিজ ১০১৭, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণিত আছে। রাবী আবুল গায়স (রহঃ) এর নাম হল সালিম। তিনি আবদুল্লাহ ইবন মুতী এর আযাদকৃত গোলাম। ছওর ইবন যায়দ (রহঃ) হলেন মাদানী। ছওর ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) হলেন শামদেশীয়। হাদীসটি গারীব। আবদুল্লাহ ইবন জাফ’র (রহঃ) হলেন আলী ইবন মাদীনী (রহঃ) এর পিতা। ইয়াহইয়া ইবন মাঈন তাকে যঈফ বলেছেন।
হাদিস নং ৩৩১১সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ بَيْنَمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَائِمًا إِذْ قَدِمَتْ عِيرٌ الْمَدِينَةَ فَابْتَدَرَهَا أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى لَمْ يَبْقَ مِنْهُمْ إِلاَّ اثْنَا عَشَرَ رَجُلاً فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَنَزَلَتِ الآيَةُ : ( وإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا ) . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .<br /> <br /> حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
৩৩১১. আহমদ ইবন মানী (রহঃ) .... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে জুমা’আর খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় মদীনার তেজরতী কাফেলার আগমন ঘটে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীরা তখন সে দিকে দ্রুত ছুটে জান। তাদের মধ্য থেকে বারোজন ছাড়া আর কেউ বকী থাকলেনা। এদের মধ্যে আবু বকর, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন অন্যতম। এই প্রসঙ্গে নাযিল হয়ঃ (وإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا) - যখন তারা দেখল কোন তেজারত বা কোন কৌতুককর বিষয় তখন তারা সে দিকে চুটে গেল। (সূরা জুম’আ ৬২ঃ ১৯)।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। আহমদ ইবন মানী (রহঃ) জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সূরা আল-মুনাফিকুন
হাদিস নং ৩৩১২সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ كُنْتُ مَعَ عَمِّي فَسَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَىِّ ابْنَ سَلُولَ، يَقُولُ لأَصْحَابِهِ : ( لا تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى يَنْفَضُّوا ) و (لئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا الأَذَلَّ ) فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَمِّي فَذَكَرَ ذَلِكَ عَمِّي لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَعَانِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَحَدَّثْتُهُ فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَىٍّ وَأَصْحَابِهِ فَحَلَفُوا مَا قَالُوا فَكَذَّبَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَدَّقَهُ فَأَصَابَنِي شَيْءٌ لَمْ يُصِبْنِي قَطُّ مِثْلُهُ فَجَلَسْتُ فِي الْبَيْتِ فَقَالَ عَمِّي مَا أَرَدْتَ إِلاَّ أَنْ كَذَّبَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَقَتَكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى : ( إذا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ ) فَبَعَثَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَهَا ثُمَّ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ قَدْ صَدَّقَكَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)
৩৩১২. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি আমার চাচার কাছে ছিলাম। এমন সময় শুনলাম আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুল তার সঙ্গিদের বলছেঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের কিছু দিবে না যতক্ষন না তারা (তাঁকে ছেড়ে) সরে পড়ে। আমরা মদীনায় ফিরে গেলে সেখান থেকে প্রবলরা দুর্বলদের (মুসলিমদের) আবশ্যই বের করে দেবে।
আমি আমার চাচার কাছে এ কথাটি বললাম। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিষয়টি গোচরীভূত করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে পাঠালেন। তখন আমি তার নিকট বিষয়টি বর্ণনা করলাম।
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবন উবাই ও তার সঙ্গিদেও ডেকে পাঠালেন। তারা কসম করে বলল তারা এরূপ কথা বলেনি। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মিথ্যাবাদী এবং তাকে সত্য বলে সাব্যস্ত করলেন। এতে আমার এমন কষ্ট লাগল যে এরূপ কষ্ট আর কিছুতে কোন দিন পাইনি। আমি আমার ঘরে বসে গেলাম। আমার চাচা আমাকে বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ক্রেধ ও তৎকর্তৃক মিথ্যাবাদী সাবস্ত হওয়াই কি তোমার অভিপ্রায় ছিল।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা নাযিল করেনঃ (إذا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ ) যখন মুনাফিকরা তোমার নিকট আসে (সূরা আল মুনাফিকুন ৬৩ঃ ১)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোক পাঠিয়ে আমাকে ডেকে আনলেন। আমাকে সূরাটি পড়ে শুনালেন। পরে বললেন আল্লাহ তায়ালা তোমার সত্যবাদীতার ঘোষনা দিলেন।
সহীহ, বুখারি ৪৯০০, ৪৯০৪, মুসলিম ৮/১১৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস নং ৩৩১৩সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الأَزْدِيِّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ، قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ مَعَنَا أُنَاسٌ مِنَ الأَعْرَابِ فَكُنَّا نَبْتَدِرُ الْمَاءَ وَكَانَ الأَعْرَابُ يَسْبِقُونَّا إِلَيْهِ فَسَبَقَ أَعْرَابِيٌّ أَصْحَابَهُ فَسَبَقَ الأَعْرَابِيُّ فَيَمْلأُ الْحَوْضَ وَيَجْعَلُ حَوْلَهُ حِجَارَةً وَيَجْعَلُ النَّطْعَ عَلَيْهِ حَتَّى يَجِيءَ أَصْحَابُهُ . قَالَ فَأَتَى رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ أَعْرَابِيًّا فَأَرْخَى زِمَامَ نَاقَتِهِ لِتَشْرَبَ فَأَبَى أَنْ يَدَعَهُ فَانْتَزَعَ قِبَاضَ الْمَاءِ فَرَفَعَ الأَعْرَابِيُّ خَشَبَتَهُ فَضَرَبَ بِهَا رَأْسَ الأَنْصَارِيِّ فَشَجَّهُ فَأَتَى عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَىٍّ رَأْسَ الْمُنَافِقِينَ فَأَخْبَرَهُ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِهِ فَغَضِبَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ ثُمَّ قَالَ : (لا تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى يَنْفَضُّوا ) مِنْ حَوْلِهِ . يَعْنِي الأَعْرَابَ وَكَانُوا يَحْضُرُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ الطَّعَامِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِذَا انْفَضُّوا مِنْ عِنْدِ مُحَمَّدٍ فَائْتُوا مُحَمَّدًا بِالطَّعَامِ فَلْيَأْكُلْ هُوَ وَمَنْ عِنْدَهُ ثُمَّ قَالَ لأَصْحَابِهِ لَئِنْ رَجَعْتُمْ إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا الأَذَلَّ . قَالَ زَيْدٌ وَأَنَا رِدْفُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَسَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَىٍّ فَأَخْبَرْتُ عَمِّي فَانْطَلَقَ فَأَخْبَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَلَفَ وَجَحَدَ . قَالَ فَصَدَّقَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَذَّبَنِي قَالَ فَجَاءَ عَمِّي إِلَىَّ فَقَالَ مَا أَرَدْتَ إِلاَّ أَنْ مَقَتَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَذَّبَكَ وَالْمُسْلِمُونَ . قَالَ فَوَقَعَ عَلَىَّ مِنَ الْهَمِّ مَا لَمْ يَقَعْ عَلَى أَحَدٍ . قَالَ فَبَيْنَمَا أَنَا أَسِيرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ قَدْ خَفَقْتُ بِرَأْسِي مِنَ الْهَمِّ إِذْ أَتَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَرَكَ أُذُنِي وَضَحِكَ فِي وَجْهِي فَمَا كَانَ يَسُرُّنِي أَنَّ لِي بِهَا الْخُلْدَ فِي الدُّنْيَا . ثُمَّ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ لَحِقَنِي فَقَالَ مَا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ مَا قَالَ شَيْئًا إِلاَّ أَنَّهُ عَرَكَ أُذُنِي وَضَحِكَ فِي وَجْهِي . فَقَالَ أَبْشِرْ . ثُمَّ لَحِقَنِي عُمَرُ فَقُلْتُ لَهُ مِثْلَ قَوْلِي لأَبِي بَكْرٍ فَلَمَّا أَصْبَحْنَا قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُورَةَ الْمُنَافِقِينَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
৩৩১৪. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... যায়দ ইবন আকরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ গাযওয়ায়ে তাবুকে আবদুল্লাহ ইবন উবাই বলেছিলেন, আমরা যদি মদীনায় ফিরে যেতে পারি তবে সম্ভ্রান্তরা নিকৃষ্টদেরকে আবশ্যই সেখান থেকে বের করে দেবে। তখন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসি এবং বিষয়টি সম্পর্কে তাকে আবহিত করি। কিন্তু সে কসম করে বলে যে, এমন কথা সে বলেনি। এতে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাকে খুব নিন্দা করে। তারা বলল তুমি এরূপ করতে গেলে কেন?
আমি আমার বাড়ি চলে এলাম এবং ক্ষোভে-দুঃখে-চিন্তায় শুয়ে রইলাম। শেষে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন অথবা আমিই তার কাছে গেলাম। তিনি বললেন আল্লাহ তা’য়ালা তোমার সত্যবাদীতা প্রকাশ করছেন। এই প্রসঙ্গে নাযিল হয়ঃ (هم الَّذِينَ يَقُولُونَ لاَ تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى يَنْفَضُّوا) -(সূরা মুনাফিকুন ৬৩ঃ ৭)
সহীহ, বুখারি ৪৯০২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩৩১৫. ইবন আবু উমার (রহঃ) ...... জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমরা এক গাযওয়াহ অভিযানে ছিলাম। বর্ণনাকারী সুফয়ান (রহঃ) বলেন এটি ছিল বানু মুত্তালিক (মুরায়সী) যুদ্ধ। ঘটনাক্রমে একজন মুহাজির জনৈক আনসারীর নিতম্বে ঘুষি মারে। আনসারী ব্যক্তিটি তখন (সাহায্যের জন্য) আনসারীদের আহবান জানায়। এদিকে মুহাজির ব্যক্তিটি মুহাজিরদের আহবান জানায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বলেনঃ এ জাহেলী ডাক কেন? সাহাবীরা বললেনঃ জনৈক মুহাজির ব্যক্তি জৈনক আনসারীর নিতম্বে ঘুষি মেরেছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ছেড়ে দাও তা এত পুঁতিগন্ধময় কথা। আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুলও তা শুনল। সে বলল এরা এমন করেছে না কি? আল্লাহর কসম আমরা যদি মদীনায় ফিরে যেতে পারি তবে সম্ভ্রান্তরা (মদীনাবাসীরা) নিকৃষ্টদের (মুহাজিরদের) আবশ্যই সেখান থেকে বের করে দিবে।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন আমাকে ছেড়ে দিন ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ মুনাফিকটার গর্দান উড়েয়ে দেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ছেড়ে দাও ওকে। মুহাম্মদ তার সঙ্গিদের হত্যা করেছেু এ কথা যেন মানুষ না বলে। আমর ব্যতীত অন্যান্য রবীরা বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর ছেলে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পিতাকে বলেছিলেনঃ আল্লাহর কসম তুমি নিজে হীন এবং এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই সম্মানিত, এ কথা স্বীকার না করা পর্যন্ত তুমি যেতে পারবে না। শেষে তাকে তা স্বীকার করতে হল।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩৩১৬. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ কারো যদি এত পরিমান সম্পদ থাকে যে যদ্বারা সে তার বায়তুল্লাহ হজ্জ করতে পারে বা তার উপর যাকাত ফরয হতে পারে, আর যদি সে তা না করে, তবে মৃত্যুর সময় সে দুনিয়ায় ফিরে আসতে চাইবে।
জনৈক ব্যক্তি বললঃ হে ইবন আব্বাস! আল্লাহকে ভয় করুন, দুনিয়ায় তো কাফিররা ফিরে আসতে চাইবে। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ এ বিষয়ে আমি তোমাদের কে একটি আয়াত তেলাওয়াত করে শুনাচ্ছিঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ إِلَى قَوْلِهِ : واللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন সম্পদ এবং সন্তান সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে উদাসীন না করে। যারা উদাসীন হবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তোমরা তা থেকে ব্যয় করবে তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বেই অন্যথায় মৃত্যুতে সে বলবেঃ হে আমার রব আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সদকা দিতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। কিন্তু নির্ধারিত কাল যখন উপস্থিত হবে, আল্লাহ কখনও কাউকে অবকাশ দিবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। (সূরা মুনাফিকুন ৬৩ঃ ৯-১১)
লোকটি বললঃ কিসে যাকাত ওয়াজিব হয়? ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ দু’শো বা ততোধিক পরিমাণ দিরহাম হলে তাতে যাকাত ওয়াজিব হয়।
লোকটি বলল হজ্জ কিসে ওয়াজিব হয়? ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ পাথেয় এবং যানবাহনের ব্যবস্থা হলে।
আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবন উমায়ায়না প্রমুখ (রহঃ) এ হাদীসটিকে আবু জানাব-যাহাহক-ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তারা এটিকে মারফরূপে বর্ণনা করেননি।
এ রেওয়ায়াতটি আবদুর রাযযাক (রহঃ) এর রেওয়ায়াত থেকে (৩৩১৬ নং) অধিক সহীহ। আবু জানাব কাসসাব (রহঃ) এর নাম হল ইয়াহইয়া ইবন আবু হায়যা। তিনি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে শক্তিশালী নন।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
সূরা আত্-তাগাবুন
হাদিস নং ৩৩১৭হাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَسَأَلَهُ، رَجُلٌ عَنْ هَذِهِ الآيَةِ، ( يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلاَدِكُمْ عَدُوًّا لَكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ ) قَالَ هَؤُلاَءِ رِجَالٌ أَسْلَمُوا مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ وَأَرَادُوا أَنْ يَأْتُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَبَى أَزْوَاجُهُمْ وَأَوْلاَدُهُمْ أَنْ يَدَعُوهُمْ أَنْ يَأْتُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَوُا النَّاسَ قَدْ فَقِهُوا فِي الدِّينِ هَمُّوا أَنْ يُعَاقِبُوهُمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَل َّ: ( يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلاَدِكُمْ عَدُوًّا لَكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ ) الآيَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৩৩১৭. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে জৈনক ব্যক্তি ’হে মুমিনগণ! তোমাদের স্ত্রী ও সন্তান সন্তুতির মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের শত্রু। সুতরাং তাদের বিষয়ে সতর্ক থাক। (সূরা তাগবুন ৬৪ঃ ১৪) আয়াতটি সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করল তিনি বলেনঃ মক্কাবাসীদের কিছু লোক ইসলাম গ্রহণ করেন। তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হিজরত করে চলে আসতে ইচ্ছা করেন। কিন্তু তাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিরা তাদেরকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসার জন্য ছেড়ে দিতে অস্বিকৃতি জানায়। শেষে তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম এর কাছে হিজরত করে আসতে সক্ষম হলেন। দেখতে পেলেন যে লোকেরা দীনের বিষয়ে অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান হয়ে গেছে। এতদ্দর্শনে তারা তাদেও স্ত্রী ও সন্তান-সন্তদিদের শাস্তি দিতে মনস্থ করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা নাযিল করেনঃ
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلاَدِكُمْ عَدُوًّا لَكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩১৯. ইয়াহইয়া ইবন মূসা (রহঃ) ... আব্দুল ওয়াহিদ ইবন সুলায়ম (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার আমি মক্কায় এলাম এবং আতা ইবন আবী রাবাহ (রহঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললামঃ হে আবু মুহাম্মদ! আমাদের এখানে কিছু লোক তাকদীর বিষয়ে নানা কথা বলে থাকে।
তখন আতা (রহঃ) বলেনঃ ওয়ালীদ ইবন উবাদা ইবনুস সামিত-এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি বললেনঃ তার পিতা উবাদা ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন। আল্লাহ তা’আলা সবার আগে সৃষ্টি করেছেন কলম। তার পর তিনি সেটিকে লিখতে হুকুম করলেন। সেটি অনন্তকাল অবধি যা ঘটবে, সব কিছুই লিখে নিল।
হাদীসটিতে আরো ঘটনা আছে। হাদীসটি হাসান- সহীহ-গারীব। এই বিষয়ে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩২০. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, একদিন তিনি একদল লোকের সাথে বাহতা নামক স্থানে বসা ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাদের মাঝে উপকিষ্ট ছিলেন এমন সময় তাদের উপর দিয়ে একটা মেঘ উড়ে গেল। তাঁরা সে দিকে তাকান। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জান এর নাম কি? তারা বলল হ্যাঁ এটি হল সাহাব (মেঘ)।
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুযন (জালদ)-ও। তারা বললঃ মুযনও। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আনান (নীরদ)-ও। তরা বললঃ আনানও। এর পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেনঃ আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে কতটুক দুরত্ব কি তা কি তোমরা জান? তারা বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমরা তা জানি না।
তিনি বললেনঃ এতদুভয়ের মাঝে দুরত্ব হল একাত্তর বা বাহাত্তর বা তিহাত্তর বছরের পথ। এর উপর আসমানের দুরত্বও অনুরূপ। এভাবে তিনি সাত আসমানের উল্লেখ করেন। পরে বললেনঃ সপ্তম আকাশের উপর আছে সাগর। এর উপর ও নিচের দুরত্ব হল আসমান ও যমীনের দুরুত্বের অনুরূপ। এর উপর হল আটটি মেষ (আকৃতির ফিরিশতা) এগুলোর খুর থেকে নিয়ে হাটু পর্যন্ত হল এক আকাশ থেকে আরেক আকাশের দুরত্বের সমান। এগুলোর পিঠের উপর হল আরশ। এর নিচ থেকে উপরের ব্যবধান হল দুই আকাশের মাঝের ব্যাবধানের অনুরূপ। এরও উর্ধ্বে হলেন আল্লাহর রাব্বুল ইযযত।
যঈফ, ইবনু মাজাহ ১৯৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান- গারীব। সিমাক (রহঃ) এর বরাতে ওয়ালীদ ইবন আবি ছাওর (রহঃ) অনুরূপ বর্ণনা কওেছেন এবং তিনি হাদীসটি মারফু করেছেন। সিমাক (রহঃ) থেকে শরীক (রহঃ) ও এই হাদীসটির কিছু আংশ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি মারফু রূপে নয়, মাওকুফরূপে এটির রিওয়ায়াত করেছেন। আবদুর রহমান (রহঃ) হলেন ইবন আবদুল্লাহ ইবন সা’দ রাযী।
৩৩২১. মুহাম্মদ ইবন হুমায়দ আর রাযী বলেনঃ আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন সা’দ রাযী বর্ণনা করেন যে, তার পিতা আবদুল্লাহ ইবন সাদ রাযী বলেছেনঃ বুখারায় খচ্চরের উপর উপবিষ্ট এক ব্যক্তিকে আমি দেখেছি। তাঁর মাথায় ছিল কাল এক পাগড়ী। তিনি বলেছেনঃ এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছেন।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩২২. আবু কুরায়ব (রহঃ) ..... আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আল্লাহর বাণীঃ (كالْمُهْلِ) এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেনঃ তেলের গাদের মত হবে। জাহান্নামীরা যখন তা মুখের কাছে নিবে, তার চেহারার চামড়া গলে তাতে পড়ে যাবে।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি গারীব। রিশদ্বীন (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩২৩. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিন্নদের কাছে তিলওয়াত করেননি এবং তাদের তিনি দেখেনও নি। একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের একদল নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। তখন আসমান থেকে খবর সংগ্রহের পথ শয়তান জিন্নদের জন্য রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাদের দিকে উল্কাপিন্ড নিক্ষেপ করা হত। তাই শয়তান জিন্নরা স্বসম্প্রদায়ে ফিরে আসে। তারা এদের বললঃ তোমাদের কি ব্যাপার?
এরা বললঃ আসমান থেকে খবর সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমরা বাধা পাচ্ছি। আমাদের উপর উল্কাপিন্ড ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে। এরা বললঃ নতুুন কোন ব্যাপার ঘটেছে বলে আসমান থেকে খবর সংগ্রহের বিষয়ে আমাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। যমীনের পূর্ব-পশ্চিম সব দিকে বেরিয়ে পড়। দেখ সেটি কি যা আমরা ও আমাদের আকাশের খবর সংগ্রহের মাঝে বাধা সৃষ্টি করছে।
তারপর তারা রওয়ানা হল এবং পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম সব দিক তালাশ করতে লাগল কি সে বস্ত। যদ্দরুন আকাশের খবর সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাদের বাধা হচ্ছে। (আরবের) তিহামা অঞ্চলের দিকে যে দলটি যাত্রা করে ছিল তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে এল। তিনি উকায বাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে নাখলায় অবস্থান করছিলেন। তিনি তাঁর সাহাবী নিয়ে ফজরের সালাত (নামায) আদায় করছিলেন। জিন্নদের এ দল যখন কুরআনের আওয়াজ শুনল, তখন তারা এ দিকে কান পাতল এবং পরস্পর বললঃ আল্লাহর কসম, এই জিনিসই তোমাদের এবং আকাশের খবর সংগ্রহের মাঝে বাধা সৃষ্টি করছে।
এখান থেকেই তারা নিজেদের কওমে ফিরে যায়। এবং বললঃ হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি যা সঠিক পথ নির্দেশ করে, ফলে আমরা তাতে ঈমান এনেছি। আর আমরা কখনো আমাদের রবের সঙ্গে কাউকে শরীক করব না। এতদপ্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাযিল করেনঃ
قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا - يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا
বলুন, আমার কাছে ওয়াহী এসেছে যে, জিন্নদের একটি দল (আমার তিলাওয়াত) কান পেতে শুনেছে এবং বলেছে আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি (সূরা জিন্ন ৭২ঃ ১)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিন্নদের বক্তব্য ওয়াহী করা হয়েছিল।
সহীহ, বুখারি ৪৯২১, মুসলিম ২/৩৫, ৩৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ সনদে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেনঃ স্বীয় সম্প্রদায়ের নিকট জিন্নদের বক্তবের মাঝে ছিল। (لمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدًا) আল্লাহর বান্দা (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাকে ডাকতে (সালাতে) দন্ডায়মান হল, তখন তারা তার নিকট ভিড় করল। (সূরা জিন্ন ৭২ঃ ১৯) জিন্নরা যখন দেখল নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায) আদায় করছে এবং সাহাবীরা তার সঙ্গে তার সালাত (নামায) অনুসারে সালাত (নামায) আদায় করছে, তাঁর সিজদা আনুসারে সিজদা করছে, তারা নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সাহাবীগণের এই অনুগত্য দেখে অত্যন্ত বিস্মিত হয় এবং স্বীয় সম্প্রদায়কে এসে বলেঃ আল্লাহর বান্দা যখন তাঁকে ডাকতে (সালাতে) দন্ডায়মান হল, তখন তারা তার নিকট ভিড় করল। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৩৩২৪. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ জিন্নরা আকাশে চড়ত এবং ওয়াহী শুনার প্রয়াস পেত। একটা কথা শুনতে পেলে তাতে তারা আরো নয়টি কথা আরো নিজের থেকে বাড়িয়ে দিত। একটা কথা তো হত সত্য, আর তাদের বর্ধিতগুলো হত মিথ্যা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবী হিসাবে প্রেরিত হওয়ার পর তাদের এ উৎপাত ওুদ্ধ করে দেওয়া হয়। তারা এ বিষয়টি (তাদের নেতা) ইবলীসকে অবহিত করে। এরপূর্বে কখনও তাদের উপর উল্কাপিন্ড নিক্ষেপ করা হত না। ইবলীস তাদের বললঃ নিশ্চয়ই পৃথিবীতে নতুন কিছু ঘটেছে বলেই এই ধরণের বিষয় ঘটেছে।
তারপর সে তার বাহিনীকে বিভিন্ন দিকে প্রেরণ করল। তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কায় দুই পাহাড়ের মাঝে সালাত (নামায) আদায়রত অবস্থায় পেল। পরে তারা ইবলীসের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে এই বিষয়ে অবহিত করে। সে বলল নতুন এই ঘটনাই পৃথিবীতে ঘটেছে।
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান- সহীহ।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩২৫. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাময়িকভাবে ওয়াহী অবতরণ বন্ধ থাকা (ফাতরাতুল ওয়াহী) সম্পর্কে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি তার বর্ণনায় বলেছেন। আমি হাঁটছিলাম এমন সময় আসমান থেকে একটা আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমার মাথা উপরে তুললাম দেখি হেরা গুহায় যে ফিরি্শতা আমার কাছে এসেছিলেন, তিনি আসমান ও যমীনের মাঝে একটি কুরসীর উপর উপবিষ্ট। ভয়ে কাঁপতে লাগলাম। পরে ঘরে ফিরে আসলাম। বললামঃ আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, চাদর দিয়ে ঢেকে দাও। বাড়ির লোকেরা আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। আল্লাহ তায়ালা তখন নাযিল করলেনঃ
يا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ * قُمْ فَأَنْذِرْ إِلَى قَوْلِهِ : والرُّجْزَ فَاهْجُرْ
হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠুন সতর্কবাণী প্রচার করুন। অপবিত্রতা থেকে দুরে থাকুন। (সূরা মুদ্দাছছির ৭৪ঃ ১-৪) এ ছিল সালাত (নামায) ফরয হওয়ার আগের ঘটনা।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইয়াহইয়া ইবন আবু কাছীর (রহঃ) এ হাদীসটি আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) থেকেও বর্ণনা করেছেন।
৩৩২৬. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আস সাউদ (الصَّعُودُ) হল জাহান্নামের একটি পাহাড়। তাতে চড়বে সত্তর বছর বয়সে এবং নামবেও সে পরিমাণ সময়ে সর্বদা।
এ হাদীসটি গারীব। ইবন লাহীআ (রহঃ) এর হাদীস হিসাবে কেবল এটিকে মারফূ’ হিসাবে আমরা জানি। আতিয়্যা ... আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এ ধরনের কিছু বিষয় মাওকুফরূপে বর্ণিত আছে।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩২৭. ইবন আবু উমার (রহঃ) ..... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ ইয়াহুদীদের কিছু লোক একবার কিছু সংখ্যক সাহাবীকে বললঃ তোমাদের নবী কি জানেন জাহান্নামের রক্ষীদের সংখ্যা কত? সাহাবীরা বললেনঃ তাঁকে জিজ্ঞাসা করা পর্যন্ত তো আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না।
এক ব্যক্তি তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল হে মুহাম্মদ! আপনার সাহাবীরা তো আজ পরাজিত হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ কিসে তারা পরাজিত হল? লোকটি বললঃ ইয়াহুদীরা জিজ্ঞাসা করেছিল, তোমাদের নবী কি জানেন জাহান্নামের রক্ষীদের সংখ্যা কত? তিনি বললেনঃ তারা কি জওয়ব দিল? লোকটি বললঃ তারা বলল, আমাদের নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত তো আমরা এ বিষয়ে কিছু জানিনা।
তিনি বললেনঃ যে বিষয়ে তারা জানে না সে বিষয়ে যদি কোন সম্প্রদায়কে জিজ্ঞাসা করা হয় তখন যদি তারা বলে, আমরা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা পর্যন্ত কিছু বলতে পারব না - তবে তাতে কি এ লোকদের কে পরাজিত বলা যায়? তারা তো তাদের নবীকেও প্রশ্ন করেছিল। বলেছিলঃ আল্লাহকে আমাদের চাক্ষুস দেখিয়ে দিন। আল্লাহর এ দুশমনদের আমার কাছে আসতে বল। আমি তাদেরকে জান্নাতের মাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব। আর তা হল ময়দার মত।
এরা যখন এল, তখন বললঃ হে আবুল কাসিম! জাহান্নামের রক্ষীদের সংখ্যা কত? তিনি বললেন এত এবং এত। প্রথমবার দশ এবং দ্বিতীয় বার নয় বলে ঈঙ্গিত করলেন। তারা বললঃ ঠিক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বলেনঃ জান্নাতের মাটি কিসের? তারা কিছুক্ষন চুপ করে রইল পরে বললঃ এত রুটির মত। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ময়দার রুটির মত।
যঈফ, যঈফা ৩৩৪৮, মুসলিম ৮/১৯১, আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু সাঈদকে বললেনঃ জান্নাতের মাটি কেমন? তিনি বললেনঃ সাদা ময়দা মিসকের মত সুগন্ধি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সত্য বলেছ।
হাদীসটি গারীব। মুজালিদের রিওয়ায়াত হিসাবেই কেবল এ হাদীসটি সম্পর্কে আমরা জানি।
৩৩২৮. হাসান ইবন সাব্বাহ বাযযার (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ (هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ) - একমাত্র তিনিই ভয়যোগ্য এবং তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী। (সূরা মুদ্দাছছির ৭৪ঃ ৫৬) আয়তটি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, আমিই ভয় করার যোগ্য; যে ব্যক্তি আমাকে ভয় করবে সে আমার সঙ্গে অন্য ইলাহকে শরীক করবে না। তখন আমিই তাকে ক্ষমা করে দিব।
যঈফ, ইবনু মাজাহ ৪২৯৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান- গারীব। বর্ণনাকারী সুহায়ল হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে শক্তিশালী নন। ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সুহায়ল একা।
৩৩২৯. ইবন আবু উমার (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ যখন কুরআন নাযিল হত তখন তাড়াতাড়ি তা আয়ত্ব করার উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জিহ্বা নাড়াতে থাকতেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেনঃ (لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ) - তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা এর সাথে সঞ্চালন করবেন না। (সূরা কিয়ামা ৭৫ঃ ১৬)। তিনি তাঁর ঠোঁট নাড়াতেন। রাবী সুফয়ান (রহঃ)-ও তার ঠোঁট নেড়ে দেখিয়েছেন।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩২৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান- সহীহ। আলী ইবন মাদীনী (রহঃ) বলেনঃ ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল কাত্তান (রহঃ) বলেছেন যে, সুফওয়ান ছওরী (রহঃ) মূসা ইবন আবু আয়িশা (রহঃ) এর প্রশংসা করতেন।
৩৩৩০. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সবচেয়ে কম দরজার জান্নাতী যে, সেও যখন তার উদ্যান, সঙ্গিণী ও চাকর-নফরদের এবং আনন্দ সুখের দিকে লক্ষ করবে, তখন তাও পাবে হাজার বছরের পথ জুড়ে বিস্তৃত। আল্লাহ তা’আলার নিকট যে জান্নাতী সবচেয়ে সন্মানিত হবে, সে সকাল ও সন্ধ্যা তাঁর চেহারার দীদার লাভ করবে। এর পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেলাওয়াত করলেনঃ (وجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ * إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ) - সে দিন বহু চেহারা হবে উজ্জ্বল,তারা তাকিয়ে থাকবে তাদের রবেবর দিকে। (সূরা কিয়ামা ৭৪ঃ ২২-২৩)
যঈফ, যঈফা ১৯৮৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৩০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি গারীব। এটি ইসরাঈল (রহঃ) এর বারাতে একাধিক রাবী মারফু’রূপে বর্ণনা করেছেন। আবদুল মালিক ইবন জাবির (রহঃ) এটি ছুওয়ায়র ... ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে তার বক্তব্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি মারফু’ করেননি। আশজাঈ (রহঃ) এটি সুফয়ান-ছুওয়ায়র-মুজাহিদ ... ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি মারফু’ করেননি। ছাওরী (রহঃ) ছাড়া আর কেউ এই সনদে মুজাহিদ (রহঃ) এর উল্লেখ করেছেন বলে আমরা জানি না।
সূরা আবাসা
হাদিস নং ৩৩৩১সহিহ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، هَذَا مَا عَرَضْنَا عَلَى هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أُنْزِلَ : ( عبَسَ وَتَوَلَّى ) فِي ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ الأَعْمَى أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ يَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرْشِدْنِي وَعِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ مِنْ عُظَمَاءِ الْمُشْرِكِينَ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعْرِضُ عَنْهُ وَيُقْبِلُ عَلَى الآخَرِ وَيَقُولُ أَتَرَى بِمَا أَقُولُ بَأْسًا فَيُقَالُ لاَ . فَفِي هَذَا أُنْزِلَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَرَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أُنْزِلََ : ( عبَسَ وَتَوَلَّى ) فِي ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ . وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ عَائِشَةَ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৩৩৩১. সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল উমাবী (রহঃ) .... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ ’আবাসা’ সূরাটি ইবন উম্ম মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছিল। তিনি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলতে লাগলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে সত্যপথের সঠিক পথ-নির্দেশ করুন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কয়েকজন মুশরিক অধিপতি ছিল। তাই তিনি তাকে উপেক্ষা করে অন্য একজনের দিকে মনোযোগী হয়ে লোকটিকে বলেছিলেনঃ আপনি আমার বক্তব্যে দোষের কিছু দেখেছেন কি? লোকটি বলেছিলঃ না। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সূরাটি নাযিল হয়।
হাদীসটি হাসান-গারীব। কোন কোন রাবী এ হাদীসটিকে হিশাম ইবন উরওয়া তার পিতা উরওয়া (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেনঃ আবাসা ওয়াতাওয়াল্লা সূরাটি ইবন উম্ম মাকতুমের ঘটনায় নাযিল হয়েছে। এই সনদে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর উল্লেখ নেই।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৩১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩৩৪. কুতায়বা (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন কোন গুনাহ করে তখন তার হৃদয়ে একটি কাল দাগ পড়ে। পরে যখন সে গুনাহ থেকে বিরত হয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে ও তাওবা করে তখন তার হৃদয় উজ্জ্বল হয়ে যায়। কিন্তু সে যদি পুনরাবৃত্তি করে তবে কাল দাগ বৃদ্ধি পায়। এমনকি তার হৃদয়ের উপর তা প্রবল হয়ে উঠে। এই আবস্থাটিকেই আল্লাহ তা’আলা রা’ন (মরচে পড়া) বলে উল্লেখ করেছেনঃ (كلاَّ بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ) - কখনও নয়, বরং এদের কৃতকর্মেও দরুন এদের হৃদয়ে জং ধরেছে। (সূরা মুতাফফিফীন ৮৩ঃ ১৪)।
হাসান, আত তা’লীকুর রাগীব ২/২৬৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৩৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
৩৩৩৫. ইয়হইয়া ইবন দুরস্ত বাসরী (রহঃ) ..... ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ (يوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ) - যে দিন সব মানুষ রাব্বুল আলামীনের সম্মুখে দাঁড়াবে (সূরা মুতাফফিফীন ৮৩ঃ ৬) এ প্রসঙ্গে তিনি বলেনঃ কানের অর্ধক পর্যন্ত ঘামের মাঝে তারা এক একজন দাঁড়িয়ে থাকবে।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৩৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি আমাদের কাছে মারফু।
৩৩৩৭. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যার হিসাবের ব্যাপারে কড়াকড়ি করা হবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ তা’আলা তো বলেছেনঃ (فأمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ إِلَى قَوْلِهِ : ىسيرًا) - যার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে, তার হিসাব হবে আতি সহজ। (৮৪ঃ ৭-৮)। তিনি বললেনঃ এ হবে পেশ করা মাত্র।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৩৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান- সহীহ। সুয়াইদ ইবন নসর (রহঃ) ... উসমান ইবন আসওয়াদ (রহঃ) একই সূত্রে আনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবন আবান প্রমুখ (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
হাদিস নং ৩৩৩৮হাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ حُوسِبَ عُذِّبَ " . قَالَ وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৩৩৩৮. মুহাম্মদ ইবন উবায়দ হামদানী (রহঃ) .... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার হিসাবে কড়াকড়ি করা হবে, তাকে আযাব দেওয়া হবে।
কাতাদা-আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুসূত্রে বর্ণিত হাদীস হিসাবে এ হাদীসটি গারীব। এ সূত্র ছাড়া কাতাদা (রহঃ) এর বরাতের আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নাই।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৩৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩৩৯. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (الْيَوْمُ الْمَوْعُود) প্রতিশ্রুত দিন হল কেয়ামতের দিন। (الْيَوْمُ الْمَشْهُودُ) হল আরাফা দিবস এবং (الشَّاهِد) হল জুম’আর দিন।
তিনি আরো বলেনঃ এই (জুম’আর) দিনের চেয়ে উত্তম কোন দিন নাই যার উপর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়। এ দিনের মাঝে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোন মুমি’ন বান্দা সে মুহূর্তে আল্লাহর কাছে কোন কল্যাণ কামনা করে তবে আল্লাহ তা’আলা তা কবুল করেন। কোন বিষয় যদি সে আল্লাহর কাছে পানাহ চায় তবে তিনি তা থেকে তাক পানাহ দেন।
হাসান, মিশকাত, তাহকিক ছানী ১৩৬২, সহীহ হাদিস সিরিজ ১৫০২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৩৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
মূসা ইবন উবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্র ছাড়া এ হাদীসটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। মূসা ইবন উবায়দা (রহঃ) হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে যঈফ। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ প্রমুখ (রহঃ) তার স্মরণশক্তির ক্ষেত্রে তাঁকে যঈফ বলেছেন। শু’বা, সুফওয়ান ছাওরী ও আরো অনেক হাদীসের ইমাম মূসা ইবন উবায়দা (রহঃ) এর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... মূসা ইবন উবায়দা (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে। মুসা ইবন উবায়দা আর রাযী (রহঃ) এর উপনাম হল আবদুল আযীয। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ কাত্তান প্রমুখ তার স্মরণশক্তির ব্যাপারে তাঁর সমালোচনা করেছেন।
৩৩৪১. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ’লা’ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর স্বীকৃতি প্রদান না করা পর্যন্ত আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নির্দেশিত হয়েছি। যখন তারা এই কথার স্বীকৃতি দিবে তখন আমার থেকে তাদের রক্ত এবং সম্পদ নিরাপদ হয়ে যাবে। কিন্তু হকের দাবী স্বতন্ত্র। আর তাদের হিসাব আল্লাহর উপর ন্যস্ত। এরপর তিনি পাঠ করলেন। (إنَّمَا أَنْتَ مُذَكِّرٌ * لَسْتَ عَلَيْهِمْ بِمُسَيْطِرٍ) - আপনি তো একজন উপদেশদাতা আপনি এদের কর্ম নিয়ন্ত্রক নন। (সূরা গাশিয়া ৮৮ঃ ২১-২২)।*
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৭১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৪১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
৩৩৪২. আবু হাফস আমর ইবন আলী (রহঃ) .... ইমরান ইবন হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (الشَّفْعِ وَالْوَتْرِ) জোড় ও বেজোড়ের কসম (সূরা ফাজর ৮৯ঃ ৩) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেনঃ এ হল সালাত (নামায) এর কিছু তো জোড় আর কিছু বেজোড়।
হাদীসটি গারীব। কতাদা (রহঃ) এর রেওয়ায়াত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। খালিদ ইবন কায়স (রহঃ) এটিকে কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৪২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩৪৩. হারুন ইবন ইসহাক হামদানী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন যাম’আ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি একদিন [সালিহ (আঃ) এর] উষ্ট্রী এবং এর হত্যাকারী সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আলোচনা করতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ (إذ انْبَعَثَ أَشْقَاهَا) যখন (উষ্ট্রীকে বধ করার জন্য) সবচেয়ে হতভাগ্য লোকটি উঠল (সূরা আশ-শামস ৯১ঃ ১২) কঠিন হৃদয় কঠোর এবং আবু যামআর মত স্বীয় গোষ্ঠীর মাঝে প্রতিপত্তিশালী এক ব্যক্তি এর জন্য তৎপর হয়ে উঠে দাঁড়ায়। এরপর তাকে আমি মহিলাদের প্রতি সদ্ব্যবহার প্রসঙ্গে আলোচনা করতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কেউ এ কি ধরণের আচরণে উদ্যত হয়? গোলামের মত স্ত্রীদের মারতে শুরু করে দেয় অথচ এই দিনের শেষ ভাগেই হয়ত সে তার সাথে সঙ্গত হবে। আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারো বাৎকর্মের দরুন হাসার বিষয়ে তাদের নসীহত করলেন। বললেনঃ কি বিষয়ে তোমাদের লোকেরা হাসে! অথচ নেজেই তো এটা করে।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ১৯৮৩, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৪৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
৩৩৪৪. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমরা বাকীতে এক জানাযার সাথে ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন। তিনি বসলেন। আমরাও তার সঙ্গে বসলাম। তার সঙ্গে একটি গাছের ডাল ছিল। সেটি দিয়ে তিনি মাটি ঠোকাচ্ছিলেন। অনন্তর আসমানের দিকে তিনি তার মাথা তুললেন এবং বললেনঃ এমন কোন প্রাণ নেই যার প্রবেশস্থল লিখে না রাখা হয়েছে। উপস্থিত লোকেরা বললঃ হে আল্লাহর রাসূল তবে কি আমরা আমাদের ভাগ্যলিপির উপরই নির্ভর করব? যে ব্যক্তি সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভূক্ত, তার জন্য সৌভাগ্যজনক অনায়াসসাধ্য কর্ম হবে আর যে হতভাগ্যদের অন্তর্ভূক্ত, তার জন্য তা আয়াসসাধ্য কর্ম হবে?
তিনি বলেনঃ তোমরা আমল করতে থাক। তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই সহজসাধ্য করে দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি সৌভাগ্যের অধিকারী হবে, তার জন্য সৌভাগ্যের আমল সহজসাধ্য করে দেওয়া হয়েছে। আর যে দুর্ভোগ্যের অধিকারী তার জন্য দুর্ভাগ্যের কাজ সহজসাধ্য করে দেওয়া হবে। তারপর তিনি তিলওয়াত করলেনঃ
فأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى * وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى * فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى * وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَى * وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى * فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى
সুতরাং যে দান করে, মুত্তাকী হয় এবং যা উত্তম তা সত্য বলে গ্রহণ কওে, আমি তার জন্য সুগম করে দিব সহজ পথ। আর যে কার্পণ্য করে, নিজেকে মুখাপেক্ষীহীন মনে করে এবং যা উত্তম তা অস্বীকার করে, আমি তার জন্য সুগম করে দিব কঠোর পরিনামের পথ। (সূরা ওয়া-লায়ল ৯২ঃ ৫-১০)।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৪৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
সূরা যুহা
হাদিস নং ৩৩৪৫সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ جُنْدَبٍ الْبَجَلِيِّ، قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي غَارٍ فَدَمِيَتْ أُصْبُعُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " هَلْ أَنْتِ إِلاَّ إِصْبَعٌ دَمِيتِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا لَقِيتِ " . قَالَ وَأَبْطَأَ عَلَيْهِ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ قَدْ وُدِّعَ مُحَمَّدٌ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى : ( ما وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَى ) . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رَوَاهُ شُعْبَةُ وَالثَّوْرِيُّ عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ .
বর্ণনাকারী: জুনদুব ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
৩৩৪৫. ইবন আবু উমার (রহঃ) .... জুন্দুব বাজালী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক অভিযানে ছিলাম। এমন সময় তার একটি আঙুল যখমী হলে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুই তো একটি আঙুলই মাত্র; রক্তাক্ত হয়েছে আজ, আল্লাহর পথেই তো তোর এ মসীবত।
বর্ণনাকারী বলেনঃ একবার তাঁর কাছে জিরবীল (আঃ) আসতে দেরী করেন। তখন মুশরিকরা বললঃ মুহাম্মদকে (তার প্রভু) ছেড়ে দিয়েছে। তারপর আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেনঃ (ما وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَى) - তোমার রব তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হননি। (৯৩ঃ ৩)।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৪৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
শু’বা ও ছাওরী (রহঃ) এটিকে আসওয়াদ ইবন কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণনা কওেছেন।
৩৩৪৬. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে তাঁর স্বগোত্রীয় ব্যক্তি মালিক ইবনা সা’সা’ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি বায়তুল্লাহর কাছে ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি আবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ শুনি কেউ একজন বলছে তিনজনের মাঝে একজন ...... তারপর সোনার একটি খাঞ্চা আমার কাছে আনা হল। এতে ছিল যমযমের পানি। এখান থেকে ওখান পর্যন্ত আমার বক্ষ বিদীর্ণ করা হল। কাতাদা (রহঃ) বলেছেনঃ আমি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললামঃ ওখান পর্যন্ত বলতে কি বুঝিয়েছেন? তিনি বললেনঃ পেটের নিচ পর্যন্ত।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর আমার হৃদয় বের করে আনা হয় এবং তা যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করে পুনরায় স্ব-স্থানে স্থাপন করা হয়। আর ঈমান ও হিকমত দ্বারা তা ভরে দেওয়া হয়। হাদীসটিতে আরো দীর্ঘ বর্ণনা রয়েছে।
সহীহ, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৪৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান- সহীহ। এ বিষয়ে আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
৩৩৪৭. ইবন আবু উমার (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি সূরা ওয়াত-তাীন ওয়ায যায়তুন তিলাওয়াত করতে গিয়ে, (ألََيْسَ اللَّهُ بِأَحْكَمِ الْحَاكِمِينَ) - আল্লাহ কি সব বিচারকের মাঝে শ্রেষ্ঠ বিচারক নন? (সূরা ত্বীন ৯৫ঃ ৮) তিলাওয়াত করে তখন যেন সে বলে (بَلَى وَأَنَا عَلَى ذَلِكَ مِنَ الشَّاهِدِينَ) - অবশ্যই আমি এর অন্যতম সাক্ষী।
যঈফ, যঈফ আবু দাউদ ১৫৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৪৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি এ সনদে এ মরুবাসী ... আবু হুরায়রা সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে। এই মরুবাসী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয় নি।
৩৩৪৯. আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ আশাজ্জা (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায) আদায় করছিলেন। এমন সময় আবু জাহল এল। বললঃ আমি কি তোমাকে এই কাজ থেকে নিষেধ করিনি? তোমাকে আমি এ বিষয়ে নিষেধ করিনি? আমি কি তোমাকে এরূপ করতে নিষেধ করিনি?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায) শেষে ফিরে তাকালেন এবং তাকে শাসালেন। আবু জাহল বললঃ তুমি অবশ্যই জান আমার চেয়ে বেশী লোক এই শহরে আর কারো নেই। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেনঃ (فلْيَدْعُ نَادِيَهُ * سَنَدْعُ الزَّبَانِيَةَ) - সে তার পার্শ্বচরদেও আহবান করুক। আমিও আহবান করব জাহান্নামের প্রহরীদেরকে। (সূরা আলাক ৯৬ঃ ১৭-১৮) ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ সে যদি তার পার্শ্বচরদের আহবান করত তবে অবশ্যই তাকে আল্লাহর প্রহরী ফিরিশতারা পাকড়াও করত।
হাদীসটি হাসান- সহীহ-গারীব। এ বিষয়ে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৪৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩৫০. মাহমুদ ইবন গায়লান (রহঃ) .... ইউসূফ ইবন সা’দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ মু’আবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাতে বায়’আত গ্রহণের পর হাসান ইবন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লক্ষ করে এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল এবং বললঃ তুমি মু’মিনদের মুখে কালি মেখে দিয়েছ (বর্ণনান্তরে সে বলল) হে মু’মিনদের মুখে কালি লেপণকারী! তিনি বললেনঃ আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন এমন ভাবে তুমি আমাকে ভৎর্না করবে না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখান হল যে, বনু উমাইয়ার লোকেরা তাঁর মিম্বরে চড়ে বসেছে। তার কাছে খারাফ লাগে। তখন নাযিল হয় (إنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ) - হে মুহাম্মদ! আপনাকে তো আমি জান্নাতের নহর কাওছার দান করেছি। আরো নাযিল হলঃ
إنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ * وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ * لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ
আমি তো (আল-কুরআন) নাযিল করেছি মহিমাম্বিত রজনীতে। মহিমাম্বিত রজনী সম্বন্ধে তুমি কি জান? মহিমাম্বিত রজনী হাজার মাস অপক্ষা শ্রেষ্ঠ। হে মুহাম্মদ! আপনার ইনতিকালের পর বনূ উমাইয়ারা এই পরিমানকাল সিংহাসনের আধিকারী থাকবে।
কাসিম (রহঃ) বলেনঃ আমরা গুনে দেখেছি বনূ উমাইয়ার শাসনকাল ছিল এক হাজার মাস। এর একদিন কম বা বেশী নয়।
সনদ দুর্বল, মতন মুনকার, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৫০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-গারীব। কাসিম ইবন ফযর (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। কাসিম ইবন ফযল ইফসুফ ইবন মাযিন (রহঃ) হিসাবেও কথিত আছেন। কাসিম ইবন ফযল হাদ্দানী (রহঃ) ছিকাহ ও নির্ভওযোগ্য। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ ও আবদুর রহমান ইবন মাহদী (রহঃ) তাকে ছিকাহ বলে মত ব্যাক্ত করেছেন। ইফসুফ ইবন সা’দ (রহঃ) একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি। উল্লেখিত শব্দে এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
৩৩৫১. ইবন আবু উমার (রহঃ) ..... যির ইবন হুবায়শ (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললামঃ আপনার ভাই আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলে থাকেন যে, সারা বছর যে ব্যক্তি রাত জেগে ইবাদত করবে সে লায়লাতুল কদর পাবে।
তিনি বললেন আবু আবদুর রহমানকে আল্লাহ ক্ষমা করুন। তিনি অবশ্যই জানেন এ রাত হল রমযানের শেষ দশ দিনের মাঝে এবং তা হল সাতাশ তারিখের রাত। কিন্তু তিনি চান যে মানুষ যেন ভরসা করে বসে না থাকে। এরপর তিনি দ্ব্যর্থহীন হলফ করে বললেনঃ এই রাত অবশ্যই সাতাশের রাত।
আমি বললাম হে আবু মানযির! আপনি কি করে এ কথা বলছেন? তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে যে আলামত আমাদের বলছেন সে অনুসারে আমি তা বলছি। সূর্য এ দিন এমন ভাবে উদিত হয় যে এর কোন কিরণোজ্জৌল্য থাকে না।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৫১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩৫৩. সুওয়ায়দ ইবন নাসর (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেনঃ (يوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا) - ’’সেদিন পৃথিবী তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে।’’ (সূরা যিলযালঃ ৯৯ঃ ৪) তারপর তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান পৃথিবীর বৃত্তান্ত কি? সাহাবীগণ বললেনঃ আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এর বৃত্তান্ত হল প্রত্যেক বান্দা নারী ও পুরুষ তার উপর যে কাজ করবে, তারই সে সাক্ষ দিবে। বলবেঃ অমুক দিন সে অমুক কাজ করেছে, তমুক কাজ করেছে। এ হল পৃথিবীর বৃত্তান্ত বর্ণনা।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ-গারীব।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৫৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩৫৪. মাহমুদ ইবন গায়লান .... মুতাররিফ ইবন আবদুল্লাহ ইবন শিখখীর তাঁর পিতা আবদুল্লাাহ ইবন শিখখীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলেন, তিনি তখন পাঠ করছিলেনঃ (أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ) প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের মোহাচ্ছন্ন করে রাখে (সূরা তাকাছুর ১০২ঃ ১)।
তিনি বললেনঃ আদম সন্তান বলে আমার মাল আমার সম্পদ। অথচ তুমি সদকা করে যা ব্যায় করলে খেয়ে যা শেষ করলে কাপড় পরে যা পুরাতন করলে তা ছাড়া তোমার সম্পদ বলতে কিছু নেই।
সহীহ, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৫৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
৩৩৫৫. আবু কুরায়ব (রহঃ) .... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ যতদিন না আল-হাকুমুত-তাকাছুর নাযিল হয়েছে কবরের আযাব বিষয়ে আমরা সন্দেহে ছিলাম।
আবু কুবায়ের (রহঃ) এক সময় আমর ইবন আবু কায়স ইবন আবু লায়লা নিহাল (রহঃ) সূত্রেরও উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি গারীব।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩৫৭. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে (ثمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ) তারপর তোমাদের নিয়ামত সম্পর্কে অবশ্যই প্রশ্ন করা হবে। আয়াতটি নাযিল হলে লোকেরা বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! কি নিয়ামত সম্পর্কে আমাদের প্রশ্ন করা হবে? নিয়ামত তো মাত্র দুটো কাল বস্ত - খেজুর আর পানি। আর এদিকে শত্রু সব সময় মাথার উপর। আর তলোয়ার হল ঘাড়ে। তিনি বললেনঃ আচিরেই তা হবে।
ইবন উমায়না মুহাম্মদ ইবন অমর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত রেওয়ায়াতটি আমার কাছে এটি থেকে অধিককতর সহীহ। আবু বকর ইবন আয়্যশ (রহঃ) এর তুলনায় সুফয়ান ইবন উয়ায়না হাদীছের ক্ষেত্রে অধিক স্মরণশক্তি সম্পন্ন ও বিশুদ্ধ হাদীস বর্ণনাকারী।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৫৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩৫৮. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন বান্দাকে সবার আগে যে নিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে তা হল তাকে বলা হবে, আমি কি তোমাকে শরীর সুস্থ রাখিনি? আমি কি ঠান্ডা পানি দিয়ে তোমার তৃষ্ণা নিবারণ করিনি?
সহীহ, সহীহাহ ৫৩৯, মিশকাত ৫১৯৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৫৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি গারীব। যাহহাক (রহঃ) হলেন, ইবন আবদুর রহমান ইবন আরযাব এবং তিনি ইবন আরযাম বলেও কথিত। ইবন আরযামই অধিক সহীহ।
সূরা কাওছার
হাদিস নং ৩৩৫৯সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ : ( إناَّ، أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ ) أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " هُوَ نَهْرٌ فِي الْجَنَّةِ " . قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " رَأَيْتُ نَهْرًا فِي الْجَنَّةِ حَافَتَاهُ قِبَابُ اللُّؤْلُؤِ قُلْتُ مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ قَالَ هَذَا الْكَوْثَرُ الَّذِي قَدْ أَعْطَاكَهُ اللَّهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৩৩৫৯. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, (إناَّ أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ) আমি আপনাকে কাওছার দান করেছি। আয়াতটি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাওছার হল জান্নাতের একটি নহর। রাবী বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ জান্নাতে একটি নহর দেখেছি এর উভয় তীরে মতির গম্বুজ বিশিষ্ট ঘরসমূহ স্থাপিত। আমি বললামঃ হে জিবরীল, এটি কি? তিনি বললেনঃ এটি কাওছার, আল্লাহ তা’আলা এটি আপনাকে দান করেছেন।
সহীহ, বুখারি ৪৯৬৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান- সহীহ।
৩৩৬০. আহমদ ইবন মানী (রহঃ) ...... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি জান্নাতে পায়চারি করছিলাম। এমন সময় হঠাং একটি নহর আমার সামনে পড়ল এর উভয় তীরে মতির গম্বুজ। ফিরিশতাকে বললামঃ এটি কি? তিনি বললেনঃ এটি কাওছার। আল্লাহ তা’আলা আপনাকে যা দান করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এরপর তিনি এর মাটিতে হাত মেরে মিশক আম্বর বের করে নিয়ে এলেন। তারপর আমার সামনে সিদরাতুল-মুন্তাহা উপস্থাপিত হল। সেখানে আমি মহাজ্যোতি প্রত্যক্ষ করেছি।
সহীহ, বুখারি ৬৫৮১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একাধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে।
৩৩৬১. হান্নাদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাওছার হল জান্নাতের একটা নহর। এর দুই তীর হল স্বর্ণের, মতি ও ইয়াকুতের উপর দিয়ে তা প্রবাহিত হয়। এর মাটি মিশক-আম্বার থেকে সুগন্ধময়। এর পানি মধু থেকে মিষ্টি এবং তুষার থেকে শুভ্র।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৪৩৩৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
৩৩৬২. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সাহাবীদের সঙ্গে আমাকেও জিজ্ঞাস করতেন। একদিন আবদুর রহমান ইবন আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেনঃ আপন একেও জিজ্ঞাসা করেন অথচ এর মত আমাদেরর সন্তান রয়েছে।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন তাকে বললেনঃ সে কে আপনি তা ভাল করে জানেন। তারপর তিনি তাকে (إذا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ) আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।
শেষে আমি বললাম এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের ঈঙ্গিত রয়েছে। যা তাকে জানানো হয়েছে। এরপর তিনি সূরাটি শেষে পর্যন্ত তেলওয়াত করলেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আল্লাহর কসম! তুমি যা জান এ বিষয়ে আমি এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না।
সহীহ, বুখারি ৪৯৬৯, ৪৯৭০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৬২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) থেকে একই সনদে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এতে আছে, আবদুর রহমান ইবন আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেনঃ একেও আপনি জিজ্ঞাসা করেন অথচ এর মত আমাদের সন্তান রয়েছে?
৩৩৬৩. হান্নাদ ও আহমাদ ইবন মানী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড়ে আরোহণ করলেন এবং ডাক দিলেনঃ ইয়া সাবাহ, ওহে বিপজ্জনক ভোর! এতে (প্রথানুসারে) কুরায়শরা তার কাছে এসে জমায়েত হয়। তিনি তাদের বললেন আমি তোমাদের সতর্ককারী আগত কঠিন আযাব থেকে। যদি আমি তোমাদের অবহিত করি যে শত্রুবাহিনী সন্ধ্যায় বা সকালে তোমাদের উপর চড়াও হচ্ছে, তোমরা কি মনে কর, তোমরা কি আমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে? আবু লাহাব তখন বলেছিলঃ তোমার জন্য ধবংস এর জন্যই কি তুমি আমাদের একত্রিত করেছ? এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেন (تبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ) আবু লাহাবের দু হাত ধ্বংস হয়েছে আর সে নিজেও হল ধ্বংস।
সহীহ, বুখারি ৪৯৭১, ৪৯৭২, মুসলিম ১/১৩৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৬৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
৩৩৬৪. আহমদ ইবন মানী (রহঃ) ...... উবাহ ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, মুশরিকরা একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললঃ আপনি আপনার প্রভুর নসব বয়ান করুন। আল্লাহ তা’আলা তখন এ প্রসঙ্গে নাযিল করেনঃ (قلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ) - "বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সন্তান জম্ম দেন নি এবং তাকে কেউ সন্তান রূপে জম্ম দেয় নি"।
কেননা যার জন্ম আছে, তার অবশ্যই মূত্যু আছে। আর যে মরে, সে তার উত্তরাধিকারী রেখে যায়। আর আল্লাহ তা’আলার মূত্যু নেই, তার উত্তরাধিকারীও নেই।
(وَ لَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ) তার সমতুল্য কেউ নেই, তার অনুরূপ, তার সমান এবং তার মত কিছুই নেই।
... الصَّمَدُ الَّذِي অংশ বাদে হাদিসটি হাসান, যিলালুল জান্নাহ, তাহকিক ছানী হাঃ ৬৬৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৬৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩৬৫. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ...... আবুল আলিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাদের (কাফিরদের) ইলাহগুলি সম্পর্কে আলোচনা করেন। তারা বললঃ আপনার প্রভুর নসব বর্ণনা করুন। তখন জিরবীল (আঃ) এই সূরাটি নিয়ে আগমন করেনঃ (قلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) এরপর বর্ণনাকারী আগের রিওয়ায়াতটির অনুরূপ বর্ণনা করেন। এতে উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উল্লেখ নাই। এটি আবূ সা’দ (রহঃ) এর রিওয়ায়াত (নং ৩৩৬৪) থেকে অধিক সহীহ। সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নাম হল মুহাম্মদ ইবন মুইয়াসসার।
যঈফ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৬৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩৬৭. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... উকবা ইবন আমির জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উপর আল্লাহ্ তা’আলা এমন কিছু আয়াত নাযিল করেছেন যার কোন উদাহরণ দেখা যায় না। (قلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ) সূরাটির শেষ পর্যন্ত এবং (قلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ) সূরাটির শেষ পর্যন্ত।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৬৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩৩৬৮. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ...... আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করে তার মাঝে রূহ ফুঁকলেন। তখন তিনি হাঁচি দিলেন এবং বললেনঃ আলহামদুলিল্লাহ। যাবতীয় হামদ আল্লাহ তা’আলার জন্য।
তিনি আল্লাহর অনুমতিতে তার তারিফ করলেন। পরওয়ারদিগার আল্লাহ তা’আলা বললেনঃ হে আদম আল্লাহ তা’আলা তোমার উপর রহম করুন। সেখানে বসা একদল ফিরিশতার দিকে ইঙ্গিত করে বললেনঃ ঐ ফিরিশ্তাদের কাছে যাও এবং তাদের বল আসসালামু আলাইকুম।
যাহোক ফিরিশতারা বললেনঃ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
পরে আদম (আঃ) তার প্রতিপালকের কাছে ফিরে এলেন তার প্রতিপালক বললেনঃ এ হল তোমার এবং তোমার সন্তানদের পরস্পরের অভিবাদন।
এরপর আল্লাহ তা’আলা তার দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় তাকে বললেনঃ যে কোনটি ইচ্ছা তুমি নাও।
আদম (আঃ) বললেনঃ আমার প্রতিপালকের ডান হাতটি আমি গ্রহণ করলাম। আর আমার প্রতিপলকের উভয় হাতই ডান হাত বরকতময়।
এরপর তিনি সেটি প্রসারিত করলেন তাতে ছিল আদম ও তার সন্তান-সন্তুতিদের প্রতিকৃতি। আদম (আঃ) বললেনঃ হে প্রতিপালক এসব কি?
তিনি বললেনঃ এ হল তোমার সন্তান-সন্তুতি।
প্রতিটি মানুষের দুই চোখের মাঝে তার বয়স লিপিবদ্ধ ছিল। তাদের মাঝে একজন ছিল সবচেয়ে জ্যোতিময়। আদম (আঃ) বললেনঃ হে প্রতিপালক ইনি কে?
তিনি বললেনঃ তিনি হলেন আপনার সন্তান দাউদ। তার বয়স লিখেছি চল্লিশ বছর।
তিনি বললেনঃ হে প্রতিপালক! এর বয়স বৃদ্ধি করে দিন।
আল্লাহ তা’আলা বললেনঃ তাই থাকবে - যা লেখা হয়েছে।
তিনি বললেনঃ আমি আমার বয়স থেকে একে ষাট বছর দিয়ে দিলাম।
আল্লাহ তা’আলা বললেনঃ তুমি আর তোমার অঙ্গীকার যা তা-ই ঘটবে।
এরপরে আদম (আঃ) যতদিন ইচ্ছা জান্নাতে বসবাস করলেন। পরে তাকে সেখান থেকে নিচে নামিয়ে দেওয়া হল। তিনি তার নিজের বয়স গণনা করে রাখছিলেন। শেষে একদিন মৃত্যুর ফিরিশতা তার কাছে এলেন। তিনি বললেনঃ বড় তাড়াতাড়ি এসে গেলেন। আমার বয়সতো এক হাজার বছর লেখা হয়েছিল। ফিরিশতা বললেনঃ হ্যাঁ ঠিকই কিন্তু আপনিতো আপনার সন্তান দাউদকে ষাট বছর দিয়ে দিয়েছিলেন।
আদম (আঃ) তা মানতে অস্বীকার করলেন। তাই তার সন্তানরাও আজ অস্বীকার করে। আদম ভুলে গেলেন তাই তার সন্তানরাও আজ ভুলে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে দিন থেকে চুক্তি পত্র লিখে রাখার এবং সাক্ষী রাখার বিধান দেওয়া হয়।
হাসান সহীহ, মিশকাত হাঃ ৪৬৬২, যিলালুল জান্নাহ হাঃ ২০৪-২০৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৬৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি এ সূত্রে হাসান- গারীব। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বারাতে একাধিক সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণিত আছে।
৩৩৬৯. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ....... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা যমীন সৃষ্টির পর যখন সেটি কাঁপতে থাকে। তখন তিনি পাহাড় সৃষ্টি করেন এবং সেগুলিকে এর উপর স্থাপন করিয়ে দিলেন। ফলে তা স্থির হয়ে যায়। ফিরিশতারা পাহাড়ের কাঠিন্য দেখে আশ্চার্যান্বিত হলেন। তারা বললেনঃ হে রব! পাহাড় থেকে কঠিন কোন সৃষ্টি আপনার আছে কি?
তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তা হল লোহা। তারা বললেনঃ হে রব! লোহা অপেক্ষায় কঠিন কোন সৃষ্টি আপনার আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তা হল অগ্নি। তারা বললেনঃ হে রব! আগুন থেকেও শক্ত কোন সৃষ্টি আপনার আছে কি? তিনি বললেন হ্যাঁ। তা হল পানি।
তারা বললেনঃ হে রব! পানি থেকেও কোন শক্তিশালী সৃষ্টি আপনার আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তা হল বায়ু। তারা বললেনঃ বায়ু অপেক্ষা শক্তিশালী আপনার কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। সে হল আদম সন্তান। যে তার ডান হাতে সদকা দেয়, বাম হাত থেকেও তা সে গোপন রাখে।
যঈফ, মিশকাত ১৯২৩, তা’লীকুর রাগীব ২/৩১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৬৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি গারীব। এ সূত্র ছাড়া এটি মারফূ’ রূপে বর্ণিত আছে বলের আমাদের জানা নেই।
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
২৯৫৩. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার সালাতে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করবে না তার সালাত (নামায) হবে ক্রটিযুক্ত, অসম্পূর্ণ। রাবী আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, আমি বললামঃ হে আবূ হুরায়রা, আমি তো অনেক সময় ইমামের পেছনে থাকি।
তিনি বললেনঃ হে পারস্য সন্তান, তখন মনে মনে তা পাঠ করবে। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ আমি সালাত (সূরা ফাতিহা)-কে আমার ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে অর্ধাঅর্ধি বিভক্ত করে দিয়েছি। তার অর্ধেক আমার আর অর্ধেক আমার বান্দার। আর আমার বান্দারা যা চাইবে তাই পাবে।
বান্দা সালাতে দাঁড়িয়ে বলেঃ আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।
তখন আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে।
বান্দা বলেঃ আর রাহমানির রাহীম।
আল্লাহ্ বলেনঃ বান্দা আমার ছানা ছিফাত করেছে।
বান্দা বলেঃ মালিকি ইয়াও মিদ্দীন।
আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার মর্যাদা দিয়েছে।
এতটুকু হল আমার। আমার এবং আমার বান্দার মাঝে হল, ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তা’ঈন। সূরার শেষ অংশ হল আমার বান্দার। বান্দা আমার কাছে যা চাইবে তা পাবে।
বান্দা বলেঃ ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম, সীরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহিম গায়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালায্যাল্লীন।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ৮৩৮, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৫৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান। শু’বা ও ইসমাঈল ইবন জা’ফর প্রমুখ (রহঃ) ... আলা ইবন আবদুর রহমান ... আবদুর রহমান ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
ইবন জুরায়জ ও মালিক ইবন আনাস (রহঃ) ... আলা ইবন আবদুর রহমান ... হিশাম ইবন যুহরার মাওলা আবূ’স সাইব ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া ও ইয়াকূব ইবন সূফইয়ান ফারসী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি উম্মুল কুরআন পাঠ ছাড়া সালাত (নামায) আদায় করে তার সালাত (নামায) হল ক্রটিযুক্ত, অসম্পূর্ণ। ইসমাঈল ইবন উওয়ায়স (রহঃ)-এর রিওয়ায়তে এর অতিরিক্ত কিছু নেই। আবূ যুরআ (রহঃ)-কে আমি এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেন, উভয় হাদিসই সহীহ। তিনি ইবন আবূ উওয়ায়স-তার পিতা আবূ উওয়ায়স ... আলা (রহঃ) এর রিওয়ায়তটি দলীল হিসাবে ব্যবহার করেছেন।
আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। তিনি তখন মসজিদে বসা ছিলেন। লোকেরা বললঃ ইনি হলেন আদী ইবন হাতিম। আমি কোনরূপ নিরাপত্তা লাভ বা চুক্তিপত্র সম্পাদন ছাড়াই তাঁর নিকট এসেছিলাম। আমাকে তাঁর সামনে হাযির করা হলে তিনি আমার হাত ধরলেন। এর আগেই তিনি বলেছিলেন, আমি আশা করছি, আল্লাহ্ তা’আলা আমার হাতে তাঁর হাত অর্পণ করবেন।
আদী রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেন, তিনি আমাকে নিয়ে উঠে চললেন। পথে একটি বালকসহ এক মহিলা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তারা বললঃ আপনার কাছে আমাদের একটু দরকার ছিল। তাদের প্রয়োজন সমাধা না হওয়া পর্যন্ত তিনি তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে রইলেন। এরপর তিনি আমার হাত ধরে আমাকে নিয়ে তাঁর ঘরে এলেন। একটি বালিকা একটি গদি বিছিয়ে দিল। তিনি তাতে বসলেন আর আমি তাঁর সামনে বসলাম। তখন তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানা পাঠ করলেন। এরপর বললেনঃ আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ আছে বলে তুমি কি জান? আদী বলেন, আমি বললামঃ না।
এরপর তিনি আরো কিছুক্ষণ কা বলে পরে বললেন: তুমি’আল্লাহু আকবার’ এই কথা বলা থেকে ভাগছ। আল্লাহর চেয়েও বড় কিছু আছে বলে তুমি কি জানো?
আমি বললামঃ না। তিনি বললেনঃ ইয়াহুদীরা তো আল্লাহর অভিশপ্ত জাতি আর নাসারারা হল পথভ্রষ্ট।
আমি বললামঃ আমি তো একজন একনিষ্ঠ মুসলিম। আমি দেখলাম তাঁর চেহারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠছে। এরপর তাঁর নির্দেশে আমাকে আমাকে জনৈক আনসারীর বাড়িতে মেহমান হিসাবে রাখা হয়। দিনের দুই প্রান্তে আমি তাঁর খেদমতে এসে হাজির হতাম। একদিন বিকালে তাঁর কাছে হাযির ছিলাম। এমন সময় সাদা-কাল ডোরাকাটা রেশমী পোষাকে একদল লোক এল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায) আদায় করলেন এবং দাঁড়িয়ে এদের সাহায্য করার জন্য লোকদের উৎসাহিত করলেন। বললেনঃ একসা’, অর্ধসা’, একমুষ্ঠ বা মুষ্ঠির অংশ হলেও তা দান করে জাহান্নামের আগুনের তাপ থেকে তোমরা নিজেদের রক্ষা কর; একটা খেজুর বা খেজুরের অংশ দিয়ে হলেও। কেননা আল্লাহর সঙ্গে তোমাদের সাক্ষাৎ হবে। আমি তোমাদের যা বলছি তিনি তোমাদের তা বলবেনঃ আমি কি তোমাকে কান ও চোখ দেই নি? সে বলবেঃ অবশ্যই।
আল্লাহ্ বলবেনঃ তোমাকে কি আমি সম্পদ ও সন্তান দেইনি?
আল্লাহ্ বলবেনঃ তোমার নিজের জন্যে অগ্রে কি পাঠিয়ে এসেছ?
সে তার সামনের দিকে তাকাবে। তার পেছনে, ডানে এবং বামে তাকাবে। কিন্তু সে জাহান্নামের ভীষণ উত্তাপ থেকে নিজেকে রক্ষার কিছু পাবে না।
সুতরাং তোমরা একটা খেজুরে অংশও দান করে হলে জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেদের রক্ষা কর। তা যদি না পাও, তবে ভাল কথার মাধ্যমে হলেও তা কর। কারণ, আমি তোমাদের ব্যাপারে উপবাসের আশংকা করি না। আল্লাহ্ তোমাদের সাহায্য করবেন। তিনি তোমাদের প্রচুর দান করবেন। এমনটি উষ্ট্রারোহিণী কোন মহিলা ইয়াছরিব (মদীনা) ও হেরার মাঝে বহু সফর করবে কিন্তু সে তার বাহনের কিছু চুরির কোন আশংকা করবে না। আদী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি মনে মনে বললামঃ তাহলে কবীলার চোরগুলো তখন যাবে কোথায়?
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৫৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিসটি হাসান-গারীব। সিমাক ইবন হারব (রহঃ) এর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছূ জানা নেই। শু’বা (রহঃ) সিমাক ইবন হারব-আব্বাদ ইবন হুবায়শ-আদী ইবন হাতীম রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেন।
বর্ণনাকারী: কাতাদাহ বিন নু’মান (রাঃ)
৩০৩৬. হাসান ইবন আহমদ ইবন আবূ শুআয়ব আবূ মুসলিম হাররানী (রহঃ) ..... কাতাদা ইবন নু’মান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমাদের এক পরিবার ছিল এদেরকে বানু উবায়রিক বলা হত। এদের নাম ছিল বিশর, বুশায়র এবং মুবাশশির। বুশায়র ছিল মুনাফিক। সে সাহাবীদের নিন্দা করে কবিতা রচনা করত পরে তা অন্য কোন আরবের প্রতি আরোপ করে বলতঃ অমুকে অমুক কথা বলেছে। সাহাবীরা যখন এই কবিতা শুনতেন তারা বলতেনঃ আল্লাহর কসম, এই খবীছ ছাড়া এই কবিতা অন্য কেউ রচনা করেনি। ইবনুল উবায়রিকই তা রচনা করেছে।
কাতাদা বলেনঃ জাহেলী ও ইসলামী যুগেও এই পরিবারটি ছিল অভাবগ্রস্থ এবং উপবাস তাড়িত। মদীনার লোকদের খাদ্য ছিল খেজুর ও যব। কেউ যদি স্বচ্ছল হত তবে শাম থেকে কোন খাদ্য ব্যবসায়ী ময়দা নিয়ে আসলে তা সে কিনে নিত এবং নিজের ব্যবহারের জন্য তা বিশেষ করে রেখে দিত। আর ঐ খেজুর ও যবই হত পরিবারের অন্যদের খাদ্য।
একবার শাম থেকে ব্যবসায়ী এল। আমার চাচা রিফাআ ইবন যায়দ তার নিকট থেকে এক বোঝা ময়দা কিনেন এবং তা ভাঁড়ার ঘরে রেখে গেল। ঐ কুঠুরীতে অস্ত্রশস্ত্র, বর্ম, তরবারি ইত্যাদিও ছিল। কিন্তু কুঠুরিটির নীচ দিয়ে একদিন চুরি হয়ে গেল। ভাঁড়ারের নীচ দিয়ে সিঁদ কেটে ও অস্ত্রশ্স্ত্র লোপাট হয়ে যায়। সকালে আমার চাচা রিফাআ আমার কাছে এলেন। বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আজ রাতে তো আমাদের উপর জুলম হয়ে গেল। আমাদের ভাঁড়ারের সিঁদ কেটে খাদ্য ও অস্ত্রশস্ত্র সব লোপাট করে ফেলেছে। মহল্লায় বিষয়টির খোঁজ-খবর নিয়েছি এবং (বিভিন্ন জনকে) জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, আজ রাতে বানূ উবায়রিকদের ঘরে বাতি জ্বালাতে দেখেছি। যতটুকু দেখেছি তাতে তোমাদের খাদ্যের সামনেই এদের দেখেছি।
বানূ উবায়রিক বলছে, আল্লাহর কসম, লাবীদ ইবন সাহলই তোমাদের ঐ চোর বলে আমাদের মনে হয়। অথচ আমরা মহল্লাবাসীদের এই বিষয়ে আগেই জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আর লাবীদ হচ্ছেন আমাদের মাঝে অত্যন্ত নেক এবং আন্তরিকভাবে ইসলামের অধিকারী ব্যক্তি। লাবীদ এই কথা শুনে তলোয়ার কোষ মুক্ত করে এলেন, বললেনঃ আমি চুরি করেছি? আল্লাহর কসম হয়ত এই তরবারীর সঙ্গে তোমাদের মিলন ঘটবে নয়ত তোমরা এই চুরির সাক্ষ্য প্রমাণ পেশ করবে। লোকজনরা বললঃ ওহে ব্যাটা, সরে দাঁড়াও। তুমি আমাদের ঐ চোর নও। যা হোক, আমরা মহল্লায় আরো জিজ্ঞাসাবাদ করে নিঃসন্দেহ হলাম যে, এ বানূ উবায়রিকেরই কান্ড। শেষে আমার চাচা আমাকে বললেনঃ হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে বিষয়টা নিয়ে যদি আলোচনা করতে!
কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। বললাম, আমাদের মহল্লায় একটা জালিম পরিবার আছে। আমার চাচা রিফাআ ইবন যায়দ-এর ক্ষতি সাধনের ইচ্ছায় তার ভাঁড়ারে সিঁদ কেটে তার অস্ত্রশস্ত্র এবং খাদ্য সবই নিয়ে গেছে। আমাদের অস্ত্রশস্ত্রগুলো ফেরত নিয়ে দিন। আমাদের খাদ্যের দরকার নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বিষয়টি নিয়ে আমি শিগগীরই পরামর্শ করব।
বানূ উবায়রিক যখন এই কথা শুনল তখন তারা উসায়র ইবন উরওয়া নামক তাদের এক ব্যক্তির কাছে এল এবং এই বিষয়ে তার সাথে আলোচনা করল এই বাড়ির কিছু লোক একত্রিত হয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কাতাদা ইবন নু’মান ও তার চাচা আমাদের একটি সৎ ও মুসলিম পরিবারের ক্ষতি-সাধনের ইচ্ছায় কোনরূপ সাক্ষী-প্রমাণ ছাড়াই তাদের উপর চুরির অপবাদ দিচ্ছে।
কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম এবং বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বললাম। তিনি বললেনঃ এমন একটি পরিবার যাদের ইসলাম ও সততা সম্পর্কে খ্যাতি আছে তাদের তুমি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছায় কোন প্রমাণ ছাড়াই চুরির অপবাদ দিচ্ছে!
আমি ফিরে চলে এলাম। আমি তখন পছন্দ করছিলাম যে, আমার কিছু সম্পদ যদি চলেও যেত তবু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে এই নিয়ে যদি আলাপ না করতাম! আমার চাচা রিফআ আমার কাছে এলেন এবং বললেনঃ হে ভাতিজা! (আমার বিষয়টির) কি করলে?
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যা বলেছিলেন তা আমি তাকে জানালাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ই একমাত্র সাহায্য-প্রার্থনাস্থল। এরপর আর বেশীক্ষণ না যেতেই কুরআনের এই আয়াত নাযিল হলঃ
إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ وَلاَ تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيمًا
সত্যসহ আপনার কাছে কিতাব নাযিল করেছি যাতে আল্লাহ আপনাকে যা জ্ঞাত করিয়েছেন তদনুসারে আপনি লোকদের মাঝে ফয়সালা প্রদান করেন। খিয়ানতকারীদের (যেমন, বানু উবায়রিকের পক্ষে) তর্ক করবেন না।
কাতাদাকে যা বলেছেন তজ্জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রর্থনা করুন। আল্লাহ্ অবশ্যই অতিশয় ক্ষমাশীল। পরম দয়ালু।
যারা নিজেদের প্রতারিত করে তাদের পক্ষে তর্কবিতর্ক করবেন না। আল্লাহ্ তা’আলা খিয়ানতকারী পাপীকে পছন্দ করেন না।
তারা লোকদের থেকে গোপন করতে চায় কিন্তু আল্লাহ্ থেকে গোপন করে না। অথচ রাত্রে যখন তারা তাঁর নিকট অপছন্দনীয় কথা নিয়ে আলোচনা করে তখনও তো তিনি তাদের সঙ্গেই আছেন ...... আল্লাহর বাণী - ’পরম দয়ালু’ পর্যন্ত।
অর্থাৎ এরা যদি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তবে তিনি তাদের ক্ষমা করে দিবেন।
কেউ কোন দোষ বা পাপ করে তা কোন নির্দোষ ব্যক্তির উপর আরোপ করে- যেমন লাবীদ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য - সে তো মিথ্যা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।
আপনার প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত তাদের একদল তো আপনাকে পথভ্রষ্ট করতে সংকল্প আঁটত। কিন্তু তারা নিজদের ব্যতীত আর কাউকে পথভ্রষ্ট করে না; আপনার কোনই ক্ষতি তারা করতে পারবে না। আল্লাহ্ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনি যা জানতেন না তা আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আপনার প্রতি রয়েছে আল্লাহর মহা অনুগ্রহ।
তাদের অনেক গোপন সলা-পরামর্শেই কোন কল্যাণ নেই। তবে যে দান- খয়রাত, সৎকার্য ও মানুষের মাঝে শান্তি স্থাপনের নির্দেশ দেয় তার পরামর্শে কল্যাণ আছে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি তালাশে তা করে তাকে দিব মহা পুরস্কার (৪ঃ ১০৫-১১৪)।
কুরআনের আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসূলু্ল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অস্ত্র ফেরত নিয়ে আসা হয় এবং তিনি তা রিফাআকে দিয়ে দেন।
কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমার চাচা ছিলেন একজন বৃদ্ধ লোক। জাহিলী যুগ তিনি অতিবাহিত করেছেন কিংবা তিনি বলেছেনঃ জাহিলী যুগেই তিনি অতিশয় বৃদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। আমার ধারণা ছিল যে, তিনি ইসলামে প্রবিষ্ট ছিলেন। তাঁর কাছে যখন অস্ত্র ফেরত নিয়ে আসলাম তখন তিনি বললেনঃ হে ভ্রাতুষ্পুত্র! এটি আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দিলাম। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি সঠিক ভাবেই ইসলামে দাখিল হয়েছেন।
কুরআনের এই আয়াতে নাযিল হওয়ার পর বুশায়র মুশরিকদের সাথে গিয়ে মিশে যায় এবং সুলাফা বিনত সা’দ ইবন সুমাইয়ার কাছে উঠে। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেনঃ
وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا * إِنَّ اللَّهَ لاَ يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلاَلاً بَعِيدًا
কারো নিকট সৎপথ সুস্পষ্ট হওয়ার পরও সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে এবং মু’মিনদের পথ ধরে তবে যে দিকে সে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দিব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব। আর তা কতই না মন্দ আবাস!
আল্লাহ্ তাঁর সঙ্গে শরীক করা ক্ষমা করেন না। তাছাড়া যার জন্য ইচ্ছা তিনি তার অন্য সব পাপ ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়। (৪ঃ ১১৫-১১৬)।
বুশায়র সুলাফার এখানে আশ্রয় নিলে হাসসান ইবন ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু কিছু কবিতা-চরণের মাধ্যমে তাকে আক্রমণ করেন। তখন ঐ মহিলা বুশায়রের মাল-সমান মাথায় তুলে আবতাহে নিয়ে ফেলে দিল। পরে বললঃ হাসসানের কবিতা আমার জন্য হাদিয়া নিয়ে এলে, আমার জন্য ভাল কিছু নিয়ে আসতে পারলে না?
হাদিসটি গারীব। মুহাম্মাদ ইবন সালাম হাররানী ছাড়া আর কেউ এটি মুসনাদ রূপে রিওয়ায়ত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। ইউনুস ইবন বুকায়র প্রমুখ (রহঃ) এই হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক-আসিম ইবন উমার ইবন কাতাদা (রহঃ) সূত্রে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন। এতে তার পিতা উমর এবং তার পিতামহ কাতাদা-এর উল্লেখ নেই। কাতাদা ইবন নু’মান রাদিয়াল্লাহু আনহু হলেন আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মা শরীক ভাই। আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নাম হল সা’দ ইবন মালিক ইবন সিনান।
হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৩৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
৩০৫৯. হাসান ইবন আহমদ ইবন আবূ শু’আয়ব হাররানী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ) হে মুমিনগণ! তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন ওসীয়ত করার সময় তোমাদের মধ্যে সাক্ষী রাখবে ন্যায়নিষ্ঠ দুই জন (৫ঃ ১০৬) আয়াত প্রসঙ্গে তামীমে দারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এ ক্ষেত্রে আমি এবং আদী ইবন বাদদা ছাড়া অন্য কারো উপর এ আয়াত প্রযোজ্য নয়।
এরা (তামীম ও আদী) উভয়েই ছিলেন খৃষ্টান। ইসলামের পূর্বে তারা সিরিয়ায় ব্যবসার জন্য যাতায়াত করতেন। একবার তারা ব্যবসা উপলক্ষে সিরিয়া গেলেন। বুদায়ল ইবন আবূ মারইয়াম নামক বানু সাহমের এক জন আযাদকৃত দাস তাদের কাছে তেজারতির (ব্যবসার) উদ্দেশ্যে এলেন। তাঁর সাথে রূপার একটি পান পাত্র ছিল। তিনি এটি বাদশাহর (নিকট বিক্রির) উদ্দেশ্যে এনেছিলেন। এটিই ছিল তাঁর তেজারতির সর্বোৎকৃষ্ট বস্ত। তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি তখন তাদের কাছে ওসীয়ত করেন এবং (তাঁর মৃত্যু হলে) তাঁর রেখে যাওয়া মালপত্র তার পরিবার-পরিজনের কাছে পৌঁছে দিতে উভয়কে অনুরোধ জানান। তামীম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ তিনি মারা গেলে আমরা পানপাত্রটি নিয়ে গিয়ে এক হাজার দিরহামে বিক্রি করে আমি ও আদী ইবন বাদ্দা দুই জনে তা ভাগ করে নিলাম। পরে আমরা যখন তাঁর পরিজনের নিকট ফিরে এলাম, তখন আমাদের নিকট রক্ষিত জিনিসপত্র তাদেরকে বুঝিয়ে দিলাম। কিন্তু তারা ঐ পানপাত্রটি না পেয়ে এই বিষয়ে আমাদের কাছে জানতে চাইল। আমরা বললামঃ যা দিয়েছি তা ছাড়া তিনি আর কিছু রেখে যান নি এবং তা ছাড়া আমাদের কাছেও তিনি অন্য কিছু রেখে যান নি।
তামীম রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মদীনা আগমনের পর যখন আমি ইসলাম গ্রহণ করি তখন ঐ অপরাধ থেকে মুক্তির চিন্তা করে তাঁর পরিবারের লোকদের কাছে আসি এবং মূল ব্যাপারটি তাদের জানাই। তাদেরকে পাঁচশত দিরহাম ফেরত দেই আর বলি যে, আমার সঙ্গীর কাছেও এ পরিবাণ রয়েছে, তারা তখন বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এল। তিনি তাদের কাছে প্রমাণ তলব করলেন। তারা কোন সাক্ষী পেল না। তিনি তখন তাদের ধর্মের যে বিষয়ের কসম খেলে গুরুত্ব হয় সে বিষয়ের মাধ্যমে আদীকে কসম দিতে ঐ পরিবারের লোকদের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আদী (নিজেকে নিরপরাধ বলে) কসম খায়। এতদপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِلَى قَوْلِهِ : أَوْ يَخَافُوا أَنْ تُرَدَّ أَيْمَانٌ بَعْدَ أَيْمَانِهِمْ
এরপর আমার ইবন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং অন্য একজন ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে উঠলেন। শেষে আদী ইবন বাদদা থেকে পাঁচশ দিরহাম উসুল করা হল।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি গারীব। এর সনদ বিশুদ্ধ নয়। যে আবুন নাযর-এর সূত্রে মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আমার মতে তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনুস সাইব কালবী। তাঁর কুনিয়াত হল আবুন নাযর। হাদীস বিশেজ্ঞগণ তাঁকে পরিত্যাগ করেছেন। তাঁর তাফসীরের একটি গ্রন্থও আছে। মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল বুখারী (রহঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ মুাহাম্মাদ ইবন সাইব কালবীর কুনিয়াত হল আবুন নাযর। উম্মু হানী রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর মাওলা আবূ সালিহ (রহঃ) সূত্রে সালিম আবুন নাযর মাদীনীর কোন রিওয়ায়ত আছে বলে আমাদের জানা নেই। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সংক্ষিপ্তভাবে এই বিষয়ে অন্য সূত্রেও হাদীস বর্ণিত আছে।
খুবই দুর্বল, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
বর্ণনাকারী: কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ)
৩১০২. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... কা’ব ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ তাবূক যুদ্ধ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যত যুদ্ধ করেছেন কোনটি থেকেই আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পেছনে পড়ে থাকিনি, বদর যুদ্ধ ব্যতীত। আর বদর যুদ্ধে যারা পেছনে পড়ে থেকেছে তাদের কাউকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভৎসনা করেননি। সে যুদ্ধে তো তিনি মূলত (কুরায়শদের তেজারতী) কাফেলা ধরার উদ্দেশ্যে অভিযাত্রা করেছিরেন। আর কুরায়শরা তাদের কাফেলার সাহোয্যে বের হয়েছিল। তারপর পূর্ব নির্ধারিত সময় ছাড়া তারা (বদর) পরস্পর সম্মুখীন হয়। যেমন আল্লাহ্ তা’আলা উল্লেখ করেছেন। আমার জীবনের কসম, মানুষের কাছে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সর্বাধিক মর্যাদাবান যুদ্ধ হল গাযওয়ায়ে বদর। এতদসত্ত্বেও আমরা আকাবা রাত্রিতে (আনসারীরা) ইসলামের উপর যে অঙ্গীকার করেছিলাম আমার সে রায়আতের স্থলে বদরে শরীক থাকটা আমার কাছে প্রিয়তম নয়। এই বদরের পর তাবুক পর্যন্ত আর কোন গাযওয়া থেকে ই আমি পেছনে থাকি নি। তাবুক যুদ্ধ ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শেষ যুদ্ধ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ যুদ্ধে যাত্রার জন্য ঘোষণা দিয়ে দিলেন। ...... এরপর কা’ব দীর্ঘ হাদীসটির বিবরণ দেন।
তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে (আমার তওবা কবুলের আয়াত নাযিল হওয়ার পর) আমি গেলাম। তিনি তখন মসজিদে উপবিষ্ট ছিলেন। মুসলিমরা ছিলেন তাঁর চতুষ্পার্শ্বে। চাঁদের মত জ্বলজ্বল করছিলেন তিনি। কোন বিষয়ে তিনি যদি আনন্দিত হতেন তবে উজ্জ্বল জ্যোতির্ময় হয়ে যেতেন তিনি। আমি এসে তাঁর সামনে বসলাম। তিনি বললেনঃ হে কা’ব ইবন মালিক! তোমার মা তোমাকে প্রসব করার পর থেকে সর্বোত্তম দিনটির জন্য তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর।
আমি বললামঃ ইয়া নবীয়াল্লাহ্! এ সুসংবাদ কি আল্লাহর পক্ষ থেকে না আপনার পক্ষ থেকে? তিনি বললেনঃ না, এতো আল্লাহর পক্ষ থেকে। এরপর তিনি এ আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেনঃ
لَقََدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ *** حَتَّى بَلَغََّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
আল্লাহ্ অনুগ্রহ পরায়ণ হলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি যারা তার অনুগমন করেছিল সংকটকালে, এমনকি যখন তাদের এক দলে চিত্তবৈকল্যের উপক্রম হয়েছিল। পরে আল্লাহ্ তাদের ক্ষমা করলেন, তিনি তাদের প্রতি দয়ার্দ্র পরম দয়ালু। (৯ঃ ১১৭)
তিনি আরো বলেনঃ আমাদের বিষয়েই নাযিল হয়ঃ
اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভূক্ত হও। (৯ঃ ১১৯)
আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী! আমার তওবার শুকরিয়া হল আমি জীবনে অসত্য বলব না এবং আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের পথে সাদাকাস্বরূপ দিয়ে দিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কিছু অর্থ-সম্পদ তোমার জন্য রেখে দাও। এ-ই তোমার জন্য উত্তম।
আমি বললামঃ খায়বার থেকে আমি যে হিস্যা পেয়েছি তা আমার জন্য রেখে দিলাম। কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো বলেনঃ আমি এবং আমার দুই সঙ্গী (তাবুক যুদ্ধে শরীক না হওয়ার বিষয়ে) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যে সত্য কথা বলেছিলাম আমার ধারণায় ইসলাম গ্রহণের পর সে সত্য বলার চাইতে বড় কোন নেয়ামত আল্লাহ্ তা’আলা আর আমাকে দান করেননি। আমরা মিথ্যা বলিনি যদি মিথ্যা বলতাম তবে অন্যদের মত আমরাও ধ্বংস হয়ে যেতাম। আমি আশা করি, সত্য কথা বলার জন্য আল্লাহ্ তা’আলা আর কাউকে এত পরীক্ষায় ফেলেন নি, যে পরীক্ষায় তিনি আমাকে ফেলেছিলেন। পরেও আর কখনও আমি মিথ্যার ইচ্ছাও করিনি। আশা করি অবশিষ্ট জীবনেও তিনি আমাকে হেফাজত করবেন।
সহীহ, সহিহ আবু দাউদ ১৯১২, বুখারি ৪৬৭৬, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১০২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ সনদের বিপরীত আরেক সনদে যুহরী (রহঃ) সূত্রে এ হাদীসটির রিওয়ায়ত আছে। এতে বলা হয়েছে। আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন কা’ব ইবন মালিক তার পিতা আবদুল্লাহ্ ইবন কা’ব ... কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে বর্ণিত আছে। আবার অন্য কথাও বলা হয়েছে। ইউনুস ইবন ইয়াযীদ এ হাদীসটি যুহরী ... আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন মালিক তার পিতা আবদুল্লাহ ... কা’ব ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৩১০৪. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু উছমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এলেন। উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন আরমেনিয়া ও আযারবায়জান বিজয়ে ইরাকবাসীদের সঙ্গে শামবাসীদেরও যুদ্ধ-যাত্রার জন্য প্রস্তুত করছিলেন। হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু কুরআনের (পাঠের) ক্ষেত্রে এদের পরস্পর মতানৈক্য দেখেছিলেন। তিনি উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেনঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! ইয়াহূদ নাসারারা যেরূপ মতানৈক্যে লিপ্ত হয়েছিল, আল্লাহর কিতাবে সেরূপ মতানৈক্যে লিপ্ত হওয়ার পূর্বে এ উম্মতকে আপনি রক্ষা করুন।
তখন উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহ এই বলে হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর কাছে লোক পাঠালেন যে, আপনার কাছে রক্ষিত কুরআনের লিপিবদ্ধ কপিগুলো আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন, আমরা এটির বিভিন্ন কপি করে পুনরায় আপনার কাছে ফেরত পাঠাব।
হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা কুরআনের লিপিবদ্ধ কপিগুলো উছমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহু যায়দ ইবন ছাবিত, সাঈদ ইবন আস, আবদুর রহমান ইবন হারিছ ইবন হিশাম ও আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর কাছে কপিগুলো পাঠিয়ে বললেন যে, তোমরা এই কপিগুলো মুসহাফে লিপিবদ্ধ কর। এই তিনজন কুরায়শী গ্রুপকে বললেনঃ তোমাদের এবং যায়দ ইবন ছাবিতের মাঝে মতানৈক্য দেখা গেলে কুরায়শী ভাষা অনুসারে তা লিপিবদ্ধ করবে। কেননা কুরআন কুরায়শদের ভাষা অনুসারেই নাযিল হয়েছে।
যা হোক, তারা কুরআনের লিপিবদ্ধ কপিগুলো বিভিন্ন মুসহাফে লিপিবদ্ধ করেন। উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বিভিন্ন দিকে তাদের কপি করা মুসহাফগুলো পাঠালেন।
যুহরী (রহঃ) বলেনঃ খারিজা ইবন যায়দ আমাকে বর্ণনা করেন যে, যায়দ ইবন ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ সূরা আহযাবের একটি আয়াত আমি খূঁজে পাচ্ছিলাম না। অথচ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা পাঠ করতে আমি শুনেছি। সেটি হলঃ
مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ
মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে। এদের কেউ কেউ শাহাদত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। (৩৩ : ২৩)
পরে তালাশ করে খুযায়মা ইবন ছাবিত কিংবা আবূ খুযায়মার কাছে সেটি পেলাম এবং উক্ত সূরায় তা যুক্ত করে দিলাম।
যুহরী (রহঃ) বলেনঃ একদিন তারাالتابوت এবংالتابوه নিয়ে মতানৈক্য করেন। কুরায়শীরা বললেনঃ التابوت যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃالتابوه তাঁদের এ মতানৈক্যের বিষয়টি উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে পেশ করা হলে তিনি বললেনঃ তোমরাالتابوت লিখ। কেননা কুরআন কুরায়শের ভাষায় নাযিল হয়েছে।
যুহরী বলেনঃ উবায়দুল্লাহ ইবন উতবা বলেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু যায়দ ইবন ছাবিতের এ তৈরী কপি পছন্দ করেননি। তিনি বলেছেনঃ হে মুসলিম সম্প্রদায়! কুরআনের মুসহাফ লিপিবদ্ধ করার কাজে আমাকে দূরে রাখা হয়েছে আর এর দায়িত্ব বহন করেছে এমন এক ব্যক্তি যে আল্লাহর কসম আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করি তখন সে ছিল এক কাফিরের ঔরসে। (এই কথা বলে তিনি যায়দ ইবন ছাবিতের দিকে ইঙ্গিত করেছেন)।
আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ হে ইরাকবাসী! তোমাদের কাছে যে মুসহাফগুলো রয়েছে সেগুলো লুকিয়ে রাখ। আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেনঃ
وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
এবং কেউ অন্যায়ভাবে কিছু গোপন করলে যা সে অন্যায়ভাবে গোপন করবে কিয়ামতের দিন সে তা নিয়ে আসবে। (৩ : ১৬১) সুতরাং তোমরা তোমাদের মুসহাফসহ আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবে। যুহরী বলেনঃ বিশিষ্ট সাহাবীগণের অনেকই ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর এ বক্তব্য অপছন্দ করেছেন বলে আমি সংবাদ পেয়েছি।
সহীহ, বুখারি ৪৯৮৭, ৪৯৮৮, মাকতু, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১০৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ। এটি হল যুহরী (রহঃ) -এর রিওয়ায়ত। তাঁর রিওয়ায়ত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
বর্ণনাকারী: সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
৩১৪৯. ইবন আবূ উমর (রহঃ) ..... সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললামঃ নাওফ বিকালী বলেন যে, বানূ ইসরাঈলী নবী মূসা খাযিরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারী মূসা এক নন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আল্লাহর দুশমন মিথ্যা বলেছে। আমি উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ একদিন মূসা বানূ ইসরাঈলের মাঝে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলঃ কোন ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী?
তিনি বললেনঃ আমি।
আল্লাহ্ তা’আলার দিকে বিষয়টি সোপর্দ না করায় তিনি তাঁর উপর অসন্তুষ্ট হন। তিনি তাঁর কাছে ওহী পাঠালেন, দুই সাগরের সঙ্গমস্থলে আমার এক বান্দা আছে সে তোমার চেয়ে বড় জ্ঞানী।
মূসা (আঃ) বললেন, হে পরওয়ারদিগার, আমি কি উপায়ে তাঁর সাক্ষাৎ পেতে পারি?
তিনি বললেনঃ একটি থলের মধ্যে একটি মাছ নাও। যেখানে গিয়ে মাছটি হারিয়ে যাবে সে স্থানেই সে আছে। তারপর তিনি রওয়ানা হলেন। সঙ্গে তাঁর খাদেম ইউশা’ ইবন নূনও চললেন। মূসা (আঃ) মাছটি একটি থলেতে রাখলেন। তিনি ও তাঁর খাদিম চলতে চলতে একটি চটানের কাছে এসে পৌঁছে মূসা ও তার খাদিম ঘুমিয়ে পড়েন। তখন থলের ভিতর মাছটি নড়ে চড়ে থলে থেকে বের হয়ে সমুদ্রে পড়ে যায়। আল্লাহ্ তা’য়ালা চলার পথে পানির ধারা বন্ধ করে দিলেন। ফলে সেটি একটি তাকের মত হয়ে যায়।
মাছটির জন্য এটি একটি সুড়ঙ্গেরা মত হয়ে পড়ে আর মূসা ও তাঁর খাদেমের জন্য এক বিস্ময়কর বস্ত হয়ে দাঁড়ায়।
এরপর তাঁরা বাকী দিন ও রাত্রিভর চলতে থাকেন। মূসার সাথী তাঁকে মাছের বিষয়টি বলতে ভুলে যান। সকাল হলে মূসা (আঃ) তাঁর খাদিমকে বললেনঃ আমাদের সকালের খাবার নিয়ে আস। এই সফরে আমরা বেশ ক্লান্তি অনুভব করছি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নির্দেশিত স্থানটি অতিক্রম করা পর্যন্ত তাঁরা কোন ক্লান্তি বোধ করেননি।
খাদিম বললেনঃ হায়, আপনি কি জানেন আমরা যখন চটানে আশ্রয় মাছের তখনকার ব্যাপারটি তো আমি ভুলে গিয়েছি। সে কথা বলতে শয়তান ছাড়া আর কেউ আমাকে ভুলিয়ে দেয়নি। এটি সাগরে এক আশ্চর্যজনক ভাবে পথ ধরে চলে গেছে।
মূসা (আঃ) বললেনঃ সেটাই তো ছিল উদ্দীষ্ঠ স্থান। অনন্তর উভয়েই তাঁরা পদচিহ্ন ধরে পেছনে ফিরে আসলেন।
সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, লোকদের ধারণা সেই চটানের পাশে ছিল সঞ্জীবনী ঝর্ণা। কোন মৃতের গায়ে এর পানি লাগলেই তা জীবিত হযে উঠে। ঐ মাছটির কিছু অংশ খাওয়া হয়েছিল। এতদসত্ত্বেও এর উপর উক্ত পানির ফোটা পড়লেই সেটি জীবিত হয়ে উঠে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাঁরা পদচিহ্ন অনুসরণ করে পাথরটির কাছে ফিরে এলেন। সেখানে এসে কাপড় ঘোমটা দিয়ে আবৃত এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম করলেন। লোকটি বললেনঃ এই যমিনে সালাম কোথা হতে!
মূসা (আঃ) বললেনঃ আমি মূসা। লোকটি বললেনঃ বানূ ইসরাঈলের মূসা? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।
লোকটি বললেনঃ হে মূসা, আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন ধরনের জ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত, আল্লাহ্ তা’আলা যা আপনাকে শিখিয়েছেন। আমি তা জানি না। আর আমিও আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক জ্ঞান লাভ করেছি যা তিনি আমাকে শিখিয়েছেন। তা আপনি জানেন না।
মূসা (আঃ) বললেনঃ সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আপনি আমাকে শিক্ষা দিবেন- এই শর্তে আমি আপনার সঙ্গে আমি চলতে পারি কি?
লোকটি বললেনঃ আপনি কিছূতেই আমার সঙ্গে ধৈর্য ধরে থাকতে পারবেন না। আর যে বিষয়ে আপনার জ্ঞানায়ত্ব নয় সে বিসয়ে আপনি কেমন করে ধৈর্যধারণ করবেন?
তিনি বললেনঃ ইনশাআল্লাহ্! আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার আদেশ অমান্য করব না।
খাযির বললেনঃ আপনি যদি আমার সাথে চলতে চান তবে কোন বিষয়ে আপনি আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যতক্ষণ না আমি নিজে সে সম্বন্ধে আপনাকে বলি (১৮ : ৬২-৭০)। মূসা বললেন, আচ্ছা।
খাযির এবং মূসা সাগরের তীর দিয়ে হেঁটে চললেন। তাঁদের পাশ দিয়ে একটি নৌকা যাচ্ছিল। তাঁরা তাতে তুলে নেওয়ার জন্য নৌকার লোকদের সঙ্গে আলাপ করলেন। তারা খাযির (আঃ)-কে চিনতে পেরে পারিশ্রমিক ছাড়াই তাদের উভয়কে তুলে নিল। এরপর খাযির (গোপনে) নৌকার একটি তক্তার দিকে লক্ষ্য করে তা সরিয়ে ফেললেন।
মূসা (আঃ) তাঁকে বললেনঃ বিনা পারিশ্রমিকে এরা আমাদের বহন করল আর আপনি আরোহীদের ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য আপনি এটি বিদীর্ণ করে দিলেন! আপনি এক গুরুতর কাজ করলেন।
খাযির বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্য ধরে থাকতে পারবেন না?
মূসা (আঃ) বললেনঃ মেহেরবানী করে আমার ভুলের জন্য আমাকে ধরবেন না এবং আমার বিষয়ে অত্যাধিক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না।
এরপর তাঁরা নৌকা থেকে নামলেন। তাঁরা তীর দিয়ে হেঁটে চলছিলেন। এমন সময় দেখেন কতকগুলো বালকের সাথে একটি বালক খেলছে। খাযির (আঃ) সেই বালকটির মাথা ধরে তার ঘাড় মটকে তাকে হত্যা করে ফেললেন। মূসা (আঃ) তাকে বললেনঃ আপনি কি একটি নিষ্পাপ বালককে কোন প্রাণ হত্যার বিনিময় ব্যতীতই হত্যা করে ফেললেন! আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।
খাযির (আঃ) বললেনঃ আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আপনি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্য ধরে থাকতে পারবেন না?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই আপত্তি প্রথমটির তুলনায় কঠোরতর।
মূসা (আঃ) বললেনঃ এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করি তবে আপনি আমাকে আর সঙ্গে রাখবেন না। আমার পক্ষ থেকে ওযর গ্রহণে আপনি চরমে পৌছে গিয়েছেন।
এরপর তাঁরা উভয়েই চলতে চলতে এক জনপদবাসীদের কাছে পৌঁছে তাদের নিকট খাবার চাইলেন।
কিন্তু তারা তাঁদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। এরপর মূসা ও খাযির তাদের একটা পতনোন্মুখ দেওয়াল ঝুঁকে পড়েছে দেখতে পেলেন। খাযির সেটিকে তাঁর হাত দিয়ে দাঁড় করিয়ে দিলেন।
মূসা (আঃ) বললেনঃ এমন এক সম্প্রদায়! এদের কাছে আমরা এলাম কিন্তু তারা আমাদের কোনরূপ মেহমানদারী করল না এবং আমাদের খাওয়ালো না। আপনি ইচ্ছা করলে এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন।
খাযির (আঃ) বললেনঃ এখানেই আপনার ও আমার মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হল। যে বিষয়ে আপনি ধৈর্যধারণ করতে পারেননি আমি সেগুলোর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছি।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা মূসা (আঃ)-এর উপর রহম করুন। আমাদের মনোবঞ্ছা ছিল, তিনি যদি ধৈর্যধারণ করতেন তাহলে তাঁদের আরো বহু বিষয় আমাদের কাছে বিবৃত করা হতো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকাটির কিনারে বসে সাগরে এক ঠোকর মারল। তখন খাযির (আঃ) মূসা (আঃ)-কে বললেনঃ সাগর থেকে এই চড়ুইটি যতটুযকু পানি আহরণ করতে পেরেছে আপনার এবং আমার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় সে পরিমাণ ছাড়া আহরণ করতে পারেনি। সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) বলেন, ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু পাঠ করতেনঃ
قَالَ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ وَمَا أَنْسَانِيهُ إِلاَّ الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ وَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا
আরো পাঠ করতেনঃ (ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا)।
সহীহ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৪৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ ইসহাক হামদানী এটি সাঈদ ইবন জুবায়র-ইবন আব্বাস-উবাই কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। যুহরী এটি উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন উতবা (রহঃ)-ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
আবূ মুযাহিম ফাযারকান্দী (রহঃ) বলেন, আলী ইবন মাদীনী (রহঃ) বলেছেনঃ যদিও আমার দৃঢ় সংকল্প ছিল না তবুও এই হাদীস সম্বন্ধে সুফইয়ান (রহঃ) থেকে পূর্ণ খবর শোনার জন্য হজ্জ করলাম। শেষে তাকে (فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلاَ تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا) রূপে রিওয়ায়ত করতে শুনলাম। এর আগেও হাদীসটি সুফইয়ানকে রিওয়ায়ত করতে শুনেছি তিনি পূর্ণ খবর বর্ণনা করেননি।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
উক্ত হাদিসটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূরা ত্বহার অধীনে এনেছে কিন্তু এটি হবে সূরা আম্বিয়ার।
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৩১৮০. মাহমূদ ইবন গায়লান (রহঃ) ..... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার সম্পর্কে যখন অপবাদ রটনা হচ্ছিল অথচ এর কিছুই আমি জানতাম না। তখন একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। তিনি তাশাহহুদ পাঠ করলেন। আল্লাহর যথোপযুক্ত হামদ ও ছানা করলেন। পরে বললেনঃ আম্মা বাদ, এই সব লোকদের বিষয়ে তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও যারা আমার স্ত্রী সম্পর্কে অপবাদ রটাচ্ছে। অথচ আল্লাহর কসম, আমার স্ত্রীর সম্পর্কে কখনও মন্দ কিছু আমি জানি না। এরা এমন এক ব্যক্তিকে জড়িয়ে অপবাদ দিচ্ছে আল্লাহর কসম, তার সম্পর্কেও আমি মন্দ বলতে কখনো কিছু জানি না। আর আমার উপস্থিতি ভিন্ন সে আমার ঘরে কোন দিন আসেনি। কোন সফর ব্যাপদেশে আমি যখন অনুপস্থিত থেকেছি সে-ও আমার সঙ্গেই অনুপস্থিত থেকেছে।
সা’দ ইবন মুআয উঠে দাঁড়ালেন। বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এদের গর্দান উড়িয়ে দিতে আপনি আমাকে অনুমতি দিন। খাযরাজ কাবীলার জনৈক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল। হাসসান ইবন ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু (যিনি প্রপাগান্ডায় প্রভাবিত হয়ে রটনাকারীদের মধ্যে শামিল হয়ে পড়েছিলেন)-এর মা ছিলেন ঐ ব্যক্তিটির কাবীলার, সে বললঃ তুমি ঠিক বলনি। আওস গোত্রের যদি কোন ব্যক্তি হত তবে আর তাদের গর্দানে আঘাত করা তুমি পছন্দ করতে না।
শেষে আওস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মাঝে সমজিদেই মন্দ পরিস্থিতি সৃষ্টির উপক্রম হয়ে দাঁড়াল। অথচ আমি কিছুই জানতে পারি নি। ঐ দিন বিকালে আমি আমার কোন (প্রাকৃতিক) প্রয়োজনে বের হই। আমার সঙ্গে ছিলেন মিসতাহ-এর মা। হঠাৎ তাঁর পা পিছলে যায়। তিনি বলে উঠলেনঃ মিসতাহ ধ্বংস হোক।
আমি বললামঃ হে মা, আপনি আপনার পুত্রকে ভৎর্সনা করছেন? তিনি চুপ রইলেন। দ্বিতীয়বার তাঁর পা পিছলে যায়। তিনি বললেনঃ মিসতাহ-এর ধ্বংস হোক।
আমি তাঁকে বললামঃ হে মা, আপনি আপনার পুত্রকে ভৎর্সনা করছেন?
তিনি চুপ করে গেলেন। এরপর তৃতীয়বার তাঁর পা জড়িয়ে যায়। তিনি বললেনঃ মিসতাহ-এর ধ্বংস হোক। আমি এইবার তাঁকে ধমক দিয়ে বললামঃ হে মা, আপনি আপনার পুত্রকে ভৎর্সনা করছেন?
তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম, তোমার জন্যই তো তাকে ভৎর্সনা করছি।
আমি বললাম আমার কি বিষয়ে?
তিনি তখন আমার কাছে পুরা বিষয়টি খুলে বললেন। আমি বললাম, এই ধরনের কথা হয়েছে!
তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহর কসম!
আমি আমার ঘরে ফিরে আসলাম। যে বিষয়ে বের হয়েছিলাম সে জন্য বেরই হই নি। কম বা বেশী কোন প্রয়োজনই টের পাচ্ছিলাম না। আমি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললামঃ আমাকে আমার পিতার বাড়ি পাঠিয়ে দিন। তিনি আমার সঙ্গে একটি বালককে পাঠিয়ে দিলেন। আমি ঘরে প্রবেশ করলাম এবং উম্মু রূমান (আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর মা)-কে নীচে পেলাম। আর আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু উপরে (কুরআন) তিলাওয়াত করছিলেন। আমার মা আমাকে বললেনঃ প্রিয় কন্যা, কি জন্য এসেছ?
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি তাকে অবহিত করলাম এবং তাঁকে ঘটনা বর্ণনা করলাম। দেখি যে খবরটি তাঁর কাছে সেভাবে আছর করেনি আমার উপর যেভাবে আছর করেছে। তিনি বললেনঃ হে প্রিয় কন্যা, বিষয়টি তোমার জন্য একটু হালকা করে দেখ। কেননা, আল্লাহর কসম, মহিলা যদি সুন্দরী হয় এবং স্বামী যদি তাকে ভালবাসে আর তার যদি কতিপয় সতীন থাকে তবে খুব কমই সে হিংসা থেকে বাঁচতে পারে। তার সম্বন্ধে (কিছু কিছু কথার) রটনা হয়েই থাকে।
যা হোক, যখন দেখলাম যে, আমার কাছে খবরটির যে প্রভাব পৌঁছেছে তাঁর উপর সে প্রভাব পড়েনি, তিনি বলেন, তখন তাঁকে আমি বললাম, আমার পিতাকে তা জানান হয়েছে কি?
তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি বললামঃ আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি কান্নাকাটি করতে লাগলাম।
আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি ঘরের উপর কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। তিনি নীচে নেমে এলেন এবং আমার মাকে বললেনঃ এর ব্যাপার কি? তিনি বললেনঃ এর বিষয়ে যে রটনা চলছে তা তার কাছে পৌঁছে গেল। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর দুই চোখ বেয়ে অশ্রু নেমে এল। তিনি বললেনঃ হে প্রিয় কন্যা, তোমার উপর কসম দিয়ে বলছি অবশ্য তুমি তোমার বাড়ি ফিরে যাও।
অনন্তর আমি ফিরে আসলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে এলেন এবং আমার সম্পর্কে তিনি আমার খাদিমকে জিজ্ঞাসা করলেন। সে বলল, আল্লাহর কসম, তাঁর কোন ধরনের কোন দোষ আছে বলে আমি জানি না। তবে তিনি এত সরলা যে, অনেক সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েন আর বকরী তাঁর আটার খামির খেয়ে ফেলে। তখন কোন সাহাবী খাদিমা মেয়েটিকে ধমক দিয়ে বললেনঃ রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সত্য কথা বল। এমনকি তিনি এই বিষয়ে তাকে গালাগালিও করলেন। খাদিমা মেয়েটি তখন বিস্ময় প্রকাশ করে বলল, সুবহানাল্লাহ্, আল্লাহর কসম, স্বর্ণকার লাল স্বর্ণের খাঁটিত্ব সম্পর্কে যতটুকু জানে আমিও এই মহিলার নির্দোষ হওয়া সম্পর্কে ততটুকু জানি।
যে পুরুষটিকে জড়িয়ে এই অপবাদ দেওয়া হয়েছিল তার কাছে যখন বিষয়টি পৌঁছল তিনি বললেনঃ সুবহানাল্লাহ্, আল্লাহর কসম, আমি তো কখনও কোন মহিলার অর্ন্তবাস খুলিনি!
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ইনি পরে আল্লাহর পথে শহীদ হন।
তিনি আরো বলেন, সকালে আমার পিতা-মাতা আমার কাছে এলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আসা পর্যন্ত তাঁরা আমার কাছেই থাকলেন। রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন এবং আসরের সালাত (নামায)আদায় করলেন। তারপর তিনি আমার কাছে এলেন। আমার পিতা এবং মাতা আমার ডান পাশে আমাকে ঘিরে বসেছিলেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশাহহুদ পাঠ করলেন এবং আল্লাহ্ তা’আলার যথোপযুক্ত হামদ ও ছানা করলেন। এরপর বললেনঃ আম্মা বাদ, হে আয়িশা, যদি কোন মন্দ কিছু তোমার হয়ে গিয়ে থাকে বা নিজের উপর কোন জুলুম করে থাক তবে তুমি আল্লাহর কাছে তওবা কর। কেনন, আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর বান্দাদের তওবা অবশ্যই কবুল করে থাকেন।
এই সময় একজন আনসারী মহিলাও সেখানে এসেছিলেন। তিনি দরজায় বসা ছিলেন। আমি বললাম, এই মহিলাও কোন কিছু রটনা করতে পারেন ভেবে এর সামনেও কি এই কথা বলতে আপনাদের কোন লজ্জা করছে না।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু নসীহত করলেন আমি তখন আমার পিতার দিকে ফিরে বললাম, আপনি এর উত্তর দিন।
তিনি বললেনঃ আমি কি বলব?
আমি আমার মায়ের দিকে ফিরে বললামঃ আপনি এর জওয়াব দিন।
তিনি বললেনঃ কি বলব আমি?
এরা কেউই যখন কোন উত্তর দিলেন না তখন আমি তাশাহহুদ পাঠ করলাম এবং আল্লাহ্ তা’আলার যথোপযুক্ত হামদ ও ছানা করলাম। পরে বললামঃ শুনুন, আল্লাহর কসম, আমি যদি আপনাদের বলি যে, আমি তা করিনি, আর আল্লাহ্ সাক্ষী আমি আমার বক্তব্যে সত্যবাদী, কিন্তু আমার ঐ কথা আপনাদের কাছে আমার কোন উপকারে আসবে না। এই বিষয়ে আপনারা আলাপ-আলোচনা করেছেন আর আপনাদের হৃদয়ে তা গেঁথে গেছে। আর যদি বলি আমি এই কাজ করেছি, আর আল্লাহ্ তা’আলা জানেন যে আমি তা করিনি। কিন্তু আপনারা বলবেন যে, মেয়েটির স্বীকৃতি পাওয়া গেছে। আল্লাহর কসম, আমি আমার ও আপনাদের ক্ষেত্রে ইউসূফ (আঃ) এর পিতার দৃষ্টান্ত ছাড়া আর কোন উপমা পাচ্ছি না।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি তখন ইয়াকূব (আঃ)-এর নাম মনে করতে খুব প্রয়াস পেলাম, কিন্তু তা না পেরে ইউসুফ (আঃ)-এর পিতা বলেছিলাম।
যা হোক, ইয়াকুব (আঃ) বলেছিলেনঃ (فصبْرٌ جَمِيلٌ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ) পূর্ণ ধৈর্যই উত্তম। তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে আল্লাহ্ই একমাত্র আশ্রয়স্থল। (সূরা ইউসূফ ১২ঃ ১৮)
আয়িশা বলেন, এই সময়েই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ওহী নাযিল শুরু হল। আমরা চুপ করে রইলাম সব শেষে তাঁর এই অবস্থা অপসৃত হল। আমি তাঁর চেহারায় আনন্দের আভাস বুঝতে পারছিলাম। তিনি তাঁর কপাল থেকে ঘাম মুছলেন এবং বলতে লাগলেনঃ হে আয়িশা, সুসংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহ্ তা’আলা তোমার ক্রটিহীনতার বিবরণ নাযিল করেছেন।
আমি আগের চেয়েও বেশি ক্ষুদ্ধ ছিলাম। আমার পিতা-মাতা আমাকে বললেনঃ উঠ তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে যাও।
আমি বললামঃ না, আল্লাহর কসম, আমি উঠে তাঁর কাছে যাব না। তাঁর তা’রীফ করব না এবং আপনাদের দু’জনেরও তা’রীফ করব না। বরং আল্লাহ তা’আলারই হামদ ও তা’রীফ করছি, যিনি আমার ক্রটিহীনতার বিবরণ নাযিল করেছেন। আপনারা তো বিষয়টি শুনেছেন কিন্তু তার কোন প্রতিবাদ করেননি এবং তার কোন প্রতিকার করেননি।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলতেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা যায়নাব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে তার দ্বীনদারীর দরুন এই বিষয়ে লিপ্ত হওয়া থেকে হেফাযত করেছেন। তিনি এই ক্ষেত্রে ভাল ছাড়া অন্য কিছু বলেন নি। কিন্তু তাঁর বোন হামনা এ বিষয়ে লিপ্ত হয়েছে এবং যারা হালাক হয়েছে সে ছিল তাদের মধ্যে। এই বিষয়ের রটনায় যারা ছিল তারা হল মিসতাহ, হাসসান ইবন ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুমা আর মুনাফিক আবদুল্লাহ্ ইবন উবাই। সে-ই গুযব সংগ্রহ করত এবং তা রটাত। এই বিষয়ে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল সে-ই আর হামনা।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহ কসম খেয়ে বসেন যে, মিসতাহের কোন উপকার আর তিনি করবেন না। তখন আল্লাহ্ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ
ألاَ تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ অবশ্যই আল্লাহর কসম, হে আমাদের রব। আমরা অবশ্যই পছন্দ করি যে, আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। এরপর তিনি মিসতাহ-এর সঙ্গে যে আচরণ করতেন পুনরায় তা করা শুরু করেন।
সহীহ, বুখারি ৪৭৫৭, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩১৮০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) এর রিওয়ায়ত হসাবে এই হাদীসটি হাসান-সহীহ গারীব। ইউনুস ইবন ইয়াযীদ, মা’মার (রহঃ) প্রমুখ যুহরী-উরওয়া উবনুয যুবায়র, সাঈদ ইবনুল মুসয়্যাব, আলকামা ইবন ওয়াক্কাস আল-লায়ছী, উবায়দুল্লাহ্ ইবন আব্দুল্লাহ্-আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর সূত্রে এই হাদীসটি হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) এর অপেক্ষা আরো দীর্ঘ এবং পূর্ণাঙ্গ রূপে বর্ণনা করেছেন।
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৩২১৮. কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ....... আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ করে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বাসার করেন। আমার মা উম্মু সুলায়ম ’হায়স’ তৈরি করে একটি পাত্রে রাখলেন। বললেনঃ হে আনাস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এটি নিয়ে যাও। তাঁকে বলবে, আমার মা আপনার কাছে এই খাদ্য পাঠিয়েছেন এবং তিনি আপনাকে সালাম দিয়েছেন। আর তিনি বলেছেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের পক্ষ থেকে এই সামান্য কিছু!
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। বললামঃ মা আপনাকে সালাম বলেছেন। আর বলেছেন, আমাদের পক্ষ থেকে আপনার জন্য এই সামান্য কিছু।
তিনি বললেনঃ রাখ। পরে কয়েকজনের নাম নিয়ে বললেনঃ যাও, অমুক অমুককে ডেকে নিয়ে আস আর যার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তাকেও। তিনি যাদের নাম বলেছিলেন তাদেরসহ যার যার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে তাদের ডেকে নিয়ে এলাম।
রাবী বলেন, আমি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞাসা করলাম। তাঁরা সংখ্যায় কতজন ছিলেন?
তিনি বললেনঃ প্রায় তিনশ’। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে আনাস, পাত্রটি আন।
আমন্ত্রিতরা ভিতরে আসলেন, এমনকি সুফফা এবং হুজরা ভরে গেল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দশজন দশজন করে গোল হয়ে বসতে এবং প্রত্যেকেই তার নিজের পার্শ্বের থেকে খাবে।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ তার সকলেই পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করলেন। একেক দল বের হতেন অন্য দল এসে ঢুকতেন। এভাবে সকলেরই খাওয়া শেষ হল। আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আনাস, পাত্রটি উঠাও।
আমি পাত্রটি উঠালাম। আমি বুঝতে পাছিলাম না। এটি যখন রেখেছিলাম তখন বেশী ছিল, না যখন উঠালাম তখন বেশী ছিল।
তাঁদের কিছু দল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরে বসে আলাপ-সালাপ করতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে উপবিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর নববধূ দেয়ালের দিকে তার মুখ ফিরিয়ে বসা ছিলেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য বোঝা স্বরূপ হয়ে উঠলেন। তিনি বের হয়ে পড়লেন এবং অন্যান্য স্ত্রীদের কামরায় গিয়ে তাঁদের সালাম দিলেন। পরে ফিরে এলেন। তারা যখন দেখলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এসেছেন, তখন তারা বুঝতে পারলেন যে, তাঁরা তাঁকে বিরক্ত করছেন। তাই তারা দ্রুত দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং সকলেই বের হয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে পর্দা টেনে ভিতরে প্রবেশ করলেন। আমি হুজরায় বসা ছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বের হয়ে আমার কাছে এলেন। তখন নিম্নের এই আয়াতগুলো তাঁর উপর নাযিল হয়। তিনি বাইরে বের হয়ে গেলেন এবং লোকদের সেগুলো পাঠ করে শোনালেনঃ
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلاَّ أَنْ يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَى طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ
হে মু’মিনগণ, তোমাদের অনুমতি দেওয়া না হলে তোমরা আহার্য প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা না করে ভোজনের জন্য নবী-গৃহে প্রবেশ করবে না। তবে তোমদের আহবান করলে প্রবেশ করবে এবং খাওয়া শেষ হলে চলে যাবে; কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড়বে না। কারণ, তোমাদের এই আচরন নবীকে পীড়া দেয়শেষ পর্যন্ত। (৩৩ঃ ৫৩)।
জা’দ বলেছেন যে, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ লোকদের মাঝে আমি প্রথম এই আয়াতগুলো শুনি। এরপর থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণ পর্দা আবৃত করেন।
সহীহ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ। জ’দ (রহঃ) হলেন ইবন উছমান। আর কথিত আছে যে, তাঁকে ইবন দীনারও বলা হয়। তাঁর কুনিয়াত হল আবূ উছমান। ইনি হলেন বাসরী। তিনি হাদীস বিশেষজ্ঞগণের কাছে নির্ভরযোগ্য। ইউনুস ইবন উবায়দ, শু’বা এবং হাম্মাদ ইবন যায়দ (রহঃ) তাঁর কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
বর্ণনাকারী: মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ)
৩২৩৫. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... মুআয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ভোরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে আসতে দেরী করলেন। এমনকি আমরা প্রায় সূর্য উঠে যাচ্ছে বলে প্রত্যক্ষ করছিলাম। এমন সময় তিনি দ্রুত বেরিয়ে আসলেন। সালাতের ইকামত দেওয়া হল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংক্ষিপ্তভাবে সালাত (নামায) আদায় করলেন। সালাম শেষে তিনি উচ্চস্বরে ডাকলেন। আমাদের বললেনঃ যেভাবে তোমরা আছ সেভাবেই তোমাদের কাতারে বসে থাক। এরপর তিনি আমাদের দিকে ফিরলেন। বললেনঃ আজ ভোরে তোমাদের কাছে (যথাসময়ে বের হয়ে) আসতে আমাকে কিসে বিরত রেখেছিল সে বিষয়ে আমি তোমাদের বলছি। আমি রাতেই উঠেছিলাম। উযূ করে যা আমার তাকদীরে ছিল সে পরিমাণ (তাহাজ্জুদের সালাত (নামায) আদায় করলাম। আমি সালাতে তন্দ্রাভিভূত হয়ে পড়লাম। ঘুম ভারী হয়ে এল। হঠাৎ দেখি, মহান আল্লাহ্ তা’আলা সুন্দরতম রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ!
আমি বললামঃ প্রভু আমার, বান্দা হাযির।
তিনি বললেনঃ মালা-এ-আলায় কি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে?
আমি বললামঃ হে আমার রব, আমি তো জানি না।
আল্লাহ্ তা’আলা তিন বার উল্লেখিত উক্তি করলেন।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি দেখলাম তিনি আমার কাঁধের দুই হাড্ডির মাঝে তাঁর হাত রাখলেন। আমার বুকে তাঁর অঙ্গুলীসমূহের শীতল ছোয়া আমি অনুভব করলাম। এতে প্রতিটি বস্ত আমার সামনে প্রতিবাত হয়ে উঠল। সব আমি চিনে নিলাম। তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ!
আমি বললামঃ প্রভু আমার, বান্দা হাযির
তিনি বললেনঃ মালা-এ-আলায় কি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে?
আমি বললামঃ গুনাহের কাফফারা নিয়ে।
তিনি বললেনঃ সেগুলো কি?
আমি বললামঃ জামাআতের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যাওয়া, সালাতের পরও মসজিদে অবস্থান করা, কষ্টের সময়ও পরিপূর্ণভাবে উযূ করা।
তিনি বললেনঃ এরপর কি বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে?
আমি বললামঃ খাদ্য দান, নরম কথা, মানুষ যখন নিদ্রামগ্ন তখন রাতে সালাত (নামায) (তাহাজ্জুদ) আদায় করা।
তিনি বললেনঃ আমার কাছে চাও।
আমি বললামঃ হে আল্লাহ্! আমি যাঞ্ছা করি কল্যাণকর কাজের। মন্দ কাজ পরিত্যাগ করার। মিসকীনদের প্রতি ভালবাসা; মাফ করে দিন আমাকে, রহম করুন আমার উপর। কোন সম্প্রদায়ের উপর যখন ফিতনা-মুসীবতের ইরাদা করেন তখন আমাকে আপনি ফিতনামুক্ত মৃত্যু দিন। আমি চাই আপনার প্রতি ভালবাসা। আপনাকে যারা ভালবাসেন তাদের ভালবাসা এবং যে সব আমল আমাকে আপনার নিকট করবে সেসব আমলের ভালবাসা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ এ বিষয়টি সত্য তোমরা এটি পড় এবং তা শিখে নাও।
সহীহ, মুখতাসার আল উলুব্বি ১১৯/৮০, আয যিলাল ৩৮৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৩৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল আল-বুখারী (রহঃ)-কে এই হাদীসটি সম্পর্কে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছেন, এটি সহীহ। এটি ওয়ালীদ ইবন মুসলিম-আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ ইবন জাবির-খালিদ ইবন লাজলাজ-আবদুর রহমান ইবন আয়শ হাযরামী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি থেকে অধিকতর সহীহ। শেষোক্ত সনদটি মাহফূজ বা সংরক্ষিত নয়। ওয়ালীদ (রহঃ) তার রিওয়ায়াত আবদুর রহমান ইবন আয়শ (রহঃ) সুত্রে বর্ণনা করেন যে, আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি।
বিশর ইবন বকর (রহঃ)-ও এই হাদীসটি আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ ইবন জাবির (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এতে আছে আবদুর রহমান ইবন আয়শ-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। (এতে ’আমি শুনেছি’ কথার উল্লেখ নেই।) এটি তুলনামূলকভাবে সহীহ। আবদুর রহমান ইবন আয়শ (রহঃ) সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু শোনেন নি।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[হাদিসটি কা'ব ইবনু আব্বাসের ঘটনা ব্যাতিত নাসায়ী সংখিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন।]
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৩২৯৮. আবদ ইবন হুমায়দ প্রমুখ (রহঃ) ...... আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীরা এক স্থানে বসা ছিলেন। এমন সময় একটি মেঘ উড়ে এল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরাকি জান এটি কি? তাঁরা বললেন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এ হল এক খন্ড মেঘ পৃথিবীর জন্য পানিবাহক। আল্লাহ তায়ালা এটি এমন কাওমের দিকেও হাঁকিয়ে নিয়ে যান যারা তার প্রতি কৃতজ্ঞ নয়। যারা তাকে ডাকে না।
এরপর বললেনঃ তোমরাকি জান তোমাদের উপর কি আছে? সাহাবীরা বললেনঃ আল্লাহ ও তারা রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন এ হল ’রাকী’ পৃথিবীর আকাশ। সুরক্ষিত ছাদ ও রুদ্ধ ঊর্মীমালা। তোমরা কি জানো তোমাদের এবং এর মাঝে দুরত্ব কত?
সাহাবীরা বললেন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন এর মাঝে আর তোমাদের মাঝে দুরত্ব হল পাঁচশ বছরের। এর উপর কি আছে তা কি তোমরা জান? সাহাবীরা বললেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।
তারপর নবীজী বললেনঃ এর উপর রয়েছে আরো দুই অসমান। এতদুভয়ের মাঝেও রয়েছে পাঁচশ বছর সফরের ব্যবধান। এভাবে সাত আসমানের কথা তিনি উল্লেখ করলেন। প্রতি দুই আসমানের মাঝে রয়েছে আকাশ ও পৃথিবীর মাঝের মত দুরত্ব।
তারপর নবীজী বললেনঃ এরও ঊর্ধ্বে কি আছে তা কি তোমরা জান? সাহাবীরা বললেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন এর ঊর্ধ্বে হল আরশ। এর এবং আকাশের মাঝে দুরত্ব হল দুই আসমানের দুরত্বের সমান। এরপর তিনি বললেন, তোমাদের নিচে কি আছে তা কি তোমরা জান?
সাহাবীরা বললেন আল্লাহ এবং তার রাষূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন নিচে হল যমীন। এর পর কি আছে তাকি তোমরা জান। সাহাবীরা বললেন আল্লাহ এবং তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন এর নিছে আরো এশটি পৃথিবী আছে। এতদুভয়ের মাঝে পাঁচশ বছর সফরের দুরত্ব।
তার পর তিনি বললেনঃ সেই সত্তার কসম যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তোমরা যদি একটি দড়ি সর্বনিম্ন পৃথিবীর দিকে লটকে ধর তবে তা আল্লাহর জ্ঞানানুসারে কোন স্থানে যেয়ে পৌছবে (যা আমাদের জানা নেই)। এর পর তিনি পাঠ করলেনঃ (هو الأَوَّلُ وَالآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ) - তিনি আদি, তিনি অন্ত, তিনি ব্যক্তি, তিনি গুপ্ত এবং তিনিই সব বিষয় সম্যক অবহিত। (সূরা হাদীদ ৫৭ঃ ৩)।
যঈফ, যিলালুল জুন্নাহ ৫৭৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৯৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি এই সূত্রে গারীব। আয়্যুব, ইউনুস ইবন উবায়দ ও আলী ইবন যায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা বলেছেনঃ হাসান (রহঃ) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সরাসরি কিছু শুনেন নি। কোন কোন আলিম এই হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ ’’আল্লাহরই জ্ঞান মতে পৌঁচবে’’ অর্থ হল আল্লাহর ইলম, তার কুদরত এবং তারই কতৃত্বাধীন স্থানে যেয়ে তা পৌঁছবে। আল্লাহর ইলম, তার কুদরত ও কর্তৃত্ব তো সবখানে। তিনি আরশে সমাসীন আছেন সেই ভাবে, যে ভাবে তার কিতাবে এর উল্লেখ আছে।
বর্ণনাকারী: সালামাহ ইবনু সাখার (রাঃ)
৩২৯৯. আবদ ইবন হুমায়দ ও হাসান ইবন আলী হুলওয়ানী (রহঃ) .... সালামা ইবন সাখর আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এমন এক পুরুষ যাকে এত রতি শক্তি দেওয়া হয়েছে যা আর অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি। রমযান মাস আসলে তা আতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্য আমি আমার স্ত্রী সঙ্গে যিহার করে। কেননা আমার আশংকা হয় যে, কোন রাত্রে যদি স্ত্রী সঙ্গত হয়ে পড়ি, তবে হয়তো দিনের আগমন পর্যন্ত তা চলতে থাকবে আর এদিকে আমি আমাকে স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারব না। একদিন রাতে আমার স্ত্রী আমাকে খেদমত করছিল। হঠাৎ তার শরীরের এমন কিছু আমার সামনে উদ্ভাসিত হয়ে পড়ে যে, (আর ধৈর্য ধারণ করতে পারলাম না) আমি তার উপর চেপে বসি। সকাল হয়ে এলে আমি ভোরেই আমার কাওমের লোকদের কাছে যাই এবং তাদেরকে আমার বিষয়ে আবহিত করে বলি, তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আমাকে নিয়ে চল এবং তাকে আমার বিষয়টি অবহিত কর।
তারা বললঃ না, আল্লাহর কসম, আমরা তা করবোনা। আমাদের আশংকা হয় আমাদের বিষয় হয়তো কুরআনের কোন আয়াত নাযিল হয়ে যাবে বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়তো আমাদের বিষয়ে এমন কোন কথা বলে বসবেন যার লজ্বা সবসময়ের জন্য আমাদের উপর থেকে যাবে। বরং তুমি নিজেই তার কাছে যাও এবং তোমার যা ভাল মনে হয় তা কর।
সালামা ইবন সাখর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এর পর আমি নিজেই বেরিয়ে গেলাম এবং নবীজীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে আমার বিষয়টি তাকে অবহিত করলাম।
তিনি বললেনঃ তুমিই সে কাজ করেছ?
আমি বললামঃ আমিই সে অপরাধী।
তিনি বললেনঃ তুমি সে কাজ করেছঃ
আমি বললামঃ আমিই সে অপরাধী।
তিনি আবার বললেনঃ তুমিই সে কাজ করেছ?
আমি বললামঃ আমিই সে অপরাধী। আমি এইত আমি এখানে হাযির। আমার বিষয় আপনি আল্লাহর বিধান জারী করুন। আমি সে বিষয় ধৈর্য্য ধরব।
তিনি বললেনঃ একটা গোলাম আযাদ কর।
আমি আমার ঘাড়ে হাত দিয়ে তাপ্পড় মেরে বললামঃ সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য সহ প্রেরণ করছেন, আমার এ গর্দানটি ছাড়া আমি আর কারো গর্দানের মালিক নই।
তিনি বললেনঃ দুই মাস সিয়াম পালন কর।
আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! যে মুসীবতে পড়লাম তাকি সিয়াম ছাড়া আন্য আর কোন কারণে ছিল?
তিনি বললেনঃ ষাট জন মিসকীনকে খাদ্য দাও।
আমি বললামঃ কসম সে সত্তার, যিনি আপনাকে সত্য সহ প্রেরণ করেছেন, আজকের এরাতটিও তো আমরা ভুখা কাটিয়েছি। রাতের খাবার বলতেও কিছু ছিল না আমাদের।
তিনি বললেনঃ বানু যুরায়কের সদকা প্রধানকারীর কাছে যাও এবং তাকে বল, তোমাকে সেই সাদকা দিয়ে দিতে তা থেকে তুমি এক ওয়াসাক (ষাট সা’) খাদ্য ষাট জন মিসকীনকে তোমার পক্ষ থেকে আহার করাও। আর বাকীটা তুমি ও তোমার পরিবারের আহার্যের ব্যাবস্থা কর।
সালামা ইবন সাখর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এর পর আমি আমার কওমে ফিরে এলাম। তাদের বললামঃ তোমাদের কাছে তো কেবল সংকীর্ণতা ও খারাফ পরামর্শই পেলাম আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পেলাম উদারতা এবং বরকত ও শুভাশীষ। তোমাদের সাদকা সমূহ আমার কাছে দিয়ে দিতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। এর পর তারা আমার কাছে তা দিয়েদিল।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২০৬২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩২৯৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান। মুহাম্মদ বুখারী (রহঃ) বলেনঃ আমার মতে সুলায়মান ইবন ইয়াসার কোন হাদীস সরাসরি সালামা ইবন সাখর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে শুনেন নি। তিনি আরো বলেনঃ সালামা ইবন সাখর রাদিয়াল্লাহু আনহু সালামান ইবন সাখর রাদিয়াল্লাহু আনহু নামেও কথিত। এ বিষয়ে খাওলা বিনত ছা’লাবা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। খাওলা রাদিয়াল্লাহু আনহা হলেন আওস ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু এর স্ত্রী।
বর্ণনাকারী: উবায়দুল্লাহ ইবনে আবু রাফে (রহ.)
৩৩০৫. ইবন আবু উমর (রহঃ) ..... উবায়দুল্লাহ ইবন আবু রাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি আলী ইবন আবু তালিবকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এবং যুবায়র ও মিকদাদ ইবন আসওয়াদকে এক অভিযানে প্রেরণ করেন। তিনি বললেন তোমরা "রওযা এ খাখ" নামক স্থানে যবে। সেখানে এক উষ্ট্রারহীনী মহীলা পাবে। তার কাছে একটি (গোপন) পত্র আছে। তা তার কাছ থেকে সংগ্রহ করে আমার নিকট নিয়ে আসবে। আমরা বের হয়ে পড়লাম। এবং আমাদের ঘোড়া দ্রুত ছুটিয়ে রাওযা-এ-খাখে এসে সেখানে এক উষ্ট্রারহীনী মহিলা পেলাম। আমরা বললাম পত্রটি বের কর।
সে বলল আমার সাথে কোন চিঠি নেই। আমরা বললামঃ পত্রটি বের কর নয়তো কাপড় খুলে ফেলা হবে।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ সে তার চুলের বেনীর ভিতর থেকে পত্রটি বের করে দিল। আমরা সেটি নিয়ে রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। দেখা গেল যে হাতিব ইবন আবূ বালতা’আ এর পক্ষ থেকে মক্কার কতিপয় মুশরিকের কাছে এটি লেখা হয়েছে এবং এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু বিশেষ বিষয় (মক্কা অভিযান) সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন হে হাতিব! এটা কি?
হাতিব বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার ক্ষেত্রে (ফায়সালা দিতে) ত্বরা করবেন না। আমি মূলত কুরায়শী নই। তাদের সঙ্গে সংযুক্ত এক ব্যক্তি মাত্র। আপনার সঙ্গে যে সকল মুহাজির রয়েছেন, তাদের সবারই কুরায়শদের নিকট আত্মিয়তার সম্পর্ক আছে। এ কারণে কুরায়শরা তাদের মক্কাস্থিত পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের হেফাজত করে থাকে। আমি চাইলাম তাদের সঙ্গে উক্ত সম্পর্ক না থাকায় যখন ঐ সুযোগ আমার নেই, তখন তাদের উপর একটা ইহসান ও দয়ার ব্যাবহার করে রাখি যাতে আমার আত্মীয়-পরিজনদের তারা হেফাযত করে। এ কাজটি আমি কুফরী এবং আমার ধর্মচ্যুতি কুফরীর প্রতি সন্তুষ্টির কারণে করিনি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে সত্য কথা বলেছে। উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন আমাকে ছেড়ে (অনুমতি) দিন ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই মুনাফিকটির গর্দান উড়িয়ে দেই।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ (হাতিব) তো বদরে হাযির ছিল। তোমার কি জানা আছে সম্ভবত আল্লাহ তা’আলা বদরীদেও প্রতি নজর দিবেন এবং বলে দিবেন তোমরা যা ইচ্ছা করতে পার; তোমাদের আমি মাফ করে দিলাম। এ প্রসঙ্গে এ সূরাটি নাযিল হয়ঃ
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ
হে মুমিনগণ! আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের বন্ধুরুপে গ্রহণ করবে না। (সূরা মুমতাহানা ৬০ঃ ১) বর্ণনানাকারী আমর (রহঃ) বলেনঃ আমি ইবন আবু রাফি’ (রহঃ)-কে দেখেছি। তিনি ছিলেন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর লিপিকার।
সহীহ, সহীহ আবু দাউদ ২৩৮১, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩০৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ বিষয় উমার ও জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। একাধিক রাবী এই হাদীসটি সুফয়ান ইবন উরয়ায়না (রহঃ) এর বরাতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তারা তাতে এ বাক্যটিরও উল্লেখ করেছেন (لَتُخْرِجِنَّ الْكِتَابَ أَوْ لَتُلْقِيَنَّ الثِّيَابَ) এটি আবু আবদুর রাজ্জাক সুলামী (রহঃ) সূত্রে আলী ইবন আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কোন রাবী এতে উল্লেখ করেছেনঃ (لَتُخْرِجِنَّ الْكِتَابَ أَوْ لَنُجَرِّدَنَّكِ)।
৩৩১৩. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমরা একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক অভিযানে ছিলাম। আমাদের সঙ্গে কিছু মরুবাসী আরব ও ছিল। আমরা পানির জন্য দ্রুত ছুটে যেতাম কিন্তু মরুবাসীরা আমাদের আগে পানির কাছে চলে যেত। একবার জনৈক মরুবাসী সবার আগে চলে গিয়ে একটি হাউয পানি ভর্তি করল। এর চতুর্দিকে পাথর দিয়ে বেষ্টনী দিল এবং একটি চামড়া এর উপর রেখে দিল। এর মধ্যে বাকী সঙ্গিরা চলে এল। জনৈক আনসারী উক্ত মরুবাসীর কছে এল এবং পানি পানের জন্য তার উটনীটির লাগাম ঢিলা করে দিল। কিন্তু মরুবাসীটি তাকে পানি দিতে অস্বীকৃতি জানাল। তখন উক্ত আনসারী পানির বেষ্টনী ফেলে দিল। মরুবাসী একটি কাঠ দিয়ে আনসারীর মাথায় যখম করে দিল। সে তখন মুনাফিক সর্দার আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর কাছে যেয়ে তাকে বিষয়টি জানাল। এই আনসারীটি ছিল আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর সাথীদের অন্যতম। বিষয়টি শুনে আবদুল্লাহ ইবন উবাই অত্যান্ত রাগান্বিত হয়ে পড়ে। এরপর সে বললঃ রাসুলুল্লাহর চতুস্পার্শ্ব থেকে এই মরুবাসীরা সরে না যাওয়া পর্যন্ত যারা তার নিকট আছে, তাদের কিছু দিবে না।
এ মরুবাসীরা আহারের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে হাযির হত। আবদুল্লাহ বললঃ মুহাম্মদের কাছ থেকে এরা সরে গেলে পরে তোমরা মুহাম্মদের সামনে খানা আনবে। তিনি এবং তার সথীরাই কেবল তা আহার করবে। এর পর সে তার সঙ্গিদের বললঃ তোমরা যখন মদীনায় ফিরে যাবে তখন সম্মানিতেরা অবশ্যই হীনদের (মু’মিনদের) মদীনা থেকে বের করে দেবে।
যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাহনের পিছনে উপবিষ্ট ছিলাম। আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর কথাবার্তা আমি শুনে ফেললাম। আমি আমার চাচাকে তা আবহিত করলাম। তিনি গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তা জানালেন। তিনি আবদুল্লাহকে ডেকে পাঠালেন। সে কসম কওে তা আস্বিকার করল। ফলে রাসুলুল্লাহ তাকে সত্যবাদী এবং আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেন। আমার চাচা আমার কাছে এলেন। বললেনঃ রাসূলু্ল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও মুসলিমদের ক্রোধ ও তোমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করাইকি তোমার আভিপ্রয় ছিল।
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ ফলে এত চিন্তা ও পেরেশানী আমার উপর আপতিত হল যা আর কারো উপর আপতিত হয় নি। আমি সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। চিন্তায় আমার মাথা ঝুঁকে পড়ে ছিল। এমন সময় রাসুলুল্লাহ আমার কাছে এলেন। এবং (আদর করে) আমার কান মলে দিলেন ও আমার সামনে হাসলেন।
তিনি বললেন সুসংবাদ গ্রহণ কর। তারপর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এলেন। আবু বকরকে যে কথা বলেছিলাম তাকেও আমি সে রূপ কথা বললাম। পরে যখন ভোর হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা আল মুনাফিকুন পাঠ করে শুনালেন।
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
সহীহ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৩৩১৮. আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (إن تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا) - যেহেতু তোমাদের হৃদয় ঝুকে পড়েছে তাই তোমরা উভয়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে তাওবা কর। তবে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। (সূরা তাহরীম ৬৬ঃ ৪) আয়াতটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যে দুইজন সহধর্মিণীর উল্লেখ করা হয়েছে। তারা কারা সে সম্পর্কে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট জিজ্ঞাসা করার জন্য আমি অনেক দিন লালায়িত ছিলাম। শেষে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার হজ্জ করতে গেলে আমিও তার সঙ্গে সে হজ্জে ছিলাম। একদিন তিনি উযু করছিলেন আর আমি পাত্র থেকে পানি ঢেলে দিচ্ছিলাম। আমি তাকে বললামঃ হে আমিরুল মুমিণীন! (إن تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا) আয়াতটিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যে দুই স্ত্রীর উল্লেখ করা হয়েছে তারা কারা?
তিনি বললেনঃ হে ইবন আব্বাস, আশ্চার্য! যুহরী (রহঃ) বলেন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাস্য বিষয়টি পছন্দ করেননি, তবে তিনি বিষয়টি গোপনও করলেন না। যা হোক তিনি বললেনঃ এরা হল আয়েশা ও হাফসা। এরপর তিনি আমাকে পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করা শুরু করেন। তিনি বলেন আমরা কুরায়শী সম্প্রদায় ছিলাম স্ত্রীদের উপর প্রবল। কিন্তু মদীনায় এসে দেখতে পেলাম যে, এরা এমন এক সম্প্রদায় যাদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রবল। এখানে আমাদের স্ত্রীরাও তাদের আচরণ শিখতে শুরু করে। একদিন একটি বিষয়ে আমার স্ত্রীর উপর আমি রাগ করি। সে তখন আমাকে প্রত্যুত্তর দেয় তার সে প্রত্যুত্তর করাটা আমি অপছন্দ করি। তখন সে বলল আপনি মন্দ ভাবছেন কেন? আল্লাহর কসম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীরাও তো তার কথার প্রত্যুত্তর করে থাকেন এবং তাদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা বন্ধ করে রাখেন।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি মনে মনে বললাম তাদের যে জন এ ধরণের কাজ করে সেত লাঞ্ছিত ও ধ্বংস হয়ে যাবে।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ মদীনায় আওয়ালী অঞ্চলে বানু উমায়্যায় ছিল আমার বাস। আমার এক আনসারী প্রতিবেশী ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে হাযিরী প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা পালা নির্ধারণ করে নেই। তিনি এক দিন সেখানে হাজির হতেন এবং সে দিন ওয়াহী ও অন্যান্য বিষয়ের খবরাদি আমার কাছে নিয়ে আসতেন। আরেক দিন আমি হাযির হতাম আর তার কাছে অনুরূপ খবরাদি নিয়ে আসতাম। তখন আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছিল যে, গাসসানীরা আমাদেও বিরুদ্ধে লড়ার জন্য অশ্বসমূহে নাল লাগিয়ে তৈরী করে রাখছে। যাহোক আমার ঐ প্রতিবেশী একদিন ইশার সময় আমার বাড়ি আসে এবং দরজায় করাঘাত করে আমি তার কাছে বের হয়ে এলাম। তিনি বললেনঃ একটি ভীষন ব্যাপার ঘটে গেছে।
আমি বললাম গাসসানীরাকি এসে গেছে? তিনি বললেন এর চেয়েও ভীষন ব্যাপার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহধর্মিনীদেরকে তালাক দিয়ে দিয়েছেন।
আমি মনে মনে বললাম হাফসা নিরাশ হল এবং ক্ষতিগ্রস্ত হল। আমারো ধারণা ছিল যে,এমন একটি বিষয় কোন দিন ঘটতে পারে। ফজরের সালাত (নামায) আদায় করে আমি কাপোড়-চোপড় পরলাম। রওয়ানা হয়ে হাফসা এর কাছে পৌছলাম। সে তখন কাঁদছিল। আমি বললাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদের তালাক দিয়ে দিয়েছেন?
সে বললঃ আমি জানি না। এই তো তিনি ঐ চিলেকোঠায় আলাদা হয়ে আছেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি সে দিকে গেলাম। কৃষ্ণবর্ণের একটি গোলামকে সেখানে পেলাম। বললাম উমারের জন্য অনুমতি প্রার্থনা কর।
সে ভেতরে গেল। পরে আমার কছে বের হয়ে এল। বললঃ আপনার কথা তাকে বলেছি কিন্তু কিছুই বললেন না তিনি।
আমি মসজিদে চলে এলাম। মিম্বারের চারপাশে বসে কিছু লোক কাঁদছেন। আমি তাদের কাছে বসে গেলাম। কিন্তু পুনঃ আমার মনের উদ্বেগ প্রবল হয়ে উঠল। গোলামটির কাছে এলাম। বললাম উমারের জন্য অনুমতি নিয়ে এস। সে ভেতরে চলে গেল। এরপর আমার কাছে বের হয়ে এসে বললঃ আমি আপনার কথা তার কাছে উল্লেখ করেছি কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না।
আমি আবার মসজিদে চলে এলাম এবং বসে পড়লাম। পরে আবার আমার ভিতরে উদ্বেগ প্রবল হয়ে উঠল। গোলামটির কাছে এলাম এবং বললাম উমারের জন্য অনুমতি প্রার্থনা কর। সে ভিতরে গিয়ে পুনর্বার বের হয়ে এল। বলল আপনার কথা তো তাকে বললাম কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন আমি পিছন ফিরে চলে এলাম। এমন সময় গোলামটি আমাকে ডাকতে লাগল। বললঃ ভিতরে যান, তিনি আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলে আমি ভিতরে গেলাম। দেখতে পেলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বুননকৃত চাটাইয়ে ঠেস দিয়ে আছেন। চাটাইয়ের দাগ পড়ে গেছে তাঁর দুই পার্শ্বদেশে।
আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনিকি আপনার সহধর্মিণীদের তালাক দিয়েছেন? তিনি বললেনঃ না।
আমি বললামঃ আল্লাহু আকবার। ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের অবস্থা যদি লক্ষ করতেন যে, আমরা কুরায়শী সম্প্রদায় ছিলাম স্ত্রীদের উপর প্রবল। কিন্তু মদীনায় এসে এমন এক সম্প্রদায় পেলাম যাদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রবল। এখানে আমাদের স্ত্রীরা তাদের আচরণ শিখাতে। একদিন কোন এক বিষয়ে আমি আমার স্ত্রীর উপর রাগ করি কিন্তু সে আমাকে প্রত্যুত্তর দেয়। আমি বিষয়টি খুবই না-পছন্দ করলাম। সে বলল আপনি কেন তা না পছন্দ করছেন? আল্লাহর কসম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণও তো তাঁর কথার প্রত্যুত্তর করেন এবং কোন কোন সময় তাদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত পর্যন্ত কথাবার্তা বন্ধ করে দেন। পরে আমি হাফসাকে বললাম তোমরা কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথার প্রত্যুত্তর কর? সে বললঃ হ্যাঁ আমাদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কর্থাবর্তা বন্ধ করে থাকে।
আমি বললামঃ তোমাদের মধ্যে যে এমন কাজ করে সে তো লাঞ্ছিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ক্রোধের কারণে তার উপর আল্লাহর ক্রোধান্বিত হওয়া থেকে তোমাদের কেউ কি নিজেকে নিরাপদ মনে কর? এমতবস্থায় সে তো ধ্বংস হয়ে গেল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্মিত হাসলেন।
আমি বললাম হাফসাকে বলেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথার প্রত্যুত্তর করবে না এবং তার কাছে কোন কিছু চাইবে না। তোর যা মন চায় আমার কাচেই চেয়ো। তোমর যে সখী (আয়িশা) তোমার চেয়েও সুন্দরী এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অধিক প্রিয়,তার অবস্থা যেন তোমাকে ধোকায় না ফেলে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরেক বার স্মিত হাসলেন।
আমি বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি আরো স্বচ্ছন্দ হব? তিনি বললেন হ্যাঁ। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন আমি মাথা উঠালাম। সারা ঘরে তিনটা চামড়া ব্যতীত আর কিছুই নজরে পড়ল না। বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর কাছে দু’আ করুন। তিনি যেন আপনার উম্মতকে স্বচ্ছন্দ্য দান করেন। পারস্য ও রোমবাসীরা আল্লাহর ইবাদত করেনা অথচ তিনি তাদের কত অর্থ-বৈভব দিয়েছেন।
এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোজা হয়ে বসলেন। বললেন হে খাত্তাব পুত্র! তুমি কি সন্দেহে আছ নাকি? এরা তো এমন সম্প্রদায় যাদের ত্বরা করে পার্থিব জীবনেই তাদের ভাল প্রতিদান সমূহ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কসম করেছিলেন যে, এক মাস পর্যন্ত স্ত্রীদের কাছে যাবেন না। এ কারণে আল্লাহ তা’য়ালা তাকে সোহাগ ভরে ভৎর্সনা করেন এবং কসমের কাফফারা প্রদানের বিধান দেন।
যুহরী (রহঃ) বলেরনঃ উরওযা বর্ণনা করেছেন যে, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ উনত্রিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন এবং আমার থেকে (থাকা না থাকার এখতিয়ার প্রদান বিষয়টি) শুরু করেন। বললেন হে আয়িশা! আমি তোমাকে একটি বিষয় বলেছি। তোমার পিতামাতার সঙ্গে পরামর্শ ব্যতিরেকে এ ব্যাপারে কোন তাড়াহুড়া করবে না।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন এর পর তিনি তেলওয়াত কররেন। (يا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ)
হে রাসুল! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলে দিন। তোমরা যদি পার্থিব জীবন এবং এর ভূষন কামনা কর তবে এস আমি তোমাদিগের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদাই দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তার রাসূল ও আখিরাত কামনা কর,তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, আল্লাহ তাদের জন্য মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন। (সূরা আহযাব ৩৩ঃ ২৮-২৯)
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ তিনি জানতেন, কসম আল্লাহর, আমার পিতামাতা তাকে পরিত্যাগ করার পরামর্শ আমাকে কখনও দিবেন না।
আমি বললাম এ বিষয়ে আমি আমার পিতামাতার সঙ্গে কি পরামর্শ করব? আমিতো অবশ্যই আল্লাহ তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের আবাসই কামনা করি।
মা’মার (রহঃ) বলেনঃ আয়্যুব বর্ণনা করেন যে, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার স্ত্রীদের অবহিত করবেন না যে, আমি আপনাকে গ্রহণ করেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা তো আমাকে এক মুবাল্লিগ (বাণী প্রচারক) করে পাঠিয়েছেন কষ্টদানকারী হিসেবে আমাকে পাঠান নি।
হাসান, সহীহ হাদিস সিরিজ ১৫১৬, মুসলিম জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩১৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটি হাসান- সহীহ-গারীব। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একাধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে।
বর্ণনাকারী: সুহায়ব আর্ রূমী (রাঃ)
৩৩৪০. মুহাম্মদ ইবন গায়লান ও আবদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) ..... সুহায়ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত (নামায) আদায় করে ঠোঁট নাড়াচড়া করতেন। তিনি যেন কথা বলছেন। তাঁকে বলা হল ইয়া রাসুলাল্লাহ! আসরের সালাত (নামায) শেষে আপনি যেন চুপে চুপে কথা বলেন?
তিনি বললেন নবীগণের কোন একজন তাঁর উম্মত নিয়ে গৌরববোধ করছিলেন। বলেছিলেনঃ এদের মুকাবিলায় কে দাঁড়াতে পারবে। তারপর আল্লাহ তা’আলা তার নিকট ওয়াহী পাঠালেনঃ আমি তাদের শাস্তি দিব বা তাদের উপর শত্রু চাপিয়ে দিব। এ দুয়ের একটি গ্রহন করার জন্য তাদের ইখতিয়ার দিন। তারা শাস্তিকেই গ্রহণ করে নিল। সে মতে আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর মৃত্যু চাপিয়ে দিলেন। ফলে একদিনেই তাদের সত্তর হাজার লোকের মৃত্যু হল।
এ হাদীসটি বর্ণনার সাথে তিনি পরবর্তী এ হাদীসটি বর্ণনা করতেন। তিনি বলেনঃ কোন এক বাদশা ছিল। তার ছিল একজন গনক। সে তার জন্য ভবিষ্যৎ গণনা করত। একবার তাকে ঐ গণক বললঃ একটি বুদ্ধিমান শক্তি সম্পন্ন বালক তালাশ করুন। আমি তাকে আমার এ জ্ঞান শিক্ষা দিব। কারণ আমার আশংকা হয় যদি আমি মারা যাই তবে আপনাদের থেকে এ জ্ঞান শেষ হয়ে যাবে। এই জ্ঞানের আধিকারী আপনাদের মধ্যে কেউ থাকবে না। তাদের বর্ণনানুযায়ি এক বালক তারা তালাশ করে বের করল। তারা তাকে গনকের কাছে হাযির হতে নির্দেশ দিল এবং তার কাছে আসা-যওয়া করতে বলল। সে মতে বালকটি তার কাছে আসা-যাওয়া করলে লাগল। আসা-যাওয়ার পথে এক গীর্জায় এক জন পাদ্রী থাকত। (বর্ণনাকারী মা’মার (রহঃ) বলেন, তৎকালে গীর্জার উপাসনাকারিগণ সত্য দ্বীন বিশ্বাসী ছিলেন)। বালকটি যখনই সেখান দিয়ে যেত সে পাদ্রীকে তার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করত। শেষে পাদদ্রী তাকে জানালঃ আমি আল্লাহর ইবাদত করি।
বালকটি পাদ্রীর কাছে সময় দিতে লাগল এবং উক্ত গনকের কাছে যেতে দেরী করতে লাগল। এতে গণক বালকটির পরিবার পরিজনকে খবর পাঠায় যে সে প্রায়ই হাজির হয় না। বালকটি পাদ্রীকে এ বিষয়ে অবহিত করে। পাদ্রী তাকে বললঃ গণক যদি তোমাকে জিজ্ঞাসা করে যে, তুমি কোথায় ছিলে, তবে তুমি বলবে যে, তুমি তোমার পরিবারের লোকদের কাছেই ছিলে। আর তোমার পরিবারের লোকরা যখন জিজ্ঞাসা করবে তখন বলবে গণকের কাছে ছিলে।
এভাবেই চলছিল। একদিন বালকটি মানুষের এক বিরাট ভিড়ের নিকট দিয়ে পথ অতিক্রম করছিল। লোকদেরকে একটা হিংস্র জন্তু পথ আটকে রেখেছিল। কোন কোন রাবী বলেছেন। এ জন্তুটি ছিল একটা সিংহ। বালকটি একটা পাথর হাতে নিয়ে বললঃ হে আল্লাহ! পাদ্রী যা বলে তা যদি সত্য হয়ে থাকে তবে তোমার কাছে প্রার্থনা করছি যে, আমি যেন জন্তুটিকে হত্যা করতে পারি। এরপর সে পাথরটি ছুড়ে মারল এবং জন্তুটি মারা গেল। লোকেরা বলতে লাগল কে এ জন্তুটি হত্যা করেছে? অন্যরা বলল এ বালকটি। মানুষের মাঝে এতে আলোড়নের সৃষ্টি হয়। তারা বলাবলি করতে থাকে যে, এই বালকটি এমন কিছু জ্ঞান শিখেছে যা অন্যরা শিখেনি। এক অন্ধও বালকটির কথা শুনতে পায়। সে তাকে বললঃ তুমি যদি আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে পার তবে তুমি অমুক অমুক জিনিস পাবে।
বালকটি বললঃ আমি তোমার কাছে এই আর্থ চাই না। কিন্তু তুমি যদি তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাও তবে কি তুমি সেই সত্তার উপর ঈমান আনবে যিনি তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিবেন? সে বললঃ হ্যাঁ। তখন বালকটি আল্লাহর কাছে দু’আ করল। আল্লাহ এ অন্ধের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিলেন। তারপর এ অন্ধ ঈমান গ্রহণ করল।
সেই বাদশাহর কাছে তাদের এ ঘটনার সংবাদ পৌঁছল। সে তখন লোক পাঠিয়ে তাদের ধরে আনল। বললঃ তোমাদের প্রত্যেককে আমি এমন ভাবে হত্যা করব যে, কাউকে এমনভাবে আমি আর হত্যা করিনি। তার নির্দেশে পাদ্রী এবং অন্ধ লোকটির একজনকে মাথার সিথি থেকে করাত দিয়ে চিরে শহীদ করে দেওয়া হল এবং আন্যজনকে অন্য একভাবে হত্যা করা হল।
পরে বালকটি সম্পর্কে সে নির্দেশ দিয়ে বলরঃ তাকে নিয়ে অমুক পাহাড়ে যাও এবং চূড়া থেকে তাকে ফেলে দিবে। লোকেরা তাকে পাহাড়ে নিয়ে গেল। যে স্থান থেকে তাকে ফেলে দেওয়ার ইচ্ছা করছিল। সে স্থানে তারা পৌছার পর নিজেরাই গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে গেল। বালকটি ছাড়া আর কেউ তাদের বাকী রইল না। শেষে বালকটি ফিরে এল। বাদশাহ তাকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করে মেরে ফেলার নির্দেশ দেয়। তদনুসারে তাকে সাগরে নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু যারা সঙ্গে গিয়েছিল তাদেরকে আল্লাহ ডুবিয়ে দিলেন আর বালকটিকে বাঁচিয়ে দিলেন।
শেষে বালকটি বাদশাহকে বললঃ শূলীতে ঝুলিয়ে তীর নিক্ষেপ করে মারা ভিন্ন তুমি আমাকে হত্যা করতে পারবে না। আর যখন তীর নিক্ষেপ করবে তখন বলবেঃ ’’এই বালকটির প্রতিপালক আল্লাহর নামে’’। যা হোক, বাদশা উক্ত মর্মে নির্দেশ জারি করে এবং বালকটিকে শূলীতে ঝুলিয়ে ’এই বালকটির রব আল্লাহর নামে’ বলে তাকে তীর ছোড়া হল। তীর নিক্ষেপের সময় বালকটি তার হাত কানপট্রিতে স্থাপন করে রেখেছিল।
লোকেরা বললঃ এ বালকটি এমন এক জ্ঞানর অধিকারী - যা আর কেউ জানে না। এই বালকের রবের উপর আমরা ঈমান আনলাম। বাদশাহকে বালা হল মাত্র তিন ব্যাক্তি তোমার বিরোধিতা করায় তুমি ঘাবড়িয়ে গিয়েছিলে আর এখন পৃথিবীর সবাই তোমার বিরোধী হয়ে উঠেছে।
তারপর এই বাদশা আনেকগুলো গর্ত খনন করে এবং এতে লাকড়ি ফেলে আগুন জ্বালায়। পরে সে লোকদের একত্রিত করে বললঃ যে এই ধর্ম থেকে ফিরে আসবে তাকে ছেড়ে দিব আর যে ব্যক্তি ফিরে আসবে না তাকে এই অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করব। অতপর সে মু’মিনদেও অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করতে শুরু করে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
قتِلَ أَصْحَابُ الأُخْدُودِ * النَّارِ ذَاتِ الْوَقُودِ - (العَزِيزِ الْحَمِيدِ)
ধ্বংস হয়েছে কুন্ড অধিপতিরা। ইন্ধনপূর্ণ যে কুন্ডে ছিল অগ্নি ...... যিনি পরাক্রমশালী এবং প্রশংসিত। (সূরা বুরুজ ৮৫ঃ ৪-৮)
বালকটিকে পরে দাফন করা হয়। বর্ণনা করা হয় যে, উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর খিলাফত আমলে তার লাশ বের করা হয়। শহীদ হওয়ার সময় তার আঙুলগুলি যে কানপট্রিতে রাখা ছিল, তখনও ঠিক তেমনই ছিল।
সহীহ, মুসলিম ৮/২২৯-২৩১ (আয়াতের উল্লেখ ব্যাতিত), তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- গারীব।
পরিচ্ছেদ সূরা আল-গাশিয়া