৪৩৭০। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) ... ইবনু আউন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমি নাফি’ (রহঃ) কে এই কথা জানতে চেয়ে পত্র লিখলাম যে, যুদ্ধের পূর্বে বিধর্মীদের প্রতি দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া প্রয়োজন কি না? তিনি বলেন, তখন তিনি আমাকে লিখলেন যে, এ (নিয়ম) ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ মুসতালিকের উপর আক্রমণ করলেন এমতাবস্থায় যে, তারা অপ্রস্তুত ছিল (তা জানতে পারেনি।) তাদের পশুদের পানি পান করানো হচ্ছিল। তখন তিনি তাদের যোদ্ধাদের (পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ) হত্যা করলেন এবং অবশিষ্টদের (নারী শিশুদের) বন্দী করলেন। আর সেই দিনেই তাঁর হস্তগত হয়েছিল। (ইয়াহইয়া বলেন যে, আমার ধারণা হল, তিনি বলেছেন) জুওয়ায়রিয়া অথবা তিনি নিশ্চিতরূপে ইবনাতুল হারিছ (হারিছ কন্যা) বলেছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এই হাদীস আমাকে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি সেই সেনাদলে ছিলেন।
৪৩৭১। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... ইবনু আউন (রহঃ) থেকে এই একই সুত্রে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি "জুওয়ায়রিযা বিনত হারিস" বলেছেন এবং সন্দেহযুক্ত বর্ণনা করেননি।
২. খলীফা কর্তৃক সেনাদলের জন্য আমীর নির্বাচন ও যুদ্ধের আচরন ও পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের উপদেশ প্রদান
৪৩৭৩। হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ... বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সেনাপতিকে অথবা সেনাবাদলকে প্রেরণ করতেন, তখন তাঁকে ডেকে কিছু উপদেশ দিয়ে দিতেন ...... অতঃপর তিনি সুফিয়ান (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের মর্মার্থ অনুসারে অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করেন।
৪৩৭৫। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তার কোন সাহাবীকে কোন কাজে প্রেরণ করতেন, তখন তাকে বলে দিতেন, তোমরা লোকদেরকে শুভ সংবাদ দেবে; বিরক্তি বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করবে না, সহজ পন্থা অবলম্বন করবে; কঠিন পন্থা পরিহার করবে। (সহজরূপে উপস্থাপন করবে, কঠিন করে উপস্থাপন করবে না)।
৪৩৭৬। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ), সাঈদ ইবনু আবূ বুরদা (রহঃ) তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এবং মু’আয (রাঃ) কে যখন ইয়ামানে পাঠান তখন উপদেশ দিলেন তোমরা উভয়েই (সেখানে) সহজ পন্থা অবলম্বন করবে, কঠিন পন্থা আরোপ করবে না, সুসংবাদ দেবে, বিতৃষ্ণা-ঘৃণা সৃষ্টি করবে না, সমঝোতার সাথে কাজ করবে এবং মতবিরোধ করবে না।
৪৩৭৭। মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) উভয়েই ... সাঈদ ইবনু আবূ বুরদাহ (রহঃ) এর দাদার সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উল্লিখিত শু’বা (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। কিন্তু যায়িদ ইবনু আবূ উনায়সা (রহঃ) এর হাদীসে "এবং সমঝোতার সাথে কাজ করবে, মতবিরোধ করবে না" এ কথার উল্লেখ নেই।
৪৩৭৮। উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয আনবারী, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা, মুহাম্মাদ ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সহজভাবে কাজ করবে, কঠিনতা আরোপ করবে না, প্রশান্তি-স্থিরতা সৃষ্টি করবে, অশান্তি-বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করবে না।
৪৩৭৯। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা, যুহায়র ইবনু হারব, উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদূল্লাহ ইবনু নূমাইর (রহঃ) ... ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তাআলা কিয়ামত দিবসে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকলকে একত্রিত করবেন, তখন প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর জন্য পৃথক পতাকা উড্ডীন করা হবে এবং বলা হবে যে, এটি অমুকের পুত্র অমুকের অঙ্গীকার ভঙ্গের প্রতীক (পতাকা)।
হাদিস নং ৪৩৮০সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ، الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا صَخْرُ بْنُ جُوَيْرِيَةَ، كِلاَهُمَا عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৩৮০। আবূ রাবী আতাকী ও আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারেমী (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৪৩৮১। ইয়াহইয়া ইবনু আয়্যুব, কুতায়বা ও ইবনু হুজর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর জন্য আল্লাহ তা’আলা কিয়ামত দিবসে একটি পতাকা উড্ডীন করবেন। তখন বলা হবে যে, এটি অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার পতাকা।
৪৩৮২। হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামত দিবসে একটি পতাকা থাকবে।
৪৩৮৩। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না, ইবনু বাশশার ও বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামত দিবসে একটি পতাকা থাকবে। তখন বলা হবে যে, এটি অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার পতাকা।
৪৩৮৪। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... শু’বা (রহঃ) থেকে একই সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর আবদুল রহমান (রাঃ) এর হাদীসে, বলা হবে যে, “এটি অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক” কথাটির উল্লেখ নেই।
৪৩৮৫। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামত দিবসে একটি পতাকা থাকবে, যদ্বারা তাকে চেনা যাবে। তখন বলা হবে যে, এটি অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক।
হাদিস নং ৪৩৮৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُعْرَفُ بِهِ " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৩৮৬। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না ও উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামত দিবসে একটি পতাকা থাকবে, যদ্বারা তাকে চেনা যাবে।
হাদিস নং ৪৩৮৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خُلَيْدٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ عِنْدَ اسْتِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .
বর্ণনাকারী: আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
৪৩৮৭। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর পাছার (নিতম্ব) পাশে একটি পতাকা থাকবে।
৪৩৮৮। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামতের দিন একটি পতাকা থাকবে আর তা তার বিশ্বাসঘাতকতার পরিমাণ অনুযায়ী উঁচু করা হবে। সাবধান! জনগণের শাসক হয়েও যে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তার চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক আর নেই।
৫. যুদ্ধে শত্রুকে প্রতারণার শিকার করা বৈধ
হাদিস নং ৪৩৮৯সহিহ
وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لِعَلِيٍّ وَزُهَيْرٍ - قَالَ عَلِيٌّ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ سَمِعَ عَمْرٌو، جَابِرًا يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْحَرْبُ خَدْعَةٌ " .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
৪৩৮৯। আলী ইবনু হুজর সা’দী, আমর আন নাফিদ ও যুবায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুট-কৌশলের নামই যুদ্ধ।
হাদিস নং ৪৩৯০সহিহ
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْمٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "الْحَرْبُ خُدْعَةٌ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৩৯০। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু সাহম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কৌশলই হল যুদ্ধ।
৬. দুশমনের সম্মুখীন হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা মাকরূহ; আর সম্মুখীন হয়ে গেলে সবরের নির্দেশ
৪৩৯১। হাসান ইবনু আলী হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করো না আর যখন মুখোমুখি হয়ে পড় তখন ধৈর্যধারণ করবে।
হাদিস নং ৪৩৯২সহিহ
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي مُوسَى، بْنُ عُقْبَةَ عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ كِتَابِ، رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُقَالُ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أَوْفَى فَكَتَبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ حِينَ سَارَ إِلَى الْحَرُورِيَّةِ يُخْبِرُهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي بَعْضِ أَيَّامِهِ الَّتِي لَقِيَ فِيهَا الْعَدُوَّ يَنْتَظِرُ حَتَّى إِذَا مَالَتِ الشَّمْسُ قَامَ فِيهِمْ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ لاَ تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَاسْأَلُوا اللَّهَ الْعَافِيَةَ فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ ظِلاَلِ السُّيُوفِ " . ثُمَّ قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ وَمُجْرِيَ السَّحَابِ وَهَازِمَ الأَحْزَابِ اهْزِمْهُمْ وَانْصُرْنَا عَلَيْهِمْ " .
বর্ণনাকারী: সালিম আবূন নাযর (রহঃ)
৪৩৯২। মুহাম্মদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আবুন নাযর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্য থেকে আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি, যার নাম ছিল আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা, তার লেখা (চিঠি) থেকে বর্ণনা করেছেন। এ চিঠি তিনি লিখেছিলেন, উমার ইবনু উবায়দুল্লাহ (রাঃ) এর নিকট, যখন তিনি (খারিজীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত) হারুরিয়া অভিযানে যাচ্ছিলেন। এতে তিনি তাকে অবহিত করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন এক অভিযানে যখন দুশমনের সম্মুখীন হলেন তখন অপেক্ষা করতে লাগলেন। অবশেষে যখন সুর্য ঢলে পড়ল তখন তিনি সঙ্গীদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে লোকজন! তোমরা শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করো না। বরং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তার প্রার্থনা কর। আর যখন তোমরা শত্রুর সামনাসামনি হয়ে যাও তখন ধৈর্য ধারণ করবে। আর জেনে রেখো যে, জান্নাত তরবারীর ছায়াতলে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে দু’আ করলেন, ইয়া আল্লাহ! তুমি কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী এবং শত্রুদলকে পরাভূতকারী। তুমি তাদের পরাজিত কর এবং তাদের উপর আমাদের সাহায্য কর।
৭. শত্রুর মুকাবিলার সময় আল্লাহর কাছে বিজয়ের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করা মুস্তাহাব
৪৩৯৩। সাঈদ ইবনু মানসুর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলোন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মিলিত বাহিনীর বিরুদ্ধে এভাবে দুআ করলেন যে, হে আল্লাহ! তুমি কিতাব নাযিলকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। তুমি সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি তাদের পরাস্ত করে দাও এবং তাদের ভীত কম্পিত (উৎখাত) করে দাও।
৪৩৯৪। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে দুআ করলেন ... পরবর্তী অংশ উল্লিখিত খালিদের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি এ হাদীসاهْزِمْهُمْ এর পরিবর্তে هَازِمَ الأَحْزَابِ শত্রু সৈন্যদের পরাস্তকারী বর্ণনা করেছেন। আর তিনিاللَّهُمَّ শব্দটির উল্লেখ করেননি।
৪৩৯৫। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ... ইসমাঈল (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনু আবূ উমার (রহঃ) তার বর্ণনায় ... “মেঘমালা পরিচালনাকারী” বাক্যটি অধিক বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং ৪৩৯৬সহিহ
وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ يَوْمَ أُحُدٍ " اللَّهُمَّ إِنَّكَ إِنْ تَشَأْ لاَ تُعْبَدْ فِي الأَرْضِ " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৩৯৬। হাজ্জাজ ইবনু শা’ইর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের দিন বলেছিলেন, হে আল্লাহ! তুমি যদি চাও (এ সেনাদল ধ্বংস হোক) তা হলে পৃথিবীতে তোমার ইবাদত করা হবে না।
৮. যুদ্ধে নারী ও শিশুদের হত্যা করা হারাম
হাদিস নং ৪৩৯৭সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ، سَعِيدٍ حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ امْرَأَةً، وُجِدَتْ، فِي بَعْضِ مَغَازِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَقْتُولَةً فَأَنْكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَتْلَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৩৯৭। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন এক যুদ্ধে একজন নারীকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল। তখন তিনি নারী ও শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেন।
৪৩৯৮। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কোন এক নারীকে কোন এক যুদ্ধ ক্ষেত্রে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী ও শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেন।
৯. রাতের অতর্কিত আক্রমনে অনিচ্ছাকৃতভাবে নারী ও শিশু হত্যায় দোষ নেই
৪৩৯৯। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবনু মনসুর ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ... সা’ব ইবনু জাছছামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেমুশরিকদের নারী ও শিশু সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যখন রাতের আধারে অতর্কিত আক্রমণ করা হয়, তখন তাদের নারী ও শিশুরাও আক্রান্ত হয়। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারাও তাদের (মুশরিকদের) অন্তর্ভুক্ত।
৪৪০০। আবদ ইবনু হুমাইদ (রহঃ) ... সা’ব ইবনু জাছছামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা রাতের আধারে অতর্কিত আক্রমণে মুশরিকদের নারী ও শিশুদের উপরও আঘাত করে ফেলি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারাও তাদের (মুশরিকদের) অন্তর্গত।
৪৪০১। মুহাস্মদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ... সা’ব ইবনু জছছামা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যদি অশ্বারোহীদল রাতের আধারে আক্রমণ চালায় এবং তাতে মুশরিকদের শিশু সন্তানদের আক্রান্ত করে (তবে কি হবে)? তিনি বললেনঃ তারাও তাদের পিতাদের অন্তর্গত।
১০. (যুদ্ধ পরিস্থিতিতে) কাফিরদের বৃক্ষাদি কাটা ও জ্বালান বৈধ
৪৪০২। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, মুহাম্মদ ইবনু রুমহ ও কুতাইবা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাযীর গোত্রের খেজুর বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং কেটে দিলেন। সে (বাগানের নাম) ছিল ’বুওয়ারা’। কুতায়বা এবং ইবনু রুমহ (রহঃ) উভয়েই তাঁদের হাদীসে আরো বর্ণনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ (এই আয়াত) নাযিল করেনঃ "তোমরা যে সব খেজুর গাছ কেটে ফেলেছো কিংবা তার মুলের উপর খাড়া রেখেছো, সবই ছিল আল্লাহর নির্দেশে, যাতে তিনি অবাধ্যদের লাঞ্ছিত করেন।"
৪৪০৩। সাঈদ ইবনু মনসুর (রহঃ) ... ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাযীর গোত্রের খেজুর বাগান কেটেছিলেন এবং জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। এ সম্পর্কে কবি হাসসান (রাঃ) বলেন, ’বনী লুওয়াই (অর্থাৎ কুরায়শ) এর সর্দারদের কাছে বুওয়ায়রায় আগুনের লেলিহান শিখা খুব সহজ হয়ে গিয়েছে।” আর এ সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে এই আয়াতঃ (অর্থ) তোমরা যে সব খেজুর গাছ কেটেছো অথবা তা কাণ্ডের উপর রেখে দিয়েছো ...... শেষ পর্যন্ত।
হাদিস নং ৪৪০৪সহিহ
وَحَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ، أَخْبَرَنِي عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ السَّكُونِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ حَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ.
৪৪০৫। আবূ কুরাইব মুহাম্মাদ ইবনু আলা ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে সকল হাদীস আমাদের বর্ণনা করেছেন, এর মধ্যে এটি অন্যতম যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নবীগণের মধ্যে কোন এক নবী জিহাদে রওনা দিলেন। তিনি তার কাওমকে বললেন, এমন লোক যেন আমার সাথে অভিযানে না আসে, যে ব্যক্তি সদ্য বিবাহ করেছে এবং বাসর যাপনে ইচ্ছুক; কিন্তু এখনো তা সস্পন্ন হয়নি। সেই ব্যক্তি যে গৃহ নির্মাণ করেছে এবং তখনও তার ছাদ দেয়নি এবং সে ব্যক্তি যে গর্ভবতী ছাগল বা পশু খরিদ করেছে এবং সেগুলোর বাচ্চা প্রসবের অপেক্ষায় আছে।
রাবী বলেন, তারপর তিনি জিহাদে গমন করেন এবং আসরের সালাতের সময় কিংবা তার কাছাকাছি সময়ে যুদ্ধ ক্ষেত্রের নিকটবর্তী এক গ্রামে পৌঁছেন। তখন তিনি সূর্যকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তুমিও আদিষ্ট এবং আমিও আদিষ্ট। ইয়া আল্লাহ! তুমি একে আমার জন্য কিছুক্ষণ থামিয়ে রাখ। সূর্য থামিয়ে দেওয়া হল। অবশেষে আল্লাহ তাঁকে বিজয় প্রদান করলেন।
রাবী বলেন, তারা গনীমতের মাল একত্রিত করলো। তখন তা খাওয়ার জন্য আগুন এগিয়ে এল। কিন্তু আগুন তা খেতে অস্বীকার করল। তখন সে নবী (আঃ) বললেন, তোমাদের মধ্যে আত্নসাৎকারী রয়েছে। কাজেই তোমাদের প্রত্যেক গোত্র থেকে একজন করে আমার কাছে বায়আত করবে। তখন তারা তার কাছে বায়আত করলো। এতে এক ব্যক্তির হাত নবীর হাতের সাথে লেগে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে আত্নসাৎকারী রয়েছে। কাজেই তোমাদের গোত্রের লোকেরা আমার কাছে বায়আত করুক।
অতঃপর তার ঐ গোত্রের লোকেরা বায়আত করলো। রাবী বলেন, তখন নবী (আঃ) এর হাত দুই বা তিন ব্যক্তির হাতের সাথে লেগে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে আত্মসাৎকারী রয়েছে। তোমরা আত্নসাৎ করেছ। রাবী বলেন, তারপর তারা নবীর কাছে একটি গাভীর মাথার পরিমাণ স্বর্ণখণ্ড বের করে দিল। তখন তারা সেটিও ঐ সম্পদের সাথে রাখল। তারপর আগুন এগিয়ে এসে তা খেয়ে ফেলল। আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমতের মাল হালাল ছিল না। আল্লাহ তা’আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে আমাদের জন্য তা হালাল করে দিলেন।
৪৪০৬। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... মুসআব ইবনু সা’দ (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আমার পিতা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ হতে কিছু বস্তু নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেন, এটি আমাকে দান করুন। তিনি অস্বীকার করেন। তখন আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করেনঃ “তারা আপনার কাছে যুদ্ধলব্ধ দ্রব্য সম্ভার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে, আপনি বলে দিন, যুদ্ধলব্ধ দ্রব্য সম্ভার আল্লাহ ও রাসূলের ... শেষ পর্যন্ত। [সূরা আনফালঃ ১]
হাদিস নং ৪৪০৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ نَزَلَتْ فِيَّ أَرْبَعُ آيَاتٍ أَصَبْتُ سَيْفًا فَأَتَى بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَفِّلْنِيهِ . فَقَالَ " ضَعْهُ " . ثُمَّ قَامَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ضَعْهُ مِنْ حَيْثُ أَخَذْتَهُ " . ثُمَّ قَامَ فَقَالَ نَفِّلْنِيهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ " ضَعْهُ " . فَقَامَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَفِّلْنِيهِ أَأُجْعَلُ كَمَنْ لاَ غَنَاءَ لَهُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ضَعْهُ مِنْ حَيْثُ أَخَذْتَهَ " . قَالَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( يَسْأَلُونَكَ عَنِ الأَنْفَالِ قُلِ الأَنْفَالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ)
বর্ণনাকারী: সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)
৪৪০৭। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ... সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার সম্বন্ধে চারটি আয়াত নাযিল হয়েছে। আমি একটি তলোয়ার পেলাম। এরপর তিনি সেটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে এসে বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এটি আমাকে দিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি এটি রেখে দাও। তারপর আবার দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এটি আমাকে দিয়ে দিন। তখনও তিনি বললেন, এটি রেখে দাও। তারপর আবার দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এটি আমাকে দিয়ে দিন। আমি কি সে ব্যক্তির স্থলেআমি কি সে ব্যক্তির ন্যায় বিবেচিত হব যার (যুদ্ধে) কোন অবদান নেই? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এটি যেখান থেকে নিয়েছ সেখানে রেখে দাও। তারপর এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (অর্থ) তারা আপনাকে যুদ্ধ লব্ধ দ্রব্যসম্ভার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ ও রাসূলের জন্য......।
৪৪০৮। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা একটি সেনাদল নাজদের দিকে পাঠান। তন্মধ্যে আমিও ছিলাম। তারা সেখানে অনেক উট গনীমত হিসাবে লাভ করল। প্রত্যেকের অংশে বারটি করে অথবা এগারটি করে উট পড়ল এবং প্রত্যেককেই একটি করে অতিরিক্ত উট (নফল রূপে) দেওয়া হল।
হাদিস নং ৪৪০৯সহিহ
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ سَرِيَّةً قِبَلَ نَجْدٍ وَفِيهِمُ ابْنُ عُمَرَ وَأَنَّ سُهْمَانَهُمْ بَلَغَتِ اثْنَىْ عَشَرَ بَعِيرًا وَنُفِّلُوا سِوَى ذَلِكَ بَعِيرًا فَلَمْ يُغَيِّرْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৪০৯। কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও ইবনু রুমহ (রহঃ) ... ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে একটি সেনাদল প্রেরণ করেন এবং তাদের মধ্যে ইবনু উমার (রাঃ)ও ছিলেন। যূদ্ধলব্ধ সম্পদের বন্টনে তাদের ভাগে পড়ল বারটি করে উট। আর তা ছাড়া অতিরিক্তও একটি উট করে দেয়া হল। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পরিবর্তন করেননি।
হাদিস নং ৪৪১০সহিহ
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، وَعَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً إِلَى نَجْدٍ فَخَرَجْتُ فِيهَا فَأَصَبْنَا إِبِلاً وَغَنَمًا فَبَلَغَتْ سُهْمَانُنَا اثْنَىْ عَشَرَ بَعِيرًا وَنَفَّلَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعِيرًا بَعِيرًا .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৪১০। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে একটি সেনাদল প্রেরণ করেন আর আমিও এতে গিয়েছিলাম। আমরা বহু উট এবং ছাগল পেলাম। আমাদের প্রত্যেকের অংশে বারটি করে উট পড়ল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেককে আরো একটি করে অতিরিক্ত উট (নফল রূপে) প্রদান করলেন।
৪৪১২। আবূ রাবী, আবূ কামিল ও ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... ইবনু আওন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নফল সম্পর্কে জানতে চেয়ে নাফি (রহঃ) এর কাছে লিখলাম। তিনি উত্তরে আমাকে লিখলেন যে, ইবনু উমার (রাঃ) একটি সেনাদলে ছিলেন। ইবনু রাফি ও হারুন ইবনু সাঈদ আয়লী (রহঃ) তারা সকলেই নাফির (রহঃ) সুত্রে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৪৪১৩। সুরাইজ ইবনু ইউনুস ও আমর আন-নাকিদ (রহঃ) ... সালিম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অতিরিক্ত এক পঞ্চমাংশ থেকে নফল দান করেন। অতএব, আমাদের ভাগে একটি ’শারিফ’ মিললো। ’শারিফ’ মানে বড় ধরনের বয়স্ক উট।
হাদিস নং ৪৪১৪সহিহ
وَحَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، ح وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، كِلاَهُمَا عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ بَلَغَنِي عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَفَّلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً بِنَحْوِ حَدِيثِ ابْنِ رَجَاءٍ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৪১৪। হান্নাদ ইবনু সারী, হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুদ্র সেনাদলের মাঝে যুদ্ধলব্ধ মালামাল নফল (বিশেষ পুরস্কার) বন্টন করেন। অতঃপর ইবনু রাজা এর অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
৪৪১৫। আবদুল মালিক ইবনু শুয়াব ইবনু লাইস (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুদ্র সেনাদলে যে সব সৈনিককে প্রেরণ করতেন, তাদের কোন কোন সময় সাধারণ লোকদের অংশের চেয়েও কিছু অতিরিক্ত বিশেষভাবে (নফল) প্রদান করতেন। আর সব অর্জিত গনীমাতের মালের উপরই একপঞ্চমাংশ বের করা ওয়াজিব।
১৩. নিহত শত্রুর ব্যক্তিগত সম্পদ (সালাব) হত্যাকারী মুহাজিরদের প্রাপ্য
৪৪১৭। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামিমী (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বদরের দিন যুদ্ধ সারিতে অবস্থান করছিলাম। এমন সময় আমি আমার ডান ও বাম দিকে তাকিয়ে দেখি যে, আমি দু’জন আনসারী তরুণের মাঝে আছি। আমি তখন আশা করেছিলাম, যদি আমি দু’জন শক্তিশালী যুবকের মাঝে থাকতাম। এমন সময় তাদের একজন আমাকে ইঙ্গিতে বলল, হে চাচা! আপনি কি আবূ জাহেলকে চিনেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তবে তাকে দিয়ে তোমার কী প্রয়োজন, হে ভ্রাতুষ্পূত্র? সে বলল, আমি সংবাদ জেনেছি যে, সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে গালাগালি করে। সেই আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার জীবন, যদি আমি তাকে দেখতে পাই তবে অবশ্যই আমার দেহ তার দীহ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না-- যতক্ষন না আমাদের দুজনের মধ্যে যার মৃত্যু পুর্বে হওয়া অবধারিত তার মৃত্যু হয়।
বর্ণনাকারী বলেন, কিশোরের এই কথা শুনে আমি আাচর্যাম্বিত হলাম। তারপর অপর কিশোর আমার দিকে ইঙ্গিত করে অনুরূপ কথা বলল। পরে বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি, হঠাৎ আমি দেখলাম আবূ জাহেল লোকদের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, আমি তখন কিশোর দু’জনকে বললাম, এই সেই যার ব্যক্তি যার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসা করেছ। তারা উভয়ে দৌঁড়ে গিয়ে তাদের তলোয়ার দ্বারা তাকে আঘাত করলো এবং হত্যা করে ফেললো। অতঃপর উভয়েই ফিরে এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এই ঘটনার সংবাদ দিল।
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্য থেকে কে হত্যা করেছে তাদের প্রত্যেকেই বলল, আমি তাকে হত্যা করেছি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের তলোয়ার কি মুছে ফেলেছ? তারা তখন বললো, না। তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উভয়ের তলোয়ার (পরীক্ষা করে) দেখলেন। তারপর বললেনঃ তোমরা উভয়েই তাকে হত্যা করেছ। অতএব, (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুআয ইবনু আমর ইবনু জামুহকে ’সালাব’ প্রদানের নির্দেশ দেন। (আর সেই দুই ব্যক্তি হলেন, মুয়ায ইবনু আমর ইবনু জামুহ এবং মুয়ায ইবনু আফরা (রাঃ)।)
৪৪১৮। আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ... আউফ ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হিময়ার গোত্রের এক ব্যক্তি শত্রু পক্ষের এক ব্যক্তিকে হত্যা করছেন এবং তার পরিত্যক্ত সম্পদ (সালাব) নিতে চাইছেন। কিন্তু খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) তাকে নিষেধ করলেন। তিনি ছিলেনতাদের সেনাপতি। তারপর আউফ ইবনু মালিক (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলেন এবং ঐ ঘটনার সংবাদ দিলেন। তখন তিনি খালিদ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি (নিহত ব্যক্তির) সম্পদ তাকে দিলে না কেন? খালিদ (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ আমি তাকে প্রচুর সম্পদ বিবেচনা করেছি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে তা দিয়ে দাও।
তারপর খালিদ (রাঃ) আউফ (রাঃ) এর কাছ দিয়ে গেলেন এবং তাঁর চাঁদর ধরে টান দিয়ে বললেন, আমি তোমার নামে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নালিশ করার কথা বলেছিলাম তা পূর্ণ করেছি কি? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতে পেলেন। এতে তিনি রাগাম্বিত হলেন। এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে খালিদ! তুমি তাকে তা দেবে না। হে খালিদ! তুমি তাকে তা দেবে না। তোমরা কি আমার খাতিরে আমার (সেনাপতি)দের (একটু) ছাড় দিবে না? নিশ্চয়ই তোমাদের এবং তাদের দৃষ্টান্ত এমন, যেমন কোন ব্যক্তি উট কিংবা ছাগল চরাবার জন্য রাখলো। রাখাল মাঠে তা চরালো। তারপর পিপাসার সময় পানি পান করানোর জন্য জনাশয়ে নিয়ে গেল। পরিস্কার পানি পান করতে শুরু করল এবং ঘোলাটে পানি পরিত্যাগ করলো। অর্থাৎ তার পরিস্কার অংশ তোমাদের জন্য এবং অপরিস্কার অংশ (জবাবদিহীতার) তোমাদের নেতাদের উপর।
হাদিস নং ৪৪১৯সহিহ
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ، الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ مَنْ خَرَجَ مَعَ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ فِي غَزْوَةِ مُؤْتَةَ وَرَافَقَنِي مَدَدِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِنَحْوِهِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فِي الْحَدِيثِ قَالَ عَوْفٌ فَقُلْتُ يَا خَالِدُ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِالسَّلَبِ لِلْقَاتِلِ قَالَ بَلَى وَلَكِنِّي اسْتَكْثَرْتُهُ .
বর্ণনাকারী: আউফ ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪১৯। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... আউফ ইবনু মালিক আশজাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়িদ ইবনু হারেসা (রাঃ) এর সঙ্গে যারা মুতার যুদ্ধে গমন করেছিলেন, তন্মধ্যে আমিও ছিলাম। ইয়ামানের একজন ’সহযোগ্য’ (সৈনিক) আমার সাথী হল। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে তিনি হাদীসে বলেছেন যে, আউফ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি বললাম, হে খালিদ! তুমি কি জাননা যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রু থেকে নেওয়া সম্পদ হত্যাকারীর মুজাহিদের প্রাপ্য বলে নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হাঁ, কিন্তু এই সম্পদ আমার কাছে অধিক মনে হল। (তাই আমি নিষেধ করেছিলাম।)
৪৪২০। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... আবূ সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হাওয়াযিন গোত্রের সঙ্গে যুদ্ধে ছিলাম। একদা আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সকালের খাওয়ায় সামিল ছিলাম। এমন সময় এক ব্যাক্তি লাল রঙের উটে চড়ে এসে তাকে বসাল এবং তার কোমর থেকে একটি চামড়ার রশি বের করে এর দ্বারা সে তার উটকে বাঁধলো। এরপর সে এসে লোকদের সাথে খানা খেতে লাগল এবং এদিক সেদিক তাকাতে লাগলো (গুপ্তচর)। আমাদের মধ্যে দুর্বলতা ও নম্রতা ছিল। সাওয়ারীও কম ছিল। আমাদের কেউ কেউ পায়ে হেঁটে চলত (পদাতিক ছিল)।
এমন সময় সে ব্যক্তি দ্রুত গতিতে নিজের উটের কাছে এসে এর রশি খুললো। এরপর একে বসিয়ে এর উপর সাওয়ার হল তারপর দাবড়ালো এবং উট তাকে নিয়ে ছুটল। তখন এক ব্যক্তি একটি ধূসর বর্ণের উটনীর উপর আরোহণ করে তার পশ্চাদ্ধাবন করলো। সালামা (রাঃ) বলেন, আমি বের হয়ে দৌড় দিলাম। প্রথমত আমি উটনীর পিছনে গিয়ে পৌছলাম। এরপর আমি আরও অগ্রসর হয়ে সে উটের পশ্চাতে পৌছলাম। অতঃপর আরও অগ্রসর হয়ে আমি উটের লাগাম ধরে ফেললাম এবং আমি একে বসালাম।
যখন উটটি তার হাটু মাটিতে রাখল, তখন আমি তলোয়ার বের করে লোকটির মাথায় আঘাত করলাম। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এরপর আমি উটটি টেনে নিয়ে এলাম। এর উপর ঐ ব্যক্তির আসবাব পত্র ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজন সহ আমাকে এগিয়ে নিলেন। তিনি বললেনঃ কে এই লোকটিকে হত্যা করেছে? লোকেরা বলল, ইবনু আকওয়া। তিনি বললেনঃ তার সালাব (নিহত ব্যক্তির থেকে ছিনিয়ে আনা সমুদয় সম্পদ) তার (আকওয়ার পুত্র সালামার) জন্য।
১৪. নফল (বিশেষ পুরস্কার ও অনুদান) হিসাবে কিছু দেওয়া এবং বন্দীদের বিনিময়ে (আটকে পড়া) মুসলিমদের মুক্ত করা
৪৪২১। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... ইয়াস ইবন সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেন, আমরা ফাযারা গোত্রের সাথে যুদ্ধ করেছিলাম। আমাদের আমীর ছিলেন আবূ বকর (রাঃ)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আমাদের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন যখন আমাদের এবং (গোত্রের) পানির স্থানের মাঝে এক ঘণ্টা সময়ের ব্যবধান ছিল, তখন আবূ বকর (রাঃ) আমাদেরকে শেষ রাতের অবতরণের (বিশ্রামের) নির্দেশ দিলেন। সুতরাং আমরা রাতের শেষাংশেই সেখানে অবতরণ করলাম। এরপর বিভিন্ন দিক দিয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালালেন এবং পানি পর্যন্ত পৌছলেন। আর যাদের পেলেন হত্যা করলেন এবং বন্দী করলেন।
আমি লোকদের একটি দলের দিকে দেখছিলাম যাদের মধ্যে শিশু ও নারী রয়েছে। আমি আশংকা করছিলাম যে, তারা হয়তো আমার আগেই পাহাড়ে পৌছে যাবে। অতএব, আমি তাদের ও পাহাড়ের মাঝে তীর নিক্ষেপ করলাম। তারা যখন তীর দেখতে পেল থেমে গেল। তখন আমি তাদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে এলাম। তাদের মাঝে চামড়ার পোশাক পরিহিত বনী ফযরার একজন মহিলাও ছিল এবং তার সঙ্গে ছিল তার এক কন্যা। সে ছিল আরবের সব চাইতে সুন্দরী কন্যা। আমি সকলকেই হাকিয়ে আবূ বকর (রাঃ) এর কাছে নিকট এলাম। আবূ বকর (রাঃ) কন্যাটিকে আমাকে নফল হিসাবে প্রদান করলেন।
এরপর আমি মদিনায় ফিরে এলাম। আমি তখনও তার বস্ত্র উন্মোচন করিনি। পরে বাজারে আমার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেনঃ হে সালামা! তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়ে দাও। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাকে আমার খবুই পছন্দ হয়েছে এবং এখনও আমি তার বস্ত্র উন্মোচন করিনি। পরের দিন আবারও বাজারে আমার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ হলো। তখন তিনি বললেনঃ হে সালামা! তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়ে দাও। “আল্লাহ তোমার পিতাকে কতই সুপুত্র দান করেছেন।” তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে আপনার জন্যই আল্লাহর কসম! আমি তার বস্ত্র উমোচন করিনি। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কন্যাটিকে মক্কায় পাঠিয়ে দিয়ে তার কয়েকজন মুসলিমের মুক্তির ব্যবস্থা করলেন, যারা মক্কায় বন্দী ছিল।
১৫. 'ফায়' এর হুকুম
হাদিস নং ৪৪২২সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُّمَا قَرْيَةٍ أَتَيْتُمُوهَا وَأَقَمْتُمْ فِيهَا فَسَهْمُكُمْ فِيهَا وَأَيُّمَا قَرْيَةٍ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ خُمُسَهَا لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ ثُمَّ هِيَ لَكُمْ " .
বর্ণনাকারী: হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ)
৪৪২২। আহমাদ ইবনু হাম্বল ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ হুরায়রা (রাঃ) যে সব হাদীস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন তন্মধ্যে একটি হল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যে কোন জনপদে উপনিত হয়ে অবস্থান করবে, সেখান (প্রাপ্ত ফাই এর) এক অংশ পাবে। আর যে কোন জনপদের অধিবাসীরা আল্লাহ্ ও তার রাসুলের অবাধ্যতা করবে, (অর্থাৎ যুদ্ধ করবে) তবে তার (সম্পদের) এক পঞ্চমাংশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। আর (অবশিষ্ট সম্পদ) তোমাদের জন্য।
৪৪২৩। কুতায়বা ইবনু সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শায়রা ও ইসহাক (রহঃ) ... ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনী নযীর গোত্রের সস্পদ সে মালের অন্তর্গত যা আল্লাহ তা’আলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিনা যুদ্ধে প্রদান করেন। মুসলিমরা ঘোড়া এঘং উট দাবড়িয়ে (যুদ্ধ করে) দখল করে নি। অতএব, এই সম্পদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। সুতরাং তিনি তা থেকে স্বীয় পরিবারের এক বছরের ভরণ-পোষণের খরচ দিতেন এবং অবশিষ্ট সম্পদ যুদ্ধের ঘোড়া এবং প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র ক্রয় খাতে আল্লাহর পথে ব্যয় করেন।
৪৪২৬। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মদ ইবনু রাফি’ ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... মালিক ইবনু আউস ইবনু হাদছান (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন। এরপর বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের কতিপয় পরিবারের লোক আমার কাছে উপস্থিত হল ...... তারপর মালিক (রাঃ) এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তার হাদীসে রয়েছে যে, তিনি তাঁর পরিবারের জন্য তা থেকে এক বছরের খরচ দিয়ে দিতেন। অনেক সময় মা’মার (রহঃ) বলেছেন যে, তার পরিবারের জন্য তা থেকে এক বছরের খোরাকী রেখে দিতেন। এরপর অবশিষ্ট সম্পদ আল্লাহর মালের ভাণ্ডারে (বায়তুল মালে) জমা দিতেন।
১৬. নবী (ﷺ) এর বানীঃ আমাদের (নবীগনের) মীরাস বণ্টন হয় না, আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই সদাকা
হাদিস নং ৪৪২৭সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ إِنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَدْنَ أَنْ يَبْعَثْنَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَيَسْأَلْنَهُ مِيرَاثَهُنَّ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ عَائِشَةُ لَهُنَّ أَلَيْسَ قَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا فَهُوَ صَدَقَةٌ " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৪২৭। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাত হল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনীগণ উসমান (রাঃ) কে আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট পাঠাতে মনস্থ করলেন, যেন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে তাদের মীরাস দাবী করেন। তখন আয়িশা (রাঃ) তাদের বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি একথা বলে যাননি যে, আমদের (নবীগণের) মিরাস বন্টিত হয় না। আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকা।
হাদিস নং ৪৪২৮সহিহ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، أَخْبَرَنَا حُجَيْنٌ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسَلَتْ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ بِالْمَدِينَةِ وَفَدَكٍ وَمَا بَقِيَ مِنْ خُمْسِ خَيْبَرَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ إِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ - صلى الله عليه وسلم - فِي هَذَا الْمَالِ " . وَإِنِّي وَاللَّهِ لاَ أُغَيِّرُ شَيْئًا مِنْ صَدَقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ حَالِهَا الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهَا فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلأَعْمَلَنَّ فِيهَا بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَبَى أَبُو بَكْرٍ أَنْ يَدْفَعَ إِلَى فَاطِمَةَ شَيْئًا فَوَجَدَتْ فَاطِمَةُ عَلَى أَبِي بَكْرٍ فِي ذَلِكَ - قَالَ - فَهَجَرَتْهُ فَلَمْ تُكَلِّمْهُ حَتَّى تُوُفِّيَتْ وَعَاشَتْ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِتَّةَ أَشْهُرٍ فَلَمَّا تُوُفِّيَتْ دَفَنَهَا زَوْجُهَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ لَيْلاً وَلَمْ يُؤْذِنْ بِهَا أَبَا بَكْرٍ وَصَلَّى عَلَيْهَا عَلِيٌّ وَكَانَ لِعَلِيٍّ مِنَ النَّاسِ وِجْهَةٌ حَيَاةَ فَاطِمَةَ فَلَمَّا تُوُفِّيَتِ اسْتَنْكَرَ عَلِيٌّ وُجُوهَ النَّاسِ فَالْتَمَسَ مُصَالَحَةَ أَبِي بَكْرٍ وَمُبَايَعَتَهُ وَلَمْ يَكُنْ بَايَعَ تِلْكَ الأَشْهُرَ فَأَرْسَلَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ أَنِ ائْتِنَا وَلاَ يَأْتِنَا مَعَكَ أَحَدٌ - كَرَاهِيَةَ مَحْضَرِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - فَقَالَ عُمَرُ لأَبِي بَكْرٍ وَاللَّهِ لاَ تَدْخُلْ عَلَيْهِمْ وَحْدَكَ . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَمَا عَسَاهُمْ أَنْ يَفْعَلُوا بِي إِنِّي وَاللَّهِ لآتِيَنَّهُمْ . فَدَخَلَ عَلَيْهِمْ أَبُو بَكْرٍ . فَتَشَهَّدَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ ثُمَّ قَالَ إِنَّا قَدْ عَرَفْنَا يَا أَبَا بَكْرٍ فَضِيلَتَكَ وَمَا أَعْطَاكَ اللَّهُ وَلَمْ نَنْفَسْ عَلَيْكَ خَيْرًا سَاقَهُ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَكِنَّكَ اسْتَبْدَدْتَ عَلَيْنَا بِالأَمْرِ وَكُنَّا نَحْنُ نَرَى لَنَا حَقًّا لِقَرَابَتِنَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَلَمْ يَزَلْ يُكَلِّمُ أَبَا بَكْرٍ حَتَّى فَاضَتْ عَيْنَا أَبِي بَكْرٍ فَلَمَّا تَكَلَّمَ أَبُو بَكْرٍ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَرَابَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ إِلَىَّ أَنْ أَصِلَ مِنْ قَرَابَتِي وَأَمَّا الَّذِي شَجَرَ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ مِنْ هَذِهِ الأَمْوَالِ فَإِنِّي لَمْ آلُ فِيهِ عَنِ الْحَقِّ وَلَمْ أَتْرُكْ أَمْرًا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُهُ فِيهَا إِلاَّ صَنَعْتُهُ . فَقَالَ عَلِيٌّ لأَبِي بَكْرٍ مَوْعِدُكَ الْعَشِيَّةُ لِلْبَيْعَةِ . فَلَمَّا صَلَّى أَبُو بَكْرٍ صَلاَةَ الظُّهْرِ رَقِيَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَتَشَهَّدَ وَذَكَرَ شَأْنَ عَلِيٍّ وَتَخَلُّفَهُ عَنِ الْبَيْعَةِ وَعُذْرَهُ بِالَّذِي اعْتَذَرَ إِلَيْهِ ثُمَّ اسْتَغْفَرَ وَتَشَهَّدَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَعَظَّمَ حَقَّ أَبِي بَكْرٍ وَأَنَّهُ لَمْ يَحْمِلْهُ عَلَى الَّذِي صَنَعَ نَفَاسَةً عَلَى أَبِي بَكْرٍ وَلاَ إِنْكَارًا لِلَّذِي فَضَّلَهُ اللَّهُ بِهِ وَلَكِنَّا كُنَّا نَرَى لَنَا فِي الأَمْرِ نَصِيبًا فَاسْتُبِدَّ عَلَيْنَا بِهِ فَوَجَدْنَا فِي أَنْفُسِنَا فَسُرَّ بِذَلِكَ الْمُسْلِمُونَ وَقَالُوا أَصَبْتَ . فَكَانَ الْمُسْلِمُونَ إِلَى عَلِيٍّ قَرِيبًا حِينَ رَاجَعَ الأَمْرَ الْمَعْرُوفَ .
৪৪২৯। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও আবদ ইবনু হুমাইদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা এবং আব্বাস (রাঃ) উভয়েই আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট আগমন করলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুত্রে তাদের প্রাপ্য মীরাসের দাবী নিয়ে। তারা তখন ফাদাকের ভূমি এবং খায়বারের অংশের দাবী জানালেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) উভয়কে বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি ...... এরপর যুহরী (রহঃ) থেকে উকায়ল কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের মর্মার্থের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন।
কিন্তু তিনি এতে বর্ণনা করলেন যে, এরপর আলী (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং আবূ বকর (রাঃ) এর বিশেষ অধিকার ও বিশাল মর্যাদা বর্ননা করলেন এবং তার ইসলাম গ্রহণের প্রবনতার কথা বললেন। এরপর তিনি আবূ বকর (রাঃ) এর কাছে গেলেন এবং তার কাছে বায়আত গ্রহণ করলেন। তারপর জনগণ আলী-এর নিকট এসে বললেন, আপনি ঠিকই করেছেন, আপনি সুন্দর করেছেন। যখন আলী (রাঃ) সঙ্গত বিষয়টার নিকটবর্তী হলেন, তখন লোকজনও তার সংস্পর্শে আসতে লাগলো।
হাদিস নং ৪৪৩০সহিহ
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَأَلَتْ أَبَا بَكْرٍ بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَقْسِمَ لَهَا مِيرَاثَهَا مِمَّا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ . فَقَالَ لَهَا أَبُو بَكْرٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " . قَالَ وَعَاشَتْ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِتَّةَ أَشْهُرٍ وَكَانَتْ فَاطِمَةُ تَسْأَلُ أَبَا بَكْرٍ نَصِيبَهَا مِمَّا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ خَيْبَرَ وَفَدَكٍ وَصَدَقَتِهِ بِالْمَدِينَةِ فَأَبَى أَبُو بَكْرٍ عَلَيْهَا ذَلِكَ وَقَالَ لَسْتُ تَارِكًا شَيْئًا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْمَلُ بِهِ إِلاَّ عَمِلْتُ بِهِ إِنِّي أَخْشَى إِنْ تَرَكْتُ شَيْئًا مِنْ أَمْرِهِ أَنْ أَزِيغَ فَأَمَّا صَدَقَتُهُ بِالْمَدِينَةِ فَدَفَعَهَا عُمَرُ إِلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ فَغَلَبَهُ عَلَيْهَا عَلِيٌّ وَأَمَّا خَيْبَرُ وَفَدَكُ فَأَمْسَكَهُمَا عُمَرُ وَقَالَ هُمَا صَدَقَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتَا لِحُقُوقِهِ الَّتِي تَعْرُوهُ وَنَوَائِبِهِ وَأَمْرُهُمَا إِلَى مَنْ وَلِيَ الأَمْرَ قَالَ فَهُمَا عَلَى ذَلِكَ إِلَى الْيَوْمِ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৪৩০। ইবনু নুমায়র, যুহায়র ইরন হারব ও হাসান ইবনু আলী হুলওয়ানী (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের পর আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিত্যক্ত সম্পতির যা আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন নিজের প্রাপ্য অংশ দাবী করেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) তাকে বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমদের (নবীগণ) মীরাসে ওয়ারিস হয় না। আমরা যা রেখে যাই তা হরে সাদাকা। আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের পর ফাতিমা (রাঃ) ছয়মাস জীবিত ছিলেন। ফতিমা (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট তার সেই প্রাপ্য অংশ চেয়েছিলেন যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার, ফিদাক এবং মদিনার (সাদাকা) দান থেকে রেখে গিয়েছিলেন।
আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে তা প্রদান করতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন, আমি এমন কাজ পরিত্যাগ করব না যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। আমি ভয় করি যে, যদি তার কোন কাজ পরিত্যাগ করি, তবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবো। তবে মদিনার (সাদাকার) দানে মাল উমার (রাঃ) তাঁর সময়ে আলী এবং আব্বাসকে প্রদান করেছিলেন। কিন্তু আলী (রাঃ) একাকীই সে প্রভাবশালী হয়ে পড়েন। আর খায়বার এবং ফাদাকের সম্পদ উমর (রাঃ) নিজের দায়িত্বে রাখলেন এবং বললেন, এ ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রয়োজন মেটানোর জন্য এবং অন্যান্য গুরত্বপূর্ণ কাজে ব্যয়ের জন্য। এ দু’টো সম্পদের দায়িত্ব থাকে মুসলিমদের আমীরের উপর। বর্ণনাকারী বলেন, এই উভয় সম্পদের বণ্টন ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত তদ্রুপই আছে।
৪৪৩১। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরিত্যক্ত সম্পদের এক দিনারও বন্টিত হবে না। আমি যা রেখে যাই তা থেকে আমার স্ত্রীগণের ব্যয় নির্বাহ এবং রাষ্ট্রীয় পরিচালকের বেতন ভাতার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা হবে সাদাকা বা দান।
৪৪৩২। মুহাম্মদ ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ... আবুয যিনাদ (রহঃ) থেকে এই সনদে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ননা করেন।
হাদিস নং ৪৪৩৩সহিহ
وَحَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ عَدِيٍّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৪৩৩। ইবনু আবূ খালফ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমরা উত্তরাধিকারী রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হবে সাদাকা বা দান।
১৭. উপস্থিত মুজাহিদের মাঝে গনীমতের (যুদ্ধলব্ধ সম্পদের) বণ্টন পদ্ধতি
৪৪৩৪। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (গনীমতের যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মধ্যে) ঘোড়ার (অশ্বারোহী সৈনিকের) জন্য দু’অংশ এবং পদাতিক সৈনিকের জন্য এক অংশ বণ্টন করেন।
১৯. যুদ্ধবন্দীকে বেঁধে রাখা, আটক রাখা এবং অনুগ্রহ প্রদর্শন করে মুক্তিপন ব্যতীত ছেড়ে দেয়া বৈধ
হাদিস নং ৪৪৩৭সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْلاً قِبَلَ نَجْدٍ فَجَاءَتْ بِرَجُلٍ مِنْ بَنِي حَنِيفَةَ يُقَالُ لَهُ ثُمَامَةُ بْنُ أُثَالٍ سَيِّدُ أَهْلِ الْيَمَامَةِ . فَرَبَطُوهُ بِسَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ فَخَرَجَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَاذَا عِنْدَكَ يَا ثُمَامَةُ " . فَقَالَ عِنْدِي يَا مُحَمَّدُ خَيْرٌ إِنْ تَقْتُلْ تَقْتُلْ ذَا دَمٍ وَإِنْ تُنْعِمْ تُنْعِمْ عَلَى شَاكِرٍ وَإِنْ كُنْتَ تُرِيدُ الْمَالَ فَسَلْ تُعْطَ مِنْهُ مَا شِئْتَ . فَتَرَكَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى كَانَ بَعْدَ الْغَدِ فَقَالَ " مَا عِنْدَكَ يَا ثُمَامَةُ " . قَالَ مَا قُلْتُ لَكَ إِنْ تُنْعِمْ تُنْعِمْ عَلَى شَاكِرٍ وَإِنْ تَقْتُلْ تَقْتُلْ ذَا دَمٍ وَإِنْ كُنْتَ تُرِيدُ الْمَالَ فَسَلْ تُعْطَ مِنْهُ مَا شِئْتَ . فَتَرَكَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى كَانَ مِنَ الْغَدِ فَقَالَ " مَاذَا عِنْدَكَ يَا ثُمَامَةُ " . فَقَالَ عِنْدِي مَا قُلْتُ لَكَ إِنْ تُنْعِمْ تُنْعِمْ عَلَى شَاكِرٍ وَإِنْ تَقْتُلْ تَقْتُلْ ذَا دَمٍ وَإِنْ كُنْتَ تُرِيدُ الْمَالَ فَسَلْ تُعْطَ مِنْهُ مَا شِئْتَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَطْلِقُوا ثُمَامَةَ " . فَانْطَلَقَ إِلَى نَخْلٍ قَرِيبٍ مِنَ الْمَسْجِدِ فَاغْتَسَلَ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ . يَا مُحَمَّدُ وَاللَّهِ مَا كَانَ عَلَى الأَرْضِ وَجْهٌ أَبْغَضَ إِلَىَّ مِنْ وَجْهِكَ فَقَدْ أَصْبَحَ وَجْهُكَ أَحَبَّ الْوُجُوهِ كُلِّهَا إِلَىَّ وَاللَّهِ مَا كَانَ مِنْ دِينٍ أَبْغَضَ إِلَىَّ مِنْ دِينِكَ فَأَصْبَحَ دِينُكَ أَحَبَّ الدِّينِ كُلِّهِ إِلَىَّ وَاللَّهِ مَا كَانَ مِنْ بَلَدٍ أَبْغَضَ إِلَىَّ مِنْ بَلَدِكَ فَأَصْبَحَ بَلَدُكَ أَحَبَّ الْبِلاَدِ كُلِّهَا إِلَىَّ وَإِنَّ خَيْلَكَ أَخَذَتْنِي وَأَنَا أُرِيدُ الْعُمْرَةَ فَمَاذَا تَرَى فَبَشَّرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَهُ أَنْ يَعْتَمِرَ فَلَمَّا قَدِمَ مَكَّةَ قَالَ لَهُ قَائِلٌ أَصَبَوْتَ فَقَالَ لاَ وَلَكِنِّي أَسْلَمْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ وَاللَّهِ لاَ يَأْتِيكُمْ مِنَ الْيَمَامَةِ حَبَّةُ حِنْطَةٍ حَتَّى يَأْذَنَ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৪৩৭। কুতায়রা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক অশ্বারোহী সৈান্যকে ’নাজদ’ এর দিকে প্রেরণ করেন। অতঃপর বনূ হানীফা গোত্রের এক ব্যক্তিকে তারা ধরে নিয়ে এল। তার নাম ছিল ছুমামা ইবনু উছাল। তিনি ইয়ামামাবাসীদের নেতা ছিলেন। তাঁরা মসজিদের একটি ঘরে সাথে তাকে বেঁধে রাখলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এলেন এবং বললেন, হে ছুমামা! তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে? সে উত্তর দিল আমার কাছে তো ভালই মনে হচ্ছে। আপনি যদি (আমাকে) হত্যা করেন, তবে এক (মূল্যবান) রক্ত ধারাকেই হত্যা করবেন। আর যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তবে আপনার অনুগ্রহ হবে কৃতজ্ঞ ব্যক্তির উপর। আর যদি আপনি সম্পদ চান, তবে আপনাকে তাই দেওয়া হবে, যা আপনি চাইবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পরের দিন পর্যন্ত সময় দিলেন।
তারপর পরের দিনও তিনি বললেন, হে ছুমামা! তোমার নিকট কি আছে? (কি ভাবছ?) তিনি বললেন, আমার নিকট তাই আছে যা আপনার কাছে বলে দিয়েছি। যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তবে আপনার অনুগ্রহ হবে এক-কৃতজ্ঞ ব্যক্তির উপর। আর যদি আমাকে হত্যা করেন, তবে আপনি একজন সম্মানি ব্যাক্তিকেই হত্যা করবেন। আর যদি সম্পদ চান, তবে বলুন যা চাইবেন তা-ই আপনাকে দেয়া হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পরের দিন পর্যন্ত সময় দিলেন।
(পরের দিন) আবারতিনি বললেনঃ হে ছুমামা! তোমার নিকট কি আছে? তিনি বললেন, আমার নিকট তাই আছে যা আমি আপনাকে ইতিপূর্বে বলেছি। যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তবে আপনি অনুগ্রহ করবেন একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির উপর। আর যদি আপনি আমাকে হত্যা করেন, তবে হত্যার উপযৃক্ত ব্যক্তিকেই হত্যা করবেন। আর যদি আপনি সস্পদ চান, তবে বলুন তাই দেওয়া হবে যা আপনি চাইবেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা ছুমামাকে ছেড়ে দাও। তারপর তিনি মসজিদের নিকটবর্তী একটি খেজুর বাগানে গমন করলেন। সেখানে তিনি গোসল করলেন। এরপর মসজিদে প্রবেশ করে বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও তার রাসূল। হে মুহাম্মাদ! আল্লাহর শপথ! পৃথিবীতে আপনার চেহারার চাইতে অধিক অপছন্দনীয় (ঘৃণ্য) চেহারা আমার নিকট আর ছিলনা। আর এখন সকল মানুষের চেহারা থেকে আপনার চেহারাই আমার নিকট অধিক প্রিয়।
আল্লাহর শপথ! আপনার ধর্ম থেকে অধিক ঘৃণ্য ধর্ম আমার কাছে আর ছিলনা। আর এখন আপনার ধর্মই আমার নিকট সকল ধর্ম থেকে অধিক প্রিয়। আল্লাহর কসম! আপনার জনপদ থেকে অধিক অসহনীয় জনপদ আমার কাছে ছিল না। আর এখন আপনার জনপদই আমার নিকট সকল জনপদের চাইতে অধিক প্রিয়।
আপনার অশ্বারোহী সৈনিকেরা আমাকে ধরে নিয়ে এসেছো অথচ আমি তখন উমরা করার মনস্থ করেছিলাম। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? এরপর, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সুসংবাদ দিলেন এবং উমরা করার নির্দেশ দিলেন। যখন তিনি মক্কায় আগমন করলেন, তখন জনৈক ব্যক্তি তাকে বললো, তুমি কি ধর্মান্তরিত হয়েছ? তখন তিনি বললেন, না। বরং আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করেছি। আল্লাহর কসম! ইয়ামামা থেকে একটি গমের দানাও তোমাদের কাছে পৌছবে না, যতক্ষন না রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে সম্মতি দেন।
৪৪৩৮। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল অশ্বারোহী সৈনিক প্রেরণ করলেন ’নাজদ’ প্রদেশের দিকে। তারা এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে এল, যার নাম ছিল ছিল ছুমামা ইবনু উছাল হানাফী। তিনি ছিলেন ইয়ামামাবাসীদের নেতা। এরপর তিনি লাইস (রহঃ) এর অনুরূপ বর্ণনা করেন। বিন্তু তিনি বলেছেন,إِنْ تَقْتُلْنِي تَقْتُلْ ذَا دَمٍ (যদি আপনি আমাকে হত্যা করেন, তবে খুনের উপযুক্ত ব্যক্তিকেই হত্যা করবেন )।
২০. ইয়াহুদীদের হিযায অঞ্চল থেকে বহিস্কার করা
হাদিস নং ৪৪৩৯সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ بَيْنَا نَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ إِذْ خَرَجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " انْطَلِقُوا إِلَى يَهُودَ " . فَخَرَجْنَا مَعَهُ حَتَّى جِئْنَاهُمْ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَادَاهُمْ فَقَالَ " يَا مَعْشَرَ يَهُودَ أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا " . فَقَالُوا قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ . فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ذَلِكَ أُرِيدُ أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا " . فَقَالُوا قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ . فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ذَلِكَ أُرِيدُ " . فَقَالَ لَهُمُ الثَّالِثَةَ فَقَالَ " اعْلَمُوا أَنَّمَا الأَرْضُ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ وَأَنِّي أُرِيدُ أَنْ أُجْلِيَكُمْ مِنْ هَذِهِ الأَرْضِ فَمَنْ وَجَدَ مِنْكُمْ بِمَالِهِ شَيْئًا فَلْيَبِعْهُ وَإِلاَّ فَاعْلَمُوا أَنَّ الأَرْضَ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৪৩৯। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মসজিদে বসা ছিলাম। হঠাৎ আমাদের দিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে এলেন। তারপর তিনি বললেনঃ তোমরা ইয়াহুদীদের (বসতির) দিকে চল। সুতরাং আমরা তার সঙ্গে বের হলাম। পরিশেষে তাদের কাছে এলাম। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দণ্ডায়মান হলেন এবং তাদেরকে (ধর্মের দিকে) আহবান করে বললেন, হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর, তাহলে শান্তিতে থাকতে পারবে। তখন তারা বলল, হে আবূল কাসেম! নিশ্চয়ই আপনি (আল্লাহর নির্দেশ) প্রচার করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ আমি একথাই শুনতে চেয়েছি।
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর, তাহলে শান্তিতে থাকতে পারবে। তখন তারা বলল, হে আবূল কাসেম! নিশ্চই আপনি প্রচার করেছেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তাই চেয়েছিলাম। এরপর তৃতীয়বার তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা জেনে রেখো! নিশ্চয়ই পৃথিবী আল্লাহ ও তার রাসূলের। আর আমার ইচ্ছা যে, তোমাদেরকে আমি এই ভূখণ্ড থেকে বহিস্কার (নির্বাসিত) করবো। অতএব, তোমাদের মধ্য হতে কেউ তার মালের বিনিময়ে কিছু পেতে পারে তবে সে যেন তা বিক্রি করে দেয়। নতুবা জেনে রেখো যে, সমগ্র ভূ-মণ্ডল আল্লাহ ও তার রাসুলের।
হাদিস নং ৪৪৪০সহিহ
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ ابْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ، إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّالله عليه وسلم فَأَجْلَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَنِي النَّضِيرِ وَأَقَرَّ قُرَيْظَةَ وَمَنَّ عَلَيْهِمْ حَتَّى حَارَبَتْ قُرَيْظَةُ بَعْدَ ذَلِكَ فَقَتَلَ رِجَالَهُمْ وَقَسَمَ نِسَاءَهُمْ وَأَوْلاَدَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ إِلاَّ أَنَّ بَعْضَهُمْ لَحِقُوا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَآمَنَهُمْ وَأَسْلَمُوا وَأَجْلَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَهُودَ الْمَدِينَةِ كُلَّهُمْ بَنِي قَيْنُقَاعَ - وَهُمْ قَوْمُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ - وَيَهُودَ بَنِي حَارِثَةَ وَكُلَّ يَهُودِيٍّ كَانَ بِالْمَدِينَةِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৪৪০। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, বনূ নাযীর এবং বনূ কুরায়যা গোত্রদ্বয়ের ইয়াহুদীরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ নাযীরকে দেশান্তর করেন এবং বনূ কুরায়যাকে সেখানে থাকার অনুমতি দিলেন এবং তিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করলেন। পরিশেষে বনূ কুরায়যাও যুদ্ধ করল। ফলে তিনি তাদের পুরুষদেরকে হত্যা করলেন এবং তাদের নারী, শিশু ও সম্পদ সমগ্র মুসলিমদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন। কিন্তু তাদের কিছু সংখ্যক লোক যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মিলিত হয়েছিল তাদেরকে তিনি-নিরাপত্তা প্রদান করেন। তখন তারা মুসলিম হয়ে গিয়েছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার সকল ইয়াহুদীকে দেশান্তর করেন। বনূ কায়নূকা গোত্রের ইয়াহুদী (আবদুল্লাহ ইবনু সালামের গোত্র), বনূ হারিছার ইয়াহুদী এবং মদিনায় বসবাসরত সকল হয় ইহুদীকেই (দেশ থেকে বহিষ্কার করেন।)
৪৪৪২। যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমার কাছে উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, নিশ্চয়ই আমি ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টান সম্প্রদায়কে আরব উপ-দ্বীপ থেকে বহিস্কার করবো। পরিশেষে মুসলিম ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে থাকতে দেবো না।
৪৪৪৩। যুহায়র ইবনু হারব ও সালামা ইবনু শাবীব (রহঃ) ... আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
২২. যারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে তাদের হত্যা করা বৈধ হওয়া এবং দুর্গের অধিবাসীদের কোন ন্যায়পরায়ণ বিচারিক যোগ্যতা সম্পন্ন বিচারকের ফায়সালার উপরে আত্মসমর্পণ বৈধ
৪৪৪৪। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, বনূ কুরায়যার অবরুদ্ধ লোকেরা সা’দ ইবনু মুয়ায (রাঃ) এর ফয়সালা মেনে নিতে সম্মত হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ (রাঃ) এর নিকট লোক পাঠালেন। তিনি একটি গাধার উপর আরোহণ করে আগমন করলেন। যখন তিনি মসজিদের নিকটবর্তী হলেন তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারীদেরকে বললেনঃ তোমরা-তোমাদের নেতাকে অথবা বললেন, উত্তম ব্যক্তিকে সম্বর্ধনা প্রদান করে নিয়ে এসো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরা (সব অবরুদ্ধ দুর্গবাসীরা) তোমার ফয়সালায় আত্মসমর্পণ করতে সম্মত হয়েছে। তখন তিনি বললেন, তাদের মধ্যকার যুদ্ধের উপযুক্ত (যুবক) লোকদেরকে হত্যা করা হোক এবং তাদের নারী ও শিশুদেরকে বন্দী করা হোক। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছেো।
বর্ণনাকারী ইবনু মুসান্না (রহঃ) কোন কোন সময় বলেছেনঃ তেমি বাদশাহর (আল্লাহর) হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছ। তিনিوَرُبَّمَا قَالَ কথাটি উল্লেখ করেননি।
হাদিস নং ৪৪৪৫সহিহ
وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ فِي حَدِيثِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ حَكَمْتَ فِيهِمْ بِحُكْمِ اللَّهِ " . وَقَالَ مَرَّةً " لَقَدْ حَكَمْتَ بِحُكْمِ الْمَلِكِ " .
বর্ণনাকারী: শু'বা (রহঃ)
৪৪৪৫। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... শুবা (রহঃ) এর থেকে এ সুত্রে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি এ কথাটুকু তাঁর হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, “রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছে”। আর একবার বলেছেন, "তুমি বাদশাহর (আল্লাহর) হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছ।"
হাদিস নং ৪৪৪৬সহিহ
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ نُمَيْرٍ، قَالَ ابْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أُصِيبَ سَعْدٌ يَوْمَ الْخَنْدَقِ رَمَاهُ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ يُقَالُ لَهُ ابْنُ الْعَرِقَةِ . رَمَاهُ فِي الأَكْحَلِ فَضَرَبَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْمَةً فِي الْمَسْجِدِ يَعُودُهُ مِنْ قَرِيبٍ فَلَمَّا رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْخَنْدَقِ وَضَعَ السِّلاَحَ فَاغْتَسَلَ فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ وَهُوَ يَنْفُضُ رَأْسَهُ مِنَ الْغُبَارِ فَقَالَ وَضَعْتَ السِّلاَحَ وَاللَّهِ مَا وَضَعْنَاهُ اخْرُجْ إِلَيْهِمْ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَأَيْنَ " . فَأَشَارَ إِلَى بَنِي قُرَيْظَةَ فَقَاتَلَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَزَلُوا عَلَى حُكْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْحُكْمَ فِيهِمْ إِلَى سَعْدٍ قَالَ فَإِنِّي أَحْكُمُ فِيهِمْ أَنْ تُقْتَلَ الْمُقَاتِلَةُ وَأَنْ تُسْبَى الذُّرِّيَّةُ وَالنِّسَاءُ وَتُقْسَمَ أَمْوَالُهُمْ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৪৪৬। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবনু আলা হামদানী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন সা’দ (রাঃ) আঘাতপ্রাপ্ত হন। কুরাইশের ইবনুল আরিকা নামক এক ব্যক্তি তাঁর (হাতের প্রধান) শিরায় তীর নিক্ষেপ করেছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ (রাঃ) এর জন্যে মসজিদে একটি তাবু স্থাপন করে দিলেন, যেন নিকট থেকে তাকে দেখাশোনা করা যায়। যখন তিনি (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খন্দকের যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন তখন অস্ত্র রেখে সবেমাত্র গোসলের কাজ সমাপ্ত করলেন। এমন সময় জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তার মাথা থেকে ধূলিবালি ঝড়তে ঝাড়তে আগমন করলেন।
এরপর বললেন, আপনি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন? আল্লাহর শপথ! আমরা তো অস্ত্র রাখিনি। তাদের দিকে গমন করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন দিকে? তখন তিনি বনূ কুরাইযার দিকে ইঙ্গিত করলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে যুদ্ধ করলেন। তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফয়সালা মেনে নেয়ার শর্তে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব করলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিচারের ভার (তাদের নেতা) সা’দ (রাঃ) এর প্রতি প্রত্যর্পণ করলেন। সা’দ (রাঃ) বললেন, আমি ফয়সালা দিচ্ছি যে, তাদের মধ্যে যুদ্ধের উপযুক্ত (যুবক) লোকদেরকে হত্যা করা হবে, নারী ও শিশুদেরকে বন্দী করা হবে এবং তাদের সম্পদ সমূহ বণ্টন করা হবে।
হাদিস নং ৪৪৪৭সহিহ
وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ قَالَ أَبِي فَأُخْبِرْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَقَدْ حَكَمْتَ فِيهِمْ بِحُكْمِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .
বর্ণনাকারী: হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ)
৪৪৪৭। আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... হিশাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেন, আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তুমি তাদের ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সালা অনুযায়ী বিচার করেছ।
৪৪৪৮। আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সা’দ (রাঃ) বলেছেন, তঁরে আঘাত শুকিয়ে যাচ্ছিল (এবং তিনি ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেন)। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আপনি জানেন, আমার নিকট আপনার রাসুলকে যে সম্প্রদায় অস্বীকার করেছে, তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে তাদের বিরুদ্ধে আপনার পথে যুদ্ধ করার চাইতে অধিক পছন্দনীয় বিষয় আর নেই। হে আল্লাহ! যদি কুরাইশদের সাথে যুদ্ধ করা এখনও বাকী থাকে তবে আপনি আমাকে জীবিত রাখুন, যেন আমি আপনার পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারি। হে আল্লাহ! আমি মনে করি যে, আমাদের এবং তাদের মধ্যে আপনি যুদ্ধ রহিত করেছেন। যদি তাই হয়, তবে আপনি আমার এই ক্ষতস্থান প্রবাহিত করে দিন এবং এতেই আমাকে মৃত্যু (শাহাদত) নসীব করুন। তখন তার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। মসজিদে বনু গিফারের একটি তাবু ছিল। তাদের দিকে রক্ত প্রবাহের কারণে তারা ঘাবড়িয়ে গেল। তখন তারা বলল, হে তাবুবাসী! তোমাদের দিক থেকে এ কি আসছে? দেখা গেল যে, সা’দ (রাঃ) এর ক্ষতস্থান থেকে তখন প্রবল ধারায় রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল এবং এতেই তিনি ইন্তেকাল করেন।
৪৪৪৯। আলী ইবনু হাসান ইবনু সুলায়মান কুফী ... হিশাম (রহঃ) থেকে একই সুত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি এইটুকু ব্যতিক্রম বলেছেন যে, “সেই রাত থেকেই রক্ত প্রবাহিত হতে লাগলো এভাবে অনবরতঃ রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল। অবশেষে তিনি মারা যান। তিনি তার হাদীসে অরো কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। এ সম্পকে (সা’দ (রাঃ) কে ভৎসনা করে) একজন কাবি বলেনঃ
হে সা’দ ইবনু মুয়ায! বনূ কুরায়যা
এবং বনূ নাযীর এর খবর কি? তোমার জীবনের শপথ! সা’দ
ইবনু মুয়াযকে যে প্রভাতে বহন করে আনা হয়েছিল, তিনি
অবশ্যই অতি সহনশীল (হওয়ার পরিচয় দিয়েছেন)। (হে আউস সম্প্রদায়)
তোমরা তোমাদের ডেগগুলো (অর্থাৎ তোমাদের মিত্রদের) খালি রেখে দিয়েছ,
তাতে আজ কোন কিছু নেই। (অর্থাৎ তোমাদের মিত্ররা তোমাদের দ্বারা
কোন সহায়তা লাভ করেনি) হয়েছে। অথচ তোমাদের বিপক্ষের (খাজরাজ সম্প্রদায়ের)
ডেগগুলো গরম তা টগবগ করছে (অর্থাৎ তারা তাদের মিত্ররদের উপকার করেছে)
সভ্রান্ত আবূ হুবাব (আবদুল্লাহ ইবন উবাই) বলেছিলেন, তোমরা হে
বনূ কায়নূকা গোত্র! অবস্হান কতে চলে যেও না।
আর তারা তাদের শহরে ভারী পাথর।
যে রূপে শয়তানে (পাহাড়ে) পাথরগুলো ভারী হয়েছে।
২৩. যুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক অগ্রগামিতা এবং দু'টি বিরোধপূর্ণ কাজের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণটিকে অগ্রাধিকার দেয়া
হাদিস নং ৪৪৫০সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ الضُّبَعِيُّ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نَادَى فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ انْصَرَفَ عَنِ الأَحْزَابِ " أَنْ لاَ يُصَلِّيَنَّ أَحَدٌ الظُّهْرَ إِلاَّ فِي بَنِي قُرَيْظَةَ " . فَتَخَوَّفَ نَاسٌ فَوْتَ الْوَقْتِ فَصَلُّوا دُونَ بَنِي قُرَيْظَةَ . وَقَالَ آخَرُونَ لاَ نُصَلِّي إِلاَّ حَيْثُ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنْ فَاتَنَا الْوَقْتُ قَالَ فَمَا عَنَّفَ وَاحِدًا مِنَ الْفَرِيقَيْنِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৪৫০। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসমা যুবাঈ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহযাবের (খন্দকের) যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন তিনি আমাদের মাঝে ঘোষনা দিলেন যে, যতক্ষন না বনী কুরায়যার মহল্লায় গিয়ে পৌছবে কেউ যেন যুহরের সালাত আদায় না করে। তখন কিছু সংখ্যক লোক যুহরের সালাতের সময় চলে যাওয়ার ভয় করলেন। এবং তারা বনূ কুরায়যা গোত্রে পৌছার পর সালাত আদায় করলেন। আর অন্যরা বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যে স্থানে সালাত আদায় করতে- বলেছেন সে স্থান ব্যতীত আমরা সালাত আদায় করব না, যদিও সময় চলে যায়। রাবী বলেন, এ ঘটনা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’দলের কারো প্রতি রুঢ় কথা বলেন নি।
২৪. মুহাজিরগণ বিজয় সম্পদ দ্বারা অভাবমুক্ত হওয়ায় আনসারদের দেয়া গাছপালা ও ফলের বাগানসমূহ তাদেরকে ফেরত প্রদান
হাদিস নং ৪৪৫১সহিহ
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ الْمُهَاجِرُونَ مِنْ مَكَّةَ الْمَدِينَةَ قَدِمُوا وَلَيْسَ بِأَيْدِيهِمْ شَىْءٌ وَكَانَ الأَنْصَارُ أَهْلَ الأَرْضِ وَالْعَقَارِ فَقَاسَمَهُمُ الأَنْصَارُ عَلَى أَنْ أَعْطَوْهُمْ أَنْصَافَ ثِمَارِ أَمْوَالِهِمْ كُلَّ عَامٍ وَيَكْفُونَهُمُ الْعَمَلَ وَالْمَئُونَةَ وَكَانَتْ أُمُّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَهْىَ تُدْعَى أُمَّ سُلَيْمٍ - وَكَانَتْ أُمَّ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ كَانَ أَخًا لأَنَسٍ لأُمِّهِ - وَكَانَتْ أَعْطَتْ أُمُّ أَنَسٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِذَاقًا لَهَا فَأَعْطَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُمَّ أَيْمَنَ مَوْلاَتَهُ أُمَّ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا فَرَغَ مِنْ قِتَالِ أَهْلِ خَيْبَرَ وَانْصَرَفَ إِلَى الْمَدِينَةِ رَدَّ الْمُهَاجِرُونَ إِلَى الأَنْصَارِ مَنَائِحَهُمُ الَّتِي كَانُوا مَنَحُوهُمْ مِنْ ثِمَارِهِمْ - قَالَ - فَرَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أُمِّي عِذَاقَهَا وَأَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُمَّ أَيْمَنَ مَكَانَهُنَّ مِنْ حَائِطِهِ . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَكَانَ مِنْ شَأْنِ أُمِّ أَيْمَنَ أُمِّ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّهَا كَانَتْ وَصِيفَةً لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَكَانَتْ مِنَ الْحَبَشَةِ فَلَمَّا وَلَدَتْ آمِنَةُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ مَا تُوُفِّيَ أَبُوهُ فَكَانَتْ أُمُّ أَيْمَنَ تَحْضُنُهُ حَتَّى كَبِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَعْتَقَهَا ثُمَّ أَنْكَحَهَا زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ ثُمَّ تُوُفِّيَتْ بَعْدَ مَا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِخَمْسَةِ أَشْهُرٍ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪৫১। আবূ তাহির ও হারামালা (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মুহাজিরগণ মক্কা থেকে মদিনায় আগমন করেন তখন তাদের হাতে কোন কিছুই ছিল না। (তারা ছিলেন তখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব) আর আনসারগণ ছিলেন জমা-জমির মালিক। তখন আনসারগণ মুহাজিরদেরকে তাদের (খেজুর বাগানের অর্ধেক) এই শর্তে বণ্টন করে দেন যে, প্রতি বছর বাগানে মুহাজিরগণ পরিশ্রম ও পরিচর্যা করে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তাদের দেবেন। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এর মাতা উম্মে সুলাইম, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবূ তালহার মাতা ছিলেন। আর আবদুল্লাহ ছিলেন আনাস (রাঃ) এর বৈপিত্রেয় ভাই। আনাসের মাতা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর খেজুর গাছ দান করেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহা দিলেন তার আযাদকৃত বাঁদি উম্মু আয়মানকে। যিনি উসামা ইবনু যায়েদের মাতা ছিলেন।
ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, আমাকে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) অবহিত করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বারের যুদ্ধ শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলেন তখন মুহাজিরগন আনসারদেরকে তাদের দানকৃত ফলের বাগানসমূহ প্রত্যার্পণ করে দেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও আমার মাতাকে তার দানকৃত বাগান ফেরত দেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু আয়মানকে তার পরিবর্তে নিজের বাগানের এক অংশ প্রদান করেন।
ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন যে, উম্মু আয়মান যিনি উসামা ইবনু যায়েদের মাতা ছিলেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল মুত্তালিবের দাসী ছিলেন। তিনি ছিলেন হাবশা (আবিসিনীয়) বংশোদ্ভূত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিতার ইন্তেকালের পর আমিনা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জন্ম দেন তখন উম্মু আয়মান তাঁকে বড় হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করেন। এরপর তিনি তাঁকে আযাদ করে দেন। পরবর্তীতে যায়েদ ইবনু হারিছার সঙ্গে তাঁকে বিয়ে দিয়ে দেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের পাঁচ মাস পর ইন্তেকাল করেন।
হাদিস নং ৪৪৫২সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَحَامِدُ بْنُ عُمَرَ الْبَكْرَاوِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، الْقَيْسِيُّ كُلُّهُمْ عَنِ الْمُعْتَمِرِ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ أَبِي شَيْبَةَ - حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلاً، - وَقَالَ حَامِدٌ وَابْنُ عَبْدِ الأَعْلَى أَنَّ الرَّجُلَ، - كَانَ يَجْعَلُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم النَّخَلاَتِ مِنْ أَرْضِهِ . حَتَّى فُتِحَتْ عَلَيْهِ قُرَيْظَةُ وَالنَّضِيرُ فَجَعَلَ بَعْدَ ذَلِكَ يَرُدُّ عَلَيْهِ مَا كَانَ أَعْطَاهُ . قَالَ أَنَسٌ وَإِنَّ أَهْلِي أَمَرُونِي أَنْ آتِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْأَلَهُ مَا كَانَ أَهْلُهُ أَعْطَوْهُ أَوْ بَعْضَهُ وَكَانَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَعْطَاهُ أُمَّ أَيْمَنَ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَعْطَانِيهِنَّ فَجَاءَتْ أُمُّ أَيْمَنَ فَجَعَلَتِ الثَّوْبَ فِي عُنُقِي وَقَالَتْ وَاللَّهِ لاَ نُعْطِيكَاهُنَّ وَقَدْ أَعْطَانِيهِنَّ . فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أُمَّ أَيْمَنَ اتْرُكِيهِ وَلَكِ كَذَا وَكَذَا " . وَتَقُولُ كَلاَّ وَالَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ . فَجَعَلَ يَقُولُ كَذَا حَتَّى أَعْطَاهَا عَشْرَةَ أَمْثَالِهِ أَوْ قَرِيبًا مِنْ عَشْرَةِ أَمْثَالِهِ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪৫২। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা, হামিদ ইবনু উমর আল বাকরারী ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ’লা কায়সী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করেন তখন) এক এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিজ নিজ ভূমির কিছু খেজুর দান করেছেন। যখন বনূ কুরায়যা এবং বনূ নাযীর গোত্রদ্বয়ের উপর তার বিজয় প্রতিষ্ঠিত হলে ঐসব গাছ, যা তারা তাকে প্রদান করেছিলেন তিনি তাদের প্রত্যর্পণ করতে লাগলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমার পরিবারের লোকজন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যা দিয়েছিলেন তা অথবা তার অংশ বিশেষ তাঁর নিকট হতে চেয়ে নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দিলেন। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু আয়মানকে তা দিয়ে দিয়েছিলেন।
এ অবস্হায় আমি তাঁর কাছে এসে যখন তা চাইলাম, তখন তিনি তা আমাকে দিয়ে দিলেন। এ সময় উম্মু আয়মান (রাঃ) সেখানে এলেন এবং আমার গলায় কাপড় দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন ও বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে তা দেবো না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উম্মু আয়মন! আপনি তাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনাকে এই এই সম্পদ প্রদান করছি। তখন তিনি বললেন, কখনো না। সেই আল্লাহর শপথ! যিনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। তখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, আপনাকে এই এই সম্পদ প্রদান করছি (আপনি তাকে ছেড়ে দিন)। পরিশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু আয়মনকে ঐ সম্পদের দশশুন কিংবা দশগুণের কাছাকাছি প্রদান করেন।
২৫. 'দারুল হারবে' (বিধর্মী শত্রু রাজ্য) প্রাপ্ত খাদ্য দ্রব্য গ্রহন (আহার) করা
৪৪৫৩। শায়বান ইবনু ফাররুখ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি খায়বার যুদ্ধের সময় চর্বিভর্তি একটি চামড়ার থলে পেলাম। আমি তা একান্তভাবে তুলে নিলাম এবং বললাম, এর থেকে আমি কাউকে কিছু দেবনা। তিনি বলেন, আমি হঠাৎ পিছন ফিরে দৃষ্টিপাত করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেলাম, (আমার কথা শুনে) তিনি মৃদু হাসছিলেন।
৪৪৫৪। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার আবদী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বারের যুদ্ধের সময় আমাদের দিকে কে যেন একটি থলে নিক্ষেপ করল, তাতে খাদ্য ও চর্বি ভর্তি ছিল। আমিতা তুলে নেওয়ার জন্য ঝাঁপিযে পড়লাম। হঠাৎ একদিকে তাকিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেলাম। আমি তাঁকে দেখে লজ্জিত হলাম।
৪৪৫৫। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... শু’বা (রহঃ) থেকে একই সুত্রে হাদীস বর্ননা করেছেন। কিন্তু তিনিجِرَابٌ مِنْ لحم (চর্বির থলে) কথাটি বলেন এবং لطَّعَام (খাদ্যের) কথা উল্লেখ করেননি।
২৬. বাদশাহ হিরাকল (হিরোক্লিয়াস) এর নিকট ইসলামের দাওয়াত প্রদান করে নবী (ﷺ) এর পত্র
৪৪৫৭। হাসান হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে এই একই সুত্রে উল্লিখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই হাদীসে অধিক বর্ণনা করেছেন, “যখন আল্লাহ তা’আলা রোম সম্রাট (কায়সার) দ্বারা পারস্যের সেনাদলকে পরাজিত করলেন, তখন তিনি এই বিজয়ের জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে ’হেমস’ থেকে ’ইলিয়া’ (বায়তুল মুকাদ্দাস) পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যান আর তিনি এই হাদীসে “এই পত্র মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে” এবং أارِيسِين শব্দের পরিবর্তে يَرِيسِيِّينَ শব্দ বলেছেন। আর তিনি دعاية الاسلام শব্দের পরিবর্তে داعية الاسلام ইসলাম’ বর্ণনা করেছেন।
২৭. মহামহিম আল্লাহর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিধর্মী শাসকদের নিকট নবী (ﷺ) এর পত্রাবলী
হাদিস নং ৪৪৫৮সহিহ
حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ حَمَّادٍ الْمَعْنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَتَبَ إِلَى كِسْرَى وَإِلَى قَيْصَرَ وَإِلَى النَّجَاشِيِّ وَإِلَى كُلِّ جَبَّارٍ يَدْعُوهُمْ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى وَلَيْسَ بِالنَّجَاشِيِّ الَّذِي صَلَّى عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪৫৮। ইউসুফ ইবনু হাম্মাদ মা’নী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসরা (পারস্যের সম্রাট), কায়সার (রোমের সম্রাট) ও নাজ্জাশী (আবিসিনিয়ার সম্রাট) এবং অন্যান্য প্রভাবশালী শাসকগণের নিকট পত্র লিখেন, যাতে তিনি তাদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেন। ইনি সে নাজ্জাশী নন, যার জানাযার সালাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদায় করেছিলেন।
হাদিস নং ৪৪৫৯সহিহ
وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرُّزِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ وَلَمْ يَقُلْ وَلَيْسَ بِالنَّجَاشِي الَّذِي صَلَّى عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪৫৯। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ রাযী (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ননা করেছেন। কিন্তু তিনি একথা বলেননি যে, "তিনি সেই নাজ্জাশী নন, যার জানাযার সালাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদায় করেছিলেন।"
হাদিস নং ৪৪৬০সহিহ
وَحَدَّثَنِيهِ نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، أَخْبَرَنِي أَبِي، حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، وَلَمْ يَذْكُرْ وَلَيْسَ بِالنَّجَاشِيِّ الَّذِي صَلَّى عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪৬০। নাসর ইবনু আলী জাহযামী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি একথা উল্লেখ করেননি যে, ”তিনি সেই নাজ্জাশী নন, যার জানাযার সালাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন।”
২৮. হুনায়নের যুদ্ধ
হাদিস নং ৪৪৬১সহিহ
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، قَالَ قَالَ عَبَّاسٌ شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ حُنَيْنٍ فَلَزِمْتُ أَنَا وَأَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ نُفَارِقْهُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى بَغْلَةٍ لَهُ بَيْضَاءَ أَهْدَاهَا لَهُ فَرْوَةُ بْنُ نُفَاثَةَ الْجُذَامِيُّ فَلَمَّا الْتَقَى الْمُسْلِمُونَ وَالْكُفَّارُ وَلَّى الْمُسْلِمُونَ مُدْبِرِينَ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْكُضُ بَغْلَتَهُ قِبَلَ الْكُفَّارِ قَالَ عَبَّاسٌ وَ أَنَا آخِذٌ بِلِجَامِ بَغْلَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكُفُّهَا إِرَادَةَ أَنْ لاَ تُسْرِعَ وَأَبُو سُفْيَانَ آخِذٌ بِرِكَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَىْ عَبَّاسُ نَادِ أَصْحَابَ السَّمُرَةِ " . فَقَالَ عَبَّاسٌ وَكَانَ رَجُلاً صَيِّتًا فَقُلْتُ بِأَعْلَى صَوْتِي أَيْنَ أَصْحَابُ السَّمُرَةِ قَالَ فَوَاللَّهِ لَكَأَنَّ عَطْفَتَهُمْ حِينَ سَمِعُوا صَوْتِي عَطْفَةُ الْبَقَرِ عَلَى أَوْلاَدِهَا . فَقَالُوا يَا لَبَّيْكَ يَا لَبَّيْكَ - قَالَ - فَاقْتَتَلُوا وَالْكُفَّارَ وَالدَّعْوَةُ فِي الأَنْصَارِ يَقُولُونَ يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ قَالَ ثُمَّ قُصِرَتِ الدَّعْوَةُ عَلَى بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ فَقَالُوا يَا بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ يَا بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ . فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى بَغْلَتِهِ كَالْمُتَطَاوِلِ عَلَيْهَا إِلَى قِتَالِهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا حِينَ حَمِيَ الْوَطِيسُ " . قَالَ ثُمَّ أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَصَيَاتٍ فَرَمَى بِهِنَّ وُجُوهَ الْكُفَّارِ ثُمَّ قَالَ " انْهَزَمُوا وَرَبِّ مُحَمَّدٍ " . قَالَ فَذَهَبْتُ أَنْظُرُ فَإِذَا الْقِتَالُ عَلَى هَيْئَتِهِ فِيمَا أَرَى - قَالَ - فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ رَمَاهُمْ بِحَصَيَاتِهِ فَمَا زِلْتُ أَرَى حَدَّهُمْ كَلِيلاً وَأَمْرَهُمْ مُدْبِرًا .
বর্ণনাকারী: আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ)
৪৪৬১। আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ... আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুনাইনের যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। আমি এবং আবূ সুফিয়ান ইবনু হারেস ইবনু আবদুল মুত্তালিব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একেবারে সঙ্গেই ছিলাম। আমরা কখনও তাঁর থেকে পৃথক হইনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সাদা বর্ণের খচ্চরের উপর আরোহণ করেছিলেন। সে খচ্চরটি ফারওয়া ইবনু নূফাসা হুযামী তাঁকে হাদিয়া স্বরূপ দিয়েছিলেন। (উহাকে দুলদুল নামে ডাকা হতো।) যখন মুসলিম এবং কাফির পরস্পর সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হল তখন মুসলিমগণ (যুদ্ধের এক পর্যায়ে) পাশ্চাৎ দিকে পলায়ন করতে লাগলেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পায়ের গোড়ালী দিয়ে নিজের খচ্চরকে আঘাত করে কাফিরদের দিকে ধাবিত করছিলেন।
আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি তার খচ্চরের লাগাম ধরে রেখে ছিলাম এবং একে থামিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম যেন দ্রুত গতিতে অগ্রসর হতে না পারে। আর আবূ সুফইয়ান (রাঃ) তাঁর খচ্চরের ’রেকাব’ (পাদানি) ধরে রেখেছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আব্বাস! আসহাবে সামুরাকে (হুদায়বিয়ার বাবলা গাছের তলায় বায়আতকারী দল) আহবান কর। আব্বাস (রাঃ) বলেন, আর তিনি ছিলেন উচ্চ কণ্ঠের অধিকারী ব্যক্তি। তখন আমি উচ্চস্বরে আওয়াজ দিয়ে বললাম, হে আসহাবে সামুরা! (তোমরা কোথায় যাচ্ছ?) তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তা শোনামাত্র তাঁরা এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করতে শুরু করলেন যেমনভাবে গাভী তার বাচ্চার আওয়াজ শুনে দ্রুত দৌড়ে আসে। এবং তারা বলতে লাগলো, আমরা আপনার নিকট হাযির, আমরা আপনার নিকট হাযির।
রাবী বলেন, এরপর তারা কাফিরদের সাথে পুনরায় যুদ্ধে লিপ্ত হন। তিনি আনসারদের প্রতি আহবান ছিল যে, হে আনসারগণ! রাবী বলেন, এরপর আহবান সমাপ্ত করা হল বনী হারেস ইবনু খাযরাযের মাধ্যমে (তাঁরা আহবান করলেন, হে বনী হারেস ইবনুল খাযরাজ।) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার খচ্চরের উপর আরোহণ অবস্থায় তার গর্দান উঁচু করে তাদের যুদ্ধের অবস্থা অবলোকন করেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটাই হল তন্দুর উত্তপ্ত হওয়ার সময় (যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ চরম মুহূর্ত।)
রাবী বলেন, এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কংকর হাতে নিলেন। এবং এগুলি তিনি কাফিরদের মুখের উপর ছুড়ে মারলেন। এরপর বললেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রবের কসম! তারা পরাজিত হয়েছে। আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধের অবস্থান পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখলাম যে, যথারীতি যুদ্ধ চলছে। এমন সময় তিনি কংকরগুলো নিক্ষেপ করলেন। আল্লাহর শপথ! তখন হঠাৎ দেখি যে, কাফিরদের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেল এবং তাদের যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেল।
৪৪৬২। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনু রাফে ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) থেকে একই সুত্রে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি ফারওয়া ইবনু ’নুআছা’ স্থলে নু’আমা জুযামী কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, তারা পরাজিত হয়েছে, কাবার রবের কসম! তারা পরাজিত হয়েছে কাবার রবের কঁসম”
তিনি তাঁর হাদীসে একথাটিও অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, “অবশেষে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে পরাজিত করলেন”। রাবী বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাদের পিছন থেকে দেখলাম যে, তিনি তার খচ্চরের উপর থেকে নিজ পায়ের গোড়ালী দিয়ে একে আঘাত করে তাদের পিছনে ধাবিত করছিলেন।
৪৪৬৩। ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ... আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুনাইনের যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে ছিলাম ...... এরপর তিনি উল্লিখিত হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে ইউনূস এবং মা’মার (রাঃ) বর্ণিত হাদীস বর্ণনার দিক দিয়ে অধিক বিস্তারিত এবং পরিপূর্ন।
হাদিস নং ৪৪৬৪সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِلْبَرَاءِ يَا أَبَا عُمَارَةَ أَفَرَرْتُمْ يَوْمَ حُنَيْنٍ قَالَ لاَ وَاللَّهِ مَا وَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَكِنَّهُ خَرَجَ شُبَّانُ أَصْحَابِهِ وَأَخِفَّاؤُهُمْ حُسَّرًا لَيْسَ عَلَيْهِمْ سِلاَحٌ أَوْ كَثِيرُ سِلاَحٍ فَلَقُوا قَوْمًا رُمَاةً لاَ يَكَادُ يَسْقُطُ لَهُمْ سَهْمٌ جَمْعَ هَوَازِنَ وَبَنِي نَصْرٍ فَرَشَقُوهُمْ رَشْقًا مَا يَكَادُونَ يُخْطِئُونَ فَأَقْبَلُوا هُنَاكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى بَغْلَتِهِ الْبَيْضَاءِ وَأَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ يَقُودُ بِهِ فَنَزَلَ فَاسْتَنْصَرَ وَقَالَ " أَنَا النَّبِيُّ لاَ كَذِبْ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ " . ثُمَّ صَفَّهُمْ .
বর্ণনাকারী: আবূ ইসহাক (রহঃ)
৪৪৬৪। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি বারা (রাঃ) কে বললেন, হে আবূ উমারা! আপনারা কি হুনাইনের যুদ্ধে পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন, না। আল্লাহর কসম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পলায়ন করেননি। বরং তাঁর সাহাবীদের মধ্যে একটি কম বয়সের অনভিজ্ঞ দল, যাদের কোন অস্ত্র কিংবা উল্লেখযোগ্য কোন ধরনের কোন হাতিযারও ছিলনা, (তাঁরা সরে পড়েন)। তাঁরা এমন একদল তীরান্দাযের মোকাবিলা করছিলেন, যাদের তীরের লক্ষ্য ব্যর্থ হত না। তারা ছিল হাওয়াযিন ও নযর গোত্রের লোক।
তারা এমনভাবে প্রবল ধারায় তীর ছুড়ছিল যে, তারা লক্ষ্যস্থলে আঘাত করতে ব্যর্থ হচ্ছিল না। তখন তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে এগিয়ে এলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সময় তার সাদা রঙের খচ্চরের উপর ছিলেন। আর আবূ সুফিয়ান ইবনু হারেস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) একে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি অবতরণ করলেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলেন। রাবী বলেন, যেন তিনি বলেছিলেনঃ আমি অবশ্যই নবী, একথা মিথ্যা নয়। আমি আবদুল মুত্তালিবএ পুত্র (বংশধর)। তারপর তিনি তার সেনাদলকে সারিবদ্ধ করলেন।
হাদিস নং ৪৪৬৫সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَنَابٍ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ أَبِي، إِسْحَاقَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى الْبَرَاءِ فَقَالَ أَكُنْتُمْ وَلَّيْتُمْ يَوْمَ حُنَيْنٍ يَا أَبَا عُمَارَةَ فَقَالَ أَشْهَدُ عَلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا وَلَّى وَلَكِنَّهُ انْطَلَقَ أَخِفَّاءُ مِنَ النَّاسِ وَحُسَّرٌ إِلَى هَذَا الْحَىِّ مِنْ هَوَازِنَ وَهُمْ قَوْمٌ رُمَاةٌ فَرَمَوْهُمْ بِرِشْقٍ مِنْ نَبْلٍ كَأَنَّهَا رِجْلٌ مِنْ جَرَادٍ فَانْكَشَفُوا فَأَقْبَلَ الْقَوْمُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ يَقُودُ بِهِ بَغْلَتَهُ فَنَزَلَ وَدَعَا وَاسْتَنْصَرَ وَهُوَ يَقُولُ " أَنَا النَّبِيُّ لاَ كَذِبْ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ اللَّهُمَّ نَزِّلْ نَصْرَكَ " . قَالَ الْبَرَاءُ كُنَّا وَاللَّهِ إِذَا احْمَرَّ الْبَأْسُ نَتَّقِي بِهِ وَإِنَّ الشُّجَاعَ مِنَّا لَلَّذِي يُحَاذِي بِهِ . يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আবূ ইসহাক (রহঃ)
৪৪৬৫। আহমাদ ইবনু জানাব মিসসিসী (রহঃ) ... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি বারা (রাঃ) এর নিকট এসে বললো, আপনারা কি হুনায়নের দিনে পলায়ন করেছিলেন? তখন তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি পলায়ন করেননি। কিন্তু কিছু সংখ্যক অতি ব্যস্ত ও বর্মহীন লোক হাওয়ায়িন গোত্রের দিকে গিয়েছিল। আর তারা ছিল তীরন্দায সম্প্রদায়। তারা তাদের প্রতি ঝাঁকে ঝাঁকে তীর ছুড়লো, যেন সেগুলো পঙ্গপালের পায়ের মত। তখন তারা পিছন দিকে হটে গেল। আর লোকেরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এগিয়ে এলো। আবূ সুফিয়ান ইবনু হারেস (রাঃ) তাঁর খচ্চর টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি অবতরণ করলেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে দুআ করলেন এবং তিনি বললেনঃ আমি অবশ্যই আল্লাহর নবী, একথা মিথ্যে নয়। আমি আবদূল মুত্তালিব এর পুত্র। “ইয়া আল্লাহ! আপনার সাহায্য নাযিল করুন”।
বারা (রাঃ) বললেনঃ, আল্লাহর কসম! যুদ্ধের-উত্তেজনা যখন ঘোরতর হয়ে উঠল, তখন আমরা তার মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতাম। নিশ্চয়ই আমাদের মাঝে বীরপুরুষ তিনিই যিনি যুদ্ধে তাঁর অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দাঁড়াতে সাহসী হত।
হাদিস নং ৪৪৬৬সহিহ
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ، وَسَأَلَهُ، رَجُلٌ مِنْ قَيْسٍ أَفَرَرْتُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ حُنَيْنٍ فَقَالَ الْبَرَاءُ وَلَكِنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَفِرَّ وَكَانَتْ هَوَازِنُ يَوْمَئِذٍ رُمَاةً وَإِنَّا لَمَّا حَمَلْنَا عَلَيْهِمُ انْكَشَفُوا فَأَكْبَبْنَا عَلَى الْغَنَائِمِ فَاسْتَقْبَلُونَا بِالسِّهَامِ وَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى بَغْلَتِهِ الْبَيْضَاءِ وَإِنَّ أَبَا سُفْيَانَ بْنَ الْحَارِثِ آخِذٌ بِلِجَامِهَا وَهُوَ يَقُولُ " أَنَا النَّبِيُّ لاَ كَذِبْ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ " .
বর্ণনাকারী: আবূ ইসহাক (রহঃ)
৪৪৬৬। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা (রাঃ) এর কাছে শুনেছি, বনী কায়েসের এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, আপনারা কি হুনায়নের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পলায়ন করেছিলেন? তখন বারা (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই পলায়ন করেননি। (তবে ব্যাপার এ ছিল যে,) হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা দক্ষ তীরান্দায ছিল। আমরা যখন তাদেঁর উপর আক্রমণ করলাম তখন তারা বিক্ষিপ্ত হলো। তখন আমরা গনীমতের মালের দিকে ছুটে গেলাম। তখন তারা ফিরে এসে আমাদের উপর (অতর্কিতে) পাল্টা আক্রমন করে তীর নিক্ষেপ করতে শুরু করল। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর সাদা বর্ণের খাচ্চরের উপর দেখতে পেলাম। আর আবূ সূফিয়ান ইবনু হারেস (রাঃ) তার লাগাম ধরে রেখেছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেনঃ আমি অবশ্যই নবী, একথা মিথ্যে নয়। আমি আবদুল মুত্তালিব এর বংশধর।
৪৪৬৭। যুহাইর ইবনু হারব মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না ও আবূ বকর ইবনু খাল্লাদ ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁকে এক ব্যক্তি বলল, হে আবূ উমারা! ...... তারপর অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করেন। এই হাদীস ছিল তাঁদের বর্ণিত হাদীস থেকে সংক্ষিপ্ত। আর তাদের হাদীস ছিল পূর্ণ।
হাদিস নং ৪৪৬৮সহিহ
وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُنَيْنًا فَلَمَّا وَاجَهْنَا الْعَدُوَّ تَقَدَّمْتُ فَأَعْلُو ثَنِيَّةً فَاسْتَقْبَلَنِي رَجُلٌ مِنَ الْعَدُوِّ فَأَرْمِيهِ بِسَهْمٍ فَتَوَارَى عَنِّي فَمَا دَرَيْتُ مَا صَنَعَ وَنَظَرْتُ إِلَى الْقَوْمِ فَإِذَا هُمْ قَدْ طَلَعُوا مِنْ ثَنِيَّةٍ أُخْرَى فَالْتَقَوْا هُمْ وَصَحَابَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَوَلَّى صَحَابَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَرْجِعُ مُنْهَزِمًا وَعَلَىَّ بُرْدَتَانِ مُتَّزِرًا بِإِحْدَاهُمَا مُرْتَدِيًا بِالأُخْرَى فَاسْتَطْلَقَ إِزَارِي فَجَمَعْتُهُمَا جَمِيعًا وَمَرَرْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُنْهَزِمًا وَهُوَ عَلَى بَغْلَتِهِ الشَّهْبَاءِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ رَأَى ابْنُ الأَكْوَعِ فَزَعًا " . فَلَمَّا غَشُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَزَلَ عَنِ الْبَغْلَةِ ثُمَّ قَبَضَ قَبْضَةً مِنْ تُرَابٍ مِنَ الأَرْضِ ثُمَّ اسْتَقْبَلَ بِهِ وُجُوهَهُمْ فَقَالَ " شَاهَتِ الْوُجُوهُ " . فَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْهُمْ إِنْسَانًا إِلاَّ مَلأَ عَيْنَيْهِ تُرَابًا بِتِلْكَ الْقَبْضَةِ فَوَلَّوْا مُدْبِرِينَ فَهَزَمَهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَقَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَنَائِمَهُمْ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ .
বর্ণনাকারী: সালামাহ ইবনু আক্ওয়া‘ (রাঃ)
৪৪৬৮। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হুনায়নের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে থেকে যুদ্ধ করেছি। যখন আমরা শত্রুদের সন্মুখীন হলাম, তখন এ পর্যায়ে আমি অগ্রসর হয়ে একটি টিলার উপর আরোহণ করলাম। তখন শত্রুদলের এক ব্যক্তি আমার মোকাবিলায় অগ্রসর হল। আমি একটি তীর নিক্ষেপ করলাম, তখন সে আমার থেকে আত্নগোপন করল। আমি তখন বুঝতে পারিনি তার ব্যাপারটি কী হয়েছে। তারপর যখন শত্রুদের প্রতি লক্ষ্য করলাম, তখন দেখতে পেলাম যে, তারা অপর এক টিলায় আরোহণ করেছে। তারপর তারা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথীরা সামনাসামনি হলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাগণ পিছনে সরে পড়তে লাগল। আমি পরাজিত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করলাম। তখন আমার পরিধানে ছিল দু’টি চাঁদর। তার একটি চাঁদর ছিল লুঙ্গী (ইযার) রূপে এবং অপরটি চাদর রূপে পরেছিলাম।
এক, পর্যায়ে আমার লুঙ্গিটি খুলে গেল। তখন আমি সে দু’টি একত্র করে করলাম। এবং পরাজিত অবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ দিয়ে গমন করলাম। আর তিনি তখন তাঁর সাদা রং এর খচ্চরের উপর আরোহিত ছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইবনুল আকওয়া ভীতিকর কিছু দেখেছে। এরপর (তারা) শত্রুরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ঘিরে ফেললো। তখন তিনি তার খচ্চর থেকে অবতরণ করলেন।
তারপর এক মুষ্টি মাটি যমিন থেকে তুলে নিলেন। এরপর তাদের মুখমণ্ডল
ে তা নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, তাদের মুখমণ্ডল
বিকৃত হোক। এরপর তাদের সকলের দু’চোখ-ই সে এক মুষ্টি মাটির ধুলায় ভরে গেল। তারা পাচাৎ দিকে পলায়ন করলো। আল্লাহ তা’আলা এ দ্বারাই তাদেরকে পরাস্ত করলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমতের সম্পদ মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।
২৯. তায়েফের যুদ্ধ
হাদিস নং ৪৪৬৯সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ جَمِيعًا عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ الشَّاعِرِ الأَعْمَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ عَمْرٍو قَالَ حَاصَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَهْلَ الطَّائِفِ فَلَمْ يَنَلْ مِنْهُمْ شَيْئًا فَقَالَ " إِنَّا قَافِلُونَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ " . قَالَ أَصْحَابُهُ نَرْجِعُ وَلَمْ نَفْتَتِحْهُ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اغْدُوا عَلَى الْقِتَالِ " . فَغَدَوْا عَلَيْهِ فَأَصَابَهُمْ جِرَاحٌ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّا قَافِلُونَ غَدًا " . قَالَ فَأَعْجَبَهُمْ ذَلِكَ فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ)
৪৪৬৯। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা, যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফবাসীদের অবরোধ করলেন এবং এতে তিনি তাদের কাছ থেকে কিছু পেলেন না। এরপর তিনি বললেন, ইনশাআল্লাহ আমরা প্রত্যাবর্তন করবো। তখন তাঁরা (সাহাবীগণ) বললেন, আমরা কি প্রত্যাবর্তন করবো অথচ আমরা তায়িফ জয় করলাম না। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, আগামীকাল সকালে তোমরা যুদ্ধ কর। সূতরাং তারা পরবর্তী দিন সকালে যুদ্ধ করল এবং অনেকেই আহত হলো। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমরা আগামীকাল প্রত্যাবর্তন করবো। রাবী বলেন, এতে তাঁরা খুশি হলেন। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁসলেন।
৩০. বদর যুদ্ধ
হাদিস নং ৪৪৭০সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَاوَرَ حِينَ بَلَغَهُ إِقْبَالُ أَبِي سُفْيَانَ قَالَ فَتَكَلَّمَ أَبُو بَكْرٍ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ تَكَلَّمَ عُمَرُ فَأَعْرَضَ عَنْهُ فَقَامَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ فَقَالَ إِيَّانَا تُرِيدُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَمَرْتَنَا أَنْ نُخِيضَهَا الْبَحْرَ لأَخَضْنَاهَا وَلَوْ أَمَرْتَنَا أَنْ نَضْرِبَ أَكْبَادَهَا إِلَى بَرْكِ الْغِمَادِ لَفَعَلْنَا - قَالَ - فَنَدَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ فَانْطَلَقُوا حَتَّى نَزَلُوا بَدْرًا وَوَرَدَتْ عَلَيْهِمْ رَوَايَا قُرَيْشٍ وَفِيهِمْ غُلاَمٌ أَسْوَدُ لِبَنِي الْحَجَّاجِ فَأَخَذُوهُ فَكَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُونَهُ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ وَأَصْحَابِهِ . فَيَقُولُ مَا لِي عِلْمٌ بِأَبِي سُفْيَانَ وَلَكِنْ هَذَا أَبُو جَهْلٍ وَعُتْبَةُ وَشَيْبَةُ وَأُمَيَّةُ بْنُ خَلَفٍ . فَإِذَا قَالَ ذَلِكَ ضَرَبُوهُ فَقَالَ نَعَمْ أَنَا أُخْبِرُكُمْ هَذَا أَبُو سُفْيَانَ . فَإِذَا تَرَكُوهُ فَسَأَلُوهُ فَقَالَ مَا لِي بِأَبِي سُفْيَانَ عِلْمٌ وَلَكِنْ هَذَا أَبُو جَهْلٍ وَعُتْبَةُ وَأُمَيَّةُ بْنُ خَلَفٍ فِي النَّاسِ . فَإِذَا قَالَ هَذَا أَيْضًا ضَرَبُوهُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ يُصَلِّي فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ انْصَرَفَ قَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَضْرِبُوهُ إِذَا صَدَقَكُمْ وَتَتْرُكُوهُ إِذَا كَذَبَكُمْ " . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا مَصْرَعُ فُلاَنٍ " . قَالَ وَيَضَعُ يَدَهُ عَلَى الأَرْضِ هَا هُنَا وَهَا هُنَا قَالَ فَمَا مَاطَ أَحَدُهُمْ عَنْ مَوْضِعِ يَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪৭০। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যখন আবূ সুফিয়ানের (মদিনায়) আগ্রাভিযানের সংবাদ পৌছল। তখন তিনি সাহাবীদের সাথে এ নিয়ে পরামর্শ করলেন। আবূ বকর (রাঃ) এ ব্যাপারে কথা বললেন, কিন্তু তাঁর কথার উত্তর দিলেন না। এরপর উমর (রাঃ) কথা বললেন। তিনি তার কথারও কোন উত্তর দিলেন না। পরিশেষে সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ) দন্ডায়মান হলেন। এরপর বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি কি আমাদের জবাব প্রত্যাশা করেন? সে আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার জীবন, যদি আপনি আমাদেরকে আমাদের ঘোড়া নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে বলেন, তবে-নিশ্চয়ই আমরা তাতে ঝাঁপ দিব। আর যদি আপনি আমাদেরকে নির্দেশ দেন, সাওয়ারী হাঁকিয়ে বারকুল গিমাদ পর্যন্ত পৌছার জন্য তবে নিশ্চয়ই আমরা তাই করবো।
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদেরকে আহবান (উদ্বুদ্ধ) করলেন। তখন সকলে রওয়ানা হলেন এবং বদর নামক স্থানে উপনীত হলেন। আর তাদের (সাহাবীগণের) সামনে সেখান কুরাইশের পানিবাহী উটপালও (রাখালসহ) উপনীত হল। তাদের মধ্যে বনী হাজ্জাজের একজন কৃষ্ণকায় দাস ছিল। সাহাবীগণ তাকে পাকড়াও করলেন। তারপর তাকে আবূ সুফিয়ান এবং তার সাথীদের সম্পর্কে তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তখন সে বলতে লাগলো, আবূ সুফিয়ান সম্পর্কে আমার কোন কিছু জানা নেই। তবে আবূ জাহল, উতবা, শায়বা এবং উমাইয়া ইবনু খালফ (দলবল নিয়ে আসছে)।
যখন সে এরূপ বললো তখন তাঁরা তাকে প্রহার করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় সে বলল, হ্যাঁ, আমি আবূ সুফিয়ান সম্পর্কে খবর দিচ্ছি। তখন তাঁরা তাকে ছেড়ে দিলেন। এরপর যখন তারা পুনরায় আবূ সুফিয়ান সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন, তখন সে বলল, আবূ সুফিয়ান সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।তবে আবূ জাহল, উতবা, শায়বা এবং উমাইয়া ইবনু খালফ লোকদের সঙ্গে নিয়ে (আসছে)। যখন সে পুনরায় এ একই কথা বলল, তখন তাঁরা আবার তাকে প্রহার করতে লাগলেন।
সে সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দন্ডায়মান ছিলেন। অতএব, যখন তিনি এ অবস্থা দেখলেন, তখন সালাত সমাপ্ত করার পর বললেন, সে আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার জান, যখন সে তোমাদের কাছে সত্য কথা বলে তখন তোমরা তাকে ছেড়ে দাও। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভূমির উপর স্বীয় হাত রেখে বললেন, এ স্থান অমুকের (কাফির) ধরাশায়ী হওয়ার স্থান বা মৃত্যুস্থ। এ কথা বলার সময় তিনি মাটিতে এখানে ওখানে হাত রাখছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে স্থানে যার নাম নিয়ে হাত রেখেছিলেন, সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে, এর বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম হয়নি।
৪৪৭২। উবায়দুল্লাহ ইবনু হাশিম (রহঃ) ... সুলায়মান ইবনু মুগীরা (রাঃ) থেকে উক্ত সনদে এই হাদীসটি বর্ননা করেছেন। তবে তার হাদীসে একথা অধিক উল্লেখ রয়েছে যে, তারপর তিনি তার এক হাত অপর হাতের উপর রেখে ইশারা করলেন অর্থাৎ তাদের খতম করে দাও। এতে আরো উল্লেখ রয়েছে সে, তখন তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা এ রকম কিছু বলেছি। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমার নামের কী মর্যাদা থাকবে। সুতরাং এমনটি কখনো হবে না। আমিতো আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
৪৪৭৩। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দীরেমী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু রাবাহ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেন, আমরা ভ্রমন করে মুয়াবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) এর নিকট গেলাম। আমাদের মধ্যে তখন আবূ হুরায়রা (রাঃ)ও ছিলেন। প্রত্যেকেই এক দিন তার সাথীর জন্য খাবার তৈয়ার করতেন। একদিন আমার পালা আসল। তখন আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আজতো আমার পালা। অতএব, সকালেই আমার বাসস্থানে এলেন, তখনও খানা পাকানো শেষ হয় নাই। তখন আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আপনি যদি আমাদেরকে খানা তৈরির পূর্ব পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন হাদীস বর্ণনা করতেন! (তবে ভাল হতো)
অতএব, তিনি বললেনঃ আমরা মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তখন খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)বাহিনীর কে ডান অংশের এবং যুবাইর (রাঃ) কেবাহিনীর বাম অংশের সেনাপতিত্ব প্রদান করলেন। আবূ উবায়দা (রাঃ) কে পদাতিক বাহিনীর এবং উপত্যকার নিম্নভুমির অধিনায়ক নিযুক্ত করলেন। এরপর তিনি বললেন, হে আবূ হুরায়রা! আনসারদেরকে আমার কাছে আসার জন্য আহবান কর। অতএব আমি তাদেরকে আহবান করলাম। এরপর তাঁরা দ্রুত আসলেন। তখন তিনি বললেনঃ হে আনসারগণ! তোমরা কি কুরাইশের বিভিন্ন (বিচ্ছিন্ন) দলের লোক দেখতে পাচ্ছ? তারা বললেন, হ্যাঁ।
তিনি বললেন, আগামীকাল যখন তোমরা (যুদ্ধক্ষেত্রে) তাদের মোকাবিলা করবে তখন তাদেরকে সম্পূর্ণ নির্মূল করে দেবে। তারপর তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে ইঙ্গিতে বললেন (তাদেরকে সমূলে বিনষ্ট করে দেবে)। তারপর বললেনঃ আমার সাথে তোমাদের (খালিদ বাহিনীর) একত্রিত হবার স্থান সাফা পাহাড়। বর্ণনাকারী বলেন, সেদিন যে কোন (বিধর্মী) তাদের (আনসারদের) লক্ষ্যস্থলে পড়েছে, তাকেই তারা নির্মুল করেছে। এরপরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড়ের উপর আরোহণ করলেন। তখন আনসারগণ তথায় উপনীত হয়ে সাফা পাহাড় ঘিরে ফেললো। তখন আবূ সুফিয়ান এলেন এবং বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কুরাইশদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আজ থেকে আর কোন কুরাইশের অস্তিত্ব থাকবেনা।
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি আবূ সুফিয়ানের বাড়িতে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। যে অস্ত্র ফেলে দিবে সেও নিরাপদ এবং যে স্বীয় গৃহের দরজা বন্ধ করে রাখবে সেও নিরাপদ। তখন আনসারগণ বলাবলি করছিল যে, এ লোকটিকে (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে) স্বীয় গোত্রের আকর্ষণ এবং স্বদেশের অনুরাগ পেয়ে বসেছে।
এমতাবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ওহী নাযিল হল। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরাই কি বলেছিলে যে, “এ লোকটিকে (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে) তার গোত্রের ভালবাসা এবং স্বদেশের অনুরাগে পেছো বসেছে।” শোন! তাহলে আমার নামের মর্যাদা (ও অর্থ) কি? একথাটি তিনি তিনবার বলেছেন।
আমি হলাম মুহাম্মাদ, আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসুল। আমি আল্লাহর নির্দেশেই তোমাদের কাছে হিজরত করেছি। সুতরাং (আমার) জীবন (প্রশংসিত) তোমাদের জীবন (এবং আমার মৃত্যু তোমাদের মৃত্যু ওতপ্রোতভাবে জড়িত)। তখন তাঁরা বললো, আল্লাহর শপথ! আমরা একথা বলেছিলাম আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি বিশেষ লোভ এর কারণে। (যেন তিনি আমা দেরকে ছেড়ে না যান।) তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তোমাদের সত্য বলে গ্রহন করেছেন এবং তোমাদের ওযর কবুল করেছেন।
৪৪৭৪। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা, আমর আন-নাকিদ ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করলেন। তখন কাবার (অভ্যন্তরে) চারদিকে তিনশত ষাটটি মূর্তি ছিল। তার হাতে একটি ছড়ি ছিল তিনি তা দিয়ে মূর্তিগুলোকে খোঁচা দিতে ছিলেন এবং বলছিলেনঃ সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; মিথ্যাতো বিলুপ্ত হবারই। (১৭ঃ ৮১) সত্য এসেছে এবং অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃজন করতে না পারে পুনরাবৃত্তি করতে। (৩৪ঃ ৪৯) ইবনু আবূ উমার (রহঃ) يَوْمَ الْفَتْحِ (বিজয়ের দিন) কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।
৪৪৭৫। হাসান ইবনু আলী হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... ইবনু আবূ নাজীহ (রহঃ) থেকে এ সনদে উল্লেখিত হাদীস, আয়াতের শেষزَهُوقًا (বিলুপ্ত হবারই) পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি অপর আয়াতটি বর্ণনা করেননি। আর তিনিنُصُبًا (মূর্তি, পূজার বেদী) শব্দের পরিবর্তেصَنَمًا (মূর্তি) শব্দ ব্যবহার করেছেন।
৩৩. বিজয়ের পর কুরায়শদের গ্রেফতার করে হত্যা করা হবে না
৪৪৭৬। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মুতী (রহঃ) এর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মক্কা বিজয়ের দিন বলতে শুনেছি যে, আজকের দিনের পর কিয়ামত পর্যন্ত কুরাইশগণকে (বেধ রেখে) হত্যা করা হবে না।
হাদিস নং ৪৪৭৭সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَزَادَ قَالَ وَلَمْ يَكُنْ أَسْلَمَ أَحَدٌ مِنْ عُصَاةِ قُرَيْشٍ غَيْرَ مُطِيعٍ كَانَ اسْمُهُ الْعَاصِي فَسَمَّاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُطِيعًا .
বর্ণনাকারী: যাকারিয়া (রহঃ)
৪৪৭৭। ইবনু নুমাইর (রহঃ) ... যাকারিয়া (রহঃ) থেকে এ সুত্রে উল্লিখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি অধিক বর্ণনা করেছেন যে, কুরাইশদের মধ্য থেকে কোন “আসী” (নামের লোক) ইসলাম গ্রহণ করে নি, ’মুতি’ ব্যতীত তার নাম ছিল “আসী” (অবাধ্য)। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রাখলেন মুতী (অনুগত)।
৩৪. হুদায়বিয়ার সন্ধি সম্পর্কে
হাদিস নং ৪৪৭৮সহিহ
حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ، يَقُولُ كَتَبَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ الصُّلْحَ بَيْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ الْمُشْرِكِينَ يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ فَكَتَبَ " هَذَا مَا كَاتَبَ عَلَيْهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ" . فَقَالُوا لاَ تَكْتُبْ رَسُولُ اللَّهِ فَلَوْ نَعْلَمُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ لَمْ نُقَاتِلْكَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ " امْحُهُ " . فَقَالَ مَا أَنَا بِالَّذِي أَمْحَاهُ . فَمَحَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ قَالَ وَكَانَ فِيمَا اشْتَرَطُوا أَنْ يَدْخُلُوا مَكَّةَ فَيُقِيمُوا بِهَا ثَلاَثًا وَلاَ يَدْخُلُهَا بِسِلاَحٍ إِلاَّ جُلُبَّانَ السِّلاَحِ . قُلْتُ لأَبِي إِسْحَاقَ وَمَا جُلُبَّانُ السِّلاَحِ قَالَ الْقِرَابُ وَمَا فِيهِ .
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
৪৪৭৮। উবায়দুল্লাহ ইবনু মুয়ায আম্বরী (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হুদাইবিয়া দিবসে আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুশরিকদের মধ্যে সন্ধি পত্র লিপিবদ্ধ করলেন, তিনি লিখলেন-- এই (সন্ধিটি) চুক্তি করেছেন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। তখন তারা বললো, ’রাসুলুল্লাহ’ কথাটি লেখবেন না। যদি আমরা বিশ্বাস করতাম যে,আপনি আল্লাহর রাসুল, তবে তো আপনার সাথে আমরা যুদ্ধ করতাম না।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আলী (রাঃ) কে বললেন, এ অংশটি মুছে দাও। তখন আলী বললেন, আমি তা মুছবার লোক নই। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই নিজ হাতে তা মুছে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, সন্ধির একটি শর্ত এ ছিল যে, তারা মক্কায় প্রবেশ করে তিন দিন অবস্থান করতে পারবে এবং তখন তাঁরা কোন অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেনা। কিন্তু খাপেবদ্ধ তলোয়ার নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। আমি আবূ ইসহাককে জিজ্ঞাসা করলাম, جلبانُ السِّلاَحِ এর অর্থ কি? তিনি তখন বলেন, এর অর্থ খাপ এবং এর মধ্যে যা থাকে।
৪৪৭৯। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না ও ইবনুু, বাশশার (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়াবাসীদের মধ্যে সন্ধি করলেন, আলী (রাঃ) উভয়ের মধ্যে একটি সন্ধিপত্র লিখলেন। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) লিখলেন, ’মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ’ তারপর মুয়ায বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি তার হাদীসে مَا كَاتَبَ (যা চুক্তি করেছেন) কথাটি উল্লেখ করেননি।
৪৪৮০। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী ও আহমাদ ইবনু জানাব মিসসিসী (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (উমরার জন্য আগমন করে) বায়তুল্লাহ শরীফের নিকট বাধাগ্রস্ত হলেন, তখন মক্কাবাসীরা এমর্মে তার সঙ্গে সন্ধি করলো যে, (পরবর্তী বছর) তিনি মক্কায় প্রবেশ করবেন এবং সেখানে তিনদিন অবস্থান করবেন এবং কোষবদ্ধ তরবারী ছাড়া আর কিছু নিয়ে সেখানে ঢুকবেন না এবং কোন অধিবাসীকে নিয়ে মক্কা থেকে তার সাথে নিয়ে যাবেন না। পক্ষান্তরে তার সাথীদের কেউ যদি সেখানে থেকে যেতে চায়, তবে তাকে বারণ করবেন না।
তখন তিনি আলী (রাঃ) কে বললেনঃ আমাদের মধ্যকার শর্তগুলো এভাবে লিখে নাও “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” এ হচ্ছে সেই সন্ধি যা মুহাম্মামদ রাসুলুল্লাহ চুড়ান্ত করেছেন। তখন মুশরিকরা তাঁকে বললো, আমরা যদি আপনাকে আল্লাহর রাসূলই জানতাম তবে আপনার অনুসরণই করতাম, বরং লিখুন, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ। তখন তিনি আলী (রাঃ) কে তা মুছে ফেলতে নির্দেশ দিলেন। আলী (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তা মুছতে পারবনা। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হলে আমাকেই তার স্থান দেখিয়ে দাও। তিনি সে স্থান দেখিয়ে দিলেন আর তিনি তা (স্বহস্তে) মূছে ফেললেন এবং [আলী (রাঃ)] লিখলেন মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ।
তারপর (পরের বছর তিনি সাহাবাদের নিয়ে) সেখানে তিনি তিনদিন অবস্থান করলেন। যখন তৃতীয় দিন সমাগত হলো, তখন তারা আলী (রাঃ) কে বললে। এটা হচ্ছে তোমার সাথীর (নেতার) শর্তের স্থিরকৃত শেষ দিবস। তাঁকে বল তিনি যেন বের হয়ে যান। তখন তিনি তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করলেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি বেরিয়ে গেলেন।
ইবনু জানাব তার রিওয়ায়াতেبَايَعْنَاكَ এর স্থলে تَابَعْنَاكَ বলে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং ৪৪৮১সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ قُرَيْشًا، صَالَحُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِيهِمْ سُهَيْلُ بْنُ عَمْرٍو فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ " اكْتُبْ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ " . قَالَ سُهَيْلٌ أَمَّا بِاسْمِ اللَّهِ فَمَا نَدْرِي مَا بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلَكِنِ اكْتُبْ مَا نَعْرِفُ بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ فَقَالَ " اكْتُبْ مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ " . قَالُوا لَوْ عَلِمْنَا أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ لاَتَّبَعْنَاكَ وَلَكِنِ اكْتُبِ اسْمَكَ وَاسْمَ أَبِيكَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اكْتُبْ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ " . فَاشْتَرَطُوا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ مَنْ جَاءَ مِنْكُمْ لَمْ نَرُدَّهُ عَلَيْكُمْ وَمَنْ جَاءَكُمْ مِنَّا رَدَدْتُمُوهُ عَلَيْنَا فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَكْتُبُ هَذَا قَالَ " نَعَمْ إِنَّهُ مَنْ ذَهَبَ مِنَّا إِلَيْهِمْ فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ وَمَنْ جَاءَنَا مِنْهُمْ سَيَجْعَلُ اللَّهُ لَهُ فَرَجًا وَمَخْرَجًا " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪৮১। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কুরাইশরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সন্ধি করল। তাদের মধ্যে (কুরায়শ পক্ষ) সুহায়ল ইবনু আমরও ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ) কে বললেনঃ লিখ, بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ সুহায়ল বললো, বিসমিল্লাহ? আমরা তো জানিনা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম কী? তবে আমরা যা জানি বি-ইসমিকা আল্লাহুম্মা, (হে আল্লাহ্! তোমার নামে) তাই লিখ।
তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লিখ, মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ এর পক্ষ থেকে। তখন তারা বলে উঠলো, আমরা যদি আপনাকে আল্লাহর রাসূলই জানতাম, তাহলে তো আমরা আপনার অনুসরণই করতাম। বরং আপনি আপনার নাম এবং আপনার পিতার নাম লিখুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লিখ, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে।
তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর এ মর্মে শর্ত আরোপ করলো যে, যারা আপনাদের নিকট থেকে চলে আসবে, আমরা তাকে ফেরৎ পাঠাবোনা, কিন্তু আমাদের কেউ যদি আপনাদের নিকট চলে যায়, তবে আপনারা তাকে অবশ্যই ফেরৎ পাঠাবেন।
তখন সাহাবীগণ বললেন, “ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি এরূপ লিখবো? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি তাদের কাছে যায় তবে আল্লাহই তাকে (রহমত থেকে) সরিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য থেকে যে আমাদের কাছে আসবে (তাকে ফেরত দিলেও) আল্লাহ অচিরেই তার কোন ব্যাবস্থা ও পথ বের করে দিবেন।
৪৪৮২। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ... আবুল ওয়ায়েল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ) সিফফিন দিবসে উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের (অধিক) হওয়ার সম্ভাবনামুক্ত মনে করবে। আমরা হুদায়বিয়ার দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। আমরা এটিকে (সিফফীনের চলমান বিরোধকে যথার্থ) যুদ্ধ মনে করলে অবশ্যই আমরা যুদ্ধ করতাম। আমি বলতে চাই সেই সন্ধির কথা যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুশরিকদের মধ্যে হয়েছিল।
তখন উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি সত্যের উপর নই আর তারা বাতিলের উপর নয়? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ তাই। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, আমাদের নিহত (শহীদ)রা কি জান্নাতী এবং তাদের নিহতরা কি জাহান্নামী নয়?। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে কী কারণে আমরা দ্বীনের ব্যাপারে যিল্লাতি মেনে নিয়ে ফিরে যাবো, অথচ এখনো এ ব্যাপারে তাদের ও আমাদের মধ্যে আল্লাহর কোন ফয়সালা করেননি!
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে খাত্তাব পুত্র! নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহর রাসুল। আর তিনি অবশ্যই কখনো আমাকে বিনাশ করবেন না। রাবী বলেন, তখন উমার (রাঃ) চলে গেলেন। তিনি ক্রোধে ধৈর্যধারণ করতে পারছিলেন না। তাই আবূ বকরের কাছে এলেন এবং তাঁকে বললেন, হে আবূ বকর! আমরা কি হকের উপর এবং তারা কি বাতিলের উপর নয়? তিনি বললেন, অবশ্যই। আবার তিনি বললেন, আমাদের নিহতরা কি জান্নাতী আর তাদের নিহতরা কি জাহান্নামী নয়? বললেন, নিশ্চয়ই। তখন তিনি বললেনঃ তা হলে কি কারণে আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে যিল্লাতি নিয়ে ফিরে যাবো, অথচ এখনো এব্যাপারে আমাদের এবং তাদের মধ্যে আল্লাহ কোন ফয়সালা দেননি! তখন তিনি বললেন, হে খাত্তাব তনয়! নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ কখনও তাঁর বিনাশ করবেন না।
রাবী বলেন, এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে কুরআন অবতীর্ণ হলো। তখন তিনি উমারকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁর সম্মুখে তা পাঠ করলে তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এই কি বিজয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন তাঁর অন্তর শান্ত হল এবং তিনি ফিরে গেলেন।
৪৪৮৩। আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুুূল আলা ও মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমাইর (রহঃ) ... শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সিফফীন দিবসে সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ) কে আমি বলতে শুনেছি হে লোক সকল! তোমাদের নিজেদের অভিমতকে (অধিক হওয়ার সম্ভাবনায়) অভিযুক্ত মনে করবে। আল্লাহর কসম! আমি আবূ জান্দালের সে দিনটি (অর্থাৎ হুদায়বিয়ার সন্ধির দিন) প্রত্যক্ষ করেছি। যদি আমার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশ প্রত্যাখ্যান করার সাধ্য থাকতো, তরে অবশ্যই তা প্রত্যাখ্যান করতাম। আল্লাহর কসম! যখন আমরা কখনো কোন (ভীষণ) সমস্যার (যুদ্ধের) সমাধানের জন্য তরবারি কাঁধে তুলে তা (অবশেষে) এমন সমাধানের পর্যায়ে পৌঁছে যা আমাদের জন্য বোধগম্য ছিল। কিন্তু তোমাদের এ ব্যপারটি তার বিপরীত।
ইবনু নুমায়র তার বর্ণনায়إِلَى أَمْرٍ قَطُّ (কোন ব্যাপারে) কথাটি উল্লেখ করেননি।
৪৪৮৪। উসমান ইবনু আবূ শায়বা, ইসহাক ও আবূ সাঈদ আশাজ্জ্ব (রহঃ) ... আ’মাশ (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে তাদের হাদীসেإِلَى أَمْرٍ يُفْظِعُنَا (এমন বিষয় যা আমাদের ঘাবড়িয়ে দেয়) উল্লেখ রয়েছে।
৪৪৮৫। ইবরাহীম ইবনু সাঈদ জাওহারী (রহঃ) ... আবূ ওয়াইল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল ইবনুু হুনায়ফ (রাঃ) কে সিফফীনে বলতে শুনেছি, তোমরা তোমাদের নিজেদের মতকে তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অভিযুক্ত মনে করবে। কারণ, আমি আবূ জান্দলের দিনটি প্রত্যক্ষ করেছি। যদি আমার সেদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ সীমালংঘনের সামর্থ্য থাকতো (তবে তাই করতাম, এখন ব্যাপার এত সঙ্গীন হয়ে দাড়িয়েছে যে) আমরা এক দিকের ছিদ্রবন্ধ করলে অন্য দিকের ছিদ্র ফূটে উঠে।
৪৪৮৬। নসর ইবনু আলী জাহযামী (রহঃ) ... কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) তাঁদের বলেছেন, হুদায়বিয়া থেকে প্রত্যবর্তনের সময় যখন এ আয়াত নায়িল হলোঃ “নিশ্চয়ই আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়, যেন আল্লাহ (তোমার ক্রটিসমূহ) মার্জনা করেন ...... মহা সাফল্য” পর্যন্ত (সূরা ফাতহঃ ১-৪) তখন তাদের মন দুঃখ বেদনা ক্ষোভে পূর্ন ছিলো। আর তিনি [রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হুদায়বিয়াতেই (কুরবানীর) পশুগুলো কুরবানী করলেন। তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমার প্রতি এমন আয়াত নাযিল হয়েছে, যা সমগ্র দুনিয়া থেকে আমার কাছে অধিক প্রিয়।
৪৪৮৮। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... হুযায়ফা ইবনু ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে বদর যুদ্ধে যোগদান থেকে এছাড়া অন্য কিছু বিরত রাখেনি যে, আমি এবং আমার পিতা হুসায়ল ঘর থেকে বেরিয়েছিলাম। এমন সময় কোরায়শ কাফির আমাদের ধরে বসে এবং বলে যে , তোমরা অবশ্যই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যেতে মনস্থ করেছো। জবাবে আমরা বললাম, আমরা তার কাছে যেতে চাইনা বরং আমরা মদিনায় (ফিরে) যেতে চাই। তখন তারা আল্লাহর নামে আমাদের নিকট অঙ্গীকার নিল যে, আমরা অবশ্যই মদিনায় ফিরে যাবো এবং তাঁর সাথে মিলিত হয়ে যুদ্ধ করবো না। তারপর আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম এবং সে সংবাদ তাকে জানালাম। তখন তিনি বললেন, তোমরা ফিরে যাও। আমরা তাদের কৃত ওয়াদা পুর্ণ করবো এবং তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করবো।
৪৪৮৯। যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, ইবরাহীম তায়মীর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, আমরা হুযায়ফা (রাঃ) এর কাছে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠলো, হায়, আমি যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পেতাম, তবে তাঁর সঙ্গে মিলে একত্রে যুদ্ধ করতাম এবং তাতে যথাসাধ্য করতাম (কোনরূপ পিছপা হতাম না)। হুযায়ফা (রাঃ) বললেন, তুমি তাই করতে? কিন্তু আমি তো আহযাবের রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। (সে রাতে) প্রচন্ড বায়ু ও তীব্র শীত আমাদের কাবু করে ফেলেছিল। এমনি সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোযণা করলেন, ওহে! এমন কেউ আছে কি, যে আমাকে শত্রুর খবর এনে দেবে; আল্লাহর তাআলা তাকে কিয়ামতের দিন আমার সঙ্গে রাখবেন?
আমরা তখন চুপ করে রইলাম এবং আমাদের মধ্যে কেউ তার সে আহবানে সাড়া দেয়নি। তিনি আবার বললেন, “ওহে! এমন কোন ব্যক্তি আছে কি” যে আমাকে শত্রুপক্ষের খবর এনে দেবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে কিয়ামতের দিন আমার সঙ্গে রাখবেন” এবারও আমরা চুপ রইলাম আর আমাদের মধ্যে কেউ তাঁর আহবানে সাড়া দেয়নি। তিনি আবার ঘোষণা করলেন, ওহে! এমন কেউ আছে কি যে আমাকে শত্রু পক্ষের খবর এনে দেবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে কিয়ামতের দিন তাকে আমার সঙ্গে রাখবেন, এবারও আমরা চুপ করে রইলাম এবং আমাদের কেউ তাঁর আহবানে সাড়া দেয়নি।
এবার তিনি বললেনঃ হে হুযায়ফা ওঠো এবং তুমি শত্রু পক্ষের খবর আমাদের এনে দাও। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এবার আমার নাম ধরেই ডাক দিলেন, তাই উঠা ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিলনা। এবার তিনি বললেনঃ শত্রুপক্ষের খবর আমাকে এনে দাও, কিন্তু সাবধান তাদের আমার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করোনা।
তারপর আমি যখন তাঁর নিকট থেকে প্রস্থান করলাম, তখন মনে হচ্ছিল আমি যেন হাম্মামের (উষ্ণ আবহাওয়ার) মধ্য দিয়ে চলেছি। এভাবে আমি তাদের (শত্রুপক্ষের) নিকটে পৌছে গেলাম। তখন আমি লক্ষ্য করলাম আবূ সুফিয়ান আগুনের দ্বারা তাঁর পিঠে ছেক দিচ্ছেন। আমি তখন একটি তীর ভুলে ধনুকে সংযোজন করলাম এবং তা নিক্ষেপ করতে মনস্থ করলাম এমন সময় আমার মনে পড়ে গেল যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দিয়েছেন, "তাদেরকে আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে-তুলোনা।" আমি যদি তখন তীর নিক্ষেপ করতাম তবে তীর নির্ঘাৎ লক্ষ্যভেদ করতো।
অগত্যা আমি ফিরে আসলাম এবং ফিরে আসার সময়ও উষ্ণ হাম্মামের মধ্য দিয়ে অতিক্রমের মতো উষ্ণতা অনুভব করলাম। তারপর যখন ফিরে এলাম, তখন প্রতিপক্ষের খবর তাঁকে প্রদান করলাম। আমার দায়িত্ব পালন করে অবসর হতেই আবার আমি শীতের তীব্রতা অনুভব করলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার খোলা অতিরিক্ত জুব্বার অংশ দিয়ে আমাকে আবৃত করে দিলেন, যা তিনি সালাত আদায়ের সময় গায়ে দিতেন। তারপর আমি ভোর পর্যন্ত একটানা নিদ্রায় আচ্ছন্ন রইলাম। যখন ভোর হল তখন তিনি বললেনঃ হে ঘুমকাতুরে! এখন উঠে পড়ো।
৪৪৯০। হাদ্দাব ইবনু খালিদ আযদী (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওহুদ যুদ্ধের দিন কেবল সাতজন আনসার ও দুজন কোরায়শ (মুহাজির) সাথীসহ (শত্রুবাহিনী কর্তুক) অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং তারা তাকে বেষ্টন করে ফেলে তিনি বললেনঃ কে আমার পক্ষ থেকে শত্রুদের প্রতিহত করবে, তার জন্য রয়েছে জান্নাত। অথবা বললেনঃ সে জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে। তখন আনসারদের মধ্যকার একব্যক্তি অগ্রসর হয়ে যুদ্ধ শুরু করল এবং পরিশেষে শহীদ হন। তারপর পুনরায় তারা তাঁকে বেষ্টন করে ফেললো এবং অনুরূপভাবে (লড়াই করতে করতে তাঁদের) সাতজনই শহীদ হলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সঙ্গীদ্বয়কে লক্ষ্য করে বললেনঃ আমরা সঙ্গীদের প্রতি সুবিচার করিনি। (আমরা বেঁচে রইলাম, অথচ তারা শহীদ হলেন।)
হাদিস নং ৪৪৯১সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ، يُسْأَلُ عَنْ جُرْحِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ فَقَالَ جُرِحَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكُسِرَتْ رَبَاعِيَتُهُ وَهُشِمَتِ الْبَيْضَةُ عَلَى رَأْسِهِ فَكَانَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَغْسِلُ الدَّمَ وَكَانَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ يَسْكُبُ عَلَيْهَا بِالْمِجَنِّ فَلَمَّا رَأَتْ فَاطِمَةُ أَنَّ الْمَاءَ لاَ يَزِيدُ الدَّمَ إِلاَّ كَثْرَةً أَخَذَتْ قِطْعَةَ حَصِيرٍ فَأَحْرَقَتْهُ حَتَّى صَارَ رَمَادًا ثُمَّ أَلْصَقَتْهُ بِالْجُرْحِ فَاسْتَمْسَكَ الدَّمُ .
বর্ণনাকারী: সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
৪৪৯১। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) ... সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উহুদ যুদ্ধের দিন আহত হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (পবিত্র) মুখমণ্ডল
যখম করা হয়, তার ’রুবাঈ’* দাঁত ভেঙ্গে দেয়া হয় এবং তার মাথায় লৌহ শিরস্ত্রাণ ভেঙ্গে ঢুকে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) রক্ত ধুয়ে দিচ্ছিলেন এবং আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) ঢাল দিয়ে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। ফাতিমা (রাঃ) যখন দেখলেন যে, তাতে রক্তপড়া আরো বেশী বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন তিনি একটি মাদুর খন্ড পোড়ালেন এবং ছাই হয়ে গেলে তা যখমের উপর জড়িয়ে দিলেন। এতে রক্ত বন্ধ হয়ে গেল।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
* সামনের দু' দাঁতের পার্শ্ববর্তী ডান ও বামের দাঁত।
হাদিস নং ৪৪৯২সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيَّ - عَنْ أَبِي حَازِمٍ، أَنَّهُ سَمِعَ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ، وَهُوَ يُسْأَلُ عَنْ جُرْحِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَمَ وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْرِفُ مَنْ كَانَ يَغْسِلُ جُرْحَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ كَانَ يَسْكُبُ الْمَاءَ . وَبِمَاذَا دُووِيَ جُرْحُهُ . ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ عَبْدِ الْعَزِيزِ غَيْرَ أَنَّهُ زَادَ وَجُرِحَ وَجْهُهُ وَقَالَ مَكَانَ هُشِمَتْ كُسِرَتْ .
বর্ণনাকারী: আবূ হাযিম ইবনু দ্বীনার (রহ.)
৪৪৯২। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবু হাযিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। সাহল ইবনু সাঈদ (রাঃ) কে যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আহত হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি (আবু হাযিম) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি সম্যকভাবে জানি, কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যখম ধুয়ে দিচ্ছিলেন, কে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন এবং কিসের দ্বারা তাঁর চিকিৎসা করা হয়েছিল। তারপর তিনি আবদুল আযীযের মাধ্যমে বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। অবশ্য তাঁর বর্ণনায় এ পার্থক্য রয়েছেঃ “তার মুখমণ্ডল
যখম করা হয় এবং هُشِمَتْ এর স্থলে كُسِرَتْ শব্দ ব্যাবহার করেছেন।
(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আহত হওয়া সংক্রান্ত সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) এর এ বর্ণনাটি সামান্য শাব্দিক পরিবর্তন সহ অন্য সুত্রেও বর্ণিত হয়েছে।)
৪৪৯৩। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা, যুহায়র ইবনু হারব, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, ইবনু আবূ উমার সকলেই ইবনু উয়ায়না থেকে এবং আমর ইবনু সাওয়াদ আমেরী, মুহাম্মদ ইবনু সাহল তামীমী ... সকলেই ইবনু হাযিম সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনু আবূ হিলাল এর হাদীসে আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখমণ্ডল
ে আঘাত লেগে ছিল। আর মুতাররিফ এর হাদীসে আছে তার মুখমণ্ডল
ে যখম হয়েছিল।
৪৪৯৪। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উহুদ দিবসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রুবাঈ দাঁত ভেঙ্গে দেওয়া হয়, তার মাথায় আঘাত করা হয় এবং তিনি তার শরীর থেকে রক্ত মুছতে মুছতে বলছিলেন, সে জাতি কিভাবে সাফল্য অর্জন করবে, যারা তাদের নবীকে আহত করলো এবং তাঁর সন্মুখের দু’টি দাত ভেঙ্গে দিল অথচ তিনি তাদের আল্লাহর দিকে আহবান জানাচ্ছিলেন? তখন আল্লাহ তা’আলা আয়াত নাযিল করলেনঃ "হে রাসুল! এ ব্যাপারে আপনার করনীয় কিছুই নেই।" (আল ইমরানঃ ১২৮)
৪৪৯৫। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দিখতে পাচ্ছি যে, তিনি এমন একজন নবীর কথা (কাহিনীরূপে) বর্ণনা করছেন, যাকে তাঁর সম্প্রদায়ের লোকজন আঘাত করেছে। আর তিনি তাঁর নিজের চেহারা থেকে রক্ত মুছছেন এবং বলছেন, "পালনকর্তা! আমার সম্প্রদায়কে ক্ষমা কর, কেননা তারা বুঝে না।" (আ’মাশ (রহঃ) থেকে সামান্য পার্থক্য সহ অন্য সুত্রেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে।)
৪৪৯৬। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... আ’মাশ (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ননা করেছেন। তবে তাঁর বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি তার কপাল থেকে রক্ত মুছছিলেন।
৩৮. রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যাকে হত্যা করেন তার উপর আল্লাহর প্রচণ্ড ক্রোধ
হাদিস নং ৪৪৯৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى قَوْمٍ فَعَلُوا هَذَا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " . وَهُوَ حِينَئِذٍ يُشِيرُ إِلَى رَبَاعِيَتِهِ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى رَجُلٍ يَقْتُلُهُ رَسُولُ اللَّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .
বর্ণনাকারী: হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ)
৪৪৯৭। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ (রহঃ) থেকে তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে সব হাদীস বর্ণনা করেছেন এর মধ্যে এটিও বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “সে সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর রোষ প্রচন্ড হয়, যারা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি এরূপ আচরণ করে”। একথা বলতে বলতে তিনি তার সম্মুখের (দু’টি ভগ্ন) দাঁতের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেনঃ মহামহিম আল্লাহর রোষ তার উপরও প্রচন্ড হয়, যাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পথে (জিহাদের ময়দানে) হত্যা করেন।
৩৯. মুশরিক ও মুনাফিকদের হাতে নবী (ﷺ) এর দুঃখ কষ্ট ভোগ
হাদিস নং ৪৪৯৮সহিহ
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبَانَ الْجُعْفِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ، - يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ - عَنْ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ الأَوْدِيِّ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عِنْدَ الْبَيْتِ وَأَبُو جَهْلٍ وَأَصْحَابٌ لَهُ جُلُوسٌ وَقَدْ نُحِرَتْ جَزُورٌ بِالأَمْسِ فَقَالَ أَبُو جَهْلٍ أَيُّكُمْ يَقُومُ إِلَى سَلاَ جَزُورِ بَنِي فُلاَنٍ فَيَأْخُذُهُ فَيَضَعُهُ فِي كَتِفَىْ مُحَمَّدٍ إِذَا سَجَدَ فَانْبَعَثَ أَشْقَى الْقَوْمِ فَأَخَذَهُ فَلَمَّا سَجَدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ قَالَ فَاسْتَضْحَكُوا وَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يَمِيلُ عَلَى بَعْضٍ وَأَنَا قَائِمٌ أَنْظُرُ . لَوْ كَانَتْ لِي مَنَعَةٌ طَرَحْتُهُ عَنْ ظَهْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَاجِدٌ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ حَتَّى انْطَلَقَ إِنْسَانٌ فَأَخْبَرَ فَاطِمَةَ فَجَاءَتْ وَهِيَ جُوَيْرِيَةُ فَطَرَحَتْهُ عَنْهُ . ثُمَّ أَقْبَلَتْ عَلَيْهِمْ تَشْتِمُهُمْ فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَلاَتَهُ رَفَعَ صَوْتَهُ ثُمَّ دَعَا عَلَيْهِمْ وَكَانَ إِذَا دَعَا دَعَا ثَلاَثًا . وَإِذَا سَأَلَ سَأَلَ ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ " . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَلَمَّا سَمِعُوا صَوْتَهُ ذَهَبَ عَنْهُمُ الضِّحْكُ وَخَافُوا دَعْوَتَهُ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِأَبِي جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ وَعُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَشَيْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَالْوَلِيدِ بْنِ عُقْبَةَ وَأُمَيَّةَ بْنِ خَلَفٍ وَعُقْبَةَ بْنِ أَبِي مُعَيْطٍ " . وَذَكَرَ السَّابِعَ وَلَمْ أَحْفَظْهُ فَوَالَّذِي بَعَثَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِالْحَقِّ لَقَدْ رَأَيْتُ الَّذِينَ سَمَّى صَرْعَى يَوْمَ بَدْرٍ ثُمَّ سُحِبُوا إِلَى الْقَلِيبِ قَلِيبِ بَدْرٍ . قَالَ أَبُو إِسْحَاقَ الْوَلِيدُ بْنُ عُقْبَةَ غَلَطٌ فِي هَذَا الْحَدِيثِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৪৯৮। আবদুল্লাহ ইবনু উমর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবান জু’ফি (রহঃ) ... ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহ শরীফের নিকট সালাত আদায় করছিলেন। আবূ জাহল ও তার কতক সাথী (অদুরে) উপবিষ্ট ছিল। আগেরদিন সেখানে একটি উট যবাই করা হয়েছিলো। আবূ জাহল বলল, কে অমুক গোত্রের উটের (নাড়িভুড়িসহ) জরায়ু নিয়ে আসবে এবং মুহাম্মাদ যখন সিজদায় যারে, তখন তার দুই কাঁদের মধ্যবর্তী স্থানে তা রেখে দেবে? তখন সম্প্রদায়ের সবচাইতে দূরাচার লোকটি উঠে দাঁড়ালো এবং তা নিয়ে আসলো এবং যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় গেলেন তখন তার দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে তা রেখে দিল। তখন তারা হাসাহাসি করতে লাগলো এবং একে অপরের গায়ের উপর ঢলে পড়তে লাগলো আর আমি তখন দাঁড়িয়ে তা দেখলাম। যদি আমার প্রতিরোধের সাধ্য থাকতো তবে আমি তা অবশাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিঠ থেকে ফেলে দিতাম।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় রইলেন এবং তিনি মাথা উঠাচ্ছিলেন না। অবশেষে একব্যক্তি গিয়ে ফাতিমাকে খবর দিল। ফাতিমা তৎক্ষনাৎ আসলেন। আরা তিনি তখন কিশোরী (বালিকা)। তিনি তা তাঁর উপর থেকে ফেলে দিলেন। তারপর তাদের দিকে মুখ করে তাদেরকে বকা দিতে থাকেন।
তারপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত সম্পন্ন করলেন তখন উচ্চঃস্বরে তাদেরকে বদ দু’আ দিলেন আর তিনি যখন দু’আ করতেন (সাধারণত) তিনবার করতেন এবং যখন কিছু প্রার্থনা করতেন তখন তিনি তিনবার করতেন। তারপর তিনি তিন তিনবার বললেনঃ “ইয়া আল্লাহ! তোমার উপরেই কোরেশদের (বিচারের ভার) ন্যস্ত করলাম।
যখন তারা তার আওয়ায শুনতে পেল তখন তাদের হাসি চলে গেল এবং তারা তার বদ দু’আয় ভয় পেয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আবূ জাহল ইবনু হিশাম, উৎবা ইবনু রাবীআ, শায়বা ইবনু রাবীআ, ওলীদ ইবনু উকবা, উমাইয়া ইবনু খালফ ও উকবা ইবনু আবূ মুআইতের শাস্তির ভার তোমার উপর ন্যস্ত।
রাবী বলেন, তিনি সপ্তম জনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আমি তা স্মরণ রাখতে পারিনি। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যে পবিত্র সত্তা সত্যসহ রাসুলরূপে প্রেরণ করেছেন, তার কসম! তিনি যাদের নাম সেদিন উচ্চারণ করেছিলেন বদরের দিন তাদের পতিত লাশ আমি দেখেছি। তারপর তাদের হেঁচড়িয়ে বদরের একটি কাঁচা কুপে নিক্ষেপ করা হয়।
আবূ ইসহাক বলেন, ওলীদ ইবনু উকবার নাম এখানে ভুলে উক্ত হয়েছে।
৪৪৯৯। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না ও মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদারত ছিলেন এবং তার আশেপাশে কুরায়শের কিছু লোকজন জড়ো ছিল। এমন সময় উকবা ইবনু আবূ মুআইত (উটনীর নাড়িভুড়িসহ) জরায়ু নিয়ে এল এবং তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিঠের উপর নিক্ষেপ করলো। তিনি মাথা উঠাতে পারছিলেন না। তারপর ফাতিমা আসলেন এবং তা তার পিঠ থেকে সরিয়ে দিলেন এবং যে ব্যক্তি তা করেছে, তাকে বদ দুআ করলেন।
তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ ইয়া আল্লাহ!। তোমার উপরই কুরাইশ সম্প্রদায়ের আবূ জাহল ইবনু হিশাম, উকবা ইবনু রাবীআ, শায়বা ইবনু রাবীআ, উকবা ইবনু আবূ মুআইত, উমাইয়া ইবনু খালফ অথবা উবাই ইবনু খালফ (এদের বিচারের ভার) ন্যস্ত। রাবী শুবা (শেষের দুই নামের কোনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, সে ব্যাপারে) সন্দেহ করেন।
রাবী বলেন, এরপর আমি বদরের দিন তাদের দেখেছি যে, তারা সকলে নিহত হয়েছে এবং একটি কুপে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। কেবল উমাইয়া বা উবাই এর লাশ বাদ ছিল। কেননা তার লাশ জোড়ায় জোড়ায় বিচ্ছিন্ন হয়েছিল বিধায় কুপে নিক্ষেপ করা হয়নি।
৪৫০০। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী সুফিয়ান (রহঃ) বাড়িয়ে বলেছেন, “এবং তিনি তিনবার (বলা) পছন্দ করতেন। তিনি বলছিলেন, ইয়া আল্লাহ! কুরাইশের (এদের) (বিচারের ভার) তোমার উপর ন্যস্ত। ইয়া আল্লাহ! কুরাইশদের (বিচারের ভার) তোমার উপর ন্যস্ত। ইয়া আল্লাহ! কুরায়শের (বিচারের ভার) তোমার উপরই ন্যস্ত। এভাবে তিনবার তিনি বলেন, এবং এদের মধ্যে ওয়ালীদ ইবনু উতবা ও উমাইয়া ইবনু খালফের কথা উল্লেখ করেন এবং রাবী তাতে কোনরূপ সন্দেহ প্রকাশ করেননি। রাবী আবূ ইসহাক বলেন, আমি সপ্তম (অভিশপ্ত) ব্যক্তির নাম ভুলে গেছি।
৪৫০১। সালামা ইবনু শাবীব (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বায়তুল্লাহর দিকে মুখ করে কুরায়শের ছয় ব্যক্তির জন্য বদ দুআ করলেন। তাদের মধ্যে আবূ জাহল, উমাইয়া ইবনু খালফ, উতবা ইবনু রবীআ, শায়বা ইবনু রাবীআ, উকবা ইবনু আবূ মু’আইত রয়েছে। আল্লাহর কসম করে বলছি আমি তাদের পতিত শবদেহগুলো, বদরে দেখেছি! সূর্যতাপ তাদের বিকৃত করে ফেলেছিল। আর সেই দিনটিও ছিল অত্যন্ত গরমের।
৪৫০২। আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারাহ, হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া ও আমর ইবনু সাওয়াদ আমেরী (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার জীবনে কি উহুদ দিবসের চাইতেও কঠোরতর কোন দিন এসেছে? তিনি বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের হাতে আকাবার দিন যে নিগ্রহের সম্মুখীন হয়েছি, তা এর চাইতেও কঠোরতর ছিল। যখন আমি (আল্লাহর পানে দাওয়াত দিতে গিয়ে) ইবনু আবদ ইয়ালীল ইবনু আবদ কিলালের কাছে নিজেকে পেশ করেছিলাম। কিন্তু সে আমার ডাকে (আশানুরূপ) সাড়া দেয়নি।
তখন আমি অত্যন্ত দিকভ্রান্ত অবস্থায় সম্মুখের দিকে চলতে লাগলাম এবং ’কারনুস ছা’আলিব’ নামক স্থানে না পৌছা পর্যন্ত আমি (কেন কোথায় যাচ্ছি তার) সম্বিৎ ফিরে পাইনি। তারপর যখন আমি মাথা উঠলাম তখন দেখি, একখণ্ড মেঘ আমাকে ছায়াপাত করছে এবং এর মধ্যে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) কে দিখতে পেলাম। তিনি আমাকে ডাক দিয়ে বললেন, মহা মহিমানিত আল্লাহ আপনার প্রতি আপনার সম্প্রদায়ের উক্তি এবং আপনাকে প্রদত্ত তাদের উত্তরও শুনেছেন এবং তিনি আপনার নিকট পাহাড়ের ফিরিশতাকে পাঠিয়েছেন, যেন আপনি আপনার সম্প্রদায়ের লোকজনের ব্যাপারে যেরূপ ইচ্ছা সেরুপ আদেশ তাকে করেন।
তখন পাহাড়ের ফিরিশতাও আমাকে ডাক দিলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। তারপর বললেন, ইয়া মুহাম্মাদ! আপনার প্রতি আপনার সম্প্রদায়ের লোকজনের উক্তি আল্লাহ তা’আলা শুনেছেন। আর আমি হা-নাম পাহাড়ের (তত্ত্বাবধানকারী) ফিরিশতা। আপনার রব আপনার কাছে আমাকে এজন্যে পাঠিয়েছেন যেন আপনি আপনার ইচ্ছামত আমাকে নির্দেশ দেন। (আপনি বললে) আমি এ পাহাড় দুটিকে তাদের উপর চাপা দিয়ে দিব। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি বরং আশা করছি যে, আল্লাহ তাআলা হয়তো এদের ঔরস থেকেই এমন বংশধরদের জন্ম দিবেন, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তার সঙ্গে কিছুকে শরীক করবে না।
৪৫০৩। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... জুনদব ইবনু সুফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি আঙ্গুল কোন একটি অভিযানে রক্তাক্ত (আহত) হয়। তখন তিনি (উক্ত আঙ্গুলকে লক্ষ্য করে) বললেনঃ তুমি তো একটি আঙ্গুল মাত্র, তুমি আহত হয়েছ এবং তুমি যে কষ্ট পেয়েছ, তা আল্লাহর পথেই (গন্য)।
হাদিস নং ৪৫০৪সহিহ
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَارٍ فَنُكِبَتْ إِصْبَعُهُ .
বর্ণনাকারী: আসওয়াদ ইবনু কায়েস (রহঃ)
৪৫০৪। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আসওয়াদ ইবনু কায়েস (রহঃ) থেকে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে রাবী আরও বলেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন এক গুহায় (বাহিনীতে) ছিলেন, তখন তার আঙ্গুলের যখম হয়।
৪৫০৫। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আসওয়াদ ইবনু কায়েস থেকে বর্ণিত যে, তিনি জুন্দুব (রহঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, জিবরীল (আলাইহিস সালাম) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসতে বিলম্ভ করেন। এতে মুশরিকরা বলতে লাগলো, মুহাম্মাদ পরিত্যক্ত হয়েছেন। তখন আল্লাহ তায়ালা নাযিল করলেন, “শপথ পূর্বাহ্ণের, শপথ রজনীর, যখন তা হয় নিঝুম, তোমার প্রতিপালক তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হন নি।”
৪৫০৬। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ... আসওয়াদ ইবনু কায়িস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জুনদুব ইবনু সুফিয়ান (রহঃ) কে বলতে শুনেছি, (একবার) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিড়িত হন বিধায় দুই বা তিন রাত্রি জাগতে পারেন নি (তাহাজ্জুদের জন্য)। তখন একটি মহিলা এসে বললো, “মুহাম্মাদ, আশা করি, এবার তোমার শয়তান তোমাকে ছেড়ে দিয়েছে। কেননা, দুই বা তিন রাত যাবৎ তোমার নিকটে তার আগমন লক্ষ্য করছিনা।” তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন, “শপথ পূর্বাহ্নের, শপথ রজনীর, যখন তা হয় নিঝুম, তোমার প্রতিপালক তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি নারাজও হননি।”
৪৫০৮। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... উসামা ইবনু যায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাধায় আরোহণ করলেন যার উপর জীন (বসার গদি) ছিল এবং তার নীচে একটি ফাদাকী মখমল বিছানো ছিল। তিনি তার পাশ্চাতে উসামা (রাঃ) কে বসালেন। বনী হারিস ইবনু খাযরাজ গোত্রের এলাকায় তিনি সাঈদ ইবনু উবাদা (রাঃ) কে (তার অসুস্থ অবস্থায়) দেখতে যাচ্ছিলেন। এটা ছিল বদর যুদ্ধের পূর্বের ঘটনা। তিনি এমন একটি সমাবেশ অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, যেখানে মুসলিম, মুশরিক পৌত্তলিক ও ইয়াহুদীরা একত্রে বসা ছিল। তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনু উবাইও ছিল এবং মজলিসে আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) ও ছিলেন। যখন মজলিসটি সাওয়ারীর ধূলায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল, তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই তার নাক চাঁদর দিয়ে ঢেকে নিল।
এরপর বলল, আপনারা আমাদের উপর ধুলি উড়াবেন না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সালাম দিলেন। তারপর তিনি সেখানে থামলেন এবং নামলেন। আর তাদের আল্লাহর পথে দাওয়াত দিলেন। এবং তাদের সম্মুখে কোরআন শরীফ তিলাওয়াত করলেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই বলে উঠলো, ওহে লোক! আপনি যা বলছেন, তা যদি সত্যই হয় তবে এর চাইতে উত্তম আর কিছুই নয়, যে আপনি আমাদের মজলিসে এসে আমাদের কষ্ট দিবেন না। আপনি আপনার বাসস্থানে ফিরে যান। সেখানে আমাদের মধ্যকার যে ব্যক্তি যায়, তার কাছে আপনি এসব উপদেশ বিতরন করবেন।
তখন আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) বলে উঠলেন, (ইয়া রাসুলাল্লাহ) আমাদের মজলিসে (যতখুশী ইচ্ছা) আগমন করবেন। কেননা, আমরা তা পছন্দ করি। তখন মুসলিম, মুশরিক, ইয়াহুদীরা পরস্পরে বাদানুবাদ ও গালাগালিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এমন কি রীতিমত একটা দাঙ্গা বাঁধার উপক্রম হয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিবৃত করতে লাগলেন। তারপর তাঁর বাহনে সাওয়ার হয়ে সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ) এর বাড়ীতে গিয়ে প্রবেশ করলেন এবং বললেন, সা’দ! তুমি কি শোননি আবদুল্লাহ ইবনু উবাই কী বলেছে? সে এরু এরূপ উক্তি করেছে। সা’দ (রাঃ) বললেন, একে ক্ষমা করে দেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! এবং মার্জনা করুন। আল্লাহর কসম! আল্লাহ যে মর্যাদা দিয়েছেন, তা তো দিয়েছনই। (কিন্তু তার ব্যাপার?)
এই জনপদের লোকজন স্থির করেছিল যে, তাকে রাজ মুকুট ও (সর্দারের) পাগড়ী পরাবে। (অর্থাৎ তাকে তাদের নেতা বানাবে) কিন্তু আল্লাহ তা’আলা আপনাকে যে সত্য দান করেছেন, তা দিয়ে যখন আল্লাহ তায়াআলা তার আকাঙ্খা ঠুকরে দিলেন, তাতে সে বিদ্বিষ্ট হয়ে পড়ে। তাই সে এরূপ আচরণ করেছে যা আপনি প্রত্যক্ষ করেছেন। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মার্জনা করে দিলেন।
৪৫০৯। মুহাম্মদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ... ইবনু শিহাব (রহঃ) এর সুত্রে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে এতটুকু বর্ধিত উল্লেখ করেছেন, এটা আবদুল্লাহর (বাহ্যতঃ) ইসলাম গ্রহনের পুর্বের কথা।
হাদিস নং ৪৫১০সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الْقَيْسِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قِيلَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَوْ أَتَيْتَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَىٍّ قَالَ فَانْطَلَقَ إِلَيْهِ وَرَكِبَ حِمَارًا وَانْطَلَقَ الْمُسْلِمُونَ وَهِيَ أَرْضٌ سَبِخَةٌ فَلَمَّا أَتَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِلَيْكَ عَنِّي فَوَاللَّهِ لَقَدْ آذَانِي نَتْنُ حِمَارِكَ . قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ وَاللَّهِ لَحِمَارُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَطْيَبُ رِيحًا مِنْكَ - قَالَ - فَغَضِبَ لِعَبْدِ اللَّهِ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِهِ - قَالَ - فَغَضِبَ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا أَصْحَابُهُ - قَالَ - فَكَانَ بَيْنَهُمْ ضَرْبٌ بِالْجَرِيدِ وَبِالأَيْدِي وَبِالنِّعَالِ - قَالَ - فَبَلَغَنَا أَنَّهَا نَزَلَتْ فِيهِمْ ( وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا) .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৫১০। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আ’লা কায়সী (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলা হলো, (ইয়া রাসুলাল্লাহ) যদি আপনি আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর কাছে যেতেন! তিনি তখন একটি গাধায় চড়ে তার কাছে রওনা হলেন। একদল মুসলিমও তার সঙ্গে গেলেন। এলাকাটি ছিল একটি লোনা ঊষর ভূমি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর কাছে উপস্থিত হলেন, তখন সে বললো, দুরে থাকবেন। আল্লাহর কসম! আপনার গাধার দুর্গন্ধ আমাকে কষ্ট দিচ্ছে।
রাবী বলেন, তখন আনসারদের একজন উঠে (তৎক্ষণাৎ) জবাব দিলেন, আল্লাহর কসম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গাধার গন্ধ তোমার দুর্গন্ধের চাইতে অনেক উত্তম।” রাবী বলেন, তখন আবদুল্লাহর সম্প্রদায়ের একব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো। রাবী বলেন, তারপর উভয় পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো। রাবী বলেন, তখন তাদের মধ্যে লাঠি, হাতাহাতি ও জুতা মারামারি লেগে গেল। পরে আমরা জানতে পারলাম তাদের উদ্দেশ্য কুরআনের আয়াতঃ “যদি ঈমানদারদের দুটি দল পরস্পরে হানাহানিতে লিপ্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে সমঝোতা করে দাও।” নাযিল হয়েছে।
৪৫১১। আলী ইবনু হুজর সা’দী (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বদর যুদ্ধের দিন) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবূ জাহলের কী হলো, কে আমাদের জানাবে। তখন ইবনু মাসউদ বেরিয়ে গেলেন এবং (যুদ্ধক্ষেত্রে) গিয়ে দেখলেন, আফরা (রাঃ) এর দুই পুত্র তাকে এমনি আঘাত করেছে যে, সে ঠান্ডা হয়ে গেছে। রাবী বলেন, তখন ইবনু মাসউদ তার দড়ি ধরে বললেন, তুমি কি আবূ জাহল? সে বললো, একজন পুরুষের চাইতেও বড় কিছু তোমরা হত্যা করেছ কি? অথবা সে বললো, যাকে তার সম্প্রদায়ের লোকেরা হত্যা করেছে? রাবী বলেন, আবূ মিজলায (রহঃ) বলেছেন, আবূ জাহল বলেছে হায়! চাষা ছাড়া অন্য কেউ যদি আমাকে হত্যা করতো।
৪৫১২। হামিদ ইবনু উমর বাকরাবী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ “আবূ জাহল কি করলো, তা কে আমার জন্য জেনে আসবে”? অতঃপর তিনি ইবনু উলায়্যা ও আবূ মিজলায (রহঃ) এর অনুরূপ হাদীসটি বর্ননা করেছেন, যেমন ইসমাঈল (রহঃ) বর্ণনা করেছেন।
৪৫১৩। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী ও আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রাহমান ইবনু মিসওয়ার যুহরী (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কাব ইবনু আশরাফের (নিধনের) জন্য কে আছ? কেননা, সে আল্লাহ তা’আলা ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কষ্ট দিয়েছে। তখন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কি চান যে, আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে আমাকে (প্রয়োজনমত কথা বানিয়ে) বলার অনুমতি দিন। তিনি বললেন, বলো।
তারপর তিনি তার কাছে এলেন। তিনি (কথা প্রসঙ্গে তাদের পূর্বেকার) পারস্পরিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করলেন এবং বললেন, “এ ব্যক্তি তো (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাদাকা উসূল করতে চায় এবং সে আমাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে।” সে যখন তা শুনতে পেলো, তখন বললো, আরো অপেক্ষা কর। আল্লাহর কসম, তোমরা তার কারণে বিরক্ত হবেই। তখন তিনি বললেন, আমরা সবে মাত্র তাঁর অনুসারী হয়েছি। তাই ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে গড়ায় তা না দেখে এ মুহূর্তেই তাকে ত্যাগ করাটাও সমীচীন মনে করছিনা।
এখন আমি চাই তুমি আমাকে কিছু ধার দাও। সে বললো, তুমি আমার কাছে কী বন্ধক রাখবে? তিনি বললেন, তুমি কি চাও সে বললো, তোমাদের নারীদের আমার কাছে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, “তুমি হলে আরবের সবচাইতে সুন্দর পুরুষ। এ অবস্থায় তোমার কাছেআমাদের রমনীদের কি বন্ধক রাখতে পারি? তখন সে বললো, তা হলে তোমাদের সন্তানদের আমার কাছে বন্ধক রাখ। জবাবে তিনি বললেন, “আমাদের কারো সন্তানকে এ বলে গালি দেয়া হবে যে, তাকে মাত্র দুই ওসাক (প্রায় দশ মণ পরিমাণ) খেজুরের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে। আমরা বরং তোমার কাছে যুদ্ধাস্ত্র বন্ধক রাখবো। সে বললো, ঠিক আছে।”
তখন তার সাথে ওয়াদাবদ্ধ হলেন যে, হারিস, আবূ আবস ইবনু জাব্র ও আব্বাদ ইবনু বিশর সহ তার কাছে আসবেন। তারপর রাতের বেলা তারা তার কাছে আসলেন এবং তাকে ডাকলেন। সে তাদের কাছে নেমে এল। রাবী সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, রাবী আমর ব্যতীত অন্যরা বলেন, তখন তার স্ত্রী তাকে বললো, আমি এমন একটি আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি তা যেন খুনের স্বর। সে বললো, এ হচ্ছে মুহাম্মাদ আর তার দুধ ভাই আবূ নাইলা। সম্ভ্রান্ত লোককে যদি রাতের বেলা অস্রঘাতের মুখে ডাকা হয় তবুও সে ডাকে সে সাড়া দেয়।। মুহাম্মাদ (তার সঙ্গীদের) বললেন, সে যখন আসবে, তখন আমি তার শির লক্ষ্য করে আমার হাত বাড়াবো। যখন আমি তা ভালমতো ধরে নেবো, তখন তোমরা তোমাদের কাজ সেরে নেবে।
তিনি বলেন, তারপর সে গায়ে চাঁদর জড়িয়ে নীচে নেমে এল। তারা বললেন, আমরা তোমার নিকট থেকে অতি সুঘ্রাণ পাচ্ছি। সে বললো, হ্যাঁ আমার স্ত্রী অমুক হচ্ছেন আরবের সর্বাধিক সুঘ্রাণের মহিলা। তখন তিনি বললেন, আমাকে তা থেকে একটু সুবাস নিতে অনুমতি দিবেন? তখন সে বললো, হ্যাঁ। তখন মাথা কাছে টেনে শুকলেন। তারপর আবার শুকলেন। এরপর পুনরায় বললেন, আমাকে কি আবারও একটু ঘ্রাণ নিতে দিবেন একথা বলে তিনি তার মাথা শক্ত করে ধরে সাথীদের বললেন, তোমরা সেরে ফেল। তিনি বলেন, তখন তাঁরা তাকে হত্যা করে ফেললো।
৪৩. খায়বার যুদ্ধ
হাদিস নং ৪৫১৪সহিহ
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عُلَيَّةَ - عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، بْنِ صُهَيْبٍ عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزَا خَيْبَرَ قَالَ فَصَلَّيْنَا عِنْدَهَا صَلاَةَ الْغَدَاةِ بِغَلَسٍ فَرَكِبَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَكِبَ أَبُو طَلْحَةَ وَأَنَا رَدِيفُ أَبِي طَلْحَةَ فَأَجْرَى نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي زُقَاقِ خَيْبَرَ وَإِنَّ رُكْبَتِي لَتَمَسُّ فَخِذَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَانْحَسَرَ الإِزَارُ عَنْ فَخِذِ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنِّي لأَرَى بَيَاضَ فَخِذِ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا دَخَلَ الْقَرْيَةَ قَالَ " اللَّهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِينَ " . قَالَهَا ثَلاَثَ مِرَارٍ قَالَ وَقَدْ خَرَجَ الْقَوْمُ إِلَى أَعْمَالِهِمْ فَقَالُوا مُحَمَّدٌ - قَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ وَقَالَ بَعْضُ أَصْحَابِنَا - وَالْخَمِيسَ قَالَ وَأَصَبْنَاهَا عَنْوَةً .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৫১৪। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরের যুদ্ধে যাত্রা করেন। আমরা সেদিন তাঁর সঙ্গে সকালের সালাত (ফজর) অন্ধকারে (প্রথম ওয়াক্তে) আদায় করি। তারপর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাহনে আরোহণ করলেন এবং আবূ তালহা (রাঃ)ও তার সাওয়ারীতে চড়লেন। আর আমি (আরোহী) ছিলাম আবূ তালহার পশ্চাতে। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরের গলিপথে চললেন। (আমরা এত পাশাপাশি পথ চলছিলাম যে) আমার আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উরু স্পর্শ করেছিলো।
এমন সময় আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর লুঙ্গি তাঁর উরুদেশ থেকে সরে গেল। আর আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উরুর শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তিনি যখন খায়বরের জনপদে প্রবেশ করলেন, তখন বললেনঃ আল্লাহু আকবার, খায়বর ধ্বংস হলো। আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিনায় পৌঁছি, তখন যাদের সতর্ক করা হয়েছে, তাদের সকাল অশুভ হয়ে যায়। তিনি একথা তিনবার বললেন।
রাবী বলেন, লোকজন তাদের কাজকর্মে বেরিয়ে গেল। তারা বলে উঠলো, “মুহাম্মাদ (এসে পড়েছেন দেখছি)”। রাবী আবদুল আযীয বলেন, আমাদের কোন কোন সঙ্গী বললেন, আর তাঁর পঞ্চবাহিনীও (এসে পড়েছে)। রাবী বলেন, আমরা শক্তি বলে (যুদ্ধ করে) তা জয় করে নিলাম।
হাদিস নং ৪৫১৫সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كُنْتُ رِدْفَ أَبِي طَلْحَةَ يَوْمَ خَيْبَرَ وَقَدَمِي تَمَسُّ قَدَمَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَأَتَيْنَاهُمْ حِينَ بَزَغَتِ الشَّمْسُ وَقَدْ أَخْرَجُوا مَوَاشِيَهُمْ وَخَرَجُوا بِفُئُوسِهِمْ وَمَكَاتِلِهِمْ وَمُرُورِهِمْ فَقَالُوا مُحَمَّدٌ وَالْخَمِيسَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِينَ " . قَالَ فَهَزَمَهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৫১৫। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বরের যুদ্ধের দিন আমি আবূ তালহার পিছনে (একই ঘোড়ার পিঠে সাওয়ার) ছিলাম। আমার দু’পা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পদদ্বয়কে স্পর্শ করছিল। রাবী বলেন, সুর্যোদয়ের সময় আমরা সেখানে এলাম। তখন লোকজন তাদের পশুগুলি সবেমাত্র ঘর থেকে বের করেছে এবং তারা তাদের কোদাল, কুড়াল, জাম্বিল নিয়ে (কাজের জন্য) বেরিয়ে পড়েছে। তখন তারা (সবিস্ময়ে) বললো, “মুহাম্মাদ পঞ্চবাহিনীসহ! রাবী বলেন, আল্লাহর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খায়বর ধ্বংস হলো। আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিনায় অবতরণ করি তখন সতর্ককৃতদের সকাল অশুভ হয়ে যায়। রাবী বলেন, মহান আল্লাহ তা’আলা তাদের ধ্বংস করে দিলেন।
৪৫১৬। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বরে এলেন, তখন বললেন, আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিনায় পৌছি, তখন সতর্ককৃতদের সকাল অশুভ হয়ে যায়।
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - وَنَسَبَهُ غَيْرُ ابْنِ وَهْبٍ فَقَالَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ - أَنَّ سَلَمَةَ، بْنَ الأَكْوَعِ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ خَيْبَرَ قَاتَلَ أَخِي قِتَالاً شَدِيدًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَارْتَدَّ عَلَيْهِ سَيْفُهُ فَقَتَلَهُ فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ وَشَكُّوا فِيهِ رَجُلٌ مَاتَ فِي سِلاَحِهِ . وَشَكُّوا فِي بَعْضِ أَمْرِهِ . قَالَ سَلَمَةُ فَقَفَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ خَيْبَرَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي أَنْ أَرْجُزَ لَكَ . فَأَذِنَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَعْلَمُ مَا تَقُولُ قَالَ فَقُلْتُ وَاللَّهِ لَوْلاَ اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا وَلاَ تَصَدَّقْنَا وَلاَ صَلَّيْنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَدَقْتَ " . وَأَنْزِلَنَّ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاَقَيْنَا وَالْمُشْرِكُونَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا قَالَ فَلَمَّا قَضَيْتُ رَجَزِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَالَ هَذَا " . قُلْتُ قَالَهُ أَخِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَرْحَمُهُ اللَّهُ " . قَالَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ نَاسًا لَيَهَابُونَ الصَّلاَةَ عَلَيْهِ يَقُولُونَ رَجُلٌ مَاتَ بِسِلاَحِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ ثُمَّ سَأَلْتُ ابْنًا لِسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِيهِ مِثْلَ ذَلِكَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ - حِينَ قُلْتُ إِنَّ نَاسًا يَهَابُونَ الصَّلاَةَ عَلَيْهِ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَذَبُوا مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا فَلَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ " . وَأَشَارَ بِإِصْبَعَيْهِ .
বর্ণনাকারী: সালামাহ ইবনু আক্ওয়া‘ (রাঃ)
৪৫১৮। আবূ তাহির (রহঃ) ... সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বরের যুদ্ধের দিন আমার ভাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে থেকে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। তাঁর তরবারী ফিরে এসে স্বয়ং তাঁকেই নিহত করে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ তার ব্যাপারে নানা মন্তব্য করতে থাকেন এবং তার শাহাদাতের ব্যাপারে সন্দেহ করেন। তাঁরা বলাবলি করেন যে, সে এমন লোক, যে তার নিজ অস্রের আঘাতে মারা গেছে। আর তারা তার কোন কোন ব্যাপারেও সন্দেহ করেন।
সালামা বলেন, তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বর থেকে প্রত্যাবর্তন করলে আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তাঁর কবিতার কয়েকটি পংক্তি আবৃতি করি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তখন বলে উঠলেন, আমি জানি, তুমি কি বলবে। রাবী বলেন, তারপর আমি আবৃত্তি করলামঃ
“ইয়া আল্লাহ! আপনি না হলে, আমরা হিদায়াত পেতাম না, আমরা সাদাকা দিতাম না এবং সালাত আদায় করতাম না।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি যথার্থই বলেছো। তখন আমি আবৃতি করে চললামঃ “আমাদের প্রশাস্তি দান করুন এবং শত্রুর সম্মুখীন হলে আমাদের পা অটল রাখুন। মুশরিকরা আমাদের প্রতি বিদ্রোহী হল। যখন আমি আমার কবিতা পড়ে শেষ করলাম, তখন বললেনঃ এ কবিতাটি কে রচনা করেছে? আমি বললাম, আমার ভাই। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তাঁর প্রতি সদয় হোন।
তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! কিছু লোক তার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষনে দ্বিধাগ্রস্ত! তারা বলেন, সে এমন লোক, যে তার নিজ অস্ত্রের আঘাতে মারা গেছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে জিহাদ করতে করতে মুজাহিদের মত মরেছে।
রাবী ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, তারপর আমি সালামার এক পুত্রকে প্রশ্ন করলে তিনি আমাকে তার পিতার সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ব্যতিক্রম এতটুকু যে, তিনি বলেন, আমি যখন বললাম, কোন কোন লোক তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণে দ্বিধাগ্রস্ত, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা মিথ্যা বলেছে। সে জিহাদ করতে করতে মুজাহিদের মত মারা গেছে। তার দুটি পুরস্কার নির্ধারিত রয়েছে এবং তিনি তখন তার দুটি অঙ্গুলি দ্বার ইশারা করলেন।
৪৫১৯। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দকের যুদ্ধের দিন আমাদের সঙ্গে একত্রে মাটি বহন করেন। মাটি তার পেটের শুভ্রতাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আর তখন তিনি আবৃতি করছিলেনঃ আল্লাহর কসম! আপনি না হলে আমরা হেদায়াত পেতাম না, সাদাকা দিতাম না এবং সালাতও আদায় করতাম না। আমাদের প্রশান্তি দান করুন, আর তারাতো বিদ্রোহী দল আমাদের বিরুদ্ধে।
আবার কখনও কখনও বলছিলেনঃ সর্দাররা আমাদের মানতে অস্বীকার করল, তারা যখন ফিতনা চাইল, তখন আমরা অস্বীকার করলাম।
আর তা উচ্চারণের সময় তিনি তাঁর স্বর উচ্চ করছিলেন।
৪৫২০। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা (রাঃ) কে অনুরূপ বলতে শুনেছি। তবে তিনি বলেন যে, ওরা আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল।
হাদিস নং ৪৫২১সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ جَاءَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نَحْفِرُ الْخَنْدَقَ وَنَنْقُلُ التُّرَابَ عَلَى أَكْتَافِنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ لاَ عَيْشَ إِلاَّ عَيْشُ الآخِرَةِ فَاغْفِرْ لِلْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ " .
বর্ণনাকারী: সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
৪৫২১। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা কা’নবী (রহঃ) ... সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এলেন, আমরা তখন পরিখা (খন্দক) খনন করছিলাম এবং কাঁধে করে মাটি স্থানান্তরিত করছিলাম। তিনি বললেন, "ইয়া আল্লাহ! আখিরাতের সুখ ছাড়া সুখ নেই, মুহাজির ও আনসারদের আপনি ক্ষমা করুন।"
৪৫২২। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, “ইয়া আল্লাহ! আখিরাতের জীবন ছাড়া জীবন নেই। আপনি ক্ষমা করে দিন আনসার ও মুহাজিরদের।
৪৫২৩। ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) এর অন্য রেওয়ায়েতে আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেনঃ ”ইয়া আল্লাহ! (প্রকৃত) জীবন (কেবল) আখিরাতের জীবন। শুবা বলেন, অথবা তিনি বলেছেনঃ ইয়া! আল্লাহ! আখিরাতের জীবন ছাড়া কোনজীবন নেই। আনসার ও মুহাজিরদের প্রতি দয়া করুন।
৪৫২৪। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও শায়বান ইবনু ফাররুখ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁরা (সেদিন) সমবেত সুরে গাইতে ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন। তাঁরা বলছিলেনঃ "ইয়া আল্লাহ! প্রকৃত মঙ্গল তো আখিরাতে মঙ্গল। আনসার ও মুহাজিরদের সাহায্য করুন।"
শায়বানের বর্ণনায় فَانْصُرْه স্থলে فَاغْفِرْه বলেছেন।
হাদিস নং ৪৫২৫সহিহ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أَصْحَابَ، مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم كَانُوا يَقُولُونَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ نَحْنُ الَّذِينَ بَايَعُوا مُحَمَّدًا عَلَى الإِسْلاَمِ مَا بَقِينَا أَبَدًا أَوْ قَالَ عَلَى الْجِهَادِ . شَكَّ حَمَّادٌ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنَّ الْخَيْرَ خَيْرُ الآخِرَهْ فَاغْفِرْ لِلأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرَهْ " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৫২৫। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ খন্দকের দিন বলছিলেনঃ আমরা সেই লোক যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বায়আত হয়েছি। আর ইসলামের উপরই আছি। রাবী মুহাম্মদ সন্দেহ করে বলেন, অথবা বলেছিলেনঃ জিহাদের উপরই আছি সর্বদা।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেনঃ "ইয়া আল্লাহ! সকল মঙ্গল তো আখিরাতের মঙ্গল। আনসারদের এবং মুহাজিরদের ক্ষমা করুন।"
৪৫. যু-কারদ ও অন্যান্য যুদ্ধ
হাদিস নং ৪৫২৬সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي، عُبَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ سَلَمَةَ بْنَ الأَكْوَعِ، يَقُولُ خَرَجْتُ قَبْلَ أَنْ يُؤَذَّنَ، بِالأُولَى وَكَانَتْ لِقَاحُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَرْعَى بِذِي قَرَدٍ - قَالَ - فَلَقِيَنِي غُلاَمٌ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ فَقَالَ أُخِذَتْ لِقَاحُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ مَنْ أَخَذَهَا قَالَ غَطَفَانُ قَالَ فَصَرَخْتُ ثَلاَثَ صَرَخَاتٍ يَا صَبَاحَاهْ . قَالَ فَأَسْمَعْتُ مَا بَيْنَ لاَبَتَىِ الْمَدِينَةِ ثُمَّ انْدَفَعْتُ عَلَى وَجْهِي حَتَّى أَدْرَكْتُهُمْ بِذِي قَرَدٍ وَقَدْ أَخَذُوا يَسْقُونَ مِنَ الْمَاءِ فَجَعَلْتُ أَرْمِيهِمْ بِنَبْلِي وَكُنْتُ رَامِيًا وَأَقُولُ أَنَا ابْنُ الأَكْوَعِ وَالْيَوْمَ يَوْمُ الرُّضَّعِ فَأَرْتَجِزُ حَتَّى اسْتَنْقَذْتُ اللِّقَاحَ مِنْهُمْ وَاسْتَلَبْتُ مِنْهُمْ ثَلاَثِينَ بُرْدَةً - قَالَ - وَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي قَدْ حَمَيْتُ الْقَوْمَ الْمَاءَ وَهُمْ عِطَاشٌ فَابْعَثْ إِلَيْهِمُ السَّاعَةَ فَقَالَ " يَا ابْنَ الأَكْوَعِ مَلَكْتَ فَأَسْجِحْ " . - قَالَ - ثُمَّ رَجَعْنَا وَيُرْدِفُنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى نَاقَتِهِ حَتَّى دَخَلْنَا الْمَدِينَةَ .
বর্ণনাকারী: সালামাহ ইবনু আক্ওয়া‘ (রাঃ)
৪৫২৬। কুতাহাবা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ফজরের আযানের আগেই বের হয়ে পড়লাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুধেল উঠনি তখন যু-কারদে (চারণ ভূমিতে) চরছিল। তখন আমার সাথে রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) এর গোলামের সাক্ষাৎ হলে সে বলল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুধেল উটনী সমুহকে নিয়ে গেছে। আমি বললাম, কে সেগুলো নিয়ে গেছে? সে বলল, গাতফান গোত্রের লোকেরা। রাবী বলেন, তখন আমি উচ্চস্বরে তিনবার হাকঁ দিলাম; আগমন! (ভোররাতে) (সাহায্য চাই, সাহায্য)। রাবী (সালামা ইবনু আকওয়া) বলেন, মদিনার উভয় প্রান্তের মধ্যবর্তী সবাইকে আমি আমার সে হাক শুনালাম তারপর সোজা বেরিয়ে পড়লাম এবং যু-কারদের গিয়ে তাদের (লুটেরাদের) নাগালে পেলাম।
তখন তারা তাদের পশুদেরকে পানি পান করাচ্ছিলাম। তখন আমি তীর নিক্ষেপ করতে শুরু করলাম। আমি ছিলাম একজন (দক্ষ) তীরন্দাজ। আর তখন আমি বীরত্ব সূচক কবিতা আবৃতি করছিলাম, আমি আকওয়ার পুত্র, আজ ইতরদের ধ্বংসের দিন। (কিংবা আজ তার দিন, যে শৈশব থেকে যুদ্ধের স্তন্য পান করেছে)।
আমি আমার তীর নিক্ষেপ ও বীরত্বব্যঞ্জক কখিতা আবৃতি করতে থাকলাম। অবশেষে আমি উটনীগুলো মুক্ত করলাম এমনকি আমি তাদের ত্রিশটি (বড়) চাদরও ছিনিয়ে নিলাম। এমন সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও লোকজন এসে পড়লেন। তখন আমি বললাম, “ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তাদের পানির পথ রুদ্ধ করে রেখেছি, তাই তারা পিপাসার্ত। এবার আপনি একটি বাহিনী প্রেরণ করুন। তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আকওয়া, যথেষ্ট (বিরত্ব) দেখিয়েছ। এবার দয়স দেখাও। রাবী বলেনঃ তারপর আমরা ফিরে এলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁরই উঠিনি পিছনে বসিয়ে নিলেন। এভবাএ আমরা মদিনায় পৌছলাম।
৪৫২৮। আহমাদ ইবনু ইউসুফ আযদী সুলামী (রহঃ) ... ইকরামা ইবনু আম্মার (রাঃ) এর সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৪৬. মহান আল্লাহর বানীঃ তিনি সেই সত্তা যিনি তাদের হাতকে তোমাদের উপর (আক্রমন করা) থেকে বিরত রেখেছেন
হাদিস নং ৪৫২৯সহিহ
حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ ثَمَانِينَ، رَجُلاً مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ هَبَطُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ جَبَلِ التَّنْعِيمِ مُتَسَلِّحِينَ يُرِيدُونَ غِرَّةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ فَأَخَذَهُمْ سَلَمًا فَاسْتَحْيَاهُمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنْ بَعْدِ أَنْ أَظْفَرَكُمْ عَلَيْهِمْ)
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৫২৯। আমর ইবনু মুহাম্মাদ নাকিদ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মক্কাবাসীদের মধ্য থেকে সশস্র আশি ব্যক্তি তানঈম পাহাড় থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে অবতরণ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণের অসতর্কতার সুযোগ নিবে। তিনি তাদের বিনা যুদ্ধে বন্দী করলেন, এরপর তাদের জীবিত ছেড়ে দিলেন। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ (তিনি সেই পবিত্র সত্তা যিনি মক্কা প্রান্তরে তাদের হাতকে তোমাদের উপর থেকে এবং তোমাদের হাতকে তাদের উপর থেকে (আক্রমন করা হতে) বিরত রেখেছেন তাদের উপর তোমাদের বিজয়ী করার পর।
৪৭. পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীলোকের যুদ্ধযাত্রা
হাদিস নং ৪৫৩০সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ، اتَّخَذَتْ يَوْمَ حُنَيْنٍ خِنْجَرًا فَكَانَ مَعَهَا فَرَآهَا أَبُو طَلْحَةَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ أُمُّ سُلَيْمٍ مَعَهَا خَنْجَرٌ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا هَذَا الْخَنْجَرُ " . قَالَتِ اتَّخَذْتُهُ إِنْ دَنَا مِنِّي أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ بَقَرْتُ بِهِ بَطْنَهُ . فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضْحَكُ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ اقْتُلْ مَنْ بَعْدَنَا مِنَ الطُّلَقَاءِ انْهَزَمُوا بِكَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أُمَّ سُلَيْمٍ إِنَّ اللَّهَ قَدْ كَفَى وَأَحْسَنَ " . وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ، عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، فِي قِصَّةِ أُمِّ سُلَيْمٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ حَدِيثِ ثَابِتٍ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৫৩০। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (তার মা) উম্মে সুলাইম হুনাইনের যুদ্ধের দিন একটি খঞ্জর ধারন করেছিলেন, আর সেটি তার সঙ্গে ছিল। আবূ তালহা তাঁকে দেখতে পেয়ে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইনি উম্মে সুলাইম। আর তার সাথে একটি খঞ্জর রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ এ খঞ্জর কিসের জন্য? তিনি বললেন, এটা এজন্য নিয়েছি যদি কোন বিধর্মী মুশরিক আমার কাছাকাছি আসে, তবে এদিয়ে আমি তার পেট চিরে ফেলবো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসতে লাগলেন।
তখন তিনি (উম্মে সুলাইম) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! (মক্কা বিজয়ের দিন) আমাদের ছাড়া তুলামা যারা (যারা সাধারণ ক্ষমার আওতায়) ছাড়া পেয়ে গিয়েছে এবং পরাজয়ের মুখে ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাদের হত্যা করে ফেলুন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উম্মে সুলাইম! প্রবল প্রতাপান্বিত ও মহামহিম আল্লাহই (মুশরিকদের বিরুদ্ধে) যথেষ্ট ও সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন। তিনি (আমাদের প্রতি) সদয় রয়েছেন। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত উম্মে সুলাইমের কাহিনী বর্ণনা প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে পূর্বে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং ৪৫৩১সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْزُو بِأُمِّ سُلَيْمٍ وَنِسْوَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ مَعَهُ إِذَا غَزَا فَيَسْقِينَ الْمَاءَ وَيُدَاوِينَ الْجَرْحَى .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৫৩১। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সূলাইম ও আনসার কতিপয় মহিলাকে তার সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যেতেন। তারা (আর্তদের) পানি পান করাতেন এবং তাদের শুশ্রূষা করতেন।
৪৫৩২। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারেমী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ওহুদ যুদ্ধের দিন পরাস্ত হয়ে কতিপয় লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।আবূ তালহা (রাঃ) তার সামনে একটি ঢাল দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আড়াল করে রেখেছিলেন। আর আবূ তালহা (রাঃ) ছিলেন একজন অতি দক্ষ তীরন্দাজ। সেদিন (যুদ্ধে) তিনি দুই বা তিনটি ধনুক ভেঙ্গে ফেলেন। রাবী বলেন, যখনই কোন ব্যক্তি তীর ভর্তি তুনীর নিয়ে পাশ দিয়ে যেতো, তখনই তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, এগুলো আবূ তালহার জন্য রেখে যাও। রাবী বলেন, যখনই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা তুলে লোকজনের প্রতি তাকাতেন, তখনই আবূ তালহা (রাঃ) বলে উঠতেন, হে আল্লাহর নবী! আপনার জন্য আমার পিতামাতা কোরবান! আপনি মাথা উঠাবেন না; এমন না হয় শত্রু পক্ষের তীর এসে আপনার গায়ে লাগে। আপনার সীনার রক্ষার্থে আমার সীনা নিবেদিত। আবূ তালহা বলেন, আমি (সেদিন) আবূ বকর তনয়া আয়িশা ও উম্মে সুলায়মকে এমন অবস্থায় দেখেছি, তারা তাদের পিঠে পানির মশক বয়ে আনছিলেন। তখন তারা এমনভাবে কাপড় গুছিয়ে চলছিলেন যে, ”আমি তাদের নলীর খাড়ু দেখতে পাচ্ছিলাম। তারা আহতদের মুখে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। তারা আবার গিয়ে মশক ভরে পনি এনে আহতদের মুখে পানি দিচ্ছিলেন। আবূ তালহার হাত থেকে সেদিন তন্দ্রার ঘোরে দুবার বা তিনবার তলোয়ার পড়ে যায়।
৪৮. জিহাদ অভিযানে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের অনুদান রূপে কিছু দেয়া যাবে। তাদের জন্য গনীমতের নির্ধারিত অংশ নেই। শত্রুপক্ষের (অযোদ্ধা) শিশুদের হত্যা করা নিষিদ্ধ
৪৫৩৩। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা ইবনু কানাব (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবনু হরমুয (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাজদা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে পাঁচটি ব্যাপারে প্রশ্ন করে পত্র লিখলেন। তখন ইবনুু, আব্বাস (রাঃ) বললেন, যদি আমি ইলম গোপনকারীর হওয়ার আশংকা না করতাম তা হলে আমি তার কাছে জবাব লিখতাম না। নাজদ সে পত্রে তাকে লিখেছিলেন, হামদ ও সালাতের পর আমাকে অবহিত করুন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মহিলাদেরকে নিয়ে যুদ্ধযাত্রা করতেন? তিনি তাদেরকে কি গনীমতের ভাগ দিতেন কি? শত্রুপক্ষের বালকদেরকে হত্যা করতেন? আর কখন ইয়াতীমের ইয়াতীমদের অবসান ঘটে? আর গনীমতের এক পঞ্চমাংশের হকদার কারা?
জবাবে ইবনু আব্বাস (রাঃ) লিখলেন, তুমি আমাকে লিখিত প্রশ্ন করেছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মহিলাদেরকে নিয়ে যুদ্ধযাত্রা করতেন? হ্যাঁ, তিনি তাদেরকে নিয়ে যুদ্ধ যাত্রা করতেন এবং তাঁরা আহতদের সেবা-শুশ্রূষা করতেন এবং গনীমতের মাল থেকে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হতো, কিন্তু গনীমতের ভাগ তাদের জন্য বরাদ্দ করা হতো না। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও শিশুদের হত্যা করতেন না। সুতরাং তুমিও শিশুদেরকে হত্যা করবে না। আর তোমার লিপিতে আমাকে এও প্রশ্ন করেছে যে, কখন ইয়াতীমের ইয়াতীমদের অবসান হয়? আমার জীবনের শপথ! অনেক সময় কোন ব্যক্তির দাড়ি গজিয়ে যায়; অথচ সে তার নিজের হক গ্রহণে দূর্বল থাকে এবং অন্য কারো হক দানের বেলায়ও কাল থাকে। সুতরাং যখন সে লোকদের মতো নিজের অধিকার বুঝে নিতে পারে তখনই তার ইয়াতীমদের অবসান ঘটে।
আর তুমি লিখেছ, খুমুস কাদের প্রাপ্য?আমবা বলি, তা আমাদের (আহলে বাইতদের) জন্যই, কিন্তু আমাদের গোত্রের লোকেরা (বনূ উমাইয়া) তা অস্বীকার করছে।
৪৫৩৪। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু হরমুয (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাজদা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রা) কে কয়েকটি ব্যাপারে প্রশ্ন করে পত্র লিখেন। পরবর্তী অংশ সুলায়মান ইবনু বিলালের হাদীসের অনুরূপ। তবে হাতীমের এ হাদীসে রয়েছে যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদেরকে হত্যা করতেন না। সুতরাং তুমিও শিশুদেরকে হত্যা করবে না। তবে যদি তুমি তা জানতে পারো, যে খিযির সেই বালক সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন, যাকে তিনি হত্যা করছিলেন, তবে স্বতন্ত্র কথা।
এ হাদীসের একজন রাবী ইসহাক (রহঃ) তাঁর বর্ণনায় সূত্র এতটুকু বাড়িয়েছেন- আর যদি তুমি বেছে বের করতে পারো মুমিনকে, তবে তুমি কাফিরকে হত্যা করবে এবং মুমিনকে ছেড়ে দেবে।
৪৫৩৫। ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবনু হুরমুয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নাজদা ইবনু আমির হারুরী (খারেজী) ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট পত্র লিখে জানতে চাইলেন, জিহাদে উপস্থিত গোলাম ও মহিলাদের গনীমতের অংশ দেওয়া হবে কি? আর (শত্রুপক্ষের) বালকদের হত্যা সম্পর্কে এবং ইয়াতীম সম্পর্কে যে, কখন তার ইয়াতীমতের অবস্থান ঘটবে? এবং যাবিল কুরবা বা (রাসুলের) নিকটাত্নীয় কারা? তখন তিনি ইয়াযিদকে বললেন, তুমি তাকে লিখ, তার নির্বুদ্ধিতায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে আমি তাকে পত্র লিখাতাম না। লিখ তুমি আমাকে লিখেছো এ প্রশ্ন করে সে, যারা জিহাদে যোগ দিয়েছে এমন নারী এবং গোলামকে কি গনীমতের কিছু দেওয়া হবে? তাদের (নির্ধারিত) কিছুই দেওয়া হবে না।
তবে বখশীশরুপে অনুদান (রূপে) দেওয়া হবে। তুমি আমাকে প্রশ্ন করে লিখেছ বালকদের হত্যা সম্পর্কে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও তাদেরকে হত্যা করেননি এবং তুমিও তাদেরকে হত্যা করবে না। যদি তুমি তাদের ব্যাপারে তা জানতে পারো যা মূসা (আলাইহিস সালাম) এর সঙ্গী [খিযির (আ)] জানতে পেরেছিলেন, যে ছেলেটিকে তিনি হত্যা করেছিলেন, তার সম্পর্কে তবে (তা স্বতন্ত্র কথা)। তার ইয়াতীম নাম ঘুচবেনা যতক্ষণ না সে বালিগ হবে এবং তার মধ্যে বুদ্ধিমত্তা পরিলক্ষিত হবে। আর তুমি আমাকে যাবিল কুরবা, সম্বন্ধে প্রশ্ন করে লিখেছ যে, তারা কারা? আমরা মনে করতাম, আমরাই তারা। কিন্তু আমাদের (ক্ষমতাসীন) লোকেরা তা অস্বীকার করেছে।
৪৫৩৬। আবদুর রহমান ইবনু বাশশার আবদী (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবনু হরমূয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাজদা ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে পত্র লিখে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। আবূ ইসহাক বলেন,... সুফিয়ান (রহঃ) অনুরূপ হাদীস বিস্তারিত বর্ণনা করেন।
৪৫৩৭। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... কায়েস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াযীদ ইবনু হরমুযকে আমি এ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। মুহাম্মদ ইবনু হাতিম ইয়াযীদ ইবনু হরমুয থেকে বর্ণিত। তিনি বলে, নাজদা ইবনু আমির ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে পত্র লিখেন। রাবী বলেন , ইবনু আব্বাস (রাঃ) যখন তাঁর পত্রখানি পাঠ করেন এবং যখন তিনি তার জবাব লিখেন তখন আমি তার (ইবনু আব্বাস) সামনেই উপস্থিত ছিলাম। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, যদি সে (অপকর্মের) দুর্গন্ধে পতিত হবে বলে আশংকা না করতাম তবে আমি তার কাছে জবাব লিখতাম না। তার চোখ কোন দিন না জুড়াক।
রাবী বলেন, তারপর তিনি তাকে লিখলেন, তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছ, আল্লাহ (গনীমতের অংশ সংক্রান্ত আয়াতে) (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) সে ঘনিষ্ঠজনসম্পর্কে উল্লেখ করেছেন তাহা কারা? আমরা মনে করি, আমরাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সেই ঘনিষ্ঠজন। তিনি লোকেরা তা অস্বীকার করে। আর তুমি ইয়াতীম সম্পর্কে প্রশ্ন করেছ যে, কখন তার ইয়াতীমত্বের অবসান ঘটে? যখন সে বিবাহযোগ্য হয়, তার মধ্যে বুদ্ধি-বিবেচনা পরিলক্ষিত হয় এবং তার সস্পদ তার কাছে প্রত্যার্পণ করা হয়, তখন তার ইয়াতীমদের অবসান ঘটে।
আর তুমি প্রশ্ন করেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মুশরিকদের কোন ছেলে সন্তানকে হত্যা করতেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দিন তাদের ছেলে সন্তানদের কাউকে হত্যা করেননি। সুতরাং তুমিও তাদের কাউকে হত্যা করবে না। অবশ্য যদি তুমি অবগত হও, যা অবগত হয়েছিলেন খিযির (আলাইহিস সালাম) সে বালকটির সম্পর্কে যখন তিনি তাকে হত্যা করেন। আর তুমি প্রশ্ন করেছ, নারী ও গোলাম সম্পর্কে, যখন তারা যুদ্ধে উপস্থিত থাকে, তাদের জন্য নির্ধারিত অংশ নেই। তরে লোকদের গনীমাতের মাল থেকে তারা বখশীশ (অনুদান) পায়।
৪৫৩৮। আবূ কুরায়েব (রহঃ) ... ইয়াযিদ ইবনু হরমুয (রহঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, নাজদা ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে লিখেছিলেন, রাবী এ হাদীসের কিছু অংশ রেওয়ায়েত করেছেন। তবে তাঁদের হাদীসসমুহের মতো তিনি কাহিনী পুরোপুরি বর্ণনা করেননি।
৪৫৩৯। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা আনসারীয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আমি তাঁদের শিবিরের পশ্চাতে অবস্থান করতাম। তাদের খাবার তৈরী করতাম, আহতদের চিকিৎসা করতাম এবং রোগীদের সেবা-শুশ্রুষা (দেখা-শুনা) করতাম।
৪৫৪১। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্নিত যে, আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) লোকজনকে নিয়ে ইস্তিস্কার সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি দু’রাকআত সালাত আদায় করলেন, এরপর বৃষ্টির জন্যে দু’আ করলেন। রাবী বলেন, সেদিন আমি যায়িদ ইবনু আরকাম (রাঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি বলেন, আমার এবং তাঁর মাঝখানে একজন ছাড়া কোন লোক ছিলনা। অথবা তিনি বলেছেন, আমার এবং তার মাঝখানে কেবল একজন লোক ছিলেন। আমি তখন তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতগুলো যুদ্ধ করেছেন? তিনি বললেন, ঊনিশটি তখন আমি বললাম, আপনি তার সঙ্গে কত যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন। তিনি বললেন, সতেরটি যুদ্ধে। রাবী বলেন, তখন আমি প্রশ্ন করলাম, সর্ব প্রথম তিনি কোন যুদ্ধটি করেছেন? তিনি বললেন, যাতুল-উসায়র বা (যাতুল) উশায়র।
৪৫৪২। আবূ বকর ইবনু শায়বা (রহঃ) ... যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঊনিশটি যুদ্ধ করেছেন। হিজরতের পর একটি-মাত্র হজ্জ করেছিলেন, যেটি ছাড়া আর কোন হজ্জ করেননি তা হল বিদায় হজ্জ।
হাদিস নং ৪৫৪৩সহিহ
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تِسْعَ عَشْرَةَ غَزْوَةً - قَالَ جَابِرٌ - لَمْ أَشْهَدْ بَدْرًا وَلاَ أُحُدًا مَنَعَنِي أَبِي فَلَمَّا قُتِلَ عَبْدُ اللَّهِ يَوْمَ أُحُدٍ لَمْ أَتَخَلَّفْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةٍ قَطُّ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৫৪৩। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ঊনিশটি যুদ্ধ করেছি। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি বদর ও উহুদ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে পারিনি। আমার পিতা আমাকে তা থেকে বিরত রেখেছিলেন। তারপর যখন উহুদ যুদ্ধে (আমার পিতা) আবদুল্লাহ (রাঃ) শহীদ হলেন তারপর থেকে আমি আর কখনো কোন যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পশ্চাৎপদ হইনি।
৪৫৪৪। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও সাঈদ ইবনু মুহাম্মাদ জারমী (রহঃ) ... বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঊনিশটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে আটটিতে তিনি সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেন। রাবী আবূ বকর এর মধ্যে (مِنْهُنَّ) শব্দটি বলেন নি এবং তিনি তাঁর বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনু বুরায়দা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
হাদিস নং ৪৫৪৫সহিহ
وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ كَهْمَسٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ غَزَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِتَّ عَشْرَةَ غَزْوَةً .
বর্ণনাকারী: বুরায়দাহ ইবনু হুসাইব আল-আসলামী (রাঃ)
৪৫৪৫। আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) ... বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ষোলটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
৪৫৪৬। মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাস (রহঃ) ... সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করি। তিনি যতগুলি অভিযানে সৈন্য প্রেরণ করেছেন তার মধ্যে নয়টিতে আমি অংশগ্রহণ করি। একবার আমাদের সেনাপতি ছিলেন আবূ বকর (রাঃ) আর একবার আমাদের সেনাপতি ছিলেন উসামা ইবনু যায়িদ (রাঃ)।
৪৫৪৭। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... হাতিম (রহঃ) এ হাদীসটি উল্লেখিত সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তাঁর বর্ণনায় উভয় ধরনের সাতটি অভিযানের সংখ্যা বলেছেন।
৪৫৪৮। আবূ আমির আবদুল্লাহ ইবনু বাররাদ আশআরী ও মুহাম্মাদ ইবনু আ’লা হামদানী (রহঃ) ... আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে একটি যুদ্ধ অভিযানে বের হলাম। আমাদের প্রতি ছয়জনের মধ্যে ছিল একটি উট, যার উপর আমরা পালাক্রমে সাওয়ার হতাম। তিনি বলেন, এতে আমাদের পা ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। আমার দুপা এতই বিক্ষত হয়েছে যে, আমার পায়ের নখগুলো উপড়ে পড়ে যায়। তাই আমরা আমাদের পায়ে পট্টী বেধেছিলাম। এ কারণে এ অভিযান যাতুর-রিকা (رقعة কাপড়ের টুকরা, এর বহুবচন رقاع) নামে অভিহিত হই। যেহেতু আমরা আমাদের পা কাপড়ের টুকরা দিয়ে পেঁচিয়েছিলাম।
আবূ বুরদাহ (রাঃ) বলেন, আবূ মূসা (রাঃ) এ হাদীসটি একবার বর্ণনা করার পর পুনরায় বর্ণনা করা পছন্দ করেননি। রাবী বলেন, এ দ্বারা তার আমলের প্রকাশ পায় বলে তিনি তা উল্লেখ করা পছন্দ করেননি। আবূ উসামা বলেন, বুরায়দ ছাড়া এ হাদীসের অন্য রাবী একথা বলেছেন, “আল্লাহ তার প্রতিদান দিবেন”।
৫১. যুদ্ধ অভিযানে কোন কাফিরের সাহায্য গ্রহন করা মাকরূহ
হাদিস নং ৪৫৪৯সহিহ
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو الطَّاهِرِ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ الْفُضَيْلِ بْنِ أَبِي، عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نِيَارٍ الأَسْلَمِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قِبَلَ بَدْرٍ فَلَمَّا كَانَ بِحَرَّةِ الْوَبَرَةِ أَدْرَكَهُ رَجُلٌ قَدْ كَانَ يُذْكَرُ مِنْهُ جُرْأَةٌ وَنَجْدَةٌ فَفَرِحَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ رَأَوْهُ فَلَمَّا أَدْرَكَهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جِئْتُ لأَتَّبِعَكَ وَأُصِيبَ مَعَكَ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ " . قَالَ لاَ قَالَ " فَارْجِعْ فَلَنْ أَسْتَعِينَ بِمُشْرِكٍ " . قَالَتْ ثُمَّ مَضَى حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالشَّجَرَةِ أَدْرَكَهُ الرَّجُلُ فَقَالَ لَهُ كَمَا قَالَ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَمَا قَالَ أَوَّلَ مَرَّةٍ قَالَ " فَارْجِعْ فَلَنْ أَسْتَعِينَ بِمُشْرِكٍ " . قَالَ ثُمَّ رَجَعَ فَأَدْرَكَهُ بِالْبَيْدَاءِ فَقَالَ لَهُ كَمَا قَالَ أَوَّلَ مَرَّةٍ " تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ " . قَالَ نَعَمْ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَانْطَلِقْ " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৫৪৯। যুহায়র ইবনু হারব, আবূ তাহির (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর অভিমুখে রওয়ানা হলেন। যখন তিনি ’হাররাতুল ওবারা’ নামক স্থানে পৌছলেন, তখন এমন এক ব্যক্তি এসে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলো, যে থেকে তার শৌর্য-বীর্য ও সাহসিকতার জন্য মশহুর ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ তাকে দেখতে পেয়ে অত্যান্ত আনন্দিত হলেন। সে যখন সাক্ষাৎ করলো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললো, আমি আপনার সঙ্গে যেতে এবং আপনার সঙ্গে (গনীমত) পেতে এসেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখ? সে বললো, না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তুমি ফিরে যাও, আমি কোন মুশরিকের সাহায্য গ্রহণ করব না।
আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন লোকটি চলে গেল। যখন আমরা ’শাজারায়’ উপনীত হলাম, তখন সে ব্যক্তি তার সঙ্গে দেখা করলো এবং তার পূর্বের কথার পূনরোক্তি করলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পূর্বের কথার পুনরাবৃত্তি করলেন এবং বললেন, তুমি ফিরে যাও, আমি কোন মুশরিকের সাহায্য গ্রহণ করব না। এবারও সে চলে গেল। তারপর সে আবার বায়দা তে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রথমবারের মত জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি বিশ্বাস পোষণ কর? সে বললো, জ্বী হ্যাঁ। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, এখন (আমাদের সাথে) চল।
বর্ণনাকারী: বুরায়দাহ ইবনু হুসাইব আল-আসলামী (রাঃ)
৪৩৭২। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম (রহঃ) ... বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সেনাবাহিনী কিংবা সেনাদলের উপর আমীর নিযুক্ত করতেন তখন বিশেষ করে তাকে আল্লাহ ভীতি অবলম্বনের এবং তার সঙ্গী মুসলিমদের প্রতি কল্যাণজনক আচরণ করার উপদেশ দিতেন। আর (বিদায়লগ্নে) বলতেন, যুদ্ধ করো আল্লাহর নামে, আল্লাহর রাস্তায়। লড়াই কর তাদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করেছে। যুদ্ধ চালিয়ে যাও, তবে (গনীমতের মালের) খিয়ানত করবে না, চুক্তি ভঙ্গ করবে না, শত্রু পক্ষের অঙ্গ বিকৃতি করবে না। শিশুদেরকে হত্যা করবে না।
যখন তুমি মুশরিক শত্রুর সন্মুখীন হবে, তখন তাকে তিনটি বিষয় বা আচরণের প্রতি আহবান জানাবে। তারা এগুলোর মধ্য থেকে যেটই গ্রহণ করে, তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে। প্রথমে তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দিবে। যদি তারা তোমার এই আহবানে সাড়া দেয়, তবে তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকবো এরপর তুমি তাদের আবাসস্থল ত্যাগ করে মুহাজিরদের এলাকায় চলে যাওযার আহবান জানাবে। এবং তাদের জানিয়ে দিবে যে, যদি তারা তা কার্যকরী করে, তবে মুহাজিরদের জন্য যে সব লাভ লোকসান ও দায়দায়িত্ব রয়েছে, তা তাদের উপর কার্যকরী হবে। আর যদি তারা আবাস ত্যাগ করতে অস্বীকার করে, তবে তাদের জানিয়ে দেবে যে, তারা সাধারণ বেদুঈন মুসলিমদের মত গণ্য হবে। তাদের উপর আল্লাহর সেই বিধান কার্যকরী হবে, যা সাধারণ মুসলিমদের উপর কার্যকরী হয় এবং তারা গনীমত ও ফায় থেকে কিছু পাবে না। অবশ্য মুসলিমের সঙ্গে শামিল হয়ে যুদ্ধ করলে (তার অংশীদার হবে)।
আর যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তবে তাদের কাছে জিযিয়া, প্রদানের দাবী জানাবে। যদি তারা তা গ্রহণ করে নেয়, তবে তুমি তাদের তরফ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে। আর যদি তারা এ দাবী না মানে তবে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়।
আর যদি তোমরা কোন দুর্গবাসীকে অবরোধ কর এবং তারা যদি তোমার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যিম্মা চায়, তবে তুমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তার রাসুলের যিম্মা মেনে নিবে না। বরং তাদেরকে তোমার এবং তোমার সাথীদের যিম্মাদারীতে রাখবে। কেননা যদি তোমাদের ও তোমাদের সাথীদের যিম্মাদারী ভঙ্গ করে, তবে তা আল্লাহ ও তার রাসূলের যিম্মাদারী ভঙ্গের চাইতে কম গুরুতর।
আর যদি তোমরা কোন দুর্গের-অধিবার্সীদেরকে অবরোধ কর, তখন যদি তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক অবতরণ করতে (আত্মসমর্পন) চায় তবে তোমবা তাদেরকে আল্লাহর হুকুমের উপর আত্মসমর্পন করতে দিবে না, বরং তুমি তাদেরকে তোমার সিদ্ধান্তের উপর আত্মসমর্পন করতে দেবে। কেননা তোমার জানা নেই যে, তুমি তাদের মাঝে আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়িত করতে পারবে কি না?
আবদূর রহমান (রহঃ) এই হাদীস কিংবা এই হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইসহাক (রহঃ) তাঁর বর্ণিত হার্দীসের শেষাংশে ইয়াহইয়া ইবনু আদম (রহঃ) সুত্রে কিছু অধিক বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এই হাদীসটি মুকাতিল ইবনু হাইয়্যান (রহঃ) এর কাছে বর্ণনা করেছি। তখন তিনি ইয়াহইয়া (রহঃ) অর্থাৎ আলকামা (রহঃ) এর কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি তা বর্ণনা করেছেন ইবনু হায়্যানের উদ্দেশ্যে। অতএব তিনি বলেন যে, মুসলিম ইবনু হায়সাম (রহঃ), নু’মান ইবনু মুকাররিন (রহঃ) সুত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
বর্ণনাকারী: আবূ কাতাদাহ্ আল-আনসারী (রাঃ)
৪৪১৬। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামিমী, কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও আবূ তাহির (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হুনাইনের যুদ্ধের বছর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। আমরা যখন শত্রুদের মুখামুখি হলাম তখন মুসলিমদের মধ্যে ছুটাছুটি আরম্ভ হল। এ সময় আমি একজন মুশরিককে দেখতে পেলাম যে, সে একজন মূসলমানের উপর চড়ে বসেছে। তখন আমি একটু ঘুরে এসে তার পিছন দিক দিয়ে তার কাঁধের উপর আঘাত করলাম। তখন সে আমার দিকে অগ্রসর হয়ে আমাকে এমনভাবে চেপে ধরল যে, আমি এতে মৃত্যুর গন্ধ পেলাম। এপর সে মৃত্যু মুখে ঢলে পড়ল এবং আমাকে ছেড়ে দিল।
এরপর আমি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এর সঙ্গে মিলিত হলাম। তিনি বললেন, লোকদের কী হয়েছে? আমি বললাম এ আল্লাহর কাজ (ইচ্ছা)। তারপর (পলায়নপর) লোকেরা এল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন (যুদ্ধ ক্ষেত্রে) বসেছিলেন। তিনি বললেন, যে মুসলিম সৈন্য অপর কোন শত্রু সৈন্যকে হত্যা করেছে এবং এতে তার প্রমান আছে, তবে তার (পরিত্যক্ত) সম্পদ তারই (হত্যাকারী মুজাহিদেরই প্রাপ্য)।
বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি দাঁড়ালাম এবং বললাম, আমার জন্যে কে সাক্ষ্য দেবে? তারপর আমি বসে পড়লাম। তারপর তিনি আবার সেরূপ কথা বললেন, আমি দাঁড়ালাম এবং বললাম কে আমার জন্যে সাক্ষ্য দেবে? এবং আমি বসে পড়লাম। তিনি তৃতীয়বারও ঐরুপ বললেন। বর্ণনাকারী বলেন, তা শুনে আমি (আবার) দাঁড়ালাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবূ কাতাদা! তোমার কি হয়েছে? আমি তখন তার কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম।
তখন এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ (আবূ কাতাদা) সত্য বলেছেন। ঐ নিহত ব্যক্তির (পরিত্যক্ত) সম্পদ আমার কাছে রক্ষিত আছে। আপনি তার হক (আমাকে দেওয়া) এর ব্যাপারে তাঁকে রাজি করিয়ে দেন। তখন আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) বললেন, না, আল্লাহর কসম! তা হতে পারে না। আল্লাহর সিংহসমুহের মধ্য হতে কোন এক সিংহ (যোদ্ধা) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষে যুদ্ধ করেছেন, তার প্রাপ্য সম্পদ যেন তোমাকে প্রদানের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনস্থ না করেন।
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (আবূ বকর) ঠিকই বলেছেন। সুতরাং তিনি বললেন, তাকে (আবূ কাতাদাকে) দিয়ে দাও। তখন সে তা দিয়ে দিল। আবূ কাতাদা (রাঃ) বললেন, আমি তা থেকে লৌহ বর্মটি বিক্রি করলাম এবং তা দিয়ে বনী সালামার মহল্লায় একটি ফলের বাগান খরিদ করলাম। এই ছিল আমার ইসলামী জীবনের প্রথম অর্জিত সম্পদ।
লাইস (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে যে, আবূ বকর (রাঃ) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন আল্লাহর সিংহসমূহের মধ্য থেকে কোন এক সিংহকে বাদ দিয়ে তা কুরাইশের কোন শৃগালকে (কাপুরুষকে) প্রদান না করেন।
বর্ণনাকারী: ইবনু শিহাব আয-যুহরী (রহঃ)
৪৪২৫। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আসম যুবায়ী (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। মালিক ইবনু আউস (রাঃ) তাঁকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন। বেলা উঠে গেলে আমি তাঁর নিকট এলাম। তখন আমি তাকে তার বাসস্থানে খাটের উপর বসা অবস্থায় পেলাম। তাতে চাটাই ছাড়া আর কোন বিছানা ছিলনা। তিনি চামড়ার একটি বালিশের উপর হেলান দিয়ে ছিলেন। তখন তিনি আমাকে বললেন, হে মালু! (অর্থাৎ হে মালিক)। হঠাৎ তোমার সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারের লোকজন আমার কাছে এলো, আমি তাদেরকে কিছু দেওয়ার মনস্থ করেছি। তুমি তা গ্রহণ কর এবং তাদের মধ্যে বণ্টন করে দাও।
আমি বললাম, আপনি যদি এর নির্দেশ আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকে দিতেন, (তা হলে ভালো হতো)। তখন তিনি বললেন, হে মালু (অর্থাৎ হে মালিক), তুমি তা গ্রহণ কর। এমন সময় ইয়ারফা (রহঃ) তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন উসমান, আবদুর রহমান ইবনু আউফ, যুবাইর এবং সা’দ। তখন উমর (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ তাদেরকে আসতে দাও। তখন সকলেই প্রবেশ করলেন। এরপর পূনরায় ইয়ারফা আগমন করলো এবং বলল, আব্বাস এবং আলী (রাঃ) আপনার সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন। তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ তাদেরকেও আসতে দাও।
এরপর আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আমার মধ্যে এবং এই মিথ্যাবাদী, পাপী, প্রতারক ও বিশ্বাসঘাতকের মধ্যে মীমাংসা করে দিন। তখন লোকেরা বললো, হ্যাঁ- হে আমীরুল মু’মিনীন! তাদের মধ্যে বিযয়টি নিষ্পত্তি করে দিন এবং তাদের নিস্কৃতি দিন। (মালিক ইবনু আউস (রাঃ) বললেন, আমার ধারণা হল যে, তারা দু’জন অর্থাৎ আলী এবং আব্বাস (রাঃ) তাদেরকে পূর্বাহ্নে পাঠিয়ে ছিলেন এ ব্যাপারটির জন্যেই, যেন তাঁরা উমর (রাঃ) কে ব্যপারটি বুঝিয়ে নিষ্পত্তি করে দেন।)
উমার (রাঃ) বললেন, আপনারা একটু অপেক্ষা করুন। আমি আপনাদের সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার আদেশে আকাশ এবং পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থিত। আপনাদের কি জানা নেই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ [আমরা (নবীগণ) কাউকে ওয়ারিস বানিয়ে যাই না], আমরা যা রেখে যাই তা হবে সাদাকা। তখন তারা বললেন, হ্যাঁ, আমরা তা জানি।
এবার তিনি আলী এবং আব্বাস (রাঃ) এর দিকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের উভয়কে সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ এবং পৃথিবী যথাস্থানে অবস্হিত। আপনারা কি অবগত নন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ [আমরা (নবী (সম্প্রদায়) কাউকে উত্তরাধিকার করে যাই না।] আমরা যা রেখে যাই, তা হবে সাদাকা। তখন তারা উভয়েই বললেন, হ্যা। আমরা তা জানি।
তখন উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তা-আলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছেন, যা তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে প্রদান করেননি। তিনি বলেন, "আল্লাহ তায়ালা জনপদবাসীর নিকট থেকে তার রাসূলকে যা প্রদান করেছেন- তা আল্লাহ ও তার রাসূলের জন্য নির্দিষ্ট।" আমার জানা নেই যে, এ পঠিত আয়াতের পুর্বেও কোন আয়াত পাঠ করেছিলেন কিনা?
অতঃপর উমর (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তোমাদেরকে বনী নাযীর গোত্র থেকে প্রাপ্ত সস্পদ বল্টন করে দিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! তিনি সম্পদকে নিজের জন্য সংরক্ষিত- করে যাননি। আর তিনি এমনও করেননি যে, নিজে সম্পদ নিয়েছেন এবং তোমাদেরকে তা দেননি। পরিশেষে যে সম্পদ রইল তা থেকে আপন পরিবারের এক বছরের ভরণ পোষণের খরচ রেখে অবশিষ্ট সম্পদ বায়তুল মালে জমা দেন।
এরপর উমর (রাঃ) বললেনঃ, আপনাদেরকে সে মহান আল্লাহর কসম করে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ ও পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থান। আপনারা কি সে সব কথা অবগত আছেন। তখন তারা বলেন, হ্যাঁ, আমরা তা জানি। এরপর তিনি আব্বাস এবং আলী (রাঃ) উভয়কে অনুরূপ শপথ প্রদান করলেন, যেরূপ তিনি ইতিপুর্বে আগত সম্প্রদায়ের লোকদেরকে প্রদান করেছিলেন। তিনি বললেন, আপনারা উভয়ই কি এসব কথা জানেন? তখন তাঁরা বললেন, হ্যাঁ।
অতঃপর উমর-(রাঃ) বললেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকাল হল তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন যে, আমিই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওয়ালী। আর আপনারা উভয়েই এসেছিলেন, আপনি আপনার ভাতিজা থেকে মীরাস দাবী করতে। আর ইনি এসেছেন, তার স্ত্রী (ফাতেমার) পিতা থেকে মীরাস গ্রহণ করতে। এরপর আবূ বকর (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (আমাদের নবীগণের) সম্পত্তিতে কোন মিরাস-বন্টন নেই। আমরা যা পরিত্যাগ করে যাই তা হবে সাদাকা। আপনারা উভয়েই তো তাকে মিথ্যাবাদী, অপরাধী, বিশ্বাসঘাতক এবং খিয়ানতকারী মনে করছেন। প্রকৃতপক্ষে নিশ্চয়ই তিনি [আবু বাকর সিদীক (রাঃ)] সত্যবাদী, পূণ্যবান, সত্যপথ প্রদর্শক এবং সত্যের অনুসারী ছিলেন।
এরপর আবূ বকর (রাঃ) ইন্তেকাল করলেন। তখন আমি ওয়ালী হলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এবং আবূ বকর (রাঃ) এর ওয়ালী হলাম। সুতরাং আপনারা উভয়েই আমাকেও তার মত মিথ্যাবাদী, পাপী, বিশ্বাসঘাতক এবং খেয়ানতকারী মনে করছেন। আল্লাহ অবগত আছেন যে, নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী, পূণ্যবান, সত্যপথের অনুসারী এবং সত্যের অনুসারী। আমি সে সম্পদেরও অলী বা অভিভাবক। অতঃপর আপনি এবং ইনি এসেছেন। আপনারা উভয়েই এক ছিলেন এবং আপনাদের দাবীও এক ছিল। সুতরাং আপনারা বলছেন যে, এসব আমাদের কাছে দিয়ে দিন।
আমি বলি-যদি আপনারা চান, তবে আমি তা আপনাদেরকে দিয়ে দেব এই শর্তে যে, আপনারা এই সম্পদ দ্বারা সে কাজ করবেন, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। অতএব, আপনারা এ শর্তে আমার নিকট থেকে তা ’গ্রহণ করলেন। এরপর উমর (রাঃ) বললেন, আমার কথা কি যথার্থ? তখন উভয়েই বললেন, হ্যাঁ। উমর (রাঃ) বললেন, তারপরও আপনারা দু’জন আমার কাছে এসেছেন, আপনাদের মাঝে (সম্পদের) মীমাংসা করে দেয়ার জন্য। আল্লাহর কসম। আমি আপনাদের উভয়ের মাঝে এ ব্যতীত আর কোন মীমাংসা করতে পারবো না কিয়ামত পর্যন্ত। আর যদি আপনারা এতে অপারগ হন, তবে তা আপনারা আমার কাছে ফেরৎ দিন।
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৪২৮। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, ফাতিমা বিনত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর এর নিকট লোক পাঠালেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্পদ থেকে তার প্রাপ্য মীরাস এর দাবী করে, যা আল্লাহ তা’আলা তাকে মদিনা ও ফাদাক এর ফাই এবং খায়বারের অবশিষ্ট এক পঞ্চমাংশ থেকে প্রদান করেছিলেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গিয়েছেনঃ আমাদের (নবীগণের) (পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে) মীরাস হয় না। আমরা যা রেখে যাই তা হবে সাদাকা। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারবর্গ তা থেকে জীবিকা গ্রহণ করবেন। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়কালে সাদাকার যে অবস্থা চালু ছিল তা আমি পরিবর্তন করব না। আর এতে আমি নিশ্চয়ই সে কাজ করবো, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে গিয়েছেন।
অতএব, আবূ বকর (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ) কে তা থেকে কিছু প্রদান করতে অস্বীকার করলেন। সুতরাং ফাতিমা (রাঃ) এতে রাগাম্বিত হয়ে তাঁকে পরিত্যাগ করলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে (এ ব্যাপারে) আর কোন কথা বলেননি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের পর তিনি ছয় মাস জীবিত ছিলেন। এরপর যখন ইন্তিকাল করলেন তখন তাঁর স্বামী আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) তাকে রাতে দাফন করলেন এবং ফাতিমা এর মৃত্যু সংবাদ পর্যন্ত আবূ বাকবু (রাঃ) কে দেননি। আলী (রাঃ) তাঁর জানাযার সালাত আদায় করলেন। ফাতিমা (রাঃ) এর জীবিতকাল পর্যন্ত আলী (রাঃ) এর প্রতি জনগণের বিশেষ মর্যাদাবোধ ছিল।
এরপর যখন তাঁর ইন্তেকাল হল তখন তিনি লোকের চেহারায় অন্যভাব দেখতে পেলেন। অতএব, তিনি আবূ বকর (রাঃ) এর সঙ্গে আপোষ রফা করে, তার বায়আত গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহন করলেন। কয়েক মাস তিনি তার বায়আত করেননি। তারপর আলী (রাঃ), আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট লোক পাঠিয়ে সংবাদ দিলেন যে, আপনি একাকী আমাদের এখানে আসুন। আপনার সাথে অন্য কাউকে আনাবেন না। (কেননা তিনি উমার (রাঃ) এর আগমনকে অপছন্দ করছিলেন।) উমর (রাঃ) আবূ বকরকে বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি একাকী তাঁদের কাছে যাবেন না। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তারা আমার সাথে কীই বা করবেন। আল্লাহর কসম! আমি একাকীই যাব। পরিশেষে আবূ বকর (রাঃ) তাঁদের কাছে গেলেন।
এরপর আলী ইবনু আবূ তালেব (রাঃ) তাশাহুদ [তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য বানী] পাঠ করলেন, তারপর বললেন, হে আবূ বকর! আপনার মর্যাদা এবং আল্লাহ তা’আলা আপনাকে যে সম্মান প্রদান করেছেন, তা আমরা জানি। আর আল্লাহ তা’আলা আপনাকে যে নিয়ামত প্রদান করেছেন, তাতে আমার কোন ঈর্ষা নেই। কিন্তু আপনি আমাদের উপর শাসন ক্ষমতায় (খিলাফতের) একচ্ছত্রতা দেখিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্নীয়তার কারণে আমরা মনে করতাম যে, আমাদেরও অধিকার আছে। আবূ বকরের সঙ্গে তিনি কথা বলতে থাকলেন।
পরিশেষে আবূ বকর (রাঃ) এর দু’চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হল। এরপর যখন আবূ বকর (রাঃ) কথা বলতে শুরু করলেন, তখন তিনি বললেনঃ যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ করে বলছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্নীয়তার সৌহার্দ্য-সংযোগ রক্ষা করা আমার আত্নীয়তার প্রতি সংযোগ রক্ষার চাইতে আমার কাছে অধিক প্রিয়। তবে আমার এবং আপনাদের মধ্যে এই সম্পদ নিয়ে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে তাতে আমি সত্য পরিহার করি নি। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এতে যা করতে দেখেছি তা আমি পরিত্যাগ করি নি।
এরপর আলী (রাঃ), আবূ বকর (রাঃ) কে বললেন যে, আমি বায়আতের জন্য আপনাকে আজ বিকেল বেলায় কথা দিলাম। যখন আবূ বকর (রাঃ) যুহরের সালাত শেষ করলেন তখন তিনি মিম্বরে আরোহন করলেন এবং তাশাহুদ পাঠ করলেন। এরপর তিনি আলী (রাঃ) এর ঘটনা বর্ণনা করেন এবং তার বায়আত গ্রহণে বিলম্ব ও এ বিষয়ে তাঁর ওযর বর্ণনা করেন, যা আলী তার কাছে বর্ণনা করেছিল। এরপর তিনি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তারপর আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) তাশাহুদ পাঠ করলেন এবং আবূ বকর (রাঃ) এর মহত্ত্ব বর্ণনা করলেন। আর তিনি ব্যক্ত করলেন যে, তিনি যা করেছেন, তার কারণ আবূ বকর (রাঃ) এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা কিংবা আল্লাহ তা’আলা তাকে যে সম্মান দিয়েছেন তার প্রতি অস্বীকৃতি নয়; বরং আমরা মনে করতাম যে, শাসন ক্ষমতায় (খিলাফতের) মধ্যে আমাদেরও অংশ আছে। কিন্তু আবূ বকর (রাঃ) আমাদের বাদ দিয়ে একচ্ছত্ররূপে দায়িত্বভার গ্রহন করেন। এতে আমরা মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছি।
এ কথা শুনে মুসলিমগণ আনন্দিত হলেন এবং তাঁরা বললেন যে, আপনি ঠিকই করেছেন। যখন তখন তিনি সঙ্গত বিষয়ের দিকে ফিরে এলেন আবূ বকর (রাঃ) এর বায়আত গ্রহণ করলেন, তখন থেকে মুসলিমগণ আলী (রাঃ) এর সান্নিধ্যে আসতে লাগলেন।
বর্ণনাকারী: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
৪৪৩৬। হান্নাদ ইবনু সারী ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধের দিনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের দিকে তাকালেন, দেখলেন যে, তারা সংখ্যায় এক হাজার ছিল। আর তাঁর সাহাবী ছিলেন তিনশ তের জন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হলেন, এরপর দুহাত উঁচু করে উচ্চস্বরে তার পালনকর্তার কাছে দু’আ করতে লাগলেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছ আমার জন্য তা পূরণ কর। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যা প্রদানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছ, তা প্রদান কর। হে আল্লাহ! যদি মুসলিমদের এই ক্ষুদ্র সেনাদল ধ্বংস করে দাও তবে পৃথিবীতে তোমার ইবাদত করার মত আর কেউ থাকবে না। তিনি এমনিভাবে দু’হাত উঁচু করে কিবলামুখী হয়ে তার পালনকর্তার কাছে অনর্গল উচ্চস্বরে দু’আ করতে ছিলেন। এক পর্যায়ে তাঁর কাঁধ থেকে চাঁদর পড়ে গেল। এরপর আবূ বকর (রাঃ) তার কাছে এসে তার চারদ খানা তাঁর কাঁধে তুলে দিলেন। তারপর তাঁর পিছন দিক থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনার এতটুকু দুআই যথেষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা আপনার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছেন, তা অচিরেই পূর্ণ করবেন।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃإِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ مُرْدِفِينَ (স্মরণ কর, যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে তখন তিনি তা কবুল করেছিলেন এবং বলেছিলেন, আমি তোমাদেরকে এক হাজার ফিরিশতা দ্বারা সাহায্য করবো যারা একের পর এক আসবে)।
আবূ যুমায়ল বর্ণনা করেন যে, আমাকে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন যে, সে দিন একজন মুসলিম সৈনিক তার সামনের একজন মুশরিকের পিছনে ধাওয়া করছিলেন। এমন সময় তিনি তাঁর উপর দিক থেকে বেত্রাঘাতের শব্দ শুনতে পেলেন এবং তার উপর দিকে অশ্বারোহীর ধ্বনি শুনতে পেলেন। তিনি (অদৃশ্য অশ্বারোহী) বলছিলেন, হে হায়মুম, (ফিরিশতার ঘোড়ার নাম) সামনের দিকে অগ্রসর হও। তখন তিনি তার সামনের মুশরিক ব্যক্তির প্রতি তাকিয়ে দেখলেন যে, সে চিৎ হয়ে পড়ে আছে। এরপর দৃষ্টি করে দেখেন যে, তার নাক ক্ষতযুক্ত এবং তার মুখমণ্ডল
আঘাতপ্রাপ্ত। যেন কেউ তাকে বেত্রাঘাত করেছে। আহত স্থানগুলো সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে। এরপর আনসারী ব্যক্তি রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে যাবতীয় ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ। এই সাহায্য আকাশ-থেকে এসেছে। পরিশেষে সেদিন মুসলিমগণ সত্তর জন কাফিরকে হত্যা এবং সত্তর জনকে বন্দী করলেন।
আবূ যুমায়ল বলেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, যখন যুদ্ধ বন্দীদেরকে আটক করা হল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সব যুদ্ধবন্দী সম্পর্কে আবূ বকর (রাঃ) এবং উমর (রাঃ) এর পরামর্শ চাইলেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! তারা তো আমাদের চাচাতো ভাই এবং স্বগোত্রীয়। আমি উচিত মনে করি যে, তাদের নিকট থেকে আপনি মুক্তিপণ (فِدْيَة) গ্রহণ করুন। এতে কাফিরদের উপর আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। হতে পারে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দিবেন।
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ইবনুল খাত্তাব! এ ব্যাপারে তোমার অভিমত কি? উমর (রাঃ) বললেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম! ইয়া রাসুলাল্লাহ! আবূ বকর যা উচিত মনে করেন আমি তা উচিত মনে করি না। আমি মনে করি যে, আপনি তাদেরকে আমাদের হস্তগত করুন। আমরা তাদের গর্দান উড়িয়ে দেব। আকিল-কে আলী-এর হাতে অর্পণ করুন। তিনি তার শিরশ্ছেদ করবেন। আর (আমার বংশের) অমুককে আমার কাছে অর্পণ করুন, আমি তার শিরশ্ছেদ করবো। কেননা তারা হল কাফিরদের মর্যাদাশালী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
তখন আবূ বকর (রাঃ) যা বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটাই পছন্দ করলেন এবং আমি যা বললাম, তা তিনি পছন্দ করেননি। পরের দিন যখন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম, তখন দেখি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর (রাঃ) উভয়েই বসে কাঁদছেন। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে বলুন, আপনি এবং আপনার সাথী কেন কাঁদছেন? যদি আমার মধ্যে কান্নার ভাব জাগে তাহলে আমিও কাঁদবো। আর যদি আমার কান্না না আসে তবে আপনাদের কাঁদার কারণে আমিও কান্নার ভান করবো।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ফিদয়া গ্রহণের কারনে তোমার সাথীদের উপর সমাগত বিপদের কথা স্মরণ করে আমি কাঁদছি। আমার নিকট তাদের শাস্তি পেশ করা হল- এই গাছ থেকেও নিকটে। গাছটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটবর্তী। (একটি গাছের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, এ গাছের চাইতেও কাছে তোমাদের উপর সমাগত আযাব আমাকে দেখানো হয়েছে।) অতঃপর আল্লাহ তাআলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ
(مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ) إِلَى قَوْلِهِ ( فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلاَلاً طَيِّبًا)
"পৃথিবীর বুকে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবীর জন্য সঙ্গত নয় ... যুদ্ধে যা তোমরা লাভ করেছ তা বৈধ ও উত্তম বলে তোমরা ভোগ কর।" (সূরা আনফালঃ ৬৭-৬৯) এর ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁদের জন্য মালে গনীমত হালাল করে দেন।
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪৪৫৬। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী, ইবনু আবূ উমর, মুহাম্মদ ইবনু রাফি ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ সুফিয়ান (রাঃ) মুখোমুখি (সরাসরি) এ হাদীস অবহিত করেছেন। যখন আমার মধ্যে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে (হুদায়বিয়ার) সন্ধির সময়কাল কার্যকর ছিল (ষষ্ঠ হিজরীতে) তখন আমি (সফরে) বের হলাম। যখন আমি শাম দেশে উপস্থিত হলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রেরিত একটি পত্র হিরাকল (হিরাকলিয়াস) বাদশাহর নিকট পৌঁছল। দিহইয়া আল-কালবী (রাঃ) (দূত) এই পত্র নিয়ে গিয়েছিলন। তিনি সেই পত্র ’বুসরার’ প্রধান শাসনকর্তাকে প্রদান করেন। এরপর বুসরার প্রধান, হিরাকল বাদশাহর নিকট পত্রটি হস্তান্তর করেন। তখন হিরাকল বাদশাহ বললেন, এখানে ঐ লোকটির (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) সম্প্রদায়ের কোন লোক আছে কি, যিনি নিজেকে নবী বলে দাবী করেছেন? তারা বলল, হ্যাঁ। তখন কুরায়শদের এক দল লোকের সঙ্গে আমাকেও ডাকা হল।
এরপর আমরা হিরাকল বাদশাহর নিকটে প্রবেশ করলাম। আমাদেরকে তার সম্মুখেই বসান হল। তখন তিনি জিজ্ঞাস করলেন, যিনি নবী দাবী করছেন আত্মীয়তার দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে অধিক নিকটবর্তী? তখন আবূ সুফিয়ান বললেন, আমি। তখন তাঁরা আমাকে বাদশাহর সামনেই বসালেন এবং আমার সঙ্গীদেরকে আমার পিছনে বসালেন। এরপর তিনি তার দোভাষীকে ডাকলেন এবং তাকে বললেন, “আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে বলে দাও যে, আমি তাকে (আবূ সুফিয়ানকে) ঐ লোকটি সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাস করব, যিনি নিজেকে নবী বলে দাবী করছেন। যদি তিনি (আবূ সুফিয়ান) আমার নিকট মিথ্যা কথা বলেন, তবে আপনারা তাকে মিথ্যাবাদী বলে ঘোষণা দেবেন। তখন আবূ সুফিয়ান বলেন, আল্লাহ্র শপথ! যদি আমার এই ভয় না হত যে, মিথ্যা বললে তা আমার নামে উদ্ধৃত হতে থাকবে তবে নিশ্চয়ই (তাঁর সম্পর্কে) মিথ্যা কথা বলতাম।
অতঃপর বাদশাহ তার দোভাষীকে বললেন, তুমি তাকে (আবূ সুফিয়ানকে) জিজ্ঞাস কর, আপনাদের মাঝে ঐ লোকটির বংশ পরিচয় কেমন? আমি বললাম, তিনি আমাদের মাঝে সম্ভ্রান্ত বংশীয়। এরপর তিনি বললেন, তাঁর পিতৃ পুরুষদের মধ্যে কি কেউ কখনও বাদশাহ ছিলেন? আমি বললাম, না। এরপর তিনি জিজ্ঞাস করলেন, আপনারা কি কখনও তাঁকে এ কথা বলার পূর্বে, যা তিনি বলেছেন, মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন? আমি বললাম না। তিনি আবার বললেন, সমাজের কোন শ্রেণীর লোক তাঁর অনুসরন করে? সম্ভ্রান্ত প্রভাবশালীরা, না দুর্বলেরা? আমি বললাম, (সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা নয়); বরং দুর্বল শ্রেণীর লোকেরা।
তিনি বললেন, তাঁর অনুগামীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, না কমছে? আমি বললাম, (কমছে না), বরং (দিনদিন) বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরপর তিনি বললেন, যে সব লোক তাঁর ধর্মে প্রবেশ করছে তারা কি পরবর্তীতে তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে ধর্মান্তরিত হচ্ছে? আমি বললাম, না। এরপর তিনি বললেন, আপনারা কি কখনও তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আপনাদের এবং তাঁর মাঝে সংঘটিত যুদ্ধের ফলাফল কিরূপ? আমি বললাম, আমাদের এবং তাঁর মাঝে যুদ্ধের অবস্থা পালাবদল হচ্ছে। কখনও তিনি বিজয়ী হন এবং কখনও বা আমরা বিজয়ী হই। সম্রাট হিরাকল বললেন, তিনি কি (কখনও সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করে) বিশ্বাস ভঙ্গ করেন? আমি বললাম না। কিন্তু আমরা বর্তমানে তাঁর সঙ্গে একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা (পর্যন্ত সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ আছি)। আমরা জানি না যে, পরিশেষে তিনি তাতে কী করবেন। আবূ সুফিয়ান বললেন, আল্লাহ্র শপথ! (প্রশ্ন উত্তরে) আমার পক্ষ হতে একথাটি ছাড়া অন্য কোন দ্বিধামূলক কথা সংযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এরপর সম্রাট হিরাকল বললেন, (আপনাদের দেশে) তাঁর (নবুওয়াত দাবীর) পূর্বে কি কোন ব্যক্তি কখনও এরূপ দাবী করেছে? আমি বললাম, না। এরপর সম্রাট হিরাকল তার দোভাষীকে বললেন, আমি তাকে (আবূ সুফিয়ানকে) বলে দাও যে, আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাঁর (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) বংশ পরিচয় সম্পর্কে। আপনি তখন বলেছিলেন যে, তিনি সম্ভ্রান্ত বংশীয়। এমনিভাবে রাসূলগণ তাদের সম্প্রদায়ের উত্তম বংশে প্রেরিত হয়ে থাকেন। এরপরে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাঁর পিতৃ পুরুষগণের মধ্যে কি কেউ বাদশাহ ছিলন? আপনি প্রতি উত্তরে বলেছিলেন, না। আমি মনে মনে বললাম যে, যদি তাঁর পিতৃপুরুষগণের মধ্যে হতে কেউ বাদশাহ থাকতেন, তবে আমি মনে করতাম যে, হয়তবা তিনি তাঁর পিতৃপুরুষের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করতে চান। তারপর আমি আপনাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম, তাঁর অনুসারী কি দুর্বল শ্রেণীর লোক, না সম্ভ্রান্ত শ্রেণীর লোক? আপনি বলেছিলেন, দুর্বল শ্রেণীর লোক (আমি বলছি,) তারাই রাসূলগণের অনুসারী হয়ে থাকে।
এরপর আমি আপনাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম, যে তিনি (নবুওয়াতের) যে কথা বলছেন এর পূর্বে কি আপনারা তাঁকে কখনও মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন? আপনি বলেছিলেন যে, না। এতে আমি বুঝতে পারলাম, যে ব্যক্তি (জাগতিক ব্যপারে) মানুষের সাথে মিথ্যা বলেন না, তিনি কি কারনে আল্লাহ্র উপর মিথ্যারোপ করতে যাবেন? এরপর আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম যে, কোন ব্যাক্তি কি তাঁর ধর্ম গ্রহন করার পর তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁর ধর্ম পরিত্যাগ করেছে? আপনি বলেছিলেন, না। ঈমানের প্রকৃত অবস্থা এটাই। যখন অন্তরের অন্তস্থলে একবার তা সংমিশ্রিত হয় (তখন সেখানেই স্থায়ীভাবে অবস্থান করে)। এরপর আমি জিজ্ঞাস করেছিলাম, তাঁর অনুগামীদের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে, না কমছে? আপনি বলেছিলেন, তারা সংখায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটাই হল ঈমানের পকৃত অবস্থা। তা বৃদ্ধি পেতে পেতে অবশেষে পূর্ণতা লাভ করে।
এরপর আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনারা কি তাঁর সঙ্গে কোন যুদ্ধ করেছেন? আপনি বলেছিলেন, হ্যাঁ, আপনারা তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছেন। তবে আপনাদের মাঝে ও তাঁর মাঝে-যুদ্ধের অবস্থা হল পালাবদলের মত। কখনও তিনি বিজয়ী হন, আবার কখনও আপনারা বিজয়ী হন। এভাবে রাসূলগণকে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হয়। পরিণামে তাঁরাই বিজয়ী হয়ে থাকেন। এরপর আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম, তিনি কি কখনও (কোন সন্ধির) চুক্তি ভঙ্গ করেন? আপনি বলেছিলেন, তিনি কোন চুক্তিভঙ্গ করেন না, এভাবে রাসূলগণ কখনও কোন চুক্তি ভঙ্গ করেন না। আর আমি আপনাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম যে, তাঁর এই কথা (নবুওতের কথা) বলার পূর্বে কি কোন ব্যক্তি অনুরূপ কথা বলেছেন? আপনি বলেছিলেন যে, না। আমি তা এ কারনে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে ,যদি তাঁর পূর্বে কেউ এরূপ দাবী করে থাকতো , তবে আমি মনে করতাম যে, সে ব্যক্তি তাঁর পূর্বে যে কথা বলা হয়েছিল তার অনুকরণ করেছে।
রাবী বলেন এরপর হিরাকল জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি আপনাদের কি করতে আদেশ করেন? আমি (আবূ সুফিয়ান) বললাম, তিনি আমাদেরকে সালাত আদায় করতে, যাকাত দিতে, আত্মীয় সম্বন্ধ অটুট রাখতে (নিকট আত্মীয় ও হকদার ব্যক্তিদের প্রতি সদ্ব্যব্যবহার করতে) এবং চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করতে (অবৈধ ও অসৌজন্যমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে) আদেশ করে থাকেন।
তিনি (বাদশাহ হিরাকল) বললেন, আপনি তাঁর সম্পর্কে যা বললেন তাঁর অবস্থা যদি ঠিক তাই হয় তবে তিনি অবশ্যই নবী। আমি জানতাম যে, একজন নবীর আবির্ভাব ঘটবে। কিন্তু আমি ধারণা করিনি যে, তিনি আপনাদের থেকে হবেন। যদি আমি জানতাম যে, আমি তাঁর নিকট নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে পারবো? তবে নিশ্চয়ই আমি তাঁর মুবারক পদদ্বয় ধুইয়ে দিতাম। (জেনে রেখো) নিশ্চয়ই তাঁর রাজত্ব আমার দু’পায়ের নীচ পর্যন্ত পৌঁছাবে। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চিঠিটি তলব করলেন এবং তা পাঠ (করার আদেশ) করলেন। এতে ছিল
“দয়াবান দয়ালু আল্লাহ্র নামে! এটা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে রোমের প্রধান ব্যক্তি হিরাকল এর প্রতি। সালাম সেই ব্যক্তির উপর, যিনি (হিদায়াতের) সঠিক পথ অনুসরন করেন। অতঃপর নিশ্চয়ই আমি আপনাকে ইসলামের আহবান জানাচ্ছি। ইসলাম গ্রহন করুন, নিরাপদ থাকবেন। আপনি মুসলিম হউন, আল্লাহ্ আপনাকে আপনার প্রতিদান দ্বিগুণ করে দান করবেন। আর যদি আপনি (ইসলাম থেকে) বিমুখ থাকেন, তবে নিশ্চয়ই প্রজাদের পাপ আপনার উপর আরোপিত হবে।
“হে আহলে কিতাব! তোমরা এসো সে কথায়, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই; যে আমরা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করব না, কোন কিছুকেই তাঁর শরীক করব না, যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় (অবাধ্য হয়) তবে বল, তোমরা সাক্ষী থাক আমরা মুসলিম”
এরপর তিনি পত্র পাঠ শেষ করলে তাঁর নিকটে শোরগোল এবং হৈ চৈ হতে লাগল। এদিকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসার নির্দেশ দেয়া হল। আমরা বেরিয়ে এলাম। আবূ সুফিয়ান বলেন, আমরা যখন বেরিয়ে এলাম তখন আমি আমার সঙ্গীদের বললাম, আবূ কাবাশার পুত্রের ব্যপারটি অত্যন্ত সুদৃঢ় হয়েছে। বনী আসফার (লাল চামড়াদের) বাদশাহও তাঁকে ভয় করছে। অবশেষে এক সময় আল্লাহ্ তা’আলা আমার অন্তরে ইসলাম প্রবেশ করিয়ে দিলেন।
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৪৭১। শায়বান ইবনু ফাররুখ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনু আবূ রাবাহ (রহঃ) বলেন, আমি একটি প্রতিনিধি দলের সাথে (যার মধ্যে আবূ হুরায়রা (রাঃ)ও ছিলেন) মুয়াবিয়া (রাঃ) এর কাছে গেলাম। সেই সময় ছিল রামাযান মাস। তখন তাঁরা একে অন্যের জন্য খানা তৈরি করতেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) অধিকাংশ সময় আমাদেরকে তাঁর বাসস্থানে দাওয়াত করতেন। সুতরাং আমি মনে মনে বললাম, আমিও খানা তৈরি করবো এবং সলকেই আমার বাসস্থানে দাওয়াত করবো। আমি খানা তৈরীর নির্দেশ দিলাম। এরপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর সঙ্গে আমি বিকালে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম, আজ রাতেরদাওয়াত আমার বাসায়। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আপনি আজ আমার পূর্বেই (দাওয়াত) দিয়ে দিলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। অতঃপর আমি তাদের দাওয়াত করলাম। তখন আবূ হুরায়রা-(রাঃ) বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের সম্পর্কে একটি হাদীস বর্ননা করবে না?
তারপর তিনি মক্কা বিজয়ের ঘটনা বর্ণনা করতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার দিকে অগ্রসর হলেন এবং পরিশেষে তিনি তথায় উপনীত হলেন। এরপর যুবাইরকে মক্কার একদিকে এবং খালিদ ইবনু ওয়ালীদকে অপর দিকে প্রেরণ করলেন। আর আবূ উবায়দা (রাঃ) কে সেইসব লোকদের উপর নেতা বানিয়ে পাঠালেন যাদের কাছে লৌহ বর্ম ছিলনা। তারা উপত্যকার নিম্নভূমির পথ ধরে চললেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন একটি বড় সেনাদলের মধ্যে। তিনি তাকালেন এবং আমাকে দেখে বললেনঃ,হে আবূ হুরায়রা! আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি উপস্থিত। এরপর তিনি বললেন, আমার নিকট আনসার ব্যতীত আর কেউ যেন না আসে।
শায়বান ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারী অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তারপর তিনি বললেনঃ আনসারদেরকে আহবান কর। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আনসারগণ তার চারপাশে জমায়েত হলেন। এদিকে কুরাইশগণও তাদের বিভিন্ন গোত্রের লোক এবং অনুগতদেরকে একত্রিত করলো। এরপর তারা বলল, আমরা তাদেরকে আগে প্রেরণ করব। যদি তাদের- ভাগে কিছু জুটে, তবে আমরাও তো তাদের সঙ্গেই আছি। আর যদি তারা বিপদের সম্মুখীন (আক্রান্ত) হয় তবে তারা (প্রতিপক্ষ) আমাদের কাছে যা চাইবে, তাই আমরা মেনে নেব।
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা কি কুরাইশের বিভিন্ন গোত্রের লোক এবং তাদের অনুগতদেরকে দেখতে পাচ্ছ? এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর একহাত অপর হাতের উপর রেখে ইঙ্গিত করলেন, (মক্কার পথে যারা তোমাদের বাধা দেয় তোমরা তাদের খতম করে দিবে।) এরপর বললেন, অবশেষে সাফা পাহাড়ে তোমরা আমার সঙ্গে মিলিত হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা অগ্রসর হতে লাগলাম। আমাদের মধ্য হতে কেউ কাউকে হত্যা করতে চাইলেই তাকে হত্যা করতে পারছিল। তাই তাদের মধ্য হতে কেউই আমাদের উপর আক্রমণ করতে সাহস পায়নি।
বর্ণনাকারী বলেনঃ, তখন আবূ সুফিয়ান এসে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আজ কুরাইশ সম্প্রদায়ের সমষ্টিকে (রক্ত) হালাল করে দেওয়া হয়েছে। আজকের পরে আর কোন কুরাইশের অস্তিত্ব থাকবেনা। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা দিলেন, যে ব্যক্তি আবূ সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। তখন আনসারগণ একে অপরের সাথে বলাবলি করতে লাগল যে, লোকটিকে (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে) স্বদেশের প্রতি আকর্ষণ এবং নিজ গোত্রের প্রতি মমতা পেয়ে বসেছে।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, তখনই ওহী অবতীর্ণ হল। যখন ওহী অবতীর্ণ হতো তখন তা আমাদের নিকট গোপন থাকত না। ঐ সময় কারো সাধ্য হতো না যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে চোখ তোলে দেখে, যতক্ষন না ওহী শেষ হতো। এরপর যখন ওহি শেষ হল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আনসার সম্প্রদায়! তারা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা আপনার কাছে উপস্থিত। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কি বলেছ যে, লোকটিকে স্বদেশের আকর্ষণ পেয়ে বসেছে”। তখন তারা বললেন, এ রকম কিছু হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কখনও না। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা এবং তার প্রেরিত রাসুল। আমি আল্লহর উদ্দেশ্যে স্বদেশ এবং তোমাদের উদ্দেশ্যে হিজরত করেছি। (আমার) জীবন তোমাদের জীবন ও মরণ তোমাদের মরণ।
তারা কাঁদতে কাঁদতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে অগ্রসর হলেন এবং কাঁদতে লাগলেন, আল্লাহর শপথ! আমরা যা বলেছিলাম, তা ছিল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আমাদের ভালবাসা ও লোভ এর কারণে। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তোমাদের বক্তব্য বিশ্বাস করেন এবং তোমাদের ওযর গ্রহণ করেছেন।
বর্ননাকারী বলেনঃ এরপর মক্কার জনগণ আবূ সুফিয়ানের বাড়ীর দিকে চলে গেল (জীবন রক্ষার জন্যে) আর অন্যান্য মানুষ আপন ঘরে দরজা লাগিয়ে বসে রইল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আসওয়াদ’ এর নিকটবর্তী হয়ে একে চুম্বন এবং বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করলেন। এরপর তিনি বায়তুল্লাহর পার্শ্বে রক্ষিত একটি মূর্তির নিকটবর্তি হলেন, যাকে তারা উপাসনা করতো।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে তখন একটি ধনুক ছিল, তিনি এর এক প্রান্তে ধরে রেখেছিলেন। যখন তিনি মূর্তিটির নিকটবর্তী হলেন তখন তিনি তা দ্বারা এর চোখে খুচাতে লাগলেন এবং বললেন, “সত্য আগমন করেছে এবং বাতিল (মিথ্যা) চলে গিয়েছে।”
এরপর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ শেষে তিনি সাফা পাহাড়ের দিকে গমন করলেন। এরপর তাতে আরোহণ করে বায়তুল্লাহর দিকে চেয়ে দেখলেন এবং দুহাত উচু করে আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ করতে লাগলেন এবং তার যা দু’আ করার ছিল সে বিষয়ে দু’আ করলেন।
৪৫১৭। কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ... সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খায়বর অভিযানে বের হলাম। আমরা রাতের বেলা সফর করলাম। তখন এক ব্যক্তি (আমার ভাই) আমির ইবনু আকওয়া (রাঃ) কে বললোঃ ওহে! তুমি কি তোমার রণ সঙ্গীত থেকে আমাদেরকে কিছু কবিতা শুনাবে না? আমির (রাঃ) ছিলেন একজন কবি। তখন তিনি সওয়ারী থেকে অবতরন করে সকলকে শুনিয়ে জানিয়ে তার হুদী সঙ্গীত শোনাতে লাগলেন। তাতে তিনি বললেনঃ
“ইয়া আল্লাহ! আপনি না হলে আমরা হিদায়াত পেতাম না, আমরা সাদাকা ও সালাত আদায় করতাম না। আপনার জন্য আমাদের জান কোরবান, আমাদের পিছনের সকল অপরাধ আপনি মাফ করে দিন শত্রুর সম্মুখীন হলে আমাদের পা অটল রাখুন। আমাদের উপর প্রশান্তি বর্ষণ করুন। যখন আমাদের (জিহাদের জন্য) ডাকা হয় আমরা উপস্থিত হই এবং তারা চীৎকার করে আমাদের বিরুদ্ধে লোক জমা করে।
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ চালকটি কে? সাহাবীগণ বললেন, আমির। তিনি বললেন, আল্লাহ তার প্রতি রহমত করুন। তখন দলের একব্যক্তি বলল, তার জন্যে তো শাহাদত অবধারিত হয়ে গেছে, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের যদি তাঁর দ্বারা আরো উপকৃত করতেন। রাবী বলেন, তারপর আমরা খায়বরে আসলাম এবং তাদের অবরোধ করলাম। (অবরোধ দীর্ঘ হল) এমন কি আমাদের দারুন খাদ্যাভাব দেখা দিল।
তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করেছেন। তারপর বিজয়ের দিন যখন লোকদের সন্ধ্যা হলো তখন তারা বহু স্থানে আগুন জ্বালালো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেঃ এ আগুন কিসের? কিসের উপর (কি রান্না করার জন্যে) লোকজন এ আগুন জ্বালিয়েছে? তারা বললেন, মাংসের উপরে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কিসের মাংস? তারা বললেন, গৃহপালিত গাধার মাংস। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এগুলো ফেলে দাও আর রান্নার পাত্রগুলো ভেঙ্গে ফেল। এক ব্যক্তি বলল, তারা কি এগুলো ফেলে দেবে এবং রান্নার পাত্রগুলো ধুয়ে ফেলবে? তিনি বললেনঃ তা হতে পারে।
রাবী বলেন, এরপর যখন লোকজন (যুদ্ধের জন্য) সারিবদ্ধ হল, আমির (রাঃ) এর তরবারীখানা ছিল খাটো। তিনি জনৈক ইয়াহুদীর পায়ের নলা লক্ষ্য করে যেই আঘাত করলেন, অমনি তরবারির ধারাল দিক তার নিজ হাটুতে এসে লাগলো। এতে আমির (রাঃ) শহীদ হলেন। রাবী বলেন, তারপর যখন লোকজন (খায়বর থেকে) ফিরে এলো, তখন সালামা আমার হাত ধরে বললেন, (রাবী বললেনঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে (সালামাকে) নির্বাক অবস্থায় দেখতে পেলেন, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি হয়েছে? আমি বললাম, “আমার পিতামাতা আপনার জন্যে কুরবান হোক! লোকজনের ধারণা আমের (আত্নহত্যা) করে তাঁর (সারা জীবনের) আমল বরবাদ করে দিয়েছেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তা কে বলেছে? আমি বললাম, অমুক অমুক এবং উসায়দ ইবনু হুযায়র আনসারী।
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে এরূপ বলেছে, সে যথার্থ বলেনি। অবশ্যই তার (আমেরের) জন্যে দুটি পুরস্কার রয়েছে। তখন তিনি তার দুটি আঙ্গুল একত্রি করলেন (এবং বললেনঃ), সে (আল্লাহর রাস্তায়) সত্যিকার সাধক মুজাহিদ। খুব কম আরবই তাঁর মতো চলেছে (বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছে)।
কুতায়বা এ হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মাদের সাথে দুটি শব্দে দ্বিমত করেছেন। ইবনু আব্বাদ (রহঃ) এর রেওয়ায়েতে والقين سَكِينَة عَلَيْنَا স্থলে وَأَلْقِ سَكِينَةً عَلَيْنَا উল্লেখ রয়েছে।
বর্ণনাকারী: ইয়াস ইবনু সালামাহ ইবনু আকওয়াহ (রহঃ)
৪৫২৭ আবূ বকর ইবনু শায়বা, ইসহাক ইবনু ইবরাহিম ও আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রাহমান দারিমী (রহঃ) ... ইয়াস ইবনু সালামা (রাঃ) সুত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হুদায়বিয়ায় পৌঁছলাম। তখন সংখ্যায় আমরা চৌদ্দশ। তদুপরি সেখানে ছিল পঞ্চাশটি বকরী, যাদের পানি পানের জন্য পর্যাপ্ত পানি ছিল না। রাবী বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুয়ার কিনারায় বসলেন এবং দু’আ করলেন অথবা তাতে থুথু দিলেন। রাবী বলেন, আর অমনি পানি উথ্লে উঠলো। তখন আমরাও পানি পান করলাম এবং (পশুদেরকেও) পানি পান করালাম।
রাবী বলেন, তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বায়আতের জন্য গাছ তলায় ডাকলেন। রাবী বলেন, তারপর লোকদের মধ্যে আমি সর্বাগ্রে বায়আত হলাম। তারপর একে একে অন্যান্য লোকেরাও বায়আত হল। তিনি যখন বায়আত গ্রহন করতে করতে লোকজনের মধ্যবর্তী স্থানে (অর্থাৎ অর্ধ পরিমানে) পৌঁছলেন, তখন বললেন, হে সালামা! তুমি বায়আত হও। রাবী বলেন, তখন আমি বললাম, লোকদের মধ্যে প্রথমেই আমি বায়াআত হয়েছি ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেন, আবারও হও না! রাবী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অস্ত্রহীন অবস্থায় দেখতে পেলেন। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি “জাহাদ” বা “দারাবা” (ঢাল) দান করলেন।
তিনি যখন বায়আত করতে করতে লোকদের শেষপ্রান্তে পৌঁছলেন এবং বললেন, তুমি কি আমার কাছে বায়আত হবে না, হে সালামা! রাবী বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তো লোকদের মধ্যে প্রথমভাগে এবং মধ্যভাগে (দু দু’বার) আপনার কাছে বায়আত হয়েছি। তিনি বললেন, আবারও হও না। তখন আমি তৃতীয়বার বায়আত হলাম। এরপর তিনি আমাকে বললেন, হে সালামা! তোমার সেই ঢালটি কোথায় যা আমি তোমাকে দিয়েছিলাম? রাবী (সালামা) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার চাচা আমিরের আমার সাথে অস্ত্রবিহীন অবস্থায় আমার দেখা হলে আমি তাকে তা দিয়ে দিয়েছি। রাবী বলেন, এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন এবং বললেন, তুমি দেখছি পূর্ববর্তীযুগের সেই লোকদের মত, যে বলেছিল, হে আল্লাহ্! আমি এমন একজন বন্ধু চাই, যে আমার প্রানের চাইতেও আমার নিকট অধিক প্রিয় হবে।
এরপরে মুশরিকরা আমাদের কাছে প্রস্তাব পাঠালো। আমাদের একপক্ষের লোকজন অন্যপক্ষের শিবিরে যাতায়াত করতে লাগলো এবং শেষ পর্যন্ত আমরা উভয় পক্ষ পরস্পরে সন্ধিবদ্ধ হলাম। রাবী [সালাম (রাঃ)] বলেন, আমি তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহর খেদমতে নিয়োজিত ছিলাম। আমি তাঁর ঘোড়াকে পানি পান করাতাম এবং তাঁর পিঠ মালিশ করতাম (আঁছড়ে দিতাম) এবং তাঁর অন্যান্য খিদমত করতাম। আমি তার ওখানে খাওয়া দাওয়া করতাম। নিজের পরিবার পরিজন ও ধন সম্পদ পরিত্যাগ করে আল্লাহ্ তা’আলা ও তাঁর রাসুলের রাহে মুহাজির হয়েছিলাম। রাবী বলেন, তারপর যখন আমরা ও মক্কাবাসীরা সন্ধিতে আবদ্ধ হলাম এবং আমাদের একপক্ষ অপর পক্ষের সাথে মেলামেশা করতে লাগলাম তখন আমি একটি গাছতলায় গিয়ে তাঁর নিচের কাঁটা প্রভৃতি পরিষ্কার করে তাঁর গোঁড়ায় একটু শুয়ে পড়ি। এমনসময় মক্কাবাসী চারজন মুশরিক এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে অপ্রীতিকর কথা বলতে লাগলো।
আমার কাছে ওদের কথাবার্তা অত্যন্ত খারাপ লাগলো এবং আমি স্থান পরিবর্তন করে আর একটি গাছের তলায় চলে গেলাম। তারা তাদের অস্ত্র গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখে শুয়ে পড়ল। এমন সময় প্রান্তরের নিম্নাঞ্চল থেকে কে যেন চিৎকার করে বলল, হে মুহাজিরগণ! সাহায্য! ... ইবনু যুনায়ম নিহত হয়েছে। আমি তৎক্ষণাৎ আমার তরবারী উঠিয়ে ধরলাম এবং ঐ চারজনের উপর আক্রমন চালালাম। তখন তারা ঘুমিয়ে ছিল। আমি তাদের অস্ত্রগুলি হস্তগত করলাম এবং তা আটি বেঁধে আমার হাতে নিলাম। তিনি বলেন, এরপর আমি বললাম, যে মহান সত্তা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সম্মানিত করেছেন তাঁর কসম! তোমাদের মধ্যে কেউ যদি মাথা তুলে, তবে তাঁর সেই অঙ্গে আঘাত (করে বিচ্ছিন্ন) করব যেখানে তাঁর চোখদুটি রয়েছে (অর্থাৎ ঘাড়ে)।
রাবী বলেন, তারপর তাদেরকে আমি হাঁকিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পর্যন্ত নিয়ে গেলাম। তিনি বলেন, এমন সময় আমার চাচা আমির ’আবালাত’ গোত্রের একজনকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে এসেছেন। তাকে বলা হত মিকরায। সে ছিল আঘাত নিরোধক বস্ত্রাকৃত একটি ঘোড়ায় আসীন। আর তাঁর সাথে সত্তরজন মুশরিক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দিকে তাকালেন এবং বললেনঃ “ওদেরকে ছেড়ে দাও, যাতে অপকর্মের সূচনা ওদের পক্ষ থেকেই হয় এবং পুনরাবৃত্তিও তারাই করে” একথা বলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ক্ষমা করে দিলেন। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেনঃ “সেই পবিত্র সত্তা যিনি মক্কা প্রান্তরে তাদের হাতকে তোমাদের উপর থেকে এবং তোমাদের হাতকে তাদের উপর থেকে বিরত রেখেছেন তাদের উপর তোমাদের বিজয়ী করার পর”।
রাবী বলেন, তারপর মদিনায় প্রত্যাবর্তনের জন্য বেরিয়ে পড়লাম। পথে এমন একটি মনযিলে আমরা অবতরন করলাম যেখানে আমদের ও লিহয়ান গোত্রের মধ্যে কেবল একটি পাহাড়ের ব্যবধান ছিল। আর তারা ছিল মুশরিক। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যাক্তির জন্য আল্লাহর নিকটে দু’আ করলেন, যে ব্যাক্তি রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের পক্ষ থেকে খবরদারীর জন্য পাহাড়ের উপরে আরোহণ করবে। সালামা বলেন, সে রাতে আমি দুই কি তিনবার ঐ পাহাড়ে আরোহণ করেছিলাম। তারপর আমরা মদিনায় এলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গোলাম রাবাহকে দিয়ে তাঁর উটগুলি পাঠালেন। আর আমিও তালহা (রাঃ) এর ঘোড়ায় চলে তাঁর সাথে সাথে উটগুলি চারণ ভুমির দিকে নিয়ে গেলাম সেটাকে ঘাস পানি খাওয়ানোর জন্য। যখন আমাদের ভোর হল, আবদুর রহমান ফাজারী চড়াও হয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (বিচরনকৃত) সমস্ত উট ছিনিয়ে নিয়ে গেল এবং তাঁর রাখালকে হত্যা করল। আমি তখন রাবাহকে বললাম, হে রাবাহ! লও এই ঘোড়া নিয়ে তুমি তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহকে পৌঁছে দিও আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সংবাদ দাও যে, মুশরিকেরা তাঁর চারণ ভুমির উটগুলো লুটে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, তখন আমি একটি টিলার উপর দাঁড়ালাম। তারপর মদিনার দিকে মুখ করে তিনবার হাক দিলাম, ইয়া সাবাহা! (ভোরের আক্রমণ)
তারপর আমি লুটেরাদের পিছু ধাওয়া করলাম এবং তাদের উপর তীর নিক্ষেপ করতে লাগলাম। আর আমি মুখে এই চরন উচ্চারন করছিলাম, “আমি আকওয়ার পুত্র, আজ সেই দিন, আজ ইতরকে (শায়েস্তা করার) দিন। আজকে কেমন মায়ের দুধ (খেয়েছ তা স্মরণের দিন)”। তখন আমি তাদের যে কাউকে পেয়েছি, তাঁর উপর এরকমভাবে তীর নিক্ষেপ করেছি যে, তীরের অগ্রভাগ তাঁর কাঁধের কোমল হাড় ছেদ করে বেরিয়েছে। তিনি বলেন, আমি বলতে লাগলাম, এ আঘাত নাও, আমি আকওয়ার পুত্র, আজ ইতরের দিন (দুধপান স্মরণের দিন)। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি তীর নিক্ষেপ করতে থাকলাম এবং ঘায়েল করতে লাগলাম এবং যখনই কোন ঘোড় সওয়ার আমার দিকে ফিরত তখনই আমি গাছের আড়ালে এসে তাঁর গোঁড়ায় বসে তাঁর প্রতি তীর নিক্ষেপ করতাম আর তাকে জখম করে ফেলতাম।
অবশেষে যখন তারা পাহাড়ের সংকীর্ণ পথে আসে এবং তারা সে সংকীর্ণ পথে ঢোকে আমি তখন পাহাড়ের উপর উঠে সেখান থেকে (অবিরাম) তাদের উপর পাথর গড়িয়ে দিতে থাকলাম। তিনি বলেন, এভাবে আমি তাদের পশ্চাদ্ধবন করতে থাকলাম যে পর্যন্ত না আল্লাহর সৃষ্ট উটগুলোর প্রতিটি উট যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভারবাহী রূপে ছিল তা আমার পিছনে রেখে না যাই। তারা এগুলি আমার আওতায় ফেলে চলে গেল। তারপরও আমি তাদের অনুসরণ করে তাদের দিকে তীর নিক্ষেপ করতে থাকলাম। এমনকি তারা ত্রিশটির বেশি চাঁদর এবং ত্রিশটি বল্লম নিজেদের বোঝা হালকা করার উদ্দেশ্য ফেলে গেল। তারা যে সব বস্তু ফেলে যাচ্ছিল আমি তাঁর প্রত্যেকটিকে পাথর দিয়ে চিহ্নিত করে যাচ্ছিলাম, যাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ তা চিনতে পারেন।
অবশেষে তারা পাহাড়ের একটি সংকীর্ণ স্থানে গিয়ে পৌঁছল। এমন সময় বদর ফাজারির অমুক পুত্র এসে তাদের সাথে মিলিত হল। এবার তারা সকলে মিলে সকালের খাবার খেতে বসল। আমি পাহাড়ের একটি শৃঙ্গে বসে পড়লাম। তখন সে ফাজারি বলল, ঐ যে লোকটাকে দেখছি সে কে? তারা বলল, লোকটির হাতে আমরা অনেক দুর্ভোগ পোহায়েছি। আল্লাহর কসম! সেই রাতের আধার থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত লোকটা আমাদের পিছন থেকে সরছে না, সে আমাদের প্রতি (অবিরাম) তীর নিক্ষেপ করেছে, এমনকি আমাদের যথাসর্বস্ব সে কেড়ে নিয়েছে। তখন সে বলল, তোমাদের মধ্যকার চারজন উঠে গিয়ে তাঁর উপর চড়াও হও। তখন তাদের চার ব্যাক্তি পাহাড়ে উঠে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। তারপর তারা যখন আমার কথা শোনার মত নিকটবর্তী স্থানে এসে পৌঁছল, তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, তোমরা কি আমাকে চেন? তারা বলল, না। তিনি বলেন, আমি বললাম, আমি সালামা ইবনু আকওয়া। কসম সেই পবিত্র স্বত্বার, যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সম্মানিত করেছেন। আমি তোমাদের যাকেই পেতে চাইব (লক্ষ্য বানাব) তাকে ধরে ফেলব। কিন্তু তোমাদের কেউ চাইলেই আমাকে ধরতে পারবে না।
তখন তাদের একজন বলল, আমিও তাই মনে করি। তিনি বলেন, তারপর তারা ফিরে গেল। আর আমি সেই স্থানেই বসে রইলাম। অবশেষে আমি গাছ গাছালির মাঝ দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অশ্বারোহীদের অগ্রসর হতে দেখলাম। তিনি বলেন, তাদের মধ্যে সবার আগে ছিলেন আখারাম আসা’দী। তাঁর পিছনে আবূ কাতাদা আনসারী। তাঁর পিছনে মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ কিন্দী। তিনি বলেন, আমি তখন আখরামের ঘোড়ার লাগাম ধরলাম। তিনি বলেন, তখন তারা (শত্রুরা) পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালিয়ে গেল। আমি বললাম, হে আখরাম! ওদের থেকে সতর্ক থাকবে। তারা যেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ এসে মিলিত হওয়ার পূর্বেই তোমাদের বিচ্ছিন্ন করে না ফেলে। আখারাম বললেন, যে সালামা! তুমি যদি আল্লাহ্ ও কিয়ামত দিনের প্রতি বিশ্বাসী হও এবং জান্নাত ও জাহান্নামকে সত্য মনে কর তবে আমার এবং শাহাদতের মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি করো না। সালামা বলেন, তখন আমি তাঁর পথ ছেড়ে দিলাম।
তখন তিনি আবদুর রহমানের সাথে সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হলেন। আখরাম আবদুর রহমানের ঘোড়াকে আহত করলেন, আর আব্দুর রহমান বর্শার আঘাতে তাকে কতল করে দিল এবং আখরামের ঘোড়ার উপর চড়ে বসল। ইতিমধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘোড় সাওয়ার আবূ কাতাদা (রাঃ) এসে পৌঁছলেন। তিনি আবদুর রহমানকে বর্শার আঘাতে হত্যা করলেন। সেই পবিত্র সত্তার কসম! যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মর্যাদা মণ্ডিত করেছেন, আমি তখন এতই দ্রুতগতিতে তাদের পিছু ধাওয়া করে যাচ্ছিলাম যে, আর পিছনে (অনেক দূর পর্যন্ত) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সাহাবীকেই দেখতে পেলাম না, এমনকি তাদের ঘোড়ার খুরের ধুলিও আমার দৃষ্টিগোচর হোল না। এভাবে চলতে চলতে সূর্যাস্তের প্রাক্কালে তারা এমন একটি গিরি পথে উপনীত হল যেখানে যু-কারাদ নামক একটি প্রস্রবণ রয়েছে। অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত অবস্থায় তারা পানি পান করতে অবতরন করল। তখন তারা আমাকে তাদের পিছু ধাওয়া করে দৌড়ে আসতে দেখতে পেল। এক জায়গায় পানি পান করার পূর্বেই আমি সেখান থেকে তাদেরকে তাড়িয়ে দিলাম। তখন তারা পাহাড়ের একটি ঢালু উপত্যকার দিকে দৌড়াতে লাগলো আর আমিও তাদের পিছু ধাওয়া করতে লাগলাম।
আমি তাদের যে কোন একজনের নিকটবর্তী হলে তাঁর কাঁধের অস্তিতে তীর নিক্ষেপ করে বললাম, আমি আকওয়ার পুত্র, ইতরদের (বোঝাবার) দিন আজ (দুধপান স্মরণের দিন)। সে তখন বলল, তাঁর মা (পুত্র হারা হয়ে) তাঁর জন্য কাদুক তুমি কি সে আকওয়া যে আমাদের সেই ভোর থেকে অতিষ্ঠ করে রেখেছ? আমি বললাম হ্যাঁ, তোমার জানের দুশমন, (আমি) সেই তোমার ভোরবেলার আকওয়াই। তিনি বলেন, অতঃপর তারা দুটি ক্লান্ত ঘোড়া উপত্যকায় ছেড়ে চলে গেল। তিনি বলেন, তখন আমি ঐ দুটোকে হাকিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে এলাম। তিনি বলেন, সেখানে একটি অল্প দুধভর্তি ’সাতীহা’ (চামড়ার তৈরি পাত্র) এবং একটি পানিভর্তি সাতীহা নিয়ে এসে আমির আমার সাথে মিলিত হলেন। আমি তখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলাম এবং (দুধ) পান করলাম। তারপর এমন অবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম যখন তিনি ঐ পানির কাছে ছিলেন, যা থেকে আমি ওদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম।
এদিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সমস্ত উট ও মুশরিকদের নিকট থেকে আমার ছিনিয়ে আনা সব কিছু বর্শা ও চাঁদর প্রভৃতি হস্তগত করেছেন। তখন বিলাল, লোকদের কাছে থেকে আমার উদ্ধারকৃত একটি উট জবাই করেছেন এবং তাঁর কলিজা ও কুজ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য ভুনছিলেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে সুযোগ দিন, আমি আমাদের লোকদের থেকে একশ জনকে বাছাই করে নিয়ে সেই দুশমনদের পিছু ধাওয়া করি যাতে তাদের সকলকে এমনিভাবে হত্যা করব যে, তাদের খবর বয়ে নিয়ে যাওয়ার মত একটি লোকও অবশিষ্ট থাকবেনা। তিনি বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হাসলেন যে, চুলার আগুনের আভায় তাঁর চোয়ালের দাঁতগুলি প্রকাশ পেল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে সালামা! তুমি কি মনে কর যে, তুমি তা-ই করবে? আমি বললাম হ্যাঁ, সেই পবিত্র সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, এতক্ষণে তো তারা গাতফান পল্লিতে আতিথ্য ভোগ করছে।
তিনি বলেন, পরে গাতফান গোত্রের একটি লোক এল, সে বলল, অমুক তাদের জন্য একটি উট জবেহ করেছে। তারা যখন তাঁর চামড়া ছড়াচ্ছিল তখন তারা ধুলোরাশি উড়তে দেখতে পায়। তখন তারা বলে উঠল ওরা (আকওয়া ও তাঁর বাহিনী) তোমাদের নিকট এসে পড়েছে। তখন তারা পালিয়ে যায়। এরপর আমাদের ভোর হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাদের আজকের সেরা অশ্বারোহী হচ্ছে আবূ কাতাদা আর আমাদের সেরা পদাতিক হচ্ছে সালামা। তিনি বলেন, তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অশ্বারোহী ও পদাতিক হিসাবে গণিমতের দুই অংশ দিলেন। আমাকে তিনি একত্রে দুই অংশ দিলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মদিনায় প্রত্যাবর্তন কালে আমাকে তাঁর সাথে তাঁর উটনী ’আদবার’ পিছনে বসিয়ে নিলেন। তিনি বলেন, তারপর যখন আমরা পথ অতিক্রম করছিলাম, এমন সময় আনসারের এমন এক ব্যাক্তি যাকে দৌড়ে কেউ পরাজিত করতে পারতো না, সে বলতে লাগলোঃ কেউ কি আছে যে, মদিনায় সর্বপ্রথম পৌছার ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করবে? এ কথাটি সে বারবার বলছিল। তিনি বলেন, যখন আমি তাঁর এ (চ্যালেঞ্জমূলক) কথাটি শুনলাম, তখন বললাম, তুমি কি কোন সম্মানিত লোককে সম্মান দিতে জানো না বা কোন ভদ্রলোককেই পরোয়া করবে না? সে বলল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাতিত অন্য কাউকে নয়। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পিতা মাতা আপনার উপর কোরবান, আপনি আমায় ঐ ব্যাক্তির সাথে প্রতিযোগিতা করার অনুমতি দিন।
তখন তিনি বললেনঃ তোমার ইচ্ছা হলে। তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, চল! ধর। তারপর আমি লাফ দিয়ে নিচে দৌড় দিলাম। তারপর এক বা দুই টিলা অতিক্রম করার দূরত্বে রইলাম তখন পর্যন্ত আমার দম নিয়ন্ত্রনে রেখে তাঁর পিছু পিছু দৌড় দিলাম। আরও দুই এক টিলা পর্যন্ত ধীরগতিতে চলার পর সাজোরে দৌড় দিয়ে তাঁর নিকট পৌঁছে গেলাম এবং তাঁর কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে একটি ঘুষি মেরে বললাম, ওহে! আল্লাহর কসম! তুমি হেরে গেছ। তখন সে বলল, আমিও তাই মনে করছি। তিনি বলেন, অতএব আমি তাঁর পূর্বেই মদিনায় পৌঁছে গেলাম।
তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এরপর আমরা তিনরাতের অধিক মদিনায় থাকতে পারিনি। এমনি সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আমরা খায়বারের দিকে বেরিয়ে পড়লাম। তিনি বলেন, তখন আমার চাচা আমির (রাঃ) প্রেরণামূলক কবিতা আবৃতি করতে লাগলেন। আল্লাহর কসম! আল্লাহর অনুগ্রহ না হলে আমরা হিদায়াত পেতাম না, সাদাকাও দিতাম না আর সালাতও আদায় করতাম না। আমরা আপনার অনুগ্রহ থেকে কখনও বেপরওয়া হতে পারি না, তাই আপনি আমাদের কদম দৃঢ় রাখুন, যখন আমরা শত্রুদের সম্মুখীন হই এবং আপনি আমাদের প্রতি প্রশান্তি বর্ষণ করুন।
তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ ব্যাক্তি কে? তিনি বললেন, আমি আমির। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার রব তোমাকে ক্ষমা করুন। রাবী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কারো জন্য বিশেষভাবে দু’আ করতেন সে শহীদ হত। তিনি বলেন, তখন নিজ উটে বসা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) দুর থেকে আওয়াজ করে বললেন, ইয়া নবী আল্লাহ্! আমিরকে দিয়ে যদি না আমাদের আরো উপকার করতেন? তিনি বলেন, তারপর যখন আমরা খায়বারে উপস্থিত হলাম, তখন খায়বার অধিপতি মুরাহহাব (মারহাব) তরবারি দোলাতে দোলাতে বেরিয়ে এল এবং বলল, খায়বার জানে যে, আমি মুরাহহাব, পূর্ণ অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত, অভিজ্ঞতাপূর্ণ এক বীরপুরুষ। রাবী বলেন, আমার চাচা আমির (রাঃ) কবিতা আবৃতি করতে করতে বললেন, “খায়বার জানে যে, আমি আমির অস্ত্রে শস্ত্রে সুসজ্জিত যুদ্ধে অবতীর্ণ বীর বাহাদুর নির্ভীক ব্যাক্তি।
রাবী বলেন, তারপর তাদের মধ্যে আঘাত বিনিময় হল। আমির (রাঃ) নিচে থেকে যখন তাকে আঘাত করতে চাইলেন, তখন তা ফিরে এসে তাঁর নিজের উপরই লাগল। আর তাতে তাঁর পায়ের গোছার সংযোগ শিরা কেটে গিয়ে মৃত্যু হল। (রাবী) সালামা (রাঃ) বলেন, তখন আমি বেরোলাম। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবীকে বলাবলি করতে শুনলাম যে, আমিরের আমল বরবার হয়ে গেছে, সে আত্মহত্যা করেছে। তখন আমি কাঁদতে কাঁদতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমিরের আমলগুলি কি বরবার হয়ে গেল? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (একথা) কে বলেছে? রাবী বলেন, আমি বললাম, আপনারই কয়েকজন সাহাবী। তিনি বললেন, যারা এরূপ বলেছে তারা মিথ্যা বলেছে এবং তাঁর প্রতিদান সে দু’বার পাবে।
তারপর তিনি আমাকে আলী (রাঃ) এর নিকটে পাঠালেন। তখন তিনি চক্ষুরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি এমন এক ব্যাক্তিকে (আজ) পতাকা সমর্পণ করব, যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলকে ভালবাসে এবং (অথবা বলেলন) আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলও তাকে ভালবাসে। তিনি বলেন, তারপর আমি আলী (রাঃ) এর কাছে গেলাম এবং তাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম। তখন তাঁর চোখ ব্যাথাগ্রস্থ হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চোখে থুথু দিলেন আর তাতেই তিনি সুস্থ হলেন। তখন তিনি তাঁর হাতে পতাকা দিলেন।
এবারো মুরাহহাব বেরিয়ে এল এবং কবিতা আওড়াতে লাগল খায়বার জানে যে, আমি মুরাহহাব, যুদ্ধের অস্ত্রে সজ্জিত এক অভিজ্ঞতাপূর্ণ বীর বাহাদুর ব্যাক্তি। যখন যুদ্ধ তাঁর লেলিহান শিখা নিয়ে অগ্রসর হয়, তখন আলী (রাঃ) বললেন, “আমি সে ব্যাক্তি যাকে আমার মা ’হায়দর’ (সিংহ) নাম রেখেছেন, যার দর্শন বন্য সিংহের মত ভয়ঙ্কর। আমি তাদের (দুশমনদের) প্রতিদান দেই বড় বড় পাত্র দিয়ে (অর্থাৎ তাদের অবলীলায়) হত্যা করি”। এরপর তিনি মুরাহহাবের মাথায় তলোয়ার মারলেন এবং তাকে হত্যা করলেন। তারপর তারই হাতে (খায়বার) বিজয় হল।
ইবরাহিম ... ইকরামা ইবনু আম্মার সুত্রেও এই হাদিস সুদীর্ঘরূপে বর্ণনা করেছেন।