রেওয়ায়ত ২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ উরওয়াহ ইবন যুবাইর (রহঃ) সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রাঃ) উভয়ে বলিতেন: কিতাবাতের কিছু অংশ যতক্ষণ অবশিষ্ট থাকিবে ততক্ষণ মাকাতিব থাকিয়া যাইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার মতও তাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি মাকাতিবের মৃত্যু হয় এবং “বদল-এ কিতাবাত” হইতে যে পরিমাণ (আদায় করা) তাহার জিম্মায় রহিয়াছে ততোধিক মাল যে রাখিয়া যায়, আর তাহার সন্তানাদি থাকে যাহারা কিতাবাত হওয়ার পরও উহার সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর জনিয়াছে অথবা উহাদেরসহ কিতাবাত অনুষ্ঠিত হইয়াছে তবে কিতাবাতের (নির্ধারিত) মাল শোধ করার পর যাহা অবশিষ্ট থাকিবে উহার উত্তরাধিকারী তাহারা হইবে।
রেওয়ায়ত ৮. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উরওয়াহ ইবন যুবায়র ও সুলায়মান ইবন ইয়াসার তাহাদের উভয়কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যে ব্যক্তি নিজের এবং তাহার ছেলেদের মুক্তির জন্য মুকাতাবাত করিয়াছে। তারপর তাহার মৃত্যু হইয়াছে (এই অবস্থায়) এমতাবস্থায় মুকাতাবের ছেলেরা তাহাদের পিতার কিতাবাত-এর অর্থ আদায় করার জন্য চেষ্টা করিবে কি? না তাহারা ক্রীতদাস থাকিয়া যাইবে? তাহারা (উত্তরে) বলিলেন, তাহারা (মুকাতাবের) (ছেলেরা) তাহাদের পিতার কিতাবাতের অর্থ পরিশোধের জন্য চেষ্টা করিবে। তাহাদের উপর হইতে পিতার মৃত্যু হেতু "বদলে কিতাবাত"-এর পরিমাণ বা মূল্য হইতে কিছু কমান হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ (মৃত) মুকাতাবের সন্তানগণ যদি ছোট বয়সের থাকে যাহারা (“বদলে-কিতাবাত আদায় করার”) চেষ্টা করার সামর্থ্য রাখে না, তবে তাহাদের (বড় হওয়ার) জন্য অপেক্ষা করা হইবে না। তাহারা তাহদের পিতার কর্তার ক্রীতদাস থাকিবে; কিন্তু মুকাতাব যদি এই পরিমাণ মাল রাখিয়া যায় ছেলেরা চেষ্টা করার উপযোগী হওয়া পর্যন্ত সেই পরিমাণ মালের দ্বারা তাহদের (কিতাবাতের) কিস্তি আদায় করা যাইতে পারে। যদি তাহদের পিতা যে মাল রাখিয়া গিয়াছে তাহাতে তাহদের কিস্তি আদায় করা যায়, তবে (তাহাদের ছোট থাকাকালে) তাহাদের কিস্তি আদায় করা হইবে; এবং তাহাদিগকে চেষ্টার উপযোগী বয়সে উপনীত হওয়া পর্যন্ত এইভাবে থাকিতে দেওয়া হইবে। যদি তাহার “বদলে কিতাবাত” আদায় করে তবে সকলেই আযাদ হইয়া যাইবে। আর তাহারা ইহা হইতে অক্ষম হইলে গোলাম থাকিয়া যাইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে মুকাতাবের মৃত্যু হইয়াছে এবং সে রাখিয়া গিয়াছে সন্তান যাহারা তাহার সহিত কিতাবাতে শামিল রহিয়াছে আর (রাখিয়া গিয়াছে) “উম্মে-ওয়ালাদ” আর (সে রাখিয়া গিয়াছে) মাল যাহা “বদলে কিতাবাত” পরিশোধ করার জন্য যথেষ্ট নহে।
“উম্মে ওয়ালাদ” যদি উহাদের আযাদীর নিমিত্ত চেষ্টা চালাইতে ইচ্ছা করে, যদি সে চেষ্টা করার উপযুক্ত হয় এবং নির্ভরযোগ্যও হয়, তবে (মৃত মুকাতাবের) মাল তাহার নিকট সোপর্দ করা হইবে। আর সে যদি চেষ্টা চালাইবার উপযুক্ত না হয় এবং নির্ভরযোগ্যও নহে তবে মালের কিছুই উহার নিকট সোপর্দ করা হইবে না। পক্ষান্তরে সেই মুকাতাবের সন্তানগণ মুকাতাবের কর্তার ক্রীতদাস থাকিবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসের একদল যদি মুকাতাবাত করে একত্রে একই কিতাবাতের ভিতর তাহাদের মধ্যে পরস্পর আত্মীয়তার সম্বন্ধও নাই, অতঃপর কিছু সংখ্যক অপারক হয়। আর কিছু লোক চেষ্টা চালায়। ফলে সকলেই আযাদ হইয়া যায়। পক্ষান্তরে, যাহারা (আযাদীর জন্য) চেষ্টা করিয়াছে তাহারা প্রত্যাবর্তন করিবে, উহাদের দিকে যাহারা অক্ষম হইয়াছিল সেই অংশ অনুযায়ী যেই অংশ উহাদের তরফ হইতে পরিশোধ করা হইয়াছে। কারণ উহারা এক অপরের জামিন।
৭. মুকাতাবের আযাদী প্রসঙ্গ — যদি সে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে “বদলে কিতাবাত” পরিশোধ করে
রেওয়ায়ত ৯. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি রবী’আ ইবন আবি ’আবদির রহমান এবং আরও কিছু আলিমকে বলিতে শুনিয়াছেন, ফারাফিসা ইবন উমাইর আল হানাফী (রহঃ)-এর একজন মুকাতাব ছিল। সে “বদলে কিতাবাতের” সম্পূর্ণ অর্থ যাহা তাহার জিম্মায় রহিয়াছে, তাহা এক সঙ্গে তাহার নিকট পেশ করিল। ফারাফিসা উহা গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিল। মুকাতাব আমীরে মদীনা মারওয়ান ইবন হাকামের নিকট উপস্থিত হইল এবং বিষয়টি তাহাকে জানাইল। মারওয়ান ফারাফিসা ইবন উমাইরকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। তিনি উপস্থিত হইলে তাহাকে উহা গ্রহণ করার কথা বলিলেন, কিন্তু ফারাফিসা অস্বীকার করিল, মারওয়ান সেই মাল মুকাতাব হইতে গ্রহণ করিয়া বায়তুলমালে রাখার নির্দেশ দিলেন; এবং (সাথে সাথে) মুকাতাবকে বলিয়া দিলেন: যাও, তুমি আযাদ হইয়া গিয়াছ। ফারাফিসা ইহা লক্ষ্য করিয়া মাল (নিজে) গ্রহণ করিল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইহার মীমাংসা এই — মুকাতাব যদি তাহার জিম্মার সব কিস্তি উহার (নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে) আদায় করিয়া দেয় ইহা তাহার জন্য জায়েয হইবে, তাহার কর্তার পক্ষে ইহা অস্বীকার করিবার অধিকার নাই। ইহা এইজন্য যে, কর্তা ইহার দ্বারা মুকাতাবকে সর্বপ্রকার শর্ত অথবা খেদমত অথবা সফর হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতেছে। কারণ সামান্য দাসত্ব বহাল থাকিলেও কোন ব্যক্তির আযাদী পূর্ণ হয় না এবং (এমতাবস্থায়) উহার ব্যক্তিমর্যাদা পূর্ণতা লাভ করে না, আর উহার সাক্ষ্যও বৈধ হয় না, উহার জন্য মীরাস ওয়াজিব হয় না এবং এই জাতীয় আরও অন্যান্য আহকাম যাহা মুকাতাব সম্পর্কে রহিয়াছে। পক্ষান্তরে (ইহার পর) মুকাতাবের কর্তা কর্তৃক মুকাতাবের উপর কোন শর্ত আরোপ করা এবং আযাদীর পর কোন খেদমত গ্রহণ করা সঙ্গত নহে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে মুকাতাব গুরুতর অসুস্থ হইয়াছে সে তাহার যাবতীয় কিস্তি একত্রে কর্তাকে দিবার ইচ্ছা করিল, যেন তাহার আযাদ উত্তরাধিকারিগণ তাহার মীরাস লাভ করে এবং তাহার কোন সন্তান কিতাবাতে তাহার সঙ্গে শামিল নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা তাহার জন্য জায়েয হইবে। কেননা ইহার দ্বারা তাহার ব্যক্তিমর্যাদা পূর্ণত্ব লাভ করিবে এবং তাহার সাক্ষ্য জায়েয হইবে, আর তাহার উপর লোকের যে সকল ঋণ রহিয়াছে সেই সকল ঋণের স্বীকারোক্তি করাও জায়েয হইবে এবং তাহার পক্ষে ওসীয়ত করাও জায়েয হইবে তাহার কর্তার পক্ষে ইহা অস্বীকার করার অধিকার নাই “যেমন সে ইহা বলে যে, তাহার মাল বাচাইবার প্রচেষ্টা করিয়াছে।”
রেওয়ায়ত ১০. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল জনৈক মুকাতাব সম্বন্ধে, যে (মুকাতাব) দুই ব্যক্তির যুক্ত মালিকানায় রহিয়াছে, অতঃপর এক শরীক তাহার অংশ আযাদ করিয়া দিল। তারপর মুকাতাব মারা গেল এবং সে প্রচুর সম্পদ রাখিয়া গিয়াছে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিলেনঃ যেই শরীক কিতাবাতের উপর প্রতিষ্ঠিত রহিয়াছে (অর্থাৎ আযাদ করে নাই) সেই শরীকের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করা হইবে। তারপর যাহা থাকিয়া যায় উহা উভয়ে ভাগ করিয়া নিবে সমান সমান।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুকতাব কিতাবাত চুক্তি করিয়াছে। তারপর আযাদ হইয়াছে ও মারা গিয়াছে। যেই কর্তা কিতাবাত করিয়াছে মুকাতাবের মৃত্যুর দিন সেই কর্তার ছেলে অথবা কর্তার পুরুষ আত্মীয়দের মধ্যে ’আসাবার ভিতর আত্মীয়তার দিক দিয়া যে নিকটতম সেই উক্ত মুকাতাবের মীরাস পাইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই হুকুম আরো জারি হইবে সেই সকল ক্রীতদাসের ব্যাপারে যাহাদিগকে আযাদ করা হইয়াছে, উহাদের মীরাস আযাদী দাতার সন্তান অথবা আসাবাদের হইতে পুরুষের মধ্যে আর্যাদী দাতার নিকটতম ব্যক্তি পাইবে। এই আত্মীয়ত নির্ধারিতা হইবে যেই দিন আযাদীপ্রাপ্ত ব্যক্তির মৃত্যু হইয়াছে সেই দিন আযাদী পাওয়ার এবং উত্তরাধিকারসূত্রে মাওরূস হওয়ার পর।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ কিতাবাতে শরীক ভাইয়েরা সন্তানের মতো, যদি বলে একই কিতাবাতের মাধ্যমে মুকাতাব করিয়া থাকে, তাহাদের কাহারো কিতাবাতের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সন্তান পয়দা হইয়াছে, এইরূপ সন্তান না থাকিলে অথবা সন্তানকে কিতাবাতের অন্তর্ভুক্ত না করিয়া থাকিলে (তবে উপরিউক্ত হুকুম প্রযোজ্য হইবে) কারণ ভাইয়েরা পরস্পর একে অপরের মীরাস পাইবে।
পক্ষান্তরে যদি তাহাদের কোন একজনের সন্তান থাকে যে সন্তান পয়দা হইয়াছে কিতাবাতের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে অথবা উহাদিগকে কিতাবাতের অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছিল, তারপর তাহার মৃত্যু হইয়াছে এবং মাল রাখিয়া গিয়াছে, তবে (সেই মাল হইতে) সকলের তরফ হইতে কিতাবাতের (অনাদায়ী) অর্থ পরিশোধ করা হইবে। ইহার পর অবশিষ্ট যে মাল থাকিবে সে মাল (মৃত ব্যক্তির) সন্তানেরা পাইবে, ভাইগণ পাইবে না।
রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্বর্ণ অথবা রৌপ্যের বিনিময়ে আপন ক্রীতদাসের সহিত মুকাতাবাত করিয়াছে এবং ক্রীতদাসের উপর তাহার কিতাবাতের মধ্যে শর্তারোপ করিয়াছে, সফরের অথবা খেদমতের অথবা কুরবানীর, আর ইহার প্রত্যেকটির নাম নির্দিষ্ট করিয়া দিয়াছে (যাহার শর্ত করিয়াছে কিতাবাতের মধ্যে)। অতঃপর মুকাতাব নির্দিষ্ট সময় আসার পূর্বে তাহার সকল কিস্তি শোধ করিতে সমর্থ হইয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যখন উহার সকল কিস্তি শোধ করিয়াছে, উহার উপর এই শর্ত (আরোপিত) রহিয়াছে, সে আযাদ হইয়া যাইবে এবং উহার সম্মান পূর্ণ হইয়াছে। এখন লক্ষ্য করিতে হইবে, উহার উপর যে শর্তারোপ করা হইয়াছে খেদমত অথবা প্রবাস অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু যাহা উহাকে নিজেই করিতে হইবে। তবে এই জাতীয় শর্তাদি উহা হইতে পরিহার করা হইবে এবং তাহার কর্তার এই জাতীয় কিছুতে অধিকার থাকিবে না। পক্ষান্তরে যে শর্ত হয় কুরবানী; পোশাক অথবা অন্য কোন কিছুর যাহা আদায় করা হয় (এই জাতীয় শর্ত করিয়া থাকিলে) উহা হইবে দীনার, দিরহামের মতো। মুকাতাবের উপর উহার মূল্য নির্ধারিত করা হইবে। অতঃপর সেই অর্থ কিস্তির মাধ্যমে কর্তাকে পরিশোধ করিবে। যতক্ষণ কিস্তির সহিত ইহা আদায় না করিবে ততক্ষণ সে আযাদ হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত যাহাতে কোন মতভেদ নাই, তাহা এই—মুকাতাব সেই ক্রীতদাসের মতো যাহাকে তাহার কর্তা দশ বৎসর খেদমত করার (শর্তে) পর আযাদ করিয়াছে। অতঃপর তাহার কর্তা যিনি ক্রীতদাসকে আযাদ করিয়াছে (অর্থাৎ আযাদ করার কথা দিয়াছে শর্তাধীনে) কর্তা মৃত্যুবরণ করিয়াছে দশ বৎসর (অতিবাহিত হওয়ার) পূর্বে। তবে যে (কয় বৎসর বা মাসের) খেদমত অবশিষ্ট রহিয়াছে সে খেদমত কর্তার ওয়ারিসগণের প্রাপ্য হইবে; আর (আযাদীর) পর উহার উত্তরাধিকার পাইবে যে আযাদীর চুক্তি করিয়াছিল সে এবং তাহার পুরুষ সন্তানগণ অথবা আসাবাগণ।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি তাহার মুকাতাবের উপর শর্তারোপ করিয়াছে, তুমি প্রবাসে যাইবে না, বিবাহ করিবে না এবং আমার ভূমি (দেশ) হইতে আমার অনুমতি ছাড়া বাহিরে যাইবে না, যদি আমার অনুমতি ছাড়া ইহার কোন একটি কর, তবে তোমার কিতাবাত বাতিল করার ক্ষমতা আমার হাতে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুকাতাবের কিতাবাত বাতিল করার ক্ষমতা সেই ব্যক্তির হাতে নহে। বরং যদি মুকাতাব এই রকম কোন কর্ম করিয়া থাকে তবে উহার কর্তা বিষয়টি বাদশাহ হাকিম-এর নিকট উত্থাপন করিবে। পক্ষাত্তরে শর্ত করুক বা নাই করুক, মুকাতাবের পক্ষে কর্তার অনুমতি ছাড়া বিবাহ করা জায়েয নহে এবং সে প্রবাসে যাইবে না; এবং কর্তার দেশ হইতে বাহিরে যাইবে না কর্তার অনুমতি ব্যতীত। ইহা এইজন্য — এক ব্যক্তি তাহার মুকাতাবের সহিত মুকাতাবাত করিয়াছে একশত দীনারের বিনিময়ে। মুকাতাবের নিকট রহিয়াছে এক হাজার দীনার বা ততোধিক। অতঃপর সে যাইয়া কোন নারীকে বিবাহ করিলে এবং উহাকে মহর দিলে যাহা তাহার মালকে অনেক কমাইয়া দিবে এবং উহাতে “বদলে কিতাবাত” আদায় করিতে যে অপারক হইবে, ফলে তাহার কর্তার দিকে ফিরিবে দাসরূপে। যাহার নিকট কোন মাল নাই, অথবা সে প্রবাসে যাইবে (ইতিমধ্যে) তাহার কিস্তি আদায়ের সময় উপস্থিত হইবে, অথচ সে অনুপস্থিত, এইরূপ করার ইখতিয়ার মুকাতাবের নাই এবং উহার উপর মুকাতাবাত সংঘটিত হয় নাই। এইসব ইখতিয়ার তাহার কর্তার হাতে, সে ইচ্ছা করিলে তাহাকে অনুমতি দিবে এই ব্যাপারে, আর ইচ্ছা করিলে সে ইহা হইতে বারণ করিবে।
১০. মুকাতাব-এর উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে যদি সে ক্রীতদাসকে আযাদ করে
রেওয়ায়ত ১৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসদের একদল যদি একই কিতাবাতে সংযুক্ত থাকে, তবে কিতাবাতে শামিল অন্যান্য সাথীর পরামর্শ ও সম্মতি ব্যতীত উহাদের একজনকে কর্তা আযাদী দিতে পারিবে না, আর উহারা যদি অল্প বয়সের হয়, তবে উহাদের পরামর্শ গ্রহণযোগ্য নহে এবং উহাদের পরামর্শ গ্রহণ করা বৈধ নহে। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহা এইজন্য যে, কোন ব্যক্তি হয়ত সকলের পক্ষে চেষ্টা বা পরিশ্রম করিতে পারে এবং (চেষ্টা করিয়া) সকলের পক্ষ হইতে “বদলে কিতাবাত” পরিশোধ করিতে পারে, যেন সকলের আযাদী ইহার দ্বারা পূর্ণতা লাভ করে। আর যে ব্যক্তি সকলের পক্ষ হইতে “বদলে কিতাবাত” পরিশোধ করিবে এবং গোলামি হইতে উহাদের মুক্তি পাওয়া যাহার উপর নির্ভরশীল কর্তা সেই ব্যক্তিকে আযাদ করিয়া দিতেছে যেন অন্যান্য ক্রীতদাস অপারক হইয়া পড়ে (ফলে যেন উহারা গোলাম থাকিয়া যায়)। কর্তা এইরূপ করিয়া নিজের জন্য কিছু অতিরিক্ত সুবিধা আদায় করিতে প্রয়াসী। তাই যাহারা অবশিষ্ট রহিয়াছে উহাদের স্বার্থে এইরূপ করা জায়েয হইবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেন, ইসলামে কাহারো ক্ষতি সাধন বৈধ নহে। (এমনকি) প্রতিশোধমূলক কাহারো ক্ষতি সাধনও বৈধ নহে। (অন্যদেরকে ক্রীতদাস রাখার জন্য দলের একজনকে আযাদ করিয়া দেওয়া) ইহাতে অন্যদের উপর জঘন্য ধরনের ক্ষতি করা হইল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ কয়েকজন ক্রীতদাস একত্রে কিতাবাত করিয়াছে (উহাদের মধ্য হইতে) অশীতিপর বৃদ্ধ এবং বালককে আযাদ করিয়া দেওয়ার ইখতিয়ার কর্তার রহিয়াছে। যাহারা কিছু দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না এবং উহাদের কিতাবাতের মূল্য আদায়ের ব্যাপারে কোন সহযোগী বা সাহায্যকারীও উহাদের নাই, তবে (এইরূপ ব্যক্তিকে) আযাদ করা কর্তার জন্য জায়েয আছে।
১২. মুকাতাব এবং উম্মে-ওয়ালাদকে আযাদী প্রদানের বিবিধ প্রসঙ্গ
রেওয়ায়ত ১৪. মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি নিজের ক্রীতদাসের সহিত মুকাতাব করিয়াছে, অতঃপর মুকাতাবের মৃত্যু হইয়াছে এবং রাখিয়া গিয়াছে তাহার উম্মে-ওয়ালাদ। আর তাহার কিতাবাতের কিছু অবশিষ্ট (অনাদায়ী) রহিয়াছে এবং সে (বদলে কিতাবাতের বাকী কিস্তি) যাহা তাহার জিম্মায় রহিয়াছে উহা পরিশোধ করা যায় এমন মালও রাখিয়া গিয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আযাদী লাভের পূর্বে যখন মুকাতাবের মৃত্যু হইয়াছে এবং সন্তানও রাখিয়া যায় নাই যাহারা “বদলে কিতাবাত”-এর বকেয়া পরিশোধ করিয়া নিজেরাও আযাদী লাভ করিত এবং (সাথে সাথে) তাহাদের পিতার “উম্মে-ওয়ালাদ”ও ইহার ফলে আযাদী লাভ করিত (কাজেই) মুকাতাবের “উম্মে-ওয়ালাদ” ক্রীতদাসী থাকিয়া যাইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ (মুকাতাব তাহার গোলামকে আযাদ করিয়া দিয়াছে অথবা তাহার মালের কিছু অংশ সদকা করিয়া দিয়াছে এবং তাহার কর্তাকে সে উহা জানায় নাই (এই অবস্থাতে) মুকাতাব আযাদী লাভ করিয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা তাহার পক্ষে কার্যকর করা হইবে, মুকাতাবের জন্য উহা হইতে রুজু করারও ইখতিয়ার থাকিবে না, পক্ষান্তরে যদি মুকাতাবের আযাদী লাভের পূর্বে কর্তা উহা জানিতে পারে এবং (জানার পর) সে উহা রদ করিয়া দেয় উহাকে চালু না করে তবে মুকাতাব আযাদ হইলে পর, মাল ও ক্রীতদাস তাহার হাতে থাকিলে তাহার জন্য গোলাম আযাদ করা অথবা সেই সদৃকা বাহির করা জরুরী নহে, কিন্তু ইহা স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে করিতে পারিবে।
রেওয়ায়ত ৩. হুমায়দ ইবন কায়স মক্কী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ইবনুল মুতাওয়াক্কিল এর একজন মাকাতিব মক্কাতে মারা যায় এবং সে রাখিয়া যায় তাহার বদল-এ কিতাবাত-এর অবশিষ্ট এবং লোকের অনেক ঋণ। আরও রাখিয়া যায় তাহার এক কন্যাকে। মক্কার শাসনকর্তা এই ব্যাপারে ফয়সালা করিতে যাইয়া মুশকিলে পড়েন। (কারণ হুকুম তাহার জানা ছিল না) তাই তিনি এই ব্যাপারে প্রশ্ন করিয়া পত্র লিখিলেন আবদুল মালিক ইবন মারওয়ানের নিকট। আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান তাহার নিকট (উত্তরে) লিখিলেন, প্রথমে লোকের ঋণ পরিশোধ কর, তারপর "বদল-এ কিতাবাত"-এর বাকী অংশ পরিশোধ কর। অতঃপর তাহার যাহা অবশিষ্ট রহিল উহা তাহার কন্যা ও কর্তার মধ্যে বন্টন করিয়া দাও।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মতে ক্রীতদাস কিতাবাতের প্রার্থনা জানাইলে কর্তার জন্য উহার সহিত কিতাবাতের চুক্তি করা জরুরী নহে এবং কোন ইমামকে ইহা জরুরী বলিয়া মত প্রকাশ করিতে আমি শুনি
নাই। কোন কোন আলিমকে যখন এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হইল এবং (কিতাবাত জরুরী হওয়ার প্রমাণ স্বরূপ) তাঁহাকে বলা হইল আল্লাহ তা’আলা কুরআনুল করীমে ইরশাদ করিয়াছেনঃ
فَكَاتِبُوهُمْ إِنْ عَلِمْتُمْ فِيهِمْ خَيْرًا
অর্থাৎ তাহাদিগের সহিত চুক্তিতে আবদ্ধ হও, যদি তোমরা জান উহাদিগের মুক্তিদানে কল্যাণ আছে। (সূরা আন-নূর : ৩৩)
আমি শুনিয়াছি তিনি (উত্তরে) তিনি (পরে উল্লেখিত) এই আয়াতদ্বয় তিলাওয়াত করিলেনঃ
وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا
অর্থাৎ যখন তোমরা ইহরাম মুক্ত হইবে শিকার করিতে পার। (সূরা মায়িদাঃ ২)
فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلاَةُ فَانْتَشِرُوا فِي الأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ
অর্থাৎ সালাত সমাপ্ত হইলে তোমরা বাহির হইয়া পড়িবে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করিবে। (সূরা জুমু’আঃ ১০)
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা একটি হুকুম, আল্লাহ তা’আলা লোকদিগকে ইহার অনুমতি দিয়াছেন ইহা তাহাদের জন্য ওয়াজিব নহে।
মালিক (রহঃ) বলেন, কোন কোন আলিম ব্যক্তিকে আল্লাহ্ তা’আলার বাণী (وَآتُوهُمْ مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي آتَاكُمْ) “আল্লাহ তোমাদিগকে যে সম্পদ দিয়াছেন তাহা হইতে তোমরা উহাদিগকে দান করিবে।” (সূরা আন-নূরঃ ৩৩) সম্পর্কে বলিতে আমি শুনিয়াছি, ইহা এই যে, কোন ব্যক্তি গোলামের সহিত কিতাবাত করিয়াছে, কিতাবাতের সময় শেষ হইয়া আসিলে ক্রীতদাস হইতে প্রাপ্য অংশের নির্দিষ্ট কিছু কমাইয়া দেওয়া।
মালিক (রহঃ) বলেন-“আহল ইলম”-এর নিকট হইতে (এই ব্যাপারে) আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই অতি উত্তম। আমি মদীনার লোকদেরকে এইরূপ আমল করিতে দেখিয়াছি।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহার এক ক্রীতদাসের সহিত পয়ত্রিশ হাজার দিরহামের বিনিময়ে মুকাতাবাত করিয়াছিলেন, অতঃপর কিতাবাতের শেষের দিকে পাঁচ হাজার দিরহাম কমাইয়া দিলেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাসআলা এই, মুকাতাব গোলামের সহিত তাহার কর্তা কিতাবাত চুক্তি করিলে গোলামের মাল তাহারই গোলামের থাকিবে। কিন্তু সন্তানগণ তাহার অধিকারে থাকিবে না। যদি কিতাবাত করার সময় সন্তানগণ গোলামের অধিকারে থাকিবে বলিয়া শর্ত করিয়া থাকে তবে অন্য কথা।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে মাকাতিবের সহিত তাহার কর্তা কিতাবাত চুক্তি করিয়াছে চুক্তিকালে তাহার (ক্রীতদাসের) একটি দাসী ছিল, যে দাসী তাহার দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা হইয়াছে। অথচ তখন ইহা গোলাম ও তাহার কর্তা কাহারও জানা ছিল না। তবে সে সন্তান ক্রীতদাসের হইবে না। কারণ কিতাবাত চুক্তিতে এই সন্তানের কথা শামিল ছিল না। ফলে এই সন্তান কর্তার অধিকারে থাকিবে। পক্ষান্তরে ক্রীতদাসটি (সন্তানের জননী) গোলামের মালিকানায় থাকিবে। কারণ উহা তাহারই সম্পদ।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর পক্ষ হইতে মীরাস সূত্রে একটি মুকাতাব গোলাম লাভ করিয়াছে, সে এবং তাহারা উভয়ে "বদল-এ কিতাবাত" পরিশোধ করার পূর্বে যদি উহার মৃত্যু হয় তবে তাহারা উভয়ে কুরআনে বর্ণিত মীরাস আইন অনুযায়ী পরস্পর মীরাস বন্টন করিয়া লইবে। আর যদি “বদল-এ কিতাবাত” পরিশাধ করার পর উহার মৃত্যু হয় তবে উহার মীরাস লাভ করিবে (স্ত্রীর) পুত্র, উহার মীরাসে স্বামীর কোন হক থাকিবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে মাকাতিব তাহার ক্রীতদাসের সহিত কিতাবাত চুক্তি করিয়াছে তাহার ব্যাপারে লক্ষ্য করিতে হইবে যে, যদি সে ক্রীতদাসের প্রতি উদারতা ও মমতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে ইহা করিয়া থাকে এবং উহা জানাও যায় এইভাবে যে, সে ক্রীতদাসের কিতাবাত চুক্তির নির্ধারিত অর্থ হইতে কিছু পরিমাণ অর্থ ছাড়িয়া দেয় তবে ইহা বৈধ হইবে না। আর যদি উৎসাহ, অর্থ উপার্জন ও অতিরিক্ত অনুসন্ধান এবং তাহার আযাদীর পথে মদদ লাভের উদ্দেশ্যে স্বীয় এক ক্রীতদাসের সহিত মুকাতাবাত করিয়া থাকে তবে (তাহার জন্য) ইহা বৈধ হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি নিজের মুকাতাব ক্রীতদাসীর সহিত সঙ্গম করিয়াছে, উহাতে যদি সে অন্তঃসত্ত্বা হয়, তবে উহার ইখতিয়ার থাকিবে, ইচ্ছা হইলে (কর্তার) উম্মে-ওয়ালাদ হিসাবে থাকিবে, অথবা ইচ্ছা করিলে (তাহার সাবেক) কিতাবাতের প্রতিশ্রুতি মুতাবিক অগ্রসর হইতে থাকিবে। আর যদি সে অন্তঃসত্ত্বা না হয়, তবে সে কিতাবাতের উপর বহাল থাকিবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট যেই সিদ্ধান্তে মতৈক্য স্থাপিত হইয়াছে তাহা এই, যে ক্রীতদাস দুই ব্যক্তির মালিকানাতে থাকে, তাহাদের একজন ক্রীতদাস হইতে নিজের অংশে কিতাবাত চুক্তি করিতে পারিবে না, তাহার অপর শরীক ইহার অনুমতি দিক বা না দিক। তবে যদি তাহারা উভয়ে একত্রে ক্রীতদাসের সহিত কিতাবাত চুক্তি করে (তাহা বৈধ হইবে)। কারণ কিতাবাত হইল ক্রীতদাসের জন্য আযাদ লাভের চুক্তি, যাহার উপর কিতাবাত নির্ধারিত হইয়াছে-ক্রীতদাস যদি উহা পরিশোধ করে তবে ক্রীতদাস আযাদ হইয়া যাইবে। পক্ষান্তরে যে শরীক কিছু অংশের কিতাবাত করিয়াছে তাহার পক্ষে ক্রীতদাসের আযাদী পূর্ণরূপে সম্পন্ন করা জরুরী নহে। ইহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন তাহার বিপরীত। (তিনি বলিয়াছেন) যে ব্যক্তি ক্রীতদাসে তাহার যে অংশ রহিয়াছে তাহা আযাদ করিয়া দেয় ন্যায়সঙ্গতভাবে তাহার উপর (অবশিষ্ট অংশের) মূল্য নির্ধারণ করা হইবে (ইহা আযাদীর ব্যাপারে প্রযোজ্য কিন্তু কিতাবাতের ব্যাপারে প্রযোজ্য নহে) ।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি এক অংশীদার কিতাবাত করিয়াছে, উহা সম্পর্কে অন্য অংশীদার জ্ঞাত নহে, মুকাতাব হইতে সে সম্পূর্ণ বদল-এ কিতাবাত (বিনিময়ের মূল্য) আদায় করিয়াছে অথবা বদল-এ কিতাবাত আদায় করে নাই, অথচ অন্য শরীক তখনও ইহা জানে না-এই অবস্থায় সেই শরীক কিতাবাতের অর্থ হইতে যাহা গ্রহণ করিয়াছে উহা ফিরাইয়া দিবে। তারপর সে এবং তাহার শরীক হিসসা মুতাবিক উহা ভাগ করিয়া লইবে এবং তাহার কিতাবাত বাতিল হইয়া যাইবে। ক্রীতদাস প্রথম অবস্থায় যেমন ক্রীতদাস ছিল এখনও উভয়ের ক্রীতদাস থাকিবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে মুকাতাব ক্রীতদাস দুই কর্তার মালিকানায় রহিয়াছে। এক কর্তা ক্রীতদাসকে তাহার হকের ব্যাপারে কিছু অবকাশ দিল। অপর কর্তা অবকাশ দিতে অস্বীকার করিল। অতঃপর যে অবকাশ প্রদান করিতে অস্বীকার করিয়াছে সে তাহার কিছু হক (ক্রীতদাস হইতে) আদায় করিয়াছে। তারপর মুকাতাব-এর মৃত্যু হইল। সে যাহা মাল রাখিয়া গিয়াছে উহাতে "বদল-এক কিতাবাত" পূর্ণ হওয়ার নহে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহারা (দুই শরীক) উভয়ে ভাগ করিবে তাহদের উভয়ের হিসসা মুতাবিক। (অর্থাৎ) তাহাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশ পরিমাণ গ্রহণ করিবে, আর যদি মুকাতাব “বদল-এ কিতাবাত” হইতে অতিরিক্ত মাল রাখিয়া যায়, তবে তাহদের প্রত্যেকে বদল-এ কিতাবাত-এর স্ব-স্ব হিসসা গ্রহণ করিবে, অবশিষ্ট যাহা থাকে উহা উভয়ের মধ্যে সমভাবে বন্টন করিয়া লইবে। আর যদি মুকাতাব অপারক হয়, (অপর দিকে) সেই অংশীদার অবকাশ দেয় নাই সে তাহার অপর অংশীদার অপেক্ষা অধিক (অর্থ) গ্রহণ করিয়াছে, তবে তাহাদের উভয়ের মধ্যে ক্রীতদাসের অংশ থাকিবে অর্ধেক অর্ধেক। যে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করিয়াছে সে তাহার অংশীদারকে উহা ফেরত দিবে না। কারণ সে অংশীদারের অনুমতি লইয়া তাহার প্রাপ্য হক গ্রহণ করিয়াছে। আর যদি এক অংশীদার তার প্রাপ্য অংশ মাফ করিয়া দেয় অতঃপর তাহার অপর অংশীদার ক্রীতদাস হইতে (তাহার প্রাপ্য হইতে) কিছু অংশ গ্রহণ করিয়াছে। তারপর মুকাতাব গোলাম অপারক হইয়াছে। তবে গোলাম উভয়ের মধ্যে (সমান সমান) হইবে। আর যে শরীকদার কিছু অর্থ গ্রহণ করিয়াছে সে আপন অংশীদারকে কিছুই ফেরত দিবে না। কারণ সে ক্রীতদাসের উপর তাহার যাহা প্রাপ্য ছিল উহা গ্রহণ করিয়াছে। ইহার দৃষ্টান্ত এইরূপ, দুই ব্যক্তির এক ব্যক্তির উপর ঋণ রহিয়াছে একই সূত্রে, তাহাদের একজন (খাতককে) অবকাশ দিল, অপর ব্যক্তি কৃপণতা করিল এবং তাহার কিছু প্রাপ্য উশুল করিল, তারপর (غريم) খাতক (مفلس) রিক্ত হস্ত হইয়া গেল। (এই অবস্থাতে) যে ব্যক্তি তাহার হক গ্রহণ করিয়াছে তাহাকে যাহা গ্রহণ করিয়াছে উহা হইতে (অপর ঋণ তাহার জন্য) কিছু ফিরাইয়া দিতে হইবে না।
বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)
রেওয়ায়ত ৪. মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট এই ব্যাপারে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত হইল এই—কয়েকজন ক্রীতদাসের সহিত একই চুক্তিতে কিতাবাত করা হইলে তবে তাহাদের একজন অপরজনের জামিন হইবে, তাহাদের মধ্যে একজনের মৃত্যুর কারণে তাহাদের উপর হইতে কিছু কমানো হইবে না। উহাদের একজন যদি বলে, আমি অপারক হইয়াছি এবং হাত ছাড়িয়া দেয়, তবে তাহার সাথীগণের অধিকার থাকিবে তাহাকে সাধ্যমত কাজে লাগানো এবং তাহার দ্বারা তাহারা তাহদের কিতাবাতের (বিনিময় মূল্য পরিশোধ) ব্যাপারে সহযোগিতা করিবে যেন তাহারা আযাদ হইলে সেও আযাদ হইয়া যায়। আর তাহারা গোলাম থাকিয়া গেলে সেও গোলাম থাকিবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে আমাদের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত অভিমত হইল, কর্তা ক্রীতদাসের সহিত কিতাবাত চুক্তি করিলে তবে ক্রীতদাসের কিতাবাতের ব্যাপারে কর্তা অন্য কাহাকেও জামিন করিবে না। এমন কি গোলাম মারা গেলেও অথবা অপারক হইলেও। ইহা মুসলিমদের তরীকা নহে। কারণ যদি কোন ব্যক্তি “বদল-এ কিতাবাতের” ব্যাপারে মুকাতাব-এর পক্ষে কর্তার নিকট জামিন হয়, তারপর মুকাতাব-এর কর্তা সেই মাল জামিনদারের নিকট হইতে আদায় করে তবে এই মাল অন্যায়ভাবে সে গ্রহণ করিল। যেহেতু সে ব্যক্তি মুকাতাবকে খরিদও করে নাই, খরিদ করিলে তাহা মূল্য হইতে গ্রহণ করা হইয়াছে বলিয়া ধরা যাইত। পক্ষান্তরে মুকাতাব আযাদও হয় নাই, তাহা হইলে যাহা জামিনদার হইতে গ্রহণ করা হইয়াছে উহা ক্রীতদাসের আযাদীর বিনিময় হিসাবে ধরা যাইত, মুকাতাব অক্ষম হইলে সে কর্তার দিকে ফিরিবে এবং সে কর্তার মালিকানায় দাস থাকিয়া যাইবে।
ইহা এইজন্য যে, কিতাবাত কোন দরকারী ঋণ নহে যাহার জন্য মুকাতাবের কর্তাকে কিতাবাতের জামানত দেওয়া যায়, বরং কিতাবাত হইতেছে এমন একটি বস্তু মুকাতাব উহা আদায় করিলে আযাদ হইয়া যাইবে। আর যদি মুকাতাব-এর মৃত্যু হয় এবং তাহার জিম্মায় ঋণ থাকে তবে ঋণদাতাগণ মাকাতিব-এর কর্তার জন্য কিতাবাতের কারণে কোন হিসসা বরাদ্দ করিবে না। ঋণদাতাগণ কর্তা অপেক্ষা মাকাতিবের মালের অধিক হকদার, আর যদি মাকাতিব অপারক হয় এবং তাহার উপর লোকের ঋণ রহিয়াছে তবে উহাকে, কর্তার গোলামির দিকে ফিরাইয়া দেওয়া হইবে। লোকদের ঋণসমূহ মুকাতাব-এর জিম্মায় থাকিবে। ঋণদাতাগণ ক্রীতদাসের কর্তার সহিত তাহার মূল্যের মধ্যে অংশীদার হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি (ক্রীতদাসদের) এক দলের সহিত মুকাতাবাত করিয়াছে (সকলের সহিত) একই কিতাবাতের মাধ্যমে এবং উহাদের মধ্যে আত্মীয়তায় কোন বন্ধন নাই, যদ্দরুন উহারা পরস্পর মীরাসের অধিকারী হয়, তবে উহারা একে অপরের জামিন হইবে, একজনকে ছাড়িয়া অন্যজন আযাদ হইবে না, যতক্ষণ না সম্পূর্ণ “বদল-এ কিতাবাত” সকলে পরিশোধ না করে যদি উহাদের মধ্যে কাহারো মৃত্যু হয় এবং সে মাল রাখিয়া যায়, যে মাল উহাদের সকলের জিম্মায় যে “বদল-এ কিতাবাত” রহিয়াছে তাহা হইতেও বেশি। তবে উহাদের জিম্মায় যে অর্থ রহিয়াছে উহা সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হইবে, অবশিষ্ট মাল তাহার কর্তা পাইবে। মৃত ব্যক্তির সহিত কিতাবাতে যাহারা শরীক ছিল তাহারা অবশিষ্ট মালের কোন অংশ পাইবে না।
কর্তা তাহাদের নিকট হইতে “বদল-এ কিতাবাতে” উহাদের যে হিসসাসমূহ রহিয়াছে সেই সব উশুল করবে। তাহদের নিকট হইতে যেই সব মাল মৃত (মাকাতিব) ব্যক্তির মাল হইতে শোধ করা হইয়াছিল। কারণ মৃত ব্যক্তি তাহাদের দায়িত্ব উঠাইয়াছে (কিতাবাত এক হওয়ার দরুন) উহাদের দায়িত্ব হইবে উহারা সকলে উহার (মৃত ব্যক্তির) মাল পরিশোধ করিয়া দেওয়া যদ্ধারা তাহারা আযাদী লাভ করিয়াছে। আর যদি মৃত মুকাতাবেরে কোন আযাদ সন্তান থাকে যে কিতাবাতকালীন সময়ে পয়দা হয় নাই এবং উহাকে অন্তর্ভুক্ত করিয়া কিতাবাত করা হয় নাই, তবে এই ছেলে তাহার মৃত পিতার মীরাসের কোন কিছু পাইবে না। কারণ মুকাতাব (তাহার পিতা) মৃত্যুর সময় আযাদী লাভ করে নাই।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
* হামীল (حميل) বলা হয় জামিনকে, হামীল যে বোঝা বহন করে, জামিনদার যাহার জামিন হইয়া উহার বোঝা উঠাইয়া থাকে, "বদল-এ কিতাবাত" কয়েকজন ক্রীতদাসের সহিত একত্রে আযাদীর চুক্তি হইলে তবে উহাদের একজন অক্ষম হইলে দলের অন্যান্য ক্রীতদাস অপারকের পক্ষে অর্থ আদায়ের জামিন হইবে, অন্য কোন ব্যক্তি জামিন হইলে উহা বৈধ নহে।
বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)
রেওয়ায়ত ৫. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মে সালমা (রাঃ) স্বর্ণ এবং রৌপ্যের বিনিময়ে তাহার মুকাতাবদের সঙ্গে মুকাতা’আ (مقاطعة কমানোর চুক্তি) করিতেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হইল এই– যেই মুকাতাব দুই শরীকের মালিকানাতে রহিয়াছে, অপর শরীকের অনুমতি ছাড়া এক শরীকের জন্য তাহার হিস্সাতে মুকাতা’আ করা বৈধ নহে। ইহা এইজন্য যে, ক্রীতদাস এবং তাহার মাল উভয়ের মধ্যে মিলিত, কাজেই তাহাদের একজনের জন্য উহার মাল হইতে কিছু অংশ গ্রহণ করা জায়েয নহে, কিন্তু অপর শরীক যদি অনুমতি দেয় (তবে বৈধ হইবে)। আর যদি উহাদের একজন মুকাতাবের সহিত মুকাতা’আ (বদল-এ কিতাবাত হইতে কমাইবার চুক্তি) করিয়াছে অপর শরীক ছাড়া, অতঃপর উহা সে গ্রহণ করিয়াছে। তারপর মুকাতাবের মৃত্যু হইয়াছে এবং উহার নিকট মাল রহিয়াছে অথবা সে (অর্থ আদায়ে) অক্ষম হইয়া গিয়াছে, তবে যে (শরীক) মুকাতা’আ করিয়াছে সে মুকাতাবের মাল হইতে কিছুই পাইবে না। আর বিনিময়ে অর্থের যে অংশ সে মুকাতা’আ করিয়াছে অর্থাৎ কমাইয়া দিয়া সে উহা ফেরত দিয়া মুকাতাবের রাকাবা (গদান অর্থাৎ দাসত্বের অধিকারী হওয়া)-তে তাহার (সাবেক) হকের দিকে রুজু করার ইখতিয়ারও তাহার থাকিবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তাহার শরীকের অনুমতি লইয়া মুকাতাবের সহিত মুকাতা’আ করিয়াছে, অতঃপর মুকাতাব অপারক হইয়াছে, তবে যে মুকাতা’আঃ (কমাইবার চুক্তি) করিয়াছে সে মুকাতা’আঃ অনুযায়ী যে অর্থ মুকাতাব হইতে গ্রহণ করিয়াছে সে অর্থ ফেরত দিয়া পুনরায় মুকাতাবের মধ্যে তাহার অংশের অধিকারী হইতে পছন্দ করিলে ইহা তাহার জন্য বৈধ হইবে। আর যদি মুকাতাব মাল রাখিয়া মারা যায় তবে যাহার কিতাবাত অবশিষ্ট রহিয়াছে (অর্থাৎ যে মুকাতা’আ করে নাই সে) মুকাতাব-এর উপর তাহার যে হক রহিয়াছে তাহা মুকাতাবের মাল হইতে পূর্ণভাবে উশুল করবে। অতঃপর মুকাতাবের যে মাল অবশিষ্ট থাকে উহা যে মুকাতা’আ করিয়াছে তাহার এবং তাহার অপর শরীকের মধ্যে বন্টন করা হইবে মুকাতাবের উভয়ের মধ্যে হিসসা অনুযায়ী। আর যদি দুই জনের এক জন মুকাতাবের সহিত মুকাতা’আ করিয়াছে, অন্য শরীক তাহার সাথী কিতাবাতের উপর স্থির করিয়াছে, অতঃপর মুকাতাব অর্থ আদায়ে অপারক হইয়াছে, তবে যে মুকাতা’আ করিয়াছে তাহাকে বলা হইবে যে, আপনি ইচ্ছা করিলে যাহা আপনি গ্রহণ করিয়াছেন উহার অর্ধেক আপনার সাথীকে দিয়া দিতে পারেন, গোলাম আপনাদের উভয়ের মধ্যে থাকিবে অর্ধেক অর্ধেক। আর যদি আপনি ইহা অস্বীকার করেন তবে গোলাম সম্পূর্ণ সেই শরীকের হইবে, যে শরীক মুকাতা’আ না করিয়া মুকাতাবকে যেমন ছিল তেমনি রাখিয়া দিয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে মুকাতাব দুই ব্যক্তির শরীকানাতে রহিয়াছে, তাহাদের একজন তাহার সাথীর (শরীক) অনুমতি লইয়া মুকাতাবের সহিত মুকাতা’আ করিয়াছে, অতঃপর যে শরীক দাস রাখিয়া দিয়াছে সে গ্রহণ করিল (মুকাতাব হইতে) ততটুকু যতটুকুর উপর তাহার সাথী শরীক মুকাতা’আ করিয়াছে অথবা ততোধিক। তারপর মুকাতাব অক্ষম হইল, মালিক (রহঃ) বলেনঃ গোলাম তাহাদের উভয়ের মধ্যে থাকিবে। কারণ সে মুকাতাবের উপর তাহার যে হক রহিয়াছে উহা গ্রহণ করিয়াছে, [কাজেই মুকাতা’আ যে করে নাই সে, মুকাতা’আ যে করিয়াছে তাহার নিকট হইতে কিছুই পাইবে না]। আর যে মুকাতা’আ করে নাই সে যদি মুকাতা’আকারী অপেক্ষা কম গ্রহণ করিয়া থাকে, অতঃপর মুকাতাব অপারক হইয়া পড়ে, আর যে মুকাতা’আ করিয়াছে সে যাহা অতিরিক্ত পাইয়াছে উহা হইতে তাহার সাথী (শরীক)-কে অর্ধেক ফিরাইয়া দেওয়াকে পছন্দ করে, ইহাতে গোলাম উভয়ের মধ্যে হইবে অর্ধেক অর্ধেক। তবে তাহার জন্য ইহার ইখতিয়ার রহিয়াছে, আর সে যদি ইহা অস্বীকার করে তবে মুকাতা’আঃ যে (শরীক) করে নাই গোলাম সম্পূর্ণ সে শরীকের জন্য হইবে। আর যদি মুকাতাবের মৃত্যু হয় এবং সে মাল রাখিয়া যায় এবং যে (শরীক) মুকাতা’আঃ করিয়াছে সে যাহা বেশি পাইয়াছে ইহা হইতে তাহার সাথী (শরীক)-কে অর্ধেক ফিরাইয়া দিতে পছন্দ করে তবে মীরাস তাহদের উভয়ের মধ্যে মুশতারাক বা মিলিত হইবে, তবে ইহা করিবার ইখতিয়ার রহিয়াছে। আর যে মুকাতা’আঃ করে নাই কিতাবাতকে বহাল রাখিয়াছে সে যদি তাহার শরীক মুকাতা’আকারী যতটুকুর উপর মুকাতা’আ করিয়াছে ততটুকু গ্রহণ করে বা তাহার চাইতে বেশি। তবে মীরাস তাহাদের উভয়ের মধ্যে বন্টন করা হইবে। কারণ সে তাহার প্রাপ্য গ্রহণ করিয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে মুকাতাব দুই ব্যক্তির মধ্যে (মিলিত মালিকানায়) রহিয়াছে। অতঃপর তাহাদের একজন তাহার অর্ধেক হকের উপর তাহার সাথীর অনুমতি লইয়া মুকাতা’আ করিয়াছে। অতঃপর যে শরীক দাসত্ব বহাল রাখার উপর অটল রহিয়াছে সে তাহার সাথী যতটুকুর উপর মুকাতা’আ করিয়াছে ততটুকু হইতে কম (অর্থ) গ্রহণ করিয়াছে। তারপর গোলাম হইয়াছে অপারক।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে শরীক গোলামের সহিত মুকাতা’আ করিয়াছে সে যাহা অতিরিক্ত লইয়াছে উহার অর্ধেক যদি তাহার সাথী (শরীক)-কে ফিরাইয়া দেওয়া ভাল মনে করে তবে গোলাম তাহদের উভয়ের মধ্যে সমভাবে বহাল থাকিবে। আর যদি ফিরাইয়া দিতে অস্বীকার করে তবে মুকাতাবের সহিত তাহার যে সাথী (শরীক) মুকাতা’আত করিয়াছে তাহার হিসসা পাইবে দাসত্বকে যে বহাল রাখিয়াছে সে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার ব্যাখ্যা হইতেছে এই, (দৃষ্টান্তস্বরূপ) ক্রীতদাস দুই কর্তার মালিকানায় রহিয়াছে অর্ধেক অর্ধেক ভাগে। তাহারা উভয়ে উহার সহিত মুকাতা’আ করিয়াছে। অতঃপর তাহাদের একজন তাহার হকের অর্ধেকের উপর মুকাতাবের সহিত মুকাতা’আঃ করিয়াছে সাথীর অনুমতি লইয়া আর এই অংশ হইতেছে ক্রীতদাসের পূর্ণ মূল্যের এক-চতুর্থাংশ।
অতঃপর মুকাতাব অপারক হইলে (এই অবস্থায়) মুকাতা’আকারী শরীককে বলা হইবে, তুমি যদি ইচ্ছা কর যাহা তুমি অতিরিক্ত গ্রহণ করিয়াছ মুকাতা’আ দ্বারা উহার অর্ধেক তোমার সাথীকে ফিরাইয়া দাও, গোলাম তোমাদের উভয়ের মধ্যে থাকিবে দুই ভাগে (অর্ধেক অর্ধেক)। আর সে ইহা না মানিলে তবে যে শরীক কিতাবাতকে ধারণ করিয়া রাখিয়াছে (অর্থাৎ কিতাবাত চুক্তির উপর বহাল রহিয়াছে, মুকাতা’আ করে নাই) সে তাহার সাথীর যেই অংশের উপর মুকাতা’আ করে নাই, সে তাহার সাথীর যেই অংশের উপর মুকাতাবের সঙ্গে মুকাতা’আ করিয়াছে উহার এক-চতুর্থাংশ পাইবে, (পূর্বে) তাহার (মালিকানায়) ছিল গোলামের অর্ধেকাংশ, এইরূপে তাহার (মালিকানায়) আসিয়া যাইবে তিন-চতুর্থাংশ, আর মুকাতা’আকারী শরীকের থাকিবে গোলামের এক-চতুর্থাংশ। কারণ সে, যেই চতুর্থাংশের উপর মুকাতা’আ করিয়াছিল উহার মূল্য ফেরত দিতে অস্বীকার করিয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে মুকাতাবের সহিত তাহার কর্তা মুকাতা’আ করিয়াছে এবং উহাকে আযাদ করিয়া দিয়াছে এবং কিতা’আ বাবদ অবশিষ্ট যাহা অনাদায়ী রহিয়াছে উহা ক্রীতদাসের উপর ঋণ স্বরূপ লিখিয়া দিয়াছে, তারপর মুকাতাবের মৃত্যু হইয়াছে এবং তাহার উপর আরও লোকের ঋণ রহিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসের উপর কিতা’আত বাবদ কর্তা যাহা পাইবে উহার জন্য তাহার কর্তা অন্যান্য ঋণদাতাদের সঙ্গে শরীক হইয়া অংশ ভাগ করিতে পারবে না, বরং ঋণদাতাগণ আগে তাহাদের হক উশুল করিয়া লইবে সেই অধিকার তাহাদের রহিয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুকাতাবের উপর লোকের ঋণ থাকিলে তাহার জন্য কর্তার সহিত মুকাতা’আ করা ঠিক নহে, (এইরূপ করিলে) সে আযাদ হইয়া যাইবে, অথচ তাহার কোন মাল নাই। (কারণ তাহার যাবতীয় মাল ঋণদাতাদের প্রাপ্য হইয়াছে)। কারণ ঋণদাতাগণ তাহার কর্তা অপেক্ষা তাহার মালের বেশি হকদার, তাই এইরূপ করা মুকাতাবের জন্য জায়েয নহে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাসআলা এই, যে ব্যক্তি গোলামের সহিত মুকাতাবাত করিয়াছে, অতঃপর স্বর্ণের বিনিময়ে উহার সহিত মুকাতা’আ করিল এবং ক্রীতদাসের জিম্মায় যে "বদল-এ কিতাবাত" (আদায়যোগ্য অর্থ) রহিয়াছে তাহা মাফ করিয়া দিল এই শর্তে যে, যে স্বর্ণের উপর মুকাতা’আ হইয়াছে উহা সে কর্তাকে নগদ পরিশোধ করিবে এইরূপ করাতে কোন দোষ নাই। ইহাকে যিনি মাকরূহ বলিয়াছেন, তিনি এই জন্য মাকরূহ বলিয়াছেন যে, তিনি ইহাকে ঋণের মতো গণ্য করিয়াছেন। এক ব্যক্তির উপর অন্য ব্যক্তির নির্দিষ্ট সময়ে আদায়যোগ্য ঋণ রহিয়াছে, ঋণদাতা ঋণের কিছু অংশ মাফ করিয়া দিল নগদ অর্থ লইয়া (ইহা জায়েয নহে, কাজেই মুকাতা’আতেও নগদ অর্থের শর্তে কিছু মাফ করিয়া দিলে উহা জায়েয হইবে না)।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা ঋণের মতো নহে, কারণ কর্তার সহিত মুকাতাবের কিতা’আত করার উদ্দেশ্য হইতেছে, কর্তাকে কিছু মাল সে দিবে যেন সে আযাদী ত্বরান্বিত করে। ফলে তাহার জন্য মীরাস এবং সাক্ষ্যদান ও হুদূদের অধিকার ওয়াজিব হইবে এবং সাব্যস্ত হইবে তাহার জন্য আযাদী ও সম্মান। সে কোন দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম বা স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ খরিদ করে নাই। ইহার দৃষ্টান্ত এইরূপ-যেমন এক ব্যক্তি তাহার গোলামকে বলিল-তুমি এত দীনার যদি নিয়া আস, তবে তুমি আযাদ, তারপর ইহা হইতে কিছু কমাইয়া দিল এবং বলিল, আমার নিকট নির্ধারিত অর্থ হইতে কিছু কম উপস্থিত করিলেও তুমি আযাদ।
ইহা গোলামের জিম্মায় জরুরী হইয়াছে এমন কোন ঋণ নহে, যদি উহা (মুকাতা’আ অর্থ) ঋণ হইত তবে মুকাতাব মারা গেলে অথবা মুফসিল (রিক্ত হস্ত) হইলে কর্তা অন্যান্য ঋণদাতার সহিত মিলিত হইয়া তাহার অংশ আদায় করিত এবং উহাদের সহিত “বদল-এ কিতাবাত” আদায়ের ব্যাপারে শামিল হইয়া যাইত।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
কিতা'আঃ (قطاعة) অর্থ কর্তন করা ইহার দ্বারা ক্রীতদাস কর্তার তাগাদাকে কাটিয়া দেয়, অথবা কর্তা গোলামির রজ্জু কাটিয়া দিয়া গোলামকে আযাদ করিয়া দেয়। ইহা এইরূপ : কর্তা চুক্তি করিয়াছে মুকাতাবের সহিত, এক বৎসরে দুই কিস্তিতে এক হাজার টাকা দিলে কর্তা মুকাতাবকে আযাদ করিয়া দিবে। অতঃপর কর্তা বলিল, আমাকে নগদ পাঁচ শত টাকা দাও, অবশিষ্ট পাঁচ শত টাকার দাবি আমি ছাড়িয়া দিলাম, তুমি পাঁচ শত টাকা শোধ করিলে আযাদ হইয়া যাইবে। ইহাকে (قطاعة) কিতা'আ বলা হয়।
বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)
রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে অতি উত্তম কথা যাহা শুনিয়াছি তাহা এই যে, মুকাতাব কোন ব্যক্তিকে আঘাত করিয়াছে যাহাতে দীয়্যত (খেসারত) ওয়াজিব। মুকাতাব যদি “বদল-এ কিতাবাত”-সহ এই জখমের ক্ষতিপূরণ দিতে সক্ষম থাকে তবে উহা আদায় করিবে এবং সে কিতাবাতের উপর (বহাল) থাকিবে। আর যদি সে সমর্থ না হয়, তবে সে কিতাবাত হইতে অক্ষম হইল। কারণ কিতাবাতের (অর্থ পরিশোধের) পূর্বে এই আঘাতের দীয়্যত পরিশোধ করা ওয়াজিব। সে যদি আঘাতের দীয়্যত পরিশোধ করিতে অক্ষম হয় তবে তাহার কর্তাকে ইখতিয়ার দেওয়া হইবে, যদি সে পছন্দ করে তবে আঘাতের ক্ষতিপূরণ দিবে এবং গোলামকে আয়ত্তে নেবে। সে (এখন হইতে) তাহার কর্তৃত্বাধীন ক্রীতদাস থাকিবে অথবা সে ইচ্ছা করিলে গোলামকে জখমি ব্যক্তির নিকট সোপর্দ করিবে। আর কর্তার উপর গোলামকে সোপর্দ করিয়া দেওয়া ছাড়া অন্য কোন দায়িত্ব নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসদের একদল সকলে একত্রে মুকাতাবাত করিয়াছে। তারপর উহাদের একজন কাহাকেও এমন আঘাত করিয়াছে যাহাতে দীয়াত ওয়াজিব হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্ষতিপূরণ ওয়াজিব হয় এমন আঘাত উহাদের মধ্যে যে ক্রীতদাস করিয়াছে সে ক্রীতদাসকে এবং কিতাবাত চুক্তিতে উহার সহিত আর যাহারা রহিয়াছে উহাদিগকে বলা হইবে, তোমরা সকলে এই আঘাতের ক্ষতিপূরণ দাও, উহারা যদি ক্ষতিপূরণ আদায় করে তবে সকলে কিতাবাতের উপর বহাল থাকিবে। আর তাহারা আদায় না করিলে তবে তাহারা অপারক বলিয়া প্রমাণিত হইল। উহাদের কর্তাকে ইখতিয়ার দেওয়া হইবে। যদি সে ইচ্ছা করে এই আঘাতের ক্ষতিপূরণ দিবে, ক্রীতদাস সকলেই তাহার গোলাম থাকিবে। আর সে যদি ইচ্ছা করে কেবলমাত্র আঘাতকারীকে সোপর্দ করিবে। উহাদের সাথী যে আঘাত করিয়াছিল সেই আঘাতের ক্ষতিপূরণ দিতে তাহারা অক্ষম হওয়ায় তাহদের সকলেই কর্তার ক্রীতদাসরূপে থাকিবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে এই বিষয়ে মাসআলাতে আমাদের মধ্যে কোন মতভেদ নাই, তাহা এই : মুকাতাব নিজে যদি এমন কোন আঘাত অন্যের দ্বারা পায় যাহাতে ক্ষতিপূরণ পাইতে পারে। অথবা মুকাতাবের সন্তানদের কেহ এইরূপ আঘাত পায় যাহারা কিতাবাতে মুকাতাবের সহিত শামিল রহিয়াছে। তবে উহাদের ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য হইবে ক্রীতদাসের ক্ষতিপূরণ উহাদের মূল্য অনুসারে, আর উহাদের জন্য গৃহীত ক্ষতিপূরণ হইবে তাহাদের কর্তার জন্য যিনি কিতাবাত করিয়াছেন। আর মুকাতাব যে মাল (কর্তাকে) দিয়াছে উহা কিতাবাতের শেষে হিসাব করা হইবে, অতঃপর আঘাতের ক্ষতিপূরণ হইতে কর্তা যাহা গ্রহণ করিয়াছে উহা মুকাতাব হইতে বাদ দেওয়া হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার ব্যাখ্যা এই যে, কর্তা ক্রীতদাসের সহিত মুকাতাবাত করিয়াছে তিন হাজার দিরহামের বিনিময়ে, আর ক্রীতদাসের আঘাতের খেসারত হইতেছে এক হাজার দিরহাম যাহা তাহার কর্তা গ্রহণ করিয়াছে।
অতঃপর মুকাতাব যদি তাহার কর্তাকে দুই হাজার দিরহাম আদায় করে তবে সে আযাদ হইয়া যাইবে। যাহা গ্রহণ করিয়াছিল উহা ছিল দুই হাজার দিরহাম তবে মুকাতাব আযাদ হইয়া গিয়াছে। কিতাবাত-এর অর্থ পরিশোধ করার পর যাহা অবশিষ্ট থাকিবে তাহা মুকাতাব পাইবে। আর মুকাতাবকে তাহার আঘাতের দীয়্যত হইতে কোন কিছু দেওয়া জায়েয নহে। কারণ সে উহা ব্যয় করিয়া ফেলিবে, বরবাদ করিয়া ফেলিবে; যখন অপারক হইবে তখন তাহার কর্তার দিকে ফিরিবে টেরা চক্ষু, হাত কাটা, ক্ষত দেহ অবস্থায়। কারণ কর্তা তাহার সহিত মুকাতাবাত করিয়াছে তাহার মাল ও উপার্জনের উপর। কর্তা তাহার সহিত এই ব্যাপারে মুকাতাবাত করে নাই, সন্তানের মূল্য গ্রহণ করিবে এবং সে তাহার দেহের আঘাতের যে খেসারত পাইয়াছে ও উহা ব্যয় করিয়াছে এবং বরবাদ করিয়া ফেলিয়াছে উহার উপরও মুকাতাবাত করা হয় নাই। তবে খেসারত দেওয়া হইবে মুকাতাবের জখমের এবং মুকাতাবের সন্তানদের জখমের ও সেই সন্তানদের যাহারা কিতাবাত কার্যকর হওয়াকালীন জন্মগ্রহণ করিয়াছে অথবা যেই সন্তানদের উল্লেখ করিয়া কিতাবাত হইয়াছিল। সেই দীয়্যত কর্তাকে দেওয়া হইবে বটে তবে কিতাবাতের শেষ দিকে উহা হিসাব করা হইবে।
বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)
রেওয়ায়ত ৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে সর্বোত্তম যাহা আমি শুনিয়াছি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে-যে কোন লোকের মুকাতাবকে খরিদ করে। সেই মুকাতাব-এর সহিত দিরহাম বা দীনারের পরিবর্তে কিতাবাত করা হইলে তবে উহাকে (দিরহাম বা দীনার ব্যতীত) অন্য কোন পণ্যের বিনিময়ে নগদ বিক্রি করিতে পারবে। কারণ বিক্রি করা হইলে তবে হইবে ঋণের বিনিময়ে বিক্রয় করা। পক্ষান্তরে ঋণের বিনিময়ে ঋণ বিক্রয় করা নিষিদ্ধ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুকাতাবের কর্তা যদি উহার সহিত কোন মালের যথা উট, গরু, ছাগল অথবা ক্রীতদাসের উপর মুকাতাবাত করিয়া থাকে, তবে ক্রেতা মুকাতাবকে স্বর্ণ কিংবা রৌপ্য অথবা যে পণ্যের দ্রব্যের বিনিময়ে কর্তা উহার সহিত মুকাতাবাত করিয়াছে সে পণ্যের বিপরীত পণ্যের বিনিময়ে ক্রয় করিতে পরিবে, তবে মূল্য নগদ পরিশোধ করিতে হইবে, বাকী নহে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুকাতাবের ব্যাপারে অতি ভাল অভিমত আমি যাহা শুনিয়াছি তাহা এই— যদি উহাকে বিক্রয় করা হয়, তবে যে উহাকে খরিদ করিয়াছে তাহার অপেক্ষা মুকাতাবই আপন কিতাবাত ক্রয় করার অধিক হকদার, যেই মূল্যে উহাকে তাহার কর্তা বিক্রয় করিয়াছে সেই মূল্য নগদ পরিশোধ করিতে মুকাতাব যদি সক্ষম হয়, কারণ মুকাতাব কর্তৃক তাহার নিজেকে ক্রয় করা আযাদী বটে, (মুকাতাব ক্রয় করিলে সাথে সাথে আযাদ হইয়া যাইবে, অন্য কেহ খরিদ করিলে হয়ত গোলাম বানাইয়া রাখিবে) [আরও এইজন্য যে,] কিতাবাতের সঙ্গে অন্যান্য যেই সব ওসীয়ত থাকে সেই সবের যাহারা কিতাবাত করিয়াছে তাহাদের কোন শরীক যদি নিজের অংশ বিক্রি করে যথা— মুকাতাবের অর্ধেকাংশ অথবা এক-তৃতীয়াংশ অথবা এক-চতুর্থাংশ অথবা মুকাতাবের অংশসমূহ হইতে যেকোন অংশ তবে বিক্রীত অংশে মুকাতাবের জন্য শুফ’আ-এর দাবি করার হক থাকিবে না। কারণ (অংশ বিক্রয় করা) ইহা কিতা’আতের মত। আর মুকাতাবের কিছু অংশে কিতা’আত করা অন্যান্য শরীকদের অনুমতি ব্যতীত জায়েয নহে। আর মুকাতাবের যে অংশ বিক্রি করা হইয়াছে উহার দ্বারা তাহার জন্য সম্পূর্ণ হুরমত আযাদ ব্যক্তির মর্যাদা লাভ প্রতিষ্ঠিত হইবে না। মুকাতাবের মালে তিনি অধিকার বর্জিত। পক্ষান্তরে আংশিক খরিদের পর তাহার অপারক হওয়ার আশংকাও করা যাইতে পারে, যদ্দরুন যে অংশ সে খরিদ করিয়াছিল তাহার অপারক হওয়াতে সেই অর্থও বিফলে যাইতে পারে। ইহা মুকাতাব কর্তৃক নিজেকে সম্পূর্ণ ক্রয় করার মতো (ব্যাপার) নহে। তবে যদি তাহার কিতাবাতে যাহার অংশ অবশিষ্ট রহিয়াছে সে যদি অনুমতি দেয় (তাহা হইলে বৈধ হইবে) শরীকদারগণ যদি তাহার অংশ (যাহা বিক্রয় করা হইবে) খরিদ করার তাহাকে অনুমতি দেয় তবে সে ইহার অধিক হকদার হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুকাতাব-এর কিস্তিসমূহের কোন কিস্তির বিক্রয় জায়েয নহে, কারণ ইহার ধোঁকা আছে। মুকাতাব অপারক হইয়া গেলে উহার জিম্মায় যে অর্থ (বদলে-কিতাবাতের) রহিয়াছে তাহা বাতিল হইয়া যাইবে। আর যদি মুকতাব-এর মৃত্যু হয় অথবা সে মুফলিস (রিক্তহস্ত) হইয়া যায় এবং তাহার উপর লোকের ঋণ থাকে তবে যে কিস্তি খরিদ করিয়াছে তাহার জন্য ঋণদাতাদের সঙ্গে শামিল হইয়া তাহার অংশ আদায় করা জায়েয হইবে না। পক্ষান্তরে যে মুকাতাবের কোন কিস্তি খরিদ করিয়াছে সে মুকাতাবের কর্তার মতো হইবে। মুকাতাবের কর্তা ক্রীতদাসের কিতাবাতের অর্থের জন্য মুকাতাবের ঋণদাতাদের সাথে শামিল বা শরীক হইবে না (তদ্রুপ যে কিস্তি খরিদ করিয়াছে সেও না)। অনুরূপ (কর্তার) খাজনা যাহা গোলামের উপর (অনাদায়ের কারণে) একত্র হইয়াছে এই খাজনা একত্র হওয়ার দরুন মুকাতাবের কর্তা উহার ঋণদাতাদের সঙ্গে শামিল বা শরীক হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি মুকাতাব স্বর্ণমুদ্রা অথবা রৌপ্য মুদ্রার বিনিময়ে নিজের কিতাবাতকে খরিদ করে অথবা পণ্যের বিনিময়ে। আর কিতাবাত যে স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রার অথবা পণ্যের বিনিময়ে হইয়াছে, সে মুদ্রা বা পণ্য হইতে ভিন্ন পণ্য দ্বারা অথবা অভিন্ন পণ্য দ্বারা নগদ অথবা বাকী উহা ক্রয় করাতে কোন দোষ নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুকাতাবের মৃত্যু হইয়াছে এবং সে রাখিয়া গিয়াছে উম্মে-ওয়ালাদ আর ছোট ছোট সন্তান সেই পক্ষের অথবা উহার ভিন্ন পক্ষের (আযাদ হইবার) চেষ্টা করার সামর্থ উহাদের নাই, ’বদলে-কিতাবাত’ আদায় করিতে উহাদের অপারকতারও আশংকা রহিয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ উহাদের পিতার উম্মে ওয়ালাদকে বিক্রয় করা হইবে, যদি তাহার মূল্য এই পরিমাণ হয় যদ্বারা উহাদের সকলের “বদলে কিতাবাত” পূর্ণরূপে শোধ করা যায়। এই “উম্মে-ওয়ালাদ” উক্ত সন্তানদের হউক অথবা ভিন্ন কেউ হউক (উহাকে বিক্রি করিয়া) সকলের “বদলে কিতাবাত” পরিশোধ করা হইবে এবং উহারা সকলে আযাদ হইয়া যাইবে। কারণ উহাদের পিতা নিজের “বদলে-কিতাবাত” আযাদ করিতে অপারক হইলে উম্মে-ওয়ালাদকে বিক্রি করিতে নিষেধ করিত না। তাই ইহারা “বদলে কিতাবাত” আদায় করিতে যখন তাহাদের অপারকতার আশংকা করা হইবে তখন উহাদের পিতার “উম্মে ওয়ালাদ”-কে বিক্রয় করা হইবে এবং উহাদের (কিতাবাতের) মূল্য পরিশোধ করা হইবে। আর যদি তাহদের পক্ষে “বদলে কিতাবাত” আদায় করা যায় এমন কিছু না থাকে এবং “উম্মে ওয়ালাদ” ও উহারা (সন্তানগণ) পরিশ্রম করিতেও সামর্থ্য না রাখে, তবে উহারা সকলে উহাদের কর্তার দাস হইয়া যাইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের সর্বসম্মত অভিমত এই, যে ব্যক্তি মুকাতাবের কিতাবাতকে খরিদ করে, অতঃপর “বদলে-কিতাবাত” পরিশোধ করার পূর্বে মুকাতাবের মৃত্যু হয়, তবে যে “কিতাবাত” ক্রয় করিয়াছে সে (মৃত) মুকাতাবের মীরাস পাইবে। আর যদি মুকাতাব অক্ষম হয়, তার ক্রেতা উহার মালিক হইবে (অর্থাৎ সে ক্রেতার দাসরূপে থাকিবে)। আর মুকতাব যদি “বদলে কিতাবাত” উহার ক্রেতার নিকট আদায় করিয়াছে এবং ইহাতে সে আযাদ হইয়া গিয়াছে তখন উহার মুকতাব যে আযাদী লাভ করিয়াছে। উত্তরাধিকার কিতাবাত চুক্তি যে করিয়াছিল সে পাইবে। যে কিতাবাত ক্রয় করিয়াছে সে উহার কোন প্রকার উত্তরাধিকার লাভ করবে না।
বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)
রেওয়ায়ত ১২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুকাতাবের পক্ষে আপন গোলামকে কর্তার অনুমতি ব্যতীত আযাদ করা জায়েয নহে। অতঃপর কর্তা যদি তাহাকে এই কার্যের অনুমতি দান করে তারপর মুকাতাব আযাদ হইয়া যায়, তবে উহার (মুকাতাব কর্তৃক আযাদকৃত গোলামের) উত্তরাধিকারিত্ব হইবে মুকাতাবের জন্য। আর মুকাতাব যদি আযাদী লাভের পূর্বে মারা যায় মু’তাক (معتق যাহাকে কিতাবাত চুক্তির মাধ্যমে আযাদ করা হইয়াছে)-এর স্বত্বাধিকারিত্ব মুকাতাব (প্রথম)-এর কর্তার জন্য হইবে। আর যদি মুকাতাব-এর মৃত্যু হয় (তাহার কর্তা) মুকাতাবের আযাদী লাভের পূর্বে তবে মুকাতাবের কর্তা উহার মীরাস পাইবে। [মুকাতাব পাইবে না। কারণ গোলাম উত্তরাধিকার লাভ করে না।]
মালিক (রহঃ) বলেনঃ অনুরূপ মুকাতাব তাহার গোলামের সহিত যদি কিতাবাত চুক্তি করে এবং পরবর্তী মুকাতাব উহার সহিত কিতাবাত চুক্তি সম্পাদনকারী কর্তার পূর্বে আযাদী লাভ করে, তবে উহার স্বত্বাধিকার (ولاء) হইবে তাহার মুকাতাবের কর্তার জন্য যাবত প্রথম মুকাতাব যে উহার সহিত কিতাবাত করিয়াছে আযাদী লাভ না করিলে অতঃপর উহার কিতাবাত সম্পাদনকারী যদি আযাদ হইয়া যায় তাহার পূর্বে আযাদী লাভকারী তাহার মুকতাব-এর স্বত্বাধিকার (ولاء) তাহার দিকে রুজু করা হইবে। আর যদি প্রথম মুকাতাবের মৃত্যু হয় "বদলে কিতাবাত" আদায়ের পূর্বে অথবা “বদলে-কিতাবাত” পরিশোধ করিতে অপারক হয় এবং তাহার আযাদ সন্তান রহিয়াছে তবে উহারা তাহদের পিতার মুকাতাবের স্বত্বাধিকার (ولاء) এর অধিকারী হইবে না। কারণ উহাদের পিতার জন্য স্বত্বাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। আর স্বত্বাধিকার লাভ করা হয় না আযাদী লাভ না করা পর্যন্ত।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে মুকাতাব দুই ব্যক্তির মালিকানায় থাকে তাহাদের দুইজনেই একজন মুকাতাবের উপর তাহার যে “বদলে কিতাবাত” প্রাপ্য রহিয়াছে উহা মাফ করিয়া দিল, অপরজন ইহা করিতে কার্পণ্য প্রদর্শন করিল। অতঃপর মুকাতাব-এর মৃত্যু হইল এবং সে সম্পদ রাখিয়া গেল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে শরীক তাহার প্রাপ্য “বদলে কিতাবাত” ত্যাগ করে নাই সম্পদ হইতে তাহার প্রাপ্য “বদলে কিতাবাত” পরিশোধ করা হইবে। তারপর ক্রীতদাস অবস্থায় মারা গেলে যেইভাবে উহার সম্পদ উভয়ের মধ্যে বন্টন করা হইত, সেইরূপে উভয়ের মধ্যে অবশিষ্ট সম্পদ বন্টন করা হইবে। কারণ যে শরীক প্রাপ্য ছাড়িয়াছে উহা আযাদ করা নহে, বরং তাহার প্রাপ্য হক মাফ করিয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ উপরিউক্ত মাসআলার বিশদ ব্যাখ্যা এইরূপ : এক ব্যক্তির মৃত্যু হইল। সে রাখিয়া গেল একজন মুকাতাব এবং কয়েকজন ছেলে ও মেয়ে, অতঃপর সন্তানদের একজন মুকাতাবের নিকট (প্রাপ্য) অংশ আযাদ করিয়া দিল, ইহাতে তাহার জন্য উত্তরাধিকার (ولاء) প্রতিষ্ঠিত হইবে না। পক্ষান্তরে উহা যদি আযাদকৃত বলিয়া গণ্য হইত তবে নারী-পুরুষের মধ্যে যে সন্তান মুকাতাবকে আযাদ করিয়াছে সে সন্তানের স্বত্বাধিকারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হইঝে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার আরেক বর্ণনা এই, উহাদের একজন নিজের অংশ আযাদ করিয়া দিল, তারপর মুকাতাব অপারক হইল তবে মুকাতাবের উপর যে “বদলে-কিতাবাত” অবশিষ্ট রহিয়াছে উহার জন্য যে (মুকাতাবের মধ্য হইতে) তাহার প্রাপ্য অংশ আযাদ করিয়াছে তাহার উপর মূল্য নির্ধারিত করা হইবে না (অংশ আযাদ করিয়া দেওয়ার জন্য)। যদি আযাদী প্রদান বলিয়া গণ্য হইত তবে উহার মূল্য নির্ধারণ করা হইত এবং তাহার মাল হইতে মুকাতাব আযাদ হইয়া যাইত। যেমন বলিয়াছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যে গোলামের নিকট হইতে তাহার প্রাপ্য অংশ ছাড়িয়া দেয়, ন্যায়সঙ্গতভাবে অবশিষ্ট অংশের মূল্য নির্ধারণ করিয়া তাহার উপর উহা আরোপ করা যাইবে। যদি তাহার মাল না থাকে তবে যতটুকু আযাদ করিয়াছে ততটুকু আযাদ হইয়া যাইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার অপর ব্যাখ্যা এই, মুসলিমদের সুন্নত (পদ্ধতি) এই যে, যাহাতে কোন দ্বিমত নাই, যে ব্যক্তি মুকাতাব হইতে তাহার অংশ আযাদ কারিয়া দেয়, তবে তাহার মাল হইতে বাকী বদলে কিতাবাত পরিশোধ করিয়া মুকাতাবকে পূর্ণরূপে আযাদী দেওয়া হইবে না, যদি উহার মাল হইতে আযাদ করা হইত তবে উত্তরাধিকার (ولاء) তাহারই প্রাপ্য হইত, তাহার অংশগণের প্রাপ্য হইত না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার আর এক ব্যাখ্যা এই — মুসলিমদের নিয়ম হইতেছে, উত্তরাধিকার (ولاء) সেই ব্যক্তির জন্য হইবে, যে ব্যক্তি কিতাবাত চুক্তি করিয়াছে। আর স্ত্রীলোকদের মধ্যে যে মহিলা মুকাতাবের কর্তার মীরাসের অধিকারী উহার জন্য মুকাতাবের উত্তরাধিকারের কিছুই হইবে না যদিও সে নিজের অংশ আযাদ করিয়া দেয়। মুকাতাবের উত্তরাধিকার লাভ করিবে মুকাতাবের পুত্র সন্তানগণ কিংবা পুরুষ আসাবা।
বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)
রেওয়ায়ত ১৫. মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুকাতাবের ব্যাপারে অতি উত্তম কথা যাহা আমি শুনিয়াছি তাহা এই : যে মুকাতাবকে তাহার কর্তা মৃত্যু মুহূর্তে আযাদ করিয়াছে তবে সেই অবস্থাতে (সেই মুহূর্তে) উহার মূল্য যাহা হয় তাহাই ধার্য করা হইবে। অর্থাৎ যদি উহাকে বিক্রি করা হয় তবে কত মূল্য দাঁড়াইবে তাহাই ধার্য মূল্য "বদলে কিতাবাত"-এর যাহা বাকী রহিয়াছে তাহার কম হয়, তবে উহা মৃত ব্যক্তির সম্পদের একতৃতীয়াংশ মুতাবিক ধার্য করা হইবে। মুকাতাবের জিম্মায় যে পরিমাণ দিরহাম অবশিষ্ট রহিয়াছে উহার প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হইবে না। ইহা এইজন্য যে, মুকাতাবকে যদি হত্যা করা হয় তবে হত্যাকারী সেই হত্যার দিনের মূল্যই আদায় করিবে। (অনুরূপ) মুকাতাবকে কেহ জখম করিলে সে জখমের দিনের খেসারতই আঘাতকারী আদায় করিবে। এই সব ব্যাপারে উহার কিতাবাত কত দিরহাম বা কতদিনের উপর হইয়াছে সেদিকে লক্ষ্য করা হয় না। কারণ যতক্ষণ কিতাবাতের কিছু অর্থ অনাদায়ী থাকে ততক্ষণ সে ক্রীতদাস থাকে। আর “বদলে কিতাবাত” যাহা উহার জিম্মায় রহিয়াছে উহা যদি তাহার মূল্য হইতে কম হয় তবে মৃত ব্যক্তির সম্পদের এক তৃতীয়াংশ হইতে “বদলে কিতাবাত”-এর ব্যাপারে উহার জিম্মায় যে বকেয়া রহিয়াছে মাত্র সে পরিমাণই হিসাব করা হইবে। কারণ মৃত ব্যক্তি তাহার জন্য তাহার "বদলে কিতাবাত"-এর বকেয়া পরিমাণই রাখিয়া গিয়াছে। ফলে উহা এমন ওসীয়াতের মতো হইয়াছে, যে ওসীয়্যত সেই (মৃত ব্যক্তি) উহার মুকাতাবের জন্য করিয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার ব্যাখ্যা এই, যদি মুকাতাবের মূল্য হয় এক হাজার দিরহাম এবং উহার কিতাবাত হইতে বাকী রহিয়াছে মাত্র একশত দিরহাম, এমতাবস্থায় তাহার কর্তা তাহার জন্য একশত দিরহামের ওসীয়্যত করিয়াছে। উহা তাহার কর্তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ হইতে হিসাব করা হইবে। এই ওসীয়্যতের দরুন মুকাতাব আযাদ হইয়া যাইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি তাহার গোলামকে মৃত্যুর সময় মুকাতাব করিল, তবে ক্রীতদাসের মূল্য ধার্য করা হইবে। তারপর কর্তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ যদি ক্রীতদাসের মূল্য পরিশোধের জন্য যথেষ্ট হয় তবে উহা জায়েয হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার ব্যাখ্যা এই যে, (দৃষ্টান্তস্বরূপ) ক্রীতদাসের মূল্য হইতেছে এক হাজার দীনার, তাহার কর্তা মৃত্যুর সময় তাহার সহিত মুকাতাব করিল দুইশত দীনারের উপর, (অপর দিকে) তাহার কর্তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ হইতেছে এক হাজার দীনার, তবে ইহা বৈধ। ইহা (এক প্রকারের) ওসীয়্যত যাহা তাহার (মুকাতাবের) জন্য (সম্পদের) এক-তৃতীয়াংশ করা হইয়াছে। আর যদি (মুকাতাবের) কর্তা অন্য কোন সম্প্রদায়ের জন্য ভিন্ন ধরনের ওসীয়্যত করিয়া থাকে, (অপরদিকে) এক-তৃতীয়াংশ সম্পদে মুকাতাবের মূল্যের অধিক মাল নাই, তবে মুকাতাবকে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে। কারণ কিতাবাত হইতেছে আযাদী প্রদান করা। সুতরাং কিতাবাতের ওসীয়াতকে ওসীয়াতসমূহের মধ্যে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে। অতঃপর অন্য সকল ওসীয়াতকে মুকাতাবের “বদলে কিতাবাত”-এর অন্তর্ভুক্ত করা হইবে। যাহাঁদের জন্য ওসীয়াত করা হইয়াছে তাহারা মুকাতাবের দিকে রুজু করিবে এবং ওসীয়াতকারীর ওয়ারিসগণকে ইখতিয়ার দেওয়া হইবে। তাহারা পছন্দ করিলে যাহাদের জন্য ওসীয়াত করা হইয়াছে উহাদের পক্ষে ওসীয়াত পূর্ণ করিবে এবং মুকাতাবের কিতাবাতের অর্থ তাহাদের প্রাপ্য হইবে। তাহারা চাহিলে এইরূপ করিতে পারিবে। আর তাহারা যদি এইরূপ করিতে অস্বীকার করে এবং মুকাতাব ও মুকাতাবের সম্পদকে ওসীয়াত যাহাদের জন্য করা হইয়াছে উহাদের নিকট সোপর্দ করিয়া দেয়, ইহাও তাহাদের জন্য বৈধ।
কারণ এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ সেই মুকাতাবের মধ্যেই (অর্থাৎ তাহার নিকটই) রহিয়াছে। আর ইহা এই জন্য যে, যে কোন কোন ওসীয়্যত যাহা কোন ব্যক্তি করিয়াছে তাহা সম্পর্কে তাহার ওয়ারিসগণ বলিতে পারে, আমাদের মুরিস’ (কর্তা-ব্যক্তি-পরিবারের প্রধান) যাহা ওসীয়্যত করিয়াছে উহা এক-তৃতীয়াংশের অধিক এই ওসীয়্যতের দ্বারা তিনি তাহার অধিকার বহির্ভূত অতিরিক্ত সম্পদ গ্রহণ করিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেন-(এই অবস্থাতে) উহার ওয়ারিসগণকে ইখতিয়ার দেওয়া হইবে এবং তাহাদিগকে বলা হইবে, তোমাদের মুরুব্বী বা মুরিস যে ওসীয়্যত করিয়াছে, তোমরা সে বিষয়ে অবগত হইয়াছ, (এখন) তোমরা যদি মৃত ব্যক্তির ওসীয়াতকে যাহার জন্য তিনি ওসীয়াত করিয়াছেন সেই মতে কার্যকর করিতে পছন্দ কর, (তবে ভাল কথা) : নতুবা যাহাদের জন্য ওসীয়াত করা হইয়াছে তাহাদের উদ্দেশ্যে মৃত ব্যক্তির এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ পূর্ণ ছাড়িয়া দাও।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ মৃত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ ওসীয়াত যাহাদের জন্য করা হইয়াছে তাহাদের নিকট মুকাতাবকে সোপর্দ করিয়া দেয় তবে “বদলে কিতাবাত” তাহদের প্রাপ্য হইবে, মুকাতাব যদি তাহার জিম্মায় কিতাবাতের অর্থ উহাদের নিকট পরিশোধ করে তবে উহারা ওসীয়্যত বাবদ উহাদের অংশ অনুযায়ী বন্টন করিয়া লইবে। আর মুকাতাব যদি অর্থ আদায়ে অপারক হয় তবে সে উহাদের নিকট ক্রীতদাসরূপে থাকিবে, ওয়ারিসগণের নিকট ফিরিয়া যাইবে না। কারণ উহারা তাহাকে ছাড়িয়া দিয়াছে যখন ইখতিয়ার দেওয়া হইয়াছে তখন। আর এইজন্যও যে ওয়ারিসগণ যখন ওসীয়্যত গ্রহীতাদের নিকট মুকাতাবকে সোপর্দ করে তখন ওসীয়াত গ্রহীতারা তাহাকে জামিন হিসাবে গ্রহণ করে। তাই ওসীয়্যত গ্রহীতাদের জন্য মুকাতাবের মৃত্যু হইলে ওয়ারিসগণের কোন দায়িত্ব থাকিবে না। আর যদি মুকাতাবের মৃত্যু হয় কিতাবাতের অর্থ পরিশোধ করার পূর্বে এবং উহার জিম্মায় যে অর্থ রহিয়াছে তাহার অধিক মাল রাখিয়া যায় তবে উহার মাল ওসীয়াত গ্রহীতাদের জন্য হইবে। আর যদি মুকাতাব কিতাবাতের অর্থ পরিশোধ করিয়া থাকে তবে সে আযাদ হইয়া যাইবে এবং তাহার উত্তরাধিকারিত্ব রুজু করিবে মুরিস-এর আসাবা এর দিকে যিনি কিতাবাত সম্পাদন করিয়াছিলেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ জনৈক মুকাতাবের নিকট “বদলে কিতাবাত” বাবদ তাহার কর্তা দশ হাজার দিরহাম পাইবে। সে মৃত্যুর সময় মুকাতাবের জিম্মা হইতে এক হাজার দিরহাম কমাইয়া দিল। মালিক (রহঃ) বলেন, মুকাতাবের মূল্য নির্ধারণ করা হইবে। অতঃপর লক্ষ্য করা হইবে উহার মূল্য কত? যদি উহার মূল্য এক হাজার দিরহাম হয় তবে মুকাতাব হইতে যাহা কমান হইয়াছে উহা “বদলে কিতাবাত”-এর এক দশমাংশ? আর উহা মূল্যের দিক দিয়া একশত দিরহাম এর মতো এবং উহা (একশত দিরহাম) হইতেছে মূল্যের এক দশমাংশ, তাই উহা (মুকাতাব) হইতে এক-দশমাংশ কমান হইল যাহা মূল্যের হইবে এক-দশমাংশ (১/১০) নগদ মূল্যে। ইহা হইতেছে এইরূপ যেমন মুকাতাব হইতে সম্পূর্ণ “বদলে কিতাবাত” মাফ করিয়া দেওয়া হয়, যদি (কর্তা) এইরূপ করে তবে মৃত ব্যক্তির সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ হইতে মুকাতাবের মূল্য এক হাজার দিরহাম ছাড়া আর কিছু হিসাব করা হইবে না। আর যদি মুকাতাব হইতে “বদলে কিতাবাতের” অর্ধেক মাফ করা হয় তবে মৃত ব্যক্তির সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ (মুকাতাবের) মূল্যের অর্ধেক হিসাব করা হইবে। আর ইহা হইতে কম বা অধিক হইলে তবে সেই অনুপাতেই হিসাব করা হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি তাহার মুকাতাবের (বদলে কিতাবাত) দশ হাজার দিরহাম হইতে এক হাজার দিরহাম তাহার মৃত্যুর সময় কমাইয়া দিয়াছে, আর সে ইহা নির্দিষ্ট করে নাই যে, ইহা কিতাবাতের (কিস্তির) প্রথম ভাগে কমান হইবে, কিম্বা শেষের দিকে কমান হইবে। তবে প্রতিটি কিস্তি হইতে “বদলে কিতাবাত”-এর এক-দশমাংশ করিয়া কমাইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি তাহার মৃত্যুকালে তাহার মুকাতাব হইতে এক হাজার দিরহাম কমাইয়া দিল। কিতাবাতের প্রথম ভাগ হইতে কিম্বা শেষের দিক হইতে। আর আসল কিতাবাত অনুষ্ঠিত হইয়াছিল তিন হাজার দিরহামের উপর, তবে নগদ মূল্যে মুকাতাবের মূল্য নির্ধারণ করা হইবে। অতঃপর সেই মূল্যকে (কিস্তিতে) বিভক্ত করা হইবে। তারপর সেই মূল্য হইতে কিতাবাতের প্রারম্ভের এক হাজারের জন্য উহার হিসসা নির্ধারিত হইবে উহার নির্ধারিত সময়ের যতটা নিকটে তাহা এবং উহার মূল্যের পার্থক্য বিবেচনা করিয়া, অতঃপর দ্বিতীয় হাজারের জন্য (হিসসা) (ঠিক করা হইবে) যাহা প্রথম হাজারের সংলগ্ন রহিয়াছে উহার মূল্যের পার্থক্য অনুযায়ী, অতঃপর উহার সংলগ্ন হাজারের জন্য উহার মূল্যের পার্থক্য অনুযায়ী। সব শেষ অংশ প্রদান করা পর্যন্ত মুহুর্তের অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাপারকে ত্বরান্বিত বা দেরী করার বিষয়টির বিবেচনায় কিস্তির প্রতি হাজার উহার পরবর্তী হাজারের তুলনায় উত্তম ও শ্রেষ্ঠ বলিয়া সাব্যস্ত হইবে। কারণ পরবর্তী কিস্তির মূল্য মূল্যের দিক দিয়া কম হইবে। অতঃপর (কর্তা কর্তৃক যে এক হাজার দিরহাম কমান হইয়াছে) মূল্য হইতে সেই এক হাজারের পরিমাণ মৃত ব্যক্তির মালের এক-তৃতীয়াংশ হইতে বাদ দেওয়া হইবে। উহার বৃদ্ধি অথবা ঘাটতির প্রতি লক্ষ্য রাখা হইবে। যদি উহা কমে কিম্বা বৃদ্ধি পায় তবে উহা সেই অনুপাতেই হিসাব করা হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির জন্য তাহার মুকাতাবের এক-চতুর্থাংশের ওসীয়্যত করিয়াছে এবং উহার এক-চতুর্থাংশ আযাদ করিয়াছে। অতঃপর সেই ব্যক্তির মৃত্যু হয়, তারপর মুকাতাবও মারা যায়। তাহার জিম্মায় যে “বদলে কিতাবাত” বাকী রহিয়াছে, তাহা হইতে অধিক মাল রাখিয়া যায়। মালিক (রহঃ) বলেন, মুকাতাবের উপর ওয়ারিসগণের যাহা প্রাপ্য রহিয়াছে উহা দেওয়া হইবে ওয়ারিসগণকে এবং তাহাকে যাহার জন্য মুকাতাবের এক-চতুর্থাংশের ওসীয়াত করা হইয়াছে। ইহার পর যাহা অবশিষ্ট থাকে তাহা ইহারা ভাগ করিয়া লইবে। এই অনুপাতে যাহার জন্য মুকাতাবের এক-চতুর্থাংশের ওসীয়্যত করা হইয়াছিল সে পাইবে অবশিষ্ট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ, আর মুকাতাবের কর্তার ওয়ারিসগণের হইবে দুই-তৃতীয়াংশ।
মালিক (রহঃ) বলেন-যে মুকাতাবকে তাহার কর্তা মৃত্যুকালে আযাদ করিয়াছে, যদি মৃত ব্যক্তির এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ উহার জন্য যথেষ্ট না হয় তবে এক-তৃতীয়াংশে যতটুকু সংকুলান হয় ততটুকু মুকাতাব হইতে আযাদ হইয়া যাইবে এবং মুকাতাব-এর “বদলে কিতাবাত” হইতে সেই পরিমাণ কমাইয়া দেওয়া হইবে। যদি মুকাতাবের জিম্মায় থাকে পাঁচ হাজার দিরহাম আর উহার মূল্য হয় দুই হাজার দিরহাম নগদ মূল্যে। মৃত ব্যক্তির সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ হয় এক হাজার দিরহাম তবে উহার অর্ধেক আযাদ হইবে এবং উহার কারণে কিতাবাতের অর্থের অর্ধেকও কমাইয়া দেওয়া হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি তাহার ওসীয়্যতে বলিয়াছে আমার অমুক গোলাম আযাদ এবং অমুককে মুকাতাব করিয়া দিও, মালিক (রহঃ) বলেন, আযাদীকে কিতাবাতের উপর অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে।