রেওয়ায়ত ১. আমর ইবন শু’আইব তাহার পিতা হইতে, তিনি তাহার[1], দাদা হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম উরবান (বায়না) বিক্রয় হইতে নিষেধ করিয়াছেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মতে (আল্লাহ সর্বজ্ঞাত) ইহা (বায়না) এই কোন ব্যক্তি ক্রীতদাস অথবা ক্রীতদাসী ক্রয় করিল অথবা কোন পশু কেরায়া লইল। অতঃপর ক্রেতা অথবা যাহার নিকট হইতে কেরায়া লইল তাহাকে বলিল, আমি আপনাকে এক দীনার অথবা এক দিরহাম কিংবা উহার চাইতে কম বা বেশি, এই শর্তে দিলাম যে, যদি আমি (ক্রীত) দ্রব্য গ্রহণ করি, কিংবা আপনার নিকট হইতে কেরায়া নেওয়া পশুর উপর আরোহণ করি, তবে যাহা আমি আপনাকে দিলাম, তাহা দ্রব্যের মূল্য অথবা পশুর কেরায়া হইতে কর্তন করা হইবে। আর যদি আমি দ্রব্য ক্রয় না করি কিংবা কেরায়ায়ত লওয়া পশুটি ব্যবহার না করিয়া ফিরাইয়া দেই অর্থাৎ কেরায়া না লই, তবে যাহা আমি আপনাকে দিয়াছি তাহা কোন বিনিময় ছাড়া আপনার হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট হুকুম এই, ব্যবসায়ী ও শুদ্ধভাষী গোলামকে হাবশী কয়েকজন গোলাম অথবা বিভিন্নজাত হইতে অন্য কোন জাতের গোলামের বিনিময়ে যাহারা বাকপটুতায় ব্যবসায় কার্য সম্পাদনে এবং অভিজ্ঞতায় ইহার তুল্য নহে এইরূপ গোলামের বিনিময়ে বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। একজন গোলামকে দুইজনের অথবা কয়েকজন গোলামের বিনিময়ে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত (বাকী) ক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। যদি উভয় প্রকার গোলামের মধ্যে পার্থক্য থাকে এবং সেই পার্থক্য হয় স্পষ্ট, আর যদি উহাদের মধ্যে এক গোলাম অপর গোলামের সদৃশ হয় (এমন কি একে অপরের) কাছাকাছি হয় তবে উহা হইতে এক গোলামের বিনিময়ে দুই গোলাম বাকী গ্রহণ করিবে না, যদিও বা উহাদের জাত ভিন্ন ভিন্ন হয়।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ তুমি উহা হইতে যাহা ক্রয় করিয়াছ তাহা কজা করার পূর্বে বিক্রয় করাতে কোন বাধা নাই যদি মূল্য নগদ আদায় কর এবং যাহার নিকট হইতে উহাকে ক্রয় করিয়াছ তাহাকে ছাড়া ভিন্ন লোকের নিকট বিক্রয় কর।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ [অন্তঃসত্ত্বা ক্রীতদাসীর] পেটের বাচ্চাকে বাদ দিয়া[2] মাকে বিক্রয় করা বৈধ নহে, ইহা ধোঁকা হইবে, কারণ জানা নাই বাচ্চা ছেলে না মেয়ে, সুশ্রী না কুশ্রী, সম্পূর্ণ না অসম্পূর্ণ, জীবিত না মৃত। উপরিউক্ত গুণাবলির পার্থক্যের দ্বারা মূল্যের তারতম্য হইয়া থাকে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি দাসী অথবা দাসকে বিক্রয় করিল একশত দীনারে নির্ধারিত সময়ে আদায় করার বিনিময়ে, অতঃপর বিক্রেতা লজ্জিত হইল এবং ক্রেতাকে অনুরোধ করিল দশ দীনার গ্রহণ করিয়া, যাহা বিক্রেতা ক্রেতাকে দিবে নগদ অথবা নির্ধারিত সময়ে বিক্রিত বস্তু ফেরত দিতে। তাহার নিকট বিক্রেতা (গোলামের মূল্য বাবদ) যে একশত দীনার পাইবে উহা সে আর গ্রহণ করিল না। মালিক (রহঃ) বলেন, এইরূপ করিতে কোন দোষ নাই। যদি ক্রেতা লজ্জিত হয় এবং সে দাস-দাসীকে ফেরত নেওয়ার জন্য বিক্রেতার নিকট অনুরোধ করে এবং যেই নির্ধারিত সময়ে সে মূল্য পরিশোধ করিবে বলিয়া ধার্য করিয়া গোলাম বা বাঁদী ক্রয় করিয়াছিল সেই সময়ের অধিক সময়ে পরিশোধ করিবে বলিয়া সময় নির্ধারিত করিয়া অথবা নগদ দশ দীনার বিক্রেতাকে বর্ধিত করিয়া দেয়; তবে ইহা বৈধ নহে। ইহা এইজন্য মাকরূহ যে, বিক্রেতা যেন ক্রেতার নিকট এক বৎসর মেয়াদে একশত দীনার বিক্রয় করিল ক্রীতদাসী ফেরত লওয়ার পূর্বে এবং দশ দীনার নগদ অথবা বাকী এক বৎসর হইতে দূরবর্তী মেয়াদে লাভ করিবে এই শর্তে। এইভাবে ইহা স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ [নির্ধারিত সময়ে আদায় করার বিনিময়ে] ধারে বিক্রয় করার মতো হইল। [যাহা বৈধ নহে, কাজেই ইহাও বৈধ হইবে না।]
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি নির্দিষ্ট মেয়াদে একশত দীনার আদায়ের বিনিময়ে অন্য ব্যক্তির নিকট নিজ ক্রীতদাসী বিক্রয় করিল, অতঃপর যে মেয়াদে বিক্রয় করিয়াছিল তার চাইতে দূরবতী মেয়াদে এবং উহার নিকট যেই মূল্যে বিক্রয় করিয়াছিল সেই মূল্য হইতে অধিক মূল্যে সেই ক্রীতদাসীকে উহা হইতে খরিদ করিল।ইহা বৈধ নহে, ইহা মাকরূহ হওয়ার ব্যাখ্যা হইতেছে এই, এক ব্যক্তি নিজের দাসীকে বিক্রয় করিল নির্দিষ্ট মেয়াদে [অর্থ আদায় করিবে বলিয়া ধার্য করিয়া] অতঃপর উহাকে এই মেয়াদ হইতে লম্বা মেয়াদে খরিদ করিল। বিক্রয় করিয়াছিল এক মাস মেয়াদে ত্রিশ দীনারের বিনিময়ে, অতঃপর ক্রয় করিল এক বৎসর মেয়াদে অথবা অর্ধ বৎসর মেয়াদে ষাট দীনার মূল্যে। ইহা এইরূপ হইল যেন তাহার পণ্যদ্রব্য অবিকল তাহার দিকে প্রত্যাবর্তন করিল এবং সে (ক্রেতা) বিক্রেতাকে দিল ত্রিশ দীনার এক মাসের মেয়াদে। অতঃপর ষাট দীনারের বিনিময়ে ক্রেতা উহাকে পুনরায় গ্রহণ করিল এক বৎসরে অথবা অর্ধ বৎসর মেয়াদে। ইহা বৈধ নহে।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] শু'আইবের পিতার নাম মুহম্মদ, তাহার পিতার নাম আবদুল্লাহ (রাঃ), তাহার পিতার নাম আমর ইবনুল আস (রাঃ)।
[2] অর্থাৎ সন্তান যখন ভূমিষ্ঠ হইবে তখন উহাকে পৃথকভাবে বিক্রি করার জন্য রাখিয়া দেওয়া।
রেওয়ারত ২. ’আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি দাসকে বিক্রয় করিয়াছে, আর দাসের রহিয়াছে সম্পদ, তবে উহার সম্পদ বিক্রেতার জন্য হইবে। কিন্তু যদি ক্রেতা উহা শর্ত করিয়া থাকে [তবে স্বতন্ত্র কথা-মাল ক্রেতা পাইবে।]
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এই, ক্রেতা যদি গোলামের মালের (নিজের জন্য) শর্ত করিয়া থাকে তবে মাল তাহার হইবে, মাল নগদ অর্থ হউক বা ঋণ হউক কিংবা সামগ্ৰী হউক, জ্ঞাত হউক বা অজ্ঞাত, যদি তাহাকে যে মূল্যে খরিদ করিয়াছে উহার চাইতে বেশি মালও হয়, তাহার মূল্য নগদ আদায় করা হউক বা ধারে বিক্রয় অথবা আসবাবপত্রের বিনিময়ে। সর্বাবস্থায় একই প্রকার হুকুম অর্থাৎ শর্ত করিলে মাল ক্রেতা পাইবে। ইহা এইজন্য যে, দাসের মালের জন্য কর্তার উপর যাকাত ওয়াজিব হয় না। আর যদি গোলামের কোন ক্রীতদাসী থাকে যাহার সহিত সঙ্গম করিয়াছে, উহার মালিক হওয়ার দরুন। আর যদি দাস কর্তৃক কোন গোলাম আযাদ করা হইয়া থাকে অথবা কোন গোলামকে মুকাতব করা হইয়া থাকে তবে উহার মাল তাহার জন্য থাকিবে। আর যদি গোলাম কাঙ্গাল হইয়া যায় তবে ঋণদাতাগণ তাহার মাল কজা করিবে, তাহার ঋণের জন্য কর্তাকে দায়ী করিবে না।
রেওয়ায়ত ৩. আবান ইবন উসমান (রহঃ) ও হিশাম ইবন ইসমাঈল (রহঃ) তাহারা উভয়ে খুতবাতে উল্লেখ করিতেন দাস বা দাসীকে ক্রয় করার সময় হইতে তিন দিনের দায়িত্বের কথা। তাহারা স্মরণ করাইয়া দিতেন এক বৎসরের দায়িত্বের কথা।[1]
মালিক (রহঃ) বলেনঃ দাস বা দাসীকে ক্রয় করার সময় হইতে তিন দিনের ভিতরে দাস বা দাসীর মধ্যে কোন দোষ পাওয়া গেলে উহা বিক্রেতার দায়িত্বের মধ্যে গণ্য হইবে। আর এক বৎসর কালের দায়িত্ব (যেমন) উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ, ধবলকুষ্ঠ, ইত্যাদি জটিল রোগ-এর ব্যাপারে এক বৎসর অতিবাহিত হইয়া গেলে পর বিক্রেতা সম্পূর্ণ দায়িত্বমুক্ত হইয়া যাইবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন দাস বা দাসীকে বিক্রয় করিল, বিক্রেতা উত্তরাধিকারী হউক বা অন্য কেউ। বিক্রয়ের সময় দাস-দাসীর দোষের ব্যাপারে দায়িত্বমুক্ত হওয়ার কথা বিক্রেতা কর্তৃক উল্লেখ করিলে তবে বিক্রেতা দাস-দাসীর যাবতীয় দোষের দায়িত্ব হইতে মুক্ত থাকিবে। পক্ষান্তরে বিক্রেতা কর্তৃক বিক্রয়ের সময় যদি দাস-দাসীর কোন দোষের কথা জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও গোপন করে তবে বিক্রয়ের সময় দায়িত্বমুক্ত হওয়ার শর্ত করিলেও এই শর্ত তাহার উপকারে আসিবে না। এই বিক্রয় বাতিল হইয়া যাইবে। আর আমাদের নিকট একমাত্র দাস-দাসীর মধ্যেই বিক্রেতার দায়িত্ব থাকিবে।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] দাস বা দাসীর দায়িত্বের অর্থ এই, কোন ব্যক্তি দাস বা দাসীকে ক্রয় করিলে এবং বিক্রেতা কর্তৃক উহাদের দোষমুক্ত হওয়ার শর্ত না করিলে বিক্রিত দাস-দাসীর মধ্যে তিন দিনের মধ্যে কোন দোষ পাওয়া গেলে উহার দায়িত্ব বিক্রেতা বহন করিবে। আর এক বৎসরের দায়িত্ব হইল দাস-দাসীর জটিল রোগ ইত্যাদির ব্যাপারে। অর্থাৎ বিক্রিত দাস-দাসীর যদি এক বৎসরের মধ্যে কোন জটিল রোগ প্রকাশ পায় তবে উহার দায়িত্ব বিক্রেতা বহন করবে।
রেওয়ায়ত ৫. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবা ইবন মাসউদ (রহঃ) তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) তদীয় স্ত্রী যয়নাব সকাফিয়ার নিকট হইতে একটি দাসী ক্রয় করিলেন এবং সে (যয়নাব) তাহার উপর শর্তারোপ করিয়াছে যে, যদি তিনি উহাকে বিক্রয় করেন, তবে যেই মূল্যে বিক্রয় করা হইবে সেই মূল্যে উহা তাহার (যয়নাবের) প্রাপ্য হইবে। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) এই বিষয়ে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন। তিনি (উত্তর) বলিলন, তুমি উহার নিকটে যাইও না (অর্থাৎ উহার সহিত সঙ্গম করিও না) যাহাতে কাহারো পথে শর্তারোপ করা হইয়াছে।
রেওয়ায়ত ৬. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, যেই দাসীকে ইচ্ছা করিলে বিক্রয় করিতে পারে কিংবা ইচ্ছা করিলে দান করা যায় অথবা ইচ্ছা হইলে নিজের কাছে রাখা যায় এবং উহার সহিত যাহা ইচ্ছা তাহা করা যায় সেইরূপ দাসী ব্যতীত অন্য কোন দাসীর সহিত কোন ব্যক্তি সঙ্গম করিবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন দাসীকে এই শর্তে ক্রয় করিয়াছে যে, উহাকে বিক্রয় করিবে না এবং উহাকে দান করিবে না কিংবা এই রকম অন্য কোন শর্তে, তবে সেই ক্রেতার জন্য উহার সহিত সঙ্গম করা জায়েয হইবে না। কারণ তাহার জন্য উহাকে বিক্রয় করা এবং দান করা জায়েয নহে। যখন সে ইহা বিক্রয় ও দান-এর মালিক নহে তবে সে উহার পূর্ণ কতৃত্ব লাভ করে নাই। কেননা (শর্তারোপ করিয়া) ক্রেতার নিকট হইতে উহার কর্তৃত্বকে বাদ দেওয়া হইয়াছে, যে কর্তৃত্ব রহিয়াছে অন্যের হস্তে। যখন (ক্ষমতা খর্ব করার) এই শর্তারোপ করা হইল তবে ইহার বিক্রয় জায়েয হইবে না। এই ধরনের বিক্রয় মাকরুহ হইবে।
৬. য়ে ক্রীতদাসীর স্বামী রহিয়াছে সে ক্রীতদাসীর সহিত অন্য লোকের সঙ্গম নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গ
রেওয়ায়ত ৭. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন আমির (রাঃ) একটি দাসী হাদিয়া স্বরূপ উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর উদ্দেশ্যে প্রেরণ করিলেন; সেই দাসীর স্বামী (বর্তমান) ছিল, তিনি উহাকে বসরাতে ক্রয় করিয়াছিলেন। উসমান (রাঃ) বলিলেনঃ উহার স্বামী উহাকে ত্যাগ না করা পর্যন্ত আমি ইহার কাছে সঙ্গম উদ্দেশ্যে গমন করিব না। অতঃপর ইবন আমির তাহার স্বামীকে সম্মত করাইলেন, তাহার স্বামী তাহাকে ত্যাগ করিল।
রেওয়ায়ত ৯. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলয়হি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি তা’বীর[1] করা খেজুরের গাছ বিক্রয় করিয়াছে, উহার ফল বিক্রেতা পাইবে, কিন্তু ক্রেতা যদি শর্ত করিয়া থাকে (তবে ফল ক্রেতার জন্য হইবে)।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] নরখেজুর গাছের মজ্জা মাদী খেজুর গাছ চিরিয়া উহাতে ঢুকাইয়া দেওয়া হয়। এইরূপ করাতে গাছে ভাল ও বেশি খেজুর উৎপন্ন হয়। আরবে এইরূপ করার প্রথা ছিল। ইহাতে “তাবিরে নখল” অর্থাৎ খেজুর বৃক্ষে জোড়া লাগান বলা হয়। - আওজায
রেওয়ায়ত ১৩ যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি সপ্তর্ষীমণ্ডলস্থ নক্ষত্র (সুরাইয়া) উদিত হওয়ার পূর্বে ফল বিক্রয় করিতেন না।[1]
মালিক (রহঃ) বলেন, তরবুজ, ক্ষিরাই, খরবুজ এবং গাজর বিক্রয়ের বিষয়ে আমাদের নিকট মাসআলা এইঃ পরিপুষ্ট হওয়ার পর এই সবের বিক্রয় হালাল ও বৈধ, তারপর যাহা উৎপাদিত হইবে (উৎপাদনকাল হইতে ফসল তোলা) শেষ হওয়া পর্যন্ত উহা ক্রেতার জন্য হইবে। ইহার জন্য কোন নির্ধারিত সময় নাই। কারণ উহার সময় লোকের নিকট পরিচিত। (তাহারা জানেন) কোন সময় এই সবের মধ্যে আপদ প্রবেশ করে। তাই সেই সময়ের পূর্বে উহার ফল কাটিয়া ফেলা হয়। যদি দুর্যোগের কারণে এইসবের মধ্যে কোন আপদ উপস্থিত হয় যাহার পরিমাণ পৌছে এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কিংবা উহার অধিক তবে বিক্রেতার নিকট হইতে সেই পরিমাণ কমান হইবে তারপর উহা ক্রেতাকে দেওয়া হইবে।
রেওয়ায়ত ১৪. যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরিয়্যা[1] করিয়াছেন এমন ব্যক্তির জন্য উহাকে অনুমান করিয়া বিক্রয় করার অনুমতি দিয়াছেন।
আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরিয়্যা স্বরূপ দেওয়া হইয়াছে এরূপ বৃক্ষের খেজুর অনুমান করিয়া বিক্রয়ের অনুমতি দিয়াছেন পাঁচ ওয়াসকের[2] কম কিংবা (পূর্ণ) পাঁচ ওয়াসকের মধ্যে। দাউদ (রাবী) সন্দেহ প্রকাশ করিয়াছেন; (তাহার শায়খ আবু সুফিয়ান) পাঁচ ওয়াসক বলিয়াছেন না পাঁচ ওয়াসকের কম বলিয়াছেন।মালিক (রহঃ) বলেনঃ আরিয়্যা পন্থায় প্রদত্ত বৃক্ষসমূহের ফল খেজুরের বিনিময়ে আন্দাজ করিয়া বিক্রয় করা যায়। চিন্তা-ভাবনা করিয়া উহার পরিমাণ নির্ধারণ করা হইবে এবং গাছে থাকিতে উহার আন্দাজ করা হইবে। উহার জন্য ওজন করার প্রয়োজন নাই। এইরূপ করার অনুমতি এই জন্য দেওয়া হইয়াছে যে, ইহা খরিদ দামে বিক্রয়, খরিদ বাতিলকরণ এবং খরিদকৃত বস্তুতে অন্যকে শরীক নেওয়ার মতো। ইহা যদি অন্যান্য বিক্রয়ের মতো হইত তবে খাদ্যদ্রব্যে অধিকার প্রাপ্ত হওয়ার পূর্বে কাহাকেও শরীক করা জায়েয হইত না এবং অধিকার প্রাপ্ত হওয়ার পূর্বে খরিদ বাতিলকরণও জায়েয হইত না এবং অধিকারে আসার পূর্বে খরিদমূল্যে ক্রয় করাও জায়েয হইত না।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
১০. শস্য ও ফলাদির বিক্রয়ে বিপদাপদ উপস্থিত হওয়া প্রসঙ্গে বিধান
রেওয়ায়ত ১৫. মুহাম্মদ ইবন আবদির রহমান (রহঃ) তাহার মাতা আ’মরা বিনত ’আবদির রহমান (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের যুগে এক ব্যক্তি এক বাগানের ফল ক্রয় করিলেন, তিনি উহাতে মেহনত করিলেন এবং বাগানের সংস্কার সাধনে ব্ৰতী হইলেন। (ইহাতে) তাহার লোকসান প্রকাশ পাইল, তারপর তিনি বাগান মালিকের নিকট বাগানের দাম কমাইবার অথবা বিক্রয় বাতিল করিবার আবেদন জানাইলেন। কিন্তু বাগানের মালিক এইরূপ না করার শপথ করিলেন। তারপর ক্রেতার মাতা উপস্থিত হইলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খেদমতে। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট ঘটনা বর্ণনা করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিলেন, সে পুণ্য কাজ না করার কসম খাইয়াছে কি? বাগানের মালিক ইহা শুনিলেন, তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট হাজির হইয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (ক্রেতা যাহা চাহিয়াছেন) তাহার জন্য উহা।
রেওয়ায়ত ১৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমর ইবন আবদিল আযীয (রহঃ) দুর্যোগ ঘটিলে মূল্য লাঘব করার ফয়সালা দিয়াছেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকটও মাসআলা অনুরূপ।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ দুর্যোগঘটিত কারণে, এক-তৃতীয়াংশ কিংবা ততোধিক ফসলের লোকসান হইলেই, তবে ক্রেতা হইতে মূল্য লাঘব করা হয়। ইহার কম হইলে লোকসান হইয়াছে বলিয়া গণ্য করা হয় না।
১১. কিছু ফল বা ফল-বৃক্ষের কিছু শাখা বিক্রয় হইতে বাদ দিয়া দেওয়া জায়েয হওয়া প্রসঙ্গ
রেওয়ায়ত ১৯. মুহাম্মদ ইবন আবদির রহমান ইবন হারেছ (রহঃ) বলেন, তাহার মাতা আমরা বিনত আবদির রহমান (রহঃ) তাহার মালিকানার ফল বিক্রয় করিতেন এবং উহা হইতে ফলের কিছু শাখা নিজের জন্য রাখিয়া দিতেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসআলা এই, কোন ব্যক্তি বাগানের ফল বিক্রয় করিলে তবে সেই বাগানের ফল হইতে তৃতীয়াংশ পরিমাণ (নিজের জন্য) রাখা তাহার জন্য জায়েয আছে। উহার সীমা ছাড়াইয়া না যাওয়া চাই, এক-তৃতীয়াংশের কম হইলে তাহাতে ক্ষতি নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি তাহার বাগানের ফল বিক্রয় করিল এবং উহা হইতে নিজরে পছন্দসই এক বা একাধিক গাছের ফল অবিক্রিত রাখিল, উহার সংখ্যাও উল্লেখ করিল। আমি এইরূপ করাতে কোন দোষ মনে করি না। বাগানের মালিক নিজ বাগান হইতে কিছু সংখ্যক বৃক্ষের ফল নিজের জন্য রাখিল। আর ইহা হইতেছে এমন যেন কেহ নিজ বাগানের কিছু বৃক্ষ নিজের জন্য নির্ধারিত রাখিল, উহাকে বিক্রয় না করিয়া অবশিষ্ট বৃক্ষ বিক্রয় করিয়া দিল।
রেওয়ায়ত ২০. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেন, খর্জুরের বিনিময়ে খর্জুর বিক্রয় করিলে সমান সমান (হইতে হইবে)। তাহার নিকট আরজ করা হইল, খায়বরে নিযুক্ত আপনার আমিল (কার্য সম্পাদক বা কালেকটর) দুই সা’-এর বিনিময়ে এক সা’ গ্রহণ করিয়া থাকেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইহা শুনিয়া) বলিলেন, তাহাকে আমার কাছে ডাকিয়া আন। তাহারা ডাকিয়া আনিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি কি দুই সা’-এর বিনিময়ে এক সা’ গ্রহণ কর? উত্তরে তিনি বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! উহারা নিকৃষ্ট খেজুরের বিনিময়ে বিশুদ্ধ খেজুর আমার নিকট এক সা’র বিনিময়ে এক সা’ বিক্রয় করে না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা শুনিয়া বলিলেন, অপ্রকৃষ্ট বা মিশ্রিত খেজুর দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় কর, অতঃপর দিরহামের বিনিময়ে বিশুদ্ধ খেজুর ক্রয় করিয়া লও।
রেওয়ায়ত ২১. আবু সায়ীদ খুদরী ও আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে খায়বরে আমিল (কার্য সম্পাদক বা প্রশাসক) নিযুক্ত করিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খেদমতে বিশুদ্ধ খেজুর উপস্থিত করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, খায়বরের সকল খেজুর এইরূপ হয় কি? তিনি বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর কসম, সকল খেজুর এইরূপ নহে। আমরা এই খেজুরের এক সা’ দুই সা’ এর বিনিময়ে এবং দুই সা’ তিন সা’ এর বিনিময়ে গ্রহণ করি। (ইহা শুনিয়া) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিলেন, এইরূপ করিও না; অপ্রকৃষ্ট খেজুর দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় করিয়া দাও, অতঃপর দিরহাম দ্বারা উৎকৃষ্ট খেজুর ক্রয় করিয়া লও।
রেওয়ায়ত ২২. যায়দ আবু আয়্যাশ (রহঃ) সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) এর নিকট প্রশ্ন করিলেন বেশি পেষা হয় নাই এমন যব (مسلمت)[1] এর বিনিময়ে সাদা বর্ণের যব বিক্রয় করা প্রসঙ্গে। সা’দ তাহার নিকট হইতে জানিতে চাহিলেন, উভয়ের মধ্যে কোনটি উত্তম? তিনি বলিলেন-সাদা যব উত্তম, সা’দ তাহাকে এইরূপ করিতে নিষেধ করিলেন। তিনি বলিলেন-খুর্মার বিনিময়ে খেজুর বিক্রয় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রশ্ন করা হইয়াছিল। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিতে শুনিয়াছি, তিনি বলিলেন, খুর্মা শুকাইলে কমে কি না? তাহারা বলিলেন-হ্যাঁ (কমে)। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এইরূপ করিতে বারণ করিলেন।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] কাহারও মতে مسلمت খোসাবিহীন এক প্রকার যব বাহা হিজাযে উৎপন্ন হয়।
রেওয়ায়ত ২৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে আমাদের নিকট সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এই, যে ব্যক্তি কোন ফল, তাজা হউক বা শুষ্ক হউক, ক্রয় করে, তবে উহাতে পূর্ণ কজা না করা পর্যন্ত উহা বিক্রয় করিবে না। আর ফলের এক অংশকে অপর অংশের বিনিময়ে নগদ ছাড়া বিক্রয় করিবে না। আর যেই ফলকে শুকান হয়, শুকাইয়া শুষ্ক ফল হিসাবে সঞ্চয় করিয়া রাখা হয় এবং খাওয়া হয়—সেই সব ফলের এক অংশকে অপর অংশের বিনিময়ে নগদ এবং সমপরিমাণ ছাড়া বিক্রয় করা যাইবে না যদি একই জাতের হয়। তবে যদি পরম্পর ভিন্ন দুই জাতের ফল হয় তাহা হইলে সেই ফলের একটির বিনিময়ে দুইটি বিক্রয় করাতে নগদ হইলে ইহাতে কোন দোষ নাই। ধারে বিক্রয় করা জায়েয হইবে না। আর যেই সব ফল শুকান হয় না এবং সঞ্চয়ও করা হয় না বরং উহা তাজা খাওয়া হয়; যেমন তরমুজ, ক্ষিরাই, খরবুযা, লেবু, কলা, গাজর, আনার, আরও যাহা এই জাতীয় ফল আছে। এইসব ফল বেশি পাকিলে (আহারযোগ্য) থাকে না এবং এইসব ফল শুষ্করূপে সঞ্চিতও রাখা হয় না। এই ফলের ব্যাপারে আমি এক জাতের হইলেও একের বিনিময়ে দুই গ্রহণ করা নগদ হইলে বৈধ বলিয়া মনে করি, যদি ধারে না হয় তবে ইহাতে কোন দোষ নাই।
রেওয়ায়ত ৩০. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, স্বর্ণকে স্বর্ণের বিনিময়ে সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না এবং স্বর্ণের এক অংশকে অন্য অংশের বিনিময়ে বাড়তি বিক্রয় করিও না। (অনুরূপ) চাঁদির বিনিময়ে চাঁদি সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না এবং উহার এক অংশকে অপর অংশের বিনিময়ে বাড়তি বিক্রি করিও না, আর উহা হইতে নগদের বিনিময়ে বাকী বিক্রয় করিও না।
রেওয়ায়ত ৩১. মুজাহিদ (রহঃ) বলেনঃ আমি (একবার) আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। একজন স্বর্ণকার তাহার নিকট উপস্থিত হইয়া বলিল-হে আবু আবদির রহমান। আমি স্বর্ণে কারুকার্যের কাজ করি, অতঃপর উহার ওজনের চাইতে অধিক ওজনে বিক্রয় করি; ইহাতে আমি শ্রম অনুযায়ী বাড়তি গ্রহণ করিতে পারি কি? আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) তাহাকে নিষেধ করিলেন। স্বর্ণকার এই মাসআলা তাহার নিকট বারবার পেশ করিতেছিল আর আবদুল্লাহ (রাঃ) তাহাকে নিষেধ করিতেছিলেন । এইভাবে মসজিদের দ্বারপ্রান্তে কিংবা যে সওয়ারীতে আরোহণ করিলেন উহার কাছে উপনীত হইলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেন-দীনার দীনারের বিনিময়ে এবং দিরহাম দিরহামের বিনিময়ে, এতদুভয়ের মধ্যে বাড়তি (ক্রয়-বিক্রয়) বৈধ নহে। ইহা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওসীয়ত আমাদের প্রতি এবং আমাদের ওসীয়তও (ইহাই) তোমাদের প্রতি।
রেওয়ায়ত ৩২. উসমান ইবন আফফান (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিয়াছেন, তোমরা এক দীনারকে দুই দীনারের বিনিময়ে এবং এক দিরহামকে দুই দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় করিও না।
রেওয়ায়ত ৩৩. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মু’আবিয়া ইবন আবী সুফিয়ান (রাঃ) স্বর্ণ কিংবা চাঁদির একটি পানপাত্র (সিকায়া) ক্রয় করিয়াছিলেন উহার চাইতে অধিক ওজনের (স্বর্ণ বা চাঁদির) বিনিময়ে। আবুদ্দারদা (রাঃ) তাহাকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এইরূপ (কার্য) হইতে নিষেধ করিতে শুনিয়াছি। কিন্তু যদি সমান সমান হয় (তবে উহা বৈধ হইবে) মু’আবিয়া (রাঃ) বললেন, আমি এইরূপ কার্যে কোন দোষ মনে করি না, আবুদ্দারদা (রাঃ) বলিলেন, (মু’আবিয়ার ব্যাপারে) আমাকে কে মদদ করিবে? আমি তাহাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে হাদীসের সংবাদ দিতেছি আর তিনি আমার কাছে তাহার মত বর্ণনা করিতেছেন। (হে মু’আবিয়া) তুমি যেই স্থানে বসবাস কর, সেই স্থানে আমি তোমার সহিত বসবাস করিব না। তারপর আবুদ্দারদা (রাঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আগমন করিলেন এবং তাহার নিকট ঘটনা বর্ণনা করিলেন। অতঃপর উমর (রাঃ) মু’আবিয়ার নিকট লিখিলেন-এইরূপ বিক্রয় করিবেন না, কিন্তু যদি সমান সমান এবং একই পরিমাণের হয় (তবে বিক্রয় করা বৈধ হইবে)।
রেওয়ায়ত ৩৪. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন, স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না। এবং একটিকে অপরটির উপর বৃদ্ধি করিয়া বিক্রয় করিও না। আর চাঁদির বিনিময়ে চাঁদি সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না। উহার এক অংশকে অপর অংশের উপর বাড়তি করিয়া বিক্রয় করিও না আর স্বর্ণের বিনিময়ে চাঁদি বিক্রয় করিও না, যে দুইটির একটি অনুপস্থিত, আর অপরটি বর্তমানে মওজুদ রহিয়াছে। (কব্জা করার পূর্বে) যদি মহাজন তার গৃহে প্রবেশ করা পর্যন্তের জন্য সময় চাহে তবে সেই সময়ও তাহাকে দিও না। আমি তোমাদের বেলায় ’রামা’ এর আশঙ্কা করি। ’রামা’ হইতেছে সুদ।
রেওয়ায়ত ৩৫. আবদুল্লাহ ইবন দিনার (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন-স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না, এবং একটিকে অপরটির উপর বৃদ্ধি করিয়া বিক্রয় করিও না। আর চাঁদির বিনিময়ে চাঁদি সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না। উহার এক অংশকে অপর অংশের উপর বাড়তি করিয়া বিক্রয় করিও না। আর স্বর্ণের বিনিময়ে চাঁদি বিক্রয় করিও না, যে দুইটির একটি অনুপস্থিত, আর অপরটি বর্তমানে মওজুদ রহিয়াছে। (কব্জা করার পূর্বে) যদি মহাজন তার গৃহে প্রবেশ করা পর্যন্তের জন্য সময় চাহে তবে সেই সময়ও তাহাকে দিও না। আমি তোমাদের বেলায় রামা-এর আশঙ্কা করি। রামা’ হইতেছে সুদ।
রেওয়ায়ত ৩৭. আবুয যিনাদ (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, সুদ হয় কেবলমাত্র স্বর্ণে, চাঁদিতে অথবা যেইসব দ্রব্য ওজন করা হয় কিংবা ওজন করা হয় পানীয় বা খাদ্যদ্রব্য হইতে সেইসব দ্রব্যে।
রেওয়ায়ত ৩৮. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন স্বর্ণ এবং চাঁদিকে কর্তন করা ধরাপৃষ্ঠে ফাসাদ দৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। মালিক (রহঃ) বলেনঃ চাঁদির বিনিময়ে স্বর্ণ এবং স্বর্ণের বিনিময়ে চাঁদি অনুমান করিয়া বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই, যদি ঢালাইবিহীন স্বর্ণ বা তৈরি গহনা হয়। অবশ্য গণনাযোগ্য দিরহাম বা দীনার হইলে সেইসবকে অনুমান করিয়া ক্রয় করা কাহারো পক্ষে বৈধ নহে। যাবত উহার সংখ্যা জানা না যায় এবং উহাকে গণনা করা না হয়। উহাকে অনুমান করিয়া ক্রয় করিলে, উহার লক্ষ্য হইবে প্রতারণা যখন গণনা করা হইল না এবং অনুমান করিয়া ক্রয় করা হইল। ইহা মুসলিমদের ক্রয়-বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত নহে। আর ঢালাইবিহীন স্বর্ণ বা চাঁদি এবং (তৈরি) গহনা যেসব ওজনে বিক্রয় হয় সেই সবকে অনুমান করিয়া বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই।
এইসবকে অনুমানে বিক্রয় করা এইরূপ যেমন গম, খুর্মা এবং উহাদের মতো অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য যাহাকে কেহ অনুমান করিয়া বিক্রয় করে যদি উহা ওজন করিয়া বিক্রয় করার মতো দ্রব্য হয়। তাই এইরূপ দ্রব্য অনুমান করিয়া বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্বর্ণখচিত কুরআন অথবা তলোয়ার অথবা অঙ্গুরীয়কে দীনার, দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করিয়াছে। স্বর্ণখচিত যে বস্তু দীনারের বিনিময়ে ক্রয় করিল সে বস্তুর মূল্যের প্রতি লক্ষ্য করিতে হইবে; যদি উক্ত বস্তুর মূল্য দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) হয় এবং উহাতে লাগানো স্বর্ণের মূল্য হয় এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) তবে উহা বৈধ হইবে। ইহাতে কোন দোষ নাই যদি নগদ আদান-প্রদান হয়। আমাদের শহরের লোকের মধ্যে এই নিয়মই প্রচলিত রহিয়াছে।
১৭. স্বর্ণ-চাঁদির ক্রয়-বিক্রয় যথাক্রমে চাঁদি ও স্বর্ণের বিনিময়ে
রেওয়ায়ত ৩৯. মালিক ইবন আওস ইন হাদাসান নাসরী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি একশত দীনারের পরিবর্তে দিরহাম সন্ধান করিলেন। তিনি বলেনঃ (ইহা শুনিয়া) তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ (রাঃ) আমাকে ডাকিলেন। আমরা উভয়ে এই বিষয়ে পরস্পর কথাবার্তা বলিলাম, (এমনকি) তিনি আমার নিকট হইতে দীনার গ্রহণ করিলেন, উহার পরিবর্তে দিরহাম দেওয়ার জন্য এবং দীনার হাতে লইয়া উহাকে উলট-পালট করিতে লাগিলেন। অতঃপর বলিলেন-(অপেক্ষা করুন) আমার খাজাঞ্চী গারাঃ হইতে আসুক। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ইহা শুনিতেছিলেন, তিনি বলিলেন, না, (এইরূপ করিও না) আল্লাহর কসম! তুমি তাহা [তালহা (রহঃ)] হইতে পৃথক হইও না যাবত তাহার নিকট হইতে দিরহাম গ্রহণ না কর। তারপর বলিলেন— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, চাঁদির বিনিময়ে স্বর্ণ (গ্রহণ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত) অবশ্য যদি উভয়ে নগদ আদান-প্রদান করে। গমের বিনিময়ে গম (ক্রয়-বিক্রয় সুদের অন্তর্ভুক্ত হইবে) কিন্তু যদি নগদ আদান-প্রদান করে। খুর্মার পরিবর্তে খুর্মা (ক্রয়-বিক্রয় সুদ হইবে) অবশ্য যদি নগদ আদান-প্রদান করে। যবের বিনিময়ে যব (ক্রয়-বিক্রয় সুদে গণ্য হইবে), কিন্তু নগদ আদান-প্রদান করে। লবণের বিনিময়ে লবণ (ক্রয়-বিক্রয় সুদ হইবে)। অবশ্য যদি উতয়ে নগদ আদান-প্রদান করে (তবে বৈধ হইবে)।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি দীনারকে বদলাইল দিরহাম দ্বারা, অতঃপর সে উহাকে একটি খোটা (দোষযুক্ত) দিরহাম পাইল, যখন সেই দিরহাম ফেরত দিল তখন দীনারের বদলানোর ব্যাপারটি ভঙ্গ হইয়া গেল। (এখন তাহার কর্তব্য হইল) সে চাঁদি ফেরত দিবে (চাঁদির মালিককে) এবং তাহার নিকট হইতে নিজের দীনার ফেরত গ্রহণ করিবে। ইহার ব্যাখ্যা হইতেছে এই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, চাঁদির বিনিময়ে স্বর্ণ (গ্রহণ করা) সুদ হইবে, অবশ্য (বৈধ হইবে) যদি নগদ আদান-প্রদান করে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যদি (অপর পক্ষ) গৃহে প্রবেশ করা পর্যন্ত তোমার নিকট সময় চায়, তবে তুমি তাহাকে সময় দিও না। বদলানো দিরহাম হইতে দিরহামওয়ালার নিকট হইতে আলাদা হওয়ার পর এক দিরহামও যদি রদ করা হয় তবে ইহা ঋণ বা পরবর্তী বস্তুর মতো হইবে। এই জন্যই ইহা অবৈধ হইয়াছে এবং বিনিময়ে ব্যবসা ভঙ্গ হইয়া গিয়াছে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ইচ্ছা করিয়াছেন যে, স্বর্ণ, চাঁদি ও খাদ্যশস্য এইসবের মধ্যে ধারের বিনিময়ে নগদ যেন বিক্রয় করা না হয়। কারণ এইসবের মধ্যে বিলম্ব ও সময় দান বৈধ নহে; এক জাতের বস্তু হউক কিংবা বিভিন্ন জাতের বস্তু হউক।
রেওয়ায়ত ৪১. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিয়াছে, সে উহা কব্জা করার পূর্বে যেন ইহা বিক্রয় না করে।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
১৯. ঈনা[1] এবং উহার সদৃশ[2]
[1] ঈনা (عينة) কোন বস্তু ধারে নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রয় করিয়া পরে উহাকে কম মূল্যে নগদ ক্রয় করাকে ঈনা বলা হয়।
[2] যেসব বস্তু বিক্রেতার অধিকারে নাই সেইসব বস্তু বিক্রয় করিয়া লাভের সন্ধান করা। প্রশাসকগণ নাগরিকদের জন্য খাদ্যশস্য কিংবা অন্যান্য দানের জন্য তমসুক লিখিয়া দিতেন। উহাকে আরবীতে صك বলে হয়, صكوك ইহার বহুবচন। সেই সময় খাদ্যশস্য বিতরণ করা হইত জার নামক স্থান হইতে। সেইখানে ছিল খাদ্যভাণ্ডার। জার মদীনা হইতে একদিন এক রাত্রির দূরত্বে অবস্থিত। স্থানটি সাগরপাড়ে অবস্থিত।
রেওয়ায়ত ৪২. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিয়া থাকে সে উহাকে কব্জা করার পূর্বে বিক্রয় করিবে না।
রেওয়ায়ত ৪৩. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমরা খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিলে তিনি আমাদের নিকট লোক পাঠাইতেন। প্রেরিত লোক আমাদিগকে ক্রয় স্থল হইতে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয়ের পূর্বে অন্যত্র সরাইয়া ফেলার নির্দেশ দিতেন।
রেওয়ায়ত ৪৪. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, হাকিম ইবন হিযাম (রাঃ) খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিলেন। উহা জনসাধারণের নিকট বিক্রয়ার্থে ক্রয় করার জন্য উমর (রাঃ) হুকুম দিয়াছিলেন। হাকিম ইবন হিযাম কব্জা করার পূর্বে সে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করিলেন। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট সেই সংবাদ পৌছিলে তিনি সেই বিক্রয় বাতিল করিয়াছিলেন এবং বলিলেন, তোমার ক্রয়কৃত খাদ্যদ্রব্যকে কব্জা করার পূর্বে বিক্রয় করিও না।
রেওয়ায়ত ৪৬. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি ইচ্ছা করিল অন্য এক ব্যক্তি হইতে খাদ্যশস্য ধারে ক্রয় করিতে। যেই ব্যক্তি তাহার নিকট খাদ্যশস্য বিক্রয় করিতে মনস্থ করিয়াছে সে এই ব্যক্তিকে বাজারে লইয়া গেল। তারপর তাহাকে রূপ দেখাইতে লাগিল এবং তাহাকে বলিল, এই রূপসমূহের কোনটি হইতে আপনার নিকট বিক্রয় করিলে আপনি পছন্দ করিবেন? ক্রেতা বলিল, যেই বস্তু আপনার নিকট মওজুদ নাই আপনি সেই বস্তু আমার কাছে বিক্রয় করিবেন কি? তারপর তাহারা উভয়ে আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট আসিলেন। তাহার কাছে উভয়ে ঘটনা ব্যক্ত করিলেন। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) ক্রেতাকে বলিলেন, তুমি উহা হইতে তাহার নিকট মওজুদ নাই এইরূপ বস্তু ক্রয় করিও না, আর বিক্রেতাকে বলিলেন, তোমার নিকট যাহা মওজুদ নাই উহা বিক্রয় করিও না।
রেওয়ায়ত ৪৭. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) জামিল ইবন আবদির রহমান আল মুয়াযযিন (রহঃ)-কে সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-এর নিকট বলিতে শুনিয়াছেন, জার নামক স্থান হইতে লোকের জন্য (চেক মারফত) যেসব রসদ বন্টন করা হইয়া থাকে, (লোকের নিকট হইতে) আমি সেইসব খরিদ করিয়া লই। যেই পরিমাণ আল্লাহ তৌফিক দেন। অতঃপর যেসব খাদ্যশস্যের মূল্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা আমার জিম্মায় রহিয়াছে সেইরূপ খাদ্যশস্য আমি বিক্রয় করিতে প্রয়াস পাই। সাঈদ তাহাকে বলিলেন-(জার হইতে) যে রসদ ক্রয় করিয়াছ তুমি ক্রেতাদের উহা হইতে দিতে চাও কি? তিনি বলিলেন-হ্যাঁ, সাঈদ তাহাকে ইহা করিতে বারণ করিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত যাহাতে কোন মতানৈক্য নাই তাহা এই, যে কোন খাদ্যশস্য খরিদ করে যেমন-গম, যব, সুরত,[1] বাজরা, কংগনী,[2] অথবা কলাই, মটর জাতীয় শস্য, কিংবা এইগুলির সদৃশ কোন শস্য যেইগুলির যাকাত দিতে হয়। অথবা ব্যঞ্জন জাতীয় যাবতীয় দ্রব্য-যেমন-যাইতুন তৈল, ঘি, মধু, সির্কা, পনির, দুধ, তিল, তৈল এবং এই জাতীয় এই সবের সদৃশ অন্যান্য ব্যঞ্জনা। ক্রেতা এইসব বস্তুকে কজা ও পূর্ণ দখলে আনার পূর্বে বিক্রয় করিবে না।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] গম ও যবের মাঝমাঝি এক প্রকারের শস্য, কেহ কেহ উহাকে মকাই বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। কোন কোন স্থানে উহাকে নাবিযব বলা হয়।
[2] সরু এক প্রকারের ছোট শস্য, হিন্দীতে বলা হয় কংগনী।
২০. যে যে অবস্থায় খাদ্যদ্রব্য ধারে বিক্রয় করা মাকরূহ
রেওয়ায়ত ৪৮. আবিয যিনাদ (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব ও সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, কোন ব্যক্তি স্বর্ণের (অথবা চাঁদির) বিনিময়ে বাকী মূল্যে গম বিক্রয় করিয়া পরে সেই বাকী মূল্য হস্তগত হওয়ার পূর্বে উহার বিনিময়ে খুর্মা ক্রয় করিল। তাহারা উভয়ে এই ধরনের ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করিতেন।
রেওয়ায়ত ৪৯. কসীর ইবন ফরকদ (রহঃ) আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিলেন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে জনৈক ব্যক্তির নিকট খাদ্যদ্রব্য বাকী মূল্যে বিক্রয় করিয়া অতঃপর সেই মূল্য হস্তগত হওয়ার পূর্বে (বাকী) মূল্যে খুর্মা ক্রয় করিতেছে। তিনি ইহাকে মাকরূহ জানাইলেন এবং ইহা করিতে নিষেধ করিলেন।
মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন।
মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ সাঈদ ইবন মুসায়্যাব সুলায়মান ইবন ইয়াসার, আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম (রহঃ) এবং ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কোন ব্যক্তি গম বিক্রয় করিতেছে বাকী মূল্যে, অতঃপর তাহার নিকট হইতে যে (বাকী মূল্যে) গম ক্রয় করিয়াছে, সে ব্যক্তি হইতে মূল্য হস্তগত করার পূর্বে সে খুর্মা ক্রয় করিতেছে (অনাদায়ী) মূল্যের বিনিময়ে। তাহারা সকলে ইহা নিষেধ করিয়াছেন।
তবে (বিক্রেতা) বাকী মূল্যে যে গম বিক্রয় করিয়াছে, সে মূল্য দ্বারা উহা হস্তগত করার পূর্বে যাহার নিকট গম বিক্রয় করিয়াছিল সে লোক ব্যতীত অন্য বিক্রেতার নিকট হইতে খুর্মা ক্রয় করে এবং সেই খুর্মার মূল্য যাহার নিকট (পূর্বে) গম বিক্রয় করিয়াছিল তাহার দায়িত্বে ছাড়িয়া দেয়, ইহাতে কোন দোষ নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি এই বিষয়ে অনেক আলিমকে জিজ্ঞাসা করিয়াছি, তাহারা ইহাতে কোন দোষ দেখিতে পান নাই। (অর্থাৎ ইহা বৈধ মনে করেন)।
২১. অগ্রিম টাকা দিয়া নির্দিষ্ট মেয়াদে হস্তগত করার শর্তে খাদ্যশস্য ক্রয় করা
রেওয়ায়ত ৫৪. মুহাম্মদ ইবন আবদিল্লাহ্ ইবন আবি মারয়াম (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিয়াছেন। তিনি বলিলেন, (জার নামক স্থান) হইতে চেক (লিখিত দলীল) মারফত যেই সব খাদ্যদ্রব্য প্রদান করা হয় আমি সেই সব খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিয়া থাকি। অনেক সময় বিক্রেতা হইতে এক দীনার এবং অর্ধ দিরহামের বিনিময়ে (খাদ্যদ্রব্য) ক্রয় করি। অর্ধ দিরহামের পরিবর্তে আমি খাদ্যশস্য দিতে পারি কি? সাঈদ (রহঃ) বলিলেন, না, (বরং) তুমি তাহাকে পূর্ণ দিরহাম দাও এবং অবশিষ্ট দিরহামের পরিবর্তে খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ কর।
রেওয়ায়ত ৫৫. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, মুহাম্মদ ইবন সীরীন (রহঃ) বলিতেন, শস্য উহার শীষে থাকা অবস্থায় বিক্রয় করিও না, যাবত উহা পরিপুষ্ট না হয়।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নির্ধারিত মূল্যে নির্দিষ্ট মেয়াদে কোন খাদ্যশস্য ক্রয় করিয়াছে, যখন মেয়াদ উপস্থিত হইল, খাদ্যশস্য আদায় করা যাহার জিম্মায় (ওয়াজিব হইয়াছে) সে বলিল, তাহার সাথী (ক্রেতা)-কে, আমার কাছে খাদ্যশস্য (মওজুদ) নাই, যে খাদ্যশস্য আপনাকে দেওয়ার দায়িত্ব আমার উপর রহিয়াছে, সে খাদ্যশস্য (নির্দিষ্ট) মেয়াদ প্রদান করিয়া আমার নিকট বিক্রয় করুন। খাদ্যশস্যের মালিক বলিল, ইহা জায়েয হইবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্যশস্য হস্তগত করার পূর্বে বিক্রয় করিতে নিষেধ করিয়াছেন। (জায়েয করার উপায়স্বরূপ) যাহার জিম্মায় খাদ্যশস্য (আদায় করা ওয়াজিব) সে তাহার কর্জদাতাকে (অর্থাৎ প্রথম ক্রেতাকে) বলিল, (আপনার পক্ষ হইতে অন্য) খাদ্যশস্য আপনি আমার নিকট বিক্রয় করুন নির্দিষ্ট মেয়াদে, যেন আপনাকে আমি উহা পরিশোধ করি। ইহা জায়েয হইবে না। কারণ সে [প্রথম ক্রেতা] উহাকে প্রথম বিক্রেতাকে খাদ্যশস্য দিতেছে। তারপর পুনরায় প্রথম বিক্রেতা প্রথম ক্রেতার নিকট উহা ফেরত দিতেছে, ফলে ব্যাপার এই দাঁড়াইবে যে, (এই খাদ্যশস্যের) যে মূল্য প্রথম বিক্রেতা প্রথম ক্রেতাকে আদায় করিল খাদ্যশস্যের দ্বিতীয় দফা যে ক্রয় করিল উহার মূল্য বাবদ উহা (প্রকৃতপক্ষে) সেই খাদ্যশস্যের মূল্য হইল।
যে খাদ্যশস্য উহার (প্রথম ক্রেতার) প্রাপ্য ছিল সেই ব্যক্তির (প্রথম বিক্রেতার) জিম্মায়। এই খাদ্যশস্য যাহা বিক্রি করিল তাহাদের উভয়ের মধ্যে লেন-দেন হালাল করার জন্য একটি হিল্লা স্বরূপ হইল। (উপরিউক্ত ব্যবস্থায়) তাহারা যাহা করিল তাহা হইতে খাদ্যশস্যকে হস্তগত করার পূর্বে বিক্রয় করা (যাহা হালাল নহে)।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তির খাদ্যশস্য আর এক ব্যক্তির জিম্মায় ওয়াজিব রহিয়াছে, যাহা সে ক্রয় করিয়াছিল তাহার নিকট হইতে, (অপর দিকে) তাহার কর্জদারের অপর এক ব্যক্তির নিকট অনুরূপ খাদ্যদ্রব্য পাওনা রহিয়াছে। যে ব্যক্তির জিন্মায় খাদ্যদ্রব্য (আদায় করা ওয়াজিব) রহিয়াছে সে ঋণদাতাকে বলিল-আমার নিকট আপনার প্রাপ্য খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে আমি আপনাকে আমার এক ঋণদারের হাওলা করিতেছি, যাহার নিকট আমি অনুরূপ খাদ্যদ্রব্য পাওনা আছি, যেইরূপ খাদ্যদ্রব্য আমার নিকট আপনার পাওনা রহিয়াছে। (অর্থাৎ খাতকের নিকট হইতে আপনি সেই খাদ্যদ্রব্য আদায় করিয়া নিন)।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যাহার জিম্মায় খাদ্যদ্রব্য আদায় করা ওয়াজিব রহিয়াছে, সে যদি সেই খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিয়া থাকে এবং তাহার ঋণদাতাকে উহা হইতে খরিদকৃত খাদ্যদ্রব্যের হাওলা করিতে ইচ্ছা করে, তবে এই হাওলা করা জায়েয নহে।
এবং ইহা হইতেছে হস্তগত করার পূর্বে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করা (যাহা বৈধ নহে)। আর যদি উক্ত খাদ্যদ্রব্য সলফরূপে ক্রয় হইয়া থাকে যাহার আদায় করার সময় উপস্থিত হইয়াছে, তবে তাহার ঋণদাতাকে তাহার খাতকের হাওলা করাতে কোন দোষ নাই। অর্থাৎ ইহা জায়েয হইবে। কারণ ইহা (ঋণ), বিক্রয় নহে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ হস্তগত করার পূর্বে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করা হালাল নহে। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা নিষেধ করিয়াছেন। তবে আহলে-ইলম (উলামা) এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন যে, শরীক করিয়া লওয়া, তাওলিয়ত ও ইকালাতে কোন দোষ নাই। খাদ্যদ্রব্য (হউক বা) অথবা খাদ্যদ্রব্য ব্যতীত অন্য কিছু হউক ।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ (ইহা জায়েয এইজন্য যে), আহলে-ইলম উলামা এই সবকে অনুগ্রহের তুল্য বলিয়া মত দিয়াছেন, ইহা বেচাকেনার মতো বলিয়া উল্লেখ করেন নাই। ইহা এইরূপ যেন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে নাকিস (অসম্পূর্ণ ও কৃত্রিম) দিরহাম সলফ (ঋণ প্রদান করিয়াছে, তারপর ঋণ শোধ করা হইল (অর্থাৎ সলফ বিক্রয় ঋণ গ্রহীতা ঋণদাতা (ক্রেতা)-কে ঋণ পরিশোধ করা হইল [অর্থাৎ সলফ বিক্রয় ঋণ গ্রহীতা ঋণদাতা ক্রেতা-কে (ঋণ) পরিশোধ করিল] পূর্ণ ওজনের দিরহাম দ্বারা যাহাতে বাড়তি রহিয়াছে।
ইহা তাহার জন্য জায়েয হইবে এবং হালাল হইবে। পক্ষাত্তরে যদি সেই ব্যক্তি পূর্ণ ওজনের দিরহামের বিনিময়ে নাকিস দিরহাম উহা হইতে ক্রয় করে তবে ইহা তাহার জন্য হালাল জায়েয হইবে না। অনুরূপ সলফ বিক্রয়ে যদি (বিক্রেতার নিকট) পূর্ণ ওজনের দিরহামের শর্ত করে অথচ সে তাহাকে পরিশোধ করিয়াছে নাকিস দিরহাম, তবে ইহা জায়েয হইবে না।
রেওয়ায়ত ৫৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহারই সদৃশ নজীর হইতেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানাকে নিষেধ করিয়াছেন, (অথচ) আরায়াতে উহার খেজুরের অনুমান করিয়া বিক্রয় করার অনুমতি দিয়াছেন। এই পার্থক্যের কারণ এই, মুযাবানাতে ক্রয়-বিক্রয় হইতেছে পরস্পর বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ ও ব্যবসা করার প্রয়াসের ধারায়। আর আরায়ায় বিক্রয় হইতেছে অনুগ্রহস্বরূপ, ইহাতে পরস্পর বুদ্ধি খাটানোর কোন প্রতিযোগিতা নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিল দিরহামের এক-চতুর্থাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ কিংবা উহার যেকোন অংশের বিনিময়ে এই শর্তে যে, এই মূল্যের বিনিময়ে খাদ্যদ্রব্য দেওয়া হইবে মেয়াদে। [উদাহরণস্বরূপ যেমন-এক মাস পর] ইহা সঙ্গত (জায়েয) নহে। আর কোন ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিল দিরহামের এক অংশের বিনিময়ে মেয়াদে। তারপর সে (পূর্ণ) এক দিরহাম প্রদান করিল এবং তাহার দিরহামের যেইটুকু অবশিষ্ট রহিল উহার বিনিময়ে সে অন্য কোন সামগ্ৰী ক্রয় করিল, ইহাতে কোন দোষ নাই। কারণ সে দিরহামের অংশ যাহা তাহার জিম্মায় (ওয়াজিব) ছিল তাহা প্রদান করিয়াছে এবং অবশিষ্ট দিরহামের বিনিময়ে (অন্য) সামগ্ৰী ক্রয় করিয়াছ, ইহাতে কোন দোষ নাই অর্থাৎ ইহা জায়েয আছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তির নিকট একটি দিরহাম রাখিল। অতঃপর সেই ব্যক্তির নিকট হইতে দিরহামের এক-তৃতীয়াংশ অথবা এক-চতুর্থাংশ কিংবা নির্দিষ্ট কোন অংশে নির্দিষ্ট কোন সামগ্ৰী খরিদ করিল, ইহাতে কোন দোষ নাই। পক্ষান্তরে যদি উহাতে মূল্য জ্ঞাত না থাকে এবং (দিরহামওয়ালা) ব্যক্তি বলিল, আমি প্রতিদিনকার যাহা মূল্য হইবে তাহার বিনিময়ে ক্রয় করিব। ইহা জায়েয হইবে না। কারণ ইহা (এক প্রকার) ধোঁকা, দাম একবার কমিবে, আবার একবার বাড়িবে। তাহারা উভয়ে কোন সুনির্দিষ্ট ক্রয়-বিক্রয় হইতে পরস্পর পৃথক হয় নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি আন্দাজ করিয়া খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করিয়াছে এবং উহা হইতে কোন কিছু বাদ বা আলাদা করে নাই। অতঃপর বিক্রিত বস্তু হইতে কিছুটা ক্রেতা হইতে খরিদ করিতে সে ইচ্ছা করিল, তবে বিক্রিত বস্তু হইতে কিছুটা ক্রেতা হইতে খরিদ করিয়া রাখা তাহার জন্য জায়েয নহে। কিন্তু কেবলমাত্র সেই পরিমাণ ক্রয় করা জায়েয যেই পরিমাণ সেই বস্তু হইতে বাদ করা বা পৃথক করিয়া রাখা তাহার জন্য জায়েয রহিয়াছে। আর সেই পরিমাণ হইতেছে এক-তৃতীয়াংশ বা উহা হইতে কম, এক-তৃতীয়াংশ হইতে বেশি হইলে তাহা মুযাবানার দিকে এবং মাকরূহ (বেচাকেনা)-এর দিকে যাইবে। কাজেই (বিক্রেতার জন্য) উহা হইতে কিছুটা ক্রয় করা সঙ্গত নহে কিন্তু যে পরিমাণ উহা হইতে পৃথক করা (বাদ দেওয়া) তাহার জন্য জায়েয আছে সেই পরিমাণ (ক্রয় করিতে পরিবে)। আর এক-তৃতীয়াংশ বা উহা হইতে কম ছাড়া পৃথক করা তাহার জন্য জায়েয নহে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোন মতানৈক্য নাই।
রেওয়ায়ত ৫৭. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন, আমাদের বাজারে কেহ ইহতিকার[1] করিবে না। যেইসকল লোকের হাতে অতিরিক্ত মুদ্রা রহিয়াছে সেই সব লোক যেন আল্লাহ প্রদত্ত জীবিকাসমূহ হইতে কোন জীবিকা (খাদ্যশস্য) ক্রয় করিয়া আমাদের উপর মজুতদারী করার ইচ্ছা না করে। আর যে ব্যক্তি শীত মৌসুমে ও গ্রীষ্মকালে নিজের পিঠে বোঝা বহন করিয়া (খাদ্যশস্য) আনিবে সে উমরের মেহমান, সে যেরূপ ইচ্ছা বিক্রয় করুক, যেরূপ ইচ্ছা মজুত করুক।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] মজুতদারী ইসলামের দৃষ্টিতে একটি সামাজিক অপরাধ, চড়া মূল্যে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মাল মজুদ করিয়া রাখার নাম ইহতিকার। ইহুতিকার নিষিদ্ধ ও হারাম। হাদীসের দৃষ্টিতে ইহতিকারকারী অপরাধী ও অভিশপ্ত। মূল্য বৃদ্ধির অপেক্ষায় চল্লিশ দিন পর্যন্ত মাল মজূত রাখিলে, সাধারন্যে সেই মালের তীব্র প্রয়োজন থাকিলে ইহতিকার নিষিদ্ধ হইবে। রেওয়ায়তে বর্ণিত হইয়াছে যে, যে ব্যক্তি ইহতিকার করিবে সে ব্যক্তি হইতে আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কমুক্ত, সেও আল্লাহ হইতে সম্পর্ক মুক্ত (অর্থাৎ সে আল্লাহর বান্দা নহে) এবং তাহার কোন কিছুই গ্রহণযোগ্য হইবে না। হালুয়া, মধু, তৈল, ব্যঞ্জন ইত্যাদিতে ইহতিকার নিষিদ্ধ নহে, ইহতিকার নিষিদ্ধ খাদ্যদ্রব্যে। সম্পদশালী শহরে যাহাতে মজুতদারীতে কোন ক্ষতি হয় না ইহতিকার নিষিদ্ধ মহে। — আওজাযুল মাসালিক।
[1] ইহাই এক সম্প্রদায়ের অভিমত। তাহারা বলেনঃ বাজারদরের কম মূল্যে বিক্রয় নিষিদ্ধ, ইহাতে অপরের ক্ষতি জড়িত আছে। ইবন রুশদ বলেন-ইহা ঠিক নহে। কম দামে বিক্রয় মন্দ কাজ নহে। উহা নিষিদ্ধ হওয়ার কোন যুক্তি নাই। উমর (রাঃ) কর্তৃক হাতিব ইবন আবি বালতায়া সাহাবীকে বাজারে অল্পদামে বিক্রয় করা হইতে বারণ রাখার নির্দেশ ছিল পরামর্শ স্বরূপ। জরুরী কোন নির্দেশ নহে। ইহাও বর্ণিত আছে যে, উমর (রাঃ) পরে হাতিবের গৃহে গিয়া তাহাকে গৃহে বা বাজারে যেখানে ইচ্ছা বিক্রয়ের অনুমতি দিয়াছিলেন। তিনি বলিয়াছেনঃ আমি শহরবাসীদের মঙ্গলার্থে ইহা বলিয়াছি। ইহা জরুরী কোন হুকুম নহে। আপনি যেরূপ ইচ্ছা বিক্রয় করুন। — আওজাযুল মাসালিক।
রেওয়ায়ত ৬১. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) একটি রাহেলা [راحلة ভারবাহী বা সাওয়ারীর উট] ক্রয় করিয়াছিলেন চারটি উটের বিনিময়ে। সে রাহেলা বিক্রেতার দায়িত্বে ও জামানতে ছিল। কথা এই ছিল যে, বিক্রেতা উহাকে ক্রেতার নিকট সোপর্দ করিবে রাবাযী (ربزة) নামক স্থানে।
রেওয়ায়ত ৬২. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলেন একটি পশুর বিনিময়ে দুইটি পশু ধারে বিক্রয় করা সম্বন্ধে। তিনি বলিলেন, ইহাতে কোন ক্ষতি নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসয়াল এই যে, উটকে অনুরূপু উটের বিনিময়ে অতিরিক্ত কয়েক দিরহামসহ বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই নগদ আদান প্রদান হইলে। আর উটকে অনুরূপ উটের বিনিময়ে কয়েক দিরহাম বাড়তিসহ বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। উটের বিনিময়ে উট নগদ এবং দিরহাম ধারে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ উট বিক্রয় করা অনুরূপ উটের বিনিময়ে অতিরিক্ত কতিপয় দিরহামসহ; দিরহাম নগদ ও উট ধারে [বিক্রয়] ইহাতে কোন মঙ্গল নাই। [অর্থাৎ উহা জায়েয নহে], আর যদি উট এবং দিরহাম উভয়ে ধারে বিক্রয় হয়, তবে ইহাতেও মঙ্গল নাই [অর্থাৎ ইহাও জায়েয নহে]
মালিক (রহঃ) বলেনঃ অভিজাত উট ছোট ভার বহনকারী দুই কিংবা কতিপয় উটের বিনিময়ে ক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। যদিও উভয় উট এক দল এক বংশের হয়। ইহাদের দুই উটকে এক উটের বিনিময়ে ধারে ক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। যদি উভয়ে গুণাবলির দিক দিয়া ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং উহাদের পার্থক্য স্পষ্টত প্রকাশ পায়। পক্ষান্তরে উহাদের একটি আর একটির সদৃশ হয়, কিন্তু জাত ভিন্ন হউক বা না হউক, তবে উহাদের দুইটিকে একটির বিনিময়ে ধারে ক্রয় করা যাইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ মাকরূহ ক্রয়ের দৃষ্টান্তের ব্যাখ্যা এই দুই উটের বিনিময়ে এক উট গ্রহণ করা, অথচ এতদুভয়ের অর্থাৎ দুই বিনিময়কৃত উটের মধ্যে ভারবহন ক্ষমতা এবং আভিজাত্যে কোন পাথক্য নাই। যদি ইহা এইরূপ (সমপর্যায়ের) হয় যেরূপ আমরা বর্ণনা করিয়াছি তবে উহা হইতে দুইটিকে একটির বিনিময়ে ধারে ক্রয় করা যাইবে না। উহা হইতে যাহা ক্রয় করা হইল তাহা হস্তগত করার পূর্বে বিক্রেতা ছাড়া অন্যের হাতে উহাকে বিক্রয় জায়েয আছে। যদি উহার [ক্রয়কৃত পশুর] মূল্য নগদ পরিশোধ করা হয়।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন পশুকে মেয়াদ সলফ [মারফত ক্রয়] করিলে, সেই পশুর গুণাগুণ ও আকৃতি খুলিয়া বর্ণনা করা হইলে এবং মূল্য নগদ পরিশোধ করা হইলে তবে ইহা জায়েয হইবে। এই বেচাকেনা বিক্রেতা এবং ক্রেতার পক্ষে তাহাদের উভয়ের বর্ণনা মুতাবিক মানিয়া লওয়া জরুরী হইবে। এইরূপ বেচাকেনা লোকের মধ্যে বৈধ বেচাকেনা রূপে সর্বদা চলিয়া আসিয়াছে। আমাদের শহরের আহলে ইলম (উলামা) সর্বদা এই মতের উপর স্থির রহিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ৬৪. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেন-পশুতে সুদ নাই। তিন প্রকারের পশু [এর ক্রয়-বিক্রয়] হইতে নিষেধ করা হইয়াছে “মাযামীন, মালাকী, হাবালুল হাবালা” (এই তিন প্রকারের ক্রয় বিক্রয় নিষিদ্ধ)। উষ্ট্রীদের উদরের বাচ্চারা হইতেছে মায়ামীন। আর উটদের টিপঠের বীর্য হইতেছে মালাকী আর ’হাবালুল-হাবালা’ হইতেছে জাহিলী যুগের লোকেরা পরস্পর উষ্ট্রীর [পেটের বাচ্চার] যে বেচাকেনা করিত তাহা।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ নির্দিষ্ট কোন জানোয়ার কাহারও পক্ষে ক্রয় করা জায়েয নহে যদি উক্ত পশু তাহার মওজুদ না থাকে। যদিও ক্রেতা (পূর্বে) উহাকে দেখিয়া থাকে এবং (দেখার সময়) নগদ মূল্য পরিশোধ করিতে রাজী হইয়া থাকে। এই বিক্রয় জায়েয হইবে না। বিক্রীত পশুর অনুপস্থিতি অল্পদিনে হউক কিংবা বেশি দিনের হউক।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা এইজন্য মাকরূহ যে, বিক্রেতা উহার মূল্য দ্বারা উপকৃত হইবে। অথচ সেই নির্দিষ্ট জানোয়ারটিকে ক্রেতা যেই অবস্থায় দেখিয়াছিল সেই অবস্থায় পাওয়া যাইবে কি যাইবে না তাহার কোন নিশ্চয়তা নাই। এই কারণেই ইহা মাকরূহ হইয়াছে। তবে যদি বিক্রীত বস্তুর (ভালরূপে) গুণাগুণ বিশ্লেষণ করিয়া দেওয়া হয় এবং যথাসময়ে ক্রেতার নিকট উহাকে সোপর্দ করার ব্যাপারে বিক্রেতা দায়ী থাকে, তাহা হইলে এই বিক্রয় জায়েয হইবে।
রেওয়ায়ত ৬৬. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব বলিতেন, মাংসের বিনিময়ে পশু বিক্রয় করা এবং একটি বকরী ও দুইটি বকরীর বিনিময়ে বিক্রয় করা জাহেলিয়্যাত যুগের জুয়া সদৃশ।
রেওয়ায়ত ৬৮. মালিক (রহঃ) বলেন-উটের, গরুর ও ছাগলের মাংস এবং এই জাতীয় কিছু পরিমাণকে বন্য পশুদের মাংস সম্বন্ধে আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসআলা এই – উহার কিছু পরিমাণের বিনিময়ে সমান সমান এবং সমওজনের এবং নগদ ছাড়া ক্রয় করা হইবে না। (উহাকে) ওজন করা না হইলেও কোন দোষ নাই – যদি অনুমান উহা সমান সমান হয় এবং নগদ বিক্রয় হয়।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ মাছের মাংসকে উটের, গরুর ও ছাগলের মাংস এবং উহাদের সদৃশ সকল প্রকার বন্য পশুর মাংসের বিনিময়ে বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। একের বিনিময়ে দুই বা ততোধিক (বিক্রয় করা) নগদ অর্থে। যদি ইহাতে মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় তবে আর উহাতে মঙ্গল নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি মনে করি, যাবতীয় পাখির মাংস চতুষ্পদ জন্তু সকলের এবং (সকল রকম) মাছের মাংস হইতে ভিন্ন। উহাদের কোন একটিকে অন্য আর একটির বিনিময়ে, কিছু বাড়তিতে নগদ ক্রয় করাতে কোন দোষ দেখি না (অর্থাৎ জায়েয আছে), কিন্তু ইহাদের কোন কিছুকে ধারে বিক্রয় করা যাইবে না।
রেওয়ায়ত ৬৯. আবু মাসউদ আনসারী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করিয়াছেন কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারিণীর মাহর এবং ভবিষ্যদ্বক্তার উৎকোচ হইতে। ইহার অর্থ এই ব্যভিচারিণীর মাহর যাহা তাহাকে ব্যভিচারের বিনিময়ে দেওয়া হয় তাহা, আর (زبزه) ভবিষ্যদ্বক্তার[1] “হুলওয়ান" হইতেছে উহার উৎকোচ যাহা ভাগ্য গণনা করার জন্য তাহাকে দেওয়া হয়।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ শিকারী এবং অশিকারী উভয় প্রকারের কুকুরের মূল্য হারাম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য গ্রহণ করিতে নিষেধ করিয়াছেন।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] (كاهن)—যে ভবিষ্যতে কি ঘটিবে তাহা এবং অদৃশ্য জগতের খবর বলে তাহাকে কাহিন বলা হয়। ইহা ছাড়াও জাহিলী যুগে অনেক রকমের কাহানত প্রচলিত ছিল, কেহ বলিত আমার বাধ্যগত জিন আছে, যে অনেক গোপন খবর আমার নিকট পৌছায়, কেহ দাবি করিত – সে তার বুদ্ধি বিচক্ষণতার দ্বারা অদৃশ্য জগতের অনেক খবর বলিয়া দিতে পারে। কেহ বলিত, আলামত দেখিয়া সে অনেক কিছু বলিয়া দিতে সক্ষম, যেমন কে চুরি করিয়াছে, কে ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়াছে ইত্যাদি খবর। এই জাতীয় কাহিনকে আররাফ বলা হয়। আর কেহ দৈবজ্ঞকেও কাহিন বলিয়া থাকে। হাদীসে বর্ণিত কাহিন শব্দ উপরিউক্ত সকল প্রকারের কাহানতকে শামিল করিয়াছে অর্থাৎ যাবতীয় কাহানতই হাদীসের শব্দের আওতাভুক্ত হইবে এবং হারাম বলিয়া গণ্য হইবে।— আওজাবুল মাসালিক।
৩০. সলফ এবং পণ্যাদির ক্রয়-বিক্রয় একটির বিনিময়ে অপরটির
রেওয়ায়ত ৭০. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিক্রয় এবং ঋণকে যুক্ত করা হইতে নিষেধ করিয়াছেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার তফসীর (ব্যাখ্যা) এই, এক ব্যক্তি বলিল অপর ব্যক্তিকে, আমি আপনার পণ্য ক্রয় করিব এত এত (টাকা) মূল্যে এই শর্তে যে, আপনি আমাকে এত এত (টাকা) ঋণ দিবেন। যদি তাহাদের উভয়ের বেচাকেনা ইহার উপর সম্পাদিত হয় তবে ইহা নাজায়েয হইবে, আর যে ব্যক্তি ঋণের শর্ত করিয়াছে সে যদি শর্ত পরিহার করে তবে এই বেচাকেনা জায়েয হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন দোষ নাই বস্ত্র ক্রয় করাতে (বিভিন্ন প্রকারের যেমন-) কাতান, সাতাবী,[1] অথবা কাসাবী[2] [ইত্যাদি] ইতরিবী[3] বা কাশশী,[4] অথবা যীকো[5] ইত্যাদি বস্ত্রের বিনিময়ে অথবা হারারী[6] কিংবা মারবী[7] বস্ত্র (ক্রয় করা) ইয়ামনী এবং সাকায়িক[8] ও এতদুভয়ের সদৃশ অন্য কোন বস্ত্রের বিনিময়ে একটিকে দুইটির বিনিময়ে অথবা তিনটির বিনিময়ে, নগদ বা বাকী (ক্রয় করিতে কোন দোষ নাই), যদিও এক প্রকারের বস্ত্র হয়। যদি উহাতে [এক জাতের বস্ত্রে] ঋণ ধার প্রবেশ করে [অর্থাৎ ধারে বিক্রয় করা হয়] তবে উহাতে মঙ্গল নাই [অর্থাৎ উহা নাজায়েয]।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ (ক্রীত ও বিক্রীত বস্তুর মধ্যে) জাতগত পার্থক্য না হইলে এবং সেই পার্থক্য স্পষ্ট না হইলে ধারে বিক্রয় জায়েয হইবে না। আর যদি একটি অপরটির সদৃশ হয় তবে উহাদের নাম যদিও বিভিন্ন হয় তবুও উহা হইতে এক বস্তুর বিনিময়ে দুই বস্তু ধারে গ্রহণ করিবে না। ইহার দৃষ্টান্ত — যেমন হারাবী দুই বস্ত্র ধারে গ্রহণ করা মরবী কিংবা কুহী[9] এক বস্ত্রের বিনিময়ে বা সাতাবী এক বস্ত্রের বিনিময়ে ফুরকবী[10] দুই বস্ত্র গ্রহণ করা। এই সব রকমের বস্ত্র যদি এইরূপ (অর্থাৎ পরস্পর স্পষ্ট পার্থক্য না থাকে) হয় তবে উহা হইতে একটির বিনিময়ে দুইটি বস্ত্র ধারে ক্রয় করা জায়েয হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই জাতীয় বস্ত্র হইতে কাহারও ক্রীত বস্ত্রকে উহা কব্জা করার পূর্বে যেই লোক হইতে ক্রয় করা হইয়াছে সেই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য লোকের নিকট বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। যদি উহার মূল্য পরিশোধ করা হইয়া থাকে।
রেওয়ায়ত ৭৩. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বিক্রিতে দুই বিক্রি ঢুকান হইতে নিষেধ করিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ৭৪. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে বলিল, “তুমি এই উটটি ক্রয় কর নগদ মূল্যে আমার উদ্দেশ্যে, আমি উহাকে তোমা হইতে বাকী ক্রয় করিব [অধিক মূল্যে] ’আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-কে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হইল। তিনি উহাকে মাকরূহ বলিলেন এবং এইরূপ করিতে বারণ করিলেন।
রেওয়ায়ত ৭৫. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, কাসিম ইবন মুহাম্মদকে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে ব্যক্তি কোন পণ্য ক্রয় করিল নগদ মূল্যে দশ দীনারের বিনিময়ে অথবা ধারে পনের দীনার বিনিময়ে। তিনি উহাকে মাকরূহ মনে করিলেন এবং এইরূপ করিতে নিষেধ করিলেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তি হইতে পণ্য ক্রয় করিয়াছে নগদ দশ দীনার মূল্যে কিংবা ধারে পনর দীনার মূল্যে, ক্রেতাকে দুই মূল্যের যেকোন একটি পরিশোধ করিত হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা জায়েয হইবে না। কারণ সে যদি দশ দীনার নগদ আদায় না করে তবে পনের দীনার ধারে রহিল। আর যদি নগদ দশ দীনার আদায় করিল তবে সে যেন এই দশ দীনারের বিনিময়ে ধারে বিক্রয়ের পনর দীনারকে ক্রয় করিল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তি হইতে সামগ্ৰী ক্রয় করিল নগদ এক দীনার মূল্যে, অথবা বাকী মূল্যে এক বকরীর বিনিময়ে যাহার গুণাগুণ খুলিয়া বলা হইয়াছে। সে ব্যক্তির উপর ক্রয় ওয়াজিব হইয়াছে উভয় মূল্যের যে কোন এক মূল্যে। উহা মাকরূহ জায়েয নাই। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বিক্রয়ে দুই বিক্রয় ঢুকাইতে নিষেধ করিয়াছেন; উহা এক বিক্রয়ে দুই বিক্রয় ঢুকানোর অন্তর্ভুক্ত (কাজেই ইহা নিষিদ্ধ)।মালিক (রহঃ) বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি সম্বন্ধে যে অপর এক ব্যক্তিকে বলিল-আমি আপনার নিকট হইতে এই আজওয়া খেজুরের পনের সা’ কিংবা সায়হানীর দশ সা’ অথবা মাহমূলা[1] গমের পনের সা’ অথবা সিরীয় গমের দশ সা’ এক দীনারের বিনিময়ে ক্রয় করিলাম। বর্ণিত দুইটির একটি আমার প্রাপ্য হইবে। ইহা মাকরূহ, ইহা হালাল হইবে না। এক বিক্রয়ে দুই বিক্রয় ঢুকান যে নিষিদ্ধ এই বিক্রয় উহারই সদৃশ। ইহা আরও সদৃশ সেই নিষিদ্ধ বেচাকেনার যাহাতে একই প্রকারের খাদ্যদ্রব্য একের বিনিময়ে দুইটি বিক্রয় করা হয়।
রেওয়ায়ত ৭৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুনাবাযা হইতে নিষেধ করিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুলামাসা হইতেছে এই, এক ব্যক্তি বস্ত্র স্পর্শ করিল সে উহা খুলিয়া দেখিল না এবং উহাতে কি দোষ-গুণ রহিয়াছে তাহাও বর্ণনা করা হয় নাই। কিংবা রাত্রিতে উহা ক্রয় করিল উহাতে কি আছে তাহা সে জ্ঞাত নহে। আর মুনাবাযা হইল, এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির দিকে তাহার বস্ত্র ছুড়িয়া মারিল, অপর ব্যক্তিও তাহার বস্ত্র ইহার দিকে ছুড়িয়া মারিল, কোন প্রকার চিন্তা-ভাবনা না করিয়া (ইহা করিল) এবং একে অপরকে বলিল-ইহা উহার বিনিময়ে (বেচাকেনা হইয়াছে)। হাদীসে নিষেধ করা হইয়াছে মুলামাসা ও মুনাবাযা হইতে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ’সাজ’ যাহা ঝোলাতে আবদ্ধ রহিয়াছে কিংবা থানবন্দী কিবতী[1] বস্ত্র এতদুভয়কে না খুলিয়া এবং ভিতরে কি রহিয়াছে না দেখিয়া বিক্রয় করা জায়েয নহে। কারণ [এই অবস্থায়] এতদুভয়ের বিক্রয় ধোঁকার বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং ইহা হইতেছে নিষিদ্ধ মুলামাসার একটি রূপ।মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন-বস্তা বা গাঁইটবন্দী মাল ফর্দ সম্বলিত অবস্থায় বিক্রয় করা ঝোলাতে সাজ বস্ত্র বা থানে কাপড় বা এতদুভয়ের সদৃশ কোন বস্তু বিক্রয় করার মতো নহে। এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্য এই—ব্যবহারে ইহার প্রচলন ও পরিচয় রহিয়াছে। (উলামা শ্রেণীর) লোকের সীনাতে ইহার অর্থাৎ বিষয়টি তাহাদের জানা আছে। পূর্বের মনীষী ও উলামা ইহার মতো কাজ করিয়াছেন এবং লোকের মধ্যে বৈধ বিক্রয় হিসাবে সর্বদা ইহা চালু রহিয়াছে। অন্যপক্ষে তাহারা ইহাতে কোন দোষ মনে করেন না। কারণ গাইট বা বস্তা ফর্দ সম্বলিত অবস্থায় উহাকে না খুলিয়া বিক্রয় করাতে ধোঁকার কোন ইচ্ছা করা হয় না। ইহা মুলামাসার অন্তর্ভুক্ত নহে।
রেওয়ায়ত ৭৯. মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাসআলা এই—একদল লোক পণ্য ক্রয় করিল-কাপড় অথবা ক্রীতদাস, এই সংবাদ আর এক ব্যক্তি শুনিল। সে ক্রেতাদের একজনকে বলিল, আপনি অমুক হইতে যেই বস্ত্র ক্রয় করিয়াছেন উহার অবস্থা ও গুণাগুণ আমি অবহিত আছি। আপনার অংশের পণ্যে আমি আপনাকে এত এত মুনাফা দিব, ইহাতে আপনি আগ্রহী আছেন কি? সে বলিল, হ্যাঁ, সে (দ্বিতীয়বারের ক্রেতা) উহাকে (বিক্রেতাকে) লাভ দিল এবং ক্রেতাদের দলে বিক্রেতার স্থলে শরীক হইয়া গেল, তারপর যখন সে বস্ত্র বা ক্রীতদাস নিরীক্ষা করিয়া দেখিল উহাকে খারাপ পাইল এবং উহার মূল্য অতিরিক্ত মনে করিল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বেচাকেনা এবং উহা গ্রহণ (বিল দেখিয়া যে ক্রয় করিয়াছে) তাহার জন্য জরুরী হইবে এবং (উহা রদ করার) ইখতিয়ার তাহার থাকিবে না। যদি সে নির্দিষ্ট গুণাগুণ জানিয়া বিল দেখিয়া ক্রয় করিয়া থাকে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি বিভিন্ন জাতের বস্ত্র আমদানী করিয়াছে। (সেই সব বস্ত্র ক্রয় করার জন্য) তাহার নিকট ক্রেতাগণ উপস্থিত হইতে লাগিল। তিনি তাহাদিগকে বরনামা (বিল) পাঠ করিয়া শোনাইলেন। তিনি বলিলেন, প্রতি গাঁইটে এত এত বসরীয় মিলহাফা রহিয়াছে এবং এত এত সারবীয় রাইতা রহিয়াছে বিভিন্ন শ্রেণীর বস্ত্রের বিভিন্ন প্রকার দর নির্দিষ্ট করিলেন। আরও সে বলিল, আপনারা আমার নিকট হইতে এই বর্ণিত গুণাগুণের বস্ত্রসমূহ ক্রয় করুন, তাহারা বর্ণিত গুণের উপর সেই বস্ত্রের গাঁইটসমূহ ক্রয় করিলেন। অতঃপর গাঁইট খোলার পর তাহারা বস্ত্রসমূহের দাম অতিরিক্ত হইয়াছে বলিয়া মনে করিলেন এবং (এই ক্রয়ের উপর) লজ্জিত হইলেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যেই বিলের সপক্ষে তাহাদের নিকট মাল বিক্রয় করা হইয়াছে সেই বিল অনুযায়ী গাঁইটে মাল পাওয়া গেল এবং মাল বিলের বিপরীত না হইলে তবে ইহা (ক্রয়) তাহদের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে।
রেওয়ায়ত ৮০. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন-ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের ইখতিয়ার থাকিবে তাহার অপর পক্ষের উপর, যাবত তাহারা পৃথক না হইয়া যায়। কিন্তু “বায়’উল-খিয়ার” এর ব্যাপার স্বতন্ত্র।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে আমাদের নিকট কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নাই, এই প্রকার সময়সীমা নির্ধারণ মদীনার আলিমগণও করেন নাই।
রেওয়ায়ত ৮১. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করিতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে কোন ক্রেতা-বিক্রেতা বেচা-কেনাতে আবদ্ধ হয় (তাহাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে) তবে বিক্রেতার কথাই গ্রাহ্য হইবে অথবা উভয়ে রদ করিয়া দিবে (বিক্রেতা মূল্য ফিরাইয়া দিবে এবং ক্রেতা বিক্রিত বস্তু ফিরাইয়া দিবে)।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির নিকট কোন পণ্য বিক্রয় করিয়াছে, বেচাকেনা সুনিশ্চিত করার সময় বিক্রেতা বলিলঃ আমি এই পণ্য আপনার নিকট এই শর্তে বিক্রয় করিলাম, আমি অমুক লোকের সঙ্গে (এই বিষয়ে) পরামর্শ করিব। আর যদি সে ইহাতে রাজী না থাকে তাকে আমাদের মধ্যে কোন ক্রয়-বিক্রয় অবশিষ্ট থাকিবে না। তাই শর্ত মানিয়া উভয়ে পরস্পর ক্রয়-বিক্রয় করিল। অতঃপর ক্রেতা অনুতপ্ত হইল বিক্রেতা কর্তৃক পরামর্শ গ্রহণ করার পূর্বে। (এমতাবস্থায়) তাহাদের উভয়ের বর্ণনা মুতাবিক এই ক্রয়-বিক্রয় উভয়ের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে এবং ক্রেতার কোন ইখতিয়ার (এই ব্যাপারে) থাকিবে না যে ইখতিয়ারের শর্তারোপ করিয়াছিল নিজের জন্য (অর্থাৎ বিক্রেতা) সে যদি এই ক্রয়-বিক্রয় চালু ও বৈধ করিতে পছন্দ করে তবে ক্রেতার পক্ষে উহা গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাসআলা এই, এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তি হইতে পণ্য ক্রয় করিল তাহাদের উভয়ের মধ্যে পণ্যের দামের ব্যাপারে মতবিরোধ ঘটিল : বিক্রেতা বলিতেছে, এই বস্তু আমি আপনার নিকট দশ দীনার মূল্যে বিক্রয় করিয়াছি। ক্রেতা বলিতেছে-এই বস্তু আমি আপনার নিকট হইতে পাঁচ দীনার মূল্যে ক্রয় করিয়াছি। তখন বিক্রেতাকে বলা হইবে : আপনি ইচ্ছা করিলে ক্রেতা যাহা বলিয়াছে সেই দামে ক্রেতাকে দিয়াছেন। আর যদি আপনি ইচ্ছা করেন আল্লাহর নামে হলফ করুন আমি যেই দাম বলিয়াছি সেই দাম ব্যতীত (অন্য দামে) আপনার নিকট বিক্রয় করি নাই। সে (বিক্রেতা) হলফ করিলে পর ক্রেতাকে বলা হইবে আপনি বিক্রেতা যেই দাম বলিয়াছে সেই দামে হয়ত পণ্য গ্রহণ করুন, নচেৎ আপনিও আল্লাহর নামে হলফ করুন-এই পণ্য আমি যেই দাম বলিয়াছি সেই দামেই ক্রয় করিয়াছি। যদি সে হলফ করে তবে সে পণ্য (গ্রহণ করা) হইতে মুক্তি পাইল, ইহা (অর্থাৎ ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের হলফ করা) এই জন্য যে, তাহাদের প্রত্যেকে অপত্র পক্ষের উপর দায়িদার রছিল বটে।
রেওয়ায়ত ৮০. সফফাহ-এর মাওলা উবাইদ আবী সালিহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কিছু বস্ত্র বিক্রয় করিলাম মেয়াদের উপর দার-ই নাখলা এর বাসিন্দাদের নিকট অতঃপর আমি কুফায় যাওয়ার মনস্থ করিলাম। তাহারা আমাকে বলিল, আমি তাহাদেরকে দাম কমাইয়া দিলে তাহারা মূল্য নগদে আদায় করিবে। আমি এই বিষয়ে যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনি বলিলেন— আমি তোমার জন্য ইহা (মালের অর্থ) আহার করা জায়েয করিব না এবং অন্যকে আহার করাও ইহা জায়েয করিব না।
রেওয়ায়ত ৮৩. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যাহার মেয়াদী ঋণ রহিয়াছে অন্য এক ব্যক্তির উপর, অতঃপর ঋখদাতা (কিছু পরিমাণ ঋণ) গ্রহীতা হইতে কমাইরা দিল এবং ঋণগ্রহীতা (মেয়াদ শেষ হওয়ার পূবে ঋণের অর্থ) ঋণদাতাকে নগদ প্রদান করিল। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) ইহা মাকরূহ জানিলেন এবং ইহা হইতে নিষেধ করিলেন।
রেওয়ায়ত ৮৪. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) বলেনঃ জাহিলিয়া যুগে সুদ ছিল এইরূপ—এক ব্যক্তির অপর ব্যক্তির উপর মেয়াদী হক রহিয়াছে যখন হক আদায় করার মুহূর্তে উপস্থিত হইয়াছে তখন (ঋণগ্রহীতাকে বলা হইত;) আমার হক আদায় করিবে, না ঋণ বৃদ্ধি করিয়া সময় বাড়াইয়া নিবে (এখন) ঋণগ্রহীতা যদি ঋণ শোধ করে (তবে ভাল কথা), অন্যথায় ঋণের হার বাড়াইয়া দেওয়া হইতে এবং ঋণদাতা মেয়াদ আরও পিছাইয়া দিত (ইহাই ছিল জাহিলিয়ার সুদ)।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাকরূহ বিষয় যাহাতে কোন দ্বিমত নাই তাহা হইতেছে এই, এক ব্যক্তির অপর ব্যক্তির উপর মেয়াদী ঋণ রহিয়াছে। ঋণদাতা কিছু পরিমাণ ঋণ কমাইয়া দিল, ঋণগ্রহীতা (মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে) ঋণ পরিশোধ করিয়া দিল। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহা আমাদের নিকট এইরূপ যেমন কোন ব্যক্তি ঋণ আদায়ের সময় যখন উপস্থিত হইল তখন ঋণগ্রহীতার জন্য মেয়াদ আরও বাড়াইয়া দিল (ইহার পরিবর্তে) ঋণগ্রহীতা ঋণদাতার জন্য ঋণ (পরিশোধ করার সময়) কিছু বাড়াইয়া দিল, ইহাই প্রকৃত সুদ যাহাতে কোন সন্দেহ নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তির অপর এক ব্যক্তির উপর একশত দীনার (ঋণ) রহিয়াছে মেয়াদে পরিশোধযোগ্য। যখন মেয়াদ উত্তীর্ণ হইল তখন ঋণদাতা ঋণগ্রহীতাকে বলিল—আমার নিকট একটি পণ্য বিক্রয় কর, যাহার নগদ মূল্য একশত দীনার এবং বাকী মূল্য হইতেছে দেড়শত দীনার। মালিক (রহঃ) বলেন, এই বিক্রয় জায়েয হইবে না আহলে ইলম (উলামা) সর্বদা ইহা হইতে নিষেধ করিতেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা এইজন্য মাকরূহ যে, সে (ক্রেতা) ইহা (বিক্রেতা)-কে বিক্রীত বস্তুর মূল্য পরিশোধ করিতেছে, বিক্রেতা ক্রেতাকে দ্বিতীয়বার যেই সময় উল্লেখ করিয়াছে সেই সময় পর্যন্ত ক্রেতার জন্য মেয়াদ পিছাইয়া দিতেছে এবং এই পিছাইয়া দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পঞ্চাশ দীনার তাহার উপর বৃদ্ধি করিল, ইহা মাকরূহ, জায়েয নহে। যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ)-এর হাদীসে বর্ণিত জাহিলিয়া যুগের বেচাকেনার ইহা সদৃশ তাহারা ঋণ আদায় করার যখন মেয়াদ উপস্থিত হইত, তখন তাহারা ঋণগ্রহীতাকে বলিত, হয়ত ঋণ পরিশোধ কর, নচেৎ ঋণে কিছু বাড়তি দাও, অতঃপর যদি (ঋণগ্রহীতা) ঋণ পরিশোধ করে, তাহারা উহা গ্রহণ করিত, আর (যথাসময়ে) পরিশোধ না করিত, তবে তাহারা তাহদের প্রাপ্য হকসমূহে কিছু পরিমাণ বৃদ্ধি করিয়া দিত এবং ঋণগ্রহীতার জন্য মেয়াদ বাড়াইয়াদিত।
৪০. ঋণ এবং হাওল (حول) বা হাওয়ালা (حوالة) এর বিবিধ প্রসঙ্গ
রেওয়ায়ত ৮৫. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন (হক আদায় করিতে) সক্ষম ব্যক্তির তালবাহানা অন্যায় বটে, আর তোমাদের কাহাকেও যদি ধনবান ব্যক্তির হাওয়ালা করা হয় তবে সেই হাওয়ালা গ্রহণ করিও।
রেওয়ায়ত ৮৬. মূসা ইবন মাইসারা (রহঃ) জনৈক ব্যক্তিকে সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিতে শুনিয়াছেন। তিনি বলিলেন, আমি ধারে বিক্রয় করিয়া থাকি (নিজ আয়ত্তে আনার পূর্বে পণ্য বিক্রয় করি)। (উত্তরে) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বললেন—(পণ্য আয়ত্ত করার পর উহাকে) তোমার গৃহে না আনা পর্যন্ত তুমি উহা বিক্রয় করিও না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তি হইতে পণ্য ক্রয় করিয়াছে এই শর্তে—বিক্রেতা নির্দিষ্ট সময়ের পর উহা পুরোপুরি ক্রেতার দখলে দিয়া দিবে। হয়ত (মেয়াদ নির্দিষ্ট করিয়াছে) বাজার পরিস্থিতির দরুন, (নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মাল তাহার নিকট হস্তান্তর করা হইলে এবং তারপর মাল বাজারে ছাড়িলে সে কিছু লাভ করিবে বলিয়া আশাবাদী, কিংবা মেয়াদ পর্যন্ত সে যে শর্ত করিয়াছে এই শর্ত করার প্রয়োজন ক্রেতার রহিয়াছে। অতঃপর বিক্রেতা ক্রেতার সহিত সেই মেয়াদের ব্যাপারে (শর্তের) খেলাফ করিল (অর্থাৎ) মেয়াদ পূর্ণ করিল না। তাই ক্রেতা সেই পণ্য বিক্রেতার নিকট ফিরাইয়া দিতে ইচ্ছা করিল, ইহা ক্রেতার পক্ষে জায়েয হইবে না, ক্রয় তাহার জন্য বাধ্যতামূলক হইবে, আর যদি বিক্রেতা নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে সেই পণ্য ক্রেতার নিকট উপস্থিত করে তবে উহা গ্রহণ করার জন্য ক্রেতাকে বাধ্য করা যাইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিল, তারপর উহাকে ওজন করিয়া লইল। অতঃপর তাহার নিকট হইতে ক্রয় করার জন্য অন্য একজন আসিল, যে ক্রয় করিতে আসিয়াছে উহাকে সে জানাইল যে, সে এই খাদ্যদ্রব্য নিজের জন্য ওজন করিয়া লইয়াছে এবং পূর্ণরূপে আয়ত্তাধীন করিয়াছে। ইহা শুনিয়া ক্রেতা উহাকে বিশ্বাস করিয়া তাহারই প্রকাশিত ওজনে উহাকে গ্রহণ করিল। এইরূপে যাহা নগদ বিক্রয় করা হইল ইহাতে কোন দোষ নাই। আর অন্যের ওজনের উপর যদি ধারে বিক্রয় করা হয় তবে উহা মাকরূহ হইবে যাবত দ্বিতীয় ক্রেতা নিজের জন্য উহা ওজন করিয়া না লয়, ধারে বিক্রয় এই কারণে মাকরূহ যে, ইহা সুদের ওসীলা হয় এবং আশংকা রহিয়াছে সে মাপ ও ওজন ছাড়া এইভাবে বারংবার ইহার পুনরাবৃত্তি ঘটিতে পারে। তাই ধারে হইলে উহা মাকরূহ হইবে, এই বিষয়ে আমাদের মতানৈক্য নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ অনুপস্থিত ব্যক্তির জিম্মার ঋণ ক্রয় করা জায়েয নহে, উপস্থিত ব্যক্তির ঋণ ক্রয় করাও জায়েয নহে। তবে যাহার জিম্মায় ঋণ রহিয়াছে সে যদি স্বীকার করে। মৃত ব্যক্তির ঋণ ক্রয় করাও জায়েয নহে। যদিও সে যে সম্পদ রাখিয়া গিয়াছে উহা জানা থাকে। কারণ ইহা ক্রয় করাতে ধোঁকা রহিয়াছে। বলা যায় না এই বিক্রীত ঋণের অর্থ উশুল হইবে, না উশুল হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা মাকরুহ হওয়ার ব্যাখ্যা এই, যদি অনুপস্থিত ব্যক্তির কিংবা মৃত ব্যক্তির জিম্মায় ঋণ ক্রয় করা হয়; তবে সেই মৃত ব্যক্তির জিম্মায় কি পরিমাণ ঋণ নির্ধারিত হইবে তাহা অজ্ঞাত, যদি মৃত ব্যক্তির জিম্মায় ঋণ নির্ধারিত হয় তবে ক্রেতা যে মূল্য পরিশোধ করিয়াছে উহা বৃথা যাইবে। মালিক (রহঃ) বলেন—এইরূপ ক্রয়ে আরও একটি ক্রটি রহিয়াছে, তাহা এই ক্রেতা মুর্দা হইতে এমন বস্তু ক্রয় করিয়াছে যে বস্তুর প্রতি মুর্দার কোন দায়িত্ব বা জামানত নাই, যদি সেই বস্তু সে পূর্ণরূপে দখল করিতে না পারে তবে তাহার মূল্য বৃথা যাইবে, ইহাই ধোকা, ইহা না-জায়েয।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যেই বস্তু কাহারো আয়ত্তে না থাকে উহা বিক্রয় করা জায়েয নহে। পক্ষান্তরে যেই (عيتة) বস্তু মূল্য বিক্রেতার আয়ত্তে নাই তাহার জন্য সলফ বিক্রয় বৈধ, এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্য এই, ’ঈনা বিক্রয়ের মধ্যে ঈনার মালিক অর্থ বহন করিয়া থাকে। যেই অর্থ দ্বারা সে ক্রয় করিতে ইচ্ছুক, তাই সে যেন এইরূপ বলিল, এই আমার নিকট দশ দীনার রহিয়াছে [যেমন খালিদের নিকট]। আপনার [যেমন দবীরের] ইচ্ছা আছে কি আমি আপনার পক্ষে দশ দীনার দিয়া ক্রয় করি এৰং আপনার পক্ষে উহাকে পনর দীনারের বিনিময়ে বিক্রয় করি। এইভাবে সে খালিদ যেন নগদ দশ দীনার বিক্রয় করিল বাকী পনর দীলারের বিনিময়ে। এই জন্য আমি উহাকে মাকরূহ বলি। ইহা সুদের ওসীলা এবং ইহাই ধোঁকা।
রেওয়ায়ত ৮৮. আবু বকর ইবন আবদির রহমান ইবন হারিস ইবন হিশাম (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি (কাহারো নিকট) কোন পণ্য বিক্রয় করিয়াছে। অতঃপর তাহার নিকট হইতে যে ক্রয় করিয়াছে সে দরিদ্র হইয়া গিয়াছে। আর বিক্রেতা ক্রেতার নিকট হইতে পণ্যের মূল্যের কিছুই আয়ত্তে আনে নাই। সে ব্যক্তি (বিক্রেতা) পণ্যদ্রব্য ক্রেতার নিকট যদি হুবহু পায় তবে সে-ই উহার হকদার হইবে অধিক। আর যদি ক্রেতার মৃত্যু হয় তবে পণ্যের মালিক উক্ত পণ্যে অপর ঋণদাতাদের সমান (শরীক) হইবে।
রেওয়ায়ত ৯১. মুজাহিদ (রহঃ) বলেনঃ আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) এক ব্যক্তির নিকট হইতে কিছু দিরহাম কর্জ লইলেন। অতঃপর আদায় করিবার সময় যে দিরহাম ঋণস্বরূপ লইয়াছিলেন উহা হইতে উৎকৃষ্ট দিরহাম দিলেন। ঐ ব্যক্তি বলিল, হে আবু আবদুর রহমান এই দিরহাম আমার দিরহাম হইতে উৎকৃষ্ট যাহা আমি আপনাকে ধার দিয়াছিলাম। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর বলিলেন, আমার তাহা জানা আছে তবুও আমি খুশী হইয়া উহা দিয়াছি।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কাহাকেও স্বর্ণরৌপ্য বা কোন খাদ্যদ্রব্য ধার দেয় তবে ফেরত লইবার সময় যাহাকে ধার দিয়াছিল তাহা হইতে উৎকৃষ্ট বস্তু গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই, যদি এইরূপ কোন শর্ত করিয়া না থাকে বা ইহা নিয়মে পরিণত না হয়; যদি শর্ত করে বা এইরূপ দেওয়ার নিয়ম থাকে তবে উহা মাকরূহ।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা এইজন্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের বাচ্চা ধার লইয়া বড় বয়স্ক উট দিয়াছিলেন আর আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) দিরহাম লইয়া উহা হইতে উৎকৃষ্ট দিরহাম দিয়াছিলেন। যদি ইহা খাতকের সন্তুষ্ট মনে হইয়া থাকে আর ইহার জন্য কোন শর্ত বা রীতি না থাকে তবে ইহা হালাল, ইহাতে কোন ক্ষতি নাই।
রেওয়ারত ৯২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাঁহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি অপর একজনের নিকট কিছু খাদ্যদ্রব্য ধার দিয়াছিল এই শর্তে যে, অন্য শহরে সে উহা পরিশোধ করিবে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেন, ঐ স্থানে বহন করিবার খরচ কে বহন করিবে? তাই উহা অপছন্দ করিলেন।
রেওয়ায়ত ৯৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি জানিতে পারিয়াছেন যে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলেন, হে আবু আবদির রহমান। আমি এক ব্যক্তিকে কিছু ধার দিয়াছিলাম এবং উহা হইতে উৎকৃষ্ট বস্তু দেওয়ার শর্ত করিয়াছিলাম। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেন উহা সুদ হইবে। ঐ ব্যক্তি বলিলেন, তবে আমাকে এখন কি করিতে বলেন। তিনি বলিলেন, ঋণ তিন প্রকারের হইয়া থাকে। এক প্রকারের ঋণ যাহাতে আল্লাহর সস্তুষ্টি উদ্দেশ্য হয়। উহাতে আল্লাহর সন্তুষ্টিই অর্জিত হইয়া থাকে। আর এক প্রকারের ঋণ যাহাতে গ্রহীতা ব্যক্তির সস্তুষ্টির উদ্ধেশ্য হইয়া থাকে উহাতে ঐ ব্যক্তির সন্ধুষ্টি লাভ হইয়া থাকে। আর এক প্রকার ঋণ যাহাতে হালালের বিনিময়ে হারাম (সুদ) গ্রহণ উদ্দেশ্য হইয়া থাকে। সে ব্যক্তি বলিল তবে আমাকে এখন কি করিতে বলেন? তিনি বলিলেন, আমার মতে তুমি তোমার সুদের দলীল ছিড়িয়া ফেল, যদি তুমি যাহা ঋণ দিয়াছিলে তোমাকে ঐ পরিমাণ দিয়া দেয় তবে উহা লইবে, তোমার সওয়াব হইবে। আর যদি সে খুশী হইয়া তুমি যাহা দিয়াছ উহা হইতে উৎকৃষ্ট ফুদেয় তবে উহার শোকর করবে। আর তুমি তাহাকে যে সময় দিয়াছ উহার সওয়াব পাইবে।
রেওয়ায়ত ৯৪. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, যদি কেহ কাহাকেও কোন ঋণ দেয় তবে যেন উহা আদায় করার শর্ত ছাড়া অন্য কোন শর্ত না করে।
রেওয়ায়ত ৯৫. মালিক (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলিতেন, যদি কেহ কাহাকেও ঋণ দেয় তবে উহা হইতে উৎকৃষ্ট বস্তু বা অতিরিক্ত কিছুর শর্ত করিবে না যদিও একমুষ্টি ঘাস হয়। কেননা উহা সুদ।
মালিক (রহঃ) বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের নিকট সর্বসম্মত মত এই যে, যদি কেহ কোন পশু ধার নেয় তাহাতে কোন অসুবিধা নাই, তবে তাহাকে ঐরপ পশুই পরিশোধ করিতে হইবে। তবে ক্রীতদাসীদের ব্যাপারে ইহা প্রযোজ্য হইবে না, কারণ ইহাতে যাহা নিষিদ্ধ তাহা হালাল করার আশংকা রহিয়াছে। ইহার ব্যাখ্যা এই, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে ক্রীতদাসী ধার দিল, সে উহার সহিত সহবাস করিল, অতঃপর মালিকের নিকট উহাকে ফেরত দিল, ইহা বৈধ মহে। আহলে ইলম (উলামা) এইরূপ করিতে বরাবর নিষেধ করিতেন এবং কাহাকেও ইহার অনুমতি দিতেম না।
রেওয়ায়ত ৯৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, বণিকদের সহিত তাহাদের পণ্য খরিদ করার জন্য আগে আগে মিলিত হইও না। আর কেউ যেন একজনের ক্রয়ের উপর ক্রয় না করে, আর একে অন্যের উপর নাজাশ[1] করিও না। আর কোন শহরবাসী যেন কোন গ্রামবাসীর পক্ষ হইতে বিক্রয় না করে। আর উট এবং বকরীর স্তনে দুধ জমা[2] করিয়া রাখিও না যদি কেহ এইরূপ উট ও বকরী ক্রয় করে, যদি পরে উহার অবস্থা অবগত হয় তবে তাহার ইচ্ছার উপর নির্ভর করিবে, ইচ্ছা হইলে রাখিবে আর উহা ফেরত দিবার অধিকারও তাহার থাকিবে। যদি ফেরত দেয়, তবে যেন দুধের পরিবর্তে এক সা’ খেজুর দিয়া দেয়।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, একে অন্যের ক্রয়ের উপর ক্রয় করিও না। উহার ব্যাখ্যা হইল, একজন যেন অন্যজনের দাম বলার সময় দাম না করে। যখন বিক্রেতার ক্রেতার নিকট বিক্রয় করিতে আগ্রহ প্রকাশ পায় এবং পণ্যের দাম ঠিক করে পণ্যকে নির্দোষ প্রমাণ করিতে আরম্ব করে অথবা এমন কোন কাজ করে যাহাতে মনে হয় যে, বিক্রেতা প্রথম ক্রেতার নিকট বিক্রয় করিতে ইচ্ছুক। এমতাবস্থায় অন্য কাউকে দাম করিতে নিষেধ করা হইয়াছে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি বিক্রেতা প্রথম ব্যক্তির দামে বিক্রয় করিতে রাযী না হয় বরং মাল বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা হয় তবে সকলেই উহার মূল্য বলিতে পারে। যদি একজনের দাম বলার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের দাম বলা নিষেধ হইত, তবে নামমাত্র মূল্যের বিনিময়ে প্রথম ক্রেতা উহা গ্রহণ করিতে পারিত এবং বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হইত। মদীনায় বর্ধিত মূল্যে ক্রয় করার বরাবর রেওয়াজ ছিল।
রেওয়ায়ত ৯৮. ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশ করিতে নিষেধ করিয়াছেন। নাজাশ বলা হয় মালের উপযুক্ত দামের চাইতে অধিক দাম বলা অথচ তাহার ক্রয়ের ইচ্ছা নাই। বরং এই অধিক দাম বলার উদ্দেশ্য যেন অন্য ব্যক্তি তাহার অনুসরণ করিয়া ধোঁকায় পড়িয়া এই দামে উহা ক্রয় করে।
রেওয়ায়ত ৯৯. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিল, ক্রয়-বিক্রয়ের সময় তাহাকে ধোঁকা দেওয়া হইয়া থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিলেন, তুমি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় বলিয়া দিবে, যেন ধোঁকা দেওয়া না হয়। অবশেষে যখন ঐ ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় করিত তখন বাক্যটি বলিত।
রেওয়ায়ত ১০০. ইয়াইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, তিনি বলিতেন, যখন তুমি এইরূপ কোন শহরে যাইবে যেখানকার অধিবাসিগণ পূর্ণরূপে ওজন করে তবে তথায় অনেক দিন থাকিও। আর যখন এইরূপ শহরে যাইবে যেখানকার অধিবাসিগণ ওজনে ক্রটি করে, তবে সেখানে অনেক দিন থাকিও না।
রেওয়ায়ত ১০১. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ ইবন মুনকাদির (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, আল্লাহ্ তা’আলা ঐ ব্যক্তিকে ভালবাসেন, যে ক্রয় করিতে, বিক্রয় করিতে, ঋণ আদায় করিতে, ঋণ উশুল করিতে নরম ব্যবহার করে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তির উট, বকরী, কাপড়, গোলাম, দাসী ইত্যাদি গণনা না করিয়া এক দলকে একত্রে খরিদ করিয়া লওয়া ভাল নয়, যে বস্তু গণনা করিয়া বিক্রি হয় উহা গণনা করিয়া খরিদ করা ভাল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি কাহাকেও নিজের কোন বস্তু নির্ধারিত মূল্যে এই শর্তে বিক্রয় করিতে দেয় যে, যদি তুমি এই মূল্যে বিক্রয় কর তবে তোমাকে এক দীনার অথবা অন্য কিছু দেওয়া হইবে যাহা নির্দিষ্ট করা হইয়াছে এবং উভয়ে উহাতে সম্মত হইয়াছে তাহা না হইলে কিছুই পাইবে না। তবে ইহাতে কোন ক্ষতি নাই, যদি বিক্রয় মূল্য ও বিক্রয়ের পরের প্রাপ্য নির্ধারিত হইয়া থাকে। বিক্রয় করিলে উহা পাইবে, না করিলে পাইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ উহার উদাহরণ এই যে, কোন ব্যক্তি কাহাকেও বলিল, যদি তুমি আমার যে গোলাম বা উট পলাইয়া গিয়াছে উহাকে তালাশ করিয়া আনিয়া দাও তবে তোমাকে এত দিব, তবে ইহা বৈধ। কারণ ইহাতে পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট করিয়া কাজে নিযুক্ত করা হইয়াছে। ইহা ইজারা নহে, যদি ইজারা হইত তবে ইহা বৈধ হইত না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ কেহ এক ব্যক্তিকে কিছু মাল দিয়া বলিল, ইহা বিক্রয় করিলে প্রতি দীনারে তোমাকে এত দিব; কত দিব তাহা উল্লেখ করিল। ইহাও বৈধ নহে। কেননা উক্ত পণ্যের দাম কম হইলেই তাহার নির্ধারিত পারিশ্রমিক কমিয়া যাইবে। ইহাও এক প্রকার ধোঁকা, জানে না সে কত পাইবে।
রেওয়ায়ত ১০২. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তাহাকে এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, যে একটি জন্তু ভাড়ায় লইয়া উহা আবার অধিক ভাড়ায় অন্যকে দিয়া দেয়। তিনি বলিলেন, উহাতে কোন ক্ষতি নাই।
বর্ণনাকারী: সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রহঃ)
রেওয়ায়ত ৪. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহার এক দাস বিক্রয় করিলেন বারাআত এর শর্তে আটশত দিরহাম মূল্যে। অতঃপর ক্রেতা বলিলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর গোলামের মধ্যে একটি রোগ রহিয়াছে, আপনি আমার নিকট উহা চিহ্নিত করেন নাই। তারপর তাহারা উভয়ের বিবাদ লইয়া উপস্থিত হইলেন উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর নিকট। ক্রেতা ব্যক্তি বলিলেন, তিনি আমার নিকট গোলাম বিক্রয় করিলেন অথচ উহার রহিয়াছে একটি রোগ যাহার কথা তিনি আমার নিকট বলেন নাই। আবদুল্লাহু বলিলেনঃ আমি গোলাম বিক্রয় করিয়াছি বারাআত (দায়িত্বমুক্ত থাকা)-এর শর্তে। উসমান (রাঃ) ফয়সালা দিলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) শপথ করিয়া বলিবে-ক্রেতার নিকট তিনি যে গোলাম বিক্রয় করিয়াছেন উহার মধ্যে কোন রোগ আছে বলিয়া তিনি জানিতেন না। আবদুল্লাহ্ (রাঃ) এইরূপ শপথ করিতে অস্বীকৃতি জানাইলেন এবং গোলাম তিনি ফেরত গ্রহণ করিলেন। অতঃপর উক্ত গোলাম সুস্থ হইয়া গেল। তারপর আবদুল্লাহ্ (রাঃ) উহাকে দেড় হাজার দিরহাম মূল্যে বিক্রয় করিলেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত ফয়সালা হইল এই, যে ব্যক্তি কোন দাসী ক্রয় করিল এবং তাহার দ্বারা উহা অন্তঃসত্ত্বা হইল, অথবা দাস ক্রয় কলিয়া উহাকে আযাদ করিল এবং এই জাতীয় যে কোন প্রকার ক্ষমতা পরিচালনা বা কার্য সম্পাদন করে যাহাতে সেই দাসী বা দাসকে আর ফেরত দেওয়া চলে না। অতঃপর (এই মর্মে) প্রমাণ উপস্থিত হইয়াছে যে, বিক্রেতার কাছে থাকা কালে উহার মধ্যে খুঁত ছিল অথবা খুঁত প্রকাশিত হইয়াছে বিক্রেতার স্বীকারোক্তির দ্বারা কিংবা অন্য কোন উপায়ে, [এইরূপ হইয়া থাকিলে] তবে খুঁতসহ বিক্রয়ের দিন সেই দাস অথবা দাসীর কত মূল্য হইতে পারে তাহা নির্ণয় করা হইবে, তারপর ক্রটি মুক্তাবস্থায় উহার যাহা মূল্য হইবে এবং খুঁত অবস্থায় যাহা উহার মূল্য হইতে পারে এভদুভয়ের মধ্যবর্তী ব্যবধানিক মূল্যের অর্থটি ক্রেতাকে ফেরত দিবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের কাছে সর্বসম্মত ফয়সালা এই, সেই ব্যক্তি সম্বন্ধে যে ব্যক্তি কোন ক্রীতদাস ক্রয় করিয়াছে। অতঃপর উহা হইতে এমন কোন খুঁত প্রকাশ পাইয়াছে, যে খুঁত প্রকাশ পাওয়ার দরুন যাহাতে উহাকে বিক্রেতার নিকট ফেরত দেওয়া যাইতে পারে।
কিন্তু ক্রেতার নিকট (থাকাবস্থায়) অন্য নূতন খুঁত সৃষ্টি হইয়াছে। যদি নব্যসৃষ্ট খুঁত যাহা ক্রেতার নিকট পয়দা হইয়াছে উহা নষ্টকারী হয় যেমন (কোন অংশ) কর্তন করা কিংবা কানা হওয়া অথবা এই জাতীয় নষ্টকারক খুঁতসমূহ হইতে অন্য কোন খুঁত। তবে দুই বিষয়ের যে কোন উত্তম বিষয়কে গ্রহণ করার ইখতিয়ার ক্রেতার থাকিবে। যদি দাসের ক্রটিসহ যেই দিন উহাকে ক্রয় করিয়াছে সেই দিন যাহা মূল্য হইতে পারে এবং নিখুঁতাবস্থায় উহার যাহা মূল্য হয় উভয়ের মধ্যবর্তী ব্যবধানিক মূল্য তাহা হইতে বাদ দেওয়াকে তিনি পছন্দ করেন তবে (যেই পরিমাণ) অর্থ উহা হইতে বাদ দেওয়া হইবে অথবা সে যদি পছন্দ করে তবে ক্রীতদাসের যেই পরিমাণ ক্ষতি তাহার কাছে থাকিতে হইয়াছে উহার খেসারত প্রদান করিবে, অতঃপর গোলাম ফেরত দেওয়া হইবে (তিনি ইচ্ছা করিলে এইরূপ করা যাইবে)। আর যদি ক্রীতদাস ক্রেতার নিকট মারা যায় তবে ক্রয়ের দিন দোষ মুক্তাবস্থায় উহার মূল্য একশত দীনার থাকে, আর দোষসহ উহার মূল্য ক্রয়ের দিন আশি দীনার হয়, তবে ক্রেতার উপর হইতে উভয় মূল্যের মধ্যে ব্যবধানিক মূল্য বাদ দেওয়া হইবে। মূল্য ধার্য করা হইবে ক্রয়ের দিনেরই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন দাসীকে উহাতে খুঁত পাওয়ার কারণে ফেরত দেয় (অথচ) সে উহার সহিত সহবাস করিয়াছে। তবে দাসী যদি কুমারী হয় তবে (সহবাস করাতে) যতটুকু উহার মূল্য হইতে কমিয়াছে ততটুকু মূল্য তাহাকে আদায় করিতে হইবে আর যদি দাসী কুমারী না হয়, তবে উহার সহিত সঙ্গম করাতে ক্রেতাকে কিছু দিতে হইবে না, কারণ সে উহার জামিনস্বরূপ ছিল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইহা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত যে, যে ব্যক্তি কোন দাস বা দাসীকে অথবা কোন প্রাণীকে বিক্রয় করিয়াছে বারাআতের শর্তে সে আহলে-মীরাস হউক বা আহিলে-মীরাস স্ব্যতীত অন্য কেহ হউক, তবে সে বিক্রীত বস্তুতে যেকোন প্রকার দোষ পাওয়া যায় উহার দায়-দায়িত্ব হইতে মুক্ত হইয়া গিয়াছে। কিন্তু যদি কোন দোষ জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও গোপন করিয়া থাকে তবে তাহার দায়িত্ব মুক্তির শর্ত করা কোন কাজে লাগিবে না এবং তাহার বিক্রীত বস্তু তাহার দিকে ফিরাইয়া দেওয়া হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যেই দাসীকে দুইজন দাসীর বিনিময়ে বিক্রয় করা হইয়াছে, অতঃপর দাসীদ্বয়ের একজনের মধ্যে এমন দোষ পাওয়া গিয়াছে যাহাসহ মালিকের নিকট ফেরত দেওয়া চলে। তবে সেই দাসীর মূল্য নির্ণয় করা হইবে যেই ক্রীতদাসীকে দুই দাসীর বিনিময়ে বিক্রয় করা হইয়াছিল। তারপর দেখিতে হইবে উহার মূল্য কত। অতঃপর দাসীদ্বয়ের মূল্য নির্ণয় করিতে হইবে যাহাদের একজনের মধ্যে দোষ পাওয়া গিয়াছে। উভয়ে সুস্থ ও নিখুঁত থাকিলে কি মূল্য দাসীদ্বয়ের হইতে পারে তাহা নির্ণন করিবে। অতঃপর যেই দাসীকে এতদুভয়ের বিনিময়ে বিক্রি করা হইয়াছিল উহার মূল্যকে উভয দাসীর মধ্যে উহাদের মূল্য অনুযায়ী বন্টন করিয়া দিবে, যেন দাসীদ্বয়ের প্রত্যেকের উপর স্ব স্ব হিসসা বর্তিত হয়। নিখুঁত ও উত্তমার অংশে উহার মূল্য এবং অপর ক্রটিযুক্ত অংশে তাহার মূল্য বর্তিত হইবে। তারপর লক্ষ্য করা হইবে ক্রটিযুক্ত দাসীর দিকে এবং যেই পরিমাণ মূল্য উহার অংশে নির্ধারিত হইল তাহা বিক্রেতা কর্তৃক ক্রেতাকে ফেরত দিতে হইবে। যেই দিন ক্রেতা দাসীদ্বয়কে নিজ দখলে আনিয়াছে উভয়ের সেই দিনের মূল্য নির্ণয় করিবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি দাস ক্রয় করিল অতঃপর উহাকে ইজারাতে কাজে লাগাইল, বড় ইজারাতে কিংবা কর মারফতে। তারপর সেই দাসে খুঁত পাওয়া গেল, যে খুঁতের কারণে উহাকে বিক্রেতার নিকট ফেরত দেওয়া যায়। (এইরূপ অবস্থা হইলে) তবে সেই দাসকে খুঁতসহ ফেরত দিবে, ইজারা (লব্ধ অর্থ) ও কর (মারফত আদায়কৃত বস্তু) তাহার (ক্রেতার) প্রাপ্য হইবে। অনুরূপ মতই পোষণ করিতেন আমাদের (পবিত্র) শহরের (মদীনার) উলামা সম্প্রদায়। ইহা এইজন্য যে, (যেমন) এক ব্যক্তি একটি দাস খরিদ করিল। সে দাস তাহার (ক্রেতার) উদ্দেশ্যে একটি গৃহ নিৰ্মাণ করিল। যে গৃহের নির্মাণ খরচ গোলামের মূল্য অপেক্ষা কয়েক গুণ বেশি হইবে, অতঃপর সেই দাসের কোন দোষ পাওয়া গেল যে দোষের কারণে উহাকে বিক্রেতার নিকট ফেরত দেওয়া চলে। (এইরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব হইলে) তবে উহাকে (বিক্রেতার নিকট) ফেরত দিবে এবং গোলামের শ্রমের কারণে ক্রেতার উপর কোন মজুরী হিসাব করা হইবে না।
অনুরূপ দাসের ইজারালব্ধ অর্থ ক্রেতা পাইবে যদি অন্যের নিকট উহাকে ইজারা দিয়া থাকে কারণ ক্রেতাই উহার জামিন। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহাই আমাদের সিদ্ধান্ত।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাসআলা এই, এক ব্যক্তি এক দফাতে একসঙ্গে কয়েক জন দাসকে বিক্রয় করিয়াছে। অতঃপর সেইসব দাসের মধ্যে একজন পাওয়া গিয়াছে চোরাইকৃত দাস কিংবা উহাদের এক জনের মধ্যে খুঁত পাওয়া গিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেন, এমতাবস্থায় দেখিতে হইবে- চোরাইকৃত দাস কিংবা যাহার মধ্যে খুঁত পাওয়া গিয়াছে সেই দাস যদি বিক্রীত দাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয় অথবা অধিক মূল্যের হয় এবং ক্রেতা উহার প্রতি আকৃষ্ট হইয়া সবাইকে ক্রয় করিয়াছে, উহাতে রহিয়াছে শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণ, সাধারণ লোকের ধারণায়, তবে এইরূপ বিক্রয় সম্পূর্ণ রদ করিয়া দেওয়া হইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, চোরাইকৃত গোলাম কিংবা যাহার মধ্যে দোষ পাওয়া গিয়াছে মামুলী ধরনের (বড় রকমের কোন দোষ নহে), আর দাসত্বের মধ্যে সেই গোলাম অতি শ্ৰেষ্ঠও নহে এবং উহার উদ্দেশ্যে সবাইকে ক্রয়ও করা হয় নাই। আর লোক-দৃষ্টিতে উহার বিশেষ কোন গুণও নাই। তবে ক্ৰটিযুক্ত কিংবা চোরাইকৃত সেই ক্রীতদাসকেই বিক্রেতার নিকট ফেরত দেওয়া হইবে; ক্রীতদাসদিগকে যেই মূল্যে খরিদ করা হইয়াছে, হারাহারিভাবে এই দাসের যাহা মূল্য হইবে সেই মূল্য অনুপাতে (অর্থ বাদ দিয়া)।
[1] বাগানের মালিক কয়েকটি খেজুর বা অন্য ফলের বৃক্ষ কাহাকেও দান করিলেন। দানগ্রহীতা গাছ দেখাশোনার জন্য বাগানে যাতায়াত করিয়া থাকেন, ইহাতে বাগানের মালিকের অসুবিধা হইলে তিনি শুদ্ধ ফলের বিনিময়ে দানগ্রহীতা হইতে সেই বৃক্ষগুলির ফল নিজের কর্তৃত্বে আনিয়া পূর্ণ বাগানের কর্তৃত্ব নিজে গ্রহণ করেন। ইহাকে আরিয়্যা এর বিক্রয় বলা হয়।
[2] ষাট (صاع) সা’তে এক ওরাসক (وسق) হয়।
বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.)
রেওয়ায়ত ২৫. সায়ীদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা ও মুহাকালা হইতে নিষেধ করিয়াছেন। মুযাবানা হইতেছে সুপক্ক খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর ক্রয় করা। আর মুহাকালা হইতেছে গমের বিনিময়ে ক্ষেত ক্রয় করা। এবং গমের বিনিময়ে শস্যক্ষেত্র কেরায়া (ভাগ) লওয়া।
ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ আমি সায়ীদ ইবন মুসায়্যাবের নিকট প্রশ্ন করিলাম স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিনিময়ে ভূমি কেরায়া (ভাগ) গ্রহণ করা সম্পর্কে। তিনি (উত্তরে) বলিলেনঃ ইহাতে কোন ক্ষতি নাই (অর্থাৎ জায়েয আছে)।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানাকে নিষেধ করিয়াছেন।
আর মুযাবানার তফসীর হইতেছে এই অনুমানের যে কোন বস্তু যাহার পরিমাণ, ওজন ও সংখ্যা অজ্ঞাত, উহাকে ক্রয় করা হইয়াছে পরিমাণ, ওজন ও সংখ্যা দ্বারা সুনির্দিষ্ট বস্তুর বিনিময়ে। যেমন এক ব্যক্তির গাদা করা খাদ্যদ্রব্য রহিয়াছে; গম, খুর্মা অথবা ইহার সদৃশ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য যেগুলির পরিমাণ অজ্ঞাত কিংবা এক ব্যক্তির নিকট রহিয়াছে আসবাব-বৃক্ষপত্র ও ঘাস গুটলী (ফলের আঁটি) ডাল-পালা, কুমকুম, তুলা, কাতান বস্ত্র, কাঁচা রেশম, কিংবা ইহাদের সদৃশ অন্য কোন সামগ্ৰী যেসবের কোন কিছুরই পরিমাণ, ওজন ও সংখ্যা জ্ঞাত নহে, (উপরিউক্ত) খাদ্যদ্রব্য কিংবা আসবাবের মালিককে এক ব্যক্তি বলিল, আপনি কোন ব্যক্তিকে আপনার আসবাব পরিমাণ করার নির্দেশ দিন। কিংবা যাহা ওজন করার যোগ্য উহাকে ওজন করুন, অথবা যাহা গণনা করার উপযোগী উহাকে গণনা করুন। এত এত সা’ হইতে যাহা নির্ধারিত করা হয় উহা হইতে যাহা কম হইবে, কিংবা এত এত রতল (অর্ধসের) ওজন হইতে যাহা ঘাটিয়া যাইবে অথবা এত এত সংখ্যা হইতে যত কম হইবে উহার ক্ষতিপূরণ আমি করিব সেই পরিমাণ বা ওজন, কিংবা সংখ্যা যাহা নির্ধারিত হইয়াছে তাহার। সেই পরিমাণ, ওজন কিংবা সংখ্যা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ আমার দায়িত্ব থাকিবে। আর নির্ধারিত পরিমাণ, ওজন কিংবা সংখ্যা হইতে যাহা বাড়তি হইবে উহা হইবে আমার প্রাপ্য। যে পরিমাণ কম হইবে সে পরিমাণের ক্ষতিপূরণের আমি জিম্মাদার থাকিব এই শর্তে যে, যাহা বাড়তি হইবে তাহা আমার প্রাপ্য হইবে। ইহা কোন বিক্রয় নহে। বরং ইহাতে রহিয়াছে ঝুঁকি ও প্রতারণা আর জুয়াও ইহার অন্তর্ভুক্ত। মুযাবানার মতো ইহাও নিষিদ্ধ। কারণ নিজ হইতে কোন মূল্য প্রদান করিয়া কোন বস্তু বিক্রেতা হইতে ক্রয় করা হয় নাই। কিন্তু সে আসবাবের মালিকের জন্য জামিন হইয়াছে। যে পরিমাণ, ওজন এবং সংখ্যা সে নির্ধারণ করিয়াছে তাহা হইতে বাড়তি হইলে উহা সে পাইবে, আর নির্ধারিত পরিমাণ হইতে সামান্য ঘাটতি হইলে তবে ঘাটতি পূরণার্থে জামিনদারের মাল হইতে ঘাটতি পরিমাণ মাল গ্রহণ করিবে। অথচ ইহা মূল্যও নহে এমন দানও নহে যাহা হৃষ্টচিত্তে দান করা হইয়াছে। তাই ইহা জুয়া তুল্য, যেকোন (ক্রয়-বিক্রয় আদান-প্রদান) এইরূপ হইবে, উহা জুয়ার মতো হইবে (এবং মুযাবানার মতো নিষিদ্ধ হইবে)।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুযাবানার অন্তর্গত ইহাও — যেই ব্যক্তির নিকট কাপড় আছে তাহাকে আর এক ব্যক্তি বলিলঃ আপনার এই কাপড় হইতে এত এত (ধরা যাক একশত কিংবা দুইশত) জামার বেষ্টনী ও টুপী তৈরির দায়িত্ব নিতেছে। প্রতিটি বেষ্টনীর পরিমাণ এত এত হইবে যাহা নির্দিষ্ট রূপে উল্লেখ করিল। এই সংখ্যা হইতে যাহা কম হইবে তাহার জরিমানা আমার জিম্মায়। আমি উহা আপনাকে পূর্ণ করিয়া দিব, আর যাহা বাড়তি হইবে উহা হইবে আমার। কিংবা এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বলিল, আপনার এই কাপড় হইতে এত এত কামিজ তৈরির ব্যাপারে আমি জামিন আছি, প্রতিটি কামিজের আয়তন এত এত হইবে, উহা হইতে যতটুকু কমতি হইবে উহার জরিমানা আমার উপর। আর যাহা বাড়তি হইবে তাহা আমার প্রাপ্য হইবে। কিংবা যাহার কাছে গরু অথবা উটের চামড়া রহিয়াছে তাহাকে কেহ বলিল, আমি আপনার এইসব চামড়া হইতে এই পরিমাণের যাহা দেখান হইয়াছে জুতা তৈয়ার করিব। একশত জোড়ার কম যাহা হইবে তাহার ক্ষতিপূরণ আমি করিব। এই ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব গ্রহণের বিনিময়ে যাহা বাড়তি হইবে উহা আমার হইবে।
অনুরূপ এক ব্যক্তির নিকট রহিয়াছে হাববুল-বানা [حب البنان এক প্রকারের গাছ যাহার পাতা নিম গাছের পাতার মতো উহার ফলের বীজ দ্বারা তৈল প্রস্তুত করা হয়।] তাহাকে আর এক ব্যক্তি বলিল, আপনার এই বীজ আমি নিঙড়াইয়া [তৈল বাহির করিয়া] দিব। এত এত রাতল [رطل অর্ধসের ওজনের একটি পরিমাপ পাত্র] পরিমাণ হইতে যাহা কমতি হইবে উহার ক্ষতিপূরণ আমি আপনাকে আদায় করিব। আর যাহা অতিরিক্ত হইবে তাহা আমার প্রাপ্য হইবে। এই সব (যাহা উল্লেখ হইয়াছে) এবং উহার সদৃশ বস্তুসমূহ কিংবা যাহা এই সবের মতন হয় সব মুযাবানার অন্তর্ভুক্ত এবং তাহা অবৈধ। অনুরূপ এক ব্যক্তির নিকট রহিয়াছে ঘাস-পাতা, ফলের আঁটি, তুলা, কাতান বস্ত্র, ডাল পালা, কুমকুম ইত্যাদি। অন্য এক ব্যক্তি সেই ব্যক্তিকে বলিল, আমি আপনার নিকট এই ঘাসপাতা এত এত সা’ অনুরূপ ঘাসের বিনিময়ে ক্রয় করিলাম, কিংবা এই ফলের আটিগুলি এত এত সা’ অনুরূপ ফলের আঁটির বিনিময়ে ক্রয় করিলাম। এইরূপভাবে কুমকুম, তুলা, কাতান এবং ডাল-পালার ব্যাপারেও বলা হইল। এই সবই আমাদের (সাবেক) বর্ণিত মুযাবানার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)
রেওয়ারত ২৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট খেজুর গাছের খেজুর খরিদ করিয়াছে কিংবা নির্দিষ্ট বাগানের ফল খরিদ করিয়াছে অথবা নির্দিষ্ট বকরীর দুধ ক্রয় করিয়াছে, নগদ অর্থে গ্রহণ করা হইলে ইহাতে কোন নিষেধ নাই। ক্রেতা মূল্য যখন আদায় করিবে তখন অধিকারেও আনিবে।
ইহার সদৃশ (বিষয়) এই, যেমন একটি তৈলপাত্র রহিয়াছে। উহা হইতে এক ব্যক্তি এক দীনার কিংবা দুই দীনারের তৈল খরিদ করিল এবং উহার মূল্য বিক্রেতাকে আদায় করিল, তাহার উপর শর্তারোপ করিল যে, এই তৈলপাত্র হইতে ক্রেতাকে তৈল ওজন করিয়া দিবে। ইহাতে কোন নিষেধ নাই। তারপর যদি তৈলপাত্র ফাটিয়া যায় এবং উহার তৈল নিঃশেষ হইয়া যায়, তবে ক্রেতা শুধু মূল্য ফেরত পাইবে। তাহাদের উভয়ের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যেকোন উপস্থিত দ্রব্য যাহাকে উহার রীতি অনুযায়ী ক্রয় করা হয়, যেমন-দুধ দোহন করার পর, খেজুর পরিপক্ক হওয়ার পর ক্রেতা দৈনিক উহা গ্রহণ করিবে। ইহাতে কোন ক্ষতি নাই। যদি বিক্রিত মাল পুরাপুরি কব্জা করার পূর্বে নিঃশেষ হইয়া যায়, তবে যেই পরিমাণ অবশিষ্ট রহিয়াছে হিসাব মতো উহার মূল্য বিক্রেতা ক্রেতাকে ফেরত দিবে, কিংবা উভয়ের সন্তুষ্টিতে অবশিষ্ট দ্রব্যের মূল্য বাবত অন্য কোন বস্তু ক্রেতা গ্রহণ করিবে এবং সেই বস্তু কব্জা না করিয়া ক্রেতা পৃথক হইবে না। পৃথক হইলে মাকরূহ হইবে, কারণ সে এক ঋণের মধ্যে অন্য এক ঋণ প্রবেশ করাইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধারের বিনিময়ে ধার বিক্রয় করিতে নিষেধ করিয়াছেন।
উহাদের ক্রয়-বিক্রয় যদি সময় দেওয়া থাকে তবে উহা মাকরূহ হইবে। ইহাতে কোন প্রকার বিলম্ব জায়েয হইবে না এবং সময় দেওয়া যাইবে না। বিলম্বে বিক্রয়ে সময় এবং দ্রব্য নির্দিষ্ট হইবে। বিক্রেতা সেই নির্দিষ্ট দ্রব্য ক্রেতাকে সোপর্দ করার জন্য দায়ী থাকিবে। বিশেষ বাগান বা বিশেষ বকরী নির্দিষ্ট করা চলিবে না।
মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি কোন লোক হইতে একটি বাগান ক্রয় করিল যাহাতে রহিয়াছে বিভিন্ন জাতের খেজুর বৃক্ষ, আজওয়াহ, কবীস, আজক ইত্যাদি নানা রকমের খেজুরের গাছ। বিক্রেতা আপন বাগান হইতে একটি কিংবা কয়েকটি খেজুর গাছ (নিজের জন্য) আলাদা করিয়া রাখিল। (এই কয়টি খেজুর বৃক্ষ নিজে রাখিবে) মালিক (রহঃ) বলেন, ইহা তাহার জন্য জায়েয হইবে না। কারণ সে যদি এইরূপ করে তবে সে আজওয়াহ খেজুর বৃক্ষ ছাড়িয়া দিল যাহার খেজুরের পরিমাণ হইল পনর সা’ এবং উহার স্থলে কবীস গ্রহণ করিল যাহার খেজুরের পরিমাণ হইল দশ সা’। আর যদি আজওয়াহ গ্রহণ করিল যাহার পরিমাণ পনর সা’ এবং যেই বৃক্ষে দশ সা কবীস রহিয়াছে উহা ছাড়িয়া দিল (ক্রেতার জন্য) তবে সে যেন কবীসের বিনিময়ে আজওয়াহ ক্রয় করিল, ইহাতে পরিমাণে বেশ-কম হইয়া গেল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার দৃষ্টান্ত এইরূপ, যেমন এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বলিল, যাহার সম্মুখে কয়েকটি খেজুরের স্তুপ রহিয়াছে; আজওয়ার স্তূপ করিয়াছে পনর সা’, আর কবীসের রূপ করিয়াছে দশ সা’, আজক-এর স্তূপ করিয়াছে বার সা’-ক্রেতা খেজুরের মালিককে এক দীনার প্রদান করিলেন এবং শর্ত করিলেন যে, যেই স্তুপ তার ইচ্ছা সে পছন্দ করিয়া লইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহা জায়েয হইবে না।
মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যে ব্যক্তি খেজুর ক্রয় করিয়াছে বাগানের মালিকের নিকট হইতে, অতঃপর উহাকে এক দীনার অগ্রিম দিল। যদি সেই বাগানের খেজুর নষ্ট হইয়া যায়, তবে ক্রেতা (তাহার দীনারের বিনিময়ে) কি পাইবে? মালিক (রহঃ) (উত্তরে) বলিলেন-ক্রেতা বাগানের মালিকের সহিত হিসাব করিবে, তারপর দীনার হইতে যাহা প্রাপ্য থাকে উহা বিক্রেতা হইতে আদায় করিবে। (দৃষ্টান্তস্বরূপ) ক্রেতা যদি (খেজুর নষ্ট হওয়ার পূর্বে) দীনারের দুই-তৃতীয়াংশ পরিমাণ খেজুর আদায় করিয়া থাকেন তবে (এখন নষ্ট হওয়ার পর) দীনারের অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ উশুল করিবে। আর যদি দীনারের তিন-চতুর্থাংশ পরিমাণ খেজুর আদায় করিয়া থাকে তবে অবশিষ্ট এক-চতুর্থাংশ বিক্রেতা হইতে উশুল করিবে। কিংবা তাহারা উভয়ে পরস্পরের সন্তুষ্টিতে (বিষয়) নিম্পত্তি করিয়া লইবে; ক্রেতা অবশিষ্ট দীনারের বিনিময়ে বাগানের মালিক হইতে তাহার খুশীমত দ্রব্য গ্রহণ করিবে; খেজুর পছন্দ হইলে খেজুর গ্রহণ করিবে অথবা খেজুর ব্যতীত অন্য কোন দ্রব্য অবশিষ্ট দীনারের বিনিময়ে উহা গ্রহণ করিবে। ক্রেতা যদি খেজুর কিংবা অন্য দ্রব্য গ্রহণ করে তবে উহা পূর্ণ অধিকারে না আনা পর্যন্ত ক্রেতা বিক্রেতা হইতে পৃথক হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা এইরূপ যেন এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির নিকট ভারবাহী বা যাত্রীবাহী নির্দিষ্ট উট ভাড়াতে দিল অথবা নিজের দর্জি কিংবা ছুতার কিংবা শ্রমিক ক্রীতদাসকে ভিন্ন কাজের জন্য ভাড়ায় দিল। অথবা নিজের ঘর ভাড়ায় দিল এবং গোলাম ইজারাতে দেওয়ার অর্থ কিংবা ঘরভাড়া কিংবা ভারবাহী বা যাত্রীবাহী সেই উটের কেরায় অগ্রিম আদায় করিল, তারপর ইহাতে মৃত্যু বা অন্য কোন দুর্যোগ ঘটিল। তবে উটের মালিক কিংবা গোলামের কর্তা অথবা বাড়ির মালিক, উটের কেরায়া, কিংবা গোলামের ইজারা অথবা বাড়ি ভাড়ার অবশিষ্ট অর্থ অগ্রিমদাতাকে ফেরত দিবে। কেরায়াদাতা কেরায়া গ্রহীতার সহিত হিসাব করিয়া দেখিবে কি পরিমাণ সে গ্রহণ করিয়াছে; যদি সে তাহার অর্ধেক হক গ্রহণ করিয়া থাকে তবে কেরায়াদাতা অবশিষ্ট অর্ধেক কেরায়া গ্রহীতাকে ফেরত দিবে। আর যদি অর্ধেক হইতে কম কিংবা বেশি হয় তবে সেই হিসাব মত যাহা অবশিষ্ট রহিয়াছে উহা কেরায়া গ্রহীতাকে ফেরত দিবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ উপরোল্লিখিত এই সবের কোনটিতে অগ্রিম দেওয়া জায়েয নহে, নির্দিষ্ট কোন বস্তুতে অগ্রিম প্রদান করিল (ইহা জায়েয নহে) কিন্তু যে বস্তুর জন্য অগ্রিম দিতেছে অগ্রিম অর্থ দেওয়ার সময় অগ্রিমদাতা যদি সেই বস্তু অধিকার করিয়া থাকে; ক্রীতদাস, কিংবা ভারবাহী বা যাত্রীবাহী উট কিংবা বাড়ির দখল নেয় অথবা বিক্রেতার নিকট অর্থ দেওয়ার সময় অগ্রিমদাতা যে খেজুর ক্রয় করিয়াছে উহা অধিকার করে। এই সবের কোনটির ব্যাপারে বিলম্ব করা বা সময় দান করা জায়েয হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ (অগ্রিম প্রদানে) মাকরূহ, ইহার ব্যাখ্যা হইল এই, একজন লোক অন্য একজনকে বলিল, আপনার অমুক সওয়ারীর উট বাবদ আমি আপনাকে (এত টাকা) অগ্রিম দিতেছি উদ্দেশ্য হচ্ছে যাওয়া। (তখন) হজ্জের সময় অনেক দূরে রহিয়াছে অথবা অনুরূপ বলিল, ক্রীতদাস কিংবা ঘর সম্পর্কে। এইরূপ করিলে সে ব্যক্তি যেন স্বর্ণ (অর্থ) অগ্রিম দিতেছে এই শর্তের উপর যদি সেই সওয়ারীর উট নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিখুঁত থাকে তবে উহা অগ্ৰিমদাতার হইবে সেই ভাড়াতে। আর যদি সেই সওয়ারীর মৃত্যু হয় বা অন্য কোন দুর্ঘটনা ঘটে, তবে উহার মালিক অগ্রিমদাতার অর্থ ফেরত দিবে। এই অর্থ তাহার নিকট নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত ঋণস্বরূপ ছিল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ উপরিউক্ত অধিকার ও এই অধিকারের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান; তাহা হইল ইজারায় গৃহীত বস্তু বা ভাড়াকৃত বস্তু (সাথে সাথে) কব্জা করিয়া লয়, ইহাতে ধোঁকা হইতে এবং অবৈধ ঋণ হইতে নিরাপদে থাকা যায় এবং সে একটি নির্দিষ্ট বস্তু গ্রহণ করিল। ইহার দৃষ্টান্ত এইরূপ— এক ব্যক্তি কোন ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসী খরিদ করিল এবং উভয়ে দখল নিল। (সাথে সাথে) উভয়ের মূল্য পরিশোধ করিয়া দিল । (ইহার পর) যদি উভয়ের মধ্যে বার্ষিক জিম্মাদারী সংক্রান্ত কোন আপদ দেখা দেয়, তবে বিক্রেতা হইতে অর্থ ফেরত লইবে। ইহাতে কোন দোষ নাই। ক্রীতদাস বিক্রয়ের বিষয়ে ইহাই প্রচলিত সুন্নত (নিয়ম)।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন নির্দিষ্ট ক্রীতদাস ইজারা লইয়াছে, অথবা নির্দিষ্ট কোন পশু কেরায়াতে গ্রহণ করিয়াছে, কব্জার জন্য সময় নির্ধারিত করিয়াছে, ইহা সে অবৈধ কার্য সম্পাদন করিয়াছে, কারণ গ্রহীতা ইজারা নেওয়া ক্রীতদাস বা ভাড়া করা পশুকে দখলে আনে নাই। আর সে এমন কোন ঋণও দেয় নাই যে ঋণের জন্য ইজাৱা বা ভাড়াদাতা তাবৎ জামিন থাকে যাবত গ্রহীতা পূর্ণরূপে উহাকে অধিকারে না আনে।
রেওয়ায়ত ৪০. ইয়াযিদ ইবন আবদিল্লাহ ইবন কুসাইত (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণের মুরাতালা করিতে দেখিয়াছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লার এক হাতে স্বর্ণ ঢালিতেন, তাহার সহিত মুরাতালাকারী অপর পক্ষ তাহার স্বর্ণ ঢালিতেন পাল্লার অপর হাতে। পাল্লার কাটা বরাবর হইলে (পাল্লার এক হাত হইতে) তিনি গ্রহণ করিতেন এবং (অপর হাত হইতে) সাথীকে দিতেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাসআলা এই, ওজন করিয়া স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং চাঁদির বিনিময়ে চাঁদি বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। যদিও বা নগদ দশ দীনারের বিনিময়ে এগার দীনার গ্রহণ করা হয়। উভয় স্বর্ণের ওজন সমপরিমাণ হইলে। মুদ্রার বিনিময়ে মুদ্রা (ওজন করিয়া বিক্রয় করা বৈধ) সংখ্যায় যদিও বাড়তি হয়। এই ব্যাপারে দিরহামও দীনারের মতো।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণের মুরাতালা করিয়াছে কিংবা চাঁদির বিনিময়ে চাঁদির মুরাতালা করিয়াছে, উভয় স্বর্ণের মধ্যে একটিতে এক মিসকাল (স্বর্ণ) বাড়তি রহিয়াছে, অতঃপর তাহার সাথী (যাহার অংশের স্বর্ণ ওজনে কম) চাঁদি অথবা অন্য বস্তুর দ্বারা উহার মূল্য আদায় করিল। তবে সে (বর্ধিত স্বর্ণের মালিক) এই মূল্য কবুল করিবে না। কারণ ইহা ভাল নহে এবং ইহা সুদের উসীলা মাত্র। কারণ (অতিরিক্ত) এক মিসকাল যদি উহার মূল্য আদায় করিয়া গ্রহণ করা তাহার জন্য জায়েয হয়, তবে সে যেন এই এক মিসকাল স্বর্ণ পৃথকভাবে (নূতন) খরিদ করিল। এইরূপে এক মিসকালকে উহার মূল্য আদায় করিয়া কয়েকবার গ্রহণ করা হইল। এইভাবে সেও তাহার সার্থীর মধ্যে বিক্রয়কে জায়েয করার জন্য (ইহা করা হইল)।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি সেই ব্যক্তি যে বর্ধিত এক মিসকাল বিক্রয় করিল সেই মিসকাল বিক্রয় করে পৃথকভাবে, যার সহিত অন্য কিছু না থাকে তাহা হইলে (ক্রেতা) বিক্রয়কে হালাল করিবার উদ্দেশ্যে যেই মূল্যে সে উহা ক্রয় করিয়াছে সেই মূল্য ব্যতীত অন্য কোন মূল্যে সে উহা ক্রয় করিবে না, ইহা হইতেছে হারামকে হালাল করার একটি পন্থা বটে। আর ইহা নিষিদ্ধ।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির সহিত মুরাতালা করিতেছে এবং উহাকে খাঁটি ও উন্নতমানের স্বর্ণ দিতেছে, তৎসঙ্গে দিতেছে কতকটা কৃত্রিম সোনা। ইহার বদলে তাহার সাথী হইতে সে লইতেছে কুফী মাধ্যমিক মানের সোনা। যে কুকী-স্বর্ণ লোকের নিকট অপছন্দীয়। এবং তাহারা উভয়ে উহা বেচা-কেনা করিতেছে সমান সমান ওজনে। এইরূপ বেচা-কেনা জায়েয হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা মাকরুহ হওয়ার বিশ্লেষণ এই, বিশুদ্ধ স্বর্ণওয়ালা তাহার বিশুদ্ধ স্বর্ণের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করিয়াছে যে কতকটা নিম্নমানের স্বর্ণ উহার সহিত মিশ্রিত করিয়াছে তাহাতে। তাহার সাথী (কুফী স্বর্ণ ওয়ালা)-র স্বর্ণের তুলনায় তাহার স্বর্ণের মান উচ্চ না হইত, তবে তাহার সাথী কুফী-স্বর্ণের বিনিময়ে তাহার নিম্নমানের স্বর্ণের সহিত মুরাতালা করিত না। ইহার দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মতো যেই ব্যক্তি তিন সা’ আজওয়াহ্ খুর্মা ক্রয় করার ইচ্ছা করিল দুই সা’ এবং দুই মুদ কাবীস খুর্মার বিনিময়ে। তাহাকে যখন বলা হইল, ইহা জায়েয নহে। তখন বিক্রয় বৈধ করার জন্য দুই সা’ কাবীস খুর্মার সাথে এক সা’ নিকৃষ্ট খুর্মা মিলাইয়া দিল। ইহা জায়েয হইবে না। কারণ আজওয়া খুর্মাওয়ালা এক সা’ নিকৃষ্ট খুর্মার বিনিময়ে এক সা’ আজওয়া খুর্মা দিতে রাজী হইবে না। তবুও তিনি (এইখানে) কাবীসের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য প্রদান করিলেন।
কিংবা ইহার (দৃষ্টান্ত) এই যে, একজন লোক আর একজন লোককে বলিল, আপনি আমার নিকট তিন সা’ গম বিক্রয় করুন আড়াই সা’ শামী গমের বিনিময়ে। সে লোক বলিল, ইহা বৈধ নহে। কিন্তু (বৈধ হইবে) যদি (ওজনে) সমান সমান হয়। তখন দুই সা’ শামী (সিরীয়) গমের সাথে এক সা’ যব মিলান হইল। উদ্দেশ্য ইহার দ্বারা উভয়ের মধ্যকার বিক্রয় বৈধ করা। ইহা জায়েয হইবে না। কারণ এক সা’ যবের বিনিময়ে এক সা’ গম সে উহাকে কখনো দিবে না, যদি পৃথকভাবে এক সা বিক্রয় করা হয়।
(এইখানে) সে এইজন্য দিয়াছে যে, তাহা সাধারণ গমের তুলনায় শামী গম শ্রেষ্ঠ। ইহা বৈধ নহে। নিম্নমানের স্বর্ণের বেলায় আমরা যেইরূপ বর্ণনা করিয়াছি, ইহাও সেইরূপ বৈধ নহে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ সর্বপ্রকার স্বর্ণ চাঁদি এবং সব খাদ্যদ্রব্য যেই সব বস্তু বরাবর ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। সেই সবের উৎকৃষ্ট প্রকারের পছন্দীয় বস্তুর সহিত অপছন্দীয় রদ্দী প্রকারের বস্তু মিলিত করা যাহাতে ক্রয়-বিক্রয় জায়েয করার উদ্দেশ্যে এবং অবৈধ ও নিষিদ্ধ ব্যাপারকে হালাল করার মতলবে। যেমন নিকৃষ্ট বস্তুকে উৎকৃষ্ট বস্তুর সহিত মিশ্রিত করা হইল। ইহার দ্বারা সে উৎকৃষ্টের সঙ্গে নিকৃষ্ট মিশ্রয়কারী যে উৎকৃষ্ট মাল বিক্রয় করিতেছে উহার উৎকৃষ্টতার (অতিরিক্ত) মূল্য উত্তল করিয়া লইতেছে। তাই তিনি এমন নিকৃষ্ট বস্তু (অপর পক্ষকে) দিতেছে। যদি উহাকে আলাদা বিক্রয় করে তাহার অপর পক্ষ উহাকে গ্রহণ করিবে না এবং এই দিকে খেয়ালও করিবে না। এখন সে উহা গ্রহণ করিতেছে এই (নিকৃষ্ট মানের) মালের সহিত যে (উৎকৃষ্ট মানের) মাল সে পাইতেছে উহার আকর্ষণে। কারণ তাহার মালের তুলনায় তাহার সাথীর মাল উৎকৃষ্ট, কাজেই স্বর্ণ বা চাঁদি কিংবা খাদ্যদ্রব্যে কোনটিতেই অন্য কোন (নিকৃষ্ট) বস্তু মিশ্রিত করা জায়েয হইবে না; তবে যদি রদ্দী খাদ্যদ্রব্যের মালিক উহাকে অন্য (উত্তম) খাদ্যদ্রব্যের বিনিময়ে বিক্রয় করিতে চাহে তবে পৃথকভাবে উহা বিক্রয় করিবে এবং উহার সহিত (উৎকৃষ্ট) অন্য কোন দ্রব্য মিশ্ৰিত করিবে না, এইরূপ করিলে তবে ইহাতে কোন দোষ নাই, যদি এইরূপ (পৃথকভাবে বিক্রয়) হইয়া থাকে।
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
রেওয়ায়ত ৫০. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তিকে (অর্থাৎ ক্রেতা বিক্রেতাকে) নির্দিষ্ট খাদ্যদ্রব্য নির্দিষ্ট মূল্যে ও নির্দিষ্ট মেয়াদে অগ্রিম মূল্য আদায় করিলে কোন দোষ নাই এই শর্তে যে, খেজুর ও শস্য যেন অপরিপুষ্ট না হয়।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাসআলা এই, যে ব্যক্তি ধার্যকৃত মূল্যে নির্ধারিত সময়ে খাদ্যশস্যে সলফ করিল, তারপর নির্ধারিত সময় উপস্থিত হইল। কিন্তু বিক্রেতার নিকট হইতে যাহা ক্রয় করা হইয়াছিল ক্রেতা তাহার নিকট উহা পূর্ণরূপে পায় নাই। তাই সে সলফ বাতিল করিতে মনস্থ করিল। (এইরূপ হইলে) তাহার (ক্রেতার) পক্ষে বিক্রেতা হইতে চাঁদি বা স্বর্ণ কিংবা যেই মূল্য উহাকে আদায় করিয়াছে অবিকল তাহা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করা জায়েয হইবে না।
সে হস্তগত করার পূর্বে সেই মূল্যের বিনিময়ে অন্য কোন দ্রব্য তাহা হইতে ক্রয় করিবে না। কারণ সে যেই মূল্য উহাকে প্রদান করিয়াছে তাহা ছাড়া যদি অন্য কিছু গ্রহণ করে অথবা খাদ্যদ্রব্য ছাড়া অন্য কোন বস্তুতে উহা ব্যয় করে, তবে খাদ্যদ্রব্য পূর্ণ হস্তগত করার পূর্বে বিক্রয় করা হইবে (যাহা বৈধ নহে)।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণরূপে হস্তগত করার পূর্বে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করিতে নিষেধ করিয়াছেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি ক্রেতা (মাল ক্রয় করার পর ) লজ্জিত হয় এবং বিক্রেতাকে বলে, এই (সলফ বিক্রয়) বাতিল করিয়া দিন। আমি যে মূল্য আপনাকে দিয়াছি সেই মূল্য আদায়ের ব্যাপারে সময় প্রদান করিব (অর্থাৎ বিলম্বে লইব) — ইহা জায়েয হইবে না। আলিমগণ এইরূপ করিতে নিষেধ করেন। কারণ এই যে, যখন বিক্রেতার নিকট প্রাপ্ত খাদ্যদ্রব্য ক্রেতাকে দেওয়ার সময় উপস্থিত হইয়াছে, তখন ক্রেতা তাহার (অগ্রিম দেওয়া) হক (মূল্য আদায় করাকে) এই শর্তে পিছাইয়া দিল যে বিক্রেতা এই বিক্রয় বাতিল করিয়া দিবে। ইহা হইল খাদ্যশস্য পূর্ণরূপে হস্তগত করার পূর্বে উহাকে ধারে বিক্রয় করা (যাহা অবৈধ)।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার ব্যাখ্যা এই, যখন (ক্রয়কৃত শস্য) ক্রেতার নিকট অর্পণ করার নির্ধারিত সময় উপস্থিত হইল, ক্রেতা খাদ্যশস্য অপছন্দ করিল। তাই তিনি (বিক্রয় ফেরত চাহিলেন) [সালম বিক্রয়ে যেই খাদ্যদ্রব্য দেওয়ার কথা ছিল] সেই খাদ্যদ্রব্যের বিনিময়ে দীনার ধারে গ্রহণ করিলেন। ইহা [আসলে কিন্তু] ইকালা [বিক্রয় ফেরত দেওয়া] নহে। ইকালা তখন হয় যখন ক্রেতা বিক্রেতা কেহ ইহাতে কোন কিছু বৃদ্ধি না করে। যখন উহাতে কিছু বর্ধিত করা হইল, মূল্য আদায়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিলম্ব করার সুযোগ প্রদান করিয়া কিংবা অন্য কোন (টাকা-পয়সার মতো) বস্তু একে অপরের উপর বর্ধিত করিয়া অথবা অন্য এমন কোন বস্তু বর্ধিত করিয়া যদ্বারা (ক্রেতা-বিক্রেতা) উভয়ের একজন উপকৃত হয় তবে উহ্য ইকালা নহে।
ইকালা হয় (কখন) যখন পূর্বে তাহারা উভয়ে বিনাশর্তে বেচাকেনা করিয়া থাকে। ইকালা, শরীকানা এবং তওলিয়ত (খরিদ দামে) বিক্রয়কারী-এর অনুমতি দেওয়া হইয়াছে যাবত সেইসবে বর্ধন, কমকরণ কিংবা সময় প্রদান ইত্যাদি প্রবিষ্ট করান না হয়। যদি বর্ধন লোকসানকরণ, মেয়াদ বর্ধিতকরণ (ইত্যাদি) সেই সবে প্রবিষ্ট হয়, তবে উহা হইবে (নূতনভাবে) বেচাকেনা, ইহাকে জায়েয করিবে যাহা ক্রয়-বিক্রয়কে জায়েয করিয়া থাকে এবং ইহাকে হারাম করিবে যাহা ক্রয়-বিক্রয়কে হারাম করিয়া দেয়।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি সলফে সিরীয় গম ক্রয় করিয়াছে (গম গ্রহণ করার) নির্ধারিত সময় আসার পর (তৎপরিবর্তে) ছোট দানার গম (মাহমুলা) গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই। মালিক (রহঃ) বলেন, অনুরূপ যে ব্যক্তি বিশেষ রকমের বস্তুতে সলফ করিয়াছে, নির্ধারিত মেয়াদ উপস্থিত হওয়ার পর তাহার পক্ষে সেই বিশেষ রকমের বস্তু হইতে উত্তম কিংবা নিকৃষ্ট বস্তু গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই। ইহার ব্যাখ্যা এইরূপ যেমন কোন ব্যক্তি মাহমুলা গম সলফে ক্রয়-করিয়াছে, (উহা হইতে নিকৃষ্ট শস্য) সব কিংবা (উৎকৃষ্ট শস্য) সিরীয় গম গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই। আর যদি কেহ সলফ মারফত আজওয়াহ খেজুর ক্রয় করিয়াছে, তাহার পক্ষে (উহা হইতে উত্তম খেজুর) সায়হানী কিংবা নিকৃষ্ট খেজুর জমা (جمع) গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই। আর যদি লাল কিশমিশ সলফ মারফত ক্রয় করিয়াছে, তবে (উহার পরিবর্তে) কালো কিশমিশ গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই। যদি এইসব নির্ধারিত মেয়াদ উপস্থিত হওয়ার পর হইয়া থাকে। [সলফ মারফত ক্রয়কৃত দ্রব্যের পরিবর্তে যেই দ্রব্য ক্রেতা গ্রহণ করিয়াছে] যদি উহা كيل ইত্যাদি দ্বারা ওজন করা হয় তেমন দ্রব্য হয় তবে এই দ্রব্য সলফ মারফত ক্রয়কৃত দ্রব্যের পরিমাপে সমান হইতে হইবে।
বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)
রেওয়ায়ত ৫৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, কাসেম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) এবং ইবন মুয়াইকীব দাওসী (রহঃ) হইতেও অনুরূপ রেওয়ায়ত বর্ণিত হইয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকটও হুকুম অনুরূপ।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসআলা হইল, গমের বিনিময়ে গম, খুর্মার বিনিময়ে খুর্মা, খুর্মার বিনিময়ে গম, কিশমিশের বিনিময়ে খুর্মা এবং যাবতীয় খাদ্যশস্য নগদ ছাড়া বিক্রয় করা বৈধ হইবে না, (উল্লেখিত বস্তুর) কোন একটিতে যদি মেয়াদ প্রবেশ করে অর্থাৎ ধারে বিক্রয় করা হয় তবে ইহা বৈধ হইবে না (বরং) ইহা হারাম হইবে। (অনুরূপ) ব্যঞ্জনে ব্যবহৃত যাবতীয় বস্তুকেও নগদ ছাড়া বিক্রয় করা যাইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ খাদ্যদ্রব্য ব্যঞ্জনসমূহ হইতে কোন খাদ্যদ্রব্য কিংবা ব্যঞ্জনকে যদি উহা এক জাতীয় হয় তবে একের বিনিময়ে দুইটি বিক্রয় করা যাইবে না এবং এক মুদ্ গমের বিনিময়ে বিক্রয় করা যাইবে না। (অনুরূপ) এক মুদ্ খুর্মা বিক্রয় করা যাইবে না দুই মুদ খুর্মার বিনিময়ে, আর এক মুদ্ কিশমিশকে দুই মুদ্ কিশমিশের বিনিময়ে বিক্রয় করা যাইবে না। (উপরে বর্ণিত বস্তুসমূহের) সদৃশ যাবতীয় শস্য ও ব্যঞ্জনাদি যদি এক জাতীয় হয় (উহাকেও) (অনুরূপ)-বিক্রয় করা যাইবে না, নগদ বিক্রি হইলেও। কারণ ইহা হইতেছে চাঁদির বিনিময়ে চাঁদির, স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রয় করার মতো, এইসব ব্যাপারে কমবেশ করা জায়েয নহে, একমাত্র সমান সমান ও নগদ হইলেই ইহা হালাল হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ পরিমাপ পাত্র দ্বারা মাপা হয় কিংবা ওজন করিয়া দেওয়া হয় এইরূপ খাদ্য কিংবা পানীয় দ্রব্যের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া গেলে এবং (জাতের) এই পার্থক্য প্রকাশ্য হইলে, তবে নগদ বিক্রয় হইলে উহার একটির বিনিময়ে দুইটি গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই। আর দুই সা গমের পরিবর্তে এক সা খুর্মা এবং দুই সা’ কিশমিশের বিনিময়ে এক সা খুর্ম এবং দুই সা’ ঘি-এর বিনিময়ে এক সা’ গম লওয়াতে কোন দোষ নাই। এই সবের মধ্য হইতে পরস্পর দুই জাতের দুইটি বস্তু উভয়ে পরস্পর ভিন্ন জাতের হইলে তবে সেই জাতীয় বস্তু হইতে একের বিনিময়ে দুই কিংবা ততোধিক নগদ বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। কিন্তু ধারে হইলে ইহা বৈধ হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ গমের স্তুপের বিনিময়ে গমের স্তুপ (ক্রয় করা) হালাল হইবে না, খুর্মার স্তুপের বিনিময়ে গমের স্তুপ নগদ ক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। কারণ খেজুরের বিনিময়ে গম অনুমানে ক্রয় করাতে কোন দোষ নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে কোন খাদ্যদ্রব্য ও ব্যঞ্জনের জাত পরস্পর বিরোধী হইলে এবং পার্থক্য স্পষ্ট হইলে তবে (সেইরূপ দ্রব্যের) এক অংশকে আর এক অংশের বিনিময়ে আন্দাজে (কিন্তু) নগদে ক্রয় করাতে কোন দোষ নাই, যদি উহাতে মেয়াদ (ধারে বিক্রয়) প্রবেশ করে তবে সেই বিক্রয়ে মঙ্গল নাই। ইহা আন্দাজে ক্রয় করা (এইরূপ) যেমন ইহার কিছু অংশকে চাঁদি বা স্বর্ণের বিনিময়ে অনুমানে বিক্রয় করা।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি খাদ্যশস্যের স্তুপ করিয়াছে এবং উহার পরিমাপ কার্য সম্পাদন করিয়াছে, অতঃপর উহাকে অনুমানে বিক্রয় করিয়াছে এবং ক্রেতার নিকট উহার পরিমাপ গোপন করিয়াছে। ইহা জায়েয হইবে না। তারপর ক্রেতা যদি ফেরত দিতে ইচ্ছা করে, তবে এই খাদ্যশস্য বিক্রেতাকে ফেরত দিবে, কেননা, বিক্রেতা তাহার নিকট উহার পরিমাপ গোপন করিয়াছে, (এইভাবে) সে ক্রেতাকে ধোঁকা দিয়াছে। অনুরূপ খাদ্যদ্রব্য হউক বা অন্য কিছু বিক্রেতা যে বস্তুর পরিমাপ ও সংখ্যা জানে অতঃপর উহাকে (ক্রেতার কাছে) আন্দাজে বিক্রয় করে, (অথচ) ক্রেতা উহা অবগত নহে, তবে ক্রেতা ইচ্ছা করিলে উক্ত বস্তু বিক্রেতার নিকট ফেরত দিবে। এইরূপ বিক্রয় হইতে আহলে ইলম (উলামা) সর্বদা নিষেধ করিতেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ দুই রুটির বিনিময়ে এক রুটি, ছোট রুটির বিনিময়ে বড় রুটি, যাহার একটি অপরটি হইতে বড়, গ্রহণ করা জায়েয নহে। তবে যদি উভয়ে সমান সমান হইবে বলিয়া প্রবল ধারণা হয় তবে ওজন করা না হইলেও ইহাতে কোন দোষ নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ দুই মুদ পনিরের বিনিময়ে এক মুদ পনির এবং এক মুদ দুধ গ্রহণ করা জায়েয নহে। ইহা এইরূপ যেইরূপ আমরা পূর্বে বর্ণনা করিয়াছি; খেজুরের ব্যাপারে যাহার তিন সা’ আজওয়ার বিনিময়ে বিক্রয় করা হইয়াছে দুই সা’ কাবীস আর এক সা’ রদ্দী খেজুর। যখন তাহাদের একজন অপর জনকে বলিল তিন সা’ আজওয়ার বিনিময়ে দুই সা’ কাবীস বিক্রয় করা জায়েয নহে তখন তিনি ইহা (আর এক সা’ রদ্দী খেজুর মিশাইবার কাজ) করিলেন বিক্রি শুদ্ধ করার জন্য। দুধওয়ালা পনিরের সঙ্গে দুধ মিশাইয়াছে। ইহা এই জন্য যে, তাহার সাথীর পনিরের তুলনায় তাহার পনীরের বাড়তিটুকু উশুল করিবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ গমের বিনিময়ে আটা সমান সমান হইলে কোন দোষ নাই। আর যদি অর্ধ মুদ আটা এবং অর্ধ মুদ গম একত্র করিয়া উহাকে এক মুদ গমের বিনিময়ে বিক্রয় করা হয় তবে ইহা যেইরূপ আমরা পূর্বে বর্ণনা করিয়াছি সেইরূপ হইবে। ইহা জায়েয হইবে না। কারণ সে গমের সহিত আটা মিশাইয়া উৎকৃষ্ট গমের বাড়তিটুকু (শ্রেষ্ঠত্বের মূল্য) আদায় করিল। কাজেই ইহা জায়েয হইবে না।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] (شطوى) ইহা কাতান জাতীয় বস্ত্র, মিসরের সাতা নামক জনপদে এই বস্ত্র প্রস্তুত করা হয়। উহাকে شطوى সাতাবী বলা হয়।
[2] (قصبى) উন্নমানের এক প্রকার কাতান বস্ত্র।
[3] (اتريب) মিসরের একটি গ্রামের নাম ইতরীব। সেই গ্রামে এই কাপড় প্রস্তুত করা হয় বলিয়া এই বস্ত্রের নাম ইতবিবী রাখা হইয়াছে।
[4] কাশশী (قشى) রেশমী ডোরাদার এক প্রকার বস্ত্র; মিসরের সাগরপাড়ে কাশশ্ নামক স্থানে এই বস্ত্র তৈরি হয়, তাই উহাকে কাশশী বলা হয়।
[5] নীশাপুরের একটি মহল্লার নাম (زيق)। সেই মহল্লায় তৈরি এই বস্ত্রের নাম যীকা।
[6] খুরাসানের হারাব শহরে প্রস্তুত বস্ত্র।
[7] মারব শহরে প্রস্তুত বস্ত্র।
[8] (شقائق) ছোট চাদর।
[9] কুহী : সাদা বস্ত্র।
[10] ফুরকবী হল ফুরকব নামক স্থানে প্রস্তুত বস্ত্র অথবা কাতানের সাদা বস্ত্র ।
বর্ণনাকারী: কাসিম বিন মুহাম্মাদ (রহঃ)
রেওয়ায়ত ৭১. কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবন আবাস (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, তাহাকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করিতেছে এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে যে ব্যক্তি কতিপয় কাতানের পাগড়ী সলফে ক্রয় করিয়াছে। সে সেইগুলিকে কজা করার পূর্বে বিক্রয় করিতে ইচ্ছা করিল তবে ইহা জায়েব কি? ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিলেন-ইহা চাঁদির বিনিময়ে চাঁদি ক্রয় করার অনুরূপ। তিনি ইহাকে মাকরূহ বলিলেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আল্লাহ সর্বাধিক জ্ঞাত। আমাদের মতে ক্রেতা যেই মূল্যে উহা ক্রয় করিয়াছে সেই মূল্যের অধিক মূল্যে যাহার নিকট হইতে ক্রয় করিয়াছে তাহারই নিকট উহা বিক্রি করিতে ইচ্ছা করিলে তবে এই বিক্রয় মাকরূহ হইবে। আর যদি যে ব্যক্তির নিকট হইতে উহা ক্রয় করিয়াছে সেই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করে তবে ইহাতে কোন দোষ নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসআলা এই, যে ব্যক্তি সলফে ক্রয় করিয়াছে দাস অথবা জানোয়ার কিংবা পণ্য দ্রব্য। ইহাদের প্রত্যেকটির সঠিক গুণ বর্ণনা করা হইয়াছে, এইসব বস্তুতে সলফ করা হইয়াছে মেয়াদ পর্যন্ত। অতঃপর (সেই) মেয়াদ উপস্থিত হইল, তবে যেই বস্তুতে সলফ করিয়াছে সেই বস্তু কব্জা করার পূর্বে, যেই মূল্যে সলফ করা হইয়াছে সেই মূল্যের অধিক মূল্যে সেই বস্তু যাহার নিকট হইতে (পূর্বে) ক্রয় করিয়াছিল তাহার নিকট ক্রেতা পুনরায় বিক্রয় করিবে না। কারণ যদি এইরূপ করা হয় তবে ইহা সুদ [যাহা হারাম]। ইহা যেন এইরূপ করা হইল; যেমন ক্রেতা বিক্রেতাকে দিরহাম বা দীনার দিল, বিক্রেতা উহা দ্বারা উপকৃতও হইল। তারপর যখন পণ্য ক্রেতার নিকট সোপর্দ করার সময় উপস্থিত হইয়াছে তখন ক্রেতা সেই পণ্য কব্জা করিল না। বরং সে উহাকে পণ্যের মালিকের নিকট যেই মূল্যে সলফ নির্ধারিত হইয়াছিল সেই মূল্যের অধিক মূল্যে বিক্রয় করিল। ফল এই দাঁড়াইল যে, যে বস্তুকে সলফে ক্রয় করিয়াছিল সেই বস্তু মালিকের নিকট ফেরত দিল এবং নিজের পক্ষ হইতে (আরও কিছু) অতিরিক্ত প্রদান করিল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি পশু কিংবা পণ্যের ব্যাপারে যাহার গুণাগুণ বর্ণনা করা হইয়াছে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য স্বর্ণ কিংবা চাঁদির সলম করিয়াছে। অতঃপর মেয়াদ উপস্থিত হইয়াছে, তবে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে কিংবা মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরে ক্রেতার জন্য সেই সামগ্রীকে যেকোন পণ্যের বিনিময়ে বিক্রেতার নিকট বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। কিন্তু সেই পণ্য যেই পরিমাণই হউক না কেন উহা নগদ প্রদান করিবে; মূল্য বা বিনিময়ে প্রদানে বিলম্ব করিবে না। কিন্তু খাদ্যদ্রব্য হইলে তবে উহাকে কব্জা করার পূর্বে বিক্রয় করা হালাল হইবে না। আর সেই সামগ্ৰী [পশু কিংবা অন্য কোন পণ্য]-কে যাহার নিকট হইতে উহা ক্রয় করিয়াছে সেই লোক ব্যতীত অন্য কাহারো নিকট স্বর্ণ বা চাঁদির কিংবা অন্য কোন পণ্যের বিনিময়ে বিক্রয় করা ক্রেতার জন্য জায়েয হইবে উহাকে (সেই মুহূর্তে) কব্জা করিবে। উহা কব্জা করিতে বিলম্ব করিবে না। কারণ বিলম্ব করিলে খারাপ হইবে এবং উহাতে মাকরূহ হইবে। ইহা হইবে যেন ধারকে ধারে বিক্রয় করা। ধারকে ধারে বিক্রয় করার অর্থ হইতেছে কোন ব্যক্তি তাহার ঋণ যাহা অন্য ব্যক্তির জিম্মায় রহিয়াছে তাহা বিক্রয় করিতেছে, যেই ঋণ সে অন্য লোকের নিকট প্রাপ্য সেই ঋণের বিনিময়ে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন বস্তুতে সলম করিয়াছে, নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত আর সেই বস্তু খাদ্য বা পানীয় দ্রব্য নহে। তবে ক্রেতা উহাকে যাহার নিকট ইচ্ছা মুদ্রা কিংবা পণ্যের বিনিময়ে উহাকে পূর্ণ কব্জা করার পূর্বে যাহার নিকট হইতে উক্ত বস্তু ক্রয় করিয়াছে সে ব্যতীত অন্য লোকের নিকট বিক্রয় করিতে পারবে। কিন্তু যে ব্যক্তির নিকট হইতে ক্রয় করিয়াছে সে ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করা জায়েয হইবে না। তবে (জায়েয হইবে) এমন পণ্যের বিনিময়ে (বিক্রয় করা) যাহাকে (নগদ) কব্জা করিবে, উহা কব্জা করিতে বিলম্ব করিবে না, (অর্থাৎ) ধারে বিক্রয় করিবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি সেই (সলমকৃত) দ্রব্য ক্রেতার কব্জায় দেওয়ার সময় উপস্থিত হয় নাই, তবে উহাকে মালিক বিক্রেতা-এর নিকট ভিন্ন জাতের পণ্য যাহার পার্থক্য সুস্পষ্ট এইরূপ পণ্যের বিনিময়ে বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই, উহাকে সঙ্গে সঙ্গে কব্জা করিবে। ইহাতে বিলম্ব করিবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি দীনার কিংবা দিরহাম দ্বারা চারিটি গুণ ও পরিচয় বর্ণিত বস্ত্রের ব্যাপারে সলম্ করিয়াছে-নির্দিষ্ট মেয়াদে, যখন মেয়াদ-এর (শেষ) সময় উপস্থিত হইল তখন উহার মালিক ক্রেতা উহা তলব করিল, তাহার নিকট সেই বস্ত্র পাওয়া গেল না। বরং (তদস্থলে) পাওয়া গেল সেই জাতীয় বস্ত্র হইতে নিকৃষ্ট রকমের বস্ত্র। বস্ত্র আদায় করা যাহার জিম্মায় সে ক্রেতাকে বলিল, “আপনাকে চার বস্ত্রের পরিবর্তে আমার এই বস্ত্র হইতে আটটি বস্ত্র প্রদান করিব।” ইহাতে কোন দোষ নাই যদি তাহারা উভয়ে পরস্পর পৃথক হওয়ার পূর্বে সেই সব বস্ত্র কব্জা করে। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি ইহাতে মেয়াদ প্রবেশ করে [অর্থাৎ নগদ আদান-প্রদান না করিয়া ধারে বিক্রয় হয়]। তবে উহা জায়েয হইবে না। আর যদি মেয়াদ [-এর শেষ সময়] আসার পূর্বে এইরূপ (চার বস্ত্রের পরিবর্তে আটটি বস্ত্র গ্রহণ করা) হয়, তবে ইহাও জায়েয হইবে না। কিন্তু যদি যেই বস্ত্রে সলম করা হইয়াছে সেই জাতের বস্ত্র হইতে ভিন্ন জাতের বস্ত্র ক্রেতার নিকট বিক্রয় করা হয় তবে জায়েয হইবে।
বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)
রেওয়ায়ত ৭২. যেইসব বস্ত্র ওজন করিয়া ক্রয় বিক্রয় করা হয় স্বর্ণ ও চাঁদি ব্যতীত (যেমন-) তামা, পিতল, রং সীসক, লোহা, কাজাব,[1] তীন,[2] তুলা এবং ইহার সদৃশ বস্তু যাহা ওজন করা হয়। মালিক (রহঃ) বলেন (এই বিষয়ে) আমাদের নিকট ফয়সালা এই, এইরূপ এক জাতের দ্রব্য হইতে এক বস্তুর বিনিময় নগদ দুই বস্তুর গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই। এবং এক রতল লোহা দুই রতল লোহার বিনিময়ে আর দুই রতল উৎকৃষ্ট ধরনের তামার বিনিময়ে এক রতল উৎকৃষ্ট তামা গ্রহণ করাতেও কোন দোষ নাই। আর একই জাতের দ্রব্যে একটির বিনিময়ে দুইটি বস্তু ধারে গ্রহণ করাতে কোন মঙ্গল নাই [অর্থাৎ উহা নাজায়েয]। আর যদি বস্তুদ্বয় একটি অপরটি হইতে ভিন্ন জাতের হয় এবং উহাদের মধ্যে বিভিন্নতা স্পষ্ট হয়, তবে সেইরূপ বস্তু হইতে এক বস্তুর বিনিময়ে দুই বস্তু ধারে গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই আর যদি একে অপরের সদৃশ হয় যদিও উহাদের নাম বিভিন্ন রহিয়াছে। যেমন-রাং, সীসক, ব্রোঞ্জ, উৎকৃষ্ট তামা, ইহাতে এক বস্তুর বিনিময়ে দুই বস্তু ধারে গ্রহণ করাকে আমি মাকরূহ বলিয়া মনে করি।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই সকল দ্রব্য হইতে তুমি যাহা ক্রয় করিয়াছ, উহাকে যাহার নিকট হইতে তুমি ক্রয় করিয়াছ সে ব্যক্তি ব্যতীত অন্য লোকের কাছে কজা করার পূর্বে বিক্রয় করিলে কোন দোষ নাই। যদি উহার মূল্য নগদ গ্রহণ করিয়া থাকে এবং যদি উহাকে পরিমাপ পাত্রের দ্বারা কিংবা ওজন করিয়া ক্রয় করিয়া থাকে। আর যদি আন্দাজে (স্তুপ) ক্রয় করিয়া থাক, তবে উহাকে তুমি বিক্রয় করিতে পার যাহার নিকট হইতে ক্রয় করিয়াছ তাহাকে ভিন্ন অন্য কাহারো নিকট, কিংবা ধারে। কারণ যখন আন্দাজে ক্রয় করিয়াছ তখন উহা তোমার দায়িত্বে আসিয়াছে, [উহার ওজন সম্পর্কে বিক্রেতার আর কোন দায়-দায়িত্ব রহিল না।], পক্ষান্তরে যদিও ওজন করিয়া উহা ক্রয় করিয়াছ। তবে যাবত ওজন করিয়া উহা নিজ কব্জায় না আনিবে তাবত উহার প্রতি তোমার দায়িত্ব থাকিবে না। এই সব দ্রব্য সম্পর্কে যাহা আমি শুনিয়াছি, তন্মধ্যে ইহাই আমার মনঃপূত। আর লোকের আমলও সর্বদা ইহার উপর রহিয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাসআলা এই, যেই নব বস্তু পাত্র দ্বারা মাপা হয়, অথবা (বাটখারা ইত্যাদির দ্বারা) ওজন করা হয় এবং উহা খাদ্য বা পানীয় দ্রব্যের মধ্যে না হয়, যেমন-কুসুম, ফলের আঁটি, গাছের পাতা,[3] কাতাম[4] এবং উহার সাদৃশ বস্তু। এই সকল দ্রব্যের প্রত্যেক শ্রেণী হইতে একটির বিনিময়ে দুইটি নগদ গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই।
তবে এক শ্রেণীর দ্রব্য হইতে একটির বিনিময়ে দুইটি ধারে গ্রহণ করা যাইবে না। আর যদি উভয় দ্রব্যের মধ্যে শ্রেণী বা রকমের পার্থক্য হয় এবং সেই পার্থক্য স্পষ্টত বিদ্যমান হয়, তবে সেই দুই শ্রেণীর দ্রব্য হইতে একটির বিনিময়ে দুইটি বস্তু ধারে ক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। এই সকল বিভিন্ন শ্রেণীর দ্রব্য যাহা কেহ ক্রয় করিয়াছে উহাকে পূর্ণ কব্জায় আনার পূর্বে যে ব্যক্তির নিকট হইতে ক্রয় করিয়াছে সে ব্যতীত অন্যের কাছে বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। যদি উহার মূল্য দ্বিতীয় ক্রেতার নিকট হইতে হস্তগত করিয়া থাকে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যাবতীয় শ্রেণীর দ্রব্যাদি হইতে কোন দ্রব্যের দ্বারা লোক উপকৃত হয়, যদিও ছোট কংকর এবং চুনা হউক। এই শ্রেণীর দুই দ্রব্য হইতে একটিকে দ্বিগুণ দ্রব্যের বিনিময়ে ধারে গ্রহণ করা সুদ এবং একটিকে একটি এবং অতিরিক্ত কোন বস্তুর বিনিময়ে ধারে গ্রহণ করিলে উহা সুদ বলিয়া গণ্য হইবে।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] (قصب) এক প্রকারের ঘাস, যাহা জানোয়ারের খাদ্য বস্তু।
[2] তীন-ডুমুরের মতো একটি সুখাদ্য ও বিশেষ উপকারী ফল, উর্দুতে ইহাকে বলা হয় আনজীর (انجير)।
[3] বৃক্ষ হইতে পশুখাদ্যের জন্য যে পাতা ঝাড়িয়া ফেলা হয় উহাকে খাবাত (خبط) বলা হয়।
[4] কাতাম (كتم) এক প্রকারের তৃণ : চুলের খিযাবে উহাকে ব্যবহার করা হয়।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] মাহমূলা-ধূসর বর্ণের বেশি দানার গম।
বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.)
রেওয়ায়ত ৭৬. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধোঁকার বিক্রয় নিষেধ করিয়াছেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ধোঁকা ও সংশয়ের বিক্রয় হইতেছে এইরূপ-যেমন, এক ব্যক্তির জানোয়ার খোয়া গিয়াছে কিংবা তাহার দাস পালাইয়াছে, [সে এই অবস্থাতে উহা বিক্রয় করিতে ইচ্ছুক হইল] উহার মূল্য হইতেছে পঞ্চাশ দীনার। আন এক ব্যক্তি ললিল, আমি আপনার নিকট হইতে ইহা ক্রয় করিলাম বিশ দীনারের মূল্যে। অতঃপর যদি ক্রেতা উহা পায় সবে ত্রিশ দীনার বিক্রেতা হইতে চলিয়া যাইবে। আর না পাইলে বিক্রেতা ক্রেতা হইতে কুড়ি দীনার (পূর্বেই) পকেটস্থ করিয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহাতে অপর একটি ক্রটি রহিয়াছে, তাহা এই হারানো জানোয়ার [বা পলাতক দাস] যদি পাওয়াও যায় (তবুও) জানা যায় নাই যে, উহাতে (কিছু) বৃদ্ধি হইয়াছে না ঘাটতি হইয়াছে, কিংবা উহাতে কোন দোষ জন্মিয়াছে। ইহা বড় রকমের ঝুঁকি।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ফায়সালা এই, মাদী জানোয়ার এবং স্ত্রীলোকের পেটের বাচ্চা ক্রয় করাও ঝুঁকি এবং ধোঁকার মধ্যে গণ্য। কারণ পেটের বাচ্চা বাহির হইবে কি হইবে না জানা নাই। যদি বাহির হয় তবে জানা নাই যে, উহা সুন্দর হইবে না কুশ্রী হইবে পূর্ণ হইবে না অসম্পূর্ণ হইবে? নর হইবে না নারী হইবে ইহার প্রত্যেকটিই মূল্যের ব্যাপারে তারতম্য হওয়ার কারণ হয়। এইরূপ হইলে, উহার মূল্য এই হইবে, এইরূপ হইলে উহ্যর মূল্য অন্যরূপ হইবে [ইত্যাদি ইত্যাদি]।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্ত্রী জাতীয় পশুদিগকে বিক্রয় করিয়া উহাদের গর্ভস্থ বাচ্চাদেরকে বিক্রয় হইতে বাদ রাখা জায়েয নহে, ইহা এইরূপ—যেমন কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বলিল, আমার এই দুধাল বকরীর মূল্য হইতেছে তিন দীনার, কিন্তু দুই দীনার মূল্যে তোমাকে প্রদান করিতেছি। উহার গর্ভস্থ বাচ্চা আমার জন্য থাকিবে, ইহা মাকরূহ। কারণ ইহাতেও ধোঁকা রহিয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যাইতুন তৈলের বিনিময়ে যাইতুন ফল বিক্রয় করা এবং তিল নিঃসৃত তৈলের বিনিময়ে তিল শস্য বিক্রয় করা। ঘি-এর বিনিময়ে পনির বিক্রয় করা জায়েয নহে। কারণ ইহাতে ’মুযাবানা’ প্রবেশ করিয়া থাকে, আর এই কারণেও ইহা না-জায়েয যে, যে ব্যক্তি শস্য হইতে নিঃসৃত নির্দিষ্ট পরিমাণ বস্তুর বিনিময়ে শস্য ক্রয় করিতেছে ইহা জানা নাই যে, উহা হইতে সেই পরিমাণের কম উৎপন্ন হইবে না বেশি উৎপন্ন হইবে। কাজেই ইহাও ধোঁকার অন্তর্ভুক্ত হইল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ হাব্বুল-বান[1] [বান বা বকায়ন বৃক্ষের শস্য]-কে উহা সলীখা-র বিনিময়ে ক্রয় করাও নাজায়েয। কারণ ইহাতে ধোঁকা রহিয়াছে। কারণ সলীখা হইতেছে হাব্বুল-বান হইতে নিঃসৃত তৈল। তবে সুগন্ধ বান তৈলের বিনিময়ে হাব্বুল-বান ক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। কারণ সুগন্ধ বানে অন্য দ্রব্য মিশান হইয়াছে, উহাকে সুগন্ধযুক্ত করা হইয়াছে। তাই উহা কেবল মাত্র হাব্বুল-বান নিঃসৃত সলীখা রূপে অবশিষ্ট নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির নিকট কোন সামগ্ৰী বিক্রয় করিল এবং বলিল যে, লোকসান সম্পর্কে ক্রেতার কোন দায়িত্ব নাই।[2] ইহা জয়েয নহে। ইহা ধোঁকার অন্তর্ভুক্ত, ইহার ব্যাখ্যা এই, সে যেন এই সামগ্রীতে যে লাভ অর্জিত হয় উহা তাহাকে ক্রেতাকে বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে দিয়াছে। যদি এই মাল খরিদ মূল্যে বা লোকসানে বিক্রয় করে তবে সে (ক্রেতা) কিছু পাইবে না এবং তাহার শ্রম বৃথা যাইবে। ইহা জায়েয নহে। (জায়েয তখন হইবে যখন) ক্রেতা তাহার শ্রমের মজুরি পাইবে শ্রম পরিমাণ। আর এই বস্তুতে যাহা লাভ লোকসান হইবে, উহা বিক্রেতার প্রাপ্য হইবে। ইহা তখন যখন সেই সামগ্ৰী বিক্রয় হইয়া যায় কিংবা ধ্বংস হয়। যদি উহা নষ্ট না হয় তবে উভয়ের মধ্যকার বেচাকেনা বাতিল হইয়া যাইবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির নিকট কোন মাল বিক্রয় করিল স্পষ্টরূপে, অতঃপর ক্রেতা লজ্জিত হইল অর্থাৎ খরিদ করিয়া লজ্জিত এবং বিক্রেতার নিকট বলিল—কিছু মূল্য কমাইয়া দিন। বিক্রেতা উহা স্বীকার করিল না এবং বলিল—আপনি এই মাল বিক্রয় করুন, আপনার কোন লোকসান নাই। ইহা জায়েয হইবে। কারণ ইহা ধোঁকা নহে বরং ইহা তাহার উপর হইতে লাঘব করা হইল। বেচাকেনা এই লাঘব করার শর্তের উপর অনুষ্ঠিত হয় নাই। ইহাই আমাদের নিকট ফয়সালা।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] এক প্রকারের শস্য, এই গাছের পাতা নিম পাতার মতো।
[2] যেমন বকর খালিদের নিকট বস্ত্ৰ বিক্রয় করিল পঞ্চাশ দীনার মূল্যে এবং খালিদকে বলিল, আপনি যত দামে পারেন বিক্রয় করুন। লাভ হইলে আপনার প্রাপ্য হইৰে। আর যদি লোকসাম হয় তবে উছা আমি বহল করিব।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] মিসরীয় খ্রিস্টানদিগকে বলা হয় কিবত্ (قبط)। সেইখনের তৈরি বস্ত্র হইতেছে কিবতী।
বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)
রেওয়ায়ত ৭৮. মালিক (রহঃ) বলেনঃ বায (بز বস্ত্র বা গৃহ সরঞ্জাম) সম্বন্ধে আমাদের নিকট সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এই, এক ব্যক্তি এ শহর হইতে বস্ত্র বা গৃহ সরঞ্জাম ক্রয় করিল। অতঃপর সেই সব সরঞ্জাম অন্য শহরে লইয়া গেল। তথায় সেসব বস্তু লাভে বিক্রয় করিল। তবে দ্রব্যমূল্যে দালালের মজুরি, কাপড় ভাঁজ করা, গাঁইট বাঁধা এবং অন্যান্য ব্যয় হিসাব করা হইবে না এবং ঘর ভাড়াও উহাতে হিসাব করা হইবে না। তবে বস্ত্র বা গৃহ সরঞ্জামের পরিবহন মজুরি আসল মূল্যে গণ্য করা হইবে। বস্ত্র বিক্রেতা ক্রেতার নিকট যাবতীয় তাড়া ও মজুরির বিবরণ জানাইয়া দিবে। এইসব অবগত হওয়ার পর ক্রেতাগণ যদি বিক্রেতাকে মুনাফা প্রদান করে তবে ইহাতে কোন দোষ নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ বস্ত্রের ধোলাই, সেলাই ও রং করা এবং এই জাতীয় আর যে কাজ করা হয়, সব বস্ত্রের স্থলে গণ্য করা হইবে। উহাতে লাভ হিসাব করা হইবে যেমন হিসাব করা হইবে আসল বস্ত্রের, যদি বিক্রেতা বস্ত্র বিক্রয় করিল (অথচ) আপনি যাহা (উপরের বর্ণনায়) শুনিলেন তাহার কোন কিছুই ক্রেতার নিকট সে বর্ণনা করিল না তবে সে বিক্রেতার জন্য ইহাতে কোন মুনাফা ধরা হইবে না। যদি বস্ত্র বিনষ্ট হয় তবে উহার উপর ভাড়া হিসাব করা হইবে কিন্তু মুনাফা ধরা হইবে না। আর যদি বস্ত্র বিনষ্ট না হয় তবে ক্রেতা বিক্রেতার মধ্যকার বেচাকেনা ভঙ্গ হইয়া যাইবে। কিন্তু যদি তাহারা উভয়ে জায়েয কিছুর উপর পরস্পর রাজী হয় [তবে উহা জায়েয হইবে]।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্বর্ণ (দীনার) কিংবা চাঁদি (দিরহাম)-এর বিনিময়ে কোন পণ্যদ্রব্য ক্রয় করিল, আর ক্রয়ের দিন স্বর্ণমুদ্রার বাজারদর ছিল প্রতি দীনার দশ দিরহাম, অতঃপর ক্রেতা সেই পণ্য অন্য শহরে লইয়া আসিল এবং উহাকে মুনাফায় বিক্রয় করিতে লাগিল কিংবা যেই শহরে উহা ক্রয় করিয়াছে সেই শহরেই ক্রয়ের দিনের বাজারদরে উহাকে লাভে বিক্রয় করিতে লাগিল। সে যদি উহাকে দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করিয়াছিল এবং বিক্রয় করিল দীনারের বিনিময়ে কিংবা ক্রয় করিয়াছিল দীনারের বিনিময়ে এবং বিক্রয় করিল দিরহামের বিনিময়ে, আর বিক্রীত পণ্য এখনও বিনষ্ট হয় নাই, তবে ক্রেতার ইখতিয়ার থাকিবে; ইচ্ছা করিলে উহা গ্রহণ করিবে, ইচ্ছা করিলে প্রত্যাখ্যান করিবে। আর যদি বিক্রীত পণ্য বিনষ্ট হইয়া যায় তবে বিক্রেতা যেই মূল্যে উহাকে ক্রয় করিয়াছিল সেই মূল্যে পণ্য ক্রেতার প্রাপ্য হইবে, বিক্রেতাকে দেওয়া হইবে বর্ধিত মুনাফা তাহার ক্রয় মূল্যের উপর, যে মুনাফা ক্রেতা তাহাকে প্রদান করিবে (অর্থাৎ উভয়ের মধ্যে যে মুনাফা নির্ধারিত হইয়াছে)।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন পণ্য বিক্রয় করিয়াছে যার পড়তা পড়িয়াছে, একশত দীনার, (বিক্রয় করিয়াছে) প্রতি দশ দীনারে এগার দীনার করিয়া।[1] পরে সে (বিক্রেতা) জানিতে পারিল যে, উহা পড়িয়াছে নব্বই দীনার। এইদিকে ক্রেতার নিকট পণ্য বিনষ্ট হইয়াছে।[2] তবে বিক্রেতাকে ইখতিয়ার দেওয়া হইবে; পছন্দ করিলে সে পণ্যের কব্জা করার দিনের মূল্য গ্রহণ করিবে। কিন্তু যদি ক্রেতার নিকট বিক্রয় যেই দিন ধার্য হইয়াছে সেই দিন হইতে যেই মূল্যে বিক্রয় ঠিক হইয়াছিল উহা প্রথম দিনের মূল্য হইতে অধিক হয়, তবে সে ইহার অধিক পাইবে না। (যেই মূল্যে বিক্রয় ঠিক হইয়াছিল) সেই মূল্য হইতেছে একশত দশ দীনার। কিংবা সে যদি পছন্দ করে নিরানব্বই-এর উপর তাহার জন্য (শতকরা দশ দীনার হারে) মুনাফা যোগ করা হইবে। কিন্তু যদি পণ্যের পড়তা হইতে কম হয়, তবে তাহাকে ইখতিয়ার দেওয়া হইবে। পণ্যের যে পড়তা পড়িয়াছে সে পড়তা এবং মুনাফাসহ আসল দামের মধ্যে। উহা হইতেছে নিরানব্বই দীনার। যেইটি ইচ্ছা সে গ্রহণ করিবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি কোন পণ্য বিক্রয় করিয়াছে মুনাফা করিয়া। সে বলিল, আমার নিকট ইহার পড়তা পড়িয়াছে একশত দীনার। পরে তাহার নিকট প্রকাশ হইল যে, উক্ত পণ্যের পড়তা পড়িয়াছে একশত বিশ দীনার করিয়া, (এমতাবস্থায়) ক্রেতাকে ইখতিয়ার দেওয়া হইবে, যদি সে ইচ্ছা করে তবে বিক্রেতাকে যেই দিন সে এই পণ্য কজা করিয়াছে সেই দিনকার মূল্য আদায় করিবে; অথবা ইচ্ছা করিলে বিক্রেতা যখন এই পণ্য ক্রয় করিয়াছিল সেই সময়কার মূল্য (নির্ধারিত হারে) মুনাফা হিসাবে যাহা দাঁড়ায় তাহাসহ বিক্রেতার নিকট পরিশোধ করিবে। কিন্তু যেইদিন কব্জা করিয়াছে সেই দিনের মূল্য যদি ক্রেতা যেই দামে পণ্য ক্রয় করিয়াছে সেই দাম হইতে কম হয় তবে যেই দামে ক্রেতা পণ্য ক্রয় করিয়াছে সেই দাম হইতে পণ্যের মালিককে কম মূল্য দেওয়ার ইখতিয়ার থাকিবে না। কারণ সে (ক্রেতা) ইহাতে (অসত্য মূল্য ও মুনাফাতে) রাজী হইয়াছিল (এবং) পণ্যের মালিক (পূর্বে যে মূল্য বলিয়াছিল উহার উপর) অতিরিক্ত দাবি করিতেছে, তাই বিল বা ফর্দ-এর উপর যেই মূল্যে ক্রেতা উহা ক্রয় করিয়াছে সেই মূল্য হইতে কমানোর জন্য বিক্রেতাকে বাধ্য করার অধিকার ক্রেতার নাই।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] অর্থাৎ শতকরা দশ দীনার মুনাফার উপর বিক্রয় করিয়াছে।
[2] বিক্রয় করিয়াছে অথবা নষ্ট করিয়াছে কিংবা উহাতে এমন কোন খুঁত সৃষ্টি করিয়াছে বাছাতে উহাকে বিক্রেতার নিকট দেওয়া যায় না।
রেওয়ায়ত ৮৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি বিভিন্ন জাতের বস্ত্র বিক্রয় করিতেছে, তথা হইতে কয়েকটি বস্ত্র উহাদের চিহ্ন উল্লেখ করিয়া বাদ দিয়া দিল যদি সেই বর্ণিত চিহ্নের বস্ত্র অন্যান্য বস্ত্র হইতে পছন্দ করার শর্ত করিয়া থাকে তবে উহাতে কোন দোষ নাই, আর যদি ঐভাবে পছন্দ করিয়া নির্ধারিত বস্ত্ৰ হইতে বস্ত্র লওয়ার বিক্রেতা শর্ত না করিয়া থাকে, ইস্তিসনার শর্ত করার সময়, তবে আমি মনে করি যে, ক্রেতা যেই বস্ত্র ক্রয় করিয়াছে উহর সংখ্যাতে বিক্রেতা শরীক থাকিবে। কারণ অনেক সময় এইরূপ হয় যে, দুইটি বস্ত্রের (رقم)[1] নিশন বা চিহ্ন এক কিন্তু উহাদের মূল্যের মধ্যে তফাৎ রহিয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদিতে শরীকানা, তাওলিয়া ও ইকালাতে আমাদের মতে কোন দোষ নাই; উহা আয়ত্তে আনুক কিংবা না আনুক। যদি শরীকানার মূলধন নগদ হয় এবং উহাতে অতিরিক্ত কিছু না থাকে পূর্ণ মূল্য হইতে কমানো না হয় ও মূল্য পরিশোধে বিলম্ব না করাকে যদি শরীকানাতে মূল্য বৃদ্ধি বা মূল্য কমানো কিংবা বিলম্ব করা বিক্রেত বা ক্রেতার পক্ষ হইতে, তবে উহা নূতনরূপে বেচাকেনা বলিয়া গণ্য হইবে। যেই আহকাম বেচাকেনাকে হালাল করে ইহাকেও সেই বিধান হালাল করিবে, আর যে আহকাম ক্রয়-বিক্রয়কে হারাম করে সেই বিধান ইহাকেও হারাম করিবে। ইহা প্রকৃতপক্ষে অংশীদারিত্ব ও তাওলিয়া কিংবা ইকালা নহে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি (যেমন খালিদ) পণ্য ক্রয় করে; (বকর হইতে) বস্ত্র বা ক্রীতদাস (অথবা অন্য কোন পণ্য) এবং নিশ্চিতরূপে ক্রয় করে (কোন শর্ত উহাতে না থাকে) অতঃপর জনৈক ব্যক্তি (যেমন মাইমুনা) উক্ত পণ্যে তাহাকে শরীক করার অনুরোধ জানাইল।
সে (খালিদ) উহাকে (মায়মুনাকে) অংশীদারিত্ব প্রদান করিল এবং তাহারা উভয়ে পণ্যের মালিককে মূল্য নগদ পরিশোধ করিল। অতঃপর পণ্যে এমন কোন কারণ উদ্ভব হইল যাহাতে উভয়ের মালিকানা হইতে পণ্য বাহির হইয়া গেল। তবে যে তাহাকে শরীক করিয়াছিল সেই ব্যক্তি (খালিদ) হইতে যাহাকে পণ্যে শরীক কয় হইয়াছিল সে (অর্থাৎ মায়মুনা) মূল্য ফেরত লইবে এবং যে পণ্য বিক্রয় করিয়াছে তাহার নিকট (খালিদের নিকট) মূল্য দাবি করিবে। তবে যে ব্যক্তি শরীক করিয়াছে সে (খালিদ) যাহাকে শরীক করিয়াছে তাহার নিকট (মায়মুনার নিকট) (প্রথম) বিক্রয়ের সময় এবং প্রথম বিক্রেতার বেচাকেনার সময়, বেচাকেনার মজলিশ পরিবর্তিত হওয়ার পূর্বে যদি এই মর্মে শর্তারোপ করিয়া থাকে, “আপনার দায়িত্ব যাহার নিকট হইতে আপনি ক্রয় করিলেন তাহার উপর।” পক্ষান্তরে যদি ক্রয়-বিক্রয়ের মজলিশ বদল হয় এবং প্রথম বিক্রেতা (অর্থাৎ বকর) মৃত্যুবরণ করে, তবে ক্রেতা ব্যক্তির (অর্থাৎ খালিদের) শর্ত বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং যাবতীয় দায়িত্ব তাহার উপরই ন্যস্ত থাকিবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বলিল-আপনি এই পণ্য ক্রয় করুন আপনার ও আমার মধ্যে শরীকানায়। আর আমার অংশের মূল্য আপনি নগদ পরিশোধ করুন, আমি আপনার অংশেরও বিক্রয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করিরাম, ইহা জায়েয নহে। যখন সে বলিল, আমার পক্ষ হইতে আপনি নগদ মূল্য পরিশোধ করুন আমি আপনার অংশের পণ্য বিক্রয় করিয়া দিব। ইহা হইতেছে ঋণ (سلف) যাহা সে উহাকে সলফস্বরূপ প্রদান করিল এই শর্তে যে, সে এই পণ্য তাহার জন্য বিক্রয় করিয়া দিবে। যদি সেই পণ্য নষ্ট হইয়া যায় অথবা হারাইয়া যায় তবে নগদ মূল্য পরিশোধকারী তাহার শরীক হইতে সেই মূল্য নগদ উশুল করিবে, ইহাই (অতিরিক্ত) মুনাফা আকর্ষণকারী সলফ বা ঋণ (যাহা হারাম)।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি কোন পণ্য ক্রয় করিয়াছে এবং উক্ত ক্রয় তাহার জন্য ওয়াজিব হইয়াছে (অর্থাৎ বাধ্যতামূলক হইয়াছে) তারপর অন্য এক ব্যক্তি বলিল, আমাকে এই পণ্যের অর্ধেকের মধ্যে শরীক কর। আমি উহা পূর্ণ বিক্রয় করিয়া দিব, উহা হালাল হইবে। ইহাতে কোন দোষ নাই। ইহার ব্যাখ্যা এই—ইহা একটি নূতন ক্রয়-বিক্রয় বিক্রেতা উহার নিকট অর্ধেক পণ্য এই শর্তে বিক্রয় করিয়াছে যে, ক্রেতা তাহার অংশের বাকী অর্ধেক পণ্য বিক্রয় করিয়া দিবে।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
শরীকানা : অধিকার বা ক্ষমতা প্রয়োগে একত্রিত হওয়াকে শিরকাত বা শরীকানা বলা হয়। শিরকাত কয়েক প্রকারের হয়, যেমন শিরকাতে আনান, শিরকাতে আবদান, শিরকাতে মুফাওয়াযা, শিরকাতে উজূহ।
তাওলিয়া : আসল মূল্যে ক্রয়কৃত বস্তুর কাহাকেও মালিক করিয়া দেওয়ার নাম তাওলিয়া, যেমন রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের সময় আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) তাহার খরিদ মূল্যে উট রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বিক্রয় করিয়াছিলেন।
ইকালা : যেমন ত্রিশটির মধ্যে দশটি তাহার প্রাপ্য হইবে।
-
[1] কাপড়ের উপর লিখিত মূল্য কিংবা উহার জাত।
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
রেওয়ায়ত ৮৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি দরিদ্র হইয়াছে এবং কোন ব্যক্তি তাহার মাল হুবহু তাহার নিকট পায় তবে সে অন্যের তুলনায় সেই মালের অধিক হকদার হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির নিকট কোন পণ্য বা খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করিয়াছে। অতঃপর ক্রেতা দরিদ্র হইয়া গিয়াছে, তবে বিক্রেতা তাহার পণ্যের হুবহু কিছু পাইলে সে এই পণ্য গ্রহণ করিবে। যদি ক্রেতা উহার কিছু অংশ বিক্রয় করিয়া থাকে এবং উহাকে পৃথক করিয়া দিয়া থাকে তবে পণ্যের মালিক অন্যান্য ঋণদাতা বা মহাজনদের অপেক্ষা এই পণ্যের অধিক হকদার হইবে। ক্রেতা কর্তৃক উহ্য হইতে কিছু অংশ পৃথক করার কারণে তাহার পণ্যের যাহা হুবহু সে পাইয়াছে তাহা আয়ত্তে আনিতে কোন বাধা হইবে না। আর যদি বিক্রেতা পণ্যের মূল্যের কিছু তলব করিয়াছে অতঃপর বিক্রেতা পণ্যের যে মূল্য গ্রহণ করিয়াছে উহা ফেরত দিতে এবং যে পণ্য পাওয়া গিয়াছে উহা আয়ত্তে আনিতে পছন্দ করে এবং যাহা আদায় হয় নাই তাহাতে অন্যান্য মহাজনের সমান হইয়া যায় তবে ইহা জায়েয আছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি কিছু পণ্য খরিদ করিল উহা পশম হউক বা অন্য কোন ব্যবসায়ের মাল বা এক টুকরা জমি। অতঃপর যে খরিদ করিয়াছে সে উহাতে নূতন কোন কাজ করিল, যেমন জমিতে ঘর বানাইল বা পশম দ্বারা কাপড় তৈয়ার করিল। অতঃপর যে খরিদ করিয়াছিল সে গরীব হইয়া গেল, জমিওয়ালা তাহাকে বলিল, আমি ঐ জমি এবং উহাতে যাহা নির্মাণ করা হইয়াছে তাহা সমস্তই লইয়া লইব, তবে ইহা তাহার জন্য বৈধ হইবে না বরং ঐ জমি এবং জমিতে যে ঘর ক্রেতা তৈয়ার করিয়াছিল উহার মূল্য নির্ণয় করিতে হইবে। অতঃপর দেখিতে হইবে ঐ জমির মূল্য কত পড়ে এবং ঘরের মূল্য কত হয়। অতঃপর ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে উহাতে অংশীদার হইবে। জমির মালিকের জন্য হইবে তাহার জমির অংশ অনুযায়ী এবং ঋণগ্রস্তুদিগের জন্য হইবে নির্মিত গৃহাদির অংশ পরিমাণ।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার ব্যাখ্যা এই যে, যেমন ঐ জমি ও ঘরের একত্রে মূল্য হইবে এক হাজার পাঁচ শত দিরহাম। এমতাবস্থায় জমির মূল্য হইবে পাঁচ শত দিরহাম এবং ঘরের মূল্য হইবে এক হাজার দিরহাম। জমির মালিকের জন্য হইবে এক-তৃতীয়াংশ এবং ঋণগ্রস্তদিগের জন্য হইবে দুই-তৃতীয়াংশ।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এইরূপেই পশম ইত্যাদির মূল্য ধরিত হইবে যদি খরিদ্দার ঋণগ্রস্ত হইয়া পড়ে আর মূল্য আদায় করিতে অপারক হয়।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আর ঐ সমস্ত ব্যবসায়ের মাল যাহাতে খরিদ্দার কোন কাজ করে নাই বরং এমনি ঐ মালের যোগ্যতা তথা গুণাগুণ বৃদ্ধি পাইয়াছে আর উহার মূল্য বৃদ্ধি পাইয়াছে। এখন ঐ মালওয়ালা উহা পাইতে ইচ্ছা করিতেছে। কিন্তু খাতক উহা রাখিতে চাহিতেছে। এমতাবস্থায় ঋণদাতাদের ইচ্ছানুযায়ী তাহারা মালওয়ালাকে উহার মূল্যও দিয়া দিতে পারে, যে দামে উহা বিক্রয় হইয়াছিল। উহা হইতে কমাইতে পরিবে না বা তাহাকে তাহার মালও দিয়া দিতে পারে। আর যদি ঐ মালের মূল্য কমিয়া গিয়া থাকে তবে যে বিক্রয় করিয়াছে সে যদি ইচ্ছা করে তবে তাহার মাল লইয়া লইতে পারে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি কোন দাসী বা কোন পশু খরিদ করিল এবং উহা তাহার নিকট বাচ্চা দিল অতঃপর ক্রেতা গরীব হইয়া গেল, ঐ দাসী বা পশু যে বাচ্চা প্রসব করিয়াছে উহা বিক্রেতার হইবে। যদি খাতকের উহ্য রাখিবার ইচ্ছা হয়, তবে তাহার পূর্ণ প্রাপ্য দিয়া উহা রাখিতে পারে।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] নাজাস হইতেছে নিলামের সময় যে খরিদ করিবে না সেও দালালের দলে থাকিয়া অতিরিক্ত ডাক দিয়া ঐ বস্তুর দাম বাড়াইয়া দেয়, অন্যকে ধোঁকায় ফেলে।
[2] দুধ জমা করা : উট বকরী বিক্রয় করার সময় অনেকে ২/৩ দিন পূর্ব হইতে উহাদের স্তনে দুধ জমা করিয়া থাকে, যাহাতে খরিদ্দার উহাকে অনেক দুধওয়ালা মনে করে।