মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত মাসআলা এই, আমাদের শহরের আলিমগণকে মীরাসের অংশ বন্টন সম্পর্কে এই মতই পোষণ করিতে দেখিয়াছি, যখন ছেলেমেয়ের পিতা-মাতার মৃত্যু হয় এবং তাহার সম্পদ রাখিয়া যায়, তবে মেয়ের দ্বিগুণ মীরাস ছেলে পাইবে; যদি শুধু দুই মেয়ে কিংবা ততোধিক মেয়ে থাকে তবে পূর্ণ মালের দুই-তৃতীয়াংশ মেয়েগণ মীরাস পাইবে। যদি এক মেয়ে থাকে তবে অর্ধেক অংশ মীরাস পাইবে। আর যদি মৃত ব্যক্তির কোন যবিল ফুরুয (যাহাদিগকে হিস্যা কুরআন মজীদে নির্ধারিত আছে) থাকে এবং ছেলেমেয়েও বিদ্যমান থাকে তবে প্রথমত অংশীদারগণের হিস্যা আদায় করিয়া ছেলেমেয়েদিগকে পূর্ব বর্ণিত নিয়মে অংশ দিবে অর্থাৎ ছেলে পাইবে মেয়ের দ্বিগুণ। তবে পিতা যবিল ফুরূয হিসাবে এক-ষষ্ঠাংশ পাইবে অবশিষ্ট ওয়ারিশগণ বাকী পাঁচ হিস্যার দুই হিস্যা এক ছেলে এবং তিন হিস্যা তিন মেয়ে পাইবে।
মালিক (রহঃ) বলেন, যদি মৃতের পুত্র কন্যা কেহ না থাকে তবে নাতি এবং নাতনিগণ ওয়ারিস হইবে। নাতি-নাতনীদের হিস্যাও পুত্র-কন্যাদের হিস্যার মতো বন্টন করা হইবে, মীরাস পাওয়া না পাওয়ার ব্যাপারে তাহাদের হুকুম পুত্রদের মতো। তবে মৃতের একটি পুত্র ও নাতি থাকিলে নাতি ওয়ারিস হইবে না। মৃতের দুই অথবা ততোধিক কন্যা থাকিলেও নাতনিগণ ওয়ারিস হইব না। হ্যাঁ, যদি নাতনীদের সঙ্গে কোন নাতিও থাকে, মৃতের সঙ্গে তাহার সম্পর্ক কন্যাদের মতো অথবা তাহাদের তুলনায় কিছু দূর-সম্পৰ্কীয়। তবে যবিল ফুরূযের হিস্যা দেওয়ার পর কিছু মাল বাঁচিয়া থাকিলে তাহা কন্যাদের সমপর্যায়ের নাতি এবং নাতির তুলনায় উচ্চ অর্থাৎ নিকট সম্পৰ্কীয়া নাতনীগণ পাইবে এবং নাতনীর দ্বিগুণ নাতি পাইবে। যদি যবিল ফুরূযকে দেওয়ার পর অবশিষ্ট না থাকে তবে তাহারা কিছুই পাইবে না। যদি মৃতের একটি মেয়ে থাকে তবে সে অর্ধেক পাইবে। আর তাহার পুত্রের মেয়ে সন্তান অর্থাৎ তাহার নাতনী এক বা একাধিক হইলে ইহারা সকলেই মৃতের ওয়ারিস হিসাবে এক-ষষ্ঠাংশ পাইবে আর যদি নাতনীদের সঙ্গে নাতিও থাকে তবে নাতনীরা কিছুই পাইবে না, যদি যবিল ফুরূযকে দিয়া কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে তাহা ঐ নাতির হিস্যা এবং তাহার সঙ্গে অন্য যে তাহার সমকক্ষ এবং তাহার উর্ধ্বের নাতনীরাও তাহার সঙ্গে হিস্যা পাইবে, পুরুষ মেয়ের দ্বিগুণ এই হিসাবে আর দূরবর্তীদের জন্য কোন অংশ নাই যবিল যুরুষকে দিয়া কিছু অবশিষ্ট না থাকিলে তাহাদের জন্য কিছুই নাই।
আর ইহা এইজন্য যে, আল্লাহ তা’আলা স্বীয় কিতাবে বলেনঃ
يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ فَإِن كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ
আল্লাহ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিতেছেন, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান, কিন্তু কেবল কন্যা দুই-এর অধিক থাকিলে তাহাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ, আর এক কন্যা থাকিলে তাহাদের জন্য অর্ধাংশ । (সূরা নিসাঃ ১১)
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আতরাফ অর্থাৎ দূরবর্তিগণ।
২. মিরাস বন্টনে স্বামীর অংশ স্ত্রী হইতে এবং স্ত্রীয় অংশ স্বামী হইতে কি পরিমাণ?
মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্ত্রীর মৃত্যুর পর যদি তাহার কোন ছেলে কিংবা নাতি না থাকে তবে স্বামী অর্ধেক মালের মীরাস পাইবে। যদি কোন ছেলে অথবা ছেলের ঔরসজাত নাতি বা নাতনী বিদ্যমান থাকে তবে স্বামী এক-চতুর্থাংশ মীরাস পাইবে, তবে শর্ত এই মৃতের কোন ওসীয়্যত থাকিলে কিংবা কোন ঋণ থাকিলে তাহা পূর্বেই আদায় করতে হইবে। তদ্রুপ স্বামীর মৃত্যু হইলে যদি কোন ছেলে কিংবা নাতি না থাকে, তবে স্বামীর রাখিয়া যাওয়া সম্পদ হইতে স্ত্রী এক-চতুর্থাংশ পাইবে। আর যদি কোন ছেলে কিংবা নাতি-নাতনী থাকে, তবে স্ত্রী এক-অষ্টমাংশ মীরাস পাইবে। এ স্থলেও স্বামীর কোন ওসীয়্যত কিংবা ঋণ থাকিলে তাহা মীরাস বন্টনের পূর্বেই আদায় করিতে হইবে। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা কুরআনুল কারীমে বলিয়াছেনঃ
وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌ فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدٌ فَإِن كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُم مِّن بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ
তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ তোমাদের জন্য, যদি তাহাদের কোন সন্তান না থাকে এবং তাহাদের সন্তান থাকিলে তোমাদের জন্য তাহদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ ওসীয়্যত পালন এবং ঋণ পরিশোধের পর তোমাদের সন্তান না থাকিলে তাহাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ আর তোমাদের সন্তান থাকিলে তাহদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ। তোমরা যাহা ওসীয়্যত করিবে তাহা দেওয়া ও ঋণ পরিশোধের পর। (সূরা নিসাঃ ১২)
মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসআলা এই— আমাদের শহরের আলিমগণকেও অনুরূপ মত পোষণ করিতে দেখিয়াছি যে, মৃত ব্যক্তি যদি ছেলে কিংবা পুত্রের ঔরসজাত নাতি রাখিয়া মারা যায়, তবে মৃতের পিতা এক-ষষ্ঠাংশ মীরাস পাইবে। আর যদি মৃতের ছেলে কিংবা নাতি না থাকে তবে যবিল ফুরূযের হিস্যা দেওয়ার পর যাহা অবশিষ্ট থাকে তাহা এক-ষষ্ঠাংশের সমান হউক কিংবা বেশি হউক তাহা পিতা পাইবে। যদি যবিল ফুরূযের হিস্যা দেওয়ার পর ষষ্ঠাংশ না থাকে তবে ষষ্ঠাংশ দেওয়ার ব্যবস্থা করিতে হইবে। মৃত ব্যক্তির যদি মাতা, ছেলেমেয়ে কিংবা ছেলের পক্ষের নাতি, নাতনী কিংবা দুই ভাই কিংবা ততোধিক ভাই থাকে, আপন ভাই কিংবা মাতৃপক্ষের ভাই কিংবা পিতৃপক্ষের ভাই কিংবা বোনসমূহ থাকে তবে মাতা এক-ষষ্ঠাংশ পাইবে। আর যদি উপরিউল্লিখিত কেহ না থাকে, তবে মাতা পূর্ণ এক-তৃতীয়াংশ পাইবে। হ্যাঁ, শুধু দুই অবস্থায় এক-তৃতীয়াংশ পাইবে না বরং অবশিষ্ট মালের এক-তৃতীয়াংশ পাইবে। এক অবস্থা এই যে, যদি মৃতের মাতা-পিতা বিদ্যমান থাকে এবং স্ত্রী থাকে তবে স্ত্রী এক-চতুর্থাংশ মাল পাইবে। এবং মাতা এক-তৃতীয়াংশ পাইবে।
দ্বিতীয় অবস্থা এই যে, মৃত ব্যক্তির যদি স্বামী এবং মাতা-পিতা থাকে তবে স্বামী অর্ধেক অংশ পাইবে এবং মাতা যাহা বাকী থাকে তাহার এক-তৃতীয়াংশ পাইবে। অর্থাৎ মাতা এক-ষষ্ঠাংশ এবং পিতা এক-ষষ্ঠাংশ পাইবে। কেননা তাহাই আল্লাহ্ তা’আলা স্বীয় কিতাবে ইরশাদ করিয়াছেনঃ
وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ فَإِن كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ
তাহার সন্তান থাকিলে তাহার পিতা-মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-ষষ্ঠাংশ, সে নিঃসন্তান হইলে এবং শুধু পিতামাতাই উত্তরাধিকারী হইলে তাহার মাতার জন্য এক-তৃতীয়াংশ; তাহার ভাই-বোন থাকিলে মাতার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ভাইসমূহের অর্থ দুই ভাই কিংবা ততোধিক ভাই অর্থ লওয়াও প্রচলিত সুন্নতরূপে গণ্য।
মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারিত মাসআলা এই যে, মৃত ব্যক্তির যদি কোন সন্তান থাকে কিংবা তাহার পিতা কিংবা দাদা (পিতামহ) জীবিত থাকে তবে মাতৃপক্ষের ভাই-বোন মীরাস হইতে বঞ্চিত (মাহরূম) হইবে। যদি উল্লিখিত ওয়ারিসগণ না থাকে তবে তাহারাও মীরাস পাইবে। যদি একজন আখিয়াফি ভাই কিংবা বোন থাকে তবে সে অর্ধেক মীরাস পাইবে। যদি দুইজন আখিয়াফি ভাই কিংবা বোন থাকে তবে প্রত্যেকে অর্ধেক অংশ পাইবে। যদি ততোধিক থাকে তবে এক-তৃতীয়াংশ সম্পদের সকলে মিলিয়া সমান সমান অংশ পাইবে এবং বোন ভাইয়ের সমান অংশই পাইবে। আল্লাহ্ তা’আলা স্বীয় কিতাবে বলেনঃ
وَإِن كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ فَإِن كَانُوا أَكْثَرَ مِن ذَٰلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ
যদি পিতা-মাতা ও সন্তানহীন কোন পুরুষ অথবা নারীর উত্তরাধিকারী থাকে তাহার এক বৈপিত্রেয় ভাই অথবা ভগ্নী তবে প্রত্যেকের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ, তাহারা ইহার অধিক হইলে সকলে সমঅংশীদার হইবে এক-তৃতীয়াংশে। অর্থাৎ এইরূপ অবস্থায় পুরুষ ও স্ত্রীলোকে তফাৎ হইবে না, সকলে সমান অংশ পাইবে। (সূরা নিসাঃ ১২)
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারিত মাসআলা এই যে, মৃতের যদি সহোদর ভাই-বোন না থাকে তবে অর্থাৎ বৈমাত্রেয় ভাই সহোদর ভাই ও বৈমাত্রেয় বিমাতা ভাই-বোনগণ তাহাদের স্থলাভিষিক্ত হইবে। বোন সহোদর বোনের মত অংশ পাইবে। উহা এইরূপঃ একজন বৈমাত্রেয় ভাই থাকে তবে সে সম্পূর্ণ মাল পাইবে। যদি একজন বৈমাত্রেয় বোন থাকে তবে অর্ধেক মাল পাইবে। যদি দুই কিংবা ততোধিক বৈমাত্রেয় বোন থাকে তবে দুই-তৃতীয়াংশ মাল পাইবে। যদি ভাই বোন উভয়ই থাকে তবে বোনের দ্বিগুণ ভাই পাইবে। কিন্ত বৈমাত্রেয় ভাই-বোন বৈপিত্রেয় ভাই-বোনদের সহিত শরীক হইবে না। কেননা তাহাদের মাতা পৃথক, এক নয়।
যদি সহোদর বোনদের সহিত বৈমাত্রেয় বোনও থাকে এবং সহোদর কোন ভাইও থাকে তবে বৈমাত্রেয় বোনগণ মাহরূম (বঞ্চিত) হইয়া যাইবে। যদি সহোদর ভাই না থাকে শুধু একজন সহোদর বোন থাকে এবং বৈমাত্রেয় বোনগণ থাকে, তবে সহোদর বোন অর্ধেক অংশ পাইবে এবং বিমাতা বোনেরা ষষ্ঠাংশ পাইবে। যদি বিমাতা বোনদের সহিত কোন বিমাতা ভাইও থাকে তবে তাহার হিস্যা নির্দিষ্ট হইবে না। বরং যবীল ফুরুযকে হিস্যা দিয়া যাহা অবশিষ্ট থাকিবে তাহা বিমাতা ভাই-বোনগণ ভাইয়ের দ্বিগুণ হিস্যা দিয়া বন্টন করিয়া লইবে।
আর যদি কিছু অবশিষ্ট না থাকে তবে তাহারা মাহরূম হইয়া যাইবে। যদি সহোদর বোনগণ দুই কিংবা ততোধিক থাকে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ পাইবে এবং বিমাতা বোনেরা মাহরুম হইয়া যাইবে। হ্যাঁ, যদি বিমাতা বোনদের সহিত তাহাদের কোন ভাই থাকে তবে ভাই তাহাদিগকে আসাবা বানাইবে। বৈপিত্রেয় ভাই-বোন যদি সদোহর ভাই-বোনদের সহিত হয়, কিংবা বৈমাত্রেয় ভাই বোনদের সহিত হয়, তবে একজন হইলে ষষ্ঠাংশ পাইবে, আর দুইজন বা আরো অধিক হইলে এক-তৃতীয়াংশ পাইবে। এমতাবস্থায় ভাই-বোন সমান সমান অংশ পাইবে, এখানে পুরুষ ও নারী এক পর্যায়ের গণ্য হইবে।
রেওয়ায়ত ১. মালিক (রহঃ) বলেনঃ মু’আবিয়া ইবন আবী সুফিয়ান যায়দ ইবন সাবিত (রহঃ)-কে দাদার মীরাস সম্বন্ধে প্রশ্ন করিয়া লিখিয়াছিলেন। যায়েদ উত্তরে লিখিলেন, তুমি দাদার মীরাস সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিয়াছ, ইহা এমন একটি মাসআলা সেই সম্বন্ধে দুই খলীফা [উমর, উসমান (রাঃ)] ফয়সালা করার সময় আমি স্বয়ং ইহাতে উপস্থিত ছিলাম। মৃতের এক ভাই থাকিলে দাদাকে অর্ধেক অংশ দিতেন এবং দুই ভাই থাকিলে দাদার এক-তৃতীয়াংশ এবং অনেক ভাই-বোন থাকিলেও ঐ এক-তৃতীয়াংশই দাদাকে দিতেন, উহা হইতে কম দিতেন না।
রেওয়ায়ত ৪. কুবাইসা ইবন ওয়াইব (রহঃ) হইতে বর্ণিত-এক মৃত ব্যক্তির দাদী তাহার মীরাসের জন্য আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট আসিল । তিনি বলিলেন, তোমাদের হিস্যা সম্বন্ধে কিতাবুল্লাহতেও কোন উল্লেখ নাই এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতেও কোন হাদীস শুনি নাই। এখন তুমি চলিয়া যাও। আমি লোকের নিকট জিজ্ঞাসা করিয়া তাহা বলিয়া দিব। অবশেষে আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) সাহাবীদেরকে জিজ্ঞাসা করিলেন, মুগীরা ইবন শু’বা (রাঃ) বলিলেন, আমার সম্মুখে রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদীকে ষষ্ঠাংশ দিয়াছেন। আবু বকর (রাঃ) বলিলেন, তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? তখন মুহম্মদ ইবন মাসলামা আনসারী দাঁড়াইয়া মুগীরা যেইরূপ বলিয়াছিলেন তদ্রুপ বলিলেন। এই সাক্ষীর পর আবু বকর (রাঃ) দাদীকে এক-ষষ্ঠাংশ দিয়া দিলেন।
অতঃপর উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতকালে এক দাদী মীরাসের জন্য তাহার নিকট আসিল। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেন, কুরআনে তোমাদের কোন হিস্যার উল্লেখ নাই। তুমি ব্যতীত অন্যদের সম্বন্ধে কিছু সিদ্ধান্ত পূর্বে হইয়াছে আমি স্বীয় পক্ষ হইতে কাহারও জন্য মীরাসের হিস্য বাড়াইতে পারি না। তবে তুমিও ষষ্ঠাংশ লইয়া লও। যদি দাদী আরও অথবা নানীও থাকে তবে উভয়ে মিলিয়া ষষ্ঠাংশ বন্টন করিয়া দিও। আর তোমরা কেহ একজন থাকিলে সে ষষ্ঠাংশ পাইবে।
রেওয়ায়ত ৫. কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত-নানী এবং দাদী মীরাসের জন্য আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট আসিল। তিনি নানীকে ষষ্ঠাংশ দিতে চাহিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি দাঁড়াইয়া বললেন আপনি এমন ব্যক্তির দাদীর অংশ দিতেছেন না যে, যদি সে মৃত হইত এবং উক্ত মৃত ব্যক্তি জীবিত হইত তবে সে (নাতি) তাহার ওয়ারিস হইত। আর এমন ব্যক্তিকে হিস্যা দিতেছেন যে, যদি সে মৃত হইত (অর্থাৎ নানী) এবং উক্ত মৃত ব্যক্তি জীবিত হইত তবে সে (মেয়ের ছেলে) তাহার ওয়ারিস হইত না। ইহা শুনিয়া তিনি উভয়কে ষষ্ঠাংশ সমান বন্টন করিয়া দিয়াছিলেন।
রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রহঃ) বলেন, আবু বকর ইবন আবদুর রহমান ইবন হারিস ইবন হিশাম নানী কিংবা দাদীকে হিস্যা দিতেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে ইহা নিধারিত মাসআলা যে, মৃত ব্যক্তির মাতা জীবিত থাকিলে নানী হিস্যা পাইবে না। ইহা ব্যতীত অন্য অবস্থায় নানী ষষ্ঠাংশ পাইবে। আর মাতা অথবা পিতা জীবিত থাকাকালীন দাদী মাহুরূম হইবেন। অন্য অবস্থাতে তাহার জন্য ষষ্ঠাংশ। আর যদি দাদীও মৃত ব্যক্তির নিকটের হয় অথবা নৈকট্যের বিবেচনায় দুইজন সমপর্যায়ের হয় তবে দুইজনে (দাদী ও নানী) ষষ্ঠাংশের অর্ধেক অর্ধেক হিস্যা প্রাপ্ত হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ অন্যান্য দাদী-নানীর জন্য কোন মীরাস নাই এই দুই দাদী ও নানী ব্যতীত, যেহেতু আমার নিকট সংবাদ পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদীকে মীরাস দিয়াছেন। অতঃপর আবু বকরকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদীকে অংশ দিয়াছেন বলিয়া প্রমাণ পাইয়া তিনিও দাদীকে অংশ দিয়াছেন। অতঃপর এক নানী উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আসিলে তিনি বলিয়াছেন আমি কাহারও জন্য মীরাসে নূতন কোন অংশ দিতে পারি না, তবে দাদী ও নানী একত্র হইলে ঐ অংশ তাহাদের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করিয়া দেওয়া হইবে। আর তাহাদের যে কেহ একজন শুধু আছে (অন্য দাদী নানী নাই) তবে সে একাই ষষ্ঠাংশ পাইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইসলামের প্রারম্ভ হইতে আজ পর্যন্ত উক্ত নানীগণ এবং দাদীগণ ব্যতীত কেহই অন্য নানী কিংবা দাদীগণকে কোন মীরাস দেয় নাই।
রেওয়ায়ত ৮. কুরায়শ সম্প্রদায়ের এক স্বাধীন করা গোলাম (যাহাকে ইবন মুসা বলা হইত) বলিল, আমি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম, তিনি যুহরের নামায পড়িয়া য়ারফা নামক সাহাবীক বলিলেন, আমার নিকট ঐ কিতাবটি লইয়া আস, যাহা ফুফুর মীরাস সম্বন্ধে লেখা হইয়াছে। আমি এই ব্যাপারে লোকের নিকট জিজ্ঞাসা করিব। অতঃপর উমর (রাঃ) একটি পেয়ালা আনাইলেন যাহাতে পানি ছিল। ঐ পানি দ্বারা ঐ কিতাব ধুইয়া ফেলিলেন এবং বলিলেন, যদি ফুফুকে অংশ দেওয়া আল্লাহর ইচ্ছা থাকিত তাহা হইলে স্বীয় কিতাবে উহা উল্লেখ করিতেন।
রেওয়ায়ত ৯. মুহাম্মদ ইবন আবু বকর ইবন হাজম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি তাহার পিতাকে অনেক বার বলিতে শুনিয়াছেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিতেন, ফুফুর ব্যাপার আশ্চর্যজনক, তিনি মীরাস পান না কিন্তু তাহার মীরাস অন্যরা পায়।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসআলা যে, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের সন্তান, নানা, পিতার বৈপিত্রেয় ভাই, মামা এবং নানার মা, সহোদর ভাই-এর সন্তান, ফুফু এবং খালা যবিল আরহাম হওয়া সত্ত্বেও ওয়ারিস হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেন, যে স্ত্রীলোক দূরসম্পৰ্কীয় সে ওয়ারিস হইবে না। আর স্ত্রীলোকদের মধ্যে ঐ স্ত্রীলোকেরা কেহ ওয়ারিস হইবে না, যাহাদিগকে আল্লাহ্ তা’আলা কুরআন মাজীদে বর্ণনা করিয়া দিয়াছেন। তাহারাই হইল মা, কন্যা, স্ত্রী, সহোদর ভগ্নী, সৎ ভগ্নী, বৈপিত্রেয় ভগ্নী। নানী এবং দাদীর অংশ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এইরূপ মহিলাগণ তাহাদের মুক্ত দাসের ওয়ারিস হইবে; কারণ আল্লাহ্ পাক কুরআন মজীদে উল্লেখ করিয়াছেনঃ উহাদিগকে তোমাদের ধর্মীয় ভ্রাতা ও বন্ধুরূপে গণ্য করিবে। (সূরা আহযবঃ ৫)
রেওয়ায়ত ১১. আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) হইতে বর্ণিত, যখন আবু তালিবের মৃত্যু হইয়াছে তখন তাহার ছেলে আকীল ও তালিব তাহার ওয়ারিস হইয়াছে। কিন্তু আলী তাহার ওয়ারিস হয় নাই। এইজন্য আমরা মক্কার ঘরের নিজের অংশ ছাড়িয়া দিয়াছি। (কেননা ইহারা উভয়ে তখন কাফের ছিল, পরে আকীল মুসলিম হইয়া গিয়াছিল আর তালিব নিরুদ্দেশ হইয়া গিয়াছিল।)
রেওয়ায়ত ১৪. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিতেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আজম দেশের লোককে আরবের লোকের ওয়ারিস হইতে নিষেধ করিতেন। অবশ্য যে আরবে জন্মগ্রহণ করিত সে মীরাস পাইত।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন গর্ভবতী স্ত্রীলোক কাফেরদের দেশ হইতে আসিয়া আরবে বসতি স্থির করিল, তথায় তাহার সন্তান জন্মিল, এখন সে সন্তানের এবং সন্তান তাহার ওয়ারিস হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইহা একটি সর্বসম্মত বিষয় যে, যেকোন আত্মীয়তার দরুনই হউক না কেন মুসলিম কাফেরের ওয়ারিস হইবে না, বংশগত আত্মীয়তা হউক বা অন্য প্রকারের, আর সে অন্য কাহাকেও তাহার মীরাস হইতে মাহরূম করিতে পারিবে না।
যেমন কোন কাফের মৃত্যুবরণ করিল যাহার সন্তান মুসলিম, ভাই কাফের। এখন ছেলে মীরাস পাইবে না ভাই পাইবে। এই ছেলের জন্য ভাই মাহরাম হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ এইরূপে যে মীরাস না পায় এবং সে ব্যতীত অন্য ওয়ারিস বর্তমান থাকে তবে সে অন্যকে মাহুরূম করিতে পারে না।
রেওয়ায়ত ১৫. রবীয়া ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ) একাধিক আলেম সূত্রে বর্ণনা করেন যে, জামাল যুদ্ধে, সিফফীন যুদ্ধে এবং হাররা দিবসে যাহারা নিহত হইয়াছেন তাহারা মীরাস পান নাই। এরপর ফুদাইদ দিবসে যাহারা নিহত হইয়াছে তাহারাও একে অপরের মীরাস পান নাই।
কিন্তু মীরাস পাইবে সেই ক্ষেত্রে যেই ক্ষেত্রে নিশ্চিত জানা গিয়াছে যে, তিনি তাহার সাথির পূর্বে নিহত হইয়াছেন।
ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ আমি মালিক (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমাদের উলামায়ে কিরামের মধ্যে এ ব্যাপারে কোন বিরোধ নাই।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কয়েকজন পানিতে ডুবিয়া অথবা মাটিতে ধ্বসিয়া মৃত্যুবরণ করে অথবা নিহত হয়, আর কে আগে কে পরে[1] মৃত্যুবরণ করিয়াছে তাহা অজ্ঞাত থাকে, তবে তাহারা একে অন্যের ওয়ারিস হইবে না, বরং প্রত্যেকের মাল তাহাদের ওয়ারিসগণ পাইবে, যাহারা জীবিত রহিয়াছে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ কেহ সন্দেহস্থলে কাহারও ওয়ারিস হইবে না, ওয়ারিস হওয়ার জন্য নিঃসন্দেহ হওয়া প্রয়োজন। যেমন কেহ মৃত্যুবরণ করিল, আর সে তাহার যে দাসকে মুক্ত করিয়াছিল সেও মৃত্যুবরণ করিল, এখন যদি এই সন্তান বলে যে, আমার পিতা এই দাসের ওয়ারিস হইবে তবে তাহা ততক্ষণ পর্যন্ত সাব্যস্ত হইবে না যতক্ষণ না সে সাক্ষী দ্বারা প্রমাণ করিবে যে, ঐ দাস তাহার পিতার পূর্বে মারা গিয়াছে। যদি প্রমাণ করিতে না পারে তবে ঐ দাসের জীবিত ওয়ারিসগণ তাহার মাল পাইবে।মালিক (রহঃ) বলেন, অনুরূপভাবে যদি দুই সহোদর ভাই মারা যায় যাহাদের একজনের সন্তান রহিয়াছে অন্যজন নিঃসন্তান, আর তাহদের উভয়ের একজন সৎ ভাইও রহিয়াছে। কিন্তু ইহা জানা যায় নাই যে, প্রথমে কোন ভাই মরিয়াছে। এখন নিঃসন্তান ভাই-এর মাল তাহার সৎ ভাই পাইবে, তাহার ভাতিজারা পাইবে না। এইরূপে ফুফু ভাতিজা একত্রে মারা গেলে বা চাচা ভাতিজা একত্রে মারা গেলে আর কে আগে মারা গিয়াছে তাহা জানা নাই, তবে চাচা স্বীয় ভাতিজার এবং ভাতিজা স্বীয় ফুফুর ওয়ারিস হইবে না।
১৫. যে স্ত্রী লি’আন করিয়াছে তাহার সন্তানের মীরাস এবং জারজ সন্তানের মীরাস
রেওয়ায়ত ১৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ উরওয়া ইবন যুবায়র বলিতেন, যখন লি’আন ওয়ালী স্ত্রীলোকের সন্তান অথবা কোন জারজ সন্তান মারা যায়, তখন তাহার মা আল্লাহর কিতাব মতো তাহার অংশ পাইবে আর তাহার বৈমাত্রেয় ভাইও অংশ পাইবে। অবশিষ্ট মাল তাহার মাতার মাওলা (প্রভু)-কে দেওয়া হইবে। যদি তাহাকে মুক্ত করিয়া দেওয়া হইয়া থাকে, যদি সে আরবের হয়, সে তাহার অংশ পাইবে, তাহার বৈপিত্রেয় ভাই-বোনেরা তাহাদের অংশ পাইবে, আর অবশিষ্ট যাহা থাকিবে তাহা মুসলিমদের জন্য।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট সুলায়মান ইবন ইয়াসার হইতে এইরূপই সংবাদ পৌছিয়াছে আর আমাদের শহরের আলিমদেরও এই মত।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারিত মাসআলা এই যে, মৃত ব্যক্তির ছেলে কিংবা নাতি কিংবা পিতা জীবিত থাকিলে সহোদর ভাই-বোন মীরাস পাইবে না। আর যদি মৃত ব্যক্তির দাদা জীবিত না থাকে শুধু কন্যা বা নাতিন (পুত্রের কন্যা) থাকে তবে সহোদর ভাই-বোন ওয়ারিস হইবে; যবীল ফুরূযের হিস্যা দেওয়ার পর যাহা অবশিষ্ট থাকিবে তাহা সহোদর ভাই-বোন পাইবে। ভাই বোনের দ্বিগুণ পাইবে। যদি যবীল ফুরূযের হিস্যা দেওয়ার পর মাল না থাকে তবে তাহারা মাহরূম হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ মৃত ব্যক্তির বাপ ও দাদা যদি না থাকে, আর না ছেলে এবং নাতি থাকে, শুধু একজন সহোদর বোন থাকে, তবে সে অর্ধেক হিস্যা পাইবে। যদি দুই বোন কিংবা ততোধিক সহোদর বোন থাকে, তবে দুই-তৃতীয়াংশ পাইবে। যদি এই বোনদের সঙ্গে কোন ভাইও থাকে তবে বোনদের জন্য নির্দিষ্ট অংশ থাকিবে না, তাহারা যবীল ফুরূযদের অংশ প্রদান করিয়া আসাবা হইবে। যাহা অবশিষ্ট থাকে তাহা হইতে বোনেরা দ্বিগুণ এই হারে তাহারা পাইবে। শুধু এক অবস্থায় তাহদের জন্য কিছুই থাকিবে না, বরং বৈপিত্রেয় ভাই বোনদের সঙ্গে শরীক হইয়া যাইবে।
যেমন কোন মৃত স্ত্রীলোকের স্বামী বিদ্যমান আছে, মাতা আছে এবং বৈপিত্রেয় ভাই সকল আছে এবং সহোদর ভাই সকলও বিদ্যমান আছে। প্রথমত স্বামী অর্ধেক অংশ পাইবে। মাতা এক-ষষ্ঠাংশ এবং বৈপিত্রেয় ভাইয়ের এক-তৃতীয়াংশ পাওয়ার পর আর মাল অবশিষ্ট রহিল না। এমতাবস্থায় সহোদর ভাইগণ বৈপিত্রেয় ভাইদের সহিত এক-তৃতীয়াংশ হিস্যার শরীক হইবে। কেননা সকলের মাতা এক হওয়াতে সবাই তৃতীয়াংশে শরীক হইল। অংশের ভাগ এই হারে, ভাই বোনের দ্বিগুণ এ সম্বন্ধে আল্লাহ তা’আলা স্বীয় কিতাবে বলেনঃ
“যদি পিতা-মাতা সন্তানহীন কোন পুরুষ অথবা নারীর উত্তরাধিকারী থাকে তাহার এক বৈপিত্রেয় ভাই অথবা ভগ্নী তবে প্রত্যেকের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ তাহারা ইহার অধিক হইলে সমঅংশীদার হইবে এক-তৃতীয়াংশে।” (সূরা নিসাঃ ১২)
রেওয়ায়ত ৩. উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ), উসমান ইবন আফফান (রাঃ), যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) দাদাকে মৃতের ভাই-বোনের সহিত এক-তৃতীয়াংশ হিস্যা দিতেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারিত মাসআলা এই যে, মৃতের পিতা জীবিত থাকিলে দাদা মাহরুম হইয়া যায় কিন্তু মৃতের ছেলে কিংবা নাতি বিদ্যমান থাকিলে দাদা যবিল ফুরূয হিসাবে ষষ্ঠাংশ পাইবে। যদি মৃতের ছেলে কিংবা নাতি না থাকে এবং সহোদর ভাই-বোন কিংবা বিমাতা ভাই-বোন না থাকে, তবে যবিল ফুরূয থাকিলে তাহাদের হিস্যা দিয়া যদি ষষ্ঠাংশ কিংবা ততোধিক মাল অবশিষ্ট থাকে তবে তাহা দাদা পাইবে। আর যদি ষষ্ঠাংশের চেয়ে কম মাল থাকে তবে ষষ্ঠাংশ দাদার জন্য অংশ হিসাবে নির্দিষ্ট হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি মৃতের দাদা এবং সহোদর ভাই-বোনদের সহিত কোন যবল ফুরূয থাকে, তবে যবীল ফুরূযের হিস্যা দিয়া যাহা কিছু অবশিষ্ট থাকিবে ইহাতে নিম্নলিখিত অবস্থায় যাহা উত্তম হয় তাহাই কার্যকরী করা হইবে। (১) অবশিষ্ট মালের এক-তৃতীয়াংশ দাদাকে দেওয়া হইবে। (২) দাদাকে মৃতের ভাই ধার্য করিয়া এক ভাইয়ের সমান হিস্যা দেওয়া যাইবে। (৩) পূর্ণ মালের ষষ্ঠাংশ দাদাকে দেওয়ার পর যদি মাল অবশিষ্ট থাকিয়া যায় তবে তাহা ভাই-বোনদেরকে বোনের দ্বিগুণ ভাইকে বন্টন করিয়া দেওয়া হইবে। কিন্তু আর একটি উদাহরণে বণ্টন অন্যরূপে হইবে। উদাহরণটি হইল এইঃ
এক মহিলা মৃত্যুবরণ করিয়াছে তাহার স্বামী, মাতা, সহোদরা ভগ্নী ও দাদা আছে, তাহার সম্পদের অর্ধেক পাইবে স্বামী, এক-তৃতীয়াংশ মাতা, ষষ্ঠাংশ দাদা আর সহোদরা ভগ্নী অর্ধেক। অতঃপর দাদার ষষ্ঠাংশ ও বোনের অর্ধেক একত্রিত করা হইবে, উহাকে এইভাবে বন্টন করা হইবে যে, দাদা পাইবে দুই-তৃতীয়াংশ ও বোন পাইবে এক-তৃতীয়াংশ। (এই মাসআলাটি আওলের একটি উদাহরণ।)
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি মৃত ব্যক্তির দাদার সঙ্গে তাহার বিমাতা ভাইও থাকে তবে সে সহোদর ভাইয়ের মতো গ্রাহ্য হইবে। যদি সহোদরের সঙ্গে বিমাতা ভাই-বোনও থাকে, তবে বিমাতা ভাই শুধু ভাইদের গণনায় ধরা হইবে এবং দাদার হিস্যা কম করিয়া দিবে স্বয়ং কোন অংশ পাইবে না। হ্যাঁ, যদি সহোদর ভাইদের সঙ্গে বৈপিত্রেয় ভাইও থাকে, তবে তাহারা ভাইদের শামিলে গণ্য হইয়া দাদার হিস্যায় কম করিতে পারিবে না। কেননা যদি দাদা থাকে এবং শুধু বৈপিত্রেয় ভাই থাকে তবে দাদা পূর্ণ মাল পাইবে এবং বৈপিত্রেয় ভাই মাহরূম হইয়া যাইবে। যেই অবস্থায় দাদার সঙ্গে সহোদর ভাই এবং বৈমাত্রেয় ভাইবোনও থাকে তখন দাদার হিস্যা দেওয়ার পর যাহা অবশিষ্ট থাকে তাহা সহোদর ভাই-বোনদেরই হিস্যা হইবে, বৈমাত্রেয় ভাই কিছুই পাইবে না। হ্যাঁ, যদি সহোদর মাত্র এক বোন হয় এবং বাকী সকল বিমাতা ভাই-বোন হয় তবে বিমাতাদের কারণে সহোদর বোন দাদার হিস্যা কম করিয়া দিবে এবং এই সহোদর বোন অর্ধেক অংশ পূর্ণ পাইবে। তবুও যদি কিছু মাল অবশিষ্ট থাকিয়া যায় তবে বিমাতা ভাই-বোনগণ নিজ নিজ হিস্যা ভাইয়েরা বোনদের দ্বিগুণ হিসাবে পাইবে। আর যদি অবশিষ্ট না থাকে তবে বিমাতা ভাই-বোনগণ মাহরাম হইয়া যাইবে।
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু আসলাম (রহঃ)
রেওয়ায়ত ৭. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কালালাহ্ সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, গ্রীষ্ম মওসুমে সূরা নিসার শেষ যেই আয়াত নাযিল হইয়াছে তাহাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইহা একটি বিরোধবিহীন মাসআলা যে, কালালাহ্ দুই প্রকার। প্রথম সূরা নিসার প্রারম্ভে নাযিল হয়। আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, যদি কোন স্ত্রী বা পুরুষ কালালাহ অবস্থায় মারা যায় এবং তাহার কোন বৈপিত্রেয় ভাই কিংবা বোন থাকে, তবে প্রত্যেক ষষ্ঠাংশ হিস্যা মীরাস পাইবে। যদি বেশি ভাই-বোন থাকে, তবে সকলে এক-তৃতীয়াংশ মালে শরীক হইবে। এইরূপ কালালাহ যাহার পিতা এবং সন্তান না থাকে, তবে বৈপিত্রেয় ভাইবোন মীরাস পাইবে। [সূরা নিসাঃ ১৭৬]
ইহা ঐ কালালাহ যাহার ভাইবোন আসাবা হয়, যখন মৃতের কোন ছেলে না থাকে, তখন তাহারা দাদার সহিত মিলিয়া কালালার ওয়ারিস হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেন, দাদা ভাইদের সহিত মিলিয়া এজন্য ওয়ারিস হইবে যে, দাদা ভাইদের চেয়ে মৃতের অতি নিকটবর্তী হন। কেননা দাদা ছেলে বিদ্যমান থাকাকালীনও ষষ্ঠাংশের মালিক হয়।
আর দাদা ভাইবোনদের সঙ্গে থাকিয়া এক-তৃতীয়াংশ পাইবার কারণ হইল সহোদর ভাই-বোন থাকাকালীন বৈপিত্রেয় ভাই-বোন এক-তৃতীয়াংশ মীরাস পায়। যদি দাদা বিদ্যমান থাকে তবে বৈপিত্রেয় ভাই-বোন মাহরূম হইয়া যায় এবং দাদা এক-তৃতীয়াংশ মাল পায়। বরং দাদা ঐ মালের মীরাস পাইবে যাহা সহোদর এবং বিমাতা ভাই-বোনগণ পায় না। বরং তাহা বৈপিত্রেয় ভাই-বোনদের হক ছিল। দাদার কারণে তাহারা মাহরূম হইল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইহা একটি সর্বসম্মত ব্যাপার এবং আমরা আমাদের স্থানীয় লোকদিগকেও এর উপর পাইয়াছি যে, সহোদর ভাই বৈমাত্রেয় ভাই-এর উপর অগ্রগণ্য। বৈমাত্রেয় ভাই সহোদর ভাই-এর সন্তান বৈপিত্রেয় ভাই-এর সন্তানদের উপর, বৈপিত্রেয় ভাই-এর সন্তান সহোদর ভাই-এর পৌত্রদের উপর অগ্রগণ্য। এইরূপে বৈপিত্রেয় ভাই-এর সন্তান আপন চাচার উপর, আর আপন চাচা বৈপিত্রেয় চাচার উপর, বৈপিত্রেয় চাচা আপন চাচার সন্তানের উপর, বৈপিত্রেয় চাচার সন্তান পিতার চাচার উপর অগ্রগণ্য ।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার সারকথা এই যে, উপস্থিত আসাবাকে মৃত ব্যক্তির সহিত যুক্ত করিলে তবে যাহারা উহাদের মধ্য হইতে এইরূপভাবে মৃত ব্যক্তির সহিত মিলিবে যে, তাহার নিকট পিতার সহিত সম্পর্ক হিসাবে অন্য কেহ মিলিবে না তাহা হইলে তাহাকেই অংশ দেওয়া হইবে। যে উপরের পিতার সহিত মিলিত হইবে তাহাকে অংশ দেওয়া হইবে না।
যেমন যদি ভাই আর বাচ্চা থাকে তবে দেখিতে হইবে ভাই মৃত ব্যক্তির কি হয়? মৃত ব্যক্তির পিতার সন্তান। আর চাচা কি হয়? মৃত ব্যক্তির পিতার পিতার সন্তান। এমতাবস্থায় ভাই অংশ পাইবে। কেননা প্রথমেই সে মৃত ব্যক্তির পিতার সহিত মিলিত। আর চাচা অন্য পিতা (দাদা)-য় মিলিত । যদি ইহাদের মধ্যে কয়েকজন পিতায় মিলিয়া যায়, তবে দেখিতে হইবে কাহার সম্বন্ধ নিকটবর্তী। যদিও নিকটবর্তী হওয়াটা সৎ-সম্পর্কিত হয় কিন্তু অংশ সে-ই পাইবে, দূরবর্তী সহোদর হইলেও অংশ সে পাইবে না।
সৎ ভাই-এর সন্তান আর সহোদর ভাই-এর পৌত্র যদিও তাহারা উভয়েই মৃত ব্যক্তির সহিত একই পিতায় মিলিয়া যায় কিন্তু সৎ ভাই-এর সন্তান মৃত ব্যক্তির নিকটবর্তী আর সহোদর ভাই-এর পৌত্র দূরবর্তী।
যদি সকলেই সম্বন্ধে বরাবর হয় বা সকলেই সৎসম্পর্কে সম্পর্কিত হয়, তবে সকলকেই সমান অংশ দিতে হইবে। যদি ইহাদের কাহারও পিতা মৃত ব্যক্তির পিতার সহোদর হয়, আর কাহারও পিতা মৃত ব্যক্তির পিতার সৎ ভাই হয়, তবে মীরাস সহোদর ভাই-এর সন্তানগণ পাইবে। কেননা আল্লাহ্ পাক বলেনঃ
“আত্মীয়-স্বজনগণ আল্লাহর কিতাবে একে অন্য অপেক্ষা অধিক হকদার; আর প্রত্যেক বস্তু সম্বন্ধে আল্লাহ সম্যক অবহিত।”
মালিক (রহঃ) বলেনঃ দাদা ভাতিজা হইতে অগ্রগণ্য এবং চাচা হইতেও। আর মওলা (আযদ করা গোলাম)-এর অভিভাবকত্বের বেলায় সহোদর ভাই-এর দাদার উপর অগ্রগণ্য।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
আসাবা ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যাহার কোন অংশ কুরআন শরীফে উল্লেখ নাই। যদি কুরআনে উল্লিখিত অংশীদারদের অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট কিছু থাকে, তবে উহা তাহারা পাইবে, আর যদি তাহারা একলা হয় তবে সমস্ত মালই তাহারা পাইবে। যদি অবশিষ্ট কিছু না থাকে, তবে তাহারা মাহরুম থাকে।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[1] জামাল যুদ্ধ ১০ই জুমাদাল উখরা ৩৬ হি. বসরায় আলী (রাঃ) এবং আয়েশা (রাঃ)-এর মধ্যে সংঘটিত হইয়াছিল। যেহেতু আয়েশা (রাঃ) উটে সওয়ার হইয়া যুদ্ধ করিতেছিলেন, এই জন্য ইহাকে ওয়াকি'আতু জামাল বলা হয়। এই যুদ্ধে উভয় পক্ষে বহু লোক নিহত হইয়াছেন। এই সমস্ত যুদ্ধে যেহেতু কে আগে মরিয়াছে কে পরে মরিয়াছে তাহা জানা যায় নাই। সেইজন্য অনেকে আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও একে অন্যের ওয়ারিস হয় নাই বরং তাহাদের উভয়ের মাল তাহদের ওয়ারিসগণ পাইয়াছে।