৪৫২৫. ওয়াহাব ইবন বাকীয়া (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়য়াহূদীরা একাত্তর বা বাহাত্তর ফিরকায় (দলে) বিভক্ত হয়েছে; নাসারারাও একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত, আর আমার উম্মাত তিয়াত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে।
৪৫২৬. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... মুআবিয়া ইবন আবূ সুফিয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বলেনঃ জেনে রাখ! তোমাদের আগের আহলে-কিতাব (ইয়াহূদ ও নাসারা)গণ বাহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হয়েছে, আর এ মিল্লাতের লোকগণ অদূর ভবিষ্যতে তিয়াত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে। এক ফিরকা হবে জান্নাতী; আর তারা ঐ জামাআতভূক্ত, যারা আল্লাহ্র কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাতের অনুসারী হবে।
রাবী ইবন ইয়াহ্ইয়া এবং আমর (রহঃ) তাদের হাদীছে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে অদূর ভবিষ্যতে এমন একদল লোক সৃষ্টি হবে, যাদের মাঝে গুমরাহী এভাবে বিস্তার লাভ করবে, যেমন ক্ষিপ্ত কুকুরের কাঁমড়ানোর ফলে সৃষ্ট রোগ (যা রোগীকে পাগল বানিয়ে দেয়)। রাবী আমার (রহঃ) বলেনঃ ক্ষিপ্ত কুকুরের দংশন জনিত রোগ এমন একটা মারাত্মক ব্যাধি যার বিষাক্ত প্রভাব থেকে রোগীর দেহের রগ ও জোড় কিছুই রক্ষা পায় না।
২. নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করা ও মুতাশাবিহাতের বর্ণনা প্রসংগে।
হাদিস নং ৪৫২৭সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التُّسْتَرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذِهِ الآيَةَ ( هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ ) إِلَى ( أُولُو الأَلْبَابِ ) قَالَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِذَا رَأَيْتُمُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ سَمَّى اللَّهُ فَاحْذَرُوهُمْ " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৫২৭. কা’নবী (রহঃ) .... আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত পাঠ করেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা আপনার উপর এমন কিতাব নাযিল করেছেন, যার কিছু আয়াত ’মুহকাম’ বা স্পষ্ট, যা কিতাবের মূল এবং কিছু আয়াত ’মুতাশাবিহ’ বা দ্ব্যর্থবোধক ... আর জ্ঞানী ব্যক্তিরাই নসীহত কবূল করে থাকে। আইশা (রাঃ) বলেনঃ এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন তোমরা লোকদের ’মুতাশাবিহ’, আয়াতের অনুসরণ করতে দেখবে; তখন জানবে যে, এরা তারা যাদের নাম আল্লাহ্ বর্ণনা করেছেন। কাজেই তোমরা এদের থেকে দূরে থাকবে।
৩. বিদ'আতী স্বেচ্ছাচারীদের প্রভাব থেকে দূরে থাকা সম্পর্কে।
হাদিস নং ৪৫২৮যঈফ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ الأَعْمَالِ الْحُبُّ فِي اللَّهِ وَالْبُغْضُ فِي اللَّهِ " .
বর্ণনাকারী: আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)
৪৫২৮. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উত্তম আমল হলো আল্লাহ্র জন্য ভালবাসা এবং আল্লাহ্র জন্য শত্রুতা পোষণ করা।
৪৫২৯. ইবন সারহ (রহঃ) .... আবদুল্লাহ্ ইবন কাআব ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কাআব (রাঃ)-কে চলাফেরা করাতেন, যখন তিনি অন্ধ হয়ে যান। তিনি বলেনঃ আমি কাআব ইবন মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাবী ইবন সারহ (রহঃ)ও তাবূকের যুদ্ধের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কাআবের পেছনে থেকে যাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেছেন, তিনি (কাআব) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তিন জনের সাথে সমস্ত মুসলিমদের কথা বলতে মানা করে দেন। এভাবে অনেক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর, আমি আমার চাচাতো ভাই ইবন কাতাদা (রাঃ)-এর বাগানের প্রাচীর টপকিয়ে প্রবেশ করে, তাকে সালাম দেই। কিন্তু আল্লাহ্র শপথ! তিনি আমার সালামের জবাব দেননি। এরপর তিনি তার তাওবা কবূল হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেন।
৪৫৩০. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ..... আম্মার ইবন ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা দু’হাত ফাঁটা অবস্থায় আমি আমার পরিবার-পরিজনের কাছে আসলে, তারা আমার দু’হাত জাফরান রং লাগিয়ে দেয়। পরদিন সকালে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থিত হয়ে সালাম করলে, তিনি তার জবাব না দিয়ে বলেনঃ তুমি চলে যাও এবং তোমার হাত থেকে এ রং ধুয়ে ফেল।
হাদিস নং ৪৫৩১যঈফ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ سُمَيَّةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّهُ اعْتَلَّ بَعِيرٌ لِصَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَىٍّ وَعِنْدَ زَيْنَبَ فَضْلُ ظَهْرٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِزَيْنَبَ " أَعْطِيهَا بَعِيرًا " . فَقَالَتْ أَنَا أُعْطِي تِلْكَ الْيَهُودِيَّةَ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهَجَرَهَا ذَا الْحِجَّةَ وَالْمُحَرَّمَ وَبَعْضَ صَفَرٍ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৫৩১. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) .... আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার সুফিয়া বিনত হুয়াই (রাঃ)-এর উট অসুস্থ হয় এবং সে সময় যয়নব (রাঃ)-এর কাছে একটা অতিরিক্ত উট ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যয়নব (রাঃ)-কে বলেনঃ তুমি উটটি ওকে দিয়ে দাও। তিনি বলেনঃ ঐ ইয়াহূদীকে দেব! একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হন এবং তিনি যিলহাজ্জ, মুহাররম ও সফর মাসের কয়েক দিন তাঁর সাথে কথাবার্তা বন্ধ রাখেন।
৫. অনুচ্ছেদঃকুরআনের মধ্যে ঝগড়া করা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে।
হাদিস নং ৪৫৩২হাসান
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ هَارُونَ - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمِرَاءُ فِي الْقُرْآنِ كُفْرٌ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৫৩২. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআনের মধ্যে নিজের মত ব্যক্ত করে ঝগড়ার সৃষ্টি করা কুফর।
৪৫৩৩. আবদুল ওয়াহাব (রহঃ) .... মিকদাম ইবন মা’দীকরাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জেনে রাখ! আমাকে কুরআন প্রদান করা হয়েছে এবং এর সাথে অনুরূপ (হাদীছ) দেয়া হয়েছ। অদূর ভবিষ্যতে একজন অভাবহীন তৃপ্ত ব্যক্তি তার খাটের উপর অবস্থান করে বলবেঃ তোমরা এ কুরআনকে গ্রহণ কর এবং এতে যা হালাল বলা হয়েছে, তা হালাল হিসাবে গ্রহণ কর; আর যা হারাম বলা হয়েছে তা হারাম হিসাবে গ্রহণ কর।
জেনে রাখ! গৃহ-পালিত গাধার মাংস তোমাদের জন্য হালাল নয়, কোন হিংস্র জন্তুর মাংসও হালাল নয়, কোন যিম্মীর পরিত্যক্ত মাল হালাল নয়, তবে যদি তার মালিক তা থেকে বে-পরওয়া হয়, সে আলাদা ব্যাপার। আর যদি কেউ মেহমান হিসারে কোন কাওমের কাছে যায়, তবে তাদের উচিত তার মেহমানদারী করা। তারা যদি সে ব্যক্তি মেহমানদারী না করে, তবে তাদের নিকট থেকে মেহমানের হক গ্রহণ করার অধিকার তার থাকবে।
৪৫৩৪. ইয়াযীদ ইবন খালিদ (রহঃ) .... ইয়াযীদ ইবন উমায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি মু’আয ইবন জাবাল (রাঃ)-এর সাথী ছিলেন, তিনি বলেনঃ মু’আয ইবন জাবাল (রাঃ) যখন কোন যিকিরের মজলিসে বসতেন, তখন এরূপ বলতেন যে, আল্লাহ্ তা’আলা সত্য প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং সন্দেহ পোষণকারীরা ধ্বংস হয়েছে। একদিন তিনি বলেনঃ তোমাদের পরবর্তী সময়ে ব্যাপক ফিতনার সৃষ্টি হবে। সে সময় ধন-সম্পদের প্রাচুর্য হবে এবং কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে। ফলে, মু’মিন, মুনাফিক, স্ত্রী-পুরুষ, ছোট-বড় গোলাম ও স্বাধীন ব্যক্তি তার জ্ঞান অর্জন করবে।
তখন এক ব্যক্তি এরূপ বলবেঃ লোকদের কি হয়েছে? তারা আমার অনুসরণ কেন করে না, অথচ আমি কুরআন পড়েছি! তারা ততক্ষণ আমার অনুসরণ করবে না, যতক্ষণ না আমি কুরআন ব্যতীত অন্য জিনিস তাদের সামনে পেশ করি। কাজেই, কেউ যদি এরূপ কিছু করে, তবে তোমরা তা অস্বীকার করবে। কেননা, এরূপ যা কিছু উদ্ভাবিত হবে, তা গুমরাহী এবং আমি আলিমদের গুমরাহী সম্পর্কে অধিক শংকিত। কেননা, শয়তান কখনো কখনো আলিমদের মুখ থেকে গুমরাহীর কথা বের করে দেয় এবং কোন কোন সময় মুনাফিকও সত্য কথা বলে।
রাবী বলেনঃ তখন আমি মু’আয (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ জ্ঞানী ব্যক্তি যে অজ্ঞানের মত কথা বলতে পারে এবং মুনাফিক ও কোন সময় সত্য কথা বলতে পারে, তা আমরা কিভাবে অবগত হতে পারি? তিনি বলেনঃ তোমরা জ্ঞানীদের সে সব কথা পরিহার করবে, যা ভুল ও মিথ্যার সাথে প্রসিদ্ধি লাভ করবে এবং লোকেরা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করবে। এ সময় ও তোমরা তাদের সাথে সস্পর্কচ্ছেদ করবে না; কেননা, হয়তো তারা তা থেকে ফিরে আসতে পারে। তোমরা তাদের থেকে সত্য কথা শ্রবণ করবে এবং তা গ্রহণ করবে। কেননা, হকের মধ্যে সত্যের নূর নিহিত থাকে।
৪৫৩৬. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) .... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইবন উমার (রাঃ) এর একজন দোস্ত ছিল শাম দেশে, যিনি তার সাথে পত্রালাপ করতেন। একবার ইবন উমার (রাঃ) তাকে লেখেনঃ আমি জানতে পেরেছি যে, তুমি তাকদীরের ব্যাপারে কথাবার্তা বলেছ! এখন থেকে তুমি আমার কাছে আর পত্র লিখবে না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে এমন লোক সৃষ্টি হবে যারা তাকদীরকে অস্বীকার করবে।
৪৫৩৭. আবদুল্লাহ ইবন জাররাহ (রহঃ) ..... খালিদ হাযযা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হাসান বসরী (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ হে আবূ সাঈদ! আমাকে বলুন, আদম (আঃ)-কে কি আসমানের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল, না যমীনের জন্য? তিনি বলেনঃ তাকে যমীনের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল। আমি বলিঃ যদি তিনি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতেন এবং নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ না করতেন? তিনি বলেনঃ এ ছাড়া তার গত্যন্তর ছিল না, (কেননা, তাঁর তাকদীরে এরূপ লেখা ছিল)। আমি বলি, আপনি আমাকে এ আয়াত সম্পর্কে বলুনঃ শয়তান তোমাদের কাউকে গুমরাহ করতে পারে না, তবে তাকে, যে জাহান্নামের যাবে। তিনি বলেনঃ অবশ্যই শয়তান তার গুমরাহীতে কাউকে আবদ্ধ করতে পারে না, তবে তাকে, যার জন্য আল্লাহ জাহান্নাম অবধারিত করেছেন।
৪৫৩৮. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ..... হাসান (রহঃ) এ আয়াত সম্পর্কে বলেনঃ (وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ) অর্থাৎ আল্লাহ্ তাদের এজন্য সৃষ্টি করেছেন। এ ব্যাখ্যায় তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তাদের পয়দা করেছেন জান্নাতের জন্য এবং ওদের (কাফিরদের) সৃষ্টি করেছেন জাহান্নামের জন্য।
৪৫৩৯. আবূ কামিল (রহঃ) .... খালিদ হাযযা (রহঃ) বলেনঃ আমি হাসান (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, এ আয়াতের অর্থ কি? যেখানে বলা হয়েছেঃ শয়তান তোমাদের কাউকে গুমরাহ করতে পারে না, তবে যে জাহান্নামে যাবে, (তার কথা স্বতন্ত্র)। তিনি বলেনঃ অবশ্যই শয়তান তার গুমরাহীর ফাঁদে তাকেই আবদ্ধ করবে, যার জন্য আল্লাহ্ জাহান্নাম ওয়াজিব করেছেন।
৪৫৪০. হিলাল ইবন বিশর (রহঃ) ..... হুমায়দ (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, হাসান (রহঃ) বলতেনঃ আসমান থেকে যমীনে পতিত হওয়া এরূপ বলা থেকে উত্তম যে, সব কর্তৃত্ব আমার হাতে।
৪৫৪১. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) .... হুমায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হাসান (রহঃ) মক্কায় আমাদের নিকট আসলে, মক্কার ফকীহগণ আমাকে বলেনঃ আপনি হাসান (রহঃ)-কে বলুন, তিনি যেন একদিন ওয়াজ করেন। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, ঠিক আছে। এরপর লোকেরা একত্রিত হলে হাসান (রহঃ) তাদের সামনে ওয়াজ করেন। আমি তাঁর চাইতে উত্তম বক্তা আর কাউকে দেখিনি। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ হে আবূ সাঈদ! শয়তানকে কে সৃষ্টি করেছে? তিনি বলেনঃ সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ স্রষ্টা আছে কি? আল্লাহ্ শয়তানকে সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি ভাল ও মন্দ সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তাদের ধ্বংস করুন! তারা কিরূপে এ বুযূর্গের উপর মিথ্যা অপবাদ দেয়।
৪৫৪২. ইবন কাছীর (রহঃ) .... হুমায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, হাসান (রহঃ) বলেনঃ আল্লাহ্র বাণীঃ এভাবেই আমি একে গুনাহগারদের অন্তরে নিক্ষেপ করি, অর্থাৎ শিরিককে।
৪৫৪৩. মুহাম্মদ ইবন কাছীর (রহঃ) ... হাসান (রহঃ) বলেনঃ মহান আল্লাহ্র বাণীঃ তাদের মধ্যে এবং তারা যা চায় তার মধ্যে প্রতিবন্ধক হয়েছে। তিনি বলেনঃ এর অর্থঃ তাদের মধ্যে এবং ঈমানের মধ্যে প্রতিবন্ধক হয়েছে।
৪৫৪৪. মুহাম্মদ ইবন উবায়দ (রহঃ) ..... ইবন আওন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি শামের দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় পেছন থেকে আমাকে একজন ডাকে। আমি তাকিয়ে দেখি, সে হলো-রাজা ইবন হাওয়া। তিনি বলেনঃ হে আবূ আওন! লোকেরা হাসান (রহঃ) থেকে এসব কী বর্ণনা করে? আমি বলিঃ তারা অধিকাংশ সময় তার উপর মিথ্যা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকে।
৪৫৪৫. সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) .... আয়্যূব (রহঃ) বলেনঃ হাসান (রহঃ)-এর উপর দু’ধরনের লোক মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। একটি হলো কাদরীয়া-তারা চায় যে, তার নাম ব্যবহারে তাঁদের বক্তব্য গৃহীত হোক। দ্বিতীয় শ্রেণী হলো তারা- যারা শত্রুতাবশত তার সম্পর্কে এরূপ বলে যে, তিনি এরূপ বলেছেন, সেরূপ বলেছেন।
৪৫৪৭. ইবন মুছান্না ও ইবন বাশশার (রহঃ) ..... ইবন আওন (রহঃ) বলেনঃ যদি আমরা জানতাম যে, হাসান (রহঃ) যা বলেছেন, তা প্রসিদ্ধ হয়ে যাবে, তবে তাঁর কাছে গিয়ে একটা কিতাব রচনা করতাম এবং লোকদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতাম। কিন্তু আমরা এমন কথা বলেছি, যা প্রত্যাহার যোগ্য নয়।
৪৫৫০. আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন হাম্বল (রহঃ) .... আবূ রাফি (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদের মাঝে কাউকে এরূপ পাব না, যে তার খাটের উপর বালিশে হেলান দিয়ে থাকে। যদি তার কাছে আমার কোন আদেশ বা নিষেধ আসে, তখন সে বলেঃ আমি তো এ জানি না। বরং আমি আল্লাহ্র কিতাবে যে নির্দেশ পেয়েছি, তার অনুসরণ করি।
হাদিস নং ৪৫৫১সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَخْرَمِيُّ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ " . قَالَ ابْنُ عِيسَى قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَنَعَ أَمْرًا عَلَى غَيْرِ أَمْرِنَا فَهُوَ رَدٌّ " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৫৫১. মুহাম্মদ ইবন সাব্বাহ (রহঃ) ..... আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের এ দীনের মধ্যে নতুন কিছুর সংযোজন করবে, যা এতে নেই তা পরিত্যাজ্য। রাবী ঈসা (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা যা করিনি, যদি এমন কাজ কেউ করে, তাবে তা পরিত্যাজ্য।
৪৫৫২. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) .... হাজার ইবন হাজার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা ইরবায ইবন সারিয়া (রাঃ) এর নিকট গমন করি, যার শানে এ আয়াত নাযিল হয়ঃ তাদের জন্য কোন অসুবিধা নেই, যারা আপনার নিকট এ জন্য আসে যে, আপনি তাদের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করবেন। আপনি বলেনঃ আমি তো তোমাদের জন্য কোন বাহন পাই না।
রাবী বলেনঃ আমরা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁকে সালাম করি এবং বলিঃ আমরা আপনাকে দেখার জন্য, আপনার খিদমতের জন্য এবং আপনার কাছ থেকে কিছু সংগ্রহের জন্য এসেছি। তখন তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সঙ্গে সালাত আদায়ের পর, আমাদের দিকে ফিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন, যাতে আমাদের চোখ অশ্রু ভারাক্রান্ত হয় এবং অন্তর ভীত-সন্ত্রস্থ হয়। আমাদের মধ্যে একজন বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মনে হচ্ছে এ আপনার বিদায়ী ভাষণ, কাজেই আপনি আমাদের আরো কিছু অছীয়ত করুন।
তখন তিনি বলেনঃ আমি তোমাদের তাকওয়া অবলম্বনের জন্য বলছি এবং শোনা ও মানার জন্যও, যদিও তোমাদের আমীর হাবশী গোলাম হয়। কেননা, তোমাদের মাঝে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা বহু মতভেদ দেখতে পাবে। এমতাবস্থায় তোমাদের উচিত হবে আমার ও আমার খুলাফায়ে-রাশেদার সুন্নাতের অনুসরণ করা, যারা সত্য ও ন্যায়ের অনুসারী। তোমরা তাদের দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করবে। তোমরা বিদ’আতের অনুসরণ ও অনুকরণ করা হতে দূরে থাকবে। কেননা, প্রত্যেক নতুন কথাই বিদ’আত এবং প্রত্যেক বিদ’আতই গুমরাহী।
৪৫৫৩. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অধিক বচসা ও ঝগড়াকারী লোকেরা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে। তিনি তিনবার এরূপ বলেন।
৪৫৫৪. ইয়াহ্ইয়া ইবন আইউব (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লোকদের হিদায়েতের দিকে আহবান করবে, সে ঐ লোকের সম-পরিমাণ ছওয়াব পাবে, যে তার অনুসরণ করবে। আর তাদের বিনিময় থেকে কিছুই কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি লোকদের গুমরাহীর দিকে ডাকবে, সে ব্যক্তি তাদের গুনাহের সম-পরিমাণ ভাগী হবে, যারা তার অনুসরণ করবে। আর তাদের গুনাহ থেকে কিছুই কম করা হবে না।
৪৫৫৫. উছমান ইবন আবূ শায়বা (রহঃ) .... সাঈদ (রহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের মাঝে সব চাইতে বড় গুনাহগার ঐ ব্যক্তি, যে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে, যা হারাম ছিল না; কিন্তু তার জিজ্ঞাসার কারণে তা হারাম হয়ে যায়।
৮. সাহাবীদের ফযীলত সস্পর্কে।
হাদিস নং ৪৫৫৬সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كُنَّا نَقُولُ فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لاَ نَعْدِلُ بِأَبِي بَكْرٍ أَحَدًا ثُمَّ عُمَرَ ثُمَّ عُثْمَانَ ثُمَّ نَتْرُكُ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لاَ تَفَاضُلَ بَيْنَهُمْ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৫৫৬. উছমান ইবন আবূ শায়বা (রহঃ) ... ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় বলতামঃ আবূ বকর (রাঃ)-এর সমতুল্য আর কেউ নেই। এরপর উমার (রাঃ) এবং তারপর উছমান (রাঃ)। এদের পর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের কাউকে অন্য কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিতাম না।
হাদিস নং ৪৫৫৭সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ قَالَ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِنَّ ابْنَ عُمَرَ قَالَ كُنَّا نَقُولُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَىٌّ أَفْضَلُ أُمَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَهُ أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ عُمَرُ ثُمَّ عُثْمَانُ رضى الله عنهم أَجْمَعِينَ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৫৫৭. আহমদ ইবন সালিহ (রহঃ) .... ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় এরূপ বলতাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবূ বকর, তারপর উমার এবং এরপর উছমান (রাঃ)।
৪৫৫৮. মুহাম্মদ ইবন কাছীর (রহঃ) .... মুহাম্মদ ইবন হানাফীয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আমার পিতা আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে? তিনি বলেনঃ আবূ বকর (রাঃ)। আমি আবার জিজ্ঞাসা করিঃ এরপর কে? তিনি বলেনঃ উমার (রাঃ)।
রাবী বলেনঃ আমার ভয় হয়, যদি আমি জিজ্ঞাসা করিঃ এরপর কে? আর তিনি বলেনঃ উছমান (রাঃ)। তাই আমি তাকে বলি হে আমার পিতা! এরপর কি আপনি শ্রেষ্ঠ? জবাবে তিনি বলেনঃ আমি তো মুসলিমদের মধ্যে একজন। (এটা তাঁর বিনয়ের প্রকাশ)।
৪৫৫৯. মুহাম্মদ ইবন মিসকীন (রহঃ) .... সুফিয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি এরূপ মনে করবে যে, আলী (রাঃ) আবূ বকর ও উমার (রাঃ) অপেক্ষা খিলাফতের জন্য অধিক উপযুক্ত ছিলেন; তবে সে ব্যক্তি আবূ বকর (রাঃ), উমার (রাঃ) এবং সমস্ত আনসার ও মুহাজিরদের ক্রটি চিহ্নিত করবে। (কেননা আবূ বকর (রাঃ) মুহাজির ও আনসারদের সর্ব সম্মতিক্রমে খলীফা নির্বাচিত হয়েছিলেন)। তিনি আরো বলেনঃ যার এরূপ ধারণা পোষণ করবে, তাদের আমল (আল্লাহর নিকট পৌছাবে) যাবে বলে আমার মনে হয় না।
৪৫৬১. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি রাতে স্বপ্নে দেখি যে, এক টুকরা মেঘ, যা থেকে ঘি ও মধু বর্ষিত হচ্ছে। এরপর আমি দেখি যে, লোকেরা হাত বাড়িয়ে তা আহরণ করছে, কেউ বেশী আর কেউ কম। এরপর আমি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত একটা ঝুলন্ত রশি দেখতে পাই। আমি দেখি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি সে রশি ধরে উপরে উঠে গেলেন। তারপর দ্বিতীয় ব্যক্তি তা ধরে উপরে উঠে যায়। পরে আর এক ব্যক্তি তা ধরে উপরে চলে যায়। এরপর এক ব্যক্তি তা ধরলে, সেটি ছিড়ে যায়, পরে তা ঠিক হলে, তিনি তা ধরে উপরে গমন করে।
একথা শুনে আবূ বকর (রাঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনি আমাকে এ স্বপ্নের তা’বীর বর্ণনা করাব অনুমতি দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আচ্ছা, তুমি এ স্বপ্নের তা’বীর বর্ণনা কর। আবূ বকর (রাঃ) বলেনঃ মেঘের টুকরা হলো দীন ইসলাম। আর যে ঘি ও মধু তা থেকে বর্ষিত হচ্ছে, তা হলো কুরআনের মিষ্টি-মধুর বচন এবং কম-বেশী সংগ্রহকারীর অর্থ হলো- কুরআনের ইলম কম-বেশী অর্জনকারী। আর আসমান ও যমীনের মাঝে ঝুলন্ত রশির অর্থ হলো ঐ সত্য দীন, যার উপর আপনি প্রতিষ্ঠিত।
তারপর আল্লাহ্ আপনাকে উঠিয়ে নিলে, খিলাফতের ঐ দায়িত্ব আর এক ব্যক্তি গ্রহণ করবে, তাকেও উঠিয়ে নেয়া হবে। এরপর আর এক ব্যক্তি সে দায়িত্ব গ্রহণ করলে, তাকেও উঠিয়ে নেওয়া হবে। পরে এক ব্যক্তি সে দায়িত্ব গ্রহণ করলে, রশি ছিড়ে যাবে, পরে তা মিলিত হবে এবং তাকেও উঠিয়ে নেওয়া হবে। এরপর তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি বলুন, আমি স্বপ্নের তা’বীর কি সঠিকভাবে বর্ণনা করতে পেরেছি, না ভুল হয়েছে? তিনি বলেনঃ তুমি কিছু ঠিক এবং কিছু ভুল বর্ণনা দিয়েছ। তখন তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি শপথ দিয়ে বলছি, আমি যা ভুল করেছি, তা আমাকে বলে দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি কসম খেয়ো না।
হাদিস নং ৪৫৬২যঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ فَأَبَى أَنْ يُخْبِرَهُ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪৫৬২. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ)-এর ক্রটি সম্পর্কে তাকে অবহিত করতে অস্বীকার করেন। হাদীছের এ অংশ উপরোক্ত ঘটনার অংশ।
হাদিস নং ৪৫৬৩সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا الأَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ " مَنْ رَأَى مِنْكُمْ رُؤْيَا " . فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا رَأَيْتُ كَأَنَّ مِيزَانًا نَزَلَ مِنَ السَّمَاءِ فَوُزِنْتَ أَنْتَ وَأَبُو بَكْرٍ فَرُجِحْتَ أَنْتَ بِأَبِي بَكْرٍ وَوُزِنَ عُمَرُ وَأَبُو بَكْرٍ فَرُجِحَ أَبُو بَكْرٍ وَوُزِنَ عُمَرُ وَعُثْمَانُ فَرُجِحَ عُمَرُ ثُمَّ رُفِعَ الْمِيزَانُ فَرَأَيْنَا الْكَرَاهِيَةَ فِي وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আবূ বাকরা (রাঃ)
৪৫৬৩. মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) .... আবূ বকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমাদের মধ্যে কে স্বপ্ন দেখেছে? তখন এক ব্যক্তি বলেঃ আমি স্বপ্নে দেখি যে, আসমান থেকে একটা দাঁড়ি-পাল্লা নাযিল হয়েছে, তাতে আপনাকে ও আবূ বকর (রাঃ)-কে মাপা হলে, আপনার ওযন আবূ বকর (রাঃ) থেকে অধিক হয়। এরপর উমার ও আবূ বকর (রাঃ)-কে মাপা হলে, আবূ বকর (রাঃ)-এর পাল্লা ভারী হয়। তারপর উমার ও উছমান (রাঃ)-কে মাপা হলে, উমার (রাঃ)-এর পাল্লা অধিক ওযন বিশিষ্ট হয়। এরপর সে দাঁড়ি-পাল্লা উপরে উঠে যায়। রাবী বলেনঃ এ বৃত্তান্ত শোনার পর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় অসন্তুষ্টির ছাপ দেখতে পাই।
হাদিস নং ৪৫৬৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ " أَيُّكُمْ رَأَى رُؤْيَا " . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ وَلَمْ يَذْكُرِ الْكَرَاهِيَةَ . قَالَ فَاسْتَاءَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْنِي فَسَاءَهُ ذَلِكَ فَقَالَ " خِلاَفَةُ نُبُوَّةٍ ثُمَّ يُؤْتِي اللَّهُ الْمُلْكَ مَنْ يَشَاءُ " .
বর্ণনাকারী: আবূ বাকরা (রাঃ)
৪৫৬৪. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ...... আবূ বকরা (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের মাঝে কে স্বপ্ন দেখেছে? এরপর পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ নেই, বরং এরূপ উল্লেখ আছে যে, এ স্বপ্নকে তিনি ভাল মনে করেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ খিলাফত হবে নবুওয়াতের। এরপর আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা করবেন, সুলতানাত (বাদশাহী) দান করবেন।
হাদিস নং ৪৫৬৫যঈফ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أُرِيَ اللَّيْلَةَ رَجُلٌ صَالِحٌ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ نِيطَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنِيطَ عُمَرُ بِأَبِي بَكْرٍ وَنِيطَ عُثْمَانُ بِعُمَرَ " . قَالَ جَابِرٌ فَلَمَّا قُمْنَا مِنْ عِنْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْنَا أَمَّا الرَّجُلُ الصَّالِحُ فَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَّا تَنَوُّطُ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ فَهُمْ وُلاَةُ هَذَا الأَمْرِ الَّذِي بَعَثَ اللَّهُ بِهِ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ يُونُسُ وَشُعَيْبٌ لَمْ يَذْكُرَا عَمْرًا .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
৪৫৬৫. আমর ইবন উছমান (রহঃ) .... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আজকের রাতে একজন নেক-বখত লোককে স্বপ্ন দেখানো হয়েছে যে, আবূ বকর (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে; আর উমার (রাঃ)-কে আবূ বকর (রাঃ)-এর সংযুক্ত করা হয়েছে এবং উছমান (রাঃ)-কে উমার (রাঃ)-এর সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রাবী জাবির (রাঃ) বলেনঃ যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে গমন করি, তখন আমার মনে এরূপ উদয় হয় যে, নেককার ব্যক্তি হলেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আর একজন অপর জনের সাথে সংযুক্ত হওয়ার অর্থ হলোঃ তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কাজের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যে জন্য আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর নবীকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন।
৪৫৬৬. মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) .... সামুরা ইবন জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি এরূপ বর্ণনা করেন যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি (স্বপ্নে) দেখেছি যে, আসমান থেকে একটা বালতি ঝুলানো হয়েছে। আবূ বকর (রাঃ) এসে তার দু’পাশ ধরে সামন্য পানি পান করেন। এরপর উমার (রাঃ) এসে তার দু’পাশ ধরে তৃপ্তির সাথে পানি পান করেন। তারপর উছমান (রাঃ) এসে তার দু’পাশ ধরে পরিতৃপ্তির সাথে পানি পান করেন। এরপর আলী (রাঃ) এসে সে বালতির দু’পাশ ধরে উপুড় করলে, তা থেকে কিছু পানি তাঁর শরীরে গিয়ে পড়ে।
৪৫৬৮. মূসা ইবন আমির (রহঃ) .... আবদুর রহমান ইবন সুলায়মান (রাঃ) বলেনঃ আজমী বাদশাহদের থেকে একজন বাদশাহ অচিরেই বের হবেন, যিনি দামিশক ছাড়া আর সব শহর দখল করবেন।
হাদিস নং ৪৫৬৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا بُرْدٌ أَبُو الْعَلاَءِ، عَنْ مَكْحُولٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَوْضِعُ فُسْطَاطِ الْمُسْلِمِينَ فِي الْمَلاَحِمِ أَرْضٌ يُقَالُ لَهَا الْغُوطَةُ " .
বর্ণনাকারী: মাকহূল (রহঃ)
৪৫৬৯. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ..... মাকহূল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যুদ্ধের সময় মুসলিমদের তাঁবু একস্থানে অবস্থিত থাকবে, যাকে ’গুতা’ বলা হয়। (এটি শাম দেশে, দামিশকের কাছে অবস্থিত একটা স্থানের নাম।)
৪৫৭০. আবূ জা’ফর (রহঃ) ..... আওফ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ-কে খুতবার মধ্যে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ উছমান (রাঃ)-এর মর্যাদা আল্লাহ্র কাছে ঈসা ইবন মারয়াম (আঃ)-এর মত। এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেনঃ যখন আল্লাহ্ বলেনঃ হে ঈসা! আমি তোমাকে (পরে) মৃত্যুদান করবো, আর (এখন) তোমাকে কাফিরদের থেকে। আর তোমার অনুসারীদের বিজয়ী করবো কাফিরদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত। এ সময় হাজ্জাজ তার হাত দিয়ে আমাদের দিকে ইশারা করেন এবং শামের অধিবাসীদের উপর।
৪৫৭১. ইসহাক ইবন ইসমাঈল (রহঃ) .... দাবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হাজ্জাজ-কে খুতবা দিতে শুনি। আর তিনি তার খুতবায় বলেনঃ তোমাদের মধ্যে প্রেরিত কোন রাসূল শ্রেষ্ঠ অথবা সে, যে তার আহলের মধ্যে খলীফা?
রাবী বলেনঃ তখন আমি মনে মনে বলিঃ এখন আল্লাহ্র হক আমার উপর এই যে, আমি তোমার পেছনে আর কখনো সালাত আদায় করবো না। আর আমি যদি এমন কোন কাওম পাই, যারা তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, তবে অবশ্যই আমি তাদের সাথী হয়ে তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো।
রাবী ইসহাক (রহঃ) তার হাদীছে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ’জামাজিম’ নামক স্থানে (তার বিরুদ্ধে জিহাদ করে) শহীদ হন।
৪৫৭২. মুহাম্মদ ইবন আলা (রহঃ) .... আসিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হাজ্জাজকে মিম্বর থেকে খুতবা দেয়ার সময় বলতে শুনিঃ তোমরা আল্লাহ্কে যথা সম্ভব ভয় কর, এতে কোন শর্ত নেই। এ ভাবেই শোন এবং অনুসরণ কর শর্তহীনভাবে মু’মিনদের আমীর আবদুল মালিকের। আল্লাহ্র শপথ! আমি যদি লোকদের নির্দেশ দেই মসজিদের এ দরজা দিয়ে বের হওয়ার, আর তারা অন্য দরজা দিয়ে বের হয়, তবে তাদের রক্ত ও মাল আমার জন্য হালাল হয়ে যাবে।
আল্লাহ্র শপথ! যদি আমি ’মুদার’ গোত্রের অপরাধে ’রাবীআ’ গোত্রেকে পাঁকড়াও করি, তবে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে এটা আমার জন্য হালাল। আমার কাছে আবদে হুযায়লের পক্ষ থেকে ওযর পেশ করবে, যে মনে করে, আমি যে ভাবে কুরআন তিলাওয়াত করি, তা আল্লাহ্র থেকে? আল্লাহ্র শপথ! তা তো একটা গীত মাত্র, আরবদের সংগীত থেকে। আল্লাহ্ তা তাঁর নবীর উপর নাযিল করেননি।
আমার কাছে ঐ আজমী লোকদের পক্ষ থেকে ওযর পেশ করবে, তারা তো পাথর নিক্ষেপ করে অর্থাৎ ফিতনা-ফ্যাসাদের কথা সৃষ্টি করে এবং বলেঃ দেখ! এ পাথর কোন পর্যন্ত যায়। আল্লাহ্র শপথ! আমি তাদের গত দিনের মত নাস্তানাবুদ করে দেব। রাবী বলেনঃ আমি এ কথাগুলো আমাশ (রহঃ)-এর কাছে বর্ণনা করলে, তিনি বলেনঃ আল্লাহ্র শপথ! আমি হাজ্জাজ থেকে এরূপ শুনেছি!
৪৫৭৩. উছমান ইবন আবূ শায়বা (রহঃ) .... আমাশ (রহঃ) বলেনঃ আমি হাজ্জাজকে মিম্বর থেকে এরূপ বলতে শুনেছি যে, আজমী লোকেরা কাঁটার মত। আল্লাহ্র শপথ! যদি আমি কাঠকে কাঠের উপর আঘাত করি, তবে তাকে এ ভাবে নাস্তানাবুদ করে দেব, যেমন গত কাল চলে গেছে!
৪৫৭৫. সাওয়ার ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) .... সাফীনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নবুওয়াতের খিলাফত এর সময়কাল হলো ত্রিশ বছর। এরপর আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা রাজত্ব বা বাদশাহী দান করবেন।
রাবী সাঈদ (রহঃ) বলেনঃ সাফীনা (রাঃ) আমাকে বলেনঃ তুমি হিসাব কর। আবূ বকর (রাঃ)-এর শাসনকাল হবে দু’ বছর, উমর (রাঃ)-এর দশ বছর, উছমান (রাঃ)-এর বার বছর এবং আলী (রাঃ)-এর অর্থাৎ ছ’বছর।
রাবী সাঈদ বলেনঃ তখন আমি সাফীনা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, বনূ-মারওয়ান এরূপ ধারণা করে যে, আলী (রাঃ) খলীফাদের অন্তর্ভুক্ত নন। তিনি বলেনঃ বনূ-মারওয়ানরা মিথ্যা বলেছে।
৪৫৭৬. মুহাম্মদ ইবন আলা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন জালিম মাযিনী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সাঈদ ইবন যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়ল (রহঃ) থেকে শ্রবণ করেছি যে, যখন অমুক ব্যক্তি কূফায় এসে অমুক ব্যক্তিকে খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড় করিয়ে দেয়, তখন সাঈদ ইবন যায়দ (রাঃ) আমার হাত ধরে বলেনঃ তুমি কি ঐ জালিম ব্যক্তিকে দেখছো না; আমি নয়জন ব্যক্তি সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তারা জান্নাতী। আর আমি যদি দশম ব্যক্তি সম্পর্কে ও সাক্ষ্য দেই, তবু ও আমি গুনাহগার হবো না। এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞাসা করিঃ ঐ নয় ব্যক্তি কারা? তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিরা পর্বতের উপর উঠলে, তা কাঁপতে থাকে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ওহে হিরা! তুমি স্থির হও। আমি আবার প্রশ্ন করিঃ ঐ নয় ব্যক্তি কে কে? তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তারা হলোঃ ১। আবূ বকর (রাঃ) ২। উমার (রাঃ) ৩। উছমান (রাঃ) ৪। আলী (রাঃ) ৫। তালহা (রাঃ) ৬। যুবায়র (রাঃ) ৭। সা’আদ ইবন আবী ওয়াককাস (রাঃ) ৮। আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) ৯। এরপর আমি জিজ্ঞাসা করিঃ দশম ব্যক্তিটি কে? তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলেনঃ আমি নিজে।
৪৫৭৭. হাফ্স ইবন উমার (রহঃ) .... আবদুর রহমান ইবন আখনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি মসজিদে অবস্থানকালে এক ব্যক্তি আলী (রাঃ) সম্পর্কে আলোচনা করলে, সাঈদ ইবন যায়দ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বলেনঃ আমি এরূপ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, দশ ব্যক্তি বিনা হিসাবে বেহেশতে যাবে। তাঁরা হলেনঃ ১। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতে যাবেন, ২। আবূ বকর (রাঃ) জান্নাতী, ৩। উমার (রাঃ) জান্নাতী, ৪। উছমান (রাঃ) জান্নাতী, ৫। আলী (রাঃ) জান্নাতী, ৬। তালহা (রাঃ) জান্নাতী, ৭। যুবায়র ইবন আওয়াম (রাঃ) জান্নাতী ৮। সা’আদ ইবন মালিক (রাঃ) জান্নাতী, ৯। আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) জান্নাতী।
তিনি বলেনঃ আমি ইচ্ছা করলে দশম ব্যক্তির নামও বলতে পারি। তখন লেকেরা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ সে লোকটি কে? তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলেনঃ তিনি হলেন সাঈদ ইবন যুবায়র (রাঃ), অর্থাৎ তিনি নিজে।
৪৫৭৮. আবূ কামিল (রহঃ) ..... রাবাহ ইবন হারিছ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি কূফার মসজিদে অমুক ব্যক্তির পাশে বসা ছিলাম। এ সময় কূফার লোকেরা তার কাছে উপস্থিত হয়। এ সময় সেখানে সাঈদ ইবন যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়ল (রাঃ) আসলে, মুগীরা ইবন শু’বা (রাঃ) তাকে অভ্যর্থনা জানান এবং সালাম বিনিময়ের পর তাঁকে তিনি তার পায়ের নিকটবর্তী আসনে বসান। এরপর সেখানে কায়স ইবন আল্কামা (রহঃ) নামক কূফার একজন অধিবাসী আসেন। মুগীরা (রাঃ) তাকেও অভ্যর্থনা জানান। তখন সে ব্যক্তি আলী (রাঃ) সম্পর্কে কটুক্তি করলে, সাঈদ (রাঃ) জিজ্ঞাসা করেনঃ এ ব্যক্তি কার সম্পর্কে কটুক্তি করছে? তখন মুগীরা (রাঃ) বলেনঃ আলী (রাঃ) সম্পর্কে।
এ সময় সাঈদ (রাঃ) বলেনঃ আমি আপনার কাছে এমন কিছু লোককে দেখতে পাচ্ছি, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মন্দ বলছে! অথচ আপনি তাদের তা থেকে নিষেধ করছেন না এবং বিরত থাকতেও বলছেন না। এরপর তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনেছি!
রাবী বলেনঃ এ ব্যাপারে আমার কোন প্রয়োজন নেই, তবে আমি আপনার ব্যাপারে এমন কিছু বলবো, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি। যে কারণে তিনি কিয়ামতের দিন আমাকে পাঁকড়াও করবেন, যখন তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হবে। তিনি বলেনঃ আবূ বকর জান্নাতী, উমার জান্নাতী। তারপর রাবী পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা প্রসংগে বলেনঃ সাহাবীগণের মাঝে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সোহবত লাভ করেছেন এবং এজন্য তাদের মুখ মগুলে ধূলাবালি নিক্ষিপ্ত হয়েছে, তারা তোমাদের মধ্যকার ঐ ব্যক্তির চাইতে উত্তম, যে নূহ (আঃ)-এর হায়াত কালের সমান নেক আমল করে।
হাদিস নং ৪৫৭৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، حَدَّثَهُمْ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَعِدَ أُحُدًا فَتَبِعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ فَرَجَفَ بِهِمْ فَضَرَبَهُ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرِجْلِهِ وَقَالَ " اثْبُتْ أُحُدُ نَبِيٌّ وَصِدِّيقٌ وَشَهِيدَانِ " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৫৭৯. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ পাহাড়ের উপর আরোহণ করেন এবং সে সময় তাঁর সাথে আবূ বকর, উমার ও উছমান (রাঃ) ছিলেন। এ সময় পাহাড় কাঁপতে থাকলে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পদাঘাত করে বলেনঃ তুমি স্থির হও। তোমার উপর নবী, সিদ্দীক ও দু’জন শহীদ রয়েছে।
হাদিস নং ৪৫৮০সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَيَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الرَّمْلِيُّ، أَنَّ اللَّيْثَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ يَدْخُلُ النَّارَ أَحَدٌ مِمَّنْ بَايَعَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ " .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
৪৫৮০. কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) .... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা রিদওয়ান বৃক্ষের নীচে বায়’আত গ্রহণ করেছে, তাদের কেউ জাহান্নামে যাবে না।
৪৫৮১. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী সাহাবীদের এরূপ সুসংবাদ দিয়েছেন যে, তোমরা তোমাদের খুশীমত আমল কর, আমি তোমাদের মাফ করে দিয়েছি।
হাদিস নং ৪৫৮২সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ ثَوْرٍ، حَدَّثَهُمْ عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ . قَالَ فَأَتَاهُ - يَعْنِي عُرْوَةَ بْنَ مَسْعُودٍ - فَجَعَلَ يُكَلِّمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَكُلَّمَا كَلَّمَهُ أَخَذَ بِلِحْيَتِهِ وَالْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ قَائِمٌ عَلَى رَأْسِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ السَّيْفُ وَعَلَيْهِ الْمِغْفَرُ فَضَرَبَ يَدَهُ بِنَعْلِ السَّيْفِ وَقَالَ أَخِّرْ يَدَكَ عَنْ لِحْيَتِهِ . فَرَفَعَ عُرْوَةُ رَأْسَهُ فَقَالَ مَنْ هَذَا قَالُوا الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ .
বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ)
৪৫৮২. মুহাম্মদ ইবন উবায়দ (রহঃ) .... মিসওর ইবন মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার সন্ধি স্থানে গমন করেন। এরপর তিনি হাদীছ বর্ণনা প্রসংগে বলেনঃ তখন সেখানে উরওয়া ইবন মাসউদ (রাঃ) এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কথা-বার্তা বলতে থাকেন এবং মহব্বতের কারণে তাঁর দাঁড়ি মুবারকে হাত দিতে থাকেন। (এটা ছিল তৎকালীন আরবের প্রচলিত রীতি।)
এ সময় মুগীরা ইবন শু’বা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তার হাতে ছিল তলোয়ার এবং মাথায় ছিল লৌহ শিরস্রাণ। তিনি উরওয়ার হাতে তরবারির খোঁচা দিয়ে বলেনঃ তুমি তোমার হাতকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাঁড়ি থেকে দূরে সরিয়ে নেও। তখন উরওয়া মাথা তুলে জিজ্ঞাসা করেনঃ এ লোকটি কে? সাহাবীগণ বলেনঃ ইনি হলেন মুগীরা ইবন শু’বা (রাঃ)।
৪৫৮৩. হান্নাদ ইবন সিরী (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদা জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসে, আমার হাত ধরে, আমাকে জান্নাতের সে দরজাটি দেখান, যা দিয়ে আমার উম্মাত জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন আবূ বকর (রাঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ইচ্ছা হচ্ছে, যদি এ সময় আমি আপনার সাথে থাকতাম, তা হলে জান্নাতের সে দরজা দেখতে পেতাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবূ বকর! আমার উম্মতের মধ্যে তুমি-ই সর্ব প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে।
৪৫৮৪. হাফ্স ইবন উমার (রহঃ) .... আকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি উমার ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর মুয়াজ্জিন ছিলেন। তিনি বলেনঃ উমার (রাঃ) আমাকে নাসারাদের একজন পাদরীর কাছে পাঠান। তখন আমি তাকে ডেকে আনি। তখন উমার (রাঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ আমার কোন অবস্থার বর্ণনা তোমাদের কিতাবে আছে কি? সে বলেঃ হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তা কিরূপ। তখন সে পাদরী বলেঃ ’কারনা’ হিসাবে আপনাকে পাই। তখন উমার (রাঃ) তার উপর দোররা উঠিয়ে বলেনঃ ’কারনা’ কি? তখন সে বলেঃ আমানতদার, মজবূত এবং শক্তিশালী।
উমার (রাঃ) বলেনঃ আমার পরে যে খলীফা হবে, তার অবস্থা কি? সে বলেঃ আমি তাকে নেককার খলীফা মনে করি, তবে তিনি তাঁর আপনজনদের খেয়াল বেশী রাখবেন। তখন উমার (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহ্ উছমানের উপর রহম করুন! তিনি একথা তিনবার বলেন। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তার পরে যে খলীফা হবে সে ব্যক্তির অবস্থা কি? সে বলেঃ তিনি তো লোহার প্রতি আকৃষ্ট হবেন, (অর্থাৎ তিনি সব সময় যুদ্ধ-বিগ্রহে ব্যস্ত থাকবেন)। তখন উমার (রাঃ) তার মাথায় হাত রেখে বলেনঃ হে খাবীছ, দুর্গন্ধ! তুমি কি বলছো! তখন সে বলেঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! তিনি নেককার খলীফা হবেন। তবে যখন তিনি খলীফা হবেন, তখন তলোয়ার কোষমুক্ত থাকবে এবং রক্তপাত হতে থাকবে।
৪৫৮৫. আমর ইবন আওন (রহঃ) .... ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উত্তম উম্মাত হলো তারা, যাদের কাছে আমি প্রেরিত হয়েছি। এরপর তারা শ্রেষ্ঠ-যারা তাদের নিকটবর্তী, এরপর তারা উত্তম-যারা তাদের পরবর্তী যুগের লোক। আল্লাহ্ ভাল জানেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয় যুগের লোকদের কথা বলেছিলেন কিনা? রাবী বলেনঃ এরপর এমন লোক হবে, যারা বিনা আহবানে সাক্ষ্য দেবে এবং মানত করে তা পূরা করবে না। তারা আমানতে খিয়ানত করবে এবং হারাম খাওয়ার ফলে মোটা-তাজা হবে।
৪৫৮৬. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার সাহাবীদের সম্পর্কে কোনরূপ কটুক্তি করবে না। যার নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন, যদি তোমাদের কেউ (তাদের পরে) উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনা (আল্লাহ্র রাস্তায়) খরচ করে; তবে তাঁরা দীনের জন্য যে এক বা অর্ধ মুদ সম্পদ (যা খুবই নগণ্য) খরচ করেছে, তার সমান হবে না।
৪৫৮৭. আহমদ ইবন ইউনুস (রহঃ) .... আমর ইবন আবূ কুর্রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হুযায়ফা (রাঃ) মাদায়েনে ছিলেন এবং তিনি লোকদের কাছে ঐ সব হাদীছ বর্ণনা করতেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগাম্বিত অবস্থায় লোকদের বলতেন। যারা হুযায়ফা (রাঃ) থেকে এ ধরনের হাদীছ শুনতেন, তারা সালমান (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে তা বর্ণনা করতেন। তখন সালমান (রাঃ) বলতেনঃ হুযায়ফা (রাঃ) যা কিছু বলেনঃ সে ব্যাপারে তিনি অভিজ্ঞ। একথা লোকেরা হুযায়ফা (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে বললো যে, আমরা আপনার বর্ণিত হাদীছ সালমান (রাঃ)-এর কাছে পেশ করলে, তিনি তা সম্পর্কে সত্য বা মিথ্যা কিছুই বলেন না।
একথা শুনে হুযায়ফা (রাঃ) সালমান (রাঃ)-এর কাছে যান এবং এ সময় তিনি তরকারীর ক্ষেতে ছিলেন। তিনি তাকে বলেনঃ হে সালমান! আপনি আমার বর্ণিত ঐ সব হাদীছ কেন সত্যায়িত করেননি, যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রবণ করেছি? তখন সালমান (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন সময় রাগাম্বিত হতেন, তখন তিনি রাগান্বিত অবস্থায় সাহাবীদের সাথে কথা বলতেন। আর কখনো তিনি সন্তুষ্ট থাকতেন, তখন তিনি তাদের সাথে খোশ-মেজাযে কথা বলতেন। এরপর সালমান (রাঃ) বলেনঃ আপনি কি এরূপ কাজ থেকে বিরত থাকবেন না, যাতে একে অন্যের প্রতি রাগ-বিরাগের সৃষ্টি হয়? আর সম্ভবতঃ এর ফলে লোকদের মাঝে মতানৈক্যের সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি আরো বলেনঃ আপনি এ বিষয়ে অবহিত আছেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দেয়ার সময় বলেনঃ আমি রাগান্বিত থাকার কারণে যদি আমার উম্মাতকে কোন খারাপ কথা বলে থাকি বা তার উপর লা’নত করে থাকি, (তবে তা এজন্য যে,) আমিও আদম সন্তান। আমিও সেরূপ রাগান্বিত হই, যেরূপ অন্যরা হয়ে থাকে। অবশ্য মহান আল্লাহ্ আমাকে সারা জাহানের আমার খারাপ উক্তি ও লা’নতকে, (যা আমি করেছি,) কিয়ামতের দিন তা ঐ ব্যক্তির জন্য রহমত স্বরূপ করে দেবেন। এরপর সালমান (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহ্র শপথ! হয় আপনি এরূপ করা থেকে বিরত থাকবেন, নয়তো আমি উমার (রাঃ)-কে চিঠি দিয়ে সব জানিয়ে দেব।
৪৫৮৮. আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন যাম’আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ-যন্ত্রণা যখন তীব্র আকার ধারণ করে, তখন অন্যান্য মুসলিমদের সাথে আমিও তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম। সে সময় বিলাল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতের জন্য ডাকতে আসলে, তিনি বলেনঃ কোন এক ব্যক্তিকে বল, সে যেন লোকদের (ইমাম হয়ে) নামায পড়িয়ে দেয়। আবদুল্লাহ্ ইবন যাম’আ (রাঃ) বেরিয়ে উমার (রাঃ)-কে লোকদের মাঝে দেখতে পান; আর আবূ বকর (রাঃ) অনুপস্থিত ছিলেন। তখন আমি বলিঃ হে উমার! আপনি উঠুন এবং লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করুন। তখন উমার (রাঃ) সামনে গিয়ে উচ্চ স্বরে তাকবীর পাঠ করে নামায শুরু করলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বলেনঃ আবূ বকর কোথায়? আল্লাহ্ তা’আলা এটা (উমরের ইমামতি) অপছন্দ করেন এবং মুসলিমরাও তা অপছন্দ করে। তিনি আবূ বকর (রাঃ)-কে ডেকে পাঠান এবং তিনি সেখানে তখন উপস্থিত হন, যখন উমার (রাঃ) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে ফেলেন। এরপর (আবূ বকর) লোকদের নিয়ে সে সালাত পুনরায় আদায় করেন।
হাদিস নং ৪৫৮৯সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ يَعْقُوبَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَمْعَةَ، أَخْبَرَهُ بِهَذَا الْخَبَرِ، قَالَ لَمَّا سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَوْتَ عُمَرَ قَالَ ابْنُ زَمَعَةَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَطْلَعَ رَأْسَهُ مِنْ حُجْرَتِهِ ثُمَّ قَالَ " لاَ لاَ لاَ لِيُصَلِّ لِلنَّاسِ ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ " . يَقُولُ ذَلِكَ مُغْضَبًا .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু যাম‘আহ (রাঃ)
৪৫৮৯. আহমদ ইবন সালিহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবন যাম’আ (রাঃ) এ হাদীছ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমার (রাঃ) এর কণ্ঠস্বর শ্রবণ করেন, তখন তিনি বাইরে চলে আসেন, এমন কি তিনি তাঁর মাথা হুজরার বাইরে এনে বলেনঃ না, না, না! আবূ কুহাফার ছেলের উচিত লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগাম্বিত হয়ে এরূপ উক্তি করেন।
৪৫৯০. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আবূ বকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ইবন আলী (রাঃ) সম্পর্কে বলেনঃ এ আমার ছেলে, সায়্যিদ। আমি আশা করি, আল্লাহ্ তা’আলা তার মধ্যস্থতায় আমার উম্মাতের দু’টি প্রতিদ্বন্দী দলের মাঝে সন্ধি স্থাপন করে দেবেন।
রাবী হাম্মাদ (রহঃ)-এর বর্ণনায় এরূপ আছেঃ সম্ভবতঃ আল্লাহ্ তা’আলা তার মধ্যস্থতায় দু’টি দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করে দেবেন। (বস্তুত ইমাম হাসান (রাঃ) মুআবিয়া (রাঃ)-এর সাথে সন্ধি করে একটি ফিতনার রাস্তা বন্ধ করেন।)
৪৫৯১. হাসান ইবন আলী (রহঃ) .... হুজায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রাঃ) ব্যতীত আর কাউকে ফিতনার মধ্যে নিপাতিত হওয়ার পর রক্ষা পেতে দেখিনি, যে ফিতনা সম্পর্কে আমি নিজেও ভীত ছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনি যে, (হে মুহাম্মদ ইবন মাসলামা), ফিতনার কারণে তোমার কোন ক্ষতি হবে না।
৪৫৯২. আমর ইবন মারযূক (রহঃ) .... ছা’লাবা ইবন দুবাইয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি হুযায়ফা (রাঃ)-এর নিকট গেলে, তিনি বলেনঃ আমি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জানি, ফিতনায় যার কোন ক্ষতি হবে না। আমি তার নিকট থেকে বাইরে এসে একটা তাঁবু খাটানো দেখতে পাই। আমি সেখানে প্রবেশ করে দেখি, মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রাঃ) সেখানে রয়েছেন। আমি তাঁর কাছে এর কারণ জানতে চাইলে, তিনি বলেনঃ আমি চাই না যে, তোমাদের শহরের কোন স্থান আমাকে আবদ্ধ করে রাখুক, যতক্ষণ না তা ঐ জিনিস থেকে পবিত্র হয়, যা থেকে পবিত্র হওয়া উচিত অর্থাৎ ফিতনা থেকে।
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْهُذَلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَلِيٍّ رضى الله عنه أَخْبِرْنَا عَنْ مَسِيرِكَ هَذَا أَعَهْدٌ عَهِدَهُ إِلَيْكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمْ رَأْىٌ رَأَيْتَهُ فَقَالَ مَا عَهِدَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَىْءٍ وَلَكِنَّهُ رَأْىٌ رَأَيْتُهُ .
বর্ণনাকারী: কায়স ইবনু ‘উবাদ (রহঃ)
৪৫৯৪. ইসমাঈল ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) .... কায়স ইবন আব্বাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ আপনি যে (মুআবিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য) বের হচ্ছেন, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরফ থেকে কি কোন নির্দেশ আছে, না আপনি নিজ সিদ্ধান্তে এরূপ করছেন? তিনি বলেনঃ না, এসম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কোন নির্দেশ দেননি, বরং এটা আমার নিজের সিদ্ধান্ত।
হাদিস নং ৪৫৯৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَمْرُقُ مَارِقَةٌ عِنْدَ فُرْقَةٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَقْتُلُهَا أَوْلَى الطَّائِفَتَيْنِ بِالْحَقِّ " .
বর্ণনাকারী: আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
৪৫৯৫. মুসলিম ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) .... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের মাঝে মতানৈক্যের সময় এমন এক দলের সৃষ্টি হবে, যারা ঐ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে, যারা সত্যের অধিক নিকটবর্তী।
১৪. আম্বিয়া (আ)-এর মধ্যে ফযীলত সম্পর্কে।
হাদিস নং ৪৫৯৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، - يَعْنِي ابْنَ يَحْيَى - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُخَيِّرُوا بَيْنَ الأَنْبِيَاءِ " .
বর্ণনাকারী: আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
৪৫৯৬. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আম্বিয়া (আঃ)-এর মাঝে একজনকে অপরের উপর প্রাধান্য দেবে না।
৪৫৯৭. হাজ্জাজ ইবন আবূ ইয়াকূব (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ইয়াহূদী বলেঃ ঐ জাতের কসম! যিনি মূসা (আঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিসাবে মনোনীত করেন। একথা শুনে একজন মুসলিম তার গালে চড় মারে। তখন সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ পেশ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা আমাকে মূসা (আঃ)-এর উপর প্রাধান্য দিও না। কেননা, কিয়ামতের দিন যখন সবাই বেহুশ হয়ে যাবে, তখন আমিই প্রথম হুশপ্রাপ্ত হয়ে দেখবো যে, মূসা (আঃ) আরশের কোণা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি জানি না, যারা বেহুশ হবে, মূসা (আঃ) তাদের মাঝে প্রথম হুশ ফিরে পাবেন, না আল্লাহ্ তাকে বেহুশ করবেন না।
হাদিস নং ৪৫৯৮সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا يَنْبَغِي لِعَبْدٍ أَنْ يَقُولَ إِنِّي خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى " .
বর্ণনাকারী: ইবনু শিহাব আয-যুহরী (রহঃ)
৪৫৯৮. হাফ্স ইবন উমার (রহঃ) .... ইবন শিহাব (রহঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ কেউ যেন এরূপ না বলে যে, আমি ইউনুস ইবন মাত্তা হতে শ্রেষ্ঠ।
৪৫৯৯. আবদুল আযীয ইবন ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন জা’ফর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেতেনঃ কোন নবীর জন্য এরূপ বলা উচিত নয় যে আমি ইউনুস ইবন মাত্তা (আঃ) থেকে উত্তম।
হাদিস নং ৪৬০০সহিহ
حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ، يَذْكُرُ عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا خَيْرَ الْبَرِيَّةِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ذَاكَ إِبْرَاهِيمُ " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৬০০. যিয়াদ ইবন আইউব (রহঃ) .... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে "ইয়া খায়রুল বারীআ" বা হে সৃষ্টির মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলে সম্বোধন করলে, তিনি বলেনঃ তা হলেন ইবরাহীম (আঃ)।
৪৬০১. মুহাম্মদ ইবন মুতাওয়াককিল (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি জানি না কাওমে তুব্বা লা’নতের উপযুক্ত কিনা? আর আমি এ-ও জানি না যে, উযায়র (আঃ) নবী ছিলেন কিনা?
৪৬০২. আহমদ ইবন সালিহ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, অন্য নবীদের চাইতে ঈসার সংগে আমার ঘনিষ্ঠতা অধিক। কেননা, নবীগণ পরস্পর ভাই স্বরূপ। আর ঈসা (আঃ)-ও আমার মাঝে আর কোন নবী নেই।
৪৬০৩. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানের শাখা-প্রশাখা সত্তরেরও অধিক। এর সর্বোত্তম শাখা হলো ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলা এবং সর্বনিম্ন স্তর হলো, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেয়া। আর লজ্জাও ঈমানের একটি অঙ্গ।
৪৬০৪. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসে, তখন তিনি তাদের ঈমান আনার জন্য বলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমরা কি জান, আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনার অর্থ কী? তারা বলেঃ এ ব্যাপারে আল্লাহ্ এবং তার রাসূল অধিক জ্ঞাত। তিনি বলেনঃ তা হলো- এরূপ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইল্লাহ নেই, আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া, রোযার মাসে রোযা রাখা এবং মালে গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা।
হাদিস নং ৪৬০৫সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلاَةِ " .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
৪৬০৫. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) .... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা এবং কুফরীর মধ্যবর্তী বিষয় হলো- নামায পরিত্যাগ করা।
৪৬০৬. মুহাম্মদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কা’বার দিকে মুখ ফিরানো (সালাতের মধ্যে) শুরু করেন, তখন সাহাবীগণ বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাদের কি অবস্থা হবে, যারা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ ফিরিয়ে সালাত আদায়কালীন সময়ে মারা গেছে? তখন আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেনঃ আল্লাহ্ তোমাদের ঈমান অর্থাৎ সালাত বিনষ্ট করবেন না।
৪৬০৭. মুআম্মাল ইবন ফাদল (রহঃ) ..... আবূ উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্র জন্য ভালবাসবে এবং আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য দুশমনী করবে; আর দান করবে আল্লাহ্র জন্য এবং দান করা থেকে বিরত থাকবে আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য, সে ব্যক্তি তার ঈমান পরিপূর্ণ করেছে।
৪৬০৮. আহমদ ইবন আমর (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের বলেনঃ আমি তোমাদের ন্যায় আর কাউকে- অপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী, অপূর্ণ ধর্মের অধিকারী এবং জ্ঞানী ব্যক্তিদের জ্ঞান হরণকারী- দেখিনি। জনৈক মহিলা জিজ্ঞাসা করেনঃ আকল ও দীনের অপূর্ণতার অর্থ কী? তিনি বলেনঃ জ্ঞানের অপূর্ণতা হলো-দুজন মহিলার সাক্ষ্য একজন পুরুষের সমান; আর দীনের অপূর্ণতা হলো তোমরা মাহে-রমযানে ইফতার (রোযা ভঙ্গ) কর এবং (প্রতিমাসে) কিছু দিন সালাত আদায় করো না।
১৬. ঈমান বৃদ্ধি পাওয়া ও কমে যাওয়া সম্পর্কে।
হাদিস নং ৪৬০৯হাসান
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৬০৯. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ ব্যক্তি পরিপূর্ণ মু’মিন, যার স্বভাব-চরিত্র ভাল।
৪৬১০. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) .... সা’আদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মাঝে গনীমতের মাল বণ্টন করেন, (কিন্তু তিনি এক ব্যক্তিকে কিছু দেননি)। তখন আমি বলিঃ অমুক ব্যক্তিকে কিছু দিন, সে তো মু’মিন। তিনি বলেনঃ অথবা সে তো মুসলিম! আমি কোন কোন সময় লোকদের মাঝে বন্টনের সময় আমার প্রিয় ব্যক্তিদের বাদ দেই, যাতে লোকেরা (তাদের দেয়ার কারণে অহেতু সমালোচনায় লিপ্ত হয়ে) অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত না হয়।
হাদিস নং ৪৬১১সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، قَالَ وَأَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رِجَالاً وَلَمْ يُعْطِ رَجُلاً مِنْهُمْ شَيْئًا فَقَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْطَيْتَ فُلاَنًا وَفُلاَنًا وَلَمْ تُعْطِ فُلاَنًا شَيْئًا وَهُوَ مُؤْمِنٌ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَوْ مُسْلِمٌ " . حَتَّى أَعَادَهَا سَعْدٌ ثَلاَثًا وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَوْ مُسْلِمٌ " . ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي أُعْطِي رِجَالاً وَأَدَعُ مَنْ هُوَ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْهُمْ لاَ أُعْطِيهِ شَيْئًا مَخَافَةَ أَنْ يُكَبُّوا فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ " .
বর্ণনাকারী: সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)
৪৬১১. মুহাম্মদ ইবন উবায়দ (রহঃ) .... সা’আদ ইবন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলকে প্রদান করেন, কিন্তু এক ব্যক্তিকে কিছু দেননি। তখন সাআদ (রাঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অমুক অমুককে দিয়েছেন, কিন্তু অমুক ব্যক্তিকে কিছু দেননি, অথচ সে মু’মিন! তিনি বলেনঃ অথবা সে মুসলিম! সা’আদ (রাঃ) এ বাক্যটি তিনবার উচ্চারণ করেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অথবা সে মুসলিম। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি কিছু লোককে দেই এবং আমার প্রিয় ব্যক্তিদের দেই না-এ ভয়ে যে, (লোকেরা এজন্য সমালোচনা করায়) তারা অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
৪৬১২. মুহাম্মদ ইবন উবায়দ (রহঃ) .... যুহরী (রহঃ) বলেন, আল্লাহ্ তা’আলার এ বাণীঃ (আরবরা বলে; আমরা ঈমান এনেছি) আপনি বলুনঃ তোমরা ঈমান আনোনি; বরং তোমরা বলঃ আমরা ইসলাম কবূল করেছি। রাবী বলেন, আামাদের কাছে এর অর্থ হলোঃ ইসলাম হলো, মুখে উচ্চারণ করা এবং ঈমান হলো নেক আমল করা।
হাদিস নং ৪৬১৩সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ وَاقِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَخْبَرَنِي عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৬১৩. আবূ ওয়ালীদ তায়ালিসী (রহঃ) .... ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার তিরোধানের পর কাফির হয়ে যেও না এবং একে অন্যকে হত্যা করবে না।
৪৬১৪. উছমান ইবন আবূ শায়বা (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন মুসলিম অন্য কোন মুসলিমকে কাফির বলে আর সে প্রকৃত কাফির হয়, তবে তো উত্তম। আর যদি সে কাফির না হয়, তবে যে কাফির বলবে, সে-ই কাফির হয়ে যাবে।
৪৬১৫. আবূ বকর ইবন আবূ শায়বা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির মধ্যে চারটি স্বভাব বিদ্যমান থাকবে, সে খাঁটি মুনাফিক। আর যে ব্যক্তির মধ্যে এর একটা স্বভাব থাকবে, তার চরিত্রে, নিফাকের একটা স্বভাব থাকবে, যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে। আর তা হলোঃ ১। যখন সে কথা বলে, মিথ্যা বলে; ২। আর যখন সে ওয়াদা করে, তা খেলাফ করে; ৩। আর যখন সে অংগীকার করে, তখন তা ভংগ করে; ৪। আর যখন সে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়, তখন গালি-গালাজ করে।
৪৬১৬. আবূ সালিহ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যিনাকার ব্যক্তি যখন যিনা করে, তখন তার ঈমান থাকে না, চোর যখন চুরি করে, তখন সে মু’মিন থাকে না এবং মদ পানকারী মদ পানের সময় মু’মিন থাকে না। এরপর কেবল তাওবার রাস্তা খোলা থাকে। (অর্থাৎ এ ধরনের গুনাহে লিপ্ত হওয়ার পর, যদি কেউ খালিছভাবে তাওবা করে, তবে তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে)।
৪৬১৭. ইসহাক ইবন সুওযায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কেউ যিনা করে, তখন তার থেকে ঈমান বেরিয়ে যায় এবং তা তার মাথার উপর মেঘের ন্যায় অবস্থান করে। আর যখন সে তা থেকে বিরত হয়, তখন ঈমান তার কাছে পুনরায় ফিরে আসে।
৪৬১৮. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাদরীয়ারা[1] এ উম্মতের মধ্যে মাজুস বা অগ্নি-উপাসকদের মত। যদি তারা পীড়িত হয়, তবে তোমরা তাদের সেবা-শুশ্রূষা করবে না। আর যদি তারা মারা যায়, তবে তাদের জানাযায় শরীক হবে না।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
1. কাদরীয়াদের মতবাদ এই যে, বান্দা নিজেই তার কাজের স্রষ্টা । তারা এ কারণে অগ্নি-উপাসকদের মত, যেহেতু তারা বলেঃ ভাল কাজের স্রষ্টা 'ইয়াযদান' এবং খারাপ কাজের স্রষ্টা 'আহরমন' । কিন্তু আহলে -সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মত এই যে, আল্লাহ্-ই সব কাজের স্রষ্টা ও নিয়ামক । যেমন তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তোমাদের এবং তোমাদের সব কাজকে সৃষ্টি করেছেন । (আল-কুরআন) ।
৪৬১৯. মুহাম্মদ ইবন কাছীর (রহঃ) ..... হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে ’মাজুস’ আছে; আর আমার উম্মাতের মধ্যে তারাই ’মাজুস’ যারা বলেঃ তাকদীর বলে কিছু নেই। তাদের কেউ মারা গেলে তোমরা তাদের জানাযায় শরীক হবে না। আর এদের কেউ যদি পীড়িত হয়, তবে তাদের সেবা-শুশ্রূষার জন্য যাবে না। কেননা এরা দাজ্জালের অনুসারী, আর আল্লাহ্ অবশ্যই তাদের দাজ্জালের সাথে মিলিত করবেন।
৪৬২০. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ্ আদম-(আঃ)-কে এমন এক মুষ্টি মাটি দিয়ে তৈরী করেন, যা তিনি যমীনের সব অংশ থেকে নেন। আর এ কারণেই আদম সন্তান ঐ মাটির স্বভাব অনুযায়ী সৃষ্টি হয়েছ; যেমনঃ কেউ সাদা, কেউ লাল এবং কেউ কাল, আর কেউ এর মাঝামাঝি রংয়ের। আর এ জন্য তাদের কারো স্বভাব নরম, কারো কঠোর; আর কেউ খাবীছ (কাফির, মুশরিক) আবার কেউ পবিত্র স্বভাবের অর্থাৎ মুসলিম।
৪৬২১. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা এক ব্যক্তির জানাযার নামাযে শরীক ছিলাম, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ছিলেন- ’বাকীয়ে গারকাদ’ নামক স্থানে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে এসে বসেন এবং তাঁর হাতের ছড়ি দিয়ে মৃদুভাবে যমীনে আঘাত করতে থাকেন। এরপর তিনি মাথা উচুঁ করে বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির বা নাফসের জন্য আল্লাহ্ তা’আলা হয়তো জান্নাতে-নয়তো জাহান্নামে তার স্থান নির্ধারণ করেছেন; আর সে ব্যক্তি কি নেককার বা বদকার হবে, তা ও নির্ধারণ করেছেন। তখন এক ব্যক্তি বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তবে কি আমরা আমল পরিত্যাগ করে কেবল তাকদীরের উপর ভরসা করবো? কেননা, যে ব্যক্তি নেককার হওয়ার, সে তো তা হবেই, আর যে বদকার হওয়ার-সে তো তা হবেই।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা আমল করতে থাক। কেননা প্রত্যেক ব্যক্তিকেই শক্তি প্রদান করা হয়। কাজেই নেককার ভাল কাজ করে এবং বদকার খারাপ কাজ করে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ আর যে ব্যক্তি দান করে, আল্লাহ্কে ভয় করে, তাওহীদের কালিমাকে স্বীকার করে, আমি তাকে তা সহজভাবে সম্পন্ন করার তাওফীক দেই। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি কৃপণতা করে, নেক আমল করা হতে বিরত থাকে এবং তাওহীদকে অস্বীকার করে, আমি তার জন্য বদ-আমলকে সহজ করে দেই।
৪৬২৩. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবন ইয়া’মার ও হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেনঃ একদা আমরা আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ)-এর সাথে দেখা করি, তাকে তাকদীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। এরপর পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, মুযায়না বা জুহায়না গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কিরূপ খেয়াল করে আমল করবো-তাকদীরে যা ছিল হয়ে গেছে না আরো কিছু হবে? তিনি বলেনঃ তোমরা এরূপ খেয়াল করে আমল করবে যে, তোমাদের তাকদীরে যা আছে, তা লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে। তখন জনৈক ব্যক্তি বলেঃ তা হলে আর আমলের প্রয়োজন কী? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতের অধিবাসীদের জান্নাতের অনুরূপ কাজের সামর্থ প্রদান করা হয় এবং জাহান্নামীদের দোজখের কাজের।
৪৬২৪. মাহমূদ ইবন খালিদ (রহঃ) .... ইবন উমার (রাঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীছের অনু্রূপ বর্ণিত হয়েছে। এরপর সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে যে, ইসলাম কি? তিনি বলেনঃ সালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া, আল্লাহ্র ঘরে হাজ্জ আদায় করা, রমযান মাসে রোযা রাখা এবং হতে পবিত্রতা হাসিলের জন্য গোসল করা-এ হলো ইসলাম।
হাদিস নং ৪৬২৫সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ أَبِي فَرْوَةَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، وَأَبِي، هُرَيْرَةَ قَالاَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجْلِسُ بَيْنَ ظَهْرَىْ أَصْحَابِهِ فَيَجِيءُ الْغَرِيبُ فَلاَ يَدْرِي أَيُّهُمْ هُوَ حَتَّى يَسْأَلَ فَطَلَبْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَجْعَلَ لَهُ مَجْلِسًا يَعْرِفُهُ الْغَرِيبُ إِذَا أَتَاهُ - قَالَ - فَبَنَيْنَا لَهُ دُكَّانًا مِنْ طِينٍ فَجَلَسَ عَلَيْهِ وَكُنَّا نَجْلِسُ بِجَنْبَتَيْهِ وَذَكَرَ نَحْوَ هَذَا الْخَبَرِ فَأَقْبَلَ رَجُلٌ فَذَكَرَ هَيْئَتَهُ حَتَّى سَلَّمَ مِنْ طَرْفِ السِّمَاطِ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا مُحَمَّدُ . قَالَ فَرَدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)
৪৬২৫. উছমান ইবন আবূ শায়বা (রহঃ) ..... আবূ যার এবং আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের সাথে বসতেন, তখন কোন অচেনা লোক সেখানে আসলে, জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চিনতে পারতো না। এ জন্য আমরা মনে করি, তাঁর বসার জন্য একটি বিশেষ স্থান নির্ধারিত করা দরকার, যাতে অচেনা লোক সহজেই তাঁকে চিনতে পারে। এরপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি চত্বর তৈরী করি, যেখানে তিনি বসতেন এবং আমরা তাঁর চারপাশে বসতাম। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক ব্যক্তি আসে-যার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তিনি এসে মজলিসের এক পাশ হতে সালাম দিয়ে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার প্রতি সালাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জবাব দেন।
৪৬২৬. মুহাম্মদ ইবন কাছীর (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন দায়লামী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন; একদা আমি উবাই ইবন কাআব (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলিঃ আমার অন্তরে তাকদীরের ব্যাপারে কিছু সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে, আপনি সে সম্পর্কে আমাকে কিছু বলুন, যাতে আল্লাহ্ আমার অন্তর থেকে তা দূর করে দেন। তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ্ যদি আসমান ও যমীনের সব মাখলূককে আযাব দেন, তবে এ জন্য তাঁকে জালিম বলা যাবে না। আর যদি তিনি সকলের উপর রহম করেন, তবে তাঁর রহমত তাদের জন্য, তাদের আমলের চাইতে উত্তম।
আর যদি তুমি আল্লাহ্র রাস্তায় উহুদ পরিমাণ সোনা ব্যয় কর, তবে আল্লাহ্ তা’আলা ততক্ষণ তা কবূল করবেন না, যতক্ষণ না তুমি তাকদীরের উপর ঈমান আনবে। আর তুমি বিশেষভাবে মনে রাখবে যে, তোমার যা পাওনা ছিল, তা অবশ্যই পেয়েছ; আর তুমি যা পাওয়ার নও-তা কখনো পাবে না। আর যদি তুমি এরূপ বিশ্বাস ব্যতীত-অন্য বিশ্বাসের উপর মারা যাও, তবে তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
রাবী বলেনঃ এরপর আমি আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ)-এর কাছে আসলে, তিনি বলেনঃ তারপর আমি হুযায়ফা ইবন ইয়ামান (রাঃ)-এর কাছে গেলে, তিনিও অনুরূপ বর্ণনা করেন। রাবী বলেনঃ পরে আমি যায়দ ইবন ছাবিত (রাঃ)-এর কাছে গেলে, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীছ বর্ণনা করেন।
৪৬২৭. জা’ফর ইবন মুসাফির (রহঃ) ...... আবূ হাফ্স (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা উবাদা ইবন ছামিত (রাঃ) তার পুত্রকে বলেনঃ হে আমার প্রিয় পুত্র! তুমি ততক্ষণ ঈমানের প্রকৃত স্বাদ পাবে না, যতক্ষণ না তুমি অনুধাবন কর যে, তুমি যা পেয়েছ, তা কিছুতেই ফেলতে পারতে না; আর তুমি যা পাওনি, তা অবশ্যই তুমি পাবে না। এরপর তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ মহান আল্লাহ্ সর্ব প্রথম কলম তৈরী করেন। এরপর তিনি কলমকে বলেনঃ লিখ। কলম বলেঃ হে আমার প্রতিপালক, আমি কি লিখব? তখন আল্লাহ্ বলেনঃ তুমি কিয়ামত পর্যন্ত সৃষ্ট সমস্ত জীবের তাকদীর লিখ। হে আমার প্রিয় পুত্র! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এরূপ বিশ্বাস ব্যতীত মারা যাবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
৪৬২৮. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদা আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ)-এর মধ্যে (রূহের জগতে)-বাদানুবাদ হয়। মূসা (আঃ) বলেনঃ হে আদম! আপনি আমাদের পিতা আপনি আমাদের বঞ্চিত করেছেন এবং জান্নাত থেকে বের করেছেন। তখন আদম (আঃ) বলেনঃ তুমি তো মূসা! তোমাকে আল্লাহ্ তাঁর কালাম দিয়ে সম্মানিত করেছেন; আর তিনি তোমার জন্য তাওরাত স্বহস্তে লিখেছেন। তুমি আমাকে অভিযুক্ত করছো এমন বিষয়ের জন্য, যা আল্লাহ্ তা’আলা আমার তাকদীরে, আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর আগে নির্ধারিত করেন। সুতরাং এ তর্কে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর বিজয়ী হন।
৪৬২৯. আহমদ ইবন সালিহ (রহঃ) ..... উমার ইবন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদা মূসা (আঃ) আল্লাহ্কে বলেনঃ হে আমার রব! আপনি আমাকে আদম (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করান, যিনি নিজে জান্নাত থেকে বের হয়েছেন এবং আমাদেরও বের করেছেন। তখন আল্লাহ্ তাকে আদম (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করান। মূসা (আঃ) বলেনঃ আপনি কি আমাদের পিতা আদম (আঃ) নন? আদম (আঃ) বলেনঃ হ্যাঁ। মূসা (আঃ) বলেনঃ আপনি তো সেই আদম, যার মধ্যে মহান আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্ট সমস্ত রূহ ফুঁকে দিয়েছিলেন, আর তিনি সব কিছুর নাম আপনাকে শিখিয়েছিলেন; আর আল্লাহ্র নির্দেশে ফেরেশতারা আপনাকে সিজদা করেছিল? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।
তখন মূসা (আ) বলেনঃ বলুন তো, কি কারণে আপনি নিজে জান্নাত থেকে বের হলেন এবং আমাদের ও বের করলেন? আদম (আঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কে? তিনি বলেনঃ আমি মূসা। আদম (আঃ) বলেনঃ তুমি তো বনূ ইসরাঈলের সেই নবী, আল্লাহ্ তো তোমার সাথে কোন রাসূল (ফেরেশতা) ব্যতীত পর্দার আড়াল থেকে সরাসরি কথা বলেন। মূসা (আঃ) বলেনঃ হ্যাঁ। তখন আদম (আঃ) বলেনঃ তুমি কি অবগত নও যে, আমি যা কিছু করেছি্ তা আমার জন্মের আগেই কিতাবে লিপিবদ্ধ ছিল? মূসা (আঃ) বলেনঃ হ্যাঁ। তখন আদম (আঃ) বলেনঃ তবে কেন তুমি এমন একটা বিষয়ের জন্য অভিযুক্ত করেছো, যে ব্যাপারে মহান আল্লাহ্ আমার সৃষ্টির আগেই ফায়সালা দিয়েছেন? এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ তর্কযুদ্ধে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর বিজয়ী হন।
৪৬৩০. আবদুল্লাহ্ কা’নবী (রহঃ) .... মুসলিম ইবন জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি উমার ইবন খাওাব (রাঃ)-কে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেনঃ
إِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ
অর্থাৎ স্মরণ কর! তোমার রব আদম সন্তানের পৃষ্ঠদেশ হতে তার বংশধরকে বের করেন এবং তাদের নিজেদের সম্বন্ধে স্বীকারুক্তি গ্রহণ করেন এবং বলেনঃ আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলেঃ নিশ্চয়ই, আমরা সাক্ষী থাকলাম। (৭ঃ১৭২)
রাবী বলেনঃ কা’নবী এ আয়াত তিলাওয়াত করলে উমার (রাঃ) বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনি। জবাবে তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ্ আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করার পর, তার পিঠকে স্বীয় ডান হাত দিয়ে মাসেহ করেন। ফলে অনেক আদম সন্তান সৃষ্টি হয়। এরপর তিনি বলেনঃ আমি এদের জান্নাতে জন্য সৃষ্টি করেছি। এরা জান্নাতীদের ন্যায় আমল করবে। এরপর আল্লাহ্ তার হাত দিয়ে আদমের পিঠকে মাসেহ করেন। ফলে তার আরো সন্তান সৃষ্টি হয়। তিনি বলেনঃ আমি এদের জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তারা জাহান্নামীদের ন্যায় আমল করবে।
তখন এক ব্যক্তি বলেঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! তাহলে আমলের প্রয়োজনীয়তা কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা যখন কোন বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তিনি তাকে দিয়ে জান্নাতীদের আমল করিয়ে নেন। ফলে, সে ব্যক্তি জান্নাতীদের ন্যায় আমল করতে করতে মারা যায়। যদ্দরুন আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর যখন তিনি কোন বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তিনি তাকে দিয়ে জাহান্নামীদের ন্যায় আমল করান। ফলে সে জাহান্নামীদের ন্যায় আমল করতে করতে মারা যায়। যদ্দরুন আল্লাহ্ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান।
৪৬৩১. মুহাম্মদ ইবন মুসাফফা (রহঃ) .... নু’আয়ম ইবন রাবী’আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি উমার ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। এরপর তিনি এ হাদীছ বর্ণনা করেন। রাবী মালিক (রহঃ) বর্ণিত হাদীছটি সম্পূর্ণ।
৪৬৩২. কা’নবী (রহঃ) ...... উবায়্যা ইবন কাআব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খিযির (আঃ) যে বালকটিকে হত্যা করেছিল, সে ছিল স্বভাবজাত কাফির। যদি সে জীবিত থাকতো, তবে সে তার মাতা-পিতার নাফরমানী করতো এবং তাদের কষ্ট দিত।
৪৬৩৩. মাহমূদ ইবন খালিদ (রহঃ) ..... উবায়্যা ইবন কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ঐ বালকটি (যাকে খিযির (আঃ) হত্যা করেন), তার মাতা-পিতা মু’মিন ছিল। যে দিন সে পয়দা হয়, সে দিন সে কাফির অবস্থায় পয়দা হয়।
৪৬৩৪. মুহাম্মদ ইবন মিহরান (রহঃ) .... উবাই ইবন কা’আব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খিযির (আঃ) একটি বালককে কয়েকটি বালকের সাথে খেলতে দেখেন। তিনি তার ঘাড় মটকিয়ে দেন, (ফলে সে মারা যায়)। তখন মূসা (আঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ আপনি একটি নিষ্পাপ জীবনকে হত্যা করলেন?
৪৬৩৫. হাফ্স ইবন উমার (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সত্যবাদী নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, তোমাদের কাউকে যখন সৃষ্টি করা হয়, তখন তাকে তার মায়ের গর্ভে বীর্যাকারে চল্লিশ দিন রাখা হয়, পরে তা রক্ত-পিণ্ডে পরিণত হয়, এরপর তা গোশত-পিণ্ডে পরিণত হয়। তারপর মহান আল্লাহ্ একজন ফেরেশতাকে তার কাছে পাঠান-চারটি হুকুম সহ। সে ফেরেশতা তার রিযিক, তার হায়াত, তার আমল এবং সে নেক-বখত না বদ-বখত- তা লিপিবদ্ধ করে। এরপর সে জড় দেহে রূহ ফুঁকে দেয়া।
অনেক সময় তোমাদের কেউ জান্নাতীদের ন্যায় আমল করতে থাকে, এমন কি সে ব্যক্তি জান্নাতের মাঝে কেবলমাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে। এ সময় তার তাকদীর-তার উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং সে জাহান্নামীদের ন্যায় আমল শুরু করে। ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। পক্ষান্তরে অনেক সময় তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের মত আমল করতে থাকে, এমন কি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে। এরপর তার তাকদীর- তার উপর প্রভাব বিস্তার করায় সে জান্নাতীদের ন্যায় আমল শুরু করে। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে।
৪৬৩৬. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হয়ঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্র জ্ঞানে কি জান্নাতী ও জাহান্নামীরা আগে থেকেই পরিচিত? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তখন সে ব্যক্তি বলেঃ তাহলে আমলকারীরা কোন আশায় আমল করবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমল কর, যাকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে কাজ সহজ করে দেয়া হয়।
১৮. মুশরিকদের সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে।
হাদিস নং ৪৬৩৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ أَوْلاَدِ الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ " اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪৬৩৭. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুশরিকদের মৃত শিশু-সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেনঃ তারা বড় হয়ে যে আমল করতো, আল্লাহ্ সে সম্পর্কে খুবই অবহিত। (তাই তিনি তাদের আমল অনুযায়ী বিনিময় দেবেন।)
৪৬৩৮. আবদুল ওয়াহাব ইবন নাজদা (রহঃ) .... আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মু’মিন ব্যক্তিদের মৃত শিশু-সন্তানদের অবস্থা কী হবে? তিনি বলেনঃ সে তার মাতা-পিতার সাথী হবে। আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমল করা ছাড়াই তাদের এ অবস্থা হবে? তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত, যা সে (বড় হয়ে) করতো। আমি আবার জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মুশরিকদের মৃত শিশু-সন্তানের অবস্থা কী হবে? তিনি বলেনঃ তারাও তাদের মাতা-পিতার সাথী হবে। আমি বলিঃ আমল ব্যতীতই এরূপ হবে? তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত, যা সে (বড় হয়ে) করতো।
৪৬৩৯. মুহাম্মদ ইবন কাছীর (রহঃ) .... উম্মুল মু’মিনীন আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেনঃ একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একজন আনসার বালকের লাশ আনা যায়, তার জানাযার নামায পড়ানোর জন্য। তিনি বলেনঃ তখন আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ বালকের জন্য খোশ-খবর, যে কোন গুনাহ-ই করেনি, আর গুনাহ কি, তা-ও সে জানেনা। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আইশা! তুমি যা বুঝেছ, আসল ব্যাপার তা নয়। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, মহান আল্লাহ্ জান্নাত তৈরী করেছেন এবং তার জন্য কিছু লোকও তখন সৃষ্টি করেছেন, যখন তারা তাদের মাতা-পিতার ঔরসে ছিল। আর মহান আল্লাহ্ জাহান্নামও তৈরী করেছেন এবং তার জন্য কিছু লোকও তখন পয়দা করেছেন, যখন তারা তাদের মাতা-পিতার ঔরসে ছিল।
৪৬৪০. কা’নবী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মানব শিশু ফিতরাতের (স্বভাব ধর্ম ইসলামের) উপর জন্মগ্রহণ করে। পরে তার মাতা-পিতার প্রভাবে সে ইয়াহূদী এবং নাসারা হয়। যেমন, কোন উটের বাচ্চা যখন প্রসব হয়, তখন তার কান কাটা থাকে না। তারা বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার কি অবস্থা হবে, যে শিশুকালে মারা যায়? তিনি বলেনঃ আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত, যা তারা বড় হয়ে করতো। (কাজেই তাদের ব্যাপারে সেরূপ ফায়সালা হবে)।
৪৬৪১. হাসান ইবন আলী (রহঃ) ..... হাজ্জাজ ইবন মিনহাল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হাম্মাদ ইবন সালামা (রাঃ)-কে "প্রত্যেক মানব শিশু ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে" এ হাদীছের ব্যাখ্যায় বলতে শুনিঃ যখন আল্লাহ্ তাদের থেকে, তার মাতা-পিতার ঔরসে থাকাবস্থায় অংগীকার গ্রহণ করেন, তখন তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলেছিলঃ হ্যাঁ, অবশ্যই আপনি আমাদের রব।
হাদিস নং ৪৬৪২সহিহ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْوَائِدَةُ وَالْمَوْءُودَةُ فِي النَّارِ " . قَالَ يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا قَالَ أَبِي فَحَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ أَنَّ عَامِرًا حَدَّثَهُ بِذَلِكَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: শা‘বী (রহঃ)
৪৬৪২. ইব্রাহীম ইবন মূসা (রহঃ) ..... আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জীবন্ত প্রথিত কন্যা এবং তার মা- উভয়ই জাহান্নামী।
৪৬৪৩. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা কোথায়? তিনি বলেনঃ তোমার পিতা জাহান্নামে। যখন সে চলে যাচ্ছিল, তখন তিনি বলেনঃ আমার ও তোমার পিতা জাহান্নামে।
হাদিস নং ৪৬৪৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنِ ابْنِ آدَمَ مَجْرَى الدَّمِ " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৬৪৪. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) .... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শয়তান মানব শরীরে রক্তের মত প্রবাহিত হয়।
৪৬৪৫. আহমদ ইবন সাঈদ (রহঃ) ....... উমার ইবন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাদরীয়া সম্প্রদায়ের সাথে উঠা-বসা করবে না এবং তাদের সাথে প্রথমে কথা-বার্তা বলবে না।
৪৬৪৬. হারুন ইবন মারুফ (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা পরস্পর এরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকবে যে, এ সৃষ্টি জগৎ তো আল্লাহ্ সৃষ্টি করেছেন; কিন্তু মহান আল্লাহ্কে কে সৃষ্টি করেছেন। আর যার অন্তরে এরূপ সন্দেহ সৃষ্টি হবে, সে যেন বলেঃ আমি আল্লাহ্র উপর ঈমান এনেছি।
৪৬৪৭. মুহাম্মদ ইবন আমর (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনেছি। এরপর তিনি পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেনঃ লোকেরা যখন এরূপ বলবে তখন তোমরা বলবেঃ আল্লাহ্ একক ও অদ্বিতীয়, আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি, তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।
৪৬৪৮. মুহাম্মদ ইবন সাব্বাহ (রহঃ) ..... আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ’বাতহা’ নামকস্থানে একদল লোকের সাথে বসেছিলাম, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় এক মেঘ টুকরা ভেসে গেলে, তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমরা একে কিনামে অভিহিত কর? তারা বলেনঃ ’সাহাব’ বা মেঘখণ্ড। তিনি বলেনঃ মুয্ন নয় কি? তারা বলেনঃ আমরা মুয্নও বলি। এরপর জিজ্ঞাসা করেনঃ আনান নয় কি? তারা বলেনঃ আমরা আনানও বলি।
আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেনঃ আনান সম্পর্কিত বর্ণনাটি তেমন জোরাল নয়। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ আসমান ও যমীনের মাঝে দূরত্ব কতটুকু? তারা বলেনঃ আমরা জানি না। তখন তিনি বলেনঃ এর দূরত্ব হলো একাত্তর, বাহাত্তর বা তিয়াত্তর বছরের রাস্তার সমান। এর সমান দূরত্বে দ্বিতীয় আসমান অবস্থিত। আর এভাবে তিনি সাত আসমানের দূরত্বের বর্ণনা দেন।
এরপর তিনি বলেনঃ সাত আসমানের উপর একটা সমুদ্র আছে, যার উপর ও নীচের দূরত্ব হলো, এক আসমান থেকে অপর আসমানের সমান। এর উপর আটটি বকরি আছে, যাদের পায়ের খুর ও কাধের দূরত্ব হলো এক আসমান থেকে অপর আসমানের সমান। এদের পিঠের উপর আল্লাহ্ তা’আলার আরশ অবস্থিত, যার উপর ও নীচের দূরত্ব হলো, এক আসমান থেকে অপর আসমান পর্যন্ত। মহান আল্লাহ্ এর উপর অবস্থান করেন।
৪৬৫১. আবদুল আলা ইবন হাম্মাদ (রহঃ) ..... জু্বায়র ইবন মুত’ঈম (রাঃ) তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গ্রাম্য একটা লোক এসে বলেঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! দুর্ভিক্ষের কারণে লোকেরা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, পরিবার-পরিজন বরবাদ হচ্ছে, ধন-সম্পদ নষ্ট হচ্ছে এবং পশু মারা যাচ্ছে। আপনি আমাদের জন্য আল্লাহ্র কাছে জন্য দু’আ করুন। আমরা আপনার মাধ্যমে আল্লাহ্র কাছে সুপারিশ করতে চাই এবং আপনার সামনেও আমরা আল্লাহ্র সুপারিশ পেশ করছি।
একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আহমক, তোমার সর্বনাশ হোক! তুমি কি জানো তুমি কী বলছো? এরপর তিনি তাসবীহ পাঠ শুরু করেন এবং অনেক্ষণ তাসবীহ পাঠে রত থাকেন। এমনকি তাঁর সাহাবীদের চেহারায় সে ব্যক্তির কথার প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে থাকে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ওহে মূর্খ! আল্লাহ্ তা’আলার কোন মাখলুকের সামনে তাঁর সুপারিশ করা যায় না। আল্লাহর মর্যাদা এ থেকে অনেক বড়। হে অজ্ঞ ব্যক্তি! তোমার সর্বনাশ হোক। তুমি কি আল্লাহ্র মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে কিছু জান? মহান আল্লাহ্র আরশ তাঁর আসমানের উপর এরূপ। এ বলে তিনি তাঁর আগুলসমূহে গম্বুজের মত করে ইশারা করেন। এতদসত্ত্বেও আসমান তাঁর মর্যাদার কারণে এমন চির-চির শব্দ করে, যেমন আরোহীর নীচে তার পালানোর শব্দ হয়।
রাবী ইবন বিশশার (রহঃ) তার বর্ণনায় এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেনঃ মহান আল্লাহ্ তাঁর আরশের উপর এবং তাঁর আরশ তাঁর সৃষ্ট আসমানের উপর।
৪৬৫২. আহমদ ইবন হাফ্স (রহঃ) ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে আরশবাহী একজন ফেরেশতা সম্পর্কে কিছু বর্ণনা দেয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। তা এরূপঃ তার কানের নীচের অংশ থেকে কাঁধের দূরত্ব হলো, সাত শো বছরের রাস্তা!
৪৬৫৩. আলী ইবন নাসর (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি এ আয়াত পড়তে থাকেন এবং বলতে থাকেনঃ আল্লাহ্ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতের মাল তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে .... কেননা, তিনি সবকিছু শোনেন এবং সবকিছু দেখেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মধ্যম আংগুল কানের উপর এবং শাহাদাত আংগুল চোখের উপর রাখেন।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ আমি দেখেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এ আয়াত পাঠ করতেনঃ তখন তিনি তাঁর আঙ্গুল কানে ও চোখে রাখতেন। মাক্রী (রহঃ) বলেনঃ এ বক্তব্যটি জাহমীয়া সম্প্রদায়ের মতবাদ খণ্ডনকারী। (কেননা, তারা ’আল্লাহ্র শ্রবণ ও দর্শনের’ অর্থ নেয়- তাঁর জ্ঞান দিয়ে।)
৪৬৫৪. উছমান ইবন আবূ শায়বা (রহঃ) ..... জারীর ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসেছিলাম। এ সময় তিনি পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলেনঃ অচিরেই তোমরা তোমাদের রবকে দেখবে, যেরূপ তোমরা এ চাঁদকে দেখছো। তোমাদের রবের দর্শনে তোমাদের কোন কষ্ট হবে না। কাজেই, যদি তোমাদের জন্য সম্ভব হয়, তবে তোমরা সূর্য উঠার আগের এবং সুর্য ডুবার আগের সালাত (ফজর ও আসর) যথাযথভাবে আদায় করবে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত পাঠ করেনঃ পবিত্রতা বর্ণনা কর তোমার রবের, সূর্য উঠার আগে এবং সূর্য ডুবার আগে।
৪৬৫৫. ইসহাক ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি আমাদের মহান রবকে কিয়ামতের দিন দেখতে পাব? তিনি বলেনঃ যখন আকাশে কোন মেঘ থাকে না, তখন দুপুরের সূর্য দেখতে তোমাদের কি কোন অসুবিধা হয়? তারা বলেনঃ না এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পূর্ণিমার রাতে আকাশে যখন কোন মেঘ থাকে না, তখন ঐ চাঁদকে দেখতে তোমাদের কি কোন অসুবিধা হয়? তারা বলেনঃ না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যাঁর নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন, তাঁর শপথ! সূর্য ও চাঁদ দেখতে তোমাদের যেমন অসুবিধা হয় না, এরূপ মহান আল্লাহ্র দর্শনে তোমাদের কোন অসুবিধা হবে না।
৪৬৫৬. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ..... আবূ রাযীন (রহঃ) বলেনঃ মূসা আকীলী (রহঃ) বলেছেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করিঃ কিয়ামতের দিন সবাই কি তার রবকে দেখবে? এর উদাহরণ কিরূপ? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবূ রাযীন! তোমরা সবাই কি চাঁদকে দেখতে পাও না? তিনি বলেনঃ পূর্ণিমার রাতের চাঁদকে দেখতে পায় না? তিনি বলেনঃ পূর্ণিমার রাতের চাঁদকে!
এরপর দু’জন রাবী একত্র হয়ে বর্ণনা করেন, আমরা বলিঃ হ্যাঁ। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ্ তো মহান। এরপর আবূ রাযীন (রহঃ) বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চাঁদ তো তাঁরই সৃষ্ট একটি বস্তু, (তা যখন দেখতে পাও), তখন মহান আল্লাহ্র শান তো অনেক বড়, (কাজেই, কিয়ামতের দিন জান্নাতীদের তাকে দেখতে কোন অসুবিধা হবে না।)
৪৬৫৭. উছমান ইবন আবূ শায়বা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা’আলা সমস্ত আসমানকে একত্রিত করে, তাঁর ডান হাতে ধরে বলবেনঃ আমি-ই একমাত্র বাদশাহ! (দুনিয়ার সেই) অত্যাচারী ও গর্বকারী শাসকরা কোথায়? এরপর তিনি সব যমীনকে একত্রিত করার পর অন্যহাতে ধরে বলবেনঃ আমি-ই একচ্ছত্র অধিপতি। (দুনিয়ার সেই) জালিম ও অহংকারী শাসকরা কোথায়?
৪৬৫৮. কা’নবী (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের রব প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আসমানে এসে বলেনঃ আমার কাছে কে দু’আ করবে? আমি তার দু’আ কবূল করবো! কে আমার কাছে চাবে, আমি তাকে তা দেব। আমার কাছে কে গুনাহ মাফ চাবে, আমি তার গুনাহ মাফ করে দেব।
৪৬৫৯. মুহাম্মদ ইবন কাছীর (রহঃ) ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতে অবস্থানকালে লোকদের কাছে উপস্থিত হয়ে বলেনঃ তোমাদের মাঝে এমন কেউ আছে কি, যে আমাকে আমার কাওম কুরায়শদের কাছে নিয়ে যেতে পারে? কেননা, কুরায়শরা আমার রবের কথা মানুষের কাছে পৌছাতে বাধার সৃষ্টি করছে।
৪৬৬০. ইসমাঈল ইবন উমার (রহঃ) ..... আমির ইবন শাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি নাজ্জাশী বাদশার নিকটে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তার এক ছেলে ইনজীলের একটি আয়াত পাঠ করলে, আমার হাসি পায়। তখন বাদশাহ আমাকে বলেনঃ কি ব্যাপার, তুমি আল্লাহ্র কালাম শুনে হাসছো?
৪৬৬১. সুলায়মান ইবন দাউদ (রহঃ) ..... আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নিজেকে এর উপযুক্ত মনে করতাম না যে, মহান আল্লাহ্ আমার সম্পর্কে এমন কোন আয়াত নাযিল করবেন, যা সব সময় পড়া হবে।
৪৬৬২. উছমান ইবন আবূ শায়বা (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসায়ন (রাঃ)-এর জন্য এরূপ দু’আ করতেনঃ আমি তোমাদের উভয়কে আল্লাহ্র কালামের আশ্রয়ে রাখতে চাই, সব ধরনের শয়তান হতে, কষ্টদায়ক বস্তু হতে এবং সব ধরনের বদ-নজর হতে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের পিতা ইব্রাহীম (আঃ)-এই কালামের দ্বারা ইসমাঈল ও ইসহাক (আঃ)-এর জন্য আল্লাহ্র কাছে পানাহ চাইতেন।
৪৬৬৩. আহমদ ইবন আবূ সুরায়হ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ্ তা’আলা ওয়াহী প্রেরণের জন্য কথা বলেন, তখন এক আসমানের অধিবাসী অন্য আসমান থেকে এরূপ শব্দ শোনে যে, যেমন সাফা পাহাড়ের উপর লোহার শিকল টানলে শব্দ হয়। যা শুনে তারা সবাই বেহুশ হয়ে পড়ে এবং জিবরীল (আঃ) তাদের কাছে না আসা পর্যন্ত তারা এ অবস্থায় থাকে। এরপর জিবরীল (আঃ) যখন তাদের কাছে আসে, তখন তারা জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়ে বলেঃ হে জিবরীল! আপনার রব কি বলেছেন? তিনি বলেনঃ তিনি সত্য বলেছেনঃ। একথা শুনে সকল ফেরেশতা বলতে থাকেঃ সত্য বলেছেন, সত্য বলেছেন।
২২. কিয়ামত এবং শিংগা-ধ্বনি প্রসংগে।
হাদিস নং ৪৬৬৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا أَسْلَمُ، عَنْ بِشْرِ بْنِ شَغَافٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " الصُّورُ قَرْنٌ يُنْفَخُ فِيهِ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ)
৪৬৬৪. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’সূর’ হলো শিংগা, যাতে ফুঁৎকার দেয়া হবে।
হাদিস নং ৪৬৬৫সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " كُلَّ ابْنِ آدَمَ تَأْكُلُ الأَرْضُ إِلاَّ عَجْبَ الذَّنَبِ، مِنْهُ خُلِقَ وَفِيهِ يُرَكَّبُ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৬৬৫. কা’নবী (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানব দেহের সমস্ত অঙ্গ-প্রতঙ্গ মাটিতে খেয়ে ফেলে, কিন্তু মেরুদণ্ডের হাঁড় খেতে পারে না। তা দিয়েই মানুষকে তৈরী করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়বার তা দিয়েই তাদের সৃষ্টি করা হবে।
২৩. শাফা'আত সস্পর্কে।
হাদিস নং ৪৬৬৬সহিহ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا بِسْطَامُ بْنُ حُرَيْثٍ، عَنْ أَشْعَثَ الْحُدَّانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " شَفَاعَتِي لأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৬৬৬. সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার শাফা’আত আমার উম্মতের মধ্যে যারা কবীরা গুনাহ করে, তাদের জন্য হবে। (যেমন- যারা যিনা করে, চুরি করে, শরাব খায় ইত্যাদি লোকের জন্য)।
হাদিস নং ৪৬৬৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ ذَكْوَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " يَخْرُجُ قَوْمٌ مِنَ النَّارِ بِشَفَاعَةِ مُحَمَّدٍ فَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَيُسَمَّوْنَ الْجَهَنَّمِيِّينَ " .
বর্ণনাকারী: ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
৪৬৬৭. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফা’আতে কিছু লোক জাহান্নাম থেকে বের হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের জাহান্নামী হিসাবে আখ্যায়িত করা হবে।
হাদিস নং ৪৬৬৮সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : " إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يَأْكُلُونَ فِيهَا وَيَشْرَبُونَ " .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
৪৬৬৮. উছমান ইবন আবূ শায়বা (রহঃ) ...... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ জান্নাতের অধিবাসীরা জান্নাতেই পানাহার করবে।
৪৬৬৯. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ্ যখন জান্নাত সৃষ্টি করেন, তখন জিবরীল (আঃ)-কে বলেনঃ যাও জান্নাত দেখে এসো। তিনি জান্নাত দেখে এসে বলেনঃ হে আমার রব! যে কেউ এ জান্নাতের কথা শোনবে, সে এতে প্রবেশের আকাংক্ষা করবে। এরপর আল্লাহ্ জান্নাতকে কিছু কঠিন ও মুশকিল আমল দিয়ে আচ্ছাদিত করেন এবং বলেনঃ হে জিবরীল! এখন গিয়ে তা দেখে এসো। জিবরীল (আঃ) তা দেখে এসে বলবেঃ হে আমার রব! তোমার ’ইজ্জতের কসম’! আমার ভয় হচ্ছে, এখন হয়তো আর কেউ সেখানে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে না।
এরপর আল্লাহ্ জাহান্নাম সৃষ্টি করার পর জিবরাঈল (আঃ)-কে বলেনঃ হে জিবরীল! সেখানে যাও এবং দেখে এসো। জিবরীল (আঃ) তা দেখে এসে বলেনঃ হে আমার রব! আপনার ’ইজ্জতের কসম’! যারা এর অবস্থা শোনবে, তারা কেউ-ই সেখানে যেতে চাবে না। এরপর আল্লাহ্ শাহয়াত (কুরিপু) দিয়ে তাকে ঢেকে দেন এবং বলেনঃ হে জিবরীল! এখন সেখানে যাও এবং দেখে এসো। জিবরীল (আঃ) তা দেখে এসে বলেনঃ হে আমার রব! আপনার ইজ্জতের কসম! এখন আমার ভয় হচ্ছে যে, হয়তো সব লোক এতে প্রবেশ করবে।
২৫. হাওয-কাওছার সম্পর্কে।
হাদিস নং ৪৬৭০সহিহ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " إِنَّ أَمَامَكُمْ حَوْضًا مَا بَيْنَ نَاحِيَتَيْهِ كَمَا بَيْنَ جَرْبَاءَ وَأَذْرُحَ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৬৭০. সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সামনে (হাশরের দিন) একটা হাওয হবে, এর দু’টি তীরের দূরত্ব হবে- জারয়া থেকে আজরু নামক স্থান পর্যন্ত। (শাম দেশের দু’টি গ্রামের নাম, এ দু’টি গ্রামের মাঝে দূরত্ব হলো তিন দিনের পথের সমান।)
৪৬৭১. হাফ্স ইবন উমার (রহঃ) ..... যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কোন এক সফরে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা একস্থানে অবস্থান করা কালে তিনি বলেনঃ তোমরা তাদের লক্ষ ভাগের এক ভাগ ও নও, যারা হাওয কাওছারের কাছে আসবে। রাবী বলেন, আমি যায়দ ইবন আকরাম (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ সেদিন কত লোক আপনারা সেখানে ছিলেন? তিনি বলেনঃ সাতশো বা আটশো লোক।
৪৬৭২. হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রাচ্ছন্ন হওয়ার পর হাসি মুখে মাথা উঠিয়ে হয়তো নিজে তাদের বলেন, নয়তো সাহাবীগণ তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি হাসলেন কেন? তিনি বলেনঃ এখনই আমার উপর একটা সূরা নাযিল হয়েছে। এরপর তিনি তা তিলাওয়াত করেনঃ অবশ্যই আমি আপনাকে কাওছার দান করেছি। সুতরাং আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন। নিশ্চয় আপনার প্রতি বিদ্বেষে পোষণকারীই তো নির্বংশ।
সূরা পাঠ শেষে তিনি প্রশ্ন করেনঃ তোমরা কি জান, কাওছার কী? তারা বলেনঃ এ ব্যাপারে আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তা হলো একটা নহর, যা আমার রব আমাকে জান্নাতে দেয়ার ওয়াদা করেছেন। সেখানে অনেক কল্যাণ নিহিত আছে এবং সেখানে হাওয আছে, যেখানে কিয়ামতের দিন আমার উম্মাত সমবেত হবে। আর এর পান পাত্র তারকারাজীর চাইতে অধিক হবে।
হাদিস নং ৪৬৭৩সহিহ
حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ النَّضْرِ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ : لَمَّا عُرِجَ بِنَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْجَنَّةِ - أَوْ كَمَا قَالَ - عُرِضَ لَهُ نَهْرٌ حَافَتَاهُ الْيَاقُوتُ الْمُجَيَّبُ أَوْ قَالَ الْمُجَوَّفُ، فَضَرَبَ الْمَلَكُ الَّذِي مَعَهُ يَدَهُ فَاسْتَخْرَجَ مِسْكًا فَقَالَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم لِلْمَلَكِ الَّذِي مَعَهُ : " مَا هَذَا " . قَالَ : هَذَا الْكَوْثَرُ الَّذِي أَعْطَاكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৬৭৩. আসিম ইবন নাযর (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মি’রাজের রাতে জান্নাত পরিভ্রমণকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে একটা নহর (নদী) আনা হয়, যার দু’পাশ ছিল নিরেট ইয়াকূতে ভরপুর। এ সময় তাঁর সঙ্গী ফেরেশতা সেখানে হাত দিয়ে একটা মশক বের করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গী ফেরেশতাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ ইহা কি? তিনি বলেনঃ ইহা ঐ কাওছার, যা মহান আল্লাহ্ আপনাকে দান করেছেন।
হাদিস নং ৪৬৭৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ أَبُو طَالُوتَ، قَالَ شَهِدْتُ أَبَا بَرْزَةَ دَخَلَ عَلَى عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ فَحَدَّثَنِي فُلاَنٌ، سَمَّاهُ مُسْلِمٌ وَكَانَ فِي السِّمَاطِ فَلَمَّا رَآهُ عُبَيْدُ اللَّهِ قَالَ : إِنَّ مُحَمَّدِيَّكُمْ هَذَا الدَّحْدَاحُ، فَفَهِمَهَا الشَّيْخُ فَقَالَ مَا كُنْتُ أَحْسِبُ أَنِّي أَبْقَى فِي قَوْمٍ يُعَيِّرُونِي بِصُحْبَةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ عُبَيْدُ اللَّهِ إِنَّ صُحْبَةَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم لَكَ زَيْنٌ غَيْرُ شَيْنٍ ثُمَّ قَالَ : إِنَّمَا بُعِثْتُ إِلَيْكَ لأَسْأَلَكَ عَنِ الْحَوْضِ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ فِيهِ شَيْئًا فَقَالَ أَبُو بَرْزَةَ : نَعَمْ لاَ مَرَّةً وَلاَ ثِنْتَيْنِ وَلاَ ثَلاَثًا وَلاَ أَرْبَعًا وَلاَ خَمْسًا، فَمَنْ كَذَّبَ بِهِ فَلاَ سَقَاهُ اللَّهُ مِنْهُ ثُمَّ خَرَجَ مُغْضَبًا .
৪৬৭৪. মুসলিম ইবন ইবরাহীম (রহঃ) .... আবদুস সালাম ইবন আবূ হাযিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবূ বারযা (রাঃ)-কে উবায়দুল্লাহ ইবন যিয়াদ (রহঃ) এর কাছে যেতে দেখি। এরপর আমার কাছে মুসলিম নামে এক ব্যক্তি, যিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন, বলেনঃ উবায়দুল্লাহ ইবন যিয়াদ (রহঃ) আবূ বারযা (রাঃ)-কে দেখে বলেনঃ দেখ! তোমাদের এ মুহাম্মদী (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী) মোটা পা বিশিষ্ট। একথা শুনে আবূ বারযা (রাঃ) বুঝতে পারেন যে (ইবন যিয়াদ ঘৃণাভরে এরূপ উক্তি করছে।) তখন তিনি বলেনঃ আমি এরূপ খেয়াল করিনি যে, আমি এরূপ লোকদের সাথে অবস্থান করবো, যে আমাকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী হওয়ার জন্য দোষারূপ করবে।
একথা শুনে উবায়দুল্লাহ ইবন যিয়াদ বলেনঃ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সোহবত তো আপনার জন্য গৌরবের বিষয়, এটা কোন দোষের ব্যাপার নয়। এরপর তিনি বলেনঃ আমি আপনাকে এ জন্য ডেকেছি যে, আমি আপনার কাছে হাওয-কাওছার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবো। আপনি কি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু শুনেছেন? আবূ বারযা (রাঃ) বলেনঃ হ্যাঁ, শুনেছি। এক, দুই, তিন, চার বা পাঁচবার নয়, বরং বহুবার শুনেছি। আর যে ব্যক্তি এ কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, আল্লাহ্ তাকে সে হাওযের পানি পান করাবেন না। এরপর তিনি সেখানে থেকে বাগান্বিত হয়ে বেরিয়ে আসেন।
২৬. কবরের প্রশ্ন ও শাস্তির বর্ণনা।
হাদিস নং ৪৬৭৫সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا سُئِلَ فِي الْقَبْرِ فَشَهِدَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ( يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ ) .
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
৪৬৭৫. আবুল ওয়ালীদ তায়ালিসী (রহঃ) ... বারা ইবন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যখন কোন মুসলিমকে কবরে প্রশ্ন করা হয়, আর সে এরূপ সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রাসূল। এ কথা আল্লাহর ঐ বাণীর বাস্তবতাঃ মহান আল্লাহ ঈমানদারদের দুনিয়া ও আখিরাতে প্রতিষ্ঠিত রাখেন সত্য কথার উপর।
৪৬৭৬. মুহাম্মদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) .... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজ্জার গোত্রের একটি খেজুরের বাগানে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি একটা শব্দ শুনে ভীত হয়ে পড়েন এবং বলেনঃ এ কবরগুলি কাদের? তারা বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরা জাহিলী যুগে মারা গেছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা আল্লাহ্র কবরের আযাব ও দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর। তখন তারা বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কেন এরূপ করবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যখন কোন মু’মিন ব্যক্তিকে তার কবরে রাখা হয়, তখন একজন ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ তুমি কার ইবাদত করতে?
তখন মহান আল্লাহ্ তাকে হিদায়াত দান করেন। তখন সে বলেঃ আমি আল্লাহ্র ইবাদত করতাম। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হবেঃ তুমি এ ব্যক্তির (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) ব্যাপারে কিরূপ ধারণা পোষণ করতে? তখন সে বলবেঃ তিনি আল্লাহ্র বান্দা এবং তাঁর রাসূল। এরপর তাকে আর কিছু জিজ্ঞাসা করা হবে না। এরপর তাকে এমন একস্থানে নেওয়া হয়, যা তার জন্য জাহান্নামে বানানো হয়েছিল। তখন তাকে বলা হবেঃ এটা এটা তোমার জাহান্নামের ঘর ছিল। আল্লাহ্ তোমাকে এ থেকে রক্ষা করেছেন এবং তোমার উপর রহম করেছেন এবং এর বিনিময়ে তোমার জন্য জান্নাতে একটা চিরস্থায়ী ঘর দান করেছেন। তখন সে বলেঃ আমাকে ছেড়ে দাও, যাতে আমি আমার পরিবার-পরিজনদের এ সুসংবাদ দিতে পারি। তখন তাকে বলা হয়ঃ তুমি শান্ত হও।
অপরপক্ষে যখন কোন কাফিরকে কবরে রাখা হয়, তখন তার কাছে একজন ফেরেশতা আসে এবং ধমকের সুরে জিজ্ঞাসা করেঃ তুমি কার ইবাদত করতে? সে বলবেঃ আমি জানি না। তখন তাকে বলা হয়ঃ তুমি নিজেও জ্ঞান অর্জন করনি। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়ঃ এ ব্যক্তির ব্যাপারে তোমার ধারণা কিরূপ ছিল? তখন সে বলেঃ তাঁর ব্যাপারে লোকদের যেরূপ ধারণা ছিল, আমার ধারণাও সেরূপ। এ কথা শুনে ফেরেশতা তার মাথায় লোহার মুগুর দিয়ে প্রচণ্ডভাবে আঘাত করে, ফলে সে এত জোরে চীৎকার করে যে, জিন ও ইনসান ব্যতীত সে চীৎকার সব সৃষ্ট জীব শুনতে পায়।
৪৬৭৭. মুহাম্মদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) .... আবদুল ওয়াহাব (রহঃ) উপরোক্ত সনদে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যখন কোন ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয় এবং লোকেরা তাকে দাফন করে ফিরে আসে, আর সে (মৃত ব্যক্তি) তাদের জুতার শব্দও শুনতে পায়; সে সময় তার কাছে দু’জন ফেরেশতা এসে প্রশ্ন করে। এরপর পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, যাতে কাফির ও মুনাফিক শব্দের উল্লেখ আছে। এরপর দু’জন ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞাসা করে। এখানে মুনাফিক শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। রাবী আরো বলেনঃ সে শব্দ তার আশপাশে যারা থাকে, সবাই শোনে; জিন ও ইনসান ব্যতীত।
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا الْمِنْهَالُ، عَنْ أَبِي عُمَرَ، : زَاذَانَ قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ .
৪৬৭৯. হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ..... আবূ আমর (রহঃ) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ আমি বারা ইবন আযিব (রাঃ)-কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি। এরপর পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
৪৬৮০. ইয়া’কূব ইবন ইবরাহীম (রহঃ) .... আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদতে থাকলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কাঁদছো কেন? তিনি বলেনঃ জাহান্নামের কথা স্মরণ হওয়ায় আমি কাঁদছি। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ আপনি কি কিয়ামতের দিন আপনার পরিবার-পরিজনের কথা মনে রাখবেন? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তিনটি স্থান এমন আছে, যেখানে কেউ কারো কথা স্মরণ করবে না। যথা- ১। মীযান বা মাপের সময়, যতক্ষণ না কেউ জানতে পারবে, তার পাল্লা ভারী- না হালকা, ২। কিতাব বা আমলনামা পাওয়ার সময়, যখন বলা হবেঃ দৌড়ে এসো এবং নিজ নিজ আমলনামা পাঠ কর। যতক্ষণ কেউ জানতে পারবে না যে, তা কোন দিক থেকে আসে- ডান, বাম না পেছনের দিক থেকে এবং ৩। সে সময়- যখন সে পুল-সিরাতের উপর থাকবে এবং তা জাহান্নামের উপর রাখা হবে।
৪৬৮১. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) .... আবূ উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ নূহ (আঃ)-এর পর এমন কোন নবী যাননি, যিনি তাঁর উম্মতকে দাজ্জাল সম্পর্কে ভীতি-প্রদর্শন করেননি। আর আমিও তোমাদেরকে তার সম্পর্কে সতর্ক করছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ সম্ভবতঃ যে আমাকে দেখেছে এবং আমার কথা শুনেছে, সে দাজ্জালকে দেখবে। তখন সাহাবীগণ বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেদিন আমাদের দিন কেমন হবে? আজকের দিনের মত? তিনি বলেনঃ আজকের দিন থেকেও উত্তম হবে।
৪৬৮২. মুখাল্লাদ ইবন খালিদ (রহঃ) .... সালিম (রহঃ) তার পিতা ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রথমে আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করেন। এরপর তিনি দাজ্জালের ব্যাপারে বলেনঃ আমি তোমাদের দাজ্জাল সম্পর্কে ভীতি-প্রদর্শন করছি। আর প্রত্যেক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে তার সম্পর্কে সতর্ক করেন। আমি তার সম্পর্কে এমন কথা বলবো, যা পূর্ববর্তী কোন নবীরা তাদের উম্মাতের কাছে বলেননি। জেনে রাখ! সে হবে কানা ;আর তোমাদের রব কানা নন।
৪৬৮৩. আহমদ ইবন ইউনুস (রহঃ) ..... আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (আহলে সুন্নাহ ওয়াল) জামা’আত থেকে এক বিঘতও সরে যাবে, সে তার গর্দান থেকে ইসলামের রশি নিক্ষেপ করবে।
৪৬৮৪. আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) .... আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরে সে সময় তোমাদের অবস্থা কিরূপ হবে, যখন শাসনকর্তা গনীমতের মালকে নিজের মাল হিসাবে মনে করবে? আমি বলিঃ ঐ জাতের কসম! যিনি আপনাকে সত্য নবী হিসাবে পাঠিয়েছেন, তখন আমি আমার তরবারি কাঁধে ঝুলিয়ে রাখবো এবং তা দিয়ে জিহাদ করবো- যতক্ষণ না আমি আপনার সাথে মিলিত হই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি কি তোমাকে এর চাইতে কোন উত্তম পন্থা জানিয়ে দেব না? আর তা হলো, তুমি আমার সাথে মেলার আগ পর্যন্ত সবর করবে।
৪৬৮৫. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অতিসত্ত্বর তোমাদের উপর এমন শাসক নিযুক্ত হবে যার- কাজকর্ম ভাল হবে এবং মন্দও হবে। সে সময় যে ব্যক্তি তার মন্দ-কাজের প্রতিবাদ মুখ দিয়ে করবে, সে দোষমুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি তা অন্তর দিয়ে ঘৃণা করবে, সে ও দোষমুক্ত হবে; আর যে ব্যক্তি তার কাজ-কর্মকে অস্বীকার করবে, সে নাজাত প্রাপ্ত হবে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি তার অনুসরণ করবে, সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা কি তাদের হত্যা করবো না? তিনি বলেনঃ না, যতক্ষণ তারা সালাত আদায় করতে থাকবে।
৪৬৮৬. ইবন বাশশার (রহঃ) .... উম্মু সালামা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি তাকে খারাপ মনে করবে, সে দোষমুক্ত হবে; আর যে তাকে অস্বীকার করবে, সে নাজাত প্রাপ্ত হবে।
রাবী কাতাদা (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি তাকে অন্তর দিয়ে খারাপ জানবে এবং অস্বীকার করবে।
৪৬৮৭. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আরফাজা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ অতিসত্ত্বর আমার উম্মতের মধ্যে ফিতনা-ফ্যাসাদ হবে ফিতনার সৃষ্টি, ফ্যাসাদ হবে। এ সময় যে ব্যক্তি মুসলিমদের ঐক্যে ফাঁটল সৃষ্টি করতে চাবে, সে যে-ই হোক না কেন, তোমরা তাকে তরবারি দিয়ে হত্যা করবে।
৪৬৮৮. মুহাম্মদ ইবন উবায়দ (রহঃ) ...... উবায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আলী (রাঃ) নাহরাওয়ানের লোকদের সম্পর্কে বলেনঃ তাদের মাঝে এক ব্যক্তি ছোট হাত বিশিষ্ট হবে। যদি তোমরা আমার কথা মানতে, তবে মহান আল্লাহ্ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যবানীতে তাদের হত্যা করলে যে ছওয়াবের কথা বলেছেনঃ সে সম্বন্ধে আমি তোমাদের অবহিত করতাম।
রাবী বলেন, তখন আমি আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ আপনি কি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ! কা’বার রবের শপথ! (আমি তা তাঁর কাছ থেকে শুনেছি।)
৪৬৮৯. মুহাম্মদ ইবন কাছীর (রহঃ) .... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু মাটি মিশ্রিত সোনা পাঠান, যা তিনি আকরা ইবন হাবিস হানযালী (রাঃ), উয়ায়না ইবন বদর ফাযারী (রাঃ), বনূ নাবহানের এক ব্যক্তি যায়দ খায়ল তায়ী (রাঃ) এবং বনূ কিলাবের এক ব্যক্তি ইবন উলাছা আমিরী (রাঃ) এ চার ব্যক্তির মধ্যে বন্টন করে দেন।
রাবী বলেনঃ এতে কুরায়শ ও আনসারগণ রাগান্বিত হন এবং বলেনঃ আপনি নজদের অধিপতিদের দিচ্ছেন, অথচ আমাদের কিছুই দিচ্ছেন না! তিনি বলেনঃ আমি এ দিয়ে তাদের দিলকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করছি। এ সময় সেখানে এমন এক ব্যক্তি আসে- যার চোখ কোঠরাগত, চোয়াল উঁচু, কপাল উন্নত, ঘন দাড়ি-বিশিষ্ট ও মস্তক মুণ্ডিত ছিল। সে বলেঃ হে মুহাম্মদ! তুমি আল্লাহ্কে ভয় কর। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি যদি আল্লাহ্র নাফরমানী করি, তবে আর কে তাঁর ফরমাবরদার হবে? মহান আল্লাহ্ যমীনের উপর আমাকে আমানতদার বানিয়েছেন, অথচ তুমি আমাকে আমানতদার মনে কর না।
রাবী বলেনঃ তখন এক ব্যক্তি, আমার ধারণায় তিনি হলেন- খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রাঃ) তাকে কতল করার জন্য অনুমতি চাইলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেন।
রাবী বলেনঃ সে ব্যক্তি চলে যাওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ ব্যক্তির বংশে এমন কিছু লোক জন্ম নেবে, যারা কুরআন পাঠ করবে সত্য, তবে তা তাদের গলার নীচে যাবে না, (অর্থাৎ তা তাদের অন্তরে কোন আছর করবে না।) তারা ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে, যেরুপ ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তারা মুসলিমদের হত্যা করবে এবং মূর্তি-পূজারীদের ছেড়ে দেবে। যদি আমি তাদের পাই, তবে আমি তাদের ’কাওমে আদের’ মত (পাইকারীহারে) কতল করবো।
৪৬৯০. নাসর ইবন আসিম (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী ও আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে মত-পাথর্ক্য ও মতানৈক্য সৃষ্টির ফলে এমন কিছু ফিরকার সৃষ্টি হবে, যারা ভাল কথা বলবে, কিন্তু খারাপ কাজ করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু তা তাদের গলার নীচে যাবে না। বস্তুত তারা দীন থেকে এরূপ বেরিয়ে, যাবে যেরূপ ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায় এবং তারা তাদের রাস্তা (মতবাদ) থেকে ফিরে আসবে না, যেরূপ নিক্ষিপ্ত তীর নিক্ষেপের স্থানে ফিরে আসে না। তারা সমস্ত মাখলূকের মাঝে এবং সমস্ত মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম হবে। এরপর যারা তাদের হত্যা করবে, বা তাদের হাতে নিহত হবে- তারা সৌভাগ্যবান। তারা লোকদের আল্লাহর কিতাবের প্রতি আহবান করবে, কিন্তু এর (কুরআনের) সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না। আমার উম্মতের মধ্যে যারা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে, তারা আল্লাহ্র কাছে খুবই প্রিয়পাত্র হবে। তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাদের পরিচয় কি? তিনি বলেনঃ তারা হবে মাথা মুণ্ডনকারী।
৪৬৯১. হাসান ইবন আলী (রহঃ) .... আনাস (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ তাদের পরিচয় হলো তারা হবে মস্তকমুণ্ডনকারী এবং চুল পরিষ্কারকারী। আর তোমরা যখন তাদের দেখবে, তখন অবশ্যই তাদের কতল করবে।
৪৬৯২. মুহাম্মদ ইবন কাছীর (রহঃ) ... সুওয়াদ ইবন গাফলা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যখন তোমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন হাদীছ বর্ণনা করি, তখন তাঁর হাদীছ সম্পর্কে মিথ্যা বলার চাইতে আসমান থেকে পতিত হওয়াকে আমি শ্রেয় মনে করি। আর আমি যখন তোমাদের কাছে আমার নিজের পক্ষ থেকে কিছু বর্ণনা করি, তখন বুঝবে যে যুদ্ধের অপর নাম তো কৌশল অবলম্বন করা। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ শেষ যামানায় এমন কিছু লোক জন্ম নেবে, যাদের বয়স কম হবে এবং বুদ্ধি ও কম হবে। তারা সমস্ত মাখলূকের মধ্যে উত্তম কথাবার্তা বলবে, কিন্তু তারা ইসলাম থেকে এরূপ বেরিয়ে যাবে, যেরূপ ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তাদের ঈমান তাদের গলার নীচে যাবে না। কাজেই তোমরা এ ধরনের লোকদের যেখানেই পাবে, সেখানেই হত্যা করবে। কেননা, যারা তাদের হত্যা করবে, তারা কিয়ামত পর্যন্ত এর ছওয়াব পেতে থাকবে।
৪৬৯৪. মুহাম্মদ ইবন উবায়দ (রহঃ) ..... আবূ ওযযী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আলী (রাঃ) সে যুদ্ধের সময় বলেনঃ তোমরা মাখদাজকে অনুসন্ধান কর। এরপর তিনি এ হাদীছ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ তখন লোকেরা তার লাশকে মৃতদের লাশের নীচে যমীন থেকে উদ্ধার করে।
রাবী আবূ ওযযী (রহঃ) বলেনঃ আমি যেন এখনো তার লাশকে দেখছি। সে একটা হাবশী কুর্তা (জামা) পরে ছিল এবং তার একটা বাহু স্ত্রীলোকের স্তনের বোঁটার মত ছিল, যার উপর বুনো ইদুরের চুলের মত পশম ছিল।
৪৬৯৫. বিশর ইবন খালিদ (রহঃ) ..... নু’আয়ম ইবন হাকীম (রহঃ) আবূ মারয়াম (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ এই মাখদাজ একদা আমাদের সাথে মসজিদে উপস্থিত ছিল এবং সে দিন-রাত মসজিদেই বসে থাকতো। সে ফকীর ছিল এবং আমি তাকে ফকীরদের সাথে আনতে দেখেছি। একদা আলী (রাঃ) যখন খানা খাচ্ছিলেন, তখন আমি তাকে একখানা কাপড় দেই।
রাবী আবূ মারয়াম (রহঃ) এ-ও বলেছেনঃ নাফি (রহঃ) তার নাম দিয়েছিল- ’যূ-ছাদিয়া অর্থাৎ স্তন-বিশিষ্ট ব্যক্তি। কেননা, তার হাতে স্ত্রীলোকদের স্তনের মত-স্তন ছিল। যার অগ্রভাগে স্ত্রীলোকদের স্তনের বোঁটার মত- বোঁটাও ছিল এবং তার উপর বিড়ালের গোঁফের মত -পশমও ছিল।
৪৬৯৬. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির মাল কেউ নাহকভাবে (চুরি করে) নিতে, আর সে ব্যক্তি চোরের মুকাবিলা করার সময় নিহত হয়, সে শহীদ হবে।
৪৬৯৭. হারূন ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ..... সাঈদ ইবন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার ধন-সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে মারা যাবে, সে শহীদ। আর যে ব্যক্তি নিজের সন্তান-সন্ততি বা নিজের জীবন অথবা দীনের হিফাজত করতে গিয়ে নিহত হবে, সেও শহীদ।
বর্ণনাকারী: সুফিয়ান সাওরী (রহঃ)
৪৫৩৫. মুহাম্মদ ইবন কাছীর (রহঃ) ... সুফিয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি উমার ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-এর নিকট পত্রযোগে তাকদীর সম্পর্কে জানতে চান। আবূস সালত (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি তাকদীর সম্পর্কে জানার জন্য উমার ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-কে পত্র লেখেন। এর জবাবে তিনি লেখেনঃ আমি তোমাকে ওসীয়ত করছি আল্লাহ্কে ভয় করার জন্য এবং তাঁর হুকুম মেনে চলার জন্য এবং তাঁর নবীর সুন্নাতের অনুসরণ করাব জন্য। আর বিদ’আতিগণ যা উদ্ভাবন করেছে, তা পরিহার করার জন্য আমি তোমাকে ওসীয়ত করছি। বিদ’আতীরা এসব কথা তখন উদ্ভাবন করেছে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিদ’আত সৃষ্টির পর তারা বিভ্রান্ত হয়েছে। তোমার উচিত, সুন্নাতকে দুঢ়ভাবে ধারণ করা। কেননা, সুন্নাতের উপর আমল করলে তুমি আল্লাহর হুকুমে গুমরাহী থেকে বেঁচে যাবে।
জেনে রাখ! লোকেরা এমন কোন বিদ’আত সৃষ্টি করিনি, যা বাতিল হওয়ার জন্য দলীল বর্ণিত হয়নি এবং তা দেখাতে শিক্ষা হয়নি। আর সুন্নাতকে তিনি জারী করেছেন, যিনি জানতেন, এর বিরোধিতা করলে কিরূপ গুনাহ, ক্রটি-বিচ্যূতি ও আহমকী হবে। কাজেই তুমি সে তরীকার অনুসরণ কর, যে তরীকা অনুসরণ করেছিল পূর্ববর্তীগণ। কেননা, তাঁরা দীনের ইলম সম্পর্কে গভীর জ্ঞানী ছিলেন। আর যে কাজ করতে তাঁরা নিষেধ করেছেন, তা জেনে-শুনেই করেছেন। তারা দীনের অর্থ বুঝার ক্ষেত্রে আমাদের চাইতে অনেক ক্ষমতার অধিকারী ছিল। আর তাদের মাঝে যে যোগ্যতা ছিল, তা ছিল উন্নতমানের।
তোমরা যে তরীকার উপর প্রতিষ্ঠিত আছ, যদি তা-ই হিদায়াত হয়, তবে তোমরা অগ্রগামী হয়ে যাবে। আর যদি তোমরা বল, যারা দীনের মধ্যে নতুন কথা সৃষ্টি করেছে; তবে আমরা বলবোঃ আগের লোকেরাই উত্তম ছিল এবং তারা এদের চাইতে অগ্রগামী ছিল। যতটুকু বর্ণনা করার, তা তাঁরা করেছেন। আর যতটুকু বলা দরকার, তা সবই করেছেন; এর উপরেও কিছু বলার নেই এবং নীচেও কিছু বলার নেই। কিছু লোক তাদের থেকে কম বর্ণনা করেছে, তারা ক্ষতি করেছে; আর কিছু লোক তাদের চাইতে বেশী বর্ণনা করেছেন। পূর্ববর্তী আলিমগণ মধ্যপন্থী ছিলেন এবং তাঁরা সোজা-সরল রাস্তার অনুসরণকারী ছিলেন।
তুমি পত্রে তাকদীর সম্পর্কে জানতে চেয়েছ। আল্লাহ্র হুকুমে তুমি এ প্রশ্ন সম্পর্কে তাদের চাইতে অধিক জ্ঞানী। আমি মনে করি, যত বিদ’আতী সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা যা নতুন উদ্ভাবন করেছে, এর মধ্যে তাকদীরের বর্ণনা খুবই স্পষ্ট এবং মজবুত। জাহিলী যুগের লোকেরা তাদের কথাবার্তায় তাকদীরের কথা বলতো এবং তাদের কবিতায় তাকদীর থেকে মসীবত দূর করে দিত। অবশেষে ইসলাম এ ধারণাকে আরো শক্ত করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বা দুই হাদীছে নয়, বরং অনেক হাদীছে তাকদীরের কথা বর্ণনা করেছেন। মুসলিমেরা তাঁর থেকে এসব শুনেছেন এবং অন্যের কাছে বর্ণনাও করেছেন তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরও; এর উপর বিশ্বাস রেখে এবং মেনে নিয়ে।
আর নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে জেনে যে এমন কিছুই নেই, যা আল্লাহ্ জানেন না এবং তাঁর কিতাবে লেখা নেই, অথবা এ ব্যাপারে আল্লাহ্র-ফায়সালা বাস্তবায়িত হয়নি। উল্লেখ্য যে, তাকদীরের বর্ণনা আল্লাহ্র মজবুত কিতাবে রয়েছে, তা থেকে পূর্ববর্তীগণ তাকদীরের মাসআলা-মাসায়েল শিখেছে। যদি তুমি বলঃ কেন আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেন, আর কেন এমন বলেন (যা বাহ্যতঃ তাকদীরের বিপরীত)? এর জবাব হলোঃ আগের যুগের লোকেরা এ আয়াত পড়েছিল এবং তারা এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে সম্যক অবহিত ছিল, যা তোমরা জান না। তারা আল্লাহ্র কিতাব ও তাকদীর সম্পর্কে বলতোঃ তা-ই হবে, যা আল্লাহ চান ; আর তা হবে না, যা তিনি চান না। আর আমরা আমাদের উপকার ও অপকারের পূর্ণ ক্ষমতা রাখি না। এ বিশ্বাসের উপর পূর্ববর্তীগণ উত্তম কাজ করতেন এবং খারাপ কাজ করতে ভয় পেতেন।
বর্ণনাকারী: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার (রহঃ)
৪৬২২. উবায়দুল্লাহ ইবন মু’আয (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবন ইয়ামার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বসরার অধিবাসী মা’আবাদ জুহানী সর্ব প্রথম তাকদীরের সমালোচনা করেন। এ সময় আমি এবং হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান হিময়ারী (রহঃ) হাজ্জ বা উমরার উদ্দেশ্যে বের হই। আমরা বলাবলি করিঃ যদি আমাদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন সাহাবীর দেখা হয়, তবে আমরা তার সঙ্গে এ ব্যক্তিদের সম্পর্কে আলোচনা করবো, যারা তাকদীর সম্পর্কে এরূপ বলে। তখন আল্লাহ্র মেহেরবানীতে আমরা আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রাঃ)-এর দেখা পাই-মসজিদে প্রবেশ করার সাথে-সাথেই।
আমি এবং আমার সাথী তাকে ঘিরে ধরি এবং আমি মনে করি আমার সাথী আমাকে কথা বলার সুযোগ দেবে। তখন আমি তাকে বলিঃ হে আবূ আবদুর রহমান! আমাদের মাঝে এমন কিছু লোকের সৃষ্টি হয়েছে, যারা কুরআন পাঠ করে এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করে বলেঃ তাকদীর বলে কিছুই নেই। সব কিছুই এমনিতেই হয়ে থাকে। এ কথা শুনে তিনি বলেনঃ যখন তাদের সাথে তোমাদের দেখা হবে, তখন তাদের বলবে, আমি তাদের উপর অসন্তুষ্ট এবং তারাও আমার উপর অসন্তুষ্ট। ঐ জাতের (আল্লাহ্র) কসম! যার কসম আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) করছে; যদি তাদের কারো কাছে উহুদ পরিমাণ সোনা থাকে এবং তারা তা (আল্লাহ্র রাস্তায় খরচ করে, তবু ও আল্লাহ্ ততক্ষণ তা কবূল করবেন না, যতক্ষণ না সে তাকদীরের প্রতি ঈমান আনে।
এরপর তিনি বলেনঃ আমার কাছে উমার ইবন খাত্তাব (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। সে সময় সেখানে শাদা পোশাক পরিহিত, কাল চুল বিশিষ্ট একজন আসে, যার মধ্যে সফরের কোন চিহ্ন ছিল না এবং তাঁর দুই জানু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জানুদ্বয়ের নিকট রেখে, স্বীয় দু’হাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জানুর উপর রেখে জিজ্ঞাসা করেঃ হে মুহাম্মদ! ইসলাম কি, সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বলেনঃ ইসলাম হলো-এরূপ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রাসূল। তুমি সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং রমযানের রোযা রাখবে এবং সামর্থ থাকলে আল্লাহ্র ঘর যিয়ারত (হাজ্জ) করবে। তখন সে বলেঃ আপনি সত্য বলেছেন।
উমার (রাঃ) বলেনঃ তার এরূপ উক্তিতে আমরা বিস্মিত হই এ জন্য যে, সে নিজে প্রশ্ন করছে এবং নিজেই তা সত্যায়িত করছে! এরপর সে জিজ্ঞাসা করেঃ ঈমান কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঈমান হলো-তুমি আল্লাহ্, ফেরেশতা, কিতাব, রাসূল এবং কিয়ামতের দিনের উপর দৃঢ়-বিশ্বাস রাখবে, আর এও ইয়াকীন রাখবে যে, তাকদীরের ভাল-মন্দ সবই আল্লাহ্র তরফ থেকে হয়। এ কথা শুনে সে বলেঃ আপনি ঠিকই বলেছেন। এরপর সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ আমাকে ইহসান সম্পর্কে কিছু বলুন। জবাবে তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহ্র ইবাদত এ ভাবে করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছো। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে এরূপ মনে করবে যে, তিনি তোমাকে দেখছেন।
এরপর সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ কিয়ামত কবে হবে? তিনি বলেনঃ এ সম্পর্কে যাকে জিজ্ঞাসা করে হয়েছে, সে প্রশ্নকারী থেকে অধিক অবহিত নয়। তখন সে ব্যক্তি বলেঃ তাহলে এর আলামত সম্পর্কে কিছু বলুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দাসী তার মনিবের জন্ম দেবে (অর্থাৎ সন্তান তার মায়ের নাফরমানী করবে); আর তুমি দেখবে যে, খালি পা ও খালি গায়ের অধিকারী মুখাপেক্ষী রাখাল সম্প্রদায়ের লোকেরা উঁচু-উঁচু প্রাসাদ তৈরী করে গর্ব প্রকাশ করবে। রাবী বলেনঃ পরে সে ব্যক্তি চলে গেলে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছুক্ষণ অবস্থান করি। তিনি বলেনঃ হে উমার! তুমি কি জানো, এ প্রশ্নকারী ব্যক্তিটি কে? আমি বলিঃ আল্লাহ্ এবং তাঁর এ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইনি হলেন, জিবরীল (আঃ), যিনি তোমাদের কাছে এসেছিলেন দীন সম্পর্কে শিক্ষা দেয়ার জন্যে।
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
৪৬৭৮. উছমান ইবন আবূ শায়বা (রহঃ) .... বারা ইবন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একজন আনসার সাহাবীর জানাযার নামাযে শরীক হই, এমন কি তার কবরের কাছে যাই, যা তখন ও তৈরী হয়নি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে বসেন এবং আমরা ও তাঁর সাথে তাঁর চারদিকে শান্তভাবে বসে পড়ি, যেন আমাদের মাথার উপর পাখী বসা। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে একখণ্ড কাঠ ছিল, যা দিয়ে তিনি যমীনের উপর আঘাত করছিলেন। এরপর তিনি মাথা উঁচু করে দুই বা তিনবার বলেনঃ তোমরা কবরের আযাব থেকে আল্লাহ্র কাছে নাজাত চাও।
রাবী জারীরের বর্ণনায় এরূপ অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, দাফনের পর লোকেরা যখন ফিরে যায় এবং সে লোক তাদের শব্দ শুনতে পায়, সে সময় তাকে এরূপ প্রশ্ন করা হয়ঃ হে ব্যক্তি! তোমার রব কে? তোমার দীন কি এবং তোমার নবী কে?
রাবী হান্নাদ (রহঃ) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তখন তার কাছে দু’জন ফেরেশতা আসে এবং তাকে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করেঃ তোমার রব কে? তখন সে বলেঃ আল্লাহ্ আমার রব। তখন তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ তোমার দীন কী? সে বলেঃ আমার দীন ইসলাম। এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ এ ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের কাছে পাঠান হয়েছিল? তখন সে বলেঃ ইনি হলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন ফেরেশতারা আবার জিজ্ঞাসা করেঃ তুমি এ কিরূপে জানলে? তখন সে বলেঃ আমি আল্লাহ্র কিতাব পড়েছি, এর উপর ঈমান এনেছি এবং একে সত্য বলে মনে করি। রাবী জারীর বলেন, আল্লাহ্র বাণীঃ "আল্লাহ্ তা’আলা মু’মিনদের ইহজীবন ও পরজীবনে শাশ্বত- বাণীর (কালিমার) উপর দূর রাখেন।" এর অর্থ ইহাই।
রাবী বলেনঃ এরপর আসমান থেকে একজন আহবানকারী এরূপ ঘোষণা দিতে থাকেঃ আমার বান্দা সত্য বলেছে, তার কবরে জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের দিকে একটা দরজা খুলে দাও। রাবী বলেনঃ তখন তার কবরে জান্নাতের মৃদুমন্দ বাতাস ও খোশবু আসতে থাকে এবং সে ব্যক্তির কবরকে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করে দেয়া হয়। এরপর তিনি কাফির ব্যক্তির মৃত্যুর অবস্থা বর্ণনা করে বলেনঃ কবরে রাখার পর তার আত্মাকে দেহের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। তখন দু’জন ফেরেশতা এসে তাকে বসায় এবং প্রশ্ন করেঃ তোমার রব কে? তখন সে বলেঃ হা - হা - লা - আদরী; অর্থাৎ আফসোস, আমি তো জানি না।
এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ তোমার দীন কী? সে বলেঃ আফসোস আমি জানি না। এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ এ ব্যক্তি কে, যাকে দুনিয়াতে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল? তখন সে বলেঃ হায় আফসোস! আমি জানি না। তখন আসমান থেকে একজন ঘোষণাকারী এরূপ বলতে থাকেঃ সে মিথ্যা বলেছে। তার কবরে আগুনের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে আগুনের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার কবর থেকে জাহান্নামের দিকে একটা দরজা খুলে দাও; যাতে তার কবরে জাহান্নামের আগুনের প্রচণ্ড তাপ ও ভাঁপ আসতে থাকে। এরপর কবর তার জন্য এতই সংকুচিত হয়ে যায় যে, তার পাজরের একপাশ অপরপাশে চলে যায়।
রাবী জারীর আরো বর্ণনা করেনঃ এরপর সে ব্যক্তির জন্য একজন অন্ধ ও বধির ফেরেশতাকে নিয়োগ করা হয় এবং তার হাতে এমন একটা লোহার মুগুর থাকে, যদি তা দিয়ে দুনিয়ার কোন পাহাড়ের উপর আঘাত করা হয়, তবে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে মাটিতে পরিণত হবে। এরপর সে ফেরেশতা মুগুর দিয়ে তাকে এমনভাবে পিটাতে থাকে, যার শব্দ জিন ও ইনসান ব্যতীত পূর্ব-পশ্চিমের সমস্ত মাখলূক (সৃষ্টজীব) শুনতে পায় এবং তার দেহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধূলায় পরিণত হয়। এরপর তার মধ্যে পুনরায় রুহ ফুঁকে দেয়া হয়।
৪৬৯৩. হাসান ইবন আলী (রহঃ) ..... যায়দ ইবন ওয়াহাব যুহানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাঃ)-এর ঐ সেনাবাহিনীর সাথে ছিলাম, যারা খারিজীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য গিয়েছিল। তখন আলী (রাঃ) বলেনঃ হে লোকগণ! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা কুরআন এমন সুন্দরভাবে পড়বে যে, তাদের তুলনায় তোমাদের কিরাত কিছুই হবে না। তাদের সালাতের তুলনায় তোমাদের সালাত কিছুই হবে না এবং তাদের রোযার তুলনায় তোমাদের রোযা কিছুই হবে না। বস্তুত তারা এ মনে করে কুরআন পড়ে যে, তারা এর ছওয়াব পাবে, কিন্তু আসলে তারা এর কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত হবে। তাদের নামায তাদের গলার নীচে নামবে না এবং তারা ইসলাম থেকে এরুপ বেরিয়ে যাবে, যেরূপ ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়।
যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, তাদের বিনিময় সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’আলা তার নবীর যবানীতে যা বর্ণনা করেছেন, তা যদি তারা জানতো, তবে তারা সব ধরনের আমল ছেড়ে দিত। তাদের পরিচয় এই যে, তাদের মাঝে এমন এক ব্যক্তি থাকবে, যারা বাহুমূল থাকবে, কিন্তু তার হাত থাকবে না। তার সে বাহুতে স্তনের বোঁটার মত থাকবে, যার উপর সাদা পশম হবে। কী ব্যাপার! তোমরা মুআবিয়া এবং শামবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য যাচ্ছ, অথচ তোমরা তাদেরকে তোমাদের মাল ও সন্তান-সন্ততিদের কাছে রেখে যাচ্ছ! (যারা তাদের ক্ষতি করবে।) আল্লাহ্র শপথ! আমার মনে হয়, এরাই তারা, (যাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন), যারা হারাম রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং লোকদের চারণভূমি লুন্ঠন করেছে। কাজেই, তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গমন কর।
রাবী সালামা ইবন কুহায়ল (রহঃ) বলেনঃ যায়দ ইবন ওয়াহাব (রহঃ) আমাকে এমন একস্থানে নিয়ে যান, যেখানে আমরা একটা পুলের উপর দিয়ে যাই; সেখানে দু’পক্ষের সৈন্যরা মুখোমুখি হয় এবং সেখানে খারিজীদের নেতা আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহাবও উপস্থিত ছিল। সে তার সেনাবাহিনীর প্রতি এরূপ নির্দেশ দেয়ঃ তোমরা বল্লম ফেলে দাও এবং খাপ থেকে তরবারি বের কর। কেননা, আমার আশংকা হচ্ছে, এরা তোমাদের সেরূপ বিচ্ছিন্ন করবে, যেরূপ ’হারুরার’ দিন করেছিল।
রাবী বলেনঃ তার এ নির্দেশ পাওয়ার পর সৈন্যরা তাদের বল্লম ফেলে দিয়ে তরবারি ধারণ করে। তখন মুসলিমরা বল্লম নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং তাদের হত্যা করে গাদা দিয়ে রাখে।
রাবী বলেনঃ এ দিনের যুদ্ধে আলী (রাঃ)-এর পক্ষে মাত্র দু’জন শহীদ হন। এরপর আলী (রাঃ) এরূপ নির্দেশ দেনঃ লাশের স্তুপের মধ্য থেকে মাখদাজ অর্থাৎ ছোট হাত-বিশিষ্ট ব্যক্তির লাশ বের কর। কিন্তু সৈন্যরা তার লাশের সন্ধান পায় না।
রাবী বলেনঃ অবশেষে আলী (রাঃ) সেখানে যান, যেখানে লাশ গাদা দেয়া ছিল এবং বলেনঃ এদের আলাদা করে রাখ। এরপর সমস্ত লাশকে আলাদা করে রাখার পর দেখা যায় যে, সে ব্যক্তির লাশ সবার নীচে মাটির উপর পড়ে আছে। এ সময় তিনি ’আল্লাহ্ আকবর’ ধ্বনি দিয়ে বলেনঃ মহান আল্লাহ্ সত্য বলেছেন এবং তাঁর রাসূল তা আমাদের কাছে পৌছে দিয়েছেন। একথা শুনে উবায়দা সালমানী (রাঃ) আলী (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে বলেনঃ ইয়া আমীরুল মু’মিনীন। ঐ জাতের কসম! যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, আপনি কি ইহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? জবাবে তিনি বলেনঃ ঐ আল্লাহ্ যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, আমি ইহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। বাকী তিনবার শপথপূর্বক এর জবাব দেন।