২৯১৮. আবদুল্লাহ ইবন মাসলামা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! তোমরা সকলে রাখালের ন্যায় দায়িত্বশীল এবং (কিয়ামতের দিন) প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অধীনস্থদের প্রতি দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আমীর (নেতা) হয়েছে, তাকে তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে যে, (সে তার অধীনস্থদের সাথে) কিরূপ ব্যবহার করেছে। আর প্রত্যেক পুরুষ তার পরিবার-পরিজনদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাকে তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আর স্ত্রী, তার স্বামীর ঘর-সংসার ও তার সন্তানাদির রক্ষণাবেক্ষণকারিনী, তাকে এসব ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কাজেই, তোমরা সকলে দায়িত্বশীল রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তোমাদের সকলকে তোমাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
২৯১৯. মুহাম্মদ ইবন সাব্বাহ বাযযায (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেন যে, হে আবদুর রহমান ইবন সামুরা! তুমি নেতৃত্ব চাবে না। কেননা যদি তোমার চাওয়ার প্রেক্ষিতে তা তোমাকে দেওয়া হয়, তবে তার দায়িত্ব তোমার উপর বর্তাবে। আর যদি চাওয়া ব্যতীত তা তোমাকে দেওয়া হয়, তবে তুমি তাতে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে (অর্থাৎ আল্লাহ্ তোমাকে সাহায্য করবেন)।
২৯২০. ওয়াহব ইবন বাকীয়্যা (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি দু’ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গমন করি। তখন তাদের এক ব্যক্তি প্রারম্ভিক বক্তব্য পেশের পর বললোঃ আমরা এজন্য এসেছি যে, আপনি আমাদের দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে সাহায্য নিবেন। আর দ্বিতীয় জনও তার সাথীর অনুরূপ বক্তব্য পেশ করলো। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তি নেতৃত্ব চায়, সে আমাদের দৃষ্টিতে অধিক খিয়ানতকারী। তখন আবূ মূসা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উযর পেশ করে বলেনঃ আমি জানতে পারিনি যে, তারা এ উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে। অতঃপর তিনি আমৃত্যু তাদের দিয়ে কোন কাজে সাহায্য নেন নি।
১৪১. অন্ধ ব্যক্তির নেতৃত্ব সম্পর্কে।
হাদিস নং ২৯২১সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُخَرِّمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ الْقَطَّانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَخْلَفَ ابْنَ أُمِّ مَكْتُومٍ عَلَى الْمَدِينَةِ مَرَّتَيْنِ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
২৯২১. মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ মুখাররামী (রহঃ) .... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’বার ইবন উম্মু মাকতুম (অন্ধ সাহাবী)-কে (যুদ্ধে যাওয়ার সময়) মদীনাতে তাঁর খলীফা হিসাবে নিয়োগ করেন।
২৯২২. মূসা ইবন আমির মুররী (রহঃ) .... আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ্ তা’আলা কোন নেতার জন্য যখন কল্যাণের ফয়সালা করেন, তখন তিনি তাকে সত্যবাদী, ন্যায়নিষ্ঠ উযীর প্রদান করেন। যদি তিনি (নেতা) কিছু ভুলে যান, তখন সে (উযীর) তাকে তা স্মরণ করিয়ে দেয়। আর আমীর যদি তা স্মরণ রাখেন, তখন উযীর তাকে সাহায্য করে। পক্ষান্তরে আল্লাহ তা’আলা কোন নেতার জন্য যখন অকল্যাণের ফয়সালা করেন, তখন তিনি তাকে অযোগ্য উযীর প্রদান করেন। ফলে যখন তিনি (আমীর) কিছু ভুলে যান, তখন সে (উযীর) তাকে তা স্মরণ করিয়ে দেয় না। আর আমীর যদি স্মরণ রাখেন, তখন সে তাকে সাহায্য করে না।
২৯২৩. আমর ইবন উছমান (রহঃ) ..... মিকদাম ইবন মা’দীকারিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দু’কাঁধে হাত রেখে বলেন, হে কুদায়ম! তুমি নাজাত পাবে, যদি তুমি আমীর, মুনশী (কেরানী) এবং আরাফা (সমাজপতি) হওয়ার আগে মারা যাও।
২৯২৪. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... গালিব কাত্তান (রাঃ) জনৈক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেছেন। যিনি তাঁর পিতা হতে এবং তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তারা একটি ঝর্ণার নিকট বসবাস করত। যখন তারা দীন-ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারে, তখন ঝর্ণার মালিক তার অধীনস্থ লোকদের এ শর্তে একশটি উট দিতে চায় যে, তারা ইসলাম কবুল করবে। তখন তারা ইসলাম কবুল করলে তাদের মাঝে একশটি উট বন্টন করে দেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি তাদের থেকে সেগুলো ফেরত নেওয়ার খেয়াল করেন এবং স্বীয় পুত্রকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রেরণ করেন।
তিনি তাঁর পুত্রকে এ মর্মে নির্দেশ দেন যে, সে যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হয়ে তাকে বলেঃ আমার পিতা আপনাকে সালাম জানিয়েছেন, আর তিনি তাঁর কওমের লোকদের মাঝে এ উদ্দেশ্যে একশটি উট বিতরণ করতে চান, যাতে তারা ইসলাম কবুল করে। অতঃপর তারা ইসলাম কবুল করেছে এবং তিনিও তাদের মাঝে শত উট বিতরণ করেছেন। এখন তাদের থেকে সেগুলি ফেরত নেওয়ার ইচ্ছা করছেন। তাই তিনি কি এগুলির অধিক হকদার, না ঐ ব্যক্তিরা?
তখন তিনি বললেনঃ যদি তিনি সেগুলো তাদের দিয়ে দিতে চান, তবে তিনি দিতে পারেন। আর যদি তিনি সেগুলো ফিরত নিতে চান তাহলেেও এ ব্যাপারে তিনি অধিক হকদার। আর তারা যদি সত্য-সত্যই মুসলিম হয়ে থাকে, তবে তারা এর বিনিময় (আল্লাহ্র নিকট) পাবে। আর যদি তারা সত্যিকারভাবে মুসলিম না হয়ে থাকে, তবে তাদেরকে ইসলামের জন্য কতল করা হবে।
অতঃপর সে (ছেলে) বলেঃ আমার পিতা একজন অতি বৃদ্ধ লোক, আর তিনি পানির আরীফও। তিনি আপনার নিকট এরূপ দরখাস্ত করেছেন যে, আপনি আমাকে তার পরে ঐ পানির আরীফ নিয়োগ করবেন। তখন তিনি বলেনঃ নিশ্চয় ইরাফা (প্রতিনিধিত্ব) খুবই জরুরী বিষয়। আর লোকজনের উপকারার্থেই তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিনিধিত্বকারী নেতারাই জাহান্নামে যাবে।
১৪৪. মুহুরী বা করণিক রাখার ব্যাপারে।
হাদিস নং ২৯২৫যঈফ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا نُوحُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ السِّجِلُّ كَاتِبٌ كَانَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
২৯২৫. কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’সিজিল্লু’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন ওয়াহী লেখকের নাম ছিল।
২৯২৬. মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহীম আসবাতী (রহঃ) .... রাফে ইবন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, সঠিকভাবে সাদকা (যাকাত) আদায়কারী হলো আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদকারীর মত, যতক্ষণ না সে তার ঘরে ফিরে যায়।
২৯২৭. আবদুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মদ নুফায়লী (রহঃ) .... উকবা ইবন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, যাকাতের মালের নিদিষ্ট পরিমাণের চাইতে অধিক গ্রহণকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
২৯২৮. মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ কাত্তান (রহঃ) ..... ইবন ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ’সাহেবে-মাক্স’ ঐ ব্যক্তি, যে লোকদের নিকট হতে উশর এক-দশমাংশ আদায় করার সময় (যাকাত হিসাবে) কিছু বেশী আদায় করে।
১৪৬. খলীফা মনোনয়ন সম্পর্কে।
হাদিস নং ২৯২৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، وَسَلَمَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ عُمَرُ إِنِّي إِنْ لاَ أَسْتَخْلِفْ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَسْتَخْلِفْ وَإِنْ أَسْتَخْلِفْ فَإِنَّ أَبَا بَكْرٍ قَدِ اسْتَخْلَفَ . قَالَ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ ذَكَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ فَعَلِمْتُ أَنَّهُ لاَ يَعْدِلُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَدًا وَأَنَّهُ غَيْرُ مُسْتَخْلِفٍ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
২৯২৯. মুহাম্মদ ইবন দাউদ ইবন সুফআন ও সালামা (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার (রাঃ) ঘোষণা দেনঃ আমি খলীফা (আমার পরের) মনোনীত করব না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন খলীফা মনোনীত করেননি। আর আমি যদি কাউকে খলীফা মনোনীত করি, (তবে এতে দোষের কিছুই নেই)। কেননা আবূ বকর (রাঃ) খলীফা মনোনীত করেছিলেন। আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহ্র শপথ! তিনি [উমার (রাঃ)] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর (রাঃ) সম্পর্কে উল্লেখ করায় আমি বুঝতে পারি যে, তিনি কাউকেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমান মনে করেন না এবং তিনি কাউকেও তাঁর খলীফা মনোনীত করবেন না।
১৪৭. বায়আত সম্পর্কে।
হাদিস নং ২৯৩০সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كُنَّا نُبَايِعُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَيُلَقِّنُنَا فِيمَا اسْتَطَعْتَ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
২৯৩০. হাফ্স ইবন উমার (রহঃ) .... ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ মর্মে বায়’আত গ্রহণ করতাম যে, আমরা তাঁর কথা শুনব এবং আমল করব। আর তিনি আমাদেরকে এরূপ শিক্ষা দিতেন যে তোমরা তোমাদের সাধ্যমত দীনের কাজ করবে।
হাদিস নং ২৯৩১সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَخْبَرَتْهُ عَنْ بَيْعَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النِّسَاءَ قَالَتْ مَا مَسَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ إِلاَّ أَنْ يَأْخُذَ عَلَيْهَا فَإِذَا أَخَذَ عَلَيْهَا فَأَعْطَتْهُ قَالَ " اذْهَبِي فَقَدْ بَايَعْتُكِ " .
বর্ণনাকারী: উরওয়াহ (রহঃ)
২৯৩১. আহমদ ইবন সালিহ (রহঃ) .... উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আইশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মহিলাদের বায়’আত করা সম্পর্কে তাঁকে এরূপ বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোন বেগানা স্ত্রীলোককে তাঁর হাত দিয়ে স্পর্শ করেননি। অবশ্য তিনি তাদের নিকট হতে বায়’আতের অঙ্গীকার গ্রহণ করতেন। আর যখন তিনি অঙ্গীকার নিতেন, তখন তারা তাঁর নিকট অঙ্গীকারবদ্ধ হতো। এ সময় তিনি বলতেনঃ যাও, আমি তোমাকে বায়’আত করেছি।
হাদিস নং ২৯৩২সহিহ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي أَبُو عَقِيلٍ، زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هِشَامٍ، قَالَ وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَذَهَبَتْ بِهِ أُمُّهُ زَيْنَبُ بِنْتُ حُمَيْدٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَايِعْهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هُوَ صَغِيرٌ " . فَمَسَحَ رَأْسَهُ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাঃ)
২৯৩২. উবায়দুল্লাহ ইবন উমার ইবন মায়সারা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবন হিশাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানা পেয়েছিলেন। তিনি বলেনঃ তাকে নিয়ে তার আম্মা যয়নব বিনত হুমাইদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যান এবং বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! একে বায়’আত করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে তো খুবই ছোট। এরপর তিনি তার মাথায় হাত দিয়ে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন।
২৯৩৩. যায়দ ইবন আখযাম আবূ তালিব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবন বুরায়দা (রহঃ) তাঁর পিতা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যাকে যে কাজের জন্য নিয়োগ করব এবং তার জন্য যে বেতন নির্ধারণ করব, এর অতিরিক্ত যদি সে কিছু গ্রহণ করে, তবে তা আত্মসাৎরূপে গণ্য হবে।
২৯৩৪. আবূ ওয়ালীদ তায়ালিসী (রহঃ) ..... ইবন সা’ইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে উমার (রাঃ) যাকাত আদায়ের দায়িত্বে নিয়োগ করেন। যখন আমি এ কাজ হতে মুক্ত হই, তখন তিনি আমাকে এর বিনিময় দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এ সময় আমি বলিঃ আমি তো আল্লাহ্র ওয়াস্তে এ কাজ করেছি। তখন তিনি বলেনঃ তোমাকে যা দেওয়া হচ্ছে, তা গ্রহণ কর। কেননা আমিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় এ দায়িত্ব পালন করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে এর মজুরী দিয়েছিলেন।
হাদিস নং ২৯৩৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعَافَى، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ كَانَ لَنَا عَامِلاً فَلْيَكْتَسِبْ زَوْجَةً فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ خَادِمٌ فَلْيَكْتَسِبْ خَادِمًا فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَسْكَنٌ فَلْيَكْتَسِبْ مَسْكَنًا " . قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ أُخْبِرْتُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ اتَّخَذَ غَيْرَ ذَلِكَ فَهُوَ غَالٌّ أَوْ سَارِقٌ " .
বর্ণনাকারী: মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ (রা.)
২৯৩৫. মূসা ইবন মারওয়ান রুকী (রহঃ) ..... মুসতাওরিদ ইবন শাদ্দাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি আমাদের সরকারী কর্মচারী হবে, সে একজন বিবি রাখতে পারবে (যার ভরণ-পোষণ বায়তুল মাল হতে দেওয়া হবে)। আর তার যদি কোন খাদিম না থাকে, তবে সে একটি খাদিমও রাখতে পাররে এবং যদি তার থাকার মত কোন ঘর না থাকে,তবে সে একটি বাসস্থান পাবে।
রাবী বলেনঃ আবূ বকর (রাঃ) বলেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এর অতিরিক্ত কিছু গ্রহন করবে, সে হবে খিয়ানতকারী এবং চোর।
২৯৩৬. ইবন সারহ ও ইবন আবী খালাফ (রহঃ) .... হুমায়দ সা’ইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযদ গোত্রের জনৈক ব্যক্তিকে যার নাম ছিল লুতবিয়াহ ইবন সারহ বলেন, তাকে ইবন উতবিয়াও বলা হতো, যাকাত আদায়ের জন্য কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ করেন। যখন সে যাকাত আদায় করে ফিরে আসলো, তখন সে বললোঃ এগুলো তোমাদের জন্য এবং এগুলো আমাকে হাদিয়ারূপে দেওয়া হয়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর দাঁড়ালেন এবং আল্লাহ্র প্রশংসা ও গুণগান আদায়ের পর বললেনঃ কর্মচারীর জন্য এ বিধেয় নয় যে, আমি তাকে কর্মচারী নিয়োগ করে পাঠাব, আর সে ফিরে এসে বলবেঃ এই মাল তোমাদের এবং এই হাদিয়া আমাকে দেওয়া হয়েছে।
যদি সে তার পিতার বা মাতার গৃহে বসে থেকে দেখতো যে, তাকে হাদিয়া দেওয়া হয় কিনা? তোমাদের কেউ তা থেকে অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করলে, সে কিয়ামতের দিন তা নিয়ে উপস্থিত হবে। যদি তা উট হয়, তবে সে উটের আওয়াজ করতে থাকবে। যদি বলদ অথবা গাভী হয়, তখন সে গরুর মত হাম্বা-হাম্বা ডাক দিতে দিতে আসবে। আর যদি বকরী হয়, তবে তাও বকরীর মত ডাকতে থাকবে। এরপর তিনি তাঁর দু’হাত (দু’আর জন্য) এত উপরে উঠালেন যে, আমরা তাঁর বগলের সাদা অংশ দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি বলেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আমি কি (তোমার হুকুম) পৌছে দিয়েছি? ইয়া আল্লাহ্! আমি কি (তোমার নির্দেশ) পৌছে দিয়েছি?
২৯৩৭. উছমান ইবন আবী শায়বা (রহঃ) ..... আবূ মাস’ঊদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যাকাত আদায় করার জন্য প্রেরণ করেন। এ সময় তিনি বলেনঃ হে আবূ মাসঊদ তুমি যাও। কিন্তু আমি যেন তোমাকে কিয়ামতের দিন পিঠের উপর চীৎকাররত উট বহন করে আনতে না দেখি। কারণ দুনিয়াতে যাকাতের মাল আত্নসাৎ করার জন্য এরূপ শাস্তি হবে। রাবী বলেনঃ যদি ব্যাপার এরূপ হয়, তবে আমি এ দায়িত্ব গ্রহণ করব না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এমতাবস্থায় আমি তোমাকে এ কাজের জন্য জবরদস্তি করব না।
১৫১. রাষ্ট্রনায়কের উপর নাগরিকদের অধিকার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব।
২৯৩৮. সুলায়মান ইবন আবদুর রহমান দিমাশকী (রহঃ) ..... আবূ মারয়াম আযদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি মু’আবিয়া ইবন আবী সুফিয়ানের নিকট গমন করি। তখন তিনি বলেনঃ আমাদের কাছে তোমার আগমনে স্বাগতম, হে অমুক! আরবরা মেহমানদের এভাবে খোশ আমদেদ জানাত। তখন আমি তাকে বলিঃ আমি একটা হাদীছ শুনেছি, যা আমি আপনাকে অবহিত করছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ্ কোন কাজের দায়িত্বে নিয়োগ করেছেন, সে যদি লোকদের প্রয়োজনে সাড়া দিয়ে তাদের জরুরী ব্যাপারগুলি পূর্ণ করে, তবে আল্লাহ্ও তার প্রয়োজনের সময় সাড়া দিয়ে তার কাজকে পূর্ণ করে দেন। রাবী বলেনঃ এ কথা শোনার পর তিনি মু’আবিয়া (রাঃ) লোকদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য একজন লোক নিয়োগ করেন।
২৯৩৯. সালামা ইবন শাবীব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আমার তরফ হতে তোমাদেরকে না কিছু দেই এবং না কিছু আটকিয়ে রাখি। বরং আমি তো বণ্টনকারী মাত্র। যেখানে হুকুম হয়, আমি সেখানেই খরচ করি।
২৯৪০. নুফায়লী (রহঃ) ...... মালিক ইবন আওস ইবন হাদাসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা উমার ইবন খাত্তাব (রাঃ) মালে গনীমত সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন যে, আমি তোমাদের চাইতে অধিক মালে গনীমতের হকদার নই এবং আমাদের কেউ-ই একের চাইতে অপরের অধিক হক রাখে না। বরং আমরা সবাই আল্লাহ তা’আলার কিতাবে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী স্ব স্ব স্থানে অবস্থিত আছি। অবশ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বন্টন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি ইসলাম কবুলের দিক হতে পুরাতন কেউ বীর যোদ্ধা, কেউ অধিক পরিবার-পরিজনের মালিক এবং কেউ মুখাপেক্ষী। কাজেই তিনি সকলের প্রয়োজন অনুযায়ী মালে গনীমত বন্টন করতেন।
১৫২. বিনাযুদ্ধে প্রাপ্ত মালে গনীমত বন্টন সম্পর্কে।
২৯৪১. হারুন ইবন যায়দ ইবন আবী যারকা (রহঃ) ..... যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। একদা আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) মু’আবিয়া (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হন। তখন তিনি মু’আবিয়া (রাঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আবূ আবদুর রহমান! তোমার কি প্রয়োজন? তখন তিনি বলেনঃ আপনি আযাদপ্রাপ্ত গোলামদের হিসসা প্রদান করুন। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ করতে দেখেছি যে, তিনি আযাদপ্রাপ্ত গোলামদের অংশ, গনীমতের মাল হিসাবে আগত সম্পদ হতে আগে দেওয়া শুরু করতেন।
হাদিস নং ২৯৪২সহিহ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نِيَارٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عَنْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِظَبْيَةٍ فِيهَا خَرَزٌ فَقَسَمَهَا لِلْحُرَّةِ وَالأَمَةِ . قَالَتْ عَائِشَةُ كَانَ أَبِي رضى الله عنه يَقْسِمُ لِلْحُرِّ وَالْعَبْدِ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
২৯৪২. ইবরাহীম ইবন মূসা রাযী (রহঃ) ...... আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন একটি থলে আসে, যাতে একটি আংটিও ছিল। তখন তিনি তা আযাদকৃত দাস ও দাসীদের মাঝে বন্টন করে দেন।
আইশা (রাঃ) আরো বলেনঃ আমার পিতা [আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)]ও আযাদ ও গোলামদের মাঝে গনীমতের অতিরিক্ত সম্পদ বন্টন করে দিতেন।
২৯৪৩. সাঈদ ইবন মানসূর (রহঃ) .... আওফ ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কোন মালে-গনীমত আসতো, তখন তিনি সেদিনই তা বন্টন করে দিতেন। তিনি বিবাহিত ব্যক্তিদের দু’অংশ এবং অবিবাহিত ব্যক্তিদের এক অংশ দিতেন।
রাবী ইবন মুসাফফা এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আমাকে আহবান করা হতো এবং আম্মার (রাঃ)-এর আগেই আমাকে ডাকা হতো। অতঃপর যখন আমাকে ডাকা হলো, তখন তিনি আমাকে দু’অংশ প্রদান করেন। কেননা আমার পরিবার পরিজন ছিল। এরপর আম্মার ইবন ইয়াসিরকে ডাকা হয় এবং তাকে একটি অংশ দেওয়া হয়, (এ জন্য যে, তার পরিবার-পরিজন ছিল না।)
১৫৩. মুসলিমদের সন্তান-সন্ততিদের খোরপোশ প্রদান সম্পর্কে।
২৯৪৪. মুহাম্মদ ইবন কাছীর (রহঃ) ...... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, আমি মুমিনদের জন্য তাদের নিজের সওার চাইতেও অধিক নিকটবর্তী। যে ব্যক্তি কোন মাল রেখে মারা যায়, তা তার পরিবার-পরিজনের। আর যে ব্যক্তি কোন দেনা ও সন্তান-সন্ততি রেখে মারা যাবে, তা আমার এবং আমি তাদের যিম্মাদার।
হাদিস নং ২৯৪৫সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَرَكَ مَالاً فَلِوَرَثَتِهِ وَمَنْ تَرَكَ كَلاًّ فَإِلَيْنَا " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
২৯৪৫. হাফস ইবন উমার (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন ধন-সম্পদ রেখে মারা যাবে, তা হবে তার উওরাধিকারীদের। আর যে কেউ পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি রেখে মারা যাবে, তাদের সার্বিক দায়িত্ব আমার।
২৯৪৬. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেনঃ আমি প্রত্যেক মুমিনদের জন্য তার নিজের সত্তার চাইতেও অধিক নিকটবর্তী। তাই, যদি কেউ মারা যায় এবং সে দেনা রেখে যায়, তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ রেখে মারা যাবে, তবে তা তাঁর পরিবার-পরিজন বা ওয়ারিছদের জন্য।
১৫৪. কত বছর বয়সের যোদ্ধার জন্য যুদ্ধে প্রাপ্ত মালে গনীমতের হিসসা নির্ধারণ করা হয়।
হাদিস নং ২৯৪৭সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عُرِضَهُ يَوْمَ أُحُدٍ وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ فَلَمْ يُجِزْهُ وَعُرِضَهُ يَوْمَ الْخَنْدَقِ وَهُوَ ابْنُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً فَأَجَازَهُ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
২৯৪৭. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উহুদের যুদ্ধের সময় তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির করা হয় এবং সে সময় তার বয়স ছিল চৌদ্দ বছর। তিনি তাঁকে অনুমতি দেন নি। এরপর পনের বছর বয়সে খন্দকের যুদ্ধের সময় যখন তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির করা হয়, তখন তিনি তাকে অনুমতি দেন।
২৯৪৮. আহমদ ইবন আবী হুয়ারী (রহঃ) ....... আবূ মুতয়ার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একবার তিনি হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে ’সুওয়ায়দা’ নামক স্থানে পৌছে দেখতে পান যে, জনৈক ব্যক্তি ঔষধ অথবা তিক্ত-ওষুধ অন্বেষণ করছে। তখন সে ব্যক্তি বলেঃ আমাকে এমন এক ব্যক্তি খবর দিয়েছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শ্রবণ করেছেন যে, তিনি বিদায় হজ্জের সময় লোকদের ওয়ায করছিলেন এবং তিনি তাদেরকে আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেনঃ হে লোক সকল! তোমরা নেতার দান ততক্ষণ গ্রহণ করবে, যতক্ষণ তা দান থাকে, (অর্থাৎ শরীয়ত মত যতক্ষণ তা বণ্টিত হবে)। আর কুরাইশরা যখন নেতৃত্ব পাওয়ার আশায় পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হবে এবং দান কর্জের আকারে পাওয়া যাবে, তখন তোমরা তা পরিত্যাগ করবে।
হাদিস নং ২৯৪৯যঈফ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ مُطَيْرٍ، - مِنْ أَهْلِ وَادِي الْقُرَى - عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ قَالَ سَمِعْتُ رَجُلاً، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَأَمَرَ النَّاسَ وَنَهَاهُمْ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ " . قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ . ثُمَّ قَالَ " إِذَا تَجَاحَفَتْ قُرَيْشٌ عَلَى الْمُلْكِ فِيمَا بَيْنَهَا وَعَادَ الْعَطَاءُ أَوْ كَانَ رُشًا فَدَعُوهُ " . فَقِيلَ مَنْ هَذَا قَالُوا هَذَا ذُو الزَّوَائِدِ صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
২৯৪৯. হিশাম ইবন আম্মার (রহঃ) .... সুলায়ম ইবন মুতায়র (রহঃ), যিনি ’’কুরা’’ নামক উপত্যকার অধিবাসী, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ আমি জনৈক ব্যক্তিকে এরূপ বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিদায় হজ্জের সময় বলতে শুনেছি, যখন তিনি লোকদের আদেশ ও নিষেধাবলী সম্পর্কে অবহিত করার এক পর্যায়ে বললেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আমি কি আপনার পয়গাম পৌছে দিয়েছি? তখন তারা (সাহাবীরা) বলেনঃ হ্যাঁ, আপনি পৌছে দিয়েছেন। এরপর তিনি বলেনঃ যখন কুরাইশরা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হবে এবং দান ঘুষের পর্যায়ে চলে আসবে, তখন তোমরা ঐ দান গ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে। তখন জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করেঃ ইনি কে? তারা বলেঃ ইনি হলেন যুয-যাওয়াইদ যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী।
১৫৬. দানপ্রাপ্ত যোদ্ধাদের নাম রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা।
২৯৫০. মূসা ইবন ইসমা’ঈল (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবন কা’ব ইবন মালিক আনসারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদল আনসার সৈন্য তাদের সিপাহসালারের নেতৃত্বে পারস্য দেশে মোতায়েন ছিল। উমার (রাঃ) প্রতি বছর একদল সেনাকে তাদের অবস্থান থেকে ফিরিয়ে আনতেন এবং অন্য একদল সেখানে পাঠাতেন। একবার উমার (রাঃ) তাদের ব্যাপারে (কর্ম-ব্যস্ততার দরুন) উদাসীন হয়ে পড়েন। ফলে নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হওয়ায় উক্ত সেনাবাহিনী তাঁর নির্দেশ ছাড়াই তাদের অবস্থান পরিত্যাগ করে চলে আসে। এতে তিনি (উমার) তাদের প্রতি রাগান্বিত হন এবং তাদের ভীতি প্রদর্শন করেন, অথচ তারা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী। তখন তারা বলেনঃ হে উমার! আপনি তো আমাদের ব্যাপারে উদাসীনতা দেখিয়েছেন এবং আপনি আমাদের ব্যাপারে ঐ নিয়ম পরিত্যাগ করেছেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা বাহিনী প্রেরণ এবং অপরটি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পালন করতেন।
২৯৫১. মাহমূদ ইবন খালিদ (রহঃ) ..... আদী কিনদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। একদা উমার ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) এ মর্মে একটা লিখিত নির্দেশ জারী করেন যে, যে ব্যক্তি জানতে চায় যে, গনীমতের মাল কোথায় খরচ করতে হবে, সে যেন যেনে রাখে, (তা ঐ সব স্থানে ব্যয় করতে হবে), যে স্থানে উমার ইবন খাওাব (রাঃ) ব্যয় করতে হুকুম দিয়েছিলেন। কেননা মুসলিমরা তার নির্দেশকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হুকুম অনুযায়ী ইনসাফের দৃষ্টিতে দেখেছেন। আল্লাহ তা’আলা হক বা সত্যকে উমার (রাঃ)-এর যবান ও হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছিলেন। বস্তুত তিনি দানের খাত নির্ধারত করেন, জিযিয়ার বিনিময়ে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের শান্তি ও নিরাপওার যিম্মাদারী গ্রহন করেন। এতে তিনি খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) নির্ধারিত করেননি এবং একে গনীমতের মালের মধ্যেও শামিল করেননি।
২৯৫২. আহমদ ইবন ইুউনুস (রহঃ) ..... আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ্ তা’আলা উমার (রাঃ) এর যবানে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা দিয়ে তিনি কথা বলে থাকেন।
১৫৭. গনীমতের মাল হতে কিছু মাল রাসূলুল্লাহ (সা) নিজের জন্য বেছে নিতেন, সে সম্পর্কে।
২৯৫৪. মুহাম্মদ ইবন উবায়দ (রহঃ) ...... মালিক ইবন আওস (রাঃ) উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেনঃ তাঁরা উভয়ে অর্থাৎ আলী (রাঃ) ও আব্বাস (রাঃ) ঐ মালের ব্যাপারে পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হন, যা আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে বনূ নযীর গোত্রের ধন-সম্পদ হতে প্রদান করেছিলেন।
আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেনঃ উমার (রাঃ)-এর উদ্দেশ্য ছিল যে, তাতে যেন বণ্টনের নাম না আসে। কেননা বণ্টনযোগ্য তো ঐ সম্পদ, যাতে মালিকানা বর্তায়। আর এ মালে মালিকনা বর্তায়নি।
২৯৫৫. উছমান ইবন আবী শায়বা ও আহমদ ইবন আবদা (রাঃ) .... উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বনূ নযীর গোত্রের মালামাল ঐ ধন-সস্পদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে প্রদান করেছিলেন এবং ঐ সম্পদ হাসিলের জন্য মুসলিমরা তাদের ঘোড়া ও উট পরিচালিত করেননি (অর্থাৎ বিনাযুদ্ধে ঐ মাল হস্তগত হয়েছিল)। বস্তুত ঐ সমস্ত মালামাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাস ছিল। তিনি ঐ সম্পদ নিজের পরিবার-পরিজনদের ভরণ-পোষণের জন্য ব্যয় করতেন।
রাবী ইবন আবদা বলেনঃ তিনি ঐ মাল হতে তার পরিবার-পরিজনদের জন্য এক বছরের খরচ নির্বাহ করতেন এবং অবশিষ্ট মাল আল্লাহ্র রাস্তায় যুদ্ধের জন্য ঘোড়া, উট ইত্যাদি পশু ক্রয়ের জন্য ব্যয় করতেন।
রাবী ইবন আবদা আরো বলেনঃ তিনি অবশিষ্ট মাল দিয়ে যুদ্ধের নিমিত্ত উট, ঘোড়া ইত্যাদি এবং যুদ্ধাস্ত্র ক্রয় করতেন।
২৯৫৬. মুসাদ্দাদ (রাঃ) .... যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমার (রাঃ) বলেছেন যে, আল্লাহ্র বানীঃ আর আল্লাহ্ যা কিছু তাঁর রাসূলকে প্রদান করেছেন, তাদের নিকট হতে তা লাভের জন্য তোমরা ঘোড়া এবং উট পরিচালিত করনি।
যুহরী বলেন, উমার (রাঃ) বলেছেনঃ এই ধন-সম্পদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য খাস ছিল, যা হলো-উরায়না নামক গ্রাম, ফিদাক ইত্যাদি। আর দ্বিতীয় আয়াত-যার অর্থ হলোঃ "আল্লাহ তাঁর রাসূলকে গ্রামবাসীদের নিকট হতে যা কিছু প্রদান করেছেন, তা হলো-আল্লাহর, তাঁর রাসূলের, নিকটাত্মীয়দের, ইয়াতীমদের, মিসকীনদের এবং মুসাফিরদের জন্য। আর ঐ সমস্ত ফকীরের জন্য, যারা তাদের ঘরবাড়ী ও ধন-সস্পদ হতে বিতাড়িত হয়েছে এবং যারা তাদের পরে এসেছে (ইসলাম কবুলের পর, দারুল ইসলামে)।" উক্ত আয়াতের বর্ণিত হুকুম সমস্ত শ্রেণীর লোকেরা শামিল আছে এবং মালে গনীমতের হকদার কোন মুসলিম বাদ পড়েনি।
রাবী আইয়ূব অথবা যুহরী বলেনঃ এই গনীমতের মালে সকলের হক আছে, তবে তারা ব্যতীত, যে সব দাস-দাসীর তোমরা মালিক।
২৯৫৭. হিশাম ইবন আম্মার (রাঃ) ..... মালিক ইবন আওস ইবন হাদাছান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমার (রাঃ)-এর দলীল হলো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য তিন প্রকারের মালে গনীমত খাস ছিল-যা বনু নযীর, খায়বর ও ফিদাক নামে পরিচিত। সুতরাং যে মাল তিনি বনূ নযীর থেকে প্রাপ্ত হন, তা তাঁর প্রয়োজনের জন্য খাস ছিল। আর তিনি ফিদাক হতে যা লাভ করেছিলেন, তা ছিল মুসলিমদের প্রয়োজন মিটাবার জন্য এবং খায়বরে প্রাপ্ত ধন-সম্পদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন ভাগে বিভক্ত করতেন, যার দু’অংশ সাধারণ মুসলিমদের কল্যাণে ব্যয় হতো এবং অপর ভাগ তাঁর পরিবার-পরিজনদের ভরণ-পোষণের জন্য ব্যয় হতো। আর তাঁর পরিবার-পরিজনদের ব্যয় নির্বাহের পর যে মাল বাকী থাকত, তা তিনি গরীব মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করে দিতেন।
হাদিস নং ২৯৫৮সহিহ
حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُقَيْلِ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسَلَتْ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضى الله عنه تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ بِالْمَدِينَةِ وَفَدَكَ وَمَا بَقِيَ مِنْ خُمُسِ خَيْبَرَ . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ إِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ مِنْ هَذَا الْمَالِ " . وَإِنِّي وَاللَّهِ لاَ أُغَيِّرُ شَيئًا مِنْ صَدَقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ حَالِهَا الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلأَعْمَلَنَّ فِيهَا بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَبَى أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه أَنْ يَدْفَعَ إِلَى فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلاَمُ مِنْهَا شَيْئًا .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
২৯৫৮. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মাওহাব হামদানী ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) কোন এক ব্যক্তিকে আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাল হতে নিজের মীরাছ চাওয়ার জন্য প্রেরণ করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ্ মদীনাতে ও ফিদাকে যা প্রদান করেছিলেন এবং খায়বরে প্রাপ্ত মালের এক-পঞ্চমাংশ বাদে বাকী যে অংশ রেখে গিয়েছেন তা থেকে প্রাপ্ত আমার অংশ যেন আবূ বকর (রাঃ) আমাকে দিয়ে দেন।
তখন আবূ বকর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা (নবীরা) মীরাছ রাখি না; বরং আমরা যা রেখে যাই, তা হলো সাদকা। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার-পরিজন এ মাল হতে খেতে পারবে। কিন্তু আল্লাহ্র শপথ! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাদকা হতে কোন কিছুই পরিবর্তন করতে পারব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে যেরূপ ছিল, সেরুপই থাকবে। এ ব্যাপারে আমি শুধু এতটুকু করতে পারি, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। এভাবে আবূ বকর (রাঃ) ঐ মাল হতে ফাতিমা (রাঃ)-কে কোন কিছু দিতে অস্বীকার করেন।
হাদিস নং ২৯৫৯সহিহ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ وَفَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلاَمُ حِينَئِذٍ تَطْلُبُ صَدَقَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّتِي بِالْمَدِينَةِ وَفَدَكَ وَمَا بَقِيَ مِنْ خُمُسِ خَيْبَرَ . قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ وَإِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ فِي هَذَا الْمَالِ " . يَعْنِي مَالَ اللَّهِ لَيْسَ لَهُمْ أَنْ يَزِيدُوا عَلَى الْمَأْكَلِ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
২৯৫৯. আমর ইবন উছমান হিমসী (রাঃ) .... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন ফাতিমা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদীনা ও ফিদাকের সাদকা এবং খায়বরের সম্পওির এক-পঞ্চমাংশের পর বাকী অংশ দাবী করেন, আইশা (রাঃ) বলেনঃ তখন আবূ বকর (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা (নবীরা) মীরাছ রেখে যাই না; বরং আমরা যা রেখে যাই, তা হলো সাদকা। অবশ্য মুহাম্মদ এর পরিবারবর্গ এ মাল হতে ভক্ষণ করতে পারবে, অর্থাৎ আল্লাহ্র মাল হিসাবে। আর তারা খাদ্যদ্রব্য ছাড়া কিছুই পাবে না।
হাদিস নং ২৯৬০সহিহ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، أَنَّ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَخْبَرَتْهُ بِهَذَا الْحَدِيثِ، قَالَ فِيهِ فَأَبَى أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه عَلَيْهَا ذَلِكَ وَقَالَ لَسْتُ تَارِكًا شَيْئًا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْمَلُ بِهِ إِلاَّ عَمِلْتُ بِهِ إِنِّي أَخْشَى إِنْ تَرَكْتُ شَيْئًا مِنْ أَمْرِهِ أَنْ أَزِيغَ فَأَمَّا صَدَقَتُهُ بِالْمَدِينَةِ فَدَفَعَهَا عُمَرُ إِلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ رضى الله عنهم فَغَلَبَهُ عَلِيٌّ عَلَيْهَا وَأَمَّا خَيْبَرُ وَفَدَكُ فَأَمْسَكَهُمَا عُمَرُ وَقَالَ هُمَا صَدَقَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتَا لِحُقُوقِهِ الَّتِي تَعْرُوهُ وَنَوَائِبِهِ وَأَمْرُهُمَا إِلَى مَنْ وَلِيَ الأَمْرَ . قَالَ فَهُمَا عَلَى ذَلِكَ إِلَى الْيَوْمِ .
বর্ণনাকারী: উরওয়াহ (রহঃ)
২৯৬০. হাজ্জাজ ইবন আবী ইয়াকূব (রহঃ) ..... উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আইশা (রাঃ) এ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন যে, যখন ফাতিমা (রাঃ) তাঁর মীরাছ দাবী করেন, তখন আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে মীরাছ দিতে অস্বীকার করেন এবং বলেনঃ যে কাজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন, আমি কখনো তা পরিত্যাগ করব না। কেননা আমার ভয় হয়, যদি আমি তার কিছু পরিত্যাগ করি, তবে হয়তো গুমরাহ হয়ে যাব। (আবূ বকর (রাঃ)-এর ইন্তিকালের পর) উমার (রাঃ) তাঁর মদীনার সাদকার মাল আব্বাস (রাঃ) এবং আলী (রাঃ)-এর নিকট সোপর্দ করেন, যার উপর আলী (রাঃ) দখল নিয়েছিলেন।
আর ফিদাক ও খায়বরের মাল উমার (রাঃ) নিজের কতৃত্বে রেখে দেন এবং বলেনঃ এ দু’প্রকারের মালামাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাদকা, যা তাঁর বিভিন্ন প্রয়োজনে খরচ হতো। একই ভাবে এ দু’প্রকারের মাল খরচ করার ইখতিয়ার তাঁকে দেওয়া হয়, যিনি রাষ্ট্রের কর্ণধার হবেন। বস্তুত এ সময় হতে খিলাফতের শেষ সময় পর্যন্ত ফিদাক ও খায়বরের মাল এভাবে খরচ হতে থাকে, যেভাবে তিনি তা খরচের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।
হাদিস নং ২৯৬১যঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، فِي قَوْلِهِ ( فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ ) قَالَ صَالَحَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَهْلَ فَدَكَ وَقُرًى قَدْ سَمَّاهَا لاَ أَحْفَظُهَا وَهُوَ مُحَاصِرٌ قَوْمًا آخَرِينَ فَأَرْسَلُوا إِلَيْهِ بِالصُّلْحِ قَالَ ( فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ ) يَقُولُ بِغَيْرِ قِتَالٍ قَالَ الزُّهْرِيُّ وَكَانَتْ بَنُو النَّضِيرِ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَالِصًا لَمْ يَفْتَحُوهَا عَنْوَةً افْتَتَحُوهَا عَلَى صُلْحٍ فَقَسَمَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ الْمُهَاجِرِينَ لَمْ يُعْطِ الأَنْصَارَ مِنْهَا شَيْئًا إِلاَّ رَجُلَيْنِ كَانَتْ بِهِمَا حَاجَةٌ .
বর্ণনাকারী: ইবনু শিহাব আয-যুহরী (রহঃ)
২৯৬১. মুহাম্মদ ইবন উবায়দ (রহঃ) ....... যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্র বাণীঃ তোমরা যারা তার জন্য ঘোড়া এবং উট পরিচালিত করনি; (বরং আল্লাহ্ স্বীয় অনুগ্রহে তা তাঁকে প্রদান করেন)। এ আয়াত সম্পর্কে রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিদাক এবং গ্রামবাসীদের সাথে তখন সন্ধি করেন, যখন তিনি অপর একটা সম্প্রদায়কে অবরোধ করেছিলেন। তখন সেখানকার লোকেরা সন্ধির উদ্দেশ্যে তাঁর কাছে প্রস্তাব পেশ করে। এ ঘটনা সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেনঃ তোমরা ঐ মাল হাসিল করার জন্য ঘোড়া এবং উট পরিচালিত করনি; বরং বিনাযুদ্ধে তোমরা তা লাভ করেছিলে।
যুহরী (রহঃ) বলেনঃ বনূ নযীর গোত্র থেকে প্রাপ্ত মাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য খাস ছিল। কেননা তা যুদ্ধের দ্বারা হাসিল হয়নি; বরং সন্ধির দ্বারা হয়েছিল। বস্তুত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সম্পদ মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করে দেন এবং আনসারদের অভাবী দু’ব্যক্তি ছাড়া তিনি আর কাউকে কিছুই প্রদান করেননি।
হাদিস নং ২৯৬২যঈফ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ جَمَعَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بَنِي مَرْوَانَ حِينَ اسْتُخْلِفَ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ لَهُ فَدَكُ فَكَانَ يُنْفِقُ مِنْهَا وَيَعُودُ مِنْهَا عَلَى صَغِيرِ بَنِي هَاشِمٍ وَيُزَوِّجُ مِنْهَا أَيِّمَهُمْ وَإِنَّ فَاطِمَةَ سَأَلَتْهُ أَنْ يَجْعَلَهَا لَهَا فَأَبَى فَكَانَتْ كَذَلِكَ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ فَلَمَّا أَنْ وَلِيَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه عَمِلَ فِيهَا بِمَا عَمِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي حَيَاتِهِ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ فَلَمَّا أَنْ وَلِيَ عُمَرُ عَمِلَ فِيهَا بِمِثْلِ مَا عَمِلاَ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ ثُمَّ أَقْطَعَهَا مَرْوَانُ ثُمَّ صَارَتْ لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ - يَعْنِي عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ - فَرَأَيْتُ أَمْرًا مَنَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلاَمُ لَيْسَ لِي بِحَقٍّ وَأَنَا أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ رَدَدْتُهَا عَلَى مَا كَانَتْ يَعْنِي عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ)
২৯৬২. আবদুল্লাহ ইবন জাররাহ (রহঃ) ..... মুগীরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমার ইবন আবদুল আযীয খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর বনূ মারোয়ানকে সমবেত করে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ফিদাকের আয় হতে পরিবার-পরিজন ও ফকীর-মিসকীনদের ব্যয় নির্বাহ করতেন, বনূ হাশিম গোত্রের ছোট বাচ্চাদের প্রতি ইহসান করতেন, বিধবা এবং অবিবাহিত নারীদের জন্য খরচ করতেন। একবার ফাতিমা (রাঃ) তাঁর নিকট ফিদাকের সস্পদপ্রাপ্তির জন্য আবেদন করলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। বস্তুত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় ঐ সম্পদ ঐরূপেই অবশিষ্ট ছিল। এমনকি তাঁর ইন্তিকালের সময় পর্যন্ত এ পদ্ধতি চালু ছিল।
অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর ফিদাকের ধন-সম্পত্তির ব্যাপারে ঐ নিয়ম চালু রাখেন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় চালু ছিল। এরপর উমার (রাঃ) যখন এর মুতাওয়াল্লী নির্বাচিত হন, তখন তিনিও ঐ মালের ব্যাপারে একই নীতি অবলম্বন করেন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাঃ) গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি উমার ইবন খাত্তাব (রাঃ) এর মৃত্যু সময়ও ঐ নীতি চালু ছিল।
পরে মারোয়ান একে নিজের জায়গীর বানিয়ে নেন। অবশেষে তা উমার ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-এর নিয়ন্ত্রণে আসে। তখন তিনি এ খেয়াল করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এ মাল ফাতিমা (রাঃ) কে প্রদান করেননি, তখন আমার জন্যও তা ভোগ করা উচিত হবে না। সে জন্য আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছিঃ আমি ঐ সম্পদ তার মূল অবস্থায় ফিরিয়ে দিচ্ছি, যেমন তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় ছিল। (আর আগে যেভাবে যাদের প্রয়োজনে তা ব্যবহৃত হতো, তেমনি পরেও তা ঐভাবেই ব্যবহৃত হবে)।
হাদিস নং ২৯৬৩হাসান
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ جُمَيْعٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، قَالَ جَاءَتْ فَاطِمَةُ رضى الله عنها إِلَى أَبِي بَكْرٍ رضى الله عنه تَطْلُبُ مِيرَاثَهَا مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلاَمُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا أَطْعَمَ نَبِيًّا طُعْمَةً فَهِيَ لِلَّذِي يَقُومُ مِنْ بَعْدِهِ " .
বর্ণনাকারী: আবুত্ব তুফায়ল (রাঃ)
২৯৬৩. উছমান ইবন আবী শায়বা (রহঃ) .... আবূ তুফায়ল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা ফাতিমা (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নিজের হিসসা দাবী করেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ বলতে শুনেছি যে, যখন আল্লাহ্ তাঁর কোন নবীকে কোন জীবিকা প্রদান করেন, তা তাঁর পরবর্তী স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তির অধিকারে চলে যাবে।
হাদিস নং ২৯৬৪সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقْتَسِمُ وَرَثَتِي دِينَارًا مَا تَرَكْتُ بَعْدَ نَفَقَةِ نِسَائِي وَمُؤْنَةِ عَامِلِي فَهُوَ صَدَقَةٌ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
২৯৬৪. আবদুল্লাহ্ ইবন মাসলামা (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার ওয়ারিছরা আমার পরিত্যক্ত সম্পদ হতে এক দীনারও বন্টন করতে পারবে না। আমি যা কিছু রেখে যাব, তা আমার স্ত্রীদের ভরণ-পোষণের ব্যয় নির্বাহ এবং আমার কর্মচারীর পারিশ্রমিক প্রদানের পর সাদকা হিসাবে পরিগণিত হবে।
হাদিস নং ২৯৬৫সহিহ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ حَدِيثًا، مِنْ رَجُلٍ فَأَعْجَبَنِي فَقُلْتُ اكْتُبْهُ لِي فَأَتَى بِهِ مَكْتُوبًا مُذَبَّرًا دَخَلَ الْعَبَّاسُ وَعَلِيٌّ عَلَى عُمَرَ وَعِنْدَهُ طَلْحَةُ وَالزُّبَيْرُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ وَسَعْدٌ وَهُمَا يَخْتَصِمَانِ فَقَالَ عُمَرُ لِطَلْحَةَ وَالزُّبَيْرِ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ وَسَعْدٍ أَلَمْ تَعْلَمُوا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ مَالِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَدَقَةٌ إِلاَّ مَا أَطْعَمَهُ أَهْلَهُ وَكَسَاهُمْ إِنَّا لاَ نُورَثُ " . قَالُوا بَلَى . قَالَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنْفِقُ مِنْ مَالِهِ عَلَى أَهْلِهِ وَيَتَصَدَّقُ بِفَضْلِهِ ثُمَّ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَلِيَهَا أَبُو بَكْرٍ سَنَتَيْنِ فَكَانَ يَصْنَعُ الَّذِي كَانَ يَصْنَعُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . ثُمَّ ذَكَرَ شَيْئًا مِنْ حَدِيثِ مَالِكِ بْنِ أَوْسٍ .
বর্ণনাকারী: আবুল বাখতারী তাঈ (রহঃ)
২৯৬৫. আমর ইবন মারযূক (রহঃ) ....... আবূ বুখতারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জনৈক ব্যক্তি হতে এমন একটি হাদীছ শুনেছিলাম, যা আমার খুবই পসন্দ হয়। তখন আমি তাকে বলিঃ হাদীসটি আমাকে লিখে দিন। তিনি তা স্পষ্টভাবে লিখে আনেন এবং আব্বাস (রাঃ), আলী (রাঃ) এবং উমার (রাঃ)-এর কাছে আনেন। এ সময় তালহা (রাঃ), যুবায়র (রাঃ), আবদুর রাহমান (রাঃ) এবং সা’দ (রাঃ) তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আব্বাস (রাঃ) এবং আলী (রাঃ) পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হলে উমার (রাঃ) তালহা, যুবায়র, আবদুর রাহমান এবং সা’দ (রাঃ)-কে বলেনঃ আপনারা কি জানেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নবীদের যাবতীয় সম্পদ তাঁর পরিবার-পরিজনদের ভরণ-পোষণের খরচ বাদে বাকী সবই সাদকা। আমরা কোন মীরাছ রেখে যাই না। তখন তাঁরা বলেনঃ হ্যাঁ, ঠিক। তখন উমার (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় মাল হতে নিজের পরিবারদের জন্য খরচ করার পর বাকী অংশ সাদকা করে দিতেন। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর আবূ বকর (রাঃ) দু’বছরের জন্য এর মুতাওয়াল্লী হন। আর তিনি ঐ নীতিই অনুসরণ করেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন।
এরপর রাবী মালিক ইবন আওস (রাঃ)-এর হাদীছের কিছু অংশ বর্ণনা করেন।
হাদিস নং ২৯৬৬সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ إِنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَدْنَ أَنْ يَبْعَثْنَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَيَسْأَلْنَهُ ثُمُنَهُنَّ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ لَهُنَّ عَائِشَةُ أَلَيْسَ قَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا فَهُوَ صَدَقَةٌ " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
২৯৬৬. কা’নবী (রহঃ) ...... আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন, তখন তার স্ত্রীগণ উছমান (রাঃ) কে আবূ বকর সিদ্দীকের নিকট এ জন্য প্রেরণ করেন যে, যাতে তাঁর নিকট তাঁর স্ত্রীদের ’ছুমুন’ বা এক-অষ্টমাংশ মীরাছ দাবী করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাল হতে। তখন আইশা (রাঃ) তাঁদের ডেকে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এরূপ বর্ণনা করেননি যে, আমরা মীরাছ রেখে যাই না, বরং আমরা যা রেখে যাই, তা হলো সাদকা।
২৯৬৭. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহ্ইয়া ইবন ফারিস (রহঃ) ..... ইবন শিহাব (রহঃ) উপরোক্ত হাদীছের ন্যায় হাদীছ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন যে, একদা আইশা (রাঃ) বলেনঃ তোমরা কি আল্লাহ্কে ভয় করবে না? তোমরা কি শোননি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ আমরা মীরাছ রেখে যাই না, বরং আমরা যা রেখে যাই, তা হলো সাদকা। আর এ ধন-সস্পদ তো কেবল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার পরিজনদের ভরণ-পোষণের জন্য এবং তাঁর নিজস্ব প্রয়োজন ও মেহমানদের মাঝে বিতরণের জন্য। আমার ইন্তিকালের পর এ ধন-সম্পদ তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকবে, যিনি খলীফা মনোনীত হবেন।
১৫৮. ঐ পঞ্চমাংশ, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গনীমতের মাল হতে নিতেন, কোথায় কোথায় তা বন্টন করতেন এবং নিকটাত্নীয়দের হক সম্পর্কে।
হাদিস নং ২৯৬৮সহিহ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَخْبَرَنِي جُبَيْرُ بْنُ مُطْعِمٍ، أَنَّهُ جَاءَ هُوَ وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ يُكَلِّمَانِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا قَسَمَ مِنَ الْخُمُسِ بَيْنَ بَنِي هَاشِمٍ وَبَنِي الْمُطَّلِبِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَسَمْتَ لإِخْوَانِنَا بَنِي الْمُطَّلِبِ وَلَمْ تُعْطِنَا شَيْئًا وَقَرَابَتُنَا وَقَرَابَتُهُمْ مِنْكَ وَاحِدَةٌ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا بَنُو هَاشِمٍ وَبَنُو الْمُطَّلِبِ شَىْءٌ وَاحِدٌ " . قَالَ جُبَيْرٌ وَلَمْ يَقْسِمْ لِبَنِي عَبْدِ شَمْسٍ وَلاَ لِبَنِي نَوْفَلٍ مِنْ ذَلِكَ الْخُمُسِ كَمَا قَسَمَ لِبَنِي هَاشِمٍ وَبَنِي الْمُطَّلِبِ . قَالَ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَقْسِمُ الْخُمُسَ نَحْوَ قَسْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُعْطِي قُرْبَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعْطِيهِمْ . قَالَ وَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يُعْطِيهِمْ مِنْهُ وَعُثْمَانُ بَعْدَهُ .
বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনু মুত‘ইম (রাঃ)
২৯৬৮. উবায়দুল্লাহ ইবন আমর ইবন মায়সারা (রহঃ) ..... জুবায়র ইবন মুত’ইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি এবং উছমান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট খুমুসের ব্যাপারে আলোচনার জন্য যাই, যা তিনি বনূ হাশিম ও বনূ মুত্তালিবের মাঝে বণ্টন করেন। এ সময় আমি জিজ্ঞেস করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো আমাদের ভাই বনূ মুত্তালিবকে অংশ দিলেন, কিন্তু আমাদের তো কিছু দিলেন না? অথচ আমাদের ও তাদের সস্পর্ক আপনার সঙ্গে একই ধরনের! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বনূ হাশিম ও বনূ মুত্তালিব তো একই।
রাবী জুবায়র (রাঃ) বলেনঃ তিনি বনূ আবদুশ শামস ও বনূ নওফলকে এ খুমুস হতে অংশ প্রদান করেননি, যেমন বনূ হাশিম ও বনূ মুত্তালিবকে অংশ প্রদান করেছিলেন। আর আবূ বকর (রাঃ)-ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ন্যায় খুমুসের অংশ বন্টন করতেন। কিন্তু তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্নীয়দের অংশ প্রদান করতেন না, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তাদের অংশ দিতেন। রাবী বলেনঃ উমার ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাদের খুমুস থেকে অংশ দিতেন এবং তারপর উছমান (রাঃ)-ও এরূপ করতেন।
হাদিস নং ২৯৬৯সহিহ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، حَدَّثَنَا جُبَيْرُ بْنُ مُطْعِمٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَقْسِمْ لِبَنِي عَبْدِ شَمْسٍ وَلاَ لِبَنِي نَوْفَلٍ مِنَ الْخُمُسِ شَيْئًا كَمَا قَسَمَ لِبَنِي هَاشِمٍ وَبَنِي الْمُطَّلِبِ . قَالَ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَقْسِمُ الْخُمُسَ نَحْوَ قَسْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُعْطِي قُرْبَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا كَانَ يُعْطِيهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ عُمَرُ يُعْطِيهِمْ وَمَنْ كَانَ بَعْدَهُ مِنْهُمْ .
বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনু মুত‘ইম (রাঃ)
২৯৬৯. উবায়দুল্লাহ ইবন উমার (রহঃ) ..... জুবায়র ইবন মুত’ইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ আবদুশ শামস ও বনূ নওফলকে খুমুস হতে কোন অংশ দেন নি, যেমন তিনি বনূ হাশিম ও বনূ মুত্তালিবকে দিয়েছিলেন। আর আবূ বকর (রাঃ)-ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বণ্টন নীতির ন্যায় (খুমুস) বন্টন করতেন। তবে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট-আত্মীয়দের কোন অংশ দিতেন না, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং তাদের দিতেন। অবশ্য উমার (রাঃ) এবং তাঁর পরবর্তী খলীফারা সকলেই তাদের অংশ প্রদান করতেন।
হাদিস নং ২৯৭০সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَخْبَرَنِي جُبَيْرُ بْنُ مُطْعِمٍ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ خَيْبَرَ وَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَهْمَ ذِي الْقُرْبَى فِي بَنِي هَاشِمٍ وَبَنِي الْمُطَّلِبِ وَتَرَكَ بَنِي نَوْفَلٍ وَبَنِي عَبْدِ شَمْسٍ فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ حَتَّى أَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَؤُلاَءِ بَنُو هَاشِمٍ لاَ نُنْكِرُ فَضْلَهُمْ لِلْمَوْضِعِ الَّذِي وَضَعَكَ اللَّهُ بِهِ مِنْهُمْ فَمَا بَالُ إِخْوَانِنَا بَنِي الْمُطَّلِبِ أَعْطَيْتَهُمْ وَتَرَكْتَنَا وَقَرَابَتُنَا وَاحِدَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنَا وَبَنُو الْمُطَّلِبِ لاَ نَفْتَرِقُ فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلاَ إِسْلاَمٍ وَإِنَّمَا نَحْنُ وَهُمْ شَىْءٌ وَاحِدٌ " . وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ .
বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনু মুত‘ইম (রাঃ)
২৯৭০. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... জুবাইর ইবন মুত’ইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বর যুদ্ধের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকটাত্মীয়ের অংশ বনূ হাশিম ও বনূ মুত্তালিবের মাঝে বন্টন করে দেন এবং বনূ আবদুশ শামস ও বনূ নওফলকে পরিত্যাগ করেন। এ সময় আমি (রাবী) এবং উছমান ইবন আফফান (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হই এবং বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই তো বনূ হাশিম, আমরা এদের ফযীলত অস্বীকার করতে পারি না। কেননা আল্লাহ আপনাকে এ বংশে পয়দা করেছেন। কিন্তু আমাদের ভাই বনূ মুত্তালিবের অবস্থা কী যে, আপনি তাদের অংশ দিলেন অথচ আমাদের দিলেন না? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি এবং বনূ মুত্তালিব জাহিলিয়াতের যুগে এবং ইসলামের যুগে বিছিন্ন হই নি। বরং আমরা এবং তারা একই। অতঃপর তিনি তার এক হাতের আংগুল অন্য হাতের আংগুলে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে বললেনঃ আমরা এবং তারা তো এভাবে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ هُرْمُزَ، أَنَّ نَجْدَةَ الْحَرُورِيَّ، حِينَ حَجَّ فِي فِتْنَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ أَرْسَلَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنْ سَهْمِ ذِي الْقُرْبَى وَيَقُولُ لِمَنْ تَرَاهُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لِقُرْبَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَسَمَهُ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ كَانَ عُمَرُ عَرَضَ عَلَيْنَا مِنْ ذَلِكَ عَرْضًا رَأَيْنَاهُ دُونَ حَقِّنَا فَرَدَدْنَاهُ عَلَيْهِ وَأَبَيْنَا أَنْ نَقْبَلَهُ .
বর্ণনাকারী: ইয়াযীদ ইবন হুরমুয
২৯৭২. আহমদ ইবন সালিহ (রহঃ) .... ইয়াযীদ ইবন হুরমুয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাজদা-হারুরী ইবন জুবায়রের ফিতনার (শাহাদাতের) বছর হজ্জ শেষে এক ব্যক্তিকে ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে নিকটাত্মীয়দের প্রাপ্য অংশের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার জন্য প্রেরণ করেন যে, এদের ব্যাপারে তাঁর অভিমত কী? তিনি বলেনঃ যাবিল-কুরবা বা নিকটাত্মীয়ের অর্থ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আপন জনেরা, যাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং অংশ প্রদান করেছিলেন। আর উমার (রাঃ) আমাদেরকে তা হতে অংশ প্রদান করেছিলেন। কিন্তু আমরা তাকে আমাদের প্রাপ্য অংশ হতে কম মনে করে ফিরিয়ে দেই এবং আমরা তা গ্রহণে অসম্মতি প্রকাশ করি।
হাদিস নং ২৯৭৩যঈফ
حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ وَلاَّنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خُمُسَ الْخُمُسِ فَوَضَعْتُهُ مَوَاضِعَهُ حَيَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَيَاةَ أَبِي بَكْرٍ وَحَيَاةَ عُمَرَ فَأُتِيَ بِمَالٍ فَدَعَانِي فَقَالَ خُذْهُ . فَقُلْتُ لاَ أُرِيدُهُ . قَالَ خُذْهُ فَأَنْتُمْ أَحَقُّ بِهِ . قُلْتُ قَدِ اسْتَغْنَيْنَا عَنْهُ فَجَعَلَهُ فِي بَيْتِ الْمَالِ .
বর্ণনাকারী: আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলা (রহঃ)
২৯৭৩. আব্বাস ইবন আবদুল আযীম (রহঃ) ..... আবদুর রাহমান ইবন আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাঃ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ’খুমুস’-এর ’খুমুস’ অংশে মুতাওয়ালী বানান, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর খাস ব্যক্তিদের জন্য ব্যয় করতেন। আর এ ভাবেই আমি সে মাল আবূ বকর (রাঃ) এবং উমার (রাঃ)-এর খিলাফত আমল পর্যন্ত খরচ করতে থাকি।
এরপর উমার (রাঃ)-এর শাসনামলে তাঁর নিকট কিছু মাল আসে, তখন তিনি আমাকে বলেনঃ তুমি এই মাল গ্রহণ কর। আমি বলিঃ আমি এটা গ্রহণ করতে চাই না। তখন তিনি পুনরায় বলেনঃ তুমি এটা গ্রহণ কর। কেননা, তুমিই এর যোগ্য পাত্র। তখন আমি বলিঃ এতে আমার কোন প্রয়োজন নেই। অবশেষে উমার (রাঃ) সে মাল বায়তুল মালে জমা দিয়ে দেন।
২৯৭৪. উসমান ইবন আবী শায়বা (রহঃ) ..... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি, আব্বাস (রাঃ), ফাতিমা এবং যায়দ ইবন হারিছা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আপনি ভাল মনে করেন, তবে আল্লাহ্র কিতাবের নির্দেশ অনুযায়ী ’খুমুস’ হতে আমাদের প্রাপ্য অংশটি আমার ইখতিয়ারে দিয়ে দিন, যাতে আমি তা আপনার জীবদ্দশায় বণ্টন করে দিতে পারি এবং আপনার ইন্তিকালের পর আমাদের কেউ যেন আমার সঙ্গে ঝগড়া করতে না পারে।
আলী (রাঃ) বলেনঃ তখন তিনি এরূপ করেন। অতঃপর আলী (রাঃ) বলেনঃ তখন আমি তা (খুমুস) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় বণ্টন করে দেই। এরপর আবূ বকর (রাঃ)-ও আমাকে ইখতিয়ার প্রদান করেন। অবশেষে উমার (রাঃ)-এর খিলাফতের শেষ বর্ষ যখন আসে, তখন তাঁর নিকট অনেক ধন-সম্পদ আসে। তিনি আমাদের হক আলাদা করে রাখেন এবং আমাকে ডেকে নেন। তখন আমি বলিঃ এ বছরে আমাদের ধন-সম্পদের কোন প্রয়োজন নেই, আর সাধারণ মুসলিমদের প্রয়োজন আছে কাজেই আপনি এটা তাদের দিয়ে দিন।
তখন উমার (রাঃ) সে সম্পদ মুসলিমদের মাঝে বণ্টন করে দেন। উমার (রাঃ)-এর পরে কেউ আমাকে এ মাল গ্রহণের জন্য আহবান করেনি। আমি উমার (রাঃ)-এর নিকট হতে ফিরে এসে আব্বাস (রাঃ)-এর সংগে সাক্ষাৎ করি। তখন তিনি বলেনঃ হে আলী! তুমি তো আগামীকাল হতে আমাদের বঞ্চিত করে দিলে। এখন আমরা আর কিছুই পাব না। আর আব্বাস (রাঃ) ছিলেন খুবই জ্ঞানী লোক।
হাদিস নং ২৯৭৫সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ الْهَاشِمِيُّ، أَنَّ عَبْدَ الْمُطَّلِبِ بْنَ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ رَبِيعَةَ بْنَ الْحَارِثِ وَعَبَّاسَ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالاَ لِعَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ رَبِيعَةَ وَلِلْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ ائْتِيَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُولاَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ بَلَغْنَا مِنَ السِّنِّ مَا تَرَى وَأَحْبَبْنَا أَنْ نَتَزَوَّجَ وَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَبَرُّ النَّاسِ وَأَوْصَلُهُمْ وَلَيْسَ عِنْدَ أَبَوَيْنَا مَا يُصْدِقَانِ عَنَّا فَاسْتَعْمِلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَى الصَّدَقَاتِ فَلْنُؤَدِّ إِلَيْكَ مَا يُؤَدِّي الْعُمَّالُ وَلْنُصِبْ مَا كَانَ فِيهَا مِنْ مِرْفَقٍ . قَالَ فَأَتَى إِلَيْنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَنَحْنُ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ فَقَالَ لَنَا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ وَاللَّهِ لاَ نَسْتَعْمِلُ مِنْكُمْ أَحَدًا عَلَى الصَّدَقَةِ " . فَقَالَ لَهُ رَبِيعَةُ هَذَا مِنْ أَمْرِكَ قَدْ نِلْتَ صِهْرَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ نَحْسُدْكَ عَلَيْهِ . فَأَلْقَى عَلِيٌّ رِدَاءَهُ ثُمَّ اضْطَجَعَ عَلَيْهِ فَقَالَ أَنَا أَبُو حَسَنٍ الْقَرْمُ وَاللَّهِ لاَ أَرِيمُ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْكُمَا ابْنَاكُمَا بِجَوَابِ مَا بَعَثْتُمَا بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَالْفَضْلُ إِلَى بَابِ حُجْرَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى نُوَافِقَ صَلاَةَ الظُّهْرِ قَدْ قَامَتْ فَصَلَّيْنَا مَعَ النَّاسِ ثُمَّ أَسْرَعْتُ أَنَا وَالْفَضْلُ إِلَى بَابِ حُجْرَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَوْمَئِذٍ عِنْدَ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ فَقُمْنَا بِالْبَابِ حَتَّى أَتَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَ بِأُذُنِي وَأُذُنِ الْفَضْلِ ثُمَّ قَالَ أَخْرِجَا مَا تُصَرِّرَانِ ثُمَّ دَخَلَ فَأَذِنَ لِي وَلِلْفَضْلِ فَدَخَلْنَا فَتَوَاكَلْنَا الْكَلاَمَ قَلِيلاً ثُمَّ كَلَّمْتُهُ أَوْ كَلَّمَهُ الْفَضْلُ - قَدْ شَكَّ فِي ذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ - قَالَ كَلَّمَهُ بِالأَمْرِ الَّذِي أَمَرَنَا بِهِ أَبَوَانَا فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَاعَةً وَرَفَعَ بَصَرَهُ قِبَلَ سَقْفِ الْبَيْتِ حَتَّى طَالَ عَلَيْنَا أَنَّهُ لاَ يَرْجِعُ إِلَيْنَا شَيْئًا حَتَّى رَأَيْنَا زَيْنَبَ تَلْمَعُ مِنْ وَرَاءِ الْحِجَابِ بِيَدِهَا تُرِيدُ أَنْ لاَ تَعْجَلاَ وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَمْرِنَا ثُمَّ خَفَّضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأْسَهُ فَقَالَ لَنَا " إِنَّ هَذِهِ الصَّدَقَةَ إِنَّمَا هِيَ أَوْسَاخُ النَّاسِ وَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ لِمُحَمَّدٍ وَلاَ لآلِ مُحَمَّدٍ ادْعُوا لِي نَوْفَلَ بْنَ الْحَارِثِ " . فَدُعِيَ لَهُ نَوْفَلُ بْنُ الْحَارِثِ فَقَالَ " يَا نَوْفَلُ أَنْكِحْ عَبْدَ الْمُطَّلِبِ " . فَأَنْكَحَنِي نَوْفَلٌ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ادْعُوا لِي مَحْمِيَةَ بْنَ جَزْءٍ " . وَهُوَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي زُبَيْدٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَعْمَلَهُ عَلَى الأَخْمَاسِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمَحْمِيَةَ " أَنْكِحِ الْفَضْلَ " . فَأَنْكَحَهُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُمْ فَأَصْدِقْ عَنْهُمَا مِنَ الْخُمُسِ كَذَا وَكَذَا " . لَمْ يُسَمِّهِ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ .
হাদিস নং ২৯৭৬সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، أَنَّ حُسَيْنَ بْنَ عَلِيٍّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ قَالَ كَانَتْ لِي شَارِفٌ مِنْ نَصِيبِي مِنَ الْمَغْنَمِ يَوْمَ بَدْرٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْطَانِي شَارِفًا مِنَ الْخُمُسِ يَوْمَئِذٍ فَلَمَّا أَرَدْتُ أَنْ أَبْنِيَ بِفَاطِمَةَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاعَدْتُ رَجُلاً صَوَّاغًا مِنْ بَنِي قَيْنُقَاعَ أَنْ يَرْتَحِلَ مَعِي فَنَأْتِيَ بِإِذْخِرٍ أَرَدْتُ أَنْ أَبِيعَهُ مِنَ الصَّوَّاغِينَ فَأَسْتَعِينَ بِهِ فِي وَلِيمَةِ عُرْسِي فَبَيْنَا أَنَا أَجْمَعُ لِشَارِفَىَّ مَتَاعًا مِنَ الأَقْتَابِ وَالْغَرَائِرِ وَالْحِبَالِ - وَشَارِفَاىَ مُنَاخَانِ إِلَى جَنْبِ حُجْرَةِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ - أَقْبَلْتُ حِينَ جَمَعْتُ مَا جَمَعْتُ فَإِذَا بِشَارِفَىَّ قَدِ اجْتُبَّتْ أَسْنِمَتُهُمَا وَبُقِرَتْ خَوَاصِرُهُمَا وَأُخِذَ مِنْ أَكْبَادِهِمَا فَلَمْ أَمْلِكْ عَيْنَىَّ حِينَ رَأَيْتُ ذَلِكَ الْمَنْظَرَ فَقُلْتُ مَنْ فَعَلَ هَذَا قَالُوا فَعَلَهُ حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَهُوَ فِي هَذَا الْبَيْتِ فِي شَرْبٍ مِنَ الأَنْصَارِ غَنَّتْهُ قَيْنَةٌ وَأَصْحَابَهُ فَقَالَتْ فِي غِنَائِهَا أَلاَ يَا حَمْزُ لِلشُّرُفِ النِّوَاءِ فَوَثَبَ إِلَى السَّيْفِ فَاجْتَبَّ أَسْنِمَتَهُمَا وَبَقَرَ خَوَاصِرَهُمَا وَأَخَذَ مِنْ أَكْبَادِهِمَا . قَالَ عَلِيٌّ فَانْطَلَقْتُ حَتَّى أَدْخُلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ قَالَ فَعَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي لَقِيتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا لَكَ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ عَدَا حَمْزَةُ عَلَى نَاقَتَىَّ فَاجْتَبَّ أَسْنِمَتَهُمَا وَبَقَرَ خَوَاصِرَهُمَا وَهَا هُوَ ذَا فِي بَيْتٍ مَعَهُ شَرْبٌ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرِدَائِهِ فَارْتَدَاهُ ثُمَّ انْطَلَقَ يَمْشِي وَاتَّبَعْتُهُ أَنَا وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ حَتَّى جَاءَ الْبَيْتَ الَّذِي فِيهِ حَمْزَةُ فَاسْتَأْذَنَ فَأُذِنَ لَهُ فَإِذَا هُمْ شَرْبٌ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلُومُ حَمْزَةَ فِيمَا فَعَلَ فَإِذَا حَمْزَةُ ثَمِلٌ مُحْمَرَّةٌ عَيْنَاهُ فَنَظَرَ حَمْزَةُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ فَنَظَرَ إِلَى رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ فَنَظَرَ إِلَى سُرَّتِهِ ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ فَنَظَرَ إِلَى وَجْهِهِ ثُمَّ قَالَ حَمْزَةُ وَهَلْ أَنْتُمْ إِلاَّ عَبِيدٌ لأَبِي فَعَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ثَمِلٌ فَنَكَصَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى عَقِبَيْهِ الْقَهْقَرَى فَخَرَجَ وَخَرَجْنَا مَعَهُ .
বর্ণনাকারী: আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)
হাদিস নং ২৯৭৭সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عَيَّاشُ بْنُ عُقْبَةَ الْحَضْرَمِيُّ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ الْحَسَنِ الضَّمْرِيِّ، أَنَّ أُمَّ الْحَكَمِ، أَوْ ضُبَاعَةَ ابْنَتَىِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ حَدَّثَتْهُ عَنْ إِحْدَاهُمَا أَنَّهَا قَالَتْ أَصَابَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَبْيًا فَذَهَبْتُ أَنَا وَأُخْتِي وَفَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَشَكَوْنَا إِلَيْهِ مَا نَحْنُ فِيهِ وَسَأَلْنَاهُ أَنْ يَأْمُرَ لَنَا بِشَىْءٍ مِنَ السَّبْىِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سَبَقَكُنَّ يَتَامَى بَدْرٍ لَكِنْ سَأَدُلُّكُنَّ عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ لَكُنَّ مِنْ ذَلِكَ تُكَبِّرْنَ اللَّهَ عَلَى أَثَرِ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ تَكْبِيرَةً وَثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ تَسْبِيحَةً وَثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ تَحْمِيدَةً وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " . قَالَ عَيَّاشٌ وَهُمَا ابْنَتَا عَمِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
২৯৭৭. আহমদ ইবন সালিহ (রহঃ) ..... ফযল ইবন হাসান যামরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যুবায়র ইবন আবদিল মুত্তালিবের দুই কন্যা উম্মু হাকাম অথবা যুবা’আ হতে একজন এ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু যুদ্ধবন্দী আসে। তখন আমি, আমার বোন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে আমাদের দরিদ্রতার অভিযোগ করি, যাতে আমরা ছিলাম। আর আমরা তাঁর নিকট এ দরখাস্ত করি যে, তিনি যেন আমাদের কিছু বাঁদী (দাস-দাসী) প্রদান করেন।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের চাইতে ঐ সব ইয়াতীম মেয়েরা অধিক হকদার, যাদের পিতা বদর যুদ্ধে শহীদ হয়েছে। তবে আমি তোমাদের এর চাইতে উত্তম জিনিস বলে দিচ্ছি, যা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর ৩৩ বার আল্লাহু আকবার, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ এবং ৩৩ বার আল-হামদু লিল্লাহ পাঠ করবে এবং একবার পড়বেঃ
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, অদ্বিতীয়। তারই রাজত্ব বিশ্বব্যাপী, সব প্রশংসা তারই এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
রাবী আয়্যাশ (রহঃ) বলেনঃ উম্মু হাকাম ও যুবা’আ উভয়েই ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাতো বোন।
২৯৭৮. ইয়াহইয়া ইবন খালাফ (রহঃ) .... ইবন আ’বূদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আলী (রাঃ) আমাকে বলেন যে, আমি কি তোমাকে আমার ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয়পাত্রী ফাতিমা (রা) সম্পর্কে কিছু বলব না? তখন আমি বলিঃ হ্যাঁ অবশ্যই। তিনি বলেনঃ তার (ফাতিমার) হাতে যাতা পেষার কারনে ফোসকা পড়ে গেছে। আর কূপ থেকে মশকে পানি ঊঠাবার কারণে তাঁর বুকে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে এবং ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কারণে তাঁর সমস্ত কাপড়-চোপড় নোংরা হয়ে গিয়েছে। কেননা ঘরের সব কাজ একাই করে থাকেন। আর তাঁর কোন দাস-দাসী ছিল না। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু গোলাম আসে। তখন আমি তাকে বলিঃ যদি তুমি তোমার পিতার নিকট উপস্থিত হয়ে গোলাম চাইতে, (তবে ভাল হতো)।
তখন তিনি ফাতিমা (রা) তাঁর নিকট গমন করেন। কিন্তু তিনি তাঁর সংগে অন্য ক’জন ব্যক্তিকে আলাপ করতে দেখে ফিরে আসেন। পরদিন আবার তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার কিসের প্রয়োজন? এতে তিনি চুপ করে থাকলে আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে বলছি যে, যাঁতা পিষতে পিষতে তাঁর হাতে ফোসকা পড়ে গেছে। আর পানির মশক ভরতে ভরতে তার বুক ব্যথা হয়ে গেছে। এখন যখন আপনার নিকট কিছু খাদিম এসেছে, তখন আমিই তাঁকে বলিঃ তিনি যেন আপনার নিকট হাযির হয়ে একজন দাসের জন্য আবদার করেন, যাতে তিনি এ কষ্ট হতে রেহাই পান।
তখন তিনি বলেনঃ হে ফাতিমা! আল্লাহ্কে ভয় কর এবং স্বীয় রব্বের ফরয হুকুম আদায় কর এবং নিজের ঘরের কাজ নিজেই কর। আর (দিন শেষে) যখন বিছানায় যাবে, তখন ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আল-হামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আক্বার পড়বে। যার সর্বমোট সংখ্যা হলো ১০০ বার। বস্তুত তোমার জন্য এই তাসবীহ খাদিমের চাইতেও উত্তম। তিনি (ফাতিমা) বলেনঃ আমি আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের উপর রাযী এবং খুশী (অর্থাৎ আমাকে যে হুকুম দেওয়া হয়েছে, তাতে আমি রাযী আছি)।
২৯৭৯. আহমদ ইবন মুহাম্মদ মারওয়াযী (রহঃ) ..... আলী ইবন হুসায়ন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উপরোক্ত হাদীছে বর্ণিত ঘটনা সম্পর্কে বলেনঃ তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে কোন খাদিম দেননি।
হাদিস নং ২৯৮০যঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْقُرَشِيُّ، قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ - يَعْنِي ابْنَ عِيسَى - كُنَّا نَقُولُ إِنَّهُ مِنَ الأَبْدَالِ قَبْلَ أَنْ نَسْمَعَ أَنَّ الأَبْدَالَ مِنَ الْمَوَالِي قَالَ حَدَّثَنِي الدَّخِيلُ بْنُ إِيَاسِ بْنِ نُوحِ بْنِ مُجَّاعَةَ عَنْ هِلاَلِ بْنِ سِرَاجِ بْنِ مُجَّاعَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ مُجَّاعَةَ أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَطْلُبُ دِيَةَ أَخِيهِ قَتَلَتْهُ بَنُو سَدُوسٍ مِنْ بَنِي ذُهْلٍ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَوْ كُنْتُ جَاعِلاً لِمُشْرِكٍ دِيَةً جَعَلْتُ لأَخِيكَ وَلَكِنْ سَأُعْطِيكَ مِنْهُ عُقْبَى " . فَكَتَبَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمِائَةٍ مِنَ الإِبِلِ مِنْ أَوَّلِ خُمُسٍ يَخْرُجُ مِنْ مُشْرِكِي بَنِي ذُهْلٍ فَأَخَذَ طَائِفَةً مِنْهَا وَأَسْلَمَتْ بَنُو ذُهْلٍ فَطَلَبَهَا بَعْدُ مُجَّاعَةُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ وَأَتَاهُ بِكِتَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَتَبَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ بِاثْنَىْ عَشَرَ أَلْفَ صَاعٍ مِنْ صَدَقَةِ الْيَمَامَةِ أَرْبَعَةِ آلاَفٍ بُرًّا وَأَرْبَعَةِ آلاَفٍ شَعِيرًا وَأَرْبَعَةِ آلاَفٍ تَمْرًا وَكَانَ فِي كِتَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِمُجَّاعَةَ " بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ هَذَا كِتَابٌ مِنْ مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ لِمُجَّاعَةَ بْنِ مُرَارَةَ مِنْ بَنِي سُلْمَى إِنِّي أَعْطَيْتُهُ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ مِنْ أَوَّلِ خُمُسٍ يَخْرُجُ مِنْ مُشْرِكِي بَنِي ذُهْلٍ عُقْبَةً مِنْ أَخِيهِ " .
২৯৮০. মুহাম্মদ ইবন ঈসা (রহঃ) .... আনবাসা ইবন আবদিল ওয়াহিদ কুরাশী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ জা’ফর অর্থাৎ ইবন ঈসা বলেছেন যে, আমরা আনবাসা ইবন আবদিল ওয়াহিদ (রাঃ)-কে আবদাল বলতাম-এ শোনার আগে যে, আবদাল মাওয়ালীদের থেকে হয়।
রাবী বলেনঃ আমার নিকট দাখীল ইবন আয়াস ইবন নূহ ইবন মুজজা’আ, তিনি তাঁর পিতা ও দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, একদা মুজজা’আ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসেন তাঁর ভাইয়ের দিয়্যাত (রক্তপণ) চাওয়ার জন্য, যাকে বনূ সাদূস-যারা বনূ যুহলের অন্তর্ভুক্ত ছিল, হত্যা করেছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি আমি কোন মুশরিকের দিয়্যাত দিতাম, তবে তোমার ভাইয়ের দিয়্যাতের ব্যবস্থা অবশ্যই করতাম। তবে আমি তোমাকে এর বিনিময়ের ব্যবস্থা করছি।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য বনূ যুহল থেকে প্রথম বার আদায়কৃত খুমুস হতে একশত উট দেওয়ার জন্য ফরমান লিখে দেন। যা থেকে কিছু উট তিনি (মুজ্জা’আ) গ্রহণ করেন। অতঃপর বনূ যুহল ইসলাম গ্রহণ করলে মুজ্জা’আ বাকী উট পাওয়ার জন্য আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট দাবী জানান এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফরমান তাঁর খিদ্মতে পেশ করেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) তাকে (মুজ্জা’আকে) ইয়ামামার সাদকা হতে বার হাজার সা’আ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য হুকুম দেন। যা থেকে চার হাজার সা’আ যব, চার হাযার সা’আ গম এবং চার হাযার সা’আ খেজুর তাঁকে দেওয়া হয়।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফরমানে এরূপ লেখা ছিলঃ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। এ ফরমান মুহাম্মদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের) পক্ষ হতে মুজজা’আ ইবন মুরারার জন্য-যিনি বনূ সালমার অন্তর্ভুক্ত। আমি তাকে একশো উট দিচ্ছি। বনূ যুহলের মুশরিকদের নিকট হতে খুমুস বাবদ প্রথম বার যা আদায় হবে, সেখান থেকে এটা দেওয়া হবে, তার মৃত ভাইয়ের রক্তপণের বিনিময়ে।
১৫৯. গনীমতের মালে নবী (ﷺ) -এর পছন্দনীয় অংশ
হাদিস নং ২৯৮১যঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، قَالَ كَانَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَهْمٌ يُدْعَى الصَّفِيَّ إِنْ شَاءَ عَبْدًا وَإِنْ شَاءَ أَمَةً وَإِنْ شَاءَ فَرَسًا يَخْتَارُهُ قَبْلَ الْخُمُسِ .
বর্ণনাকারী: শা‘বী (রহঃ)
২৯৮১. মুহাম্মদ ইবন কাছীর (রহঃ) ..... আমির শা’বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য গনীমতের মালে নির্ধারিত অংশ ছিল, যাকে ’সাফী’ বলা হতো। তিনি খুমুস গ্রহণের আগে দাস, দাসী অথবা ঘোড়া হতে যা তাঁর পসন্দ হতো, তা নিয়ে নিতেন।
২৯৮২. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... ইবন আওন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মুহাম্মদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নির্ধারিত অংশ ও সাফী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ সাধারণ মুসলিমদের সাথে তাঁরও একটা অংশ নির্ধারণ করা হতো, যদিও তিনি যুদ্ধে অনুপস্থিত থাকতেন। আর সাফী হলো খুমুসের সেই বাছাই করা মাল, যা সবার আগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নেওয়া হতো।
২৯৮৩. মাহমূদ ইবন খালিদ সুলামী (রহঃ) ...... কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন, তখন তাঁর জন্য সাফী নির্ধারিত থাকতো। তিনি যেখান হতে ইচ্ছা করতেন, সেখান হতে পসন্দ মত গ্রহণ করতেন। বস্তুত সাফিয়্যা (রাঃ), (যাঁকে তিনি খায়বরের যুদ্ধের সময় পেয়েছিলেন), এ ধরনের অংশ ছিলেন। আর যখন তিনি নিজে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন না, তখনও তাঁর নির্ধারিত অংশ আলাদা করা হতো; কিন্তু সেটা তাঁর পসন্দ করা অংশ হতো না।
২৯৮৫. সা’ঈদ ইবন মানসূর (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা খায়বর আক্রমণ করি। অতঃপর মহান আল্লাহ্ যখন এ দুর্গ জয় করিয়ে দেন, তখন সাফিয়্যা বিনত হুয়াই এর সৌন্দর্যের কথা তাঁর নিকট বর্ণিত হয়। (এ যুদ্ধে) তার স্বামী নিহত হয়, যখন তিনি ছিলেন নববধূ মাত্র। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পসন্দ করেন। অতঃপর তিনি তাকে নিয়ে রওয়ানা হন, এমনকি যখন ’সাদ্দা-সাহবা’ নামক স্থানে পৌছান, তখন তিনি হালাল হয়ে যান। অতঃপর তিনি তার সাথে সহবাস করেন।
হাদিস নং ২৯৮৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ صَارَتْ صَفِيَّةُ لِدِحْيَةَ الْكَلْبِيِّ ثُمَّ صَارَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
২৯৮৬. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাফিয়্যা প্রথমে দাহিয়া-কালবীর অংশে পড়েন। পরে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অংশভুক্ত হন।
২৯৮৭. মুহাম্মদ ইবন খাল্লাদ বাহিলী (রহঃ) .... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ দাহিয়া কালবীর ভাগে (খায়বরের যুদ্ধে) একজন সুশ্রী যুবতী আসে, যাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি গোলামের বিনিময়ে খরিদ করেন। অতঃপর তিনি (দাহিয়া কালবী) ঐ দাসীকে উম্মু-সুলায়মের নিকট সোপর্দ করেন, যাতে তিনি তাকে গোসল করিয়ে সুন্দর বসন-ভূষণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য সুসজ্জিত করে দেন।
রাবী হাম্মাদ বলেনঃ আমার ধারণা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যাকে ইদ্দতকাল অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উম্মু-সুলায়মের নিকট অবস্থান করতে নির্দেশ দেন।
[সহীহঃ কিন্তু তার এ কথাঃ আমার মনে হয় ...... এতে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা ইতিপূর্বে গত হয়েছে যে, সাদ্দুস সাহাবা নামক জায়গাতে পৌছলে তিনি পবিত্র হন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে নির্জানাবাস করেন।]
২৯৮৮. দাঊদ ইবন মু’আয (রহঃ) ..... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খায়বর যুদ্ধশেষে যখন যুদ্ধ-বন্দীদের একত্রিত করা হয়, তখন দাহিয়া-কালবী এসে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে বন্দীদের থেকে একটা দাসী প্রদান করুন। তিনি বলেনঃ যাও একজন দাসী নিয়ে যাও। তখন তিনি সাফিয়্যা বিনত হুয়াইকে নিয়ে যান। অতঃপর জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হয়ে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি সাফিয়্যাকে দাহিয়া-কালবীকে প্রদান করলেন?
রাবী ইয়াকূব বলেনঃ সাফিয়্যা বিনত হুয়াই ছিলেন কুরায়যা ও নযীর গোত্রের সর্দার কন্যা, তিনি তো আপনারই যোগ্যা। তখন তিনি বলেনঃ দাহিয়াকে তাকে (সাফিয়্যা) সহ ডেকে আন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে দাহিয়াকে বলেনঃ তুমি এর বদলে বন্দীদের মধ্য হতে অন্য যে কোন দাসী নিয়ে নাও। অবশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আযাদ করে দেন এবং তাঁকে বিবাহ করেন।
২৯৮৯. মুসলিম ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) ..... ইয়াযীদ ইবন আবদিল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা মিরবাদ নামক স্থানে ছিলাম। তখন সেখানে এমন এক ব্যক্তি আসে, যার মাথার চুল ছিল এলোমেলো এবং তার হাতে ছিল এক টুকরা লাল চামড়া। আমরা তাকে বলিঃ মনে হয় তুমি জংগলের বাসিন্দা? তখন সে বলেঃ হ্যাঁ। আমরা তাকে বলিঃ তোমার হাতে যে লাল চামড়ার টুকরা আছে, তা আমাদের দিয়ে দাও। তখন সে তা আমাদের দিয়ে দেয়। ঐ চামড়ার উপর যা লেখা ছিল, আমরা তা পড়তে থাকি।
তাতে লেখা ছিলঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ হতে বনূ যুহায়র ইবন উকায়শ গোত্রের প্রতি-যদি তোমরা এরূপ সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্র রাসূল, তোমরা সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, আর তোমরা মালে গনীমতের খুমুস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিসসা ও সাফী প্রদান করবে। যদি তোমরা এরূপ কর, তবে তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নিরাপত্তায় থাকবে। তখন আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করিঃ তোমার কাছে এ ফরমান কে লিখে পাঠিয়েছে? সে বলেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, (এটি লিখে আমার কাছে পাঠিয়েছেন)।
১৬০. মদীনা হতে ইয়াহূদীদের কিরূপে বের করা হয়েছিল।
হাদিস নং ২৯৯০সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، أَنَّ الْحَكَمَ بْنَ نَافِعٍ، حَدَّثَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، - وَكَانَ أَحَدَ الثَّلاَثَةِ الَّذِينَ تِيبَ عَلَيْهِمْ - وَكَانَ كَعْبُ بْنُ الأَشْرَفِ يَهْجُو النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَيُحَرِّضُ عَلَيْهِ كُفَّارَ قُرَيْشٍ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ وَأَهْلُهَا أَخْلاَطٌ مِنْهُمُ الْمُسْلِمُونَ وَالْمُشْرِكُونَ يَعْبُدُونَ الأَوْثَانَ وَالْيَهُودُ وَكَانُوا يُؤْذُونَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ فَأَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ نَبِيَّهُ بِالصَّبْرِ وَالْعَفْوِ فَفِيهِمْ أَنْزَلَ اللَّهُ ( وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ ) الآيَةَ فَلَمَّا أَبَى كَعْبُ بْنُ الأَشْرَفِ أَنْ يَنْزِعَ عَنْ أَذَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَعْدَ بْنَ مُعَاذٍ أَنْ يَبْعَثَ رَهْطًا يَقْتُلُونَهُ فَبَعَثَ مُحَمَّدَ بْنَ مَسْلَمَةَ وَذَكَرَ قِصَّةَ قَتْلِهِ فَلَمَّا قَتَلُوهُ فَزِعَتِ الْيَهُودُ وَالْمُشْرِكُونَ فَغَدَوْا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا طُرِقَ صَاحِبُنَا فَقُتِلَ . فَذَكَرَ لَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الَّذِي كَانَ يَقُولُ وَدَعَاهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَنْ يَكْتُبَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُمْ كِتَابًا يَنْتَهُونَ إِلَى مَا فِيهِ فَكَتَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُ وَبَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْمُسْلِمِينَ عَامَّةً صَحِيفَةً .
বর্ণনাকারী: কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ)
২৯৯০. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহ্ইয়া ইবন ফারিস (রহঃ) ..... কা’ব ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন ঐ তিনজনের একজন যার তাওবা (তাবূকের যুদ্ধের পর) কবুল করা হয়। কা’ব ইবন আশরাফ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে ব্যাঙ্গাত্তক কবিতা রচনা করত এবং কাফির কুরায়শদের তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্ররোচিত করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আসেন, তখন সেখানে সব ধরনের লোকের বসবাস ছিল, যেমনঃ কিছু ছিল মুসলিম, কিছু ছিল মূর্তি-পূজারী মুশরিক এবং কিছু ছিল ইয়াহূদী, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের খুবই কষ্ট দিত। তখন মহান আল্লাহ্ তাঁর সবর করার জন্য এবং ক্ষমা করার জন্য হুকুম নাযিল করেন। তখন তাদের শানে আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেনঃ
وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ
অর্থাৎ তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাব ও মুশরিকদের নিকট হতে বহু কষ্টদায়ক কথাবার্তা শ্রবণ করবে।
এরপর যখন কা’ব ইবন আশরাফ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে ব্যাঙ্গ ও বিদ্রূপাত্মক কবিতা রচনা করা হতে বিরত থাকতে অস্বীকার করে, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ ইবন মু’আয (রাঃ)-কে তাকে হত্যা করার জন্য একটি দল পাঠাবার জন্য নির্দেশ দেন। যিনি মুহাম্মদ ইবন মাসলামাকে এ উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। রাবী কা’ব (রাঃ) তার (কা’ব ইবন আশরাফের) হত্যার কাহিনী বর্ণনা করেছেন।
অবশেষে প্রেরিত বাহিনী যখন কা’ব ইবন আশরাফকে হত্যা করে, তখন ইয়াহূদী ও মুশরিকরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে সকাল বেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হয় এবং তারা বলেঃ রাত্রিতে কেউ আক্রমণ করে আমাদের নেতাকে হত্যা করে ফেলেছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’ব ইবন আশরাফের হিজু বা ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপ করার কথা তাদের কাছে ব্যক্ত করেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট হতে এমন একটি অঙ্গীকার পত্র লিখে নিতে বলেন, যাতে দু’পক্ষের কেউ কাউকে কোনরূপ কষ্ট না দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের, তাদের ও সমস্ত মুসলিমদের পক্ষ হতে একটি ইকরারনামা বা অঙ্গীকার-পত্র লিখিয়ে দেন।
২৯৯১. মুসাররিফ ইবন আমর আয়ামী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধে কুরাইশদের উপর বিজয়ী হয়ে মদীনায় ফিরে আসেন, তখন তিনি বনূ কায়নুকার বাজারে ইয়াহূদীদের একত্রিত করে বলেনঃ ওহে ইয়াহূদীরা! তোমরা এর আগে মুসলিম হয়ে যাও যে, তোমাদের উপর এরূপ মুসীবত আসে, যেরূপ কুরাইশদের উপর এসেছে। তখন তারা বলেঃ হে মুহাম্মদ! তুমি এতে বিভ্রান্ত হয়ো না যে, তুমি কুরাইশদের কয়েকজন যুদ্ধে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে হত্যা করেছ। যদি তুমি আমাদের সাথে যুদ্ধ করতে, তবে বুঝতে পারতে আমরা কিরূপ মানুষ বা যোদ্ধা। আর তুমি আমাদের মত (বীর যোদ্ধা) কাউকে পাবে না। তখন আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেনঃ
قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا سَتُغْلَبُونَ
অর্থাৎ আপনি তাদের বলুন, যারা কুফরী করেছে, অচিরেই তোমরা পরাজিত হবে এবং তোমাদের জাহান্নামে একত্রিত করা হবে। আর তা হলো অতি নিকৃষ্ট আবাসস্থল।
রাবী মুসাররিফ আয়াতের এ পর্যন্ত তিলাওয়াত করেনঃ
فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
অর্থাৎ একটি দল যুদ্ধ করেছিল আল্লাহর রাস্তায়, আর তা হলো বদর প্রান্তর এবং আর অন্য দলটি ছিল কাফির (অর্থাৎ মক্কার কুরায়শরা)।
২৯৯২. মুসাররিফ ইবন আমর (রহঃ) ..... মুহাইয়াসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, তোমরা ইয়াহূদীদের যে কেউকে কব্জার মাঝে পাবে, তাকে হত্যা করবে। তখন মুহাইয়াসা (রাঃ) শুবায়বা নামক জনৈক ইহাহূদী ব্যবসায়ীর উপর হামলা করেন এবং তাকে হত্যা করে ফেলেন। এ সময়েও মুহাইয়াসার সাথে ইহাহূদীদের মেলামেশা ছিল। (যখন তিনি শুবায়বাকে হত্যা করেন), তখন হুওইয়সা, যিনি তখনও ইসলাম কবুল করেননি এবং মুহাইয়াসার বড় ভাই ছিলেন, তিনি যখন ঐ ইয়াহূদীকে হত্যা করেন, তখন হুওইয়সা তাকে (মুহাইয়াসা) মারপিট করেন এবং বলেনঃ হে আল্লাহ্র দুশমন! আল্লাহর শপথ, তোমার পেটের চর্বি তো তার মাল দিয়ে তৈরী।
হাদিস নং ২৯৯৩সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ بَيْنَا نَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ إِذْ خَرَجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " انْطَلِقُوا إِلَى يَهُودَ " . فَخَرَجْنَا مَعَهُ حَتَّى جِئْنَاهُمْ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَادَاهُمْ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ يَهُودَ أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا " . فَقَالُوا قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ . فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا " . فَقَالُوا قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ . فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ذَلِكَ أُرِيدُ " . ثُمَّ قَالَهَا الثَّالِثَةَ " اعْلَمُوا أَنَّمَا الأَرْضُ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُجْلِيَكُمْ مِنْ هَذِهِ الأَرْضِ فَمَنْ وَجَدَ مِنْكُمْ بِمَالِهِ شَيْئًا فَلْيَبِعْهُ وَإِلاَّ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا الأَرْضُ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
২৯৯৩. কুতায়বা ইবন সা’ঈদ (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা মসজিদে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট উপস্থিত হয়ে বলেনঃ ইয়াহূদীদের সাথে মুকাবিলার জন্য বের হও। তখন আমরা তাঁর সঙ্গে বের হয়ে ইয়াহূদীদের নিকট পৌঁছাই। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে দাঁড়িয়ে ইয়াহূদীদের লক্ষ্য করে বলেনঃ হে ইয়াহূদীদের দল! তোমরা ইসলাম কবুল কর, যাতে শান্তিতে থাকতে পার। তখন তারা বলেঃ হে আবুল কাসিম! তুমি তো পয়গাম পৌছিয়ে দিয়েছ।
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার তাদের বলেনঃ তোমরা ইসলাম কবুল কর, শান্তিতে বসবাস কর। তখন তারা আবার বলেঃ তুমি তো বাণী পৌছিয়ে দিয়েছ, হে আবুল কাসিম! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তো এটাই চাচ্ছিলাম। অতঃপর তিনি তৃতীয় বার তাদের বলেনঃ তোমরা ভাল করে জেনে রাখ, এ যমীন আল্লাহ্র ও তাঁর রাসূলের। আমি তোমাদের এ যমীন (স্থান) হতে বের করে দিতে চাই। কাজেই তোমাদের যার তার মালের প্রতি মহব্বত আছে, সে যেন তা বিক্রি করে দেয়। অন্যথায় জেনে রাখ, এ যমীন আল্লাহর এবং তাঁর রাসূলের।
১৬১. বনূ নযীরের ঘটনা সম্পর্কে।
হাদিস নং ২৯৯৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ كُفَّارَ قُرَيْشٍ كَتَبُوا إِلَى ابْنِ أُبَىٍّ وَمَنْ كَانَ يَعْبُدُ مَعَهُ الأَوْثَانَ مِنَ الأَوْسِ وَالْخَزْرَجِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَئِذٍ بِالْمَدِينَةِ قَبْلَ وَقْعَةِ بَدْرٍ إِنَّكُمْ آوَيْتُمْ صَاحِبَنَا وَإِنَّا نُقْسِمُ بِاللَّهِ لَتُقَاتِلُنَّهُ أَوْ لَتُخْرِجُنَّهُ أَوْ لَنَسِيرَنَّ إِلَيْكُمْ بِأَجْمَعِنَا حَتَّى نَقْتُلَ مُقَاتِلَتَكُمْ وَنَسْتَبِيحَ نِسَاءَكُمْ . فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَىٍّ وَمَنْ كَانَ مَعَهُ مِنْ عَبَدَةِ الأَوْثَانِ اجْتَمَعُوا لِقِتَالِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَقِيَهُمْ فَقَالَ " لَقَدْ بَلَغَ وَعِيدُ قُرَيْشٍ مِنْكُمُ الْمَبَالِغَ مَا كَانَتْ تَكِيدُكُمْ بِأَكْثَرَ مِمَّا تُرِيدُونَ أَنْ تَكِيدُوا بِهِ أَنْفُسَكُمْ تُرِيدُونَ أَنْ تُقَاتِلُوا أَبْنَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ " . فَلَمَّا سَمِعُوا ذَلِكَ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَفَرَّقُوا فَبَلَغَ ذَلِكَ كُفَّارَ قُرَيْشٍ فَكَتَبَتْ كُفَّارُ قُرَيْشٍ بَعْدَ وَقْعَةِ بَدْرٍ إِلَى الْيَهُودِ إِنَّكُمْ أَهْلُ الْحَلْقَةِ وَالْحُصُونِ وَإِنَّكُمْ لَتُقَاتِلُنَّ صَاحِبَنَا أَوْ لَنَفْعَلَنَّ كَذَا وَكَذَا وَلاَ يَحُولُ بَيْنَنَا وَبَيْنَ خَدَمِ نِسَائِكُمْ شَىْءٌ - وَهِيَ الْخَلاَخِيلُ - فَلَمَّا بَلَغَ كِتَابُهُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَجْمَعَتْ بَنُو النَّضِيرِ بِالْغَدْرِ فَأَرْسَلُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اخْرُجْ إِلَيْنَا فِي ثَلاَثِينَ رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِكَ وَلْيَخْرُجْ مِنَّا ثَلاَثُونَ حَبْرًا حَتَّى نَلْتَقِيَ بِمَكَانِ الْمَنْصَفِ فَيَسْمَعُوا مِنْكَ . فَإِنْ صَدَّقُوكَ وَآمَنُوا بِكَ آمَنَّا بِكَ فَقَصَّ خَبَرَهُمْ فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ غَدَا عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْكَتَائِبِ فَحَصَرَهُمْ فَقَالَ لَهُمْ " إِنَّكُمْ وَاللَّهِ لاَ تَأْمَنُونَ عِنْدِي إِلاَّ بِعَهْدٍ تُعَاهِدُونِي عَلَيْهِ " . فَأَبَوْا أَنْ يُعْطُوهُ عَهْدًا فَقَاتَلَهُمْ يَوْمَهُمْ ذَلِكَ ثُمَّ غَدَا الْغَدُ عَلَى بَنِي قُرَيْظَةَ بِالْكَتَائِبِ وَتَرَكَ بَنِي النَّضِيرِ وَدَعَاهُمْ إِلَى أَنْ يُعَاهِدُوهُ فَعَاهَدُوهُ فَانْصَرَفَ عَنْهُمْ وَغَدَا عَلَى بَنِي النَّضِيرِ بِالْكَتَائِبِ فَقَاتَلَهُمْ حَتَّى نَزَلُوا عَلَى الْجَلاَءِ فَجَلَتْ بَنُو النَّضِيرِ وَاحْتَمَلُوا مَا أَقَلَّتِ الإِبِلُ مِنْ أَمْتِعَتِهِمْ وَأَبْوَابِ بُيُوتِهِمْ وَخَشَبِهَا فَكَانَ نَخْلُ بَنِي النَّضِيرِ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً أَعْطَاهُ اللَّهُ إِيَّاهَا وَخَصَّهُ بِهَا فَقَالَ ( وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ ) يَقُولُ بِغَيْرِ قِتَالٍ فَأَعْطَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَكْثَرَهَا لِلْمُهَاجِرِينَ وَقَسَمَهَا بَيْنَهُمْ وَقَسَمَ مِنْهَا لِرَجُلَيْنِ مِنَ الأَنْصَارِ وَكَانَا ذَوِي حَاجَةٍ لَمْ يَقْسِمْ لأَحَدٍ مِنَ الأَنْصَارِ غَيْرَهُمَا وَبَقِيَ مِنْهَا صَدَقَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّتِي فِي أَيْدِي بَنِي فَاطِمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا .
হাদিস নং ২৯৯৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ يَهُودَ بَنِي النَّضِيرِ، وَقُرَيْظَةَ، حَارَبُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَجْلَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَنِي النَّضِيرِ وَأَقَرَّ قُرَيْظَةَ وَمَنَّ عَلَيْهِمْ حَتَّى حَارَبَتْ قُرَيْظَةُ بَعْدَ ذَلِكَ فَقَتَلَ رِجَالَهُمْ وَقَسَمَ نِسَاءَهُمْ وَأَوْلاَدَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ إِلاَّ بَعْضَهُمْ لَحِقُوا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَّنَهُمْ وَأَسْلَمُوا وَأَجْلَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَهُودَ الْمَدِينَةِ كُلَّهُمْ بَنِي قَيْنُقَاعَ وَهُمْ قَوْمُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ وَيَهُودَ بَنِي حَارِثَةَ وَكُلَّ يَهُودِيٍّ كَانَ بِالْمَدِينَةِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
২৯৯৫. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন ফারিস (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বনূ নযীর ও বনূ কুরায়যার ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ নযীরকে (দেশ হতে) বের করে দেন এবং বনূ কুরায়যার লোকেরা, যারা তাদের অংগীকার পূর্ণ করেছিল, তারা তাদের স্বস্থানে অবস্থিত ছিল। অবশেষে বনূ কুরায়যার ইয়াহূদীরা যখন যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তখন তাদের পুরুষদের হত্যা করা হয় এবং তাদের স্ত্রী, মালামাল ও সন্তানদের মুসলিমদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে, তিনি তাদের নিরাপত্তা প্রদান করেন এবং পরে তারা ইসলাম কবুল করে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ কায়নুকার ইয়াহূদী, যারা আবদুল্লাহ ইবন সালামের গোত্রের লোক ছিল, তাছাড়া বনূ হারিছার ইয়াহূদী এবং অন্যান্য যে ইয়াহূদীরা মদীনায় বসবাস করতো, সকলকে মদীনা হতে বের করে দেন।
২৯৯৬. হারূন ইবন যায়দ ইবন আবূ যারকা (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের পরাজিত করেন এবং তাদের খেজুর বাগান ও যমীনের উপর আধিপত্য স্থাপন করেন এবং তাদেরকে তাদের গৃহে অবরোধ করেন। তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এ শর্তে সন্ধি করে যে, সোনা, রূপা এবং যাবতীয় হাতিয়ার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অধিকারে থাকবে এবং অবশিষ্ট মালামাল হতে তাদের উট যা বহন করতে পারবে, তা তারা নিয়ে যাবে। কিন্তু তা এ শর্তে যে, তারা কিছুই গোপন করবে না এবং সরিয়েও রাখবে না। আর যদি তারা এরূপ করে, তবে মুসলিমদের পক্ষ হতে কোনরূপ যিম্মাদারী অথবা অঙ্গীকার (কার্যকর) থাকবে না। এ সময় তারা হুয়াই ইবন আখতাবের (স্বর্ণমুদ্রাপূর্ণ) চামড়ার থলি গায়েব করে দেয়, যে খায়বরের যুদ্ধের আগে নিহত হয়েছিল। আর সে বনূ নযীরের দেশ ত্যাগের সময় তাদের বহু গহনা-পত্র আত্মসাৎ করেছিল।
রাবী বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’ইয়াকে জিজ্ঞাসা করেন যে, হুয়াই ইবন আখতাবের থলি কোথায়? সে বলেঃ তা যুদ্ধে খরচ হয়ে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সাহাবীরা ঐ থলি পেয়ে যান। তখন তিনি ইবন আবূ হাকীককে (ইয়াহূদী) হত্যা করে তার স্ত্রী ও সন্তানদের বন্দী করেন এবং তাদের দেশ হতে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন তারা বলেঃ হে মুহাম্মদ! আমাদের এখানে বসবাসের অনুমতি দিন। আমরা এ যমীনের উপর পরিশ্রম করে উপার্জন করব এবং এর অর্ধেক আমাদের এবং বাকী অর্ধেক আপনার। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খায়বরের এ সম্পদ হতে) তাঁর সব স্ত্রীদের আলাদাভাবে আশি ওসাক খেজুর এবং বিশ ওসাক যব প্রদান করতেন।
২৯৯৭. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা উমার (রাঃ) বলেনঃ হে জনগণ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরের ইয়াহূদীদের সাথে এরূপ চুক্তি করেন যে, আমরা যখনই ইচ্ছা করব, তখনই তাদের বের করে দেব। কাজেই যদি কারও ধন-সস্পদ তাদের কাছে থাকে, তবে সে যেন তা নিয়ে নেয়। কেননা, আমি ইয়াহূদীদের দেশ হতে বের করে দেব। অবশেষে তিনি তাদের বের করে দেন।
হাদিস নং ২৯৯৮হাসান
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ اللَّيْثِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ لَمَّا افْتُتِحَتْ خَيْبَرُ سَأَلَتْ يَهُودُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُقِرَّهُمْ عَلَى أَنْ يَعْمَلُوا عَلَى النِّصْفِ مِمَّا خَرَجَ مِنْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُقِرُّكُمْ فِيهَا عَلَى ذَلِكَ مَا شِئْنَا " . فَكَانُوا عَلَى ذَلِكَ وَكَانَ التَّمْرُ يُقْسَمُ عَلَى السُّهْمَانِ مِنْ نِصْفِ خَيْبَرَ وَيَأْخُذُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْخُمُسَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَطْعَمَ كُلَّ امْرَأَةٍ مِنْ أَزْوَاجِهِ مِنَ الْخُمُسِ مِائَةَ وَسْقٍ تَمْرًا وَعِشْرِينَ وَسْقًا شَعِيرًا فَلَمَّا أَرَادَ عُمَرُ إِخْرَاجَ الْيَهُودِ أَرْسَلَ إِلَى أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُنَّ مَنْ أَحَبَّ مِنْكُنَّ أَنْ أَقْسِمَ لَهَا نَخْلاً بِخَرْصِهَا مِائَةَ وَسْقٍ فَيَكُونَ لَهَا أَصْلُهَا وَأَرْضُهَا وَمَاؤُهَا وَمِنَ الزَّرْعِ مَزْرَعَةُ خَرْصٍ عِشْرِينَ وَسْقًا فَعَلْنَا وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ نَعْزِلَ الَّذِي لَهَا فِي الْخُمُسِ كَمَا هُوَ فَعَلْنَا .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
২৯৯৮. সুলায়মান ইবন দাঊদ মাহরী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন খায়বর বিজয় হয়, তখন ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ মর্মে দরখাস্ত পেশ করে যে, আপনি আমাদের এ শর্তে এখানে বসবাসের অনুমতি দিন, যা আমরা উপার্জন করব, আপনি তার অর্ধেক পাবেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তোমাদের এখানে এ শর্তে বসবাসের অনুমতি দিচ্ছি যে, আমরা যখনই চাব, তখনই তোমাদের বহিষ্কার করতে পারব। পরে তারা এ শর্ত অনুযায়ী সেখানে বসবাস করতে থাকে। খায়বরের খেজুর দু’ভাগে বিভক্ত হতো এবং খুমুস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রহণ করতেন। আর খুমুস হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সব বিবিকে একশত ওসাক খেজুর এবং বিশ ওসাক যব প্রদান করতেন।
অবশেষে উমার (রাঃ) যখন ইয়াহূদীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিবিদের কাছে এ মর্মে খবর পাঠান যে, আপনারা যে কেউ চাইলে, আমি তাঁকে এতগুলি খেজুর গাছ দেব, যা থেকে একশত ওসাক খেজুর পাওয়া যাবে এবং ঐ গাছ ও যমীন আপনাদের মালিকানায় থাকবে এবং তার পানিও এর শামিল থাকবে। একই রূপে কৃষিক্ষেত্র হতে এ পরিমাণ যমীন দেব, যা থেকে বিশ ওয়াক পরিমাণ যব উৎপন্ন হবে। আর আপনাদের থেকে যদি কেউ চান যে, আমি খুমুস হতে আপনাদের অংশ দেই, তবে আমি তা দেব।
২৯৯৯. দাঊদ ইবন মু’আয (রহঃ) ...... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরের উপর যুদ্ধ পরিচালনা করেন। আমরা যুদ্ধ করে তা জয় করি। অবশেষে বন্দীদের একত্রিত করা হয় (যাতে মুসলিমদের মাঝে তা সহজে বন্টন করা যায়)।
৩০০০. রাবী ইবন সুলায়মান মুআয্যিন (রহঃ) .... সাহল ইবন আবী হাছমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বর যুদ্ধে প্রাপ্ত সমস্ত মালামাল দু’ভাগে বিভক্ত করেন। যার একাংশ তিনি তাঁর নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য গ্রহণ করেন এবং বাকী অংশটি আঠার ভাগে বিভক্ত করে মুসলিমদের মাঝে বন্টন করে দেন।
হাদিস নং ৩০০১সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، - يَعْنِي سُلَيْمَانَ - عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ لَمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْبَرَ قَسَمَهَا عَلَى سِتَّةٍ وَثَلاَثِينَ سَهْمًا جَمَعَ كُلُّ سَهْمٍ مِائَةَ سَهْمٍ فَعَزَلَ نِصْفَهَا لِنَوَائِبِهِ وَمَا يَنْزِلُ بِهِ الْوَطِيحَةَ وَالْكُتَيْبَةَ وَمَا أُحِيزَ مَعَهُمَا وَعَزَلَ النِّصْفَ الآخَرَ فَقَسَمَهُ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ الشَّقَّ وَالنَّطَاةَ وَمَا أُحِيزَ مَعَهُمَا وَكَانَ سَهْمُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا أُحِيزَ مَعَهُمَا .
বর্ণনাকারী: বুশায়র ইবন ইয়াসার (রহঃ)
৩০০১. আবদুল্লাহ ইবন সা’ইদ কিনদী (রহঃ) ..... বশীর ইবন ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা যখন খায়বরকে তাঁর নবীর জন্য গনীমত হিসাবে প্রদান করেন, তখন তিনি তাকে ৩৬ ভাগে বিভক্ত করেন। এর প্রত্যেক ভাগে একশো অংশ ছিল। এর অর্ধেক অংশ তিনি তাঁর নিজের প্রয়োজনের জন্য রাখেন-যার মাঝে অতীহা ও কুতায়বা নামক দুটি গ্রাম ছিল আর এর সংলগ্ন অন্যান্য সস্পদও। আর বাকী অর্ধাংশ মুসলিমদের মাঝে বণ্টন করে দেন, যার মাঝে শাক ও নাতা নামক দু’টি গ্রাম ছিল এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পদও। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অংশ এ দু’টি ভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল।
হাদিস নং ৩০০২সহিহ
حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الأَسْوَدِ، أَنَّ يَحْيَى بْنَ آدَمَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِي شِهَابٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ نَفَرًا، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالُوا فَذَكَرَ هَذَا الْحَدِيثَ قَالَ فَكَانَ النِّصْفُ سِهَامَ الْمُسْلِمِينَ وَسَهْمَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَزَلَ النِّصْفَ لِلْمُسْلِمِينَ لِمَا يَنُوبُهُ مِنَ الأُمُورِ وَالنَّوَائِبِ .
বর্ণনাকারী: বুশায়র ইবন ইয়াসার (রহঃ)
৩০০২. হুসায়ন ইবন আলী ইবন আসওয়াদ (রহঃ) ..... বাশীর ইবন ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবী থেকে শুনেছেন। তাঁরা এ হাদীছ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেনঃ খায়বরে প্রাপ্ত অর্ধেক মালে সমস্ত মুসলিমের অংশ ছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরও হিসসা ছিল। আর বাকী যে অর্ধেক মাল ছিল, তা মুসলিমদের বিশেষ প্রয়োজনে (বিপদাপদ, যুদ্ধ ইত্যাদি) রাখা হতো।
হাদিস নং ৩০০৩সহিহ
حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، مَوْلَى الأَنْصَارِ عَنْ رِجَالٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا ظَهَرَ عَلَى خَيْبَرَ قَسَمَهَا عَلَى سِتَّةٍ وَثَلاَثِينَ سَهْمًا جَمَعَ كُلُّ سَهْمٍ مِائَةَ سَهْمٍ فَكَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلِلْمُسْلِمِينَ النِّصْفُ مِنْ ذَلِكَ وَعَزَلَ النِّصْفَ الْبَاقِيَ لِمَنْ نَزَلَ بِهِ مِنَ الْوُفُودِ وَالأُمُورِ وَنَوَائِبِ النَّاسِ .
বর্ণনাকারী: বুশায়র ইবন ইয়াসার (রহঃ)
৩০০৩. হুসায়ন ইবন আলী (রহঃ) ..... বাশীর ইবন ইয়াসার (রাঃ), যিনি একজন আনসার সাহাবীর গোলাম ছিলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতিপয় সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বর জয় করেন, তখন তিনি (সেখানে প্রাপ্ত মালকে) ছত্রিশ ভাগে বিভক্ত করেন। তিনি প্রত্যেক অংশকে একশত ভাগে বণ্টন করেন। এর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুসলিমদের জন্য অর্ধেক মাল রাখা হয়, আর বাকী অর্ধেক তাদের জন্য আলাদা সংরক্ষণ করা হয়, যারা প্রতিনিধি দলের সাথে আসবে এবং মানুযের বিপদাপদ ও প্রয়োজনে ব্যয় করা হবে।
হাদিস নং ৩০০৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِسْكِينٍ الْيَمَامِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ خَيْبَرَ قَسَمَهَا سِتَّةً وَثَلاَثِينَ سَهْمًا جَمْعًا فَعَزَلَ لِلْمُسْلِمِينَ الشَّطْرَ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَهْمًا يَجْمَعُ كُلُّ سَهْمٍ مِائَةً النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَعَهُمْ لَهُ سَهْمٌ كَسَهْمِ أَحَدِهِمْ وَعَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَهْمًا وَهُوَ الشَّطْرُ لِنَوَائِبِهِ وَمَا يَنْزِلُ بِهِ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ فَكَانَ ذَلِكَ الْوَطِيحَ وَالْكُتَيْبَةَ وَالسُّلاَلِمَ وَتَوَابِعَهَا فَلَمَّا صَارَتِ الأَمْوَالُ بِيَدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالْمُسْلِمِينَ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ عُمَّالٌ يَكْفُونَهُمْ عَمَلَهَا فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْيَهُودَ فَعَامَلَهُمْ .
বর্ণনাকারী: বুশায়র ইবন ইয়াসার (রহঃ)
৩০০৪. মুহাম্মদ ইবন মিসকীন ইয়ামামী (রহঃ) .... বাশীর ইবন ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যখন আল্লাহ্ তাঁকে খায়বরকে মালে গনীমত হিসাবে প্রদান করেন, তখন তিনি এর সমস্ত মালামাল ছত্রিশ ভাগে বিভক্ত করেন। এরপর তিনি মুসলিমদের জন্য আঠার ভাগ আলাদা করে রাখেন, যার প্রত্যেক ভাগে একশ ব্যক্তি ছিল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও অন্যান্য সাহাবীদের ন্যায় ছিলেন, অর্থাৎ তিনিও একটি অংশ পান, য়েমন অন্য সাহাবীরা পেয়েছিলেন।
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঠার অংশ, অর্থাৎ বাকী অর্ধাংশ তাদের জন্য বরাদ্দ করেন, যারা ছিল দুঃস্থ ও বিপদগ্রস্ত এবং মুসলিমদের বিশেষ প্রয়োজনের জন্য। এ অর্ধাংশে ওয়াতীহ, কুতায়বা ও সালালিম (খায়বরের কিছু গ্রামের নাম) ছিল এবং এর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পদও। অবশেষে খায়বরের সমস্ত মালামাল যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুসলিমদের করতলগত হয়, তখন এর তদারকির জন্য আর কোন কর্মচারী ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদীদের ডাকেন এবং তাদের এ শর্তে যমীন তোগ করতে দেন যে, তারা এর দেখাশুনা করবে এবং উৎপন্ন দ্রব্যের অর্ধেক তাঁকে দেবে।
৩০০৫. মুহাম্মদ ইবন ঈসা (রহঃ) ..... মুজাম্মি ইবন ই’য়াকূব ইবন মুজাম্মি ইবন ইয়াযীদ আনসারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতা ই’য়াকূব ইবন মুজাম্মি’কে কে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি তাঁর চাচা আবদুর রহমান ইবন ইয়াযীদ আনসারী হতে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁর চাচা মুজাম্মি ইবন জারিয়া আনসারী হতে, আর তিনি আল-কুরআনের কারীদের মাঝে একজন কারী ছিলেন। তিনি বলেনঃ খায়বরের ধন-সম্পদ হুদায়বিয়ায় অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের মাঝে বণ্টন করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে আঠার ভাগে বিভক্ত করেন। আর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সৈন্য সংখ্যা ছিল এক হাজার পাঁচ’শ, যার তিন’শ ছিল অশ্বারোহী, (এবং বাকী পদাতিক)। তিনি অশ্বারোহী সৈন্যদের দু’অংশ এবং পদাতিক বাহিনীর প্রত্যেককে এক অংশ হিসাবে প্রদান করেন।
হাদিস নং ৩০০৬যঈফ
حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ آدَمَ - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، وَبَعْضِ، وَلَدِ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ قَالُوا بَقِيَتْ بَقِيَّةٌ مِنْ أَهْلِ خَيْبَرَ تَحَصَّنُوا فَسَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَحْقِنَ دِمَاءَهُمْ وَيُسَيِّرَهُمْ فَفَعَلَ فَسَمِعَ بِذَلِكَ أَهْلُ فَدَكَ فَنَزَلُوا عَلَى مِثْلِ ذَلِكَ فَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً لأَنَّهُ لَمْ يُوجِفْ عَلَيْهَا بِخَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ .
৩০০৬. হুসায়ন ইবন আলী আজালী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন আবী বকর এবং মুহাম্মদ ইবন মাসলামা (রাঃ) এর কোন এক ছেলে থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেনঃ খায়বর বিজয়ের পর সেখানে কিছু লোক অবশিষ্ট ছিল, যারা দূর্গের মাঝে অন্তরীণ ছিল। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ মর্মে আবেদন করে যে, তিনি যেন তাদের জীবনের নিরাপত্তা দিয়ে ছেড়ে দেন। তিনি এ আবেদন গ্রহণ করেন। ফিদাকের অধিবাসীরা এ খবর জানতে পেরে, তারাও এ শর্তের উপর আত্মসমর্পণ করে। ফলে ফিদাকের মালামাল খাসভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাপ্য হয়। কেননা, তা বিজয়ের জন্য ঘোড়া বা উট কিছুই দৌড়াতে হয়নি (অর্থাৎ কোন যুদ্ধ হয়নি)।
৩০০৭. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ...... যুহরী থেকে বর্ণিত। সা’ঈদ ইবন মুসাইয়াব (রহঃ) তাঁর নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরের কিছু অংশ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জয় করেন। আবূ দাঊদ বলেনঃ হারিছ ইবন মিসকীন হতে বর্ণিত, যার সাক্ষী আমি। ইবন ওয়াহব তোমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেনঃ মালিক ইবন শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, খায়বরের কিছু অংশ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জয় করা হয় এবং কিছু সন্ধির মাধ্যমে। কুতায়বা নামক স্থানটির অধিকাংশ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হয় এবং কিছু সন্ধির দ্বারা। (রাবী বলেন,) আমি মালিককে জিজ্ঞাসা করিঃ কুতায়বা কি? তিনি বলেনঃ তা হলো, খায়বরের একটা জায়গা, যেখানে চল্লিশ হাজার খেজুর গাছ আছে।
হাদিস নং ৩০০৮সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم افْتَتَحَ خَيْبَرَ عَنْوَةً بَعْدَ الْقِتَالِ وَنَزَلَ مَنْ نَزَلَ مِنْ أَهْلِهَا عَلَى الْجَلاَءِ بَعْدَ الْقِتَالِ .
বর্ণনাকারী: ইবনু শিহাব আয-যুহরী (রহঃ)
৩০০৮. ইবন সারহা (রহঃ) ..... ইবন শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ-বিগ্রহের পর শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে খায়বার জয় করেন। আর সেখান থেকে যারা বহিষ্কৃত হওয়ার জন্য বের হয়েছিল, তারা যুদ্ধের পর বেরিয়ে গিয়েছিল।
হাদিস নং ৩০০৯হাসান
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ خَمَّسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْبَرَ ثُمَّ قَسَّمَ سَائِرَهَا عَلَى مَنْ شَهِدَهَا وَمَنْ غَابَ عَنْهَا مِنْ أَهْلِ الْحُدَيْبِيَةِ .
বর্ণনাকারী: ইবনু শিহাব আয-যুহরী (রহঃ)
৩০০৯. ইবন সারহা (রহঃ) .... ইবন শিহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরের মাল হতে (যা গনীমত হিসাবে পান) এক-পঞ্চমাংশ আলাদা করে নেন। এরপর বাকী সমস্ত মালামাল যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকলের মাঝে এবং হুদায়বিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ঐ সমস্ত ব্যক্তির মাঝে বণ্টন করে দেন, যারা এ যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিল।
হাদিস নং ৩০১০সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ لَوْلاَ آخِرُ الْمُسْلِمِينَ مَا فَتَحْتُ قَرْيَةً إِلاَّ قَسَمْتُهَا كَمَا قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْبَرَ .
বর্ণনাকারী: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
৩০১০. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যদি পরবর্তীকালের মুসলিমদের কথা খেয়াল না করতাম, তবে আমি যে শহর জয় করতাম, তা ঐভাবে বন্টন করে দিতাম, যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরের মালামাল বন্টন করে দিয়েছিলেন।
৩০১১. উছমান ইবন আবী শায়বা (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট, যে বছর মক্কা বিজয় হয়েছিল, আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) সুফয়ান ইবন হারবকে নিয়ে আসেন। তিনি ’মাররা-যাহরান’ নামক স্থানে ইসলাম কবুল করেন। তখন তাঁকে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আবূ সুফইয়ান এমন এক ব্যক্তি, যে নেতৃত্বের গৌরব পছন্দ করে। কাজেই আপনি যদি তাঁর জন্য এরূপ কিছু করতেন (তবে ভাল হতো)। তিনি বলেনঃ আচ্ছা, যে ব্যক্তি আবূ সুফয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ থাকবে। আর যে ব্যক্তি নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখবে, সেও নিরাপদে থাকবে।
হাদিস নং ৩০১২হাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ الْفَضْلِ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ، عَنْ بَعْضِ، أَهْلِهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ الظَّهْرَانِ قَالَ الْعَبَّاسُ قُلْتُ وَاللَّهِ لَئِنْ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ عَنْوَةً قَبْلَ أَنْ يَأْتُوهُ فَيَسْتَأْمِنُوهُ إِنَّهُ لَهَلاَكُ قُرَيْشٍ فَجَلَسْتُ عَلَى بَغْلَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لَعَلِّي أَجِدُ ذَا حَاجَةٍ يَأْتِي أَهْلَ مَكَّةَ فَيُخْبِرُهُمْ بِمَكَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيَخْرُجُوا إِلَيْهِ فَيَسْتَأْمِنُوهُ فَإِنِّي لأَسِيرُ إِذْ سَمِعْتُ كَلاَمَ أَبِي سُفْيَانَ وَبُدَيْلِ بْنِ وَرْقَاءَ فَقُلْتُ يَا أَبَا حَنْظَلَةَ فَعَرَفَ صَوْتِي فَقَالَ أَبُو الْفَضْلِ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ مَا لَكَ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي قُلْتُ هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ . قَالَ فَمَا الْحِيلَةُ قَالَ فَرَكِبَ خَلْفِي وَرَجَعَ صَاحِبُهُ فَلَمَّا أَصْبَحَ غَدَوْتُ بِهِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَسْلَمَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ يُحِبُّ هَذَا الْفَخْرَ فَاجْعَلْ لَهُ شَيْئًا . قَالَ " نَعَمْ مَنْ دَخَلَ دَارَ أَبِي سُفْيَانَ فَهُوَ آمِنٌ وَمَنْ أَغْلَقَ عَلَيْهِ دَارَهُ فَهُوَ آمِنٌ وَمَنْ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَهُوَ آمِنٌ " . قَالَ فَتَفَرَّقَ النَّاسُ إِلَى دُورِهِمْ وَإِلَى الْمَسْجِدِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৩০১২. মুহাম্মদ ইবন আমর (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (মক্কা বিজয়ের সময়) ’মাররা-যাহরান’ নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন, তখন আমার মনে হয়, আল্লাহ্র শপথ! যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের (কুরায়শদের) শাস্তি প্রস্তাবের আগে, তাঁর বাহিনীসহ জোর পূর্বক মক্কায় প্রবেশ করেন, তবে সমস্ত কুরাইশ ধ্বংস হয়ে যাবে। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খচ্চরের পিঠে সওয়ার হয়ে রওয়ানা হই। এ সময় আমি এরূপ ধারণা করি যে, সম্ভবত আমার সংগে মক্কার কোন লোকের সাক্ষাৎ হয়ে যাবে। তখন আমি তাকে বলবঃ সে যেন তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে দেয়, যাতে তারা তাঁর নিকট হাযির হয়ে নিরাপত্তার আবেদন করতে পারে।
আমি যখন এরূপ মনে করে যাচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ আমি আবূ সুফইয়ান ও বুদায়ল ইবন ওয়ারাকার কথোপকথন শুনতে পাই। তখন আমি বলিঃ হে আবূ হানযালা! (আবূ সুফয়ানের কুনিয়াত)! তখন সে আমার কণ্ঠস্বর চিনতে পেরে বলেঃ আবূল ফযল নাকি? এটি আব্বাস (রাঃ)-এর কুনিয়াত। তখন আমি বলিঃ হ্যাঁ। তখন সে বলেঃ আমার মাতাপিতা আপনার জন্য কুরবানী হোক, অবশেষে ব্যাপার কি? তখন আমি বলিঃ এই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং অন্যান্য লোকেরা। তখন সে (আবূ সুফইয়ান) জিজ্ঞাসা করেঃ এখন বাঁচার জন্য বাহানা কি? তিনি (ইবন আব্বাস) বলেনঃ তখন সে (আবূ সুফইয়ান) আমার বাহনের পশ্চাতে আরোহণ করে এবং তাঁর সাথী (বুদায়ল) ফিরে যায়।
পরদিন সকালে আমি তাঁকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হই। তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবূ সুফইয়ান এমন এক ব্যক্তি যে নেতৃত্বের গৌরব পছন্দ করে। কাজেই তাঁর জন্য গৌরবজনক কিছু করুন। তিনি বলেনঃ ঠিক আছে, যে ব্যক্তি আবূ সুফয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ। আর যে ব্যক্তি নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকবে, সে-ও নিরাপদ, আর যে মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে, সে-ও নিরাপদ।
রাবী বলেনঃ এ ঘোষনা শোনার পর লোকেরা তাদের ঘরে এবং মসজিদে আশ্রয় গ্রহণ করে।
৩০১৩. হাসান ইবন সাব্বাহ (রহঃ) .... ওয়াহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, তারা (মুসলিমরা) কি মক্কা বিজয়ের দিন গনীমতের মাল পেয়েছিল? তিনি বলেনঃ না।
হাদিস নং ৩০১৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا سَلاَّمُ بْنُ مِسْكِينٍ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا دَخَلَ مَكَّةَ سَرَّحَ الزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ وَأَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ وَخَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ عَلَى الْخَيْلِ وَقَالَ " يَا أَبَا هُرَيْرَةَ اهْتِفْ بِالأَنْصَارِ " . قَالَ اسْلُكُوا هَذَا الطَّرِيقَ فَلاَ يُشْرِفَنَّ لَكُمْ أَحَدٌ إِلاَّ أَنَمْتُمُوهُ . فَنَادَى مُنَادٍ لاَ قُرَيْشَ بَعْدَ الْيَوْمِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ دَخَلَ دَارًا فَهُوَ آمِنٌ وَمَنْ أَلْقَى السِّلاَحَ فَهُوَ آمِنٌ " . وَعَمَدَ صَنَادِيدُ قُرَيْشٍ فَدَخَلُوا الْكَعْبَةَ فَغَصَّ بِهِمْ وَطَافَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَصَلَّى خَلْفَ الْمَقَامِ ثُمَّ أَخَذَ بِجَنْبَتَىِ الْبَابِ فَخَرَجُوا فَبَايَعُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الإِسْلاَمِ .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৩০১৪. মুসলিম ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ....... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তিনি যুবায়র ইবন আওয়াম, আবূ উবায়দা ইবন জাররাহ এবং খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রাঃ)-কে অশ্বপৃষ্ঠে আরোহিত অবস্থায় ছেড়ে দেন। এরপর তিনি বলেনঃ হে আবূ হুরায়রা! আনসারদের ডেকে বলে দাও, তারা যেন এ রাস্তা ধরে অগ্রসর হয়। আর যে কেউ (এ রাস্তায়) তোমাদের সম্মুখীন হবে, তাকে হত্যা করে ফেলবে। এ সময় জনৈক ব্যক্তি এরূপ ঘোষণা দেয় যে, আজকের দিনের পর আর কোন কুরাইশ অবশিষ্ট থাকবে না।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি তার গৃহে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ, যে ব্যক্তি তার অস্ত্রশস্ত্র সমর্পণ করবে, সে নিরাপদ। এ সময় কুরাইশ নেতারা কা’বা শরীফের মধ্যে (নিরাপত্তার আাশায়) প্রবেশ করে, ফলে কা’বা শরীফ ভরে যায়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফ সম্পন্ন করেন এবং মাকামে ইবরাহীমের পেছনে সালাত আদায় করেন। এরপর তিনি কা’বা ঘরের দরজার চৌকাঠ ধরেন। তখন তারা (কুরায়শ নেতারা) বেরিয়ে আসে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ইসলামের উপর বায়’আত গ্রহণ করে।
১৬৪. তায়েফ বিজয় সম্পর্কে।
হাদিস নং ৩০১৫সহিহ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْكَرِيمِ - حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ عَقِيلِ بْنِ مُنَبِّهٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَهْبٍ، قَالَ سَأَلْتُ جَابِرًا عَنْ شَأْنِ، ثَقِيفٍ إِذْ بَايَعَتْ قَالَ اشْتَرَطَتْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ صَدَقَةَ عَلَيْهَا وَلاَ جِهَادَ وَأَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ يَقُولُ " سَيَتَصَدَّقُونَ وَيُجَاهِدُونَ إِذَا أَسْلَمُوا " .
বর্ণনাকারী: ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ)
৩০১৫. হাসান ইবন সাব্বাহ (রহঃ) ...... ওয়াহব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, যখন বনূ ছাকীফ বায়’আত করেছিল, তখন কি শর্ত করেছিল? তিনি বলেনঃ তারা এ শর্তের উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বায়’আত গ্রহণ করেছিল যে, তাদের উপর যাকাত দেওয়া এবং জিহাদে অংশ গ্রহণ করার দরকার হবে না। অতঃপর তিনি (জাবির) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শোনেনঃ অচিরেই তারা ইসলাম কবুলের পর যাকাত দেবে এবং জিহাদে অংশ গ্রহণ করবে।
হাদিস নং ৩০১৬যঈফ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سُوَيْدٍ، - يَعْنِي ابْنَ مَنْجُوفٍ - حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ، أَنَّ وَفْدَ، ثَقِيفٍ لَمَّا قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْزَلَهُمُ الْمَسْجِدَ لِيَكُونَ أَرَقَّ لِقُلُوبِهِمْ فَاشْتَرَطُوا عَلَيْهِ أَنْ لاَ يُحْشَرُوا وَلاَ يُعْشَرُوا وَلاَ يُجَبُّوا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَكُمْ أَنْ لاَ تُحْشَرُوا وَلاَ تُعْشَرُوا وَلاَ خَيْرَ فِي دِينٍ لَيْسَ فِيهِ رُكُوعٌ " .
৩০১৬. আহমদ ইবন আলী ইবন সুওয়ায়দ (রহঃ) .... আফফান ইবন আবূল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন ছাকীফ গোত্রের প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়, তখন তিনি তাদের মসজিদে অবস্থানের অনুমতি দেন, যাতে তাদের অন্তর নরম হয়। সে সময় তারা তাঁর সঙ্গে এরূপ শর্ত করে যে, তাদের জিহাদে শরীক হওয়ার জন্য বের হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং তাদের নিকট হতে উশর বা দশমাংশও গ্রহণ করা হবে না। আর না তাদের সালাতও আদায় করতে হবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এটা হতে পারে যে, এখন তোমাদের জিহাদে অংশ গ্রহণের জন্য বের করা হবে না, তোমাদের থেকে উশর নেওয়া হবে না। কিন্তু সেই দীনে কোন মঙ্গল, যাতে রুকূ নেই।
১৬৫. ইয়ামানের যমীনের হুকুম সম্পর্কে।
হাদিস নং ৩০১৭যঈফ
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ شَهْرٍ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ لِي هَمْدَانُ هَلْ أَنْتَ آتٍ هَذَا الرَّجُلَ وَمُرْتَادٌ لَنَا فَإِنْ رَضِيتَ لَنَا شَيْئًا قَبِلْنَاهُ وَإِنْ كَرِهْتَ شَيْئًا كَرِهْنَاهُ قُلْتُ نَعَمْ . فَجِئْتُ حَتَّى قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَضِيتُ أَمْرَهُ وَأَسْلَمَ قَوْمِي وَكَتَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا الْكِتَابَ إِلَى عُمَيْرٍ ذِي مَرَّانَ قَالَ وَبَعَثَ مَالِكَ بْنَ مِرَارَةَ الرَّهَاوِيَّ إِلَى الْيَمَنِ جَمِيعًا فَأَسْلَمَ عَكٌّ ذُو خَيْوَانَ . قَالَ فَقِيلَ لِعَكٍّ انْطَلِقْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخُذْ مِنْهُ الأَمَانَ عَلَى قَرْيَتِكَ وَمَالِكَ فَقَدِمَ وَكَتَبَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ لِعَكٍّ ذِي خَيْوَانَ إِنْ كَانَ صَادِقًا فِي أَرْضِهِ وَمَالِهِ وَرَقِيقِهِ فَلَهُ الأَمَانُ وَذِمَّةُ اللَّهِ وَذِمَّةُ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ " . وَكَتَبَ خَالِدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ .
৩০১৭. হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ..... আমির ইবন শাহর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (দীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য) বের হন, তখন হামদান গোত্রের লোকেরা আমাকে বলেঃ তুমি কি এ ব্যক্তির (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট গমন করে আমাদের ব্যাপারে কথাবার্তা বলবে? যদি তুমি আমাদের সস্পর্কীয় কোন ব্যাপারে রাযী হও, তবে আমরাও তা কবূল করব, আর যদি তুমি কোন কিছু অপছন্দ কর, তবে আমরাও তা অপছন্দ করব। আমি বলিঃ হ্যাঁ। অতঃপর আমি রওয়ানা হই এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হই। আমি তাঁর কথাবার্তা পসন্দ করি এবং আমার কওমের লোকেরা ইসলাম কবুল করে নেয়। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ পত্রখানা উমায়র যু-মাররানের নিকট প্রেরণ করেন।
রাবী বলেনঃ এরপর তিনি মালিক ইবন মুরারা রাহাবী (রাঃ)-কে সমস্ত ইয়ামনবাসীর নিকট (ইসলামের পয়গাম পৌছানের জন্য) প্রেরণ করেন। তখন আক্কু যূ-খায়ওয়ান নামক জনৈক ব্যক্তি ইসলাম কবুল করে। রাবী বলেনঃ তখন আক্কু-কে বলা হয়, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যাও এবং তাঁর নিকট হতে তোমার গ্রামবাসী ও তোমার মালের জন্য নিরাপত্তা চাও। তখন সে ব্যক্তি তাঁর নিকট উপস্থিত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য এ ফরমান লিখে দেনঃ
’’বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম’’
এ ফরমান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ হতে আক্কু যূ-খাওয়ানের জন্য। যদি সে (তার বক্তব্য) সত্যবাদী হয়, তবে তার জন্য নিরাপত্তা—তার যমীনে, মালে ও গোলামে এবং সে আল্লাহ্র যিম্মায় ও মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যিম্মায় থাকবে। এ ফরমানটি লিখেছিলেন খালিদ ইবন সাঈদ ইবন আস (রাঃ)।
হাদিস নং ৩০১৮যঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْقُرَشِيُّ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا فَرَجُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي عَمِّي، ثَابِتُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ، سَعِيدٍ - يَعْنِي ابْنَ أَبْيَضَ - عَنْ جَدِّهِ، أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ أَنَّهُ كَلَّمَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّدَقَةِ حِينَ وَفَدَ عَلَيْهِ فَقَالَ " يَا أَخَا سَبَإٍ لاَ بُدَّ مِنْ صَدَقَةٍ " . فَقَالَ إِنَّمَا زَرْعُنَا الْقُطْنُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَقَدْ تَبَدَّدَتْ سَبَأٌ وَلَمْ يَبْقَ مِنْهُمْ إِلاَّ قَلِيلٌ بِمَأْرِبٍ . فَصَالَحَ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى سَبْعِينَ حُلَّةِ بَزٍّ مِنْ قِيمَةِ وَفَاءِ بَزِّ الْمَعَافِرِ كُلَّ سَنَةٍ عَمَّنْ بَقِيَ مِنْ سَبَإٍ بِمَأْرِبَ فَلَمْ يَزَالُوا يُؤَدُّونَهَا حَتَّى قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّ الْعُمَّالَ انْتَقَضُوا عَلَيْهِمْ بَعْدَ قَبْضِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا صَالَحَ أَبْيَضُ بْنُ حَمَّالٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْحُلَلِ السَّبْعِينَ فَرَدَّ ذَلِكَ أَبُو بَكْرٍ عَلَى مَا وَضَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى مَاتَ أَبُو بَكْرٍ فَلَمَّا مَاتَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه انْتَقَضَ ذَلِكَ وَصَارَتْ عَلَى الصَّدَقَةِ .
বর্ণনাকারী: আবইয়ায ইবনু হাম্মাল মা’রিবী (রাঃ)
৩০১৮. মুহাম্মদ ইবন আহমদ কুরাশী ও হারুন ইবন আবদিল্লাহ (রহঃ) ...... আবইয়ায ইবন হাম্মাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি প্রতিনিধি দলের সাথে উপস্থিত থাকার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাদাকার ব্যাপারে কথাবার্তা বলেন। তখন তিনি বলেনঃ হে সাবার ভ্রাতৃবৃন্দ! সাদাকা দেওয়া তো একটা জরুরী ব্যাপার। তখন সে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের উৎপাদিত শস্য তো কেবল তূলা। আর সাবা শহর তো এখন উজাড় হয়ে গেছে এবং তাদের মাত্র কয়েক ব্যক্তি সাবা শহরে মারিব নামক স্থানে বসবাস করেছে। অবশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে প্রতি বছর মুআফির নামক স্থানের তাঁতীদের তৈরী কাপড়ের সমদামের সত্তর জোড়া দামী কাপড় রাজস্ব খাতে আদায় করার চুক্তিতে আবদ্ধ হন, যারা ’সাবা’-ওয়ালাদের থেকে ’মারিব’ নামক স্থানে অবশিষ্ট ছিল। যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইনতিকালের সময় পর্যন্ত সব সময় আদায় করতো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর সাদাকা আদায়কারী প্রতিনিধিগণ ঐ চুক্তি লংঘন করেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবয়ায ইবন হাম্মালের সাথে সত্তর জোড়া কাপড় গ্রহণের ব্যাপারে করেছিলেন। পরে আবূ বকর (রাঃ) ঐ নির্দেশ ঐরূপে রাখার হুকুম দেন, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুকুম করেছিলেন। অবশেষে আবূ বকর (রাঃ) ইনতিকাল করার পর ঐ চুক্তি বাতিল হয়ে যায় এবং নিয়মিত সাদাকা আদায় প্রথা চালু হয়।
৩০১৯. সাঈদ ইবন মানসূর (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইন্তিকালের সময়) তিনটি বিষয়ে ওসীয়ত করেন। তিনি বলেনঃ মুশরিকদের আরবভূমি হতে বের করে দেবে, তোমরা রাষ্ট্রদূতদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, যেমন আমি তাদের সাথে করে থাকি।
রাবী বলেনঃ ইবন আব্বাস (রাঃ) তৃতীয় বিষয়টি সম্পর্কে চুপ থাকেন, অথবা তিনি বলেনঃ আমি তা ভুলে গিয়েছি।
৩০২০. হাসান ইবন আলী (রহঃ) .... উমার ইবন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনেছেনঃ আমি ইয়াহূদ ও নাসারাদের অবশ্যই আরবভূমি হতে বের করে দেব এবং এখানে মুসলিম ছাড়া আর কেউ থাকবে না।
হাদিস নং ৩০২১তাহকীক অপেক্ষমাণ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ وَالأَوَّلُ أَتَمُّ .
বর্ণনাকারী: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
৩০২১. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই বলেছেন। তবে প্রথমে বর্ণিত হাদীছটি পরিপূর্ণ।
হাদিস নং ৩০২২যঈফ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ قَابُوسَ بْنِ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَكُونُ قِبْلَتَانِ فِي بَلَدٍ وَاحِدٍ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৩০২২. সুলায়মান ইবন দাঊদ আতকী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একই শহরে দুটি কিবলা হতে পারবে না।
৩০২৩. মাহমূদ ইবন খালিদ (রহঃ) ..... সা’ঈদ অর্থাৎ ইবন আবদিল আযীয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আরবভূমি ’ওয়াদী-কুররা’ হতে ইয়ামনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এবং ইরাক হতে সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত।
আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেনঃ হারিছ ইবন মিসকীনের নিকট এরূপ পড়া হয়েছিল, যখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম যে, মালিক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উমার (রাঃ) নাজরানবাসীদের বহিষ্কার করেছিলেন, তবে তিনি তাদেরকে তায়মা থেকে বহিষ্কার করে নি। কেননা, তা আরবভূমির অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আর ’ওয়াদী-কুররা’র ইয়াহূদীদের এ জন্য বহিষ্কার করা হয়নি, আমার ধারণায়, তাঁরা ’ওয়াদী-কুররাকে’ আরবভূমি হিসাবে মনে করেননি।
৩০২৫. আহমদ ইবন ইয়ূনুস (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (এমন এক সময় আসবে) যখন ইরাকবাসীরা তাদের যমীন ও তার উৎপাদিত ফসল-কাফীয ও দিরহাম হতে বঞ্চিত হবে (অর্থাৎ এ সব সেখানকার অধিবাসীরা পাবে না, বরং তোমরা এ সবের মালিক হবে)। আর শামবাসীরা তাদের যমীন ও উৎপাদিত ফসল ও অর্থ-মুদ এবং স্বর্ণমুদ্রা হতে বঞ্চিত হবে এবং মিসরবাসীরা তাদের যমীন ও উৎপাদিত দ্রব্য ও অর্থ-আরদাব ও দীনার হতে বঞ্চিত হবে (অর্থাৎ তোমরাই এ সবের মালিক ও অধিকারী হবে)। এরপর তোমরা সেখানে ফিরে যাবে, যেখানে তোমরা প্রথমে ছিলে (অর্থাৎ ধন-দওলত তোমাদের হাতছাড়া হয়ে পুনরায় কাফিরদের হাতে চলে যাবে)।
রাবী যুহায়র তিনবার এরূপ উক্তি করেন যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর গোশত এবং রক্ত এর সাক্ষী আছে।
হাদিস নং ৩০২৬সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا بِهِ أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُّمَا قَرْيَةٍ أَتَيْتُمُوهَا وَأَقَمْتُمْ فِيهَا فَسَهْمُكُمْ فِيهَا وَأَيُّمَا قَرْيَةٍ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ خُمُسَهَا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ ثُمَّ هِيَ لَكُمْ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৩০২৬. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে গ্রামে গিয়ে তোমরা বসবাস করবে এবং যেখানেই তোমরা যাবে, তার অংশ তোমাদের হয়ে যাবে। আর যে গ্রামের লোকেরা আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করবে, নিশ্চয়ই তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের। উক্ত অংশ বের করার পর বাকী অংশ তোমাদের হবে।
৩০২৭. আব্বাস ইবন আবদুল আযীম (রহঃ) .... উছমান ইবন আবী সুলায়মান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদ ইবন ওয়ালীদ (রাঃ) কে দুমার শাসক উকায়দারের নিকট প্রেরণ করেন। তখন খালিদ ও তাঁর সঙ্গিরা তাঁকে গ্রেফতার করে তাঁর নিকট নিয়ে আসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুদণ্ড মওকূফ করেন এবং জিযিয়া কর দেওয়ার শর্তে তাঁর সাথে সন্ধি করেন।
৩০২৮. আবদুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মদ নুফায়লী (রহঃ) ..... মু’আয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মু’আয (রাঃ)-কে ইয়ামনে প্রেরণ করেন, তখন তাঁকে এরূপ নির্দেশ দেন যে, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির নিকট হতে এক দীনার অথবা এক দীনার মূল্যের মু’আফিরী নামক কাপড়, যা ইয়ামনে উৎপন্ন হয় (তা জিযিয়া হিসাবে গ্রহণ করবে)।
হাদিস নং ৩০২৯তাহকীক অপেক্ষমাণ
حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ مُعَاذٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
৩০৩০. আব্বাস ইবন আবদিল আযীম (রহঃ) ...... যিয়াদ ইবন জাদীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আলী (রাঃ) বলেনঃ যদি আমি বেঁচে থাকি, তবে বনূ তাগলীবের যুদ্ধক্ষম নাসারাদের হত্যা করব এবং তাদের সন্তান-সন্ততিদের বন্দী করব। কেননা, তাদের ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাঝে যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তা আমি লিখেছিলাম। যাতে এরূপ শর্ত ছিল যে, তারা তাদের সন্তান-সন্ততিদের সাহায্য করবে না।
আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীছটি ’মুনকার’ বা অগ্রহনীয়। (তিনি আরো বলেনঃ) আমি জানতে পেরেছি যে, আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ)-ও এ হাদীছটি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করতেন। অন্যদের মতে এ হাদীছটি মাতরুক বা পরিত্যক্ত। লোকেরা এ হাদীছকে মুনকার জেনেছে-আব্দুর রহমান ইবন হানী-এর উপর। রাবী আবূ আলী বলেনঃ আবূ দাঊদ (রহঃ) যখন এ কিতাব শোনান, তখন তাতে এ হাদীছ পড়েননি।
৩০৩১. মুসাররিফ ইবন আমর ইয়ামী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজরানের খৃস্টানদের সাথে দু’হাজার জোড়া কাপড়ের বিনিময়ে এ শর্তে সন্ধি করেন যে, তারা এর অর্ধেক কাপড় সফর মাসে মুসলিমদের নিকট হস্তান্তর করবে এবং বাকী অর্ধেক রজব মাসে দেবে। তাছাড়া ত্রিশটি লৌহবর্ম, ত্রিশটি অশ্ব, ত্রিশটি উট এবং সব ধরনের ত্রিশটি যুদ্ধোপকরণ ধারস্বরূপ (মুসলিমদের) প্রদান করবে, যা দিয়ে যুদ্ধ-বিগ্রহ করা হয়। আর মুসলিমরা এ মর্মে যিম্মাদারী গ্রহণ করবে যে, এ সব অস্ত্রশস্ত্র আবার তাদের নিকট ফিরিয়ে দেবে, যদি ইয়ামনে কেউ বিদ্রোহ ঘোষণা করে। তাছাড়া এ শর্তও ছিল যে, তাদের কোন গীর্জা ধ্বংস করা হবে না এবং কোন পাদ্রীকেও বহিষ্কার করা হবে না। আর যতক্ষণ না তারা নতুন কথা বলবে এবং সুদ না খাবে, ততক্ষণ তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কোনরূপ হস্তক্ষেপ করা হবে না।
রাবী ইসমাঈল বলেনঃ পরে তারা সুদ খাওয়া শুরু করে, (ফলে চুক্তি ভংগের কারণে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়)।
১৬৯. অগ্নি-উপাসকদের থেকে জিযিয়া কর গ্রহন সম্পর্কে।
৩০৩২. আহমদ ইবন সানান ওয়াসিতী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন পারসিকদের নবী ইনতিকাল করেন, তখন ইবলিস তাদের অগ্নিপূজায় লাগিয়ে দেয় (অর্থাৎ গুমরাহ করে ফেলে)।
৩০৩৩. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আবূ শা’ছা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাযা ইবন মু’আবীয়ার লেখক ছিলাম, যিনি আহনাফ ইবন কায়েসের চাচা ছিলেন। একবার উমার (রাঃ)-এর মৃত্যুর এক বছর আগে আমাদের নিকট (তাঁর লিখিত) এ মর্মের পত্র আসে; (যাতে এরূপ নির্দেশ ছিল যে), প্রত্যেক জাদুকরকে হত্যা করবে, অগ্নি-উপাসকদের প্রত্যেক মুহরিম ব্যক্তির সাথে বিবাহিত (তার বোন, খালা ইত্যাদি) কে বিচ্ছিন্ন করে দেবে, আর তাদের গুনগুন শব্দ করা হতে বিরত থাকতে বলবে। তখন একদিনে আমরা তিনজন জাদুকরকে হত্যা করি এবং যে সব অগ্নি-উপাসকের সাথে কোন মুহরিম স্ত্রীলোকের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল, আল্লাহর কিতাব অনুসারে তাদের মাঝের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেই।
রাবী বলেনঃ একদা তিনি (আহনাফ ইবন কায়স) অনেক খাদ্য পাক করে অগ্নি-উপাসকদের ডাকেন এবং তরবারি নিজের রানের উপর রাখেন। তখন তারা খাওয়ার পর কোন রূপ গুনশুন শব্দ করিনি। এরপর তারা এক বা দু’খচ্চরের বোঝা পরিমাণ রৌপ্য প্রদান করেন। আর উমার (রাঃ) অক্ষম অগ্নি-উপাসকদের থেকে জিযিয়া কর গ্রহণ করেননি, যতক্ষণ না আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) এরূপ সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’হাজার’ নামক স্থানের অগ্নি-উপাসকদের থেকে জিযিয়া কর গ্রহণ করেছিলেন।
৩০৩৪. মুহাম্মদ ইবন মিসকীন ইয়ামামী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হাজার নামক স্থানে বসবাসকারী অগ্নি-উপাসকদের থেকে বাহরায়নের আসবাযিয়্যীন এর জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে। এরপর সে যখন বেরিয়ে আসে, তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করিঃ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল তোমাদের ব্যাপারে কী ফয়সালা দিয়েছেন? তখন সে বলেঃ খারাপ ফয়সালা দিয়েছেন। তখন আমি ধমক দিয়ে বলিঃ চুপ থাক। তখন সে বলেঃ (তিনি এরূপ ফয়সালা দিয়েছেন যে), মুসলিম হয়ে যাও, নয়ত কতল করা হবে।
রাবী বলেনঃ আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাদের নিকট হতে জিযিয়া কবূল করেন। ইবন আব্বাস (রাঃ) আরো বলেনঃ লোকেরা আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ)-এর কথার উপর আমল করতে শুরু করে, আর আমি যা আস্বাযীর নিকট হতে শুনেছিলাম, তা পরিত্যাগ করে।[1]
১৭০. অনুচ্ছেদঃ জিযিয়া কর আদায়ের ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ সম্পর্কে।
৩০৩৪. সুলায়মান ইবন দাঊদ মাহরী (রহঃ) ... উরওয়া ইবন যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা হিশাম ইবন হাকীম ইবন হাযাম, জনৈক ব্যক্তিকে দেখতে পান, যিনি হিমসের গভর্নর ছিলেন যে, তিনি কয়েকজন কিবতীকে জিযিয়া আদায়ের জন্য রৌদ্রে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। তখন তিনি (হিশাম) জিজ্ঞাসা করেনঃ ব্যাপার কি? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয় মহান আল্লাহ্ (আখিরাতে) তাদের শাস্তি দিবেন, যারা দুনিয়াতে লোকদের (অকারণে) শাস্তি দেয়।
সনদ সহিহ
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
(1) আস্বাযী-ইনি আম্মানের জনৈক বিত্তশালী ব্যক্তি ছিলেন। ইবন আব্বাস (রাঃ) আসবাযী-সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যিনি মুসলিম ছিলেন না। এজন্য তার বর্ণনা বাদ দিয়ে-আবদুর বুহমান ইবন আওফ (রাঃ)-এর বর্ণনার উপর আমল করা হয়েছে, যিনি অত্যস্ত মর্যাদাসম্পন সাহাবী ছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে স্বাক্ষ্য দেন যে, নবী (সাঃ) হিজরের অগ্নি-উপাসকদের থেকে জিযিয়া কর গ্রহণ করেন । )
১৭১. যিম্মী কাফিরের তেজারতী মাল হতে উশর বা দশ ভাগের এক ভাগ নেওয়া সম্পর্কে।
৩০৩৫. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... হারব ইবন উবায়দিল্লাহ (রহঃ) তাঁর নানা হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উশর ইয়াহূদ ও নাসারাদের নিকট হতে নিতে হবে এবং মুসলিমদের উপর উশর নেই।
হাদিস নং ৩০৩৬যঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ حَرْبِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ " خَرَاجٌ " . مَكَانَ " الْعُشُورُ " .
৩০৩৬. মুহাম্মদ ইবন আবদ মুহারিবী (রহঃ) ..... হারব ইবন উবায়দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পূর্বোক্ত হাদীছের অর্থের অনুরূপ হাদীছ বর্ণনা করেছেন, যাতে তিনি ’উশর’ শব্দের পরিবর্তে ’খারাজ’ শব্দের উল্লেখ করেছেন।
৩০৩৭. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... আতা (রহঃ) বাকর ইবন ওয়াইল সম্প্রদায়ের জনৈক ব্যক্তি হতে শ্রবণ করেছেন, যিনি তার মামার নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি আমার কওমের নিকট হতে উশর আদায় করব? জবাবে তিনি বলেনঃ উশর তো কেবল ইয়াহূদ ও নাসারাদের (তিজারতী মালের) উপর ধার্য হয়ে থাকে।
৩০৩৮. মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম বাযযার (রহঃ) ...... হারব ইবন উবায়দিল্লাহ ইবন উমাইর ছাকাফী তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বনূ তাগলীবের লোক ছিলেন। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হয়ে ইসলাম কবূল করি এবং তিনি আমাকে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান দান করেন। আর তিনি আমাকে এ-ও শিক্ষা দেন যে, আমার কওম থেকে যারা ইসলাম কবূল করবে, আমি তাদের নিকট হতে কিরূপে সাদাকা আদায় করব। এরপর আমি তাঁর নিকট ফিরে আসি এবং বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাকে যা শিখিয়েছিলেন, তা সবই আমার মনে আছে, তবে সাদাকার ব্যাপারটি আমি ভুলে গেছি। আমি কি তাদের নিকট হতে উশর (এক-দশমাংশ) গ্রহণ করব? তিনি বলেনঃ না, বরং উশর তো ইয়াহূদ ও নাসারাদের (তিজারতী মালের জন্য) ধার্যকৃত।
৩০৩৯. মুহাম্মদ ইবন ঈসা (রহঃ) ..... ইরবায ইবন সারিয়া সুলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খায়বরে অবতরণ করি, তখন তাঁর সঙ্গে তাঁর অন্যান্য সাহাবীও উপস্থিত ছিলেন। সে সময় খায়বরের নেতা ছিল একজন দুষ্টপ্রকৃতির বিদ্রোহী ব্যক্তি। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেঃ হে মুহাম্মদ! এটা কি তোমার উচিত যে, তুমি আমাদের গাধাগুলো যবাহ করবে, ফলগুলো খেয়ে ফেলবে এবং আমাদের স্ত্রীদের মারধর করবে?
এ কথা শুনে অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হন এবং বলেনঃ হে ইবন আওফ! তুমি তোমার ঘোড়ার পিঠে আরোহণ কর এবং এরূপ ঘোষণা করে দাও যে, মুসলিম ছাড়া আর কারো জন্য জান্নাত হালাল নয়। আর তোমরা সালাতের জন্য সমবেত হও।
রাবী বলেনঃ তখন সবাই সালাতের জন্য একত্রিত হয় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। এরপর তিনি দাঁড়ান এবং বলেনঃ তোমাদের কেউ কি তার খাটের উপর হেলান দিয়ে বসে এরূপ ধারণা করছে যে, আল্লাহ্ তা’আলা ঐ সমস্ত জিনিস ব্যতীত, যার উল্লেখ কুরআনে আছে, আর কিছুই হারাম করেননি? জেনে রাখ, আল্লাহ্র শপথ! আমিও হুকুম দিয়েছি যাতে কিছু করার জন্য নসীহত করেছি এবং কিছু না করার জন্যও নির্দেশ দিয়েছি। এগুলিও কুরআনের আদেশ ও নিষেধের অনুরূপ এমনকি তা থেকেও অতিরিক্ত। (জেনে রাখ,) নিশ্চয় আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের জন্য এ বৈধ করেননি যে, তোমরা আহলে কিতাবদের ঘরে তাদের অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ করবে, তাদের স্ত্রীদের মারধর করবে এবং তাদের ফলমূল ভক্ষণ করবে। (বস্তুত এ নির্দেশ ততক্ষণ কার্যকর থাকবে), যতক্ষণ তারা তোমাদের (ঐ জিযিয়া প্রদান করবে), যা আদায় করা তাদের উপর ওয়াজিব।
৩০৪০. মুসাদ্দাদ ও সাঈদ ইবন মানসূর (রহঃ) .... জুহায়না গোত্রের জনৈক ব্যক্তি হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সম্ভবত তোমরা এমন এক কওমের সাথে যুদ্ধ করবে, যাদের উপর তোমরা বিজয়ী হওয়ার পর তারা তোমাদের কিছু মাল দিয়ে নিজেদের এবং নিজেদের সন্তান-সন্ততিদের রক্ষা করবে।
রাবী সাঈদ (রহঃ) তাঁর বর্ণিত হাদীছে এরূপ উল্লেখ করেছেন যে, তারা (কিছু মালের বিনিময়ে) তোমাদের সঙ্গে সন্ধি করবে। এরপর উভয় রাবী ঐকমত্যে এরূপ বর্ণনা করেছেনঃ তোমরা তাদের নিকট হতে এর অধিক মাল গ্রহণ করবে না। কেননা, তা তোমাদের জন্য বৈধ নয়।
হাদিস নং ৩০৪১সহিহ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي أَبُو صَخْرٍ الْمَدِينِيُّ، أَنَّ صَفْوَانَ بْنَ سُلَيْمٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ عِدَّةٍ، مِنْ أَبْنَاءِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ آبَائِهِمْ دِنْيَةً عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَلاَ مَنْ ظَلَمَ مُعَاهِدًا أَوِ انْتَقَصَهُ أَوْ كَلَّفَهُ فَوْقَ طَاقَتِهِ أَوْ أَخَذَ مِنْهُ شَيْئًا بِغَيْرِ طِيبِ نَفْسٍ فَأَنَا حَجِيجُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .
৩০৪১. সুলায়মান ইবন দাউদ মাহরী (রহঃ) .... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের কিছু ছেলে তাদের পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, যারা পরস্পর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তোমাদের যে কেউ কোন যিম্মীর উপর অত্যাচার করবে, বা তার হক নষ্ট করবে, কিংবা তার সামর্থের বাইরে তাকে কষ্ট দিবে, অথবা ইচ্ছার বিরুদ্ধে (জোরপূর্বক) তার কোন জিনিস নিবে, আমি কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করব।
১৭২. যদি কোন যিম্মী বছরের মাঝখানে ইসলাম কবূল করে, তবে তাকে কি অবশিষ্ট সময়কালের জন্য জিযিয়া কর দিতে হবে ?
হাদিস নং ৩০৪২যঈফ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ قَابُوسَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ جِزْيَةٌ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৩০৪২. আবদুল্লাহ ইবন জাররাহ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের উপর কোন জিযিয়া কর নেই।
৩০৪৩. মুহাম্মদ ইবন কাছীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কেউ সুফয়ানের নিকট এ হাদীছের ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন যে, যখন কোন যিম্মী মুসলিম হয়ে যায়, তখন তার উপর আর কোন জিযিয়া কর নেই।
১৭৩. ইমামের জন্য মুশরিকদের হাদিয়া গ্রহণ করা সম্পর্কে।
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، بِمَعْنَى إِسْنَادِ أَبِي تَوْبَةَ وَحَدِيثِهِ قَالَ عِنْدَ قَوْلِهِ " مَا يَقْضِي عَنِّي " . فَسَكَتَ عَنِّي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاغْتَمَزْتُهَا .
বর্ণনাকারী: মু‘আবিয়াহ ইবন আবূ সুফিয়ান (রাঃ)
৩০৪৫. মাহমূদ ইবন খালিদ (রহঃ) .... মু’আবিয়া (রাঃ) আবূ তাওবার সনদে যে হাদীছ বর্ণনা করেছেন, তাতেও এ ঘটনা বিধৃত হয়েছে। তিনি তাঁর বর্ণিত হাদীছে এরূপ ব্যক্ত করেছেনঃ যখন আমি তাঁকে বলি, আমার নিকট এবং আপনার নিকট এত পরিমাণ মাল নেই, যা দিয়ে দেনা পরিশোধ করা যায়, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ করে থাকেন। ব্যাপারটি আমার নিকট খুবই অসহনীয় ছিল (কেননা, আমার মনে হচ্ছিল, তিনি আমার কথায় কর্ণপাত করেননি)।
হাদিস নং ৩০৪৬হাসান
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ، قَالَ أَهْدَيْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَاقَةً فَقَالَ " أَسْلَمْتَ " . فَقُلْتُ لاَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي نُهِيتُ عَنْ زَبْدِ الْمُشْرِكِينَ " .
বর্ণনাকারী: ইয়ায ইবনু হিমার আল মুজাশি‘ঈ (রাঃ)
৩০৪৬. হারূন ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) .... ইয়ায ইবন হিমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাদিয়া হিসাবে একটি উট পেশ করি। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি ইসলাম কবূল করেছ? তখন আমি বলিঃ না। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুশরিকদের নিকট হতে হাদিয়া গ্রহণ করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে।
১৭৪. যমীন খন্ড করে বন্দোবস্ত দেওয়া।
হাদিস নং ৩০৪৭সহিহ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَقْطَعَهُ أَرْضًا بِحَضْرَمَوْتَ .
বর্ণনাকারী: আলকামা ইবনে ওয়াইল আল-হাদরামী (রহঃ)
৩০৪৭. আমর ইবন মারযূক (রহঃ) .... আল্কামা ইবন ওয়াইল (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হাযরামাওতে একখন্ড যমীন বন্দোবস্ত দিয়েছিলেন।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ فِطْرٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، قَالَ خَطَّ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَارًا بِالْمَدِينَةِ بِقَوْسٍ وَقَالَ " أَزِيدُكَ أَزِيدُكَ " .
বর্ণনাকারী: আমর ইবন হুরায়স (রাঃ)
৩০৪৯. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আমর ইবন হুরাইছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মদীনাতে ধনুকের সাহায্যে রেখা টেনে একখন্ড যমীন প্রদান করেন এবং তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে আরো দেব, আমি তোমাকে আরো দেব।
৩০৫০. আবদুল্লাহ ইবন মাসলামা (রহঃ) .... রবী’আ ইবন আবী আবদির রহমান (রাঃ) কয়েক ব্যক্তি হতে শ্রবণ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফার’আর পার্শ্ববর্তী স্থানে অবস্থিত কিবলিয়া খনিটি বিলাল ইবন হারিছ মুযানীকে বন্দোবস্ত প্রদান করেন। ঐ খনি হতে আজও পর্যন্ত যাকাত ছাড়া আর কিছুই নেওয়া হয় না।
৩০৫১. আব্বাস ইবন মুহাম্মদ ইবন হাতিম (রহঃ) .... কাছীর ইবন আবদিল্লাহ ইবন আমর ইবন আওফ মুযানী (রহঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল ইবন হারিছ মুযানীকে কিবলিয়ার উঁচু এবং নীচু খনিটি এবং তার পার্শ্ববর্তী চাষাবাদযোগ্য যমীন বন্দোবস্ত দেন। উপরন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এরূপ ফরমান লিখে দেনঃ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। এটি ঐ ফরমান, যা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বিলাল ইবন হারিছ মুযানীকে প্রদান করেছেন যে, কিবলিয়ার উঁচু এবং নীচু খনি, এর পার্শ্ববর্তী চাষাবাদযোগ্য যমীন তাঁকে বন্দোবস্ত দেওয়া হলো। এতে আর কোন মুসলিমের হক থাকলো না।
রাবী আবূ উওয়ায়স বলেনঃ আমার নিকট বনূ দায়লের আযাদকৃত গোলাম ছাওর ইবন যায়দ-ইকরামা এবং তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং ৩০৫২হাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ النَّضْرِ، قَالَ سَمِعْتُ الْحُنَيْنِيَّ، قَالَ قَرَأْتُهُ غَيْرَ مَرَّةٍ يَعْنِي كِتَابَ قَطِيعَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدَّثَنَا غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَنَا أَبُو أُوَيْسٍ حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَقْطَعَ بِلاَلَ بْنَ الْحَارِثِ الْمُزَنِيَّ مَعَادِنَ الْقَبَلِيَّةِ جَلْسِيَّهَا وَغَوْرِيَّهَا - قَالَ ابْنُ النَّضْرِ وَجَرْسَهَا وَذَاتَ النُّصُبِ ثُمَّ اتَّفَقَا - وَحَيْثُ يَصْلُحُ الزَّرْعُ مِنْ قُدْسٍ . وَلَمْ يُعْطِ بِلاَلَ بْنَ الْحَارِثِ حَقَّ مُسْلِمٍ وَكَتَبَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " هَذَا مَا أَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِلاَلَ بْنَ الْحَارِثِ الْمُزَنِيَّ أَعْطَاهُ مَعَادِنَ الْقَبَلِيَّةِ جَلْسَهَا وَغَوْرَهَا وَحَيْثُ يَصْلُحُ الزَّرْعُ مِنْ قُدْسٍ وَلَمْ يُعْطِهِ حَقَّ مُسْلِمٍ " . قَالَ أَبُو أُوَيْسٍ حَدَّثَنِي ثَوْرُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ زَادَ ابْنُ النَّضْرِ وَكَتَبَ أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ .
৩০৫২. মুহাম্মদ ইবন নযর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হুনায়নীকে এরূপ বলতে শুনেছি যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বন্দোবস্তু সস্পর্কিত ফরমানটি কয়েকরার পাঠ করেছি।
আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট কয়েক ব্যক্তি হুসায়ন ইবন মুহাম্মদ (রাঃ) এর হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আবূ ওয়ায়স আমাকে বলেছেন যে, আমার নিকট কাছীর ইবন আবদিল্লাহ (রাঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল ইবন হারিছ মুযানীকে কিবলিয়ার উঁচু এবং নীচু খনিটি বন্দোবস্ত দেন।
ইবন নযর বলেনঃ জুরস এবং যাত-ই-নুসুবের যমীন এবং পবিত্র পাহাড়ের চাষাবাদযোগ্য যমীনও তাঁকে প্রদান করেন। বিলাল ইবন হারিছ কোন মুসলিমকে (এর থেকে) কোন হক প্রদান করতেন না। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এরূপ ফরমানও লিখে দেনঃ এটি ঐ ফরমান, যা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বিলাল ইবন হারিছ মুযানীকে প্রদান করছেন যে, কিবলিয়ার উঁচু এবং নীচু খনি, তার পার্শ্ববর্তী চাষাবাদযোগ্য যমীন তাঁকে বন্দোবস্ত দেওয়া হলো। এতে আর কোন মুসলিমের হক রইলো না।
আবূ উওয়ায়স বলেনঃ আমার নিকট ছাওর ইবন যায়দ-ইকরামা হতে, তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
ইবন নযর এটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, উক্ত ফরমানটি উবায়্যা ইবন কা’ব (রাঃ) লিখেছিলেন।
৩০৫৩. কুতায়বা ইবন সা’ঈদ সাকাফী এবং মুহাম্মদ ইবন মুতাওয়াককিল আসকালানী (রহঃ) ..... আবইয়ায ইবন হাম্মাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হন এবং লবণ খনির কিছু জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য দরখাস্ত করেন।
ইবন মুতাওয়াককিল বলেনঃ সেটি মা’আরিব নামক স্থানে অবস্থিত ছিল। তখন তিনি তা তাঁকে প্রদান করেন। যখন তিনি (ইবন হাম্মাল) ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন মজলিসের জনৈক ব্যক্তি বলেনঃ আপনি কি অবগত আছেন, কোন যমীন তাকে বন্দোবস্ত দিলেন? আপনি তো তাঁকে এমন যমীন দিলেন, যাতে সব সময় পানি থাকে। রাবী বলেনঃ তখন তিনি তাঁর নিকট হতে সে যমীন ফিরিয়ে নেন।
রাবী বলেনঃ আর তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, পীলু ক্ষেতে বেড়া দিতে হবে কি না? তিনি বলেনঃ বেড়া দিতে হবে, যাতে সেখানে পদচারণা না হতে পারে।
ইবন মুতাওয়াককিল বলেনঃ উটের পদচারণা (না হয়)।
৩০৫৪. হারুন ইবন আবদিল্লাহ (রহঃ) ..... মুহাম্মদ ইবন হাসান মাখযূমী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন): উটের পদচারণা হবে না, এর অর্থ হলো, উট তো গাছের উপরিভাগ খায়, কাজেই তা রক্ষার জন্য তার উপরে বেড়া দিতে হবে।
হাদিস নং ৩০৫৫হাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَنَا فَرَجُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي عَمِّي، ثَابِتُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ حِمَى الأَرَاكِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ حِمَى فِي الأَرَاكِ " . فَقَالَ أَرَاكَةً فِي حِظَارِي . فَقَالَ النَّبِيُّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ " لاَ حِمَى فِي الأَرَاكِ " . قَالَ فَرَجٌ يَعْنِي بِحِظَارِي الأَرْضَ الَّتِي فِيهَا الزَّرْعُ الْمُحَاطُ عَلَيْهَا .
বর্ণনাকারী: আবইয়ায ইবনু হাম্মাল মা’রিবী (রাঃ)
৩০৫৫. মুহাম্মদ ইবন আহমদ কুরাশী (রহঃ) .... আবয়ায ইবন হাম্মাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট চারণ ভূমির জন্য পীলু বৃক্ষ সংরক্ষণের আবেদন জানান। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পীলু বৃক্ষে বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়। তখন তিনি (ইবন হাম্মাল) বলেনঃ আমার ক্ষেতের পীলু গাছ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পীলু বৃক্ষ বেড়া দিয়ে সংরক্ষণ করা যায় না। রাবী ফারাজ বলেনঃ এ পীলু বৃক্ষ দ্বারা ঐ যমীনের গাছের কথা বলা হয়েছে, যা তার ফসলের ক্ষেত্রের চারদিকের সীমানায় লাগান ছিল।
হাদিস নং ৩০৫৬যঈফ
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَبُو حَفْصٍ، حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، قَالَ عُمَرُ - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ - قَالَ حَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، صَخْرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزَا ثَقِيفًا فَلَمَّا أَنْ سَمِعَ ذَلِكَ صَخْرٌ رَكِبَ فِي خَيْلٍ يُمِدُّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدَ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدِ انْصَرَفَ وَلَمْ يَفْتَحْ فَجَعَلَ صَخْرٌ يَوْمَئِذٍ عَهْدَ اللَّهِ وَذِمَّتَهُ أَنْ لاَ يُفَارِقَ هَذَا الْقَصْرَ حَتَّى يَنْزِلُوا عَلَى حُكْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يُفَارِقْهُمْ حَتَّى نَزَلُوا عَلَى حُكْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَتَبَ إِلَيْهِ صَخْرٌ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ ثَقِيفًا قَدْ نَزَلَتْ عَلَى حُكْمِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَنَا مُقْبِلٌ إِلَيْهِمْ وَهُمْ فِي خَيْلٍ . فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالصَّلاَةِ جَامِعَةً فَدَعَا لأَحْمَسَ عَشْرَ دَعَوَاتٍ " اللَّهُمَّ بَارِكْ لأَحْمَسَ فِي خَيْلِهَا وَرِجَالِهَا " . وَأَتَاهُ الْقَوْمُ فَتَكَلَّمَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّ صَخْرًا أَخَذَ عَمَّتِي وَدَخَلَتْ فِيمَا دَخَلَ فِيهِ الْمُسْلِمُونَ . فَدَعَاهُ فَقَالَ " يَا صَخْرُ إِنَّ الْقَوْمَ إِذَا أَسْلَمُوا أَحْرَزُوا دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ فَادْفَعْ إِلَى الْمُغِيرَةِ عَمَّتَهُ " . فَدَفَعَهَا إِلَيْهِ وَسَأَلَ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَاءً لِبَنِي سُلَيْمٍ قَدْ هَرَبُوا عَنِ الإِسْلاَمِ وَتَرَكُوا ذَلِكَ الْمَاءَ . فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَنْزِلْنِيهِ أَنَا وَقَوْمِي . قَالَ " نَعَمْ " . فَأَنْزَلَهُ وَأَسْلَمَ - يَعْنِي السُّلَمِيِّينَ - فَأَتَوْا صَخْرًا فَسَأَلُوهُ أَنْ يَدْفَعَ إِلَيْهِمُ الْمَاءَ فَأَبَى فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَسْلَمْنَا وَأَتَيْنَا صَخْرًا لِيَدْفَعَ إِلَيْنَا مَاءَنَا فَأَبَى عَلَيْنَا . فَأَتَاهُ فَقَالَ " يَا صَخْرُ إِنَّ الْقَوْمَ إِذَا أَسْلَمُوا أَحْرَزُوا أَمْوَالَهُمْ وَدِمَاءَهُمْ فَادْفَعْ إِلَى الْقَوْمِ مَاءَهُمْ " . قَالَ نَعَمْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ . فَرَأَيْتُ وَجْهَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَغَيَّرُ عِنْدَ ذَلِكَ حُمْرَةً حَيَاءً مِنْ أَخْذِهِ الْجَارِيَةَ وَأَخْذِهِ الْمَاءَ .
বর্ণনাকারী: সাখর ইবনু আইলাহ (রাঃ)
৩০৫৬. উমর ইবন খাত্তাব আবূ হাফস (রহঃ) .... সাখার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাকীফের উপর জিহাদ পরিচালনা করেন। সাখার (রাঃ) এ খবর শুনে কিছু সৈন্য-সামন্ত নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাযার্থে সেখানে পৌছান। তিনি সেখানে পৌছে দেখতে পান যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাকীফ গোত্রের অবস্থান দুর্গ জয় না করে ফিরে আসছেন। এ সময় সাখার (রাঃ) মহান আল্লাহ্র নিকট এরূপ ওয়াদা করেন এবং তার যিম্মাদারী নেন যে, যতক্ষণ না এ দুর্গের লোকজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য স্বীকার করে, ততক্ষণ আমি এ দুর্গ পরিত্যাগ করব না (অর্থাৎ অবরোধ করে রাখব)।
বস্তুত যতক্ষণ না ঐ দুর্গের লোকজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য স্বীকার করলো, ততক্ষণ সাখার (রাঃ) সেখান হতে সরলেন না। অবশেষে সে দুর্গ বিজয়ের পর তিনি তাঁর নিকট এরূপ পত্র লিখেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! ছাকীফ গোত্রের লোকেরা আপনার নির্দেশ মত দুর্গ হতে অবতরণ করেছে। এখন আমি তাদের নিকট যাচ্ছি, তাদের কাছে অনেক ঘোড়া আছে। (এ খবর পাওয়ার পর) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলকে জামাআতে সালাত আদায়ের জন্য নির্দেশ দেন এবং (সালাত শেষে) দশ বার আহমাস গোত্রের জন্য এরূপ দু’আ করেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আপনি আহমাসের ঘোড়ায় এবং লোকে বরকত দান করুন।
এরপর সাখার (রাঃ) এবং তাঁর সাথীরা তাঁর নিকট আসেন। তখন মুগীরা ইবন শো’বা (রাঃ) বলেনঃ ইয়া নবীয়াল্লাহ! সাখার আমার ফুফীকে বন্দী করেছেন অথচ সে মুসলিম হয়েছে। তখন তিনি তাঁকে ডেকে বলেনঃ হে সাখার! যখন কোন কওম মুসলিম হয়, তখন তাদের জান-মালের হিফাযত করবে। তুমি মুগীরার ফুফীকে তাঁর নিকট ফিরিয়ে দাও। তখন তিনি তাকে (ফুফীকে) তাঁর (মুগীরার) হাতে প্রত্যর্পণ করেন। এরপর তিনি (সাখার) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এরূপ আবেদন করেন যে, বনূ সালীমের একটি পুকুর আছে। তারা ইসলাম পরিত্যাগ করায় তা ছেড়ে চলে গেছে। অতএব, হে আল্লাহ্র নবী! আপনি আমাকে এবং আমার কওমকে ঐ পুকুরের নিকট বসবাসের অনুমতি দিন। তখন তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, ঠিক আছে। অতঃপর তিনি সেখানে বসবাস করতে থাকেন।
অবশেষে বনূ-সালীম ইসলাম গ্রহণ করার পর সাখার (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলো এবং তাঁর কাছে তাদের পুকুরটি ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করল। কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করেন। এরপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয় এবং বলেঃ হে আল্লাহ্র নবী! আমরা ইসলাম কবূলের পর সাখারের কাছে গিয়েছিলাম, যাতে তিনি আমাদের পুকুরটি আমাদের ফিরিয়ে দেন। কিন্তু তিনি তা দিতে অস্বীকার করছেন। তখন তিনি তাঁকে (সাখার) ডাকান এবং বলেনঃ হে সাখার! যখন কোন কওম ইসলাম গ্রহণ করে, তখন তাদের জান-মাল নিরাপদ হয়ে যায়। সুতরাং ঐ কওমের পুকুরটি তাদের ফিরিয়ে দাও। তখন তিনি বলেনঃ হ্যাঁ দেব হে আল্লাহর নবী! সাখার বলেনঃ তখন আমি দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারার রং লাজ-বিনম্রতার কারণে সাখার (রাঃ) হতে দাসী এবং পুকুর ফিরিয়ে দেওয়ায় পরিবর্তিত হয়ে লালবর্ণ ধারণ করেছে।
৩০৫৭. সুলায়মান ইবন দাউদ মাহরী (রহঃ) ..... সাবুরা ইবন আবদিল আযীয ইবন রবী জুহানী (রহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (জুহানিয়াদের এলাকায়) মসজিদের স্থানে একটি গাছের ঝাড়ের নীচে তিন দিন অবস্থান করেন। এরপর সেখান থেকে তিনি তাবুক অভিমুখে যাত্রা করেন। এ সময় জুহায়নারা তাঁর সঙ্গে রাহবা নামক স্থানে সাক্ষাৎ করে। তখন তাদের জিজ্ঞাসা করেনঃ এখানে কারা বসবাস করে? তারা জওয়াবে বলেঃ জুহায়না সম্প্রদায়ের বনূ রিফা’আ গোত্রের লোকেরা। তখন তিনি বলেনঃ আমি এ যমীন বনূ বিফাআ গোত্রের লোকদের প্রদান করছি। তারা ঐ যমীন হতে স্ব স্ব অংশ বন্টন করে নেয়, যার কিছু অংশ তারা পরবর্তীকালে বিক্রি করে দেয় এবং কিছু লোক তা চাষাবাদ করতে থাকে।
রাবী ইবন ওয়াহব বলেনঃ আমি পরে আবদুল আযীযকে এ হাদীছ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তখন তিনি এর কিছু অংশ আমার নিকট বর্ণনা করেন। তিনি পূর্ণ হাদীছটি আমার কাছে বর্ণনা করেননি।
হাদিস নং ৩০৫৮হাসান
حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ آدَمَ - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْطَعَ الزُّبَيْرَ نَخْلاً .
বর্ণনাকারী: আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ)
৩০৫৮. হুসায়ন ইবন আলী (রহঃ) .... আসমা বিনত আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়র (রাঃ)-কে একটি খেজুর বাগান বন্দোবস্ত দেন।
৩০৫৯. হাফ্স ইবন উমর ও মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ ইবন হাসসান আনবারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার নিকট আমার দাদী এবং নানী, যাঁদের যথাক্রমে নাম হলোঃ সাফিয়া এবং দুহায়বা, যারা উলায়বার কন্যা ছিলেন, তাঁরা উভয়ে বর্ণনা করেছেন যে, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হই। তিনি বলেনঃ আমাদের সাথী হারিছ ইবন হাসসান-যিনি বাকর ইবন ওয়াইল গোত্রের তরফ হতে প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আসেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসেন। এরপর তিনি তাঁর নিকট নিজে এবং তার কওমের পক্ষ হতে বায়’আত গ্রহণ করেন।
অতঃপর তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের এবং বনূ তামীম গোত্রের মধ্যকার সীমান্ত ’দুহনা’ নামক স্থানকে চিহ্নিত করে দিন, যা অতিক্রম করে মুসাফির এবং সামনে অগ্রগামী ব্যক্তি ব্যতীত, ওদের কেউ-ই যেন আমাদের নিকটে না আসতে পারে। তখন তিনি বলেনঃ হে বৎস! তার জন্য ’দুহনাকে’ লিখে দাও।
রাবী বলেনঃ যখন আমি দেখতে পাই যে, তিনি ’দুহনা’ নামক স্থানটি তাকে দিয়ে দিলেন, তখন আমার খুব দুঃখ হয়। কেননা দুহনা ছিল আমার জন্মভূমি। তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! ঐ ব্যক্তি ইনসাফের ভিওিতে আপনার নিকট সীমানা চিহ্নিত করার জন্য আবেদন করেনি। কেননা দুহনা হলো উট বাঁধার স্থান ও বকরী চরাবার স্থান এবং এর পেছনেই বনূ তামীমের স্ত্রীলোক ও বাচ্চারা বসবাস করে।
এতদশ্রবণে তিনি বলেনঃ হে বৎস! একটু অপেক্ষা কর। এ দুর্বল বৃদ্ধা ঠিকই বলেছে। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। তারা একে অপরের পানি ও গাছপালা হতে উপকার নিতে পারে। তাদের উচিত, বিপদের সময় একে অন্যের সাহায্য করা।
৩০৬০. মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... আসমার ইবন মুয়াররিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট বায়’আত গ্রহণ করি। তখন তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি এমন কোন পানির (কূপ বা ঝরনা) নিকট পৌছায়, যেখানে তার আগে আর কোন মুসলিম পৌছেনি, সে ব্যক্তি তার মালিক হবে।
রাবী বলেনঃ (এ কথা শুনে ) তখন লোকেরা একে অপরকে অতিক্রম করে, দ্রুতগতিতে পানির সন্ধানে বেরিয়ে যায়।
৩০৬১. আহমদ ইবন হাম্বাল (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইর (রাঃ)-কে এত পরিমাণ জায়গীর দেন, যতদূর তাঁর ঘোড়া দৌড়ে যেতে পারে। এরপর তিনি তাঁর ঘোড়া দৌড়ান এবং দৌড়ের পর থেমে তাঁর হাতের চাবুক ফেলে দেন। তখন তিনি বলেনঃ যতদূর তাঁর চাবুক গিয়েছে, ততদূর তাঁকে দিয়ে দাও।
১৭৫. অনাবাদী যমীন আবাদ করা।
হাদিস নং ৩০৬২সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيْتَةً فَهِيَ لَهُ وَلَيْسَ لِعِرْقٍ ظَالِمٍ حَقٌّ " .
বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ)
৩০৬২. মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ..... সাঈদ ইবন যায়দ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন অনাবাদী যমীন আবাদ করবে, সে তার মালিক হবে। আর যদি কোন যালিম অন্যের জমিতে গাছ লাগায়, তবে সে তার মালিক হবে না।
৩০৬৩. হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন অনাবাদী যমীন আবাদ করবে, সে তার মালিক হবে। এরপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ হাদীছ বর্ণনা করে বলেনঃ আমার নিকট ঐ ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, যিনি আমার কাছে এ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন যে, দু’ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একটি মামলা পেশ করে। (যা ছিল) এদের এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির যমীনে একটি খেজুর গাছ লাগায়। তখন তিনি এরূপ ফয়সালা দেনঃ জমির মালিক তার যমীন পাবে এবং গাছের মালিক তার গাছ সেখান থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে।
রাবী বলেনঃ এরপর আমি দেখি যে, কুড়াল দিয়ে সে গাছটি কাটা হচ্ছে। কেননা তা বেশ বড় ছিল। পরে তা সেখান হতে সরিয়ে নেওয়া হয়।
৩০৬৪. আহমদ ইবন সাঈদ দারিমী (রহঃ) .... ইবন ইসহাক (রহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীছের সনদে ও অর্থে হাদীছ বর্ণনা করা হয়েছে। অবশ্য তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের থেকে জনৈক সাহাবী বর্ণনা করেছেন।
রাবী বলেনঃ আমার ধারণা, তিনি হলেন আবূ সাঈদ খুদ্রী। তিনি বলেনঃ আমি তাকে কুড়াল দিয়ে গাছের গোড়ায় আঘাত করতে দেখেছি।
হাদিস নং ৩০৬৫সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الآمُلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ أَشْهَدُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى أَنَّ الأَرْضَ أَرْضُ اللَّهِ وَالْعِبَادَ عِبَادُ اللَّهِ وَمَنْ أَحْيَا مَوَاتًا فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ جَاءَنَا بِهَذَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الَّذِينَ جَاءُوا بِالصَّلَوَاتِ عَنْهُ .
বর্ণনাকারী: উরওয়াহ (রহঃ)
৩০৬৫. আহমদ ইবন আবদা আমিলী (রহঃ) .... উরওয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এরূপ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সালা দিয়েছেনঃ সমস্ত যমীনই আল্লাহ্র এবং বান্দারা সবাই আল্লাহ্র বান্দা। কাজেই, যে ব্যক্তি কোন অনাবাদী যমীন আবাদ করবে, সে ব্যক্তি তার মালিক হবে।
রাবী বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ হাদীছটি আমার নিকট তারা বর্ণনা করেছেন, যারা তাঁর নিকট হতে সালাতের হাদীছ বর্ণনা করেছেন (অর্থাৎ সাহাবাগণ)।
হাদিস নং ৩০৬৬যঈফ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَحَاطَ حَائِطًا عَلَى أَرْضٍ فَهِيَ لَهُ " .
বর্ণনাকারী: সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ)
৩০৬৬. আহমদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... সামুরা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন অনাবাদী জমির সীমানা চিহ্নিত করবে বা দেওয়াল দিবে, সে তার মালিক হবে।
৩০৬৭. আহমদ ইবন আমর ইবন সারহা (রহঃ) ..... মালিক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হিশাম বলেছেনঃ ইরকুয-যালিম বা যবরদখলকারী যালিম ঐ ব্যক্তি, যে অন্যের যমীনে গাছ লাগিয়ে তার মালিক হতে চায়।
রাবী বলেনঃ ইরকুয-যালিম হলোঃ অন্যের যমীন হতে কিছু যবরদখল করা, তাতে গর্ত করা এবং না-হক বৃক্ষ রোপণ করা।
হাদিস নং ৩০৬৮সহিহ
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ بَكَّارٍ، حَدَّثَنَا وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنِ الْعَبَّاسِ السَّاعِدِيِّ، - يَعْنِي ابْنَ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ - عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَبُوكَ فَلَمَّا أَتَى وَادِيَ الْقُرَى إِذَا امْرَأَةٌ فِي حَدِيقَةٍ لَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابِهِ " اخْرُصُوا " . فَخَرَصَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشَرَةَ أَوْسُقٍ فَقَالَ لِلْمَرْأَةِ " أَحْصِي مَا يَخْرُجُ مِنْهَا " . فَأَتَيْنَا تَبُوكَ فَأَهْدَى مَلِكُ أَيْلَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَغْلَةً بَيْضَاءَ وَكَسَاهُ بُرْدَةً وَكَتَبَ لَهُ - يَعْنِي - بِبَحْرِهِ . قَالَ فَلَمَّا أَتَيْنَا وَادِيَ الْقُرَى قَالَ لِلْمَرْأَةِ " كَمْ كَانَ فِي حَدِيقَتِكِ " . قَالَتْ عَشَرَةَ أَوْسُقٍ خَرْصَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي مُتَعَجِّلٌ إِلَى الْمَدِينَةِ فَمَنْ أَرَادَ مِنْكُمْ أَنْ يَتَعَجَّلَ مَعِي فَلْيَتَعَجَّلْ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুমায়দ সা‘ঈদ (রাঃ)
৩০৬৮. সাহল ইবন বাককার (রহঃ) ...... আবূ হুমায়দ সা’ঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে তাবুকের যুদ্ধে গমন করেছিলাম। যখন তিনি ’ওয়াদিয়ে কুরা’ নামক স্থানে পৌছান, তখন তিনি একজন মহিলাকে দেখতে পান, যে তার বাগানে বসা ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বলেনঃ এ বাগানে কত ফল আছে, তা তোমরা অনুমান কর। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে ’দশ-ওয়াসাক’ পরিমাণ ফল আছে বলে অনুমান করেন।
পরে তিনি সে মহিলাকে বলেনঃ এ বাগানে কত ফল উৎপন্ন হয়, তুমি তার হিসাব রাখবে। অবশেষে আমরা তাবূক পৌছাই। তখন ’ঈলা’ নামক স্থানের নেতা একটা সাদা বর্ণের খচ্চর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাদিয়া হিসাবে প্রদান করেন। আর তিনি তাঁকে একটি চাদর দেন এবং তাকে বাহর এলাকার যমীনের লিখিত বন্দোবস্ত প্রদান করেন।
রাবী বলেনঃ ফেরার পথে আমরা ওয়াদিয়ে কুরা’তে যখন পৌছাই, তখন তিনি তাকে (সে মহিলাকে) জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার বাগানে কি পরিমাণ ফল উংপন্ন হয়েছে? সে (মহিলা) বলেঃ ’দশ ওয়াসাক’ পরিমাণ, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগে অনুমাণ করেছিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি দ্রুত মদীনায় ফিরে যেতে চাই। কাজেই তোমাদের যে আমার সঙ্গে দ্রুত চলতে চায়, সে যেন দ্রুত করে।
হাদিস নং ৩০৬৯সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ كُلْثُومٍ، عَنْ زَيْنَبَ، أَنَّهَا كَانَتْ تَفْلِي رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ امْرَأَةُ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ وَنِسَاءٌ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ وَهُنَّ يَشْتَكِينَ مَنَازِلَهُنَّ أَنَّهَا تَضِيقُ عَلَيْهِنَّ وَيُخْرَجْنَ مِنْهَا فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تُوَرَّثَ دُورَ الْمُهَاجِرِينَ النِّسَاءُ فَمَاتَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ فَوَرِثَتْهُ امْرَأَتُهُ دَارًا بِالْمَدِينَةِ .
বর্ণনাকারী: যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ)
৩০৬৯. আবদুল ওয়াহিদ ইবন গায়াছ (রহঃ) ..... যয়নব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুলে উকুন তালাশ করছিলেন। এ সময় তাঁর নিকট উছমান (রাঃ) এর স্ত্রী ও কয়েকজন মুহাজির মহিলা বসা ছিলেন, যারা তাদের ঘর-বাড়ীর ব্যাপারে অভিযোগ করছিল যে, সেখান বসবাস করতে আমাদের কষ্ট হয় এবং (স্বামীর মৃত্যুর পর) তাদের সেখান হতে বের করে দেওয়া হয়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ নির্দেশ দেনঃ মুহাজিরদের স্ত্রীরা তাদের ঘরের উত্তরাধিকারী হবে। ফলে, আবদুল্লাহ ইবন মাস’ঊদ (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী তাঁর ঐ বাড়ীর উত্তরাধিকারী হন, যা মদীনাতে ছিল।
৩০৭০. হারুন ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ..... মু’আয (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজের উপর জিযিয়া কর ধার্য করল, সে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরীকা হতে মুক্ত হয়ে দূরে সরে গেল।
৩০৭১. হায়ওয়া ইবন শুরায়হ হাযরামী (রহঃ) ..... আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জিযিয়া কর দেওয়ার শর্তে কোন যমীন ক্রয় করলো, সে যেন নিজের হিজরতের শর্ত ভংগ করলো। আর যে ব্যক্তি কাফিরের অমর্যাদা তার গর্দান হতে টেনে নিজের গর্দানে পরাল, সে যেন ইসলাম হতে তার পিঠ ফিরিয়ে নিল।
রাবী বলেনঃ খালিদ ইবন মা’দান (রহঃ) আমার নিকট হতে এ হাদীছ শ্রবণ করে আমাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ শুবায়ব কি তোমার নিকট উক্ত হাদীছ বর্ণনা করেছেন? তখন আমি বলিঃ হ্যাঁ। এরপর তিনি বলেনঃ তুমি যখন তাঁর কাছে যাবে, তখন তাঁকে বলবে, তিনি যেন উক্ত হাদীছ লিখে আমার কাছে পাঠিয়ে দেন।
রাবী বলেনঃ অতঃপর শুবায়ব উক্ত হাদীছ খালিদের জন্য লিখে দেন। পরে আমি ফিরে আসলে খালিদ ইবন মা’দান (রহঃ) ঐ কাগজটি আমার নিকট চান। তখন সেটি আমি তাকে প্রদান করি। যখন তিনি তা পাঠ করেন, তখন তিনি তাঁর কাছে যত খারাযী যমীন ছিল, তার সবই ছেড়ে দেন।
আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেনঃ ইনি ছিলেন ইয়াযীদ ইবন খুমায়র ইয়াযান্নী, তিনি নন, যিনি শোবার ছাত্র ছিলেন।
১৭৭. কোন যমীনের ঘাস বা পানি ইমাম বা কোন ব্যক্তির সংরক্ষণ করা সম্পর্কে।
হাদিস নং ৩০৭২সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ الصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ حِمَى إِلاَّ لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَبَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَمَى النَّقِيعَ .
বর্ণনাকারী: সা‘ব ইবনু জাসসামাহ লায়সী (রাঃ)
৩০৭২. ইবন সারহ (রহঃ) ...... সা’ব ইবন জাছছামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পতিত চারণভূমি আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের।
রাবী ইবন শিহাব বলেনঃ আমি জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’নাকী’ নামক স্থানে চারণভূমি তৈরী করেছিলেন।
৩০৭৩. সা’ঈদ ইবন মানসূর (রহঃ) ..... সা’ব ইবন জাছছামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’নাকী’ নামক স্থানে চারণভূমি তৈরী করে বলেছিলেনঃ চারণভূমি কেবল মহান আল্লাহ্র-ই (এতে আর কারো মালিকানা নেই)।
১৭৮. খনিজ দ্রব্য সম্পর্কে।
হাদিস নং ৩০৭৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ سَمِعَا أَبَا هُرَيْرَةَ، يُحَدِّثُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِي الرِّكَازِ الْخُمُسُ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৩০৭৪. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খনিজ দ্রব্য হতে খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) নেওয়া হবে।
হাদিস নং ৩০৭৫যঈফ
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنَا الزَّمْعِيُّ، عَنْ عَمَّتِهِ، قُرَيْبَةَ بِنْتِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ أُمِّهَا، كَرِيمَةَ بِنْتِ الْمِقْدَادِ عَنْ ضُبَاعَةَ بِنْتِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ هَاشِمٍ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهَا قَالَتْ، ذَهَبَ الْمِقْدَادُ لِحَاجَتِهِ بِبَقِيعِ الْخَبْخَبَةِ فَإِذَا جُرَذٌ يُخْرِجُ مِنْ جُحْرٍ دِينَارًا ثُمَّ لَمْ يَزَلْ يُخْرِجُ دِينَارًا دِينَارًا حَتَّى أَخْرَجَ سَبْعَةَ عَشَرَ دِينَارًا ثُمَّ أَخْرَجَ خِرْقَةً حَمْرَاءَ - يَعْنِي فِيهَا دِينَارٌ - فَكَانَتْ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ دِينَارًا فَذَهَبَ بِهَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ وَقَالَ لَهُ خُذْ صَدَقَتَهَا . فَقَالَ لَهُ صلى الله عليه وسلم " هَلْ هَوَيْتَ إِلَى الْجُحْرِ " . قَالَ لاَ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيهَا " .
৩০৭৫. জা’ফর ইবন মুসাফির (রহঃ) ..... যায়াআ’ বিনত যুবায়র ইবন আবদিল মুত্তালিব ইবন হাশিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মিকদাদ (রাঃ) প্রকৃতির ডাকে ’নাকীয়ে খাবখাবা’ নামক স্থানে গমন করেন। হঠাৎ তিনি দেখতে পান যে, একটা ইঁদুর একটা গর্ত হতে একটা দীনার বের করে আনলো। এরপর সে একটার পর একটা দীনার বের করে আনতে লাগলো, এমনকি সে সতেরটি দীনার বের করে আনে। অবশেষে সে (ইঁদুরটি) একটা লালবর্ণের থলি বের করে আনে, তাতেও একটি দীনার ছিল। সব মিলিয়ে দীনারের সংখ্যা হয় আঠারটি। তখন তিনি (মিকদাদ) তা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হন এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেনঃ আপনি এর যাকাত গ্রহণ করুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি নিজে কি এ সব গর্ত থেকে বের করেছ? তিনি বলেনঃ না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেনঃ আল্লাহ্ এতে তোমাকে বরকত দিন।
৩০৭৬. ইয়াহইয়া ইবন মাঈন (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তায়েফ গমনকালে একটা কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ কবরটি ’আবূ রিগাল’ নামক জনৈক ব্যক্তির। যে আযাব থেকে নাজাতের আশায় এ হেরেমে বসবাস করত। এরপর সে যখন হেরেম থেকে বের হয়, তখন তাকে আযাবে গ্রেফতার করে, যা তার কওমের উপর এ স্থানে আপতিত হয়েছিল। তাকে এ স্থানে দাফন করা হয়েছে। আর এর নিদর্শন হলোঃ তার সাথে সোনার পাতও এখানে দাফন করা আছে। যদি তোমরা তার কবর খুঁড়ে ফেল, তবে তোমরা তা পেয়ে যাবে। এ খবর শুনে লোকেরা কবরের কাছে গেল এবং সোনার পাত বের করে নিল।
বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু আওস ইবনু হাদাসান (রাঃ)
২৯৫৩. হাসান ইবন আলী ও মুহাম্মদ ইবন ইয়াহ্ইয়া ইবন ফারিয মা’না (রহঃ) .... মালিক ইবন হাদাসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা উমার (রাঃ) দিনের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর আমাকে ডেকে পাঠান। আমি তখন তাঁর কাছে উপস্থিত হই এবং তাকে চাদর শূন্য একটা বিছানার উপর উপবিষ্ট দেখতে পাই। যখন আমি তাঁর কাছে পৌছাই, তখন তিনি আমাকে বলেনঃ হে মালিক! তোমার সম্প্রদায়ের কিছু লোক আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের কিছু মাল দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। এখন তুমি তা তাদের মাঝে বণ্টন করে দাও।
আমি বললামঃ আমাকে বাদ দিয়ে যদি অন্য কাউকে একাজের নির্দেশ দিতেন, (তবে ভাল হতো)। তখন তিনি বললেনঃ তুমি-ই এ দায়িত্ব গ্রহণ কর। এ সময় ইয়ারফা (রাঃ) সেখানে হাযির হয়ে বলেনঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার নিকট উপস্থিত হওয়ার জন্য উছমান ইবন আফফান (রাঃ), আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ), যুবায়র ইবন আওয়াম (রাঃ) এবং সা’দ ইবন আবী ওয়াককাস (রাঃ) অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাদেরকে আমার কাছে আসতে দাও।
তখন তাঁরা সেখানে প্রবেশ করে। পরে ইয়ারফা উপস্থিত হয়ে বলেনঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার নিকট আব্বাস (রাঃ) ও আলী (রাঃ) আসার জন্য অনুমতি চাচ্ছেন। তখন তিনি [উমার (রাঃ)] বললেনঃ তাদের আসতে দাও। পরে এ দু’জনও তাঁর নিকট হাযির হন। আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি আমার ও এর মধ্যকার ব্যাপারটি ফয়সালা করে দিন। তখন উপস্থিত লোকদের থেকে জনৈক ব্যক্তি বলেনঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! এদের ব্যাপারটি মীমাংসা করে দিন এবং এদের উপর রহম করুন।(১)
মালিক ইবন আওস (রাঃ) বলেনঃ আমার ধারণা আব্বাস (রাঃ) এবং আলী (রাঃ) এ ব্যাপারের জন্য পূর্বোক্ত ব্যক্তিদের আগেই প্রেরণ করেন। তখন উমার (রাঃ) বলেনঃ ব্যস্ত হবেন না, ধৈর্য ধরুন, শান্ত হন। অতঃপর তিনি উছমান (রাঃ) ও অন্যদের সম্বোধন করে বলেনঃ আমি আপনাদের সেই আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, যাঁর হুকুমে আসমান ও যমীন স্থির আছে। আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা (নবীরা) কোন মীরাছ রেখে যাই না; বরং আমরা যা রেখে যাই, তা হলো সাদকা। তখন তাঁরা বলেনঃ হ্যাঁ।
অতঃপর আলী (রাঃ) ও আব্বাস (রাঃ)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ আমি আপনাদের উভয়কে সে আল্লাহ্র শপথ দিয়ে জিজ্ঞানা করছি, যাঁর হুকুমে আসমান ও যমীন কায়েম আছে, আপনারা কি অবগত আছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ বলেছেনঃ আমরা মীরাছ রেখে যাই না, বরং আমরা যা রেখে যাই, তা হলো সাদকা। তখন তারা উভয়ে বলেনঃ হ্যাঁ। তিনি [উমার (রাঃ)] বলেনঃ আল্লাহ তা’আল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন কিছু খাস বৈশিষ্ট প্রদান করেন, যা অন্য আর কাউকে দেননি। যেমন, আল্লাহ বলেছেনঃ
وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
অর্থাৎ আর যা কিছু আল্লাহ তাঁর রাসূলকে দিয়েছেন, তাদের নিকট হতে, তা লাভের জন্য তোমরা ঘোড়া এবং উট পরিচালিত করনি; বরং আল্লাহ্ তাঁর রাসূলদের বিজয়ী করেন যার উপর তিনি ইচ্ছা করেন। আর আল্লাহ্ হলেন সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
বস্তুত আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে বনূ নযীর গোত্রের মাল প্রদান করেছিলেন। আল্লাহ্র শপখ! তিনি এই মালের উপর তোমাদের একচেটিয়া প্রাধান্য প্রদান করেননি এবং তোমাদের বাদ দিয়ে অন্য কেউ তা গ্রহণ করেনি। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো এই মাল হতে তাঁর ও তাঁর পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের নিমিত্ত এক বছরের খরচের পরিমাণ সম্পদ গ্রহণ করতেন এবং অবশিষ্ট মাল অন্যান্য গনীমতের মালের অনুরূপ হতো। অতঃপর তিনি [উমার (রাঃ)] তাঁদের সম্বোধন করে বলেনঃ আমি আপনাদের সেই আল্লাহ্র শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, যার হুকুমে আসমান ও যমীন কায়েম আছে, আপনারা কি এটা অবগত আছেন? তখন তাঁরা বলেনঃ হ্যাঁ। তখন তিনি আব্বাস (রাঃ) ও আলী (রাঃ) কে সম্বোধন করে বলেনঃ আমি আপনাদের উভয়কে সেই আল্লাহ্র শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, যার হুকুমে আসমান ও যমীন স্থির আছে, আপনারা কি এটা অবগত আছেন? তখন তাঁরা (দু’জনে) বলেনঃ হ্যাঁ।
বস্তুত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর [আবূ বকর (রাঃ) যখন খলীফা নির্বাচিত হন], তখন আবূ বকর (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খলীফা। তখন আপনি (হে আব্বাস) এবং এ ব্যক্তি [আলী (রাঃ)] আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়েছিলেন। এ সময় আপনি আপনার ভাতিজার পরিত্যক্ত সস্পদের উত্তরাধিকারিত্বের দাবি করছিলেন এবং ইনি তাঁর স্ত্রীর সম্মানিত পিতা (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মীরাছ দাবি করছিলেন। তখন তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা (নবীরা) মীরাছ রেখে যাই না; বরং আমরা যা ছেড়ে যাই, তা হলো সাদকা। আর আল্লাহ্ জানেন, আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন সত্যবাদী, নেকবখত, সত্য পথের দিশারী এবং সত্যের অনুসারী। এরপর আবূ বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। আবূ বকর (রাঃ)-এর ইনতিকালের পর, আমি খলীফা মনোনীত হওয়ার পর বলিঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ হতে এ মালের তত্ত্বাবধায়ক।
আর আমি মালের তত্ত্বাবধায়ক ততদিন থাকব, যতদিন আল্লাহ্ চান। এখন আপনারা দু’জন এসেছেন এবং আপনারা একই খেয়ালের অধিকারী। আপনারা আমার নিকট উক্ত মাল দাবী করছেন। আমার বক্তব্য এই যে, যদি আপনারা চান, তবে এ শর্তের উপর আমি এ মাল আপনাদের দেব যে, আপনারা আল্লাহ্র নামে শপথ করে বলবেন যে আপনারা এ মালের দেখাশুনা এরূপই করবেন, যেমনভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন।
আপনারা এ শর্তের উপর এ মাল আমার নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। আর এখন আপনারা উভয়ে আমার নিকট এ জন্য হাযির হয়েছেন যে, আমি যেন এর বিপরীত কোন ফয়সালা করি।
আল্লাহ্র শপথ! আমি যে ফয়সালা দিয়েছি, তাছাড়া অন্য কোন ফয়সালা আমি কিয়ামত পর্যন্ত দেব না। অবশ্য আপনারা যদি এ সম্পদ যথাযথরূপে দেখাশুনা করতে অপারগ হন, তবে এর দেখাশুনার দায়িত্ব আবার আমার উপর ন্যস্ত করুন। আবূ দাউদ (রহঃ) বলেনঃ তাঁরা দু’জন তাঁর কাছে এ দরখাস্ত করেন যে, এর দেখাশুনার দায়িত্ব আমাদের মাঝে বণ্টন করে দেন। আর এরূপ নয় যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীছঃ আমরা মীরাছ রেখে যাই না; বরং আমরা যা ছেড়ে যাই, তা হলো সাদাকা’’, সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। বস্তুত তাঁরা উভয়ে তাদের প্রাপ্যের প্রত্যাশায় ছিলেন। তখন উমার (রাঃ) বলেনঃ আমি এ সম্পদের উপর বণ্টনের নাম আসতে দেব না, বরং আমি একে এর প্রথম অবস্থার উপর ছেড়ে দেব।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
(১) আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বনূ-নযীর, খায়বর ও ফিদাকের যে সম্পদ দান করেছিলেন, আব্বাস (রাঃ) ও আলী (রাঃ) সে সম্পদে তাদের উওরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অংশ দাবী করছিলেন।)
বর্ণনাকারী: আব্দুল মুত্তালিব ইবন রবীআ (রহঃ)
২৯৭৫. আহমদ ইবন সালিহ (রহঃ) ..... আবদুল মুত্তালিব ইবন রাবী’আ ইবন হারিছ ইবন আবদিল মুত্তালিব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁর পিতা রাবী’আ ইবন হারিছ এবং আব্বাস ইবন আবদিল মুত্তালিব, আবদুল মুত্তালিব ইবন রাবী’আ এবং ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলেন যে, তোমরা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হয়ে বলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের বয়স হয়েছে, সে সম্পর্কে তো আপনি অবহিত। আমরা বিবাহ করতে ইচ্ছুক।
আর হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি তো সকলের চাইতে অধিক নেককার ও পরোপকারী। আমাদের পিতার কাছে আমাদের বিবাহের দেনমোহর পরিশোধের মত অর্থ নেই। তাই আপনি আমাদের সাদকা আদায়ের অফিসার হিসাবে নিয়োগ করুন। অন্য অফিসাররা যা দিয়ে থাকে, আমরাও আপনাকে তা দেব এবং তার মুনাফা আমরা গ্রহণ করব।
রাবী বলেনঃ এ সময় আলী (রাঃ) সেখানে আসেন। আমরা যখন এ অবস্থায় ছিলাম, তখন আলী (রাঃ) আমাদেরকে বলেনঃ আল্লাহ্র শপথ করে বলি যে, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের কাউকেও সাদকা আদায়ের অফিসার নিয়োগ করবেন না। তখন রাবী’আ বলেনঃ এতো আপনি নিজের পক্ষ থেকে বলছেন। আপনি তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জামাতা হয়েছেন, এতে আমরা আপনার প্রতি ঈর্ষান্বিত নই। তখন আলী (রাঃ) তাঁর চাদর বিছিয়ে সেখানে শুয়ে পড়েন এবং বলেনঃ আমি আবুল হাসান, সকলের চাইতে জ্ঞানী। আল্লাহ্র শপথ! আমি এ স্থান পরিত্যাগ করব না যতক্ষণ না তোমাদের সন্তানেরা ঐ কাজ হতে বঞ্চিত হয়ে ফিরে আসে, যার জন্য তোমরা তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রেরণ করেছ।
আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) বলেনঃ আমি এবং ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) যখন তাঁর নিকটে পৌছাই, তখন যুহরের সালাতের তাকবীর শুরু হয়ে যায়। তখন আমরা লোকদের সাথে (জামাআতে) সালাত আদায় করি। অতঃপর আমি এবং ফযল দ্রুত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হুজরার দিকে ধাবমান হই। এদিন তিনি যয়নব বিনত জাহশ (রাঃ)-এর ঘরে অবস্থান করছিলেন। আমরা দরওয়াযার নিকট দাঁড়ালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে এসে (স্নেহবশত) আমার ও ফযলের কান ধরে বললেনঃ বল তোমরা কি বলতে চাচ্ছ।
অতঃপর তিনি হুজরার মাঝে ফিরে যান এবং আমাকে ও ফযলকে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেন। তখন আমরা ভিতরে প্রবেশ করি এবং একে অন্যকে কথা শুরু করার জন্য বলতে থাকি। অবশেষে আমি কথা শুরু করি অথবা ফযল শুরু করে। রাবী আবদুলাহ (রাঃ) এ ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আবদুল মুত্তালিব ইবন রাবী’আ বলেনঃ তখন ফযল ঐ কথা পেশ করেন, যা বলার জন্য আমাদের পিতা আমাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকেন এবং তাঁর দৃষ্টি ছাদের প্রতি নিবদ্ধ করেন। এভাবে অনেক সময় অতিবাহিত হওয়ায় আমরা মনে করি যে, তিনি এখন কোন জওয়াব দিবেন না। এ সময় আমরা লক্ষ্য করি যে, যয়নব পর্দার পিছন হতে হাতের ইশারায় আমাদের বলছেন যে, আমরা যেন ব্যস্ত না হই। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ব্যাপারে চিন্তা করছিলেন।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা নীচু করে আমাদের বললেনঃ এ সাদকা তো মানুষের ময়লা-আবর্জনা (অর্থাৎ মালের ময়লা), যা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের জন্য হালাল নয়। তোমরা নওফল ইবন হারিছকে আমার কাছে ডেকে আন। তখন তাঁকে তাঁর নিকট ডেকে আনা হয়। তিনি তাকে বলেনঃ হে নওফল! তুমি আবদুল মুত্তালিবকে তোমার মেয়ের সাথে বিয়ে দাও। তখন নওফল তার মেয়েকে আমার সাথে বিবাহ দেন।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা মুহমিয়্যা ইবন জাযাকে আমার কাছে ডেকে আন, যিনি ছিলেন যুবায়দ গোত্রের লোক। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মালে-গনীমতের খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) আদায়ের জন্য নিয়োগ করেন। (মুহমিয়্যা আসলে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ তুমি তোমার (মেয়ের সাথে) ফযলের বিয়ে দাও। তখন তিনি বিবাহ দিয়ে দেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি দাঁড়াও এবং খুমুস হতে এ পরিমাণ, এ পরিমাণ সস্পদ মোহর বাবদ দিয়ে দাও। (রাবী বলেন) আবদুল্লাহ্ ইবন হারিছ (রাঃ) আমার নিকট মোহরের পরিমাণ উল্লেখ করেননি।
২৯৭৬. আহমদ ইবন সালিহ (রহঃ) .... আলী ইবন আবী তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বদর যুদ্ধের গনীমতের মাল হতে আমার ভাগে একটা মোটাতাজা উষ্ট্রী পড়ে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুমুস হতেও আমাকে একটি হৃষ্টপুষ্ট উষ্ট্রী প্রদান করেন। অতঃপর আমি যখন ফাতিমা (রাঃ) এর সংগে বাসর যাপনের ইচ্ছা করি, তখন আমি একজন কর্মকারের সাথে, যিনি বনূ কায়নুকার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, এ ওয়াদা করি যে, সে আমার সাথে যাবে এবং আমি তার কাছে আয্খার (এক ধরনের সুগন্ধযুক্ত ঘাস) বিক্রয় করব, যাতে আমি আমার নব-পরিণীতা স্ত্রীর ওয়ালীমার ব্যবস্থা করতে পারি।
বস্তুত এ উদ্দেশ্যে যখন আমি আমার উটের জন্য পালান, ঘাস ও রশির যোগাড়ে ব্যস্ত ছিলাম, তখন আমার উষ্ট্রী দুটি এক আনসার সাহাবীর হুজরার পাশে বসা ছিল। এরপর এদের জন্য যা প্রয়োজন ছিল, তা সংগ্রহ করে যখন আমি ফিরে আসি, তখন দেখি যে, তাদের কুঁজ কেটে ফেলা হয়েছে, কোমর ফেড়ে ফেলা হয়েছে এবং কলিজা বের করা হয়েছে। এ অবস্থা দেখে আমি আমার অশ্রু সম্বরণ করতে অক্ষম হই।
তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ এ কাজ কে করলো? তখন লোকেরা বললোঃ হামযা ইবন আবদিল মুত্তালিব এ কাজ করেছে। যিনি কয়েকজন আনসার সাহাবীর সঙ্গে এ ঘরে আছেন, যারা শরাব পান করেছেন এবং জনৈকা গায়িকা তাঁর ও তাঁর সাথীদের সামনে এরূপ গান গাইছেঃ
’’হে হামযা! উঠ, এবং যে মোটাতাজা উষ্ট্রী উঠানে বাধা আছে, ওর হলকুমে ছুরি চালিয়ে ওকে হত্যা করে ফেল এবং ওর পবিত্র অংশ (অর্থাৎ কুঁজ ও কলিজা) ডেগে পাকিয়ে বা ভুনা করে শরাব পানকারীদের জন্য জলদি তৈরী করে দাও।”
হামযা এ গান শুনে তখনই তরবারি দিয়ে ওদের কুঁজ কেটেছে এবং ওদের পেট ফেড়ে ওদের কলিজা বের করে ফেলেছে। আলী (রাঃ) বলেনঃ এ খবর জেনে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হই। তখন যায়দ ইবন হারিছা (রাঃ) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার চেহারা দেখে আমার অবস্থা বুঝতে পারেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার কি হয়েছে? তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আজকের মত কোন অবস্থা আমার জীবনে আর আসেনি। হামযা আমার উষ্ট্রীর উপর এরূপ অত্যাচার করেছে যে, ওদের কুঁজ ফেড়ে ফেলেছে এবং পেট কেটে ফেলেছে। আর সে শরাবীদের সাথে এ ঘরে উপস্থিত আছে।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদর চান এবং তা গায়ে চড়িয়ে রওয়ানা হন। আমি এবং যায়দ ইবন হারিছা তাঁর অনুসরণ করতে থাকি। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ঘরের কাছে পৌঁছান, যেখানে হামযা (রাঃ) ছিলেন। তিনি সেখানে প্রবেশের জন্য অনুমতি চাইলে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি ভিতরে ঢুকে দেখতে পান যে, সবাই শরাব পান করে মাতাল অবস্থায় আছে।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযাকে এ কাজের জন্য ভর্ৎসনা করতে থাকেন। তিনি দেখতে পান যে, সে নেশায় বুঁদ হয়ে আছে এবং তার দুটি চোখ নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণে লাল হয়ে গেছে। হামযা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে চেয়ে দেখেন, তারপর চোখ উঠিয়ে তাঁর নাভির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। সবশেষে চোখ উঠিয়ে তাঁর চেহারার প্রতি তাকান এবং বলেনঃ তোমরা তো আমার বাবার গোলাম মাত্র। এ অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুধাবন করতে পারেন যে, হামযা নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান হতে পেছনে ফিরে আসেন এবং আমরাও তাঁর সংগে বেরিয়ে আসি।
২৯৯৪. মুহাম্মদ ইবন দাঊদ ইবন সুফইয়ান (রহঃ) ....... আবদুর রহমান ইবন কা’ব ইবন মালিক (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন যে, কুরায়শ কাফিররা আবদুল্লাহ ইবন উবাই এবং তার মূর্তি-পূজক সাথীদের, যারা আওস ও খাযরাজ গোত্রের লোক, এ মর্মে পত্র লেখে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধের আগে মদীনায় অবস্থান করছিলেনঃ তোমরা আমাদের সাথী (মুহাম্মদ) কে জায়গা দিয়েছ। এ জন্য আমরা আল্লাহ্র নামে শপথ করে বলছি, হয়তো তাঁর সাথে যুদ্ধ কর, নয়তো তাঁকে বের করে দাও। অন্যথায় আমরা সম্মিলিতভাবে আক্রমণ করে তোমাদের যোদ্ধাদের হত্যা করব এবং তোমাদের স্ত্রীদের আমাদের দখলে আনব।
আবদুল্লাহ ইবন উবাই এবং তার মূর্তিপূজারী সাথীরা এ খবর পাওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌছবার পর তিনি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং বলেনঃ তোমরা কুরায়শদের নিকট হতে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী চিঠি পেয়েছ, কিন্তু তা তোমাদের জন্য এত মারাত্মক নয়, যত না ক্ষতি তোমরা নিজেরা নিজেদের করবে। কেননা, তোমরা তো তোমাদের সন্তান-সন্ততি ও ভাইদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সংকল্প করছ।
তারা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এরূপ কথা শুনলো, তখন তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো। এ খবর কুরায়শ কাফিরদের কাছে পৌছলে তারা বদর যুদ্ধের পর ইয়াহুদীদের নিকট লিখলোঃ তোমরা ঘরবাড়ী ও দুর্গের অধিকারী। কাজেই তোমাদের উচিত আমাদের সাথী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যুদ্ধ করা। অন্যথায় আমরা তোমাদের সাথে এরূপ করব, সেরূপ করব। আর আমাদের ও তোমাদের স্ত্রীদের মাঝে কোন পার্থক্য থাকবে না।
যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তারা এরূপ চিঠি পেল, তখন বনূ নযীরের ইয়াহুদীরা বিদ্রোহ ঘোষণা করলো এবং তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ মর্মে অবহিত করে যে, আপনি আপনার সাথীদের থেকে ত্রিশজন নিয়ে আমাদের কাছে আসুন এবং আমাদের ত্রিশজন আলিম আপনার সংগে এক আলাদা স্থানে দেখা করবে। তারা আপনার কথা শুনবে, যদি তারা আপনার উপর ঈমান আনে এবং বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে আমরা আপনার উপর ঈমান আনব।
পরদিন সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল সেনাবাহিনী নিয়ে তাদের উপর হামলা করেন এবং তাদের অবরোধ করে বলেনঃ আল্লাহ্র শপথ! তোমরা যতক্ষণ অঙ্গীকার না করবে, ততক্ষণ আমি তোমাদের ব্যাপারে নিশ্চিত নই। তখন তারা (ইয়াহুদীরা) অঙ্গীকার করতে অস্বীকার করে। ফলে তিনি সেদিন তাদের সাথে দিনভর যুদ্ধে রত থাকেন। পরদিন তিনি বনূ নযীরকে বাদ দিয়ে বনূ কুরাইযার উপর আক্রমণ করেন এবং তাদের অঙ্গীকারবদ্ধ হতে বলেন। ফলে তারা তাঁর সংগে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। তখন তিনি তাদের নিকট হতে প্রত্যাবর্তন করে পুনরায় বনূ নযীরকে অবরোধ করেন এবং তাদের সাথে ততক্ষণ যুদ্ধ করেন, যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগে বাধ্য হয়।
বনূ নযীরের লোকেরা তাদের উটের পিঠে ঘরের দরজা, চৌকাঠ ইত্যাদি যে পরিমাণ মালামাল নেওয়া সম্ভব ছিল, তা নিয়ে যায়। এবার বনূ নযীরের খেজুরের বাগান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকারে আসে, যা আল্লাহ্ তা’আলা বিশেষভাবে প্রদান করেন। যেমন আল্লাহ্ বলেনঃ
وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ
অর্থাৎ আল্লাহ্ কাফিরদের মাল হতে যে সস্পদ তাঁর রাসূলকে প্রদান করেন, তা হাসিলের জন্য তোমরা তোমাদের ঘোড়া অথবা উট হাঁকাও নি, অর্থাৎ ঐ সম্পদ বিনা যুদ্ধে হাসিল হয়।
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ মালের অধিকাংশই মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করে দেন এবং অভাবগ্রস্ত দু’জন আনসারকে তা হতে অংশ প্রদান করেন। এ দু’জন ছাড়া অন্য আনসার সাহাবীদের মাঝে এ মাল বিতরণ করা হয়নি। অবশিষ্ট মাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য সাদকা স্বরূপ ছিল, যা বনূ ফাতিমার নিয়ন্ত্রণে ছিল।
৩০৪৪. আবূ তাওবা রবী ইবন নাফি (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ্ হাওযানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুআয্যিন বিলাল (রাঃ) এর হালব শহরে দেখা হয়। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, হে বিলাল! আপনি আমার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভরণ-পোষণের ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা কিরূপ ছিল, তা বর্ণনা করুন। তখন তিনি বলেনঃ যখন থেকে আল্লাহ্ তাঁকে রাসূল হিসাবে প্রেরণ করেন, তখন থেকে তাঁর ইনতিকালের সময় পর্যন্ত তাঁর কাজ-কর্মের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আমার উপরই ন্যস্ত ছিল। যখনই তাঁর নিকট মুসলিম আসতেন এবং তিনি তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতেন, তখন আমাকে তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিতেন।
তখন আমি কর্য নিয়ে তার জন্য চাদর খরিদ করে তাকে পরাতাম এবং তাকে খানাও খাওয়াতাম। এমতাবস্থায় একদা জনৈক মুশরিক আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলে যে, হে বিলাল! আমার কাছে অনেক ধন-দওলত আছে। কাজেই তুমি আমি ব্যতীত আর কারো থেকে ধার নিও না। তখন আমি এরূপ করতে থাকি। এ অবস্থায় একদা আমি উযূ করে যখন আযান দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি, তখন আমি দেখতে পাই যে, সে মুশরিক লোকটি একদল ব্যবসায়ী সমভিব্যাহারে আমার দিকে আসছে। সে আমাকে দেখেই বলে উঠলঃ হে হাবশী! আমি বললামঃ বলুন, আমি তো হাযির। সে সময় সে উত্তেজিত হয়ে আমাকে গালমন্দ করতে লাগল এবং বললঃ তোমার কি জানা আছে, মাসের আর কতদিন বাকী আছে?
তখন আমি বললামঃ মাস তো প্রায় শেষ। তখন সে বলেঃ তোমার মাস পূর্ণ হতে আর মাত্র চার দিন বাকী আছে। আমি তোমার নিকট হতে আমার পাওনা টাকা আদায় করে ছাড়ব, আর আমি তোমাকে তোমার পূর্বাবস্থায় নিয়ে ছাড়ব, যেরূপ তুমি আগে বকরীর পাল চরাতে। বিলাল (রাঃ) বলেনঃ তার এরূপ কথাবার্তায় আমি মর্মাহত হই, এরূপ ক্ষেত্রে মানুষের যেমন হয়ে থাকে। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈশার সালাত আদায় শেষে যখন স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুমত চাইলাম। তখন তিনি আমাকে তাঁর খিদ্মতে হাযির হওয়ার জন্য অনুমতি দেন।
আমি তাঁর নিকট আরয করিঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আমি যে মুশরিক ব্যক্তির নিকট হতে ধার নিতাম, সে আমাকে এরূপ এরূপ কথা বলেছে। এখন তো আপনার নিকট এমন কোন ধন-সম্পদ নেই যা দিয়ে আপনি আমার করয পরিশোধ করতে পারেন। আর আমার কাছেও কিছু নেই; ওদিকে সে তো আমাকে বেইযযত করতে চায়। সুতরাং আপনি আমাকে অনুমতি দিন, যাতে আমি পালিয়ে গিয়ে ঐ গোত্রের কোন লোকের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি, যারা মুসলিম হয়েছে। আর আমি ততদিন এ অবস্থায় থাকব, যতদিন না আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর রাসূলের জন্য এ পরিমাণ মালের সংস্থান করে দেন, যা দিয়ে আমি আমার করয পরিশোধ করতে পারি। একথা বলে আমি আমার ঘরে ফিরে আসি এবং আমার তরবারি, মোজা, জুতা এবং ঢাল আমার শিয়রে রাখি (যাতে অতি ভোরে আমি চলে যেতে পারি)।
এমতাবস্থায় যখন আমি অতি প্রত্যুষে পলায়ন করার জন্য তৈরী হলাম, তখন হঠাৎ দেখতে পাই যে, এক ব্যক্তি দৌড়ে আমার কাছে এসে বললঃ হে বিলাল! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে ডাকছেন। তখন আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখতে পাই যে, পিঠে মাল বোঝাই চারটি উট বসে আছে। এরপর আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎের অনুমতি চাইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (হে বিলাল!) তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। তোমার করয পরিশোধের জন্য আল্লাহ্ তা’আলা এ মাল পাঠিয়ে দিয়েছেন।
এরপর তিনি আরো বলেনঃ তুমি কি দেখছ না যে, চারটি মাল-বোঝাই উট বসে আছে? তখন আমি বলিঃ হ্যাঁ দেখছি। এরপর তিনি বলেনঃ এ পশুগুলো এবং এদের পিঠে যে মালামাল আছে, তা সবই তোমার। এতে কাপড় এবং খাদ্যশস্য আছে, যা ফিদাকের বিশিষ্ট ধনী নেতা হাদিয়া-স্বরূপ আমার জন্য পাঠিয়েছে। সুতরাং তুমি এসব বুঝে নাও এবং তোমার যাবতীয় দেনা পরিশোধ কর। বিলাল (রাঃ) বলেনঃ তখন আমি এরূপ করি।
অতঃপর পূর্ণ হাদীছ বর্ণনা প্রসঙ্গে বিলাল (রাঃ) বলেনঃ পরে আমি মসজিদে গিয়ে দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসে আছেন। তখন আমি তাকে সালাম করলে তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি যে সম্পদ পেয়েছ তা কি করেছ? তখন আমি বলিঃ মহান আল্লাহ্ ঐ সমস্ত দেনাই পরিশোধ করে দিয়েছেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ছিল। বস্তুত ঐ দেনার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ ঐ মাল হতে কিছু কি অবশিষ্ট আছে? তখন আমি বলিঃ হ্যাঁ, কিছু মাল অবশিষ্ট আছে।
তখন তিনি বলেনঃ আমি এও চাই যে, তুমি অবশিষ্ট মাল হতেও আমাকে চিন্তামুক্ত করবে (অর্থাৎ তা অতি সত্তর বিতরণ করে দেবে)। কেননা, যতক্ষণ না তুমি আমাকে তা হতে চিন্তামুক্ত করবে, ততক্ষণ আমি আমার স্বজনদের কারো কাছে ফিরে যাব না। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় শেষে আমাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ অবশিষ্ট মাল কি করেছ? তখন আমি বলিঃ তা আমার কাছেই আছে, তা গ্রহণের জন্য কেউ-ই আমার নিকট আসেনি। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে রাত মসজিদেই কাটালেন।
এ হাদীছ বর্ণনা প্রসঙ্গে বিলাল (রাঃ) আরো বলেনঃ এরপর দ্বিতীয় দিন ইশার সালাত আদায় শেষে তিনি আমাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ যে মাল অবশিষ্ট ছিল, তুমি তা কি করেছ? তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্ তা’আলা ঐ মাল হতে আপনাকে চিন্তামুক্ত করেছেন। একথা শুনে তিনি তাকবীর (আল্লাহু আকবর) পাঠ করলেন এবং আল্লাহ্র প্রশংসা করলেন। এ ভয়ে যেন এরূপ না হয় যে, ঐ মাল তাঁর নিকট থাকে এবং তিনি ইনতিকাল করেন। এরপর তিনি তাঁর গৃহে ফিরে যান এবং আমিও তাঁর পশ্চাতে গমন করি। পরে তিনি তাঁর প্রত্যেক স্ত্রীকে আলাদাভাবে সালাম করেন এবং পরিশেষে নিজের বিশ্রামাগারে প্রবেশ করেন। এ-ই ছিল তার ব্যয় নির্বাহের ঘটনা, যে সম্পর্কে তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছ।