২১৭১. মুসাদ্দাদ, মু’আম্মাল ও মূসা ....... আবূ নাযরা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাফাওত নামক স্থানের জনৈক শায়খ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা মদীনাতে অবস্থানকালে আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর মেহমান হই। আর এ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে আর কাউকে তাঁর চাইতে অধিক ইবাদতকারী ও অতিথিপরায়ন দেখিনি। তাঁর সাথে অবস্থানকালে একদিন আমি তাঁকে খাটের উপর দেখি, যখন তাঁর সাথে একটি পাথর বা খেজুর ভর্তি থলে ছিল। আর তাঁর খাটের নীচে ছিল একটি কৃষ্ণবর্ণ দাসী। এরপর তিনি তার গণনা সমাপ্ত করে যা থলের মধ্যে ছিল থলেটি ক্রীতদাসীর প্রতি নিক্ষেপ করেন। অতঃপর সে তা কুড়িয়ে আবার তাঁর নিকট প্রদান করে। তখন তিনি বলেন, আমি কি তোমাকে আমার ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ হতে কিছু বর্ণনা করব? তিনি বলেন, হ্যাঁ।
তিনি বলেন, একদা আমি কঠিন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মসজিদের এক কোনায় শুয়ে ছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে মসজিদে প্রবেশ করেন এবং তিনবার জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের কেউ কি আবূ হুরায়রাকে দেখেছ? জনৈক ব্যক্তি বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি তো কঠিন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মসজিদের এক পার্শে (শায়িত) আছেন? এতদশ্রবণে তিনি হেঁটে আমার নিকট আসেন এবং তাঁর হাত মোবারক আমার শরীরের উপর রাখেন। এরপর তিনি আমার সাথে খোশালাপ করেন। এরপর আমি উঠে বসি। অতঃপর তিনি নামায আদায়ের স্থানে গমন করেন।
তিনি লোকদের নিকট গমন করেন এমন সময় তাঁর সাথে পুরুষদের দু’টি কাতার এবং মহিলাদের একটি কাতার ছিল। অথবা মহিলাদের দুটি এবং পুরুষদের একটি কাতার ছিল। এরপর তিনি বলেন, নিশ্চই শয়তান আমাকে আমার নামায হতে কিছু ভুলিয়ে দিয়েছে। কাজেই (নামাযের মধ্যে ভুলের সময়) পুরূষেরা যেন তাসবীহ পাঠ করে এবং মহিলারা যেন হতের তালু বাজায় (অর্থাৎ হাতে তালি দেয়)।
রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায় করেন এবং তিনি তার নামাযে আর কোন ভুল করেননি। এরপর (নামায শেষে) তিনি বলেন, তোমরা স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান কর। রাবী মূসা এখানে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর তিনি আল্লাহ্ তা’আলার হামদ ও সানা পেশ করেন এবং বলেন। অতঃপর সমস্ত রাবী একমত হয়ে বর্ণনা করেন যে, তখন তিনি লোকদের প্রতি মুখ ফিরিয়ে বলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যখন সে তার স্ত্রীর নিকট গমণ করে, তখন সে দরজা বন্ধ করে এবং নিজের উপর একটি পর্দা টানে এবং আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশ মত (স্ত্রীর সাথে মিলন পর্বে যা করে) তা গোপন করে? সাহাবীগণ বলেন, হ্যাঁ। তিনি বলেন, এরপর এই লোকটি (স্ত্রীর সাথে মিলন শেষে) উঠে গিয়ে (অন্যের নিকট) বলে, আমি এটা করেছি, আমি এরূপ করেছি?
রাবী বলেন, এতদশ্রবণে সকলে নিশ্চুপ হয়ে যায়। অতঃপর জনৈক যুবতী রমনী তার পায়ের পাতার উপর ভর করে, গর্দান উঁচু করে এজন্য বসে যে, যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে পান এবং তার কথা শুনতে পান। এরপর সে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! পুরূষেরা এরূপ বলে এবং মহিলারাও। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা কি অবগত আছ, এটা কিসের সাদৃশ? এরপর তিনি নিজে বলেন, এর উদাহরণ ঐ শয়তানের, যে একজন স্ত্রী শয়তানের নিকট গমণ করে, এরপর সে তার নিকট হতে নিজের প্রয়োজন পূর্ণ করে (অর্থাৎ সহবাস করে) আর লোকেরা স্বচক্ষে তা অবলোকন করে। জেনে রাখ! পুরুষের জন্য ঐ আতর ব্যবহার করা উচিত, যার সুগন্ধি অধিক; কিন্তু রং অপ্রকাশ্য। সাবধান! মহিলাদের এরূপ আতর ব্যবহার করা উচিত, যার রং প্রকাশ্য, কিন্তু সুগন্ধি অপ্রকাশ্য।
ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেণ, এর পরবর্তী বর্ণনা আমি মু’আম্মার ও মূসা হতে সংগ্রহ করেছি (মুসাদ্দাদ হতে নয়) কিন্তু (এই বর্ণনা) কোন পুরুষ যেন অন্য পুরুষের সাথে একই বিছানায় একত্রি শয়ন না করে এবং কোন স্ত্রীলোক অপর কোন স্ত্রীলোকের সাথে। অবশ্য পিতা ও সন্তানের সাথে শয়নে কোন দোষ নেই। আর তারা তৃতীয়ত যা বর্ণনা করেন তা আমার স্মরণ নেই। আর রাবী মুসাদ্দাদ এর বর্ণনায় কী উল্লেখ আছে, আমি তাঁর নিকট হতে তা জানতে পারিনি।