حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، يَقُولُ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرَ الرَّأْسِ يُسْمَعُ دَوِيُّ صَوْتِهِ وَلاَ يُفْقَهُ مَا يَقُولُ حَتَّى دَنَا فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الإِسْلاَمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ " . قَالَ هَلْ عَلَىَّ غَيْرُهُنَّ قَالَ " لاَ إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ " . قَالَ وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صِيَامَ شَهْرِ رَمَضَانَ قَالَ هَلْ عَلَىَّ غَيْرُهُ قَالَ " لاَ إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ " . قَالَ وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّدَقَةَ . قَالَ فَهَلْ عَلَىَّ غَيْرُهَا قَالَ " لاَ إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ " . فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ وَاللَّهِ لاَ أَزِيدُ عَلَى هَذَا وَلاَ أَنْقُصُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ " .
বর্ণনাকারী: তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহ্ (রাঃ)
৩৯১. আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসলামা .... তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, একদা নজদের জনৈক অধিবাসী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এমতাবস্থায় আগমন করে যে, তার মাথার চুল ছিল উষ্কখুষ্ক, তার মুখে বিড়বিড় শব্দ শোনা যাচ্ছিল এবং তার কথাগুলি ছিল অস্পট। এমতাবস্থায় সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটবর্তী হয়ে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। জবাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ দিবা রাত্রির মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ফরয। তখন সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, তা ছাড়া তাঁর কিছু করণীয় আছে কি? জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ না, যদি তুমি অতিরিক্ত (নফল) কিছু আদায় কর।
রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিকট রমযানের রোযার কথা উল্লেখ করেন। তখন সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, এ ছাড়া অধিক কিছু করণীয় আছে কি? জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ না, কিন্তু যদি তুমি অতিরিক্ত কিছু কর। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য ছদকার (যাকাত) কথা উল্লেখ করেন। তখন সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, এ ছাড়া অতিরিক্ত কিছু দিতে হবে কি? জবাবে তিনি বলেন, না; তবে যদি তুমি অতিরিক্ত কিছু দান কর। অতঃপর লোকটি প্রত্যাবর্তনের সময় বললঃ আল্লাহর শপথ! আমি এর চেয়েে বেশী বা কম করব না। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ লোকটি যদি তার কথায় সত্য হয়, তবে সে অবশ্যই কামিয়াব (কৃতকার্য) হল।
৩৯২. সুলায়মান ইবনু দাউদ .... আবূ সুহায়েল নাফে ইবনু মালিক থেকে পূর্বোক্ত হাদীছের সনদ পরস্পরায় অনুরূপ বর্ণিত আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তার পিতার শপথ! সে যদি সত্যবাদী হয় তবে অবশ্যই সফলকাম হবে। তার পিতার শপথ! সে যদি সত্যবাদী হয় তবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (বুখারী, মুসলিম, মালেক, নাসাঈ)।
৩৯৩. মুসাদ্দাদ ইবনু মুসারহাদ ..... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বায়তুল্লাহ্ শরীফের নিকটে দুইবার আমার নামাযে ইমামতি করেছেন। প্রথমবার তিনি আমাকে নিয়ে যুহয়ের নামায আদায় করেন, যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে সামান্য ঢলে পড়েছিল এবং সেন্ডেলের এক ফিতা পরিমাণ সামান্য ছায়া বায়তুল্লাহর পূর্ব দিকে দেখা দিয়েছিল। অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে আসরের নামায আদায় করেন যখন প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তাঁর সম পরিমাণ হয়। পরে তিনি আমাকে নিয়ে মাগরিবের নামায আদায় করেন, যখন রোযাদার ইফতার করে। অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে রাতের এক-তৃতীয়াংশে এশার নামায আদায় করেন। পরে তিনি আমাকে নিয়ে ফজরের নামায ঐ সময় আদায় করেন-যখন দিগন্ত উজ্জল হয়ে যায়। অতঃপর তিনি (জিবরীল) আমাকে লক্ষ্য করে বলেনঃ ইয়া মুহাম্মাদ! আপনার পূর্ববর্তী আম্বীয়াদের জন্য এটাই নামাযের নির্ধারিত সময় এবং এই সময়ের মাঝখানেই নামাযের সময়। (তিরমিযী, আহমদ, দারাকুতনী)।
হাদিস নং ৩৯৪হাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ اللَّيْثِيِّ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَانَ قَاعِدًا عَلَى الْمِنْبَرِ فَأَخَّرَ الْعَصْرَ شَيْئًا فَقَالَ لَهُ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَمَا إِنَّ جِبْرِيلَ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَخْبَرَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِوَقْتِ الصَّلاَةِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ اعْلَمْ مَا تَقُولُ . فَقَالَ عُرْوَةُ سَمِعْتُ بَشِيرَ بْنَ أَبِي مَسْعُودٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " نَزَلَ جِبْرِيلُ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَنِي بِوَقْتِ الصَّلاَةِ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ " . يَحْسُبُ بِأَصَابِعِهِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ وَرُبَّمَا أَخَّرَهَا حِينَ يَشْتَدُّ الْحَرُّ وَرَأَيْتُهُ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ بَيْضَاءُ قَبْلَ أَنْ تَدْخُلَهَا الصُّفْرَةُ فَيَنْصَرِفُ الرَّجُلُ مِنَ الصَّلاَةِ فَيَأْتِي ذَا الْحُلَيْفَةِ قَبْلَ غُرُوبِ الشَّمْسِ وَيُصَلِّي الْمَغْرِبَ حِينَ تَسْقُطُ الشَّمْسُ وَيُصَلِّي الْعِشَاءَ حِينَ يَسْوَدُّ الأُفُقُ وَرُبَّمَا أَخَّرَهَا حَتَّى يَجْتَمِعَ النَّاسُ وَصَلَّى الصُّبْحَ مَرَّةً بِغَلَسٍ ثُمَّ صَلَّى مَرَّةً أُخْرَى فَأَسْفَرَ بِهَا ثُمَّ كَانَتْ صَلاَتُهُ بَعْدَ ذَلِكَ التَّغْلِيسَ حَتَّى مَاتَ وَلَمْ يَعُدْ إِلَى أَنْ يُسْفِرَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الزُّهْرِيِّ مَعْمَرٌ وَمَالِكٌ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَشُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ وَغَيْرُهُمْ لَمْ يَذْكُرُوا الْوَقْتَ الَّذِي صَلَّى فِيهِ وَلَمْ يُفَسِّرُوهُ وَكَذَلِكَ أَيْضًا رَوَاهُ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ وَحَبِيبُ بْنُ أَبِي مَرْزُوقٍ عَنْ عُرْوَةَ نَحْوَ رِوَايَةِ مَعْمَرٍ وَأَصْحَابِهِ إِلاَّ أَنَّ حَبِيبًا لَمْ يَذْكُرْ بَشِيرًا وَرَوَى وَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقْتَ الْمَغْرِبِ قَالَ ثُمَّ جَاءَهُ لِلْمَغْرِبِ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ - يَعْنِي مِنَ الْغَدِ - وَقْتًا وَاحِدًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ثُمَّ صَلَّى بِيَ الْمَغْرِبَ يَعْنِي مِنَ الْغَدِ وَقْتًا وَاحِدًا وَكَذَلِكَ رُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ مِنْ حَدِيثِ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
৩৯৪. মুহাম্মাদ ইবনু সালামা ..... উসামা ইবনু যায়দ আল-লায়ছী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু শিহাব তাকে জানিয়েছেন যে, একদা উমার ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ) মিম্বরে বসে (রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায়) আসরের নামাযে (নামায আদায়ে) কিছু বিলম্ব করেন। তখন উরওয়া ইবনুস যুবায়ের (রহঃ) তাকে বলেন, জিবরীল (আঃ) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু অলাইহে ওয়া সাল্লামকে নামাযের সময় সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তখন উমর ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ) বলেন, তুমি যা বলছ তা আমি জানি। তখন উরওয়া বলেন, আমি বশীর ইবনু আবূ মাসউদকে বলতে শুনেছি, আমি আবূ মাসউদ আলসারী (রাঃ) কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ জিবরীল (আঃ) এসে আমাকে নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে অবগত করেছেন। তিনি তাঁর অংগুলী গণনা করে বলেন, আমি তাঁর (জিবরীল) সাথে একে একে পাঁচ ওয়াক্তে নামায আদায় করেছি।
রাবী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যুহরের নামায সূর্য একট্বূ পশ্চিম দিকে হেলে যাওয়ার পর পড়তে দেখেছি এবং প্রখর গরমের দিনে তিনি কখনও একই বিলম্ব করেও পড়েছেন। আমি তাকে আসরের নামায সূর্য উপরে উজ্জল বর্ণ থাকা অবস্থায় আদায় করতে দেখেছি- সূর্যের কিরণে হলুদ রং প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে। কোন ব্যক্তি অসেরের নামায আদায় করে সূর্যাস্তের পূর্বেই ’যুল-হুলায়ফা’ নামক স্থানে পৌছে যেত। অতঃপর তিনি সূর্যাস্তের পরপরই মাগরিবের নামায আদায় করতেন। পরে তিনি এশার নামায ঐ সময় আদায় করতেন যখন পশ্চিমাকাশে কৃষ্ণবর্ণে আচ্ছাদিত হত এবং কখনও কখনও মানুষের একত্রিত হওয়ার জন্য বিলম্ব করতেন। তিনি একবার ফজরের নামায অন্ধকার থাকতেই আদায় করেন এবং পরের বার দিগন্ত উজ্জল হওয়ার পর সূর্যদয়ের পূর্বক্ষণে আদায় করেন। তিনি তাঁর ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত পুনরায় আর কখনও অপেক্ষা করেন নাই। (বুখারী, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ)।
ইমাম আবূ দাউদ বলেন, এই হাদীছটি ইমাম যূহরী (রহঃ) হতে মুআম্মার, মালিক ইবনু উনায়না, শুআয়েব, লায়েছ ও অন্যান্যা মুহাদ্দিছগণ কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তাঁরা নামায আদায়ের সময় উল্লেখ করেন নাই এবং বিস্তারিত বর্ণনাও দেন নাই। অনুরূপভাবে এই হাদীছটি হিসাম ও হাবীব - উরওয়া হতে মুআম্মারের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ওয়াহব ইবনু কায়সান জাবের (রাঃ) হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মাগরিবের নামাযের সময় সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, পরের দিন তিনি সূর্যাস্তের পরপরই মাগরিবের নামায পূর্ববর্তী দিনের মত একই সময়ে আদায় করেন।
ইমাম আবূ দাউদ বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিনি (জিবরীল) আমাকে নিয়ে পরের দিন মাগরিবের নামায একই সময়ে আদায় করেন। অনুরূপভাবে আমর ইবনু শুআয়েব তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
৩৯৫. মুসাদ্দাদ ..... আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক প্রশ্নকারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি তাকে কোন জবাব না দিয়ে বিলাল (রাঃ)-কে সুবহে-সাদকের সময় ফজরের নামাযের জন্য ইকামত দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং ফজরের নামায এমন সময় আদায় করেন যখন কোন মুসল্লী তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে (অন্ধকার থাকার ফলে) ভালভাবে চিনতে পারত না। অতঃপর তিনি সূর্য পশ্চিম দিকে সামান্য হেলার পরপরই অর্থাৎ দ্বিপ্রহয়ের সময় বিলাল (রাঃ)-কে যুহরের নামাযের জন্য ইকামত প্রদানের নির্দেশ দেন যখন কেবল দিনের অর্ধেক হয়েছে। অতঃপর সূর্য যখন উর্ধ্বাকাশে উজ্জল দেখা যাচ্ছিল সে সময় তিনি বিলালকে আসরের নামাযের ইকামত দেয়ার নির্দেশ দিলে তিনি ইকামত দেন। অতঃপর সূর্যাস্তের পরপরই তিনি বেলাল (রাঃ)-কে মাগরিবের নামাযের জন্য ইকামত দিতে বললে-তিনি ইকামত দেন।
অতঃপর পশ্চিমাকাশের শাফাক স্তিমিত হওয়ার পর তিনি বিলাল (রাঃ)-কে এশার নামাযের ইকামত দিতে বললে- তিনি ইকামত দেন। পরের দিন সকালে ফজরের নামায আদায় করে যখন আমরা প্রত্যাবর্তন করছিলাম, তখন আমরা বলি-সূর্য উদয় হয়েছে না কি, অর্থাৎ ফজরের নামায সুর্যোদয়ের কিছু পূর্বে সমাপ্ত হয়েছে। পূর্ববর্তী দিন তিনি যে সময় আসরের নামায আদায় করেছিলেন- এদিন সেই সময় যুহরের নামায আদায় করেন, (অর্থাৎ যুহরের সর্বশেষ ও আসরের প্রারম্ভিক সময়ে)। অতঃপর পশ্চিমাকাশের সূর্য যখন হলুদ বর্ণ ধারণ করে তখন তিনি আসরের নামায আদায় করেন, এবং সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশের শাফাক স্তিমিত হওয়ার কিছু পূর্বে তিনি মাগরিবের নামায আদায় করেন; এবং এশার নামায রাতের এক-তৃতীয়াংশ অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর আদায় করেন।
অতঃপর তিনি বলেনঃ নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে প্রশ্নকারী ব্যক্তি কোথায়? পূর্ববর্তী দিন ও পরের দিনে যে যে সময়ে নামায আদায় করা হয়েছে- তার মাঝেই রয়েছে (প্রারম্ভিক ও শেষ সময়) নামাযের ওয়াক্ত। (মুসলিম, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, জাবের (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে মাগরিবের নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামায কারও মতে রাতের তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর এবং অন্যদের মতে রাতের অর্ধাংশ অতিক্রান্ত হওয়ার পর আদায় করেন।
ইবনু বুরায়দা-তাঁর পিতা হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৩৯৬. উবায়দুল্লাহ্ ইবনু মুআয ..... আবদুল্লাহ্ আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আসরের নামাযের সময় আরম্ভের পূর্ব পর্যন্ত যুহয়ের নামাযের সময় অবশিষ্ট থাকে এবং সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করার পূর্ব পর্যন্ত আসরের নামাযের সময় থাকে। মাগরিবের নামাযের সময়সীমা হল পশ্চিম আকাশের শাফাক অস্তমিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। এশার নামাযের ওয়াক্ত রাতের অর্ধেক সময় পর্যন্ত, এবং সূর্য উঠার পূর্ব পর্যন্ত হল ফজরের নামাযের সময়। (মুসলিম, নাসাঈ, আহমদ)।
৩. নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক নামায আদায়ের সময় এবং তিনি কিভাবে তা আদায় করতেন?
৩৯৭. মুসলিম ইবনু ইব্রাহীম .... মুহাম্মাদ ইবনু আমর বলেন, আমরা জাবের (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায আদায়ের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি (জাবের) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহয়ের নামায দ্বিপ্রহরের পরপরই, আসরের নামায সূর্য উপরে থাকতেই এবং মাগরিবের নামায সূর্যাস্তের পরপরই আদায় করতেন। তিনি এশার নামায জনসমাগম অধিক হলে (অর্থাৎ সকলে জামাআতে উপস্থিত হলে) তাড়াতাড়ি আদায় করতেন এবং জনগণের উপস্থিতি কম হলে বিলম্ব করতেন, এবং অন্ধকার থাকতেই ফজরের নামায আদায় করতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
৩৯৮. হাফস ইবনু উমার .... আবূ বারযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহয়ের নামায আদায় করতেন এবং শেষপ্রান্তে যাওয়ার পর ফিরে আসা পর্যন্ত সূর্য অবশিষ্ট থাকত। রাবী বলেন, আমি মাগরিবের নামাযের সময়ের কথা ভুলে গিয়েছি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামায আদায়ের জন্য রাতের এক-তৃতীয়াশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। রাবী অন্য এক বর্ণনায় বলেন, রাতের অর্ধেক সময় পর্যন্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামায আদায়ের পূর্বে ঘুমালে এবং পরে বাক্যালাপ অপছন্দ করতেন। অতঃপর তিনি ফজরের নামায এমন সময় আদায় করতেন যে, পরিচিত ব্যক্তি পার্শ্বে উপবিষ্ট থাকিলে তাকে চেনা যেত না। তিনি ফজরের নামাযে ৬০ হতে ১০০ আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)।
৩৯৯. আহমদ ইবনু হাম্বল ..... জাবের ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যুহরের নামায আদায় করতাম। তিনি এক মুষ্টি পাথরের নুড়ি আমার হাতে দেন ঠান্ডা হওয়ার জন্য যেন আমি অত্যধিক গরমের কারণে তা আমার সিজদার স্থানে রেখে তার উপর সিজদা করতে পারি। (নাসাঈ)।
৪০০. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, গরমের সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের নামায- তিন হতে পাঁচ কদমের মধ্যের সময়ে এবং শীতকালে পাঁচ হতে সাত কদমের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করতেন। (নাসাঈ)।
৪০১. আবূল ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী .... আবূ যার (রাঃ) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। মুআযযিন যুহরের নামাযের আযান দিতে প্রস্তুত হলে তিনি বলেনঃ ঠান্ডা হতে দাও (অর্থাৎ রোদের প্রখরতা একটু নিস্তেজ হোক)। কিছুক্ষণ পর মুআযযিন পুনরায় আযান দিতে চাইলে তিনি আবার বলেন, ঠান্ডা হতে দাও। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা দুই অথবা তিনবার বলেন। এমতাবস্থায় যুহয়ের নামাযের সময় প্রায় শেষ বলে প্রতিয়মান হল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ’নিশ্চয়ই প্রচন্ড গরম জাহান্নামের প্রচন্ড তাপের অংশ বিশেষ।’ অতএব যখন অত্যধিক গরম পড়বে তখন যুহরের নামায বিলম্বে আদায় করবে। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)
৪০৩. মূসা ইবনু ইসমাঈল ..... জাবের ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। সূর্য যখন পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ত তখন বিলাল (রাঃ) যুহয়ের নামাযের আযান দিতেন। (মুসলিম, ইবনু মাজাহ)।
৫. আসরের নামাযের ওয়াক্ত।
হাদিস নং ৪০৪সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ مُرْتَفِعَةٌ حَيَّةٌ وَيَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى الْعَوَالِي وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪০৪. কুতায়বা ইবনু সাঈদ ..... আনাস্ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসরের নামায এমন সময় আদায় করতেন যখন সূর্য উপরে উজ্জ্বল অবস্থায় থাকত এবং কোন ব্যক্তি নামায শেষে ’আওয়ালীয়ে মদ্বীনা’ বা মদ্বীনার উচ্চ শহরতলীতে যাওয়ার পরেও সূর্য উপরে দেখতে পেত। (বুখারী, মুসলিম, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ)।
৪০৫. আল-হাসান ইবনু আলী ... ইমাম যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আওয়ালী’ নামক শহরতলীর দুরত্ব মদ্বীনা হতে ২ অথবা ৩ মাইল। রাবী বলেন, সন্তবতঃ ইমাম ঐ স্থানের দুরত্ব চার মাইলও বলেছেন।
৪০৬. ইউসুফ্ ইবনু মূসা .... খায়সামা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য জীবিত থাকার অর্থ তার উষ্ণতা অবশিষ্ট থাকা বা অনুভব করা।
হাদিস নং ৪০৭সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ عُرْوَةُ وَلَقَدْ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ .
বর্ণনাকারী: উরওয়াহ (রহঃ)
৪০৭. আল-কানবী ..... উরওয়া (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন সময় আসরের নামায আদায় করতেন যখন সূর্যের রশ্মি তাঁর ঘরের মধ্যে থাকত এবং তা দেয়ালে উঠার পূর্বে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মালেক, তিরমিযী)।
৪০৮. মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান ..... ইয়যীদ থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট মদ্বীনাতে আগমন করি এ সময় তিনি আসরের নামায সূর্যের রং উজ্জল থাকাবস্থায় (সূর্যের রং পরিবর্তিত হওয়ার পূর্বে আদায় করতেন।
৬. মধ্যবর্তী নামায (সালাতুল উসতা)।
হাদিস নং ৪০৯সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ " حَبَسُونَا عَنْ صَلاَةِ الْوُسْطَى صَلاَةِ الْعَصْرِ مَلأَ اللَّهُ بُيُوتَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا " .
বর্ণনাকারী: আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)
৪০৯. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খন্দকের যুদ্ধের সময় বলেনঃ তারা (ইহুদী কাফেররা) আমাদেরকে মধ্যবর্তী নামায অর্থাৎ আসরের নামায হতে বিরত রেখেছ। আল্লাহ্ তা’আলা তাদের ঘরবাড়ী ও কবরসমূহ আগুনে পরিপূর্ণ করুন। (বুখারী, মুসলিম তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ)।
৪১০. আল-কানবী ..... আবূ ইউনুস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাঃ) আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন তাঁর জন্য কুরআন লিপিবদ্ধ করি। আয়িশা (রাঃ) আরো বলেন, যখন তুমি এই আয়াতে পৌঁছবে তখন আমাকে অবহিত করবে এবং আমার অনুমতি চাইবে আয়াত হলঃ তোমরা নামায-সমূহের সরক্ষণ কর, বিশেষতঃ মধ্যবর্তী নামযসমূহের (সূরা বাকারাঃ ২৩৮)। রাবী বলেন, অতঃপর আমি উক্ত আয়াত লিপিবদ্ধ করার সময় তাকে অবহিত করে অনুমতি প্রার্থণা করি। আয়িশা (রাঃ) আমাকে তা এইরূপে লেখার নির্দেশ দেনঃ “তোমরা নামাযসমূহের হেফাজত কর, বিশেষভাবে মধ্যবর্তী নামাযের এবং আসরের নামাযের এবং আল্লাহ্ অনুগত হয়ে দাড়াও।” অতঃপর আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট তা শুনেছি। (মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী)।
হাদিস নং ৪১১সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي حَكِيمٍ، قَالَ سَمِعْتُ الزِّبْرِقَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الظُّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ وَلَمْ يَكُنْ يُصَلِّي صَلاَةً أَشَدَّ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا فَنَزَلَتْ ( حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى ) وَقَالَ " إِنَّ قَبْلَهَا صَلاَتَيْنِ وَبَعْدَهَا صَلاَتَيْنِ " .
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)
৪১১. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না .... যায়েদ ইবনু ছাবেত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে যাওয়ার পর যুহরের নামায প্রচন্ড গরম থাকাবস্থায় আদায় করতেন। সাহাবীদের জন্য এই নামাযের চাইতে কষ্টদায়ক (প্রচন্ড গরমের কারণে) অন্য কোন নামায ছিল না। অতঃপর এই আয়াত নাযিল হয়ঃ “তোমরা নামাযসমূহের হেফাযত কর, বিশেষভাবে মধ্যবর্তী নামাযের”। তিনি বলেন, এর পূর্বে দুই ওয়াক্ত ও পরে দুই ওয়াক্তের নামায আছে। (বুখারীর তারীখ, আহমাদ)।
৭. যে ব্যাক্তি (সূর্যাস্তের পূর্বে) এক রাকআত নামায পড়তে পারবে, সে যেন পুরা নামায পেয়ে গেল।
৪১২. আল-হাসান-ইবনুুর-রাবী .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাযের এক রাকাত আদায় করতে সক্ষম হয়েছে- সে যেন পুরা নামায (ওয়াক্তের মধ্যে) আদায় করল (এবং তা কাযা গণ্য হবে না)। অপরপক্ষে যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের নামাযের এক রাকাত আদায় করতে পারল সে যেন পুরা নামাযই (ওয়াক্ত থাকতেই) আদায় করল। (বুখারী, মুসলিম, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ, তিরমিযী)।
৮. সূর্যের রং হলুদ বর্ণ ধারন করা পর্যন্ত আসরের নামায আদায়ে বিলম্ব করা সম্পর্কে।
৪১৩. আল্-কানবী .... আল-আলা ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা যুহরের নামায আদায়ের পর আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) এর নিকট গিয়ে দেখলাম তিনি আসরের নামায আদায় করছেন। তাঁর নামায সমাপ্তির পর আমরা তাকে বললাম, নামায বেশী আগে আদায় করা হয়েছে। অথবা (আনাস) নিজেই নামায আগে আদায়ের কারণ বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি (আনাস) বলেন, এটা মুনাফিকদের নামায, এটা মুনাফিকদের নামায, এটা মুনাফিকদের নামায, এদের কেউ বসে থাকে অতঃপর সূর্যের রং যখন হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং তা শয়তানের উভয় শিংয়ের উপর অবস্থান করে (সূর্য অস্তগামী হয়) তখন সে নামায আদায় করার জন্য দন্ডায়মান হয়ে চারটি ঠোকর দিয়ে থাকে (অতি দ্রুত নামায সম্পন্ন করে, যাতে রুকু-সিজদা ঠিক মত আদায় হয় না) এবং সে ঐ নামাযের মধ্যে আল্লাহ্ তা’আলার যিকির অতি সামান্যই করে থাকে। (মুসলিম, মালেক, নাসাঈ, তিরমিযী)।
৯. আসরের নামায পরিত্যাগকারী সম্পর্কে।
হাদিস নং ৪১৪সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الَّذِي تَفُوتُهُ صَلاَةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ " أُتِرَ " . وَاخْتُلِفَ عَلَى أَيُّوبَ فِيهِ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وُتِرَ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪১৪. আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসলামা ..... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আসরের নামায হারাল (পড়ল না) সে যেন তার পরিবার-পরিজন ও ধনসস্পদ সব থেকে বঞ্চিত হল। (বুখারী, মুসলিম নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ)أُتِرَ শব্দ বলেছেন এবং এখানে আইউবের বর্ণনায় মতভেদ হয়েছে। ইমাম যুহরী (রহঃ) সালেমের সূত্রে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রেوُتِرَ শব্দের উল্লেখ করেছেন (অর্থাৎ সে নিঃসম্বল হয়ে গেল)।
৪১৫. মাহমুদ ইবনু খালিদ ..... আবূ আমর আল্-আওযাঈ (রহঃ) বলেছেন, আসরের নামাযের সর্বশেষ সময় হল যখন সূর্যের হলুদ রং জমীনে প্রতিভাত হতে দেখা যায় (এরপর মাকরূহ সময় শুরু হয়)।
১০. মাগরিবের নামাযের ওয়াক্ত।
হাদিস নং ৪১৬সহিহ
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الْمَغْرِبَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَرْمِي فَيَرَى أَحَدُنَا مَوْضِعَ نَبْلِهِ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪১৬. দাউদ ইবনু শাবীব ..... আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মাগরিবের নামায পড়তাম। অতঃপর আমরা তীর নিক্ষেপ করতাম। তা পতিত হওয়ার স্থান আমাদের যে কেউ দেখতে পেত। (বুখারী, মুসলিম, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৪১৭সহিহ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عِيسَى، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْمَغْرِبَ سَاعَةَ تَغْرُبُ الشَّمْسُ إِذَا غَابَ حَاجِبُهَا .
বর্ণনাকারী: সালামাহ ইবনু আক্ওয়া‘ (রাঃ)
৪১৭. আমর ইবনু আলী ..... সালামা ইবনুল আক্ওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অস্তগামী সূর্যের উপরের অংশ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পরপরই মাগরিবের নামায আদায় করতেন। (বুখারী, মুসলিম, ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)।
৪১৮. উবায়দুল্লাহ্ ইবনু উমার ..... মারছাদ ইবনু আবদুল্লাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ আইউব (রাঃ) গাযী (সৈনিক) হিসাবে মিসরে আসেন উকবা ইবনু আমির (রাঃ) সেখানকার গভর্নর ছিলেন। উকবা (রাঃ) একদা মাগরিবের নামায আদায়ে বিলম্ব করলে তিনি (আবূ আইউব) দাঁড়িয়ে বলেন, হে উকবা! এ কেমন নামায? উকবা (রাঃ) ওজর পেশ করে বলেন, আমরা অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আবূ আইউব (রাঃ) দাড়িঁয়ে তাঁর সামনে বলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেন নিঃ আমার উম্মাতগণ ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে অথবা আসল অবস্থায় থাকবে যতদিন তারা মাগরিবের নামায নক্ষত্ররাজী আলোক বিকিরণ করবার আগেই আদায় করবে।
৪১৯. মুসাদ্দাদ ..... নোমান ইবনু বশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এশার নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে অন্যদের তুলনায় অধিক অবগত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই নামায তৃতীয়ার চাঁদ অস্তমিত হওয়া পরিমাণ সময়ের পর আদায় করতেন। (তিরমিযী, নাসাঈ, দারিমী)।
৪২০. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা এশার নামায আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আসার অপেক্ষায় ছিলাম। তিনি রাতের এক-তৃতীয়াংশ অথবা আরো কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আগমন করেন। তিনি কি কারণে বিলম্ব করেন তা আমরা অবগত ছিলাম না। তিনি এসে বলেনঃ তোমরা কি এই নামাযের প্রতীক্ষায় ছিলে? যদি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টদায়ক না হত, তবে আমি প্রত্যহ এশার নামায এই সময়ে আদায় করতাম। অতঃপর তিনি মুআযযিনকে ইকামত দেয়ার নির্দেশ দেন এবং তিনি সকলকে নিয়ে নামায আদায় করেন। (মুসলিম, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৪২১সহিহ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ حُمَيْدٍ السَّكُونِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، يَقُولُ ارْتَقَبْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْعَتَمَةِ فَأَخَّرَ حَتَّى ظَنَّ الظَّانُّ أَنَّهُ لَيْسَ بِخَارِجٍ وَالْقَائِلُ مِنَّا يَقُولُ صَلَّى فَإِنَّا لَكَذَلِكَ حَتَّى خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا لَهُ كَمَا قَالُوا فَقَالَ لَهُمْ " أَعْتِمُوا بِهَذِهِ الصَّلاَةِ فَإِنَّكُمْ قَدْ فُضِّلْتُمْ بِهَا عَلَى سَائِرِ الأُمَمِ وَلَمْ تُصَلِّهَا أُمَّةٌ قَبْلَكُمْ " .
বর্ণনাকারী: মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ)
৪২১. আমর ইবনু উছমান ..... আসেম (রহঃ) থেকে মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা এশার নামায আদায়ের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতীক্ষায় ছিলাম। তিনি সেদিন এত বিলম্ব করেন যে, ধারণাকারীর নিকট এরূপ প্রতীয়মান হয় যে, তিনি আদৌ বের হবেন না। আমাদের কেউ কেউ এরূপ মন্তব্য করল যে, হয়ত তিনি ঘরেই নামায আদায় করেছেন। আমরা যখন এরূপ অবস্থায় ছিলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হলেন। তখন সাহাবায়ে কিরাম যা বলাবলি করছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাই বলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা এই নামায বিলম্বে আদায় করবে। কেননা এই নামাযের কারণেই অন্যান্য উম্মাতগণের উপরে তোমাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত। ইতিপূর্বে কোন নবীর উাম্মাত এই নামায আদায় করে নি।
৪২২. মুসাদ্দাদ ...... আবূ সাঈদ আল্-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এশার নামায আদায় করি সেদিন আনুমানিক তিনি অর্ধ রাত অতিবহিত হওয়ার পর এশার নামায আদায় করতে আসেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমরা স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান কর। অতএব আমরা নিজেদের স্থানে বসে থাকি। অতঃপর তিনি বলেনঃ অনেকেই এশার নামায আদায় করে শুইয়ে পড়েছে। তোমরা যতক্ষণ এই নামাযের জন্য অপেক্ষা করেছ, ততক্ষগ তোমরা নামায আদায়কারী হিসাবে পরিগণিত হয়েছ। যদি দুর্বলের দুর্বলতা ও রোগীর রোগগ্রস্ততার আশংকা না থাকত, তবে আমি এই নামায আদায়ের জন্য অর্ধ-রজনী পর্যন্ত বিলম্ব করতাম। (নাসাঈ ইবনু মাজাহ)।
১২. ফজরের নামাযের ওয়াক্ত।
হাদিস নং ৪২৩সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُصَلِّي الصُّبْحَ فَيَنْصَرِفُ النِّسَاءُ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ مَا يُعْرَفْنَ مِنَ الْغَلَسِ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪২৩. আল্-কানবী ..... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন সময় ফজরের নামায পড়তেন যে, মহিলারা চাঁদর গায়ে দিয়ে প্রত্যাবর্তন করত এবং অন্ধকারের কারণে তাদের চেনা যেত না। (বুখারী, মুসলিম, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ, তিরমিযী)।
৪২৪. ইসহাক .... রাফে ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পূর্ব দিগন্ত পরিষ্কার হওয়ার পর ফজরের নামায আদায় করবে; কেননা এর মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম বিনিময় রয়েছে। (নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)।
৪২৫. মুহাম্মাদ ইবনু হারব ...... আবদুল্লাহ্ ইবনুুস-সুনাবিহী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মুহাম্মাদের মতানুযায়ী বেতেরের নামায ওয়াজিব (ফরয)। উবাদা ইবনুস-সামিত (রাঃ) বলেন, আবূ মুহাম্মাদের ধারণা সঠিক নয়। আমি এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন পাঁচ ওয়াক্তের নামায ফরয করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নির্ধাবিত সময়ে বিনয়ের সাথে নামায আদায় করবে-তার জন্য আল্লাহর প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে, আল্লাহ্ তার সমস্ত পাপ মাফ করবেন। অপরপক্ষে যারা এরূপ করবে না তাদের জন্য আল্লাহর কোন অঙ্গীকার নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাদের ক্ষমা করবেন অন্যথায় শাস্তি দেবেন। (আহমদ, নাসাঈ, ইবনু মাজা, মালেক)।
হাদিস নং ৪২৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ غَنَّامٍ، عَنْ بَعْضِ، أُمَّهَاتِهِ عَنْ أُمِّ فَرْوَةَ، قَالَتْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ " الصَّلاَةُ فِي أَوَّلِ وَقْتِهَا " . قَالَ الْخُزَاعِيُّ فِي حَدِيثِهِ عَنْ عَمَّةٍ لَهُ يُقَالُ لَهَا أُمُّ فَرْوَةَ قَدْ بَايَعَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ .
বর্ণনাকারী: উম্মু ফারওয়া (রাঃ)
৪২৬. মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ্ ..... উম্মে ফারওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ ওয়াক্তের প্রথম ভাগে নামায আদায় করা সর্বোত্তম কাজ। (তিরমিযী)।
আল-খুযাঈ তাঁর হাদীছে বলেন, তাঁর ফুফু উম্মে ফারওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বাই’আত হয়েছিলেন।
৪২৭. আমর ইবনু আওন .... আবদুল্লাহ্ ইবনু ফাদালা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে শরীআতের হুকুম-আহকাম সম্পর্কে শিক্ষা দেন। তিনি আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছিলেন তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিলঃ পাঁচ ওয়াক্তের নামাযের হিফাযত সঠিকভাবে করবে। আমি বলি, এই সময়ে আমি কর্মব্যস্ত থাকি। অতএব আমাকে এমন একটি পরিপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষা দিন যা আমল করলে আমার অন্য কিছু করার প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেনঃ তুমি দু’টি আসরের (সময়ের) হিফাযত কর। রাবী বলেন, তা আমাদের পরিভাষায় না থাকায় আমি তাঁকে দু’টি আসর কি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ সূর্যোদয়ের পূর্বের নামায এবং সূর্যাস্তের পূর্বের নামায (অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামায) সঠিক সময়ে আদায় করবে। (নাসাঈ, মুসলিম )।
হাদিস নং ৪২৮সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عُمَارَةَ بْنِ رُؤَيْبَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَأَلَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ فَقَالَ أَخْبِرْنِي مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَلِجُ النَّارَ رَجُلٌ صَلَّى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ " . قَالَ أَنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ . قَالَ نَعَمْ . كُلَّ ذَلِكَ يَقُولُ سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ وَوَعَاهُ قَلْبِي . فَقَالَ الرَّجُلُ وَأَنَا سَمِعْتُهُ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ذَلِكَ .
বর্ণনাকারী: উমারাহ ইবনে রুবিয়্যাহ (রাঃ)
৪২৮. মুসাদ্দাদ .... আবূ বকর ইবনু উমারা থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁকে বসরার এক লোক প্রশ্ন করে, আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে যা শুনেছেন তা আমাকে কিছু বলুন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে নামায (ফজর ও আসর) আদায় করবে সে দোযখে প্রবেশ করবে না। তখন তিনি বলেন, আপনি কি তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে শুনেছেন? এরূপ উক্তি তিনি তিনবার করেন। জবাবে উমারা (রাঃ) বলেনঃ হ্যাঁ, এর সবটাই আমি আমার দুই কানে শুনেছি এবং অন্তরের সাথে হিফাজত করেছি। তখন ঐ ব্যক্তি (সাহাবী) বলেন, আমিও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বলতে শুনেছি।
৪২৯. মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান ..... আবূদ-দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পাঁচটি জিনিস ঈমানের সাথে সস্পাদন করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামায তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) ও রুকু-সিজদা সহকারে এবং ওয়াক্ত মত আদায় করবে, রমযানের রোযা রাখবে, সামর্থ থাকলে বাইতুল্লাহর হজ্জ করবে, মনকে পবিত্র করার উদ্দেশ্যে যাকাত দিবে এবং আমানত আদায় করবে। লোকেরা বলল, হে আবূদ-দারদা! আমানত আদায়ের অর্থ কি? তিনি বলেন, নাপাকীর গোসল।
৪৩০. হায়ওয়াত ইবনু শুরায়হ্ আল-মিসরী ..... আবূ কাতাদা ইবনু রিবঈ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ্ বলেন, নিশ্চিত আমি আপনার উম্মাতের উপর পাচঁ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছি এবং আমি নিজের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিঃ যে ব্যক্তি তা সঠিক ওয়াক্তসমূহে আদায় করবে; আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যে ব্যক্তি তার হেফাজত করে না; তার জন্য আমার পক্ষ থেকে কোন প্রতিশ্রুতি নেই। (ইবনু মাজাহ)।
৪৩১. মুসাদ্দাদ .... আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আবূ যার! যখন শাসকগগ নামায আদায়ে বিলম্ব করবে-তখন তুমি কি করবে? জবাবে আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ ব্যাপারে আমার জন্য আপনার নির্দেশ কি? তিনি বলেনঃ তুমি নির্ধারিত সময়ে একাকী নামায আদায় করবে। তাতঃপর যদি তুমি ঐ ওয়াক্তের নামায তাদেরকে জামাআতে আদায় করতে দেখ, তবে তুমিও তাদের সাথে জামাআতে শামিল হবে এবং তা তোমার জন্য নফল হবে। (মুসলিম, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ)।
৪৩২. আব্দুর রহমান ইবনু ইব্রাহীম ..... আমর ইবনু মায়মূন (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিনিধি হিসাবে আমাদের নিকট ইয়ামনে আগমন করেন। ফজরেব নামাযে তাঁর কন্ঠস্বর বড় ছিল। এবং তাঁর সাথে আমার প্রগাঢ় মহব্বত সৃষ্টি হওয়ায় আমি তাঁর সাথে অবস্থান করতাম। অতঃপর শামদেশে তিনি ইন্তেকাল করলে আমি তাঁকে সেখানে দাফন করি তাঁর ইন্তেকালের পর আমি অপর একজন জ্ঞান তাপস সাহাবীর অন্বেষণে বের হয়ে ইবনু মাসউদ (রাঃ)-র খিদমতে হাযির হই এবং তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত তাঁর সাথে অবস্থান করি একদা ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেনঃ যখন শাসকবর্গ বিলম্বে নামায আদায় করবে তখন তুমি কি করবে? আমি বলি- ইয়া রাসূল্লাল্লাহ্ এমতাবস্হায় আপনি আমাকে কি করার নির্দেশ দেন? তিনি বলেনঃ তুমি নির্ধারিত সময়ে একাকী নামায আদায় করবে। অতঃপর তাদের সাথে জামাআতে আদায়কৃত নামায পুনরায় নফল হিসাবে আদায় করবে- ইবনু মাজাহ)।
৪৩৩. মুহাম্মাদ ইবনু কুদামা .... উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমার ইন্তেকালের পর এমন এক সময় আসবে যখন শাসকগণ নির্ধারিত (মুস্তাহাব) সময়ে নামায আদায়ে বিলম্ব করবে এমনকি মুস্তাহাব সময় শেষ হয়ে যাবে। কাজেই এসময় তুমি একাকী হলেও নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করে নিবে। তখন এক ব্যক্তি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি পরে তাদের সাথে আবার নামায আদায় করব? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, করতে পার যদি তুমি ইচ্ছা কর। (মুসনাদে আহমদ)।
৪৩৪. আবূল ওয়ালীদ ..... কাবীসা ইবনু ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরে এমন এক সময় আসবে যখন আমীরগণ যথা সময়ে নামায আদায়ে বিলম্ব করবে। এটা তোমাদের জন্য উপকারী কিন্তু-তাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তোমরা তাদের সাথে একত্রে ততদিন নামায আদায় করবে যতদিন তাঁরা কিবলামুখী হয়ে নামায পড়বে অর্থাৎ মুসলিম থাকবে।
১৫. নামাযের সময় ঘুমিয়ে থাকলে বা ভুলে গেলে কি করতে হবে?
হাদিস নং ৪৩৫সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَفَلَ مِنْ غَزْوَةِ خَيْبَرَ فَسَارَ لَيْلَةً حَتَّى إِذَا أَدْرَكَنَا الْكَرَى عَرَّسَ وَقَالَ لِبِلاَلٍ " اكْلأْ لَنَا اللَّيْلَ " . قَالَ فَغَلَبَتْ بِلاَلاً عَيْنَاهُ وَهُوَ مُسْتَنِدٌ إِلَى رَاحِلَتِهِ فَلَمْ يَسْتَيْقِظِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَلاَ بِلاَلٌ وَلاَ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ حَتَّى إِذَا ضَرَبَتْهُمُ الشَّمْسُ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوَّلَهُمُ اسْتِيقَاظًا فَفَزِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " يَا بِلاَلُ " . فَقَالَ أَخَذَ بِنَفْسِي الَّذِي أَخَذَ بِنَفْسِكَ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَاقْتَادُوا رَوَاحِلَهُمْ شَيْئًا ثُمَّ تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ لَهُمُ الصَّلاَةَ وَصَلَّى بِهِمُ الصُّبْحَ فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ قَالَ " مَنْ نَسِيَ صَلاَةً فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ ( أَقِمِ الصَّلاَةَ لِلذِّكْرَى ) " . قَالَ يُونُسُ وَكَانَ ابْنُ شِهَابٍ يَقْرَؤُهَا كَذَلِكَ . قَالَ أَحْمَدُ قَالَ عَنْبَسَةُ - يَعْنِي عَنْ يُونُسَ - فِي هَذَا الْحَدِيثِ لِذِكْرِي . وَقَالَ أَحْمَدُ الْكَرَى النُّعَاسُ .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৩৫. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খায়বারের যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তনের সময় এক রাতে যাত্রা অব্যাহত রাখেন। আমরা নিদ্রালু হয়ে পড়ায় তিনি রাতের শেযভাগে বিশ্রামের উদ্দেশ্যে বাহন হতে অবতরণ করেন এবং বিলাল (রাঃ)-কে বলেনঃ তুমি জেগে থাক এবং রাতের দিকে খেয়াল রাখ। অতঃপর বিলাল (রাঃ)-ও নিদ্রাকাতর হয়ে পড়েন এবং তিনি নিজের উটের সাথে হেলান দেয়া অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিলাল (রাঃ) এবং সহগামী সাহাবীদের কেউই জাগরিত হন নাই যতক্ষণ না সূর্যের তাপ তাদেরকে স্পর্শ করে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই সর্বপ্রথম ঘুম হতে জাগরিত হন এবং অস্থির হয়ে পড়েন।
অতঃপর তিনি বিলাল (রাঃ)-কে বলেনঃ হে বিলাল! জবাবে বিলাল (রাঃ) ওজর পেশ করে বলেন! ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক। যে মহান সত্তা আপনার জীবন ধরে রেখেছিলেন সেই মহান সত্বা আমার জীবনও ধরে রেখেছিলেন। অতঃপর তারা উক্ত স্থান পরিত্যাগ করে কিছু দূর যাওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন এবং বিলাল (রাঃ)-কে নামাযের ইকামত দিতে বলেন। তিনি সকলকে নিয়ে নামায আদায় করেন। নামায শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি নামায (আদায় করতে) ভুলে যাবে সে যেন স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে তা আদায় করে। কেননা আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেছেনঃ “তোমরা আমার স্মরণের জন্য নামায কায়েম কর”। (মুসলিম, ইবনু মাজাহ, তিরমিযী, নাসাঈ)।
৪৩৬. মূসা ইবনু ইসমাঈল ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) পূর্বোক্ত হাদীছের বর্ণনা পরস্পরায় বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে স্থানে তোমরা গাফলতিতে নিমজ্জিত হয়েছ- সে স্থান ত্যাগ কর। রাবী বলেন, উক্ত স্থান ত্যাগের পর অন্য স্থানে পৌছে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দেওয়ায় তিনি আযান ও ইকামত দেন এবং তিনি সকলকে নিয়ে নামায আদায় করেন।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, উক্ত হাদীছ মালেক, সুফিয়ান, আওযাঈ, আব্দুর রাযযাক- সকলে মা’মার ও ইবনু ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন। তাদের বর্ণনায় কেউই আযানের কথা উল্লেখ করেননি।
৪৩৭. মূসা ইবনু ইসমাঈল .... আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সফরে ছিলেন। তিনি একদিকে মনোনিবেশ করলেন এবং আমিও তাঁর সাথে মনোনিবেশ করলাম। অতঃপর তিনি বলেনঃ লক্ষ্য কর। তখন আমি বলি এই একজন আরোহী, এই দুইজন আরোহী, এই তিনজন আরোহী- এইরূপে আমরা গণনায় সাত পর্যন্ত পৌছাই। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা আমাদের ফজরের নামাযের প্রতি দৃষ্টি রাখ। অতঃপর রাবী বলেন যে, তাদের কান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল (সকলে ঘুমিয়ে পড়েছিল) এবং রৌদ্রের তাপ গায়ে লাগার পূর্বে কেউই ঘুম হতে উঠতে পারেননি। ঘুম হতে বেলা উঠার পর জাগ্রত হয়ে তারা উক্ত স্থান ত্যাগ করে সামান্য দূর যাওয়ার পর অবতরণ করে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন।
অতঃপর বিলাল (রাঃ) আযান দেওয়ার পর তারা প্রথমে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত, অতঃপর দুই রাকাত ফরয নামায আদায় করে উক্ত স্থান ত্যাগ করেন। অতঃপর তাঁরা পরস্পর বলাবলি করতে থাকেন, আমরা নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় না করে গুনাহগার হয়েছি। এতদশ্রবণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ অনিচ্ছাকৃত ভাবে নির্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে কেউ যদি নামায কাযা করে তবে তা অন্যায় নহে। অবশ্য জাগ্রত থাকাবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে নামায কাযা করলে অন্যায় হবে। অতএব তোমাদের কেউ যখন নামায আদায়ের কথা ভুলে যায়, সে যেন স্মরণ হওয়া মাত্রই তা আদায় করে এবং পরবর্তী দিন উক্ত সময়ের নামাযটি তার নির্ধারিত সময়ে যেন আদায় করে। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)।
হাদিস নং ৪৩৮শা'জ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ سُمَيْرٍ، قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبَاحٍ الأَنْصَارِيُّ مِنَ الْمَدِينَةِ وَكَانَتِ الأَنْصَارُ تُفَقِّهُهُ - فَحَدَّثَنَا قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو قَتَادَةَ الأَنْصَارِيُّ فَارِسُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَيْشَ الأُمَرَاءِ بِهَذِهِ الْقِصَّةِ . قَالَ فَلَمْ تُوقِظْنَا إِلاَّ الشَّمْسُ طَالِعَةً فَقُمْنَا وَهِلِينَ لِصَلاَتِنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " رُوَيْدًا رُوَيْدًا " . حَتَّى إِذَا تَعَالَتِ الشَّمْسُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَ مِنْكُمْ يَرْكَعُ رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ فَلْيَرْكَعْهُمَا " . فَقَامَ مَنْ كَانَ يَرْكَعُهُمَا وَمَنْ لَمْ يَكُنْ يَرْكَعُهُمَا فَرَكَعَهُمَا ثُمَّ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُنَادَى بِالصَّلاَةِ فَنُودِيَ بِهَا فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِنَا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " أَلاَ إِنَّا نَحْمَدُ اللَّهَ أَنَّا لَمْ نَكُنْ فِي شَىْءٍ مِنْ أُمُورِ الدُّنْيَا يَشْغَلُنَا عَنْ صَلاَتِنَا وَلَكِنَّ أَرْوَاحَنَا كَانَتْ بِيَدِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَأَرْسَلَهَا أَنَّى شَاءَ فَمَنْ أَدْرَكَ مِنْكُمْ صَلاَةَ الْغَدَاةِ مِنْ غَدٍ صَالِحًا فَلْيَقْضِ مَعَهَا مِثْلَهَا " .
৪৩৮. আলী ইবনু নাসর .... খালিদ ইবনু সুমাইর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবনু রাবাহ্ আনসারী (রাঃ) মদ্বীনা হতে আমাদের নিকট আগমন করেন। মদ্বীনার আনসারগগ তাঁকে একজন বিশিষ্ট ফকীহ (ফিকাহ্ তত্ত্ববিদ আলেম) হিসাবে গণ্য করতেন। রাবী বলেন, আবদুল্লাহ্ আনসারী (রাঃ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেন যে, আবূ কাতাদা আল্-আনসারী (রাঃ) যিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘোড়া রক্ষক ছিলেন- তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুতার যুদ্ধে সৈন্য প্রেরণ করেন … পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ।
রাবী বলেন, সূর্যের রশ্মি আমাদের শরীর স্পর্শ করার পর আমরা ঘুম হতে জগ্রত হই। ঐ সময় আমরা আমাদের নামাযের জন্য অস্থির হয়ে পড়ি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামঃ এ স্থান ত্যাগ কর, ত্যাগ কর। তাঁরা ঐ স্থান ত্যাগ করে যাওয়ার পর যখন কিছুটা উপরে উঠল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যারা সফরের সময় ফজরের নামাযের দুই রাকাত সুন্নাত আদায়ে অভ্যস্ত-তারা যেন তা আদায় করে নেয়। অতঃপর উপস্থিত সাহাবাগণ ফজরের দুই রাকাত (সুন্নাত) আদায় করেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযান দেওয়ার নির্দেশ দেন। আযানের পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সলাম আমাদের ফজরের দুই রাকাত ফরয নামায আদায় করেন।
নামায আদায়ের পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্বোধন করে বলেনঃ তোমরা জেনে রাখ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দুনিয়ার কোন কাজকর্ম আমাদের এই নামায আদায় করা হতে বিরত রাখেনি, বরং আমাদের আত্মাসমূহ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল। অতঃপর তাঁর ইচ্ছানুযায়ী তা আমাদের নিকট ফেরত পাঠিয়েছেন। তোমাদের কেউ যখন আগামী দিনের ফজরের নামায ঠিক সময়ে পাবে তবে সে যেন এ ওয়াক্তের সাথে এই কাযা নামাযটিও আদায় করে।
৪৩৯. আমর ইবনু আওন .... আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত। রাবী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের আত্মাগুলিকে যতক্ষণ ইচ্ছা স্বীয় নিয়ন্ত্রণে রাখেন, অতঃপর তা ফিরিয়ে দেন। অতঃপর তিনি ঐ স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি বিলাল (রাঃ)-কে আযান দিতে বলায় তিনি আযান দিলে-সকলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন। ইতিমধ্যে সূর্য উপরে উঠে যায় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে ঐ নামায আদায় করেন। (বুখারী, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৪৪০সহিহ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْثَرٌ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ فَتَوَضَّأَ حِينَ ارْتَفَعَتِ الشَّمْسُ فَصَلَّى بِهِمْ .
বর্ণনাকারী: আবূ কাতাদাহ্ আল-আনসারী (রাঃ)
৪৪০. হান্নাদ .... আবূ কাতাদা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে … পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ। রাবী বলেন, সূর্য কিছু উপরে উঠার পর সকলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নামায আদায় করেন। (বুখারী, নাসাঈ)।
৪৪১. আল-আব্বাস আল-আনবারী .... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ঘুমের কারণে নামায কাযা হলে অন্যায় নয়, বরং জগ্রত অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে নামায এত বিলম্বে আদায় করা অন্যায়, যাতে অন্য ওয়াক্ত উপনীত হয়। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৪৪২সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ نَسِيَ صَلاَةً فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا لاَ كَفَّارَةَ لَهَا إِلاَّ ذَلِكَ " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪২. মুহাম্মাদ ইবনু কাছীর .... আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি নামায আদায়ের কথা ভুলে যায় সে যেন স্মরণ হওয়া মাত্রই তা আদায করে। কাযা নামাযের কাফফারা হল তা আদায় করা। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)।
৪৪৩. ওয়াহব ইবনু বাকিয়্যা ..... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক দীর্ঘ সফর হতে প্রত্যাবর্তনের সময় ফজরের নামাযের ওয়াক্তে সকলে নিদ্রাচ্ছন্ন থাকেন। তাঁরা সূর্যোত্তাপ শরীরে লাগার পর জাগ্রত হন। অতঃপর স্থান ত্যাগ করে কিছু দূরে যাওয়ার পর সূর্য কিছু উপরে উঠলে তিনি মুয়াযযিনকে আযান দেওয়ার নির্দেশ দেন। মুআযযিন আযান দিলে তাঁরা প্রথমে ফজরের দু’রাকাত সুন্নাত নামায আদায় করেন এবং ইকামতের পর ফরয নামায আদায় করেন। (বুখারী, মুসলিম)।
৪৪৪. আব্বাস আল-আনবারী .... আমর ইবনু উমাইয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। তিনি ফজরের নামাযের সময় ঘুমে কাতর ছিলেন। সূর্যোদয়ের পর ঘুম থেকে জাগরিত হয়ে সাহাবীদের উক্ত স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি অন্য এক স্থানে উপনীত হয়ে বিলাল (রাঃ)-কে আযান দিতে বলেন। তিনি আযান দিলে সাহাবীগণ উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে দু’রাকাত সুন্নাত নামায আদায় করেন। অতঃপর বিলাল (রাঃ)-কে ইকামতের নির্দেশ দিলে তিনি ইকামত দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলকে নিয়ে ফজরের ফরয নামায আদায় করেন।
হাদিস নং ৪৪৫সহিহ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ أَبِي الْوَزِيرِ، حَدَّثَنَا مُبَشِّرٌ، - يَعْنِي الْحَلَبِيَّ - حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، - يَعْنِي ابْنَ عُثْمَانَ - حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ ذِي، مِخْبَرٍ الْحَبَشِيِّ وَكَانَ يَخْدُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَتَوَضَّأَ - يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - وُضُوءًا لَمْ يَلْثَ مِنْهُ التُّرَابُ ثُمَّ أَمَرَ بِلاَلاً فَأَذَّنَ ثُمَّ قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ غَيْرَ عَجِلٍ ثُمَّ قَالَ لِبِلاَلٍ " أَقِمِ الصَّلاَةَ " . ثُمَّ صَلَّى الْفَرْضَ وَهُوَ غَيْرُ عَجِلٍ . قَالَ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ صُلَيْحٍ حَدَّثَنِي ذُو مِخْبَرٍ رَجُلٌ مِنَ الْحَبَشَةِ وَقَالَ عُبَيْدٌ يَزِيدُ بْنُ صَالِحٍ .
৪৪৫. ইব্রাহীম ..... যু-মিখবার আল-হাবশী (নাজ্জাশীর ভ্রাতাষ্পুত্র) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমত করতেন। পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা পূর্বক বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন। অতঃপর তিনি বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলে তিনি আযান দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দন্ডায়মান হয়ে শান্তভাবে দুই রাকাত ফজরের সুন্নাত নামায আদায় করেন। অতঃপর বিলাল (রাঃ)-কে ইকামত দিতে বলেন। তিনি ইকামত দিলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে ধীরস্হিরভাবে ফজরের দু’রাকাত ফরয নামায আদায় করেন।
৪৪৬. মুআম্মাল .... যু-মিখবার হতে পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর বিলাল (রাঃ) ধীরস্থিরভাবে আযান দেন।
হাদিস নং ৪৪৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي عَلْقَمَةَ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، قَالَ أَقْبَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ يَكْلَؤُنَا " . فَقَالَ بِلاَلٌ أَنَا . فَنَامُوا حَتَّى طَلَعَتِ الشَّمْسُ فَاسْتَيْقَظَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " افْعَلُوا كَمَا كُنْتُمْ تَفْعَلُونَ " . قَالَ فَفَعَلْنَا . قَالَ " فَكَذَلِكَ فَافْعَلُوا لِمَنْ نَامَ أَوْ نَسِيَ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৪৭. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না ..... আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস্উদ (রাঃ) বলেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সালাইহে ওয়া সাল্লামের সফরসংগী ছিলাম। ঐ সময় রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাদের পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব কে গ্রহণ করবে? তখন বিলাল (রাঃ) বলেন, আমি। অতঃপর সকলে ঘুমিয়ে পড়েন এমনকি সূর্যোদয়ের পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুম হতে জাগরিত হয়ে বলেনঃ তোমরা ঐরূপ কর যেরূপ তোমরা করতে- অর্থাৎ সুর্যোদয়ের পূর্বে তোমরা যেরূপ এই নামায আদায় করতে- এখনও সেভাবে তা আদায় কর।
রাবী বলেন, অতঃপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ মোতাবেক উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে আযান, ইকামত ও জামাআতের সাথে নামায আদায় করি। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি নামায আদায় করতে ভুলে যাবে বা ঘুমিয়ে থাকার ফলে আদায় করতে পারবে না; সে যেন তার কাযা এইরূপে আদায় করে। (নাসাঈ)।
৪৪৮. মুহাম্মাদ ইবনুস-সাব্বাহ্ .... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আমাকে বেশী উঁচু করে মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেয়া হয়নি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তোমরা মসজিদ এমনভাবে কারুকার্য করবে যেমনটি ইহুদী ও নাসারারা নিজ নিজ উপাসনালয় নকশা ও কারুকার্য মন্ডিত করে থাকে।
হাদিস নং ৪৪৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ، وَقَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَبَاهَى النَّاسُ فِي الْمَسَاجِدِ " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪৯. মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ্ আল-খূযাঈ .... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ লোকেরা মসজিদে পরস্পরের মধ্যে (নির্মাণ ও কারুকার্য নিয়ে) গর্ব না করা পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না। (নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৪৫০. রাজাআ ইবনুল-মুরাজ্জা .... উছমান ইবনু আবূল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে তায়েফের ঐ স্থানে মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দান করেন, যেখানে মুর্তি পূজারীদের মূর্তিঘর ছিল। (ইবনু মাজাহ)।
৪৫১. মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া ..... আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে মসজিদে নববী ইটের দ্বারা তৈরী ছিল এবং তার ছাদ ছিল খেজুর গাছের ডাল ও গুড়ির দ্বারা তৈরী। মুজাহিদ বলেন, তার স্তম্ভগুলি ছিল শুকনা খেজুর গাছের। আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) তাতে কোন পরিবর্তন-পরিবর্ধন করেননি। উমার (রাঃ) তাঁর শাসনামলে তা কিছুটা প্রশস্ত করেন; কিন্তু তাঁর মূল ভিত্তি ছিল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কাঁচা ইটের তৈরী দেওয়াল ও খেজুর পাতার ছাউনীতে। তিনি স্তম্ভগুলি পরিবর্তন করেন- কিন্তু মূল বুনিয়াদের মধ্যে কোন পরিবর্তন করেননি। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, তার স্তম্ভগুলি ছিল শুকনা খেজুর গাছের। উছমান (রাঃ) এর সময় তিনি তার পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে তা অনেক প্রশস্ত করেন। তিনি কাঁচা ইটের পরিবর্তে নকশা খচিত প্রস্তর ও চুনা দ্বারা তার দেওয়াল নির্মাণ করেন এবং তার স্তম্ভগুলিও নকশা খচিত পাথর দ্বারা নির্মাণ করেন। তিনি সেগুন কাঠ দ্বারা (যা হিন্দুস্থানে পাওয়া যায়) এর ছাদ নির্মাণ করেন। (বুখারী)।
হাদিস নং ৪৫২যঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ مَسْجِدَ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم كَانَتْ سَوَارِيهِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ جُذُوعِ النَّخْلِ أَعْلاَهُ مُظَلَّلٌ بِجَرِيدِ النَّخْلِ ثُمَّ إِنَّهَا نَخِرَتْ فِي خِلاَفَةِ أَبِي بَكْرٍ فَبَنَاهَا بِجُذُوعِ النَّخْلِ وَبِجَرِيدِ النَّخْلِ ثُمَّ إِنَّهَا نَخِرَتْ فِي خِلاَفَةِ عُثْمَانَ فَبَنَاهَا بِالآجُرِّ فَلَمْ تَزَلْ ثَابِتَةً حَتَّى الآنَ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৫২. মুহাম্মাদ ইবনু হাতেম ..... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় মসজিদে নববীর ছাদ ছিল খেজুর পাতার তৈরী এবং আড়া ছিল খেজুরের গাছের। আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর যামানায় তা পুরাতন ও বিনষ্ট হওয়ায় তিনি তা পূর্বের ন্যায় খেজুরের গাছ ও পাতার দ্বারা পুনরায় নির্মাণ করেন। অতঃপর উছমান (রাঃ) এর শাসনামলে তা বিনষ্ট হওয়ায় তিনি তা পাকা ইট ও প্রস্তর দ্বারা নির্মাণ করেন। এখনও তা অক্ষত অবস্থায় বিরাজিত।
হাদিস নং ৪৫৩সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَنَزَلَ فِي عُلْوِ الْمَدِينَةِ فِي حَىٍّ يُقَالُ لَهُمْ بَنُو عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ فَأَقَامَ فِيهِمْ أَرْبَعَ عَشَرَةَ لَيْلَةً ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى بَنِي النَّجَّارِ فَجَاءُوا مُتَقَلِّدِينَ سُيُوفَهُمْ - فَقَالَ أَنَسٌ - فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى رَاحِلَتِهِ وَأَبُو بَكْرٍ رِدْفَهُ وَمَلأُ بَنِي النَّجَّارِ حَوْلَهُ حَتَّى أَلْقَى بِفِنَاءِ أَبِي أَيُّوبَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي حَيْثُ أَدْرَكَتْهُ الصَّلاَةُ وَيُصَلِّي فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ وَإِنَّهُ أَمَرَ بِبِنَاءِ الْمَسْجِدِ فَأَرْسَلَ إِلَى بَنِي النَّجَّارِ فَقَالَ " يَا بَنِي النَّجَّارِ ثَامِنُونِي بِحَائِطِكُمْ هَذَا " . فَقَالُوا وَاللَّهِ لاَ نَطْلُبُ ثَمَنَهُ إِلاَّ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ . قَالَ أَنَسٌ وَكَانَ فِيهِ مَا أَقُولُ لَكُمْ كَانَتْ فِيهِ قُبُورُ الْمُشْرِكِينَ وَكَانَتْ فِيهِ خِرَبٌ وَكَانَ فِيهِ نَخْلٌ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقُبُورِ الْمُشْرِكِينَ فَنُبِشَتْ وَبِالْخِرَبِ فَسُوِّيَتْ وَبِالنَّخْلِ فَقُطِعَ فَصَفُّوا النَّخْلَ قِبْلَةَ الْمَسْجِدِ وَجَعَلُوا عِضَادَتَيْهِ حِجَارَةً وَجَعَلُوا يَنْقُلُونَ الصَّخْرَ وَهُمْ يَرْتَجِزُونَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَعَهُمْ وَهُوَ يَقُولُ اللَّهُمَّ لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُ الآخِرَهْ فَانْصُرِ الأَنْصَارَ وَالْمُهَاجِرَهْ
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৫৩. মুসাদ্দাদ .... আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদ্বীনায় আগমনের পর আওআলীয়ে-মদ্বীনায় আমার ইবনু আওফ গোত্রে অবতরণ করেন এবং তথায় ১৪ দিন অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বানূ নাজ্জার গোত্রে যাওয়ার উদ্দেশ্যে খবর পাঠান। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মানার্থে গলদেশে তরবারি ঝুলিয়ে সেখানে আসেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি যেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বাহনে আরোহিত অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি এবং আবূ বকর (রাঃ) তখন তাঁর পশ্চাতে আরোহিত ছিলেন। বানূ নাজ্জার গোত্রের নেতৃবৃন্দ তাঁর চারদিকে ছিল। তিনি আবূ আইউব (রাঃ) এর বাড়ির আংগিনায় এসে অবতরণ করেন।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেখানেই নামাযের ওয়াক্ত হত সেখানেই নামায আদায় করতেন। এমনকি তিনি বকরী রাখার স্থানেও নামায আদায় করতেন। তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্য আদিষ্ট হলে বানূ নাজ্জার গোভ্রের নিকট এ সংবাদ প্রেরণ করেন এবং বলেন, হে বানূ নাজ্জার। তোমরা মসজিদ নির্মাণের জন্য এই বাগানটি আমার নিকট বিক্রি কর। তাঁরা বলেন, আমরা বিনিময় একমাত্র আল্লাহর নিকটেই কামনা করি। আনাস (রাঃ) বলেন, তাতে যা ছিল- সে ব্যাপারে আমি এখনই তোমাদের জ্ঞাত করাচ্ছি। ঐ স্থানে ছিল মুশরিকদের কবর, পুরাতন ধ্বংসস্তুপ ও খেজুর গাছ।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুশরিকদের কবর হতে তাদের গলিত হাড্ডি ইত্যাদি অন্যত্র নিক্ষেপের নির্দেশ দিলে-তা ফেলে দেয়া হয়, ভূমি সমতল করা হয় এবং খেজুর গাছগুলি কেটে ফেলা হয়। অতঃপর মসজিদের দক্ষিণ দিকের খেজুর গাছগুলি সুবিন্যস্তভাবে রাখা হয় এবং দরজার চৌকাঠ ছিল পাথরের তৈরী। মসজিদ তৈরীর জন্য পাথর আনার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সাহাবীদের সাথে একত্রে কাজ করার সময় নিম্নোক্ত কবিতা পাঠ করেনঃ
اللَّهُمَّ لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُ الآخِرَهْ فَانْصُرِ الأَنْصَارَ وَالْمُهَاجِرَهْ
“ইয়া আল্লাহ! আখেরাতে কল্যাণই আমাদের কাম্য। আপনি আনসার ও মুহাজিরদের সাহায্য করুন”।
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৪৫৪. মূসা ইবনু ইসমাঈল .... আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে নববীর স্থানটুকু বানূ নাজ্জার গোত্রের বাগান ছিল। তথায় তাদের কৃষিক্ষেত্র, খেজুর বাগান ও মুশরিকদের কবর ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিকট মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে তা বিক্রির প্রস্তাব দিলে তাঁরা বলেন- আমরা তা বিক্রি করতে চাই না (বরং দান করব)। তখন ঐ স্থানের খেজুর গাছগুলি কাটা হয়, ভূমি সমতল করা হয় এবং মুশ্রিকদের। কবর খুঁড়ে তাদের গলিত অস্হিগুলি অন্যত্র সরিরে ফেলা হয়। অতঃপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী এই হাদীছের মধ্যে “ফানসুর” শব্দের পরিবর্তে “ফাগফির” শব্দটির উল্লেখ করেছেন (অর্থ আপনি আনসার আর মুহাজিরদের ক্ষমা করুন)।
১৭. পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ নির্মাণ সম্পর্কে।
হাদিস নং ৪৫৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِبِنَاءِ الْمَسَاجِدِ فِي الدُّورِ وَأَنْ تُنَظَّفَ وَتُطَيَّبَ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৫৫. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ..... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেন এবং তা পবিত্র, সুগন্ধিযুক্ত ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখারও নির্দেশ দেন। (ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)।
৪৫৬. মুহাম্মাদ ইবনু দাউদ .... সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর পুত্রদের নিকট এই মর্মে পত্র লিখেন যে, রাসুলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেবকে পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তা ঠিক ভাবে তৈরী করে পরিষ্কার রাখারও নির্দেশ দিয়ছেন।
৪৫৭. আন্-নুফায়লী ..... মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত দাসী মায়মুনা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! বায়তুল মুকাদ্দাসের মধ্যে নামায আদায় করা এবং যিয়ারতের জন্য সফর করা সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা সেখানে গিয়ে নামায আদায় করতে পার। তখন উক্ত শহর ছিল শত্রুদের দখলে। এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি তোমরা সেখানে গিয়ে নামায আদায়ের সুযোগ না পাও তবে বাতি জালানোর জন্য (যায়তুন) তৈল পাঠিয়ে দাও। (ইবনু মাজাহ)।
৪৫৮. সাহল ইবনু তাম্মাম ..... আবূল ওয়ালীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমার (রাঃ)-কে মসজিদে নববীর ছোট ছোট প্রস্তর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি তিনি বলেন, একদা রাতে বৃষ্টি হওয়ায় মসজিদে নববীর অংগন ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায়। তখন এক ব্যক্তি তার কাপড়ে পাথরের টুকরা বহন করে এনে স্ব (দন্ডায়মানের) স্থানে রাখতে থাকে। রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযের পর বলেনঃ কত উত্তম কাজ করেছে সে।
৪৫৯. উছমান ইবনু আবূ শায়বা .... আবূ সালেহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এরূপ বলা হত যে, যখন কোন ব্যক্তি মসজিদ হতে পাথরের টুকরা বাইরে নিয়ে যায়, তখন কঙ্কর তাকে শপথ দেয় (আর বলে, আমাকে বাইরে নিয়ে যেও না)।
৪৬০. মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। (অধস্তন রাবী) আবূ বদর শুজা ইবনুল ওয়ালীদ (রহঃ) বলেন, শরীক এ হাদীছের সনদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উন্নীত করেছেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ মসজিদের প্রস্তর টুকরাগুলি সেই ব্যক্তিকে আল্লাহর নামে শপথ দেয়- যে তাদেরকে মসজিদ থেকে বাইরে বের করে।
৪৬১. আব্দুল ওয়াহহাব ইবনু আব্দুল হাকাম ..... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আমার উম্মতের কাজের বিনিময় (ছওয়াব) আমাকে দেখান হয়েছে- এমনকি মসজিদের সামান্য ময়লা পরিস্কারকারীর ছওয়াবও। অপরপক্ষে আমার উম্মাতের গুনাহসমূহও আমাকে দেখান হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি এ থেকে অধিক বড় কোন গুনাহ্ দেখিনি যে, কোন ব্যক্তি কুরআনের কোন আয়াত অথবা সূরা মুখস্ত করবার পর তা ভুলে গেছে। (তিরমিযী)।
২১. মহিলাদের পুরুষদের হতে পৃথক পথে মসজিদে প্রবেশ সম্পর্কে।
৪৬২. আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার ও আবূ মামার .... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যদি এই দরজাটি কেবলমাত্র মহিলাদের প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট করা হত (তবে উত্তমই হত)। নাফে বলেন, অতঃপর ইবনু উমার (রাঃ) উক্ত দরজা দিয়ে তার ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত কোনদিন প্রবেশ করেননি। আব্দুল ওয়ারিছ ব্যতীত অন্যদের বর্ণনায় ইবনু উমার (রাঃ) এর পারিবর্তে উমার (রাঃ) এর উল্লেখ আছে এবং এটাই সঠিক।
৪৬৬. ইসমাঈল ইবনু বিশর ..... হায়ওয়াত ইবনু শুরায়হ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উকবা ইবনু মুসলিমের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে বলি, আমি জানতে পেরেছি যে, আপনার নিকট আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে হাদীছ বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি (নবী) যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেনঃ
أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
“আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর করুণাসিক্ত জাত ও চির পরাক্রমাশালী শক্তির মাধ্যমে-অনিষ্টকারী শয়তান হতে আত্মরক্ষার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করছি।”
উকবা (রাঃ) বলেন, এখানেই কি হাদীছের শেষ? আমি বললাম, হ্যাঁ! তখন উকবা বলেন, যখন কেউ এই দুআ পাঠ করে তখন শয়তান বলে, এই ব্যক্তি আজ সারা দিনের জন্য আমার অনিষ্ট হতে রক্ষা পেল।
৪৬৮. মূসা’দ্দাদ ..... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে অপর সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত আছে। এই বর্ণনায় আরও আছে… “অতঃপর সে ইচ্ছা করলে বসতে পারে বা নিজের প্রয়োজনে বাইরে চলেও যেতে পারে।”
৪৬৯। আল-কানবী ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ফেরেশতাগণ তোমাদের কারো জন্য ততক্ষণ দুআ করতে থাকে যতক্ষণ তোমাদের কেউ জায়নামাযে নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকে এবং তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) নষ্ট না হয় বা সে ব্যক্তি ঐ স্থান ত্যাগ না করে। ফেরেশতাদের দুআاللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ “ইয়া আল্লাহ্! আপনি তাকে ক্ষমা করুন। ইয়া আল্লাহ্! আপনি তার প্রতি সদয় হোন”। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী ইবনু মাজাহ)।
৪৭০. আল্-কানবী ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করতেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ মসজিদে নামাযের জন্য অপেক্ষা করবে, ততক্ষণ সে নামাযী হিসেবে পরিগণিত হবে- একমাত্র নামাযই যদি তাকে ঘরে তার পরিবার পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তনে বাধা দিয়ে থাকে। (মুসলিম)।
৪৭১. মূসা ইবনু ইসমাঈল ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যতক্ষণ কোন বান্দা মসজিদে নামাযের জন্য অপেক্ষা করবে, ততক্ষগ সে নামাযী হিসেবে গণ্য হবে। ঐ ব্যক্তির উযূ (ওজু/অজু/অযু) নষ্ট না হওয়া বা ঘরে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত ফেরেশতারা তার জন্য এইরূপ দুআ করতে থাকেঃ “ইয়া আল্লাহ্! তাকে মাফ করে দাও। ইয়া আল্লাহ্! তাঁর উপর তোমার রহমত নাযিল কর।” আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে "হাদাছুন" এর অর্থ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যদি পায়খানার রাস্তা দিয়ে আস্তে বায়ু নির্গত হয়। (ঐ)।
হাদিস নং ৪৭২হাসান
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي الْعَاتِكَةِ الأَزْدِيُّ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ هَانِئٍ الْعَنْسِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَتَى الْمَسْجِدَ لِشَىْءٍ فَهُوَ حَظُّهُ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৭২. হিশাম ইবনু আম্মার .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি মসজিদে যে উদ্দেশ্যে আসবে তার জন্য তদ্রুপ (বিনিময়) রয়েছে।
২৫. মসজিদের মধ্যে হারানো প্রাপ্তির ঘোষণা দেয়া মাকরূহ।
৪৭৩. আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার আল-জুশামী .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মসজিদের মধ্যে কাউকে চীৎকার করে হারানো জিনিস তালাশ করতে শুনে সে যেন বলে, আল্লাহ্ তোমাকে তোমার ঐ জিনিস ফিরিয়ে না দিন। কেননা মসজিদ এইজন্য নির্মাণ করা হয়নি। (মুসলিম, ইবনু মাজাহ)।
২৬. মসজিদে থুথু ফেলা মাকরূহ।
হাদিস নং ৪৭৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، وَشُعْبَةُ، وَأَبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " التَّفْلُ فِي الْمَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهُ أَنْ تُوَارِيَهُ " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৭৪. মুসলিম ইবনু ইব্রাহীম .... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদে থুথু ফেলা গুনাহর কাজ এবং এর কাফফারা হল তা ঢেকে ফেলা। (মুসলিম)।
হাদিস নং ৪৭৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْبُزَاقُ فِي الْمَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৭৫. মুসাদ্দাদ .... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদে থুথু ফেলা গুনাহর কাজ এবং তার কাফফারা হল, মাটির মধ্যে তা দাফন করা। (বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ, মুসলিম)।
হাদিস নং ৪৭৬সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " النُّخَاعَةُ فِي الْمَسْجِدِ " . فَذَكَرَ مِثْلَهُ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৭৬. আবূ কামেল .... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদের মধ্যে কফ অথবা শ্লেষ্মা ফেলা … পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ।
৪৭৭. আল-কানবী ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এই মসজিদে নববীতে প্রবেশের পর এর মধ্যে শ্লেষ্মা অথবা কফ ফেলবে- সে যেন তা মাটির মধ্যে দাফন করে দেয়। যদি এরূপ করা সন্তব না হয়, তবে সে যেন তার কাপড়ে থুথু ফেলে, অতঃপর তা বাইরে নিয়ে যায়।
৪৭৮. হান্নাদ ..... তারিক ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যখন তোমাদের কেউ নামাযে দাঁড়ায় অথবা নামায আদায় করতে থাকে, তখন সে যেন তার সম্মুখে অথবা ডান দিকে থুথু না ফেলে, বরং থুথু ফেলার একান্ত প্রয়োজন হলে বাম দিকের কাপড়ে ফেলবে, যদি সেদিকে কোন লোক না থাকে। যদি বাম দিকে কোন লোক থাকে তবে বাম পায়ের নীচে ফেলবে। অতঃপর তা মুছে ফেলবে। (নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)।
৪৭৯. সুলায়মান ইবনু দাউদ ..... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মুখে থাকাকালীন তিনি খুতবা দেওয়ার সময় দেখতে পান যে, মসজিদের কিবলার দেওয়ালের দিকে শ্লেষ্মা পড়ে আছে এতে তিনি উপস্থিত লোকদের উপর রাগান্বিত হন এবং পরে তা মুছে ফেলে। (বুখারী মুসলিম)।
রাবী বলেন, আমার ধারণামতে তৎপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফরান আনিয়ে ঐ জায়গায় ছিটিয়ে দেন এবং বলেনঃ যখন কোন ব্যক্তি নামায আদায় করতে থাকে তখন আল্লাহ তা’আলা তার সামনে থাকেন। কাজেই নামাযের সময় কেউ যেন সম্মুখে থুথু না ফেলে।
৪৮০. ইয়াহ্ইয়া ইবনু হাবীব ..... আবূ সাঈদ আল্-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর গুচ্ছের মূল পছন্দ করতেন এবং এর একটি অংশ প্রায়ই তাঁর হাতে থাকত। একদা তিনি মসজিদে প্রবেশ করে তার কিব্লার দেওয়ালের দিকে শ্লেষ্মা দেখতে পান এবং তিনি তা মুছে ফেলেন। অতঃপর তিনি সমবেত লোকদের প্রতি রাগান্বিত হয়ে বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কারো চেহারায় থুথু দিলে সে কি সন্তুষ্ট হবে? যখন তোমাদের কেউ নামাযের জন্য কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ায় তখন সে যেন মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের সম্মুখে দাঁড়ায় এবং ফেরেশতারা তার ডানদিকে অবস্থান করে। অতএব সে যেন ডান দিকে বা কিবলার দিকে থুথু না ফেলে। বরং সে যেন বাম সিকে অথবা পায়ের নীচে থুথু ফেলে। যদি থুথু ফেলার একান্তই প্রয়োজন হয় তবে এইরূপে থুথু ফেলবে রাবী বলেন, ইবনু আজলান, আমাদেরকে নামাযের মধ্যে থুথু ফেলার পদ্ধতি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, তোমরা কাপড়ের মধ্যে থুথু ফেলে ঐ স্থান কচ্লাবে (অর্থাৎ কাপড়ের উক্ত স্থান অন্য স্থানের কাপড়ের সাথে মিশ্রিত করবে)।
৪৮১. ইয়াহ্ইয়া ইবনুল ফাদল ..... উবাদা ইবনুল ওয়ালীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মসজিদে জাবের ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর গুচ্ছের মূল হাতে নিয়ে মসজিদে আসেন। তিনি মসজিদে কিবলার দিকে শ্লেষ্মা দেখতে পেয়ে তথায় গিয়ে তা গুচ্ছের মূল দ্বারা খুচিঁয়ে উঠিয়ে ফেলেন। অতঃপর বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে পছন্দ করে যে, আল্লাহ্ তাঁর দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নিন? তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন আল্লাহ্ পাক তার সামনে থাকেন। কাজেই নিজের সামনের দিকে ও ডান দিকে কেউ যেন নিক্ষেপ না করে, বরং প্রয়োজন হলে বাম দিকে বা পায়ের নীচে যেন থুথু ফেলে। হঠাৎ যদি শ্লেষ্মা নির্গত হয় তবে সে যেন তা কাপড়ের মধ্যে ফেলে এবং পরে তা ঘষে ফেলে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবীর জাতীয় সুগন্ধি বা জাফরান আনতে বলেন। অতএব এক যুবক দ্রুত স্বীয় ঘরে সুগন্ধি দ্রব্য আনলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা নিয়ে গুচ্ছের কান্ডের মাথায় লাগিয়ে উক্ত স্থানে ঘষে দেন। জাবের (রাঃ) বলেন, এরূপেই মসজিদে আতর বা সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহারের প্রচলন হয়েছে।
হাদিস নং ৪৮২হাসান
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ الْجُذَامِيِّ، عَنْ صَالِحِ بْنِ خَيْوَانَ، عَنْ أَبِي سَهْلَةَ السَّائِبِ بْنِ خَلاَّدٍ، - قَالَ أَحْمَدُ - مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَجُلاً أَمَّ قَوْمًا فَبَصَقَ فِي الْقِبْلَةِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْظُرُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ فَرَغَ " لاَ يُصَلِّي لَكُمْ " . فَأَرَادَ بَعْدَ ذَلِكَ أَنْ يُصَلِّيَ لَهُمْ فَمَنَعُوهُ وَأَخْبَرُوهُ بِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " نَعَمْ " . وَحَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ " إِنَّكَ آذَيْتَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ " .
৪৮২. আহমদ ইবনু সালেহ্ ...... আবূ সাহলা (রাঃ) হতে বর্ণিত। ইমাম আহমদ (রহঃ) বলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী ছিলেন। একদা জনৈক ব্যক্তি লোকদের ইমামতি করার সময় কি্বলার দিক থুথু নিক্ষেপ করে। তা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবলোকন করেন। সে নামায হতে অবসর হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ সে তোমাদের নামায পড়ায়নি। অতঃপর সেই ব্যক্তি তাদেরকে নিয়ে পুনরায় নামায আদায় করার ইচ্ছা করে। তারা তাকে ইমামতি করতে নিষেধ করে এবং তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা অবহিত করে। অতঃপর ঐ ব্যক্তি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জ্ঞাত করলে তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, (তোমার ইমামতিতে নামায দুরস্ত হয়নি)। রাবী বলেন, আমার ধারণা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তুমি আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছ। (মুসলিম)।
হাদিস নং ৪৮৩সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي فَبَزَقَ تَحْتَ قَدَمِهِ الْيُسْرَى .
বর্ণনাকারী: মুতাররিফ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রহঃ)
৪৮৩. মূসা ইবনু ইসমাঈল .... মুতাররিফ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে আগমন করে তাকে নামাযে রত অবস্থায় পাই তখন তিনি তাঁর বাম পায়ের নীচে থুথু ফেলেন।
৪৮৪. মূসা’দ্দাদ ..... আবূল আলা (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত … উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ। তাতে আরও আছে, অতঃপর তিনি তাঁর পায়ের জুতা দ্বারা তা ঘর্ষণ করেন।
৪৮৫. কুতায়বা ইবনু সাঈদ ...... আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ওয়াসিলা ইবনুল আস্কা (রাঃ)-কে আমি দামিশকের মসজিদে চাটাইয়ের উপর থুথু ফেলতে দেখি অতঃপর তিনি তাঁর পা দ্বারা তা মুছে ফেলেন। তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এরূপ করতে দেখেছি।
৪৮৬. ঈসা ইবনু হাম্মাদ ..... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক (অমুসলিম) ব্যক্তি উটে আরোহণ করে মসজিদে নববীর নিকট আগমন করে তার দরজায় উটটি বেঁধে জিজ্ঞেস করে যে, “আপনাদের মধ্যে মুহাম্মাদ কে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদের মধ্যেই হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমরা তাকে বলি, “ইনি, যিনি শুভ্র চেহারা বিশিষ্ট-হেলান দিয়ে বসে আছেন।” তখন আগন্তুক ব্যক্তিটি বলে, “হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান!” জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, হ্যাঁ, আমি তোমার কথা শুনেছি। তখন সে বলে, “ইয়া মুহাম্মাদ! আমি আপনার নিকট জিজ্ঞেস করতে চাই … এইরূপে হাদীছের শেষ পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে। (বুখারী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৪৮৭. মুহাম্মাদ ইবনু আমর ..... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানূ সা’দ গোত্রের লোকেরা দিমাম ইবনু ছা’লাবাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রেরণ করে। ঐ ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে তার উট মসজিদের দরজায় বেঁধে মসজিদে প্রবেশ করে। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
রাবী বলেন, অতঃপর আগন্তুক জিজ্ঞেস করে যে, “তোমাদের মধ্যে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান কে?” রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “আমি আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান!” অতঃপর পূর্ণ হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে।
৪৮৮. মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতিপয় ইহুদী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এমন সময় আগমন করে-যখন সাহাবীগণের মধ্যে মসজিদে নববীতে বসা ছিলেন। তাঁরা বলে, হে আবূল কাসিম! আমাদের এক স্ত্রী লোক ও পুরুষ লোক পরস্পর ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে।
২৮. যেসব স্থানে নামায পড়া নিষেধ।
হাদিস নং ৪৮৯সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " جُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ طَهُورًا وَمَسْجِدًا " .
বর্ণনাকারী: আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)
৪৮৯. উছমান .... আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমার জন্য সমগ্র জমীন পবিত্র এবং নামাযের স্থান বানানো হয়েছে।
৪৯০. সুলায়মান ইবনু দাউদ .... আবূ সালেহ্ আল-গিফারী (রহঃ) হতে বর্ণিত। একদা আলী (রাঃ) বাবেল শহরে যান। তিনি সেখানে সফর করার সময় মুআযযিন এসে আসরের নামাযের আযান দেয়ার অনুমতি চায়। তিনি ঐ শহর ত্যাগ করে বাইরে এসে মুআযযিনকে ইকামতের নির্দেশ দিলে সে ইকামত দেয়। অতঃপর নামায শেষে তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে কবরস্থানে নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি বাবেল শহরেও নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন। কেননা ঐটা অতিশপ্ত স্থান।
৪৯১. আহমদ ইবনু সালেহ .... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাবী বলেন … সুলায়মান ইবনু দাউদের সূত্রে বর্ণিত হাদীছের অনুরূপ। তবে এই বর্ণনায় (فَلَمَّا بَرَزَ) “ফাল্লাম্মা বারাযা” এর স্থানে (فَلَمَّا خَرَجَ) “ফাল্লাম্মা খারাজা”-এর উল্লেখ আছ।
হাদিস নং ৪৯২সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - وَقَالَ مُوسَى فِي حَدِيثِهِ فِيمَا يَحْسَبُ عَمْرٌو - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدٌ إِلاَّ الْحَمَّامَ وَالْمَقْبُرَةَ " .
বর্ণনাকারী: আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
৪৯২. মূসা ইবনু ইসমাঈল ...... আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ গোসলখানা ও কবরস্থান ব্যতীত সমস্ত জমীনই মসজিদ হিসাবে গণ্য (অর্থাৎ যে কোন স্থানে নামায পড়া যায়)। (ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)।
৪৯৩. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... আল-বারাআ ইবনু আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উটের আস্তাবলে নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ তোমরা উটের আস্তাবলে নামায পড়বে না। কেননা তা শয়তানের আড্ডা স্থান। অতঃপর তাকে বকরী বাঁধার স্থানে নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ তোমরা সেখানে নামায পড়তে পার; কেননা তা বরকতময় স্থান। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)।
৪৯৪. মুহাম্মাদ ইবনু ঈসা .... আবদুল মালিক থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানদের বয়স যখন সাত বছর হয়, তখন তাদেরকে নামায পড়ার নির্দেশ দাও এবং যখন তাদের বয়স দশ বছর হবে তখন নামায না পড়লে এজন্য তাদের শাস্তি দাও। (তিরমিযী, মুসনাদে আহমদ)।
৪৯৫. মুআম্মাল ইবনু হিশাম ..... আমর ইবনু শুআয়েব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের সন্তানরা সাত বছরে উপনীত হবে, তখন তাদেরকে নামায পড়ার নির্দেশ দেবে এবং তাদের বয়স যখন দশ বছর হবে তখন নামায না পড়লে এজন্য তাদেরকে মারপিট কর এবং তাদের (ছেলে-মেয়েদের) বিছানা পৃথক করে দিবে।
৪৯৬. যুহায়ের ইবনু হারব .... দাউদের সূত্রে হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত আছে। এই সূত্রে আরও আছেঃ তোমাদের কেউ যখন তার বাঁদীকে-দাসের সাথে বিয়ে দিবে তখন থেকে সে তার (দাসীর) নাভির নিম্নাংশ থেকে হাটুর উপরাংশ পর্যন্ত স্থানের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে না।
৪৯৭. সুলায়মান ইবনু দাউদ .... হিশাম ইবনু সা’দ (রহঃ) থেকে মুআয ইবনু আবদুল্লাহ্ ইবনু হাবীব আল-জুহানী (রহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মুআয ইবনু আবদুল্লাহর নিকট উপস্থিত হলাম। এ সময় তিনি তাঁর স্ত্রীকে প্রশ্ন করেন যে, ছোট ছেলে-মেয়েদেরকে কখন নামায পড়ার নির্দেশ দিতে হবে? মহিলা বলেন, আমাদের একজন পুরুষ ব্যক্তি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ যখন ছোট ছেলে-মেয়েরা তাদের ডান ও বাম হাতের পার্থক্য নির্ণয়ে সক্ষম হবে তখন থেকে তাদেরকে নামায পড়ার নির্দেশ দিবে।
৩১. আযানের সুচানা।
হাদিস নং ৪৯৮হাসান
حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى الْخُتَّلِيُّ، وَزِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، - وَحَدِيثُ عَبَّادٍ أَتَمُّ - قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، - قَالَ زِيَادٌ أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ، - عَنْ أَبِي عُمَيْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ عُمُومَةٍ، لَهُ مِنَ الأَنْصَارِ قَالَ اهْتَمَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلصَّلاَةِ كَيْفَ يَجْمَعُ النَّاسَ لَهَا فَقِيلَ لَهُ انْصِبْ رَايَةً عِنْدَ حُضُورِ الصَّلاَةِ فَإِذَا رَأَوْهَا آذَنَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا فَلَمْ يُعْجِبْهُ ذَلِكَ قَالَ فَذُكِرَ لَهُ الْقُنْعُ - يَعْنِي الشَّبُّورَ - وَقَالَ زِيَادٌ شَبُّورَ الْيَهُودِ فَلَمْ يُعْجِبْهُ ذَلِكَ وَقَالَ " هُوَ مِنْ أَمْرِ الْيَهُودِ " . قَالَ فَذُكِرَ لَهُ النَّاقُوسُ فَقَالَ " هُوَ مِنْ أَمْرِ النَّصَارَى " . فَانْصَرَفَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ وَهُوَ مُهْتَمٌّ لِهَمِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُرِيَ الأَذَانَ فِي مَنَامِهِ - قَالَ - فَغَدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَبَيْنَ نَائِمٍ وَيَقْظَانَ إِذْ أَتَانِي آتٍ فَأَرَانِي الأَذَانَ . قَالَ وَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - قَدْ رَآهُ قَبْلَ ذَلِكَ فَكَتَمَهُ عِشْرِينَ يَوْمًا - قَالَ - ثُمَّ أَخْبَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ " مَا مَنَعَكَ أَنْ تُخْبِرَنِي " . فَقَالَ سَبَقَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ فَاسْتَحْيَيْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا بِلاَلُ قُمْ فَانْظُرْ مَا يَأْمُرُكَ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ فَافْعَلْهُ " . قَالَ فَأَذَّنَ بِلاَلٌ . قَالَ أَبُو بِشْرٍ فَأَخْبَرَنِي أَبُو عُمَيْرٍ أَنَّ الأَنْصَارَ تَزْعُمُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ لَوْلاَ أَنَّهُ كَانَ يَوْمَئِذٍ مَرِيضًا لَجَعَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُؤَذِّنًا .
৪৯৮. আব্বাদ ইবনু মূসা ..... আবূ উমায়ের ইবনু আনাস থেকে কোন একজন আনসার সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এজন্য চিন্তিত ও অস্থির হয়ে পড়েন যে, লোকদেরকে নামাযের জন্য কিরূপে একত্রিত করা যায়। কেউ কেউ পরামর্শ দেন যে, নামাযের সময় হলে ঝান্ডা উড়িয়ে দেওয়া হোক। যখন লোকেরা তা দেখবে তখন একে অন্যকে নামাযের জন্য ডেকে আনবে। কিন্তু তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মনপুতঃ হয়নি। অতঃপর কেউ এরূপ প্রস্তাব করে যে, শিংগা ফুঁকা হোক। যিয়াদ বলেন, শিংগা ছিল ইহুদীদের ধর্মীয় প্রতীক। কাজেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অপছন্দ করেন। রাবী বলেন, অতঃপর একজন ’নাকুস’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। রাবী বলেন, উপাসনার সময় ঘণ্টাধ্বনি করা ছিল নাসারাদের রীতি। এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাও অপছন্দ করেন। অতঃপর কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই সেদিনের বৈঠক শেষ হয় এবং সকলে নিজ নিজ আবাসে ফিরে যায়।
আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়েদ (রাঃ) ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিন্তিত থাকার কারণে ব্যথিত হৃদয়ে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর তাঁকে স্বপ্নের মাধ্যমে আযানের নিয়ম শিক্ষা দেয়া হয়। বর্ণনাকারী বলেন, পরদিন ভোরে তিনি রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাযির হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি (ফেরেশতা) আমার নিকট এসে আমাকে আযান দেয়ার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছে। রাবী বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) ইতিপূর্বে ঠিক একই রকম স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু তিনি তা বিশ দিন পর্যন্ত প্রকাশ না করে গোপন রাখেন বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে প্রকাশ করেন।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (উমারকে) বলেনঃ এ সম্পর্কে পূর্বে আমাকে জ্ঞাত করতে তোমায় কিসে বাঁধা দিয়েছিল? উমার (রাঃ) লজ্জা বিনম্র কণ্ঠে বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়েদ (রাঃ) এ ব্যাপারে অগ্রবর্তীর ভুমিকা পালন করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দেন উঠ এবং আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়েদ যেরূপে বলে তুমিও তদ্রুপ (উচ্চ কণ্ঠে) বল! এইরূপে বিলাল (রাঃ) ইসলামের সর্বপ্রথম আযান ধ্বনি উচ্চারণ করেন। আবূ বিশর বলেন। আবূ উমায়ের আমাকে এরূপ বলেছেন যে, সম্ভবতঃ যদি এ সময় আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়েদ (রাঃ) রোগগ্রস্ত না থাকতেন তবে রাসূলুল্লাহ সালুল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকেই মুআযযিন নিযুক্ত করতেন।
৫০১. আল্-হাসান ইবনু আলী ...... আবূ মাহযূরা (রাঃ) থেকে এই সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত আছে। এই হাদীছের মধ্যে আস্-সালাতু খাইরুম মিনান্ নাওম, আস-সালাতু খাইরুম মিনান্ নাওম”- ফজরের প্রথম আযানের মধ্যে বর্ণিত। (মুসলিম, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মূসা’দ্দাদ হতে বর্ণিত। হাদীছটি এই, রাবী বলেন, আমাকে ইকামতের মধ্যে প্রতিটি শব্দ দুই-দুইবার শিখানো হয়েছেঃ আল্লাহু আকবার দুইবার; আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ দুইবার; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্ দুইবার; হাইয়া আলাস্-সালাহ্ দুইবার; হাইয়া আলাল-ফালাহ্ দুইবার; আল্লাহু আকবার দুইবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্- একবার রাবী আব্দুর রাযযাক বলেন, যখন নামাযের জন্য ইকামত দিবে তখন কাদ্ কামাতিস-সালাহ্ শব্দটি দুইবার বলবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ মাহযূরা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ তুমি কি তা সঠিকভাবে শুনেছ (যা আমি শিখালাম)? রাবী বলেন, আবূ মাহযূরা (রাঃ) কখনও তাঁর মাথার সম্মুখ ভাগের চুল কাটতেন না এবং পৃথকও করতেন না। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই চুলের উপর হাত বুলিয়েছিলেন।
৫০৫. মুহাম্মাদ ইবনু দাউদ .... আবূ মাহযূরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে আযান শিক্ষা দেন। তিনি বলতেনঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, অতঃপর হাদীছের অবশিষ্ট অংশ আব্দুল মালিকের সূত্রে বর্ণিত ইবনে জুরাজের হাদীছের অনুরূপ। মালেক ইবনু দ্বীনার (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীছে উল্লেখ আছে যে, তিনি বলেছেন! আমি ইবনু আবূ মাহযূরাকে বলি- আপনার পিতা-রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে যেরূপ আযান শিক্ষা করেন- তা আমার নিকট বর্ণনা করুন। তখন তিনি বলেন, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, এইরূপে আযানের শেষ পর্যন্ত। জাফর ইবনু সুলায়মানের হাদীছেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি তাঁর হাদীছে এরূপ উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহু আকরার, আল্লাহু আকবার, শব্দাটি উচ্চস্বরে দীর্ঘায়িত করে বলবে।
৫০৭. ইবনুল মুসান্না .... মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামাযের ব্যাপারে কিব্লার পরিবর্তন তিনবার সাধিত হয়েছে এবং রোযার ব্যাপারে নিয়ম পদ্ধতিও তিনবার পরিবর্তিত হয়েছে। রাবী নাসর এ সম্পর্কে একটি বিস্তারিত হাদীছ বর্ণনা করেছেন। ইবনুল মুছান্না তা সংক্ষিপ্তাকারে নামাযের ব্যাপারে এরূপ বর্ণনা করেছেন, মুসলিমদের কিব্লা ছিল বায়তুল মুকাদ্দাস। রাবী বলেন, তৃতীয় অবস্থা এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদ্বীনায় আসার পর দীর্ঘ তের মাস বায়তুল মুকাদ্দেসের দিকে মুখ ফিরিয়ে নামায আদায় করেন। অতঃপর আল্লাহ্ তা’আলা এই আয়াত নামিল করেনঃ “আমি তোমাকে তোমার চেহারা সব সময় আকাশের প্রতি ফিরান অবস্থায় অবলোকন করছি। এমতাবস্থায় আমি তোমাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিব যা তুমি পছন্দ কর। এখন তুমি তোমার চেহারা মসজিদুল হারামের দিকে ফিরাও এবং অতঃপর তোমরা যেখানেই অবস্থান কর- তোমাদের চেহারা ঐ স্থানের দিকে ফিরাও।” অতএব আল্লাহ্ পাক তাকে কা’বার দিকে ফিরিয়ে দেন। এভাবে তাঁর বর্ণনা শেষ হয়েছে।
অতঃপর আনসার গোত্রীয় সাহাবী আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়েদ (রাঃ) আগমন করেন। তিনি কিবলামুখী হয়ে বলেনঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (২ বার), আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্ (২ বার), হাইয়া আলাস্-সালাহ্ (২ বার), হাইয়া আলাল-ফালাহ্ (২ বার), আল্লাহু আকবার (২ বার), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্- (১ বার), অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ পরে আযানের শব্দগুলির পুনরাবৃত্তি করেন এবং তন্মধ্যে হাইয়া আলাল-ফালাহ্ শব্দটির পরে দুইবার – কাদ্ কামাতিস-সালাহ” ঝক্যটি উচ্চারণ করেন। রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়েদ (রাঃ) -কে বলেন তুমি বিলালকে এর তালকীন (শিক্ষা) দাও।
অতঃপর বিলাল (রাঃ) উক্ত শব্দ দ্বারা আযান দেন। অতঃপর রাবী রোযা সম্পর্কে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি মাসে তিনদিন করে এবং আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র রোযা রাখতেন। অতঃপর এই আয়াত নাযিল হয়ঃ “তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর ফরয করা হয়েছিল- যেন তোমরা খোদাভীরু হও। নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি সফরে থাকে বা রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে- তবে পরবর্তী সময়ে তাকে এর কাযা আদায় করতে হবে। এবং যারা রোযা রাখতে অক্ষম তারা প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে ফিদ্য়া হিসেবে একজন মিস্কীনকে খাদ্য দান করবে”-(সূরা বাকারাঃ ১৮৪)।”
অতঃপর যারা ইচছা করত রোযা রাখত এবং যারা ইচ্ছা করত রোযার পরিবর্তে প্রত্যহ একজন মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করলেই চলত। অতঃপর এই হুকুম পরিবর্তিত হয় এবং আল্লাহ্ তা’আলার তরফ হতে এই আয়াত নাযিল হয়ঃ “রমযান মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে যা মানুষের দিশারী এবং হিদায়াতের নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রমযান মাস পাবে সে যেন অবশ্যই ঐ মাসে রোষা রাখে। আর যারা সফরে থাকবে বা রোগগ্রস্ত হবে তারা পরবর্তী সময়ে তার কাযা আদায় করবে”- (সূরা বাকারাঃ ১৮৫)।
এই আয়াত দ্বারা রোযার মাস প্রাপ্ত ব্যক্তির উপর রোযা রাখা ফরয করা হয়েছে। মূসাফিরকে পরে রোযার কাযা আদায় করতে হবে। অক্ষম ব্যক্তি- যারা রোযা রাখতে অক্ষম তারা রোযার পরিবর্তে মিসকিনকে প্রত্যহ খাদ্যদান করবে।
৫০৮. সুলায়মান ইবনু হারব ..... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ)-কে আযান জোড় শব্দে এবং ইকামত বেজোড় শব্দে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। হাম্মাদ তাঁর হাদীছে আরও বর্ণনা করেছেন যে, কাদ কামাতিস্-সালাহ্ শব্দটি দু’বার বলবে. (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৫০৯. হুমায়েদ ইবনু মাস্আদা ..... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উহায়বের সূত্রে বর্ণিত হাদীছের অনুরূপ। ইসমাঈল বলেন, আমি এই হাদীছ আইউবের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, কিন্তু কাদ্ কামাতিস্-সালাহ্ বাক্যটি দু’বার তাতে বলতে হবে।
৫১০. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ..... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে আযানের শব্দ দুবার করে এবং ইকামতের শব্দ একবার করে বলা হত। কিন্তু ইকামতের মধ্যে ’কাদ্ কামাতিস্-সলাহ্’ শব্দটি দু’বার বলা হত। আমরা মুয়াযযিনের ইকামত শুনে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে যেতাম অতঃপর নামায আদায় করতে যেতাম। (নাসাঈ)।
৫১১. মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া ..... মসজিদুল-উরইয়ান (কূফায় অবস্থিত মসজিদ)-এর মুয়াযযিন আবূ জাফর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কূফার বড় মসজিদের মুয়াযযিন আবূল মুছান্নাকে বলতে শুনেছিঃ আমি ইবনু উমার (রাঃ) এর সূত্রে শুনেছি ... পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ।
৩৪. একজনে আযান এবং অন্যজনে ইকামত দেয়া।
হাদিস নং ৫১২যঈফ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ أَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي الأَذَانِ أَشْيَاءَ لَمْ يَصْنَعْ مِنْهَا شَيْئًا قَالَ فَأُرِيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ الأَذَانَ فِي الْمَنَامِ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ " أَلْقِهِ عَلَى بِلاَلٍ " . فَأَلْقَاهُ عَلَيْهِ فَأَذَّنَ بِلاَلٌ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَنَا رَأَيْتُهُ وَأَنَا كُنْتُ أُرِيدُهُ قَالَ " فَأَقِمْ أَنْتَ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবন যায়দ (রাঃ)
৫১২. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ্ থেকে তাঁর চাচা আবদুল্লাহ ইবনু যায়েদ (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন জিনিসের মাধ্যমে আযান প্রথা চালু করা সম্পর্কে চিন্তা করছিলেন। কিন্তু বিশেষ কারণে এর কোনটই গৃহীত হয়নি। আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়েদ (রাঃ)-কে স্বপ্নযোগে আযানের শব্দ জ্ঞাত করা হয়। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাযির হয়ে স্বপ্নের বৃত্তান্ত প্রকাশ করেন। তিনি বলেনঃ তুমি তা বিলালকে শিক্ষা দাও। অতঃপর তিনি তা বিলালকে শিখানোর পর তিনি (বিলাল) আযান দেন। অতঃপর আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়েদ (রাঃ) বলেন, যেহেতু আযান সস্পর্কিত স্বপ্নটি আমিই দেখেছি, কাজেই আমি স্বয়ং আযান দিতে ইরাদা করেছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, তুমি ইকামত দাও।
৫১৩. উবায়দুল্লাহ্ ইবনু উমার .... মুহাম্মাদ ইবনু আমর বলেন, আমি আবদুল্লাহ্ ইবনু মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি- আমার দাদা আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়েদ (রাঃ) পূর্বোক্ত হাদীছটি বর্ণনা করতেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমার দাদা ইকামত দেন।
৫১৪. আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসলামা ..... যিয়াদ ইবনুল হারিছ আস-সুদাঈ (রাঃ) বলেন, যখন আযানের প্রথম সময় উপনীত হয়, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আযানের নির্দেশ দিলে আমি আযান দেই। অতঃপর আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি ইকামত দিব কি? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্বদিগন্তের দিকে লক্ষ্য করে বলেনঃ না। অতঃপর পূর্বাকাশ পরিস্কার হওয়ার পর তিনি তাঁর বাহন হতে অবতরণ করেন। অতঃপর তিনি পেশাব করে আমার নিকট আসেন যখন সাহাবায়ে কিরাম তাঁর চারপাশে উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন। এ সময় বিলাল (রাঃ) ইকামত দিতে চাইলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিষেধ করে বলেনঃ তোমার ভাই যিয়াদ আস-সুদাঈ আযান দিয়েছে এবং (নিয়ম এই যে,) যে ব্যক্তি আযান দিবে- সেই ইকামত দেওয়ার অধিকারী। রাবী বলেন, অতঃপর আমি ইকামত দেই। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)।
৫১৫. হাফস ইবনু উমার .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ মুআযযিনের আযানের ধ্বনি যতদূর পৌছাবে তাকে ততদুর ক্ষমা করা হবে। তার জন্য কিয়ামতের দিন সমস্ত তাজা ও শুষ্ক বস্তু সাক্ষী দেবে এবং যে ব্যক্তি আযান শুনার পর জামাআতে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে হাযির হবে, সে ব্যক্তি পঁচিশ গুণ অধিক ছওয়াবের অধিকারী হবে এবং দুই নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত যাবতীয় (সগীরাহ) গুনাহগুলি ক্ষমা করা হবে। (নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মুসলিম)।
৫১৬. আল-কানবী ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাতে আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন নামাযের আযান দেয়া হয় তখন শয়তান এত দ্রুত পলায়ন করে যে, তার পিছনের রাস্তা দিয়ে বায়ু নির্গত হতে থাকে এবং সে এতদুরে চলে যায়, যেখানে আযানের ধ্বনি পৌছায় না। শয়তান ঐ স্থানে আযান সমাপ্তির পর পুনরায় আগমন করে। পুনঃ সে ইকামতের শেযে প্রত্যাবর্তন করে। অতঃপর সে নামাযীর অন্তরে ওস্ওয়াসার (সন্দেহের) সৃষ্টি করে এবং তাকে এমন জিনিসের স্মরণ করিয়ে দেয়, যা সে ভুলে গিয়েছিল। অনেক সময় নামাযী কত রাকাত নামায আদায় করেছে তাতেও সে সন্দেহের উদ্রেক করে। (বুখারী, মুসলিম)।
৩৭. নামাযের সময় নির্ধারণে মুআযযিনের দায়িত্ব।
হাদিস নং ৫১৭সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الإِمَامُ ضَامِنٌ وَالْمُؤَذِّنُ مُؤْتَمَنٌ اللَّهُمَّ أَرْشِدِ الأَئِمَّةَ وَاغْفِرْ لِلْمُؤَذِّنِينَ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৫১৭. আহমদ ইবনু হাম্বল .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ মসজিদের ইমাম হলো মুসল্লীদের জন্য যিম্মাদার এবং মুয়াযযিন আমানতদার স্বরূপ। ইয়া আল্লাহ্! তুমি ইমামদের সৎপথ প্রদর্শন কর এবং ক্ষমা কর। (তিরমিযী)।
হাদিস নং ৫১৮তাহকীক অপেক্ষমাণ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ نُبِّئْتُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، - قَالَ وَلاَ أُرَانِي إِلاَّ قَدْ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৫১৮. আল-হাসান ইবনু আলী ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন ... অতঃপর রাবী পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (তিরমিযী)।
৫১৯. আহমদ ইবনু মুহাম্মাদ ..... নাজ্জার গোত্রের এক মহিলা সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে নববীর নিকটবর্তী ঘরসমূহের মধ্যে আমার বাড়ী ছিল সুউচ্চ। বিলাল (রাঃ) সেখানে উঠে ফজরের আযান দিতেন। তিনি সাহরীর শেষ সময়ে আগমন করে ঐ ছাদের উপর বসে সুবহে সাদকের অপেক্ষা করতেন। অতঃপর ভোর হয়েছে দেখার পর তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার প্রশংসা করি ও সাহায্য কামনা করি এজন্য যে, আপনি কুরাইশদেরকে দ্বীন ইসলাম কায়েমের তৌফিক দান করুন। রাবী বলেন, অতঃপর বিলাল (রাঃ) আযান দিতেন। রাবী আরো বলেন, আল্লাহর শপথ! বিলাল (রাঃ) ঐ দুআ পাঠ কোন রাতেই বাদ দিয়েছেন বলে আমার জানা নাই।
৫২০. মূসা ইবনু ইসমাঈল ..... আওন ইবনু আবূ জুহায়ফা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি। বলেন, আমি মক্কাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে আগমন করি ঐ সময় তিনি একটি চামড়ার তৈরী লাল তাবুর মধ্যে অবস্থান করছিলেন। ঐ সময় বিলাল (রাঃ) বের হয়ে আযান দেওয়ার সময় যেরূপ তাঁর মুখমণ্ডল
এদিক ওদিক ঘুরিয়েছিলেন- আমিও তদ্রুপ ঘুরাচ্ছিলাম। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন অবস্থায় বাইরে আসেন যে, তাঁর গায়ে একটি ইয়ামনী ডোরা কাটা চাঁদর ছিল। রাবী মূসা বলেন, আমি বিলাল (রাঃ)-কে আবতাহ্ নামক স্থানের দিকে বাইরে গিয়ে আযান দিতে দেখেছি। তিনি যখন হাইয়া আলাস-সালাহ্ ও হাইয়া আলাল-ফালাহ্ শব্দদ্বয়ে পৌছান-তখন তিনি তাঁর কাঁধ ডান ও বাম দিকে ফিরান কিন্তু শরীর ঘুরান নাই। অতঃপর তিনি তাবুর মধ্যে প্রবেশ করেন এবং ছোট একটি তীর বের করেন … এইরূপে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে। (বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৪০. আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দুয়া করা সম্পর্কে।
হাদিস নং ৫২১সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَيْدٍ الْعَمِّيِّ، عَنْ أَبِي إِيَاسٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُرَدُّ الدُّعَاءُ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৫২১. মুহাম্মাদ ইবনু কাছীর .... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত দুআ কখনই প্রত্যাখ্যাত হয়না। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
৪১. মুআযযিনের আযানের জবাবে যা বলতে হয়।
হাদিস নং ৫২২সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ " .
বর্ণনাকারী: আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
৫২২. আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসলামা .... আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা আযান শুনবে-তখন মুআযযিনের উচ্চারিত শব্দের অনুরূপ উচ্চারণ করবে। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৫২৩. মুহাম্মাদ ইবনু সালামা .... আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ যখন তোমরা মুআযযিনকে আযান দিতে শুনবে তখন সে যেরূপ বলে- তোমরাও তদ্রুপ বলবে। অতঃপর তোমরা (আযান শেষে) আমার প্রতি দরূদ পাঠ করবে। কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে- আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার উপর দশটি রহমত নাযিল করবেন। অতঃপর তোমরা আল্লাহর নিকট আমার জন্য ওসীলা প্রার্থনা কর এবং ওসীলা হল জান্নাতের একটি বিশেষ স্থান। আল্লাহ্ তা’আলার একজন বিশিষ্ট বান্দা ঐ স্থানের অধিকারী হবেন এবং আমি আশা করি আমিই সেই বান্দা। অতঃপর যে ব্যক্তি আমার জন্য ওসীলার দুআ করবে তাঁর জন্য শাফা’আত করা আমার উপর ওয়াজিব হবে। (মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী)।
৫২৪. ইবনুস সারহ্ .... আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মুআযযিনরা তো আমাদের উপর ফযীলত প্রাপ্ত হচ্ছে। আমরা কিভাবে তাদের সমান ছওয়াব পাব? তিনি বলেনঃ মুআযযিনরা যেরূপ বলে-তুমিও তদ্রুপ বলবে। অতঃপর যখন আযান শেয করবে, তখন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলে তুমিও তদ্রুপ ছওয়াব প্রাপ্ত হবে। (নাসাঈ)।
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا سَمِعَ الْمُؤَذِّنَ يَتَشَهَّدُ قَالَ " وَأَنَا وَأَنَا " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৫২৬. ইব্রাহীম ইবনু মাহ্দী .... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মুআযযিনকে শাহাদাত ধ্বনি দিতে শুনতেন তখন তিনি বলতেন, আমিও অনুরুপ সাক্ষ্য দিচ্ছি।
৫৩১. মূসা ইবনু ইসমাঈল .... উছমান ইবনু আবূল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বললাম, আমাকে আমার গোত্রের ইমাম নিযুক্ত করুন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাকে তাদের ইমাম নিযুক্ত করা হল। তুমি দুর্বল ব্যক্তিদের প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখবে এবং এমন এক ব্যক্তি কে মুআযযিন নিযুক্ত করবে, যে আযানের কোনরূপ বিনিময় গ্রহণ করবে না। (নাসাঈ, তিরমিযী, মুসলিম, ইবনু মাজাহ)।
৫৩২. মূসা ইবনু ইসমাঈল .... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) ফজরের নামাযের আযান সুবহে সা’দিকের পূর্বেই দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে পুনর্বার আযান দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি তা পুনরায় দিলেন। প্রকাশ থাকে যে, বিলাল (রাঃ) ঘুমের কারণে যথা সময়ে আযান দিতে সক্ষম হতেন না। রাবী মূসার বর্ণনায় আরো আছে, অতঃপর বিলাল (রাঃ) পুনর্বার আযান দিলেন। জেনে রাখ! মানুষেরা এ সময়ে ঘুমে বিভোর থাকে। (তিরমিযী)।
৫৩৩. আইউব ইবনু মানসুর .... উমার (রাঃ) এর মুআযযিন মাসরূহ হতে বর্ণিত। তিনি সুবহে সা’দিকের পূর্বে আযান দিলে উমার (রাঃ) তাকে পুনরায় আযান দেওয়ার নির্দেশ দেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাম্মাদ ইবনু যায়েদ হতেও এই হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম আবূ দাউদ আরো বলেন, আদ-দ্বারাওয়ার্দী (রহঃ) উবায়দুল্লাহ্ হতে, তিনি নাফে হতে, তিনি উমার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, উমার (রাঃ) এর মুআযযিন মাসউদ … অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং এটা পূর্বোক্ত কথার তুলনায় অধিক সঠিক।
৫৩৪. যুহায়ের ইবনু হারব .... বিলাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেনঃ দিগন্তে ফজরের আলো স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তুমি আযান দিবে না এই বলে তিনি স্বীয় হস্তদ্বয় উত্তর ও দক্ষিণ দিকে প্রসারিত করেন।
আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, শাদ্দাদ (রহঃ) বিলাল (রাঃ) এর সাক্ষাৎ লাভ করেননি।
৫৩৫. মুহাম্মাদ ইবনু সালামা .... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবনু উম্মে মাকতুম (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুআযযিন ছিলেন এবং তিনি জন্মান্ধ ছিলেন। (মুসলিম)।
৫৩৬. মুহাম্মাদ ইবনু কাছীর ... আবূশ শাছাআ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর সাথে মসজিদে নববীতে উপস্থিত ছিলাম। আসরের নামাযের আযানের পর এক ব্যক্তি মসজিদ হতে বের হয়ে যায়। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, এই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ করল। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৪৯. ইমামের জন্য মুআযযিনের অপেক্ষা করা।
হাদিস নং ৫৩৭সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ بِلاَلٌ يُؤَذِّنُ ثُمَّ يُمْهِلُ فَإِذَا رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَدْ خَرَجَ أَقَامَ الصَّلاَةَ .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)
৫৩৭. উছ্মান ইবনু আবূ শায়বা .... জাবের ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) আযান দেয়ার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন এবং যখন তিনি রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাযের জন্য বের হয়ে আসতে দেখতেন তখন ইকামত দিতেন। (মুসলিম, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)।
৫৩৮. মুহাম্মাদ ইবনু কাছীর .... মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা-আমি ইবনু উমার (রাঃ) এর সাথে ছিলাম। এক ব্যক্তি যুহর অথবা আসর নামাযের আযানের পর তাছবীব (আযানের পর পুনঃ পুনঃ আহবান) করায় তিনি বলেন, তুমি আমাদের দল হতে বের হয়ে যাও, কেননা এটা বিদ্আত। (তিরমিযী, আহমদ, দারাকুতনী, বায়হাকী, ইবনু খুযায়মা)।
৫৩৯. মুসলিম ইবনু ইব্রাহীম .... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যখন নামাযের ইকামত দেয়া হয় তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দন্ডায়মান হয়োনা। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী নাসাঈ)। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাঁড়িও, না বরং তোমরা এ সময় বিশ্রাম কর।
৫৪০. ইব্রাহীম ইবনু মূসা ..... ইয়াহ্ইয়া (রহঃ)-এর সনদ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীছ বর্ণিত হয়েছ। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমরা যে পর্যন্ত আমাকে বের হতে না দেখ ততক্ষণ দাঁড়িওনা।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, রাবী মা’মার ব্যতীত অন্য কোন রাবী “আমি বের হই” শব্দটির উল্লেখ করেননি। ইবনু উয়ায়না (রহঃ)-ও মা’মারের সূত্রে এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাতেও “আমি বের হই” শব্দের উল্লেখ নাই।
হাদিস নং ৫৪১সহিহ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ قَالَ أَبُو عَمْرٍو ح وَحَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ الصَّلاَةَ، كَانَتْ تُقَامُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَأْخُذُ النَّاسُ مَقَامَهُمْ قَبْلَ أَنْ يَأْخُذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৫৪১. মাহমুদ ইবনু খালিদ ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুয়াযযিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমন বার্তা স্বরূপ উচ্চস্বরে ইকামত দিতেন অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় স্থানে আসন গ্রহণ করার পূর্বেই মুসল্লীরা কাতারবদ্ধ হয়ে যেত। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
৫৪২. হুসায়েন ইবনু মুআয .... হুমায়েদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ছাবিত আল্-বানানীকে। জিজ্ঞেস করি, ইকামত দেওয়ার পর যদি কোন ব্যক্তি কথা বলে (তবে এর হুকুম কি)। তিনি আনাস (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত একটি হাদীছের উল্লেখ করে আমাকে বলেন, একদা নামাযের জন্য ইকামত হওয়ার পর এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসে এবং তাঁকে ব্যস্ত রাখে (অর্থাৎ তার সাথে কথা বলতে থাকে)। (বুখারী, নাসাঈ)।
৫৪৩. আহমদ ইবনু আলী .... আওস ইবনু কাহমাস থেকে তাঁর পিতা কাহমাস (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মিনায় নামাযের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এমতাবস্থায় ইমামের হাযির হতে বিলম্ব হওয়ায় আমাদের কেউ কেউ বসে গেল। কুফার একজন শায়খ আমাকে প্রশ্ন করেন, আপনি কেন বসলেন? আমি বললাম, ইবনু বুরায়দা বলেন, এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা নিষ্প্রয়োজন। তখন কুফার শায়েখ আমাকে বলেন, আব্দুর রহমান ইবনু আওসাজা (রহঃ) বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) এর সূত্রে আমার নিকট হাদীছ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে ইকামত বলার পূর্বেই কাঁতাররবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যেতাম। রাবী বলেন, মহান আল্লাহ ও ফেরেশতা মন্ডলী ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, যারা প্রথম হতে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এবং আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম পদক্ষেপ হচ্ছে যে পদক্ষেপ দ্বারা মানুষেরা কাতারবদ্ধ হয়ে নামায আদায় করে বা নামাযের জন্য অপেক্ষা করে। (নাসাঈ)
হাদিস নং ৫৪৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَجِيٌّ فِي جَانِبِ الْمَسْجِدِ فَمَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ حَتَّى نَامَ الْقَوْمُ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৫৪৪. মুসাদ্দাদ ..... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এশার নামাযের ইকামত হওয়ার পরেও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদের পাশে এক ব্যক্তির সাথে গোপন পরামর্শে ব্যস্ত থাকেন। অতঃপর তিনি ফিরে এসে দেখেন যে, মুসল্লীরা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
৫৪৫. আবদুল্লাহ্ ইবনু ইসহাক ..... সালিম আবূন-নাদর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআযযিন ইকামত দেয়ার পরেও মুসল্লীদের কম উপস্থিতির কারণে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের আগমন অপেক্ষায় বসে থাকতেন এবং যখন তিনি মুসল্লীর সংখ্যা অধিক দেখতেন তখন ইকামতের সাথে সাথেই নামায আদায় করতেন। (মুরসাল হাদীস)।
৫৪৭. আহমদ ইবনু ইউনুস ..... আবূদ-দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যখন কোন গ্রামে বা বনজঙ্গলে তিনজন লোক একত্রিত হয় এবং জামাআতে নামায আদায় না করে, তখন শয়তান তাদের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করে। অতএব (তোমরা) অবশ্যই জামাআতের সাথে নামায আদায় কর। কেননা দলচ্যুত বকরীকে নেকড়ে বাঘে ভক্ষণ করে থাকে। (নাসাঈ)।
রাবী আস-সায়েব বলেন, এখানে জামাআত অর্থ জামাআতের সাথে নামায আদায় করা।
৫৪৮. উছমান ইবনু আবূ শায়বা .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আমার ইচ্ছা হয় যে, লোকদেরকে জামাআতের সাথে নামায আদায়ের নির্দেশ দেই এবং তাদের জন্য একজন ইমাম নিযুক্ত করি। অতঃপর আমি কাষ্ঠ বহনকারী একটি দল আমার সাথে নিয়ে ঐ লোকদের নিকট যাই যারা জামাআতে শরীক হয়নি। অতঃপর তাদের ঘর-বাড়ি জালিয়ে দেই- (বুখারী, মুসলিম, ইবনু মাজাহ, তিরমিযী, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৫৪৯সহিহ
حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمَلِيحِ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ الأَصَمِّ، سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ فِتْيَتِي فَيَجْمَعُوا حُزَمًا مِنْ حَطَبٍ ثُمَّ آتِيَ قَوْمًا يُصَلُّونَ فِي بُيُوتِهِمْ لَيْسَتْ بِهِمْ عِلَّةٌ فَأُحَرِّقُهَا عَلَيْهِمْ " . قُلْتُ لِيَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ يَا أَبَا عَوْفٍ الْجُمُعَةَ عَنَى أَوْ غَيْرَهَا قَالَ صُمَّتَا أُذُنَاىَ إِنْ لَمْ أَكُنْ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَأْثِرُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا ذَكَرَ جُمُعَةً وَلاَ غَيْرَهَا .<br /> <br /> صحيح دون قوله ليست بهم علة (الألباني
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৫৪৯. আন-নুফায়লী ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি কিছু সংখ্যক যুবককে কাষ্ঠ সংগ্রহের নির্দেশ দেই। অতঃপর যারা বিনা কারণে নামাযের জামাআতে অনুপস্থিত থাকে তাদের ঘর-বাড়ি জালিয়ে ভষ্মিভুত করে দেই।
রাবী বলেন, আমি ইয়াযীদ ইবনু আসিমকে জিজ্ঞেস করি, হে আবূ আওফ! এ দ্বারা কি কেবলমাত্র জুমুআর জামাআতের প্রতি ইংগিত করা হয়েছে? বলেন, তা আমি সঠিকভাবে জ্ঞাত নই। কেননা আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে জুমুআ অথবা অন্য কোন নামাযের জন্য নির্দিষ্ট ভাবে বলতে শুনিনি (অতএব এ দ্বারা স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে, পাঁচ ওয়াক্তের নামাযের জন্য জামাআতে হাযির হওয়া কর্তব্য। (মুসলিম, তিরমিযী)।
হাদিস নং ৫৫০সহিহ
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبَّادٍ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْمَسْعُودِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ حَافِظُوا عَلَى هَؤُلاَءِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى وَإِنَّ اللَّهَ شَرَعَ لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم سُنَنَ الْهُدَى وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلاَّ مُنَافِقٌ بَيِّنُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفِّ وَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ وَلَهُ مَسْجِدٌ فِي بَيْتِهِ وَلَوْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ وَتَرَكْتُمْ مَسَاجِدَكُمْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم لَكَفَرْتُمْ .<br /> <br /> صحيح م بلفظ لضللتم وهو المحفوظ (الألباني
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৫৫০. হারূন ইবনু আবাদ .... আবদুল্লাহ ইবনু মাস্উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা এই পাঁচ ওয়াক্তের নামায ঠিকভাবে আযানের সাথে হেফাযত কর। কেননা এই নামাযসমূহ হিদায়াতের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ্ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য তা ফরয ও হিদায়াতের বাহন হিসেবে নির্ধারিত করেছেন। রাবী বলেন, আমরা তো দেখেছি যে, প্রকাশ্য মুনাফিকরা ব্যতীত জামাআতে কেউই অনুপস্থিত থাকত না। আমরা আরো দেখেছি যে, দুর্বল ও অক্ষম ব্যক্তি দু’জনের উপর ভর করে মসজিদে এসে জামাআতে নামায আদায়ের জন্য কাতারবদ্ধ হত। তোমাদের প্রত্যেকের (সুন্নাত ও নফল) নামায আদায়ের জন্য নিজ নিজ ঘরে নামাযের স্থান আছে যদি তোমরা মসজিদ ত্যাগ করে নিজ নিজ আবাসে ফরয নামায আদায় কর তবে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত ত্যাগকারী হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত পরিহার কর তবে অবশ্যই তোমরা পথভ্রষ্ট হবে। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
হাদিস নং ৫৫১সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ أَبِي جَنَابٍ، عَنْ مَغْرَاءٍ الْعَبْدِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَمِعَ الْمُنَادِيَ فَلَمْ يَمْنَعْهُ مِنَ اتِّبَاعِهِ عُذْرٌ " . قَالُوا وَمَا الْعُذْرُ قَالَ خَوْفٌ أَوْ مَرَضٌ " لَمْ تُقْبَلْ مِنْهُ الصَّلاَةُ الَّتِي صَلَّى "<br /> <br /> صحيح دون جملة العذر وبلفظ ولا صلاة (الألباني
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৫৫১. কুতায়বা .... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুআযযিনের আযান শুনে বিনা কারণে মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাআতে নামায আদায় করবে না তার অনত্র আদায়কৃত নামায আল্লাহর নিকটে কবুল হবে না (অর্থাৎ তার নামাযকে পরিপূর্ণ নামায হিসেবে গণ্য করা হবে না)। সাহাবীরা ওজর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি কেউ ভয়ভীতি ও অসুস্থতার কারণে জামাআতে হাযির হতে অক্ষম হয় তবে তার জন্য বাড়ীতে নামায পড়া দুষণীয় নয়। (ইবনু মাজাহ)।
৫৫২. সুলায়মান ইবনু হারব .... ইবনু উম্মে মাকতুম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি অন্ধ তদুপরি মসজিদও আমার ঘর হতে অনেক দূরে, কিন্তু আমাকে মসজিদে আনা নেওয়ার জন্য লোক আছে। এমতাবস্থায় আমি কি ঘরে (ফরয) নামায আদায় করতে পারি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেনঃ তুমি কি আযান শুনতে পাও? আমি বলি, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তোমার জন্য (জামাআত) থেকে অব্যাহতির কোন কারণ পাচ্ছি না। (ইবনু মাজাহ, মুসলিম, নাসাঈ)।
৫৫৩. হারূন ইবনু যায়েদ ..... ইবনু উম্মে মাকতুম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ মদ্বীনা শহরে অনেক বিষাক্ত ও হিংস্র প্রাণী আছে যার দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশংকা আছে এমতাবস্থায় জামাআতে হাযির হওয়ার ব্যাপারে আমার করণীয় কি? তিনি বলেনঃ তুমি কি আযানের হাইয়া আলাস-সালাহ্ ও হাইয়া আলাল-ফালাহ্ শুনতে পাও? আমি বলি হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তুমি তার জবাব দাও (জামাআতে হাযির হও)। (নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৫৫৪. হাফস ইবনু উমার ..... উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সাথে ফজরের নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ অমুক ব্যক্তি কি জামাআতে হাযির হয়েছে? সাহাবীরা বলেন, না। অতঃপর তিনি বলেনঃ অমুক ব্যক্তি কি নামাযে উপস্থিত হয়েছে? তারা বলেন, না। তিনি বলেনঃ এই দুই সময়ের (ফজর ও এশার) নামায আদায় করা মুনাফিকদের জন্য কষ্টকর। যদি তোমরা এই দুই ওয়াক্তের নামাযের ফযীলাত সম্পর্কে অবহিত থাকতে, তবে অবশ্যই তোমরা এই দুই সময়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও জামাআতে হাযির হতে এবং জামাআতের প্রথম লাইনটি ফেরেশতাদের কাতারের অনুরূপ। যদি তোমরা এর ফযীলত সম্পর্কে অবগত থাকতে তবে তোমরা প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর জন্য অবশ্যই প্রতিযোগিতা করতে। নিশ্চয়ই মানুষের একাকী নামায হতে দুইজনের একত্রে নামায আদায় করা অধিক উত্তম এবং দুইজনের একত্রে নামায অপেক্ষা তিনজনের একত্রে নামায আদায় করা আরও অধিক উত্তম। এর অধিক জামাআতে যতই লোক বেশী হবে, ততই তা মহান আল্লাহর নিকট অধিক পছ্ন্দনীয়। (নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৫৫৫. আহমদ ইবনু হাম্বল .... উছমান ইবনু আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি এশার নামায জামাতের সাথে আদায় করল সে যেন অর্ধ রাত দাঁড়িয়ে ইবাদত করল। আর যে ব্যক্তি ফজর ও এশার নামায জামাআতে আদায় করল সে যেন সারা রাতব্যাপী ইবাদতে মশগুল থাকল। (মুসলিম, তিরমিযী)।
৫৪. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার ফযিলত।
হাদিস নং ৫৫৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الأَبْعَدُ فَالأَبْعَدُ مِنَ الْمَسْجِدِ أَعْظَمُ أَجْرًا " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৫৫৬. মুসাদ্দাদ ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদ হতে যার অবস্থান (বাসস্থান) যত দূরে সে তত অধিক ছওয়াবের অধিকারী। (ইবনু মাজাহ)।
৫৫৭. আবদুল্লাহ্ ইবনু মুহাম্মাদ আন নুফায়লী .... উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদ্বীনার জনৈক মুসলিম ব্যক্তি, যার বাসস্থান ছিল মসজিদে নববী হতে সবচাইতে দূরে এবং সব সময়ই পদব্রজে মসজিদে নববীতে এসে নামায পড়তেন। একদা আমি তাকে অনুরোধ করি যে, যদি আপনি একটি গাধা খরিদ করতেন তবে তার পিঠে আরোহণ করে প্রচন্ড গরম ও অন্ধকার রাতে সহজে যাতায়াত করতে পারতেন। জবাবে ঐ ব্যক্তি বলেন, আমার নিকট আদৌ পছন্দনীয় নয় যে, আমার বাসস্থান মসজিদের নিকটবর্তী হোক। অতঃপর এই সষ্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবহিত করা হলে তিনি তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কামনা এই যে, (আমার বাড়ী যেহেতু মসজিদ হতে দূরে সেহেতু) যাতায়াতের জনা অদিক পদক্ষেপের বিনিময়ে আমি অধিক ছওয়াব প্রাপ্ত হব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি যে ছওয়াবের কামনা করছ মহান আল্লাহ্ তা তোমাকে দান করেছেন। (মুসলিম, ইবনু মাজা)।
৫৫৮. আবূ তাওবা .... আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে ফরয নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়, সে ইহরামধারী হাজ্জীর অনুরূপ ছওয়াব প্রাপ্ত হবে। অপর পক্ষে যে ব্যক্তি কেবলমাত্র চাশতের নামায আদায়ের জন্য মসজিদে যায় সে উমরাহকারীর ন্যায় ছওয়াব প্রাপ্ত হবে। যে ব্যক্তি এক ওয়াক্ত নামায আদায়ের পর হতে পরের ওয়াক্ত নামায আদায় করাকালীন সময়ের মধ্যে কোনরূপ বেহুদা কাজ ও কথাবার্তায় লিপ্ত না হয়, তার আমলনামা সপ্তাকাশে লিপিবদ্ধ হবে, অর্থাৎ সে উচ্চমর্যাদার অধিকারী হবে।
৫৫৯. মূসা’দ্দাদ .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোন ব্যক্তি জামাআতের সাথে নামায আদায় করলে বাড়ীতে এবং বাজারে একাকী নামায আদায় করা অপেক্ষা তা পঁচিশ গুণ শ্রেয়। তা এই কারনে যে, যখন কোন ব্যক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে শুধু নামাযের উদ্দেশ্যেই মসজিদে যায় তার প্রতি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার মর্যাদা বৃদ্ধি এবং গুনাহ্ মাফ হয়ে থাকে যতক্ষণ না সে মসজিদে প্রবেশ করে। অতঃপর সে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশের পর যতক্ষণ সেখানে নামাযের জন্য অবস্থান করবে ততক্ষণ তাকে নামাযী হিসাবে গণ্য করা হবে। ঐ ব্যক্তি যতক্ষণ মসজিদে অবস্থান করবে ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দু’আ করবে। দু’আটি এইরূপঃ “ইয়া আল্লাহ্! তুমি তাকে ক্ষমা করা ইয়া আল্লাহ্! তুমি তার উপর রহমত বর্ষণ কর। ইয়া আল্লাহ্! তুমি তার তওবা কবুল করা।”
ঐ ব্যক্তির জন্য ফেরেশতারা ততক্ষণ-পর্যন্ত ঐরূপ দু’আ করতে থাকবে যতক্ষণ সে কাউকেও কষ্ট না দেয় অথবা তার উযূ নষ্ট না হয়। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)।
৫৬০. মুহাম্মাদ ইবনু ঈসা ...... আবূ সাঈদ আল্-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ জামা’আতের সাথে এক ওয়াক্তের নামায একাকী পঁচিশ ওয়াক্ত নামায (আদায়ের) সমতুল্য। যখন কোন ব্যক্তি মাঠে বা বন-ভূমিতে সঠিকভাবে রুকু-সিজদা সহকারে নামায আদায় করবে, তখন সে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাযের সমান ছওয়াব পাবে। (ইবনু মাজাহ)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আব্দুল ওয়াহিদ এই হাদীছের মধ্যে বলেন যে, মাঠে বা জংগলে কোন বাড়ির নামায জামাআতে নামায আদায়ের কয়েকগুণ বেশী ছওয়াব হবে। অতঃপর তিনি হাদীছের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন।
৫৬২. মুহাম্মাদ ইবনু সুলায়মান .... আবূ ছুমামা আল-হান্নাত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে গমনকালে কাব ইবনু উজরা (রাঃ) এর সাথে পথিমধ্যে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। রাবী বলেন, তখন আমি আমার হাতের আঙ্গুল একটির ফাঁকে আরেকটি প্রবেশ করাচ্ছিলাম অংগুলি মটকাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে ঐরূপ করতে নিষেধ করে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যখন তোমাদের কেউ উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর মসজিদে গমনের ইচ্ছা করে, সে যেন তার হাতের আঙ্গুল একটির ফাঁকে আরেকটি প্রবেশ না করায় অংগুলী না মটকায়, কেননা ঐ ব্যক্তিকে তখন নামাযী হিসেবে গণ্য করা হয়। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)।
লাল মার্ক করা অংশের অনুবাদ সঠিক না হবার কারনে তা সংশোধন করা হল। - হাদিসবিডি এডমিন
৫৬৩. মুহাম্মাদ ইবনু মূআয ইবনু আব্বাদ আল-আনবারী ..... সাঈদ ইবনুল মূসাইয়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসার সাহবীর মৃত্যু উপস্থিত হল তিনি বলেন, আমি তোমাদের নিকট একটি হাদীছ একমাত্র আল্লাহ্ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই বর্ণনা করতে চাই। অতঃপর তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি তোমাদের কেউ যখন ভালভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নামাযের জন্য রওনা হয়, তখন সে তার ডান পা উঠানোর সাথে সাথেই তার আমলনামায় একটি নেকী লিখিত হয়। অতঃপর তার বাম পা ফেলার সাথে সাথেই তার একটি গুনাহ্ মার্জিত হয়। এখন যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে, সে তার আবাসস্থান মসজিদের নিকটে বা দূরে করতে পারে। অতঃপর ঐ ব্যক্তি মসজিদে আগমনের পর জামাআতের সাথে নামায আদায় করলে তার সমস্ত (ছগীরা) গুনাহ্ মাফ হবে। ঐ ব্যক্তি মসজিদে পৌছতে পৌছতে ইমাম যদি কিছু অংশ আদায় করে ফেলে, তখন সে ইমামের সাথে বাকী নামায আদায়ের পর ইমাম যা পূর্বে আদায় করেছে তা পূর্ণ করবে। কিন্তু সওয়াবের ব্যাপারে ঐ ব্যক্তি পূর্ণ নামায প্রাপ্ত ব্যক্তির অনুরূপ হবে। ঐ ব্যক্তি মসজিদে আগমনের পর যদি দেখে যে, ইমাম তার নামায শেষ করে ফেলেছে, তখন সে একাকী নামায আদায় করল। তবুও তাকে ক্ষমা করা হবে।
৫৬৪. আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসলামা .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার পর মসজিদে গিয়ে দেখতে পায় যে, নামাযের জামাআত শেষ হয়ে গিয়েছে- মহান আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তিকেও তাদের অনুরূপ ছওয়াব প্রদান করবেন- যারা মসজিদে হাযির হয়ে জামাআতের সাথে পুরা নামায আদায় করেছে। তাতে জামাআতে নামায আদায়কারীদের ছওয়াব কম হবে না। (নাসাঈ)।
৫৮. মহিলাদের মসজিদে যাতায়াত সম্পর্কে।
হাদিস নং ৫৬৫হাসান
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ وَلَكِنْ لِيَخْرُجْنَ وَهُنَّ تَفِلاَتٌ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৫৬৫. মূসা ইবনু ইসমাঈল .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর বান্দীদের (স্ত্রীলোকদের) আল্লাহর মসজিদে যাতায়াতে নিষেধ কর না। কিন্তু খুশবু ব্যবহার না করে তারা মসাজিদে যাবে।
হাদিস নং ৫৬৬সহিহ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৫৬৬. সুলায়মান ইবনু হারব ..... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন তোমরা আল্লাহর বান্দীদের (স্ত্রীলোকদের) আল্লাহর মসজিদসমূহে যাতায়াতে বাধা দিও না। (বুখারী, মুসলিম)।
হাদিস নং ৫৬৭সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا الْعَوَّامُ بْنُ حَوْشَبٍ، حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَمْنَعُوا نِسَاءَكُمُ الْمَسَاجِدَ وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৫৬৭. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের মসজিদ সমূহে যাতায়াতের বাধা দিও না। কিন্তু তাদের ঘরসমূহই তাদের (নামাযের জন্য)-উত্তম স্থান। (ঐ)।
হাদিস নং ৫৬৮সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ائْذَنُوا لِلنِّسَاءِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِاللَّيْلِ " . فَقَالَ ابْنٌ لَهُ وَاللَّهِ لاَ نَأْذَنُ لَهُنَّ فَيَتَّخِذْنَهُ دَغَلاً وَاللَّهِ لاَ نَأْذَنُ لَهُنَّ . قَالَ فَسَبَّهُ وَغَضِبَ وَقَالَ أَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ائْذَنُوا لَهُنَّ " . وَتَقُولُ لاَ نَأْذَنُ لَهُنَّ
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৫৬৮. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... আবূদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের রাতের বেলায় মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দাও। তখন তাঁর এক পুত্র (বিলাল) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি তাদের রাতের বেলায় মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দেব না। কেননা এতে তারা ফিতনা-ফাসা’দ লিপ্ত হতে পারে। আল্লাহর শপথ। আমি তাদেরকে কিছুতেই অনুমতি দেব না। রাবী মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, আবূদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) তাঁর উপর রাগান্বিত হন এবং তাকে গালাগলি করেন আর বলেন, আমি বলছি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দাও, আর তুমি বলছ, আমি কোন মতেই তাদের অনুমতি দিব না। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)।
৫৯. মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে কঠোরতা সম্পর্কে।
হাদিস নং ৫৬৯সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ لَوْ أَدْرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ الْمَسْجِدَ كَمَا مُنِعَهُ نِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ . قَالَ يَحْيَى فَقُلْتُ لِعَمْرَةَ أَمُنِعَهُ نِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ قَالَتْ نَعَمْ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৫৬৯. আল্-কানবী ..... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বর্তমান মহিলাদের আচার-আচরণ যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বচক্ষে দেখতে পেতেন তবে অবশ্যই তিনি তাদের মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন- যেরূপ বনী ইসরাঈলের স্ত্রীলোকদের মসজিদে যাওয়া নিষেধ করা হয়েছিল। রাবী ইয়াহ্ইয়া বলেন, তখন আমি রাবী আমরাকে জিজ্ঞেস করি, বনী ইসরাঈলের স্ত্রীলোকদের কি মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল? তিনি বলেন, হ্যাঁ। (বুখারী, মুসলিম)।
৫৭০. ইবনু মূছান্না .... আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস্উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ মহিলাদের ঘরে নামায আদায় করা বৈঠকখানায় নামায আদায় করার চাইতে উত্তম এবং মহিলাদের সাধারণ থাকার ঘরে নামায আদায় করার চেয়ে গোপন প্রকোষ্ঠে নামায আদায় করা অধিক উত্তম।
৫৭১. আবূ মামার .... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যদি আমরা মসজিদে নববীর এই দরজাটি মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট করে দিতাম (তবে খুবই উত্তম হত)। রাবী নাফে বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) তার ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত এই দরজা দিয়ে এ কারণে আর কোন দিন প্রবেশ করেননি।
ইমাম আবূ দাউদ বলেন, এই হাদীছ ইসমাঈল ইবনু ইব্রাহীম হতেও বর্ণিত হয়েছে এবং এটা বিশুদ্ধ অভিমত।
৫৭২. আহমদ ইবনু সালেহ্ ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যখন নামাযের জন্য ইকামত দেয়া হয় তখন তার জন্য (জামাআতে শরীক হওয়ার জন্য) তোমরা শান্ত ও স্বাভাবিক গতিতে হেটে যাও, দৌঁড়িয়ে যেয়ো না। অতঃপর তোমরা ইমামের সাথে যা পাও (যত রাকাত নামায পাও) তা আদায় কর এবং যা না পাও তা পরে পূরণ কর। (বুখারী, মুসলিম, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ তিরমিযী)।
ইমাম আবূ দাউদ বলেন, আয-যুবায়দী, ইবনু আবূ যি’ব, ইবরাহীম ইবনু সা’দ, মুআম্মার, শুআয়েব ইবনু আবূ হামযা-যুহরী হতে বর্ণনা করেছেন যে, তোমরা যে নামায না পাও তা পরে পূরণ করবে। ইবনু উয়ায়না কেবলমাত্র যুহরী হতে এইরূপ বর্ণনা করেছেন যে, “তোমরা আদায় করবে।” মুহাম্মাদ ইবনু আমর-আবূ সালামা হতে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে এবং জাফর ইবনু রবীআ (রহঃ) আল-আরাজ হতে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, “তোমরা তা পূর্ণ করবে।”
ইবনু মাসউদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে এবং আবূ কাতাদা ও আনাস (রাঃ) প্রমুখ সকলেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে এরূপ বর্ণনা করেছেন “তোমরা নামায পূর্ণ কর।”
৫৭৩. আবূল ওয়ালীদ .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমরা শান্তির সাথে নামাযের জন্য আস। অতঃপর তোমরা ইমামের সাথে যা পাবে তা আদায় করবে এবং যা না পাবে তা পরে পূর্ণ করবে। এছাড়া অন্যান্য বর্ণনায় সামান্য শাব্দিক পার্থক্য সহকারে এরূপই বিবৃত হয়েছে।
৬১. একই নামায দুইবার একই মসজিদে জামাআতে আদায় করা।
হাদিস নং ৫৭৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبْصَرَ رَجُلاً يُصَلِّي وَحْدَهُ فَقَالَ " أَلاَ رَجُلٌ يَتَصَدَّقُ عَلَى هَذَا فَيُصَلِّيَ مَعَهُ " .
বর্ণনাকারী: আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
৫৭৪. মূসা ইবনু ইসমাঈল ..... আবূ সাঈদ আল্-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে (জামাআতের পর) একাকী নামায আদায় করতে দেখে বলেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই কি- যে এই ব্যক্তিকে সদকা দিয়ে তার সাথে একত্রে নামায পড়তে পারে? (তিরমিযী)।
৬২. ঘরে একাকী নামায আদায়ের পর মসজিদে গিয়ে জামাআত পেলে তাতে শরীক হবে।
৫৭৫. হাফস ইবনু উমার ..... জাবের ইবনু ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। একদা যৌবনের প্রারম্ভে তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে জামাআতে নামায আদায় করেন। নামায শেষে দেখা যায় যে, দুই ব্যক্তি জামাআতে শরীক না হয়ে মসজিদের কোনায় বসে আছ। তখন তাদেরকে ডাকা হলে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে ভীত প্রকম্পিত অবস্থায় হাযির হয়। অতঃপর তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেনঃ আমাদের সাথে নামায আদায় করতে কিসে তোমাদের বাধা দিয়েছে? তারা বলে, আমরা আমাদের ঘরে নামায আদায় করেছি। তিনি বলেনঃ তোমরা এইরূপ করবে না, বরং কেউ ঘরে নামায আদায়ের পর মসজিদে ইমামকে নামাযরত পেলে তার সাথে শরীক হয়ে নামায আদায় করবে এবং তা তার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে। (তিরমিযী)।
হাদিস নং ৫৭৬সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الصُّبْحَ بِمِنًى بِمَعْنَاهُ .
৫৭৬. ইবনু মুআয .... জাবের ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মিনাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ফজরের নামায আদায় করি ... হাদীছের অবশিষ্টাংশ পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ।
৫৭৭. কুতায়বা ..... ইয়াযীদ ইবনু আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাযির হয়ে তাকে নামাযে রত পাই। আমি তাদের সাথে নামাযে শরীক না হয়ে বসে থাকি। রাবী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযান্তে আমাদের প্রতি লক্ষ্য করে দেখেন যে, ইয়াযীদ বসে আছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ হে ইয়াযীদ! তুমি কি ইসলাম কবুল কর নাই? আমি বলি- হ্যাঁ! হে আল্লাহর রাসূল! আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। তখন তিনি বলেনঃ তবে কিসে তোমাকে লোকদের সাথে জামাআতে শরীক হতে বাধা দিয়েছে? আমি বলি, অমার ধারণা ছিল যে, মসজিদের জামাআত সমাপ্ত হয়েছে, সে কারণে আমি বাড়িতে একাকী নামায আদায় করে এসেছি। তখন তিনি বলেনঃ যখন তুমি মসজিদে এসে লোকদের জামাআতে নামায আদায় করতে দেখবে, তখন তাদের সাথে তুমিও নামায পড়বে এবং তা তোমার জন্য নফল হবে এবং আগে পড়া নামায ফরয হিসাবে গণ্য হবে।
৫৭৮. আহমদ ইবনু সালেহ্ ..... বানূ আসা’দ ইবনু খুযাইমা গোত্রের এক ব্যক্তি আবূ আইউব আনসারী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, আমাদের কেউ ঘরে একাকী নামায আদায়ের পর মসজিদে এসে দেখতে পায় যে, সেখানে জামাআত শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তি জামাআতে শরীক হয়ে নামায আদায় করতে পারবে কিনা- এ ব্যাপারে আমি সন্দীহান। আবূ আইউব (রাঃ) বলেন, এ ব্যাপারে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেনঃ সে ঐ জামাআতে শরীক হলে ছওয়াব প্রাপ্ত হবে।
৬৩. জামাআতে নামায আদায়ের পর অন্যত্রে গিয়ে জামাআত পেলে তাতে শরীক হবে কি?
৫৭৯. আবূ কামিল .... সুলায়মান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমার (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে মদীনার নিকটবর্তী বিলাত নামক স্থানে আসি। আমি তাদেরকে নামাযে রত পাই। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, আপনি কেন তাদের তাদের সাথে নামায আদায় করছেন না? তিনি বলেন, আমি ইতিপূর্বে জামাআতে নামায আদায় করেছি। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা একই ফরয নামায একই দিনে দুঁ’বার আদায় করো না (অর্থাৎ একই নামায ফরয হিসেবে দু’বার আদায় করা যাবে না, বরং পরবর্তী নামাযটি নফল হিসাবে আদায় করা যেতে পারে)। (নাসাঈ)।
৫৮০. সুলায়মান ইবনু দাউদ ..... উকবা ইবনু আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সঠিক সময়ে লোকদের নিয়ে জামাআতে নামায আদায় করছে, এজন্য সে (ইমাম) নিজে এবং মুক্তাদীগ পরিপূর্ণ ছওয়াবের অধিকারী হবে। অপরপক্ষে যদি কোন সময় ইমাম সঠিক সময়ে নামায আদায় না করে তবে এজন্য সে দায়ী হবে কিন্তু মুক্তাদীগণ পরিপূর্ণ ছওয়াবের অধিকারী হবে। (ইবনু মাজাহ)
৫৮১. হারূন ইবনু আরাদ ..... সালামা বিনতুল হুর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের নিদর্শনাবলীর মধ্যে এও একটি যে, যখন মসজিদের মুসল্লীগণ সকলেই নামাযের জন্য ইমামতি করতে রাযী না হওয়ায় পরিস্থিতি এমন হবে যে, কাউকেও ইমামতি করার যোগ্য হিসেবে পাওয়া যাবে না (আখেরী যামানায় তা লোকদের অজ্ঞতার কারণে হবে)। (ইবনু মাজাহ)।
৫৮২. আবূল ওয়ালীদ ...... আবূ মাসউদ আল-বদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ উপস্থিত লোকদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব (তার কিরাআত) সম্পর্কে সর্বাধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তি তাদের ইমামতি করবে। যদি এ বিষয়ে সকলে সমান যোগ্যতার অধিকারী হয়, তবে যিনি প্রথম হিজরতকারী ব্যক্তি তিনি ইমাম হবেন। যদি তাতেও সকলে সমান হয়, তবে যিনি অধিক বয়স্ক হবেন তিনই ইমামতি করবেন। কোন ব্যক্তি যেন অন্য কোন স্থানে অথবা অন্যের আধিপত্যের স্থানে ইমামতি না করে। কারো জন্য নির্ধারিত আসনে তার অনুমতি ব্যতিরেকে যেন আসন গ্রহণ না করে। অর্থাৎ ইমাম বা অন্য কারো জন্য নির্ধারিত বিছানায় যেন না বসে। (মুসলিম, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ)।
৫৮৩. ইবনু মুআয ..... শোবা (রহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে। তাঁর বর্ণনায় আরও আছেঃ অন্যের ইমামতির স্থানে অনুমতি ব্যতীত যেন ইমামতি না করে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইয়াহ্ইয়া-শোবা হতে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন যে, ইমামতির জন্য যোগ্যতম হল কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি।
৫৮৪. আল-হাসান ইবনু আলী ...... আবূ মাসউদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ যদি সকলে কিরাআতের মধ্যে সমান হয় তবে যে ব্যক্তি সুন্নাহ্ (হাদীছ) সম্পর্কে বেশী অভিজ্ঞ সেই ইমামতি করবে, এতেও যদি সকলে সমান হয় তবে প্রথম হিজরতকারী ব্যক্তি ইমামতি করবে। এই হাদীছে “ফাআকদামুহুম কিরাআতান” শব্দের উল্লেখ নাই। (মুসলিম, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৫৮৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَلِمَةَ، قَالَ كُنَّا بِحَاضِرٍ يَمُرُّ بِنَا النَّاسُ إِذَا أَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَكَانُوا إِذَا رَجَعُوا مَرُّوا بِنَا فَأَخْبَرُونَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ كَذَا وَكَذَا وَكُنْتُ غُلاَمًا حَافِظًا فَحَفِظْتُ مِنْ ذَلِكَ قُرْآنًا كَثِيرًا فَانْطَلَقَ أَبِي وَافِدًا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَفَرٍ مِنْ قَوْمِهِ فَعَلَّمَهُمُ الصَّلاَةَ فَقَالَ " يَؤُمُّكُمْ أَقْرَؤُكُمْ " . وَكُنْتُ أَقْرَأَهُمْ لِمَا كُنْتُ أَحْفَظُ فَقَدَّمُونِي فَكُنْتُ أَؤُمُّهُمْ وَعَلَىَّ بُرْدَةٌ لِي صَغِيرَةٌ صَفْرَاءُ فَكُنْتُ إِذَا سَجَدْتُ تَكَشَّفَتْ عَنِّي فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنَ النِّسَاءِ وَارُوا عَنَّا عَوْرَةَ قَارِئِكُمْ . فَاشْتَرَوْا لِي قَمِيصًا عُمَانِيًّا فَمَا فَرِحْتُ بِشَىْءٍ بَعْدَ الإِسْلاَمِ فَرَحِي بِهِ فَكُنْتُ أَؤُمُّهُمْ وَأَنَا ابْنُ سَبْعِ سِنِينَ أَوْ ثَمَانِ سِنِينَ .
বর্ণনাকারী: আমর ইবনু সালামাহ (রাঃ)
৫৮৫. মূসা ইবনু ইসমাঈল ...... আমর ইবনু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা লোকজনের সমবেত কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় এক প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগমন করে। তাঁরা প্রত্যাবর্তনের সময় আমাদের পাশ দিয়ে গমনকালে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এইরূপ বলেছেন। রাবী বলেন, এ সময় আমার বয়স কম ছিল এবং স্মরণশক্তি ছিল প্রখর। ফলে এ সময়ে আমি কুরআনের অনেকাংশ কন্ঠস্থ করে ফেলি।
রাবী বলেন, একদা আমার পিতা তাঁর গোত্রের প্রতিনিধি হিসেবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট যান। তখন তিনি তাদেরকে নামাযের নিয়ম-কানুন শিক্ষা দেন এবং এ কথাও বলেন যে, তোমাদের মধ্যে যার অধিক কুরআন মুখস্ত আছে- সে যেন ইমামতি করে। আমি অধিক কুরআন মুখস্থকারী ও বিশুদ্ধরূপে পাঠকারী হিসেবে তারা আমাকেই ইমামতির দায়িত্ব প্রদান করেন।
অতঃপর আমি তাদের ইমামতি করতে থাকি। এ সময় আমার গায়ে হলুদ বর্ণের একটি ছোট চাঁদর ছিল। নামাযের সময় যখন আমি সিজদায় যেতাম তখন তা খুলে যেত। মহিলাদের মধ্যে একজন বলেন, তোমরা তোমাদের ইমামের সতর ঢাকার ব্যাবস্থা কর। অতঃপর তারা আমার জন্য একটি ইয়ামন দেশীয় জামা খরিদ করেন; ষার ফলে ইসলাম গ্রহণের পর আমি এর চাইতে অধিক খুশী আর হই নাই। আমি এমন সময় হতে তাদের ইমামতি করতে আরম্ভ করি যখন আমার বয়স ছিল মাত্র ৭ বা ৮ বছর। (বুখারী, নাসঈ)।
৫৮৬. আন-নুফায়লী ....... আমর ইবনু সালামা (রাঃ) হতে এই হাদীছটি বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি আমার সম্প্রদায়ের ইমামতি করতাম একটি চাঁদর পরিধাণ করে। যা ফাটা ও তালিযুক্ত ছিল। এমতাবস্থায় যখন আমি সিজদায় যেতাম তখন আমার পশ্চাৎদেশ অনাবৃত হয়ে যেত।
হাদিস নং ৫৮৭সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرِ بْنِ حَبِيبٍ الْجَرْمِيِّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ سَلِمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُمْ وَفَدُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَرَادُوا أَنْ يَنْصَرِفُوا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ يَؤُمُّنَا قَالَ " أَكْثَرُكُمْ جَمْعًا لِلْقُرْآنِ " . أَوْ " أَخْذًا لِلْقُرْآنِ " . قَالَ فَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ مِنَ الْقَوْمِ جَمَعَ مَا جَمَعْتُهُ - قَالَ - فَقَدَّمُونِي وَأَنَا غُلاَمٌ وَعَلَىَّ شَمْلَةٌ لِي فَمَا شَهِدْتُ مَجْمَعًا مِنْ جَرْمٍ إِلاَّ كُنْتُ إِمَامَهُمْ وَكُنْتُ أُصَلِّي عَلَى جَنَائِزِهِمْ إِلَى يَوْمِي هَذَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ مِسْعَرِ بْنِ حَبِيبٍ الْجَرْمِيِّ عَنْ عَمْرِو بْنِ سَلِمَةَ قَالَ لَمَّا وَفَدَ قَوْمِي إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَقُلْ عَنْ أَبِيهِ .<br /> <br /> صحيح لكن قوله عن أبيه غير محفوظ (الألباني
বর্ণনাকারী: আমর ইবনু সালামাহ (রাঃ)
৫৮৭. কুতায়বা ..... আমর ইবনু সালামা (রাঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তাঁরা প্রতিনিধি হিসাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হন। তাঁরা সেখান হতে প্রত্যাবর্তনের সময় বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের নামাযে কে ইমামতি করবে? তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ বা অধিক জ্ঞানী- সে ইমামতি করবে। রাবী বলেন, এ সময় আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে আমিই অধিক অভিজ্ঞ ছিলাম। তাই তারা আমাকে ইমাম নিযুক্ত করেন, কিন্তু তখন আমার বয়স ছিল খুবই কম। তখন আমার পরনে একটি ছোট চাঁদর থাকত এবং বয়সের সল্পতা হেতু আমি তাদের সাথে উঠাবসা না করলেও আমি তাদের জামাআতে ইমামতি করতাম এবং জানাযার নামাযও পড়াতাম।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইয়াযীদ ইবনু হারূনের সূত্রে বর্ণিত হাদীছে “আন আবীহি” শব্দের উল্লেখ নেই।
৫৮৮. আল-কানবী .... নাফে (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুহাজিরদের প্রথম দলটি যখন কুবার নিকটবর্তী আসবাহ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু অলাইহে ওয়া সাল্লামের আগেই অবতরণ করেন-তখন তাঁদের ইমামতি করতেন সালেম (রাঃ), যিনি ছিলেন আবূ হুযায়ফা (রাঃ) এর আযাদকৃত গোলাম। তাদের মধ্যে তিনই ছিলেন কুরআন সম্পর্কে সমধিক অভিজ্ঞ।
রাবী হাইছামের বর্ণনায় আরও আছেঃ ঐ দলে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এবং আবূ সালামা ইবনু আব্দুল আসাদ প্রমুখ বিশিষ্ট সাহাবীরাও ছিলেন। (বুখারী)।
৫৮৯. মূসা’দ্দাদ ..... মালিক ইবনু হুয়ায়রিছ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে অথবা তাঁর সাথীকে বলেনঃ নামাযের সময় উপস্থিত হলে আযান ও ইকামতের পর তোমাদের মধ্যেকার বয়স্ক ব্যক্তি নামাযে ইমামতি করবে। রাবী মাসলামার হাদীছে উল্লেখ আছে যে, ঐ সময় আমরা সকলেই প্রায় সমান ইলমের অধিকারী ছিলাম। ইসমাঈল হতে বর্ণিত হাদীছে উল্লেখ আছে যে, রাবী খালিদ বলেন, তখন আমি আবূ কিলাবাকে বলি, ’কুরআনে অধিক অভিজ্ঞ’ এ শব্দটি কেন উল্লেখ করা হয় নাই? তিনি বলেন, মালিক ও তাঁর সাথী উভয়ই কুরআনে সম-জ্ঞানের অধিকারী থাকায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের কথা এখানে উল্লেখ করেন নাই (বরং বয়সের কথা বলেছেন)।
হাদিস নং ৫৯০যঈফ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عِيسَى الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِيُؤَذِّنْ لَكُمْ خِيَارُكُمْ وَلْيَؤُمَّكُمْ قُرَّاؤُكُمْ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৫৯০. উছমান ইবনু আবূ শায়বা .... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেঃ তোমাদের মধ্যেকার উত্তম ব্যক্তি যেন আযান দেয় এবং বিশুদ্ধরূপে কুরআন পাঠকারী যেন তোমাদের ইমামতি করে। (ইবনু মাজাহ)।
৫৯১. উছমান ইবনু আবূ শায়বা .... উম্মে ওয়ারাকা বিনতে নাওফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধের সময় আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলি- ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাকে এই যুদ্ধে অংশ গ্রহণের অনুমতি দান করুন, যাতে আমি যুদ্ধাহত সেনানীদের সেবা শুশ্রূষা করার সময় শাহাদাত বরণ করতে পারি। জবাবে তিনি বলেনঃ তুমি স্বগৃহে অবস্থান কর। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন তোমাকে শাহাদাত নসীব করবেন।
রাবী বলেন, এজন্য তাকে শহীদ আখ্যায়িত করা হত। রাবী আরও বলেন, তিনি কুরআন সম্পর্কে বিশেষ অভিজ্ঞ ছিলেন। একদা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আরয করেন যে, তার ঘরে আযানের জন্য যেন একজন মুয়াযযিন নিযুক্ত করা হয় (মহিলাদের জামাআত কায়েমের উদ্দেশ্যে)।
(তার শাহাদাত বরণের ঘটনা এই যে) তিনি তার এক দাস ও এক দাসীকে এই চুক্তিতে আযাদ করেন যে, আমার মৃত্যুর পর তোমরা আযাদ হবে। একদা রাতে তারা (দাস-দাসী) তাদেরকে চাঁদর দিয়ে আবৃত করে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে এবং পালিয়ে চলে যায়। পরদিন সকালে উমার (রাঃ) তাকে মৃত অবস্থায় দেখে সকলের নিকট বলেন, তার নিকট যে দাস-দাসী থাকত তাদের সম্পর্কে তোমাদের যে ব্যক্তি অবগত আছে সে যেন তাদেরকে আমার নিকট হাযির করে। (অতঃপর উপস্থিত করা হলে তারা তাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে) তখন তাদেরকে শূলিবিদ্ধ করে হত্যা করা হয় এবং মদীনাতে এটাই শূলিবিদ্ধ করে মৃত্যুদন্ডের সর্বপ্রথম ঘটনা।
৫৯২. আল-হাসান ইবনু হাম্মাদ আল-হাদরামী .... উম্মে ওয়ারাকা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও কখনও তাকে দেখার জন্য তার বাড়ীতে যেতেন। তিনি তার জন্য একজন মুআযযিনও নিযুক্ত করেন। সে তাঁর বাড়িতে আযান দিত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে স্বগৃহে মহিলাদের নামাযে ইমামতি করার নির্দেশ দেন। রাবী আব্দুর রহমান বলেন, আমি তার জন্য বয়ঃবৃদ্ধ মুয়াযযিনকে দেখেছি।
৫৯৩. আল-কানবী ..... আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা তিন ব্যাক্তির নামায কবুল করেন না। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করে, অথচ মুকতাদীরা তার উপর অসন্তুষ্ট। যে ব্যক্তি নামাযের সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নামায আদায় করে। যে ব্যক্তি স্বাধীন মহিলা অথবা পুরুষ লোককে ক্রীতদাসী বা দাস বানায়। (ইবনু মাজাহ)।
৫৯৪. আহমদ ইবনু সালেহ্ ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম ইমামের পেছনে (জামাআতে) ফরয নামাযসমূহ আদায় করা বাধ্যতামূলক, চাই সে (ইমাম) সৎ হোক অথবা অসৎ; এমনকি সে কবীরা গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়ে থাকলেও।
৭০. অন্ধ ব্যাক্তির ইমামতি করা সম্পর্কে।
হাদিস নং ৫৯৫হাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَنْبَرِيُّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ الْقَطَّانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَخْلَفَ ابْنَ أُمِّ مَكْتُومٍ يَؤُمُّ النَّاسَ وَهُوَ أَعْمَى .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৫৯৫. মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান .... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদে গমনকালে ইবনু উম্মে মাকতুম (রাঃ)-কে নিজের স্থালাভিষিক্ত নিয়োগ করেন। তিনি লোকদের ইমামতি করতেন। অথচ তিনি ছিলেন জন্মান্ধ।
৫৯৬. মুসলিম ইবনু ইব্রাহীম .... বুদায়েল থেকে আবূ আতিয়্যার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালিক ইবনু হুয়ায়রিছ (রাঃ) আমাদের মসজিদে আগমন করেন। তখন নামাযের ইকামত দেওয়া হলে আমরা তাকে ইমামতি করার জন্য অনুরোধ করি। তিনি আমাদের বলেন, তোমাদের মধ্য হতে এক জনকে ইমামতি করতে বল। আমি ইমামতি না করার কারণ তোমাদের নিকট বর্ণনা করব। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের নিকট তাদের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে গমন করবে সে যেন তাদের ইমামতি না করে, বরং তাদের মধ্য হতে কেউ যেন তাদের ইমামতি করে। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
৭২. ইমামের মুকতাদীর তুলনায় উঁচু স্থানে দণ্ডায়মান হয়ে নামায আদায় করা সম্পর্কে।
৫৯৭. আহমদ ইবনু সিনান ..... হাম্মাম হতে বর্ণিত। হুযায়ফা (রাঃ) মাদায়েন নামক স্থানে একটি দোকানের উপর দাড়িয়ে লোকদের ইমামতি করেন। তখন আবূ মাসউদ (রাঃ) তিনি নামায শেষে বলেন, তুমি কি একথা জাননা যে, লোকদেরকে উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে ইমামতি করতে নিষেধ করা হয়েছে? জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ আপনি যখন আমার জামা ধরে টান দেন তখন তা আমার স্মরণ হয়।
৫৯৮. আহমদ ইবনু ইব্রাহীম ...... আদী ইবনু ছাবেত (রহঃ) জনৈক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, একদা আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) এর সাথে মাদায়েনে ছিলেন। নামাযের জন্য ইকামত দেয়া হলে আম্মার (রাঃ) একটি দোকানের উপর (উচু স্থান) দাঁড়িয়ে নামাযে ইমামতি করতে যান, মুকতাদীরা নিচু স্থানে দন্ডায়মান ছিলেন। হুযায়ফা (রাঃ) অগ্রসর হয়ে আম্মার (রাঃ) এর হাত ধরে তাকে নীচে নামিয়ে আনেন। আম্মার (রাঃ) নামায শেষ করলে হুযায়ফা (রাঃ) তাকে বলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেননিঃ যখন কোন ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করবে, সে যেন সমাগত মুসল্লী হতে কোন উচু স্থানে দন্ডায়মান না হয়? তখন আম্মার (রাঃ) বলেন, ঐ সময় হাদীছটি আমার স্মরণে আসায় আমি আপনার হস্ত ধারণের অনুসরণ করে নীচে নেমে আসি।
৭৩. কোন ব্যাক্তির একবার নামায আদায়ের পর ঐ নামাযে পুনরায় তার ইমামতি সম্পর্কে।
৫৯৯. উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার ..... জাবের ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এশার নামায আদায়ের পর স্বীয় সম্প্রদায়ে ফিরে গিয়ে পুনরায় তাদের ঐ এশার নামাযে ইমামতি করতেন।
হাদিস নং ৬০০সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ إِنَّ مُعَاذًا كَانَ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَرْجِعُ فَيَؤُمُّ قَوْمَهُ .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
৬০০. মুসাদ্দাদ .... জাবের ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে (এশার নামায) আদায় করে স্বীয় গোত্রে ফিরে গিয়ে পুনরায় ঐ নামাযে নিজ গোত্রের লোকদের ইমামতি করতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
৬০১. আল-কানবী ..... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোড়ায় অরোহণ করেন। তিনি তার পিঠ থেকে পড়ে যাওয়ায় তার দেহের ডান পার্শ্বে ব্যথা পান। এমতাবস্থায় বসে নামাযে ইমামতি করেন এবং আমরাও তার পিছনে বসে নামায আদায় করি। নামায শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ইমামকে এজন্যই করা হয়েছে যে, তার অনুসরণ করা হয়। অতএব ইমাম যখন দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে তখন তোমরাও দন্ডায়মান হবে। অতঃপর ইমাম যখন রুকু করবে তখন তোমরাও রুকু করবে এবং ইমাম যখন মস্তক উত্তোলন করবে তোমরাও মস্তক উঠাবে। অতঃপর ইমাম যখন “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলবে, তখন তোমরা বলবে, রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ।” ইমাম যখন বসে নামায আদায় করবে, তখন তোমরাও বসে নামায আদায় করবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী)।
৬০২. উছমান ইবনু আবূ শায়বা .... জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনাতে অশ্ব আরোহণের পর তার পিঠ হতে খেজুর কাঠের উপর পড়ে গিয়ে তিনি পায়ে আঘাত পান। অতঃপর আমরা তাদেরকে দেখতে এসে আয়িশা (রাঃ) এর ঘরে তাসবীহ পাঠরত অবস্থায় পাই। রাবী বলেন, আমরা তার পেছনে দাঁড়াই, কিন্তু তাতে তিনি বাধা দেননি। অতঃপর আমরা পুনরায় তাদেরকে দেখতে এসে তাদেরকে ফরয নামায বসা অবস্থায় আদায় করতে দেখি। আমরা তার পেছনে দাঁড়ালে তিনি আমাদেরকে বসার জন্য ইশারা করায় আমরা বসে যাই। অতঃপর তিনি নামায শেষে বলেন, যখন ইমাম বসে নামায আদায় করবে-তখন তোমরাও বসবে এবং ইমাম যখন দাঁড়িযে নামায আদায় করবে তখন তোমরাও দাঁড়াবে এবং পারস্যের আধিবাসীরা তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সম্মুখে যেমন দাঁড়িয়ে থাকে তোমরা তদ্রুপ করবে না। (ইবনু মাজাহ)।
৬০৩. সুলায়মান ইবনু হারব .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ইমাম এজন্যই নিয়োজিত করা হয় যে, অন্যরা তার অনুসরণ করবে। যখন ইমাম তাকবীর বলে, তখন তেমরাও তাকবীর বলবে। যতক্ষণ সে তাকবীর না বলবে ততক্ষণ তোমরাও বলবে না। অতঃপর ইমাম যখন রুকু করে, তখন তোমরাও রুকূ করবে এবং সে রুকূতে যাওয়ার পূর্বে তোমরা রুকূতে যাবে না। অতঃপর ইমাম যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলবে তখন তোমরা “আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ” বলবে। মুসলিম ইবনু ইবরাহীম বলেন, “ওয়ালাকাল হামদ” বলবে। যখন ইমাম সিজদা করবে তখন তোমরা সিজদা করবে এবং তিনি সিজদায় যাওয়ার পূর্বে তোমরা সিজদায় যেও না। আর ইমাম যখন দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে তখন তোমরাও ঐরূপ করবে এবং যখন ইমাম বসে নামায আদায় করবে তখন তোমরাও সকলে বসে নামায পড়বে।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, “আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ” হাদীছ শুনার সময় আমি বুঝতে পারি নাই; পরে রাবী সুলায়মানের সূত্রে আমার সংগীরা আমাকে এ ব্যাপারে অবহিত করেন।
৬০৪. মুহাম্মাদ ইবনু আদম ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইমাম এ জন্য নিযুক্ত করা হয় যে, অন্যেরা তার অনুসরণ করবে। অতঃপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছন। তবে এটুকু অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, যখন ইমাম কিরাআত পাঠ করবে তখন তোমরা চুপ থাকবে”। (নাসাঈ ইবনু মাজাহ)।
হাদিস নং ৬০৫সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِهِ وَهُوَ جَالِسٌ فَصَلَّى وَرَاءَهُ قَوْمٌ قِيَامًا فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ أَنِ اجْلِسُوا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৬০৫. আল-কানবী ..... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ঘরে বসে নামায আদায় করার সময় অন্যেরা তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছিল। অতঃপর তিনি তাদেরকে ইশারায় বসার নির্দেশ দেন। নামায শেষে তিনি বলেনঃ ইমাম এজন্যই নিযুক্ত করা হয় যে, অন্যেরা তার অনুসরণ করবে। যখন ইমাম রুকূ করবে তখন তোমরাও রুকূ করবে এবং ইমাম যখন মাথা উত্তোলন করবে তখন তোমরাও মাথা উঠাবে। ইমাম যখন বসে নামায আদায় করবে, তখন তোমরাও বসে নামায পড়বে। (বুখারী, মুসলিম)।
৬০৭. আবদা ইবনু আবদুল্লাহ্ ...... উসায়েদ ইবনু হুদায়ের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি লোকদের নামাযে ইমামতি করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে (অসুস্থ হলে দেখতে আসেন) তখন লোকেরা তাকে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের ইমাম অসুস্থ। তখন তিনি বলেনঃ যখন ইমাম বসে নামায পড়বে তখন তোমরাও বসে নামায পড়বে।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীছের সনদ ’মুত্তাছিল’ (পরস্পর সংযুক্ত) নয়।
৭৪. দুই ব্যাক্তি একত্রে নামায আদায়ের সময়- কিরূপে দাঁড়াবে?
৬০৮. মূসা ইবনু ইসমাঈল ...... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে হারাম (রাঃ) এর নিকট আগমন করেন। তখন তারা তাঁর সম্মুখে খাওয়ার জন্য ঘি ও খেজুর হাযির করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা ঘি ও খেজুর স্ব-স্ব পাত্রে রাখ, কেননা আমি রোযাদার। অতঃপর তিনি আমাদেরকে নিয়ে দুই রাকাত নফল, নামায আদায় করেন। তখন উম্মে সুলায়ম (রাঃ) ও উম্মে হারাম (রাঃ) আমাদের পেছনে দাঁড়ান। রাবী ছাবেত বলেন, যথা সম্ভব আমার মনে পড়ে তিনি (আনাস) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান পাশে একই বিছানায় আমাকে দাঁড় করান।
হাদিস নং ৬০৯সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُخْتَارِ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَّهُ وَامْرَأَةً مِنْهُمْ فَجَعَلَهُ عَنْ يَمِينِهِ وَالْمَرْأَةَ خَلْفَ ذَلِكَ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৬০৯. হাফস ইবনু উমার .... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ও একজন মহিলার ইমামতি করেন। তিনি তাকে তাঁর পাশে এবং ঐ মহিলাকে আনাসের পেছনে দাঁড় করান। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৬১০. মূসা’দ্দাদ .... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা ময়মুনা (রাঃ) এর ঘরে রাত যাপন করি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুম থেকে জাগরিত হয়ে পানির মশক খুলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন। অতঃপর তিনি মুশকের মুখ বন্ধ করে নামাযে রত হন। তখন আমি উঠে তাঁর ন্যায় উযূ করে তাঁর বাম পাশে নামাযের জন্য দাঁড়াই। তিনি আমার ডান হাত ধরে তাঁর পিছন দিক দিয়ে নিয়ে আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করান। এ অবস্থায় আমি তাঁর সাথে নামায আদায় করি। (মুসলিম, বুখারী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৬১১. আমর ইবনু আওন ..... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে এই সনদেও উপরোক্ত হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথার উপরিভাগের বা সম্মুখের চুল ধরে আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করান।
৭৫. যখন মুকতাদীর সংখ্যা তিনজন হবে তখন তারা কিরূপে দাঁড়াবে?
হাদিস নং ৬১২সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ جَدَّتَهُ، مُلَيْكَةَ دَعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِطَعَامٍ صَنَعَتْهُ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ قَالَ " قُومُوا فَلأُصَلِّيَ لَكُمْ " . قَالَ أَنَسٌ فَقُمْتُ إِلَى حَصِيرٍ لَنَا قَدِ اسْوَدَّ مِنْ طُولِ مَا لُبِسَ فَنَضَحْتُهُ بِمَاءٍ فَقَامَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَفَفْتُ أَنَا وَالْيَتِيمُ وَرَاءَهُ وَالْعَجُوزُ مِنْ وَرَائِنَا فَصَلَّى لَنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৬১২. আল্-কানবী ..... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তাঁর দাদী মুলায়কা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য খাদ্য খাওয়ার জন্য দাওয়াত করেন। তিনি তা খাওয়ার পর বলেনঃ তোমরা এসো! আমি তোমাদের নিয়ে নামায পড়ব। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন আমি আমাদের অনেক দিনের ব্যবহারে কালে দাগযুক্ত একটি চাটাইয়ের দিকে উঠে যাই এবং পানি দিয়ে তা পরিষ্কার করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উপর দাঁড়ান। আমি ও আমার ছোট ভাই তাঁর পেছনে দন্ডায়মান হই এবং বৃদ্ধা মহিলা (মুলায়কা) আমাদের পিছনে দাঁড়ান। তিনি আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে দুই রাকাত নামায আদায়ের পর প্রস্থান করেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
৬১৩. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... আব্দুর রহমান ইবনুল-আসওয়াদ (রাঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলকামা ও আসওয়াদ (রহঃ) আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর খেদমতে উপস্থিতির জন্য দরখাস্ত করেন। তাঁর খেদমতে প্রবেশর জন্য আমরা অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছিলাম। এমতাবস্থায় জনৈক দাসী ঘর হতে বের হয়ে তাদেরকে দেখে (পুনরায় ঘরে প্রবেশ করত) তাদের জন্য অনুমতি চায়। তিনি উভয়কে তেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। অতঃপর তিনি (ইবনু মাসউদ) আমার ও আলকামার মাঝখানে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এরূপ করতে দেখেছি। (নাসাঈ)।
৭৬. সালাম ফিরানর পর ইমামের (মুক্তাদিদের দিকে) ঘুরে বসা।
হাদিস নং ৬১৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي يَعْلَى بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ إِذَا انْصَرَفَ انْحَرَفَ .
৬১৪. মুসাদ্দাদ ..... জাবের ইবনু ইয়াযীদ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে নামায আদায় করতাম। তিনি নামায শেষে মুসল্লীদের দিক ফিরে বসতেন। (নাসাঈ, তিরমিযী)।
হাদিস নং ৬১৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ الْبَرَاءِ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحْبَبْنَا أَنْ نَكُونَ عَنْ يَمِينِهِ فَيُقْبِلُ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
৬১৫. মুহাম্মাদ ইবনু রাফে ...... বারাআ ইবনু আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামায আদায় করে তাঁর ডানদিকে থাকতে পছন্দ করতাম। তিনি নামাযান্তে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন। (নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৬১৬. আবূ তাওবা .... মুগীরা ইবনু শোবা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ইমাম যে স্থানে দাঁড়িয়ে ফরয নামায আদায় করেছে, সেখান হতে স্থানান্তরিত না হয়ে সে যেন অন্য নামায না পড়ে। (ইবনু মাজাহ)। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, রাবী আতা আল-খুরাসানীর- মুগীরা ইবনু শোবা (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ হয়নি (অতএব এটা সনদসূত্র কর্তিত ছাদীছ)।
৭৮. নামাযের শেষ রাকাতে মাথা উঠানোর ইমামের উযু নষ্ট হলে।
৬১৭. আহমদ ইবনু ইউনুস ..... আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যখন ইমাম নামাযের শেষ পর্যায়ে তাশাহুদের পরিমাণ সময় বসার পর তার উযূ (ওজু/অজু/অযু) নষ্ট হবে। তিনি কোন কথা (সালাম) বলার পূর্বে– এমতাবস্থায় নামায আদায় হয়ে যাবে এবং মোক্তাদীদের নামাযও পূর্ণ হয়ে যাবে- যারা ইমামের সাথে পুরা নামায পেয়েছে। (তিরমিযী)।
৭৯. নামাযের হারামকারী (সূচনা) ও হালালকারী (সমাপ্তি) জিনিসের বর্ণনা।
হাদিস নং ৬১৮হাসান
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَقِيلٍ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مِفْتَاحُ الصَّلاَةِ الطُّهُورُ وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ " .
বর্ণনাকারী: আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)
৬১৮. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ পবিত্রতা নামাযের চাবী স্বরূপ, তাকবীর হল তার নামাযের জন্য সমস্ত বিষয়কে হারামকারী এবং সালাম হল তার জন্য সমস্ত বিষয়কে হালালকারী। (ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)।
৬১৯. মুসাদ্দাদ .... মুআবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমরা আমার পূর্বে রুকূ-সিজদা করবে না। যখন আমি তোমাদের পূর্বে রুকূ করব অথবা তা থেকে মাথা উঠাব- তখন তোমরা আমার অনুসরণ করবে। এখন আমি কিছুটা মোটা হয়ে গেছি। (ইবনু মাজাহ)।
৬২০. হাফস ইবনু উমার .... আবূ ইসহাক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ)-কে খুতবা দিতে শুনলম। তিনি বলেন, আল-বারাআ (রাঃ) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি অসত্য বলেননি। তিনি বলেছেন, তারা (সাহাবীরা) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামায আদায়কালে রুকূ হতে মাথা উঠিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়াতেন। অতঃপর তারা যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সিজদা করতে দেখতেন তখন তারাও সিজদায় যেতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী)।
হাদিস নং ৬২১সহিহ
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَهَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبَانَ بْنِ تَغْلِبَ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا الْكُوفِيُّونَ، أَبَانُ وَغَيْرُهُ - عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلاَ يَحْنُو أَحَدٌ مِنَّا ظَهْرَهُ حَتَّى يَرَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَضَعُ .
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
৬২১. যুহায়ের ইবনু হারব্ ..... আল-বারাআ ইবনু আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামায আদায় করতাম। যে পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রুকূতে না দেখতাম, ততক্ষণ আমাদের কেউ রুকুতে- যাওয়ার জন্য তার পৃষ্ঠদেশ বাঁকা করত না। (মুসলিম, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৬২২সহিহ
حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، - يَعْنِي الْفَزَارِيَّ - عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ، يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ حَدَّثَنِي الْبَرَاءُ، أَنَّهُمْ كَانُوا يُصَلُّونَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا رَكَعَ رَكَعُوا وَإِذَا قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . لَمْ نَزَلْ قِيَامًا حَتَّى يَرَوْهُ قَدْ وَضَعَ جَبْهَتَهُ بِالأَرْضِ ثُمَّ يَتَّبِعُونَهُ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: মুহারিব ইবন দিসার (রহঃ)
৬২২. আর-রাবী ইবনু নাফে ..... মুহারিব ইবনু দিছার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ্ ইবনু ইয়াযীদকে মিনারের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, আমার নিকট বারাআ ইবনু আযেব (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামায আদায় করতেন। যখন তিনি রুকূ করতেন তখন তারাও রুকূ করতেন এবং তিনি ’সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’- বলার পর সিজদায় না যাওয়া পর্যন্ত তারা দাঁড়িয়ে থাকতেন। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ করতেন। (মুসলিম, নাসাঈ)।
৮১. ইমামের পূর্বে রুকু সিজদায় যাওয়া সম্পর্কে সতর্কবাণী।
৬২৩. হাফস ইবনু উমার .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ইমাম সিজদায় থাকা অবস্থায় তোমাদের কেউ মস্তক উত্তোলন করতে কেন ভয় করে না যে, যদি আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার মাথাকে গাধার মাথায় অথবা তার অবয়বকে গাধার আকৃতিতে রপান্তরিত করে দেন। (বুখারী, মূসলিম, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ)।
৮২. ইমামের পূর্বে উঠে চলে যাওয়া সম্পর্কে।
হাদিস নং ৬২৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ بُغَيْلٍ الْمُرْهِبِيُّ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَضَّهُمْ عَلَى الصَّلاَةِ وَنَهَاهُمْ أَنْ يَنْصَرِفُوا قَبْلَ انْصِرَافِهِ مِنَ الصَّلاَةِ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৬২৪. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ....... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে জামাআতে নামাযের জন্য উৎসাহ প্রদান করতেন এবং ইমামের পূর্বে চলে যেতে নিষেধ করতেন।
৮৩. কয়খানি কাপড় পরিধান করে নামায পড়া জায়েজ।
হাদিস নং ৬২৫সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنِ الصَّلاَةِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَوَلِكُلِّكُمْ ثَوْبَانِ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৬২৫. আল-কানবী ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক কাপড়ে নামায আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের কি দুইটি করে কাপড় আছে? (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
হাদিস নং ৬২৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُصَلِّ أَحَدُكُمْ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ لَيْسَ عَلَى مَنْكِبَيْهِ مِنْهُ شَىْءٌ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৬২৬. মসাদ্দাদ ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বাহুদ্বয় খোলা রেখে এক বস্ত্রে নামায না পড়ে। (বুখারী)।
৬২৭. মুসাদ্দাদ .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ কোন বস্ত্র পরিধান করে নামায পড়বে তখন সে যেন তার আচল কাঁধের উপর বিপরীতমুখী করে রাখে (যাতে কাঁধ ঢাকা থাকে)। (বুখারী)।
হাদিস নং ৬২৮সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُلْتَحِفًا مُخَالِفًا بَيْنَ طَرَفَيْهِ عَلَى مَنْكِبَيْهِ .
বর্ণনাকারী: উমর ইবনু আবূ সালামাহ (রাঃ)
৬২৮. কুতায়বা .... উমার ইবনু আবূ সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একটি মাত্র বস্ত্র পরিধান করে নামায পড়তে দেখেছি। এই সময় তিনি তাঁর বস্ত্রটি উভয় কাঁধের উপর বিপরীতমুখী করে জড়িয়ে রাখেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৬২৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا مُلاَزِمُ بْنُ عَمْرٍو الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَدْرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَدِمْنَا عَلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا تَرَى فِي الصَّلاَةِ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ قَالَ فَأَطْلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِزَارَهُ طَارَقَ بِهِ رِدَاءَهُ فَاشْتَمَلَ بِهِمَا ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى بِنَا نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَنْ قَضَى الصَّلاَةَ قَالَ " أَوَكُلُّكُمْ يَجِدُ ثَوْبَيْنِ " .
বর্ণনাকারী: কায়েস ইবনে তালক (রহঃ)
৬২৯. মুসাদ্দাদ ..... কায়েস ইবনু তালক থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হলাম। সেখানে এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বলেন, হে আল্লাহর নবী! এক বস্ত্রে নামায আদায় করা সম্পর্কে আপনার কি অভিমত? রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পরিধেয় বস্ত্র এক করে নিলেন (একটি বস্ত্র খুলে অন্য একটি বস্ত্রের উপর পরিধান করেন)। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে আমাদের নামায পড়ান। নামায শেষে তিনি বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের দুটি করে বস্ত্রের সংস্থান আছে কি?
৮৪. কাঁধে কাপড় গিরা দিয়ে কোন ব্যাক্তির নামায আদায় সম্পর্কে।
৬৩০. মুহাম্মাদ ইবনু সুলায়মান .... সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি লোকদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পশ্চাতে নামায আদায়ের সময় তাদের সংকীর্ণ ইজারের (পায়জামার) কারণে তা বালকদের মত কাঁধে গিরা দিয়ে নামায আদায় করতে দেখি। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি বলে, হে সমবেত মহিলারা! পুরুষেরা সিজদা হতে মাথা উত্তোলনের পূর্বে তোমরা তোমাদের মাথা তুলবেনা। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
৮৫. এক বস্র পরিধান করে নামায আদায় করা - যার একাংশ অন্যের উপর থাকে।
হাদিস নং ৬৩১সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ بَعْضُهُ عَلَىَّ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৬৩১. আবূল-ওয়ালীদ .... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বস্ত্র পরিধান করে নামায আদায় করেন যার একাংশ আমার গায়ের উপর ছিল। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
৬৩২. আল্-কানবী .... সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন শিকারী। আমি কি একটি মাত্র জামা পরিধান করে নামায আদায় করতে পারি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তবে তা বেঁধে নাও অন্তত একটি কাঁটা দ্বারা হলেও। (নাসাঈ)।
৬৩৩. মুহাম্মাদ ইবনু হাতেম ...... মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাবের ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) চাঁদর ব্যতীত কেবলমাত্র একটি জামা পরিধান করে আমাদের নামাযের ইমামতি করেন এবং তার উপর চাঁদর ছিল না। নামায শেষে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একটি মাত্র জামা পরিধাণ করে নামায আদায় করতে দেখেছি। (মুসলিম)।
৬৩৪. হিশাম ইবনু আম্মার .... উবাদা ওয়ালীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাবের ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কোন এক যুদ্ধে যাই। তিনি নামায পড়ার জন্য দন্ডায়মান হন। এ সময় আমার গায়ে একটি ছোট চাঁদর ছিল। আমি তা আমার কাঁধের দুই পাশে রাখার জন্য চেষ্টা করি, কিন্তু তা ছোট থাকায় কাঁধ পর্যন্ত পৌছেনি। আমার চাঁদরের লম্বা আচল ছিল, আমি সামান্য নত হয়ে ঐ আচলদ্বয় (কাঁধের) উপর এমনভাবে বেধে দেই, যাতে তা সরে না পড়তে পারে। অতঃপর এ অবস্থায় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাম পাশে গিয়ে নামাযে দাঁড়াই। তিনি আমার হাত ধরে ঘুরিয়ে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করান। এ সময় ইবনু সাখর (রহঃ) এসে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ান।
অতঃপর তিনি নিজের দুই হাত আমাদের উভয়কে ধরে তাঁর পিছনে দাঁড় করান। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার প্রতি ইংগিতপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকান, কিন্তু আমি এর অর্থ বুঝতে সক্ষম হই নাই, পরে আমি হৃদয়ংগম করতে পারি। তখন আমার প্রতি ইশারা করে বলেনঃ তোমার চাঁদর কোমরের সাথে ভাল করে বাঁধ। অতঃপর নামাযান্তে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ হে জাবের! আমি বলি- লাব্বাইকা, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বলেনঃ যখন তোমার চাদর বড় হবে তখন তা তুমি তোমার কাঁধের দুই পাশে জড়িয়ে রাখবে। আর যখন তা ছোট হবে তখন তা কোমরের সাথে শক্তভাবে বেধে রাখবে। (মুসলিম)।
৬৩৫. যায়েদ ইবনু আখযাম ...... ইবনু মাস্উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি নামাযের মধ্যে অহংকার করে স্বীয় পরিধেয় বস্ত্র (লুঙ্গী, জামা, পাজামা বা প্যান্ট গোছার নীচে পর্যন্ত) ঝুলিয়ে রাখে, ঐ ব্যক্তির ভাল বা মন্দের ব্যপারে আল্লাহ্ তা’আলার কোন দায়িত্ব নেই (তার জন্য জান্নাত হালাল করবেন না এবং দোযখ হারাম করবেন না, অথবা তার গুনাহ্ মাফ করবেন না এবং তাকে খারাপ কাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন না)। (নাসাঈ)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মুহাদ্দিছদের একদল যেমন আসিম, হাম্মাদ ইবনু সালামা, হাম্মাদ ইবনু যায়েদ, আবূল আহওয়াস, আবূ মুআবিয়া প্রমুখ ঐ হাদীছ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে “মাওকূফ হাদীছ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
৬৩৬. মূসা ইসমাঈল ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কোন এক ব্যক্তি তার পাজামা (টাখনু গিরার নীচ পর্যন্ত) ঝুলিয়ে নামায পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি যাও উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে আস, সে গিয়ে উযূ করে ফিরে আসে। তিনি তাকে পুনরায় গিয়ে উযূ করে আসার নির্দেশ দেন। সে পুনরায় উযূ করে আসলে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাকে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি তাকে (উযূ থাকাবস্থায়) কেন পুনরায় উযূ করার নির্দেশ দেন? তিনি বলেনঃ এই ব্যক্তি কাপড় ঝুলিয়ে নামায পড়ছিল এবং আল্লাহ্ তা’আলা এরূপ ব্যক্তিদের নামায আদৌ কবুল করেন না।
৮৯. ছোট বস্র কোমরে বেঁধে নামায আদায় করা সম্পর্কে।
হাদিস নং ৬৩৭সহিহ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ قَالَ قَالَ عُمَرُ رضى الله عنه " إِذَا كَانَ لأَحَدِكُمْ ثَوْبَانِ فَلْيُصَلِّ فِيهِمَا فَإِنْ لَمْ يَكُنْ إِلاَّ ثَوْبٌ وَاحِدٌ فَلْيَتَّزِرْ بِهِ وَلاَ يَشْتَمِلِ اشْتِمَالَ الْيَهُودِ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৬৩৭. সুলায়মান .... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হয় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন অথবা উমার (রাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কারো যখন দুঁটি বস্ত্র থাকবে- তখন তা পরিধাণ করে নামায আদায় করবে। অপরপক্ষে যদি একটি বস্ত্র থাকে, তবে তা কোমরে বেঁধে নামায আদায় করবে এবং ইহুদিদের মত যেন পরিধান না করে।
৬৩৮. মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া ...... আবদুল্লাহ ইবনু বুরায়দা (রাঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক বস্ত্র পরিধাণ করে নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন- যা শরীর আবৃত করে না। অপরপক্ষে তিনি চাদর বিহীন অবস্থায় কেবলমাত্র পাজামা পরিধান করে নামায-আদায় করতেও নিষেধ করেছেন।
৬৩৯. আল্-কানবী ..... মুহাম্মাদ ইবনু কুনফুয থেকে তাঁর মাতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি উম্মে সালামা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেন যে, স্ত্রী লোকেরা কি কি বস্ত্র পরিধাণ করে নামায পড়বে? তিনি বলেন, ওড়না এবং জামা পরিধান করে, যা দ্বারা পায়ের পাতাও ঢেকে যায়। (মুওয়াত্তা ইমাম মালেক)।
৬৪০. মুজাহিদ ইবনু মূসা ..... উম্মে সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন যে, মহিলারা পাজামা পরিধান ব্যতীত কেবলমাত্র ওড়না ও চাদর পরিধান করে নামায পড়তে পারে কি? তিনি বলেনঃ যখন চাদর বা জামা এতটা লম্বা হবে, যাতে পায়ের পাতা ঢেকে যায়- এরূপ কাপড় পরে নামায পড়তে পারবে।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীছটি ইমাম মালেক ইবনু আনাস, বাকর ইবনু মুদার, হাফস ইবনু গিয়াছ, ইসমাঈল ইবনু জাফর, ইবনু আবূ যেব ও ইবনু ইসহাক (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনু যায়েদের সূত্রে, তিনি তার মায়ের সূত্রে এবং তিনি উম্মে সালামা (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। (কাজেই তা মাওকূফ হাদীছ)।
৯১. মহিলারা ওড়না ছাড়া নামায আদায় করা সম্পর্কে।
হাদিস নং ৬৪১সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ الْحَارِثِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ صَلاَةَ حَائِضٍ إِلاَّ بِخِمَارٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ سَعِيدٌ - يَعْنِي ابْنَ أَبِي عَرُوبَةَ - عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৬৪১. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না ..... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রাপ্ত বয়সী মহিলারা ওড়না ছাড়া নামায আদায় করলে তা আল্লাহর নিকটে কবুল হবে না। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মালেক, হাকেম)।
৬৪২. মুহাম্মাদ ইবনু উবায়দ .... মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাঃ) সাফিয়্যা বিনতে হারিছ-এর বাড়ীতে যান। তিনি সেখানে তাঁর প্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েদের দেখতে পেয়ে বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কামরায় প্রবেশ করেন যখন সেখানে একটি মেয়ে ছিল। তখন তিনি তাঁর কোমরবন্ধ আমার দিকে নিক্ষেপ করে বলেনঃ এটা দুই টুকরা করে এর একাংশ এই মেয়েকে দাও এবং অপরাংশ উম্মে সালামার নিকটস্থ মেয়েকে দান কর। কেননা আমি দেখছি তারা প্রাপ্ত বয়স্কা হয়েছে।
৬৪৩. মুহাম্মাদ ইবনুল-আলা .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্তিকাস্পর্শী লম্বা কাপড় পরিধান করে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন এবং নামাযের সময় মুখ ঢাকতেও নিষেধ করেছেন। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)।
৬৪৪. মুহাম্মাদ ইবনু ঈসা ... ইবনু জুরায়েজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আতা (রহঃ)-কে অধিকাংশ সময় লম্বা বস্ত্র পরিধান করে নামায পড়তে দেখেছি।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আসাল (রহঃ) ঐ হাদীছটি . আতা হতে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লম্বা কাপড় পারিধান করে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।
৬৪৫. উবায়দুলাহ ইবনু মুয়ায ..... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের শরীরের সাথে সম্পৃক্ত কাপড়ে বা লেপে নামায পড়তেন না। (নাসাঈ, তিরমিযী)।
৬৪৬. আল্-হাসান ইবনু আলী ...... সাঈদ ইবনু আবূ সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি দেখতে পান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুক্তদাস আবূ রাফে-হাসান ইবনু আলী (রাঃ) এর পাশ দিয়ে গমন করেন। এ সময় হাসান ইবনু আলী (রাঃ) চুল বাধা অবস্থায় (মাথার উপরাংশে) নামাযে রত ছিলেন। আবূ রাফে (রাঃ) ঐ খোপা খুলে দেন। ফলে হাসান (রাঃ) তাঁর প্রতি রাগান্বিত হয়ে দৃষ্টিপাত করলে আবূ রাফে বলেন, আপনি আপনার নামায আগে সমাপ্ত করুন, রাগান্বিত হবেন না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি এটা শয়তানের আসন অর্থাৎ পুরুষের মাথার উপরিভাগে চুলের খোঁপা বাধলে তা শরতানের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। (ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)
৬৪৭. মুহাম্মাদ ইবনু সালামা ..... কুবায়েব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবনুল হারিছকে মাথার পেছনে চুল বাঁধা অবস্থায় নামায পড়তে দেখেন। তিনি (ইবনু আব্বাস) তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে তাঁর চুলের বাধন খুলতে থাকেন এবং তিনি নিশ্চুপ থাকেন। নামাযান্তে তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর সামনে এসে বলেন, আপনি আমার মাথার সাথে এরূপ আচরণ কেন করলেন? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি এভাবে পশ্চাতে চুল বেঁধে নামায আদায় করা পশ্চাত দিকে হাত বাঁধা অবস্থায় নামায পড়ার অনুরূপ। (নাসাঈ)।
৯৫. জুতা পরিহিত অবস্থায় নামায পড়া।
হাদিস নং ৬৪৮সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنِ ابْنِ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي يَوْمَ الْفَتْحِ وَوَضَعَ نَعْلَيْهِ عَنْ يَسَارِهِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু সাইব (রাঃ)
৬৪৮. মুসাদ্দাদ .... আবদুল্লাহ্ ইবনুস-সাইব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর জুতা মোবারক তাঁর বাম পাশে রেখে নামায আদায় করতে দেখেছি। (নাসাঈ)।
৬৪৯. আল-হাসান ইবনু আলী ..... আবদুল্লাহ ইবনুস-সাইব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন ফজরের নামায আদায়ের সময় সূরা মুমিনুন পড়া শুর করেন। যখন মূসা (আলাইহিস সালাম) ও হারুন (আলাইহিস সালাম)-এর অথবা মূসা এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম) প্রসংগ তিলাওয়াত করার সময় (রাবী সন্দেহ বশতঃ এইরূপে বর্ণনা করেছেন) তার হাঁচি আসে। তিনি কিরাআত বন্ধ করে রুকুতে যান। আবদুল্লাহ ইবনুস সাইব (রাঃ) এই সময় উপস্থিত ছিলেন। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, বুখারী)।
হাদিস নং ৬৫০সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي نَعَامَةَ السَّعْدِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِأَصْحَابِهِ إِذْ خَلَعَ نَعْلَيْهِ فَوَضَعَهُمَا عَنْ يَسَارِهِ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ الْقَوْمُ أَلْقَوْا نِعَالَهُمْ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَتَهُ قَالَ " مَا حَمَلَكُمْ عَلَى إِلْقَائِكُمْ نِعَالَكُمْ " . قَالُوا رَأَيْنَاكَ أَلْقَيْتَ نَعْلَيْكَ فَأَلْقَيْنَا نِعَالَنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ جِبْرِيلَ صلى الله عليه وسلم أَتَانِي فَأَخْبَرَنِي أَنَّ فِيهِمَا قَذَرًا " . وَقَالَ " إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْمَسْجِدِ فَلْيَنْظُرْ فَإِنْ رَأَى فِي نَعْلَيْهِ قَذَرًا أَوْ أَذًى فَلْيَمْسَحْهُ وَلْيُصَلِّ فِيهِمَا " .
বর্ণনাকারী: আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
৬৫০. মূসা ইবনু ইসমাঈল ...... আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদের সহ নামায পড়ছিলেন। এ সময় হঠাৎ তিনি তাঁর কদম মোবারক হতে জুতা খুলে বাম পাশে রাখেন। তা দেখে সাহাবীরাও তাদের জুতা খুলে ফেলেন। নামায শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন তোমাদের জুতা খোলার কারণ কি? তারা বলেন, আপনাকে জুতা খুলতে দেখে আমরাও খুলেছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এসে আমাকে জ্ঞাত করেন যে, আমার জুতাদ্বয়ে নাপাক লেগে আছে তিনি আরো বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ মসজিদে আসবে তখন সে যেন তার জুতা পরীক্ষা করে। যদি তাতে নাপাকি লেগে থাকে তবে তা পরিষ্কার করার পর তা পরিধান করে নামায পড়বে।
হাদিস নং ৬৫১সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنِي بَكْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا قَالَ " فِيهِمَا خَبَثًا " . قَالَ فِي الْمَوْضِعَيْنِ " خَبَثًا " .
বর্ণনাকারী: বকর ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ)
৬৫১. মূসা ইবনু ইসমাঈল .... বাকর ইবনু আবদুল্লাহ্ (রহঃ) উপরোক্ত হাদীছটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এই হাদীছের উভয় স্থানে ’কাযার’ (নাপাক) শব্দের পরিবর্তে “খাবাছ” (নাপাক) শব্দের উল্লেখ করেছেন।
৬৫২. কুতায়বা ইবনু সাঈদ .... ইয়ালা ইবনু শাদ্দাদ ইবনু আওস থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমরা ইহুদীদের বিরুদ্ধাচরণ কর। তারা জুতা ও মোজা পরিধান করে নামায আদায় করে না।
হাদিস নং ৬৫৩হাসান
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي حَافِيًا وَمُنْتَعِلاً .
বর্ণনাকারী: আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ)
৬৫৩. মুসলিম ইবনু ইব্রাহীম ..... আমর ইবনু শুআয়েব থেকে তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কোন সময় খালি পায়ে এবং কোন সময় জুতা পরিহিত অবস্থায় নামায পড়তে দেখেছি। (ইবনু মাজাহ)।
৬৫৪. আল-হাসান .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন নামায আদায়ের সময় তার জুতা ডান অথবা বামদিকে না রাখে। অবশ্য তার বামদিকে যদি কোন লোক না থাকে তবে সেখানে রাখতে পারে। তবে জুতাদ্বয় স্বীয় পদদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে রাখাই বাঞ্চনীয়।
৬৫৫. আব্দুল ওয়াহ্হাব .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে-বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ যেন নামায আদায়ের সময় তার জুতা খুলে এমন স্থানে না রাখে যাতে অন্যের অসুবিধা হয়, বরং জুতা খুলে স্বীয় পদদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে রাখবে অথবা তা পরিধান করেই নামায পড়বে।
৯৭. ছোট চাটাইয়ের উপর নামায পড়া।
হাদিস নং ৬৫৬সহিহ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ بِنْتُ الْحَارِثِ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَأَنَا حِذَاءَهُ وَأَنَا حَائِضٌ وَرُبَّمَا أَصَابَنِي ثَوْبُهُ إِذَا سَجَدَ وَكَانَ يُصَلِّي عَلَى الْخُمْرَةِ .
বর্ণনাকারী: মাইমূনাহ (রাঃ)
৬৫৬. আমর ইবনু আওন .... মায়মূনা বিনতুল-হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন কোন সময় নামায আদায়কালে আমি হায়েয অবস্থায় তাঁর পাশে থাকতাম এবং কখনও কখনও সিজদার সময় তাঁর বস্ত্র আমার শরীর স্পর্শ করত। তিনি খেজুর পাতার চাটাইরের উপর নামায আদায় করতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)।
৬৫৭. উবায়দুল্লাহ ..... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসার সাহাবী বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি স্থুলদেহী, সে কারণে জামাআতে শরীক হয়ে আপনার সাথে নামায আদায় করতে সক্ষম নই। একদা ঐ ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাবার প্রস্তুত করে তাকে দাওয়াত দেন যে আপনি আমার ঘরে উপস্থিত হয়ে নামায আদায় করবেন। অতঃপর ঐরূপ ভাবে নামায আদায়ে ভবিষ্যতে আমি আপনার অনুসরণ করব। অতঃপর গৃহবাসীরা তাদের মাদুরের এক অংশ ধৌত করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর দুই রাকাত নামায আদায় করেন। ফুলান ইবনুল জারূদ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাশতের নামায আদায় করতেন কি? জবাবে তিনি বলেন, আমি উপরোক্ত দিন ব্যতীত তাকে আর কোন দিন ঐ নামায পড়তে দেখি নাই। (বুখারী)।
হাদিস নং ৬৫৮সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ سَعِيدٍ الذَّرَّاعُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَزُورُ أُمَّ سُلَيْمٍ فَتُدْرِكُهُ الصَّلاَةُ أَحْيَانًا فَيُصَلِّي عَلَى بِسَاطٍ لَنَا وَهُوَ حَصِيرٌ نَنْضَحُهُ بِالْمَاءِ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৬৫৮. মুসলিম ইবনু ইব্রাহীম .... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাঝে মাঝে উম্মে সুলায়ম (রাঃ)-কে দেখতে যেতেন এবং সেখানে কখনও কখনও নামাযের ওয়াক্ত হয়ে গেলে আমাদের মাদুরের উপর নামায পড়তেন। মাদুরটি ছিল খেজুর পাতার এবং তা উম্মে সুলায়ম (রাঃ) পানি দ্বারা ধৌত করে দিতেন। (নাসাঈ, বুখারী)।
৬৫৯. উবায়দুল্লাহ ..... মুগীরা ইবনু শোবা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর পাতার চাটাই এবং প্রক্রিয়াজাত চামড়ার উপর নামায পড়তেন।
৬৬০. আহমদ ইবনু হাম্বল ..... আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা প্রচন্ড গরমের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামায পড়তাম। আমাদের কেউ তাপদাহের কারণে যখন মাটিতে সিজদা করতে অক্ষম হত তখন সেখানে কাপড় বিছিয়ে তার উপর সিজদা করত। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৬৬১. আবদুল্লাহ্ ইবনু মুহাম্মাদ ..... জাবের ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের নিকটে যেরূপ সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান হয়ে থাকে তোমরা ঐরূপ কর না কেন? আমরা জিজ্ঞেস করি, ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের নিকটে কিরূপে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়? তিনি বলেনঃ তারা সর্বাগ্রে প্রথম কাতার পূরণ করে, অতঃপর পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় কাতার ইত্যাদি পূর্ণ করে এবং তারা কাতারে দন্ডায়মান হওয়ার সময় পরস্পর মিলে দাঁড়ায়। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৬৬৩. মূসা ইবনু ইসমাঈল ..... নু’মান ইবনু বশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে তীরের মত সোজা করে কাতারবদ্ধ করতেন। অতঃপর আমরা তাঁর নিকট হতে তা পূর্ণভাবে শিখবার পর একদা তিনি আগমন করে এক ব্যক্তিকে কাতারচ্যুত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি বলেনঃ তোমরা কাতার সোজা করে দাঁড়াবে। অন্যথায় আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দেবেন। (ঐ)।
৬৬৪. হান্নাদ ইবনুস সারী .... বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযের কাতারের এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্তে গিয়ে আমাদের পায়ের গোড়ালি ও বক্ষসমূহ হাতের দ্বারা সোজা করে দিতেন এবং বলতেনঃ তোমাদের কাতার বাঁকা করো না। যদি এরূপ কর তবে তোমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হবে। আরো বলতেনঃ মহান আল্লাহ্ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ প্রথম কাতারসমূহের উপর রহমত বর্ষণ করে থাকেন। (নাসাঈ)।
হাদিস নং ৬৬৫সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي صَغِيرَةَ - عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسَوِّي صُفُوفَنَا إِذَا قُمْنَا لِلصَّلاَةِ فَإِذَا اسْتَوَيْنَا كَبَّرَ .
বর্ণনাকারী: নু’মান ইবনু বশীর (রাঃ)
৬৬৫. উবায়দুল্লাহ্ ইবনু মুআয .... নু’মান ইবনু বশীর (রাঃ) বলেন, আমরা যখন নামাযে দন্ডায়মান হতাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাতারসমূহ সোজা করে দিতেন। অতঃপর আমরা কাতার সোজা করে দাঁড়ালে তাকবীর (তাহরীমা) বলতেন।
৬৬৬. ঈসা ইবনু ইব্রাহীম ..... আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা নামাযের সময় কাতারগুলো সোজা কর, পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও, উভয়ের মাঝখানে ফাঁক বন্ধ কর এবং তোমাদের ভাইদের হাতে নরম হয়ে যাও। রাবী ঈসা তাঁর বর্ণনায় “বি-আইদী ইখওয়ানিকুম” বাক্যাংশ উল্লেখ করেন নাই। তিনি আরো বলেনঃ তোমরা কাতারের মধ্যে শয়তানের দন্ডায়মান হওয়ার জন্য ফাঁক রাখবে না। যারা কাতারের মধ্যে পরস্পর মিলিত হয়ে দাঁড়াবে আল্লাহ্ তাদেরকে তাঁর রহমতের অন্তর্ভূক্ত করবেন। অপরপক্ষে যে ব্যক্তি কাতারে মিলিত হয়ে দাঁড়াবে না আল্লাহ্ তাকে তাঁর রহমত হতে বঞ্চিত করবেন। (নাসাঈ)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আবূ শাজারার নাম কাছীর ইবনু মুররা। আবূ দাউদ (রহঃ) আরো বলেন, “তোমাদের ভাইদের হাতে নরম হয়ে যাও” কথার অর্থ এই যে, কোন ব্যক্তি এসে কাতারে প্রবেশ করার চেষ্টা করতে পারে। তখন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ কাঁধ নরম করে দেবে যাতে সে সহজে কাতারের মধ্যে দাঁড়ানোর স্থান করে নিতে পারে।
৬৬৭. মুসলিম ইবনু ইব্রাহীম ..... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কাতারের মধ্যে পরস্পর মিলে মিশে দাঁড়াও। এক কাতার অপর কাতারের নিকটে কর এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও। যার হাতে আমার জীবন, তাঁর শপথ! আমি শয়তানকে নামাযের কাতারের মধ্যে বকরীর ন্যায় প্রবেশ করতে দেখেছি। (নাসাঈ)।
হাদিস নং ৬৬৮সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سَوُّوا صُفُوفَكُمْ فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصَّفِّ مِنْ تَمَامِ الصَّلاَةِ " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৬৬৮. আবূল ওয়ালীদ .... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা তোমাদের কাতারসমূহ সোজা ও সমান কর। কেননা নামাযের পরিপূর্ণতা ও সৌন্দর্য কাতার সোজা করে দাঁড়ানোর মধ্যেই নিহিত। (বুখারী, মুসলিম, ইবনু মাজাহ)।
৬৬৯. কুতায়বা .... মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এর পাশে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করি। তিনি আমাকে বলেন, তুমি কি জানো মসজিদে নববীতে কেন এই কাঠটি রাখা হয়েছে? আমি আল্লাহর শপথ করে বলি, আমি জানি না। তিনি (আনাস) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কাঠ হাতে নিয়ে বলতেনঃ তোমরা বরাবর হয়ে যাও এবং কাতারসমূহ সোজা কর।
৬৭০. মুসাদ্দাদ .... আনাস (রাঃ) হতে এই সূত্রেও পূর্বোক্ত হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযের সময় এই কাঠ খন্ডটি ডান হাতে নিয়ে বলতেনঃ তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করা অতঃপর তিনি তা বাম হাতে নিয়ে কাতারের বাম দিকের লোকদের বলতেনঃ তোমরা সোজা হও এবং কাতারসমূহ সোজা করে দাঁড়াও।
৬৭১. মুসাদ্দাদ ..... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সর্বাগ্রে প্রথম কাতার পূর্ণ কর, অতঃপর পর্যায়ক্রমে পরবর্তী কাতারগুলো পূর্ণ কর। যদি কোন কাতার অসম্পূর্ণ থাকে তবে তা অবশ্যই সর্বশেষ কাতার হবে। (নাসাঈ)।
হাদিস নং ৬৭২সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ يَحْيَى بْنِ ثَوْبَانَ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمِّي، عُمَارَةُ بْنُ ثَوْبَانَ عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خِيَارُكُمْ أَلْيَنُكُمْ مَنَاكِبَ فِي الصَّلاَةِ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৬৭২. ইবনু বাশশার ..... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ নামাযের কাতারে দাঁড়াবার সময় যে ব্যক্তি নিজের কাঁধ বেশী নরম করে দেবে সেই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম। (বায়হাকী)।
৬৭৩. মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার .... আবদুল হামীদ ইবনু মাহমূদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এর সাথে জুমুআর নামায আদায় করি অধিক ভীড়ের কারণে আমরা স্তম্ভের নিকটে সরে যেতে বাধ্য হই। ফলে আমরা আগে পিছে হয়ে যাই। অতঃপর আনাস (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে দুই স্তম্ভের মধ্যবর্তী স্থানে দন্ডায়মান হওয়া হতে বিরত থাকতাম। (নাসাঈ, তিরমিযী)।
১০২. ইমামের নিকটতম স্থানে দাঁড়ানো মুস্তাহাব এবং তার থেকে দূরে থাকা অপছন্দনীয়।
হাদিস নং ৬৭৪সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنِي سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِيَلِنِي مِنْكُمْ أُولُو الأَحْلاَمِ وَالنُّهَى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৬৭৪. ইবনু কাছীর ..... ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যেকার আলেম ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা যেন আমার নিকটবর্তী স্থানে দাঁড়ায়। অতঃপর পর্যায়ক্রমে জ্ঞানে ও বুদ্ধিমত্তায় তাদের নিকটতম লোকেরা দাঁড়াবে, অতঃপর এদের নিকটতম লোকেরা। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
হাদিস নং ৬৭৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ . وَزَادَ " وَلاَ تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ وَإِيَّاكُمْ وَهَيْشَاتِ الأَسْوَاقِ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৬৭৫. মুসাদ্দাদ ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাস্উদ (রাঃ) থেকে এই সনদেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি আরও বলেছেনঃ তোমরা কাতার বাঁকা করে দাঁড়িও না। যদি এরূপ কর তবে তোমাদের অন্তরের মধ্যে বিভেদ হবে। সাবধান! তোমরা মসজিদের মধ্যে বাজারের স্থানের ন্যায় হৈহুল্লোড় করবে না। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৬৭৬হাসান
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى مَيَامِنِ الصُّفُوفِ " .<br /> <br /> حسن بلفظ على الذين يصلون الصفوف (الألباني
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৬৭৬. উছমান ইবনু আবূ শায়বা .... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ কাতারের ডান দিকের মুসল্লীদের উপর রহমত বর্ষণ করে থাকেন। (ইবনু মাজাহ)।
৬৭৭. ঈসা ইবনু শাযান ..... আবূ মালিক আল-আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায সম্পর্কে বর্ণনা করব না? অতঃপর তিনি নামাযে দাঁড়ান এবং প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষেরা কাতারবদ্ধ হন। অতঃপর অপ্রাপ্ত বয়স্করা তাদের পেছনে দাঁড়ায়। অতঃপর তিনি তাদের সাথে নিয়ে নামায পড়েন। অতঃপর রাবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায সম্পর্কে বর্ণনা দেন। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা এইরূপে নামায আদায় করবে। রাবী আব্দুল আলা বলেন, আমার ধারণা অনুযায়ী কুররা ইবনু খালিদ বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার উম্মাত এইরূপে নামায আদায় করবে।
১০৪. মহিলাদের কাতার এবং তারা প্রথম কাতারে দাঁড়াবে না।
৬৭৮. মুহাম্মাদ ইবনুুস সাবাহ .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষদের প্রথম কাতার হল সর্বোত্তম এবং শেষ কাতার হল নিকৃষ্টতম। অপরপক্ষে মহিলাদের জন্য সর্বশেষ কাতারই হল সর্বোত্তম এবং প্রথম কাতার হল মিকৃষ্টতম। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৬৭৯. ইয়াহইয়া ইবনু মুইন .... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমার যে সমস্ত উম্মাত প্রথম কাতারে দাঁড়াতে গড়িমসি করে, আল্লাহ্ তা’আলা তাদেরকে দোজখে সবচেয়ে পেছনে রাখবেন।
৬৮০. মূসা ইবনু ইসমাঈল ..... আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে প্রথম কাতেরে গিয়ে দাঁড়াতে দেরী করতে দেখে বলেনঃ তোমরা প্রথম কাতারে এসো এবং আমার অনুসরণ কর। অতঃপর পরবর্তী লোকেরাও তোমাদের অনুসরণ করবে। এক শ্রেণীর লোক সবসময় সামনের কাতার থেকে পেছনে থাকবে। মহান আল্লাহ্ও তাদেরকে পেছনে ফেলে রাখবেন। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৬৮১. জাফর ইবনু মূসাফির ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ইমামকে কাতারের সামনে মধ্যবর্তী স্থানে দাঁড় করাও এবং কাঁতারের মধ্যেকার ফাঁক বন্ধ কর।
১০৬. যে ব্যাক্তি কাতারের পিছনে একাকী দাঁড়িয়ে নামায পড়ে।
৬৮২. সুলায়মান ইবনু হারব্ ..... ওয়াবিসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে কাতারের পিছনে একাকী দাঁড়িয়ে নামায পড়তে দেখেন। তিনি তাকে পুনরায় নামায পড়ার নির্দেশ দেন- (ইবনু মাজাহ,তিরমিযী)।
১০৭. (ইমামকে রুকুতে দেখে) কাতারে না পৌঁছেই রুকুতে যাওয়া।
হাদিস নং ৬৮৩সহিহ
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، أَنَّ يَزِيدَ بْنَ زُرَيْعٍ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ زِيَادٍ الأَعْلَمِ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، أَنَّ أَبَا بَكْرَةَ، حَدَّثَ أَنَّهُ، دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَنَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَاكِعٌ - قَالَ - فَرَكَعْتُ دُونَ الصَّفِّ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا وَلاَ تَعُدْ " .
বর্ণনাকারী: হাসান বাসরী (রহঃ)
৬৮৩. হুমায়দ ইবনু মাসআদা .... আল-হাসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকরা (রাঃ) বলেছেন। একদা তিনি মসজিদে প্রবেশ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রুকূ অবস্থায় পান। রাবী বলেন, তখন আমি কাতারে না পৌছেই রুকূতে যাই। নামাযান্তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইবাদাতের প্রতি আল্লাহ তোমার আগ্রহ আরো বৃদ্ধি করুন। তুমি পুনর্বার এরূপ করবে না। (বুখারী,নাসাঈ)।
হাদিস নং ৬৮৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا زِيَادٌ الأَعْلَمُ، عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّ أَبَا بَكْرَةَ، جَاءَ وَرَسُولُ اللَّهِ رَاكِعٌ فَرَكَعَ دُونَ الصَّفِّ ثُمَّ مَشَى إِلَى الصَّفِّ فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَلاَتَهُ قَالَ " أَيُّكُمُ الَّذِي رَكَعَ دُونَ الصَّفِّ ثُمَّ مَشَى إِلَى الصَّفِّ " . فَقَالَ أَبُو بَكْرَةَ أَنَا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا وَلاَ تَعُدْ "
বর্ণনাকারী: আবূ বাকরা (রাঃ)
৬৮৪. মূসা ইবনু ইসমাঈল .... আবূ বকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি মসজিদে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রুকূতে দেখে কাতারে শামিল না হয়েই রুকূতে যান। শেষে তিনি কাতারে গিয়ে শামিল হন। নামাযান্তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি কাতারে শামিল হওয়ার পূর্বে রুকূ করেছে, অতঃপর সে কাতারে শামিল হয়েছে? আবূ বকরা (রাঃ) বলেনঃ আমি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ্ ইবাদাতের প্রতি তোমার আগ্রহ করুন! তুমি পুনর্বার এরূপ করবে না। (বুখারী, নাসাঈ)।
৬৮৭. আল-হাসান ..... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের নামায আদায়ের জন্য যখন বের হতেন, তখন তিনি “হিরবাহ্” বা ছোট বল্লম (বা এর অনুরূপ কিছু) সঙ্গে নেয়ার নির্দেশ দিতেন। এটা তাঁর সম্মুখে স্থাপন করা হত এবং সেদিক ফিরে নামায পড়তেন এবং এ সময় সাহাবীরা তাঁর পিছনে থাকতেন। সফরের সময়ও এইরূপ করতেন। এজন্য শাসকগণ তখন থেকে নিজেদের সাথে বর্শা রাখতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
হাদিস নং ৬৮৮সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِهِمْ بِالْبَطْحَاءِ وَبَيْنَ يَدَيْهِ عَنَزَةٌ الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ وَالْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ يَمُرُّ خَلْفَ الْعَنَزَةِ الْمَرْأَةُ وَالْحِمَارُ .
বর্ণনাকারী: আবূ জুহাইফাহ (রাঃ)
৬৮৮. হাফস ইবনু উমার ..... আওফ ইবনু আবূ জুহায়ফা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে আল-বাত্হা নামক প্রান্তরে নামায আদায় করেন। এই সময় তাঁর সম্মুখভাগে একটি বর্শা প্রতিষ্ঠিত ছিল। ঐদিন তিনি যুহর ও আসরের নামায দুই দুই রাকাত করে আদায় করেন। এই সুত্রার অপর পাশ দিয়ে মহিলা ও গাধা অতিক্রম করত। (বুখারী, মুসলিম)।
১০৯. সুতরা দেওয়ার মত লাঠি না পেলে মাটিতে রেখা টানা।
৬৮৯. মুসাদ্দাদ ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ (কোন খোলা স্থানে) নামায আদায় করবে, তখন সে যেন সুত্রা হিসাবে তার সামনে কিছু স্থাপন করে। যদি না পায় তবে সে যেন একটি লাঠি তার সামনে স্থাপন করে। যদি তার সাথে লাঠি না থাকে, তবে সে যেন তার সামনের মাটিতে দাগ টেনে নেয়। অতঃপর কেউ তার সম্মুখভাগ দিয়ে যাতায়াত করলে তার কোন ক্ষতি হবে না। (ইবনু মাজাহ)।
৬৯০. মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে মাটিতে দাগ দেওয়া সম্পর্কিত হাদীছটি বর্ণনা করেন। সুফিয়ান বলেন, এ হাদীছকে শক্তিশালী প্রামাণ করার মত কোন দলীল আমি পাইনি। হাদীছটি কেবলমাত্র উপরোক্ত সনদ সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে। রাবী আলী ইবনুল মাদিনী বলেন, আমি সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করলাম, লোকেরা তার নাম সম্পর্কে মতানৈক্য প্রকাশ করেছে। এতদশ্রবণে তিনি কিছুক্ষণ চিন্তার পর বলেন, আমার জানা মতে তার নাম আবূ মুহাম্মাদ ইবনু আমর। সুফিয়ান বলেন, ইসমাঈল উমাইয়ার ইন্তেকালের পর কুফা হতে জনৈক ব্যক্তি এসে আবূ মুহাম্মাদের সন্ধান করে তাকে পেয়ে যান। তিনি তাকে মাটিতে দাগ দেওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। তখন তিনি এর সঠিক কোন জবাব দিতে সক্ষম হন নাই।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, তাকে মাটিতে দাগ দেওয়া সম্পর্কে বহুবার জিজ্ঞেস করা হয় জবাবে তিনি বলেন, দাগটি প্রস্থে নবচন্দ্রের মত মোটা হবে এবং দৈর্ঘ্যে তা (যাদের কিবলা পূর্ব পশ্চিম দিকে তাদের জন্য উত্তর দক্ষিণে, এবং যাদের কিব্লা দক্ষিণ বা উত্তর দিকে তাদের পূর্ব-পশ্চিমে) লম্বা হবে।
৬৯১. আবদুল্লাহ্ ইবনু মুহাম্মাদ .... সুফিয়ান ইবনু উয়ায়না (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শারীক (রহঃ)-কে দেখেছি, তিনি এক জানাযায় হাযির হয়ে আমাদের সাথে আসরের নামায পড়েন তিনি (সুতরা স্বরূপ) নিজের টুপি সামনে রাখেন।
৬৯৩. মাহমুদ ইবনু খালিদ আদ-দিমাশকী ..... দুবাআ বিনতুল মিকদাদ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (মিকদাদ) বলেন, আমি কখনও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সরাসরি স্বীয় সম্মুখে কাঠ, খুটি অথবা গাছ রেখে নামায পড়তেন। তখন তিনি তা নিজের ডান বা বাম পাশে রেখে নামায পড়তেন এবং নিজের দুই চোখ বরাবর স্থাপন করতেন না (যাতে মূর্তি পূজার সাথে সাদৃশ্য না হয়)।
১১২. বাক্যালাপে রত এবং ঘুমন্ত ব্যাক্তিদের সামনে রেখে নামায পড়া।
৬৯৫. মুহাম্মাদ ইবনুুনুস-সাব্বাহ ..... সাহল ইবনু আবূ হাছমা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন সুত্রা স্থাপন করে নামায পড়ে তখন সে যেন তার নিকটবর্তী হয়ে দাঁড়ায়- যাতে শয়তান তার নামাযের মধ্যে কোনরূপ কুমন্ত্রণা দিতে না পারে। (নাসাঈ)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীছ ওয়াকিদ থেকে মুহাম্মাদ ইবনু সাহলের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। কেউ কেউ বলেন, হাদীছটি নাফে থেকে সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এই হাদীছের সনদের মধ্যে মতানৈক্য আছে।
হাদিস নং ৬৯৬সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، وَالنُّفَيْلِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ سَهْلٍ، قَالَ وَكَانَ بَيْنَ مُقَامِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ مَمَرُّ عَنْزٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْخَبَرُ لِلنُّفَيْلِيِّ .
বর্ণনাকারী: সাহল ইবনু আবূ হাসমা (রাঃ)
৬৯৬. আল্-কানবী ও আন-নুফায়লী ..... সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাঁড়ানোর স্থান ও কিবলার দেয়ালের মাঝখানে একাটি বকরী অতিক্রম করার মত ফাঁক থাকত। (বুখারী, মুসলিম)।
৬৯৭. আল-কানবী ..... আবূ সাঈদ আল-খুদ্রী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ নামাযে রত অবস্থায় তার সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে যথাসাধ্য বাধা দিবে। যদি সে বাধা উপেক্ষা করে তবে তার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। কারণ সে একটা শয়তান। (বুখারী, মুসলিম, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ)।
৬৯৯. আহমদ ইবনু আবূ শুরায়হ (সুরায়জ) আর-রাযী ..... আবূ উবায়েদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আতা ইবনু ইয়াযীদকে দাঁড়িয়ে নামায পড়তে দেখি। আমি তাঁর সামনে দিয়ে অতিক্রমকালে তিনি আমাকে বাধা দিয়ে বলেন, আবূ সাঈদ আল-খুদ্রী (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে যে নামাযী এরূপ ক্ষমতা রাখে যে, সে তার ও কিবলার মাঝখান দিয়ে কোন ব্যক্তিকে যেতে দেবে না- তবে সে যেন তাই করে।
৭০০. মূসা ইবনু ইসমাঈল ..... আবূ সালেহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে আমি যা শুনেছি ও দেখেছি তা তোমার নিকট বর্ণনা করব। আবূ সাঈদ (রাঃ) মারওয়ানের নিকট তিনি গেলে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যখন কোন বস্তু সামনে রেখে নামাযে রত হয়, তখন তা তার জন্য পর্দা হিসাবে গণ্য হয়। এমতাবস্থায় যদি কোন ব্যক্তি তার সামনে অতিক্রম করতে চায়, তবে সে যেন তাকে ইশারায় বাধা দেয়। অতিক্রমকারী যদি ইশারার প্রতি ভ্রক্ষেপ না করে তবে সে যেন তার সাথে যুদ্ধ করে। কেননা সে একটা শয়তান। (বুখারী, মুসলিম)।
৭০১. আল্-কানবী .... বুস্র ইবনু সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা যায়েদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) তাকে আবূ জুহায়েম (রাঃ) এর নিকট এইজন্য প্রেরণ করেন যে, তিনি যেন তাকে জিজ্ঞেস করেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযীর সম্মুখভাগ দিয়ে গমনকারীর সম্পর্কে কি বলেছেন? আবূ জুহায়েম (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ নামাযীর সম্মুখভাগ দিয়ে গমনকারী যদি তার গুনাহ সম্পর্কে অবগত থাকত, তবে সে নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার পরিবর্তে সেখানে চল্লিশ (বছর) পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে ভাল মনে করত। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)। রাবী আবূ নাদর বলেন, বর্ণনাকারী (বুস্র) চল্লিশ দিন, বা মাস অথবা বছর বলেছেন- তা আমি অবগত নই।
৭০২. হাফস ইবনু উমার ..... আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ নামায নষ্ট করে দেয় অথবা নামাযীর নামায ঐ সময় নষ্ট হয়-যখন তার সামনে উটের পিঠের হাওদার পিছন ভাগের কাঠের মতো কোন কিছু না থাকে (অর্থাৎ সুত্রা না থাকে) এবং তার সামনে দিয়ে গাধা, কাল কুকুর এবং স্ত্রীলোক গমন করে। রাবী বলেন, আমি বললাম, কালো কুকুরের কি বিশেষত্ব আছে? যদি লাল, হলুদ ও সাদা রংয়ের হয় তবে কি হবে? তিনি বলেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি যেরূপ আমাকে প্রশ্ল করলে, আমিও তদ্রুপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছলাম। তিনি বলেনঃ কাল কুকুর হল শয়তান। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
৭০৩. মুসাদ্দাদ ..... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঋতুবতী মহিলা ও কুকুর নামাযীর সম্মুখ দিয়ে গমন করলে তার নামায নষ্ট হয়ে যায়। (নাসাঈ)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ, হিশাম ও অন্যান্যদের বর্ণনা অনুযায়ী এই হাদীছ ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর উপর মাওকুফ। তবে শোবার মতে হাদীছটি স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, অর্থাৎ এটা মারফু হাদীছ।
৭০৪. মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ..... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যখন তোমাদের কেউ সুত্রা বিহীন অবস্থায় নামায আদায় করে এবং এমতাবস্থায় তার সামনে গাধা, শুকর, ইহুদী, অগ্নি উপাসক, এবং স্ত্রীলোক গমন করলে, তার নামায নষ্ট হয়ে যায়। অপরপক্ষে, প্রস্তর নিক্ষেপের সীমানার বাইরে দিয়ে গমন করলে তাতে নামাযীর নামাযের কোন ক্ষতি হবে না।
৭০৫. মুহাম্মাদ ইবনু সুলায়মান ........... ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন তাবুক নামক স্হানে আমি এক খোড়া ব্যক্তিকে দেখতে পাই তখন ঐ ব্যক্তি বলে, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম নামায আদায়কালে আমি গাধার পিঠে আরোহণ পূর্বক তাঁর সম্মুখ দিয়ে গমন করি তখন তিনি বলেনঃ ইয়া আল্লাহ্! তার চলৎশক্তি রহিত করুন। এরপর থেকে আমার চলার শক্তি রহিত হয়ে যায়।
৭০৬. কাছীর ইবনু উবায়েদ ..... সাঈদ হতে পূর্ববর্তী হাদীছের সূত্রে ও অর্থে এই হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে। তবে তাতে আরও আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে আমাদের নামায নষ্ট করেছে কাজেই আল্লাহ্ তার চলৎশক্তি রহিত করুন।
৭০৭. আহমদ ইবনু সাঈদ ..... সাঈদ ইবনু গাযওয়ান থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি হজ্জব্রত পালনের উদ্দেশ্যে গমনকালে তাবুকে অবতরণ করেন। সেখানে তিনি এক খোঁড়া ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে তার কারণ জিজ্ঞেস করেন। ঐ ব্যক্তি বলে, আমি তোমার নিকট এমন একটি বিষয়ের অবতারণা করব যা অন্যের নিকট প্রকাশের যোগ্য নয়। অতঃপর সে বলে, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাবুক একটি খেজুর গাছের নিকট অবতরণের পর বলেনঃ এটা আমাদের জন্য কিবলা বা সুতরা স্বরূপ। অতঃপর তিনি সেদিকে মুখ করে নামায আদায় করেন। তখন আমার বয়স কম থাকায় আমি তাঁর ও খেজুর গাছের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে দৌড়িয়ে যাই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে আমাদের নামায নষ্ট করেছে, কাজেই আল্লাহ্ তার চলার শক্তি রহিত করুক। অতঃপর আমি আজ পর্যন্ত আর দাঁড়াতে সক্ষম হইনি।
৭০৮. মুসাদ্দাদ ..... আমর ইবনু শুআয়েব থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং পিতার দাদা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে (মক্কা ও মদ্বীনার মধ্যবর্তী) আযাখির উপত্যকায় অবতরণ করি নামাযের সময় উপনীত হলে তিনি একটি দেয়ালের নিকটবর্তী হয়ে তা সুত্রা হিসেবে ধরে নামায আদায় করেন। এ সময় একটি চতুষ্পদ শুকর শাবক তাঁর সম্মুখ দিয়ে যেতে চাইলে তিনি তাকে এমনভাবে বাধা দেন যে, তাঁর পেট দেয়ালের সাথে লেগে যায়। অতঃপর শাবকটি তাঁর পেছন দিক দিয়ে (অথবা দেয়ালের অপর পাশ দিয়ে) যায়।
হাদিস নং ৭০৯সহিহ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَحَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْجَزَّارِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي فَذَهَبَ جَدْىٌ يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ فَجَعَلَ يَتَّقِيهِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৭০৯. সুলায়মান ইবনু হারব্ ..... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায আদায়কালে একটি বকরীর বাচ্চা তাঁর সম্মুখ দিয়ে যেতে চাইলে তিনি তাকে বাঁধা দেন।
১১৮. মহিলারা নামাযের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে নামায নষ্ট না হওয়ার বর্ণনা।
৭১০. মুসলিম ইবনু ইব্রাহীম .... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়াকালে আমি তাঁর ও বিছানার মাঝখানে ছিলাম। শো’বার বর্ণনায় আছে, সন্তবতঃ আয়িশা (রাঃ) বলেন, এ সময় আমি ঋতুবতী ছিলাম। এ হাদীছ আয়িশা (রাঃ) হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, এবং কোন কোন বর্ণনায় “আমি ঋতুবতী ছিলাম” এক কথার উল্লেখ নেই।
৭১২. মুসাদ্দাদ ..... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এটা খুবই পরিতাপের বিষয় যে, তোমরা নামায নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে আমাদেরকে গাঁধা ও কুকুরের পর্যায়ভূক্ত করেছ। পক্ষান্তরে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এরূপ অবস্থায় নামায আদায় করতে দেখেছি যে, আমি তার সম্মুখে শুয়ে থাকতাম, তখন তিনি আমার পায়ে খোঁচা দিলে আমি পা টেনে নিতাম এবং তিনি সিজদায় যেতেন। (বুখারী, নাসাঈ)।
৭১৩. আসিম ইবনুুন-নাদর ..... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নফল নামায পড়াকালে- নিদ্রিত অবস্থায় আমার পদযুগল তাঁর সম্মুখে থাকত। অতঃপর তিনি যখন সিজদায় যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি আমার পায়ে খোঁচা দিতেন এবং আমি পা সরিয়ে নেয়ার পর তিনি সিজদা করতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৭১৪হাসান
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، ح قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ وَهَذَا لَفْظُهُ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ كُنْتُ أَنَامُ وَأَنَا مُعْتَرِضَةٌ، فِي قِبْلَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيُصَلِّي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَمَامَهُ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يُوتِرَ . زَادَ عُثْمَانُ غَمَزَنِي ثُمَّ اتَّفَقَا فَقَالَ " تَنَحَّىْ " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৭১৪. উছমান ইবনু আবূ শায়বা .... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে নফল নামায পাঠকালে আমি তার সামনে কিবলার দিকে শুয়ে থাকতাম। অতঃপর যখন তিনি বেতেরের নামায পড়ার ইচ্ছা করতেন তখন তিনি আমাকে পা সরানোর জন্য খোঁচা দিতেন।
রাবী উছমানের বর্ণনায় “খোচা দেয়া” শব্দটি উল্লেখ আছে।
১১৯. নামাযীর সামনে দিয়ে গাধা অতিক্রম করলে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না।
৭১৫. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার কাছাকাছি সময়ে একদিন গাধীর পিঠে আরোহণ করে মীনায় যাই যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে নামাযের ইমামতি করছিলেন। তখন আমি নামাযীদের কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করি আমি আমার গাধীকে বিচরণের জন্য ছেড়ে দিয়ে নামাযের কাতারে শামিল হই। এ সময় কেউই আমাকে এ কাজের জন্য নিষেধ করেনি। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীছটির শব্দগুলি আল্-কানবীর। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, আমার মতে ইমামের সামনে দিয়ে যাওয়ার ফলে নামাযের ক্ষতি হয়ে থাকে; কিন্তু কাতারের সামনে দিয়ে গেলে কোন ক্ষতি হয় না।
৭১৬. মুসাদ্দাদ .... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি এবং বনী আব্দুল মুত্তালিবের এক যুবক গাধার পিঠে আরোহণ করে ঐ স্থানে গমন করি যেখানে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযের ইমামতি করছিলেন। আমরা আমাদের গাধাকে বিচরণের জন্য কাতারের সামনে ছেড়ে দেই এবং তাতে তিনি কোন আপত্তি করেননি। এ সময় সেখানে বনী আব্দুল মুত্তালিবের দুই যুবতী এসে নামাযের কাতারের মধ্যে প্রবেশ করে এবং তাতেও তিনি কোন আপত্তি করেননি। (নাসাঈ)।
৭১৭. উছমান ইবনু আবূ শায়বা .... মানসুর হতে একই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, এ সময় সেখানে বনী আব্দুল মুত্তালিবের দুই যুবতী ঝগড়া রত অবস্হায় এসে উপস্থিত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ধরে ফেলেন অথবা পৃথক করে দেন এবং এরূপ করা দূষনীয় মনে করেননি। (ঐ)।
১২০. নামাযীর সামনে দিয়ে কুকুর গেলে নামাযের ক্ষতি হয় না।
৭১৮. আব্দুল মালিক ইবনু শুআয়ব ..... আল-ফাদল-ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট আসেন। আমরা তখন আমাদের জংগলে ছিলাম। আব্বাস (রাঃ)-ও তাঁর সাথে ছিলেন। অতঃপর ঐ জংগলে সুত্রাবিহীন অবস্থায় নামায পড়েন যখন তাঁর সামনে আমাদের গাধা ও কুকুর দৌড়দৌড়ি করছিল কিন্তু এটাকে তিনি আপত্তিকর মনে করেননি। (নাসাঈ)।
১২১. কোন কিছুই সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে নামায নষ্ট হয় না।
হাদিস নং ৭১৯যঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَقْطَعُ الصَّلاَةَ شَىْءٌ وَادْرَءُوا مَا اسْتَطَعْتُمْ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ " .
বর্ণনাকারী: আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
৭১৯. মুহাম্মাদ ইবনুল-আলা ..... আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ কোন নামাযীর সম্মুখ দিয়ে যাওয়ার কারণে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না, তবে তোমরা সাধ্যানুযায়ী এরূপ করতে বাধা দেবে। কেননা (নামাযীর সামনে দিয়ে) গমনকারী একটা শয়তান।
হাদিস নং ৭২০যঈফ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مُجَالِدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَدَّاكِ، قَالَ مَرَّ شَابٌّ مِنْ قُرَيْشٍ بَيْنَ يَدَىْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَهُوَ يُصَلِّي فَدَفَعَهُ ثُمَّ عَادَ فَدَفَعَهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ إِنَّ الصَّلاَةَ لاَ يَقْطَعُهَا شَىْءٌ وَلَكِنْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ادْرَءُوا مَا اسْتَطَعْتُمْ فَإِنَّهُ شَيْطَانٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِذَا تَنَازَعَ الْخَبَرَانِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نُظِرَ إِلَى مَا عَمِلَ بِهِ أَصْحَابُهُ مِنْ بَعْدِهِ .
৭২০. মুসাদ্দাদদ ..... আবূল-ওয়াদ্দাক বলেন, আবূ সাঈদ আল-খুদ্রী (রাঃ) নামায আদায়ের সময় তার সামনে দিয়ে এক ব্যক্তি গমন করতে চাইলে তিনি তাকে বাধা দেন। পুনঃ ঐ ব্যক্তি যেতে চাইলে তিনি আবারও তাকে বাধা দেন। এইরূপে তিনি তিন বার তাকে বাধা দেন। অতঃপর তিনি নামায শেষে বলেন, (নামাযের সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী) কোন কিছুই নামায নষ্ট করতে পারে না। তবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ নামাযের সামনে দিয়ে গমনকারীকে তোমরা যথাসম্ভব বাধা দিবে। কেননা সে একটি শয়তান।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুই হাদীছের মধ্যে যদি বৈপরিত্য দেখা দেয় তবে দেখতে হবে- তার পরে তাঁর সাহাবীগণ কোন হাদীছের উপর আমল করেছেন (তা গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে)।
১২২. রাফউল ইয়াদাইন (নামাযের মধ্যে উভয় হাত উপরে উঠানো)
৭২১. আহমদ ইবনু হাম্বল .... সালেম থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্নিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামায আরম্ভ করার সময় তার দুহাত স্বীয় কাঁধ পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি। অনুরূপভাবে এবং রুকূ করার সময় এবং রুকূ হতে মাথা উঠানোর পরও তাকে হাত উঠাতে দেখেছি। কিন্তু তিনি দুই সিজদার মাঝে হাত উঠাতেন না। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৭২২. ইবনুল মূসাফফা আল-হিমসী ..... আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযে দাঁড়ানোর সময় নিজের দুই হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। তাকবীর বলে রুকুতে যেতেন এবং দুই হাত উপরে তুলতেন। রুকূ হতে উঠার সময়ও স্বীয় উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলতেন। তিনি সিজদার মধ্যে হাত উঠাতেন না এবং প্রত্যেক রুকূর জন্য তাকবীর বলার সময় হাত উঠাতেন এবং এইরূপে নামায শেষ করতেন।
৭২৩. উবায়দুল্লাহ্ ইবনু উমার ..... আবূ ওয়ায়েল ইবনু হূজর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামায আদায় করি তাকবীর বলার সময় নিজের দুই হাত উঠাতেন, পরে তিনি তার হাত কাপড়ের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন। রাবী বলেন, অতঃপর যখন রুকূর ইরাদা করেন, তখন স্বীয় হাত দু’খানা বের করে উপরে উঠাতেন। তিনি রুকু হতে মাথা উঠানোর সময়ও দুই হাত উপরে উঠান। অতঃপর তিনি সিজদায় যান এবং স্বীয় চেহারা দুই হাতের তালুর মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপন করেন। অতঃপর তিনি সিজদা হতে মাথা উঠাবার সময়ও স্বীয় হাত দুইখানা উত্তোলন করেন। এভাবে তিনি তাঁর নামায শেষ করেন। রাবী মুহাম্মাদ বলেন, এ সম্পর্কে আমি হাসান ইবনু আবূল হাসানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এমনি ছিল রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায আদায়ের নিয়ম। যে ব্যক্তি এর অনুসরণ করেছে, সে তো করেছে এবং যে ব্যক্তি তা ত্যাগ করেছে- সে তো তা ত্যাগ করেছে- (মুসলিম)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাম্মাম-ইবনু জাহাদা হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ঐ বর্ণনায় সিজদা হতে মাথা উঠানোর সময় হাত উঠাবার কথা উল্লেখ নেই।
হাদিস নং ৭২৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ وَائِلٍ، حَدَّثَنِي أَهْلُ، بَيْتِي عَنْ أَبِي أَنَّهُ، حَدَّثَهُمْ أَنَّهُ، رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْفَعُ يَدَيْهِ مَعَ التَّكْبِيرَةِ .
৭২৪. মুসাদ্দাদ ....... আব্দুল জব্বার ইবনু ওয়ায়েল বলেন, আমার পরিবারের লোকেরা আমার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আমার পিতা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাকবীর বলার সময় দুই হাত উঠাতে দেখেছেন।
৭২৫. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... আব্দুল জব্বার ইবনু ওয়ায়েল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তাঁর পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে দন্ডায়মান হয়ে স্বীয় হস্তদ্বয় কাঁধ পর্যন্ত এবং বৃদ্ধাগুলিদ্বয় কান পর্যন্ত উঠিয়ে তাকবীর বলতে দেখেছেন।
৭২৬. মূসা’দ্দাদ ..... ওয়ায়েল ইবনু হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায পড়ার নিয়ম দেখাব। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলে নিজের উভয় হাত কান পর্যন্ত উত্তোলন করেন। অতঃপর তিনি স্বীয় বাম হাত ডান হাত দিয়ে ধরেন এবং রুকূ করার সময় উভয় হাত ঐরূপ উত্তোলন করেন। অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাত দুই হাটুর উপর রাখেন। রুকূ হতে মাথা উঠাবার সময় তিনি উভয় হাত তদ্রুপ উত্তোলন করেন। অতঃপর তিনি সিজদায় স্বীয় মাথা দুই হাতের মধ্যবর্তী স্থানে রাখেন এবং বাম পা বিছিয়ে বসেন। অতঃপর তিনি তাঁর বাম হাত বাম রানের উপর এবং ডান হাত ডান রানের উপর বিচ্ছিন্নভাবে রাখেন। পরে তিনি স্বীয় ডান হাতের কনিষ্ঠ ও অনামিকা অংগুলিদ্বয় আবদ্ধ করে রাখেন এবং মধ্যমা ও বৃদ্ধাংগুলি বৃত্তাকার করেন এবং শাহাদাত অঙ্গুলি (তর্জনী) দ্বারা ইাশারা করেন। (নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
আমি তাদেরকে এভাবে বলতে দেখেছি। আর বিশর নিজের মধ্যমা ও বৃদ্ধাগুলি দ্বারা বৃত্ত করেন এবং তর্জনী দ্বারা ইশারা করেন।
৭২৭. আল-হাসান ইবনু আলী ..... আসেম থেকে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় ডান হাত দ্বারা বাম হাতের কব্জি ও এর জোড়া আকড়িয়ে ধরেন। তার বাম তালু, কব্জি এবং বাহুর পেছনে (পিঠে) রেখেছিলেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি কিছুদিন পর সেখানে গিয়ে দেখতে পাই যে, সাহাবায়ে কিরাম অত্যধিক শীতের কারণে শরীর আবৃত করে রেখেছেন এবং তাদের হাতগুলো স্ব-স্ব কাপড়ের মধ্যে নড়াচড়া করছে।
লাল মার্ক করা অংশের অনুবাদে সঠিক না হবার কারনে তা সংশোধন করা হল। - হাদিসবিডি এডমিন
৭২৮. উছমান ইবনু আবূ শায়বা .... ওয়ায়েল ইবনু হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নামায শুরুর সময় স্বীয় হস্তদ্বয় নিজের কান পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি। রাবী বলেন, কিছু দিন পর আমি পুনরায় সেখানে গিয়ে দেখি যে, সাহাবায়ে কিরাম নামায আরম্ভের সময় তাদের হাতগুলি বুক পর্যন্ত উঠাচ্ছেন। এ সময় তাদের শরীর কোট ও অন্যান্য কাপড় দ্বারা আবৃত ছিল। (নাসাঈ)।
১২৩. নামায শুরু করার বর্ণনা।
হাদিস নং ৭২৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي الشِّتَاءِ فَرَأَيْتُ أَصْحَابَهُ يَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ فِي ثِيَابِهِمْ فِي الصَّلاَةِ .
বর্ণনাকারী: ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ)
৭২৯. মুহাম্মাদ ইবনু সুলায়মান .... ওয়ায়েল ইবনু হুজ্র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শীতের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হই। এ সময় আমি দেখি যে, তাঁর সাহাবীগণ নামাযের মধ্যে তাদের কাপড়ের ভিতর থেকে নিজ নিজ হাত উত্তোলন করছিলেন।
৭৩০. আহমদ ইবনু হাম্বল .... মুহাম্মাদ ইবনু আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুমায়েদ আস-সাইদী (রাঃ)-কে দশজন সাহাবীর উপস্থিতিতে যাদের মধ্যে আবূ কাতাদা (রাঃ)-ও ছিলেন- বলতে শুনেছিঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায সম্পর্কে আপনাদের চেয়ে সমধিক অবগত আছি। তাঁরা বলেন, তা কিরূপে? আল্লাহর শপথ! আপনি তাঁর অনুসরণের ও সাহচর্যের দিক দিয়ে আমাদের চাইতে অধিক অগ্রগামী নন। তিনি বলেন, হ্যাঁ। অতঃপর তারা বলেন, এখন আপনি আপনার বক্তব্য পেশ করুন। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযে দাঁড়াতেন তখন তিনি, তাঁর হস্তদ্বয় কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে পূর্ণরূপে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তিনি কিরাআত পাঠের পর তাকবীর বলে রুকূতে যাওয়ার সময় আল্লাহু আকবার বলে নিজের উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। রুকূতে গিয়ে তিনি দুই হাতের তালু দ্বারা হাঁটুদ্বয় মজবুতভাবে ধরতেন।
অতঃপর তিনি এমনভাবে রুকু করতেন যে, তাঁর মাথা পিঠের সাথে সমান্তরাল থাকত। অতঃপর তিনি মাথা উঠিয়ে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলে স্বীয় উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে তিনি সিজদায় গিয়ে উভয় বাহু স্বীয় পাজরের পাশ হতে দূরে সরিয়ে রাখতেন। অতঃপর সিজদা হতে মাথা উঠিয়ে বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসতেন এবং সিজদার সময় পায়ের আংগুলগুলি নরম করে কিবলামুখী করে রাখতেন। তিনি আল্লাহু আকবার বলে (দ্বিতীয়) সিজদা হতে উঠে বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর সোজা হয়ে বসতেন। অতঃপর তিনি সর্বশেষ রাকাতে স্বীয় বাম পা ডান দিকে বের করে দিয়ে বাম পাশের পাছার উপর ভর করে বসতেন। তখন তারা সকলে বলেন, হ্যাঁ, আপনি ঠিক বলেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই রূপেই নামায আদায় করতেন।
৭৩১. কুতায়বা ইবনু সাঈদ ..... মুসাদ্দাদ ইবনু আমার আল-আমিরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহাবায়ে কিরামের মজলিসে উপস্থিত থাকাকালে সেখানে রাসূলুল্লহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায সম্পর্কে আলোচনা হয়। তখন আবূ হুমায়েদ (রাঃ) বলেন অতঃপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীছটির কিছু অংশ বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন তিনি রুকূ করতেন তখন তাঁর হাতের তালু দ্বারা হাঁটু মজবুতভাবে ধরতেন এবং হাতের আংগুলগুলি পরস্পর বিচ্ছিন্ন রাখতেন এবং এ সময় তিনি স্বীয় মাথা পিঠের সমান্তরালে রাখতেন। রাবী বলেন, অতঃপর যখন তিনি দুই রাকাত নামায আদায়ের পর বসতেন, তখন বাম পায়ের উপর বসতেন এবং ডান পায়ের পাতা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। অতঃপর তিনি যখন চতুর্থ রাকাতের পর বসতেন, তখন তিনি নিজের উভয় পা ডান দিকে বের করে দিতেন এবং বাম পাশের পাছার উপর ভর দিয়ে বসতেন।
৭৩২. ঈসা ইবনু ইব্রাহীম আল-মিসরী .... মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু আতা হতে হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, তিনি সিজদার সময় স্বীয় হস্তদ্বয় বিছানার মত বিছিয়ে দিতেন না এবং শরীরের সাথে একেবারে মিলিয়েও রাখতেন না, বরং মাঝামাঝি অবস্থায় রাখতেন এবং পায়ের আংগুলগুলি কিবলামুখী করে রাখতেন।
৭৩৩. আলী ইবনুল হুসায়ন ইবনু ইব্রাহীম ...... আব্বাস (রহঃ) অথবা আইয়াশ ইবনু সাহল (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি সাহাবীদের এক মজলিসে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে তাঁর পিতা এবং আবূ হুরায়রা (রাঃ), আবূ হুমায়েদ আস-সাইদী এবং আবূ উসায়েদ (রাঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন। এই সূত্রে উপোরোক্ত হাদীছ কিছুটা হ্রাসবৃদ্ধি সহ বর্ণিত আছে। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি (নবী) রুকূ হতে মাথা উঠিয়ে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হাম্দ” বলে স্বীয় হস্তদ্বয় উপরে উঠাতেন। অতঃপর তিনি আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যেতেন এবং হাতের তালু, হাঁটু ও পায়ের পাতার উপর ভর করে সিজদা করতেন। অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে তিনি পাছার উপর ভর করে বসতেন এবং অপর পা-খানি সোজা করে রাখতেন। অতঃপর তাকবীর বলে সিজদা করতেন এবং পুনরায় তাকবীর বলে সিজদা হতে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তিনি এ সময় আর বসতেন না। এইরূপে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই রাকাতের পর বসে যখন দাঁড়াতে ইচ্ছা করতেন, তখন আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়াতেন এবং এইভাবে নামাযের শেষের দুই রাকাত সম্পন্ন করতেন। এই বর্ণনায় শেষ বৈঠকেও বাম পাশের পাছার উপর বসার কথা উল্লেখ নাই।
৭৩৪. আহমদ ইবনু হাম্বল ..... আব্বাস হাম্বল সাহল বলেন, আবূ হুমায়েদ, আবূ উসায়েদ, সাহল ইবনু সা’দ এবং মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রাঃ) কোন এক মজলিসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায আদায়ের ধরণ সম্পর্কে আলোচনা করেন। এ সময় আবূ হুমায়েদ (রাঃ) বলেন, আমি তোমাদের চাইতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায সম্পর্কে অধিক অবহিত। অতঃপর কিছু অংশ এখানে বর্ণনা করা হল। রাবী বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ করার সময় স্বীয় হস্ত দ্বারা হাঁটু শক্তভাবে আটকিয়ে ধরতেন। অতঃপর তিনি স্বীয় হস্তদ্বয় তাঁর পার্শদেশ থেকে বিছিন্ন করে রাখতেন।
রাবী বলেন, অতঃপর তিনি সিজদার সময় নাক ও কপাল মাটির সাথে মিলিয়ে রাখেন এবং হস্তদ্বয় পাশ হতে দূরে সরিয়ে রাখেন। অতঃপর তিনি এমনভাবে মাথা উঠাতেন যে, শরীরের সমস্ত সংযোগ স্থান স্ব-স্ব স্থানে স্থাপিত হত। অতঃপর বসে তিনি তাঁর বাম পা বিছিয়ে দিতেন এবং ডান পায়ের সম্মুখ ভাগ কিবলামুখী করে রাখতেন এবং ডান হাতের তালু ডান পায়ের উরুর উপর রাখতেন এবং বাম হাত বাম পায়ের উপর এবং তাশাহুদ পাঠের সময় শাহাদাত আংগুল দ্বারা ইশারা করতেন।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীছ উত্বা (রহঃ) আবদুল্লাহ হতে এবং তিনি আব্বাস ইবনু সাহল হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তারা সেখানে বাম পাশের পাছার উপর বসার কথা উল্লেখ করেননি।
৭৩৫. আমর ইবনু উছমান ...... আবূ হুমায়েদ (রাঃ) হতে পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, যখন তিনি সিজদা করতেন, তখন স্বীয় পেট রান হতে বিচ্ছিন্ন রাখতেন।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীছ ইবনুল মুবারক ও অন্যান্য সূত্র হতেও বর্ণিত হয়েছে।
৭৩৬. মুহাম্মাদ ইবনু মামার ..... আব্দুল জব্বার তাঁর পিতা ওয়ায়েল (রাঃ) হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, যখন তিনি সিজদা করতেন, তখন তিনি যমীনের উপর হাত রাখার আগে স্বীয় হাঁটু স্থাপন করতেন। যখন তিনি সিজাদাহ্ করতেন, তখন স্বীয় দুই হাতের তালুর মধ্যবর্তী স্থানে কপাল রাখতেন এবং হস্তদ্বয় বগল হতে দুরে সরিয়ে রাখতেন। আসেম ইবনু কুলায়েব তাঁর পিতা হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, যথা সম্ভব মুহাম্মাদ ইবনু জাহাদার বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, যখন তিনি দাঁড়াতেন তখন রান ও হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন।
হাদিস নং ৭৩৭যঈফ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ فِطْرٍ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْفَعُ إِبْهَامَيْهِ فِي الصَّلاَةِ إِلَى شَحْمَةِ أُذُنَيْهِ .
৭৩৭. মুসাদ্দাদ .... আব্দুল জারীর ইবনু ওয়ায়েল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাকবীর বলার সময় তাঁর উভয় হাতের বৃদ্ধাংগুলী কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি। (নাসাঈ)।
৭৩৮. আব্দুল মালিক ইবনু শুআয়ব ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামাযের জন্য তাকবীরে তাহ্রীমা বলতেন, তখন স্বীয় উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উত্তোলন করতেন। অতঃপর রুকূতে গমনকালে এবং রুকূ হতে সোজা হবার সময়ও দুই হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন এবং দুই রাকাতের পর যখন দন্ডায়মান হতেন, তখনও হাত উত্তোলন করতেন।
৭৩৯. কুতায়বা ইবনু সাঈদ .... মায়মূন আল-মাক্কী হতে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ্ ইবনুয যুবায়র (রাঃ)-কে তাদের নামায পড়াতে দেখেন। তিনি দাঁড়ানোর সময় রুকূ হতে সোজা হওয়ার সময় এবং দন্ডায়মান হওয়ার সময় তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করতেন। অতঃপর আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট গিয়ে তাকে ইবনুুয যুবায়েরের নামায সম্পর্কে বলি যে, এইরূপে হাত তুলে নামায আদায় করতে আর কাকেও দেখিনি। তখন তিনি বলেন, যদি তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায আদায়ের পদ্ধতি অবলোকন করতে চাও, তবে ইবনুুয যুবায়েরের নামাযের অনুসরণ কর। (আহমদ)।
৭৪০. কুতায়বা ইবনু সাঈদ ...... নাদ্র ইবনু কাছীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবনু তাউস (রহঃ) খায়েফের মসজিদে আমার পাশে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করেন। তিনি প্রথম সিজদায় গেলেন, অতঃপর সিজদা থেকে মাথা উঠানোকালে মুখমণ্ডল
বরাবর উভয় হাত উত্তোলন করলেন। তা আমার নিকট অপছন্দনীয় লাগলে আমি উহায়েব ইবনু খালিদকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি উহায়েব (রহঃ) আবদুল্লাহকে বলেন, তুমি এমন একটি কাজ করেছ, যা আমি ইতিপূর্বে আর কাউকে করতে দেখিনি। আবদুল্লাহ্ ইবনু তাউস (রহঃ) বলেন, আমি আমার পিতাকে এরূপ করতে দেখিছি এবং আমার পিতা বলেছেন, আমি আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে এরূপ করতে দেখেছি। আমি নিশ্চিত জানি যে, তিনি আরো বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ করতেন।
৭৪১. নাস্র ইবনু আলী ..... নাফে (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন তিনি তাকবীর বলে দুই হাত উপরের দিকে উঠাতেন। অতঃপর তিনি রুকূ হতে মাথা তোলার সময় “সামিআল্লাহু নিমান হামিদাহ্” বলতেন। অতঃপর তিনি দুই রাকাত নামায শেষ করার পর যখন দাঁড়াতেন তখন তিনি উভয় হাত উত্তোলন করতেন এবং এই বর্ণনা সূত্র রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌছেছেন (অর্থাৎ হাদীছটি মারফু)। (বুখারী)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সত্য বর্ণনা এই যে, হাদীছটি ইবনু উমার (রাঃ) এর বক্তব্য, মারফু হাদীছ নয়। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) আরো বলেন, প্রথম হাদীছে দুই রাকাত নামায আদায়ের পর দাঁড়ানোর সময় হাত উঠানো সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে- তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত নয়। ছাকাফী উবায়দুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন এবং এই বর্ণনাসূত্র ইবনু উমার (রাঃ) পর্যন্ত পৌছেছে এবং এখানে এরূপ উল্লেখ হয়েছে যে, যখন তিনি দুই রাকাত নামায সমাপ্তির পর দন্ডায়মান হতেন, তখন উভয় হাত বক্ষ পর্যন্ত উত্তোলন করতেন এবং এই রিওয়ায়াত সহীহ।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) আরো বলেন, লাইছ, মালিক, আইউব ও ইবনু জুরায়েজ প্রমুখ রাবীগণ এই হাদীছের বর্ণনা সূত্র সাহাবী পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। হাম্মাদ একাই এই হাদীছকে মারফু হাদীছ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। রাবী ইবনু জুরায়েজ বলেন, আমি নাফেকে জিজ্ঞাসা করি যে, ইবনু উমার (রাঃ) তাকবীরে তাহ্রীমা বলার সময় কি তাঁর হাত অন্য সময়ের চাইতে অধিক উত্তোলন করতেন? তিনি বলেন, না; বরং সব সময়ই তিনি একইরূপে হাত উঠাতেন। আমি বলি আমাকে ইশারাপূর্বক দেখান। তিনি স্বীয় বক্ষদেশ বা তার চাইতে কিছু নীচে পর্যন্ত ইশারা করে দেখান।
৭৪২. আল-কানবী ..... নাফে (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাঃ) নামায আরম্ভের প্রাক্কালে স্বীয় হস্তদ্বয় কাঁধ পর্যন্ত উত্তোলন করলেন। তিনি রুকূ হতে মাথা উঠাবার সময় হস্তদ্বয়কে একটু কম উপরে উঠাতেন।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমার জানামতে রাবী মালিক ব্যতীত আর কেউ হস্ত কম উত্তোলনের কথা উল্লেখ করেননি।
১২৪. দুই রাকআত শেষে উঠার সময় দুই হাত উত্তোলন (রাফউল ইয়াদাইন) সম্পর্কে।
৭৪৩. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামাযের দুই রাকাত আদায়ের পর দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর বলে উভয় হাত উত্তোলন করতেন।
৭৪৪. আল-হাসান ইবনু আলী ..... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফরয নামাযে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর বলে স্বীয় হস্তদ্বয় কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন এবং কিরাআত শেষ করার পর রুকূতে গমনকালে এবং রুকূ হতে উঠবার সময় অনুরূপ করতেন। তিনি বসে নামায পড়াকালে এরূপ হাত তুলতেন না। যখন সিজদার পর দন্ডায়মান হতেন, তখন হাত উঠিয়ে তাকবীর বলতেন। (নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আবূ হুমায়েদ আস-সাইদী (রাঃ) এর হাদীছে বর্ণিত আছে যে, যখন তিনি দুই রাকাত নামায সমাপ্তির পর দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর বলে স্বীয় হস্তদ্বয় কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন যেরূপ তিনি নামায আরম্ভের সময় উঠাতেন।
হাদিস নং ৭৪৫সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا كَبَّرَ وَإِذَا رَكَعَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ حَتَّى يَبْلُغَ بِهِمَا فُرُوعَ أُذُنَيْهِ .
বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাঃ)
৭৪৫। হাফস ইবনু উমার ..... মালিক ইবনুল-হুয়ায়রিছ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় হাত উঠাতে দেখেছি। আমি তাকে রুকূতে গমনকালে এবং তা হতে উঠার সময় স্বীয় হস্তদ্বয় কানের লতি পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৭৪৬সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ الْمَعْنَى - عَنْ عِمْرَانَ، عَنْ لاَحِقٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ لَوْ كُنْتُ قُدَّامَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَرَأَيْتُ إِبْطَيْهِ . زَادَ ابْنُ مُعَاذٍ قَالَ يَقُولُ لاَحِقٌ أَلاَ تَرَى أَنَّهُ فِي الصَّلاَةِ وَلاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَكُونَ قُدَّامَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَزَادَ مُوسَى يَعْنِي إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ .
বর্ণনাকারী: বাশীর ইবনু নুহাইক (রহঃ)
৭৪৬. ইবনু মুআয .... বশীর ইবনু নাহীক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, যদি আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে থাকতাম, তবে তাঁর বগল দেখতে পেতাম (অর্থাৎ তিনি হাত এতটা পৃথক রাখতেন)। ইবনু মুআয তাঁর হাদীছে আরো উল্লেখ করেছেন যে, রাবী নাহীক বলেন, তুমি কি দেখ না আবূ হুরায়রা (রাঃ) নামাযে রত থাকায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে গমন করতে পারেন না। রাবী মূসা তাঁর বর্ণিত হাদীছে আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাকবীর বলার সময় দুই হাত উঠাতেন। (নাসাঈ)
৭৪৭. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... আলকামা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নামায পড়ার নিয়ম শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় স্বীয় দুই হাত উত্তোলন করেন। তিনি রুকূ করার সময় উভয় হাত একত্রিত করে দুই হাটুর মধ্যখানে রাখেন। এই খবর সা’দ (রাঃ) এর নিকট পৌছলে তিনি বলেন, আমার ভাই (ইবনু মাসউদ) সত্য বলেছেন। পূর্বে আমরা এরূপ করতাম। অতঃপর আমাদেরকে এরূপ করা হতে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়। (নাসাঈ)।
৭৪৮. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... আলকামা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায সম্পর্কে শিক্ষা দেব না? রাবী বলেন, অতঃপর তিনি নামায আদায়কালে মাত্র একবার হাত উত্তোলন করেন। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এটা একটি দীর্ঘ হাদীছের সংক্ষিপ্তসার। উপরোক্ত শব্দে হাদীছটি সঠিক নয়।
৭৪৯. আল-হাসান ইবনু আলী ..... সুফিয়ান (রহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীছটি এই সনদে বর্ণিত। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি কেবলমাত্র প্রথম বার (তাকবীরে তাহরীমা পাঠের সময়) হাত উত্তোলন করেন। কতক রাবী বলেন, তিনি শুধুমাত্র একবার হাত উঠান।
৭৫০. মুহাম্মাদ ইবনুুস- সাব্বাহ আল-বাযযার ..... বারাআ ইবনু আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামায আরম্ভের সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবলমাত্র একবার কানের নিকট পর্যন্ত হাত উঠাতেন। অতঃপর তিনি আর হাত উঠাতেন না।
৭৫১. আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আয-যুহরী ..... ইয়াযীদ হতে এই সূত্রে শরীকের হাদীছের অনুরূপ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীছেثُمَّ لاَ يَعُودُ “ছুম্মা লা ইয়া’উদু” (তিনি পুনবার হাত তুলতেন না) শব্দটির উল্লেখ নেই। সুফিয়ান বলেন, অতঃপর রাবী (ইয়াযীদ) আমাদের নিকট কুফা শহরেثُمَّ لاَ يَعُودُ “ছুম্মা লা ইয়া’উদু” শব্দটির উল্লেখ করেন।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হুশায়েম, খালিদ এবং ইবনু ইদরীসও এই হাদীছ ইয়াযীদ হতে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরাثُمَّ لاَ يَعُودُ “ছুম্মা লা ইয়া’উদু” শব্দটির উল্লেখ করেননি।
৭৫২. হুসায়ন আব্দুর রহমান ..... বারাআ আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় তার হস্তদ্বয় উত্তোলন করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি নামাযের শেষ পর্যন্ত আর কখনও স্বীয় হস্তদ্বয় (একবারের অধিক) উত্তোলন করেননি।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীছ সহীহ নয়।
হাদিস নং ৭৫৩সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَمْعَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلاَةِ رَفَعَ يَدَيْهِ مَدًّا .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৭৫৩. মুসাদ্দাদ ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায আরম্ভ করতেন, তখন তিনি স্বীয় হস্তদ্বয় উপরের দিকে প্রসারিত করে উঠাতেন। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
৭৫৪. নাস্র ইবনু আলী ..... আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যুবায়ের (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নামাযের সময় দুই পা সমান রাখা এবং এক হাতের উপর অন্য হাত রাখা সুন্নাত।
৭৫৫. মুহাম্মাদ ইবনু বাক্কার .... ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ডান হাতের উপর বাম হাত রেখে নামায পড়ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখতে পেয়ে তাঁর বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে দেন। (নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৭৫৭. মুহাম্মাদ ইবনু কুদামা ..... ইবনু জুরাইজ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি আলী (রাঃ)-কে নামাযে নাভির উপরে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরে রাখতে দেখেছি।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনু জুবাইর থেকে “নাভির উপরে” বর্ণিত আছে। আর আবূ মিজলায বলেছেন, “নাভির নীচে”। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে, কিন্তু তা তেমন শক্তিশালী নয়।
৭৫৮. মূসা’দ্দাদ ..... আবূ ওয়ায়েল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, আমি নামাযে নাভির নীচে (বাম) হাতের উপর (ডান) হাত রাখি।
আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) ইসহাক আল-কূফীকে দুর্বল রাবী হিসাবে অভিহিত করতে শুনেছি।
১২৬. নামাযের সময় বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা।
হাদিস নং ৭৫৯সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ، - يَعْنِي ابْنَ حُمَيْدٍ - عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى ثُمَّ يَشُدُّ بَيْنَهُمَا عَلَى صَدْرِهِ وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ .<br /> <br /> صحيح (الألباني) حكم
বর্ণনাকারী: তাঊস (রহঃ)
৭৫৯. আবূ তাওবা ..... তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযরত অবস্থায় ডান হাত বাম হাতের উপর স্থাপন করে তা নিজের বুকের উপর বেঁধে রাখতেন।
৭৬১. আল-হাসান ইবনু আলী ..... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফরয নামাযের জন্য দন্ডায়মান হতেন তখন তাকবীরে তাহরীমা বলে উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। কিরাআত পড়ার পর রুকূতে যাওয়ার সময় এবং রুকূ হতে উঠার সময়ও তিনি অনুরূপ করতেন (কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাতেন)। বসা অবস্থায় তিনি হাত উঠাতেন না। তিনি দুটি সিজদা করার পর (দুই রাকাত শেষ করার পর) উঠার সময় অনুরূপভাবে হাত উঠাতেন এবং তাকবীর বলে পূর্ববর্তী হাদীছে উল্লেখিত দোয়া পাঠ করতেন। এই হাদীছের মধ্যে দোয়ায় কিছুটা কম-বেশী আছে এবং “ওয়াল-খায়রু কুল্লুহু ফী ইয়াদাইকা ওয়াশ-শাররু লায়সা ইলাইকা”- বাক্যটির উল্লেখ নাই। রাবী আব্দুর রহমান এই হাদীছে আরও উল্লেখ করেছেন যে, নামায শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَأَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَأَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ (আল্লাহুমাগফিরলী মা কাদ্দামতু ওয়া আখ্খারতু ওয়া আসরারতু ওয়া আলানতু আনতা ইলাহী লা ইলাহা ইল্লা আনতা।)
৭৬৩. মূসা ইবনু ইসমাঈল ..... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দ্রুত গতিতে মসজিদে আগমনের ফলে খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সে বলল, "আল্লাহু আকবার আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাছীরান তাইয়েবান মুবারাকান ফীহ্।" নামায শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করেনঃ তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি এই দু’আ পাঠ করেছে? ঐ ব্যক্তি খারাপ কিছু বলে নাই। তখন ঐ ব্যক্তি বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মসজিদে আগমনের পর ক্লান্ত হয়ে আমি এই দু’আ পাঠ করি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি দেখতে পাই যে, বারজন, ফেরেশতা প্রতিযোগীতামূলকভাবে উক্ত দু’আ সর্বাগ্রে অল্লাহ তা’আলার নিকটে নেওয়ার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়েছে। রাবী হুমায়েদের বর্ণানায় আরও আছে যে, মসজিদে জামাআতে নামায আদায়ের সময় প্রত্যেক মুসল্লীর জন্য স্বাভাবিক পদক্ষেপে আগমন করা উচিত। অতঃপর সে ব্যক্তি ইমামের সাথে নামাযের যে অংশ প্রাপ্ত হয় তা আদায়ের পর যদি নামাযের কিছু অংশ ছুটে গিয়ে থাকে, তা ইমামের সালাম ফিরানোর পর একাকী আদায় করবে। (মুসলিম, নাসাঈ)।
৭৬৪. আমর ইবনু মারযুক .... ইবনু জুবায়ের ইবনু মুত্ইম থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামায আদায় করতে দেখেন। রাবী আমর বলেন, এটা ফরয অথবা নফল নামায ছিল কি না তা আমি জানি না। এ সময় তিনি বলেনঃ আল্লাহু আকবার কাবীরান, আল্লাহু আকবার কাবীরান, আল্লাহু আকবার কাবীরান, আলহামদুলিল্লাহি কাছীরান, আলহামদুলিল্লাহি কাছীরান ওয়া সুব্হানাল্লাহে বুকরাতাও ওয়া আসীলা (তিনবার বলেন), আউযু বিল্লাহে মিনাশ-শায়তানির রাজীমে মিন নাফাখিহি ওয়া নাফাসিহি ওয়া হামাযিহি (অর্থাৎ শয়তানের অহংকার, কবিতা ও কুমন্ত্রণা)।
হাদিস নং ৭৬৫যঈফ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي التَّطَوُّعِ ذَكَرَ نَحْوَهُ .
বর্ণনাকারী: নাফি ইবনু জুবায়ব (রহঃ)
৭৬৫. মুসাদ্দাদ ..... নাফে ইবনু জুবায়ের থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নফল নামায আদায়কালে বলতে শুনেছি ... পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ। (ইবনু মাজাহ)।
৭৬৬. মুহাম্মাদ ইবনু রাফে ... আসিম ইবনু হুমাইদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের নামায কিরূপে আরম্ভ করতেন? তিনি বলেন, তুমি আমাকে এমন একটি প্রশ্ন করেছ যা ইতিপূর্বে আমাকে আর কেউ করেনি। অতঃপর বলেন, নামাযে দন্ডায়মান হয়ে সর্বপ্রথম আল্লাহু আকবার দশবার, আলহামদু লিল্লাহি দশবার, সুবহানাল্লাহ্ দশবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু দশবার, আস্তাগফিরুল্লাহ দশবার পাঠ করতেন। অতঃপর এই দু’আটি পাঠ করতেনঃ “আল্লাহুম্মাগফির লী ওয়াহদিনী ওয়ারযুকনী, ওয়া আফিনী” এবং কিয়ামতের দিনের সংকীর্ণ স্থান হতে আল্লাহর নিকট নাজাত কামনা করতেন। (নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, রাবী খালিদ রাবীআ হতে, আয়িশা (রাঃ) হতেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৭৬৮. মুহাম্মাদ ইবনু রাফে .... ইকরামা উপরোক্তভাবে ভিন্ন শব্দে ও অর্থে এই হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযে দাঁড়াতেন, তখন আল্লাহ্ আকবার উচ্চারণ করতেন এবং বলতেন।
৭৬৯. আল-কানবী ..... মালেক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফরয অথবা নফল নামাযের প্রথমে মাঝে বা শেষে যে কোন সময়ে দু’আ পাঠ করা যায়।
হাদিস নং ৭৭০সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ الزُّرَقِيِّ، قَالَ كُنَّا يَوْمًا نُصَلِّي وَرَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . قَالَ رَجُلٌ وَرَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ الْمُتَكَلِّمُ بِهَا آنِفًا " . فَقَالَ الرَّجُلُ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ رَأَيْتُ بِضْعَةً وَثَلاَثِينَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَكْتُبُهَا أَوَّلَ " .
বর্ণনাকারী: রিফা‘আহ ইবনু রাফি’ যুরাকী (রাঃ)
৭৭০. আল-কানবী ..... রিফাআ ইবনু রাফে আয-যুরাকী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে নামায আদায় করি তিনি যখন রুকূ হতে মাথা উঠিয়ে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলেন, তখন এক ব্যক্তি বলে উঠেন-“আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ, হামদান কাছীরান তাইয়েবান মুবারাকান ফীহ”। নামাযান্তে রাসূলুল্লহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ এই দু’আ পাঠকারী কে? ঐ ব্যক্তি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আমি তিরিশেরও অধিক ফেরেশতাকে তা সবাগ্রে লিপিবদ্ধ করার জন্য প্রতিযোগিতা করতে দেখেছি। (বুখারী, নাসাঈ)।
৭৭৪. আল-আব্বাস ইবনু আব্দুল আযীম .... আবদুল্লাহ্ ইবনু আমের থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা অনসার গোত্রের কোন এক যুবক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে নামায আদায় করার সময় হাঁচি দেয় এবং বলে, আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাছীরান তাইয়েবান মুবারাকান ফীহি হাত্তা ইয়ারদা রব্বুনা ওয়া বা’দুমা ইয়ারদা মিন আমরিদ-দুনয়া ওয়াল-আখিরাহ।”
নামায শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ এই উক্তি কে করেছে? তখন যুবকটি নীরব থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বলেনঃ এই কথাগুলি কে বলেছে? সে তো কোন খারাপ উক্তি করেনি। তখন যুবকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি এইরূপ বলেছি এবং আমি কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যেই এরূপ বলেছি। তিনি বলেনঃ এ কথা কোথাও অপেক্ষা করেনি, বরং মহিমান্বিত দয়াময় আল্লাহর আরশে পৌঁছে গেছে।
১২৮. যারা বলেন, সুবহানাকা আল্লাহুম্মা বলে নামায শুরু করবে।
৭৭৬. হুসায়েন ইবনু ঈসা ..... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামায আরম্ভ করতেন তখন এই দু’আ পাঠ করতেনঃ “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গায়রুকা।” (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদিসটি আব্দুস সালামের বর্ণনা হতে প্রসিদ্ধি লাভ করেনি, বরং হাদীছবেত্তাদের মতে তালক ইবনু গান্নাম এই হাদীছের বর্ণনাকারী। অবশ্য রাবী বুদায়েল হতে নামাযের ঘটনা বর্ণিত আছে, কিন্তু সেখানে উপরোক্ত দু’আর কিছু উল্লেখ নাই।
৭৭৭. ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহীম .... আল-হাসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সামূরা (রাঃ) বলেন, নামাযের মধ্যে যে দুই স্থানে চুপ থাকতে হয় তা আমি স্মরণ রেখেছি। প্রথমত হল যখন তাকবীরে তাহরীমা বলে তখন হতে কিরাআত শুরু করা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয়ত ইমাম সূরা ফাতিহা ও কিরাআত পাঠের পর রুকূতে যাওয়ার পূর্বে। ইমরান ইবনু হুসায়েন (রাঃ) এ কথা মেনে নিতে অস্বীকার করলে তারা মদীনায় উবাই ইবনু কাব (রাঃ) এর নিকট এ সম্পর্কে জানার জন্য পত্র লেখেন। তিনি সামুরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীছটি সমর্থন করেন। (ইবনু মাজাহ)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, রাবী হুমায়েদ অনুরূপভাবে এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন। ঐ হাদীছেও কিরআত সমাপ্তির পর ক্ষণিক চুপ থাকা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে।
হাদিস নং ৭৭৮যঈফ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَسْكُتُ سَكْتَتَيْنِ إِذَا اسْتَفْتَحَ وَإِذَا فَرَغَ مِنَ الْقِرَاءَةِ كُلِّهَا . فَذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ يُونُسَ .
বর্ণনাকারী: সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ)
৭৭৮. আবূ বকর ইবনু খাল্লাদ ..... সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায পাঠকালে দুটি স্থানে ক্ষণিক চুপ থাকতেন। যখন তাকবীরে তাহরীমা বলতেন এবং যখন তিনি কিরাআত সমাপ্ত করতেন ... অতঃপর রাবী ইউনুস হতে বর্ণিত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত আছে।
৭৮৯. মূসা’দ্দাদ ..... আল-হাসান (রহঃ) হতে বর্ণিত। সামুরা ইবনু জুনদুব ও ইমরান ইবনু হুসায়েন (রাঃ) পরস্পর আলোচনা প্রসংগে সামুরা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাহল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে নামাযের মধ্যে যে দুই স্থানে নিশ্চুপ থাকতে হয় তা শিখেছেন। তার প্রথমটি হল তাকবীরে তাহরীমা বলার পর এবং দ্বিতীয় স্থানটি হল “গায়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন” পাঠের পর। যসিও সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) একথা স্মরণ রাখেন কিন্তু ইমরান ইবনু হুসায়েন (রাঃ) তা অস্বীকার করায় তারা উভয়ে যৌথ ভাবে এসম্পর্কে উবাই ইবনু কাব (রাঃ) এর নিকট পত্র লেখেন। তিনি তাদের পত্রের জবাবে জানান যে, সামুরা (রাঃ) এ হাদীছ সঠিকভাবে স্মরণ রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
৭৮০. ইবনুল মুছান্না ..... সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামাযের মধ্যে যে দুই স্থানে চুপ থাকতে হয়, এতদসম্পর্কীয় জ্ঞান আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট হতে আহরণ করেছি। অতঃপর রাবী সাঈদ বলেন, আমরা এ বিযয়ে কাতাদা (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস। করলে তিনি বলেন, যখন কেউ নামায আরম্ভ করবে এবং কিরাআত শেষ করবে তখন নিশ্চুপ থাকবে। পুনরায় তিনি বলেন, (কিরাআত শেষের অর্থ হল) যখন কেউ গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লিন বলবে। (ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)।
৭৮১. আহমদ ইবনু আবূ গুআয়ব ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআত পাঠের মধ্যবর্তী সময়ে কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতাপিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআত পাঠের পূর্বে কেন চুপ থাকেন- তা আমাকে অবহিত করুন। তিনি বলেন, (তখন আমি) চুপে চুপে এই দু’আ পাঠ করিঃ আল্লাহুম্মা বায়েদ বায়নী ওয়া বায়না খাতায়ায়া কামা বায়েদতা বায়নাল-মাশরিকে ওয়াল মাগরিবে আল্লাহুম্মা আনকেনী মিন খাতায়ায়া কাছ্-ছাওবিল আবয়াদি মিনাদ-দানাসে আল্লাহুম্মা আগসিলনী বিছ-ছালজে ওয়াল-মায়ে ওয়াল-বারদি”। (বুখারী, মুসলিম, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ)।
১৩০. উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ্ না বলার বিবরণ।
হাদিস নং ৭৮২সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ كَانُوا يَفْتَتِحُونَ الْقِرَاءَةَ بِـ ( الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ) .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৭৮২. মুসলিম ইবনু ইব্রাহীম ..... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর (রাঃ), উমার (রাঃ) ও উছমান (রাঃ) “আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন” হতে কিরাআত পাঠ শুরু করতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)।
৭৮৩. মুসাদ্দাদ ..... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা বলে নামায আরম্ভ করতেন এবং আলহামদু লিল্লাহি রব্বীল আলামীন বলে কিরাআত শুরু করতেন। তিনি রুকুর সময় স্বীয় মাথা উচুঁ করেও রাখতেন না এবং নীচু করেও রাখতেন না, বরং পিঠের সমান্তরাল করে রাখতেন। অতঃপর তিনি রুকূ হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর আগে সিজদায় যেতেন না এবং এক সিজদা করার পর সোজা হয়ে বসার পূর্বে দ্বিতীয় সিজদা করতেন না। তিনি প্রত্যেক দুই রাকাত নামায আদায়ের পর তাশাহুদ, পাঠ করতেন। অতঃপর তিনি যখন বসতেন, তখন বাম পা বিছিয়ে দিতেন এবং ডান পা খাড়া করে রাখতেন। তিনি শয়তানের মত উপবেশন করা তথা উভয় গোড়ালীর উপর পাছা রেখে বসতে নিষেধ করতেন এবং চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় (অর্থাৎ দুই হাত মাটির সাথে বিছিয়ে দিয়ে) সিজদা করতে নিষেধ করতেন। অতঃপর তিনি আস-সালামু আলাইকুম বলে নামায শেষ করতেন- (মুসলিম, ইবনু মাজাহ)।
৭৮৪. হান্নাদ ইবনুস সারী ..... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ এখনই আমার উপর একটি সূরা নাযিল হয়েছে। অতঃপর তিনি পাঠ করেনঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম, ইন্না আ’তায়না কাল কাওছার ... তিনি সূরাটির শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করেন। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা কি জান কাওছার কি? তারা বলেন, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল এ ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। তিনি বলেনঃ এটি একটি নহর, যা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন জান্নাতের মধ্যে আমাকে দান করবেন বলে অংগীকার করেছেন। (মুসলিম, ইবনু মাজাহ, ইবনু কাছীর বলেছেন, ইমাম বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী স্ব স্ব গ্রন্থে এ হাদীছ সংকলন করেছেন)।
৭৮৫. কুত্ন ইবনু নুসায়র ..... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইফ্ক (মিথ্যা অপবাদ)-এর ঘটনা উল্লেখ পূর্বক বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসা ছিলেন। তিনি মুখ খোলেন এবং বলেনঃ আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম, "ইন্নাল্লাযীনা জা’উ বিল-ইফ্কে উসবাতুম মিনকুম” আয়াতের শেষ পর্যন্ত পাঠ করেন। অর্থাৎ “যারা মিথ্যা অপবাদ প্রচার করে বেড়াচ্ছে তারা তোমাদের মধ্যেরই লোক।”
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীছ মুনকার শ্রেণীভুক্ত। কারণ মুহাদ্দিছদের একদল এই হাদীছ ইমাম যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তাদের বর্ণানায় ঐ আয়াতের বর্ণনার সাথে আউযুবিল্লাহ্ এর উল্লেখ নাই। আমার আশংকা হচ্ছে আউযুবিল্লাহ্ বাক্যটি রাবী হুমায়েদ নিজস্বভাবে পাঠ করেন।
৭৮৬. আমর ইবনু আওন ..... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উছমান (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করি যে, আপনারা সূরা বারাআত-কে সূরা আনফালের অন্তর্ভূক্ত করে আল-কুরআনের সাবউল মাছানী (সাতটি সূরা)-এর মধ্যে কিরূপে পরিগণিত করেন এবং উভয় সুরার মধ্যস্থলে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম কেন লিখেন নাই? অথচ বারাআত সূরাটি মইন-এর অন্তর্ভুক্ত (অর্থাৎ যাতে ১০০-র অধিক আয়াত আছে এবং বারাআতে ১২৯ আয়াত আছে)। অপরপক্ষে সুরা আনফাল মাছানীর অন্তর্ভুক্ত (কেননা এতে ১০০-এর কম অর্থাৎ ৭৫ টি আয়াত আছে)।
উছমান (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর যখনই কোন আয়াত নাযিল হত, তখন তিনি ওহী লেখক সাহাবীদের ডেকে বলতেনঃ এই আয়াত অমুক সূরার অমুক স্থানে সন্নিবেশিত কর যার মধ্যে এই এই বিষয় আলোচিত হয়েছে। অতঃপর তাঁর উপর যখন একটি বা দুটি আয়াত নাযিল হত, তখনও তিনি ঐরূপ বলতেন।
সুরা আল্-আনফাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর মদীনায় আসার পরপরই নাযিলকৃত সূরা সমূহের অন্যতম এবং সূরা বারাআত অবতীর্ণ হয় কুরআন নাযিলের সমাপ্তিকালে। কিন্তু সূরা আনফালে বর্ণিত ঘটনাবলীর সঙ্গে সূরা বারাআতে বর্ণিত ঘটনাবলীর সংগে সূরা বারাআতে বর্ণিত ঘটনাবলীর সা’দৃশ্য রয়েছে। কাজেই আমি মনে মনে স্থির করি যে, এটি সূরা আনফালের অন্তর্ভুক্ত। এজন্য আমি দুটি সূরাকে একত্রে সাবউত-তিলাওয়াত-এর অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং এ কারণেই এই দুইটি সূরার মাঝখানে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম লিপিবদ্ধ করিনি। (তিরমিযী)।
হাদিস নং ৭৮৭যঈফ
حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِي ابْنَ مُعَاوِيَةَ - أَخْبَرَنَا عَوْفٌ الأَعْرَابِيُّ، عَنْ يَزِيدَ الْفَارِسِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ، بِمَعْنَاهُ قَالَ فِيهِ فَقُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يُبَيِّنْ لَنَا أَنَّهَا مِنْهَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ الشَّعْبِيُّ وَأَبُو مَالِكٍ وَقَتَادَةُ وَثَابِتُ بْنُ عُمَارَةَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكْتُبْ ( بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ) حَتَّى نَزَلَتْ سُورَةُ النَّمْلِ هَذَا مَعْنَاهُ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৭৮৭. যিয়াদ ইবনু আইউব ..... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে এই সূত্রেও পৃর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মধ্য হতে বিদায় নিয়েছ। কিন্তু তিনি সূরা বারাআত সূরা আনফালের অন্তর্ভুক্ত কিনা- এ সম্পর্কে পরিস্কারভাবে কিছুই বলেননি।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, শাবী, আবূ মালিক, কাতাদা ও ছাবেত বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর সূরা নামল অবতীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত (কোন সূরার প্রারম্ভে) বিস্মিল্লাহ লিখেন নি।
৭৮৮. কুতায়বা ইবনু সাঈদ .... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম নাযিল না হওয়া পর্যন্ত কোন সূরার শুরু চিহ্নিত করতে পারতেন না। হাদীছের এই পাঠ ইবনুস সারহ্-এর।
৭৮৯. আব্দুর রহমান ইবনু ইবরাহীম ... আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদা (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমি কখনও কখনও নামায দীর্ঘায়িত করার ইরাদা করি কিন্তু কোন ছোট বাচ্চার ক্রন্দন ধ্বনি শুনে তার মাতার কষ্টের কথা চিন্তা করে নামায সংক্ষিপ্ত করি। (বুখারী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মুসলিম)।
৭৯০. কুতায়বা ইবনু সাঈদ .... আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি এমন অনেক লোক আছে যারা নামায পড়ে কিন্তু তাদের নামায পুরাপুরি কবুল না হওয়ায় পরিপূর্ণ ছাওয়াব প্রাপ্ত হয় না। বরং তাদের কেউ ১০ ভাগের ১ ভাগ, ৯ ভাগের ১ ভাগ, ৮ ভাগের ১ ভাগ, ৭ ভাগের ১ ভাগ, ৬ ভাগের ১ ভাগ, ৫ ভাগের ১ ভাগ, ৪ ভাগের ১ ভাগ, তিনের-একাংশ বা অর্ধাংশ ছওয়াব প্রাপ্ত হয়ে থাকে। (নাসাঈ)।
১৩৪. নামায সংক্ষিপ্ত করা সম্পর্কে।
হাদিস নং ৭৯১সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، سَمِعَهُ مِنْ، جَابِرٍ قَالَ كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَرْجِعُ فَيَؤُمُّنَا - قَالَ مَرَّةً ثُمَّ يَرْجِعُ فَيُصَلِّي بِقَوْمِهِ - فَأَخَّرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً الصَّلاَةَ - وَقَالَ مَرَّةً الْعِشَاءَ - فَصَلَّى مُعَاذٌ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ جَاءَ يَؤُمُّ قَوْمَهُ فَقَرَأَ الْبَقَرَةَ فَاعْتَزَلَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَصَلَّى فَقِيلَ نَافَقْتَ يَا فُلاَنُ . فَقَالَ مَا نَافَقْتُ . فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ مُعَاذًا يُصَلِّي مَعَكَ ثُمَّ يَرْجِعُ فَيَؤُمُّنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنَّمَا نَحْنُ أَصْحَابُ نَوَاضِحَ وَنَعْمَلُ بِأَيْدِينَا وَإِنَّهُ جَاءَ يَؤُمُّنَا فَقَرَأَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ . فَقَالَ " يَا مُعَاذُ أَفَتَّانٌ أَنْتَ أَفَتَّانٌ أَنْتَ اقْرَأْ بِكَذَا اقْرَأْ بِكَذَا " . قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ بِـ ( سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ) ( وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى ) فَذَكَرْنَا لِعَمْرٍو فَقَالَ أُرَاهُ قَدْ ذَكَرَهُ .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
৭৯১. আহমদ ইবনু হাম্বল .... জাবের (রাঃ) বলেন, মুআয (রাঃ) মসজিদে নববীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে নামায আদায়ের পর স্বীয় সম্প্রদায়ে প্রত্যাবর্তন করে আমাদের নামাযে ইমামতি করতেন। রাবী পুনরায় বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে নামায আদায়ের পর তিনি স্বীয় কওমের নিকট ফিরে এসে তাদের নামাযে ইমামতি করতেন। একদা রাতে-এশার নামায পড়তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলম্ব করেন। সেদিনও মুআয (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এশার নাময পড়ে ফিরে গিয়ে স্বীয় কওমের ইমামতি করেন এবং এই নামাযে তিনি সূরা আল-বাক্কারা তিলাওয়াত শুরু করেন। ঐ সময় এক ব্যক্তি জামাআত হতে বিছিন্ন হয়ে একাকী নামায পড়ে। তাকে বলা হল, হে অমুক তুমি কি মুনাফিক হয়ে গেছ? জবাবে সে বলল, আমি মুনাফিক নই।
অতঃপর সেই ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মুআয (রাঃ) আপনার সাথে নামায পড়ার পর প্রত্যাবর্তন করে আমাদের নামাযের ইমামতি করেন। আমরা মেহনতী কৃষিজীবি লোক এবং নিজেরাই ক্ষেতের কাজকর্ম করে থাকি। অপরপক্ষে মুআয (রাঃ) আমাদের নামাযে ইমামতি করার সময় সূরা বাক্কারার ন্যায় দীর্ঘ সূরা পাঠ করে থাকেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয (রাঃ)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ হে মুআয তুমি কি লোকদেরকে ফিতনার মধ্যে নিক্ষেপ করতে চাও (দুইবার)? তিনি আরো বলেনঃ তুমি নামাযে অমুক অমুক সূরা পাঠ কর। আবূয-যুবারের বলেন, সূরা আল-আলার ন্যায় ছোট ছোট সূরা পাঠ করবে।
৭৯২. মূসা ইবনু ইসমাঈল ...... হাযম ইবনু উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) এর নিকট আসেন। তখন তিনি মাগরিবের নামাযে ইমামতি করছিলেন। রাবী এ হাদীছে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুআয (রাঃ)-কে ডেকে বলেনঃ হে মুআয! তুমি ফিতনা সৃষ্টিকারী হয়ো না। জেনে রাখ! তোমার পেছনে অক্ষম, বৃদ্ধ, মুসাফির ও কাজে ব্যস্ত লোকেরা নামায পড়ে থাকে।
হাদিস নং ৭৯৩সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِرَجُلٍ " كَيْفَ تَقُولُ فِي الصَّلاَةِ " . قَالَ أَتَشَهَّدُ وَأَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ أَمَا إِنِّي لاَ أُحْسِنُ دَنْدَنَتَكَ وَلاَ دَنْدَنَةَ مُعَاذٍ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " حَوْلَهَا نُدَنْدِنُ " .
বর্ণনাকারী: আবূ সালেহ সাম্মান (রহঃ)
৭৯৩. উছ্মান ইবনু আবূ শায়বা .... আবূ সালেহ্ (রহঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলেনঃ তুমি শেষ বৈঠকে কিরূপ দু’আ পাঠ করে থাক? লোকটি বলেন, আমি তাশাহুদ (আত্তাহিয়াতু লিল্লাহি) পড়ে থাকি, অতঃপর বলি- আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা জান্নাতা ওয়া আউযূবিকা মিনান-নার। কিন্তু আমি আপনার ও মুআয (রাঃ) এর অস্পষ্ট শব্দ বুঝতে সক্ষম হই না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমিও বেহেশত ও দোযখের আশেপাশে ঘুরে থাকি। (ইবনু মাজাহ)।
৭৯৪. ইয়াহ্ইয়া ইবনু হাবীব .... জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মুআয (রাঃ) এর ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক যুবককে বলেনঃ হে ভ্রাতুষ্পত্র! তুমি নামাযের মধ্যে কি পাঠ কর? সে বলে, আমি সূরা ফাতিহা পাঠ করি এবং আল্লাহর নিকট বেহেশতের কামনা করি এবং দোযখ থেকে আশ্রয় প্রার্খনা করি। আমি আপনার ও মুআযের অস্পষ্ট শব্দ বুঝতে পারি না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি এবং মুআযও তার আশেপাশে ঘুরে থাকি, অথবা অনুরূপ কিছু বলেছেন।
হাদিস নং ৭৯৫সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ لِلنَّاسِ فَلْيُخَفِّفْ فَإِنَّ فِيهِمُ الضَّعِيفَ وَالسَّقِيمَ وَالْكَبِيرَ وَإِذَا صَلَّى لِنَفْسِهِ فَلْيُطَوِّلْ مَا شَاءَ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৭৯৫. আল-কানবী .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন নামাযের ইমামতি করবে, সে যেন সংক্ষেপে নামায আদায় করে। কেননা মুক্তাদীদের মধ্যে দুর্বল, রোগগ্রস্ত ও বৃদ্ধ লোকেরা-ও থাকে। আর যখন কেউ একাকী নামায পড়ে তখন সে স্বীয় ইচ্ছানুযায়ী নামায দীর্ঘায়িত করতে পারে। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
৭৯৬. আল-হাসান ইবনু আলী .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন নামাযে ইমামতি করে, তখন সে যেন নামায সংক্ষেপ করে। কেননা জামাআতে দূর্বল, রোগগ্রস্ত ও কর্মজীবি লোকেরাও শরীক হয়ে থাকে।
৭৯৮. মুসাদ্দাদ ও ইবনুল-মুছান্না .... আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নামাযের ইমামতি করতেন। অতঃপর তিনি যুহর ও আসরের নামায আদায়কালে তার প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহা এবং অপর দুটি সূরা পাঠ করতেন। তিনি কখনও কখনও আমাদের শুনিয়ে আয়াত পাঠ করতেন। তিনি যুহয়ের নামাযের প্রথম রাকাত একটু দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকাত সংক্ষেপ করতেন। তিনি ফজরের নামাযও অনুরূপভাবে আদায় করতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, রাবী মুসাদ্দাদ তার বর্ণনায় সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পাঠের কথা উল্লেখ করেননি।
৭৯৯. আল-হাসান ইবনু আলী ..... আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদা তাঁর পিতার সূত্রে পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। সেখানে তিনি আরও বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের শেষ দুই রাকাতে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন। রাবী হাম্মামের বর্ণনায় আরও আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় রাকাতের চাইতে প্রথম রাকাত একটু দীর্ঘ করতেন। তিনি ফজর ও আসরের নামাযেও অনুরূপ করতেন।
৮০০. আল-হাসান ইবনু আলী .... আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সম্ভবতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাআতে অধিক লোকের শরীক হওয়ার সুযোগ প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রথম রাকাত দীর্ঘ করতেন।
৮০১. মুসাদ্দাদ ..... আবূ মামার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করি যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহর ও আসরের নামাযে কিরাআত পাঠ করতেন কি? তিনি বলেন, হ্যাঁ, পাঠ করতেন। আমরা তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করি, আপনারা কিরূপে তা অবগত হতেন? তিনি বলেন, আমরা তাঁর দাড়ি মোবারক আন্দোলিত হতে দেখতাম। (বুখারী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৮০৩. হাফস ইবনু উমার ..... জাবের ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার (রাঃ) সা’দ (রাঃ)-কে বলেন, জনসাধারণ আপনার বিরুদ্ধে প্রতিটি ব্যাপারে অতিযোগ করেছে, এমনকি আপনার নামায সম্পর্কেও। সা’দ (রাঃ) বলেন, আমি নামাযের প্রথম রাকাতে কিরাআত দীর্ঘ এবং শেষ দুই রাকাতে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করে থকি। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছনে যেরূপ নামায পড়েছি, তার কোন ব্যতিক্রম করিনি। উমার (রাঃ) বলেন। আমিও আপনার সম্পর্কে এরূপ ধারণা পোষণ করে থাকি। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
৮০৪. আবদুল্লাহ্ ইবনু মুহাম্মাদ ..... আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহর ও আসরের নামাযে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন, আমরা তা নির্ণয় করেছি। আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহগ করি যে, তিনি যুহরের নামাযের প্রথম দুই রাকাতে ৩০ আয়াত পাঠ করার পরিমাণ সময় দাঁড়াতেন- যেমন সূরা “আলিফ-লাম মীম আস্-সিজদা” ইত্যাদি এবং শেষ দুই রাকাতে তিনি প্রথম দুই রাকাতের চাইতে অর্ধেক পরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন। তিনি যুহরের শেষ দুই রাকাতে যতক্ষণ দাঁড়াতেন- আসরের প্রথম দুই রাকাতেও ততক্ষণ দন্ডায়মান থাকতেন। তিনি আসরের শেষ দুই রাকাতে তার প্রথম দুই রাকাতের অর্ধেক পরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন। (মুসলিম, নাসাঈ)।
১৩৭. যুহর ও আসর নামাযের কিরাআতের পরিমাণ।
হাদিস নং ৮০৫হাসান
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ بِالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْبُرُوجِ وَنَحْوِهِمَا مِنَ السُّوَرِ .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)
৮০৫. মূসা ইবনু ইসমাঈল .... জাবের ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহর ও আসরের নামাযে সূরা “ওয়াস-সামায়ে ওয়াত-তারিক” এবং “ওয়াস-সামায়ে যাতিল-বুরূজ”-এর অনুরূপ সূরা পাঠ করতেন। (নাসাঈ, তিরমিযী)।
৮০৬. উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয .... জাবের ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে পড়ত, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের নামায পড়তেন এবং নামাযে সূরা “ওয়াল-লায়লি ইযা ইয়াগশা”-এর অনুরূপ সূরা পাঠ করতেন। তিনি আসর ও অন্যন্য নামাযে একইরূপ (দৈর্ঘ্যের সূরা) পাঠ করতেন। তবে ফজরের নামাযে তিনি লম্বা সূরা পাঠ করতেন- (মুসলিম, নাসাঈ)।
৮০৭. মুহাম্মাদ ইবনু ঈসা .... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের নামাযে তিলাওয়াতের সিজদা পাঠ করে দন্ডায়মান হন, অতঃপর তিনি রুকূ করেন। আমরা তাকে সূরা “তানযীল আস-সিজদা” পাঠ করতে দেখেছি। ইবনু ঈসা, বলেন, এই হাদীছ কেউই উমাইয়্যা হতে বর্ণনা করেননি, বরং মু’তামির হতে বর্ণিত হয়েছে।
৮০৮. মুসাদ্দাদ .... আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি হাশিম গোত্রীয় কয়েকজন যুবকের সাথে ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট যাই। তখন আমি আমাদের মধ্য হতে জনৈক যুবককে বলি যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করুন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরে ও আসরের নামাযে কিরাআত পাঠ করতেন কি? ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, না। তাকে কেউ বললেন যে, যথা সম্ভব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আস্তে আস্তে কিরাআত পাঠ করতেন। তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, আস্তে কিরাআত পাঠ করার চেয়ে কিরাআত পাঠ না করাই উত্তম। তিনি আল্লাহর পক্ষ হতে নির্দেশিত ব্যক্তি ছিলেন, তাঁর নিকট অবতীর্ণ বিষয়বস্তু অকপটে তিনি প্রচার করেছেন। তিনটি বিষয়ে আমরা অন্যদের চেয়ে সম্পূর্ণ পৃথক। প্রথমতঃ আমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়তঃ সদকার মাল গ্রহণ ও ভক্ষণ আমাদের জন্য হারাম। তৃতীয়তঃ জন্তুর সংখ্যা উদ্দেশ্যে গাধাকে ঘোড়ার সাথে সংগম করালে আমাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। (নাসাঈ, তিরমিযী, আহমাদ)।
হাদিস নং ৮০৯সহিহ
حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لاَ أَدْرِي أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ أَمْ لاَ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৮০৯. যিয়াদ ইবনু আইউব .... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহর ও আসরের নামাযে কিরাআত পাঠ করতেন কিনা তা আমি জানি না। (আহমদ)।
৮১০. আল-কানবী .... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উম্মুল ফাদল বিনতুল হারিছ (রাঃ) তাকে (ইবনু আব্বাসকে) وَالْمُرْسَلاَتِ عُرْفًا শীর্ষক সূরা তিলাওয়াত করতে শুনে বলেন, হে বৎস! এই সূরা তিলাওয়াত করে আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছ যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বশেষ মাগরিবের নামাযে এই সূরা তিলাওয়াত করতে শুনেছি। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
হাদিস নং ৮১১সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ بِالطُّورِ فِي الْمَغْرِبِ .
বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনু মুত‘ইম (রাঃ)
৮১১. আল-কানবী .... জুবায়র ইবনু মুতইম (রাঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মাগরিবের নামযে সূরা তুর তিলাওয়াত করতে শুনেছি। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজা)।
৮১২. আল-হাসান ইবনু আলী .... মারওয়ান ইবনুল-হাকাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়েদ ইবনু ছাবিত (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞাসা করেন তুমি মাগরিবের নামাযে “কিসারে মুফাসসাল” পাঠ কর কেন? অথচ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মাগরিবের নামাযে দুইটি দীর্ঘ সূরা পড়তে শুনেছি। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, এই দীর্ঘ সূরা দুইটি কি কি? তিনি বলেন, সূরা আ’রাফ ও সূরা আন’আম। অতঃপর আমি (ইবনু জুরাইজ) এ ব্যাপারে ইবনু আবূ মুলায়কাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি নিজের পক্ষ থেকে বলেন, দীর্ঘ সূরা দুইটি হলঃ সূরা আল-মায়েদাহ্ ও সূরা আল-আ’রাফ। (বুখারী, নাসাঈ)।
১৩৯. মাগরিবের নামাযে কিরাআত সংক্ষিপ্ত করা সম্পর্কে।
৮১৩. মূসা ইবনু ইসমাঈল ..... হিশাম ইবনু উরওয়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা মাগরিবের নামাযে তোমাদের মত সূরা আল-আদিয়াত এবং এর সম পরিমাণের দীর্ঘ সূরা পাঠ করতেন।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদীছ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, মাগরিবের নামাযে দীর্ঘ সূরা পাঠ রহিত (মানসূখ) হয়েছে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) আরও বলেন, এই অভিমতই বিশুদ্ধ বা সহীহ।
৮১৪. আহমদ ইবনু সাঈদ আস-সারখাসী ..... আমর ইবনু শুআয়ব থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ফরয নামাযের ইমামতির সময়- মুফাসসালের ছোট-বড় সব সূরাই পাঠ করতে শুনেছি (সূরা হুজুরাত হতে কুরআনের সর্বশেষ সূরা পর্যন্ত- সূরা গুলিকে মুফাসসাল বলা হয়)।
৮১৫. উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয ..... আবূ উছমান আন-নাহদী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর পিছনে মাগরিবের নামায আদায় করেন। তিনি সূরা ইখলাস পাঠ করেন।
১৪০. যে ব্যাক্তি একই সুরা উভয় রাকাতে পাঠ করে।
হাদিস নং ৮১৬হাসান
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنِ ابْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْجُهَنِيِّ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ جُهَيْنَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الصُّبْحِ ( إِذَا زُلْزِلَتِ الأَرْضُ ) فِي الرَّكْعَتَيْنِ كِلْتَيْهِمَا فَلاَ أَدْرِي أَنَسِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمْ قَرَأَ ذَلِكَ عَمْدًا .
বর্ণনাকারী: মুআয ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ)
৮১৬. আহমদ ইবনু সালেহ ..... মুআয ইবনু আবব্দুল্লাহ আল-জুহানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুহায়না গোত্রের এক ব্যক্তি তাকে জানান যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ফজরের নামাযের উভয় রাকাতে সূরা (إِذَا زُلْزِلَتِ الأَرْضُ) পড়তে শুনেছেন। তিনি আরো বলেন, আমি জানি না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভুল বশত এরূপ করেছিলেন না ইচ্ছাকৃতভাবে তা পড়েছিলেন।
৮১৮. আবূল ওয়ালীদ ..... আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আমরা যেন নামাযের মধ্যে সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে আল-কুরআনের সহজপাঠ্য কোন আয়াত পাঠ করি।
৮১৯. ইবরাহীম ইবনু মূসা .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দেনঃ তুমি মদীনার রাস্তায় বের হয়ে ঘোষণা দাও যে, কুরআন পাঠ ব্যতীত নামাযই শুদ্ধ হয় না; অন্তত সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে সংক্ষিপ্ত কোন সূরা বা আায়াত অবশ্যই মিলাতে হবে।
হাদিস নং ৮২০সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أُنَادِيَ أَنَّهُ لاَ صَلاَةَ إِلاَّ بِقِرَاءَةِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَمَا زَادَ .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৮২০. ইবনু বাশশার .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন ঘোষণা করে দেই যে, সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে আল-কুরআনের কিছু অংশ (সূরা বা আয়াত) না মিলালে কিছুতেই নামায বিশুদ্ধ হবেনা।
৮২১. আল-কানবী ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না তার নামায ক্রটিপূর্ণ, তার নামায ক্রটিপুর্ণ, তার নামায ক্রটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ। রাবী বলেন, পরবর্তীকালে আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি যে, আমি যখন ইমামের পিছনে থাকি, তখন সূরা ফাতিহা পাঠ করব কি? তিনি আমার বাহু চাপ দিয়ে বলেন, হে ফারসী! তখন তুমি তোমার মনে মনে তা পাঠ করবে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি মহান আল্লাহ বলেন, আমি নামাযকে (অর্থাৎ সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে বিভক্ত করেছি। এর অর্ধেক আমার জন্য এবং বাকী অর্ধেক আমার বান্দার জন্য এবং আমার বান্দা আমার নিকট যা কামনা করে, তাই তাকে দেয়া হয়।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলইহে ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমরা সূরা ফাতিহা পাঠ কর। আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, যখন আমার বান্দা বলেঃ আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। অতঃপর বান্দা যখন বলেঃ আর-রাহমানির রাহীম, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে। বান্দা যখন বলেঃ মালিকি ইয়াওমিদ্দীন, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার সম্মান প্রদর্শন করেছে। অতঃপর যখন বান্দা বলেঃ ইয়াকা’নাবুদু ওয়া ইয়াকা’নাস্তাইন, তখন আল্লাহ্ বলেন, এটা আমার ও আমার বান্দার মধ্যে সীমিত এবং আমার বান্দা যা প্রার্থনা করল, তাই তাকে দেয়া হয়। অতঃপর বান্দা যখনই “ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকীম, সীরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন” বলে তখন আল্লাহ্ বলেন, এ সমস্তই আমার বান্দার জন্য এবং আমার বান্দা যা কিছু প্রার্থনা করেছে- তাও প্রাপ্ত হবে-(মুসলিম, তিরমিযী, ইবনু মাজা, নাসাঈ)।
৮২২. কুতায়বা ইবনু সাঈদ ..... উবাদা ইবনুুস-সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। এই হাদীছের সনদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌছেছে। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে অতিরিক্ত কিছু পাঠ না করবে, তার নামায পূর্ণাংগ হবে না। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
রাবী বলেন, এই নির্দেশ কেবলমাত্র একাকী নামায পাঠকারীর বেলায় প্রযোজ্য।
হাদিস নং ৮২৩যঈফ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ كُنَّا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ فَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَثَقُلَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ " لَعَلَّكُمْ تَقْرَءُونَ خَلْفَ إِمَامِكُمْ " . قُلْنَا نَعَمْ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " لاَ تَفْعَلُوا إِلاَّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا " .
বর্ণনাকারী: উবাদা ইব্নুস সামিত (রাঃ)
৮২৩. আবদুল্লাহ্ ইবনু মুহাম্মাদ .... উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ফজরের নামাযের জামাআতে শরীক ছিলাম। নামাযে কুরআন পাঠের সময় তার পাঠ তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। নামায শেষে তিনি বলেন, সম্ভবতঃ তোমরা ইমামের পিছনে কিরাআত পাঠ করেছ। আমরা বলি, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন তিনি বলেন, তোমরা সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কিছু পাঠ করবে না। কেননা যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়বে না, তার নামায হবে না।
৮২৪. আর-রবী ইবনু সুলায়মান ..... নাফে ইবনু মাহমূদ হতে বর্ণিত। নাফে বলেন, একদা উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) বিলম্বে ফজরের নামাযের জামাআতে উপস্থিত হন। এমতাবস্থায় মুয়াযযিন আবূ নুআয়েম (রহঃ) তাকবীর বলে লোকদের নামায আরম্ভ করেন। তখন আমি এবং উবাদা ইবনুুস সামিত (রাঃ) উপস্থিত হয়ে আবূ নুআয়েমের পিছনে ইকতিদা করি। এই সময় আবূ নুআয়েম উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করছিলেন এবং উবাদা (রাঃ) সূরা ফাতিহা পাঠ করেন। নামাযান্তে আমি উবাদা (রাঃ)-কে বলিঃ ইমাম আবূ নুআয়েম যখন উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করছিলেন, তখন আমি আপনাকেও সূরা ফাতিহা পড়তে শুনি, এর হেতু কি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আমি পাঠ করেছি।
একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন এক ওয়াক্তের নামাযে আমাদের ইমামতি করেন, যার মধ্যে উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করতে হয়। রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিরাআত পাঠের সময় আটকে যান। অতঃপর নামাযান্তে সমবেত মুসল্লীদের লক্ষ্য করে বলেনঃ আমি যখন উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করছিলাম। তখন তোমরাও কি কিরাআত পাঠ করেছ? জবাবে আমাদের কেউ বলেন, হ্যাঁ আমরাও কিরাআত পাঠ করেছি। তখন তিনি বলেন, এইরূপ আর কখনও করবে না। তিনি আরো বলেন, কিরাআত পাঠের সময় যখন আমি আটকে যাই তখন আমি এইরূপ চিন্তা করি যে, আমার কুরআন পাঠে কিসে বা কে বাধার সৃষ্টি করছে? অতএব আমি নামাযের মধ্যে উচ্চস্বরে যখন কিরআত পাঠ করি, তখন তোমরা সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কিছু পাঠ করবে না। (নাসাঈ)।
৮২৫. আলী ইবনু সাহল আর-রামলী ... ইবনু জাবের, সাঈদ ইবনু আব্দুল আযীয এবং আবদুল্লাহ্ ইবনুল আলা হতে বর্ণিত। তারা মাকহূল হতে, তিনি উবাদা (রাঃ) হতে আর-রবী ইবনু সুলায়মানের হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, মাকহূল মাগরিব, এশা ও ফজরের নামাযে (ইমামের পিছনে নীরবে প্রত্যেক রাকাতেই সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন। মাকহূল (রহঃ) বলেনঃ ইমাম যে নামাযের মধ্যে উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করেন এবং থামেন তখন নিঃশব্দে সূরা ফাতিহা পাঠ কর। অপরপক্ষে ইমাম যদি কিরাআত পাঠ করেন, এমতাবস্থায় তুমি হয় ইমামের আগে, পরে বা সাথে সূরা ফাতিহা পাঠ কর এবং তা পাঠ করা কখনও ত্যাগ কর না।
১৪৩. যে নামাযের মধ্যে চুপে চুপে কিরা'আত তাতে সুরা ফাতিহা পাঠ সম্পর্কে।
হাদিস নং ৮২৬সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ أُكَيْمَةَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْصَرَفَ مِنْ صَلاَةٍ جَهَرَ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ " هَلْ قَرَأَ مَعِي أَحَدٌ مِنْكُمْ آنِفًا " . فَقَالَ رَجُلٌ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِنِّي أَقُولُ مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ " . قَالَ فَانْتَهَى النَّاسُ عَنِ الْقِرَاءَةِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا جَهَرَ فِيهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْقِرَاءَةِ مِنَ الصَّلَوَاتِ حِينَ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى حَدِيثَ ابْنِ أُكَيْمَةَ هَذَا مَعْمَرٌ وَيُونُسُ وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَلَى مَعْنَى مَالِكٍ .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৮২৬. আল-কানবী ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠের মাধ্যমে নামায আদায়ের পর জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমাদের কেউ এখন আমার সাথে (নামাযের মধ্যে) কিরাআত পাঠ করেছে কি? জবাবে এক ব্যক্তি বলেন হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এজন্যই আমার কুরআন পাঠের সময় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এরূপ শোনার পর সাহাবায়ে কিরাম উচ্চস্বরে কিরাআত পঠিত নামাযে তাঁর পিছনে কিরাআত পাঠ করা হতে বিরত থাকেন (তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনু মাজা)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেনঃ ইবনু উকায়মা এই হাদীছটি মা’মার ইউনুস, উমামা ইবনু যায়েদ (রহঃ) ইমাম যুহরী হতে রাবী মালিকের হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৮২৭. মূসা’দ্দাদ ..... সাঈদ ইবনুল মূসাইয়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিয়ে নামায আদায় করেন। সম্ভবতঃ তা ফজরের নামায হবে। অতঃপর হাদীছটি পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং ’কুরআন পাঠে কিসে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে’ এই পর্যন্ত বর্ণনা করেন।
আবূ দাউদ বলেন, মুসাদ্দাদ তাঁর বর্ণিত হাদীছে এরূপ উল্লেখ করেছেন যে, মামার হতে আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণনা প্রসংগে বলেনঃ অতঃপর লোকেরা কিরআত পাঠ হতে বিরত থাকেন।
আবদুল্লাহ্ ইবনু মুহাম্মাদ আয-যুহরীর বর্ণনায়عَنِ بَيْنِهِمْ শব্দের উল্লেখ আছে। রাবী সুফিয়ান বলেন যে, ইমাম এমন কিছু কথা বলেছেন যা আমি শুনতে পাইনি। তখন মা’মার বলেন, তিনি বলেছেন, লোকেরা (মুকতাদীরা) কিরাআত পাঠ করা হতে বিরত থাকেন।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন যে, উক্ত হাদীছ আব্দুর রহমান ইবনু ইস্হাক ইমাম যুহরীর সূত্রেمَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আওয়াঈ যুহূরীর সূত্রে বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ ইমাম যুহরীর বর্ণানায় এ কথাও আছে যে, উপরোক্ত ঘটনার পর মুসলিমরা উপদেশ লাভ করেছেন যে, যে নামাযে কিরাআত উচ্চ স্বরে পঠিত হত সেরূপ নামাযে তারা কখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পশ্চাতে কিরাআত পাঠ করতেন না।
ইমাম আবূ দাউদ বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু ফারেসকে বলতে শুনেছি যে,فَانْتَهَى النَّاسُ (অতঃপর লোকেরা ইমামের পশ্চাতে কিরআত পাঠ হতে বিরত থাকেন) কথাটুকু ইমাম যুহরীর)।
১৪৪. যে নামাযে কিরা'আত উচ্চস্বরে পঠিত হয় না, তাতে মুক্তাদিদের কিরা'আত পাঠ সম্পর্কে।
৮২৮. আবূল ওয়ালীদ ও মুহাম্মাদ ইবনু কাছীর .... ইমরান ইবনু হুসাইয়েন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের নামায পড়াচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি এসে তাঁর পিছনে ইকতিদা করে সূরা “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা” পাঠ করে। নামায শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি সূরা পাঠ করেছে? জবাবে তারা বলেন, এক ব্যক্তি। তখন তিনি বলেন, আমি বুঝতে পেরেছি তোমাদের মধ্যে কোন লোক নামাযের মধ্যে আমাকে অহেতুক জটিলতা ও দুশ্চিন্তায় ফেলে।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আবূল ওয়ালীদ তাঁর বর্ণিত হাদীছে শোবার সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, অতঃপর আমি (শোবা) কাতাদাকে বলি, সাঈদ বলেননি যে, “কুরআন পাঠকালে নীরব থাক?” তিনি বলেনঃ যে নামাযে কিরাআত উচ্চস্বরে পঠিত হয়, তার জন্যই এই হুকুম। ইমাম ইবনু কাছীর তাঁর হাদীছে বলেনঃ অতঃপর আমি কাতাদাকে বলি, সম্ভবত কিরাআত পাঠ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন অপছন্দ করেছেন। তখন তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি অপছন্দ করতেন তবে কিরাআত পাঠ করতে নিষেধ করতেন।
৮২৯. ইবনুল মুছান্না ..... ইমরান ইবনু হুসায়েন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে জামাআতে নামায আদায়ের পর বলেন, তোমাদের কে সূরা “সাব্বিহিসমা রাব্বিকা আলা” পাঠ করেছে? জবাবে এক ব্যক্তি বলেন, আমি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি বুঝতে পেরেছি যে, তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে আমাকে কুরআন পাঠে জটিলতায় ফেলেছে। (মুসলিম, নাসাঈ)।
৮৩০. ওয়াহব ইবনু বাকিয়্যা ..... জাবের ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা যখন আমরা কিরাআত পাঠে মগ্ন ছিলাম, তখন হঠাৎ সেখানে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেন এবং এ সময় আমাদের মধ্যে আরব বেদুইন ও অনারব লোকেরা ছিল। তিনি বলেনঃ তোমরা পাঠ কর, সকলেই উত্তম। কেননা অদুর ভবিষ্যতে এমন সম্প্রদায় নির্গত হবে, যারা কুরআনকে তীরের মত ঠিক করবে (অর্থাৎ তাজবীদ নিয়ে অত্যন্ত বাড়াবাড়ি করবে), তা দ্রুত গতিতে পাঠ করবে, ধীরস্থিরভাবে পড়বে না।
৮৩১. আহমদ ইবনু সালেহ্ ..... সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন আমরা কিরাআত পাঠ করাকালীন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপস্থিত হয়ে বলেনঃ আলহামুদুলিল্লাহ! আল্লাহর কিতাব একই এবং তোমাদের কেউ লাল, কেউ সাদা এবং কেউ কাল রঙের। তোমরা ঐ সম্প্রদায়ের আবির্ভাবের পূর্বে কিরাআত পাঠ কর যারা কুরআনকে তীরের ন্যায় দৃঢ় করবে। তারা কুরআন পাঠের (বিনিময় দুনিয়াতে পেতে) তাড়াহুড়া করবে এবং (আখিরাতের) অপেক্ষা করবে না।
৮৩২. উছমান ইবনু আবূ শায়বা ..... আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলেন, আমি কুরআন মুখস্থ করে রাখতে পারি না। অতএব আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যা ক্কুরআন এর পরিবর্তে যথেষ্ট হবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি বলবেঃ সুবহানাল্লাহ্, আলহামদু লিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। তখন ঐ ব্যক্তি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা তো আল্লাহর জন্য- আমার জন্য কি? জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি বল, আল্লাহুম্মা ইরহামনী, ওয়ারযুকনী, ওয়া আফিনী ওয়াহদিনী। অতঃপর রাবী বলেনঃ ঐ ব্যক্তি ঐগুলি হাতের অংগুলিতে গণনা করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এই ব্যক্তি উত্তম বস্তু দ্বারা তার হাত পরিপূর্ণ করেছে। (নাসাঈ)।
৮৩৩. আবূ তাওবা ...... জাবের ইবনু আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নফল নামায আদায় করার সময় দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায় দু’আ পাঠ করতাম এবং রুকু ও সিজদার সময় তাসবীহ পাঠ করতাম।
৮৩৪. মূসা ইবনু ইসমাঈল ..... হাম্মাদ-হুমায়েদ হতে পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে সেখানে নফল নামাযের কথা উল্লেখ নাই। তিনি (হুমায়েদ) বলেনঃ হাসান যুহর ও আসরের নামাযে- ইমাম অথবা মুক্তাদী- উভয় অবস্থাতেই সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন এবং তিনি উক্ত নামাযের মধ্যে তাসবীহ, তাহলীল ও তাকবীর পাঠ করতেন সূরা কাফ ও যারিয়াত পাঠের অনুরূপ সময় পর্যন্ত।
৮৩৫. সুলায়মান ইবনু হারব ..... মুতাররিফ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি ও ইমরান ইবনু হুসায়েন (রাঃ) আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) এর পশ্চাতে নামায আদায় করি তিনি সিজদা ও রুকুতে গমনকালে তাকবীর বলতেন এবং তিনি দুই রাকাত নামায সম্পন্ন করে উঠার সময় তাকবীর বলতেন। নামাযান্তে ফিরে আসার সময় ইমরান (রাঃ) আমার হাত ধরে বলেনঃ ইতিপূর্বে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে যেরূপে নামায আদায় করেছেন, তিনিও সে নিয়মে নামায পড়লেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
৮৩৬. আমর ইবনু উছমান ..... আবূ বকর ইবনু আব্দুর রহমান এবং আবূ সালামা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তারা বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) ফরয ও অন্যান্য নামায আদায়ের সময় দাঁড়ানো ও রুকূ করাকালে তাকবীর বলতেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলার পর “রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ” বলতেন সিজদায় যাওয়ার পূর্বে। অতঃপর সিজদায় যেতে “আল্লাহু আকবার” বলতেন। সিজদা হতে মাথা উত্তোলন এবং পুনরায় সিজদায় গমনকালে তিনি তাকবীর বলতেন, অতঃপর সিজদা হতে মাথা উঠাবার সময় তাকবীর বলতেন। দ্বিতীয় রাকাতের বৈঠক হতে দন্ডায়মান হবার সময়ও তিনি “আল্লাহু আকবার” বলতেন। প্রত্যেক রাকাতেই “আল্লাহু আকবার” বলতেন। নামাযান্তে তিনি বলতেনঃ আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার জীবন! তোমাদের তুলনায় আমার নামায রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামাযের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত এরূপে নামায আদায় করেন। (বুখারী, নাসাঈ, মুসলিম)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইমাম মালেক আলী ইবনু হুসাইনের সূত্রে এটাকে সর্বশেষ বাক্য বলেছেন। আব্দুল আলা যুহরীর সূত্রে এ ব্যাপারে একমত প্রকাশ করেছেন।
৮৩৭. মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্শার .... আব্দুর রহমান ইবনু আবযা থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামায আদায় করেন। তিনি তাকবীর পূর্ণভাবে বলেননি। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেনঃ এর অর্থ এই যে, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকু হতে মাথা উঠিয়ে যখন সিজদায় যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখন পূর্ণরূপে তাকবীর উচ্চারণ করতেন না। তিনি সিজদা হতে দাঁড়াবার সময়ও পূর্ণররূপে তাকবীর উচ্চারণ করতেন না।
১৪৭. সিজদার সময় হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখার বর্ণনা।
৮৩৮. আল-হাসান ইবনু আলী ..... ওয়ায়েল ইবনু হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নামায পড়াকালে সিজদায় যাওয়ার সময় (মাটিতে) হাতের পূর্বে হাঁটু রাখতে দেখেছি। তিনি সিজদা হতে দাঁড়াবার সময় হাঁটুর পূর্বে হাত উঠাতেন। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৮৩৯. মুহাম্মাদ ইবনু মামার ..... আব্দুল জব্বার ইবনু ওয়ায়েল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায সম্পর্কে হাদীছ বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় যেতে তার হস্তদ্বয় মাটিতে রাখার পূর্বে হাটুদ্বয় মাটিতে স্থিরভাবে রাখতেন। রাবী হাম্মাম (রহঃ) শাকীকের সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আসিম ইবনু কুলায়েব তার পিতার সূত্রে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ হাদীছ বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত রাবীদ্বয়ের মধ্যে আমার জানামতে সম্ভবতঃ মুহাম্মাদ ইবনু জুহাদার বর্ণিত হাদীছে আছে যে, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সিজদার পর দাঁড়াতেন তখন তিনি হাঁটু ও রানের উপর ভর করে দাঁড়াতেন।
৮৪০. সাঈদ ইবনু মানসূর ...... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা সিজদা করার সময় উটের ন্যায় বসবে না এবং সিজদায় যেতে মাটিতে হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখবে।
৮৪১. কুতায়বা ইবনু সাঈদ ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কিছু লোক নামাযের মধ্যে উটের বসার ন্যায় বসে। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
৮৪২. মুসাদ্দাদ ..... আবূ কিলাবা হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আবূ সুলায়মান মালিক ইবনুল হুআয়রিছ (রাঃ) আমাদের মসজিদে এসে বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি নামায আদায়ের মাধ্যমে তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে পদ্ধতিতে নামায আদায় করতেন তা প্রদর্শন করতে চাই। রাবী বলেনঃ অতঃপর আমি আবূ কিলাবাকে বলি, তিনি কিভাবে নামায আদায় করতেন? জবাবে তিনি বলেনঃ আমাদের শায়েখ আমর ইবনু সালমা (রহঃ) এর নামাযের ন্যায়, যিনি তাদের ইমাম ছিলেন। বর্ণনা প্রসঙ্গে রাবী আরো বলেছেনঃ তিনি যখন প্রথম রাকাতের শেষ সিজদা হতে মাথা উঠাতেন তখন একটু বসে অতঃপর দন্ডায়মান হতেন। (বুখারী, নাসাঈ)।
৮৪৩. যিয়াদ ইবনু আইউব .... আবূ কিলাবা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ সুলায়মান মালিক ইবনুল-হুআয়রিছ (রাঃ) একদা আমাদের মসজিদে আগমন করে বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদেরকে নামায আদায়ের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যেভাবে নামায আদায় করতে দেখেছি তা প্রদর্শন করতে চাই। রাবী বলেনঃ অতঃপর তিনি প্রথম রাকাতের দ্বিতীয় সিজদা হতে মাথা উত্তোলন করে একটু বসেন।
হাদিস নং ৮৪৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ فِي وِتْرٍ مِنْ صَلاَتِهِ لَمْ يَنْهَضْ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَاعِدًا .
বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাঃ)
৮৪৪. মুসাদ্দাদ ..... মালিক ইবনুল হুআয়রিছ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে “বেতের নামাযের” মধ্যে দ্বিতীয় সিজদা আদায়ের পর একটু বসে অতঃপর দাঁড়াতে দেখেছেন। (বুখারী, নাসাঈ, তিরমিযী)।
৮৪৫. ইয়াহ্ইয়া ইবনু মুঈন ..... ইবনু জুরায়েজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ জুবায়ের-তাউস হতে শ্রবণ করে আমাকে বলেছেনঃ আমরা ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে ইকআ (গোড়ালির উপর পাছা রেখে বসা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি বলেনঃ তা সুন্নাত। অতঃপর আমরা বলি যে, এটাকে আমরা তো পায়ের উপর জুলুম মনে করি। জবাবে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ এটা তোমার নবীর সুন্নাত। (মুসলিম, আহমদ, তিরমিযী)।
৮৪৬. মুহাম্মাদ ইবনু ঈসা ..... আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকূ হতে সোজা হওয়ার পর “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ, মিলউস-সামাওয়াতে ওয়া মিলউল-আরদে ওয়া মিলউ মা শি’তা মিন শায়ইন বা’দু বলতেন। (মুসলিম, আহমদ, তিরমিযী)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেনঃ সুফিয়ান ও শোবা, উবায়েদ আবূল হাসান হতে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তাতে “রুকূর পরে” শব্দটির উল্লেখ নাই। ইমাম সুফিয়ান ছাওরী বলেনঃ আমরা শায়খ উবায়েদ আবূল হাসানের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি তাতে “রুকূর পরে” শব্দটির উল্লেখ করেন নাই।
ইমাম আবূ দাউদ বলেনঃ শোবা (রহঃ) আবূ ইসমা হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি উবায়েদ হতে এই হাদীছ বর্ণনাকালে “রুকূর পরে” শব্দটি উল্লেখ করেছেন।
৮৪৭. মুআম্মাল ইবনুল ফাদল আল-হাররানী ..... আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলতেন, তখন এর সাথে “আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল-হামদ মিলউস-সামায়ে” (রাবী মুআম্মালের বর্ণনানুযায়ী) “মিলউস-সামাওয়াতে ওয়া মিলউল আরদে ওয়া মিলউ মা শি’তা মিন শায়ইন বা’দু, আহলুছ-ছানায়ে ওয়াল-মাজদে আহাক্কু মা-কালাল আবদু, ওয়া কুল্লুনা লাকা আবদুন লা মানিআ লিমা আতাইতা” বলতেন।
রাবী মাহমুদ এর সাথে আরো অতিরিক্ত “ওয়ালা মুতিয়া লিমা মানাতা” শব্দটি বলেছেন। অতঃপর সকল রাবী এ ব্যাপারে একমত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ “ওয়ালা ইয়ানফাউ যাল-জাদ্দে মিনকাল জাদ্দু”।
রাবী বিশর বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধুমাত্র “রাব্বানা লাকাল হামদ” বলতেন। রাবী মাহমুদের বর্ণনানুযায়ী “আল্লাহুম্মা” শব্দটির উল্লেখ নাই, বরং তাঁর বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “রব্বানা লাকাল-হামদ” বলতেন বলে উল্লেখ আছে। (মুসলিম, নাসাঈ)।
৮৪৮. আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসলামা ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন ইমাম “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলবে তখন তোমরা (মুক্তাদিগণ) “আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল-হামদ” বলবে। কেননা যে ব্যক্তির এ উক্তির সাথে ফিরিশতাদের উক্তির সমন্বয় ঘটবে তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী)।
৮৫১. মুহাম্মাদ ইবনুল মুতাওয়াক্কিল .... আসমা বিনতে আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের (মহিলাদের) মধ্যে যারা আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী, তারা যেন পুরষদের মাথা উত্তোলনের পূর্বে নিজেদের মাথা না উঠায়। তা এইজন্য যে, যাতে মহিলারা পুরষদের সতর দেখতে না পায়।
১৫৩. রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো এবং দুই সিজদার মাঝখানে বিরতির পরিমাণ।
হাদিস নং ৮৫২সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ سُجُودُهُ وَرُكُوعُهُ وَقُعُودُهُ وَمَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ قَرِيبًا مِنَ السَّوَاءِ .
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
৮৫২. হাফস ইবনু উমার .... আল-বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু অলাইহে ওয়া সাল্লাম সিজদা, রুকূ ও দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকে প্রায় একই পরিমাণ সময় ব্যয় করতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী)।
হাদিস নং ৮৫৩সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، وَحُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ مَا صَلَّيْتُ خَلْفَ رَجُلٍ أَوْجَزَ صَلاَةً مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي تَمَامٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . قَامَ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَوْهَمَ ثُمَّ يُكَبِّرُ وَيَسْجُدُ وَكَانَ يَقْعُدُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَوْهَمَ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৮৫৩. মূসা ইবনু ইসমাঈল ..... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায যেরূপ সংক্ষেপে কিন্তু পরিপূর্ণভাবে আদায় করতেন, আমি এরূপ নামায আর কারো পেছনে পড়ি নাই। যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলার পর এত দীর্ঘক্ষণ দন্ডায়মান থাতেন যে, আমাদের মনে হত হয়ত তিনি ভুলে গেছেন। অতঃপর তিনি তাকবীর বলে সিজদাহ করতেন এবং দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে এত বিলম্ব করতেন যে, আমরা মনে করতাম তিনি হয়ত দ্বিতীয় সিজদার কথা ভুলে গেছেন।
৮৫৪. মুসাদ্দাদ ও আবূ কামেল .... আল-বারাআ ইবনু আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইচ্ছাকৃতভাবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাযের অবস্থায় দেখি। আমি তার কিয়াম (দন্ডায়মান অবস্থা) তাঁর রুকূ ও সিজদাহ সমতুল্য পেলাম। তাঁর রুকূতে অবস্থান, তার সিজদার সমান এবং দুই সিজদার মাঝখানের বৈঠক অতঃপর সিজদা করা, অতঃপর সালাম ফিরানো পর্যন্ত বৈঠক সবই প্রায় সমান পেয়েছি। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী)।
আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মুসাদ্দাদ বলেছেন, তার রুকূ এবং দুই রাকাতের মাঝখানের ই’তিদাল, তার সিজদাহ ও দুই সিজদার মাঝে বসা, অতঃপর তার দ্বিতীয় সিজদা এবং সালাম ফিরানোর পর লোকদের দিকে মুখ করে বসা-সবকিছুই (সময়ের ব্যবধানে) প্রায় সমান ছিল।
১৫৪. যে ব্যাক্তি রুকু ও সিজদা হতে উঠে পিঠ সোজা করে না।
৮৫৫. হাফস ইবনু উমার ..... আবূ মাসউদ আল-বাদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি রুকূ হতে উঠার পর সোজা হয়ে দাঁড়াবে না এবং দুই জিজদার মধ্যবর্তী বিরতীর সময় সোজা হয়ে বসবে নয়া তার নামায যথেষ্ট হবে না। (নাসাঈ, ইবনু মাজা, তিরমিযী)।
৮৫৬. আল-কানবী ..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন। এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করতঃ নামায আদায়ের পর তাকে গিয়ে সালাম করল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সালামের জবাব দিয়ে বলেন, তুমি পুনরায় গিয়ে নামায আদায় কর, কারণ তোমার নামায হয় নাই। অতঃপর ঐ ব্যক্তি পূর্ববত নামায পড়ে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পুনরায় সালাম প্রদান করল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সালামের জবাব দিয়ে বলেনঃ তুমি পুনরায় গিয়ে নামায আদায় কর, তোমার নামায হয় নাই। এভাবে সে তিনবার নামায পড়ল। তখন ঐ নামাযী ব্যক্তি বললঃ আল্লাহর শপথ! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, এর চাইতে উত্তমরূপে আমি নামায পড়তে জানি না। অতএব নামাযের পদ্ধতি আমাকে শিখিয়ে দিন।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন তুমি নামাযে দন্ডায়মান হবে তখন সর্বপ্রথম তাকবীরে তাহরীমা বল। অতঃপর তোমার সুবিধা অনুযায়ী কুরআনের আয়াত পাঠ কর, অতঃপর শান্তি ও স্থিরতার সাথে রুকূ করবে, অতঃপর রুকূ হতে একদম সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা আদায় করবে এবং (দুই সিজদার মধ্যবর্তী স্থানে) সোজা হয়ে বসবে। তুমি তোমার সমস্ত নামায এরূপে আদায় করবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, তিরমিযী)।
অন্য বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষে উক্ত সাহাবীকে বলেন, যখন তুমি এরূপে নামায আদায় করবে, তখনই তোমার নামায পরিপূর্ণভাবে আদায় হবে। যদি তুমি এর কোন অংশ আদায়ে ক্রটি কর, তবে তোমার নামাযও ক্রটিপূর্ণ হবে। উক্ত বর্ণনায় এরূপও উল্লেখ আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ যখন তুমি নামায আদায়ের ইরাদা করবে, তখন প্রথমে উত্তমরূপে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করবে।
বর্ণনাকারী: আলী ইবনে ইয়াহ্ইয়া ইবনে খাল্লাদ (রহঃ)
৮৫৭. মূসা ইবনু ইসমাঈল ..... আলী ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) থেকে তার চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে। অতঃপর তিনি পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ উযূ (ওজু/অজু/অযু)র অংগসমূহ উত্তমরূপে ধৌত না করলে নামায পূর্ণ হবে না। উযূর পর তাকবীরে তাহরীমা বলে হামদ ও ছানা পাঠ করতঃ কুরআন মজীদ হতে যা সম্ভব পাঠ করবে। অতঃপর “আল্লাহু আকবার” বলে রুকূতে যাবে এমতাবস্থায় যে, তার শরীরের জোড়াসমূহ স্ব-স্ব স্থানে যথারীতি অবস্থান করবে। অতঃপর “সামিআাল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলে স্থিরভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর “আল্লাহু আকবার” বলে এমনভাবে সিজদা করবে যাতে শরীরের জোড়াসমূহ স্ব-স্ব স্থানে যথারীতি অবস্থান করে। পরে “আল্লাহু আকবার” বলে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসবে। এরপর পুনরায় “আল্লাহু আকবার” বলে পূর্ববৎ সিজদা করবে। অতঃপর “আল্লাহু আকবার” বলে সিজদা হতে মস্তক উত্তোলন করবে। যখন কোন ব্যক্তি এভাবে নামায আদায় করবে, তখনই তার নামায পরিপূর্ণ হবে। (তিরমিযী)।
৮৫৮. আল-হাসান ইবনু আলী ..... রিফাআ ইবনু রাফে হতে পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ অর্থে বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেনঃ অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরাশাদ করেনঃ আল্লাহর নির্দেশমত পরিপূর্ণভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) না করলে কারও নামায শুদ্ধ হবে না। সে তার মুখমণ্ডল
এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং মাথা মাসেহ্ করবে এবং উভয় পা গোছাসহ ধৌত করবে। অতঃপর “তাকবীরে তাহরীমা” বলে হামদ পাঠ করতঃ কুরআনের সেই অংশ পাঠ করবে, যা তার জন্য সহজ। অতঃপর রাবী হাম্মাদের হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “আল্লাহু আকবার” বলে সিজদা করবে এবং কপাল এমনভাবে মাটিতে স্থাপন করবে যে, শরীরের জোড়াসমূহ স্ব-স্ব স্থানে যথারীতি অবস্থান করে এবং শরীর নরমভাব ধারণ করে। অতঃপর তাকবীর বলে সোজাভাবে পায়ের উপর ভর করে পাছার উপর বসবে এবং পৃষ্ঠদেশ সোজা রাখবে। অতঃপর তিনি এইভাবে চার রাকাত নামায আদায়ের পদ্ধতি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। উপরোক্ত নিয়মে নামায আদায় না করলে তোমাদের কারো নামায সঠিক হবে না। (নাসাঈ, তিরমিযী)।
৮৫৯. ওয়াহব ইবনু বাকিয়্যা .... রিফাআ ইবনু রাফে হতে উপরোক্ত ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ তুমি যখন নামায আদায়ের ইরাদা করে কিব্লামুখী হয়ে দাঁড়াবে, তখন “তাকবীরে তাহরীমা” বলার পর সূরা ফাতিহা পাঠ করতঃ কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করবে। অতঃপর যখন তুমি রুকূ করবে, তখন তোমার উভয় হাত উভয় হাটুর উপর রাখবে এবং পৃষ্ঠদেশ লম্বা করে দিবে। তিনি আরো বলেনঃ অতঃপর যখন তুমি সিজদা করবে, তা শান্তভাবে করবে এবং সিজদা হতে মাথা উঠাবার পর তুমি তোমার বাম উরুর উপর বসবে।
৮৬০. মুআাম্মাল ইবনু হিশাম .... রিফাআ ইবনু রাফে (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ “তাকবীর তাহরীমা” বলার পর তুমি কুরআনের সহজতম অংশ পাঠ করবে। তিনি বলেনঃ তুমি যখন নামাযের মধ্যে প্রথম বৈঠকে উপবেশন কর, তখন শান্তির সাথে বসবে এবং এ সময় তোমার বাম পা বিছিয়ে দিয়ে অতঃপর তাশাহ্হুদ পাঠ করবে। পরে যখন তুমি দাঁড়াবে, তখন উপরোক্ত নিয়মে নামায শেষ করবে।
৮৬১. আব্বাদ ইবনু মূসা ..... রিফাআ ইবনু রাফে (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীছ বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী উযূ (ওজু/অজু/অযু) কর, অতঃপর কলেমায়ে শাহাদাত পাঠ কর। স্থিরভাবে দন্ডায়মান হয়ে “তাকবীরে তাহরীমা” বলার পর কুরআনের জানা অংশ পাঠ করবে, অন্যথায় আলহামদু লিল্লাহ আল্লাহু আকবার ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু পাঠ করবে। উক্ত বর্ণনায় আরো আছে, তিনি বলেনঃ যদি এ থেকে তুমি কিছু বাদ দাও, তবে তোমার নামায ক্রটিপূর্ণ করলে।
৮৬২. আবূল-ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী ..... আব্দুর রহমান ইবনু শিবল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাকের ঠোকরের ন্যায় (অর্থাৎ তাড়াতাড়ি) সিজদা করতে এবং চতুষ্পদ জন্তুর মত বাহু বিছাতে এবং মসজিদের মধ্যে উটের মত নির্দিষ্ট স্থান বেছে নিতে নিষেধ করেছেন। হাদীছের মতন (মূল পাঠ্য) রাবী কুতায়বার বর্ণিত। (নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।
৮৬৩. যুহায়ের ইবনু হারব্ .... সালেম আল্-বাররাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা উকবা ইবনু আমের আল-আনসারী (রাঃ) এর কাছে গিয়ে তাকে বলি যে, আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামায সম্পর্কে অবহিত করুন। তখন তিনি আমাদের সম্মুখে মসজিদে দন্ডায়মান হয়ে “তাকবীরে তাহরীমা” বলেন এবং তিনি যখন রুকুতে যান, তখন তিনি তাঁর দুই হাত দুই হাঁটুর উপর রাখেন এবং তার আংগুলগুলি হাঁটুর নিম্নাংশে স্থাপন করেন এবং তিনি তাঁর হাতের দুই কনুই পৃথক রাখেন, এমতাবস্থায় শরীর স্থির ভাব ধারণ করে। অতঃপর তিনি “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলে স্থিরভাবে দন্ডায়মান হল। পরে তিনি আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় গমন করেন এবং উভয় হাতের কনুইদ্বয় পৃথক রেখে এমনভাবে সিজদা করেন যে, তাঁর সমস্ত শরীর শান্তভাব ধারণ করে। অতঃপর তিনি সিজদা হতে মাথা উঠিয়ে স্থিরভাবে উপবেশন করেন এবং তিনি চার রাকাত নামায আদায় করেন, অতঃপর বলেনঃ আমি এরূপেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামায আদায় করতে দেখেছি। (নাসাঈ)।
১৫৫. মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বানী- যার ফরয নামাযে ত্রুটি থাকবে তা তার নফল নামায দিয়ে পূর্ণ করা হবে।
৮৬৪. ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহীম ..... আনাস ইবনু হাকীম আদ-দাব্বী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি যিয়াদ অথবা ইবনু যিয়াদের ভয়ে মদীনায় চলে আসেন এবং আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) আমাকে তাঁর বংশ-পরিচয় প্রদান করেন এবং আমি আমার পরিচয় প্রদান করি। তিনি আমাকে বলেনঃ হে যুবক! আমি কি তোমার নিকট হাদীছ বর্ণনা করব না? জবাবে আমি বলিঃ হ্যাঁ, আল্লাহ্ আপনার উপর রহম করুন। রাবী ইউনুস বলেনঃ আমি মনে করি তিনি এই হাদীছটি সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম তাদের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মহান রব ফেরেশতাদের বান্দার নামায সম্পর্কে স্বয়ং জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও জিজ্ঞাসা করবেন, দেখতো সে তা পূর্ণ রূপে আদায় করেছে না তাতে কোন ক্রটি আছে? অতঃপর বান্দার নামায পরিপূর্ণ হলে তা তদ্রুপই লিখিত হবে। অপর পক্ষে যদি তাতে কোন ক্রটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয় তবে তিনি (রব) ফেরেশতাদের বলবেনঃ দেখতো আমার বান্দার কোন নফল নামায আছে কি? যদি থাকে তবে তিনি বলবেন, তোমরা তার নফল নামায দ্বারা তার ফরয নামাযের ক্রটি দূর কর। অতঃপর এইরূপে সমস্ত ফরয আমলের ক্রটি নফল দ্বারা দূরীভূত করা হবে। (ইবনু মাজাহ)।
হাদিস নং ৮৬৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي سَلِيطٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৮৬৫. মূসা ইবনু ইসমাঈল .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৮৬৬. মূসা ইবনু ইসমাঈল ..... তামীমুদ-দারী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যাকাতের ব্যাপারটিও তদ্রুপ হবে। অতঃপর অন্যান্য আমলের হিসাবও অনুরূপভাবে গ্রহণ করা হবে। (ইবনু মাজাহ)।
৮৬৭. হাফছ ইবনে উমার (রহঃ) .... মুসআব ইবনে সা’দ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার পিতার পাশে দণ্ডায়মান হয়ে আদায় করা কালে আমার হাতদুটি দুই হাঁটুর মাঝখানে রাখি। তা দেখে তিনি আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। কিন্তু আমি পুনরায় এরূপ করায় তিনি আমাকে বলেন, তুমি আর এরূপ করোনা, কেননা একসময় আমরাও এরূপ করতাম; কিন্তু আমাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং আমাদের হাঁটুর উপর হাত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী)।
৮৬৮. মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ) .... আলকামা ও আসওয়াদ (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যখন রুকু করবে, তখন সে যেন তার হস্তদ্বয় রানের উপর সম্প্রসারিত করে রাখে এবং হাতের আঙ্গুলগুলো যেন দৃঢ়ভাবে স্থাপন করে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর আঙ্গুলগুলো বিচ্ছিন্নভাবে রাখতে দেখেছি। (মুসলিম, নাসাঈ)।
৮৬৯. আর-রবি ইবনে নাফি আবু তাওবা (রহঃ) ..... উকবা ইবনে আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআনের আয়াত “ফাসাব্বি বিসমি রাব্বিকাল আযিম” অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা এটা রুকুতে পড়বে। অতঃপর কুরআনের অন্য আয়াত “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা” অবতীর্ণ হলে তিনি বলেন, এটা তোমারা সিজদায় পড়বে। (ইবনে মাজাহ)।
৮৭০. আহমদ ইবনে ইউনুস (রহঃ) .... উকবা ইবনে আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত ... পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ। এতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু করতেন, তখন “সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম ওয়া বিহামদিহি” তিনবার বলতেন। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা ওয়া বিহামদিহি” তিনবার পাঠ করতেন। (ইবনে মাজাহ)।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, “বিহামদিহি” শব্দটির ব্যাপারে আমাদের সন্দেহ আছে।
৮৭১. হাফস ইবনে উমার (রহঃ) ..... হুযায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে নামায আদায় করেছেন। তিনি রুকুর মধ্যে “সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম” এবং সিজদায় “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” পড়তেন এবং কুরআন পাঠের সময় তিনি যখন কোন রহমতের আয়াতে পৌঁছতেন, তখন তথায় থেমে রহমতের জন্য দোয়া করতেন। তিনি যখন কোন আযাবের আয়াত পাঠ করতেন, তখন তথায় থেমে আযাব হতে মুক্তি কমনা করতেন। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী)।
হাদিস নং ৮৭২সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ " سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৮৭২. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় ও রুকুতে “সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালাইকাতি ওয়াররূহ” পাঠ করতেন। (মুসলিম, নাসাঈ)।
৮৭৩. আহমদ ইবনে সালেহ (রহঃ) ..... আউফ ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে নামাযে দণ্ডায়মান হই। তিনি সূরা বাকারা পাঠকালে যখন রহমতের আয়াতে পৌঁছেন, তখন তিনি (রাসূল সাঃ) তথায় থেমে রহমত কামনা করেন এবং যখন কোন আযাবের আয়াতে পৌঁছেন, তখন তিনি তথায় থেমে আযাব হতে মাগফিরাত কামনা করতেন। অতঃপর তিনি কিয়ামের সমপরিমাণ সময় রুকুতে অতিবাহিত করেন এবং সেখানে তিনি “সুবহানা যিলজাবারূতি ওয়াল মালাকুতি ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল আযমাতি” পাঠ করেন। অতঃপর তিনি কিয়ামের সমপরিমাণ সময় সিজদায় অতিবাহিত করেন এবং সেখানেও উপরোক্ত দোয়া পাঠ করেন, পরে এক একটি সূরা পাঠ করেন।
(নাসাঈ, তিরমিযী)।
৮৭৪. আবুল ওয়ালিদ আত-তায়ালিসী (রহঃ) .... হুযায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাতে নামায পড়তে দেখেন। এ সময় তিনি তিনবার আল্লাহু আকবর বলে “যুল মালাকূতি ওয়াল জাবারূতি ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল আযমাতি পাঠ করেন। অতঃপর তিনি সূরা বাকারা পড়া শুরু করেন এবং রুকুর সময় কিয়ামের সমপরিমাণ ছিল। তিনি রুকুতে “সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম, সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম” পাঠ করেন। অতঃপর তিনি রুকু হতে মাথা উত্তোলন করেন এবং এ দণ্ডায়মানের সময়টি প্রায় রুকুর সমান ছিল। তিনি এ সময় “লি-রাব্বিয়াল হামদ” পাঠ করেন। অতঃপর তিনি সিজদায় গমন করেন, যার পরিমাণ কিয়ামের অনুরূপ ছিল এবং তিনি সিজাদায় “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” পাঠ করেন। পরে তিনি সিজদা হতে মাথা তুলে বসেন এবং তাঁর দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়টুকু সিজদার সময়ের সমপরিমাণ ছিল, এবং এস্থানে তিনি “রাব্বিগফিরলি” পাঠ করেন। এভাবে তিনি চার রাকাত নামায আদায় করেন এবং এই নামাযে তিনি সূরা বাকারা, সূরা আল-ইমরান, সূরা নিসা এবং সূরা মায়িদা বা সূরা আনআম পাঠ করেন। (তিরমিযী, নাসাঈ, মুসলিম, বুখারী)।
৮৭৬. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা (ইন্তিকালের পূর্ব মুহূর্তে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় হুজরার পর্দা উঠিয়ে দেখতে পান যে, লোকেরা আবু বকর (রাঃ) এর পিছনে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছে। তখন তিনি সকলকে সম্বোধন করে বলেন, হে লোকগণ! এখন হতে নবুয়াতের আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না, কিন্তু মুসলিমদের সত্য-স্বপ্ন যা তারা দেখবে (তাও নবুয়াতের অংশবিশেষ)। তিনি আরও বলেন। রুকু আর সিজদা কালীন সময়ে আমাকে কিরাত পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে (কেননা রুকুর উদ্দেশ্য হলো রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা)। অতএব তোমরা রুকুতে রবের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা কর এবং সিজদায় অধিক দোয়া করা চেষ্টা কর। তোমাদের এই দোয়া কবুল হবে। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমদ)।
৮৭৭. উসমান ইবনে আবু শায়বা (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু ও সিজদায় এই দোয়াটি অধিক পাঠ করতেনঃ “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলি” এবং কুরআনের আয়াতের এই অর্থ করতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
৮৭৯. মুহাম্মাদ ইবনে সুলায়ামান (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাত্রিতে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিছানায় না পেয়ে তাঁর সন্ধানে মসজিদে গমন করি। আমি তাঁকে সেখানে সিজদারত অবস্থায় দেখতে পাই, তখন তাঁর পদদ্বয়ের পাতা খাড়া ছিল। এ সময় তিনি এরূপ বলেছিলেনঃ “আ-উ-যু বিরাদাকা মিন সাখাতিকা ওয়া আউযু বিমাআফাতিকা মিন উকুবাতিকা ওয়া আউযুবিকা মিনকা লা আহসা ছানা আলায়কা আনতা কামা আছনায়তা আলা নাফসিকা”। (মুসলিম, ইবনে মাজাহ)
৮৮০. আমর ইবনে উসমান (রহঃ) .... উরওয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত। আয়েশা (রাঃ) তাঁকে জানান যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মধ্যে নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করতেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নি আ-উ-যুবিকা মিন আযাবিল কাবরি ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ-দাজ্জাল ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল মা’ছামি ওয়াল মাগরাম”। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করেন যে, মাগরাম বা কর্জ হতে অধিক ভাবে পরিত্রাণ চাওয়ার কারণ কী? জবাবে তিনি বলেন, যখন কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হয়, তখন সে কথা বলতে মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে এবং ওয়াদাও খেলাফ করে।
৮৮১. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়লা (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে দাঁড়িয়ে নফল নামায আদায় করছিলাম এসময় আমি তাঁকে “আউযু বিল্লাহি মিনান্নার ওয়াইলুন লি-আহলিন নার” বলতে শুনেছি। (ইবনে মাজাহ)।
হাদিস নং ৮৮২সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الصَّلاَةِ وَقُمْنَا مَعَهُ فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ فِي الصَّلاَةِ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي وَمُحَمَّدًا وَلاَ تَرْحَمْ مَعَنَا أَحَدًا فَلَمَّا سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِلأَعْرَابِيِّ " لَقَدْ تَحَجَّرْتَ وَاسِعًا " . يُرِيدُ رَحْمَةَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ .
বর্ণনাকারী: আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রাহমান (রহঃ)
৮৮২. আহমদ ইবনে সালেহ (রহঃ) .... আবু সালমা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমরা একত্রে নামায আদায় করি। এ সময় এক বেদুঈন আরব বলেঃ ইয়া আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আমার উপর রহমত বর্ষণ কর এবং আমাদের ব্যতীত অন্যদের উপর রহমত কর না। এতদশ্রবণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরিয়ে ঐ বেদুঈন ব্যক্তিকে বলেনঃ তুমি অবশ্যই প্রশস্ত বস্তুকে সংকির্ণ করেছ। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার রহমত ব্যাপক।
(বুখারী, নাসাঈ)।
৮৮৩. যুহাইর ইবনে হারব (রহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন “সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা” পড়তেন, তখন তিনি “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” পাঠ করতেন।
৮৮৪. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রহঃ) ..... মূসা ইবনে আবু আয়েশা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি স্বীয় গৃহের ছাদের উপর নামায আদায় করতেন। সে ব্যক্তি যখন কুরআনের এই আয়াত তেলাওয়াত করতেন “তিনি (আল্লাহ) কি মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম নন?” –জবাবে বলতেন “সমস্ত পবিত্রতা তোমরই জন্য, অবশ্যই তুমি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী”। তাঁকে এ সম্পর্কে লোকেরা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হতে এরূপ শ্রবণ করেছি।
ইমাম আবু দাউদ বলেনঃ ইমাম আহমদ বলেছেন যে, ফরয নামাযের দোয়ার মধ্যে কুরআনের আয়াত পাঠ করা আমি উত্তম মনে করি।
৮৮৫. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... সাদী (রহঃ) থেকে তাঁর পিতা অথবা চাচার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযরত অবস্থায় দেখেছি। তিনি রুকু ও সিজদার মধ্যে “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” তিনবার পাঠ করার সমপরিমাণ সময় অবস্থান করতেন।
৮৮৬. আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ রুকু করবে, তখন সে যেন সেখানে “সুবহানা রব্বিয়াল আযীম” তিনবার পাঠ করে এবং এটাই সর্বনিম্ন পরিমাণ, এবং যখন সিজদা করবে, তখন সেখানে “সুবহানা রব্বি-ইয়াল আলা” কমপক্ষে তিনবার পাঠ করবে। (ইবনে মাজাহ, তিরমিযী)।
আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এটা আওন (রহঃ) এর মুরসাল হাদিস। কারণ তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর সাক্ষাৎ পাননি।
৮৮৭. আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ “সূরা আত-তীন” এর “আলাইসাল্লাহু বি-আহকামিল হাকিমীন” বলবে, তখন সে যেন অবশ্যই বলে “বালা ওয়া আনা আলা যালিকা মিনাশ শাহিদিন” অর্থাৎ অবশ্যই আমি এর সাক্ষী। অপর পক্ষে যে ব্যক্তি সূরা লা উকসিমু বি-ইয়াওমিল কিয়ামতি” এর শেষ আয়াত “আলাইসা যালিকা বি-কাদিরীন আলা আই-ইউহ-ইয়াল মাওতা” পাঠ করবে, তখন সে যেন অবশ্যই বলে, বালা অর্থাৎ অবশ্যই ক্ষমতাশালী। আর যে ব্যক্তি “সূরা মুরসালাত” পাঠ করার সময় “ফাবি আইয়ি হাদিসিন বা’দাহু ইউমিনুন” তেলাওয়াত করে, তখন সে যেন অবশ্যই বলে, “আমান্না বিল্লাহি” অর্থাৎ আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি।
রাবী ইসমাঈল বলেন, অতঃপর আমি বর্ণনাকারী বেদুঈন আরবকে দেখার জন্য রওয়ানা হই এ উদ্দেশ্যে যে, হয়ত তার (আমার নিকট বর্ণনাকারীর) বর্ণনা সঠিক নয়। এ সময় রাবী আমাকে বলেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি কি মনে করেছ যে, আমি হাদিস ভুলে গিয়েছি? অথচ আমি এ জীবনে ষাটবার হজ্জ আদায় করেছি এবং প্রত্যেক হজ্জের মওসুমে আমি কি ধরনের উটের উপর সফর করেছি, তা এখনও আমার স্মরণ আছে। (নাসাঈ, তিরমিযী)।
৮৮৮. আহমদ ইবনে সালেহ (রহঃ) ........... আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর এই যুবক . উমর ইবনে আব্দুল আযীয ব্যতীত আর কারও পেছনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামাযের অনুরূপ নামায পড়িনি। তিনি বলেন, আমরা তাঁর রুকু ও সিজদার মধ্যে দশ-দশবার করে রুকু ও সিজদার তাসবীহ পাঠের হিসাব করেছি। (নাসাঈ)।
১৬১. কোন ব্যাক্তি ইমামকে সিজদারত পেলে তখন সে কি করবে?
৮৮৯. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ফারিস (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা যখন নামাযে এসে আমাদের সিজদারত অবস্থায় পাবে, তখন তোমরা সিজদায় শামিল হয়ে যাবে। তবে উক্ত সিজদা নামাযের রাকাত হিসাবে গণ্য করবে না। যে ব্যক্তি রুকু পেয়েছে, সে নামাযও পেয়েছে (অর্থাৎ ঐ রাকাত প্রাপ্ত হয়েছে)।
১৬২. সিজদার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।
হাদিস নং ৮৯০সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أُمِرْتُ " . قَالَ حَمَّادٌ أُمِرَ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم - أَنْ يَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةٍ وَلاَ يَكُفَّ شَعْرًا وَلاَ ثَوْبًا .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৮৯০. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে আল্লাহর তরফ হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, হাম্বাদের বর্ণনায় আছে, তোমাদের নবীকে সাতটি অংগ দ্বারা সিজদা করতে বলা হয়েছে। তিনি নামাযের অবস্থায় চুল ও কাপড় বাঁধতে নিষেধ করেছেন। (তিরমিযী)।
হাদিস নং ৮৯১সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أُمِرْتُ " . وَرُبَّمَا قَالَ أُمِرَ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ آرَابٍ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৮৯১. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে এরূপ নির্দেশ দেয়া হয়েছে বা তিনি কখনও বলেছেন, তোমাদের নবীকে সাতটি অংগ প্রত্যঙ্গের দ্বারা সিজদা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
৮৯২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রহঃ) .... আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, যখন কোন বান্দা আল্লাহকে সিজদা করে, তখন তার সাথে তার শরীরের সাতটি অংগ প্রত্যঙ্গও সিজদা করে। যেমন, তার মুখমণ্ডল, দুই হাতের তালু, দুই হাটুঁ এবং দুই পা। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমদ)।
৮৯৩. আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) .... ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। এই হাদিসের বর্ণনাক্রম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বান্দার দুই হাত মুখমণ্ডলের ন্যায় সিজদা করে। যখন তোমাদের কেউ কপাল দ্বারা সিজদা করে, তখন অবশ্যই সে যেন তার দুটি হাতের তালুও জমিনে রাখে এবং যখন সে কপাল উঠাবে, তখন হাতও উঠাবে। (নাসাঈ)।
১৬৩. নাক ও কপালের সাহায্যে সিজদা করা।
হাদিস নং ৮৯৪সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رُئِيَ عَلَى جَبْهَتِهِ وَعَلَى أَرْنَبَتِهِ أَثَرُ طِينٍ مِنْ صَلاَةٍ صَلاَّهَا بِالنَّاسِ .
বর্ণনাকারী: আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
৮৯৪. ইবনুল মুছান্না (রহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামায়াতের সাথে নামায আদায় করার পর তাঁর কপাল ও নাকের উপর মাটির দাগ পরিলক্ষিত হয়। (বুখারী, নাসাঈ)।
৮৯৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আব্দুর রাযযাক হতে, তিনি মা’মার হতে পূর্ববর্তী হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
১৬৪. সিজদা করার নিয়ম।
হাদিস নং ৮৯৬যঈফ
حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ وَصَفَ لَنَا الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ فَوَضَعَ يَدَيْهِ وَاعْتَمَدَ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَرَفَعَ عَجِيزَتَهُ وَقَالَ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْجُدُ .
বর্ণনাকারী: আবূ ইসহাক (রহঃ)
৮৯৬. আর-রাবী ইবনে নাফি (রহঃ) .... আবু ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা বারাআ ইবনে আযিব (রাঃ) আমাদের নিকট সিজদার নিয়ম পদ্ধতি বর্ণনা করার সময় তাঁর হাত দুটি মাটিতে রাখেন এবং হাঁটুর উপর ভর করে পাছা উপরের দিকে উঠান, অতঃপর বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ সিজদা সিজদা করতেন। (নাসাঈ)।
হাদিস নং ৮৯৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ وَلاَ يَفْتَرِشْ أَحَدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ افْتِرَاشَ الْكَلْبِ " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৮৯৭. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রহঃ) .... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা সঠিকভাবে সিজদা করবে কুকুরের ন্যায় হস্তদ্বয়কে জমিনের সাথে মিলাবে না। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৮৯৮সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَمِّهِ، يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ عَنْ مَيْمُونَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا سَجَدَ جَافَى بَيْنَ يَدَيْهِ حَتَّى لَوْ أَنَّ بَهْمَةً أَرَادَتْ أَنْ تَمُرَّ تَحْتَ يَدَيْهِ مَرَّتْ .
বর্ণনাকারী: মাইমূনাহ (রাঃ)
৮৯৮. কুতায়বা (রহঃ) .... মায়মুনা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন তিনি তাঁর হস্তদ্বয়কে এত দূরে রাখতেন যে, কোন বকরীর বাচ্চা ইচ্ছা করলে এর নীচ দিয়ে চলে যেতে পারত। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
হাদিস নং ৮৯৯সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ التَّمِيمِيِّ الَّذِي، يُحَدِّثُ بِالتَّفْسِيرِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مِنْ خَلْفِهِ فَرَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ وَهُوَ مُجَخٍّ قَدْ فَرَّجَ بَيْنَ يَدَيْهِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৮৯৯. আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছন দিয়ে আসছিলাম, যখন তিনি নামাযরত ছিলেন। তখন আমি তাঁর বগল মোবারকের নিম্নাংশের সাদা অংশটি দেখি। কারণ এ সময় তার হস্তদ্বয়কে প্রসারিত করে রেখেছিলেন। (আহমদ)।
হাদিস নং ৯০০হাসান
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ رَاشِدٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، حَدَّثَنَا أَحْمَرُ بْنُ جَزْءٍ، صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا سَجَدَ جَافَى عَضُدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ حَتَّى نَأْوِيَ لَهُ .
৯০০. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রহঃ) ....... আহমার ইবনে জুয (রাঃ) যিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ছিলেন, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় সময় তাঁর বাহুদ্বয়কে পার্শ্বদেশ হতে অনেক দূরে সরিয়ে রাখতেন এবং (এতে তাঁর কষ্ট দেখে) আমাদের করুণা হত। (ইবনে মাজাহ)।
৯০১. আব্দুল মালিক ইবনে শুয়াইব (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যখন তোমাদের কেউ সিজদা করবে, তখন সে যেন তার বাহুদ্বয়কে কুকুরের মত জমিনে বিছিয়ে না রাখে এবং রানদ্বয় যেন না মিলায়।
১৬৫. এ ব্যাপারে শিথিলতা সম্পর্কে।
হাদিস নং ৯০২যঈফ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ اشْتَكَى أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَشَقَّةَ السُّجُودِ عَلَيْهِمْ إِذَا انْفَرَجُوا فَقَالَ " اسْتَعِينُوا بِالرُّكَبِ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৯০২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ সিজদার সময় সমস্ত অংগ প্রত্যঙ্গকে অধিক সম্প্রসারিত রেখে নামায আদায় করার কষ্ট সম্পর্কে তাঁর নিকট অভিযোগ পেশ করলে তিনি বলেন, তোমরা শরীরের অংগ প্রত্যঙ্গকে সিজদার সময় পরস্পর পরস্পরের সাথে সম্মিলিত রেখে (এ কষ্ট দূর করার উদ্দেশ্যে) সাহায্য গ্রহণ কর। (তিরমিযী, বায়হাকী)।
৯০৩. হান্নাদ ইবনু স-সারী (রহঃ) ..... যিয়াদ ইবনে সুবাইহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি .... ইবনে উমার (রাঃ) এর পিছনে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিলাম। এ সময় আমি আমার হস্তদ্বয়কে কোমরের দুই পাশে স্থাপন করি। এতদ্দর্শনে নামায শেষে তিনি আমাকে বলেন, নামাযের সাথে এরূপ দণ্ডায়মান হওয়া শূলিকাষ্ঠের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে দাঁড়াতে নিষেধ করেছেন। (নাসাঈ)।
৯০৪. আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ) ..... মুতাররিফ (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমতাবস্থায় নামায আদায় করতে দেখি যে, তাঁর বক্ষ মোবারক হতে ক্রন্দন ধ্বনি শ্রুত হচ্ছিল। (নাসাঈ, তিরমিযী)।
১৬৮. নামাযের মধ্যে মনে ওয়াসওয়াসা ও অন্যান্য চিন্তা আসা মাকরুহ।
৯০৫. আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) ..... যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করে একাগ্র চিত্তে নির্ভুলভাবে দুই রাকাত নামায আদায় করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মার্জিত হবে।
৯০৬. উসমান ইবনে আবু শায়বা (রহঃ) .... উকবা ইবনে আমির আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে কেউ উত্তমরূপে ওযু করে দুই রাকাত নামায খালেস অন্তরদিয়ে আদায় করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী)।
১৬৯. নামাযের মধ্যে ইমামের ভুল ধরিয়ে দেয়া।
হাদিস নং ৯০৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ، قَالاَ أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ يَحْيَى الْكَاهِلِيِّ، عَنِ الْمُسَوَّرِ بْنِ يَزِيدَ الْمَالِكِيِّ، - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَحْيَى وَرُبَّمَا قَالَ - شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الصَّلاَةِ فَتَرَكَ شَيْئًا لَمْ يَقْرَأْهُ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ تَرَكْتَ آيَةَ كَذَا وَكَذَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلاَّ أَذْكَرْتَنِيهَا " . قَالَ سُلَيْمَانُ فِي حَدِيثِهِ قَالَ كُنْتُ أُرَاهَا نُسِخَتْ .<br /> وَقَالَ سُلَيْمَانُ قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ الأَزْدِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا الْمِسْوَرُ بْنُ يَزِيدَ الأَسَدِيُّ الْمَالِكِيُّ.<br /> حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ بْنِ زَبْرٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى صَلاَةً فَقَرَأَ فِيهَا فَلُبِسَ عَلَيْهِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ لأُبَىٍّ " أَصَلَّيْتَ مَعَنَا " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَمَا مَنَعَكَ " .
৯০৭. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) ..... মিসওয়ার ইবনে ইয়াযিদ আল মালিকী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাথে নামায আদায় করি। নামাযের মধ্যে তাঁর পঠিত আয়াতের কিছু অংশ ভুলবশত ছুটে যায়। তখন নামায শেষে এক ব্যক্তি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অমুক অমুক আয়াত ছেড়ে দিয়েছেন। জবাবে তিনি বলেন, তুমি তখন আমাকে স্মরণ করিয়ে দাওনি কেন?
ইয়াযিদ ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মধ্যে কিরাত পাঠকালে সন্দিহান হয়ে পড়েন। তিনি নামায শেষে উবাই (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি আমাদের সাথে নামায আদায় করেছ? জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বলেন, তোমাকে কিরাতের সন্দেহ নিরসন করে দিতে কে বাঁধা দিয়েছে?
১৭০. নামাযের মধ্যে কিরা'আতের ভুল শোধরানোর নিষেধ সম্পর্কে।
৯০৮. আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে নাজদা (রহঃ) ..... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আলী! তুমি নামাযের মধ্যে ইমামের কিরাতের ভুল শোধরিও না।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, রাবী আবু ইসহাক (রহঃ) হারিস (রহঃ) হতে মাত্র চারটি হাদিস শ্রবণ করেছেন। (এই হাদিসটি এসবের অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ সনদের দিক থেকে হাদিসটি গ্রহণযোগ্য নয়)।
৯০৯. আহমদ ইবনে সালেহ (রহঃ) .... আবু যর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বান্দা নামাযের মধ্যে যতক্ষণ এদিক-ওদিক দৃষ্টিপাত করবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর দৃষ্টি তার দিকে থাকবে। অপর দিকে যখন সে এদিক ওদিক খেয়াল করবে, তখন আল্লাহও তাঁর দৃষ্টি ফিরিয়ে নিবেন। (বুখারী, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৯১০সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنِ الأَشْعَثِ، - يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْتِفَاتِ الرَّجُلِ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ " إِنَّمَا هُوَ اخْتِلاَسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلاَةِ الْعَبْدِ " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৯১০. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নামাযের মধ্যে (ঘাড় ফিরিয়ে) এদিক ওদিক তাকানোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি বলেন, এটা শয়তানের ছোঁ মারা, সে মানুষের নামায হতে কিছু অংশ ছো মেরে নিয়ে যায়। (বুখারী, মুসলিম)।
৯১১. মুয়াম্মাল ইবনুল ফাদল (রহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা জামায়াতের সাথে নামাযের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কপাল ও নাকে মাটির পরিলক্ষিত হয়। (বুখারী, মুসলিম)।
১৭৩. নামাযের মধ্যে কোন দিকে দৃষ্টিপাত করা সম্পর্কে।
৯১২. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... জাবের ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে দেখেন যে, লোকেরা আকাশের দিকে হাত উত্তোলন করে নামায আদায় করছে। তা দেখে তিনি বলেন, যারা আকাশের প্রতি দৃষ্টিপাত করে নামায পড়ছে। তারা যেন স্বস্ব দৃষ্টি অনতিবিলম্বে ফিরিয়ে আনে। অন্যথায় তাদের চক্ষু কখনই তাদের দিকে ফিরে আসবে না। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
৯১৩. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, লোকদের কি হয়েছে যে, তারা চক্ষু উপরের দিকে উঠিয়ে নামায আদায় করছে? এ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, তারা অবশ্যই যেন উপরের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকে বিরত থাকে। অন্যথায় তাদের চক্ষুসমূহ উপড়িয়ে ফেলা হবে। (বুখারী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
৯১৪. উসমান ইবনে আবু শায়বা (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডোরাদার পশমি কাপড় পরিধান করে নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি বলেন, এই কাপড়ের নকশা আমাকে নামায হতে অন্যমনস্ক করেছে। তোমরা এই কাপড়টি আবু জাহামের নিকট নিয়ে যাও এবং তার নিকট হতে নকশা বিহীন কম্বল নিয়ে আস। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মালেক)।
৯১৫. উবায়দুল্লাহ ইবনে মুয়ায (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু জাহমের নিকট হতে মোটা চাদর গ্রহণ করার পর তাঁকে বলা হয়, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আপনার) নকশাদার চাদরটি মোটা চাদর হতে উত্তম ছিল।
৯১৬. আর-রবী ইবনে নাফি (রহঃ) ..... সাহল ইবনে হানযালিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজরের নামাযের ইকামত দেয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের অবস্থায় দুই পাহাড়ের মধ্যস্থিত সুড়ঙ্গ পথের দিকে নজর করেন।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে অশ্বারোহী সেনাকে ঐ স্থানে পাহারা দেয়ার জন্য প্রেরণ করেন।
১৭৫. নামাযের মধ্যে যে কাজ বৈধ।
হাদিস নং ৯১৭সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي وَهُوَ حَامِلٌ أُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا وَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا .
বর্ণনাকারী: আবূ কাতাদাহ্ আল-আনসারী (রাঃ)
৯১৭. আল-কানবী (রহঃ) ..... আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় কন্যা যয়নবের মেয়ে উমামাকে কাঁধে নিয়ে নামায পড়ছিলেন। তিনি সিজদার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং যখন দাঁড়াতেন তখন উঠিয়ে নিতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৯১৮সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا قَتَادَةَ، يَقُولُ بَيْنَا نَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ جُلُوسٌ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْمِلُ أُمَامَةَ بِنْتَ أَبِي الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيعِ وَأُمُّهَا زَيْنَبُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ صَبِيَّةٌ يَحْمِلُهَا عَلَى عَاتِقِهِ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ عَلَى عَاتِقِهِ يَضَعُهَا إِذَا رَكَعَ وَيُعِيدُهَا إِذَا قَامَ حَتَّى قَضَى صَلاَتَهُ يَفْعَلُ ذَلِكَ بِهَا .
বর্ণনাকারী: আবূ কাতাদাহ্ আল-আনসারী (রাঃ)
৯১৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রহঃ) ..... আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা উপস্থিত থাকাকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমামা বিনতে আবুল আসকে নিয়ে আমাদের নিকট আসেন, যার মাতা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা যয়নব (রাঃ)। এ সময় তিনি (উমামা) শিশু ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কাঁধে নিয়ে আসেন এবং ঐ অবস্থায় নামায আদায় করেন। তিনি রুকু করার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং দাঁড়ানো থাকাবস্থায় তাকে কাঁধে উঠিয়ে নিতেন। এইভাবে তিনি নামায সমাপ্ত করেন।
৯১৯. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রহঃ) ..... আমর ইবনে সুলায়ম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু কাতাদা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমামা বিনতে আবুল আসকে কাঁধে নিয়ে জামায়াতে নামায আদায় করেন। তিনি সিজদার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, মাখরামা তাঁর পিতার নিকট থেকে একটি মাত্র হাদিস লাভ করেন (অতএব এই হাদিসটি মুরসাল)।
হাদিস নং ৯২০যঈফ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ نَنْتَظِرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلصَّلاَةِ فِي الظُّهْرِ أَوِ الْعَصْرِ وَقَدْ دَعَاهُ بِلاَلٌ لِلصَّلاَةِ إِذْ خَرَجَ إِلَيْنَا وَأُمَامَةُ بِنْتُ أَبِي الْعَاصِ بِنْتُ ابْنَتِهِ عَلَى عُنُقِهِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مُصَلاَّهُ وَقُمْنَا خَلْفَهُ وَهِيَ فِي مَكَانِهَا الَّذِي هِيَ فِيهِ قَالَ فَكَبَّرَ فَكَبَّرْنَا قَالَ حَتَّى إِذَا أَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَرْكَعَ أَخَذَهَا فَوَضَعَهَا ثُمَّ رَكَعَ وَسَجَدَ حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْ سُجُودِهِ ثُمَّ قَامَ أَخَذَهَا فَرَدَّهَا فِي مَكَانِهَا فَمَا زَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ بِهَا ذَلِكَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ حَتَّى فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ .
বর্ণনাকারী: আবূ কাতাদাহ্ আল-আনসারী (রাঃ)
৯২০. ইয়াহইয়া ইবনে খালাফ (রহঃ) ..... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা যোহর অথবা আসরের নামায আদায়ের জন্য আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অপেক্ষায় ছিলাম। এ সময় বিলাল (রাঃ) তাঁকে নামাযের জন্য আহবান করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমামা বিনতে আবুল আসকে কাঁধে নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর তিনি ইমামতির জন্য স্বীয় স্থানে দাঁড়ান এবং আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়াই এমতাবস্থায় যে, উমামা তাঁর কাঁধেই ছিল। তিনি আল্লাহু আকবার বলার পর আমরাও তাকবীর বলি। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু করার ইরাদা করলে তাকে নীচে নামিয়ে রেখে রুখু ও সিজদা আদায় করেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে তাকে কাঁধে উঠিয়ে নেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাকাতে এরূপ করতে থাকেন।
হাদিস নং ৯২১সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ ضَمْضَمِ بْنِ جَوْسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْتُلُوا الأَسْوَدَيْنِ فِي الصَّلاَةِ الْحَيَّةَ وَالْعَقْرَبَ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৯২১. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কষ্টদায়ক কাল রঙয়ের সাপ ও বিচ্ছুকে তোমরা নামায রত অবস্থায়ও হত্যা করবে। (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী)।
৯২২. আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের দরজা বন্ধ করে নামায আদায় করছিলেন। এ সময় আমি এলে তিনি দরজা খুলে দিয়ে পুনরায় নামাযে রত হন। হাদিসে আরও উল্লেখ আছে যে, দরজাটি কেবলামুখী ছিল। (নাসাঈ, তিরমিযী)।
৯২৩. মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনি নামাযরত থাকাবস্থায় সালাম দিতাম এবং তিনি এর জবাব দিতেন। পরবর্তীকালে আমরা যখন হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশীর নিকট হতে ফিরে এসে তাঁকে নামাযের মধ্যে সালাম প্রদান করি, তখন তিনি এর জবাব প্রদান করেন নাই। বরং এসময় তিনি বলেন, অবশ্যই নামাযের মধ্যে (কিরাত, তাসবীহ ইত্যাদি) জরুরী করণীয় কাজ রয়েছে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৯২৪হাসান
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا نُسَلِّمُ فِي الصَّلاَةِ وَنَأْمُرُ بِحَاجَتِنَا فَقَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَىَّ السَّلاَمَ فَأَخَذَنِي مَا قَدُمَ وَمَا حَدُثَ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ يُحْدِثُ مِنْ أَمْرِهِ مَا يَشَاءُ وَإِنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَزَّ قَدْ أَحْدَثَ مِنْ أَمْرِهِ أَنْ لاَ تَكَلَّمُوا فِي الصَّلاَةِ " . فَرَدَّ عَلَىَّ السَّلاَمَ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৯২৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নামাযরত অবস্থায় সালাম দিতাম এবং আমাদের জরুরী কাজের কথা বলতাম। পরবর্তীকালে আমি হাবশা হতে প্রত্যাবর্তনের পর একদা তাঁকে নামাযের মধ্যে সালাম দিলে তিনি এর উত্তর দেননি। ফলে আমার মনে পুরাতন ও নতুন কথা স্মরণ হয় এবং সালামের জবাব না পাওয়ায় আমি শঙ্কিত হয়ে পড়ি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষে আমাকে বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা যখন যা ইচ্ছা করেন, তখন তাই নির্দেশ প্রদান করেন। এখন আল্লাহ তায়ালা নামাযের মধ্যে কথা না বলার নির্দেশ জারী করেছেন”। একথা বলার পর তিনি আমার সালামের জবাব দেন। (নাসাঈ)।
৯২৫. ইয়াযিদ ইবনে খালিদ (রহঃ) .... সুহাইব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে হাজির হয়ে তাঁকে নামাযরত অবস্থায় দেখতে পাই সালাম দেই। এ সময় তিনি আঙ্গুলের ইশারায় এর জবাব দেন। (নাসাঈ, তিরমিযী)।
৯২৬. আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আন-নুফাইলী (রহঃ) ..... জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আমাকে মুস্তালিক গোত্রের নিকট প্রেরণ করেন। সেখান হতে প্রত্যাবর্তনের পর আমি তাঁকে উটের উপর নামায (নফল) আদায় করতে দেখি। এ সময় আমি তাঁর সাথে কথা বলি এবং তিনি ইশারায় আমার কথার জবাব দেন। এ সময় আমি তাঁকে কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করতে শুনেছি এবং তিনি ইশারায় রুকু সিজদা আদায় করেন। তিনি নামায শেষে আমাকে বলেন, আমি তোমাকে যেজন্য পাঠিয়েছিলাম তার খবর কী? আমি নামাযরত থাকার কারণে এতক্ষণ তোমার সাথে বাক্যালাপ করি নাই। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী)।
৯২৭. আল-হোসাইন ইবনে ঈসা আল-খুরাসানী আদ-দামিগানী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ কুবার মসজিদে নামায আদায়ের জন্য গমন করেন। এ সময় মদিনার আনসারগণ আগমন করে তাঁকে নামাযে রত থাকাবস্থায় সালাম প্রদান করেন। রাবী বলেন, তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথী বিলাল (রাঃ)-কে জিজ্ঞাস করি যে, তিনি নামাযে থাকাবস্থায় সালামের জবাব কিভাবে দিলেন? বিলাল (রাঃ) বলেন, এভাবে দিয়েছেন।
রাবী জাফর ইবনে আওন এর (ইশারার) নমুনাস্বরূপ স্বীয় হাতের তালু প্রদর্শন করেন, যার পৃষ্ঠদেশ উপরে এবং বক্ষদেশ নিম্নে অবস্থিত ছিল। (তিরমিযী)।
৯২৮. আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নামাযে এবং সালামে কোন ক্ষতি নেই।
রাবী আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, এর অর্থ এই যে, তুমি কাউকে সালাম প্রদান করলে এবং সে উত্তর না দিলে তোমার কোন ক্ষতি নেই। অপর দিকে ধোঁকা হল এই যে, নামাযী ব্যক্তি কত রাকাত নামায আদায় করেছে তাতে সন্দিহান, এতেও কোন ক্ষতি নেই।
৯২৯. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাবী বলেন, এই হাদিসটি মারফু, অর্থাৎ নবী করীমসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামাযের মধ্যেও সালামে কোন ক্ষতি নেই।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, ইবনুল ফুদায়িল (রহঃ) ইবনুল মাহদীর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এর সনদ আবু হুরায়রা (রাঃ) পর্যন্ত মারফু করেননি।
৯৩০. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে নামায আদায় করি। এ সময় এক ব্যক্তি হাঁচি দিলে আমি “ইয়ারহামুকাল্লাহ” (আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন) বলি। তখন অন্যান্য লোকেরা আমার প্রতি বক্র দৃষ্টিতে তাকায়। তখন আমি অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে তাদের বলি, তোমরা আমার প্রতি এরূপ বক্র দৃষ্টিতে তাকাচ্ছ কেন? তখন তারা তাদের রানের উপর হাত মারছিল, ফলে আমি বুঝতে পারি যে, তারা আমাকে চুপ করতে বলেছে।
রাবী উসমান (রহঃ) বলেন, আমি যখন বুঝতে পারলাম যে, তারা আমাকে চুপ থাকে বলেছে, তখন আমি নিজেই চুপ করে থাকলাম। নামায সমাপ্তির পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মারেন নাই আমাকে ধমক বা গালিও দেন নাই। অতঃপর তিনি বলেন, মনে রাখবে এটা নামায, এর মধ্যে কথাবার্তা বলা অনুচিত। বরং নামাযের মধ্যে কেবল তাসবীহ, তাকবীর, কুরআনের আয়াত পাঠ করা যেতে পারে। অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ কিছু বলেছেন।
তখন আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অন্ধকার যুগের অতি নিকটের লোক, আল্লাহ তায়ালা অনুগ্রহ করে আমাদের দ্বীন ইসলামের গ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে এখনও অনেক লোক এরূপ আছে যারা গণকের নিকট গমন করে থাকে। জবাবে তিনি বলেন, এটা এমন একটা ধারণা যা তাদের অন্তরে সৃষ্টি হয়ে থাকে, তা যেন তাদেরকে কোন কাজ থেকে বিরত না রাখে। তখন আমি বলি আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যারা রেখা টেনে ভাগ্য-বিধি নির্ধারণ করে থাকে। জবাবে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী কোন কোন নবীও এর সাহায্য নিয়েছেন, কাজেই যার রেখা তার ভাগ্যের অনুকূল হবে, তা তার জন্য যথেষ্ট। তখন আমি বলি, আমার একটি দাসী আছে যে ওহুদ ও জাওনিয়াহ নামক স্থানে বকরী চরায়।
একদা আমি সেখানে গিয়ে দেখি নেকড়ে একটি বকরী নিয়ে গেছে এবং আমি আদম সন্তান হিসাবে এজন্য দুঃখিত ও রাগান্বিত হয়ে তাকে চপেটাঘাত করি। তা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকে ঘোরতর অপরাধ হিসাবে গণ্য করেন। তখন আমি বলি, আমি কি তাকে আযাদ করে দিব? তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই দাসীকে তাঁর নিকট আনার নির্দেশ দেন। তখন আমি তাকে তাঁর খিদমতে উপস্থিত করলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন; আল্লাহ তায়ালা কোথায় অবস্থান করেন? জবাবে সে বলে, আসমানে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, আমি কে? জবাবে দাসী বলে, আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি বলেন, তাকে আযাদ করে দাও, কেননা সে একজন ইমানদার স্ত্রীলোক। (মুসলিম, নাসাঈ)।
হাদিস নং ৯৩১যঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ النَّسَائِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ لَمَّا قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُلِّمْتُ أُمُورًا مِنْ أُمُورِ الإِسْلاَمِ فَكَانَ فِيمَا عُلِّمْتُ أَنْ قَالَ لِي " إِذَا عَطَسْتَ فَاحْمَدِ اللَّهَ وَإِذَا عَطَسَ الْعَاطِسُ فَحَمِدَ اللَّهَ فَقُلْ يَرْحَمُكَ اللَّهُ " . قَالَ فَبَيْنَمَا أَنَا قَائِمٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ إِذْ عَطَسَ رَجُلٌ فَحَمِدَ اللَّهَ فَقُلْتُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ رَافِعًا بِهَا صَوْتِي فَرَمَانِي النَّاسُ بِأَبْصَارِهِمْ حَتَّى احْتَمَلَنِي ذَلِكَ فَقُلْتُ مَا لَكُمْ تَنْظُرُونَ إِلَىَّ بِأَعْيُنٍ شُزْرٍ قَالَ فَسَبَّحُوا فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ قَالَ " مَنِ الْمُتَكَلِّمُ " . قِيلَ هَذَا الأَعْرَابِيُّ فَدَعَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي " إِنَّمَا الصَّلاَةُ لِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ وَذِكْرِ اللَّهِ جَلَّ وَعَزَّ فَإِذَا كُنْتَ فِيهَا فَلْيَكُنْ ذَلِكَ شَأْنَكَ " . فَمَا رَأَيْتُ مُعَلِّمًا قَطُّ أَرْفَقَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: মু‘আবিয়াহ্ ইবনু হাকাম (রাঃ)
৯৩১. মুহাম্মাদ ইবনে ইউনুস (রহঃ) .... মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে আগমনের পর আমাকে শরীয়তের হুকুম আহকাম সম্পর্কে শিক্ষাদান করা হয়। এ সময় আমায় এরূপ শিক্ষা দেয়া হয় যে, যখন তুমি হাঁচি দিবে তখন “আলহামদু লিল্লাহ” বলবে এবং যখন অন্য কাউকে হাঁচি দেয়ার পর “আলহামদু লিল্লাহ” বলতে শুনবে, তখন তুমি “ইয়ারহামুকাল্লা” বলবে। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে নামায আদায় করা কালে এক ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে “আলহামদুলিল্লাহ” বললে আমি তার জবাবে উচ্চস্বরে “ইয়ারহামুকাল্লা” বলি। তখন উপস্থিত জনগণ আমার প্রতি বক্র দৃষ্টিতে তাকাতে থাকে, যা আমার জন্য খুবই কষ্টদায়ক ছিল। তখন আমি তাদের সম্বোধন করে বলি: তোমরা প্রতি এরূপ দৃষ্টিতে কেন তাকাচ্ছ?
রাবী বলেন, অতঃপর লোকেরা তাসবীহ ও সুবহানাল্লাহ বলেন। অতঃপর নামায সমাপান্তে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নামাযের সময় কে কথা বলেছ? জবাবে তাঁকে জানানো হয় যে, এই বেদুঈন লোকটি কথা বলেছে। রাবী বলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কাছে ডেকে বলেনঃ মনে রেখ, নামাযের মধ্যে কেবল মাত্র কুরআন পাঠ ও আল্লাহর জিকিরই হয়ে থাকে। কাজেই যখন তুমি নামায আদায় করবে, তখন তোমার এরূপ অবস্থা হওয়া দরকার। রাবী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অধিক দয়ালু ও বিনয়ী কোন শিক্ষক কখনও দেখি নাই।
৯৩৩. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রহঃ) ...... ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে নামায আদায় করা কালে তিনি উচ্চ স্বরে আমীন বলেন এবং (নামায শেষে) ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরান এভাবে যে, আমি তাঁর গণ্ডদেশের সাদা অংশ পরিষ্কারভাবে দেখি।
৯৩৪. নাসর ইবনে আলী (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) এর চাচাত ভাই আবু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দল্লীন” পাঠের পর এমন জোরে ’আমীন’ বলতেন যে প্রথম কাতারে তাঁর নিকটবর্তী লোকেরা এই শব্দ শুনতে পেত। (ইবনে মাজাহ)।
৯৩৫. আল কানবী (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন ইমাম “গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দল্লীন” বলবে, তখন তোমরা ’আমীন’ বল। কেননা যার ’আমীন’ শব্দটি ফেরেশতার আমীন শব্দের সাথে মিশ্রিত হবে, তার অতীত যাবতীয় (সগীরাহ বা ছোট) গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। (বুখারী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
হাদিস নং ৯৩৬সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَمَّنَ الإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " آمِينَ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৯৩৬. আল কানবী (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন ইমাম আমীন বলবে, তখন তোমরাও আমীন বলবে। কেননা যে ব্যক্তির আমীন শব্দ ফেরেশতার আমীন শব্দের সাথে মিলবে তার পূর্ব-জীবনের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
ইবনে শিহাব (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও ’আমীন’ বলতেন।
৯৩৭. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রহঃ) .... বিলাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার আগে ’আমীন’ বলবেন না।
হাদিস নং ৯৩৮যঈফ
حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عُتْبَةَ الدِّمَشْقِيُّ، وَمَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، عَنْ صُبَيْحِ بْنِ مُحْرِزٍ الْحِمْصِيِّ، حَدَّثَنِي أَبُو مُصْبِحٍ الْمَقْرَائِيُّ، قَالَ كُنَّا نَجْلِسُ إِلَى أَبِي زُهَيْرٍ النُّمَيْرِيِّ - وَكَانَ مِنَ الصَّحَابَةِ - فَيَتَحَدَّثُ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ فَإِذَا دَعَا الرَّجُلُ مِنَّا بِدُعَاءٍ قَالَ اخْتِمْهُ بِآمِينَ فَإِنَّ آمِينَ مِثْلُ الطَّابَعِ عَلَى الصَّحِيفَةِ . قَالَ أَبُو زُهَيْرٍ أُخْبِرُكُمْ عَنْ ذَلِكَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَأَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ قَدْ أَلَحَّ فِي الْمَسْأَلَةِ فَوَقَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَمِعُ مِنْهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَوْجَبَ إِنْ خَتَمَ " . فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ بِأَىِّ شَىْءٍ يَخْتِمُ قَالَ " بِآمِينَ فَإِنَّهُ إِنْ خَتَمَ بِآمِينَ فَقَدْ أَوْجَبَ " . فَانْصَرَفَ الرَّجُلُ الَّذِي سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَى الرَّجُلَ فَقَالَ اخْتِمْ يَا فُلاَنُ بِآمِينَ وَأَبْشِرْ . وَهَذَا لَفْظُ مَحْمُودٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْمَقْرَاءُ قَبِيلٌ مِنْ حِمْيَرَ .
৯৩৮. আল-ওয়ালীদ ইবনে উতবা আদ-দিমাশকী (রহঃ) ..... আবু মুসাব্বিহ আল মাকরাঈ (রহঃ) বলেন, আমরা আবু যোহাইর আন নুমাইরী (রাঃ) এর খিদমতে বসতাম এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন প্রিয় সাহাবী ছিলেন। তিনি উত্তম হাদিস সমূহ বর্ণনা করতেন। অতঃপর আমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি যখন কোনরূপ দোয়া করত তখন তিনি বলতেন, তোমরা আমীন শব্দের উপর দোয়া শেষ করবে। কেননা আমীন শব্দটি ঐশী গ্রন্থের মোহর বা সিলস্বরূপ। এ প্রসঙ্গে আমি তোমাদের কাছে একটি ঘটনা বর্ণনা করতে চাই।
এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বাইরে গমন করি। এসময় আমরা এমন এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হই, যিনি অনেক অনুনয়-বিনয় সহকারে দোয়া করেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা শ্রবণের জন্য সেখানে দণ্ডায়মান হন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি সে শেষ করে তবে তার দোয়া কবুল হবে। এ সময় সমবেত লোকদের মধ্য হতে কোন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলঃ সে কোন জিনিসের উপর দোয়া শেষ করবে? তিনি বলেন তিনি বলেন, যদি সে আমীনের উপর দোয়া শেষ করে। কেননা যদি সে আমীনের উপর তার দোয়া সমাপ্ত করে তবে তবে তার দোয়া কবুল হবে। অতঃপর প্রশ্নকারী ব্যক্তি দোয়ায় রত ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হয়, যিনি তখন দোয়ার মধ্যে মশগুল ছিলেন। তখন তিনি তাকে বলেন, তুমি আমীন শব্দের উপর তোমার দোয়া শেষ কর এবং সাথে সাথে দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ গ্রহণ কর।
১৭৯. নামাযের মধ্যে হাতে তালি দেওয়া।
হাদিস নং ৯৩৯সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৯৩৯. কুতায়বা ইবনে সায়ীদ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নামাযের মধ্যে ইমামের কোনরূপ ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে পুরুষেরা “সুবহানাল্লাহ” বলবে এবং স্ত্রীলোকেরা হাতের উপর হাত তালি মেরে শব্দ করবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী ইবনে মাজাহ)।
হাদিস নং ৯৪০সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَهَبَ إِلَى بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ لِيُصْلِحَ بَيْنَهُمْ وَحَانَتِ الصَّلاَةُ فَجَاءَ الْمُؤَذِّنُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ - رضى الله عنه - فَقَالَ أَتُصَلِّي بِالنَّاسِ فَأُقِيمَ قَالَ نَعَمْ . فَصَلَّى أَبُو بَكْرٍ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ فِي الصَّلاَةِ فَتَخَلَّصَ حَتَّى وَقَفَ فِي الصَّفِّ فَصَفَّقَ النَّاسُ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ لاَ يَلْتَفِتُ فِي الصَّلاَةِ فَلَمَّا أَكْثَرَ النَّاسُ التَّصْفِيقَ الْتَفَتَ فَرَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِ امْكُثْ مَكَانَكَ فَرَفَعَ أَبُو بَكْرٍ يَدَيْهِ فَحَمِدَ اللَّهَ عَلَى مَا أَمَرَهُ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ ذَلِكَ ثُمَّ اسْتَأْخَرَ أَبُو بَكْرٍ حَتَّى اسْتَوَى فِي الصَّفِّ وَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " يَا أَبَا بَكْرٍ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَثْبُتَ إِذْ أَمَرْتُكَ " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ مَا كَانَ لاِبْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يُصَلِّيَ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا لِي رَأَيْتُكُمْ أَكْثَرْتُمْ مِنَ التَّصْفِيحِ مَنْ نَابَهُ شَىْءٌ فِي صَلاَتِهِ فَلْيُسَبِّحْ فَإِنَّهُ إِذَا سَبَّحَ الْتُفِتَ إِلَيْهِ وَإِنَّمَا التَّصْفِيحُ لِلنِّسَاءِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا فِي الْفَرِيضَةِ .
বর্ণনাকারী: সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
৯৪০. আল কানবী (রহঃ) ..... সাহল ইবনে সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানূ আমর ইবনে আউফ গোত্রের বিবাদ মীমাংসা জন্য গমন করেন। তখন নামাযের সময় উপস্থিত হলে মুয়াযযিন [বিলাল (রাঃ)] আবু বকর (রাঃ)-কে বলেন, আপনি কি জামায়াতে নামাযের ইমামতি করবেন? তখন তিনি স্বীকৃতি প্রদান করায় ইকামত দেয়া হলে আবু বকর (রাঃ) নামায শুরু করেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যাবর্তন করেন যে, তখন নামায আরম্ভ হয়ে গিয়েছে। অতঃপর তিনি পিছনের কাতার হতে সামনের কাতারে গিয়ে দণ্ডায়মান হন। মুসল্লিরা তাকে দেখে হাতের উপর হাত রেখে শব্দ করছিল, কিন্তু আবু বকর (রাঃ) এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন নাই। অতঃপর শব্দ অধিক হওয়ার কারণে তিনি সে দিকে খেয়াল করতেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দর্শন করেন (এবং সাথে সাথেই পিছনের দিকে সরে আসতে চেষ্টা করেন)।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশারায় স্বীয় স্থানে অবস্থানের নির্দেশ দেন। তখন আবু বকর (রাঃ) স্বীয় হস্তদ্বয় উপরে উত্তোলন করে, এজন্য আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং পশ্চাতে ফিরে এসে কাতারে শামিল হন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমামের স্থানে গমন করে নামায সমাপান্তে আবু বকর (রাঃ)-কে বলেন, হে আবু বকর! আমার নির্দেশ সত্যেও কিসে তোমাকে ইমামের স্থানে অবস্থান করতে বাধা দিয়েছে? জবাবে তিনি বলেন, আবু কুহাফার পুত্রের (আবু বকর) জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়ে ইমামতি করা শোভা পায় না।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা হাতের উপর হাত মেরে নামাযের মধ্যে এত বেশি শব্দ করলে কেন? যদি ইমামের কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয় তবে তোমরা “সুবহানাল্লাহ” বলবে। কেননা তোমাদের ’সুবহানাল্লাহ বলা শুনলে ইমাম সেদিকে খেয়াল করবে। নামাযের মধ্যে হাতের উপর হাত মেরে শব্দ করা কেবলমাত্র মহিলাদের জন্য নির্ধারিত। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এটা কেবলমাত্র ফরয নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৯৪১. আমর ইবনে আওন (রহঃ) .... সাহল ইবনে সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানূ আমর ইবনে আউফ গোত্রের মধ্যে সংঘর্ষের খবর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌঁছানোর পর তিনি যোহরের নামায আদায় করে তাদের মধ্যে সন্ধি প্রতিষ্ঠার জন্য গমন করেন এবং বিলাল (রাঃ)-কে বলেন, আমি যদি আসরে সময় ফিরে আসতে না পারি, তবে আবু বকর (রাঃ)-কে নামায পড়াতে বলবে। অতঃপর আসরের নামাযের সময় হলে বিলাল (রাঃ) আযান ও ইকামত দেয়ার পর আবু বকর (রাঃ)-কে ইমামতি করার অনুরোধ করেন। আবু বকর (রাঃ) ইমামতির স্থানে দণ্ডায়মান হয়ে নামায শুরু করেন।
রাবী হাদিসের শেষাংশে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথাও বর্ণনা করেছেন যে, যখন তোমরা নামাযে ইমামের কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখতে পাও তখন পুরুষেরা “সুবহানাল্লাহ” এবং স্ত্রীলোকেরা “হাতে তালি দিয়ে” শব্দ করবে।
৯৪২. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রহঃ) ..... ঈসা ইবনে আইয়ুব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্ত্রীলোকদের জন্য হাতে হাত মেরে শব্দ করার পদ্ধতি এই যে, তারা ডান হাতের আংগুলি দ্বারা বাম হাতের তালুতে মারবে।
১৮০. নামাযের মধ্যে ইশারা করা সম্পর্কে।
হাদিস নং ৯৪৩সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَبُّويَةَ الْمَرْوَزِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُشِيرُ فِي الصَّلاَةِ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৯৪৩. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মধ্যে বিশেষ প্রয়োজনে ইশারা করতেন। (যেমন কেউ সালাম করলে তিনি মাথার ইশরায় তার জবাব দিতেন। অবশ্য তা নফল নামায আদায়ের সময় করতেন)।
৯৪৪. আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, নামাযের মধ্যে (ইমামের ত্রুটি-বিচ্যুতি জ্ঞাতার্থে) পুরুষগণ “সুবহানাল্লাহ” বলবে, এবং স্ত্রীলোকেরা “হাতের উপর হাত মারবে”। এ ধরনের ইশারার দ্বারা ইমাম তার নামাযের ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে সজাগ হয়ে তা সঠিকভাবে আদায় করবে।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি সন্দেহজনক।
৯৪৫. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ...... আবু যর (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি (নবী করীম সা) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নামাযে রত হয়, তখন তার সম্মুখভাগ হতে রহমত নাযিল হয়। অতএব নামাযী ব্যক্তি যেন সম্মুখ ভাগের পাথর (ইত্যাদি) অপসারণ না করে। (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী)।
হাদিস নং ৯৪৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ مُعَيْقِيبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَمْسَحْ وَأَنْتَ تُصَلِّي فَإِنْ كُنْتَ لاَ بُدَّ فَاعِلاً فَوَاحِدَةً تَسْوِيَةَ الْحَصَى " .
বর্ণনাকারী: মু‘আইকিব (রাঃ)
৯৪৬. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রহঃ) ..... মুয়াইকিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা নামাযে রত অবস্থায় (সিজদার স্থান হতে) কিছু অপসারিত করবে না। অবশ্য বিশেষ প্রয়োজনে একবার পাথর-কণা সরিয়ে সমতল করতে পার। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী)।
১৮২. নামাযের সময় কোমরে হাত রাখা।
হাদিস নং ৯৪৭সহিহ
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ كَعْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الاِخْتِصَارِ فِي الصَّلاَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَعْنِي يَضَعُ يَدَهُ عَلَى خَاصِرَتِهِ .
বর্ণনাকারী: মু‘আইকিব (রাঃ)
৯৪৭. ইয়াকুব ইবনে কাব (রহঃ) .... মুয়াইকিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মধ্যে “ইখতিসার” করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, ’ইখতিসার’ অর্থ হল পেটের পার্শ্বদেশে হাত রেখে (ভর দিয়ে) দণ্ডায়মান হওয়া। কেউ কেউ বলেন, ’ইখতিসার’ শব্দের অর্থ হল কোমরে হাত রেখে অথবা কোমরে কোন বস্তুর ঠেস লাগিয়ে নামায পড়া।
৯৪৮. আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুর রহমান (রহঃ) ...... হেলাল ইবনে ইয়াসাফ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যখন শাম (সিরিয়া) দেশের রাক্কা নামক শহরে যাই, তখন আমার কোন একজন সাথী আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সাহাবীর সাথে সাক্ষাতের আগ্রহ আছে কি? আমি বলি, এটা-তো আমার জন্য গনীমত স্বরূপ। তখন তিনি আমাকে ওয়াবিসা (রাঃ) এর খেদমতে নিয়ে যান। আমি আমার সঙ্গীকে বলি, আমরা প্রথমে বেশভূষার প্রতি নজর করব। আমরা তাঁকে মস্তকের সাথে মিলিত একটি টুপি পরিহিত অবস্থায় দেখতে পাই, যার দুই দিক কানের মত উঁচু ছিল এবং রেশম ও পশম দ্বারা তৈরি ছিল। তিনি (বয়োবৃদ্ধির কারণে) লাঠিতে ভর দিয়ে নামায আদায় করছিলেন। (নামায শেষে) সালাম ফিরানোর পর আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, (আপনি লাঠিতে ভর দিয়ে কিরূপে নামায আদায় করলেন এটা কি জায়েয)? তিনি বলেন, উম্মে কায়েস বিনতে মিহসান (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়োবৃদ্ধির ফলে যখন তাঁর শরীরের মাংস ঢিলা হয়ে যায়, তখন (দুর্বলতার কারণে) তিনি নামায আদায়ের জন্য তাঁর জায়নামাযের নিকট লাঠি রাখেন এবং তাতে ভর দিয়ে নামায আদায় করতেন।
৯৪৯. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রহঃ) ..... যায়েদ ইবনে আকরাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (ইসলামের সূচনাকালে) আমরা নামাযের মধ্যে পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির সাথে কথোপকথন করতাম। এ সময় আল-কুরআনের এই আয়াত নাযিল হয়, “তোমরা আল্লাহর একান্ত অনুগত বান্দা হিসাবে (নামাযের মধ্যে) দণ্ডায়মান হও”। এ সময় আমাদেরকে নামাযের মধ্যে নীরবতা পালনের নির্দেশ দেয়া হয় এবং কথা বলতে নিষেধ করা হয়। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী)।
৯৫০. মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনে আমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করা হয়েছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বসে নামায আদায় করলে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করার অর্ধেক ছওয়াব পাওয়া যায়। (তা শুনে) আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি তাঁর খিদমতে হাজির হয়ে তাঁকে বসে নামায আদায় করতে দেখি। তা দেখে আমি আশ্চর্যান্বিত হয়ে মাথায় হাত রাখি। এ অবস্থায় তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, হে আবদুল্লাহ ইবনে আমর! তোমার কি হয়েছে? জবাবে আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার নিকট হাদিস বর্ণিত হয়েছিল যে, আপনি বলেছেন যে, বসে নামায আদায়কারী অর্ধেক সওয়াব প্রাপ্ত হয়, অথচ আপনি নিজেই বসে নামাযা আদায় করেছেন। জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি এরূপ বলেছি, কিন্তু আমি তোমাদের তুল্য নই। (মুসলিম, নাসাঈ)।
৯৫১. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... ইমরান ইবনে হোসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বসে নামায আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। জবাবে তিনি বলেন, বসে নামায আদায় করার চাইতে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করা উত্তম এবং বসে নামায আদায় করলে দাঁড়ানোর অর্ধেক সওয়াব পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, শুয়ে নামায আদায় করলে বসে নামায আদায়ের অর্ধেক সওয়াব পাওয়া যাবে। (বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
৯৫২. মুহাম্মাদ ইবনে সুলায়মান (রহঃ) ..... ইমরান ইবনে হোসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পাঁজরের মধ্যে ব্যথা থাকায় নামায আদায়কালে অসুবিধা হত। এ সম্পর্কে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি বলেন, সম্ভব হলে তুমি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে, এতে অসুবিধা হলে বসে নামায পড়বে এবং তাতেও অপারগ হলে শুয়ে পার্শ্বদেশের উপর ভর করে নামায আদায় করবে। (বুখারী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী)।
৯৫৩. আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর বৃদ্ধাবস্থায় পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত কোন দিন বসে নামায আদায় করতে দেখি নাই। বৃদ্ধ বয়সে তিনি বসে সূরা পাঠ করতেন। ত্রিশ অথবা চল্লিশ আয়াত বাকী থাকতে তিনি দাঁড়িয়ে তা শেষ করত রুকু-সিজদা করতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
হাদিস নং ৯৫৪সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، وَأَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي جَالِسًا فَيَقْرَأُ وَهُوَ جَالِسٌ وَإِذَا بَقِيَ مِنْ قِرَاءَتِهِ قَدْرُ مَا يَكُونُ ثَلاَثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ آيَةً قَامَ فَقَرَأَهَا وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ ثُمَّ يَفْعَلُ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عَلْقَمَةُ بْنُ وَقَّاصٍ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৯৫৪. আল-কানবী (রহঃ) ....রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বৃদ্ধ বয়সে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফল নামাযে বসে কিরাত পাঠ করতেন। অতঃপর ত্রিশ অথবা চল্লিশ আয়াত বাকী থাকতে তিনি দণ্ডায়মান হয়ে তার পাঠ সমাপ্ত করত: রুকু-সিজদা করতেন। তিনি দ্বিতীয় রাকাতও অনুরূপভাবে আদায় করতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এই হাদিসটি আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস (রহঃ) আয়েশা (রাঃ) হতে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন।
৯৫৫. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও রাত্রিতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে এবং কখনও দীর্ঘ সময় বসে নামায আদায় করতেন। তিনি যখন দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতেন, তখন রুকুও ঐ অবস্থায় করতেন এবং যখন বসে নামায আদায় করতেন তখন রুকুও ঐ অবস্থায় করতেন। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
৯৫৬. উসমান ইবনে শাইবা (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাকাতে কি একটি সূরা তিলাওয়াত করতেন? জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ ’মুফাসসাল’ অর্থাৎ দীর্ঘ সূরা পাঠ করতেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, তিনি কি বসে নামায আদায় করতেন? জবাবে তিনি বলেন, যখন তাঁর বয়স অধিক হয়ে যায়, তখন তিনি বসে নামায পড়তেন।
৯৫৭. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায আদায়ের পদ্ধতির প্রতি নজর করি। আমি দেখি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হয়ে দণ্ডায়মান হন। অতঃপর তিনি ’আল্লাহু আকবার’ বলে স্বীয় উভয় হস্ত কান পর্যন্ত উঠান এবং পরে ডান হাত দ্বারা বাম হাত চেপে ধরেন। পরে যখন তিনি রুকু করার ইরাদা করেন, তখন তিনি উভয় হস্ত অনুরূপভাবে উত্তোলন করেন। অতঃপর তিনি বাম পা বিছিয়ে দিয়ে, বাম হাত উক্ত পায়ের রানের উপর রাখেন এবং ডান হাতের কনুই ডান পা হতে বিচ্ছিন্নভাবে রাখেন এবং কনিষ্ঠ ও অমানিকা আংগুলীদ্বয়কে গুটিয়ে রাখেন এবং ডান বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার সাথে মিশ্রিত করে বৃত্তাকার রাখেন। অতঃপর আমি তাঁকে এরূপ করতে দেখেছি। (রাবী বলেন) অতঃপর বিশর তাঁর বৃদ্ধাংগুলোকে মধ্যমার সাথে মিলিয়ে বৃত্তাকারে রাখেন এবং শাহাদাত আংগুলি দ্বারা ইশারা করেন। (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
৯৫৮. আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামাযে (তাশাহুদের সময়) তোমার ডান পায়ের পাতা দাঁড় করিয়ে রাখা এবং বাম পা বিছিয়ে দেয়া সুন্নত।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[উল্লেখ্য: ৯৫৮ নং হাদিস থেকে ৯৬২ নং হাদিস পর্যন্ত মোট ৫টি হাদিস আল-লুলুঈ-র রিওয়ায়েতে নেই। তাই তা মুনযিরীর সংক্ষিপ্ত সংস্করণে নেই এবং ভারতী সংস্করণেও নেই। কিন্তু একটি সহীহ সংস্করণে তা পাওয়া গেছে যা আল-মিযযী (রহঃ) তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন-(আওনুল মাবুদ, ৩খ, পৃ২৪১-২)।
৯৬৩. আহমদ হাম্বল (রহঃ) ..... আবু হুমাইদ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাদিসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দশজন সাহাবীর নিকট হতে শ্রবণ করেছি। রাবী আহমদে ইবনে হাম্বল (রহঃ) বলেন, আমার আব্দুল হামীদ মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু হুমাইদ সাঈদী (রাঃ)-কে দশজন সাহাবীর উপস্থিতে এরূপ বলতে শুনেছি, যাদের মধ্যে আবু কাতাদা (রাঃ)ও উপস্থিত ছিলেন।
আবু হুমাইদ (রাঃ) বলেন, আমি তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ। তখন তাঁরা বলেন, তবে আপনি বর্ণনা করুন। তখন তিনি এই হাদিসটি বর্ণনা প্রসংগে বলেন, তিনি সিজদার সময় দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী করে রাখতেন, অতঃপর ’আল্লাহু আকবার’ সিজদা হতে মাথা উঠাতেন। এই সময় তিনি বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসতেন। তিনি দ্বিতীয় রাকাতও অনুরূপ ভাবে আদায় করতেন।
অতঃপর হাদিসের বাকী অংশ বর্ণনা প্রসংগে তিনি আরও বলেন, যখন তিনি সর্বশেষ রাকাতের জন্য সিজদা করতেন, তখন তিনি তাঁর বাম পা একটু দূরে স্থাপন করে পাছার উপর বসতেন। ইমাম আহমদ তাঁর বর্ণনায় আরও বলেন, অতঃপর উপস্থিত সকলে তাঁর কথার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আপনি ঠিক বলেছেন। তিনি এভাবেই নামায আদায় করতেন।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, উপরোক্ত দুইজন রাবীর বর্ণনায় তিনি দ্বিতীয় রাকাতে কিরূপ বসতেন তাঁর কোন উল্লেখ নেই। (বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
৯৬৪. ঈসা ইবনে ইবরাহীম (রহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আতা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একদল সাহাবীদের মধ্যে বসা ছিলেন, এ সময় উপরোক্ত হাদিসটি আলোচিত হয়। তবে তাতে আবু কাতাদা (রাঃ) এর নাম উল্লেখ নেই। রাবী বলেন, যখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বিতীয় রাকাতের পরে বসতেন, তখন বাম পায়ের উপর ভর করে বসতেন এবং যখন তিনি শেষ বৈঠকে বসতেন, তখন বাম পা সামনে এগিয়ে দিয়ে এবং পাছার উপর ভর করে বসতেন।
৯৬৫. কুতায়বা (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আমেরী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উপরোক্ত হাদিস বর্ণনার মজলিসে আমি হাজির ছিলাম। রাবী বলেন, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন দ্বিতীয় রাকাতের জন্য বসতেন তখন বাম পায়ের পাতার পেটের উপর বসতেন এবং ডান পা খাঁড়া করে রাখতেন। তিনি যখন চতুর্থ রাকাতে বসতেন, তখন তাঁর বাম পাছাকে জমিনের সাথে মিলিয়ে দিতেন এবং বাম পা’কে ডান দিকে বের করে দিতেন।
৯৬৬. আলী ইবনুল হোসাইন (রহঃ) ...... আব্বাস অথবা আইয়াশ ইবনে সাহল সাঈদী (রহঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি এমন এক মজলিসে ছিলেন, যেখানে তাঁর পিতাও উপস্থিত ছিলেন। রাবী বলেন, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করেন তখন তিনি দুই হাত, দুই হাঁটু ও দুই পায়ের পাতার উপর ভর করেন। অতঃপর যখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসেন, তখন এক পায়ের উপর ভর করে পাছার উপর বসেন এবং অন্য পা খাড়া করে রাখেন। পরে তিনি আল্লাহু আকবর বলে সিজদায় গমন করেন এবং সেখান হতে আল্লাহু আকবর বলে দণ্ডায়মান হন এবং এই সময়ে তিনি পাছার উপর ভর করে বসেন নাই। এভাবে তিনি দ্বিতীয় রাকাত আদায় করেন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয় রাকাতের উপর উপবেশন করেন। বৈঠক শেষে তিনি আল্লাহু আকবর বলে দাঁড়ান এবং পরবর্তী দুই রাকাত আদায় করেন। অতঃপর সর্বশেষ বৈঠকে প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বাম দিকে সালাম ফিরান।
৯৬৭. আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... আব্বাস ইবন সাহল (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা আবূ হুমায়েদ, আবূ উসায়েদ, সাহল ইবন সা’দ এবং মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রাঃ) এক স্থানে সমবেত হন। এ সময় রাবী এই হাদিসটি বর্ণনা করেন। রাবী প্রসঙ্গত বলে, উক্ত হাদিসে হস্ত উত্তোলন সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ নাই। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বিতীয় সিজদার পর বাম পা বিছিয়ে দেন এবং ডান পায়ের আঙুল কিবলামুখী করে দেন।
৯৬৮.মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাথে নামাযে রত থাকা অবস্থায় তাশাহহুদের মধ্যে ’ওয়া আলা ইবাদিহীস সালামু আলা ফুলান ওয়া ফুলান’ এর পূর্বে ’আসসালামু আলাল্লাহে’ বলতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা ’আসসালামু আলাল্লাহে’ বল না; কেননা আল্লাহ তা’আলা নিজেই ’সালাম’ বা শান্তি বর্ষণকারী। আর তোমরা যখন তাশাহহুদের সময় বসবে তখন অবশ্যই পড়বে ’’আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস-সালাওয়াতু ওয়াত্ তায়্যেবাতু আস্-সালামু আলায়কা আয়্যুহান-নবীয়্যু ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আল-সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহীন’’। তোমরা যখন এটা পাঠ করবে তখন এর ছাওয়াব আসমান-যমীন এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে যে সমস্ত নেক বান্দা রয়েছেন তাদের উপর পৌঁছাবে। অতঃপর তিনি ’’আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু’’ পাঠ করতে বলেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের পছন্দনীয় উত্তম দুআ বেছে নিয়ে তা পাঠ করবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা, তিরমিযী)।
৯৬৯.তামীম ইবনুল মুনতাসির (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাশাহহুদের মধ্যে কি পাঠ করতে হবে তা আমরা জানতাম না। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম জানতেন। অতঃপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
রাবী শারীক (রহঃ) বলেনঃ জামে ... আবু ওয়ায়েল হতে, তিনি আবদুল্লাহ হতে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী আরো বলেনঃ তিনি আমাদের নিম্নোক্ত বাক্যগুলি শিখাতেন, কিন্তু তাশাহহুদের মত (জরুরী হিসাবে) নয়। যথাঃ ’’আল্লাহুম্মা আল্লেফ বায়না কুলূবেনা ওয়া আসলেহ যাতা বায়নানা ওয়াহদিনা সুবুলাস্ সালাম ওয়া নাজ্জেনা মিনায যুলুমাতে ইলান-নূর ওয়া জান্নেবনাল্ ফাওয়াহিশা মা যাহারা মিনহা ওয়ামা বাতানা ওয়া বারেক লানা ফী আস্মাইনা ওয়া আবসারেনা ওয়া কুলূবেনা ওয়া আযওয়াজেনা ওয়া যুররিয়াতেনা ওয়াতুব্ আলায়না ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়াবুর রাহীম, ওয়াজ্আলনা শাকেরীনা লে-নিমাতিকা মুছনীনা বিহা কাবলীহা, ওয়া আতেমমিহা আলায়না।
৯৭০. আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ নুফায়েলী, যুহায়ের, তিনি হাসান ইবনুল হুর, তিনি কাসিম ইবন্ মুখায়মারা হতে এই হাদীছটি বর্ণনা করছেন। তিনি বলেন, একদা আলকামা (রহঃ) আমার হস্ত ধারণ করে বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) একদা আমার হাত ধরে বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাঁকে (আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ) নামাযের মধ্যে তাশাহুহুদ পাঠের পদ্ধতি শিক্ষা দেন। অতঃপর তিনি আ’মাশের উপরোক্ত হাদীছের মধ্যে উল্লিখিত দু’আটি শিক্ষা দেন। (৯৬৮ নং হাদীস দ্রষ্টব্য)
অতঃপর তিনি বলেনঃ যখন তুমি এই দু’আ (দু’আ মাছুরা) পাঠ করবে, তখন তোমার নামায সমাপ্ত হবে। এ সময় তুমি ইচ্ছা করলে যাওয়ার জন্য দন্ডায়মান হতে পার বা বসেও থাকতে পার।
৯৭১. নাসর ইবন আলী (রহঃ) .... ইবন উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে তাশাহহুদ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। (তিনি বলেনঃ) তাশাহহুদের মধ্যে এই দু’আ পাঠ করতে হবে। যথা ’’আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহে ওয়াসসালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যেবাতু আসসালামু আলায়কা আয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু’’। রাবী মুজাহিদ বলেন, ইবন উমার (রাঃ) বলেনঃ এর মধ্যে ’ওয়া বারাকাতুহু’ আমি যোগ করেছি। আসসালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সালেহীন আশহাদু আন্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’ বাক্য অতিরিক্ত পাঠ করিতাম।
ইবন উমার (রাঃ) বলেন, আমি এতে অতিরিক্ত বলতামঃ ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসূলুহু।’’
৯৭২. আমর ইবন আওন (রহঃ) .... হিত্তান ইবন আবদুল্লাহ আর-রুকাশী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু মূসা আল্-আশআরী (রাঃ) আমাদের সাথে জামাআতে নামায আদায়ের পর যখন সর্বশেষ বৈঠকে বসেন, তখন এক ব্যক্তি বলেঃ কল্যাণ ও পবিত্রতার মধ্যে নামায সুস্থির হয়েছে। আবু মূসা (রাঃ) নামায শেষে লোকদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেনঃ তোমাদের মধ্যেকার কোন ব্যক্তি এরূপ কথা বলেছে? রাবী বলেনঃ সমবেত সকলে নিশ্চুপ থাকে। পুনরায় তিনি একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে সকলে একইরূপে চুপ থাকে। তখন তিনি বলেনঃ হে হিত্তান! সম্ভবত তুমিই এরূপ বলেছ। জবাবে তিনি বলেনঃ আমি তা বলি নাই। তবে আমি ভয় করেছিলাম যে, এ ব্যাপারে হয়ত আমাকেই দোষারোপ করা হবে।
রাবী হিত্তান বলেনঃ এমন সময় কওমের মধ্যেকার এক ব্যক্তি বলল, আমিই তা বলেছি। তবে আমি এরূপ বলার দ্বারা ভালো কিছুর আশা করেছিলাম। তখন আবু মূসা (রাঃ) বলেনঃ তোমরা কি অবগত নও তোমরা নামাযের মধ্যে কি বলবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম. এ সম্পর্কে আমাদের খুতবার মধ্যে শিক্ষা দিয়েছিল এবং নিয়ম কানুন ও নামায সম্পর্কে বিশেষরূপে জ্ঞাত করিয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ যখন তোমরা নামায আদায়ের ইরাদা করবে, তখন সোজাভাবে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে এবং তোমাদের মধ্যেকার একজন ইমামতি করবে। ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলবেন তখন তোমরাও তা বলবে এবং যখন ইমাম ’’গায়রিল মাগদূবে আলায়হিম ওলাদদাল্লীন পড়বেন তখন তোমরা ’’আমীন’’ বলবে। (এর ফলশ্রুতিতে) আল্লাহ পাক তোমাদের দু’আ কবুল করবেন। অতঃপর ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলে রুকু করবেন, তখন তোমরাও আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যাবে। কেননা ইমাম তোমাদের পূর্বেই রুকুতে গমন করবেন এবং উঠবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এটা ওর পরিবর্তে (অর্থাৎ ইমাম রুকুতে আগে যাওয়ার আগে উঠবেন)।
অতঃপর ইমাম যখন ’’সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’’ বলবেন, তখন তোমরা বলবেঃ ’’আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদু।’’ আল্লাহ তোমাদের ওটা কবুল করবেন। কেননা আল্লাহ জাল্লা জালালুহু তাঁর নবীর যবানীতে ’’সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ বলিয়েছেন। অতঃপর ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলে সিজদা করবেন, তখন তোমরাও তা বলে সিজদা করবে এবং যেহেতু ইমাম তোমাদের পূর্বে সিজদায় গমন করবেন, সেহেতু তিনি তোমাদের পূর্বেই উঠবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসালাম বলেছেনঃ এটা ওটার পরিবর্তে। অতঃপর তোমরা যখন বৈঠকে বসবে, তখন তোমরা বলবেঃ ’’আত্তাহিয়্যাতু ওয়াততায়্যেবাতু ওয়াস্-সালাতু লিল্লাহে আস্-সালামু আলায়কা আয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহু আস্-সালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহীন। আশহাদু আন্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াআশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।’’
রাবী আহমদের বর্ণনায় ’’ওয়া বারাকাতুহু’’ ও ’’আশহাদু’’ শব্দ দুইটির উল্লেখ নাই বরং ’’ওয়া আন্না মুহাম্মাদান’’ এর উল্লেখ আছে।
৯৭৩. আসেম ইবনু ন নাদর (রহঃ) ..... হিত্তান ইবন আবদুল্লাহ আর-রুকাশী (রহ) হতে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এর মধ্যে অতিরিক্ত আছে যে, ইমাম যখন কিরাআত পাঠ করবেন, তখন তোমরা চুপ থাকবে।
রাবী বলেনঃ তাশাহহুদের মধ্যে ’’আশহহাদু আন্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’ এর পর ’’ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু’’ অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, চুপ করে থাকা সম্পর্কে বর্ণনা সংরক্ষিত নয়। কেননা রাবী সুলায়মান তায়মী ব্যতীত আর কেউই তা উল্লেখ করেন নাই। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
৯৭৫. মুহাম্মাদ ইবন দাউদ (রহঃ) ...... সামুরা ইবন জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এরূপ নির্দেশ দিয়েছেন যে, নামাযের মধ্যম অবস্থায় (অর্থাৎ দ্বিতীয় রাকাত শেষে) অথবা নামায সমাপ্তির পর (অর্থাৎ চতুর্থ রাকাত শেষে) সালাম ফিরাবার পূর্বে বলবেঃ আত্-তাহিয়্যাতু আত্-তাইয়্যেবাতু ওয়াস-সালাওয়াতু ওয়াল মুলক্ লিল্লাহ’’, অতঃপর ডান দিকে সালাম ফিরাবে, অতপর ইমামকে এবং নিজেদের সালাম দিবে।
১৮৯. তাশাহুদের পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দুরুদ পেশ করা।
৯৭৬. হাফস ইবন উমার (রহঃ) .... কাব ইবন উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা বলি অথবা তাঁরা বলেছেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের আপনার উপরে দরূদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর সালাম সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। এখন আমরা আপনার উপর দরূদ কিভাবে পেশ করব? তিনি বলেন, তোমরা বলবে, ’’আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লায়তা আলা ইব্রাহীমা, ওয়া বারেক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’’ (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবন মাজা, নাসাঈ)।
৯৭৯. আল-কানবী (রহঃ) .... আমর ইবন সুলায়ম আয-যুরাকী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুমায়েদ সাইদী (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, একদা তাঁরা (সাহাবাগণ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনার উপর কিরূপে দরূদ পাঠ করব? জবাবে তিনি বলেন, তোমরা বলবেঃ আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আয্ওয়াজিহি ওয়া জুররিয়্যাতিহী কামা সাল্লায়তা আলা আলি ইবরাহীমা ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আজওয়াজিহি ও জুররিয়্যাতিহী কামা বরাকতা আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’’। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
হাদিস নং ৯৮০সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، - وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ هُوَ الَّذِي أُرِيَ النِّدَاءَ بِالصَّلاَةِ - أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّهُ قَالَ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَجْلِسِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ فَقَالَ لَهُ بَشِيرُ بْنُ سَعْدٍ أَمَرَنَا اللَّهُ أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى تَمَنَّيْنَا أَنَّهُ لَمْ يَسْأَلْهُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُولُوا " . فَذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ زَادَ فِي آخِرِهِ " فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবন যায়দ (রাঃ)
৯৮০. আল-কানবী (রহঃ) .... আবদুল্লাহ্ ইবন যায়েদ (রাঃ) যাঁকে স্বপ্নের মধ্যে আযানের পদ্ধতি দেখানো হয়েছিল, তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ (রহঃ) আবু মাসউদ আল-আনসারী (রাঃ) হতে জ্ঞাত হয়ে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম সা’দ ইবন উবাদা (রাঃ) এর মজলিসে আগমন করেন। এ সময় বশীর ইবন সা’দ (রাঃ) তাঁকে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ আমাদেরকে আপনার উপর দরূদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আপনার উপর কিরূপে দরূদ পাঠ করব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ থাকেন; এতে আমরা পস্তাচ্ছিলাম এই ভেবে যে, বশীরের এই প্রশ্নটি না করাই উত্তম ছিল। নীরবতার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা বলবেঃ ... অতঃপর কা’ব ইবন উজরার উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং উক্ত হাদীছের শেষাংশে এটুকু যোগ করেনঃ ’’ফিল্ আলামীন ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’’ (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
৯৮২. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ এই দরূদ পাঠের দ্বারা যে ব্যক্তি পরিপূর্ণ মাত্রায় ছওয়াব প্রাপ্তির আশা রাখে সে যেন আমাদের ’আহলে বায়ত’ [নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবার পরিজনবর্গ] এর উপর দরুদ পাঠ করতে গিয়ে এরূপ বলেঃ ’’আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যি ওয়া আয্ওয়াজিহি উম্মুহাতিল মু’মিনীন, ওয়া যুররিয়্যাতিহী ওয়া আহলে বায়তিহী কামা সাল্লায়তা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।’’
৯৮৩. আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমরা নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পাঠ শেষ করবে, তখন আল্লাহর নিকট চারটি বিষয় হতে পানাহ চাইবেঃ
(১) জাহান্নামের আযাব হতে,
(২) কবরের আযাব হতে,
(৩) জীবিত ও মৃত্যুকালে যাবতীয় ফিতনা হতে এবং
(৪) দাজ্জালের ক্ষতি হতে -
(মুসলিম, নাসাঈ, ইবন্ মাজা)।
৯৮৫। আবদুল্লাহ ইবন আমর ও আবু মামার (রহঃ) .... হানযালা ইবন আলী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা মেহজান ইবন আদ্রা কে এই মর্মে জানানো হয় যে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে জনৈক ব্যক্তিকে নামায শেষে তাশাহ্হুদ পাঠ করতে দেখেন। তখন সে এও পড়ছিলঃ ’’আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্আলুকা ইয়া আল্লাহ আল্-আহাদু আস-সামাদু আল্লাযী লাম য়ালিদ ওয়ালাদ ইয়ূলাদ। ওয়া লাম ইয়া কুললাহু কুফুওয়ান আহাদ আন তাগফিরলী যুনূবী ইন্নাকা আন্তাল্ গাফুরুর রাহীম।’’ রাবী বলেন, তখন তিনি তিনবার এরূপ বলেন, ’’তাঁকে মাফ করা হয়েছে’’। (নাসাঈ)।
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُعَاوِيِّ، قَالَ رَآنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَأَنَا أَعْبَثُ بِالْحَصَى فِي الصَّلاَةِ فَلَمَّا انْصَرَفَ نَهَانِي وَقَالَ اصْنَعْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ . فَقُلْتُ وَكَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ قَالَ كَانَ إِذَا جَلَسَ فِي الصَّلاَةِ وَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَقَبَضَ أَصَابِعَهُ كُلَّهَا وَأَشَارَ بِأُصْبُعِهِ الَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى .
বর্ণনাকারী: আলী ইবনু আবদুর রহমান মু'আবী (রহঃ)
৯৮৭. আল-কানবী (রহঃ) ..... আলী ইবন আব্দুর রাহমান আল-মুআবী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) আমাকে নামাযের মধ্যে কংকর নিয়ে অনর্থক খেলতে দেখেন। তিনি নামায শেষে আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করেন এবং বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপে নামায আদায় করতেন, তদ্রূপ করবে। তখন আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি বলেন, তিনি যখন নামাযের মধ্যে বসতেন, তখন ডান হাতের তালুকে ডান পায়ের রানের উপর রাখতেন এবং তার সমস্ত আংগুলগুলো (শাহাদাত আংগুল ব্যতীত) বন্ধ করে রাখতেন এবং শাহাদাত আংগুল দ্বারা ইশারা করতেন। এবং তিনি বাম হাতের তালু বাম পায়ের রানের উপর রাখতেন। (মুসলিম, নাসাঈ)।
৯৮৮. মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহীম আল-বাযযায (রহঃ) .... আমের ইবন আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযের মধ্যে বসতেন, তখন তিনি তাঁর বাম পা ও এর নলাকে ডান রানের নীচে রাখতেন, ডান পা বিছিয়ে দিতেন, বাম হাত বাম পায়ের রানের উপর রাখতেন, ডান হাত ডান পায়ের রানের উপর স্থাপন করতেন এবং শাহাদাত আংগুলি দ্বারা ইশারা করতেন।
রাবী আফফান (রহঃ) বলেনঃ আবদুল ওয়াহেদ (রহঃ) আমাদের শাহাদাত আংগুল দ্বারা ইশারা করে দেখিয়ে দিয়েছেন। (মুসলিম)।
হাদিস নং ৯৮৯সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ زِيَادٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ ذَكَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُشِيرُ بِأُصْبُعِهِ إِذَا دَعَا وَلاَ يُحَرِّكُهَا . قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ وَزَادَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَامِرٌ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو كَذَلِكَ وَيَتَحَامَلُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু-যুবায়র (রাঃ)
৯৮৯. ইবরাহীম ইবনুল হাসান (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাহাদাত আংগুল দ্বারা ইশারা করতেন বলে উল্লেখ আছে, যখন তিনি তাশাহহুদ পাঠ করতেন এবং এ সময় তিনি আংগুল হেলাতেন না। (দুর্বল)
অপর বর্ণনায় আছে যে, আমের (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শাহাদাত আংগুল দ্বারা ইশারা করতে দেখেছেন এবং নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাত দ্বারা বাম পায়ের রান ধরতেন। (সহীহ)
৯৯০. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) .... আমের ইবন আব্দুল্লাহ ইবনুয্ যুবায়র (রাঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ তাঁর চোখ ইশারা থেকে অগ্রসর হত না। হাজ্জাজ (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীছ পরিপূর্ণ। (নাসাঈ)।
৯৯১। আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) .... মালিক ইবন নুমায়ের খুযায়ী (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ডান হাত ডান পায়ের রানের উপর রাখতে দেখেছি এবং এ সময় তিনি তাঁর শাহাদাত আংগুলি অর্ধনমিত অবস্থায় উচিয়ে রাখেন। (ইবন মাজা, নাসাঈ)।
৯৯২. আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... ইবন্ উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আহমাদ ইবন হাম্বলের বর্ণনা অনুযায়ী) নামাযের মধ্যে কোন ব্যক্তিকে হাতের উপর ভর করে বসতে নিষেধ করেছেন। ইবন শাব্বুয়ার বর্ণনায় আছে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে নামাযের মধ্যে হাতের উপর ভর দিতে নিষেধ করেছেন। রাবী ইবন্ রাফে এর বর্ণনায় আছে, তিনি লোকদেরকে হাতের উপর ভর করে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। রাবী ইবন আবদুল মালিকের বর্ণনায় আছে তিনি লোকদেরকে নামাযের (সিজদা হতে) উঠার সময় হাতের উপর ভর দিতে নিষেধ করেছেন।
৯৯৩. বিশর ইবন হিলাল (রহঃ) ..... ইসমাঈল ইবন উমায়্যা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফে (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন ব্যক্তি যদি উভয় হাতের আংগুলসমূহ মিলিয়ে (পরষ্পরের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে) নামায পড়ে? নাফে (রহঃ) বলেন, ইবন উমার (রাঃ) বলেছেন, ঐরূপ নামায তাদের যাদের উপর আল্লাহর গযব নাযিল হয়।
৯৯৪. হারূন ইবন যায়েদ (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এক ব্যক্তিকে নামাযের মধ্যে বাম হাতের উপর ভর করে বসতে দেখেন। রাবী হারূন ইবন যায়েদের বর্ণনায় আছেঃ তিনি তাঁকে বাম দিকের নিতম্বে ভর দিয়ে বসা দেখেন। অতঃপর উভয় রাবীর সম্মিলিত বর্ণনা অনুযায়ী তিনি বলেনঃ তুমি এভাবে বস না। কারণ এভাবে শাস্তিযোগ্য ব্যক্তিরাই বসে থাকে।
১৯৪. বৈঠক সংক্ষেপ করা।
হাদিস নং ৯৯৫যঈফ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ كَأَنَّهُ عَلَى الرَّضْفِ . قَالَ قُلْتُ حَتَّى يَقُومَ قَالَ حَتَّى يَقُومَ .
বর্ণনাকারী: আবূ উবায়দা (রহঃ)
৯৯৫. হাফস ইবন উমার (রহঃ) .... আবু উবায়দা (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা ইবন মাসউদ) বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম দুই রাকাত নামাযের পর বৈঠক এত সংক্ষেপ করেন যে, মনে হচ্ছিল তিনি যেন কোন গরম পাথর বা পাথরের টুকরার উপর বসেছিলেন। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
৯৯৬. মুহাম্মাদ ইবন কাছীর (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বাম দিকে এমনভাবে মুখ ঘুরিয়ে সালাম ফিরাতেন যে, তাঁর মুখমণ্ডল
ের শুভ্র অংশটি পরিলক্ষিত হত এবং তিনি আসসালামু আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বলে সালাম ফিরাতেন (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, আবু ইসহাকের হাদীছটি মারফু হওয়ার বিষয়টি শোবা অস্বীকার করতেন।
৯৯৭. আবদা ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) .... আলকামা ইবন ওয়ায়েল (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে নামায আদায় করি। তিনি সালাম ফিরাবার সময় প্রথমে ডান দিকে ফিরে ’’আস্-সালামু আলায়কুম ওয়ারহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহু’’ বলেন এবং বাম দিকে ফিরে ’’আস্-সালামু আলায়কুম ওয়ারহমাতুল্লাহ’’ বলেন।
৯৯৮. উছমান ইবন্ আবু শায়বা (রহঃ) ...... জাবের ইবন্ সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে নামায পাঠকালে এক ব্যক্তি সালাম ফিরাবার সময় ডান দিকের লোকদের প্রতি হাতের ইশারায় সালাম দেয় এবং পরে বাম দিকের লোকদেরও। নামায শেষে তিনি বলেনঃ তোমাদের ঐ ব্যক্তির কি হয়েছে যে, সে সালাম ফিরাবার কালে এইরূপে হাতের ইশারা করল, যেন তা ঐ ঘোড়ার লেজের মত যা দ্বারা মশা-মাছি বিতাড়িত করা হয়? বরং সে ব্যক্তি যদি হাতের আংগুলের ইশারা দ্বারা ডান ও বাম পাশের লোকদের সালাম করত, তবে তাই যথেষ্ট ছিল। (মুসলিম, নাসাঈ)।
৯৯৯. মুহাম্মাদ ইবন সুলায়মান আল-আনবারী, আবু নুআয়েম হতে, তিনি মিসআর (রহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীছের সনদে ও অর্থে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের হস্তদ্বয় রানের উপর রেখে ডান এবং বাম পাশের লোকদের সালাম করাই যথেষ্ট।
১০০০. আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) ..... জাবের ইবন্ সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এমন সময় আগমন করেন, যখন লোকেরা নামাযের মধ্যে তাদের হাত উপরের দিক উঠিয়ে ছিল। এতদদর্শনে তিনি বলেনঃ আমি এটা কি দেখেছি? মনে হয় যেন তোমরা তোমাদের হস্তদ্বয়কে ঘোড়ার লেজের মত মশা-মাছি বিতাড়নের জন্য আন্দোলিত করছ? তোমরা নামাযের মধ্যে শান্ত থাকবে। (মুসলিম, নাসাঈ)।
১৯৬. ইমামের সালামের জবাব দেওয়া।
হাদিস নং ১০০১যঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ أَبُو الْجَمَاهِرِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ أَمَرَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَرُدَّ عَلَى الإِمَامِ وَأَنْ نَتَحَابَّ وَأَنْ يُسَلِّمَ بَعْضُنَا عَلَى بَعْضٍ .
বর্ণনাকারী: সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ)
১০০১. মুহাম্মাদ ইবন উছমান (রহঃ) ...... সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালামের জবাব দেয়ার জন্য, পারষ্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি স্থাপনের জন্য একে অন্যকে সালাম বিনিময়ের নির্দেশ দিয়েছেন। (ইবন মাজা)।
১৯৭. নামাযের পরে তাকবীর বলা সম্পর্কে।
হাদিস নং ১০০২সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ يُعْلَمُ انْقِضَاءُ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالتَّكْبِيرِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
১০০২. আহমাদ ইবন আবদা (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমাদেরকে) এরূপ অবহিত করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায সমাপনান্তে তাকবীর পাঠ করতেন। (সম্ভবত তা ঈদুল আযহার আইয়ামে তাশরিকের তাকবীর ছিল)। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
১০০৫. উছমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) .... আলী ইবন তালক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ যখন নামাযের মধ্যে কারো উযু নষ্ট হয় তখন সে যেন ঐ স্থান পরিত্যাগ করে উযু করে পুনরায় নামায আদায় করে। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)
২০০. যে স্থানে ফরয নামায আদায় করেছে, সেখানে দাঁড়িয়ে নফল নামায আদায় করা সম্পর্কে।
১০০৬. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ যদি তোমাদের কারও পক্ষে ফরয নামায আদাযের পর ডানে, বামে সম্মুখে বা পশ্চাতে গমন করা সম্ভব না হয়, তবে সে ফরয নামায আদায়ের স্থানে দাঁড়িয়ে নফল আদায় করতে পারে। নচেৎ ফরয নামায আদায়ের স্থান হতে সরে গিয়ে অন্যত্র নফল নামায আদায় করা শ্রেয়। (ইবন মাজা)
১০০৭. আবদুল ওয়াহ্হাব ইবন নাজদা (রহঃ) ..... আল-আরযাক্ ইবন কায়েস (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমাদের ইমাম আবু রিমছা (রাঃ) জামাআতে নামায শেষে বলেনঃ একদা আমি এই ফরয নামায নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আদায় করি। নামাযে আবু বাকর ও উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডানপাশে সামনের কাতারে দন্ডায়মান ছিলেন। ঐ সময়ে অন্য একজন সাহাবীও তাকবীরে উলা বা প্রথম তাকবীরের সময় উপস্থিত ছিলেন। ইমাম হিসাবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষে ডান এবং বাম দিকে এরূপভাবে সালাম ফিরান যে, আমরা তাঁর গালের শুভ্র অংশ অবলোকন করি।
অতঃপর তিনি স্বীয় স্থান হতে উঠে দাঁড়ান, যেমন আবু রিমছা (রাবী স্বয়ং) উঠে দাঁড়ালেন। ঐ সময় প্রথম তাকবীর প্রাপ্ত ব্যক্তি নফল নামায আদায়ের জন্য উক্ত স্থানেই দন্ডায়মান হন। তখন উমার (রাঃ) দ্রুত তাঁর নিকট গমন করে তার কাঁধে হাত দিয়ে তাকে একটু ঝাঁকুনি দিয়ে বলেনঃ বস, পূর্ববর্তী আহলে কিতাবগণ এ কারণেই ধ্বংস হয়েছে যে, তারা ফরয ও নফলের মধ্যে কোনরূপ ভেদাভেদ করত না। ঐ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিকে দৃষ্টিপাত করে বলেনঃ হে খাত্তাবের পুত্র! আল্লাহ তোমার দ্বারা সঠিক কাজ করিয়েছেন।
১০০৮. মুহাম্মাদ ইবন উবায়েদ (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে যোহর অথবা আসরের নামায আদায় করেন। তিনি দুই রাকাত নামায আদায়ের পর সালাম ফিরান। অতঃপর তিনি মসজিদের সম্মুখে অবস্থিত কাষ্ঠ খন্ডের নিকট গিয়ে তার ওপরে এক হাত অন্য হাতের উপর স্থাপন করে দন্ডায়মান হন। ঐ সময় তাঁকে রাগান্বিত মনে হচ্ছিল। তখন লোকেরা মসজিদ হতে নিগর্মনকালে বলছিলঃ নামায কসর করা হয়েছে, নামায কসর করা হয়েছে (অর্থাৎ আল্লাহ চার রাকাতের স্থানে দুই রাকাত করে দিয়েছেন) ঐ সময়ে সমবেত মুসল্লীদের মধ্যে আবু বাকর (রাঃ) ও উমার (রাঃ)-ও ছিলেন এবং তাঁরা এ ব্যাপার সম্পর্কে তাঁর সাথে আলোচনা করতে ভীত হন। ঐ সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হতে যুলয়াদাইন উপাধিপ্রাপ্ত জনৈক সাহাবী দাঁড়িয়ে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি ভুল করেছেন না নামায কসর (সংক্ষিপ্ত) করা হয়েছে?
জবাবে তিনি বলেনঃ না, আমি ভুল করিনি এবং নামায কসরও করা হয় নাই। তখন ঐ সাহাবী বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তবে আপনি ভুল করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমবেত জনগণের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করেনঃ আচ্ছা, যুল্-য়াদাইন কি সত্য বলেছে? জবাবে সাহাবাগণ ইশারায় বলেনঃ জি হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় স্থানে প্রত্যাবর্তনের করে বাকী দুই রাকাত নামায আদায় করে সালাম ফিরান। অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে পূর্বের সিজদার সমপরিমাণ সময় অথবা তার চাইতে কিছু অধিক সময় ধরে সিজদা করেন। পরে আল্লাহু আকবার বলে মস্তক উত্তোলন করেন এবং পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে পূর্ববর্তী সিজদার ন্যায় সিজদা করেন এবং পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে মাথা উঠান।
রাবী বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবন সীরীনকে সিজদায়ে সাহু এর পর সালাম করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জবাবে তিনি বলেনঃ এ ব্যাপারে আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে আমার কিছু জানা নেই। তবে আমাকে জ্ঞাত করানো হয়েছে যে, ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) বলেছেন যে, সিজদায়ে সাহু এর পর তিনি সালাম ফিরিয়েছিলেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইব্ন মাজা)
১০০৯. আবদুল্লাহ ইবন মাসলামা (রহঃ) এর সূত্রে ..... মালিক (রহঃ) হতে, তিনি আইযুব হতে, তিনি মুহাম্মাদ হতে উপরোক্ত সনদে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী হাম্মাদের হাদীছটই পূর্ণ হাদীস। রাবী বলেনঃ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায় করেন। তবে এই বর্ণনায় ’’আমাদেরকে নিয়ে’’ এবং ’’লোকদের ইশারা’’ শব্দদ্বয়ের উল্লেখ নাই। রাবী বলেনঃ লোকেরা শুধুমাত্র ’’হ্যাঁ’’ বলে জবাব দিয়েছিল।
রাবী আরো বলেনঃ অতঃপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (সিজদা হতে মাথা) উত্তোলন করেন এবং এই বর্ণনায় তাকবীরের বিষয়ও উল্লেখ নাই।
ইমাম আবু দাউদ (রহ) বলেন, যে সকল রাবী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন তাদের কেউই ’ফাকাব্বারা’ ও ’রাজাআ’ শব্দদ্বয়ের উল্লেখ করেননি।
১০১০. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে নামায আদায় করেন।
অতঃপর রাবী হাম্মাদের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থে হাদীছ বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি এ সম্পর্কে জানতে পারি যে, সিজদায়ে সাহূ এর পরেও সালাম আছে। রাবী সালামা বলেনঃ অতঃপর আমি মুহাম্মাদ ইবন সীরীনকে তাশাহহুদ পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি বলেনঃ আমি আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে তাশাহহুদ পাঠ করা সম্পর্কে কোন বর্ণনা পাই নাই। তবে তাশাহহুদ পাঠ করাই আমার নিকট শ্রেয়। এ বর্ণনায় তাঁকে যুল্-য়াদাইন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে কোন উল্লেখ নাই এবং এই হাদীছে ’’লোকদের ইশারা’’ ও ’’তিনি যে রাগান্বিত হন’’ এই শব্দদ্বয়ের কোন উল্লেখ নাই।
১০১১. আলী ইবন নাসর (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যুল্-য়াদাইনের ঘটনা বর্ণনা প্রসংগে বলেনঃ অতঃপর তিনি তাকবীর বলে সিজদা করেন ...।
১০১২. মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে যুল-য়াদাইনের হাদীছে বর্ণিত ঘটনার ন্যায় বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় সাহূ করেননি যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিশ্চিত করে দেন (দুই রাকাত না পড়ার ব্যাপারে)।
১০১৩. হাজ্জাজ ইবন আবু ইয়াকুব (রহঃ) ..... আবু বাকর ইবন সুলায়মান (রহঃ) বলেনঃ তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিজদায়ে সাহূ সম্পর্কে জ্ঞাত করানো হয়েছে। (নাসাঈ)।
রাবী ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ সমবেত জনতার সংগে আলোচনার পূর্ব পর্যন্ত তিনি সিজদায়ে সাহূ করেন নাই। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে অন্য এক বর্ণনায় এই ঘটনা সম্পর্কে উল্লেখ নাই তবে সেখানে ’’দুই সিজদার’’ বিষয়ও উল্লেখ নাই।
রাবী আবু বাকর ইবন সুলায়মান ইবন আবু হাছমা (রহঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই হাদীসটি বর্ণনা প্রসংগে বলেন যে, তিনি সিজদায় সাহূ আদায় করেন নাই।
১০১৪. ইবন মুআয (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভুলবশতঃ যোহরের নামায দুই রাকাত আদায়ের পর সালাম ফিরান। ঐ সময় তাঁকে বলা হয় যে, নামায কম হয়েছে। এতদশ্রবণে তিনি পরে আরো দুই রাকাত আদায় করে দুইটি সিজদায় সাহু করেন। (বুখারী, নাসাঈ)।
হাদিস নং ১০১৫সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَسَدٍ، أَخْبَرَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم انْصَرَفَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ مِنْ صَلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ أَقَصُرَتِ الصَّلاَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمْ نَسِيتَ قَالَ " كُلَّ ذَلِكَ لَمْ أَفْعَلْ " . فَقَالَ النَّاسُ قَدْ فَعَلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ أُخْرَيَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ وَلَمْ يَسْجُدْ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ دَاوُدُ بْنُ الْحُصَيْنِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ مَوْلَى ابْنِ أَبِي أَحْمَدَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ بَعْدَ التَّسْلِيمِ .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
১০১৫. ইসমাঈল ইবন আসাদ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহর অথবা আসরের দুই রাকাত নামায আদায়ের পর সালাম ফিরিয়ে উক্ত স্থান ত্যাগ করেন। ঐ সময় জনৈক সাহাবী তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, নামায কি কমে গিয়েছে, না আপনি ভুল করেছেন? জবাবে তিনি বলেনঃ এর কোনটাই নয়। তখন লোকেরা বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি নামায কম পড়েছেন। এতদশ্রবণে তিনি আরো দুই রাকাত নামায আদায় করে চলে যান এবং ঐ সময় তিনি সিজদায় সাহূ করেন নাই।
অপর বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই ঘটনার উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, অতঃপর তিনি ভুলের জন্য সালামের পর দুইটি সিজদা বসা অবস্থায় আদায় করেন।
১০১৬. হারূন ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে উপরোক্ত ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, অতঃপর তিনি সালামের পর (নামাযের মধ্যকার) ভুলের জন্য দুইটি সিজদা আদায় করেন। (নাসাঈ)
১০১৭. আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে নামায আদায়কালে (ভুলবশত চার রাকাতের স্থলে) দুই রাকাত আদায় করে সালাম ফিরান। অতঃপর রাবী আবু উসামা আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা প্রসংগে বলেনঃ অতঃপর তিনি ফিরিয়ে ভুলের জন্য সিজদায়ে সাহূ আদায় করেন। (ইবন মাজা)
১০১৮. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ...... ইমরান ইবন হুসায়েন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামায আদায়কালে তৃতীয় রাকাতের সময় সালাম ফিরিয়ে স্বীয় হুজরায় গমন করেন। তখন লম্বা বাহু বিশিষ্ট সাহাবী খিরবাক (রাঃ) তাঁর খিদমতে হাজির হয়ে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! নামায কি কমিয়ে দেয়া হয়েছে? এতদশ্রবণে তিনি রাগান্বিত অবস্থায় স্বীয় চাদরে হেঁচড়িয়ে বাইরে এসে লোকদের জিজ্ঞাসা করেনঃ এই ব্যক্তি কি সত্য বলেছে? জবাবে তারা বলেনঃ হ্যাঁ। অতঃপর তিনি বাকী নামায আদায় করে সিজদায় সাহূ করার পর সর্বশেষ সালাম ফিরান। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১০১৯. হাফস ইবন উমার (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ভুলবশত) যুহরের নামায পাঁচ রাকাত আদায় করেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, নামায কি বেশী করা হয়েছে? তিনি বলেনঃ কেন কি হয়েছে? তখন এক ব্যক্তি বলেনঃ আপনি পাঁচ রাকাত নামায আদায় করেছেন। তখন তিনি সালাম ফেরানোর পর সিজদায় সাহূ আদায় করেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১০২০. উছমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মধ্যে ভুলবশতঃ বেশী বা কম করেন। রাবী ইবরাহীম বলেনঃ বেশী বা কম সম্পর্কে আমি জ্ঞাত নই। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! নামায সম্পর্কে কোন নতুন নির্দেশ এসেছে কি? তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তা কি? তখন তাঁকে বলা হল, আপনি এত রাকাত কম বা বেশী নামায আদায় করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর পদদ্বয়কে ঘুরিয়ে কিবলামুখী হয়ে দুইটি সিজদা করে সালাম ফিরান। নামায শেষে তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলেনঃ নামায সম্পর্কে কোন নতুন নির্দেশ নাযিল হলে আমি অবশ্যই তা তোমাদের জানাতাম। কিন্তু আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ, তাই আমিও তোমাদের মত ভুল করি। কাজেই আমি যখন ভুল করব, তখন তোমরা আমাকে অবশ্যই স্মরণ করিয়ে দিবে। তিনি আরো বলেনঃ নামায পাঠকালে যখন তোমাদের কেউ সন্দিহান হয়ে পড়বে, তখন চিন্তা-ভাবনার পর যা সঠিক মনে করবে, তাই আদায় করবে এবং পরে সালাম ফিরিয়ে সিজদায়ে সাহূ দুই সিজদা করবে।
১০২১. মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ...... অন্য সূত্রে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ ভুল করবে, তখন দুইটি সিজদা দিবে। অতঃপর তিনি তার মুখ ফিরিয়ে দুইটি সিজদা করেন।
১০২২. নাসর ইবন আলী ও ইউসুফ ইবন মূসা (রহঃ) এর মিলিত সনদে .... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে নামায আদায়কালে পাঁচ রাকাত আদায় করেন। নামায শেষে এ সম্পর্কে লোকেরা পরষ্পরের মধ্যে চুপে চুপে আলাপ করতে থাকে। এতদ্দর্শনে তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ কি ব্যাপার, তোমাদের কি হয়েছে? জবাবে তারা বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! নামায কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বলেনঃ না। তখন তাঁরা বলেনঃ আপনি তো পাঁচ রাকাত আদায় করেছেন। এতদশ্রবণে তিনি পুনরায় গমন করতঃ দুইটি সিজদা আদায়ের পর সালাম ফিরিয়ে বলেনঃ আমিও তোমাদের মত একজন মানুষ। কাজেই আমারও তোমাদের ন্যায় ভুল হতে পারে। (মুসলিম)
১০২৩. কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ..... মুআবিয়া ইবন হুদায়জ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাআতের সাথে নামায আদায়কালে এক রাকাত অবশিষ্ট থাকতে সালাম ফিরান। তাঁর নিকট এক ব্যক্তি গিয়ে বলেনঃ আপনি ভুলবশত এক রাকাত বাদ দিয়েছেন। তখন তিনি মসজিদে প্রবেশ করে বিলালকে ইকামত দিতে বলেন এবং তিনি লোকদের নিয়ে বাকী নামায আদায় করেন।
রাবী বলেনঃ এই ঘটনা আমি লোকদের নিকট বর্ণনা করলে তাঁরা জিজ্ঞেস করেনঃ আপনি কি ঐ ব্যক্তিকে চিনেন? জবাবে তিনি বলেনঃ না, আমি মাত্র তাঁকে দেখেছিলাম। এই সময় ঐ ব্যক্তিকে আমার পাশ দিয়ে গমনকালে আমি বলি-ইনিই সেই ব্যক্তি। তখন তাঁরা বলেনঃ এই ব্যক্তির নাম তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ (রাঃ)। (নাসাঈ)
১০২৪. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) ...... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে (রাকাত ইত্যাদি সম্পর্কে) সন্দিহান হবে, তখন তা দূরীভূত করে দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে খেয়াল করবে এবং যখন তার দৃঢ় বিশ্বাস এই হবে যে, তার নামায শেষ হয়েছে, তখন সে দুটি সিজদা করবে। যদি প্রকৃতপক্ষে তার নামায পূর্ণ হয়ে থাকে, তবে দুটি সিজদা এবং শেষ রাকাত তার জন্য নফল হিসাবে পরিগণিত হবে। তার পূর্বে যদি তার নামায পরিপূর্ণ না হয়ে থাকে, তবে শেষের দুই সিজদা তার নামাযের পরিপূরক হবে এবং এই সিজদা দুইটি শয়তানের জন্য অপমান স্বরূপ। (মুসলিম, নাসাঈ, ইব্ন্ মাজা)
হাদিস নং ১০২৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رِزْمَةَ، أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَمَّى سَجْدَتَىِ السَّهْوِ الْمُرْغِمَتَيْنِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
১০২৫. মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি সিজদায়ে সাহূকে ’’মুরগামাতায়ন’’ নামকরণ করেছেন। (অর্থাৎ এই দুটি সিজদা শয়তানকে অপমান করে থাকে)।
১০২৬. আল-কানবী (রহঃ) ..... আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে সন্দিহান হয়ে এমন অবস্থায় পতিত হবে যে, তিন না চার রাকাত আদায় করেছে তা ঠিক করতে পারে না, তখন সে আরো এক রাকাত নামায পূরণ করে বসা অবস্থায় সর্বশেষ সালামের পূর্বে ভুলের জন্য দুইটি সিজদা করবে। যদি শেষ রাকাত পঞ্চম রাকাত হয়, তবে এই দুটি সিজদা তার জের হিসাবে পরিণত হবে এবং যদি তা চতুর্থ রাকাত হয়, তবে এই দুটি সিজদা শয়তানকে অপমান করার জন্য হবে।
১০২৭. কুতায়বা (রহঃ) ..... যায়েদ ইবন আসলাম (রহঃ) রাবী মালিকের সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে সন্দেহে পতিত হয় এবং সে এরূপ দৃঢ় বিশ্বাস পোষন করে যে, সে তিন রাকাত আদায় করেছে, তখন সে যেন চতুর্থ রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে তা সিজদা সহকারে আদায় করে তাশাহহুদ পাঠের নিমিত্তে বসবে। তাশাহহুদ পাঠের পর বসা অবস্থায় দুটি সিজদা দিবে এবং সবশেষে সালাম ফিরাবে।
১০২৮. আন-নুফায়লী (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তুমি নামাযের মধ্যে তিন রাকাত না চার রাকাত আদায় করেছ, এ সম্পর্কে সন্দীহান হবে এবং তখন তোমার অধিক ধারণা চার রাকাত আদায় করেছ, এ সম্পর্কে সন্দীহান হবে এবং তখন তোমার অধিক ধারণা চার রাকাত আদায়ের প্রতি হবে, তখন তুমি তাশাহহুদ পাঠরত বসা অবস্থায় সালামের পূর্বে দুইটি সিজদা করবে। অতঃপর আবার তাশাহহুদ পাঠ করে সালাম ফিরাবে। (নাসাঈ)
১০২৯. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ও মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামায আদায়কালে (রাকাতের) কম বেশী সম্পর্কে সন্দীহান হবে, তখন সে ব্যক্তি বসা অবস্থায় দুটি সিজদা করবে। অতঃপর যদি তার নিকট শয়তান এসে ধোঁকা দেয়, (হে নামাযী) তোমার উযু নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তখন নামাযী বলবে (হে শয়তান!) তুমি মিথ্যাবাদী; তবে বায়ু নির্গমনের শব্দ বা দুর্গন্ধ যদি অনুভূত হয় (তবে তাকে নতুনভাবে উযু করতে হবে) (ইবনে মাজা, তিরমিযী)।
১০৩০. আল-কানবী (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামাযে দন্ডায়মান হয়, তখন শয়তান তার নিকট এসে তাকে ধোঁকা দিতে দিতে এমন পর্যায়ে পৌঁছে দেয় যে, সে কয় রাকাত আদায় করেছে-তা স্মরণ করতে পারে না। তোমাদের কারো যখন এমন অবস্থা হবে, তখন সে যেন বসা অবস্থায় দুটি সিজদা দেয়। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবন মাযা, নাসাঈ)
১০৩১. হাজ্জাজ ইবন আবু ইয়াকুব (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম (রহঃ) উপরোক্ত হাদীছের সনদে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি আরও বর্ণনা করেছেন যে, সালামের পূর্বে বসা অবস্থায় (সাহূ সিজদা) করবে।
১০৩২. হাজ্জাজ (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম যুহরী (রহঃ) উপরোক্ত সনদ ও অর্থে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ সালামের পূর্বে দুটি সিজদা দিয়ে পরে সালাম ফিরাবে।
১০৩৩. আহমাদ ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন্ জাফর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি নামাযের মধ্যে সন্দীহান হবে, সে যেন সালাম ফিরাবার পর দুইটি সিজদা (সাহূ) করে।
২০৬. দুই রাকাতের পর তাশাহুদ পাঠ না করে দাঁড়ানো সম্পর্কে।
হাদিস নং ১০৩৪সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ، أَنَّهُ قَالَ صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَلَمْ يَجْلِسْ فَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ وَانْتَظَرْنَا التَّسْلِيمَ كَبَّرَ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ قَبْلَ التَّسْلِيمِ ثُمَّ سَلَّمَ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহায়নাহ্ (রাঃ)
১০৩৪. আল-কানবী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন বুহায়না (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাআতে নামায আদায় করার সময় দুই রাকাতের পর না বসে (ভুলবশত তৃতীয় রাকাতের) জন্য দন্ডায়মান হন এবং মুক্তাদীগণও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে যায়। নামায শেষে আমরা যখন সালামের অপেক্ষায় ছিলাম, তখন তিনি বসা অবস্থায় সালামের পূর্বে আল্লাহু আকবার বলে দুইটি সিজদা দেন এবং অতপর তিনি সালাম ফিরান।
১০৩৫. আমর ইবন উছমান (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীছের সনদ ও অর্থের অনুরূপ হাদীছ বর্ণনা করেছেন এবং এখানে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ (ভুলবশতঃ) দাঁড়ানো অবস্থায় তাশাহহুদ পাঠ করেন।
ইমাম আবু দাউদ বলেনঃ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিজদার অনুরূপ সিজদা করেন। এটা যুহরী (রহঃ) এর কথা।
১০৩৬. হাসান ইবন আমর (রহঃ) ...... মুগীরা ইবন শোবা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন ইমাম (তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযে) দুই রাকাত আদায়ের পর না বসে দন্ডায়মান হওয়া কালে সম্পূর্ণ সোজা হওয়ার পূর্বে এটা তার স্মরণ হয়; তখন তিনি সাথে সাথেই বসবেন এবং যদি তিনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়ে থাকেন তখন তিনি আর না বসে নামায শেষে দুইটি সিজদা সাহূ করবেন (ইবন মাজা)।
১০৩৭. উবায়দুল্লাহ ইবন উমার (রহঃ) .... যিয়াদ ইবন ইলাকা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মুগীরা (রাঃ) ইমামতি করা কালে দুই রাকাতের পর না বসে দন্ডায়মান হন। তখন আমরা ’সুবহানাল্লাহ’ বলি (ভুল সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য নামাযের মধ্যে এরূপ বলতে হয়)। জবাবে তিনিও ’’সুবহানাল্লাহ’’ বলেন। নামায সমাপনান্তে তিনি ভুলের জন্য দুইটি সিজদা সাহূ করেন। পরে তিনি সে স্থান ত্যাগ করবার পর বলেনঃ আমি যেরূপ করেছি, এরূপ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে করতে দেখেছি। (তিরমিযী)।
অন্য বর্ণনায় আবু উমায়েস .... ছাবিত ইবন উবায়েদ হতে উল্লেখ করেছেন যে, একদা মুগীরা ইবন শোবা (রাঃ) নামায পড়াচ্ছিলেন ... অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, আবু উমায়স (রহঃ) মাসউদীর ভাই। সাদ ইবন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) ও মুগীরা (রাঃ) এর অনুরূপ করেছেন। ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ), দাহহাক ইবন কায়স (রাঃ), মুআবিয়া (রাঃ), ইবন আব্বাস (রাঃ) এবং উমার ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-ও অনুরূপ ফতোয়া দিয়েছেন।
ইমাম আবু দাউদ বলেনঃ এটা ঐ ব্যক্তিদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, যারা দুই রাকাতের সময় না বসার ভুলের জন্য সালামের পর সিজদায় সাহূ আদায় করে থাকে।
১০৩৮. আমর ইবন উছমান (রহঃ) ..... ছাওবান (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ নামাযের মধ্যে যে কোন ভুলের জন্য দুটি সিজদায় সাহু করতে হয় (ইবনে মাজা)।
২০৮. দুইটি সাহু সিজদার পর তাশাহুদ পড়বে, অতঃপর সালাম ফিরাবে।
১০৩৯. মুহাম্মাদ ইবন ইয়াইয়া (রহঃ) ..... ইমরান ইবন হুসায়েন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের সাথে নামায আদায়কালে ভুল করেন। অতঃপর তিনি ভুলের জন্য দুটি সিজদা করেন। পরে তাশাহহুদ পাঠ করে সালাম ফিরান। (নাসাঈ, তিরমিযী)।
২০৯. পুরুষদের পূর্বে স্ত্রীলোকদের নামায শেষে প্রস্থান সম্পর্কে।
হাদিস নং ১০৪০সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ هِنْدَ بِنْتِ الْحَارِثِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَلَّمَ مَكَثَ قَلِيلاً وَكَانُوا يَرَوْنَ أَنَّ ذَلِكَ كَيْمَا يَنْفُذَ النِّسَاءُ قَبْلَ الرِّجَالِ .<br /> <br /> صحيح خ لكنه جعل قوله وكانوا يرون مدرجا من قول الزهري (الألباني
বর্ণনাকারী: উম্মু সালামাহ (রাঃ)
১০৪০. মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উম্মে সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষে সালামের পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন। লোকেরা এর অর্থ করত যাতে মহিলারা পুরুষদের পূর্বে মসজিদ হতে বের হয়ে যেতে পারে। (বুখারী, নাসাঈ, ইবন মাজা)
২১০. নামায শেষে প্রস্থানের পদ্ধতি সম্পর্কে।
হাদিস নং ১০৪১হাসান
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ هُلْبٍ، - رَجُلٍ مِنْ طَيِّئٍ - عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَكَانَ يَنْصَرِفُ عَنْ شِقَّيْهِ .
বর্ণনাকারী: কাবীসাহ্ ইবনু হুল্ব (রহঃ)
১০৪১. আবুল ওলীদ (রহঃ) .... কাবীসা ইবন হুলব (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে নামায আদায় করেছেন এবং তিনি নামায শেষে মসজিদের কোন এক পাশ (ডান বা বাম) দিয়ে ঘুরে বসতেন। (ইবন মাজা, তিরমিযী)
হাদিস নং ১০৪২সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لاَ يَجْعَلْ أَحَدُكُمْ نَصِيبًا لِلشَّيْطَانِ مِنْ صَلاَتِهِ أَنْ لاَ يَنْصَرِفَ إِلاَّ عَنْ يَمِينِهِ وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكْثَرَ مَا يَنْصَرِفُ عَنْ شِمَالِهِ . قَالَ عُمَارَةُ أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ بَعْدُ فَرَأَيْتُ مَنَازِلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَنْ يَسَارِهِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
১০৪২. মুসলিম ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) .... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যেন স্বীয় নামাযের মধ্যে শয়তানের জন্য কোন অংশ না রাখে। অর্থাৎ সালাত শেষে শুধু দান দিক থেকেই ঘুরে না বলে বা সে নির্গমনের সময় শুধুমাত্র ডানদিক হতেই বের হবে। তিনি আরো বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অধিকাংশ সময়ে বাম দিক থেকে ঘুরতে দেখেছি।
রাবী উমারা বলেনঃ এই হাদীছ শ্রবনের পর আমি যখন মদীনায় গমন করি, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুজরাসমূহ মসজিদের বাম দিকে দেখতে পাই। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
২১১. নফল নামায ঘরে আদায় করা উত্তম।
হাদিস নং ১০৪৩সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اجْعَلُوا فِي بُيُوتِكُمْ مِنْ صَلاَتِكُمْ وَلاَ تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১০৪৩. আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা তোমাদের স্ব স্ব গৃহে (নফল) নামায আদায় করবে এবং তোমাদের ঘরকে তোমরা (নামায আদায় না করে) কবর সদৃশ্য করবে না। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)
১০৪৪. আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ) .... যায়েদ ইবন ছাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ফরয নামায ব্যতীত যে কোন ধরনের নফল নামায আমার এই মসজিদ (মসজিদে নববী) হতে ঘরে পড়াই শ্রেয়। (নাসাঈ, তিরমিযী)
২১২. কিবলা ব্যাতিত অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নামায আদায় করার পর, তা জ্ঞাত হলে।
১০৪৫. মূসা ইবন ইসমাইল (রহঃ) .... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাথীরা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামায আদায় করতেন। অতঃপর যখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ তোমরা যেখানেই থাক, মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরিয়ে নামায আদায় কর। (অর্থাৎ এ সময় বায়তুল্লাহকে কিবলা হিসাবে নির্ধারিত করা হয়) এ সময় বনী সালমাহর এক ব্যক্তি মসজিদের পাশ দিয়ে গমন কালে দেখতে পান যে, তারা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে ফজরের নামায আদায় করছেন। তখন তিনি দুইবার (চীৎকার করে) বলেনঃ নিশ্চয়ই কিবলাকে এখন বায়তুল্লাহর দিকে ফিরানো হয়েছে। তাঁরা রুকু অবস্থায় কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন। (মুসলিম, নাসাঈ)
১০৪৬. আল্-কানবী (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে সব দিনে সূর্যোদয় হয় তার মধ্যে জুমুআর দিনই উত্তম। ঐ দিনেই আদম (আঃ) সৃষ্টি হয়েছিলেন, ঐ দিনই তাঁকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়, ঐ দিনই তাঁর তওবা কবুল হয় এবং ঐ দিন তিনি ইন্তিকাল করেন। ঐ দিনই কিয়ামত কায়েম হবে, এই দিন জীন ও ইনসান ব্যতীত সমস্ত প্রাণীকুল সুবহে সাদেক হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত থাকবে। এই দিনের মধ্যে এমন একটি সময় নিহিত আছে, তখন কোন মুসলিম বান্দা নামায আদায়ের পর আল্লাহর নিকট যা প্রার্থনা করবে তাই প্রাপ্ত হবে।
কাব (রাঃ) বলেন, এইরূপ দু’আ কবুলের সময় সারা বছরের মধ্যে মাত্র এক দিন। রাবী বলেন, আমি তাঁকে বললাম, বছরের একটি দিন নয়, বরং এটা প্রতি জুমুআর দিনের মধ্যে নিহিত আছে। রাবী বলেন, অতঃপর কাব (রাঃ) তার প্রমানস্বরূপ তাওরাত পাঠ করে বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য বলেছেন।
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি বিশিষ্ট সাহাবী আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করি (যিনি ইহুদীদের মধ্যে বিজ্ঞ আলিম ছিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন) এবং তাঁকে এ ব্যাপারে অবহিত করি। এই সময় কাব (রাঃ)-ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) বলেন, দু’আ কবুলের সেই বিশেষ সময় সম্পর্কে আমি জ্ঞাত আছি। তখন আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমাকে ঐ সময় সম্পর্কে অবহিত করুন।
আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) বলেন, তা হল জুমুআর দিনের সর্বশেষ সময়। আমি বললাম, তা জুমুআর দিনের সর্বশেষ সময় কিরূপে হবে? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে কোন বান্দা নামায আদায়ের পর উক্ত সময়ে দু’আ করলে তার দু’আ কবুল হবে। অথচ আপনার বর্ণিত সময়ে কোন নামায আদায় করা যায় না। আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেন নি যে, কোন ব্যক্তি নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকলে নামায আদায় না করা পর্যন্ত তাকে নামাযে রত হিসাবে গণ্য করা হয়? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তা ঐ সময়টি। (নাসাঈ, তিরমিযী, বুখারী, মুসলিম)
১০৪৭. হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আওস ইবন আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ দিনসমূহের মধ্যে জুমুআর দিনই সর্বোৎকৃষ্ট। এই দিনই আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং এই দিন তিনি ইন্তিকাল করেন। ঐ দিনে শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে। ঐ দিন সমস্ত সৃষ্টিকুল বেহুশ্ হবে। অতএব তোমরা ঐ দিন আমার উপর অধিক দুরূদ পাঠ করবে, কেননা তোমাদের দুরূদ আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার দেহ তো গলে যাবে। এমতাবস্থায় আমাদের দুরূদ কিরূপে আপনার সম্মুখে পেশ করা হবে? তিনি বলেনঃ আল্লাহ জাল্লা জালালুহু আম্বিয়ায় কিরামের দেহসমূহ মাটির জন্য (বিনষ্ট করা হতে) হারাম করে দিয়েছেন। (নাসাঈ, ইবন মাজা)
১০৪৮. আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ) ..... জাবের ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ জুমুআর দিনের বার ঘন্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে, তখন কোন মুসলিম আল্লাহর নিকট যাই দু’আ করে আল্লাহ তাই কবুল করেন। তোমরা এই মুহূর্তটিকে আসরের শেষে অনুসন্ধান কর। (নাসাঈ)।
হাদিস নং ১০৪৯যঈফ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ بُكَيْرٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أَسَمِعْتَ أَبَاكَ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَأْنِ الْجُمُعَةِ يَعْنِي السَّاعَةَ . قَالَ قُلْتُ نَعَمْ سَمِعْتُهُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " هِيَ مَا بَيْنَ أَنْ يَجْلِسَ الإِمَامُ إِلَى أَنْ تُقْضَى الصَّلاَةُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَعْنِي عَلَى الْمِنْبَرِ .
১০৪৯. আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ) .... আবু বুরদা ইবন আবু মূসা আল-আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) আমাকে বলেন, আপনি আপনার পিতাকে জুমুআর দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন কি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আমি আমার পিতার সূত্রে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ এই বিশেষ মুহূর্তটি হল, ইমামের খুতবা দানের জন্য মিম্বরের উপর বসার সময় হতে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত।
১০৫০. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযু করে জুমুআর নামায পড়তে আসে এবং চুপ করে (খুতবা) শুনে আল্লাহ তা’আলা ঐ ব্যক্তির এক জুমুআ হতে অন্য জুমুআর মধ্যবর্তী সময়ের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেন এবং আরো তিন দিনের গুনাহও মাফ করে দিয়ে থাকেন। তিনি আরো বলেনঃ যে ব্যক্তি (খুতবা ও নামাযের সময়) কংকর সরায় সে যেন বেহুদা কর্মে লিপ্ত হল। (মুসলিম, তিরমিযী, ইবন মাজা)।
১০৫১. ইব্রাহীম ইবন মূসা (রহঃ) ..... আতা আল-খুরাসানীর স্ত্রী উম্মে উছমানের আযাদকৃত গোলাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আলী (রাঃ)-কে কুফার মসজিদে মিম্বরের উপর বসে বলতে শুনেছিঃ যখন জুমুআর দিন আসে, তখন শয়তান স্বীয় ঢালসহ বাজারে (বা লোকদের একত্রিত হওয়ার স্থানে) ঘুরে বেড়ায় আর লোকজন বিভিন্ন প্রয়োজনের বেড়াজালে নিক্ষিপ্ত করে নামায হতে বিরত রাখতে চেষ্টা করে এবং জুমুআয় হাযির হতে বিলম্ব ঘটায়। পক্ষান্তরে জুমুআর দিন ফেরেশতারা দপ্তরসহ (নথিপত্র) আগমন করেন এবং মসজিদের দরজায় উপবেশন করে এবং প্রত্যেক ব্যক্তির আগমনের সময় লিপিবদ্ধ করেন, এমনকি ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য মিম্বরের উপর আরোহন করা পর্যন্ত তাঁরা একাজে লিপ্ত থাকেন। (অতঃপর ইমাম মিম্বরের উপর বসার সাথে সাথেই তাঁরা খাতা বন্ধ করে দেন)।
ইমাম খুতবা দেয়া শুরু করলে যে ব্যক্তি চুপচাপ বসে শুনে সে দুইটি বিনিময় প্রাপ্ত হয়। আর যে ব্যক্তি এতদূরে বসে যে, ইমামের খুতবা শুনতে পায় না; তবুও সে চুপ করে বসে থাকার জন্য একটি বিনিময় প্রাপ্ত হবে। আর যে ব্যক্তি এমন স্থানে উপবেশন করে যেখান হতে সে ইচ্ছা করলে ইমামের খুতবা শুনতে এবং তাকে দেখতেও পারে, কিন্তু সে এরূপ না করে বেহুদা কথা ও কর্মে লিপ্ত হয়, সে গুনাহগার হবে। অতঃপর যে ব্যক্তি জুমু’আর দিন ইমামের খুতবা দানের সময় অন্যকে চুপ থাকতে বলে সেও বেহুদা কর্মে লিপ্ত হয়। আর যে ব্যক্তি এরূপ বেহুদা কথা বা কর্মে লিপ্ত হয়, সে জুমুআর দিনের কোন ফযীলাত প্রাপ্ত হবে না। অতঃপর আলী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ বলতে শুনেছি। (আহমাদ)
২১৬. জুমুআর নামায ত্যাগ করার কঠোর পরিণতি সম্পর্কে।
১০৫২. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আবুল জাদ্ আদ-দামিরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি বিনা কারণে অলসতা হেতু তিনটি জুমুআর নামায পরিত্যাগ করে আল্লাহ তার অন্তরের উপর মোহর মেরে দেন (যাতে কোন কল্যাণ তাতে প্রবেশ করতে না পারে, ফলে তাতে কল্যান ও বরকত প্রবেশের দ্বার বন্ধ হয়ে যায়)। (নাসাঈ, ইবন মাজা, তিরমিযী)
১০৫৩. আল-হাসান ইবন আলী (রহঃ) ..... সামুরা ইবন জুনদুব (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি বিনা ওযরে জুমুআর নামায ত্যাগ করে, সে যেন এক দ্বীনার সদকা করে। যদি তার পক্ষে এক দ্বীনার (স্বর্ণমুদ্রা) সদকা করা সম্ভব না হয়, তবে যেন অর্ধ-দ্বীনার সদ্কা করে (নাসাঈ)।
ইমাম আবু দাউদ (রহ) বলেন, খালিদ ইবন কায়েস (রহঃ) ও ভিন্ন সনদে এই হাদীছটি এইরূপে বর্ণনা করেছেন।
১০৫৪. মুহাম্মাদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ..... কুদামা ইবন ওয়াবারাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তির বিনা কারণে জুমুআর নামায পরিত্যক্ত হবে, সে যেন এক দিরহাম বা অর্ধ দিরহাম অথবা এক সা’ গম, বা অর্ধ-সা’ গম আল্লাহর ওয়াস্তে সদকা করে। (নাসাঈ, ইবন মাজা)।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবন বাশীর এরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি সা’ এর পরিবর্তে এক মুদ্দ অথবা অর্ধ মুদ্দ শব্দ উল্লেখ করেছেন (এক মুদ্দ ¼ সা’)।
১০৫৫. আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ) .... নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন নিজ নিজ ঘর হতে (মদীনা শহরের) জুমুআর নামায আদায়ের জন্য মসজিদে নববীতে আগমন করতেন, এমনকি ’আওয়ালীয়ে মদীনা’ (অর্থাৎ মদীনার শহরতলী) হতেও লোকজন আসতো।
১০৫৬. মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যারা জুমুআর নামাযের আযান শুনতে পাবে তাদের উপর জুমুআর নামায আদায় করা ওয়াজিব। (বাধ্যতামূলক)।
২১৯. বৃষ্টির দিনে জুমুআর নামায।
হাদিস নং ১০৫৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ يَوْمَ، حُنَيْنٍ كَانَ يَوْمَ مَطَرٍ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُنَادِيَهُ أَنِ الصَّلاَةُ فِي الرِّحَالِ .
বর্ণনাকারী: আবূ মালীহ্ আল হুযালী (রহঃ)
১০৫৭. মুহাম্মাদ ইবন কাছীর (রহঃ) .... আবু মালীহ (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধের দিন বৃষ্টি হচ্ছিল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআযযিনকে স্ব-স্ব অবস্থানে নামায আদায়ের ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দেন (বৃষ্টিপাতের মধ্যে একত্রিত হয়ে নামায আদায়ের কোন ব্যবস্থা না থাকায় এরূপ করা হয়)। (নাসাঈ)
১০৫৯. নাসর ইবন আলী (রহঃ) ...... আবু মালীহ (রাঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় তিনি জুমুআর দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসেন। ঐ সময় হালকা বৃষ্টি হয় যাতে জুতার তলাও ভিজে নাই। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলকে স্ব-স্ব অবস্থানস্থলে নামায আদায়ের নির্দেশ দেন। (ইবন মাজা)
১০৬০. মুহাম্মাদ ইবন উবায়েদ (রহঃ) .... নাফে (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবন উমার (রাঃ) একদা দাজনান্ নামক স্থানে (মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী একটি জায়গা) শীতের রাতে অবতরণ করেন। ঐ সময় তিনি মুআযযিনকে স্ব-স্ব স্থানে নামায আদায়ের ঘোষণা দিতে বলেন।
রাবী আইয়ূব বলেন, নাফে (রহ) থেকে ইবন উমার (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচন্ড শীত ও বৃষ্টির রাতে মুআযযিনকে স্ব-স্ব আবাসে নামায আদায়ের ঘোষনা দেয়ার নির্দেশ দিতেন।
১০৬১. মুআম্মাল ইবন হিশাম (রহঃ) .... নাফে (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার (রাঃ) দাজনান নামক স্থানে নামাযের জন্য আযান দেন। অতঃপর তিনি স্ব-স্ব অবস্থানে সকলকে নামায আদায়ের নির্দেশ দেন।
রাবী নাফে (রহঃ) বলেন, অতঃপর ইবন উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুআযযিনকে নামাযের আযান দিতে বলতেন, অতঃপর মুআযযিন ঘোষণা দিত যে, সফরের সময় প্রচন্ড শীত অথবা বৃষ্টির রাতে স্ব-স্ব অবস্থানে (তাঁবুতে) নামায আদায় কর। (ইবন মাজা)
১০৬২. উছমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) .... ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি দাজনান্ নামক স্থানে প্রচন্ড শীত ও বায়ু প্রবাহের রাতে নামাযের আযান দেন এবং আযান শেষে বলেন, তোমরা স্ব-স্ব অবস্থানে নামায আদায় কর। অতঃপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরকালীন প্রচন্ড শীত ও বর্ষার সময় স্ব-স্ব তাঁবুতে নামায আদায়ের নির্দেশ দিতেন।
১০৬৩. আল্-কানবী (রহঃ) .... নাফে (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবন উমার (রাঃ) শীত ও বায়ু প্রবাহের রাতে নামাযের আযানের পর বলেন, শুনে নাও! তোমরা স্ব-স্ব অবস্থানে নামায আদায় কর। অতঃপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচন্ড শীত অথবা বৃষ্টির রাতে মুআযযিনকে স্ব-স্ব অবস্থানে নামায আদায় করার ঘোষণা দিতে বলতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
হাদিস নং ১০৬৪মুনকার (সহীহ হাদীসের বিপরীত)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَادَى مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ فِي الْمَدِينَةِ فِي اللَّيْلَةِ الْمَطِيرَةِ وَالْغَدَاةِ الْقَرَّةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى هَذَا الْخَبَرَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ عَنِ الْقَاسِمِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِيهِ فِي السَّفَرِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১০৬৪. আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মদীনাতে শীতের ভোরে ও বৃষ্টির রাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে স্ব-স্ব আবাসে নামায আদায়ের ঘোষণা দেন।
অপর এক বর্ণনায় আছে যে, ইবন উমার (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এটা সফরের সময়ের ব্যাপার।
হাদিস নং ১০৬৫সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَمُطِرْنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِيُصَلِّ مَنْ شَاءَ مِنْكُمْ فِي رَحْلِهِ " .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
১০৬৫. উছমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) .... জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। ঐ সময় বৃষ্টিপাত হওয়ায় তিনি সাহাবীদের বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজ ঘরে নামায আদায়ের ইচ্ছা করে সে তা করতে পারে। (মুসলিম, তিরমিযী)
১০৬৬. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনুল হারিছ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবন আব্বাস (রাঃ) বৃষ্টির দিনে তাঁর মুআযযিনকে বলেন, তুমি ’’আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’’ বলার পর ’হাইয়্যা আলাস্ সালাত’ বল না, বরং বলবে ’সাল্লু ফী বাইতিকুম’ (তোমরা নিজ নিজ ঘরে নামায আদায় কর)। এতদশ্রবণে লোকেরা তা অপছন্দ করেন। তখন তিনি বলেন, তা আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি করেছেন। জুমুআর নামায আদায় করা ওয়াজিব। এরূপ বৃষ্টি-বাদলের মধ্যে হেটে এসে তা আদায় করবার জন্য তোমাদেরকে বাধ্য করতে আমি পছন্দ করি না। (বুখারী, মুসলিম, ইবন মাজা)
২২১. মহিলা ও গোলামদের জন্য জুমুআর নামায ফরয নয়।
হাদিস নং ১০৬৭সহিহ
حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا هُرَيْمٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْجُمُعَةُ حَقٌّ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فِي جَمَاعَةٍ إِلاَّ أَرْبَعَةً عَبْدٌ مَمْلُوكٌ أَوِ امْرَأَةٌ أَوْ صَبِيٌّ أَوْ مَرِيضٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ طَارِقُ بْنُ شِهَابٍ قَدْ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ شَيْئًا .
বর্ণনাকারী: তারিক ইবনু শিহাব (রহঃ)
১০৬৭. আব্বাস ইবন আব্দুল আযীম (রহঃ) ..... তারিক ইবন শিহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমুআর নামায প্রত্যেক মুসলিমের উপর জামাআতের সাথে আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু তা চার প্রকার লোকের উপর ওয়াজিব নয়ঃ ক্রীতদাস, মহিলা, শিশু ও রুগ্ন ব্যক্তি।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, তারিক ইবন শিহাব (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছেন, তবে তিনি তাঁর নিকট হতে কিছু শুনেননি।
১০৬৮. উছমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসলামের প্রথম জুমুআ মদীনাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মসজিদে (মসজিদে নববীতে) অনুষ্ঠিত হওয়ার পর অন্য যেখানে প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা হল বাহরাইনের আব্দুল কায়েস গোত্রে অবস্থিত ’’জাওয়াছা’’ নামক গ্রামে। রাবী উছমান (রহঃ) বলেন, তা আবদুল কায়েস নামীয় গোত্রের বসতি এলাকা। (বুখারী)
১০৬৯. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রহঃ) ...... আব্দুর রহমান ইবনে কাব ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তার পিতা কাব (রাঃ) এর দৃষ্টিশক্তি বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি তার পরিচালক ছিলেন। তিনি তার পিতা কাব (রাঃ) এর সূত্রে হাদীছ বর্ণনা প্রসংগে বলেন, তার পিতা যখন জুমার নামাযের আযান শুনতেন, তখন আস্আদ ইবনে যুরারা (রাঃ) এর জন্য দোয়া করতেন। তার এরূপ দোয়া করার কারণ সম্পর্কে আমি জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যেহেতু তিনি ইয়ামানের “হাযম আল-নাবিত” নামক গ্রামে আমাদের জন্য সর্বপ্রথম জুমার নামায কায়েম করেন। এই স্থানটি “নাকী” নামক স্থানের “বানি বায়াদার-হুররাতে” অবস্থিত এবং তা নাকী আল-খাদামাত নামে প্রসিদ্ধ। অতঃপর আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করি, সে সময়ে আপনারা সংখ্যায় কতজন ছিলেন? তিনি বলেনঃ চল্লিশজন। (ইবনে মাজাহ)
১০৭০. মুহাম্মদ ইবনে কাছীর (রহঃ) .... আইয়াস ইবনে আবু রামলা আশ-শামী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মুয়াবিয়া বিন আবু সুফীয়ান (রাঃ) যায়েদ বিন আরকাম (রাঃ)-কে কিছু জিজ্ঞাসা করার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তিনি (মুয়াবিয়া) বলেন, আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে তার সাথে ঈদ ও জুমা একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন? তিনি (যায়েদ বিন আরকাম) উত্তর দিলেন: হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কিরূপে তা আদায় করেছিলেন? তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে ঈদের নামায আদায় করেন, অতঃপর জুমার নামায আদায়ের ব্যাপারে অবকাশ প্রদান করে বলেনঃ যে ব্যক্তি তা আদায় করতে চায়, সে তা আদায় করতে পারে। (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
১০৭১. মুহাম্মদ ইবনে তারীফ (রহঃ) .... আতা ইবনে আবু রাবাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনে যুবাইর (রাঃ) জুমার দিনে আমাদের সাথে ঈদের নামায আদায় করেন। অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে একটু হেলে যাওয়ার পর আমরা জুমার নামায পড়তে যাই। কিন্তু তিনি না আসাতে আমাদের প্রত্যেকে একাকী নামায আদায় করেন। ঐ সময় ইবনে আব্বাস (রাঃ) তায়েফে ছিলেন। তিনি তায়েফ থেকে ফেরার পর আমরা বিষয়টি তার নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ইবনে যুবাইর (রাঃ) সুন্নাত অনুসারে কাজ করেছেন। (নাসাঈ)
১০৭২. ইয়াহিয়া ইবনে খালাফ (রহঃ) ..... ইবনে জুরায়জ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আতা (রাঃ) বলেছেন, ইবনে যুবায়ের (রাঃ) এর সময় একবার ঈদুল ফিতর ও জুমা একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ইবনে যুবাইর (রাঃ) বলেন, একই দিনে দুইটি ঈদের সমাগম হয়েছে। তখন তিনি দুইটিকে একত্রিত করে উভয় ঈদের জন্য দুই রাকাত নামায আদায় করেন এবং সেদিন তিনি আছরের পূর্বে আর কোন নামায পড়েননি।
১০৭৩. মুহাম্মদ ইবনুল মুসাফ্ফা (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আজকের এই দিনে দুইটি ঈদের সমাগম হয়েছে (ঈদ ও জুমা)। অতএব কোন ব্যক্তি ইচ্ছা করলে জুমার নামায আদায় করে তার ফযীলত অর্জন করতে পারে এবং আমি দুটিই (ঈদ ও জুমা) আদায় করব। (ইবনে মাজাহ)
১০৭৫. মুসাদ্দাদ .... মুখাওয়াল (রহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীছটি একই অর্থে বর্ণিত হয়েছে। তবে সেখানে আরো উল্লেখ আছে যে, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার নামাযে সূরা জুমা এবং সূরা আল-মুনাফিকুন তিলাওয়াত করতেন। (মুসলিম, নাসাঈ)
২২৫. জুমুআর জন্য পরিধেয় বস্র সম্পর্কে।
হাদিস নং ১০৭৬সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رَأَى حُلَّةً سِيَرَاءَ - يَعْنِي تُبَاعُ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ - فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اشْتَرَيْتَ هَذِهِ فَلَبِسْتَهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلِلْوَفْدِ إِذَا قَدِمُوا عَلَيْكَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ فِي الآخِرَةِ " . ثُمَّ جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا حُلَلٌ فَأَعْطَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ مِنْهَا حُلَّةً فَقَالَ عُمَرُ كَسَوْتَنِيهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَقَدْ قُلْتَ فِي حُلَّةِ عُطَارِدَ مَا قُلْتَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لَمْ أَكْسُكَهَا لِتَلْبَسَهَا " . فَكَسَاهَا عُمَرُ أَخًا لَهُ مُشْرِكًا بِمَكَّةَ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১০৭৬. আল-কানবী (রহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) মসজিদের দরজার সামনে স্বর্ণখচিত রেশমী কাপড় বিক্রয় হতে দেখে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি আপনি এই কাপড় খরিদ করতেন, তবে এর তৈরী জামা জুমার দিনে এবং বহিরাগত প্রতিনিধিগণ যখন আপনার খিদমতে উপস্থিত হয় তখন পরিধান করতে পারতেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এটা তো ঐ ব্যক্তি পরিধান করতে পারে যার আখিরাতে কোন অংশ নেই। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে ঐ জাতীয় কিছু কাপড় হাদিয়া স্বরূপ এলে তিনি তা থেকে উমর (রাঃ)-কে একটি নকশীদার চাদর দান করেন। তখন উমর (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এটা আপনি আমাকে পরিধানের জন্য দিয়েছেন, কিন্তু ইতিপূর্বে আপনি উতারাদের রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এটা তোমার পরিধানের জন্য দেইনি। অতপর উমর (রাঃ) কাপড়টি মক্কায় তার এক অমুসলিম দুধভাইকে দান করেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
১০৭৭. আহমদ ইবনে সালেহ (রহঃ) ..... সালেম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন একদা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বাজারে রেশমের মোটা কাপড় বিক্রি হতে দেখে তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে পেশ করে বলেন, আপনি এটা খরিদ করুন এবং তা পরিধান করে ঈদের নামায আদায় করতে এবং বহিরাগত প্রতিনিধিদলের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। অতঃপর উক্ত হাদীসের পরবর্তী অংশ বর্ণিত হয়েছে এবং প্রথম হাদীছটিই পূর্ণাংগ।
১০৭৮. আহমদ ইবনে সালেহ (রহঃ) ...... মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহিয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কারো পক্ষে বা তোমাদের পক্ষে সম্ভব হলে-নিজেদের সচরাচর পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া-জুমার নামাযের জন্য পৃথক দুইটি কাপড়ের ব্যবস্থা করে নেবে।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, ইবনে সালাম (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উপরোক্ত হাদীছ মিম্বরের উপর বসে বলতে শুনেছেন।
১০৭৯. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আমর ইবনে শুয়াইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তারঁ পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বেচা-কেনা করতে, হারানো জিনিস খোঁজ করতে এবং কবিতা পাঠ করতে নিষেধ করেছেন এবং জুমার দিন নামাযের পূর্বে গোলাকার হয়ে বসতেও নিষেধ করেছেন। (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজী)
২২৭. মিম্বর তৈরি সম্পর্কে।
হাদিস নং ১০৮০সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيُّ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمِ بْنُ دِينَارٍ، أَنَّ رِجَالاً، أَتَوْا سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ وَقَدِ امْتَرَوْا فِي الْمِنْبَرِ مِمَّ عُودُهُ فَسَأَلُوهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْرِفُ مِمَّا هُوَ وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ أَوَّلَ يَوْمٍ وُضِعَ وَأَوَّلَ يَوْمٍ جَلَسَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى فُلاَنَةَ امْرَأَةٍ قَدْ سَمَّاهَا سَهْلٌ " أَنْ مُرِي غُلاَمَكِ النَّجَّارَ أَنْ يَعْمَلَ لِي أَعْوَادًا أَجْلِسُ عَلَيْهِنَّ إِذَا كَلَّمْتُ النَّاسَ " . فَأَمَرَتْهُ فَعَمِلَهَا مِنْ طَرْفَاءِ الْغَابَةِ ثُمَّ جَاءَ بِهَا فَأَرْسَلَتْهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ بِهَا فَوُضِعَتْ هَا هُنَا فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى عَلَيْهَا وَكَبَّرَ عَلَيْهَا ثُمَّ رَكَعَ وَهُوَ عَلَيْهَا ثُمَّ نَزَلَ الْقَهْقَرَى فَسَجَدَ فِي أَصْلِ الْمِنْبَرِ ثُمَّ عَادَ فَلَمَّا فَرَغَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ " أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا صَنَعْتُ هَذَا لِتَأْتَمُّوا بِي وَلِتَعَلَّمُوا صَلاَتِي " .
বর্ণনাকারী: আবূ হাযিম ইবনু দ্বীনার (রহ.)
১০৮০. কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রহঃ) ...... আবু হাযিম ইবনে দ্বীনার (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু লোক সন্দীহান হয়ে সাহাল ইবনে সায়াদ আস-সাঈদী (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বর তৈরী এবং কাঠ সম্পর্কে জানতে চায় এবং তারা তাকে ঐ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! এটা কিসের তৈরী তা আমি অবগত আছি এবং আমি এর (মিম্বরের) প্রথম স্থাপনের দিন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম যেদিন তাতে উপবেশন করেন তা আমি স্বচক্ষে অবলোকন করেছি।
একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার গোত্রের (আয়েশা নাম্নী) এক মহিলার নিকট এক ব্যক্তিকে এই খবরসহ প্রেরণ করেন: তুমি তোমার কাঠমিস্ত্রী মায়মূন নামীয় গোলামকে (রাবী সাহ্ল ঐ মহিলার নাম উল্লেখ করেন) আমার বসে খুতবা দেয়ার জন্য একটি কাঠের মিম্বর তৈরী করতে বল। তিনি ঐ গোলামকে তা তৈরী করার নির্দেশ দেন। তখন ঐ মিস্ত্রী (মদীনা থেকে নয় মাল দূরে) জংগল থেকে সংগৃহীত (ঝাউ নামীয়) গাছের কাঠ দিয়ে মিম্বর তৈরী করেন। অতঃপর তিনি তা নিয়ে তার মালিকার নিকট আসেন। তিনি তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে প্রেরণ করেন। অতপর তার নির্দেশে তা এই স্থানে রাখা হয়।
আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এর উপর নামায পড়তে, তাকবীর বলতে এবং রুকু করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি তা থেকে পেছনের দিকে সরে গিয়ে মিম্বরের গোড়ায় (অর্থাৎ মাটিতে) সেজদা করেন। অতঃপর তিনি তার উপরে উঠেন এবং এইরূপে নামায শেষে লোকদের দিকে ফিরে বলেনঃ হে জনগণ! আমি এজন্য এরূপ করেছি যাতে তোমরা আমার অনুসরণ এবং অনুকরণ করতে এবং আমার নামায আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞাত হতে পার। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজা)
১০৮১. আল হাসান ইবনে আলী (রাঃ) .... ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরীর বার্ধক্য এবং বয়োবৃদ্ধি জনিত কারণে ভারী হয়ে গেলে একদা তামীমুদ্দারী (রাঃ) তাঁকে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি আপনার জন্য একটি মিম্বর তৈরী করে দেব যার উপর আপনি বসতে পারবেন? তিনি বলেন: হ্যাঁ। ঐ সময় তাঁর জন্য দুই ধাপবিশিষ্ট একটি মিম্বর তৈরী করা হয়।
২২৮. মিম্বর রাখার স্থান।
হাদিস নং ১০৮২সহিহ
حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ كَانَ بَيْنَ مِنْبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ الْحَائِطِ كَقَدْرِ مَمَرِّ الشَّاةِ .
বর্ণনাকারী: সালামাহ ইবনু আক্ওয়া‘ (রাঃ)
১০৮২. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রাঃ) .... সালামা ইবনুল আকাওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রক্ষিত মিম্বর কিবলার দিকের প্রাচীরের মাঝখানে একটি বকরী চলাচল করার মত জায়গা ফাঁকা ছিল। (মুসলিম)
২২৯. সূর্য পশিমাকাশে হেলে যাওয়ার পূর্বে জুমুআর দিন নামায আদায় করা সম্পর্কে।
১০৮৩. মুহাম্মদ ইবনে ঈসা (রহঃ) .... আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন ছাড়া অন্যদিন ঠিক দুপুরে নামায আদায় করা মাকরূহ মনে করতেন। তিনি আরো বলেন, জুমার দিন ব্যতীত অন্যদিনের এই সময়ে জাহান্নামের আগুন প্রজ্জলিত করা হয়।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এটা মুরসাল হাদীছ। মুজাহিদ (রহঃ) আবুল খলীল (রহঃ) এর চেয়ে প্রবীণ এবং তিনি (আবুল খালীল) আবু কাতাদা থেকে হাদীছ শুনেননি।
২৩০. জুমুআর নামাযের ওয়াক্ত।
হাদিস নং ১০৮৪সহিহ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنِي فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ التَّيْمِيُّ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْجُمُعَةَ إِذَا مَالَتِ الشَّمْسُ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
১০৮৪. আল-হাসান ইবনে আলী (রাঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর জুমার নামায আদায় করতেন। (বুখারী, তিরমিযী)
হাদিস নং ১০৮৫সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ الْحَارِثِ، سَمِعْتُ إِيَاسَ بْنَ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْجُمُعَةَ ثُمَّ نَنْصَرِفُ وَلَيْسَ لِلْحِيطَانِ فَىْءٌ .
বর্ণনাকারী: ইয়াস ইবনু সালামাহ ইবনু আকওয়াহ (রহঃ)
১০৮৫. আহমদ ইবনে ইউনুছ (রহঃ) .... ইয়াস ইবনে সালামা (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জুমার নামায আদায়ের পর প্রত্যাবর্তন করার পরেও দেয়ালের ছায়া দেখতাম না। (অর্থাৎ, জুমার নামায তিনি এত তাড়াতাড়ি আদায় করতেন যে, এ সময় সূর্য বেশী হেলে না যাওয়ার কারণে দেয়ালের ছায়া দেখা যেতনা।) (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
১০৮৭. মুহাম্মদ ইবনে সালামা (রহঃ) .... আস-সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)-এর যুগে ইমাম যখন খুতবা দেয়ার উদ্দেশ্যে মিম্বরের উপর বসতেন, তখন যে আযান দেয়া হত তাই ছিল জুমার প্রথম আযান। অতঃপর . উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতকালে যখন মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন তিনি তৃতীয় আযানের প্রবর্তন করেন। এই ধরণের প্রথম আযান ’জাওরা’ নামক স্থানে সর্বপ্রথম প্রদত্ত হয়। অতঃপর এই নিয়ম ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। (বুখারী, নাসাঈ, তিরমিজী, ইবনে মাজাহ)
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
টিকা: ইসলামের প্রথম যুগে জুমার দিন ইমাম খুতবা দেয়ার উদ্দেশ্যে মিম্বরে আরোহণের পর যে আযান দেয়া হত, তাই ছিল প্রথম আযান। অতঃপর নামায শুরু করার প্রাক্কালে যে ইকামত দেয়া হয়, তা দ্বিতীয় আযান হিসেবে খ্যাত ছিল। অতঃপর উসমান (রাঃ) এর সময়ে যে আযান প্রচলিত হয় তা তৃতীয় আযান হিসেবে পরিচয় লাভ করে। বর্তমানে জুমার জন্য প্রথমে যে আযান দেয়া হয় এটাই হল উসমান (রাঃ) এর চালু করা তৃতীয় আযান।
১০৮৮. আন-নুফায়লী (রহঃ) ..... আস-সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনে যখন মিম্বরের উপর বসতেন, তখন মুয়ায্যিন মসজিদের দরজার উপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনাসামনি দাঁড়িয়ে আযান দিতেন এবং আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)-এর সময়েও এই নিয়ম চালু ছিল। .... অবশিষ্টাংশ পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ।
হাদিস নং ১০৮৯সহিহ
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ، قَالَ لَمْ يَكُنْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مُؤَذِّنٌ وَاحِدٌ بِلاَلٌ ثُمَّ ذَكَرَ مَعْنَاهُ .
বর্ণনাকারী: সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ)
১০৮৯. হান্নাদ ইবনুস্-সারী .... আস্-সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একমাত্র মুয়াযযিন ছিলেন।
১০৯০. মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহিয়া (রাঃ) ..... আস্-সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আর কোন মুয়াজ্জিন ছিলনা .... হাদীসের শেষ পর্যন্ত এবং এই হাদীস পুর্নাঙ্গ নয়।
২৩২. খুতবার সময় অন্যের সাথে ইমামের কথা বলা সম্পর্কে।
হাদিস নং ১০৯১সহিহ
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ كَعْبٍ الأَنْطَاكِيُّ، حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ لَمَّا اسْتَوَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَالَ " اجْلِسُوا " . فَسَمِعَ ذَلِكَ ابْنُ مَسْعُودٍ فَجَلَسَ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ فَرَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " تَعَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا يُعْرَفُ مُرْسَلاً إِنَّمَا رَوَاهُ النَّاسُ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَخْلَدٌ هُوَ شَيْخٌ .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
১০৯১. ইয়াকুব ইবনে কাব (রাঃ) ..... জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনে খুতবা দেয়ার জন্য মিম্বরের উপর উঠে বলেন, তোমরা বস! ইবনে মাসুদ (রাঃ) তা শুনে দরজার উপর বসে পড়েন। কারণ তিনি তখন সেখানেই ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে বলেন, হে আব্দুল্লাহ! তুমি এদিকে এসো।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এটা মুরসাল হাদীছ।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
আবূ দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ('সুনান' ৩/৫,২০,২০৬), হাকিম (১/২৮৩), ইবনু খুযাইমাহ(হাঃ ১৭৮০) সকলে ইবনু জুরাইজ হতে। ইমাম হাকিম বলেনঃ বুখারী ও মুসলিমের শর্ত মোতাবেক সহীহ, তবে তারা এটি বর্ণনা করেননি। ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন।
১০৯২. মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান ..... ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইটি খুতবা দিতেন। তিনি প্রথমে মিম্বরের উপর উঠে বসতেন এবং মুয়াযযিনের আযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই বসে থাকতেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন এবং মাঝখানে কোন কথাবার্তা না বলে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর দ্বিতীয় খুতবা দিতেন।
১০৯৩. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ (রাঃ) .... জাবের ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দন্ডায়মান হয়ে খুতবা দিতেন এবং প্রথম খুতবা শেষে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর দ্বিতীয় খুতবা দিতেন।
রাবী বলেন, যদি কেউ বলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে খুতবা দিতেন, তবে সে মিথ্যাবাদী। আল্লাহর শপথ! আমি তাঁর সাথে দুই হাজারেরও অধিক ওয়াক্ত নামায আদায় করেছি। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজা)
হাদিস নং ১০৯৪হাসান
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - الْمَعْنَى - عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خُطْبَتَانِ كَانَ يَجْلِسُ بَيْنَهُمَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيُذَكِّرُ النَّاسَ .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)
১০৯৪. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাঃ) .... জাবের ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইটি খুতবা দিতেন এবং মাঝখানে বসতেন। তিনি খুতবার মধ্যে কোরআনের আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং লোকদের উপদেশ দিতেন। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজা)
হাদিস নং ১০৯৫হাসান
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ قَائِمًا ثُمَّ يَقْعُدُ قَعْدَةً لاَ يَتَكَلَّمُ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)
১০৯৫. আবু কামিল (রাঃ) ..... জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে দেখেছি। তিনি প্রথম খুতবা দেয়ার পর ক্ষণিকের জন্য বসতেন এবং ঐ সময় কোন কথা বলতেননা ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববৎ।
১০৯৬. সাঈদ ইবনে মানসূর (রাঃ) ..... শুয়াইব ইবনে রুযায়ক আত্-তাবিকী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক সাহাবীর নিকট উপবেশন করি, যার নাম ছিল আল-হাকাম ইবনে হাযান আল-কালফী (রাঃ)। তিনি আমাদের নিকট হাদীছ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, একদা আমি সাত জনের সপ্তম বা নয় জনের নবম ব্যক্তি হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে প্রতিনিধি হিসাবে আগমন করি। ঐ সময় আমরা তাঁকে বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এসেছি। অতএব আপনি আমাদের কল্যাণ এবং মঙ্গলের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। তখন তিনি খোরমা দ্বারা আমাদের আপ্যায়ন করার নির্দেশ দেন। তখন মুসলিমগণ কষ্টের মধ্যে ছিল। আমরা তার সাথে অবস্থানকালে একটি জুমার দিনও প্রত্যক্ষ করি। ঐ সময় (জুমার খুতবা দেয়ার সময়) তিনি লাঠি অথবা ধনুকের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে খুতবার প্রারম্ভে আল্লাহর প্রশংসা এবং প্রশস্তি জ্ঞাপন করে কয়েকটি হালকা, পবিত্র ও উত্তম বাক্য আস্তে আস্তে বলেন। অতঃপর তিনি বলেন, হে জনগণ! প্রতিটি নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা তোমাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়, তবে তোমরা সঠিকভাবে আমল করার চেষ্টা কর এবং সুসংবাদ প্রদান কর।
১০৯৭. মুহাম্মদ ইবনে বাশ্শার (রহঃ) .... ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার খুতবা দানকালে বলতেনঃ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তারই নিকট সাহায্য চাই এবং ক্ষমা চাই, এবং আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের প্রবৃত্তির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়ত করেন, তাকে গোমরাহকারী কেউ নেই এবং তিনি যাকে গোমরাহ করেন, তাকে হেদায়তকারীও কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল। তিনি তাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসাবে কিয়ামতের পূর্বে প্রেরণ করেছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করবে, সে হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে এবং যে ব্যক্তি তাদের নাফরমানী করবে সে নিজের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই করবেনা এবং সে আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবেনা।
১০৯৮. মুহাম্মদ ইবনে সালামা (রহঃ) ...... ইউনুছ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইবনে শিহাবকে জুমার দিনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবাদান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তিনি উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করে আরো বলেন, এবং যে ব্যক্তি তাদের (আল্লাহ ও রাসূলের) নাফরমানী করবে সে গোমরাহ হবে। আমরা আমাদের রবের নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদেরকে ঐ দলভুক্ত করেন যারা তার এবং তার রাসূলের আনুগত্য করে এবং তাদেঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং অসন্তুষ্টি হতে বেচে থাকে। কেননা, আমরা তার সাথে এবং তার জন্যই।
১০৯৯. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আদী ইবনে হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। জৈনক বক্তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপস্থিতিতে বক্তৃতা করতে গিয়ে বলে, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করবে এবং যে ব্যক্তি তাদের উভয়ের নাফরমানী করবে”। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উঠো অথবা ভেগে যাও, তুমি নিকৃষ্ট বক্তা। (মুসলিম, নাসাঈ)
হাদিস নং ১১০০সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خُبَيْبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْنٍ، عَنْ بِنْتِ الْحَارِثِ بْنِ النُّعْمَانِ، قَالَتْ مَا حَفِظْتُ ق إِلاَّ مِنْ فِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَخْطُبُ بِهَا كُلَّ جُمُعَةٍ قَالَتْ وَكَانَ تَنُّورُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَنُّورُنَا وَاحِدًا قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ عَنْ شُعْبَةَ قَالَ بِنْتِ حَارِثَةَ بْنِ النُّعْمَانِ وَقَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ أُمِّ هِشَامٍ بِنْتِ حَارِثَةَ بْنِ النُّعْمَانِ .
১১০০. মুহাম্মদ ইবনে বাশ্শার (রহঃ) ..... হারিছ ইবনুন্ নুমান (রাঃ)-এর কন্যা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সূরা কাহাফকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যবান মোবারক হতে শুনে মুখস্থ করেছি। তিনি প্রত্যেক জুমার দিনে তা তিলাওয়াত করে খুতবা দিতেন। তিনি আরো বলেন, আমরা মহিলারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটবর্তী একই কাতারে সোজা অবস্থান করতাম।
ইমাম আবু দাউদ (রাঃ) বলেন, অত্র হাদীছের বর্ণনায় হারিছ এর স্থলে রাওহ ইবনে উবাদা ইমাম শুবা হতে হারিছা বিনতে নুমান উল্লেখ করেছেন। আর ইবনে ইসহাক বর্ণনাকারীনির নাম উম্মে হিশাম বিনতে হারিছা ইবনুন্ নুমান বলেছেন। (মুসলিম, নাসাঈ)
হাদিস নং ১১০১হাসান
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي سِمَاكٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَصْدًا وَخُطْبَتُهُ قَصْدًا يَقْرَأُ آيَاتٍ مِنَ الْقُرْآنِ وَيُذَكِّرُ النَّاسَ .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)
১১০১. মুসাদ্দাদ ....... জাবির বিন সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খুতবা ও নামায উভয় ছিল মধ্যম দৈর্ঘ্যের। তিনি খুতবার মধ্যে কোরানের বিভিন্ন আয়াত পড়ে লোকদেরকে উপদেশ দিতেন। (মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী)
১১০২. মাহমূদ ইবনে খালিদ (রহঃ) ...... আমরাহ থেকে তার ভগ্নির সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সূরা কাহাফ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যবান মোবারক হতে শুনে শুনে মুখস্থ করেছি। তিনি এই সূরাটি প্রত্যেক জুমার দিনে তিলাওয়াত করতেন।
ইমাম আবু দাউদ (রাঃ) বলেন, এই হাদীসের অন্য সনদে ’আমরাহ্’ থেকে উম্মে হিশাম বিনতে হারিছা ইবনুন্ নুমান হতে বর্ণিত। (এতে বুঝা যায় যে, বর্ণনাকারীনির নাম ছিল উম্মে হিশাম)
১১০৩. ইবনুস্ সারহ (রহঃ) .... আমরাহ্ (রাঃ) থেকে তার বোন আব্দুর রহমানের কন্যার সূত্রে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, আমরাহ্ এর বোন তাঁর চাইতে বয়সে বড় ছিলেন।
২৩৬. মিম্বরের উপর থাকাবস্থায় দুই হাত তোলা অবাঞ্ছনীয়।
১১০৪. আহমদ ইবনে ইউনুছ (রহঃ) ..... হুসায়ন ইবনে আব্দুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উমারা ইবনে রুয়াইবাহ্ (রাঃ) বিশর ইবনে মারওয়ান (রাঃ)-কে জুমার দিনে (হাত তুলে) দোয়া করতে দেখে বলেন, আল্লাহ তার হাত হস্তদ্বয়কে বিনষ্ট করুন! রাবী হুসাইন বলেন, উমারা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরে দাড়িঁয়ে এর অধিক কিছু করতে দেখিনি যে, তিনি শাহাদত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা ব্যতীত আর কিছুই করেননি। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)
১১০৫. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... সাহাল ইবনে সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বর অথবা অন্য কোথাও বেশী উপরে হাত উঠিয়ে দোয়া করতে দেখিনি। বরং তিনি শাহাদত আংগুল উপরে উঠিয়ে ইশারা করতেন এবং বৃদ্ধা ও মধ্যমাকে মিলিয়ে শাহাদত আংগুলি দ্বারা ইশারা করতেন মাত্র।
২৩৭. খুতবাসমূহ সংক্ষেপ করা।
হাদিস নং ১১০৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي رَاشِدٍ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِإِقْصَارِ الْخُطَبِ .
বর্ণনাকারী: আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ)
১১০৬. মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রহঃ) .... আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খুতবা সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দেন।
হাদিস নং ১১০৭হাসান
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، أَخْبَرَنِي شَيْبَانُ أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ السُّوَائِيِّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يُطِيلُ الْمَوْعِظَةَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِنَّمَا هُنَّ كَلِمَاتٌ يَسِيرَاتٌ .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)
১১০৭. মুহাম্মদ ইবনে খালিদ (রহঃ) .... জাবের ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন ওয়াজ-নসীহত দীর্ঘ করতেন না এবং সংক্ষিপ্ত খুতবা দিতেন।
১১০৮. আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রহঃ) .... মুয়ায ইবনে হিশাম (রাঃ) বলেন, আমি আমার পিতার হস্ত-লিখিত কিতাবে দেখেছি, কিন্তু আমি তার মুখে শুনিনি। তিনি বলেন, আবু কাতাদা ইয়াহ্য়া ইবনে মালিক হতে, তিনি সামূরা ইবনে জুনদুব হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যেখানে আল্লাহর যিকির হয় তোমরা সেখানে হাযির হবে এবং ইমামের নিকটবর্তী স্থানে থাকবে। কেননা যে ব্যক্তি দুনিয়াতে সবসময় দূরে দূরে অবস্থান করবে (খুতবা, যিকির ইত্যাদি নেককর্ম হতে) যদিও সে বেহেশতী হয়, তবুও সে বিলম্বে তাতে প্রবেশ করবে।
১১০৯. মুহাম্মদ ইবনুল আলা (রাঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে খুতবা দানকালে হাসান এবং হুসায়ন (রাঃ) লাল ডোরা বিশিষ্ট জামা পরিধান করে সেখানে আসার সময় (অল্প বয়স্ক হওয়ায়) পিছলিয়ে পড়ে যান। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা বন্ধ করে মিম্বর হতে অবতরণ করে তাঁদেরকে নিয়ে পুনরায় মিম্বরে আরোহণ করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা সত্য বলেছেন: “তোমাদের ধন-সম্পদ এবং সন্তানাদি ফিতনাস্বরূপ”। আমি উভয়কে পড়ে যেতে দেখে সহ্য করতে পারিনি। অতঃপর তিনি খুতবা দেয়া শুরু করেন। (তিরমিযী, নাসাঈ)
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
টিকা: এ সময় তাদের একজনের বয়স ছিল এক বছর এবং অন্য জনের বয়স ছিল তিন বছর।
২৪০. ইমামের খুতবা দেয়ার সময় কাপড় জড়িয়ে বসবে না।
হাদিস নং ১১১০হাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ، حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي مَرْحُومٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْحُبْوَةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ .
বর্ণনাকারী: মু‘আয ইবনু আনাস (রাঃ)
১১১০. মুহাম্মদ ইবনে আউফ্ (রহঃ) ..... মুয়ায ইবনে আনাস (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনে ইমামের খুতবা প্রদানের সময় হাটুঁ উপরে উঠিয়ে কাপড় জড়িয়ে বসতে নিষেধ করেছেন। (তিরমিযী)
১১১১. দাউদ ইবনে রাশীদ (রহঃ) .... ইয়ালা ইবনে সাদ্দাদ ইবনে আউস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি মুয়াবিয়া (রাঃ)-এর সাথে বায়তুল মুকাদ্দাসে উপস্থিত ছিলাম এবং তিনি সেদিন জুমার নামাযের ইমামতি করেন। আমি দেখতে পাই যে, মসজিদে উপস্থিত অধিকাংশ লোকই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী। ঐ সময় আমি তাঁদেরকে ইমামের খুতবা প্রদানের সময় কাপড় জড়িয়ে হাঁটু উপরে উঠিয়ে বসতে দেখি।
ইমাম আবু দাউদ (রাঃ) বলেন, ইমাম খুতবা দেয়ার সময় ইবনে উমর (রাঃ) কাপড় জড়িয়ে হাঁটু তুলে বসতেন। আনাস ইবনে মালিক, শুরায়হ্, সায়াসা, সাঈদ, ইবরাহীম, মকহুল, ইসমাইল এবং নাঈম ইবনে সালামা প্রমুখ রাবীদের মতে কাপড় জড়িয়ে হাটুঁ তুলে বসায় কোন দোষ নাই। ইমাম আবু দাউদ (রাঃ) আরো বলেন, উবাদা ইবনে নাসী ব্যতীত অন্য কেউ এরূপ বসাকে মকরূহ বলেছেন কিনা তা আমার জানা নাই।
২৪১. ইমামের খুতবা দেয়ার সময় কথা বলা নিষেধ।
হাদিস নং ১১১২সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قُلْتَ أَنْصِتْ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
১১১২. আল-কানবী ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমামের খুতবা দেয়ার সময় যদি তুমি কাউকে চুপ থাকতেও বল, তবে তুমি বেহুদা কাজ করলে। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজা)
১১১৩. মুসাদ্দাদ ও আবু কামেল (রাঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: মসজিদে তিন প্রকারের লোক হাযির হয়ে থাকে। একধরণের লোক মসজিদে উপস্থিত হয়ে এদিক-ওদিক ঘুরাফেরা করে এবং অনর্থক কথা বলে। আর একধরণের লোক মসজিদে হাযির হয়ে খুতবার সময় দোয়া ইত্যাদিতে মশগুল থাকে। আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে এদের দোয়া কবুল করতেও পারেন আবার নাও করতে পারেন। আর এক ধরণের লোক মসজিদে হাযির হয়ে খুতবা পাঠের সময় নিশ্চুপ থাকে এবং অন্যের ঘাড়ের উপর দিয়ে চলাফেরা করেনা এবং অন্যকে কষ্ট দেয় না। এই (তৃতীয় ধরণের) ব্যক্তির জন্য বিগত জুমা হতে এ পর্যন্ত এবং সামনের তিনদিনের জন্য এই নীরবতা কাফ্ফারা স্বরূপ হবে। তা এই জন্য যে, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: “যে ব্যক্তি একটি ভাল কাজ করবে সে এর বিনিময়ে দশগুণ সওয়াব পাবে”।
২৪২. উযু নষ্ট হলে ইমামের অনুমতি চাওয়া সম্পর্কে।
হাদিস নং ১১১৪সহিহ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَحْدَثَ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَلْيَأْخُذْ بِأَنْفِهِ ثُمَّ لْيَنْصَرِفْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا دَخَلَ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ " . لَمْ يَذْكُرَا عَائِشَةَ رضى الله عنها .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১১১৪. ইবরাহীম ইবনুল হাছান (রাঃ) ...... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন নামাযের মধ্যে তোমাদের কারো ওযু নষ্ট হয়, তখন সে যেন তার নাক ধরে বের হয়ে যায় (নাক ধরা ওযু নষ্টের পরিচায়ক)। (ইবনে মাজা)
১১১৫. সুলাইমান ইবনে হারব (রহঃ) ...... জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবা দেয়ার সময় সেখানে এক ব্যক্তি আগমন করেন। তিনি তাঁকে বলেন, হে অমুক! তুমি কি নামায পড়েছ? ঐ ব্যক্তি বলেন, না। তিনি বললেন: তুমি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করে নাও। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজা)
১১১৬. মুহাম্মদ ইবনে মাহ্বুব .... জাবের (রাঃ) ও আবু হুরাইরা হতে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবাদান কালে সেখানে সালিক আল-গাতাফানী (রাঃ) নামক এক ব্যক্তি উপস্থিত হন। তখন তিনি বলেন: তুমি কি কিছু নামায পড়েছ? ঐ ব্যক্তি বলেন, না। তিনি তাকে বলেন, তুমি সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকাত নামায আদায় কর। (মুসলিম, ইবনে মাজা)
১১১৭. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাঃ) ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুলাইক (রাঃ) মসজিদে আগমন করেন। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এই বর্ণনায় আরো আছে যে, অতঃপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসল্লীদের লক্ষ্য করে বলেন: ইমামের খুতবা দেয়ার সময় যদি তোমাদের কেউ মসজিদে আসে, তবে সে যেন সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকাত নামায আদায় করে নেয়। (নাসাঈ, মুসলিম)
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، قَالَ كُنَّا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ صَاحِبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَجَاءَ رَجُلٌ يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُسْرٍ جَاءَ رَجُلٌ يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اجْلِسْ فَقَدْ آذَيْتَ " .
১১১৮. হারূন ইবনে মারূফ (রাঃ) .... আবুল জাহেরিয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আব্দুল্লাহ্ ইবনে বিশর (রাঃ)-এর সাথে জুমার নামায আদায়ের জন্য মসজিদে উপস্থিত ছিলাম। ঐ সময় এক ব্যক্তি এসে লোকদের ঘাঁড় টপ্কিয়ে সামনের দিকে যাচ্ছিল। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে বিশর (রাঃ) বলেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুমার খুতবা দানকালে এক ব্যক্তি লোকের ঘাঁড় টপ্কিয়ে যেতে থাকলে তিনি তাকে বলেন: তুমি বস! তুমি অন্যকে কষ্ট দিচ্ছ। তুমি অন্যকে কষ্ট দিচ্ছ।
২৪৫. ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় কারো তন্দ্রা আসলে।
হাদিস নং ১১১৯সহিহ
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ عَبْدَةَ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ فَلْيَتَحَوَّلْ مِنْ مَجْلِسِهِ ذَلِكَ إِلَى غَيْرِهِ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১১১৯. হান্নাদ ইবনুস্ সারী (রহঃ) ..... ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: যদি মসজিদে কোন ব্যক্তি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়, তবে সে যেন স্বীয় স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র সরে বসে। (তিরমিজি)
২৪৬. খুতবা শেষে মিম্বর হতে নেমে ইমামের কথা বলা সম্পর্কে।
১১২০. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রহঃ) ...... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলু্ল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বর হতে নামতে দেখলাম। এ সময় এক ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনে তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ান। তখন তিনি তার প্রয়োজন পূরণের পর নামায আদায় করেন। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজা)
২৪৭. যে ব্যাক্তি জুমুআর নামাযের এক রাকআত পায়।
হাদিস নং ১১২১সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلاَةِ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
১১২১. আল-কানবী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকাত পেল, সে যেন সম্পূর্ণ নামায পেল। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজা)
১১২২. কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রহঃ) ...... নুমান ইবনে বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ঈদের নামাযে এবং জুমার নামাযে “সাব্বিহিছ্মা রাব্বিকাল্ আলা” এবং “হাল্ আতাকা হাদীছুল্ গাশিয়াহ্” সূরাদ্বয় তিলাওয়াত করতেন। রাবী বলেন, ঈদ ও জুমা একই দিনে অনুষ্ঠিত হলেও তিনি সূরাদ্বয় তিলাওয়াত করতেন। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজা)
১১২৩. আল-কানবী (রহঃ) ..... আদ-দাহহাক ইবন কায়েস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নুমান ইবন বশীর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম জুমুআর নামাযে সুরা জুমুআর পরে কোন সুরা পাঠ করতেন? তিনি বলেন, তিনি “হাল আতাকা হাদীসুল-গাশিয়াহ” পাঠ করতেন। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১১২৪. আল-কানবী (রহঃ) ...... ইবনে আবু রাফে (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু হুরায়রা (রাঃ) জুমার নামাযের ইমামতি করার সময় প্রথম রাকাতে সূরা জুমা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা মুনাফিকুন তিলাওয়াত করেন।
রাবী বলেন, তার ফেরার পথে তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি: আলী (রাঃ) কুফাতে (জুমার নামাযে) যে সূরাদ্বয় পাঠ করেছেন, আপনিও দেখি তাই পাঠ করলেন! উত্তরে আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জুমার নামাযে এই সূরাদ্বয় তিলাওয়াত করতে শুনেছি। (মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজা)
১১২৫. মুসাদ্দদ (রহঃ) ..... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার নামাযের প্রথম রাকাতে “সাব্বিহিছ্মা রাব্বিকাল্ আলা” এবং দ্বিতীয় রাকাতে “হাল্ আতাকা হাদীছুল্ গাশিয়াহ্” তিলাওয়াত করতেন। (নাসাঈ)
২৪৯. ইমাম ও মুক্তাদীর মাঝখানে প্রাচীর থাকলে।
হাদিস নং ১১২৬সহিহ
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حُجْرَتِهِ وَالنَّاسُ يَأْتَمُّونَ بِهِ مِنْ وَرَاءِ الْحُجْرَةِ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১১২৬. যুহায়ের ইবনে হারব্ (রাঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কক্ষে অবস্থান করে নামাযের ইমামতি করেন। এসময়ে লোকেরা (মুক্তাদীগণ) হুজরার পেছনের দিকে থেকে তাঁর ইক্তিদা করেন। (বুখারী)
১১২৭. মুহাম্মদ ইবনে উবায়েদ (রহঃ) .... নাফে (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে উমর (রাঃ) কোন এক ব্যক্তিকে জুমার নামায আদায়ের পর স্বীয় স্থানে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নফল নামায আদায় করতে দেখেন। তিনি তাকে উক্ত স্থান হতে সরে যেতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, তুমি কি জুমার নামায চার রাকাত আদায় করবে? আব্দুল্লাহ (রাঃ) জুমার দিনে (জুমার নামায আদায়ের পর) নিজের ঘরে দুই রাকাত নফল নামায আদায় করতেন। তিনি বলতেন, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
নাসায়ী (অধ্যায়ঃ জুমু'আহ, হাঃ১৪২৮), আহমাদ (২/১০৩, হাঃ ৫৮০৭) শায়খ আহমাদ শাকির বলেনঃ এর সানাদ সহীহ। ইবনু খুযাইমাহ (হাঃ ১৮৩৬) সকলে আইয়ুব হতে তিনি নাফি' হতে ইবনু 'উমার সূত্রে।
সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, তার থেকে মারফুভাবে।
হাদিস নং ১১২৮সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يُطِيلُ الصَّلاَةَ قَبْلَ الْجُمُعَةِ وَيُصَلِّي بَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ وَيُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ .
বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)
১১২৮. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... নাফে (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে উমর (রাঃ) জুমার ফরযের পূর্ববর্তী নামায (অর্থাৎ, সুন্নাত নামায) দীর্ঘায়িত করতেন এবং জুমার নামায আদায়ের পর ঘরে ফিরে দুই রাকাত আদায় করতেন। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এইরূপে জুমার দিনে নামায আদায় করতেন। (নাসাঈ, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজা)
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
এর পূর্বেরটি দেখুন।
সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, তার থেকে মারফুভাবে।
১১২৯. আল-হাসান ইবনে আলী (রহঃ) ..... নাফে ইবনে যুবায়ের (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমর ইবনে আতা (রহঃ) তাঁকে সায়েব (রাঃ)-এর খিদমতে এই সংবাদ সহ পাঠান যে, আপনি নামায আদায়কালে মুয়াবিয়া (রাঃ) আপনাকে কি করতে দেখেছেন? তিনি বলেন, একদা আমি মসজিদের মেহ্রাবে তাঁর সাথে জুমার নামায আদায় করি। নামাযের সালাম ফিরাবার পর আমি স্বস্থানে নামায আদায় করি। এ সময় মুয়াবিয়া (রাঃ) তাঁর ঘরে গিয়ে আমার নিকট সংবাদ পাঠান যে, তুমি এখন যেরূপ করেছ আর কখনো এরূপ করবে না। জুমার ফরয নামায আদায়ের পর, স্থান না বদলিয়ে বা কথা না বলে পুনঃ নামাযে দাড়াঁবে না। কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কেউ যেন এক নামাযের (ফরয নামাযের) সাথে অন্য নামায না মিলায়, যতক্ষণ না সে ঐ স্থান ত্যাগ করে বা কথা বলে। (মুসলিম)
১১৩০. মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আযীয ..... ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মক্কায় অবস্থানকালে জুমার ফরয নামায আদায়ের পর নিজ স্থান ত্যাগ করে একটু সামনে এগিয়ে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। অতঃপর আরো একটু সামনে এগিয়ে চার রাকাত আদায় করতেন। আর তিনি মদিনায় অবস্থানকালে জুমার ফরয নামায আদায় শেষে ঘরে ফিরে দুই রাকাত আদায় করতেন। তখন তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এইরূপ করতেন।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
তিরমিযী (অধ্যায়ঃ আবওয়াবুস সালাত, অনুঃ জুমু'আহর পূর্বে ও পড়ে সালাত, হাঃ ৫২১) ইবনু জুরাইজ হতে।
১১৩১. আহ্মদ ইবনে ইউনুছ ও মুহাম্মদ ইবনে সাব্বাহ্ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি জুমার ফরয নামায আদায়ের পর অন্য নামায আদায় করে সে যেন চার রাকাত আদায় করে (এটা রাবী ইবনুস্ সাব্বাহের বর্ণনা)। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেছেন: জুমার ফরয নামায আদায়ের পর আরো চার রাকাত আদায় করবে।
রাবী সাহ্ল বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেন, হে বৎস! যদি তুমি জুমার ফরয নামায আদায়ের পর সেখানে দুই রাকাত নামায আদায় কর তবে ঘরে ফিরেও দুই রাকাত নামায আদায় করবে। এই বর্ণনাটি রাবী ইবনে ইউনুছের। (মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজা)
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
মুসলিম (অধ্যায়ঃ জুমু'আহ, অনুঃ জুমু'আহর পরে সালাত), নাসায়ী (অধ্যায়ঃ জুমু'আহ, অনুঃ জুমু'আহর পরে মসজিদে কত রাক'আত সালাত পড়বে, হাঃ১৪২৫), তিরমিযী (অধ্যায়ঃ সালাত, অনুঃ জুমু'আহর পূর্বে ও পরে সালাত, হাঃ ৫২৩, ইমাম তিরমিযী বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহীহ), ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ সালাত কায়িম, অনুঃ জুমু'আহর পরে সালাত, হাঃ১১৩২, আহমাদ (২/২৪৯), ইবনু খুযাইমাহ (হাঃ ১৮৭৩)
১১৩২. আল-হাসান ইবনে আলী (রাঃ) ..... ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুমার ফরয নামায আদায়ের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে ফিরে দুই রাকাত নামায পড়তেন। (নাসাঈ, ইবনে মাজা, তিরমিযী)
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
সহীহঃ মুসলিম। বুখারী অর্থগতভাবে। এটি গত হয়েছে হাদীস ১১২৭ নং।
মুসলিম (অধ্যায়ঃ জুমু'আহ, অনুঃ জুমু'আহর পরে সালাত), নাসায়ী (অধ্যায়ঃ জুমু'আহ, অনুঃ জুমু'আহর পরে ইমামের সালাত আদায়, হাঃ ১৪২৭), তিরমিযী (অধ্যায়ঃ সালাত, অনুঃ জুমু'আহর পূর্বে ও পরে সালাত আদায়, হাঃ ৫২১), ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ সালাত কায়িম, অনুঃ জুমু'আহর পরে সালাত , হাঃ ১১৩১), সকলে যুহরী হতে তিনি সালিম হতে ইবনু 'উমার সূত্রে।
১১৩৩. ইবরাহীম ইবনুল হাসান (রহঃ) .... আতা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি ইবনে উমর (রাঃ)-কে জুমার ফরয নামায আদায়ের পর নিজ স্থান হতে একটু সরে গিয়ে দুই রাকাত নামায আদায় করতে দেখেন। অতঃপর তিনি আরেকটু সরে গিয়ে চার রাকাত আদায় করেন।
রাবী বলেন, আমি আতা (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, আপনি ইবনে উমর (রাঃ)-কে এইরূপে নামায আদায় করতে কতবার দেখেছেন? তিনি বলেন, বহুবার।
২৫১. দুই ঈদের নামায।
হাদিস নং ১১৩৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا فَقَالَ " مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ " . قَالُوا كُنَّا نَلْعَبُ فِيهِمَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا يَوْمَ الأَضْحَى وَيَوْمَ الْفِطْرِ " .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
১১৩৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রহঃ) ............ আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ্বীনায় পৌঁছে দেখতে পান যে, সেখানকার অধিবাসীরা দুইটি দিন (নায়মূক ও মেহেরজান) খেলাধূলা ও আনন্দ-উৎসব করে থাকে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেন, এই দুইটি দিন কিসের? তারা বলেন, জাহেলী যুগে আমরা এই দুই দিন খেলাধূলা ও উৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে এই দুই দিনের পরিবর্তে অন্য দুইটি উত্তম দিন দান করেছেন এবং তা হল: কোরবানীর ঈদ এবং রোযার ঈদ। (তিরমিযী, নাসাঈ)
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
নাসায়ী (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ, হাঃ১১৫৫), আহমাদ (৩/১৭৮), হুমাইদ হতে আনাস সূত্রে।
১১৩৫. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাঃ) ....... ইয়াযীদ ইবনে খুমায়ের (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আব্দুল্লাহ্ ইবনে বুসর (রাঃ) ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহার দিন লোকদের সাথে নামায আদায়ের জন্য রাওয়ানা হন। ইমামের বিলম্বের কারণে তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমরা এমন সময় অর্থাৎ, ইশরাকের সময় (সূর্য কিছু উপরে উঠতে) নামাযই শেষ করতাম। (ইবনে মাজা)
১১৩৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রহঃ) .... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাযে যাওয়ার জন্য মহিলাদের নির্দেশ দেন। এ সময় তাঁকে ঋতুবতী মহিলাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ওয়ায-নসীহতে এবং দোয়ায় তাদেরও হাযির হওয়া উচিত। এ সময় এক মহিলা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! শরীর ঢেকে ঈদগাহে যাওয়ার জন্য যদি কোন মহিলার পর্যাপ্ত কাপড় না থাকে তবে সে কি করবে? তিনি বলেন, তার সাথী মহিলার অতিরিক্ত কাপড় জড়িয়ে যাবে।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
বুখারী (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ, অনুঃ নারীদের ও ঋতুবতীদের ঈদ্গাহে যাওয়া, হাঃ ৯৭৪), মুসলিম (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ, অনুঃ দুই ঈদে নারীদের বের হওয়া বৈধ ) মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন হতে।
১১৩৭. মুহাম্মদ ইবনে উবায়েদ (রহঃ) ..... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) হতে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত আছে। অতঃপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ঋতুবতী মহিলারা অন্যদের থেকে পৃথক থাকবে। এই হাদীসে কাপড়ের কথা উল্লেখ নাই।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
বুখারী (অধ্যায়ঃ হায়িয, অনুঃ ঋতুবতী নারীদের দুই ঈদ ও মুসলিমদের দা'ওয়াতী সমাবেশে উপস্থিত হওয়া ও ঈদ্গাহ থেকে দূরে অবস্থান করা, হাঃ ৩২৪)
১১৩৮. আন-নুফায়লী ....... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে ঈদের নামাযে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। রাবী বলেন, ঋতুবতী মহিলারা সকলের পিছনে থেকে কেবলমাত্র লোকদের সাথে তাকবীরে শামিল হবে। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজা)
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
বুখারী (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ, অনুঃ নারীদের ও ঋতুবতীদের ঈদ্গাহে যাওয়া, হাঃ ৯৭৪), মুসলিম (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ, অনুঃ দুই ঈদে নারীদের বের হওয়া বৈধ )
হাদিস নং ১১৩৯যঈফ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، - يَعْنِي الطَّيَالِسِيَّ - وَمُسْلِمٌ قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ عَطِيَّةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ جَمَعَ نِسَاءَ الأَنْصَارِ فِي بَيْتٍ فَأَرْسَلَ إِلَيْنَا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقَامَ عَلَى الْبَابِ فَسَلَّمَ عَلَيْنَا فَرَدَدْنَا عَلَيْهِ السَّلاَمَ ثُمَّ قَالَ أَنَا رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْكُنَّ . وَأَمَرَنَا بِالْعِيدَيْنِ أَنْ نُخْرِجَ فِيهِمَا الْحُيَّضَ وَالْعُتَّقَ وَلاَ جُمُعَةَ عَلَيْنَا وَنَهَانَا عَنِ اتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ .
বর্ণনাকারী: উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ)
১১৩৯. আবুল ওয়ালিদ আত্-তায়ালিসী ও মুসলিম (রহঃ) ...... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় এসে আনসারদের মহিলাদেরকে এক বাড়িতে একত্রিত করেন। অতঃপর তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে আমাদের নিকট প্রেরণ করেন। তিনি বাড়ির দরজার নিকট এসে আমাদেরকে সালাম করলে আমরা তার জবাব দেই। অতঃপর তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দূত হিসাবে তোমাদের নিকট হাযির। তিনি আমাদেরকে ঈদের নামাযে হাযির হওয়ার নির্দেশ দেন এবং ঋতুবতী ও বিবাহ্যোগ্য কিশোরীদেরকেও সেখানে হাযির হতে বলেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের (মহিলাদের) উপর জুমার নামায ওয়াযিব নয়। তিনি আমাদেরকে জানাযায় যেতে নিষেধ করেন।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
আহমাদ(৫/৮৫), ইবনু খুযাইমাহ (হাঃ ১৭২২, ১৭২৩) সকলে ইসহাক ইবনু ‘উসমান আল-কালাবী আর ইসমাঈল ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আতিয়্যাহ মাকবূল।
১১৪০. মুহাম্মদ ইবনুল আলা এবং কায়েস ইবনুল মুসলিম (রাঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ঈদের দিনে মারওয়ান খুতবা দেয়ার উদ্দেশ্যে মিম্বর স্থাপন করেন এবং নামাযের পূর্বেই খুতবা দেওয়া শুরু করেন। তখন জৈনক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলেন, হে মারওয়ান! তুমি সুন্নাতের বরখেলাফ করছ। তুমি ঈদের দিনে মিম্বর বাইরে এনেছ, যা ইতিপূর্বে কখনো করা হয়নি এবং তুমি নামাযের পূর্বে খুতবা দিয়েছ। তখন আবু সাঈদ খুদুরী (রাঃ) বলেন, এই ব্যক্তি কে? তারা বলেন, অমুকের পুত্র অমুক। তিনি বলেন, সে তার দায়িত্ব পালন করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: তোমাদের মধ্যে কেউ যখন শরীয়ত বিরোধী কোন কাজ হতে দেখে, তখন সম্ভব হলে তাকে হাত (শক্তি) দ্বারা বাধাঁ দেবে। যদি হাত দ্বারা তাকে বাঁধা দেয়া সম্ভব না হয় তবে মুখ দ্বারা প্রতিবাদ করবে। যদি তাও সম্ভব না হয় তবে তাকে অন্তর দ্বারা ঘৃণা করবে এবং এটা দুর্বলতম ঈমানের পরিচায়ক। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজা)
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
মুসলিম (অধ্যায়ঃ ঈমান, অনুঃ অন্যায় হতে নিষেধ করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত এবং ঈমান বাড়ে ও কমে), ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ সালাত কায়িম, অনুঃ দুই ঈদের সালাত, হাঃ ১২৭৫, এবং অধ্যায়ঃ ফিতনা, অনুঃ সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাঁধা দান, হাঃ ৪০১৩), আহমাদ (৩/১০) সকলে আ’মাশ হতে ইসমাইল ইবনু রাজা সূত্রে।
হাদিস নং ১১৪১সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَامَ يَوْمَ الْفِطْرِ فَصَلَّى فَبَدَأَ بِالصَّلاَةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ ثُمَّ خَطَبَ النَّاسَ فَلَمَّا فَرَغَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَزَلَ فَأَتَى النِّسَاءَ فَذَكَّرَهُنَّ وَهُوَ يَتَوَكَّأُ عَلَى يَدِ بِلاَلٍ وَبِلاَلٌ بَاسِطٌ ثَوْبَهُ تُلْقِي فِيهِ النِّسَاءُ الصَّدَقَةَ قَالَ تُلْقِي الْمَرْأَةُ فَتَخَهَا وَيُلْقِينَ وَيُلْقِينَ وَقَالَ ابْنُ بَكْرٍ فَتَخَتَهَا .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
১১৪১. আহ্মদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) ...... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিনে খুতবার পূর্বে নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি খুতবা দেন। খুতবা শেষ করার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের নিকট যান এবং তাদের উপদেশ দান করেন। এ সময় তিনি বিলাল (রাঃ)-এর হাতের উপর ভর করেছিলেন এবং বিলাল (রাঃ) তার কাপড় বিছিয়ে দিয়েছিলেন, যার মধ্যে মহিলারা দান-সদকাহ্ নিক্ষেপ করেন।
রাবী বলেন, এ সময় মহিলারা নিজেদের গহনাপত্রও সেখানে দান করছিলেন এবং এ ব্যাপারে বারংবার উৎসাহিত করা হচ্ছিল। (নাসাঈ)
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
বুখারী (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ, অনুঃ ঈদের দিন মহিলাদেরকে ঈমামের উপদেশ দেয়া, হাঃ ৯৭৮), মুসলিম (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ), নাসায়ী (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ, হাঃ ১৫৭৪)
২৫৩. মহিলাদের ঈদের নামাযে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে মাঠে যাওয়া।
১১৪২. হাফস্ ইবনে উমর ও ইবনে কাসীর (রহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন নামায শেষে খুতবা দেন। অতঃপর তিনি বেলাল (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে মহিলাদের নিকট যান এবং তাদেরকে দান-সদকার জন্য উদ্ভুদ্ধ করেন। তারা নিজেদের অলংকারাদি দান করতে থাকেন। (আহমদ)
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
বুখারী (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ, অনুঃ ঈদ্গাহে চিহ্ন রাখা, হাঃ ৯৭৭), মুসলিম (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ), নাসায়ী (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ, হাঃ ১৫৬৮), ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ সালাত কায়িম, অনুঃ দুই ঈদের সালাত, হাঃ ১২৭৩, আহমাদ (১/২২০) প্রত্যেকে ইবনু ‘আব্বাস হতে।
১১৪৩. মুসাদ্দাদ ও আবু মামার (রাঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধারণা করেন যে, মহিলাগণ তাঁর উপদেশ শুনতে পাচ্ছেনা (দূরে অবস্থানের ফলে)। তাই তিনি বিলাল (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে তাদের নিকট গিয়ে উপদেশ দেন। মহিলারা তাদের কানের দুল, হাতের আংটি পর্যন্ত বিলাল (রাঃ) এর কাপড়ের উপর (সদকাস্বরূপ) নিক্ষেপ করেন। (বুখারী, মুসলিম , নাসাঈ , ইবনে মাজা)
১১৪৪. মুহাম্মদ ইবনে উবায়েদ (রহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, মহিলাগণ তাদের কানের অলংকার ও আংটি দান করেছিলেন এবং বিলাল (রাঃ) তার কম্বলের মধ্যে তা জমা করেন। রাবী আরো বলেন, অতঃপর তিনি তা গরীব মুসলিমদের মধ্যে তা বন্টন করে দেন।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
সহীহঃ মুসলিম।
পূর্বের হাদীসে গত হয়েছে।
২৫৫. ধনুকের উপর ভর করে খুতবা (ভাষণ) দেওয়া।
হাদিস নং ১১৪৫হাসান
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي جَنَابٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْبَرَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نُوِّلَ يَوْمَ الْعِيدِ قَوْسًا فَخَطَبَ عَلَيْهِ .
১১৪৫. আল-হাসান ইবনুল আলী (রাঃ) ..... ইয়াযীদ ইবনুল বারা (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঈদের দিন উপহার হিসাবে ধনুক প্রদান করা হলে দিনি তার উপর ভর করে খুতবা (ভাষণ) দেন।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনু আবু শায়বাহ (২/১৫৮), আবূশ শায়খ 'আখলাকুন্নাবী সাঃ (১৪৬), আহমাদ (৪/২৮২) দীর্ঘভাবে, ইবনু হাজার একে 'আত-তালখীস' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (১৩৭০। এর সানাদে আবূ জানাব এর নাম হচ্ছে ইয়াহইয়া ইবনু আবূ হাইয়্যাহ। হাফিয বলেনঃ তার অধিক পরিমান তাদলীসের কারনে মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল বলেছেন। আলবানী একে উল্লেখ করেছেন যঈফাহ (২/৩৮০)।
২৫৬. ঈদের নামাযে আযান নেই।
হাদিস নং ১১৪৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ ابْنَ عَبَّاسٍ أَشَهِدْتَ الْعِيدَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ وَلَوْلاَ مَنْزِلَتِي مِنْهُ مَا شَهِدْتُهُ مِنَ الصِّغَرِ فَأَتَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَلَمَ الَّذِي عِنْدَ دَارِ كَثِيرِ بْنِ الصَّلْتِ فَصَلَّى ثُمَّ خَطَبَ وَلَمْ يَذْكُرْ أَذَانًا وَلاَ إِقَامَةً قَالَ ثُمَّ أَمَرَ بِالصَّدَقَةِ - قَالَ - فَجَعَلَ النِّسَاءُ يُشِرْنَ إِلَى آذَانِهِنَّ وَحُلُوقِهِنَّ قَالَ فَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَتَاهُنَّ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আবদুর রহমান ইবনু আবিস (রহঃ)
১১৪৬. মুহাম্মদ ইবনে কাছীর (রাঃ) ...... আব্দুর রাহমান ইবনে আবেস (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কি কোন ঈদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে উপস্থিত ছিলেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। আমি যদি তাঁর প্রিয় পাত্র না হতাম তবে ছোটবেলা থেকে তাঁর নিকটস্থ হওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হত না। কাছির ইবনুস্ সালাতের ঘরের নিকট যে পতাকা ছিল তিনি সেখানে যান এবং নামায আদায় করতঃ খুতবা দেন।
রাবী বলেন, ইবনে আব্বাস (রাঃ) আযান ও ইকামতের কথা উল্লেখ করেন নাই। অতঃপর তিনি দান-খয়রাত সম্পর্কে উপদেশ দেন, যা শুনে মহিলাগণ তাদের কান ও গলা হতে স্বর্ণালংকার খুলে দান করতে থাকেন। তিনি বিলাল (রাঃ)-কে মহিলাদের নিকট গিয়ে তা গ্রহণের নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি সেগুলো নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে আসেন। (বুখারী, নাসাঈ)
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
সহীহঃ বুখারী।
বুখারী (অধ্যায়ঃ আযান, অনুঃ শিশুদের উযু করা, কখন তাদের উপর গোসল ফারয হয়, হাঃ ৮৬৩), নাসায়ী (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ, অনুঃ ঈদের খুতবাহ শেষে মহিলাদেরকে বিশেষভাবে নাসীহাত করা, হাঃ ১৫৮৫), আহমাদ (১/২৩২) সকলে সুফয়ান ইবনু সাঈদ আস-সাওরী হতে।
হাদিস নং ১১৪৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الْعِيدَ بِلاَ أَذَانٍ وَلاَ إِقَامَةٍ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ أَوْ عُثْمَانَ شَكَّ يَحْيَى .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
১১৪৭. মুসাদ্দাদ (রাঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামায আযান ও ইকামত ব্যতীত আদায় করেন এবং আবু বকর (রাঃ), উমর (রাঃ) ও উসমান (রাঃ)-ও তদ্রূপ করেন। (ইবনে মাজা)
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
বুখারী (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ, অনুঃ ঈদের সালাতের পর খুতবাহ, হাঃ ৯৬২), মুসলিম (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ), ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ সালাত কায়িম, অনুঃ দুই ঈদের সালাত, হাঃ ১২৭৪), আহমাদ (১/২২৭) সকলে হাসান ইবনু মুসলিম হতে তিনি তাউস হতে ইবনু 'আব্বাস সুত্রে।
১১৪৮. উছমান ইবনে আবু শায়বা (রহঃ) ..... জাবের ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বহুবার ঈদের নামায আযান ও ইকামত ছাড়া আদায় করেছি। (মুসলিম, তিরমিযী)
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
মুসলিম (অধ্যায়ঃ দুই ঈদ), তিরমিযী (অধ্যায়ঃ সালাত, ঈদের সালাতে আযান ও ইকামত নেই, হাঃ৫৩২, ইমাম তিরমিযী বলেন, জাবির ইবনু সামুরাহর হাদিসটি হাসান সহীহ) সকলে আবুল আহোয়াস হতে সিমাক সুত্রে।
২৫৭. ঈদের নামাযের তাকবীর।
হাদিস নং ১১৪৯সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُكَبِّرُ فِي الْفِطْرِ وَالأَضْحَى فِي الأُولَى سَبْعَ تَكْبِيرَاتٍ وَفِي الثَّانِيَةِ خَمْسًا .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১১৪৯. কুতায়বা (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার নামাযের প্রথম রাকাতে সাতবার এবং দ্বিতীয় রাকাতে পাঁচবার তাকবীর বলতেন। (ইবনে মাজা)
১১৫২. আবু তাওবা (রহঃ) ..... আমর ইবনে শুয়াইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের নামাযের প্রথম রাকাতে সাতটি তাকবীর বলার পর কিরাআত পাঠ শুরু করতেন। কিরাআত শেষে তাকবীর বলার পর প্রথম রাকাত সমাপনান্তে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দন্ডায়মান হয়ে চারবার তাকবীর বলে কিরাআত শুরু করতেন এবং পরে রুকুতে যেতেন। (ইবনে মাজা)
১১৫৩. মুহাম্মদ ইবনুল আলা (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আবু মুসা আল-আশআরী (রাঃ)-কে এবং হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার তাকবীর কিরূপে আদায় করতেন। তিনি (আবু মূসা) বলেন, তিনি জানাযার নামাযে চার তাকবীর আদায় করতেন (অর্থাৎ তিনি জানাযার নামাযের অনুরূপ ঈদের নামাযের প্রতি রাকাতে চারটি তাকবীর বলতেন এবং তা তাহ্রীমা ও রুকুর তাকবীর সহ।)। হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আবু মূসা আল-আশআরী সত্য বলেছেন। তিনি বলেন, আমি বসরার আমির থাকাকালে এইরূপে তাকবীর দিয়েছি।
রাবী আবু আয়েশা বলেন, সাঈদ ইবনুল আস (রাঃ) ও আবু মুসা (রাঃ)-এর মধ্যে কথোপকথনকালে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।
১১৫৪. আল কানবী (রহঃ) ..... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আবু ওয়াকিদ আল-লায়ছি (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযে কোন সূরা পাঠ করতেন? তিনি বলেন, তিনি সূরা “কাফ্ ওয়াল্ কোরআনিল্ মযীদ” এবং সূরা “ইক্তারাবাতিস্ সাআতু ওয়ান্ শাক্কাল্ কামারু” পাঠ করতেন। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজা )
২৫৯. খুতবা শুনার জন্য বসা।
হাদিস নং ১১৫৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى السِّيْنَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِيدَ فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ قَالَ " إِنَّا نَخْطُبُ فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَجْلِسَ لِلْخُطْبَةِ فَلْيَجْلِسْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَذْهَبَ فَلْيَذْهَبْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا مُرْسَلٌ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু সাইব (রাঃ)
১১৫৫. মুহাম্মদ ইবনুল সাব্বাহ (রহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনুস সায়েব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ঈদের নামায আদায় করি। নামায শেষে তিনি বলেন, আমি এখন খুতবা দেব। যে তা শুনতে চায়, সে যেন বসে থাকে এবং যে চলে যেতে চায় সে দেতে পারে। (নাসাঈ, ইবনে মাজা)
২৬০. ঈদের নামাযের জন্য এক পথ দিয়ে যাওয়া ও অন্য পথ দিয়ে প্রত্যাবর্তন।
হাদিস নং ১১৫৬সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عُمَرَ - عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ يَوْمَ الْعِيدِ فِي طَرِيقٍ ثُمَّ رَجَعَ فِي طَرِيقٍ آخَرَ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১১৫৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা .... ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামায আদায়ের জন্য এক রাস্তা দিয়ে যেতেন এবং অন্য রাস্তা দিয়ে প্রত্যাবর্তন করতেন। (ইবনে মাজা, মুসলিম, বুখারী)
২৬১. কোন ওজরের কারণে ইমাম প্রথম দিন ঈদের নামাযের জন্য বের হতে না পারলে তা পরের দিন আদায় করা সম্পর্কে।
হাদিস নং ১১৫৭সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي وَحْشِيَّةَ، عَنْ أَبِي عُمَيْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ عُمُومَةٍ، لَهُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَكْبًا جَاءُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَشْهَدُونَ أَنَّهُمْ رَأَوُا الْهِلاَلَ بِالأَمْسِ فَأَمَرَهُمْ أَنْ يُفْطِرُوا وَإِذَا أَصْبَحُوا أَنْ يَغْدُوا إِلَى مُصَلاَّهُمْ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
১১৫৭. হাফস্ ইবনে উমর (রহঃ) ..... আনাস (রাঃ) থেকে তাঁর চাচা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। একদা কয়েকজন আরোহী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে হাযির হয়ে বলেন যে, তারা গতকাল চাঁদ দেখেছেন। তখন তিনি তাদেরকে রোযা ভঙ্গ করতে এবং পরের দিন সকালে ঈদের নাময আদায় করতে বলেন। (নাসাঈ, ইবনে মাজা)
হাদিস নং ১১৫৮যঈফ
حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ نُصَيْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُوَيْدٍ، أَخْبَرَنِي أُنَيْسُ بْنُ أَبِي يَحْيَى، أَخْبَرَنِي إِسْحَاقُ بْنُ سَالِمٍ، مَوْلَى نَوْفَلِ بْنِ عَدِيٍّ أَخْبَرَنِي بَكْرُ بْنُ مُبَشِّرٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ كُنْتُ أَغْدُو مَعَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمُصَلَّى يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ الأَضْحَى فَنَسْلُكُ بَطْنَ بَطْحَانَ حَتَّى نَأْتِيَ الْمُصَلَّى فَنُصَلِّيَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَرْجِعُ مِنْ بَطْنِ بَطْحَانَ إِلَى بُيُوتِنَا .
১১৫৮. হামযা ইবনে নুসায়ের (রহঃ) ..... বাকর ইবনে মুবাশ্শির আল-আনসারী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের সাথে ঈদুল ফিতর অথবা ঈদুল আযহার নামায আদায়ের জন্য ঈদগাহে যেতাম। আমরা ’বাতনে বাত্হা’ নামক স্থান অতিক্রম করে ঈদগাহে পৌঁছার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ঈদের নামায আদায় করতাম। অতঃপর ’বাতনে বাত্হা’ হয়ে আমাদের ঘরে ফিরে আসতাম।
২৬২. ঈদের নামাযের পর অন্য নামায আদায় করা সম্পর্কে।
১১৫৯. হাফস্ ইবনে উমর (রহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের নামায আদায়ের জন্য রওনা হয়ে দুই রাকাত ঈদের নামায আদায় করেন। তিনি তার আগে বা পরে কোন নামায আদায় করেননি। অতঃপর তিনি বিলাল (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে মহিলাদের নিকট যান এবং তাদেরকে দান-খয়রাতের নির্দেশ দেন। মহিলাগণ তাদের কানের বালা ও গলার হার দান-খয়রাত করেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজা)
২৬৩. বৃষ্টির দিনে লোকদের নিয়ে ঈদের নামায মসজিদে আদায় করা।
১১৬০। হিশাম ইবনে আম্মার ও আর-বাবী ইবনে সুলাইমান (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ঈদের দিন বৃষ্টি হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে মসজিদে নামায আদায় করেন। (ইবনে মাজা)
১১৬১. আহমদ ইবনে মুহাম্মদ (রহঃ) ...... আব্বাদ ইবনে তামীম থেকে তাঁর চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসতিসকার নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে ময়দানে যান। অতঃপর তিনি সেখানে লোকদের নিয়ে উচ্চস্বরে কিরাআত পড়ে দুই রাকাত নামায আদায় করেন। এ সময় তিনি স্বীয় চাদর মুবারক উল্টিয়ে গায়ে দেন এবং কিবলামুখী হয়ে হস্তদ্বয় উপরে তুলে বৃষ্টির জন্য দোয়া করেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজা)
১১৬২. ইবনুস্ সারহ্ (রহঃ) ..... আব্বাদ ইবনে তামীম আল-মাযিনী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তার চাচা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসতিস্কার নামায আদায় করতে গিয়ে লোকদের দিকে পিঠ ফিরিয়ে আল্লাহ্ তায়ালার নিকট বৃষ্টির জন্য দোয়া করেন।
রাবী সুলাইমান ইবনে দাউদের বর্ণনায় আছে, তিনি কিবলামুখী হয়ে তাঁর চাদর উল্টিয়ে গায়ে দিয়ে দুই রাকাত নামায আদায় করেন। অন্য বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, তিনি উক্ত নামাযে কিরাআত শব্দ করে পাঠ করেন।
১১৬৩. মুহাম্মদ ইবনে আউফ (রহঃ) .... মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম (রহঃ) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এই বর্ণনায় নামাযের কথা উল্লেখ নাই। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর চাদর উল্টিয়ে ডান দিক বাম কাধেঁর উপর এবং বাম দিক ডান কাধেঁর উপর রেখে আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া করেন।
হাদিস নং ১১৬৪সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ، قَالَ اسْتَسْقَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ خَمِيصَةٌ لَهُ سَوْدَاءُ فَأَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَأْخُذَ بِأَسْفَلِهَا فَيَجْعَلَهُ أَعْلاَهَا فَلَمَّا ثَقُلَتْ قَلَبَهَا عَلَى عَاتِقِهِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবন যায়দ (রাঃ)
১১৬৪. কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসতিসকার নামায আদায়কালে তাঁর গায়ে কাল ডোরাবিশিষ্ট চাদর ছিল। তিনি এর নীচের দিক উল্টিয়ে উপরের দিকে উঠাবার সময় ভারী বোধ করলেন। তখন তিনি তা উল্টিয়ে নিজ কাধেঁর উপর রাখলেন।
১১৬৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রহঃ) ....... আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসতিসকার নামাযে যান। নামায শেষে তিনি যখন দোয়া করার ইচ্ছা করেন, তখন কিবলামুখী হয়ে স্বীয় চাদর উল্টিয়ে গায়ে দেন। (বুখারী ও মুসলিম। )
হাদিস নং ১১৬৬সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبَّادَ بْنَ تَمِيمٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ الْمَازِنِيَّ، يَقُولُ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمُصَلَّى فَاسْتَسْقَى وَحَوَّلَ رِدَاءَهُ حِينَ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবন যায়দ (রাঃ)
১১৬৬. আল-কানবী (রহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ আল-মাযেনী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঠে গিয়ে ইসতিসকার নামায আদায় করেন এবং কিবলামুখী হয়ে স্বীয় চাদর উল্টিয়ে গায়ে দেন।
১১৬৭. আন্-নুফায়লী এবং উছমান ইবনে আবু শাইবা (রহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণ বেশভূষা পরিধান করে বিনম্র হৃদয়ে ইসতিসকার নামায আদায়ের জন্য মাঠে যান। অতঃপর তিনি মিম্বরে উঠেন। (রাবী উছমানের মতে) এ সময় তিনি সাধারণ নামাযের খুতবার অনুরূপ খুতবা না দিয়ে সম্পূর্ণ সময়টি কাকুতি-মিনতির সাথে দোয়া ও তাকবীরের মধ্যে অতিবাহিত করেন। অতঃপর তিনি ঈদের নামাযের মত দুই রাকাত নামায আদায় করেন। (নাসাঈ, ইবনে মাজা, তিরমিযী)
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
মুসলিম (অধ্যায়ঃ ইসতিসকা) মালিক হতে
২৬৫. ইসতিসকার নামায আদায়কালে দুই হাত তুলে দুয়া করা।
১১৬৮. মুহাম্মদ ইবনে সালামা (রহঃ) ..... উমায়ের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আল-জাওয়া নামক স্থানের নিকটবর্তী ’আহজারুল্ যায়েত্’ নামক স্থানে দাঁড়িয়ে উভয় হাত মাথা পর্যন্ত উত্তোলন করে ইসতিসকার নামাযের পর দোয়া করেন। (নাসাঈ, তিরমিযী)
১১৬৯. ইবনে আবু খালাফ (রহঃ) ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে কিছু লোক বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ক্রন্দনরত অবস্থায় আগমন করে (বৃষ্টির জন্য দোয়া করতে বলে)। তখন তিনি এই দোয়া করেনঃ “হে আল্লাহ্! আমাদের জন্য এমন বৃষ্টি বর্ষণ করুন যা আমাদের জন্য কল্যাণকর এবং মঙ্গলজনক হয়, ফলমূল ও ফসলাদি উৎপাদনে সহায়ক হয়, যা আমাদের জন্য অপকারী না হয়ে উপকারী হয় এবং তা বিলম্বের পরিবর্তে অবিলম্বে দান করুন”। রাবী বলেন এই দুয়ার সাথে সাথেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টিপাত শুরু হয়।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
'আবদ ইবনু হুসাইদ (১১২৫) , ইবনু খুযাইমাহ (১৪১৬) মুহাম্মাদ ইবনু 'উবাইদ হতে। এর বিশুদ্ধ শাহিদ বর্ণনা রয়েছে ইবনু মাজাহ কা'ব ইবনু মুররাহ ও ইবনু 'আব্বাস হতে।
হাদিস নং ১১৭০সহিহ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي شَىْءٍ مِنَ الدُّعَاءِ إِلاَّ فِي الاِسْتِسْقَاءِ فَإِنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ إِبْطَيْهِ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
১১৭০. নাসর ইবন আলি (রহঃ) ..... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইস্তিস্কার নামাযে ব্যতীত অন্য কোন নামাযে হাত তুলে দু’আ করতেন না। তিনি এই নামাযে হাত এত উপরে উত্তোলন করতেন যে, তাঁর বগলের নীচের সাদা অংশ দেখা যেত। (বুখারি, মুসলিম, নাসাই, ইবন মাজা)।
হাদিস নং ১১৭১সহিহ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَسْتَسْقِي هَكَذَا يَعْنِي وَمَدَّ يَدَيْهِ وَجَعَلَ بُطُونَهُمَا مِمَّا يَلِي الأَرْضَ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
১১৭১. আল হাসান ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) ..... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের দুই হাত বেশ উপরে তুলে পানি বর্ষণের জন্য দু’আ করেন। তিনি ওই সময় তাঁর হাতের ভিতরের দিক (সামনের অংশ) মাটির দিকে রাখেন, ফলে আমি তাঁর বগলের সাদা অংশ দেখতে পাই। (মুসলিম)।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
সহীহঃ মুসলিম সংক্ষেপে।
হাদিস নং ১১৭২সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنِي مَنْ، رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو عِنْدَ أَحْجَارِ الزَّيْتِ بَاسِطًا كَفَّيْهِ .
বর্ণনাকারী: মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম তায়মী (রহঃ)
১১৭২. মুসলিম ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ...... মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, "আহজার আয-যায়েত" নামক স্থানে ইস্তিস্কার নামায আদায় কালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উপরের দিকে দুই হাত তুলে দু’আ করতে যারা দেখেছেন, তাঁরা আমাকে এই হাদিস অবহিত করেছেন।
১১৭৩. হারুন ইবন সাইদ আল-আয়লি (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে অনাবৃষ্টির অভিযোগ পেশ করে। তখন তিনি ময়দানে মিম্বর স্থাপনের নির্দেশ দিলে তা স্থাপিত হয়। তিনি দিন ক্ষণ ঠিক করে সকলের নিকট থেকে ময়দানে যাওয়ার ওয়াদা নেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, সেদিন সূর্য উঠা আরম্ভ হতেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ময়দানে গিয়ে উক্ত মিম্বরে আরোহণ করে সর্বপ্রথম তাকবীর বলেন, অতঃপর মহান আল্লাহ্র প্রশংসা করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমরা সময়মত বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারনে দুর্ভিক্ষের অভিযোগ করেছ। অথচ আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন ঘোষণা দিয়েছেনঃ "যদি তোমরা তাঁর নিকট দু’আ কর, তবে তিনি তা কবুল করবেন"।
অতঃপর তিনি বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য, যিনি সমস্ত বিশ্বজগতের রব। তিনি পরম দাতা মেহেরবান, কিয়ামতের দিনের একচ্ছত্র অধিপতি। তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই। তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন। ইয়া আল্লাহ্! তুমিই আল্লাহ্। তুমি ছাড়া আর কেউ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং আমরা ফকির। তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর এবং তার সাহায্যে সবসময় খাদ্যশস্য উৎপাদনের ব্যবস্থা কর। অতঃপর তিনি উভয় হাত এত উপরে উত্তোলন করেন যে, তাঁর বগলের সাদা অংশ দৃষ্টিগোচর হয়।
অতঃপর তিনি লোকদের প্রতি পীঠ ফিরিয়ে স্বীয় চাদর মুবারক উল্টিয়ে দেন এবং ঐ সময়য়ও তাঁর হাত উপরে ছিল। অবশেষে তিনি লোকদের দিকে ফিরে মিম্বর হতে অবতরনের পর দুই রাকাত নামায আদায় করলেন। এই সময় আল্লাহ্ তাআলা আকাশে মেঘের সঞ্চার করেন এবং তার গর্জন ও ঘনঘটা শুরু হয়ে যায়। অতঃপর আল্লাহ্র হুকুমে এমন বৃষ্টিপাত হতে থাকে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে আসার পূর্বে সমস্ত এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে আদ্রতা হতে আত্মরক্ষার জন্য ব্যাস্ত-সমস্ত হতে দেখেন, তখন এমন ভাবে হেসে দেন যে, তাঁর সামনের পাটির দাঁত দৃষ্টিগোচর হয়। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ তা’আলা সব কিছুর উপর অধিক ক্ষমতাবান এবং আমি আল্লাহ্র বান্দা ও রাসুল।
১১৭৪. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় একবার মদিনায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ঐ সময় জুমার নামাযে বক্তৃতা দেয়াকালে এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! অনাবৃষ্টির জন্য উট বকরী ইত্যাদি প্রায় ধ্বংসোম্মুখ। আপনি আল্লাহ্র নিকট আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণের দু’আ করুন। অতঃপর তিনি হাত উঠিয়ে দু’আ করেন। আনাস (রাঃ) বলেন, তিনি দু’আ করার পূর্বে আকাশ সচ্ছ ও রৌদ্রোজ্জ্বল ছিল (এবং দু’আর পর) বাতাস প্রবাহিত হতে শুরু করে এবং মেঘমালা একত্রিত হয়ে অঝোর ধারায় বৃষ্টিপাত হতে থাকে।
রাবী বলেন, অতঃপর আমরা বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমাদের ঘরে প্রত্যাবর্তন করি এবং একাধারে পরবর্তী জুমাআ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে থাকে। সেদিন ঐ ব্যাক্তি অথবা অন্য কোন ব্যাক্তি দণ্ডায়মান হয়ে বলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে আমাদের ঘরবাড়ি ধ্বসে যাচ্ছে, আপনি তা বন্ধের জন্য দু’আ করুন। তখন তিনি মুচকি হেসে দু’আ করেনঃ (ইয়া আল্লাহ্) তা (মেঘমালা) আমাদের উপর হতে অন্য দিকে সরিয়ে নাও।
রাবী বলেন, এই সময় আমি আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করে দেখতে পাই যে, পুঞ্জীভূত মেঘমালা মদিনার আকাশ হতে সরে গিয়ে চতুর্দিকে গোলাকার ধারন করেছে। (বুখারি)।
১১৭৭. উসমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ..... আয়শা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি লোকদের সাথে নামায (কুসুফ) আদায়কালে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। অতঃপর তিনি রুকু করে দণ্ডায়মান হন, পুনঃ রুকু করে দাঁড়ান এবং পরে রুকু করে দুই রাকাত নামায আদায় করেন। এভাবে তিনি প্রত্যেক নামাজে তিনবার রুকু করার পর সিজদায় যান। সেদিন দীর্ঘ সময় নামাযে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে কিছু লোক বেহুঁশ হয়ে যায় এবং তাদের মাথায় পানি ঢালতে হয়। তিনি রুকুতে যেতে "আল্লাহু আকবার" বলতেন এবং রুকু থেকে উঠার সময় সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ বলতেন। এইরূপে নামায শেষ করার মধ্যেই সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। অতঃপর তিনি বলেনঃ চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ কারও জন্ম মৃত্যুর কারনে সংগঠিত হয়না, বরং তা আল্লাহ্ তাআলার নিদর্শনাবলির অন্যতম দুইটি নিদর্শন। আল্লাহ্ এর দ্বারা তাঁর বান্দাদের সতর্ক করে থাকেন। তিনি আরও বলেনঃ যখন সূর্য ও চন্দ্রগ্রহন শুরু হবে তখন তোমরা দ্রুত নামায আদায়ে মনোনিবেশ করবে। (মুসলিম, নাসাই)।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
সহীহঃ মুসলিম। কিন্তু (তিন রাক’আত) কথাটি শায। মাহফুয হচ্ছেঃ (দুই রাক’আত)। যেমন বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে। এছাড়া সামনে ১১৮০ নং এ আসছে।
২৬৭. (কুসুফের নামাযের) দুই রাকাতে চারটি রুকু সম্পর্কে।
১১৭৮. আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... জাবের ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে তাঁর প্রিয় পুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুর দিন সূর্যগ্রহণ হলে লোকেরা বলাবলি করতে থাকে যে, ইব্রাহিমের ইন্তিকালের ফলে সূর্যগ্রহণ হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে ছয়টি রুকু ও চারটি সিজদাহ সহকারে দুই রাকাত নামায আদায় করেন। তিনি "আল্লাহু আকবার" বলে তাহরিমা বাঁধার পর দীর্ঘক্ষণব্যাপী কিরাত পাঠের পর রুকুতে গিয়ে অনুরূপ সময় অতিবাহিত করেন। অতঃপর তিনি মাথা তলার পর পূর্বের কিরাতের চেয়ে ছোট কিরাত পাঠ করে পুনরায় রুকুতে যান এবং দাঁড়ানোর সমপরিমান সময় রুকুতে থাকার পর পুনরায় মাথা উঠিয়ে দ্বিতীয় বারের চেয়ে আরও ছোট সূরা তিলাওয়াত করেন। অতঃপর তিনি রুকুতে গিয়ে দাঁড়ানোর সমপরিমান সময় অতিবাহিত করে মাথা তোলেন এবং পরে সিজদায় যান।
তিনি দুইটি সিজদা করার পর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দণ্ডায়মান হন এবং এখানেও তিনি সিজদায় যাওয়ার পূর্বে তিনটি রুকু করেন। তাঁর দ্বিতীয় রাকাতের (দাঁড়ানোর) সময়ও দীর্ঘ ছিল, কিন্তু তার পরিমান প্রথম কিয়ামের চেয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিয়ামের সময় যথাক্রমে কম ছিল এবং তাঁর রুকুতে অবস্থানের সময় কিয়ামের সমপরিমান ছিল। অতঃপর তিনি তাঁর দাঁড়ানোর স্থান হতে পেছনে সরে আসেন, যার ফলে মুসল্লিদের কাতার কিছুটা পিছনের দিকে সরে যায়। পুনরায় তিনি সস্থানে আসেন, এবং মুসল্লিগণও স্ব স্ব স্থানে ফিরে আসেন। এবং এইরূপে নামায শেষ করার মুহূর্তে সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। এ সময় তিনি ইরশাদ করেনঃ হে লোকগণ! নিশ্চয়ই চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহ্ তাআলার মহান নিদর্শনাবলির অন্যতম। এরা কোন ব্যাক্তির মৃত্যুতে রাহুগ্রস্ত হয়না। অতএব যখন তোমরা গ্রহন হতে দেখবে, তখন তা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নামাযে রত থাকবে। এইরূপে হাদিসের বাকি অংশ বর্ণিত হয়েছে। (মুসলিম)।
হাদিস নং ১১৭৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي يَوْمٍ شَدِيدِ الْحَرِّ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأَصْحَابِهِ فَأَطَالَ الْقِيَامَ حَتَّى جَعَلُوا يَخِرُّونَ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ ثُمَّ رَفَعَ فَأَطَالَ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ ثُمَّ رَفَعَ فَأَطَالَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَصَنَعَ نَحْوًا مِنْ ذَلِكَ فَكَانَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
১১৭৯. মুয়াম্মাল ইবন হিশাম (রহঃ) ..... জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি সাহাবীদের নিয়ে নামায শুরু করেন। তিনি এত দীর্ঘ সময় নামাযে দণ্ডায়মান থাকেন যে কিছু লোক বেহুঁশ হয়ে পড়ে। অতঃপর তিনি রুকুতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন, অতঃপর রুকু হতে উঠে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন। অতঃপর রুকুতে গিয়েও দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন। অতঃপর মাথা তুলে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকেন। অতঃপর তিনি সিজদায় গিয়ে দুটি সিজদাহ করার পর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দণ্ডায়মান হন এবং তাতেও প্রথম রাকাতের অনুরূপ রুকু সিজদা করেন। তিনি এই দুই রাকাত নামায চারটি রুকু ও চারটি সিজদা সহকারে আদায় করেন। এইরূপে পূর্ণ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। (মুসলিম, নাসাই)।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
সহীহঃ মুসলিম।
হাদিস নং ১১৮০সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ خُسِفَتِ الشَّمْسُ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَسْجِدِ فَقَامَ فَكَبَّرَ وَصَفَّ النَّاسُ وَرَاءَهُ فَاقْتَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قِرَاءَةً طَوِيلَةً ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . ثُمَّ قَامَ فَاقْتَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الأُولَى ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً هُوَ أَدْنَى مِنَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ ثُمَّ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ فَاسْتَكْمَلَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ وَانْجَلَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَنْصَرِفَ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১১৮০. ইবনুস সারহ (রহঃ) .... নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি মসজিদে যান। অতঃপর তিনি দণ্ডায়মান হয়ে আল্লাহু আকবার বলে নামায শুরু করেন। এ সময় লোকেরা তাঁর পিছনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তিনি দীর্ঘ কিরাত পাঠের পর আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান এবং বহুক্ষণ রুকুতে অতিবাহিত করার পর "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ" বলে রুকু হতে সোজা হয়ে দাঁড়ান। এসময় তিনি দীর্ঘ কিরাত পাঠ করেন কিন্তু তাঁর পরিমান প্রথম বারের কিরাত হতে সংক্ষিপ্ত ছিল। অতঃপর তিনি আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে গিয়ে সেখানে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। কিন্তু তাঁর পরিমান প্রথম বারের রুকু হতে কম ছিল। অতঃপর তিনি "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ" বলে দণ্ডায়মান হন (এবং পরে দুইটি সিজদা আদায় করেন)। এইরূপে তিনি দ্বিতীয় রাকাতও আদায় করেন। তিনি দুই রাকাত নামায চারটি রুকু ও চারটি সিজদা সহকারে আদ্য করেন এবং নামায শেষ করে ফেরার পূর্বেই সূর্য রাহুমুক্ত হয়ে যায়। (বুখারি, মুসলিম, নাসাই, তিরমিযি, ইবন মাজা)।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস নং ১১৮১সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ كَانَ كَثِيرُ بْنُ عَبَّاسٍ يُحَدِّثُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ مِثْلَ حَدِيثِ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ رَكْعَتَيْنِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
১১৮১. আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণ কালে নামায আদায় করেছেন। অতঃপর রাবী আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি আরো বলেন, তিনি দুই রাকআত কুসূফের নামাযের প্রতি রাকাতে দুইটি করে রুকূ করেছেন। (বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ)।
১১৮২. আহমাদ ইবনুল ফুরাত (রহঃ) ..... উবাই ইবন কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি সাহাবীগণকে নিয়ে নামায আদায় করেন। তিনি এই নামাযে সুদীর্ঘ সূরা পাঠ করেন। তিনি প্রথম রাকাতে পাঁচটি রুকু ও দুইটি সিজদা করেন এবং দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দণ্ডায়মান হয়ে দীর্ঘ সূরা পাঠ করেন এবং পাঁচটি রুকু ও দুইটি সিজদা করেন। অতঃপর তিনি কিবলামুখী হয়ে বসে দু’আ করতে করতে সূর্য রাহুমুক্ত হয়।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আহমাদ(৫/১৩৪), তাবরীযী একে মিশকাত (হাঃ ১৪২৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছে। এর সানাদ দুর্বল। সানাদে আবূ জা’ফার রাযী দুর্বল স্মরণশক্তি মন্দ।
১১৮৩. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুসুফের নামায আদায়কালে দণ্ডায়মান হয়ে কিরাত পাঠের পর রুকুতে যান, অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে কিরাত পাঠের পর রুকু করেন। পরে তিনি দাঁড়িয়ে কিরাত পাঠের পর রুকুতে যান, অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে কিরাত পাঠের পর রুকুতে যান এবং শেষে সিজদা করেন। অতঃপর তিনি সিজদা শেষে দ্বিতীয় রাকাত অনুরূপভাবে আদায় করেন। (মুসলিম, তিরমিযি, নাসাই)।
১১৮৪. আহমাদ ইবন ইউনুস (রহঃ) ..... বসরার অধিবাসী সালাবা ইবন আব্বাদ আল-আবদি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন সামুরা ইবন জুন্দুব (রাঃ) এর ভাষণ শুনেছিলেন। তিনি বলেন, সামুরা ইবন জুন্দুব (রাঃ) বলেন, আমি এবং একজন আনসার যুবক নির্ধারিত স্থানে তীর চালনা করছিলাম। এসময় সূর্য যখন দুই তিন তীর পরিমান উপরে উঠেছিল, তখন তা দর্শকের চোখে তানুমা ঘাসের ন্যায় বিবর্ণ হয়ে যায়। তখন আমরা পরস্পরকে বলি, চল আমরা মসজিদে যাই। আল্লাহ্র শপথ! সূর্যের এই কাল হওয়াটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মতের উপর কোন বিপদ সংগঠিত হতে যাচ্ছে।
রাবী বলেন, আমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখতে পাই যে, তিনি বের হয়ে আসছেন। তিনি ইমামতির স্থানে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করেন এবং আমরাও তাঁর সাথে শরীক হই। তিনি উক্ত নামাযে এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন যে, ইতিপূর্বে কোন নামাযে এত দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকেন নি। আমরা তাঁর কিরাত পাঠের কোন শব্দ শুনি নাই। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি রুকুতেও এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন যে ইতিপূর্বে কখনও এরুপ করেননি। এসময়ও আমরা কোন শব্দ শুনি নাই। অতঃপর তিনি সিজদায় গিয়ে এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন যা ইতিপূর্বের কোন সিজদায় করেননি এবং এসময়ও আমরা তাঁর কোন শব্দ শুনি নাই। অতঃপর তিনি নামাযের দ্বিতীয় রাকাতও অনুরূপ ভাবে আদায় করেন।
রাবী বলেন, তিনি দ্বিতীয় রাকাতের বৈঠকে থাকাকালীন সূর্য রাহুমক্ত হয়। অতঃপর তিনি সালাম ফিরিয়ে দণ্ডায়মান হয়ে আল্লাহ্র প্রশংসায় বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি তাঁর বান্দা ও রাসুল। অতঃপর আহমাদ ইবন ইউনুস (রহঃ) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভাষণের বর্ণনা দেন। (নাসাই, ইবন মাজা, তিরমিজি)।
১১৮৫. মুসা ইবন ইসমাইল (রহঃ) ..... কাবীসা আল হিলালি (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে একদা সূর্যগ্রহণ হয়। এ সময় তিনি অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে এত দ্রুত বের হয়ে আসেন যে, তাঁর চাদর মাটিতে হেঁচড়াচ্ছিল এবং এ সময় মদিনাতে আমি তাঁর সাথে ছিলাম। অতঃপর তিনি দুই রাকাত নামায আদায় করেন, যাতে তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন। তাঁর নামায শেষ করার সময় সূর্যগ্রহণও শেষ হয়। তখন তিনি বলেন, এটা আল্লাহ্ তাআলার অন্যতম নিদর্শন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের সতর্ক করে থাকেন। যখন তোমরা এরূপ হতে দেখবে তখন দ্রুত তোমাদের সর্বশেষ ফরয নামাযের ন্যায় নামায আদায় করবে। (নাসাই)।
১১৮৬. আহমাদ ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ..... হিলাল ইবন আমের (রহঃ) হতে বর্ণিত। কাবিসা আল হিলালি (রাঃ) তাঁকে বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ হলে ... অতঃপর মুসা ইবন ইব্রাহিমের হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এই বর্ণনায় আরও আছে যে, সে সময় এমনভাবে সূর্যগ্রহণ হয় যার ফলে আকাশের নক্ষত্রমণ্ডলী দৃষ্টিগোচর হতে থাকে।
২৬৮. কুসুফের নামাযের কিরা'আত সম্পর্কে।
হাদিস নং ১১৮৭হাসান
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا عَمِّي، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ، كُلُّهُمْ قَدْ حَدَّثَنِي عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِالنَّاسِ فَقَامَ فَحَزَرْتُ قِرَاءَتَهُ فَرَأَيْتُ أَنَّهُ قَرَأَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ - وَسَاقَ الْحَدِيثَ - ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ فَحَزَرْتُ قِرَاءَتَهُ فَرَأَيْتُ أَنَّهُ قَرَأَ بِسُورَةِ آلِ عِمْرَانَ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১১৮৭. উবায়দুল্লাহ ইবন সা’দ (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি লোকদের নিয়ে বের হয়ে নামায আদায় করেন। নামাযে তিনি যে সূরা পাঠ করেন, আমার ধারনা মতে তা ছিল সূরা বাকারা। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে .... তিনি সিজদায় গিয়ে দুইটি সিজদা আদায়ের পর দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকাতে যে সূরা পাঠ করেন, আমার ধারনামতে তা ছিল সূরা আলে ইমরান।
হাদিস নং ১১৮৮সহিহ
حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، أَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً فَجَهَرَ بِهَا يَعْنِي فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১১৮৮. আল আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুসুফের নামায আদায়কালে উচ্চস্বরে দীর্ঘ কিরাত পাঠ করেন।
১১৮৯. আল কানবী (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনগনের সাথে নামায আদায়ের জন্য দণ্ডায়মান হন। তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন যে, সম্ভবত তিনি সূরা আল বাকারা তিলাওয়াত করেন। অতঃপর তিনি রুকু করেন ... পূর্ববর্তী হাদিসের অনুরূপ। (বুখারি, মুসলিম, নাসাই)।
২৬৯. কুসুফের নামাযের জন্য আহবান করা।
হাদিস নং ১১৯০সহিহ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ نَمِرٍ، أَنَّهُ سَأَلَ الزُّهْرِيَّ فَقَالَ الزُّهْرِيُّ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُسِفَتِ الشَّمْسُ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً فَنَادَى أَنَّ الصَّلاَةَ جَامِعَةٌ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১১৯০. আমর ইবন উসমান (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ শুরু হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে লোকদের নামাযের জন্য ডাকতে বলেন। ঐ ব্যাক্তি নামায জামায়াতে অনুষ্ঠিত হবে বলে আহবান করেন। (বুখারি, মুসলিম)।
২৭০. সূর্যগ্রহণের সময় দান-খয়রাত করা।
হাদিস নং ১১৯১সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ لاَ يُخْسَفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَادْعُوا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَكَبِّرُوا وَتَصَدَّقُوا " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১১৯১. আল কানবী (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ চন্দ্র সূর্যগ্রহণ কারও জন্ম মৃত্যুর ফলে হয়না। যখন তোমরা তা এই অবস্থায় দেখবে, তখন আল্লাহ্র জিকির করবে, দু’আ করবে এবং দান খয়রাত করবে। (বুখারি, মুসলিম, নাসাই)।
২৭১. সূর্যগ্রহণের সময় গোলাম আযাদ করা।
হাদিস নং ১১৯২সহিহ
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ فَاطِمَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُ بِالْعَتَاقَةِ فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ .
বর্ণনাকারী: আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ)
১১৯২. যুহায়ের ইবন হারব (রহঃ) ..... আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য বা চন্দ্র গহনের সময় গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দিতেন। (বুখারি)
২৭২. যারা বলেন, সূর্যগ্রহণের সময় দুই রাকআত নামায পড়বে।
১১৯৩. আহমাদ ইবন আবু শুয়ায়েব (রহঃ) ...... আন-নুমান ইবন বাশির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি দুই রাকাত নামায আদায় করেন এবং জিজ্ঞাসা করতে থাকেনঃ সূর্যগ্রহণ কি শেষ হয়েছে? (নাসাই, ইবন মাজা)।
হাদিস নং ১১৯৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَكَدْ يَرْكَعُ ثُمَّ رَكَعَ فَلَمْ يَكَدْ يَرْفَعُ ثُمَّ رَفَعَ فَلَمْ يَكَدْ يَسْجُدُ ثُمَّ سَجَدَ فَلَمْ يَكَدْ يَرْفَعُ ثُمَّ رَفَعَ فَلَمْ يَكَدْ يَسْجُدُ ثُمَّ سَجَدَ فَلَمْ يَكَدْ يَرْفَعُ ثُمَّ رَفَعَ وَفَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ نَفَخَ فِي آخِرِ سُجُودِهِ فَقَالَ " أُفْ أُفْ " . ثُمَّ قَالَ " رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لاَ تُعَذِّبَهُمْ وَأَنَا فِيهِمْ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لاَ تُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ " . فَفَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ صَلاَتِهِ وَقَدْ أَمْحَصَتِ الشَّمْسُ وَسَاقَ الْحَدِيثَ .<br /> <br /> صحيح لكن بذكر الركوع مرتين كما في الصحيحين (الألباني
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ)
১১৯৪. মুসা ইবন ইসমাইল (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি নামাযের রাকাতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। অতঃপর রুকুতে গিয়ে সেখানেও অধিক্ষন কাতান। অতপর তিনি দীর্ঘক্ষণ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর সিজদায় গিয়েও দীর্ঘক্ষণ অতিবাহিত করেন। অতঃপর তিনি প্রথম সিজদা হতে মাথা তোলার পর অনেক্ষন বসে থাকেন এবং পুনরায় সিজদায় গিয়ে সেখানে অনেক বিলম্ব করেন। অতঃপর সিজদা শেষে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ান এবং তাও প্রথম রাকাতের মত আদায় করেন। তিনি সর্বশেষ সিজদা দেওয়ার সময় উহ উহ শব্দ করেন এবং বলেন, ইয়া আল্লাহ্! তুমি কি আমার সাথে ওয়াদা করনি যে, যতক্ষন আমি তাদের মধ্যে থাকব ততক্ষন তুমি তাদেরকে আযাবে নিক্ষেপ করবে না, তুমি আমার সাথে এইরূপ ওয়াদা করনি যে, যতক্ষন তাঁরা ইস্তিগফার করতে থাকবে, ততক্ষণ তুমি তাদেরকে শাস্তি দিবেনা? অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায শেষে সূর্যগ্রহণও শেষ হয়। এরূপে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। (তিরমিজি, নাসাই)।
হাদিস নং ১১৯৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ حَيَّانَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ بَيْنَمَا أَنَا أَتَرَمَّى، بِأَسْهُمٍ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ كُسِفَتِ الشَّمْسُ فَنَبَذْتُهُنَّ وَقُلْتُ لأَنْظُرَنَّ مَا أُحْدِثَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ الْيَوْمَ فَانْتَهَيْتُ إِلَيْهِ وَهُوَ رَافِعٌ يَدَيْهِ يُسَبِّحُ وَيُحَمِّدُ وَيُهَلِّلُ وَيَدْعُو حَتَّى حُسِرَ عَنِ الشَّمْسِ فَقَرَأَ بِسُورَتَيْنِ وَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ .
বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবন সামুরা (রাঃ)
১১৯৫. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আব্দুর রাহমান ইবন সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় আমি একটি নির্দিষ্ট স্থানে তীর চালনা শিক্ষা করার সময় সূর্যগ্রহণ হতে দেখি। তখন আমি সবকিছু ত্যাগ করে বলি যে, আজ সূর্যগ্রহণের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি করেন তা দেখব। আমি তাঁর নিকট এসে দেখতে পাই যে, তিনি দুই হাত তুলে তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), হামদ (আলহামদুলিল্লাহ্) এবং তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পাঠ করছেন। তাঁর দু’আ করাকালীন সময়ের মধ্যে সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। এ সময় তিনি দুটি সূরা সহ দুই রাকাত নামায আদায় করেন। (মুসলিম, নাসাই)।
১১৯৬. মুহাম্মাদ ইবন আমর (রহঃ) ..... উবায়দুল্লাহ ইবন নাদর (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাঃ) এর সময় একবার আকাশ অন্ধকারচ্ছন্ন হলে আমরা তাঁর নিকট এসে বলি, হে আবু হামযা! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে কোন সময় এরূপ হয়েছিল কি? তিনি বলেন, আল্লাহ্ পানাহ! তাঁর যুগে এমনকি জোরে বাতাস প্রবাহিত হতে দেখলেও আমরা কিয়ামতের আশংকায় দৌড়িয়ে মসজিদে আশ্রয় নিতাম।
২৭৪. কোন অশুভ আলামত দেখে সিজদা করা।
হাদিস নং ১১৯৭হাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي صَفْوَانَ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ قِيلَ لاِبْنِ عَبَّاسٍ مَاتَتْ فُلاَنَةُ بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَخَرَّ سَاجِدًا فَقِيلَ لَهُ أَتَسْجُدُ هَذِهِ السَّاعَةَ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا رَأَيْتُمْ آيَةً فَاسْجُدُوا " . وَأَىُّ آيَةٍ أَعْظَمُ مِنْ ذَهَابِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)
১১৯৭. মুহাম্মাদ ইবন উসমান (রহঃ) .... ইকরামা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন এক স্ত্রীর ইন্তিকালের খবর দেওয়া হলে তিনি সাথে সাথে সিজদায় যান। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলঃ আপনি এখন সিজদা করলেন? তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমরা আল্লাহ্র কোন নিদর্শন দেখবে তখন সিজদা করবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীর ইন্তিকালের চেয়ে অধিক বড় নিদর্শন আর কি হতে পারে? (তিরমিযী)।
১১৯৮. আল কানবী (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরে ও আবাসে দুই দুই রাকাত নামাজই ফরয করা হয়েছিল। অতঃপর সফরের সময়ের নামায ঠিক রাখা হয়েছে এবং আবাসের নামায বৃদ্ধি করা হয়েছে (তিন এবং চার রাকাতে)। (বুখারি, মুসলিম, নাসাই)।[১]
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
১। বাড়িতে অবস্থানকে "হযর" আর বাড়ি হতে দুরের যাত্রাকে সফর বলা হয়। ৪৮ মাইল হতে অধিক দুরত্তের যাত্রায় ফরয নামায চার রাকাতের স্থলে দুই রাকাত কসর (সংক্ষেপ) করে পড়তে হয়। মিরাজ রজনীতে সর্বপ্রথম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই দুই দুই রাকাত করে ফরয করা হয়। পরে পূর্ববর্তী নবীদের অনুকরনে হযর অবস্থায় আসর ও ইশার ফরয নামায চার রাকাতে এবং মাগরিব তিন রাকাতে উন্নীত করা হয়। সফরের সময়ে ঐ বরধিত নামাযটিই বাদ দেওয়া হয়েছে। মাগরিবের তিন রাকাত সফরেও বহাল রয়েছে। (সম্পাদক)।
১১৯৯. আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... ইয়ালা ইবন উমাইয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বললাম, বর্তমানে লোকেরা নামায কসর (সংক্ষেপ) করছে, অথচ আল্লাহ্র নির্দেশঃ "যদি তোমরা কাফিরদের হামলার আশংকা কর তবে তোমরা নামায কসর হিসেবে আদায় করতে পার"। বর্তমানে ঐ সময় অতিবাহিত হয়েছে। তখন উমার (রাঃ) বলেন, তুমি যাতে বিস্ময় প্রকাশ করছ, এ ব্যাপারে আমিও বিস্মিত হয়েছিলাম। আমি এ ব্যপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ তা আল্লাহ্র তরফ হতে তোমাদের জন্য সদকাস্বরূপ। কাজেই তোমরা তাঁর দান গ্রহন কর। (মুসলিম, তিরমিজি, ইবন মাজা)।
১২০১. ইবন বাশশার (রহঃ) .... ইয়াহইয়া ইবন ইয়াযিদ আল হানানি (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে সফরের সময় নামায "কসর" পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন মাইল অথবা তিন ফারসাখ দূরত্ব অতিক্রম করতেন, তখন তিনি চার রাকাত ফরয নামাযের পরিবর্তে দুই রাকাত নামায পড়তেন। (মুসলিম)।
হাদিস নং ১২০২সহিহ
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، وَإِبْرَاهِيمَ بْنِ مَيْسَرَةَ، سَمِعَا أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ بِالْمَدِينَةِ أَرْبَعًا وَالْعَصْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
১২০২. যুহায়ের ইবন হারব (রহঃ) .... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে (সফরে রওয়ানা হয়ে) মদিনাতে চার রাকাত যুহরের নামায আদায় করেছি এবং যুল-হুলায়ফাতে গিয়ে আসরের নামায দুই রাকাত আদায় করি। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি, নাসাঈ)।
১২০৩. হারুন ইবন মারুফ (রহঃ) .... উকবা ইবন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যখন কোন বকরীর পালের রাখাল পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থানকালে আযান দিয়ে নামায আদায় করে, তখন মহান আল্লাহ্ পাক তাঁর উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান এবং বলেন, (হে আমার ফেরেশতারা) তোমরা আমার বান্দার প্রতি নজর কর। এই ব্যাক্তি (পাহাড়ের চূড়ায়ও) আযান দিয়ে নামায আদায় করছে। সে আমার ভয়েই তা করছে। অতএব আমি আমার এই বান্দার যাবতীয় গুনাহ (পাপ) মাফ করে দিলাম এবং আমি তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করাব।
২৭৮. সময়ের ব্যাপারে সন্দিহান অবস্থায় মুসাফিরের নামায আদায় করা।
হাদিস নং ১২০৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْمِسْحَاجِ بْنِ مُوسَى، قَالَ قُلْتُ لأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ حَدِّثْنَا مَا، سَمِعْتَ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ فَقُلْنَا زَالَتِ الشَّمْسُ أَوْ لَمْ تَزُلْ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ ارْتَحَلَ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
১২০৪. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফরের মধ্যে থাকাবস্থায় যুহরের নামায আদায় করে পুনঃ রওয়ানা হই। তবে নামায আদায়কালে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েছিল কিনা সে ব্যাপারে আমরা মনে মনে সন্দিহান ছিলাম।
১২০৫. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের নামাযের সময় কোন গন্তব্যে পৌঁছে সেখান হতে যুহরের নামায আদায়ের পূর্বে বের হতেন না।
রাবী বলেন, এক ব্যাক্তি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, যদি তিনি ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়ও কোন গন্তব্যে পৌঁছতেন, তখন তিনি কি নামায আদায় করতেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ করতেন। (নাসাঈ)।
২৭৯. দুই ওয়াক্তের নামায একত্র করা।
হাদিস নং ১২০৬সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، أَخْبَرَهُمْ أَنَّهُمْ، خَرَجُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجْمَعُ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فَأَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ دَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا .
বর্ণনাকারী: মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ)
১২০৬. আল-কানবী (রহঃ) .... মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধের সময় তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফরে বের হলে তিনি তখন যুহর ও আসরের নামায একত্রে এবং মাগরিব ও এশার নামায একত্রে আদায় করেন। একদিন তিনি যুহরের নামায বিলম্ব করে যুহর ও আসরের নামায একত্রে পড়েন। অতঃপর তিনি মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করেন। (মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১২০৭. সুলায়মান ইবন দাউদ (রহঃ) ..... নাফে থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কায় অবস্থানকালে ইবন উমার (রাঃ) এর নিকট সাফিয়্যা (রাঃ) এর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছলে তিনি দ্রুত রওয়ানা হন। ঐ সময় সূর্যাস্তের ফলে আকাশের তারকারাজি দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল। অতঃপর তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সফর কালে ব্যাস্ত থাকতেন, তখন তিনি এই দুই নামায (মাগরিব ও ইশা) একত্রে আদায় করতেন। পশ্চিমাকাশের লালিমা দূরীভূত হওয়ার পর তিনি (ইবন উমার) বাহন হতে অবতরন করে প্রথমে মাগরিব ও পরে ইশার সালাতের (সময় শুরু হলে) একত্রে আদায় করেন। (তিরমিজি, নাসাঈ)।
১২০৮. ইয়াযীদ ইবন খালিদ (রহঃ) ..... মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধের সময় (মনযিল থেকে) রওয়ানা হওয়ার পূর্বে সূর্য ঢলে পড়লে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের ও আসরের নামায একত্রে আদায় করতেন এবং সূর্য ঢলে পরার পূর্বে রওয়ানা করলে তিনি যুহর তার শেষ সময়ে এবং আসর তার প্রথম সময়ে একত্রে আদায় করতেন। তিনি মাগরিবেও তাই করতেন। অর্থাৎ রওানার পূর্বে সূর্যাস্ত গেলে তিনি মাগরিব এবং এশা তার প্রথম সময়ে একত্রে আদায় করতেন আর রওয়ানা হওয়ার পরে সূর্যাস্ত গেলে তিনি মাগরিব বিলম্ব করে ইশার সাথে একত্রে পড়তেন।
১২০৯. কুতায়বা (রহঃ) ..... ইবন উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরকালে একবারের অধিক মাগরিব ও এশার সালাত একত্রে আদায় করেননি। অন্য এক বর্ণনায় নাফে (রহঃ) বলেছেন যে, সাফিয়্যা (রাঃ) এর মৃত্যু সংবাদ প্রাপ্তির পর ইবন উমার (রাঃ) সেই রাতেই শুধু মাগরিব ও এশার নামায একত্রে আদায় করেন। নাফে (রহঃ) হতে অন্য এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, তিনি ইবন উমার (রাঃ)-কে এক বা দুইবার দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করতে দেখেছেন।
১২১০. আল-কানবী (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভয়ভীতি ও সফরকালীন সময় ছাড়াও যুহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশার নামায একত্রে আদায় করেছেন। রাবী মালিক (রহঃ) বলেন, সম্ভবত তিনি বৃষ্টির কারনে এইরূপ করেন। আবুয যুবায়ের হতে অন্য এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে- আমরা তাবুকের যুদ্ধের সফরে এইরূপ করেছিলাম। (মুসলিম, নাসাই)।
১২১১. উসমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় অবস্থানকালে ভয়ভীতি ও বৃষ্টি জনিত কারন ছাড়াই যুহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশার নামায একত্রে আদায় করেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তাঁর উম্মাত যাতে অসুবিধার সম্মুখীন না হয় সেজন্য তিনি এরূপ করেছিলেন। (মুসলিম, তিরমিযি, নাসাই)।
১২১২. মুহাম্মাদ ইবন উবায়েদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবন ওয়াকিদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবন উমার (রাঃ) এর মুয়াযযিন নামাযের সময় আস-সালাত (নামায) শব্দ উচ্চারণ পূর্বক তাঁকে ডাকলে তিনি বলেন, চল, চল। অতঃপর তিনি পশ্চিমাকাশের সাদা বর্ণ দূরীভূত হওয়ার প্রাক্কালে বাহন হতে অবতরন করে মাগরিবের নামায আদায় করেন এবং এরপর সামান্য অপেক্ষা করে পশ্চিমাকাশের সাদা বর্ণ সম্পূর্ণরূপে তিরোহিত হলে তিনি ইশার নামায আদায় করেন, অতঃপর বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন জরুরী কাজে ব্যাস্ত থাকলে তিনি এরূপ করতেন, যেরূপ আমি করেছি। তিনি সেই দিন ও রাতের সফরে তিন দিনের রাস্তা অতিক্রম করেন (অর্থাৎ তিনি তড়িঘড়ি পথ অতিক্রম করেন)।
১২১৩. ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবন জাবের (রহঃ) থেকে এই সনদেও উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে অপর এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, তিনি সেদিন পশ্চিমাকাশের সাদা বর্ণ তিরোহিত হওয়ার সময় বাহন হতে অবতরণ করে মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করেন।
১২১৪. সুলায়মান ইবন হারব ও আমর ইবন আওন (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনাতে অবস্থানকালে যুহরের (শেষ সময়) চার রাকাত এবং আসরের (প্রথম সময়ে) চার রাকাত মোট আট রাকাত এবং মাগরিব ও ইশার নামায ঐরূপে একত্রে সাত রাকাত আদায় করেন। (বুখারি, মুসলিম, নাসাই)।
অন্য এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, ঐ সময় বৃষ্টি না থাকা সত্ত্বেও তিনি এরূপে দুই নামায একত্রে আদায় করেন।
হাদিস নং ১২১৫যঈফ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَابَتْ لَهُ الشَّمْسُ بِمَكَّةَ فَجَمَعَ بَيْنَهُمَا بِسَرِفَ .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
১২১৫. আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ) .... জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরকালিন সময়ে মক্কাতে সূর্যাস্তের পর “সারিফ” নামক স্থানে পৌঁছেই মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করেন। (নাসাঈ)।
১২১৬. মুহাম্মাদ ইবন হিশাম (রহঃ) ..... হিশাম ইবন সা’দ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা ও সারিফ নামক স্থানদ্বয়ের মধ্যেকার দূরত্ব দশ মাইল। (অবশ্য কেউ কেউ ছয়/সাত মাইলের কথাও উল্লেখ করেছেন)।
১২১৭. আব্দুল মালিক ইবন শুয়ায়েব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন দীনার (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ইবন উমার (রাঃ) এর সাথে ছিলাম এবং সূর্য ডুবে গিয়েছিল, ঐ সময় তিনি সফরে পথ অতিক্রম করছিলেন। যখন আমরা “আস-সালাত” বলি, তখনও তিনি পথ অতিক্রম করতেই থাকেন। অতঃপর যখন পশ্চিমাকাশের লালিমা বিদূরিত হল এবং তারকারাজির আলো স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হল, তখন তিনি অবতরণ করে মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সফরকালীন সময়ে জরুরী অবস্থায় এরূপে নামায আদায় করতে দেখেছি। রাবী বলেন, রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি ঐ দুই নামায একত্রে আদায় করতেন। অপর এক বর্ণনায় আছে যে, ইবন উমার (রাঃ) আকাশ প্রান্তে লাল বর্ণ অতিক্রান্ত হওয়ার পর এই দুই নামায একত্রে আদায় করতেন।
হাদিস নং ১২১৮সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَابْنُ، مَوْهَبٍ - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا الْمُفَضَّلُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا ارْتَحَلَ قَبْلَ أَنْ تَزِيغَ الشَّمْسُ أَخَّرَ الظُّهْرَ إِلَى وَقْتِ الْعَصْرِ ثُمَّ نَزَلَ فَجَمَعَ بَيْنَهُمَا فَإِنْ زَاغَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَرْتَحِلَ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ رَكِبَ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَانَ مُفَضَّلٌ قَاضِيَ مِصْرَ وَكَانَ مُجَابَ الدَّعْوَةِ وَهُوَ ابْنُ فَضَالَةَ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
১২১৮. কুতায়বা ও ইবন মাওহাব (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুপুরের পূর্বে সফরে রওয়ানা হলে যুহরের নামায প্রায় আসরের নিকটবর্তী সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করে যুহর ও আসর একত্রে আদায় করতেন। তিনি সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পরার পর সফরের উদ্দেশ্যে বের হলে যুহরের নামায আদায়ের পর বাহনে সওয়ার হতেন। (বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ)।
১২১৯. সুলায়মান ইবন দাউদ (রহঃ) ..... উকায়ল (রহঃ) হতে এই সনদে উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, তিনি অনুরূপ পশ্চিমাকাশে লালিমা দূরীভূত হওয়ার পর মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করেছেন। (বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ)।
১২২০. কুতায়বা ইবন সাইদ (রহঃ) .... মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক অভিযান কালে দ্বিপ্রহরের পূর্বে মনযিল ত্যাগ করলে যুহরের নামায বিলম্বিত করে যুহর ও আসর একত্রে আদায় করতেন। তিনি দিপ্রহরের পরে (কোন মনযিল হতে) রওয়ানা হলে যুহর ও আসর একত্রে আদায় করে রওয়ানা হতেন। তিনি (কোন মনযিল হতে) মাগরিবের পূর্বে রওয়ানা হলে মাগরিবের নামাযে বিলম্ব করে মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। যেদিন তিনি মাগরিবের পরে রওয়ানা হতেন সেদিন তিনি ইশার নামায এগিয়ে এনে মাগরিবের সাথে তা একত্রে পড়তেন। (তিরমিযি)।
ইমাম আবু দাউদ (রহ) বলেন, এই হাদিস কুতায়বা (রহঃ) ব্যাতিত আর কোন রাবীর সূত্রে বর্ণিত হয়নি।
২৮০. সফরের সময় নামাযের কিরা'আত সংক্ষেপ করা।
হাদিস নং ১২২১সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَصَلَّى بِنَا الْعِشَاءَ الآخِرَةَ فَقَرَأَ فِي إِحْدَى الرَّكْعَتَيْنِ بِالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ .
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
১২২১. হাফস ইবন উমার (রহঃ) ..... বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফরে গেলাম। তিনি ইশার নামাযে ওয়াত্তিন ওয়াযযায়তুন এর মত ছোট সূরা পাঠ করেন। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি, ইবন মাজাহ, নাসাঈ)।
২৮১. সফরে সুন্নত ও নফল নামায পড়া।
হাদিস নং ১২২২যঈফ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِي بُسْرَةَ الْغِفَارِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَفَرًا فَمَا رَأَيْتُهُ تَرَكَ رَكْعَتَيْنِ إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ الظُّهْرِ .
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
১২২২. কুতায়বা ইবন সাইদ (রহঃ) .... বারাআ ইবন আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আঠারটি সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সফরসঙ্গী ছিলাম। কিন্তু আমি তাঁকে দ্বিপ্রহরের পরে যুহরের নামাযের পূর্বে দুই রাকাত নামায কোন সময় ত্যাগ করতে দেখিনি। (তিরমিযি)।
১২২৩. আল-কানবী (রহঃ) ..... হাফস ইবন আসিম (রহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমার (রাঃ) এর সাথে সফরে গেলাম। তিনি পথিমধ্যে আমাদের সাথে দুই রাকাত ফরয নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি মুখ ফিরিয়ে দেখতে পান যে কিছু সংখ্যক লোক দাঁড়িয়ে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, এরা কি করছে? আমি বললাম, তাঁরা নফল নামায পড়ছে। তিনি বললেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! যদি আমি নফল নামায আদায় করতে পারতাম তবে ফরয নামাযে চার রাকাতই আদায় করতাম। অতঃপর তিনি বলেন, বহু সফরে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সফরসঙ্গী ছিলাম। কিন্তু আমি কখনও তাঁকে তাঁর ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত দুই রাকাতের অধিক নামায আদায় করতে দেখিনি। আমি বহু সফরে আবু বাকর (রাঃ) এর সফরসঙ্গী ছিলাম, কিন্ত তাঁকেও তাঁর ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত দুই রাকাতের অধিক নামায আদায় করতে দেখিনি। তিনি আরও বলেন, আমি উমার (রাঃ) ও উসমান (রাঃ) এর সফরসঙ্গী ছিলাম, কিন্ত তাদেরকেও তাদের ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত দুই রাকাতের অধিক নামায আদায় করতে দেখিনি। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ “তোমাদের জন্য আল্লাহ্র রাসুলের মধ্যে উত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে”। (বুখারি, মুসলিম, নাসাই, ইবন মাজা)।
২৮২. বাহনের উপর নফল ও বিতর নামায আদায় করা।
হাদিস নং ১২২৪সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسَبِّحُ عَلَى الرَّاحِلَةِ أَىَّ وَجْهٍ تَوَجَّهَ وَيُوتِرُ عَلَيْهَا غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ عَلَيْهَا .
বর্ণনাকারী: সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রহঃ)
১২২৪. আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ) ...... সালিম (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যানবাহনের উপর থাকাকালে যে কোন দিকে মুখ ফিরিয়ে নফল নামায আদায় করতেন, তবে ফরয নামায আদায় করতেন না। (ফরয নামায মাটিতে অবতরণ করে আদায় করতেন)। (বুখারি, মুসলিম, নাসাই)।
১২২৫. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরকালিন সময়ে তাঁর বাহনের (উটের) মুখ কিবলার দিকে থাকা অবস্থায় নফল নামাযের নিয়াত করতেন, অতঃপর জন্তুযান যেদিকে মোড় নিত তিনি সেদিকে ফিরেই নামায পড়তেন।
হাদিস নং ১২২৬সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبِي الْحُبَابِ، سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عَلَى حِمَارٍ وَهُوَ مُتَوَجِّهٌ إِلَى خَيْبَرَ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১২২৬. আল কানবী (রহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গাধার উপরও (নফল) নামায আদায় করতে দেখেছি। এবং এ সময় তাঁর গাধা খয়বরের দিকে যাচ্ছিল। (মুসলিম, নাসাই)।
হাদিস নং ১২২৭সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، - قَالَ - بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَاجَةٍ قَالَ فَجِئْتُ وَهُوَ يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ وَالسُّجُودُ أَخْفَضُ مِنَ الرُّكُوعِ .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
১২২৭. উসমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) .... জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কোন কাজে পাঠান। আমি ফিরে এসে দেখি যে, তিনি বাহনের উপর বসে পূর্বমুখী হয়ে নামায পড়ছেন। ঐ সময় তিনি রুকূর তুলনায় সিজদায় মাথা অধিক নত করেন। (মুসলিম, তিরমিজি, নাসাই, ইবন মাজা)।
১২২৮. মাহমুদ ইবন খালিদ (রহঃ) ...... আতা ইবন আবু রাবাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, মহিলাগন যানবাহনের উপর নামায পড়তে পারবে কি? তিনি বলেন, স্বাভাবিক অথবা অস্বাভাবিক কোন অবস্থাতেই তাদের জন্য এর অনুমতি নাই। রাবী মুহাম্মদ ইবন শুআয়ব (রহঃ) বলেন, এই নির্দেশ কেবলমাত্র ফরয নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।রাবা
১২২৯. মুসা ইবন ইবরাহীম ও ইবরাহীম ইবন মুসা (রহঃ) ..... ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যুদ্ধে শরীক হই এবং মক্কা বিজয়ের দিনও তাঁর সাথে ছিলাম। ঐ সময় তিনি আঠার দিন মক্কায় অবস্থানকালে (চার রাকাতের স্থলে) দুই রাকাত নামায পড়েন এবং বলেনঃ হে শহরবাসী! তোমরা চার রাকাত আদায় কর। কেননা আমি মুসাফিরদের অন্তর্গত। (তিরমিযি)
১২৩০. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা এবং উসমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে সতের দিন অবস্থানকালে নামায কসর করেন। ইবন আব্বাস (রাঃ) আরও বলেন, যে ব্যাক্তি কোথাও সতের দিন অবস্থান করবে সে যেন নামায “কসর” করে এবং যে ব্যাক্তি এর অধিক দিন কোন স্থানে অবস্থান করবে, তাঁকে পুরা নামায আদায় করতে হবে। (বুখারি, তিরমিজি, ইবন মাজা)।
১২৩১. আন-নুফায়লি (রহঃ) ....... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় সেখানে পনের দিন অবস্থান করেন এবং সে সময় তিনি নামায “কসর” করেন। (ইবন মাজা, নাসাঈ)।
হাদিস নং ১২৩২মুনকার (সহীহ হাদীসের বিপরীত)
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنِ ابْنِ الأَصْبَهَانِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقَامَ بِمَكَّةَ سَبْعَ عَشْرَةَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
১২৩২. নাসর ইবন আলি (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কাতে সতের দিন অবস্থানকালে ফরয নামায চার রাকাতের স্থলে দুই রাকাত আদায় করেন।
১২৩৩. মুসা ইবন ইসমাইল এবং মুসলিম ইবন ইব্রাহিম ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মদিনা হতে মক্কায় রওয়ানা করলাম। আমরা পুনরায় মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পূর্ব পর্যন্ত তিনি নামায (চার রাকাত ফরয) দুই রাকাত করে আদায় করেন। রাবী বলেন, আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, আপনারা সেখানে কত দিন অবস্থান করেন? তিনি বলেন, দশ দিন মাত্র। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি, নাসাই, ইবন মাজা)।
হাদিস নং ১২৩৪সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ الْمُثَنَّى، - وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، - قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى - قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ عَلِيًّا، - رضى الله عنه - كَانَ إِذَا سَافَرَ سَارَ بَعْدَ مَا تَغْرُبُ الشَّمْسُ حَتَّى تَكَادَ أَنْ تُظْلِمَ ثُمَّ يَنْزِلُ فَيُصَلِّي الْمَغْرِبَ ثُمَّ يَدْعُو بِعَشَائِهِ فَيَتَعَشَّى ثُمَّ يُصَلِّي الْعِشَاءَ ثُمَّ يَرْتَحِلُ وَيَقُولُ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ . قَالَ عُثْمَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ يَقُولُ وَرَوَى أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ حَفْصِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ أَنَسًا كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَهُمَا حِينَ يَغِيبُ الشَّفَقُ وَيَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ ذَلِكَ وَرِوَايَةُ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلُهُ .
১২৩৪. উসমান ইবন আবু শায়বা ও ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উমার ইবন আলী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) সফরে থাকাকালে সূর্যাস্তের পরে ও অন্ধকার ঘনীভূত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বাহনে চলার পর প্রথমে মাগরিবের নামায আদায় করতেন, অতঃপর রাতের খাওয়া শেষ করে ইশার নামায আদায় করতেন। অতঃপর সফরের উদ্দেশে পুনরায় রওয়ানা হতেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এইরূপে নামায আদায় করতেন। অপর এক বর্ণনায় আছে যে, আনাস (রাঃ) পশ্চিমাকাশের লাল বর্ণ তিরোহিত হওয়ার পর মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন এবং বলতেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন। (নাসাঈ)।
১২৩৫. আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ....... জাবের ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে বিশ দিন অতিবাহিত করা কালে নামায কসর করেন।
২৮৬. শঙ্কাকালীন নামায।
হাদিস নং ১২৩৬তাহকীক অপেক্ষমাণ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي عَيَّاشٍ الزُّرَقِيِّ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعُسْفَانَ وَعَلَى الْمُشْرِكِينَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فَصَلَّيْنَا الظُّهْرَ فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ لَقَدْ أَصَبْنَا غِرَّةً لَقَدْ أَصَبْنَا غَفْلَةً لَوْ كُنَّا حَمَلْنَا عَلَيْهِمْ وَهُمْ فِي الصَّلاَةِ فَنَزَلَتْ آيَةُ الْقَصْرِ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فَلَمَّا حَضَرَتِ الْعَصْرُ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ وَالْمُشْرِكُونَ أَمَامَهُ فَصَفَّ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَفٌّ وَصَفَّ بَعْدَ ذَلِكَ الصَّفِّ صَفٌّ آخَرُ فَرَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَكَعُوا جَمِيعًا ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَ الصَّفُّ الَّذِينَ يَلُونَهُ وَقَامَ الآخَرُونَ يَحْرُسُونَهُمْ فَلَمَّا صَلَّى هَؤُلاَءِ السَّجْدَتَيْنِ وَقَامُوا سَجَدَ الآخَرُونَ الَّذِينَ كَانُوا خَلْفَهُمْ ثُمَّ تَأَخَّرَ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ إِلَى مَقَامِ الآخَرِينَ وَتَقَدَّمَ الصَّفُّ الأَخِيرُ إِلَى مَقَامِ الصَّفِّ الأَوَّلِ ثُمَّ رَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَكَعُوا جَمِيعًا ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ وَقَامَ الآخَرُونَ يَحْرُسُونَهُمْ فَلَمَّا جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ سَجَدَ الآخَرُونَ ثُمَّ جَلَسُوا جَمِيعًا فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ جَمِيعًا فَصَلاَّهَا بِعُسْفَانَ وَصَلاَّهَا يَوْمَ بَنِي سُلَيْمٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى أَيُّوبُ وَهِشَامٌ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ هَذَا الْمَعْنَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَذَلِكَ رَوَاهُ دَاوُدُ بْنُ حُصَيْنٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَكَذَلِكَ عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ وَكَذَلِكَ قَتَادَةُ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ حِطَّانَ عَنْ أَبِي مُوسَى فِعْلَهُ وَكَذَلِكَ عِكْرِمَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَذَلِكَ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ .
ভয় ভীতির সময় যুদ্ধক্ষেত্রে নামায পড়ার পদ্ধতি এই যে, ইমাম মুসল্লিদেরকে দুই ভাগে (কাতারে) বিভক্ত করবেন এবং সকলে মিলে একত্রে তাকবীর পাঠের পর নামায আরম্ভ করবেন, অতঃপর সকলে একত্রে রুকূও করবে। অতঃপর ইমাম তাঁর নিকটবর্তী কাতারের লোকদের নিয়ে (প্রথম রাকাতের জন্য) দুইটি সিজদা করবেন। তখন পিছন কাতারের লোকজন পাহারায় মোতায়েন থাকবে। অতঃপর প্রথম কাতারের মুসল্লিরা সিজদা হতে দাঁড়াবে, তখন দ্বিতীয় কাতারের লোকজন নিজেরাই (প্রথম রাকাতের জন্য) দুইটি সিজদা করে নিবে।
অতঃপর ইমামের নিকটবর্তী মুসল্লিরা (প্রথম কাতারের) পিছনে সরে যাবে এবং পিছনের কাতারের (দ্বিতীয় সারির) লোকজন তাদের স্থানে এসে দণ্ডায়মান হবে। এই সময় ইমাম সকলকে নিয়ে রুকু করবে এবং পরে তাঁর নিকটবর্তী মুসল্লিদের নিয়ে সিজদা করবে। এসময় পিছনের কাতারের লোকেরা পাহারায় মোতায়েন থাকে। অতঃপর ইমাম যখন প্রথম সারির লোকদের সাথে বসবে তখন দ্বিতীয় সারির লোকেরা (দ্বিতীয় রাকাতের জন্য) সিজদা করবে। অতঃপর সকলে একত্রে বসে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবে।
১২৩৬. সাইদ ইবন মানসুর (রহঃ) ..... আবু আয়্যাশ আয-যুরাকি (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে উসফান নামক স্থানে (জুহফা ও মক্কার মধ্যে) ছিলাম। ঐ সময় খালিদ ইবন ওয়ালিদ (রাঃ) মুশরিকদের দলভুক্ত ছিলেন। অতঃপর আমরা যখন যুহরের নামায জামায়াতে আদায় করি, তখন মুশরিকরা বলাবলি করতে থাকেঃ আমরা ধোঁকা ও গাফলতের মধ্যে আছি। যদি আমরা তাদেরকে (মুসলিম) তাদের নামাযের অবস্থায় হামলা করতাম (তবে খুবই উত্তম হত)। এসময় যুহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে কসরের আয়াত নাযিল হয়। অতঃপর আসরের নামাযের সময় হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলা মুখী হয়ে মুশরিকদের মুখোমুখি অবস্থায় দাঁড়ান। এ সময় নামাযের উদ্দেশে তাঁর পিছনে পর পর দুইটি সফ (কাতার) বেঁধে (সকলে দণ্ডায়মান হলে তিনি নামায শুরু করে) সকলকে নিয়ে এক সঙ্গে রুকূতে যান।
অতঃপর (প্রথম রাকাতের) সিজদার সময় কেবলমাত্র প্রথম কাতারের লোকজন (তাঁর সাথে) সিজদায় যায় এবং দ্বিতীয় কাতারের লোকজন তাঁদের পাহারায় মোতায়েন থাকে। অতপর প্রথম কাতারের লোকেরা সিজদা শেষে দণ্ডায়মান হলে দ্বিতীয় কাতারের লোকজন নিজেরাই (প্রথম রাকাতের) স্ব স্ব সিজদা আদায় করেন। অতঃপর প্রথম কাতারের লোকজন পিছনে সরে এলে তথায় দ্বিতীয় কাতারের লোকজন এসে দাঁড়ায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সকলে একসঙ্গে দ্বিতীয় রাকাতের রুকু আদায় করার পর তিনি তাঁর নিকটবর্তী কাতারের লোকদের নিয়ে (দ্বিতীয় রাকাতের) সিজদায় যান। এই সময় পিছনের কাতারের লোকেরা তাঁদের পাহারায় নিযুক্ত থাকে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকটবর্তী লোকদের নিয়ে (সিজদা শেষে) যখন বসেন তখন পিছনের কাতারের লোকেরা স্ব স্ব সিজদা আদায় করে বসে পড়েন। তখন তিনি তাঁদের সাথে একত্রে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করেন। একইভাবে তিনি উসফান ও সুলায়ম গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযান কালে নামায আদায় করেন। (নাসাঈ)।
২৮৭. যেসব বিশেষজ্ঞ আলেম বলেন, শংকাকালীন সময়ে এক কাতার (দল) ইমামের সাথে নামায পড়বে এবং অপর কাতার শত্রুর মোকাবিলায় দণ্ডায়মান থাকবে। তাঁদের অভিমত এই যে, যারা ইমামের নিকটবর্তী থাকবে, ইমাম তাদেরকে নিয়ে এক রাকাত (প্রথম রাকাত) নামায আদায় করে ততক্ষন দণ্ডায়মান থাকবেন, যতক্ষন না তাঁর সাথে নামায আদায়কারীরা নিজ নিজ দ্বিতীয় রাকাত নামায সম্পন্ন করবে। অতঃপর তাঁরা শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টি করতে যাবে, যারা ঐ দায়িত্বে নিয়োজিত তাঁরা এসে ইমামের পিছনে দাঁড়াবে। তখন ইমাম তাদেরকে নিয়ে এক রাকাত (অর্থাৎ ইমামের দ্বিতীয় রাকাত) নামাজ আদায় করে ততক্ষন বসবেন, যতক্ষন না পিছনে আগমনকারীরা তাঁদের দ্বিতীয় রাকাত নামায আদায় সম্পন্ন করে। অতঃপর ইমাম সকলকে (উভয় দলকে) নিয়ে সালাম ফিরাবে।
হাদিস নং ১২৩৭সহিহ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِأَصْحَابِهِ فِي خَوْفٍ فَجَعَلَهُمْ خَلْفَهُ صَفَّيْنِ فَصَلَّى بِالَّذِينَ يَلُونَهُ رَكْعَةً ثُمَّ قَامَ فَلَمْ يَزَلْ قَائِمًا حَتَّى صَلَّى الَّذِينَ خَلْفَهُمْ رَكْعَةً ثُمَّ تَقَدَّمُوا وَتَأَخَّرَ الَّذِينَ كَانُوا قُدَّامَهُمْ فَصَلَّى بِهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَةً ثُمَّ قَعَدَ حَتَّى صَلَّى الَّذِينَ تَخَلَّفُوا رَكْعَةً ثُمَّ سَلَّمَ .
বর্ণনাকারী: সাহল ইবনু আবূ হাসমা (রাঃ)
১২৩৭. উবায়দুল্লাহ ইবন মুয়ায (রহঃ) ..… সাহল ইবন আবী হাসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে নিয়ে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় নামায আদায় করেন। ঐ সময় তিনি তাঁর পিছনে দুই সারিতে লোকদের দাঁড় করান। অতঃপর তিনি তাঁর নিকটবর্তী সারির লোকদের নিয়ে এক রাকাত নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর সাথে নামায আদায়কারীগন স্ব স্ব দ্বিতীয় রাকাত আদায় করেন। অতঃপর তাঁরা পশ্চাতে সরে গেলে পিছনের সারির লোকেরা সামনে এসে দাঁড়ালে তিনি তাদেরকে নিয়ে আরও এক রাকাত নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি বসে থাকা অবস্থায় পিছনে আগমনকারীরা তাঁদের দ্বিতীয় রাকাত আদায় করেন। অতঃপর তিনি সকলকে নিয়ে সালাম ফিরান। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি, ইবন মাজা, নাসাঈ)।
২৮৮. যেসব বিশেষজ্ঞ আলেম বলেন, শংকাকালীন সময়ে ইমাম এক দলকে নিয়ে এক রাকাত আদায় করে দাঁড়িয়ে থাকবেন এবং তাঁর সাথীগণ নিজ নিজ দ্বিতীয় রাকাত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে শত্রুর মুকাবিলায় চলে যাবে এবং সালামের ব্যপারে মতভেদ আছে।
১২৩৮. আল কানবী (রহঃ) ..... সালেহ ইবন খাওয়াত (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি যাতুর-রিকা নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে শংকাকালীন নামায আদায়কারী সাহাবীদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। সেখানে তাঁরা এই পদ্ধতিতে নামায আদায় করেন যে, এক দল তাঁর সাথে নামাযে রত ছিলেন এবং অপর দল শত্রুর মুকাবেলায় নিয়োজিত ছিলেন। তখন তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন আর সাথীরা নিজ নিজ দ্বিতীয় রাকাত নামায আদায় করে শত্রুর মুকাবিলার জন্য গমন করেন। তখন অপর দলটি (যারা শত্রুর মুকাবেলায় নিযুক্ত ছিল) এসে তাঁর পশ্চাতে দণ্ডায়মান হলে তিনি তাদেরকে নিয়ে দ্বিতীয় রাকাত আদায় করেন। অতঃপর তিনি বসে থাকেন আর তাঁর সাথীরা তাঁদের স্ব স্ব দ্বিতীয় রাকাত আদায় করেন। পরে তিনি দ্বিতীয় দলের সাথে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করেন। (বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ)।
১২৩৯. আল কানবী (রহঃ) ..... সাহল ইবন আবু হাসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ভয় ভীতির সময়ে নামাযের নিয়ম এই যে, ইমাম এক দল লোক নিয়ে নামাযে দাঁড়াবে এবং অপর দল দুশমনের মুকাবেলায় নিয়োজিত থাকবে। অতঃপর ইমাম তাঁর নিকটতম সাথীদের সাথে এক রাকাত নামায রুকু সিজদা সহ আদায় করবে এবং পরে ইমাম দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর এই সঙ্গীগণ স্ব স্ব দ্বিতীয় রাকাত আদায় করবে এবং সালাম শেষে তাঁরা চলে গিয়ে দুশমনের মুকাবিলা করবে। ঐ সময় যারা দুশমনের মুকাবিলায় নিয়োজিত ছিল তাঁরা এসে তাকবীর পাঠানতে ইমামের পশ্চাতে দণ্ডায়মান হবে। তখন ইমাম তাঁদের সাথে রুকু ও সিজদা করে (দ্বিতীয় রাকাত আদায়ের পর) সালাম ফিরাবে। ঐ সময় তাঁর সঙ্গীরা দণ্ডায়মান হয়ে স্ব স্ব বাকী নামায আদায় করে সালাম ফিরাবে। (বুখারি, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
২৮৯. এক দল বিশেষজ্ঞ আলেম বলেন, শংকাকালীন নামায পড়া কালে সকলকে এক সঙ্গে তাকবীর তাহরীমা বলতে হবে, যদি এক দলের কিবলা তাঁদের পশ্চাতে পড়ে। অতঃপর যারা ইমামের নিকটবর্তী থাকবে তিনি তাঁদের সাথে এক রাকাত আদায় করবেন। পড়ে অপর দল এসে নিজ নিজ এক রাকাত আদায় করার পর ইমাম তাদেরকে নিয়ে দ্বিতীয় রাকাত আদায় করে বসে থাকবেন। তখন প্রথম রাকাত ইমামের সাথে আদায়কারীগণ ফিরে এসে স্ব স্ব দ্বিতীয় রাকাত আদায় করবে। অতঃপর ইমাম তাঁদের সাথে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবে।
হাদিস নং ১২৪০সহিহ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، وَابْنُ، لَهِيعَةَ قَالاَ أَخْبَرَنَا أَبُو الأَسْوَدِ، أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، يُحَدِّثُ عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ، أَنَّهُ سَأَلَ أَبَا هُرَيْرَةَ هَلْ صَلَّيْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْخَوْفِ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ نَعَمْ . قَالَ مَرْوَانُ مَتَى فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَامَ غَزْوَةِ نَجْدٍ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى صَلاَةِ الْعَصْرِ فَقَامَتْ مَعَهُ طَائِفَةٌ وَطَائِفَةٌ أُخْرَى مُقَابِلَ الْعَدُوِّ ظُهُورُهُمْ إِلَى الْقِبْلَةِ فَكَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَبَّرُوا جَمِيعًا الَّذِينَ مَعَهُ وَالَّذِينَ مُقَابِلِي الْعَدُوِّ ثُمَّ رَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَةً وَاحِدَةً وَرَكَعَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي مَعَهُ ثُمَّ سَجَدَ فَسَجَدَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي تَلِيهِ وَالآخَرُونَ قِيَامٌ مُقَابِلِي الْعَدُوِّ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَامَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي مَعَهُ فَذَهَبُوا إِلَى الْعَدُوِّ فَقَابَلُوهُمْ وَأَقْبَلَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي كَانَتْ مُقَابِلِي الْعَدُوِّ فَرَكَعُوا وَسَجَدُوا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ كَمَا هُوَ ثُمَّ قَامُوا فَرَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَةً أُخْرَى وَرَكَعُوا مَعَهُ وَسَجَدَ وَسَجَدُوا مَعَهُ ثُمَّ أَقْبَلَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي كَانَتْ مُقَابِلِي الْعَدُوِّ فَرَكَعُوا وَسَجَدُوا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاعِدٌ وَمَنْ مَعَهُ ثُمَّ كَانَ السَّلاَمُ فَسَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَلَّمُوا جَمِيعًا فَكَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَانِ وَلِكُلِّ رَجُلٍ مِنَ الطَّائِفَتَيْنِ رَكْعَةٌ رَكْعَةٌ .
বর্ণনাকারী: মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহঃ)
১২৪০. আল হাসান ইবন আলী (রহঃ) ..... মারওান ইবনুল-হাকাম হতে বর্ণিত। তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ) জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি কখনও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ভয় ভীতির সময় নামায আদায় করেছেন? আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, হ্যাঁ। মারওান পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, কখন? তিনি বলেন, যাতুর-রিকার যুদ্ধের সময়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামায আদায়ের জন্য দাঁড়ালে একদল তাঁর সাথে নামাযে দাঁড়ায় এবং অপর দল কিবলার দিকে পিঠ ফিরিয়ে শত্রুর মুকাবিলায় নিয়োজিত থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহু আকবার বললে যারা তাঁর সাথে ছিলেন এবং যারা শত্রুর মুকাবিলায় নিয়োজিত ছিলেন সকলে তাকবীর বলেন।
তিনি তাঁর নিকটবর্তী লোকদের সঙ্গে নিয়ে প্রথম রাকাতের সিজদাহ করেন এবং অপর দল শত্রুর মুকাবিলায় নিয়োজিত থাকে। অতঃপর তিনি দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ান এবং তাঁর সাথীগণ দুশমনের মুকাবিলায় যান এবং যারা ঐ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তাঁরা এসে একাকী প্রথম রাকাতের রুকু ও সিজদা করে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য তাঁর পশ্চাতে দণ্ডায়মান হন। তখন তিনি তাঁদের সাথে একত্রে দ্বিতীয় রাকাতের রুকু সিজদা করে বসে থাকেন। এই সময়ে যারা দুশমনের মুকাবিলায় নিয়োজিত ছিল তাঁরা ফিরে এসে নিজ নিজ রুকু সিজদা করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে বসেন। অতঃপর তিনি সকলকে নিয়ে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করেন। রাবী বলেন, এই সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুই রাকাত নামাযই জামায়াতের সাথে আদায় করেন, কিন্তু তাঁর সাহাবীদের (প্রতিটি দলের) নামায জামায়াতের সাথে এক রাকাত করে আদায় হয়েছে। (নাসাঈ)।
১২৪১. মুহাম্মাদ ইবন আমর (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে নজদে গমন করি। ঐ সময় আমরা যাতুর-রিকা নামক স্থানের একটি খেজুর বাগানে অবস্থান করি। তখন গাতাফান গোত্রের সাথে আমাদের যুদ্ধ হয়। অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ অর্থ জ্ঞাপক হাদিস বর্ণনা করেন, যদিও কিছু শাব্দিক পার্থক্য রয়েছে।
রাবী ইবন ইসহাকের বর্ণনায় আছে, ’যখন তাঁর সাথীগণ রুকু সিজদা করেন’। রাবী আরও বলেন, রাকাত শেষে তাঁরা কিবলার দিকে মুখ রেখে পশ্চাদপসারন করে যারা শত্রুর মুকাবিলায় নিয়োজিত ছিল, তাঁদের স্থানে গিয়ে দণ্ডায়মান হন। উক্ত বর্ণনায় কিবলার দিকে পৃষ্ঠ প্রদর্শনের কথা উল্লেখ নাই।
হাদিস নং ১২৪২হাসান
قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأَمَّا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ فَحَدَّثَنَا قَالَ حَدَّثَنِي عَمِّي، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهُ بِهَذِهِ الْقِصَّةِ، قَالَتْ كَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَبَّرَتِ الطَّائِفَةُ الَّذِينَ صُفُّوا مَعَهُ ثُمَّ رَكَعَ فَرَكَعُوا ثُمَّ سَجَدَ فَسَجَدُوا ثُمَّ رَفَعَ فَرَفَعُوا ثُمَّ مَكَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا ثُمَّ سَجَدُوا هُمْ لأَنْفُسِهِمُ الثَّانِيَةَ ثُمَّ قَامُوا فَنَكَصُوا عَلَى أَعْقَابِهِمْ يَمْشُونَ الْقَهْقَرَى حَتَّى قَامُوا مِنْ وَرَائِهِمْ وَجَاءَتِ الطَّائِفَةُ الأُخْرَى فَقَامُوا فَكَبَّرُوا ثُمَّ رَكَعُوا لأَنْفُسِهِمْ ثُمَّ سَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَجَدُوا مَعَهُ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَجَدُوا لأَنْفُسِهِمُ الثَّانِيَةَ ثُمَّ قَامَتِ الطَّائِفَتَانِ جَمِيعًا فَصَلُّوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَكَعَ فَرَكَعُوا ثُمَّ سَجَدَ فَسَجَدُوا جَمِيعًا ثُمَّ عَادَ فَسَجَدَ الثَّانِيَةَ وَسَجَدُوا مَعَهُ سَرِيعًا كَأَسْرَعِ الإِسْرَاعِ جَاهِدًا لاَ يَأْلُونَ سِرَاعًا ثُمَّ سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَلَّمُوا فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ شَارَكَهُ النَّاسُ فِي الصَّلاَةِ كُلِّهَا .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১২৪২. আবু দাউদ (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে ঘটনাটি এভাবে বিবৃত হয়েছেঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তাকবীরের সাথে সাথেই তাঁর নিকটবর্তী কাতারের লোকেরা তাকবীর বলেন এবং তাঁর সাথে প্রথম রাকাতের রুকু ও সিজদা করেন। অতঃপর তিনি প্রথম সিজদা হতে মাথা উঠাবার সাথে সাথে তারাও মাথা উঠান। প্রথম সিজদা করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে থাকেন। এ সময় মুক্তাদিগন নিজেরাই দ্বিতীয় সিজদা করে শত্রুর মুকাবিলা করার জন্য গমন করে। তখন দ্বিতীয় দল এসে নিজেরা তাকবীর বলে রুকু আদায় করে এবং পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সিজদা করে। অতঃপর তিনি একাকী দণ্ডায়মান হন। তখন মুক্তাদিগন স্ব স্ব দ্বিতীয় সিজদা আদায় করে দণ্ডায়মান হয়। অতঃপর উভয় দল একত্রিত হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রুকু সিজদা করে পূর্ববর্তী সিজদাটি (যা সকলে বিচ্ছিন্ন ভাবে আদায় করে) জামায়াতের সাথে আদায় করেন এবং তা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ সালাম ফিরান। এমনিভাবে সকলে জামাতের অর্ধেক অংশে শরীক হয়ে নামায সম্পন্ন করেন।
২৯০. এক দল বিশেষজ্ঞ আলেমের মতে, ইমাম প্রত্যেক দলের সাথে এক রাকাত করে নামায পড়ে সালাম ফিরাবে। অতঃপর প্রত্যেক দল স্বতন্ত্র ভাবে আরও এক রাকাত পড়বে।
১২৪৩. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দলকে নিয়ে এক রাকাত নামায আদায় করেন এবং এই সময় দ্বিতীয় দল শত্রুর মুকাবিলায় নিয়োজিত থাকে। অতঃপর প্রথম দলটি শত্রুর মুকাবিলার জন্য গমন করলে দ্বিতীয় দলটি আসার পর তিনি তাঁদের নিয়ে দ্বিতীয় রাকাত আদায় করে সালাম ফিরান। ঐ সময় তাঁরা স্ব স্ব দ্বিতীয় রাকাত আদায় করে শত্রুর মুকাবিলায় গমন করে। অতঃপর প্রথম দলটি তাঁদের বাকী নামায সম্পন্ন করে। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি, নাসাঈ)।
২৯১. এক দল বিশেষজ্ঞ আলেমের মতে, ইমাম প্রথম দলের সাথে এক রাকাত করে নামায পড়ে সালাম ফিরাবে এবং তাঁরা উঠে সতন্ত্রভাবে আরেক রাকাত নামায পড়বে। অতঃপর তাঁরা শত্রুর মুকাবিলায় চলে যাবে। এবং পরবর্তী দল এসে তাঁদের স্থানে দাঁড়িয়ে ইমামের সাথে এক রাকাত পড়বে।
হাদিস নং ১২৪৪যঈফ
حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا خُصَيْفٌ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْخَوْفِ فَقَامُوا صَفَّيْنِ صَفٌّ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَفٌّ مُسْتَقْبِلَ الْعَدُوِّ فَصَلَّى بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَةً ثُمَّ جَاءَ الآخَرُونَ فَقَامُوا مَقَامَهُمْ وَاسْتَقْبَلَ هَؤُلاَءِ الْعَدُوَّ فَصَلَّى بِهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَةً ثُمَّ سَلَّمَ فَقَامَ هَؤُلاَءِ فَصَلَّوْا لأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً ثُمَّ سَلَّمُوا ثُمَّ ذَهَبُوا فَقَامُوا مَقَامَ أُولَئِكَ مُسْتَقْبِلِي الْعَدُوِّ وَرَجَعَ أُولَئِكَ إِلَى مَقَامِهِمْ فَصَلَّوْا لأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً ثُمَّ سَلَّمُوا .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
১২৪৪. ইমরান ইবন মায়সারা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে ভয় ভীতির সময় নামায আদায়কালে লোকদের দুই ভাগে বিভক্ত করেন। ঐ সময় একদল তাঁর পশ্চাতে নামাযে দণ্ডায়মান হয় এবং অপর দল শত্রুর মুকাবিলায় নিয়োজিত থাকে। তিনি তাঁর নিকটবর্তী লোকদের সাথে নিয়ে এক রাকাত নামায সম্পন্ন করলে তাঁরা শত্রুর মুকাবিলায় গমন করে এবং অপর দলটি এসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে নামাযে যোগ দেয়। তিনি তাদেরকে সাথে নিয়ে নামাযের দ্বিতীয় রাকাত শেষ করে একাকী সালাম ফিরান। তখন তাঁরা দণ্ডায়মান হয়ে স্ব স্ব দ্বিতীয় রাকাত আদায় করে সালাম ফিরায়। অতঃপর তাঁরা শত্রুর মুকাবিলায় চলে গেলে প্রথম দলটি প্রত্যাবর্তন করে পূর্বে দণ্ডায়মান হওয়ার স্থানে গিয়ে বাকী নামায একাকী আদায় করে সালাম ফিরায়।
১২৪৫. তামিম ইবনুল মুনতাসির (রহঃ) .... খুসায়েফ (রহঃ) হতে এই সনদে উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, অতঃপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর বললে উভয় দলই তাঁর সাথে তাকবীর বলে।
ইমাম আবু দাউদ (রহ) বলেন, সাওরী অনুরূপ অর্থে খুসায়েফ হতে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং আব্দুর রহমান ইবন সামুরা (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের নিয়মেই নামায আদায় করেন। তবে ব্যাতিক্রম এই যে, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বিতীয় দলটির সাথে নামাযের দ্বিতীয় রাকাত আদায়ের পর সালাম ফিরালে মুক্তাদিগন শত্রুর মুকাবিলায় গমন করে এবং সেখানকার দলটি ফিরে এসে তাঁদের দ্বিতীয় রাকাত আদায় করে শত্রুর মুকাবিলায় গমন করে এবং পরবর্তী দলটি তাঁদের সুবিধা মত স্ব স্ব বাকী রাকাত আদায় করে।
অন্য বর্ণনায় আছে যে, আব্দুস সামাদ ইবন হাবিব বলেন, আমার পিতা আমাকে জানান যে, তাঁরা আব্দুর রহমান ইবন সামুরা (রাঃ) এর সাথে কাবুল নামক স্থানে সালাতুল খাওফ আদায় করেন।
২৯২. এক দল বিশেষজ্ঞ আলেমের মতে,প্রত্যেক দল ইমামের সাথে এক রাকাত করে নামায পড়বে এবং দ্বিতীয় রাকাত পড়ার প্রয়োজন নেই।
হাদিস নং ১২৪৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي الأَشْعَثُ بْنُ سُلَيْمٍ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ زَهْدَمٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ بِطَبَرِسْتَانَ فَقَامَ فَقَالَ أَيُّكُمْ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْخَوْفِ فَقَالَ حُذَيْفَةُ أَنَا فَصَلَّى بِهَؤُلاَءِ رَكْعَةً وَبِهَؤُلاَءِ رَكْعَةً وَلَمْ يَقْضُوا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا رَوَاهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَمُجَاهِدٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَقِيقٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَيَزِيدُ الْفَقِيرُ وَأَبُو مُوسَى - قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَجُلٌ مِنَ التَّابِعِينَ لَيْسَ بِالأَشْعَرِيِّ - جَمِيعًا عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ قَالَ بَعْضُهُمْ فِي حَدِيثِ يَزِيدَ الْفَقِيرِ إِنَّهُمْ قَضَوْا رَكْعَةً أُخْرَى . وَكَذَلِكَ رَوَاهُ سِمَاكٌ الْحَنَفِيُّ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَذَلِكَ رَوَاهُ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَكَانَتْ لِلْقَوْمِ رَكْعَةً رَكْعَةً وَلِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ .
বর্ণনাকারী: সালাবা ইবন যাহদাম ইয়ারবু'ঈ (রাঃ)
১২৪৬. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... সালাবা ইবন যাহদাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সাইদ ইবনুল আস (রাঃ) এর সাথে তাবারিস্তানে ছিলাম। তিনি সেখানে দণ্ডায়মান হয়ে বলেন, আপনাদের মধ্যে এমন কে আছেন যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ভয় ভীতির সময় নামায আদায় করেছেন? হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি তাঁর সাথে সালাতুল খাওফ আদায় করেছি। তিনি এক দলকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম রাকাত এবং দ্বিতীয় দলকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় রাকাত আদায় করেন। ঐ সময় মুক্তাদিগন তাঁদের দ্বিতীয় রাকাত সম্পন্ন করেন নাই। অন্য বর্ণনায় আছে যে, তাঁরা দ্বিতীয় রাকাত সম্পন্ন করেন। যায়েদ ইবন সাবিত (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অন্য এক বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, এই সময় মুক্তাদিগন এক এক রাকাত আদায় করেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই রাকাত সম্পন্ন করেন। (নাসাঈ)
হাদিস নং ১২৪৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ فَرَضَ اللَّهُ تَعَالَى الصَّلاَةَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَضَرِ أَرْبَعًا وَفِي السَّفَرِ رَكْعَتَيْنِ وَفِي الْخَوْفِ رَكْعَةً .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
১২৪৭. মুসাদ্দাদ ও সাইদ ইবন মানসুর (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারফত ফরয নামায বাড়িতে অবস্থান কালে চার রাকাত (যুহর, আসর ও ইশা) এবং সফরের মধ্যে দুই রাকাত (চার রাকাতের পরিবর্তে) এবং যুদ্ধকালীন ভয় ভীতির সময় এক রাকাত ফরয করেছেন। (মুসলিম, নাসাই, ইবন মাজাহ)।
২৯৩. এক দল বিশেষজ্ঞ আলেমের মতে, ইমাম প্রত্যেক দলের সাথে দুই রাকাত করে নামায পড়বে।
হাদিস নং ১২৪৮সহিহ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي خَوْفٍ الظُّهْرَ فَصَفَّ بَعْضَهُمْ خَلْفَهُ وَبَعْضَهُمْ بِإِزَاءِ الْعَدُوِّ فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ فَانْطَلَقَ الَّذِينَ صَلَّوْا مَعَهُ فَوَقَفُوا مَوْقِفَ أَصْحَابِهِمْ ثُمَّ جَاءَ أُولَئِكَ فَصَلَّوْا خَلْفَهُ فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ فَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعًا وَلأَصْحَابِهِ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ . وَبِذَلِكَ كَانَ يُفْتِي الْحَسَنُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ فِي الْمَغْرِبِ يَكُونُ لِلإِمَامِ سِتَّ رَكَعَاتٍ وَلِلْقَوْمِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَذَلِكَ قَالَ سُلَيْمَانُ الْيَشْكُرِيُّ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)
১২৪৮. উবায়দুল্লাহ ইবন মুয়ায (রহঃ) ...... আবু বাকার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (যুদ্ধকালীন) ভীতিকর পরিস্থিতিতে যুহরের নামায আদায় করেন। ঐ সময় লোকজন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে একদল তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়ায় এবং অপর দল শত্রুর মুকাবিলায় নিয়োজিত থাকে। ঐ সময় তিনি তাঁর পিছনে দণ্ডায়মান লোকদের নিয়ে দুই রাকাত নামায পড়ে সালাম ফিরান। অতঃপর নামায শেষে তাঁরা শত্রুর মুকাবিলায় চলে গেলে, সেখানে যারা ছিল তাঁরা এসে তাঁর পশ্চাতে দাঁড়ায়। তখন তিনি তাঁদের নিয়ে দুই রাকাত নামায আদায় করে সালাম ফিরান। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামাযের রাকাতের সংখ্যা চারে পৌঁছায় এবং সাহাবায়ে কিরামের দুই দুই রাকাত হয়। হাসান বসরি (রহঃ) এইরুপ ফতওয়া দিতেন। (নাসাঈ)।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন। এরূপভাবে মাগরিবের নামাযে ইমামের ছয় রাকাত এবং মুক্তাদিদের তিন তিন রাকাত হবে। তিনি আরও বলেন, জাবির (রাঃ) হতেও এরূপ বর্ণিত হয়েছে।
২৯৪. শত্রু হত্যার উদ্দেশ্যে অনুসন্ধানকারীর নামায সম্পর্কে।
১২৪৯. আবু মামার আবদুল্লাহ ইবন আমর (রহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবন উনায়স (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে খালিদ ইবন সুফিয়ান আল-হাযালীকে হত্যার জন্য উরানা ও আরাফাতের দিকে প্রেরন করেন। তিনি বলেন, আমি তাঁকে আসরের নামাযের সময় দেখতে পাই। এই সময় আমার মনে এরূপ আশংকার সৃষ্টি হয় যে, যদি আমি নামাযে রত হই তবে সে আমার নাগালের বাইরে চলে যাবে। তখন আমি ইশারায় নামায আদায় করতে করতে তাঁর দিকে রওয়ানা হই।
অতঃপর আমি তাঁর নিকটবর্তী হলে সে আমাকে জিজ্ঞাসা করে, তুমি কে? আমি বলি, আমি আরবের একজন অধিবাসী। আমি জানতে পারলাম যে তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সৈন্য যোগাড় করছ। তাই আমি তোমার নিকট এসেছি। তখন সে ব্যাক্তি বলে, আমি এইরূপ করছি। রাবী বলেন, অতঃপর আমি তাঁর সাথে পথ চলতে থাকি। এমতাবস্থায় আমি সুযোগ মত তাঁর উপর তরবারির আঘাত হেনে তাঁকে হত্যা করি।
২৯৫. নফল ও সুন্নাত নামাযের বিভিন্ন দিক ও রাকাআত সম্পর্কে।
১২৫০. মুহাম্মাদ ইবন ঈসা (রহঃ) .... উম্মে হাবীবা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যাক্তি দৈনিক বার রাকাত নফল নামায আদায় করবে, এর বিনিময়ে আল্লাহ্ তাআলা তাঁর জন্য বেহেশতের মধ্যে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। (মুসলিম, তিরমিযি, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১২৫১. আহমাদ ইবন হাম্বল ও মুসাদ্দাদ (রহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবন শাকীক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলে, একদা আমি আয়েশা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায (সুন্নাত/নফল) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, তিনি যুহরের পূর্বে ঘরে চার রাকাত নামায আদায় করতেন। পুনরায় ঘরে ফিরে এসে তিনি দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। তিনি মাগরিবের ফরয নামায জামায়াতে আদায়ের পর ঘরে ফিরে এসে তিনি দুই রাকাত (সুন্নাত) নামায আদায় করতেন। তিনি রাতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ও বসে (নফল) নামায পড়তেন। তিনি দাঁড়িয়ে কিরাআত পাঠ করলে রুকু ও সিজদাও ঐ অবস্থায় করতেন এবং যখন তিনি বসে কিরাত পাঠ করতেন তখন রুকু সিজদাও ঐ অবস্থায় আদায় করতেন। তিনি সুবহে সাদিকের সময় দুই রাকাত (সুন্নাত) নামায আদায় করতেন। অতঃপর তিনি ঘর হতে বের হয়ে (মসজিদে গিয়ে) জামায়াতে ফজরের নামায আদায় করতেন। (মুসলিম, তিরমিযি, নাসাই, ইবন মাজাহ)।
১২৫২. আল-কানবী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের পূর্বে কোন কোন সময় দুই রাকাত নামায আদায় করতেন এবং যুহরের ফরয নামায আদায়ের পরও দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। তিনি মাগরিবের ফরযের পর ঘরে ফিরে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। তিনি এশার ফরয নামায আদায়ের পর দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। তিনি জুমুআর নামায আদায়ের পর ঘরে ফিরে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। (বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ)।
হাদিস নং ১২৫৩সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الْغَدَاةِ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১২৫৩. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের ফরযের পূর্বে চার রাকাত এবং ফজরের ফরযের পূর্বে দুই রাকাত নামায কখনও ত্যাগ করতেন না। (বুখারি, নাসাঈ)।
২৯৬. ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত নামায।
হাদিস নং ১২৫৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي عَطَاءٌ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ عَلَى شَىْءٍ مِنَ النَّوَافِلِ أَشَدَّ مُعَاهَدَةً مِنْهُ عَلَى الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الصُّبْحِ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১২৫৪. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযের পূর্বে দুই রাকাত নামায আদায়ের ব্যপারে যে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা পালন করেছেন তা অন্য কোন নামাযের (সুন্নাত বা নফল) ব্যাপারে পালন করেননি। (বুখারি, মুসলিম)।
১২৫৫. আহমাদ ইবন আবু শুয়ায়ব (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের ফরয নামাযের পূর্বের দুই রাকাত নামায এত সংক্ষেপ করতেন যে, আমি ধারনা করতাম, তিনি কি তাতে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
১২৫৭. আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... বিলাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে ফজরের নামাযের সময় সম্পর্কে জ্ঞাত করতে আসেন। এ সময় আয়েশা (রাঃ) বিলাল (রাঃ)-কে একটি প্রশ্ন করে ব্যাস্ত রাখা অবস্থায় আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। অতঃপর বিলাল (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পুনঃ দুইবার ফজরের নামাযের সময় সম্পর্কে অবহিত করেন, কিন্তু তিনি তখন বাইরে আসেন নাই। কিছুক্ষন পরে তিনি বাইরে বের হয়ে এসে লোকদের নিয়ে নামায আদায় করেন। বিলাল (রাঃ) তাঁকে বলেন, (অদ্য নামাযে বিলম্ব হওয়ার কারন এই যে) আয়েশা (রাঃ) তাঁকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে আটকে রাখেন এবং অপরপক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও বের হতে বিলম্ব করেন। ফলে পূর্বাকাশ অধিক পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (আমার বিলম্বের কারন এই যে) আমি তোমার আহবানের সময় ফজরের ফরয নামাযের পূর্বের দুই রাকাত নামায আদায়ে মশগুল ছিলাম। তিনি বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনিও আজ অধিক বিলম্ব করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি আজ যত দেরি করেছি এই চাইতে অধিক বিলম্ব হলেও দুই রাকাত অত্যন্ত সুন্দরভাবে আদায় করতাম।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
আহমাদ (৬/১৪)
হাদিস নং ১২৫৮যঈফ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ الْمَدَنِيَّ - عَنِ ابْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ سِيْلاَنَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَدَعُوهُمَا وَإِنْ طَرَدَتْكُمُ الْخَيْلُ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
১২৫৮. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা কোন সময় ঐ দুই রাকাত নামায (ফজরের সুন্নাত) ত্যাগ করবেনা, ঘোড়ায় তোমাদের পিষে ফেললেও।
১২৬১. মুসাদ্দাদ, আবু কামিল এবং উবায়দুল্লাহ ইবন আমর (রহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ ফজরের সুন্নাত নামায পড়ার পর যেন কাত হয়ে শুয়ে ক্ষণিক বিশ্রাম নেয়। এ সময় মারওয়ান ইবনুল হাকাম তাঁকে বলেন, যদি কেউ মসজিদে গিয়ে ডান পাঁজরে ভর দিয়ে বিশ্রাম গ্রহন করে তবে কি তা যথেষ্ট হবে? তিনি বলেন, না (এটা রাবী উবায়দুল্লাহ-র বর্ণনা অনুযায়ী)।
রাবী বলেন, অতঃপর এই সংবাদ ইবন উমার (রাঃ) এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) এই বর্ণনায় নিজের তরফ থেকে কিছু বৃদ্ধি করেছেন কি? তখন ইবন উমার (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনি কি তা অস্বীকার করেন? তিনি বলেন, না। আবু হুরায়রা (রাঃ) সাহসের সাথে তা বলেছেন এবং আমরা এতে দুর্বলতা প্রকাশ করেছি। এই সংবাদ আবু হুরায়রা (রাঃ) এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, কোন কিছু স্মরণে থাকা ও ভুলে যাওয়া কোন দোষের ব্যপার নয়। (তিরমিযী)।
১২৬২. ইয়াহিয়া ইবন হাকিম (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদ নামায আদায়ের পর আমাকে জাগ্রত অবস্থায় পেলে আমার সাথে (দ্বীন সম্পর্কীয়) আলাপ আলোচনা করতেন। আমি ঘুমন্ত অবস্থায় থাকলে তিনি আমাকে ঘুম থেকে উঠাতেন। অতঃপর তিনি দুই রাকাত নামায আদায়ের পর কাত হয়ে শুয়ে বিশ্রাম নিতেন এবং মুয়াজ্জিনের আগমন পর্যন্ত ঐ ভাবে থাকতেন। মুয়াজ্জিন এসে ফজরের নামাযের খবর দিলে তিনি ফজরের দুই রাকাত (সুন্নাত) হাল্কাভাবে আদায় করতেন। অতঃপর ফজরের ফরয নামায আদায়ের জন্য মসজিদে যেতেন। (বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি)।
১২৬৩. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত নামায আদায়ের পর আমাকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলে তিনিও একটু আরাম করতেন। তিনি আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখলে আমার সাথে দীন সম্পর্কে আলোচনা করতেন।
১২৬৪. আব্বাস আল আনবারী এবং যিয়াদ ইবন ইয়াহিয়া (রহঃ) ...... আবু বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ফজরের নামাযে যাই। এই সময় তিনি কোন ব্যাক্তির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে নামাযের জন্য আহবান করতেন অথবা তাঁর পা দিয়ে স্পর্শ করতেন (সাধারণত ফজরের সুন্নাত নামায আদায়ের পর যারা আরামের জন্য ক্ষণিক শয়ন করত, তিনি তাদেরকে এইরূপে ডাকতেন)।
২৯৯. কেউ ফজরের সুন্নাত নামায আদায়ের পূর্বে ইমামকে জামায়াতে নামাযরত পেলে।
হাদিস নং ১২৬৫সহিহ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الصُّبْحَ فَصَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ ثُمَّ دَخَلَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " يَا فُلاَنُ أَيَّتُهُمَا صَلاَتُكَ الَّتِي صَلَّيْتَ وَحْدَكَ أَوِ الَّتِي صَلَّيْتَ مَعَنَا " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ)
১২৬৫. সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন সারজিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি মসজিদে এসে দেখতে পায় যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামায়াত শুরু করে দিয়েছেন। লোকটি একাকী দুই রাকাত নামায পড়ার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে জামায়াতে শরীক হয়। নামায শেষে তিনি বলেনঃ তুমি কোন নামায আদায়ের উদ্দেশে মসজিদে এসেছ? যে নামায একাকী পড়েছ না যা আমাদের সাথে আদায় করেছ? (মুসলিম, নাসাই, ইবন মাজাহ)।
১২৬৬. মুসলিম ইবন ইবরাহীম, আহমাদ ইবন হাম্বল ও আল হাসান ইবন আলী (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনুল মুতাওাক্কিল প্রমুখ সূত্রে আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ফরজ নামাযের ইকামত হয়ে যাওয়ার পর ফরয ব্যাতিত আর কোন নামায পড়া দুরস্ত নয়। (মুসলিম, তিরমিযি, নাসাই, ইবন মাজা)।
৩০০. যদি কারো ফজরের সুন্নত বাদ পড়ে তবে সে তা কখন পড়বে?
হাদিস নং ১২৬৭সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُصَلِّي بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ رَكْعَتَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَلاَةُ الصُّبْحِ رَكْعَتَانِ " . فَقَالَ الرَّجُلُ إِنِّي لَمْ أَكُنْ صَلَّيْتُ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا فَصَلَّيْتُهُمَا الآنَ . فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: কায়েস ইবনে আমর (রাঃ)
১২৬৭. উসমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ..... কায়েস ইবন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখতে পান যে, এক ব্যাক্তি ফজরের ফরয নামায আদায়ের পর দুই রাকাত নামায আদায় করছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ফজরের নামায দুই রাকাত। তখন ঐ ব্যাক্তি বলেন, আমি ইতিপূর্বে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করতে পারিনি, তা এখন আদায় করছি। তাঁর কথায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরব থাকেন। (তিরমিযি, ইবন মাজা)।
১২৬৮. হামেদ ইবন ইয়াহিয়া আল-বালখী (রহঃ) ..... আতা ইবন আবু রাবাহ (রহঃ) সাদ ইবন সাইদ (রাঃ) হতে উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৩০১. যুহরের আগে ও পরে চার রাকআত নামায।
হাদিস নং ১২৬৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنِ النُّعْمَانِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، قَالَ قَالَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَافَظَ عَلَى أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبَعٍ بَعْدَهَا حَرُمَ عَلَى النَّارِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الْعَلاَءُ بْنُ الْحَارِثِ وَسُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى عَنْ مَكْحُولٍ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ .
বর্ণনাকারী: উম্মু হাবীবা (রাঃ)
১২৬৯. মুয়াম্মাল ইবনুল ফাদল (রহঃ) ..... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যাক্তি যুহরের ফরয নামাযের পূর্বে এবং পরে চার রাকাত করে নামায পড়বে তাঁর জন্য দোযখের আগুন হারাম হবে। (তিরমিযি, নাসাই, ইবন মাজা)।
১২৭০. ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবু আইয়ুব (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, যুহরের ফরয নামাযের পূর্বে এক সালামের সাথে যে ব্যাক্তি চার রাকাত নামায পড়বে এর বদৌলতে তাঁর জন্য আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হবে। (তিরমিযি, ইবন মাজা)।
৩০২. আসরের ফরয নামাযের পূর্বে নামায পড়া সম্পর্কে।
হাদিস নং ১২৭১হাসান
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنِي جَدِّي أَبُو الْمُثَنَّى، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رَحِمَ اللَّهُ امْرَأً صَلَّى قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১২৭১. আহমাদ ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ...... ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুলল্লাহ সালল্লালল্লাহু আলাইহে ওয়াসালল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আসরের ফরয নামাযের পূর্বে চার রাকাত নামায পড়বে আল্লাহ তাআলা তার উপর রহমত বর্ষণ করুন। (তিরমিযী)
হাদিস নং ১২৭২হাসান
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ .
বর্ণনাকারী: আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)
১২৭২. হাফস ইবন উমার (রহঃ) ..... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের (ফরয) নামাযের পূর্বে দুই রাকাত (নফল) নামায পড়তেন।
১২৭৩. আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়েব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবদুলল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ), আব্দুর রহমান ইবন আযহার (রাঃ) এবং মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রাঃ) তাকে রাসূলুলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) এর খিদমতে এই সংবাদসহ প্রেরণ করেন যে, তুমি তাঁকে আমাদের সকলের পক্ষ হতে সালাম দিবে অতঃপর আসরের পর দুই রাকাত নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। তাঁকে এও বলবে যে, আমরা জানতে পেরেছি যে, রাসূলুলল্লাহ সালল্লালল্লাহু আলাইহে ওয়াসালল্লাম আসরের পর নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।
কুরায়েব বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে সালাম জানিয়ে বিষয়টি অবহিত করি। তিনি বলেন, তুমি এই সম্পর্কে উম্মে সালামা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা কর। অতএব আমি তাঁদের নিকট ফিরে আসি। অতঃপর তাঁরা আবার আমাকে ঐ বার্তাসহ উম্মে সালামা (রাঃ) এর নিকট প্রেরণ করেন, যা নিয়ে তাঁরা আমাকে আয়েশা (রাঃ) এর নিকট প্রেরণ করেছিলেন।
আমি উম্মে সালামা (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুলল্লাহ সালল্লালল্লাহু আলাইহে ওয়াসালল্লামকে দুই রাকাত নামায (আসরের পরে) পড়তে নিষেধ করতে শুনেছি এবং আমি তাঁকে ঐ দুই রাকাত নামায পড়তেও দেখেছি। ঐ দুই রাকাত নামায আদায়ের ঘটনা এই যে, একদা তিনি আসরের নামাযের পর ঘরে ফিরে নামাযে দন্ডায়মান হন। এই সময় আনসারদের বনী হারাম গোত্রের কিছু সংখ্যক মহিলা আমার নিকট উপস্থিত ছিল। আমি তাঁর নিকট জনৈক দাসীকে প্রেরণ করে বলি, তুমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বলবে, উম্মে সালামা (রাঃ) বলেছেন, ’’ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে এই দুই রাকাত নামায আদায়ের ব্যাপারে নিষেধ করতে শুনেছি এবং আমি এখন তা আপনাকে আদায় করতে দেখছি।’’ তিনি যদি হাত দ্বারা ইশারা করেন, তবে তুমি অপেক্ষা করবে। উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, অতঃপর দাসীটি আমার নির্দেশমত কাজ করলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশারা করলে সে অপেক্ষা করে।
তিনি নামায শেষে বলেনঃ হে আবূ উমায়্যার কন্যা! তুমি আমাকে আসরের পর দুই রাকাত নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আজ আব্দুল কায়েস গোত্রের কিছু সংখ্যক লোক ইসলামের ব্যাপারে জানবার জন্য আমার নিকট আগমন করে, তাদের সাথে কথাবার্তায় মশগুল থাকায় আমি যুহরের পরের দুই রাকাত নামায আদায় করতে পারিনি, এখন তা আদায় করলাম। (বুখারী, মুসলিম)
৩০৪. সূর্য উপরে থাকতেই তা আদায়ের অনুমতি সম্পর্কে।
হাদিস নং ১২৭৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ الأَجْدَعِ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِلاَّ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ .
বর্ণনাকারী: আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)
১২৭৪. মুসলিম ইবন ইবরাহীম (রহঃ) .... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুলল্লাহ সালল্লালল্লাহু আলাইহে ওয়াসালল্লাম আসরের পর (নফল) নামায পড়তে নিষেধ করেছেন; তবে যদি সূর্য উপরে থাকে। (নাসাঈ)
হাদিস নং ১২৭৫যঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي إِثْرِ كُلِّ صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ رَكْعَتَيْنِ إِلاَّ الْفَجْرَ وَالْعَصْرَ .
বর্ণনাকারী: আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)
১২৭৫. মুহাম্মাদ ইবন কাছীর (রহঃ) .... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুলল্লাহ সালল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়াসালল্লাম প্রত্যেক ফরয নামায আদায়ের পর দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। তবে তিনি ফজর ও আসরের ফরয নামাযের কোন নামায পড়তেন না।
১২৭৬. মুসলিম ইবন ইবরাহীম (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতিপয় নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি যাদের মধ্যে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-ও ছিলেন এবং তিনিই আমার নিকট অধিক প্রিয় ছিলেন, বলেন, নবী করীম সালল্লালল্লাহু আলাইহে ওয়াসালল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত কোন নামায নাই। একইরূপে আসরের ফরয নামাযের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন নামায নাই। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)
১২৭৭. আর-রবী ইবন নাফে (রহঃ) .... আমর ইবন আনবাসা আস-সুলামী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাতের কোন অংশে আল্লাহ পাক দু’আ অধিক কবুল করেন? তিনি বলেনঃ রাতের শেষাংশে। অতএব তখন তুমি তোমার ইচ্ছামত নামায আদায় করবে। কেননা ঐ সময়ের নামাযে বিশেষ ফেরেশতারা উপস্থিত হয়ে তা তাদের নিকট রক্ষিত আমলনামায় লিপিবদ্ধ করে নেয় এবং তারা ফজরের সূর্য উঠা পর্যন্ত উপস্থিত থাকে। অতঃপর তুমি সূর্য উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং এর পরিমাণ হল, এক বা দুই তীরের সমান। কেননা সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে উদিত হয় এবং ঐ সময় কাফিররা শয়তানের পূজা করে। অতঃপর তোমার ইচ্ছানুযায়ী নামায আদায় করবে। কেননা প্রত্যেক নামাযের সময়ই ফেরেশতারা দফতরসহ উপস্থিত হয়ে থাকে এবং ঠিক দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত নামায আদায় করা যায়।
অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। কেননা এই সময় জাহান্নামের আগুন প্রবলভাবে উদ্দীপিত হতে থাকে এবং এর দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পর তুমি তোমার খুশীমত আসরের পূর্ব পর্যন্ত নামায আদায় করতে পার। কেননা প্রত্যেক নামাযের সময় ফেরেশাতার হাযির হয়ে থাকে। আসরের ফরয নামায আদায়ের পর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনরূপ নামায পড়া থেকে বিরত থাকবে। কেননা শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে সূর্য অস্তচলে যায় এবং কাফিররা ঐ সময় শয়তানের পূজা করে থাকে। অতঃপর রাবী দীর্ঘ হাদীছ বর্ণনা করেন।
রাবী আব্বাস ইবন সালিম (রহঃ) বলেন, আবু সালামা (রহঃ) ... আবু উমামা (রাঃ) হতে আমার নিকট ঐরূপ হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আমার বর্ণনায় কোন ভুলত্রুটি হয়ে থাকে সেজন্য আমি আল্লাহর নিকটে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি। (তিরমিযী, মুসলিম)
১২৭৮. মুসলিম ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সুবহে সাদিকের পর ইবন উমার (রাঃ) আমাকে নামায পড়তে দেখে বলেন, হে ইয়াসার! একদা আমরা এই নামায আদায়কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকটবর্তী হয়ে বলেছিলেনঃ তোমরা এখন যারা উপস্থিত আছ, তারা আমার এই নির্দেশ অনুপস্থিত লোকদের নিকট পৌঁছায়ে দিও যে, সুবহে সাদিকের পর ফজরের ফরযের পূর্বে দুই রাকাত সুন্নাত নামায ছাড়া আর কোন নামায পড়বে না। (তিরমিযী, ইবন মাজা)
হাদিস নং ১২৭৯সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، وَمَسْرُوقٍ، قَالاَ نَشْهَدُ عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ مَا مِنْ يَوْمٍ يَأْتِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ صَلَّى بَعْدَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১২৭৯. হাফস ইবন উমার (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের ফরয নামায আদায়ের পর সব সময়ই দুই রাকাত নামায পড়তেন। (সম্ভবতঃ তা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। কিন্তু তাঁর উম্মাতের জন্য উপরোক্ত নিষেধ বাণী প্রযোজ্য)। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
১২৮০. উবায়দুলল্লাহ (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের ফরয নামায আদায়ের পর অন্য নফল নামাযও পড়তেন। তবে তিনি তাঁর উম্মতকে তা পড়তে নিষেধ করতেন এবং তিনি (কোন কোন সময়) একই সঙ্গে বহু দিন রোযা (সাওমে বিসাল) রাখতেন, কিন্তু তিনি উম্মাতকে এভাবে রোযা রাখতে নিষেধ করতেন।
১২৮১. উবায়দুলল্লাহ ইবন উমার (রহঃ) .... আবদুলল্লাহ ইবনুল-মুযানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমরা যে ইচ্ছা কর মাগরিবের পূর্বে দুই রাকাত নামায আদায় করতে পার। তিনি দুইবার এরূপ বলেন এবং তিনি তা আদায়ে কঠোরতা না করার কারণ এই ছিল, যাতে লোকেরা এটাকে সুন্নাত হিসাবে মনে না করে। (বুখারী)
হাদিস নং ১২৮২সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَزَّازُ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ صَلَّيْتُ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ قُلْتُ لأَنَسٍ أَرَآكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ رَآنَا فَلَمْ يَأْمُرْنَا وَلَمْ يَنْهَنَا .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
১২৮২. মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় আমরা মাগরিবের নামাযের পূর্বে দুই রাকাত নামায আদায় করতাম। রাবী বলেন, আমি এ সম্পর্কে আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি রাসূলুল্লাহকে এই নামায আদায় করতে দেখেছেন? তখন তিনি বলেন, হ্যাঁ, এবং তিনি আমাদেরকেও তা আদায় করতে দেখেছেন। কিন্তু তিনি এব্যাপারে কোন আদেশ বা নিষেধ প্রদান করেননি। (মুসলিম)
১২৮৩. আবদুলল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) ..... আবদুলল্লাহ ইবন মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ দুই আযানের (আযান ও ইকামতের) মধ্যবর্তী সময়ে যে ইচ্ছা করে, নামায আদায় করতে পারে। তিনি দুইবার এরূপ বলেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবন মাজা, নাসাঈ)
১২৮৪. ইবন বাশশার (রহঃ) .... তাউস (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার (রাঃ)-কে মাগরিবের নামাযের পূর্বে দুই রাকাত নামায আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমি কাউকেও তা আদায় করতে দেখিনি এবং আমি কাউকেও আসরের পরে দুই রাকাত নামায আদায়ের ব্যাপারে অনুমতি দিতে দেখিনি।
১২৮৫. আহমাদ ইবন মানী ও মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মানুষের জন্য প্রত্যহ সকালে সদকা দেওয়া প্রয়োজন। কোন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হলে তাকে সালাম দেয়াও একটি সদকা। কোন ব্যক্তিকে ভালো কাজের নির্দেশ দেয়াও একটি সদকা এবং খারাপ কাজ হতে বিরত থাকাও একটি সদকা, রাসত্মার উপর হতে কষ্টদায়ক বস্ত্ত অপসারণ করাও একটি সদকা, নিজের স্ত্রীর সাথেও সহবাস করাও একটি সদকা। যদি কেউ দুই রাকাত চাশতের নামায আদায় করে, তবে সে উপরোক্ত কাজগুলির অনুরূপ ছওয়াব প্রাপ্ত হবে।
রাবী ইবন মানী (রহঃ) তাঁর র্বণনায় আরও উল্লেখ করেছেন যে, এসময় সাহাবায়ে কিরাম বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কেউ নিজ স্ত্রীর সাথে সংগম করে তার কামস্পৃহা চরিতার্থ করবে এবং একেও কি সদকা বলা হবে? তিনি বলেনঃ তুমি কি দেখ না, যদি সে তা কোন অবৈধ স্থানে ব্যবহার করত তবে সে গুনাহগার হত না?
১২৮৬. ওয়াহব ইবন বাকিয়া (রহঃ) .... আবুল আসাদ আদ-দায়লামী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা আবু যার (রাঃ) এর নিকটে বসে থাকা অবস্থায় তিনি বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের উচিত, প্রত্যহ সকালে নিজেদের জন্য কিছু সদকা করা। তার প্রত্যেকটি নামাযই সদকা স্বরূপ, রোযাও সদকা, হজ্জও সদকা, তাসবীহ পাঠও সদকা, তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠও সদকা, তাহমীদ (আলহামাদু লিল্লাহ) পাঠও সদকাস্বরূপ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরোক্ত কাজগুলিকে পুন্যের কাজসমূহের মধ্যে গণ্য করেছেন। অতঃপর বলেছেন, কেউ চাশতের সময়ে দুই রাকাত নামায আদায় করলে সে ঐ ব্যক্তির ঐগুলির অনুরূপ ছওয়াব পাবে। (মুসলিম)।
১২৮৭. মুহাম্মাদ ইবন সালামা (রহঃ) ..... সাহল ইবন মুআয (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি ফজরের নামাযের পর ভালো কাজে লিপ্ত থেকে সূর্য একটু উপরে উঠার পর দুই রাকাত নামায আদায় করে, তবে তার সমস্ত গুনাহ মার্জিত হবে। যদিও এর পরিমাণ সাগরের ফেনার চাইতেও অধিক হয়।
১২৮৮. আবু তাওবা (রহঃ) ..... আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক নামায আদায়ের পর হতে অন্য নামায আদায় করা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কেউ কোনরূপ অন্যায় অপকর্মে লিপ্ত না হয় তবে ঐ ব্যক্তির ’’আমলনামা’’ ইল্লীন নামক স্থানে সংরক্ষিত থাকবে।
১২৮৯. দাউদ ইবন রাশীদ (রহঃ) .... নুআয়ম ইবন হাম্মার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেনঃ হে বনী আদম! তোমরা দিনের প্রথমাংশে চার রাকাত নামায আদায় না করে আমাকে দিনের শেষ ভাগ পর্যন্ত তোমাদের ভালোবাসা হতে বঞ্চিত রেখ না। (তিরমিযী)
হাদিস নং ১২৯০যঈফ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عِيَاضُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ بِنْتِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْفَتْحِ صَلَّى سُبْحَةَ الضُّحَى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ يُسَلِّمُ مِنْ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْفَتْحِ صَلَّى سُبْحَةَ الضُّحَى فَذَكَرَ مِثْلَهُ . قَالَ ابْنُ السَّرْحِ إِنَّ أُمَّ هَانِئٍ قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرْ سُبْحَةَ الضُّحَى بِمَعْنَاهُ .
বর্ণনাকারী: উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব (রাঃ)
১২৯০. আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ) .... উম্মে হানী বিনত আবু তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন দুপুরের পূর্বে প্রতি দুই রাকাতে সালাম ফিরিয়ে আট রাকাত নামায আদায় করেন।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন দ্বিপ্রহরের পূর্বে (চাশতের সময়) নামায আদায় করেছিলেন। অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
রাবী ইবনুস সারহ (রহঃ)-এর বর্ণনায় আরো আছে, উম্মে হানী (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ আমার নিকট আসেন। অতঃপর তিনি রাবী ইবন সালেহ হতে বর্ণিত উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইবন মাজা)
হাদিস নং ১২৯১সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ مَا أَخْبَرَنَا أَحَدٌ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الضُّحَى غَيْرَ أُمِّ هَانِئٍ فَإِنَّهَا ذَكَرَتْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ اغْتَسَلَ فِي بَيْتِهَا وَصَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ فَلَمْ يَرَهُ أَحَدٌ صَلاَّهُنَّ بَعْدُ .
বর্ণনাকারী: ইবনু আবূ লায়লাহ (রহঃ)
১২৯১. হাফস ইবন উমার (রহঃ) ..... ইবন আবু লায়লা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে হানী (রাঃ) ব্যতীত আর কেউই এরূপ বর্ণনা করেননি যে, সে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দ্বিপ্রহরের পূর্বে নামায পড়তে দেখেছে। উম্মে হানী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন নবী করী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে প্রবেশ করে গোসল করেন, অতঃপর আট রাকাত নামায পড়েন। পরবর্তীকালে আর কেউই তাঁকে কখনও এরূপ নামায পড়তে দেখেনি। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)
হাদিস নং ১২৯২সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الضُّحَى فَقَالَتْ لاَ إِلاَّ أَنْ يَجِيءَ مِنْ مَغِيبِهِ . قُلْتُ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرِنُ بَيْنَ السُّورَتَيْنِ قَالَتْ مِنَ الْمُفَصَّلِ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ বিন শাকীক আল উকাইলী (রহ.)
১২৯২. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আবদুলল্লাহ ইবন শাকীক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি দুপুরের সময় কোন নামায পড়তেন? তিনি বলেন, না, অবশ্য ঐ সময় যদি তিনি কোন সফর হতে প্রত্যাবর্তন করতেন (তবে নামায পড়তেন)। রাবী বলেন, অতঃপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি একই রাকাতের মধ্যে দুটি সূরা মিলিয়ে পড়তেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, তিনি কুরআনের মুফাসসাল (হুজুরাত থেকে নাস) সূরা মাঝে মাঝে মিলিয়ে নামায পড়তেন। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)
হাদিস নং ১২৯৩সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ مَا سَبَّحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُبْحَةَ الضُّحَى قَطُّ وَإِنِّي لأُسَبِّحُهَا وَإِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَدَعُ الْعَمَلَ وَهُوَ يُحِبُّ أَنْ يَعْمَلَ بِهِ خَشْيَةَ أَنْ يَعْمَلَ بِهِ النَّاسُ فَيُفْرَضَ عَلَيْهِمْ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১২৯৩. আল-কানবী (রহঃ) ..... নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনই নিয়মিতভাবে চাশতের নামায পড়েননি। কিন্তু আমি তা আদায় করি এবং তিনি তা আমল করতে পছন্দ করলেও (মাঝে মাঝে) তার পরিত্যাগের কারণ এই ছিল যে, তিনি নিয়মিতভাবে আদায় করলে লোকদের উপর তা ফরয হয়ে যেতে পারে। (বুখারী, মুসলিম)
হাদিস নং ১২৯৪সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ نُفَيْلٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالاَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، قَالَ قُلْتُ لِجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ أَكُنْتَ تُجَالِسُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ كَثِيرًا فَكَانَ لاَ يَقُومُ مِنْ مُصَلاَّهُ الَّذِي صَلَّى فِيهِ الْغَدَاةَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتْ قَامَ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: সিমাক ইবন হারব (রহঃ)
১২৯৪. ইবন নুফায়েল (রহঃ) ..... সিমাক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবের ইবন সামুরা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাস করি, আপনি কি অধিক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে থাকতেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি বহু সময় তাঁর সাথে থাকতাম। তিনি ফজরের নামাজের পর ঐ স্থানে সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকতেন। অতঃপর সূর্য উপরে উঠলে তিনি ইশরাকের নামায আদায় করতেন। (মুসলিম, নাসাঈ)
৩০৭. দিনের নফল নামায সম্পর্কে।
হাদিস নং ১২৯৫সহিহ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَارِقِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مَثْنَى مَثْنَى " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১২৯৫. আমর ইবন মারযূক (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দিন ও রাতের (নফল) নামায দুই দুই রাকাত। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)
১২৯৬. ইবনুল মুছান্না (রহঃ) ..... আল-মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নফল নামায দুই দুই রাকাত এবং তুমি প্রতি দুই রাকাতের পর তাশাহহুদ পড়বে, অতপর নিজের বিপদাপদ ও দারিদ্রের কথা প্রকাশ করে দুই হাত তুলে দু’আ করবেঃ আল্লাহুম্মা, আল্লাহুম্মা - ইত্যাদি। যে ব্যক্তি এরূপ করবে না তার নামায ত্রুটিপূর্ণ। (নাসাঈ, ইবন মাজা)
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ)-কে রাতের নফল নামায দুই রাকাত করে আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তুমি ইচ্ছা করলে দুই বা চার রাকাত করেও আদায় করতে পার।
১২৯৭. আব্দুর রহমান ইবন বিশর (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ)-কে বলেনঃ হে আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব! হে আব্বাস! হে আমার প্রিয় চাচা! আমি কি আপনাকে এমন একটি জিনিস দেব না যার মাধ্যমে আপনি দশটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন? যখন আপনি এরূপ করবেন, তখন আল্লাহ তাআলা আপনার পূর্বাপরের সমস্ত গুনাহ মাফ করবেন। চাই তা প্রথম বারের হোক বা শেষ বারের পুরাতন হোক কিংবা নতুন হোক, ভুলেই হোক অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে, বড়ই হোক অথবা ছোট, প্রকাশ্যেই হোক অথবা গোপনে- আপনি এই দশটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন, যদি আপনি চার রাকাত নামায নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে আদায় করেন। আপনি এর প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠের পর এর সাথে অন্য একটি সূরা মিলাবেন। অতঃপর যখন আপনি কিরাআত পাঠ শেষ করবেন তখন দাঁড়ানো অবস্থায় এই দু’আ পাঠ করবেনঃ ’সুবহানালল্লাহ আলহামদু লিলল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’
অতঃপর আপনি রুকূ করবেন এবং সেখানেও ঐ দু’আ দশবার পাঠ করবেন। পরে রুকূ হতে মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঐ দু্’আ দশবার পাঠ করবেন। অতঃপর সিজদায় গিয়েও তা দশবার পাঠ করবেন এবং প্রথম সিজদার পর মাথা তুলে বসবার সময় ঐ দু’আ দশবার পাঠ করবেন। অতঃপর দ্বিতীয় সিজদায়ও তা দশবার পাঠ করবেন, পরে সিজদা হতে মাথা তুলে ঐ দু’আ দশবার পাঠ করা পর্যন্ত বসে থাকার পর দাঁড়াবেন (দ্বিতীয় রাকাতের জন্য)। অতঃপর আপনি প্রতি রাকাতে এরূপ পঁচাত্তর বার ঐ দু’আ পাঠ করবেন এবং এরূপ চার রাকাত নামায আদায় করবেন। যদি আপনার পক্ষে সম্ভব হয় তবে আপনি এই নামায দৈনিক একবার আদায় করবেন। যদি তা সম্ভব না হয় তবে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবারে একবার; যদি তাও সম্ভব না হয় হবে প্রতি মাসে একবার; যদি তাও অসম্ভব হয়, তবে প্রতি বছরে একবার; যদি তাও সম্ভব না হয় তবে গোটা জীবনে অন্ততঃ একবার আদায় করবেন। (ইবন মাজা)
১২৯৮. মুহাম্মাদ ইবন সুফিয়ান (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেন, তুমি আগামীকাল আমার নিকট আসবে। আমি তোমাকে একটি উপাদেয় বস্ত্ত দেব। তিনি বলেনঃ আমি মনে মনে ধারণা করলাম যে, তিনি নিশ্চয়ই আমাকে কোন জিনিসি প্রদান করবেন। (পরদিন আমি তাঁর খিদমতে হাজির হলে) তিনি বলেনঃ যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়বে, তখন তুমি চার রাকাত নাময আদায় করবে। অতঃপর রাবী পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তিনি আরো বলেনঃ অতঃপর তুমি দ্বিতীয় সিজদা হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসবে এবং দাঁড়ানোর পূর্বেই দশবার তাসবীহ, দশবার তাহমীদ, দশবার তাকবীর ও দশবার তাহলীল পাঠ করবে (অর্থাৎ সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ও আল্লাহু আকবার)। তুমি চার রাকাত নমাযেই এরূপ দু’আ পাঠ করবে। যদি তুমি যমীনের সর্বাপেক্ষা অধিক গুনাহগার ব্যক্তিও হও, তবুও তোমার গুনাহ মার্জিত হবে।
রাবী বলেনঃ আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, যদি আমি তা ঐ সময়ে আদায় করতে না পারি? তিনি বলেনঃ তুমি দিবারাত্রির মধ্যে যখনই সুযোগ পাবে তখনই তা আদায় করবে। (তিরমিযী, ইবন মাজা)
১২৯৯. আবু তাওবা আর-রাবী (রহঃ) .... উরওয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক আনসার আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফর (রাঃ) এর নিকট এই হাদীছটি বর্ণনা করেন। অতঃপর উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
রাবী আরো বলেনঃ প্রথম রাকাতের দ্বিতীয় সিজদা সম্পর্কে রাবী মাহদী ইবন মায়মূন হতে যেরূপ উক্ত হয়েছেন, তদ্রূপ এই স্থানেও বর্ণিত হয়েছে।
১৩০০. আবু বাকর ইবন আবুল আসওয়াদ (রহঃ) ..... কা’ব ইবন উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী আবদুল আশহালের মসজিদে মাগরিবের নামায আদায় করেন। তিনি এসে নামায শেষে তাদের দেখতে পান যে, তাঁরা আরো নামায আদায় করছে। এতদ্দর্শনে তিনি বলেনঃ এটা (সুন্নাত) তো গৃহে আদায় করার নামায। -(তিরমিযী, ইবন মাজা)
১৩০১. হুসায়েন ইবন আব্দুর রহমান (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের ফরয নামায আদায়ের পর দুই রাকাত সুন্নাত নামাযের কিরাআত এত দীর্ঘ করতেন যে, মসজিদে আগত লোকেরা বিচ্ছিন্ন হয়ে চলে যেত।
হাদিস নং ১৩০২যঈফ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ مُرْسَلٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ حُمَيْدٍ يَقُولُ سَمِعْتُ يَعْقُوبَ يَقُولُ كُلُّ شَىْءٍ حَدَّثْتُكُمْ عَنْ جَعْفَرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَهُوَ مُسْنَدٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
১৩০২. আহমাদ ইবন ইউনুস (রহঃ) ..... সাঈদ ইবন যুবায়ের (রহঃ) হতে এই সনদে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
৩১০. ইশার পর নফল নামায সম্পর্কে
হাদিস নং ১৩০৩যঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ الْعُكْلِيُّ، حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، حَدَّثَنِي مُقَاتِلُ بْنُ بَشِيرٍ الْعِجْلِيُّ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَ سَأَلْتُهَا عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ مَا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ قَطُّ فَدَخَلَ عَلَىَّ إِلاَّ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ أَوْ سِتَّ رَكَعَاتٍ وَلَقَدْ مُطِرْنَا مَرَّةً بِاللَّيْلِ فَطَرَحْنَا لَهُ نِطْعًا فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى ثُقْبٍ فِيهِ يَنْبُعُ الْمَاءُ مِنْهُ وَمَا رَأَيْتُهُ مُتَّقِيًا الأَرْضَ بِشَىْءٍ مِنْ ثِيَابِهِ قَطُّ .
১৩০৩. মুহাম্মাদ ইবন রাফে (রহঃ) .... উম্মে শুরায়হ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আয়েশা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার ফরয নামায আদায়ের পর আমার আমার গৃহে প্রবেশ করে সব সময় চার রাকাত অথবা ছয় রাকাত নফল নামায আদায় করতেন। একদা রাত্রির প্রবল বর্ষণে গৃহের খেজুর পাতার চাল নষ্ট হয়ে ঐ ছিদ্র দিয়ে যে পানি পড়ছিল, তা আমি দেখছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নামাযের সময় স্বীয় বস্ত্রকে ধূলা, ময়লা, কাদা ইত্যাদি হতে রক্ষা করবার জন্য কোন সময় টানতে দেখি নাই।
১৩০৪. আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সূরা মুযযামমিলের “অর্ধরাত্রি অপেক্ষা কিছু কম সময়ের জন্য জেগে থেকে (দণ্ডায়মান হয়ে) নামায আদায় কর” আয়াতটি ঐ সূরায় পরবর্তী আয়াত “তোমাদের জন্য এটা নির্ণয় করা অসম্ভব” দ্বারা বাতিল করা হয়েছে। আল্লাহ্ তোমাদের কষ্ট অনুধাবন করে তোমাদের জন্য এটা সহজ করে দিয়েছেন যে, তোমরা নামাযের মধ্যে কুরআন হতে সহজে পঠিতব্য অংশ পাঠ করতে পার এবং রাতের কিছু অংশেও নামায আদায় করবে এবং রাত্রের প্রথমাংশে তাদের জন্য এই নামায আদায় খুবই সহজ। অতএব আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের জন্য রাতে আদায়ের জন্য যা নির্ধারিত করে দিয়েছেন, তা তোমরা সঠিকভাবে আদায় কর। কেননা মানুষ যখন রাতে নিদ্রা হতে কখন সে জাগ্রত হবে, তা সে জানে না। এবং “আকওয়ামু কীলা” শব্দের অর্থ এই যে, কুরআনের মূল অর্থ উপলব্ধি করবার জন্য এটাই উত্তম সময়। অতঃপর আল্লাহ তাআলার বাণীঃ “লাকা ফিন- নাহারে সাভহান তাবীলা” কেননা দিনের বেলায় আপনি পার্থিব কাজকর্মে অধিক সময় ব্যস্ত থাকেন।
১৩০৫. আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সূরা মুযযামমিলের প্রথমাংশ অবতীর্ণ হওয়ার পর সাহাবাগণ রোযার মাসের মত রাত জেগে নামায আদায় করতেন। অতঃপর উক্ত সূরার শেষাংশ অবতীর্ণ হয় এবং সূরা মুযযামমিলের প্রথম ও শেষাংশের অবতীর্ণ হওয়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল এক বছরের।
৩১২. তাহজ্জুদের নামাযে দাঁড়িয়ে রাত জাগা সম্পর্কে ।
১৩০৬. আবদুল্লাহ ইবন মাসলামা (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুমায় তখন শয়তান তার মাথার পেছনের চুল তিনটি গিরা দিয়ে রাখে এবং প্রত্যেক গিরা দেওয়ার সময় সে বলেঃ তুমি ঘুমাও রাত এখনও অনেক বাকী। অতঃপর ঐ ব্যক্তি ঘুম থেকে জেগে যদি আল্লাহ তাআলার যিকির করে, তবে একটি গিরা খুলে যায়। অতঃপর সে যখন উযু করে তখন আরেকটি গিরা খুলে যায় এবং সে যখন নামায আদায় করে তখন সর্বশেষ গিরাটিও খুলে যায়। অতঃপর সে ব্যক্তি (ইবাদাতের) মাধ্যমে তার দিনের শুভসূচনা করে, অথবা অলসতার মাধ্যমে খারাপভাবে তার দিনটি শুরু করে (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
হাদিস নং ১৩০৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي قَيْسٍ، يَقُولُ قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها لاَ تَدَعْ قِيَامَ اللَّيْلِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَدَعُهُ وَكَانَ إِذَا مَرِضَ أَوْ كَسِلَ صَلَّى قَاعِدًا .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৩০৭. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা তাহাজ্জুদের নামায পরিত্যাগ কর না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম একে কোন সময় পরিত্যাগ করতেন না। যখন তিনি অসুস্থ হতেন অথবা আলস্য বোধ করতেন তখন তিনি তা বসে আদায় করতেন।
১৩০৮. ইবন বাশশার (রহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহ ঐ ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে রাত জেগে নামায আদায় করে; অতঃপর সে স্বীয় স্ত্রীকে ঘুম হতে জাগ্রত করে। আর যদি সে ঘুম হতে উঠতে না চায় তখন সে তার চোখে পানি ছিটিয়ে দেয় ( নিদ্রাভঙ্গের জন্য)। আল্লাহ ঐ মহিলার উপর রহম করুন যে রাতে উঠে নামায আদায় করে এবং স্বীয় স্বামীকে জাগ্রত করে। যদি সে ঘুম হতে উঠতে অস্বীকার করে, তখন সে তার চোখে পানি ছিটিয়ে দেয়। (নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৩০৯. ইবন কাছীর (রহঃ) .... আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি রাত্রিতে স্বীয় স্ত্রীকে ঘুম হতে জাগিয়ে একত্রে নামায আদায় করে অথবা তারা পৃথক পৃথকভাবে নামায আদায় করে, তখন তাদের নাম যিকিরকারী পুরুষ ও যিকিরকারিণী স্ত্রী হিসাবে আমলের খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়। রাবী। রাবী ইবন কাছীর আবু হুরায়রা (রাঃ) এর নাম উল্লেখ করেন নাই, বরং আবু সাঈদ (রাঃ) এর নাম উল্লেখ করেছেন। (নাসাঈ, ইবন মাজা)।
৩১৩. নামাযের মধ্যে তন্দ্রা এলে।
হাদিস নং ১৩১০সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَرْقُدْ حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ لَعَلَّهُ يَذْهَبُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبَّ نَفْسَهُ " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৩১০. আল-কানবী (রহঃ) .... নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কারও নামাযের মধ্যে তন্দ্রাভাব আসে, সে যেন তখন নিদ্রা যায়; যাতে তার নিদ্রা পূর্ণ হওয়ার পর ঐ ভাব চলে যায়। কেননা তোমাদের কেউ যখন তন্দ্রা অবস্থায় নামায আদায়কালে ’ইস্তিগফার’ (গোনাহ মাফের জন্য প্রার্থনা) করে তখন হয়ত সে (অজান্তে) নিজকে নিজেই গালি দেয়। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা )।
১৩১১. আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ রাত্রিতে তাহাজ্জুদ নামায পাঠের জন্য দণ্ডায়মান হয়, তখন তন্দ্রার কারণে কুরআনের আয়াত পাঠ করছে তা বুঝতে না পারে, এমতাবস্থায় সে নিদ্রার জন্য শয়ন করবে। (মুসলিম, তিরমিযী)।
১৩১২. যিয়াদ ইবন আইউব (রহঃ) ..... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পান যে, দুটি খুটির সাথে একটি রশি বাঁধা আছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ এটা কেন? তখন জনৈক ব্যক্তি বলেনঃ এটা হামনা বিনতে জাহাশ (রাঃ) এর রশি। তিনি রাত্রিতে নামায আদায়কালে যখন ক্লান্তিবোধ করেন, তখন তিনি নিজেকে এর দ্বারা আটকে রাখেন। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু অলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সামর্থ অনুযায়ী নামায আদায় করবে এবং যখন ক্লান্তি বোধ করবে, তখন বিশ্রাম গ্রহণ করবে।
রাবী যিয়াদ বলেনঃ তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ এটা কি? জবাবে তাঁরা বলেনঃ এটা যয়নব (রাঃ) এর রশি। তিনি রাত্রিতে নামায আদায়কালে যখন ক্লান্তিবোধ করেন, তখন তিনি এর দ্বারা নিজেকে আটকে রাখেন। তখন তিনি নির্দেশ দেন, এটা খুলে ফেল। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমরা আনন্দের সাথে নামায আদায় করবে এবং যখন ক্লান্তি বোধ করবে তখন বিশ্রাম নিবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
১৩১৩. কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ..... উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রাত্রিতে নামায আদায়কালে নিদ্রার কারণে তার সম্পূর্ণ বা আংশিক অযীফা পরিত্যক্ত হয়; অতঃপর সে যদি তা ফজর ও যোহরের মধ্যবর্তী সময়ে পাঠ করে, তবে রাত্রিতে পাঠের ফলে যেরূপ ছওয়াব ঐ ব্যক্তির আমলনামায় লেখা হত তদ্রুপ ছওয়াব লেখা হয়। (মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজা )।
৩১৫. নামাযের নিয়্যাত করবার পর নিদ্রাচ্ছন্ন হলে।
হাদিস নং ১৩১৪সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ رَجُلٍ، عِنْدَهُ رَضِيٍّ أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنِ امْرِئٍ تَكُونُ لَهُ صَلاَةٌ بِلَيْلٍ يَغْلِبُهُ عَلَيْهَا نَوْمٌ إِلاَّ كُتِبَ لَهُ أَجْرُ صَلاَتِهِ وَكَانَ نَوْمُهُ عَلَيْهِ صَدَقَةً " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৩১৪. আল-কানবী (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রাত্রিতে নিয়মিত নামায আদায় করে থাকে সে যদি কোন রাত্রিতে নিদ্রাচ্ছন্ন হওয়ার কারণে নামায আদায়ে ব্যর্থ হয় তবুও আল্লাহ তাআলা তার আমলনামায় উক্ত নামায আদায়ের অনুরূপ ছাওয়াব প্রদান করবেন এবং তার ঐ নিদ্রা সদকাস্বরূপ হবে। (নাসাঈ)।
১৩১৫. আল-কানবী (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ প্রত্যহ আল্লাহ রব্বুল আলামীন রাত্রির এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ হয়ে বলতে থাকেনঃ তোমাদের কেউ আমার নিকট কোন কিছুর জন্য প্রার্থনা করবে, আমি তার ঐ দুআ কবুল করব, যে কেউ আমার নিকট কিছু যাচ্ঞা করবে, আমি তা তাকে প্রদান করব এবং যে আমার নিকট গোনাহ মাফের জন্য কান্না করবে, আমি তার গোনাহ মাফ করব (এতে বুঝা গেল যে, দু’আ কবুলের জন্য রাত্রির তিনভাগের শেষ ভাগ সময়টি উত্তম)। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবন মাজা)।
৩১৭. নবী করীম (স) রাতে কখন উঠতেন ?
হাদিস নং ১৩১৬হাসান
حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ يَزِيدَ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُوقِظُهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِاللَّيْلِ فَمَا يَجِيءُ السَّحَرُ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ حِزْبِهِ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৩১৬. হুসায়েন ইবন য়াযীদ (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে রাতের এমন সময় ঘুম হতে জাগাতেন যে, তিনি তাঁর আশানুরূপ ওযীফা শেষ না করা পর্যন্ত সাহরীর সময় হত না।
হাদিস নং ১৩১৭সহিহ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، ح وَحَدَّثَنَا هَنَّادٌ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، - وَهَذَا حَدِيثُ إِبْرَاهِيمَ - عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - عَنْ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لَهَا أَىُّ حِينٍ كَانَ يُصَلِّي قَالَتْ كَانَ إِذَا سَمِعَ الصُّرَاخَ قَامَ فَصَلَّى .
বর্ণনাকারী: মাসরূক (রহঃ)
১৩১৭. ইবরাহীম ইবন মূসা ও হান্নাদ (রহঃ) .... মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আয়েশা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা প্রসঙ্গে বলিঃ তিনি রাতের কোন অংশে নামায আদায় করতেন? জবাবে তিনি বলেনঃ তিনি রাতে মোরগের ডাক শুনে জাগরিত হয়ে নামায আদায় করতেন (অর্থাৎ অর্ধরাত্রির পর)। (বুখারী, মুসলিম)।
হাদিস নং ১৩১৮সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ : مَا أَلْفَاهُ السَّحَرُ عِنْدِي إِلاَّ نَائِمًا، تَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৩১৮. আবু তাওবা (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত (ভোর রাতে তাহাজ্জুদ পাঠের পর কিছুক্ষণ) ঘুমাতেন। (বুখারী, মুসলিম,ইবন মাজা)।
হাদিস নং ১৩১৯হাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدُّؤَلِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَخِي، حُذَيْفَةَ عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا حَزَبَهُ أَمْرٌ صَلَّى .
বর্ণনাকারী: হুযায়ফাহ ইবন আল-ইয়ামান (রাঃ)
১৩১৯. মুহাম্মাদ ইবন ঈসা (রহঃ) .... হুযায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম কোন কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে নামাযে মশগুল হয়ে যেতেন।
১৩২০. হিশাম ইবন আম্মার (রহঃ) ..... রবীআ ইবন কাব আল-আসলামী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি প্রায়ই সফরকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাথে অবস্থান করে তাঁর উযুর পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করতাম। একদা তিনি আমাকে বলেনঃ তুমি আমার নিকট কিছু চাও? তখন আমি বলিঃ আমি জান্নাতের মধ্যে আপনার সঙ্গী হিসেবে থাকতে চাই। তিনি বলেনঃ এ ছাড়াও অন্য কিছু চাও? আমি বলিঃ এটাই আমার একমাত্র কামনা। তিনি বলেনঃ তুমি অধিক সিজদা আদায়ের দ্বারা তোমার দাবী পূরণে আমাকে সাহায্য কর। (মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজা)।
১৩২১. আবু কামিল (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এই আয়াত সম্পর্কেঃ “তারা তাদের পৃষ্ঠদেশকে বিছানা হতে আল্লাহ্র ভয় ও আশায় দূরে রাখে এবং তাদের জন্য প্রদত্ত রিযিক হতে তারা আল্লাহ্র রাস্তার খরচ করে” বলেন যে, সাহাবীগণ মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তীকালীন সময়ে নামায আদায় করতেন (অর্থাৎ তারা মাগরিবের নামায আদায়ের পর না ঘুমিয়ে ইশার নামাযের জন্য অপেক্ষা করতেন)।
রাবী হাসান বলেনঃ এর দ্বারা তাহাজ্জুদ নামায বুঝানো হয়েছে
১৩২২. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রহঃ) .... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্র বানী "তারা রাত্রিতে খুব কম সময়ই আরাম করত" এই আয়াতের অর্থ হলঃ তারা মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে নামায আদায় করত। রাবী ইয়াহইয়া তাঁর বর্ণিত হাদীছে আরও বর্ণনা করেছেন যে, “তাদের পৃষ্ঠদেশ বিছানা হতে দূরে অবস্থান করত" – এই আয়াতের অর্থও পূর্বের আয়াতের অনুরূপ।
১৩২৩. আর-রাবী ইবন নাফে (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ রাত্রিতে তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য উঠে তখন সে যেন হালকাভাবে দুই রাকাত (নফল) নামায আদায় করে। (মুসলিম)।
১৩২৪. মাখলাদ ইবন খালিদ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে এই সনদেও উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, অতঃপর তুমি তোমার ইচ্ছানুযায়ী দীর্ঘ কিরাআত দ্বারা নামায আদায় করতে পার। ( মুসলিম)।
১৩২৫. আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন হাবশী আল খাছাআমী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে উত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ উত্তম আমল হল দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে নামায আদায় করা। (মুসলিম)।
৩১৯. রাতের নামায দুই দুই রাকাত।
হাদিস নং ১৩২৬সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، : أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى، فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُمُ الصُّبْحَ صَلَّى رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১৩২৬. আল-কানবী ..... আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে রাতের নামাযের রাকাত সংখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ রাতের নামায হল-দুই দুই রাকাতের। অতঃপর তোমরা কেউ যখন নামায আদায়কালে ’সুবহে সাদিকের’ আশংকা করবে (তখন পাঠিত দুই রাকাতের সাথে) এক রাকাত মিলিয়ে নামায শেষ করবে এবং এটা তোমার জন্য বিতির হিসাবে পরিগণিত হবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
৩২০. রাতের (নফল) নামাযে কিরাতের স্বশব্দে পাঠ করা সম্পর্কে।
১৩২৮. মুহাম্মাদ ইবন বাককার (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম রাতের (নফল) নামায আদায়কালে কখনও কিরাআত আস্তে এবং কখনও জোরে পাঠ করতেন।
হাদিস নং ১৩২৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ لَيْلَةً فَإِذَا هُوَ بِأَبِي بَكْرٍ - رضى الله عنه - يُصَلِّي يَخْفِضُ مِنْ صَوْتِهِ - قَالَ - وَمَرَّ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَهُوَ يُصَلِّي رَافِعًا صَوْتَهُ - قَالَ - فَلَمَّا اجْتَمَعَا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " يَا أَبَا بَكْرٍ مَرَرْتُ بِكَ وَأَنْتَ تُصَلِّي تَخْفِضُ صَوْتَكَ " . قَالَ : قَدْ أَسْمَعْتُ مَنْ نَاجَيْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ وَقَالَ لِعُمَرَ : " مَرَرْتُ بِكَ وَأَنْتَ تُصَلِّي رَافِعًا صَوْتَكَ " . قَالَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أُوقِظُ الْوَسْنَانَ وَأَطْرُدُ الشَّيْطَانَ . زَادَ الْحَسَنُ فِي حَدِيثِهِ : فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " يَا أَبَا بَكْرٍ ارْفَعْ مِنْ صَوْتِكَ شَيْئًا " . وَقَالَ لِعُمَرَ : " اخْفِضْ مِنْ صَوْتِكَ شَيْئًا " .
বর্ণনাকারী: আবূ কাতাদাহ্ আল-আনসারী (রাঃ)
১৩২৯. মূসা ইবন ইসমাঈল ও হাসান ইবনুস সাব্বাহ (রহঃ) .... আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ঘর হতে বের হয়ে আবু বাকর (রাঃ)-কে আস্তে আস্তে (নিঃশব্দে কিরাআত দ্বারা) নামায আদায় করতে দেখেন। অতঃপর তিনি উমর (রাঃ) এর পাশ দিয়ে গমনকালে দেখতে পান যে, তিনি শব্দ করে (জোর কিরাআত পাঠ করে) নামায আদায় করছেন।
রাবী বলেনঃ অতঃপর তাঁরা উভয়ে নবী কারিম সাল্লাল্লহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের খিদমতে হাযির হলে তিনি বলেনঃ হে আবু বাকর! আমি তোমার পাশ দিয়ে গমনকালে তোমাকে নিঃশব্দে নামায করতে দেখেছি। তখন তিনি (আবু বাকর) বলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আমার রবের সাথে গোপনে আলাপ করেছি এবং তিনি তা শ্রবণকারী (কাজেই আমি সশব্দে নামায আদায়ের প্রয়োজন বোধ করি নাই)।
রাবী বলেনঃ অতঃপর তিনি উমার (রাঃ)-কে বলেনঃ আমি তোমার পাশ দিয়ে গমনকালে তোমাকে সশব্দে নামায আদায় করতে দেখেছি। উমার (রাঃ) বলেনঃ এর দ্বারা আমার ইচ্ছা ছিল ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগ্রত করা এবং শয়তানকে বিতাড়িত করা। রাবী হাসান তাঁর বর্ণিত হাদীছে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবু বাকর! তুমি তোমার কিরাআতকে একটু শব্দ করে পাঠ করবে। অতঃপর তিনি উমার (রাঃ)-কে বলেনঃ তুমি তোমার কিরাআত একটু নিম্ন শব্দে পাঠ করবে। (তিরমিযী)।
১৩৩০. আবু হুসায়েন (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এই বর্ণনায় আবু বাকর (রাঃ)-কে একটু শব্দ করে এবং উমার (রাঃ)-কে একটু শব্দ ছোট করে পড়ার কথার উল্লেখ নাই। আবু হুরায়রা (রাঃ) এর বর্ণনায় অতিরিক্ত উল্লেখ আছে যে, তিনি বলেনঃ হে বিলাল! তুমি নামাযের মধ্যে এই সুরা পাঠ করে থাক। তখন বিলাল (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা কুরআনের আয়াতকে সুন্দররূপে সুসজ্জিত করেছেন (কাজেই তা পাঠ করতে আমার ভালো লাগে)। এতদশ্রবনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা সকলেই সঠিক কাজ করেছ।
১৩৩১. মুসা ইবন ইসমাইল (রহঃ) ...... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি রাতে নামায আদায় করাকালে উচ্চস্বরে কিরআত পাঠ করে। অতঃপর সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ ঐ ব্যক্তির উপর রহম করুন। সে আমাকে গতরাতে কয়েকটি আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমি ভুলতে বসেছিলাম। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
রাবী আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, তা ছিল সূরা আল ইমরান এই আয়াতটিঃ (وَكَأَيِّنْ مِنْ نَبِيٍّ)...।
১৩৩৩. উছমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ..... উকবা ইবন আমের আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ কুরআন উচ্চস্বরে পাঠকারী প্রকাশ্যে দান-খয়রাতকারীর অনুরূপ এবং গোপনে কুরআন পাঠ-কারী গোপন দানকারীর মত। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
৩২১. রাতের (তাহজ্জুদ) নামায সম্পর্কে।
হাদিস নং ১৩৩৪সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ حَنْظَلَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ عَشْرَ رَكَعَاتٍ، وَيُوتِرُ بِسَجْدَةٍ، وَيَسْجُدُ سَجْدَتَىِ الْفَجْرِ، فَذَلِكَ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৩৩৪. ইবনুল মুছান্না (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম রাত্রিতে দশ রাকাত নামায আদায় করতেন এবং এর সাথে আরো এক রাকাত মিলিয়ে ’বিতির’ পূর্ণ করতেন। অতঃপর তিনি ফজরের দুই রাকাত (সুন্নাত) আদায় করতেন। এইরূপে মোট তের রাকাত হত। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
হাদিস নং ১৩৩৫সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُوتِرُ مِنْهَا بِوَاحِدَةٍ، فَإِذَا فَرَغَ مِنْهَا اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৩৩৫. আল-কানবী (রহঃ) ...... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাত্রিতে এক রাকাত বিতির সহ মোট এগার রাকাত নামায আদায় করতেন। অতঃপর নানায শেষে তিনি বিশ্রামের জন্য ডানপাশের উপর ভর করে শুয়ে যেতেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৩৩৬. আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামাযের পর হতে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত মধ্যেবর্তী সময়ে এগার রাকাত নামায আদায় করতেন এবং প্রতি দুই রাকাতে তিনি সালাম ফিরাতেন। অতঃপর তিনি শেষ দুই রাকাতের সাথে আরো এক রাকাত মিলিয়ে বিতির পূর্ণ করতেন। তিনি এত দীর্ঘ সময় সিজদাতে অবস্থান করতেন এবং প্রতি দুই রাকাতে তিনি সালাম ফিরাতেন। অতঃপর তিনি শেষ দুই রাকাতের সাথে আরো এক রাকাত মিলিয়ে বিতির পূর্ণ করতেন। তিনি এত দীর্ঘ সময় সিজদাতে অবস্থান করতেন যে, তাঁর মাথা উঠাবার পূর্বে তোমরা যে কেউ পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণ পাঠ করতে পারতে। অতঃপর মুয়াযযিন যখন ফজরের আযান শেষ করতেন, তখন তিনি দণ্ডায়মান হয়ে হাল্কাভাবে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। পরে মুয়াজ্জিন পুনরায় আসা পর্যন্ত ডান পাশের উপর ভর করে শুয়ে থাকতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৩৩৭. সুলায়মান ইবন দাউদ (রহঃ) ..... ইবন শিহাব (রহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীছের সনদ ও অর্থে বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেনঃ তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শেষ দুই রাকাত নামাযের সাথে আরো এক রাকাত মিলিয়ে বিতির পূর্ণ করতেন। তিনি এত দীর্ঘক্ষণ সিজদায় অবস্থান করতেন যে, এই সময় তোমারা যে কেউ পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণ তিলওয়াত করতে পারতে। অতঃপর মুআযযিন যখন আযান শেষ করতেন এবং আকাশও পরিষ্কার হয়ে যেত ... পূর্ববর্তী হাদীছের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (বুখারী, মুসলীম, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৩৩৮. মূসা ইবন ইসমাইল (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম রাতে বিতির সহ তের রাকাত নামায আদায় করতেন। বিতির নামাযের পঞ্চম রাকাতে তিনি নামায শেষ করতেন। তিনি নামাযের মধ্যে মাঝখানে না বসে সর্বশেষ রাকাতে বসে সালাম ফিরাতেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
হাদিস নং ১৩৩৯সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِاللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً، ثُمَّ يُصَلِّي إِذَا سَمِعَ النِّدَاءَ بِالصُّبْحِ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৩৩৯. আল-কানবী (রহঃ) ...... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম রাতে তের রাকাত নামায আদায় করতেন এবং ফজরের আযানের পর হালকাভাবে দুই রাকাত (সুন্নাত) আদায় করতেন।
১৩৪০. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ...... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলায় তের রাকাত নামায আদায় করতেন এবং তাঁর আট রাকাত হত তাহাজ্জুদ বা নফল। অতঃপর তিনি বিতিরের নামায আদায় করতেন। পরে তিনি ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করতেন।
ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেনঃ তিনি বিতিরের পরে দুই রাকাত নামায বসে আদায় করতেন। অতঃপর ফজরের আযান ও ইকামাতের মাঝখানে দুই রাকাত ফজরের সুন্নাত নামায আদায় করতেন। (মুসলিম, নাসাঈ)।
হাদিস নং ১৩৪১সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ : أَنَّهُ، سَأَلَ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ : مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً : يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا، قَالَتْ عَائِشَةُ - رضى الله عنها - فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ : " يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَىَّ تَنَامَانِ وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي " .
বর্ণনাকারী: আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রাহমান (রহঃ)
১৩৪১. আল-কানবী (রহঃ) ..... আবু সালামা ইবন আব্দুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে কিরূপ নামায আদায় করতেন? তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাস ও অন্যান্য সময়েও রাত্রিতে এগার রাকাত নামায আদায় করতেন। প্রথমে তিনি সুদীর্ঘ কিরাআতের দ্বারা সুন্দরভাবে চার রাকাত নামায আদায় করতেন অতঃপর তিনি আরো চার রাকাত আনুরূপভাবে আদায় করতেন এবং সবশেষে তিনি বিতিরের তিন রাকাত নামায আদায় করতেন।
আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি বিতির নামায পাঠের পূর্বে নিদ্রা যান? জবাবে তিনি বলেনঃ হে আয়েশা! আমার চক্ষু তো নিদ্রা যায়, কিন্তু আমার অন্তর জাগ্রত থাকে ( বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
১৩৪৩. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ..... আবু কাতাদা (রাঃ) হতে উপরোক্ত সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেনঃ তিনি একই সঙ্গে (বিনা বৈঠকে) আট রাকাত নামায আদায় করে বসতেন এবং পরে আল্লাহ্র যিকির ও দু’আ পাঠ করে এমনভাবে সালাম ফিরাতেন, যা আমরা শুনতে পেতাম। অতঃপর তিনি বসে দুই রাকাত নাময আদায় করতেন। পরে তিনি এক রাকাত নামায আদায় করতেন। হে বৎস! এটাই তাঁর আদায়কৃত এগার রাকাত নামাযের বর্ণনা। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সপ্তম রাকাতের সময় বিতির সমাপ্ত করতেন। অতঃপর তিনি বসে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন।
১৩৪৬. আলী ইবন হুসায়েন (রহঃ) .... যুরারাহ ইবন আওফ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আয়েশা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের মধ্যরাত্রির নামায পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ তিনি ইশার নামায জামাআতে আদায়ের পর গৃহে আসতেন। অতঃপর তিনি চার রাকাআত নামায আদায় করে বিছানায় গমন করে ঘুমিয়ে পড়তেন। এ সময় উযুর পানির বদনা তাঁর শিয়রে ঢাকা অবস্থায় থাকত এবং মিসওয়াকও তাঁর পাশে থাকত। অতঃপর তিনি রাত্রির বিশেষ সময়ে আল্লাহ্র নির্দেশে জাগ্রত হয়ে মিসওয়াক করত ভালোভাবে উযু করতেন। পরে তিনি জায়নামাযে গমন করে আট রাকাত নামায আদায় করতেন। তিনি এই নামাযের রাকাআতসমুহে সূরা ফাতিহা এবং কুরআনের অন্য সূরা পাঠ করতেন, যা আল্লাহর ইচ্ছা হত এরূপ আরো আয়াত পাঠ করতেন।
তিনি এই আট রাকাত নামায আদায়কালে মাঝখানে না বসে শেষ রাকাতের পরে বসতেন এবং সালাম ফিরাবার পূর্বে দণ্ডায়মান হয়ে নবম রাকাত আদায় করে বসতেন। অতঃপর আল্লাহ্র ইচ্ছানুযায়ী দু’আ করতেন এবং তাঁর নিকট প্রার্থনা করতেন এবং তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হতেন। পরিশেষে তিনি স্বশব্দে সালাম ফিরাতেন যার ফলে গৃহের লোকেরা জাগ্রত হবার উপক্রম হত। অতঃপর তিনি বসে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন এবং এখানে সূরা ফাতেহা পাঠের পর বসাবস্থায় রুকূ করতেন, অতঃপর দ্বিতীয় রাকাত রুকূ ও সিজদার সাথে বসে আদায় করতেন। পরে তিনি আল্লাহ্র মর্জি অনুযায়ী দুআ করতঃ সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করতেন। তাঁর শরীর মোবারক ভারী ও দুর্বল হয়ে পড়লে তিনি নয় রাকাতের স্থলে দুই রাকাত বাদ দিয়ে ছয় এবং তার সাথে এক রাকাত যোগ করে সাত রাকাত আদায় করতেন এবং তাঁর ইন্তেকালের পূর্বে পর্যন্ত এরূপে নামায আদায় করতেন।
১৩৪৭. হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... বাহয ইবন হাকীম (রহঃ) উপরোক্ত হাদিসের সনদে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ তিনি ইশার নামায শেষে বিছানায় গমন করতেন এবং উক্ত বর্ণনায় তাঁর চার রাকাত নামায আদায় সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নাই। তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি আট রাকআত নামায আদায় করবার সময় কিরাআত, রুকূ ও সিজদার মধ্যে সমতা রক্ষা করতেন এবং এই নামাযের কেবলমাত্র শেষ রাকাতে তিনি বসতেন। অতঃপর দণ্ডায়মান হয়ে বিতিরের এক রাকাত আদায় করে এমন সশব্দে সালাম ফিরেতেন যে, আমরা জাগ্রত হয়ে যেতাম। অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ অর্থে বর্ণিত হয়েছে।
১৩৪৮. আমর ইবন উছমান (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ তিনি ইশার নাময জামাআতে আদায়ের পর গৃহে প্রত্যাবর্তন করতেন। অতঃপর তিনি চার রাকাত নামায আদায় করে বিছানায় যেতেন। অতঃপর পূর্ববর্তীর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং এই বর্ণনায় তিনি যে কিরআত, রুকূ ও সিজদার মধ্যে সমতা রক্ষা করতেন, এর উল্লেখ নাই এবং তাঁর সশব্দ সালাম আমাদের যে নিদ্রাভংগ হত, তারও উল্লেখ নেই।
حَدَّثَنَا مُوسَى، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً يُوتِرُ بِسَبْعٍ أَوْ كَمَا قَالَتْ، وَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ، وَرَكْعَتَىِ الْفَجْرِ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৩৫০. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম রাত্রিতে তের রাকাত নামায আদায় করতেন এবং তিনি নবম রাকাতে বিতির পাঠ শেষ করতেন অথবা তিনি (আয়েশা) যেরূপ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসাবস্থায় দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। তিনি ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত নামায আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করতেন।
১৩৫১. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবম রাকাতে তিনি বিতির সমাপ্ত করতেন। অতঃপর তিনি তাঁর পরিণত বয়সে সপ্তম রাকাতের সময় বিতির শেষ করতেন এবং এর পর বসে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। তিনি এই দুই রাকাতে রুকূর ইরাদায় দণ্ডায়মান হতেন এবং রুকূ ও সিজদা আদায় করতেন। (মুসলিম)।
১৩৫২. ওয়াহাব ইবন বাকিয়্যা (রহঃ) .... সা’দ ইবন হিশাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনায় গমনের পর আয়েশা (রাঃ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করি আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামায সম্পর্কে কিছু বলুন। তখন তিনি বলেনঃ তিনি ইশার নামায জামাআতে আদায়ের পর বিছানায় গিয়ে ঘুমাতেন। অতঃপর মধ্যরাত্রিতে তিনি গাত্রোত্থান করে পেশাব-পায়খানা করার উদ্দেশ্যে গমন করতেন। অতঃপর পানি দ্বারা উযু করে মসজিদে গমন করতেন এবং সেখানে আট রাকাত নামায আদায় করতেন। সম্ভবতঃ তিনি এই নামাযের কিরাআত, রুকূ ও সিজদা আদায়ের মধ্যে সমতা রক্ষা করতেন। অতঃপর তিনি বিতিরের উদ্দেশ্যে আরো এক রাকাত আদায় করতেন এবং পরে বসাবস্থায় দুই রাকাত নামায আদায় করে কাত হয়ে শুয়ে থাকতেন। অতঃপর কখনো কখনো বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে নামাযের জন্য আহবান করতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ প্রথমাবস্থায় আমি তাঁর এরূপ নিদ্রার জন্য শিকায়েত (অভিযোগ) করতাম, যেহেতু নামাযের জন্য পুনরায় তাঁকে ডাকতে হত। তিনি শেষ বয়স পর্যন্ত এরূপে নামায আদায় করেন। (নাসাঈ)।
রাবী ইবন ঈসা বলেনঃ বিতিরের নামায আদায়ের পর সুবহে সাদিক হলে বিলাল (রাঃ) তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে নামাযের সংবাদ দিতেন। তখন তিনি ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করে মসজিদে গমন করতেন।
অতঃপর দুই রাবী (উছমান ও ঈসা) একমত হয়ে বলেনঃ অতঃপর তিনি বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমার কলবে নূর দান করুন, আমার জিহ্বায় নূর দান করুন, আমার কানে নূর দান করুন, আমার উপরে ও নীচে নূর দান করুন, আমার অস্থিতে নূর দান প্রদান করুন। (মুসলিম, নাসাঈ, বুখারী)।
১৩৫৩. মুহাম্মাদ ইবন ঈসা (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রাত যাপন করেন। অতঃপর তিনি তাঁকে দেখতে পান যে, তিনি রাতে ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক শেষে উযু করে কুরআনের (সূরা আলে ইমরানের) এই আয়াত পাঠ করেছেনঃ নিশ্চয় আসমান ও যমীনের সৃষ্টির মধ্যে ... সূরার শেষ আয়াত পর্যন্ত। অতঃপর তিনি দণ্ডায়মান হয়ে সুদীর্ঘ কিরআত ও রুকূ-সিজদার মাধ্যমে দুই রাকাআত নাময আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েন। অতঃপর তিনি এরূপে তিনবার ছয় রাকাত নামায আদায় করেন এবং প্রতি দুই রাকাত নামায আদায়ের পূর্বে তিনি মিসওয়াক করতঃ উযু করার পর এই আয়াতসমূহ পাঠ করেন। অতঃপর তিনি বিতিরের নামায আদায় করেন।
রাবী উছমান (রহঃ) বলেনঃ তিনি বিতিরের নামায তিন রাকাত আদায় করতেন। অতঃপর যখন তাঁর নিকট মুয়াযযিন আসতেন তিনি ফজরের নামায আদায়ের জন্য মসজিদে গমন করেন এবং এ দুয়া পাঠ করেনঃ "হে আল্লাহ্! আমার অন্তরে নূর দাও, আমার জবানে নূর দাও, আমার কানে নূর দাও, আমার চোখে নূর দাও, নূর দান করো আমার পিছন ও সম্মুখভাগে এবং আমার উপরে ও নিচে। হে আল্লাহ্! আমাকে পর্যাপ্ত নূর দান কর।"
১৩৫৫. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ...... ফাদাল ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের নামায পাঠের পদ্ধতি আবলোকনের উদ্দেশ্যে রাতে তাঁর সাথে অবস্থান করি। তিনি রাতে উঠে উযু করার পর দুই রাকাত নামায আদায় করেন এবং তাঁর দাঁড়ানোর সময়টুকু তাঁর রুকূর অনুরূপ ছিল এবং তাঁর রুকূর পরিমাণ ছিল সিজদার অনুরূপ। অতঃপর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন এবং পরে ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক ও উযু করতঃ সূরা আলে-ইমরানের এই পাঁচটি আয়াত তিলাওয়াতের করেনঃ “নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টির মধ্যে এবং দিন-রাতের পরিক্রমার মধ্যে ...। তিনি অনুরূপভাবে দশ রাকাত নামায আদায় করেন এবং শেষ দুই রাকাতের সাথে এক রাকাত মিলিয়ে বিতির আদায় করেন। এসময় মুয়াজ্জিন আযান দেওয়া শেষ করলে তিনি দণ্ডায়মান হয়ে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত হাল্কাভাবে আদায় করেন। অতঃপর কিছুক্ষণ বসার পর জামাআতের সাথে ফজরের নামায আদায় করেন।
১৩৫৬. উছমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাতে আমি আমার খালা মায়মূনা (রাঃ) এর গৃহে অবস্থান করি। রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এসে জিজ্ঞাসা করেনঃ ছেলেটি কি নামায আদায় করেছে? তাঁরা বলেনঃ হ্যাঁ। তখন তিনি শয়ন করেন এবং রাত্রির কিছু অংশ আল্লাহ্র ইচ্ছায় আতিবাহিত হওয়ার পর তিনি ঘুম থেকে উঠে উযু করার পর পাঁচ অথবা সাত রাকাত নামায আদায় করেন; যার মধ্যে বিতিরও শামিল ছিল। ঐ সময় তিনি সর্বশেষ রাকাতে সালাম ফিরান।
১৩৫৭. ইবনুল মুছান্না (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাত্রিতে আমি আমার খালা মায়মূনা বিনতুল হারিছ (রাঃ) এর গৃহে অবস্থান করি। এ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামায আদায়ের পর গৃহে আগমন করে চার রাকাত নামায আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েন। অতঃপর তিনি ঘুম থেকে উঠে উযু করার পর নামাযের জন্য দণ্ডায়মান হন। এ সময় আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়াই। তিনি আমাকে ঘুরিয়ে ডান পাশে দাঁড় করান এবং পাঁচ রাকাত নামায আদায় করেন। অতঃপর পুনরায় নিদ্রা যান, ঐ সময় আমি তাঁর নাসিকা ধ্বনি শুনতে পাই। অতঃপর তিনি নিদ্রা হতে উঠে দুই রাকাত নামায (ফজরের সুন্নাত) আদায় করেন এবং মসজিদে গিয়ে ফজরের নামায আদায় করেন। (বুখারী, নাসাঈ)।
১৩৫৮. কুতায়বা (রহঃ) .... সাঈদ ইবন যুবায়ের (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা ইবন আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের এরূপ নামায পাঠের ঘটনা আমার নিকট বর্ণনা করেন।
রাবী বলেনঃ তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই দুই রাকাত করে মোট আট রাকাত নামায আদায় করেন। অতঃপর পাঁচ রাকাত বিতির আদায় করেন এবং এর মাঝখানে বসেননি।
১৩৫৯. আব্দুল আযীয ইবন ইয়াহহিয়া (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ফজরের সুন্নাত সহ মোট তের রাকাত নামায আদায় করতেন। তিনি প্রথমত দুই দুই রাকাত করে ছয় রাকাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি বিতির নামায পাঁচ রাকাত আদায় করতেন এবং শেষ রাকাতে বসতেন।
হাদিস নং ১৩৬০সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي بِاللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً بِرَكْعَتَىِ الْفَجْرِ .
বর্ণনাকারী: উরওয়াহ (রহঃ)
১৩৬০. কুতায়বা (রহঃ) .... উরওয়া (রহঃ) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আয়েশা (রাঃ) তাঁকে এই মর্মে অবহিত করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ফজরের সুন্নাত সহ রাত্রিতে মোট তের রাকাত নামায আদায় করতেন। (মুসলিম)।
১৩৬১. নাসর ইবন আলী (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইশার নামায আদায়ের পর দণ্ডায়মান হয়ে আট রাকাত নামায আদায় করতেন এবং তারপর দুই রাকাত তিনি ফজরের নামাযের আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করতেন। এই দুই রাকাত নামায তিনি কখনও পরিত্যাগ করতেন না (এটা ফজরের সুন্নাত)। অত্র হাদীছে জাফার ইবন মুসাফির-এর বর্ণনায় বিতিরের পরে সাহরীর আযান ও ফজরের আযানের মধ্যবর্তী সময়ে দুই রাকাত নামায বসে পড়তেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। (বুখারী)।
১৩৬২. আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন আবু কায়েস (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম রাত্রিতে বিতির সহ কত রাকাত নামায আদায় করতেন? তিনি বলেনঃ তিনি চার রাকাত ও তিন রাকাত বিতির আদায় করতেন এবং কখনও ছয় রাকাআত ও তিন রাকাত ও বিতির আদায় করতেন এবং কখনও আট রাকাত আদায় করতেন এবং (কোন কোন সময়) তিনি মোট তের রাকাত নামায আদায় করতেন। তবে সাধারণতঃ তিনি সাত রাকাতের কম এবং তের রাকাতের অধিক নামায আদায় করতেন না। তিনি ফজরের সুন্নাত কোন সময় ত্যাগ করতেন না – এটা রাবী আহমদের বর্ণনা। রাবী আহমাদের বর্ণনায় ছয় এবং তিন রাকাতের কথা উল্লেখ নাই।
হাদিস নং ১৩৬৩যঈফ
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، : أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ فَسَأَلَهَا عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ . فَقَالَتْ : كَانَ يُصَلِّي ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً مِنَ اللَّيْلِ، ثُمَّ إِنَّهُ صَلَّى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، وَتَرَكَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قُبِضَ صلى الله عليه وسلم حِينَ قُبِضَ وَهُوَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ تِسْعَ رَكَعَاتٍ، وَكَانَ آخِرُ صَلاَتِهِ مِنَ اللَّيْلِ الْوِتْرَ .
বর্ণনাকারী: আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ (রহঃ)
১৩৬৩. মুআম্মাল ইবন হিশাম (রহঃ) ..... আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আয়েশা (রাঃ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের রাত্রিকালীন নামায পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন, তিনি রাত্রিতে তের রাকাত নামায আদায় করতেন। অতঃপর শেষ বয়সে তিনি দুই রাকাত কম করে মোট এগার রাকাত আদায় করতেন এবং তাঁর ইন্তিকালের পূর্বে তিনি নয় রাকাত নামায আদায় করতেন এবং তাঁর রাত্রির শেষ নামায ছিল বিতিরের নামায। (তিরমিযী, নাসাঈ, মুসলিম)।
১৩৬৪. আব্দুল মালিক ইবন শুআইব (রহঃ) ...... মাখরামা ইবন সুলায়মান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁকে ইবন আব্বাস (রাঃ) এর আযাদকৃত গোলাম কুরাইব আবহিত করেন যে, একদা তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম রাত্রিতে কিরূপ নামায আদায় করতেন? তখন তিনি বলেনঃ একদা রাত্রিতে আমি তাঁর সাথে অবস্থান করি, ঐ সময় তিনি মায়মূনা (রাঃ) এর গৃহে ছিলেন। অতঃপর তিনি নিদ্রা যান এবং রাতের এক-তৃতীয়াংশে অথবা অর্ধেক অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি গাত্রোত্থান করে পানির বদনায় কাছে গিয়ে উযু করেন এবং আমিও তাঁর সাথে উযু করি। অতঃপর তিনি নামাযে দণ্ডায়মান হলে আমি তাঁর বাম পাশে গিয়ে দাঁড়লে তিনি আমাকে টেনে ডান পাশে নিয়ে আসেন।
পরে তিনি তাঁর হস্ত মোবারক আমার মস্তকের উপর স্থাপন করেন, তিনি আমার কান মলে আমাকে সতর্ক করেন। এই সময় তিনি হাল্কাভাবে দুই রাকাত নামায আদায় করেন। আমার মনে হয় যে, তিনি প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করেন। অতঃপর তিনি সালাম ফিরান এবং পরে বিতির সহ এগার রাকাত নামায আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েন। অতঃপর বিলাল (রাঃ) এসে আস-সালাতু ইয়া রাসুলাল্লাহ বলায় তিনি উযু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামায (ফজরের সুন্নাত) আদায় করেন, পরে মসজিদে গিয়ে লোকদের সাথে জামাআতে ফজরের নামায আদায় করেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৩৬৫. নূহ ইবন হাবীব (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাত্রিতে আমি আমার খালা মায়মূনা (রাঃ) এর গৃহে অবস্থান করি। এই সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম রাত্রিতে উঠে নামাযের জন্য দণ্ডায়মান হন এবং তিনি ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত সহ মোট তের রাকাত নামায আদায় করেন। আমি অনুমান করলাম যে, তাঁর প্রতি রাকাতে দাঁড়ানোর সময় ছিল “সূরা-মুযযাম্মিল” পাঠের সময়ের অনুরূপ। রাবী নূহ তাঁর বর্ণনায় দুই রাকাত ফজরের সুন্নাত নামাযের কথা উল্লেখ করেন নাই। (নাসাঈ)।
১৩৬৬. আল-কানবী (রহঃ) ..... যায়দ ইবন খালিদ আল-জুহনী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের প্রতি নজর রাখব তিনি রাতের নামায কিভাবে পড়েন। আমি আমার মস্তক দরজা বা তাবুর চৌকাঠের উপর রেখে শুয়ে থাকলাম। তিনি হালকাভাবে দুই রাকাত নামায আদায় করার পর আরো দুই রাকাত নামায অতি দীর্ঘ করে পড়েন। অতঃপর তিনি আরো দুই রাকাত নামায আদায় করেন, যা পূর্বের দুই রাকাত অপেক্ষা কম দীর্ঘ ছিল। পরে তিনি এর চাইতে আরো কম দীর্ঘ দুই রাকাত নামায আদায় করেন এবং পরে আরো দুই রাকাত নামায আদায় করেন, যা পূর্বের নামাযের চাইতে আরো কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর তিনি পূর্বের চাইতে কম দীর্ঘ করে আরো দুই রাকাত নামায আদায় করেন এবং তাঁর সাথে এক রাকাত মিলিয়ে বিতির সহ মোট তের রাকাত আদায় করেন। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
হাদিস নং ১৩৬৭সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ : أَنَّهُ، بَاتَ عِنْدَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ خَالَتُهُ - قَالَ - فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الْوِسَادَةِ، وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا، فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا انْتَصَفَ اللَّيْلُ - أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ، أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ - اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ، ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ الآيَاتِ الْخَوَاتِمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ : فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ، ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ، فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي فَأَخَذَ بِأُذُنِي يَفْتِلُهَا، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، قَالَ الْقَعْنَبِيُّ : سِتَّ مَرَّاتٍ، ثُمَّ أَوْتَرَ، ثُمَّ اضْطَجَعَ، حَتَّى جَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
১৩৬৭. আল-কানবী (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস (রাঃ) এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়েব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) তাঁর নিকট বর্ণনা করেন যে, এক রাতে তিনি তাঁর খালা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের স্ত্রী মায়মূনা (রাঃ) এর গৃহে আবস্থান করেন। তিনি বলেনঃ আমি বালিশের পাশে মাথা রেখে শয়ন করি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পত্নি বালিশের লম্বা ভাগের উপর মাথা রেখে শয়ন করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম নিদ্রাভিভূত হয়ে পড়েন। তিনি রাতের অর্ধেক বা এর চাইতে একটু কম বা বেশী সময়ের পর জাগ্রত হয়ে হাতের সাহায্যে তাঁর চক্ষু রগড়াতে থাকেন এবং সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করেন।
অতঃপর আমিও উঠে তাঁর মত উযু করে তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়াই। এ সময় তিনি তাঁর ডান হাত দ্বারা আমার কান স্পর্শ করেন। অতঃপর তিনি দুই রাকাত, পরে দুই রাকাত, আরো পরে দুই রাকাত, পুনঃ দুই রাকাত, আবার দুই রাকাত এবং সবশেষে আরো দুই রাকাত নামায আদায় করেন। রাবী আল-কানবী বলেনঃ এরূপ তিনি ছয় বার নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি শেষ রাকাতের সাথে এক রাকাত মিলিয়ে বিতির আদায় করে শুয়ে পড়েন। অবশেষে মুআযযিন এসে তাঁকে নামাযের খবর দিলে তিনি হালকাভাবে দুই রাকাত নামায (ফজরের সুন্নাত) আদায় করে গৃহ হতে বের হয়ে ফজরের ফরয নামায (মসজিদে) জামাআতের সাথে আদায় করেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
৩২২. নামাযের মধ্যে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা সম্পর্কে।
হাদিস নং ১৩৬৮সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " اكْلَفُوا مِنَ الْعَمَلِ مَا تُطِيقُونَ، فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا، وَإِنَّ أَحَبَّ الْعَمَلِ إِلَى اللَّهِ أَدْوَمُهُ وَإِنْ قَلَّ " . وَكَانَ إِذَا عَمِلَ عَمَلاً أَثْبَتَهُ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৩৬৮. কুতায়বা (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা সাধ্যানুযায়ী আমল কর। কেননা আল্লাহ তাআলা তোমাদের কোন আমলকে বন্ধ করেন না, যতক্ষণ না তোমারা নিজেরাই তা বন্ধ কর। কেননা আল্লাহ তাআলার নিকট ঐ আমলই অধিক পছন্দনীয় যা নিয়মিত আদায় করা হয়ে থাকে, যদিও পরিমানে তা কম হয়। তিনি যখন কোন আমল শুরু করতেন, তখন তা নিয়মিতভাবে আদায় করতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৩৬৯. উবায়দুল্লাহ ইবন সাদ (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম উছমান ইবন মাযউন (রাঃ)-কে ডেকে পাঠান। তিনি আগমন করলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে উছমান। তুমি আমার সুন্নাতের বিরোধিতা করছ? তিনি আল্লাহ্র শপথ করে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ। না, বরং আমি আপনার সুন্নাতের অন্বেষণকারী। তখন তিনি বলেনঃ আমি ঘুমাই এবং নামাযও আদায় করি, রোযা রাখি এবং ইফতারও করি, এবং স্ত্রীও গ্রহণ করি। হে উছমান! তুমি আল্লাহকে ভয় কর। তোমার প্রতি তোমার বিবির হক আছে, তোমার মেহমানের হক আছে, তোমার নফসের হক আছে। অতএব তুমি রোযাও রাখ এবং রোযাহীনও থাক, নামায আদায় কর এবং নিদ্রাও যাও।
হাদিস নং ১৩৭০সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ كَيْفَ كَانَ عَمَلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَلْ كَانَ يَخُصُّ شَيْئًا مِنَ الأَيَّامِ قَالَتْ : لاَ، كَانَ كُلُّ عَمَلِهِ دِيمَةً، وَأَيُّكُمْ يَسْتَطِيعُ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَطِيعُ
বর্ণনাকারী: আলকামাহ (রহঃ)
১৩৭০. উছমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ..... আলকামা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আয়েশা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাস করি যে, তিনি বিশেষ কোন দিনে নির্ধারিত কোন ইবাদত করতেন কি? তখন জবাবে তিনি বলেন, না, বরং তিনি যা আমল করতেন, তা সর্বদাই করতেন। আর তিনি যা করতে সক্ষম ছিলেন, তোমরা সেরূপ করতে কিরূপ সক্ষম? (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)।
৩২৩. রমযান মাসের রাত্রিকালীন নামায।
হাদিস নং ১৩৭১সহিহ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، - قَالَ الْحَسَنُ فِي حَدِيثِهِ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةٍ ثُمَّ يَقُولُ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ كَانَ الأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ فِي خِلاَفَةِ أَبِي بَكْرٍ - رضى الله عنه - وَصَدْرًا مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ رضى الله عنه . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا رَوَاهُ عُقَيْلٌ وَيُونُسُ وَأَبُو أُوَيْسٍ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ " . وَرَوَى عُقَيْلٌ " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَقَامَهُ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
১৩৭১. আল-হাসান ইবন আলী (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে রমযান মাসের (রাতে) নামায আদায়ের ব্যপারে উৎসাহিত করতেন; তবে তিনি তা আদায়ের ব্যাপারে অধিক গুরুত্ব (ফরয-ওয়াজিবের ন্যায়) আরোপ করতেন না। তিনি বলতেনঃ যে ব্যক্তি রমযান মাস ঈমানের সাথে এবং মর্যাদা লাভের আশায় দণ্ডায়মান হয়ে তারাবীহ নামায আদায় করে, আল্লাহ তাআলা তাঁর জীবনের পূর্ববর্তী সমস্ত (সগীরা) গুনাহ মাফ করে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পরেও এই নামাযের বিধান একইরূপ থাকে। অতঃপর আবু বাকর (রাঃ) এর খিলাফতকালেও তদ্রূপ থাকে এবং উমার (রাঃ) এর খিলাফতের প্রথম দিকেও ঐরূপ ছিল। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
১৩৭২. মাখলাদ (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) এই হাদীছের সনদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং মর্যাদা লাভের আশায় রমযান মাসের রোযা রাখে, তার পূর্ববর্তী জীবনের সমস্ত (সগীরা) গুনাহ মার্জিত হবে। আর যে ব্যক্তি “লায়লাতুল কদরে” ঈমানের সাথে এবং আল্লাহর সন্তুষ্ট লাভের জন্য নামায আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী জীবনের সমুদয় (সগীরা) গুনাহ মার্জিত হবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
হাদিস নং ১৩৭৩সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي الْمَسْجِدِ فَصَلَّى بِصَلاَتِهِ نَاسٌ ثُمَّ صَلَّى مِنَ الْقَابِلَةِ فَكَثُرَ النَّاسُ ثُمَّ اجْتَمَعُوا مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ " قَدْ رَأَيْتُ الَّذِي صَنَعْتُمْ فَلَمْ يَمْنَعْنِي مِنَ الْخُرُوجِ إِلَيْكُمْ إِلاَّ أَنِّي خَشِيتُ أَنْ يُفْرَضَ عَلَيْكُمْ " . وَذَلِكَ فِي رَمَضَانَ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৩৭৩. আল্-কানবী (রহঃ) ..... নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে (তারাবীহ) নামায আদায় করেন। ঐ সময় তাঁর সাথে অন্যান্য লোকেরাও নামায আদায় করেন। পরবর্তীতে রাতে উক্ত নামায আদায় করাকালে অনেক লোকের সমাগম হয়। অতঃপর তৃতীয় রাতেও লোকেরা উক্ত নামায (তারাবীহ) আদায় করার জন্য জমায়েত হলে সেদিন তিনি মসজিদে গমন করেন নাই। অতঃপর প্রত্যুষে তিনি সকলকে লক্ষ করে বলেনঃ তোমরা যা করেছ তা আমি অবলোকন করেছি। আমি একারণেই নামায জামাআতের সাথে আদায় করার জন্য আসিনাই যে, আমার ভয় হচ্ছিল তোমাদের উপর তা ফরয করা হয় কি না (তবে কষ্টকর বোঝা হয়ে দাঁড়াবে)। এটা রমযান মাসের (তারাবীহ নামায আদায়ের) ঘটনা। (বুখারী)
হাদিস নং ১৩৭৪হাসান
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّاسُ يُصَلُّونَ فِي الْمَسْجِدِ فِي رَمَضَانَ أَوْزَاعًا فَأَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضَرَبْتُ لَهُ حَصِيرًا فَصَلَّى عَلَيْهِ بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَتْ فِيهِ قَالَ - تَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - " أَيُّهَا النَّاسُ أَمَا وَاللَّهِ مَا بِتُّ لَيْلَتِي هَذِهِ بِحَمْدِ اللَّهِ غَافِلاً وَلاَ خَفِيَ عَلَىَّ مَكَانُكُمْ " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৩৭৪. হান্নাদ (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা রমযান মাসে মসজিদে বিচ্ছিন্নভাবে নামায আদায় করত। ঐ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম একদা আমাকে মসজিদে মাদুর বিছিয়ে দিতে বলেন এবং তিনি তার উপর নামায আদায় করেন। অতঃপর রাবী পূর্ণ ঘটনা বিবৃত করতে দিয়ে বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ হে জনগণ! আলহামদু লিল্লাহ! অদ্য রজনীতে আমি আল্লাহর ইবাদাত করতে গাফেল হই নাই এবং আমার নিকট তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে কিছুই গোপন নাই।
১৩৭৫. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রমযান মাসে রোযাব্রত পালন করেছি। তিনি রমযান মাসের প্রথম দিকে (তারাবীহ নামায) আমাদের সাথে আদায় করেন নাই। অতঃপর উক্ত মাসের মাত্র সাতটি রাত অবশিষ্ট থাকতে তিনি আমাদের নিয়ে নামায (তারাবীহ) আদায় করেন; এভাবে রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়। অতঃপর তিনি ষষ্ঠ রাতে (অর্থাৎ পরের রাত) আমাদের সাথে (তারাবীহ) নামায আদায় করেন নাই। পরে পঞ্চম রাতে তিনি আমাদের সাথে নামায আদায় করাকালে রাতের অর্ধাংশ অতিবাহিত করেন।
রাবী বলেনঃ ঐ সময় আমি তাঁকে বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! অদ্য রজনীতে আপনি যদি আমাদের সাথে সারা রাত নামায আদায় করতেন, তবে কত উত্তম হত। তখন তিনি বলেনঃ কেউ জামাআতের সাথে (ইশার নামায) আদায় করে ঘরে প্রত্যাবর্তন করলে তাকে সারা রাতের জন্য নামাযী হিসাবে গণ্য করা হয়। রাবী বলেনঃ তিনি চতুর্থ রাতে (২৭শে রমযান) মসজিদে আসেন নাই (তারাবীর নামায আদায়ের জন্য)।
অতঃপর তৃতীয় রাতে তিনি তাঁর স্ত্রী ও পরিবার-পরিজনদেরকে এবং অন্যান্য লোকদেরকে একত্রিত করে জামাআতের সাথে (তারাবীর) নামায আদায় করেন (এবং তার সময় এত দীর্ঘ হয় যে,) আমাদের আশংকা হচ্ছিল যে, হয়ত আমারা “ফালাহ্”-র সুযোগ হারিয়ে ফেলব। রাবী বলেন, আমি তখন জিজ্ঞাসা করিঃ ’ফালাহ’ কি? তিনি বলেনঃ সেহরী খাওয়া। অতঃপর তিনি উক্ত মাসের বাকী দিনগুলিতে (২৯ ও ৩০) আমাদের সাথে জামাআতে আর তারাবীহ আদায় করেন নাই। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৩৭৬. নাসর ইব্ন আলী (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রমযান মাসের (শেষ) দশ দিনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম সারা রাত জাগ্রত থাকতেন, স্ত্রীদের নিকট হতে দূরে অবস্থান করতেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদেরকে জাগিয়ে দিতেন (ইবাদাতের জন্য)। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৩৭৭. আহমাদ ইবন সাঈদ (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রমযানের রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম স্বীয় গৃহ হতে বের হয়ে দেখতে পান যে, মসজিদের এক পাশে কিছু লোক নামায আদায় করছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ এরা কি করছে? তাঁকে বলা হয়ঃ এদের কুরআন মুখস্ত না থাকায় তাঁরা উবাই ইবন কা’বের (রাঃ) পিছনে (মুক্তাদী হিসাবে) তারাবীর নামায আদায় করছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারা ঠিকই করছে।*
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
* বায়হাকী সুনান ২/১৯৫, মুসলিম ইবনু খালিদ হতে। সানাদের মুসলিম ইবনু খালিদকে ইমাম আবু দাউদ দুর্বল বলেছেন। অনুরূপ বলেছেন হাফিয ;আত তাকবীর' গ্রন্থে।
১৩৭৮. সুলায়মান ইব্ন হারব (রহঃ) ..... যির ইবন হুবায়েশ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি উবাই ইবন কাব (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, হে আবুল মুনযির! লায়লাতুল কদর সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। কেননা এ সম্পর্কে আমাদের সংগী (আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি সারা বছর রাতে ইবাদাত করবে, সে তা প্রাপ্ত হবে। তিনি (কাব) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা আবু আব্দুর রহমানের উপর রহম করুন! তিনি এটা অবগত আছেন যে, ’শবে কদর’ রমযান মাসের মধ্যে নিহীত।
রাবী মুসাদ্দাদ তাঁর বর্ণনায় আরও বলেনঃ তিনি (ইবন মাসুউদ) এটা প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন। অতঃপর উভয় রাবী (সুলায়মান ও মুসাদ্দাদ) ঐক্যমতে পৌঁছে বলেনঃ আল্লাহ্ শপথ! এটা হল রমযানের ২৭ তারিখের রাত। উল্লেখ্য যে, তাঁরা তাঁদের এই শপথবাণী উচ্চারণের সময় ইনশা আল্লাহ ব্যবহার করেন নাই। রাবী বলেন, তখন আমি বলি, হে আবুল মুনযির! আপনি তা কিরূপে অবগত হতে পারলেন? তিনি বলেনঃ ঐ সমস্ত নিদর্শনাবলীর সাহায্যে আমরা জানতে পেরেছি, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলে গিয়েছেন। রাবী আসেম তখন যির ইবন হুবায়েশ (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেনঃ ঐ নিদর্শনাবলী কি? তিনি বলেনঃ সে রাতের প্রভাতের সূর্য উপরে না উঠা পর্যন্ত তা নিষ্প্রভ থাকবে। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
১৩৭৯. আহমাদ ইব্ন হাফস (রহঃ) ..... দুমরাহ্ (রহঃ) তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা আমি বনূ সালামার এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম এবং সেখানে আমিই সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলাম। তাঁরা পরামর্শ করেন যে, আমাদের মধ্যেকার কোন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে ’লায়লাতুল-কদর’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে? এই মজলিস রমযান মাসের ২১ তারিখ সকালে অনুষ্ঠিত হয়। রাবী বলেনঃ তখন আমি (এটা জিজ্ঞাসার জন্য) বের হই এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মাগরিবের নামায আদায় করি। নামায শেষে আমি তাঁর ঘরের সম্মুখে দন্ডায়মান হই। তিনি আমার পাশ দিয়ে যাবার সময় বলেনঃ ভিতরে প্রবেশ কর। আমি ভিতরে প্রবেশ করি। এই সময়ে তাঁর সম্মুখে রাতের খাবার হাযির করা হলে খাদ্যের পরিমাণ কম থাকায় আমি কম খেয়ছি।
অতঃপর তিনি খাওয়া শেষ করে বলেনঃ আমার জুতাগুলি দাও। তিনি দন্ডায়মান হলে আমিও তাঁর সাথে দাঁড়াই। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ নিশ্চয় তোমার কোন প্রয়োজন আছে। আমি বলিঃ বনী সালমার লোকেরা আপনার নিকট ’লায়লাতুল-কদর’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য আমকে পাঠিয়েছে। তিনি বলেনঃ আজ কোন রজনী? আমি বলিঃ অদ্য রমযানের ২২তম রাত। তখন তিনি বলেনঃ আজকের রাত কদরের রাত। অতঃপর তিনি তা প্রত্যাহার করে বলেনঃ আগামী রাত এবং তিনি এর দ্বারা ২৩শে রমযানের রাতের প্রতি ইংগিত করেন। (নাসাঈ)।
১৩৮০. আহমাদ ইবন ইউনুস (রহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবন উনায়স (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলি, আমি দূরে বনভূমিতে অবস্থান করি এবং আল্লাহর ফযলে সেখানে নামাযও পড়ি। কাজেই আপনি আমাকে কদরের রাত সম্পর্কে বলে দিন, যাতে আমি সে রাতে আপনার মসজিদে এসে ইবাদাত করতে পারি। তখন তিনি বলেনঃ তুমি ২৩শে রমযানের রাতে আসবে।
মুহাম্মাদ ইবন ইরাহীম (রহঃ) বলেনঃ আমি আবদুল্লাহর পুত্রকে জিজ্ঞাসা করি, তোমর পিতা কিরূপ করতেন। তিনি বলেনঃ আমার পিতা রমযানের (২২ তারিখে) আসরের নামায আদায়ের পর মসজিদে গমন করতেন এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতেন। অতঃপর তিনি ফজরের নামায আদায়ের পর মসজিদের পাশে রক্ষিত তাঁর বাহনের উপর আরোহণ করে বনভূমিতে প্রত্যাবর্তন করতেন। (মুসলিম)।
হাদিস নং ১৩৮১সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فِي تَاسِعَةٍ تَبْقَى وَفِي سَابِعَةٍ تَبْقَى وَفِي خَامِسَةٍ تَبْقَى " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
১৩৮১. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেনঃ তোমরা রমযানের শেষ দশ রাতে লায়লাতুল কদর অন্বেষণ করবে। তিনি আরো বলেনঃ তোমরা তার অন্বেষণ কর- রমযানের ৯দিন বাকী থাকতে, ৭ দিন অবশিষ্ট থাকতে অথবা ৫ দিন বাকী থাকতে। (বুখারী)।
১৩৮২. আল-কানবী (রহঃ) ........... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম সাধারণত রমযানের মধ্যম দশ দিনে ইতিকাফ করতেন। এরূপ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বছর ইতিকাফ করবার সময় রমযানের ২১শে রাতে, অর্থাৎ আমার সাথে ইতিকাফে শরীক হয়েছে সে যেন রমযানের শেষ দশ দিন ও ইতিকাফ করে এবং আমি লায়লাতুল-কদর দেখেছি, কিন্তু তা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেকে শবে কদরের সকালে কাদামাটির মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি। তোমরা তা (শবে কদর) রমযানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতে অন্বেশন করবে।
রাবী আবু সাঈদ (রহঃ) বলেনঃ উক্ত একুশের রাতে বৃষ্টি হয়েছিল এবং তখন মসজিদের ছাদ খেজুর পাতার থাকায় তাতে পানি পড়েছিল। রাবী আবু সাঈদ (রাঃ) আরো বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা মোবারকে, নাকে ও চোখে ২১ তারিখের সকালে কাঁদামাটির চিহ্ন দেখতে পাই- (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৩৮৩. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা তা (শবে কদর) রমযানের শেষ দশ দিনে অন্বেশণ করবে এবং বিশেষ করে তার নবম, সপ্তম ও পঞ্চম রজনীতে অন্বেশণ করবে।
আবু নাদর বলেনঃ তখন আমি বলি, হে আবু সাঈদ! আপনি তো আমাদের চাইতে গণনায় অধিক অভিজ্ঞ। জবাবে তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। (রাবী বলেনঃ) আমি বলিঃ নবম, সপ্তম ও পঞ্চম কি? জবাবে তিনি বলেনঃ নবম রাত হল রমযানের একুশ তারিখের রাত্রি, সপ্তম হল, রমযানের তেইশ তারিখের রাত্রি এবং পঞ্চম রাত্রি হল, রমযানের পঁচিশ তারিখের রাত্রি (এটা অবশিষ্ট দিনের হিসাব মত গণনা)।
ইমাম আবু দাউদ বলেনঃ এ সম্পর্কে কোন গোপন রহস্য আছে কি না তা আমার জানা নাই। (মুসলিম, নাসাঈ)।
১৩৮৪. হাকীম ইবন সায়েফ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেনঃ তোমরা তাকে (শবে কদর) রমযানের সতের, একুশ ও তেইশের রাতে অন্বেষণ কর। অতঃপর তিনি চুপ থাকেন।
৩২৮. শবে ক্কাদার রমযানের শেষ সাত দিনে হওয়া সম্পর্কে।
হাদিস নং ১৩৮৫সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১৩৮৫. আল-কানবী (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা শবে কদরকে রমযানের শেষ সাত দিনের মধ্যে অন্বেষণ কর। (মুসলিম, নাসাঈ)।
৩২৯. সাতাশে রমাযান শবেকদর অনুষ্ঠিত হওয়া সম্পর্কে।
হাদিস নং ১৩৮৬সহিহ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ مُطَرِّفًا، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ قَالَ " لَيْلَةُ الْقَدْرِ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ " .
বর্ণনাকারী: মু‘আবিয়াহ ইবন আবূ সুফিয়ান (রাঃ)
১৩৮৬. উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয (রহঃ) ..... মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে শবে কদর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ রমযানের ২৭ তারিখ হল লাইলাতুল কদর।
৩৩০. শবে কদর রমযানের যে কোন রাতে হওয়া সম্পর্কে।
হাদিস নং ১৩৮৭যঈফ
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ زَنْجُويَهْ النَّسَائِيُّ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ فَقَالَ " هِيَ فِي كُلِّ رَمَضَانَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ سُفْيَانُ وَشُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ مَوْقُوفًا عَلَى ابْنِ عُمَرَ لَمْ يَرْفَعَاهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১৩৮৭. হুমায়েদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শবে কদর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার সময় আমি তা শ্রবণ করি। তিনি বলেনঃ সেটা তো (শবে কদর) রমযানের প্রতিটি রাতের মধ্যে নিহিত আছে (অর্থাৎ এর কোন এক রাতে তা নিহিত আছে)।
৩৩১. কুরআন মাজিদ কত দিনে খতম করতে হবে সে সম্পর্কে।
১৩৮৮. মুসলিম ইবন ইবরাহীম এবং মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি কুরআন এক মাসে খতম করবে। তিনি বলেনঃ এর চাইতে কম সময়ে খতম করার সামর্থ আমার আছে। তখন তিনি বলেনঃ তবে বিশ দিনে খতম করবে। তিনি (ইবন আমর) বলেনঃ এর চাইতেও কম সময়ে আমি তা খতম্ করতে পারি। তিনি বলেনঃ তাহলে পনর দিনে খতম করবে। আবার আমি বলিঃ এর চাইতেও কম সময়ে তা খতম করতে পারি। তিনি বলেনঃ তবে দশ দিনে খতম করবে। পুনরায় আমি বলিঃ আমি এর চাইতেও কম সময়ে খতম করতে পারি। তিনি বলেনঃ তবে সাত দিনে খতম করবে এবং এর চাইতে কম দিনে খতম করবে না। (বুখারী, মুসলিম)
১৩৮৯. সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেন, তুমি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখবে এবং প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম করবে। সময়ের ব্যাপারে তাঁর ও আমার মধ্যে মতভেদ হলে তিনি বলেন, তুমি এক দিন রোযা রাখবে এবং পরদিন ইফতার করবে (অর্থাৎ রোযা রাখবে না।)
রাবী আতা বলেনঃ আমার পিতার সাথে আমাদের এ সম্পর্কে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে যে, কেউ বলেছেন সাত দিনে এবং কেউ বলেছেন পাঁচ দিনে কুরআন খতম করবে।
১৩৯০. ইবনুল মুছান্না (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কুরআন কত দিনে খতম করব? তিনি বলেনঃ এক মাসে। আমি বলিঃ আমি এর চাইতে কম সময়ে খতম করতে সামর্থ রাখি। অতঃপর তাঁর সাথে আলাপ-আলোচনার পর তিনি এর পরিমাণ কমিয়ে সাত দিনে খতম করতে নির্দেশ দেন। আমি বলিঃ আমি এর চাইতেও কম সময়ে খতম করতে সক্ষম। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি তিন দিনের কম সময়ে কুরআন খতম করেছে, সে (কুরআন) হৃদয়ঙ্গম করতে ব্যর্থ হয়েছে।
১৩৯১. মুহাম্মাদ ইবন হাফস (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ তুমি এক মাসে কুরআন খতম করবে। আমি বলিঃ এর চাইতে কম সময়ে খতম করার ক্ষমতা আমার আছে। তিনি বলেনঃ তবে তিন দিনে খতম করবে।
১৩৯২. মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) .... ইবনুল হাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নাফে ইবন যুবায়ের ইবন মুতইম আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কুরআন কতটুকু পাঠ করেন? আমি বলিঃ আমি এর নির্ধারিত কিছু অংশ পাঠ করি না।
রাবী বলেনঃ তখন নাফে আমাকে বলেনঃ তুমি এ শব্দটি ব্যবহার করো না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আমি কুরআনের জুয (অংশ বিশেষ) পাঠ করেছি।
১৩৯৩. মুসাদ্দাদ এবং আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ..... আওস ইবন হুযায়ফা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা বনী ছাকীফ, যাদের সাথে চুক্তি হয়েছিল, গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হই। তারা মুগীরা ইবন শোবা (রাঃ) এর বাড়িতে উঠেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মালেক গোত্রের লোকদের তাঁর একটি প্রকোষ্ঠে স্থান দেন।
রাবী মুসাদ্দাদের বর্ণনায় আছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে বনী ছাকীফের যে প্রতিনিধি দল এসেছিল, তাদের মধ্যে আওস ইবন হুযায়ফাও ছিলেন। রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যহ ইশার নামায আদায়ের পর উক্ত প্রকোষ্ঠে (আবাসস্থানে) গমন করে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কথাবার্তা বলতেন। রাবী আবু সাঈদ (রাঃ) বলেনঃ তিনি তাদেরকে দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ইরশাদ করার সময় একবার এক পায়ের উপর ভর করতেন এবং পুনরায় অন্য পায়ের উপর এবং তিনি তাঁর বক্তব্যে কুরায়েশদের সাথে সম্পর্কিত ব্যাপার নিয়ে অধিকাংশ সময় আলোচনা করতেন।
অতঃপর তিনি বলতেনঃ মক্কাতে অবস্থানকালে আমরা তাদের সমকক্ষ ছিলাম না, বরং দুর্বল ও অসহায় ছিলাম। অতঃপর মদীনাতে আগমনের পর যুদ্ধে কখনও আমরা বিজয়ী হয়েছি এবং কখনও তারা জয়ী হয়েছে। একদা রজনীতে তিনি আমাদের নিকট আসতে নির্ধারিত সময়ের চাইতে কিছু বিলম্ব করেন। তখন আমরা তাঁকে বলিঃ আজ আপনি বিলম্বে এসেছেন। তিনি বলেনঃ অদ্য কুরআন তিলাওয়াতের সময় তার কিছু অংশ পড়তে বাকি ছিল যা সমাপ্ত না করে আমি আসতে পছন্দ করি নাই।
রাবী আওস বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করিঃ আপনার কুরআন পাঠের জন্য কিরূপে বাছাই করেন? তখন তাঁরা বলেনঃ আমরা প্রথম অংশ তিন সূরা (বাকারা-নিসা), দ্বিতীয় অংশ পাঁচ সূরা (মাইদা-তওবা), তৃতীয় অংশ সাত সূরা (ইউনুস-নাহল), চতুর্থ অংশ নয় সূরা (ইসরা-ফুরকান), পঞ্চম অংশ এগার সূরা (শুআরা-ইয়াসীন), ষষ্ঠ অংশ তের সূরা (সাফফাত-হুজুরাত) এবং সপ্তম অংশ মুফাসসালের (সূরা কাফ হতে সূরা নাস পর্যন্ত) সূরাগুলি পাঠ করি (অর্থাৎ আমরা সাত দিনে কুরআন খতম করে থাকি)। (ইবন মাজা)।
১৩৯৪. মুহাম্মাদ ইবনুল মিনহাল (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন আমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি তিন দিনের কম সময়ে কুরআন খতম করে, সে তার কিছুই অনুধাবন করতে সক্ষম হয় না। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৩৯৫. নূহ ইবন হাবীব (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন যেঃ কুরআন কত দিনে খতম করা উচিত। তিনি বলেনঃ চল্লিশ দিনে, অতঃপর বলেন, এক মাসে। পরে তিনি বলেনঃ বিশ দিনে। অতঃপর তিনি পনের দিন, দশ দিন ও সাত দিনের কথা উল্লেখ করেন এবং সাত দিনের আর কম করেননি। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
১৩৯৬. আব্বাদ ইবন মূসা (রহঃ) .... আলকামা ও আসওয়াদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, একদা ইবন মাসউদ (রাঃ) এর খিদমতে এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে বলেন, আমি মুফাসসালের (সূরা হুজুরাত হতে নাস পর্যন্ত) সূরাগুলো নামাযের একই রাকাতে তেলাওয়াত করি। ইবন মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ এটা (অতি দ্রুত তিলাওয়াত) কবিতা পাঠের অনুরূপ অথবা গাছ থেকে শুকনো খেজুর পতিত হওয়ার অনুরূপ। তিনি আরো বলেনঃ অথচ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম একই সমান দীর্ঘ দুটি সূরা এক রাকাতে, সূরা ইযা ওকাআত এবং নূন-কে এক রাকাতে, সূরা সাআলা সাইলুন ও আন নাযিআত-কে এক রাকাতে, সূরা ওযাইলুল-লিল মুতাফফিফীন ও আবাসাহ-কে এক রাকাতে, সূরা মুদ্দাছছির ও মুযযামমিলকে এক রাকাতে, সূরা হাল আতা এবং লা-উকসিমু বি-ইয়াওমিল কিয়ামাহ্-কে এক রাকাতে, সূরা আম্মা ইয়াতাসাআলূনা ও আল-মুরসালাত-কে এক রাকাতে, সূরা দোখান এবং ইযাশ-শামসু কুওবিরাত-কে এক রাকাতে পড়তেন।
ইমাম আবু দাউদ বলেনঃ এই তরতীব (বিন্যাস) ইবন মাসউদ (রাঃ) এর। (মুসলিম)।
১৩৯৭. হাফস ইবন উমার (রহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবু মাসউদ (রাঃ)-কে বায়তুল্লাহ শরীফ তাওয়াফকালে কুরআন পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ আয়াত দুটি তিলাওযাত করবে, এটা তার জন্য যথেষ্ট হবে। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৩৯৮. আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ) ..... আমর ইবনুল আস (রাঃ) এর পুত্র আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতের নামাযে দণ্ডায়মান হয়ে দশ আয়াত পরিমাণ পাঠ করবে, সে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর যে ব্যক্তি রাতে একশত আয়াত তিলাওয়াত করবে, তার নাম অনুগত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যে ব্যক্তি এক হাজার আয়াত তিলাওয়াত করবে, তাকে অশেষ ছওয়াব প্রাপ্তদের মধ্যে তালিকাভুক্ত করা হবে।
১৩৯৯. ইয়াহইয়া ইবন মূসা (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াদসাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে কুরআন পাঠ শিক্ষা দিন। তিনি বলেনঃ তুমি (প্রথমে) ’রা’ বিশিষ্ট তিনটি সূরা পাঠ করবে (যথা সূরা ইউনুস, হূদ, ইউসুফ ইত্যাদি)। তখন সে ব্যক্তি বললঃ আমি বৃদ্ধ হয়েছি, আমার স্মরণশক্তি লোপ পেয়েছে এবং জিহ্বা ভারী হয়ে গেছে। তখন তিনি বলেনঃ (যদি তুমি এগুলি তিলাওয়াত করতে অক্ষম হও) তবে হা-মিম সম্বলিত তিনটি সূরা তিলাওয়াত করবে। সে ব্যক্তি পূর্বের ন্যায় উক্তি করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাহলে তুমি যে সমস্ত সূরার প্রথমে সাব্বাহা বা য়ুসাব্বিহু অনুরূপ শব্দ আছে, সেই সূরাগুলি পাঠ করবে। তখনও ঐ ব্যক্তি পূর্বের ন্যায় উক্তি করে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এমন একটি সূরা শিক্ষা দিন যা জামেআহ বা স্বয়ংসম্পূর্ণ। তিনি তাঁকে সূরা ইযা যুলযিলাতিল আরদু শেষ পর্যন্ত শিক্ষা দেন। তখন সেই লোকটি বলেঃ আল্লাহর শপথ! যিনি আপনাকে সত্য নবী হিসাবে প্রেরণ করেছেন; আমি তার অতিরিক্ত কিছুই করব না। লোকটি চলে গেলে তিনি ইরশাদ করেনঃ সে ব্যক্তিটি কামিয়াব হয়েছে। (নাসাঈ)।
৩৩৩. আয়াতের সংখ্যা সম্পর্কে।
হাদিস নং ১৪০০হাসান
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ، عَنْ عَبَّاسٍ الْجُشَمِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " سُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ ثَلاَثُونَ آيَةً تَشْفَعُ لِصَاحِبِهَا حَتَّى يُغْفَرَ لَهُ ( تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ ) " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
১৪০০. আমর ইবন মারযূক (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেনঃ কুরআনের ত্রিশটি আয়াত বিশিষ্ট সূরা তাবারাকাল্লাযী (অর্থাৎ সূরা আল-মুলক) তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে। এমনকি তাকে মাফ করে দেয়া হবে (অর্থাৎ যে ব্যক্তি সূরা তাবারাকাল্লাযী তিলাওয়াত করবে, এটা তার জন্য সুপারিশকারী হবে। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
৩৩৪. কুরআন মাজিদে তিলাওয়াতের সিজদা কয়টি?
হাদিস নং ১৪০১যঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ الْبَرْقِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سَعِيدٍ الْعُتَقِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُنَيْنٍ، - مِنْ بَنِي عَبْدِ كُلاَلٍ - عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْرَأَهُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَجْدَةً فِي الْقُرْآنِ مِنْهَا ثَلاَثٌ فِي الْمُفَصَّلِ وَفِي سُورَةِ الْحَجِّ سَجْدَتَانِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رُوِيَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِحْدَى عَشْرَةَ سَجْدَةً وَإِسْنَادُهُ وَاهٍ .
বর্ণনাকারী: আমর ইবনুল আস (রাঃ)
১৪০১. মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রহীম (রহঃ) ..... আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাঁকে কুরআনের মধ্যে পনেরটি সিজদা আছে বলে শিক্ষা দিয়েছেন। এর তিনটি মুফাসসালের মধ্যে (সূরা নাজম, ইনশিকাক ও আলাক), সূরা হজ্জের মধ্যে দুটি (তবে হানাফী মাযহাব অনুযায়ী একটি)। (ইবন মাজা)।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেনঃ আবু দারদা (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে এগারটি সিজদার বিষয় উল্লেখ করেছেন। তবে এর সনদ সুবিধাজনক নয়।
১৪০২. আহমাদ ইবন আমর (রহঃ) ...... উকবা ইবন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াদসাল্লামকে বলি যে, সূরা হজ্জের মধ্যে দুটি সিজদা আছে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। যে এই দুটি সিজদা আদায় করে না সে যেন এই সূরা তিলাওয়াত না করে। (তিরমিযী)।
৩৩৫. ছোট ছোট সুরার (মুফাসসালের) মধ্যে সিজদা না থাকা সম্পর্কে।
১৪০৩. মুহাম্মাদ ইবন রাফে (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসার পর মুফাসসালের কোন আয়াত পাঠের পর সিজদা করেন নাই।
হাদিস নং ১৪০৪সহিহ
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّجْمَ فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا .
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)
১৪০৪. হান্নাদ ইবনুস সারী (রহঃ) ..... যায়দ ইবন ছাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সম্মুখে ’সূরা নাজম’ পাঠ করি। তিনি এই সূরা পাঠের পর সিজদা করেন নাই। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
হাদিস নং ১৪০৫তাহকীক অপেক্ষমাণ
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو صَخْرٍ، عَنِ ابْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَانَ زَيْدٌ الإِمَامَ فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا .
বর্ণনাকারী: খারিজাহ ইবনু যায়দ ইবনু সাবিত (রহঃ)
১৪০৫. ইবনুস সারহ (রহঃ) ..... খারিজাহ ইবন যায়েদ ইবন ছাবিত (রহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবু দাউদ বলেনঃ যায়েদ ইবন ছাবিত (রাঃ) ইমাম ছিলেন এবং তিনি সিজদা করেন নাই। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
১৪০৬. হাফস ইবন উমার (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম সূরা নাজম পাঠ করেন এবং সিজদার আয়াত পাঠের পর সকলেই সিজদা করেন। কিন্তু এক ব্যক্তি সিজদা না করে স্বীয় হস্তে এক মুষ্টি মাটি বা কংকর নিয়ে নিজের কপাল পর্যন্ত উত্তোলন করে বলে, এটাই আমার জন্য যথেষ্ট। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি উক্ত ব্যক্তিকে কুফরী অবস্থায় মারা যেতে দেখেছি। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
৩৩৭. সূরা ইকরা ও ইযাস সামাউ ইনশাককাত পাঠের পর সিজদা সম্পর্কে।
হাদিস নং ১৪০৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَطَاءِ بْنِ مِينَاءَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَجَدْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ( إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ ) وَ ( اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ) .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
১৪০৭. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সূরা ইযাস্-সামাউন্ শাক্কাত ও ইকরা বিস্মি রব্বিকাল্লাযী খালাকা পাঠের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাথে সিজদা আদায় করেছি। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৪০৮. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... আবু রাফে (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবু হুরায়রা (রাঃ) এর সাথে ইশার নামায আদায় করি। ঐ সময় তিনি সূরা ইযাস্-সামাউন শাক্কাত তিলাওয়াতের পর সিজদা (তিলাওয়াতের) আদায় করেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, এটা কিসের সিজদা? তিনি বলেন, আমি এই সিজদা আবুল কাসেম (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পশ্চাতে আদায় করেছি এবং এটা আমি মৃত্যু পর্যন্ত আদায় করতে থাকব। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
৩৩৮. সূরা সাদ এ সিজদা সম্পর্কে।
হাদিস নং ১৪০৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَيْسَ ( ص ) مِنْ عَزَائِمِ السُّجُودِ وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْجُدُ فِيهَا .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
১৪০৯. মূসা ইবন ইস্মাঈল (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরা সাদ-এর মধ্যে যে সিজদাটি আছে তা ফরয নয়। তবে আমি একে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে আদায় করতে দেখেছি। (বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ)।
১৪১০. আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর অবস্থান কালে সূরা সাদ তিলাওয়াত করেন। তিনি সিজদার আয়াতে পৌঁছে মিম্বর হতে অবতরণ করে সিজদা আদায় করেন। ঐ সময় লোকেরাও তাঁর সাথে সিজদা আদায় করে। অতঃপর দ্বিতীয় দিনও তিনি উক্ত সূরা পাঠ করেন এবং যখন সিজদার আয়াতের নিকটবর্তী হন, তখন লোকেরা সিজদার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। এমতাবস্থায় তিনি বলেনঃ এটা নবীর জন্য তওবাস্বরূপ। অথচ আমি তোমাদেরকে এর জন্য সিজদা দেয়ার উদ্দেশ্য প্রস্তুতি নিতে দেখছি। অতঃপর তিনি মিম্বরের উপর হতে অবতরণ করে লোকদের নিয়ে সিজদা করেন।
৩৩৯. যানবাহনের উপর আরোহী থাকাবস্থায় সিজদার আয়াত শুনলে।
১৪১১. মুহাম্মাদ ইবন উছমান (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়কালীন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলে উপস্থিত সকলে সিজদা আদায় করেন। ঐ সময় যারা যানবাহনের উপর সওয়ার ছিলেন, তারা স্ব স্ব হাতের উপর সিজদা করেন এবং অন্যান্যরা যমীনের উপর সিজদা করেন।
১৪১২. আহমাদ ইবন হাম্বল ও আহমাদ ইবন আবু শোআয়ের (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট সূরা পাঠ করতেন। রাবী ইবন নুমায়েব বলেন, এটা ছিল নামাযের বাইরে। অতঃপর রাবীদ্বয় একমত হয়ে বলেন, তিনি সিজদার আয়াত পাঠের পর সিজদা করতেন এবং আমরাও তাঁর সাথে সিজদা আদায় করতাম। ঐ সময় লোকের ভীড়ের কারণে অনেকেই সিজদা দেয়ার স্থান পেত না। (বুখারী, মুসলিম)
১৪১৩. আহমাদ ইবনুল ফুরাত (রহঃ) .... ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের নিকট কুরআন তিলাওয়াতের সময় যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম সিজদার আয়াত পাঠ করতেন, তখন তিনি আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যেতেন এবং আমরাও সিজদা করতাম।
আবদুর রাযযাক (রহঃ) বলেন, সুফিয়ান সাওরী (রহঃ) এই হাদীস খুবই পছন্দ করতেন। কারণ এতে তাকবীরের কথা উল্লেখ আছে।
[মুনকার, তাকবীর শব্দ উল্লেখ দ্বারা। মাহফুয হচ্ছেঃ তাকবীর ছাড়া।]
৩৪০. সিজদার মধ্যে কি বলবে?
হাদিস নং ১৪১৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي سُجُودِ الْقُرْآنِ بِاللَّيْلِ يَقُولُ فِي السَّجْدَةِ مِرَارًا " سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৪১৪. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম রাতে তিলাওয়াতের সিজদা আদায়কালে পুনঃ পুনঃ বলতেনঃ আমার মস্তক তাঁরই নিকট অবনত, যিনি একে সৃষ্টি করেছেন এবং চক্ষু ও কর্ণকে (দর্শন ও শ্রবণ শক্তির দ্বারা) বৈশিষ্ট্য মন্ডিত করেছেন, তিনিই সমস্ত শক্তি ও সামর্থের একমাত্র আধার। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
১৪১৫. আবদুল্লাহ ইবনুস সাব্বাহ (রহঃ) ..... আবু তুমায়মা হুজায়মী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমরা কাফেলার সাথে মদীনায় আসি তখন আমি ফজরের নামাযের পর লোকদেরকে নসীহত করতাম। এই সময় সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলে আমি সিজদা আদায় করতাম। ইবন উমার (রাঃ) আমাকে এরূপ করতে তিনবার নিষেধ করেন। আমি তাঁর কথায় কর্ণপাত না করায় তিনি পুনারায় আমাকে নিষেধ করে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাকর (রাঃ), উমার (রাঃ) ও উছমান (রাঃ) এর পশ্চাতে নামায আদায় করেছি। কিন্তু তাঁরা সূর্যোদয়ের পূর্বে সিজদায়ে তিলাওয়াতে আদায় করতেন না।
৩৪২. বিতিরের নামায সুন্নাত।
হাদিস নং ১৪১৬সহিহ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عِيسَى، عَنْ زَكَرِيَّا، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ أَوْتِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ " .
বর্ণনাকারী: আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)
১৪১৬. ইব্রাহীম (রহঃ) .... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ হে কুরআনের অনুসারীগণ! তোমরা বিতরের নামায আদায় কর। কেননা আল্লাহ তাআলা বেজোড় (একক), কাজেই তিনি বেজোড় (বিতর)-কে ভালোবাসেন। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৪১৭. উছমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতটুকু বেশী আছে যে, আবদুল্লাহ (রাঃ) এ হাদীস বর্ণনা করলে এক বেদুইন বলে, আপনি কি বলছেন? জবাবে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, এটা তোমার ও তোমার সাথীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। (ইবন মাজা)।
১৪১৮. আবুল ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী (রহঃ) ..... খারিজা ইবন হুযাফা আল-আদাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এসে বলেনঃ আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য লাল বর্ণের ঘোড়ার চাইতেও উত্তম একটি নামায নির্ধারিত করেছেন এবং এটাই হল বিতর। এই নামাযের আদায়কাল হল ইশার নামাযের পর হতে সুব্হে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত। (তিরমিযী, ইবন মাজা)।
১৪১৯. ইবনুল মুছান্না (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দা (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ বিতিরের নামায হক (সত্য)। যে ব্যক্তি এটা আদায় করবে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। এই উক্তিটি তিনি তিনবার করেন।
১৪২০. আল-কানবী (রহঃ) ..... আবু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিতিরের নামায ওয়াজিব। রাবী মাখ্দাজী বলেন, তখন আমি উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলি যে, আবু মুহাম্মদ এরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু মুহাম্মাদ ভুল করেছেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি তা সঠিকভাবে আদায় করবে এবং অলসতাহেতু তার কিছুই পরিত্যাগ করবে না, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবার জন্য অংগীকার করেছেন। আর যে ব্যক্তি তা (সঠিকভাবে) আদায় করবে না, তাঁর জন্য আল্লাহর নিকট কোন অংগীকার নাই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি প্রদান করবেন এবং ইচ্ছা করলে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৪২১. মুহাম্মাদ ইবন কাছীর (রহঃ) .... ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক বেদুইন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে রাতের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি তাঁর আংগুল দ্বারা ইশারা করে বলেন দুই, দুই এবং শেষ রাতে এক রাকাত বিতির (অর্থাৎ দুই ও এক রাকাত, মোট তিন রাকাত বিতির)। (মুসলিম, নাসাঈ)।
১৪২২. আব্দুর রহমান ইবনুল মোবারক (রহঃ) .... আবু আয়্যূব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ বিতিরের নামায প্রত্যেক মুসলিমের জন্য হক। যে ব্যক্তি তাকে পাঁচ রাকাত আদায় করতে চায়, সে পাঁচ রাকাত আদায় করবে; যে ব্যক্তি তিন রাকাত আদায়ের ইচ্ছা করে, সে ঐরূপ করবে এবং যে ব্যক্তি এক রাকাত আদায় করতে চায়, সে এক রাকাত আদায় করবে। (নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৪২৪. আহমাদ ইবন আবু শোআয়েব (রহঃ) .... আব্দুল আযীয ইবন জুরায়জ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বিতিরের নামাযে কোন সূরা পড়তেন? উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ .... রাবী বলেন, তিনি তৃতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস, নাস ও ফালাক পাঠ করতেন। (তিরমিযী, ইবন মাজা)।
১৪২৬. আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) .... আবু ইসহাক (রহঃ) উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ সনদ ও অর্থে বর্ণনা করেছেন। তবে এই বর্ণনায় “আমি তা বিতিরের নামাযে পড়ি” কথাটুকু উল্লেখ নাই।
১৪২৮. আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে তাঁর কোন কোন বন্ধুর সূত্রে বর্ণিত। উবাই ইবন কাব (রাঃ) রমযানে তাদের ইমামতি করতেন এবং এর শেষার্দ্ধে দুআ কুনূত পাঠ করতেন।
১৪২৯. শুজা ইবন মাখলাদ (রহঃ) ..... হাসান বসরী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) লোকদের উবাই ইবন কাবের পিছনে তারাবীর নামায আদায় করার উদ্দেশ্যে একত্রিত করেন। ঐ সময় উবাই (রাঃ) তাদের নিয়ে রমযানের প্রথম বিশ দিন নামায আদায় করতেন এবং এর মধ্যে তিনি শেষ দশ দিন বিতিরের নামাযে দুআ কুনূত পাঠ করতেন। রমযানের শেষ দশ দিন তিনি স্বীয় গৃহে একাকী নামায আদায় করতেন। লোকেরা বলাবলি করত যে, উবাই (রাঃ) পলায়ন করেছেন।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, কুনূত সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে- এই হাদীস থেকে তার অনির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হয়। অনন্তর উবাই (রাঃ) এর সূত্রে “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতির নামাযে কুনূত পড়তেন” বলে যা বর্ণিত হয়েছে উপরোক্ত হাদীসদ্বয়ে তার দূর্বলতা প্রমাণিত হয়।
১৪৩১. মুহাম্মাদ ইবন আওফ (রহঃ) ...... আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি নিদ্রা বা ভুলের কারণে বিতিরের নামায আদায় করে নাই, সে যেন তা স্মরণ হওয়ার পরপরই আদায় করে নেয়। (তিরমিযী, ইবন মাজা)।
১৪৩২. ইবনুল মুছান্না (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রিয় হাবীব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি কাজের জন্য ওসিয়াত করেছেন, যা আমি স্থায়ীভাবে কোথাও অবস্থানকালে এবং সফরের সময়েও ত্যাগ করি না।
১। চাশতের সময় দুই রাকাত নামায,
২। প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোযা) এবং
৩। নিদ্রার পূর্বে বিতিরের নামায আদায় করা। (বুখারী, মুসলিম)।
১৪৩৩. আব্দুল ওয়াহ্হাব্ ইবন নাজ্দা (রহঃ) ..... আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি জিনিসের জন্য উপদেশ দান করেছেন। আমি তা কোন অবস্থাতেই ত্যাগ করি না। ১. তিনি প্রতি মাসে তিন দিন আমাকে রোযা রাখার জন্য ওসিয়াত করেন, ২. বিতিরের নামায আদায়ের পূর্বে না ঘুমাতে এবং ৩. চাশতের নামায আদায় করার নির্দেশ দেন, চাই তা সফরের সময় হোক বা স্থায়ীভাবে বাড়ীতে বসবাসের সময়।
১৪৩৪. মুহামাদ ইবন আহমাদ (রহঃ) ..... আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আবু বাকর (রাঃ)-কে বলেনঃ আপনি বিতিরের নামায কোন সময় আদায় করেন? তিনি বলেন, রাত্রির পথম অংশে। অতঃপর তিনি উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কোন সময়ে বিতিরের নামায় আদায় করেন? তিনি বলেন, রাত্রির শেষ অংশে। তিনি আবু বাকর (রাঃ)-কে বলেনঃ সতর্কতা হেতু আপনি এর উপর আমল করতে থাকুন। তিনি উমার (রাঃ)-কে বলেনঃ আপনি আপনার সামর্থ অনুযায়ী আমল করুন।
১৪৩৫. আহমাদ ইবন ইউনুস (রহঃ) .... মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞসা করি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম রাত্রির কোন সময়ে বিতির আদায় করতেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামায আদায়ের পর বিতিরের নামায কোন সময় রাত্রির প্রথমাংশে, কোন সময় মধ্যম অংশে এবং কোন সময় শেষাংশে আদায় করতেন। তবে তিনি ইনতিকালের পূর্বে শেষ রাত্রিতে বিতিরের নামায আদায় করতেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ)।
হাদিস নং ১৪৩৬সহিহ
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَادِرُوا الصُّبْحَ بِالْوِتْرِ " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১৪৩৬. হারূন ইবন মারূফ (রহঃ) .... ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা সুবহে সাদিকের পূর্বেই বিতিরের নামায আদায় করবে। (তিরমিযী)।
১৪৩৭. কুতায়বা ইবন সাঈদ (রাঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন আবু কায়েস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের বিতিরের নামায সম্পর্কে আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি। তখন জবাবে তিনি বলেন, তিনি কখনও রাত্রির প্রথমাংশে এবং কখনও শেষাংশে তা আদায় করতেন। আমি বলি, তিনি কি কিরাআত আস্তে পড়তে না জোরে? তিনি বলেন, উভয় প্রকারেই কখনো জোরে এবং কখনো আস্তে। তিনি (অপবিত্রতার পরে) কোন সময় গোসল করে এবং কোন সময় উযূ করে শয়ন করতেন। (মুসলিম, তিরমিযী)।
হাদিস নং ১৪৩৮সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اجْعَلُوا آخِرَ صَلاَتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرًا " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১৪৩৮. আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ..... ইবন উমার (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ তোমরা বিতিরকে রাত্রির সর্বশেষ নামায হিসাবে আদায় করবে। (বুখারী, মুসলিম)।
১৪৩৯. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... কায়েস ইবন তাল্ক (রহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাল্ক ইবন আলী (রাঃ) আমদের সাথে কোন এক রোযার দিনে সাক্ষাৎ করেন এবং সেদিন আমাদের সাথে ইফতার করেন। অতঃপর আমাদের নিয়ে জামাআতে তারাবীহ্ ও বিতিরের নামায আদায় করে তিনি তাঁর নিজের মসজিদে গমন করেন এবং সেখানেও তাঁর সংগীদের সাথে তারবীহ নামায আদায় করেন এবং বিতিরের নামায আদায়ের জন্য অন্য এক ব্যক্তিকে ইমামতির জন্য সম্মুখে পাঠিয়ে দেন এবং বলেন, তুমি এদের সাথে বিতিরের নামায আদায় কর। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ একই রাতে দুইবার বিতিরের নামায আদায় করা যায় না। (নাসাঈ, তিরমিযী)।
১৪৪০. দাউদ ইবন উমায়্যা (রহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের নামায পাঠের অনুরূপ নামায আদায় করব। রাবী বলেন, তখন আবু হুরায়রা (রাঃ) যোহর, ইশা এবং ফজরের শেষ রাকাতে কুনূতে নাযেলাহ্ পাঠ করেন। তিনি এই নামাযের মধ্যে মুমিনদের জন্য দু’আ করেন এবং কাফিরদের অভিসম্পাত দেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
১৪৪১. আবুল ওয়ালীদ এবং মুসলিম ইবন ইবরাহীম (রহঃ) .... বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযের সময় কুনূত পাঠ করেন। রাবী ইবন মুআয (রাঃ) বলেন, তিনি মাগরিবের নামাযেও কুনূত পাঠ করতেন। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
১৪৪২. আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এক মাস যাবৎ ইশার নামাযে কুনূতে নাযেলাহ্ পাঠ করেনঃ “ইয়া আল্লাহ! আপনি ওলীদ ইবন ওলীদকে মুক্তি দান করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি সালামা ইবন হিশামকে মুক্তি দিন। ইয়া আল্লাহ! আপনি সামর্থহীন দুর্বল মুমিনদেরকে নাজাত দান করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আপনার দুশমনদের ধ্বংস করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি তাদের উপর ইউসুফ (আঃ)-এর সময়ের মত করাল দুর্ভিক্ষ আপতিত করুন।” একদা রাসূলুল্লাহ ফজরের নামাযের সময় তাদের জন্য এরূপ দুআ না করায় আমি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেই। তখন তিনি বলেনঃ তুমি কি দেখ না যে, তারা মুক্তিপ্রাপ্ত হয়ে মদীনাতে চলে এসেছে? (বুখারী, মুসলিম)।
১৪৪৩. আবদুল্লাহ ইবন মুআবিয়া (রহঃ) ...... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ক্রমাগতভাবে একমাস যাবত যোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজরের নামাযে কুনূতে নাযেলাহ পাঠ করেন। অর্থাৎ তিনি প্রত্যেক নামাযের শেষ রাকাতে ’সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ বলার পর বনী সুলায়ম, রিআল, যাকওয়ান ও উসায়্যাদের জন্য বদ-দু’আ করতেন। সে সময় মুকতাদীগণ আমীন বলতেন।
১৪৪৪. সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) ...... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযে কুনূতে নাযেলাহ্ পাঠ করেছেন কি? তিনি বলেন, হ্যাঁ। অতঃপর তাঁকে আরো জিজ্ঞাস করা হয় যে, তিনি কি তা রুকূর পূর্বে না পরে পাঠ করেছেন? তিনি বলেন, রুকূর পরে।
রাবী মুসাদ্দাদ বলেন, তিনি এটা মাত্র কয়েক দিন পাঠ করেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
হাদিস নং ১৪৪৫সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَنَتَ شَهْرًا ثُمَّ تَرَكَهُ .
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
১৪৪৫. আবুল ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী (রহঃ) ...... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এক সময় এক মাস যাবত কুনূতে নাযেলাহ্ পাঠের পর তা বন্ধ করেন। (মুসলিম)।
হাদিস নং ১৪৪৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُفَضَّلٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ حَدَّثَنِي مَنْ، صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْغَدَاةِ فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ قَامَ هُنَيَّةً .
বর্ণনাকারী: ইবনু সীরীন (রহঃ)
১৪৪৬. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবন সীরীন (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাথে ফজরের নামায আদায়কারী জনৈক সাহাবী আমাকে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় রাকাতের রুকূ হতে দাঁড়ানোর পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন। (নাসাঈ)।
৩৫২. ঘরে নফল নামায আদায়ের ফযিলত সম্পর্কে।
হাদিস নং ১৪৪৭সহিহ
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ - عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّهُ قَالَ احْتَجَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ حُجْرَةً فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ مِنَ اللَّيْلِ فَيُصَلِّي فِيهَا قَالَ فَصَلَّوْا مَعَهُ بِصَلاَتِهِ - يَعْنِي رِجَالاً - وَكَانُوا يَأْتُونَهُ كُلَّ لَيْلَةٍ حَتَّى إِذَا كَانَ لَيْلَةً مِنَ اللَّيَالِي لَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَنَحْنَحُوا وَرَفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ وَحَصَبُوا بَابَهُ - قَالَ - فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُغْضَبًا فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا زَالَ بِكُمْ صَنِيعُكُمْ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنْ سَتُكْتَبَ عَلَيْكُمْ فَعَلَيْكُمْ بِالصَّلاَةِ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ خَيْرَ صَلاَةِ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلاَّ الصَّلاَةَ الْمَكْتُوبَةَ " .
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)
১৪৪৭. হারূন ইব্ন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ...... যায়েদ ইবন ছাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম মদীনার মসজিদে একটি হুজরা কায়েম করেন। তিনি রাতে সেখানে গমন করে নামায আদায় করতেন। ঐ সময় অন্যান্য লোকেরাও প্রতি রাতে তাঁর সাতে নামায আদায় করতেন। একদা রাতে তিনি মসজিদে না আসায় তাঁরা উচ্চস্বরে কথাবার্তা শুরু করেন, এমনকি তাঁর ঘরের দরজায় গিয়ে কেউ কেউ করাঘাত করে এবং কংকর নিক্ষেপ করে।
রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন রাগান্বিত হয়ে বাইরে এসে বলেনঃ হে জনগণ! তোমাদের কি হয়েছে? তোমরা নফল নামায জামাআতে আদায়ের জন্য এত ব্যতিব্যস্ত কেন? তোমাদের কর্মধারায় আমার কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এটা তোমাদের জন্য ফরয হয়ে যাবে। তোমরা স্ব স্ব গৃহে (প্রত্যাবর্তন করে) নামায আদায় কর। কেননা মানুষের জন্য ফরয নামায ব্যতীত, অন্যান্য নামায গৃহেই আদায় করা উত্তম। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
হাদিস নং ১৪৪৮সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اجْعَلُوا فِي بُيُوتِكُمْ مِنْ صَلاَتِكُمْ وَلاَ تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا " .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
১৪৪৮. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ...... ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা স্ব স্ব গৃহে (নফল) নামায আদায় করবে এবং তাকে তোমরা কবর (সদৃশ্য) বানিও না। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইনব মাজা)।
১৪৪৯. আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবন হাবশী আল-খাছআমী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, উত্তম আমল কোনটি? তিনি বলেনঃ নামাযের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দন্ডায়মান থাকা। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, কোন সদকাহ উত্তম? তিনি বলেনঃ সামর্থ না থাকা সত্ত্বেও দান করা। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, উত্তম হিজরত কোনটি? তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলার হারাম বস্তুসমূহ হতে ফিরে থাকাই উত্তম হিজরত। অতঃপর তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কোন জিহাদ উৎকৃষ্ট? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি তার জান-মাল দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। অতঃপর তাকে বলা হয়ঃ কোন ধরনের নিহত হওয়া উত্তম? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি তার ঘোড়াসহ যুদ্ধের ময়দানে নিহত। (মুসলিম)।
১৪৫০. মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহ ঐ বান্দার উপর রহম করুন, যে রাত্রিকালে উঠে নামায আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও জাগায় এবং সেও নামায আদায় করে। যদি সে (স্ত্রী) নিদ্রার কারণে উঠতে অস্বীকার করে, তবে সে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা ঐ মহিলার উপরও রহম করুন, যে রাত্রিতে উঠে নামায আদায় করে এবং তার স্বামীকে ঘুম হতে জাগায় এবং সেও নামায পড়ে। যদি সে ঘুম হতে উঠতে অস্বীকার করে তবে সে তার মুখে পানি ছিটিয়ে জাগিয়ে তোলে। (নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৪৫১. মুহাম্মাদ ইবন হাতিম (রহঃ) ..... আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রাত্রিকালে ঘুম হতে উঠে নিজের স্ত্রীকে জাগায়, অতঃপর তারা একত্রে দুই রাকাত নামায আদায় করে- তাদের নাম আল্লাহর নিকট যিকিরকারী ও যিকিরকারিনীদের দফতরে লিপিবদ্ধ করা হয়। (নাসাঈ, ইবন মাজা)।
৩৫৫. কুরআন তিলাওয়াতের সাওয়াব সম্পর্কে।
হাদিস নং ১৪৫২সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عُثْمَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ " .
বর্ণনাকারী: উসমান ইবন আফফান (রাঃ)
১৪৫২. হাফস ইবন উমার (রহঃ) ...... উছমান (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই উত্তম যে নিজে কুরআন পাঠ করে এবং তা অন্যকে শিক্ষাদান করে। (বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৪৫৩. আহমাদ ইবন আমর (রহঃ) ...... সাহল্ ইবন মুআয আল্-জুহানী (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেননঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তা অনুসারে আমল করে, কিয়ামতের দিন তার পিতা-মাতাকে এমন টুপী পরিধান করানো হবে, যার জ্যোতি সূর্য্যরে কিরণের চাইতেও উজ্জল হবে। যদি মনে করা হয় যে, সূর্য তোমাদের কারও ঘরের মধ্যে আছে (এ মতাবস্থায় তার উজ্জলতা যেরূপ প্রকাশ পাবে, এর চাইতেও অধিক উজ্জল টুপী তাদেরকে কিয়ামতের দিন পরিধান করানো হবে)। অতএব যে ব্যক্তি নিজে কুরআন পাঠ করে তার উপর আমল করে, তার ব্যাপারটি কেমন হবে, সে সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি?
১৪৫৪. মুসলিম ইব্ন ইব্রাহীম (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং কুরআনে অভিজ্ঞও, সে ব্যক্তি অতি সম্মানিত ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠের সময় আটকে যায় এবং কষ্ট করে পড়ে, তার জন্য দুটি বিনিময় অবধারিত। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৪৫৫. উছমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যখন কোন কওমের লোকেরা আল্লাহর ঘরের কোন এক ঘরে একত্রিত হয়ে কুরআন পাঠ করে এবং একে অন্যকে শিখায় এবং শিখে, তখন তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হয় এবং আল্লাহর রহমত তাদেরকে আচ্ছাদিত করে এবং ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাআলা ঐ সমস্ত বান্দাদের ব্যাপারে তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের সামনে উল্লেখ করেন।
১৪৫৬. সুলায়মান ইব্ন দাউদ (রহঃ) ..... উকবা ইবন আমের আল্-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘর হতে বের হন, এসময় আমরা “সুফফাতে” (মসজিদে নববীর আঙ্গিনায়) অবস্থান করছিলাম। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমাদের মধ্যে কে পছন্দ কর যে, প্রত্যুষে সে বাত্হা বা আকীক নামক ময়দানে গমন করবে, এবং সেখান হতে উজ্জল বর্ণের হৃষ্টপুষ্ট, বহুমুল্য দুইটি উট সংগ্রহ করবে, যার সংগ্রহে সে কোনরূপ অন্যায় করে নাই বা আত্মীয়তা বিচ্ছিন্নও করে নাই? তারা বলেন, আমরা সকলেই এটা পছন্দ করি। তিনি ইরশাদ করেনঃ যদি তোমাদের কেউ মসজিদে এসে আল্লাহর কিতাবের (কুরআনের) দুটি আয়াত শিক্ষা করে, তবে তা ঐ দুটি উট হতেও শ্রেয়। যদি সে ব্যক্তি তিনটি আয়াত শিক্ষা করে, তবে তা ঐরূপ তিনটি উট হতেও শ্রেয় হবে। এরূপ সে ব্যক্তি যত আয়াত শিক্ষা করবে, সে ততটি উটের চাইতেও অধিক উত্তম জিনিস প্রাপ্ত হবে। (মুসিলম)।
৩৫৬. সূরা ফাতিহা সম্পর্কে।
হাদিস নং ১৪৫৭সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) أُمُّ الْقُرْآنِ وَأُمُّ الْكِتَابِ وَالسَّبْعُ الْمَثَانِي " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
১৪৫৭. আহমাদ ইবন শোআয়েব ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ “আলহামদু লিল্লাহে রব্বিল আলামীন” হল- উম্মুল্ কিতাব, উম্মুল্ কুরআন এবং আস্-সাব্উ আল-মাছানী। (বুখারী, তিরমিযী)।*
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
(*) আস্-সাব্উ আল্-মাছানী বলা হয় সূরা ফাতিহাকে। এই সূরার মধ্যে এমন সাতটি আয়াত আছে, যা পূর্ববর্তী ঐশীগ্রন্থ তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জীলের মধ্যে নাই। এই সাতটি আয়াত নামাযের প্রতিটি রাকাতে পঠিত হয়। একে মাছানী বলার কারণ এটাও যে, তা আল্লাহর প্রশংসায় পরিপূর্ণ। এই সূরাকে উম্মুল কুরআন এইজন্য বলা হয় যে, তা গোটা কুরআনের সারমর্মস্বরূপ। সূরা ফাতিহা, সাবউ আল-মাছানী ও উম্মুল-কুরআন ছাড়াও এর অনেক নাম আছে। (অনুবাদক)।
১৪৫৮. উবায়দুল্লাহ ইব্ন মুআয (রহঃ) ..... আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা তিনি নামাযে রত থাকাবস্থায় নবী করীম তাঁর পাশ দিয়ে গমনকালে তাঁকে ডাকেন। রাবী বলেন, আমি নামায সমাপন্তে তাঁর খিদমতে হাযির হই। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, আমার ডাকে সাড়া দিতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছে? আমি বলি, আমি নামাযে রত ছিলাম। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলা কি ইরশাদ করেন নাই, হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যখন তোমাদেরকে আহবান করেন, তখন তোমরা তার জবাব প্রদান করবে, কেননা তিনি তোমাদেরকে সত্যের প্রতি উদ্ধুদ্ধ করেন? অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি আজ মসজিদ হতে বের হবার পূর্বেই তোমাকে কুরআনের একটি সর্বোৎকৃষ্ট সূরা শিক্ষা দিব। আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার মূল্যবান কথাটি বর্ণে বর্ণে সংরক্ষিত করব, যা আপনি ইরশাদ করবেন। তিনি বলেনঃ আলহামদু লিল্লাহে রব্বিল আলামীন সূরা যা প্রদান করা হয়েছে; এটা আস্-সাব্উ আল-মাছানী এবং আল্-কুরআনুল আজীম। (বুখারী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
৩৫৭. সূরা ফাতিহা লম্বা সুরাগুলোর (অর্থের দিক দিয়ে) অন্তুর্ভুক্ত।
১৪৫৯. উছমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাব্উ আল-মাছানী নামীয় দীর্ঘ সূরাটি (অর্থের দিক দিয়ে) প্রদান করা হয়েছে এবং মূসা (আ.)-কে ছয়টি ’তখত’ (যাতে তওরাত কিতাব লিপিবদ্ধ ছিল) প্রদান করা হয়। অতঃপর যখন তিনি তা রাগে নিক্ষেপ করেন, তখন আল্লাহ তাআলা এর (ভগ্ন) দুটিকে উঠিয়ে নেন এবং চারিটি অবশিষ্ট থাকে। (নাসাঈ)।
১৪৬০. মুহাম্মাদ ইব্নুল মুছান্না (রহঃ) ..... উবাই ইবন কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবুল মুনযির! তোমার নিকট কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বাপেক্ষা সম্মানিত? আমি বলি, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল এ বিষয়ে অধিক অবগত। তিনি তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, যে আবুল মনযির! তোমার নিকট কুরআনের কোন আয়তটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ? রাবী বলেন, তখন আমি বলি, আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল্ হায়উল কায়্যূম। এতদশ্রবণে তিনি আমার বক্ষে হাত চাপড়িয়ে (মহব্বতের সাথে) বলেনঃ হে আবুল মুনযির! তোমার জন্য কুরআনের ইল্ম বরকতময় হোক। (মুসলিম)।
৩৫৯. সূরা ইখলাসের ফযিলত।
হাদিস নং ১৪৬১সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَجُلاً، سَمِعَ رَجُلاً، يَقْرَأُ ( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ) يُرَدِّدُهَا فَلَمَّا أَصْبَحَ جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ وَكَانَ الرَّجُلُ يَتَقَالُّهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ " .
বর্ণনাকারী: আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
১৪৬১. আল্-কানবী (রহঃ) ...... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে “কুল হুআল্লাহু আহাদ” সূরাটি পুনঃ পুনঃ পাঠ করতে শ্রবণ করেন। পরদিন প্রত্যুষে ঐ ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের খিদমতে তার উল্লেখ করেন এবং ঐ ব্যক্তির (শ্রবণকারীর) নিকট এর ফযীলত কম মনে হয়েছিল। তখন নবী করীম বলেনঃ ঐ আল্লাহর শপথ যাঁর নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন! এই সূরাটি গোটা কুরআনের তিন ভাগের একভাগ তুল্য (মর্যাদার দিক দিয়ে)। (বুখারী, নাসাঈ)।
১৪৬২. আহমাদ ইবন আমর (রহঃ) ..... উকবা ইবন আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সফরকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের উটের রশি ধরে টেনে নিয়ে যেতাম। তিনি একদিন আমাকে বলেনঃ হে উকবা! আমি কি তোমাকে দুটি সূরা শিক্ষা দিব, যা তুমি পাঠ করবে? অতঃপর তিনি আমাকে “কুল্ আউযু বিরব্বিল ফালাক” ও “কুল আউযু বি-রব্বিন নাস” সূরা দুটি শিক্ষা দেন। এতে তিনি আমাকে খুব উৎফুল্ল দেখেন নাই। অতঃপর তিনি ফজরের নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে অবতরণ করে নামাযের মধ্যে উক্ত সূরা দুটি পাঠ করেন। তিনি নামায শেষে আমার দিক মুখ ফিরিয়ে বলেনঃ হে উকবা! তুমি কেমন দেখলে? (অর্থাৎ যে সূরা দুটি শিক্ষা দেওয়া হয়েছে তা দ্বারা নামায আদায় করা চলে)। (নাসাঈ)।
১৪৬৩. আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মাদ (রহঃ) ...... উকবা ইবন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম জুহফা ও আব্ওয়া নামক স্থানদ্বয়ের মধ্যে সফরে ছিলাম। ঐ সময় হঠাৎ আমাদেরকে ঘোর কৃষ্ণ অন্ধকার ও প্রবল বাতাস আচ্ছন্ন করে ফেলে। তখন তিনি আল্লাহ্র নিকট “সূরা নাস” ও “সূরা ফালাক্” পাঠ করে আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং আমাকে বলেনঃ হে উকবা! তুমিও এদের দ্বারা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর। এর চাইতে অধিক উত্তম তা’বীয আর কিছুই নাই। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুটি সূরার দ্বারা নামাযের ইমামতি করতেও শ্রবণ করেছি।
৩৬১. কুরআন মাজিদের কিরা'আতের মধ্যে 'তারতিল' সম্পর্কে।
১৪৬৪. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ কিয়ামতের দিন কুরআনের পাঠককে বলা হবে, তুমি তা পাঠ করতে থাক এবং উপরে চড়তে (উঠতে) থাক। তুমি তাকে ধীরেসুস্থে পাঠ করতে থাক, যেরূপ তুমি দুনিয়াতে পাঠ করতে। কেননা তোমার সর্বশেষ বসবাসের স্থান (জান্নাত) ঐটিই যেখানে তোমার কুরআনের আয়াত শেষ হবে। (তিরমিযী, ইবন মাজা)।
হাদিস নং ১৪৬৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسًا عَنْ قِرَاءَةِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَانَ يَمُدُّ مَدًّا .
বর্ণনাকারী: কাতাদাহ (রহঃ)
১৪৬৫. মুসলিম ইবন ইবরাহীম (রহঃ) .... কাতাদা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আনাস (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের কিরাআত পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাস করি। তিনি বলেন, তিনি যেখানে যতটুকু টেনে পড়ার প্রয়োজন, সেখানে ততটুকুই লম্বা করে টেনে পড়তেন। (বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৪৬৬. য়াযীদ ইবন খালিদ (রহঃ) ..... ইয়ালা ইবন মুমাল্লাক্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি উম্মে সালামা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের নামায ও কিরাআত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন, তাঁর ও তাঁর নামাযের সংগে তোমাদের সম্পর্ক কি? তিনি যতক্ষণ নামায আদায় করতেন, ততক্ষণ সময় ঘুমাতেন; অতঃপর তিনি যতক্ষণ ঘুমাতেন তৎপরিমাণ সময় নামাযের মধ্যে অতিবাহিত করতেন; তিনি যতক্ষণ নামাযের মধ্যে কাটাতেন, ততক্ষণ সময় নিদ্রা যেতেন এবং এরূপে তিনি সকালে উপনীত হতেন। তিনি তার কিরাআত পাঠের বর্ণনা প্রসংগে বলেন, তিনি কিরাআতের প্রতিটি হরফ (অক্ষর) স্পষ্টরূপে উচ্চারণ করে তিলাওয়াত করতেন। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
হাদিস নং ১৪৬৭সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ وَهُوَ عَلَى نَاقَةٍ يَقْرَأُ بِسُورَةِ الْفَتْحِ وَهُوَ يُرَجِّعُ .
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ)
১৪৬৭. হাফস ইবন উমার (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে মক্কা বিজয়ের দিন স্বীয় উষ্ট্রীর উপর অবস্থান করে “সূরা ফাতহ্” বারবার তিলাওয়াত করতে দেখেছি। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
হাদিস নং ১৪৬৮সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ " .
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
১৪৬৮. উছমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ..... বারা ইবন আযেব্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা তোমাদের ধ্বনির সাহায্যে কুরআনকে সুষমামন্ডিত কর, অথবা তোমরা কুরআনকে তাজবীদ ও তারতীলের সাথে সুন্দরভাবে পাঠ কর। (নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৪৬৯. আবুল ওলীদ, কুতায়বা ও য়াযীদ (রহঃ) পূর্ববতি হাদীছের অনুরূপ অর্থে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। রাবী কুতায়বা বলেন, আমার কিতাবে তা এইরূপে সংরক্ষিত আছেঃ সাঈদ ইবন আবু সাঈদ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ঐ ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে কুরআনকে স্পষ্টরূপে বিশুদ্ধভাবে মধুর সুরে তিলাওয়াত করে না।
হাদিস নং ১৪৭০তাহকীক অপেক্ষমাণ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَهِيكٍ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
বর্ণনাকারী: সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)
১৪৭০. উছমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ....... সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেছেন ... উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ।
১৪৭১. আবদুল আলা ইবন হাম্মাদ, আব্দুল জাব্বার ইবনুল ওযারদ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি ইবন আবু মুলায়কাকে বলতে শুনেছি, উবায়দুল্লাহ ইবন আবু য়াযীদ বলেছেন, একদা আবু লুবাবা (রাঃ) আমার পার্শ দিয়ে গমনকালে আমি তাঁকে অনুসরণ করতে থাকি। ঐ সময় তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলে আমিও তথায় প্রবেশ করি। সেখানে আমি শীর্ণদেহ ও জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে বলতে শুনি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ঐ ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে স্পষ্টভাবে উত্তম সুরে কুরআন পাঠ করে না। রাবী বলেনঃ তখন আমি আবু মুলায়কাকে বলি, যে আবু মুহাম্মাদ! যদি কেউ এরূপে মধুর স্বরে তা পাঠ না করতে পারে? তিনি বলেন, সে ব্যক্তি তার সাধ্যানুযায়ী তা উত্তমরূপে তিলাওয়াতের চেষ্টা করবে।
১৪৭৩. সুলায়মান ইব্ন দাউদ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলাঃ কোন কিছুই এতটা নিবিষ্টভাবে শুনেন না যেভাবে তিনি কুরআনের পাঠ শুনেন- যখন তাঁর নবী সুমধুর কন্ঠে স্পষ্ট উচ্চারণে তা পাঠ করেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
৩৬২. কুরআন হিফজের পর তা ভুলে গেলে, তার কঠোর পরিণতি সম্পর্কে।
১৪৭৪. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) ..... সাদ ইবন উবাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠের পর তা ভুলে যায়, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্র সাথে খালি হাতে সাক্ষাৎ করবে।
৩৬৩. কুরআন সাত হরফে নাযিল হওয়া সম্পর্কে।
হাদিস নং ১৪৭৫সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَؤُهَا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْرَأَنِيهَا فَكِدْتُ أَنْ أَعْجَلَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَمْهَلْتُهُ حَتَّى انْصَرَفَ ثُمَّ لَبَّبْتُهُ بِرِدَائِهِ فَجِئْتُ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَأْتَنِيهَا . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْرَأْ " . فَقَرَأَ الْقِرَاءَةَ الَّتِي سَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَكَذَا أُنْزِلَتْ " . ثُمَّ قَالَ لِي " اقْرَأْ " . فَقَرَأْتُ فَقَالَ " هَكَذَا أُنْزِلَتْ " . ثُمَّ قَالَ " إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ " .
১৪৭৫. আল-কানবী (রহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবন আব্দুল ক্বারী (রহঃ) বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে শুনেছিঃ আমি হিশাম ইবন হাকীম (রাঃ)- কে সূরা আল-ফুরকান আমার পাঠের নিয়মের ব্যতিক্রমে পাঠ করতে শুনি। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম স্বয়ং আমাকে তা শিক্ষা দেন। আমি তার উপর ঝাপিয়ে পড়তে উদ্যত হই, কিন্তু তাঁকে পাঠ করার সুযোগ দিলাম। তিনি আবসর হলে আমি তার গলায় আমার চাদর পেচিয়ে তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে হাযির করি এবং বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এই ব্যক্তিকে সূরা ফুরকান অন্যরূপে তিলাওয়াত করতে শুনেছি, যেরূপে আপনি আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন তার বিপরীত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেনঃ তুমি পাঠ কর। তখন সে ব্যক্তি ঐরূপে পাঠ করে, যেরূপে আমি তাকে পাঠ করতে শুনেছিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তা এরূপই অবতীর্ণ হয়েছে। পরে তিনি আমাকে বলেনঃ এবার তুমি পাঠ কর। তখন আমি তা তিলাওয়াত করি। আমার পাঠের পর তিনি বলেনঃ সূরাটি এভাবে নাযিল হয়েছে। অতপর তিনি বলেনঃ কুরআন সাত কিরআতে অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব যেভাবে পড়তে সহজ হয় তোমার পাঠ কর। ( বুখারী, মুসলিম, তিরমিয, নাসাঈ )।
১৪৭৬. মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহিয়া (রহঃ) .... মা’মার (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেন, কুরআন যে সাত কিরাআতে অবতীর্ণ হয়েছে, তা কেবলমাত্র আক্ষরিক পার্থক্য, এতে হালাল-হারাম সম্পর্কে কোন বিভেদ নাই।
১৪৭৭. আবুল ওয়ালীদ আত-তায়ালিস (রহঃ) ..... উবাই ইবন কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন, হে উবাই, আমাকে কুরআন শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং, তুমি কি তা এক হরফে পড়তে চাও, না দুই হরফে? ঐ সময় আমার সঙ্গী ফেরেশতা আমাকে বলেন, আপনি বলুন, আমি দুই হরফে পড়তে চাই। তখন আমি বলিঃ দুই হরফের দ্বারা। আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়ঃ তুমি কি দুই হরফে পড়তে চাও, না তিন হরফে? তখন আমার সংগী ফেরেশতা (জিবরীল) আমাকে বলেন, আপনি বলুনঃ তিনি হরফের দ্বারা। তখন আমি বলিঃ তিন হরফের রীতিতে। এরূপে সাত কিরাআত (বা রীতি) পর্যন্ত পৌছায়।
অতঃপর তিনি বলেন, এই হরফগুলো বা কিরআত দ্বারা কুরাআন পরিপূর্ণভাবে বোধগম্য হওয়ার জন্য যথেষ্ট। যদি তুমি বলঃ (سَمِيعًا عَلِيمًا عَزِيزًا حَكِيمًا) তবে তুমি ঠিকই বলবে। (এভাবে যদি কেউ বলেঃسَمِيعًا عَلِيمًا او عَلِيمًا سَمِيعًا তবে তাও ঠিক) যতক্ষণ না আযাবের আয়াত রহমতের সাথে অথবা রহমতের আয়াত আযাবের সাথে সম্মিলিত হয়। (অর্থাৎ শব্দের বিচ্ছিন্নতা সত্ত্বেও যেন অর্থের মধ্যে কোনরূপ ব্যতিক্রম না হয়)।
১৪৭৮. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রহঃ) ..... উবাই ইবন কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম গিফার গোত্রের কূপের নিকট আবস্থনকালে তার নিকট জিবরীল (আঃ) আগমন করে বলেনঃ আল্লাহ রব্বুল আলামীন নির্দেশ প্রদান করেছেন যে, আপনি আপনার উম্মতের সকলকে যেন একই কিরাতের অনুসারী বানান। তখন তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহ্র নিকট এইজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি যে, এ ব্যাপারে আমার উম্মতের এই ক্ষমতা নাই। জিবরীল (আঃ) দ্বিতীয় বার আগমন করে পূর্বের ন্যায় বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একইরূপ বলেন। এরূপে সাত কিরাআত পর্যন্ত পৌছায়। অতঃপর জিবরীল (আঃ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা আপনাকে আপনার উম্মতদেরকে সাত কিরাতের কুরআন পড়বার অনুমতি প্রদান করেছেন। আপনার উম্মতের এই সাত কিরাআতের যে কোন কিরাআতে কুরআন পাঠ করবে, তারা ঠিক করবে।
৩৬৪. দু'আর ফযিলত।
হাদিস নং ১৪৭৯সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ يُسَيْعٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ ( قَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ) " .
বর্ণনাকারী: নু’মান ইবনু বশীর (রাঃ)
১৪৭৯. হাফস ইবন উমার (রহঃ) ..... নু’মান ইবন বাশীর (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ দুআও একটি ইবাদাত। তোমাদের রব বলেনঃ তোমরা আমার নিকট দু’আ কর আমি তা কবুল করব। ( তিরমিযী, ইবন মাজা)।
১৪৮০. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... ইবন সা’দ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে এরূপ বলতে শুনেন যে, “ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জান্নাত, তার নিয়ামত ও সুখ-সৌন্দর্য ইত্যাদি কামনা করছি এবং আপনার নিকট দোজখের অগ্নি, তার লোহার জিঞ্জীর ও বেড়ী ইত্যাদি হতে পরিত্রাণ কামনা করি।" আমার পিতা বলেন, হে প্রিয় বৎস! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, অতি সত্বর এমন এক সম্প্রদায় প্রকাশ পাবে, যারা দু’আর মধ্যে অতিরঞ্জন করবে। কাজেই তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হইও না। যদি তোমাকে জান্নাত দান করা হয়, তবে তার যাবতীয় সুখ-সম্পদ, আরাম- আয়েশের উপকরনাদিসহ প্রদান করা হবে। আর যদি তোমাকে দোযখের আগুন হতে রক্ষা করা হয়, তবে অবশ্যই তুমি তার যাবতীয় কষ্ট মুসীবত হতেও নিষ্কৃতি পাবে।
হাদিস নং ১৪৮১সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ، حُمَيْدُ بْنُ هَانِئٍ أَنَّ أَبَا عَلِيٍّ، عَمْرَو بْنَ مَالِكٍ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يَدْعُو فِي صَلاَتِهِ لَمْ يُمَجِّدِ اللَّهَ تَعَالَى وَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَجِلَ هَذَا " . ثُمَّ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِتَحْمِيدِ رَبِّهِ جَلَّ وَعَزَّ وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَدْعُو بَعْدُ بِمَا شَاءَ " .
১৪৮১. আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) ....... ফাদালা ইবন উবায়েদ (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর সাবাহী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনতে পান যে, জনৈক ব্যক্তি আল্লাহ্র শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরূদ পাঠ ব্যতিরেকে দুআ করতে শুরু করে। তিনি বলেনঃ সে তাড়াহুড়া করেছে।
রাবী বলেন, অতঃপর তিনি ঐ ব্যক্তিকে বা অন্য কাউকে ডেকে বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামায আদায় করবে, তখন সে যেন সর্বপ্রথম আল্লাহ্র প্রশংসা ও নবীর উপর দরূদ পাঠ করে। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
হাদিস নং ১৪৮২সহিহ
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ شَيْبَانَ، عَنْ أَبِي نَوْفَلٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَحِبُّ الْجَوَامِعَ مِنَ الدُّعَاءِ وَيَدَعُ مَا سِوَى ذَلِكَ .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৪৮২. হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম দু’আর মধ্যে জাওয়ামি (অর্থাৎ এরূপ দু’আ যার মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয় উল্লেখ থাকে; যে দু’আর মধ্যে সমস্ত মুসলিম শামিল অথবা এরূপ দু’আ যা স্বয়ংসম্পূর্ণ) কে ভালবাসতেন এবং এটা ব্যতীত অন্য সব কিছু তিনি পরিত্যাগ করতেন।
১৪৮৩. আল-কানবী (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন, কেউ যেন এরূপ দু’আ না করে, ইয়া আল্লাহ্। যদি তুমি ইচ্ছা কর তবে আমাকে মার্জনা কর। আর যদি তুমি চাও, তবে আমার উপর রহম কর। বরং দৃঢ়তার সাথে দু’আ করবে। কেননা আল্লাহ্র উপর কারো জোর খাটে না। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
হাদিস নং ১৪৮৪সহিহ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُسْتَجَابُ لأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ فَيَقُولُ قَدْ دَعَوْتُ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
১৪৮৪. আল-কানবী (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের দোয়া কবুল হয়ে থাকে, যতক্ষণ না সে ব্যক্তি তার জন্য তাড়াহুড়া করে এবং এরূপ বলতে থাকে যে, আমি দু’আ করলাম অথচ তা কবুল হয় নাই। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবন মাজা)।
১৪৮৫. আবদুল্লাহ ইবন মাসলামা (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা দেয়ালে পর্দা দিও না। যে ব্যক্তি অন্যের বিনানুমতিতে তার চিঠির প্রতি নজর করে সে যেন দোজখের প্রতি দৃষ্টিপাত করল। তোমরা তোমাদের হাতের তালু উপরের দিকে করে দু’আ করবে, হাতের পিঠ উপরের দিকে করে নয় এবং দুআর শেষে (হাত) মুখমণ্ডলে মাসেহ করবে।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেনঃ বিভিন্ন সনদে মুহাম্মাদ ইবন কা’ব (রহঃ) হতে এই হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এর সমস্ত বর্ণনাই অগ্রহণযোগ্য। অবশেষে তিনি বলেনঃ দু’আর এই পদ্ধতি উত্তম, যদিও রিওয়ায়াত যইফ। ( ইবন মাজা)।
১৪৮৬. সুলায়মান ইবন আব্দুল হামীদ (রহঃ) ..... মালিক ইবন য়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমরা আল্লাহ্ কাছে দু’আ কর তখন তোমরা হাতের পেট দ্বারা দুআ করবে, পিঠ দ্বারা নয়। সুলায়মান (রহঃ) বলেন, আমাদের মতে, মালিক (রাঃ) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছেন।
হাদিস নং ১৪৮৭সহিহ
حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ نَبْهَانَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو هَكَذَا بِبَاطِنِ كَفَّيْهِ وَظَاهِرِهِمَا .<br /> <br /> صحيح بلفظ جعل ظاهر كفيه مما يلي وجهه وباطنهما مما يلي الأرض (الألباني
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
১৪৮৭. উকবা ইবন মুকাররাম (রহঃ) .... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে কখনও হাতের পেটের দ্বারা এবং কখনও পিঠের দ্বারা দু’আ (ইসতিসকার নামাযে) করতে দেখেছি।
১৪৮৮. মুতাম্মল ইবন ফাদল (রহঃ) ..... সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের রব চিরঞ্জীব ও মহান দাতা। যখন কোন বান্দাহ হাত উঠিয়ে দু’আ করে, তখন তিনি তার খালি হাত ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। (তিরমিযী, ইবন মাজা)
১৪৮৯. মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ..... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’আর আদব (শিষ্টতা) হল, উভয় কাঁধ বা তার সম-পরিমাণ পর্যন্ত উত্তোলন করা এবং ইস্তেগফারের (গোনাহ মাফের জন্য দু’আ করার) আদব হল, দুআর সময় শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা। ইবতিহালের (অর্থাৎ দু’আর সময় রোনাজারি, কান্নাকাটি করা) আদব হল-দুআর সময় উভয় হস্তকে এত উপরে উঠানো যাতে হাতের বগলের সাদা অংশ দৃষ্টিগোচর হয়।
১৪৯০. আমর ইবন উছমান (রহঃ) ..... আব্বাস ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ইবতিহাল এরূপ যে, দু’আর সময় হাতের পৃষ্ঠদেশ দু’আকারীর মুখের দিকে থাকবে।
১৪৯১. মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন ... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং ১৪৯২যঈফ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ هَاشِمِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا دَعَا فَرَفَعَ يَدَيْهِ مَسَحَ وَجْهَهُ بِيَدَيْهِ .
বর্ণনাকারী: সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ)
১৪৯২. কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ..... আস-সাইব ইবন য়াযীদ (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম দু’আর সময় তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করতেন এবং তাঁর দ্বারা মুখমণ্ডল মাসেহ করতেন।
১৪৯৩. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দা (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে এরূপ দুআ করতে শুনেন “ইয়া আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি এবং আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, তুমিই আল্লাহ্ এবং তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই। তুমি একক এবং অমুখাপেক্ষী যার কোন সন্তান নাই এবং যিনি কারও সন্তান নন যার সমকক্ষ কেউই নাই। “তখন তিনি বলেন, তুমিই আল্লাহ্র নিকট তাঁর নাম ধরে প্রার্থনা করেছ, যখন এরূপে কেউ দু’আ করে তখন আল্লাহ্ তা প্রদান করেন এবং এরূপে দু’আ করলে তিনি তা কবুল করে থাকেন। (তিরমিযী, ইবন মাজা, নাসাঈ)।
১৪৯৪. আব্দুর রহমান ইবন খালিদ (রহঃ) ..... মালিক ইবন মিগওয়াল (রহঃ) এই হাদিসটি বর্ণনা প্রসঙ্গে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিম্নোক্ত কথা উল্লেখ করেছেনঃ নিশ্চয়ই ঐ ব্যক্তি আল্লাহ্র নিকট “ইসম আজমের” দ্বারা (মহান নামের দ্বারা) চেয়েছে। (তিরমিযী, ইবন মাজা, নাসাঈ )।
১৪৯৫. আব্দুর রহমান ইবন উবায়দুল্লাহ (রহঃ) ..... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাথে বসে ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি নামায শেষে এরূপ দু’আ করতে থাকে “ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি। তুমিই সমস্ত প্রশংসার মালিক, তুমি ছাড়া আর কোন দানকারী ইলাহ নাই, তুমিই আসমান ও যমীনসমূহের সৃষ্টিকরী, হে মহান শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ও মহান দাতা, হে চিরঞ্জীব, হে অবিনশ্বর।" এতদশ্রবণে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এই ব্যক্তি আল্লাহ্র নিকট তাঁর মহান নামের মাধ্যমে দু’আ করেছে এবং যদি কেউ এরূপে দু’আ করে, তবে তা অবশ্যই কবুল হবে। আর যদি কেউ এরূপে চায়, তবে আল্লাহ তাকে টা দান করেন। (নাসাঈ)।
১৪৯৬. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আসমা বিন্তে য়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ এই দুটি আয়াত হল আল্লাহ্র “ইসম আজম” মহান নাম।
১। (وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ) অর্থাৎ তোমাদের ইলাহ এক, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই, যিনি দাতা-দয়ালু।
২। সূরা আল- ইমরানের প্রথমাংশঃ (الم * الله لا إله إلا هو الحى القيوم) আলিফ, লাম, মীম আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। ( তিরমিযী, ইবন মাজা)।
১৪৯৭. উছমান ইবন আবু শায়বা (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তাঁর একটি চাদর চুরি হয়ে যায়, তিনি চোরের জন্য বদদুয়া করতে শুরু করলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি তার জন্য ঐরূপ করে বিষয়টি হালকা কর না (অর্থাৎ তাঁর পাপের বোঝা কমিও না)।
১৪৯৮. সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) .... উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উমরাহ জন্য অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি প্রদান করে বলেনঃ হে আমার প্রিয় ভাই। তুমি দুআ করার সময় যেন আমাদের কথা ভুলে না যাও। অতঃপর উমার (রাঃ) বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই উক্তি “হে আমার প্রিয় ভাই” আমাকে এত খুশী করে যে, আমি যদি এর পরিবর্তে সমস্ত দুনিয়ার মালিক হতাম, তবুও এত খুশী হতাম না।
রাবী শোবা বলেন, অতঃপর আমি আসেম (রহঃ) এর সাথে মদীনায় সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাকে বলেনঃ তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমার (রাঃ)-কে বলেনঃ হে ভ্রাতা। তুমি তোমার দুআর মধ্যে আমাদেরকেও শরীক কর। (তিরমিযী, ইবন মাজা)।
হাদিস নং ১৪৯৯সহিহ
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ مَرَّ عَلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَدْعُو بِأُصْبُعَىَّ فَقَالَ " أَحِّدْ أَحِّدْ " . وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ .
বর্ণনাকারী: সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)
১৪৯৯. যুহায়ের ইবন হারব (রহঃ) ..... সা’দ ইবন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আঙ্গুল উঠিয়ে দুআ করতে থাকলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এই সময় আমার পাশ দিয়ে গমনকালে বলেনঃ এক, এক (অর্থাৎ এক আঙ্গুল দ্বারা দু’আ কর) এবং ঐ সময় তিনি তাঁর শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করেন। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
১৫০০. আহমাদ ইবন সালেহ (রহঃ) ..... আয়েশা বিনতে সা’দ, তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাথে জনৈক মহিলার নিকট গমন করে তার সম্মুখে কিছু দানা অথবা পাথরের টুকরা দেখতে পান, যা দ্বারা তিনি তাসবীহ পাঠে রত ছিলেন। এতদ্দর্শনে তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে এর চেয়ে সহজ পন্থা শিক্ষা দিব। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সুবহানাল্লাহ শব্দটি আসমানের যাবতীয় সৃষ্টিবস্তুর সম-সংখ্যক এবং সুবহানাল্লাহ যমীনে সৃষ্টি যাবতীয় সৃষ্টির সম-সংখ্যক এবং সুবহানাল্লাহ শব্দটি এতদুভয়ের মধ্যে সৃষ্টি সমস্ত বস্তুর সম-সংখ্যক। সুবহানাল্লাহ শব্দটি ভবিষ্যতে যা কিছু সৃষ্টি হবে, তার সমসংখ্যক এবং “আল্লাহু আকবর” ও “আল-হামদুলিল্লাহ’ও তার (সুবাহানাল্লাহর) অনুরূপ। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”ও তার অনুরূপ এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ও তার অনুরূপ। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
হাদিস নং ১৫০১হাসান
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ هَانِئِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ حُمَيْضَةَ بِنْتِ يَاسِرٍ، عَنْ يُسَيْرَةَ، أَخْبَرَتْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُنَّ أَنْ يُرَاعِينَ بِالتَّكْبِيرِ وَالتَّقْدِيسِ وَالتَّهْلِيلِ وَأَنْ يَعْقِدْنَ بِالأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولاَتٌ مُسْتَنْطَقَاتٌ .
১৫০১. মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... হুমায়সাহ বিনতে য়াসির (রহঃ) য়ুসায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁকে এই মর্মে খবর দিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইয়ে ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে (মহিলা) তাকবীর (আল্লাহু আকবর), তাকদীস (সুবহানাল্লাহ) ও তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এর শব্দগুলিকে হিফাজত ও গণনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি এসব আঙ্গুলের গিরার দ্বারা গণনা করতে বলেছেন। কেননা কিয়ামতের দিন আঙ্গুলসমূহকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে এবং তারা এর স্বীকৃতি প্রদান করবে (সাক্ষ্য দিবে)। (তিরমিযী)।
১৫০২. উবায়দুল্লাহ ইবন উমার (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইয়ে ওয়াসাল্লামকে তাসবীহ পাঠের সময় তার আঙ্গুলে তা গণনা করতে আঙ্গুলে তা গণনা করতে দেখেছি। রাবী ইবন কুতায়বার বর্ণনায় আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তার ডান হাতে গণনা করতেন। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
১৫০৩. দাউদ ইবন উমায়্যা (রহঃ) .... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম জুওয়ায়রিয়া (রাঃ) এর ঘর হতে (সকালে) বের হন এবং তার পূর্বের নাম ছিল বাররা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম পরিবর্তন করে জুওয়ায়রিয়া রাখেন। তিনি তার ঘর হতে বের হওয়ার সময়ও তাঁকে জায়নামাজের উপর দেখেন এবং ফিরে এসেও তাঁকে ঐ অবস্থায় দেখতে পান। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি এতক্ষণ এই জায়নামাযের উপরেই ছিলে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার এখান থেকে যাওয়ার পর আমি চারটি কলেমা তিনবার করে পড়েছি। তার ওজন করা হলে তোমার পঠিত যিকিরের তুলনায় তাদের ওযন বেশী হবে। তার একটি হল “সুবহানাল্লাহ ওয়া বিহামদিহি”, এটা আল্লাহ্র সৃষ্ট সমস্ত মখলুকের সম-সংখ্যক। তা পাঠের ফলে আল্লাহ্ রাযী হন, তার ওজন পবিত্র আরশের সমান এবং তাঁর (আল্লাহ্র) সমস্ত বাক্যের সম-সংখ্যক। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৫০৪. আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু যার (রাঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! বিত্তশালীরা দান-সদকার দ্বারা আমাদের হতে আমলের মধ্যে অগ্রগামী। আমাদের মত তারাও নামায আদায় করে থাকে। তারা আমাদের মত রোযা রেখে থাকে এবং তারা তাদের অতিরিক্ত ধন-সম্পদ দান-সদকাহ করে অধিক ফযীলতের অধিকারী হচ্ছে এবং আমাদের দান-সদকাহ করার মত কোন ধন-সম্পদ নাই। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিক্ষা দিব না, যার উপর আমল করে তুমি তোমার চাইতে অগ্রগামীদের (ফযীলতের দিক দিয়ে) সমকক্ষ হতে পার এবং পশ্চাতে যারা আছে, তারা কখনই তোমার সমকক্ষ হতে পারবে না? অবশ্য যারা তোমার মত আমল করবে (তারা তোমার সমান হবে)। তিনি বলেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি আমাকে তা শিক্ষা দিন।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি প্রত্যেক নামাযের শেষে “আল্লাহু আকবার” ৩৩ বার, “আলহামদুলিল্লাহ” ৩৩ বার এবং “ সুবহানাল্লাহ” ৩৩ বার বলবে এবং সবশেষে পড়বে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল-মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর। যে ব্যক্তি এই দুআ পাঠ করবে, তার গোনাহের পরিমাণ যদি সমুদ্রের ফেনারাজির মত অসংখ্যও হয়, তা মার্জিত হবে। (মুসলিম)
১৫০৭. মুহাম্মাদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ..... আবু যুবায়ের (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন যুবায়ের (রাঃ) নামায শেষে তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ...) পাঠ করতেন। অতঃপর উপরোক্ত দুআর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং তার সাথে “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ, লা না’বুদু ইল্লা ইয়্যাহু লাহুন-নি’মাহ ... অতিরিক্ত বর্ণনা করে পরে উপরোক্ত হাদীছের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
১৫১১. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ...... আমর ইবন মুররা (রহঃ) উপরোক্ত হাদীছের সনদ ও অর্থে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি “ওয়া য়াসসিরিল হুদায়া” এর স্থলে “ওয়াসসির হুদা” উল্লেখ করেছেন। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
হাদিস নং ১৫১২সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، وَخَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا سَلَّمَ قَالَ " اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعَ سُفْيَانُ مِنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ قَالُوا ثَمَانِيَةَ عَشَرَ حَدِيثًا .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৫১২. মুসলিম ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ..... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম সালামের পর নামায শেষে এই দু’আ পাঠ করতেনঃ আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারকতা ইয়া যাল-জালালে ওয়াল ইকরাম। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
হাদিস নং ১৫১৩সহিহ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عِيسَى، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، عَنْ ثَوْبَانَ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنْصَرِفَ مِنْ صَلاَتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ " . فَذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ عَائِشَةَ رضى الله عنها .
বর্ণনাকারী: সাওবান (রাঃ)
১৫১৩. ইবরাহীম ইবন মূসা (রহঃ) ...... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদক্রিত গোলাম ছাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শেষ করতেন, তখন তিনবার ইস্তিগফার পাঠ করতেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেনঃ আল্লাহুম্মা আনতাস-সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল-জালালে ওয়াল ইকরাম। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৫১৪. আন- নুফায়লী (রহঃ) ..... আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ইস্তিগফারের (গোনাহে লিপ্ত হওয়ার পর লজ্জিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা) পরে তওবা করে, তবে তা ইসরার (বারবার) হিসাবে গণ্য হবে না; যদিও সে ব্যক্তি দৈনিক সত্তর বারও এরূপ করে। (তিরমিযী)।
১৫১৫. সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) ..... আল-আগার আল-মুযানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ অবশ্য কখনো কখনো আমার ’কলব’ পর্দাবৃত হয় (অর্থাৎ মানুষ হিসাবে দুনিয়ার কাজকর্মে লিপ্ত হওয়ার কারণে আল্লাহ্র যিকির হতে গাফিল হয়) এবং আমি আল্লাহ্র নিকট দৈনিক একশত বার ইস্তিগফার করে থাকি। (মুসলিম)।
১৫১৬. আল-হাসান ইব্নুল আলা (রাঃ) ..... ইব্ন উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে মসজিদে অবস্থানকালে একই বৈঠকে নিম্নোক্ত দু’আটি একশত বার পাঠ করতে-গণনা করেছিঃ রাব্বিগফির্ লী ওয়াতুব্ আলায়্যা ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়াবুর রাহীম। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইব্ন মাজা)।
হাদিস নং ১৫১৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الشَّنِّيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي عُمَرُ بْنُ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ بِلاَلَ بْنَ يَسَارِ بْنِ زَيْدٍ، مَوْلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُنِيهِ عَنْ جَدِّي أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ قَالَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ غُفِرَ لَهُ وَإِنْ كَانَ فَرَّ مِنَ الزَّحْفِ " .
১৫১৭. মূসা ইব্ন ইস্মাঈল (রহঃ) ..... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের আযাদকৃত গোলাম বিলাল ইব্নে যায়েদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে এই হাদীসটি আমার দাদার সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ইরশাদ করতে শুনেনঃ যে ব্যক্তি-
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
“আস্তাগ্ফিরুল্লাহাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আল্-হায়্য়ুল্ কায়ূওম, ওয়া-আতূবু ইলায়হে” পাঠ করবে, যদিও সে ব্যক্তি যুদ্ধের ময়দান হতে পালিয়ে আসে, তবুও তার গোনাহ মার্জিত হবে। (তিরমিযী)।
১৫১৮. হিশাম ইব্ন আম্মার (রাঃ) ..... ইব্ন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগ্ফার পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে সর্ব প্রকার বিপদাপদ হতে মুক্ত করবেন, এবং সব রকম দুশ্চিন্তা হতে রক্ষা করবেন এবং তার জন্য এমন স্থান হতে রিযিকের ব্যবস্থা করবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারেন না। (নাসাঈ, ইব্ন মাজা)।
১৫১৯. মুসাদ্দাদ ও যিয়াদ (রহঃ) ..... আব্দুল আযীয ইব্ন সুহায়েব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা কাতাদা (রহঃ) আনাস (রাঃ) এর নিকট জিজ্ঞসা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম কোন দু’আ অধিক পাঠ করতেন? তখন তিনি বলেনঃ তিনি অধিকাংশ সময় এই দু’আ পাঠ করতেনঃ আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদ্-দুন্য়া হাসানাতাও ওয়া ফিল্ আখিরাতে হাসানা ওয়াকিনা আযাবান্নার।
রাবী যিয়াদ আরো অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন যে, আনাস (রাঃ) যখন দু’আ করতেন তখন এই দু’আটি করতেন। আর যখন তিনি অতিরিক্ত দু’আ করতে চাইতেন, তখনও এই দু’আ করতেন। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
১৫২০. য়াযীদ ইব্ন খালিদ (রহঃ) ..... আবু উমামা ইব্ন সাহ্ল হুনায়ফ (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি খাঁটি অন্তরে শাহাদাত প্রাপ্তির কামনা করে, ঐ ব্যক্তি নিজের বিছানায় মারা গেলেও আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইব্ন মাজা)।
১৫২১. মুসাদ্দাদ (রাঃ) .... আস্মা ইবনুল হাকাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমি এমন এক ব্যক্তি, যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে কোন হাদীস শুনি, তখন তার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাকে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী আমলের তৌফিক দান করেন। যখন তাঁর কোন সাহাবী আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন আমি তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তাঁকে শপথ করতাম। অতঃপর তিনি যখন সে ব্যাপারে হলফ করে বলতেন, তখন আমি তাকে সত্য বলে গ্রহণ করতাম।
আলী (রাঃ) আরো বলেন, আবু বাক্র সিদ্দীক (রাঃ) আমার নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করেন এবং হল্ফ ছাড়াই আমি তাঁর বর্ণিত হাদীস সত্য বলে গ্রহণ করি। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যদি কেউ গোনাহে লিপ্ত হাওয়ার পর উত্তমরূপে উযূ করে নামাযে দণ্ডায়মান হয়ে দুই রাকাত নামায আদায় করে, অতঃপর ইস্তিগ্ফার করে, আল্লাহ তাআলা তার ঐ গোনাহ মর্জনা করেন।
অতঃপর আবু বাক্র (রাঃ) কুরআনের এই আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ যারা কোন অন্যায় কাজে কখনো লিপ্ত হয়, অথবা স্বীয় নফ্সের উপর যুলুম করে (গোনাহের দ্বারা) এইরূপে আয়াতের শেষ পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে। (তিরমিযী, নাসাঈ, ইব্ন মাজা)।
১৫২২. উবায়দুল্লাহ ইব্ন আমর (রাঃ) ..... মুআয ইব্ন জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত ধরে বলেন, হে মুআয! আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে ভালবাসি। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে কিছু ওসয়িত করতে চাই; তুমি নামায পাঠের পর এটা কোন সময় ত্যাগ করবে না। তা হলঃ “আল্লাহুম্মা আইন্নী আলা যিক্রিকা ওয়া শুক্রিকা ওয়া হুস্নি ইবাদাতিক।” অতঃপর মুআয (রাঃ) আল্-সানাবিহীকে এরূপ ওসীয়ত করেন এবং আল্-সানাবিহী আবু আব্দুর রহমানকে এরূপ ওসীয়ত করেন। (নাসাঈ)।
১৫২৩. মুহাম্মাদ ইব্ন সালামা আল-মুরাদী (রহঃ) .... উক্বা ইব্ন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রত্যেক নামাযের পর সূরা ফালাক ও সূরা নাস্ পাঠের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
হাদিস নং ১৫২৪যঈফ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سُوَيْدٍ السَّدُوسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُعْجِبُهُ أَنْ يَدْعُوَ ثَلاَثًا وَيَسْتَغْفِرَ ثَلاَثًا .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
১৫২৪. আহমদ ইব্ন আলী (রহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এটা পছন্দনীয় ছিল যে, তিনি তিন বার দুআ পাঠ করতেন এবং তিন বার ইস্তেগফার পাঠ করতেন। (নাসাঈ)।
১৫২৫. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ...... আস্মা বিনতে উমায়েস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দিব না, যা তুমি বিপদাপদের সময় পাঠ করতে পার? অতঃপর তিনি বলেনঃ আল্লাহু, আল্লাহু রাব্বী, লা উশ্রিকু বিহি শায়আন। (নাসাঈ, ইব্ন মাজা)।
হাদিস নং ১৫২৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، وَعَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، وَسَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، أَنَّ أَبَا مُوسَى الأَشْعَرِيَّ، قَالَ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَلَمَّا دَنَوْا مِنَ الْمَدِينَةِ كَبَّرَ النَّاسُ وَرَفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ لاَ تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِبًا إِنَّ الَّذِي تَدْعُونَهُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ أَعْنَاقِ رِكَابِكُمْ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا مُوسَى أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ " . فَقُلْتُ وَمَا هُوَ قَالَ " لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ " .
বর্ণনাকারী: আবূ ‘উসমান (রহঃ)
১৫২৬. মূসা ইব্ন ইসমাঈল (রহঃ) ..... আবু উছমান আল্-নাহ্দী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মূসা আল্-আশ্আরী (রাঃ) বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে ছিলাম। অতঃপর তাঁরা মদীনার নিকটবর্তী হলে লোকেরা উচ্চস্বরে তাক্বীর ধ্বনি (আল্লাহু আকবার) দেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তো কোন বধীর এবং অনুপস্থিত ব্যক্তিকে আহবান করছ না, বরং তোমরা (ঐ মহান আল্লাহকে) স্মরণ করছ, যিনি তোমাদের শাহ্ রগেরও নিকটবর্তী। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবূ মূসা! আমি কি তোমাকে এমন একটি জিনিসের কথা অবহিত করব, যা জান্নাতের ভান্ডার (খাজানাহ) স্বরূপ? তখন আমি বলিঃ সেটা কি? তিনি বলেনঃ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
হাদিস নং ১৫২৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، أَنَّهُمْ كَانُوا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُمْ يَتَصَعَّدُونَ فِي ثَنِيَّةٍ فَجَعَلَ رَجُلٌ كُلَّمَا عَلاَ الثَّنِيَّةَ نَادَى لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ . فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكُمْ لاَ تُنَادُونَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِبًا " . ثُمَّ قَالَ " يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ " . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .
বর্ণনাকারী: আবূ মূসা আল- আশ'আরী (রাঃ)
১৫২৭. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ...... আবু মূসা আশ্আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তাঁরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাথে পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ কালে এক ব্যক্তি উচ্চকণ্ঠে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর” ধ্বনি দেয়। এতদ্শ্রবণে তিনি বলেনঃ তোমরা বধির বা গায়েব সত্তাকে ডাকছ না। অতঃপর তিনি বলেনঃ হে আব্দুল্লাহ্ ইব্ন কায়েস! অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ অর্থে বর্ণিত হয়েছে।
হাদিস নং ১৫২৮সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، مَحْبُوبُ بْنُ مُوسَى أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، بِهَذَا الْحَدِيثِ وَقَالَ فِيهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَا أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ " .
বর্ণনাকারী: আবূ মূসা আল- আশ'আরী (রাঃ)
১৫২৮. আবূ সালেহ (রহঃ) ...... আবূ মূসা আশ্আরী (রাঃ) হতে পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, অতঃপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ হে জনগণ! তোমরা নিম্নস্বর ব্যবহার করে তোমাদের নফ্সের প্রতি সুবিচার কর। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইব্ন মাজা)।
১৫২৯. মুহাম্মাদ ইব্ন রাফে (রহঃ) ...... আবু সাঈদ খুদ্রী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি বলে, আমি রব হিসাবে আল্লাহকে, দীন হিসেবে ইসলামকে এবং রাসূল হিসাবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে পেয়ে সন্তুষ্ট তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে। (নাসাঈ, মুসলিম)।
হাদিস নং ১৫৩০সহিহ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَلَّى عَلَىَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
১৫৩০. সুলায়মান ইব্ন দাউদ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আমার উপর এক বার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)
১৫৩১. আল্-হাসান ইব্ন আলী (রহঃ) ...... আওস ইব্ন আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের জন্য উৎকৃষ্ট দিন হলো জুমআর দিন। তোমরা ঐ দিনে আমার উপর অধিক দরূদ পাঠ করবে। কেননা তোমাদের দরূদ আমার নিকট পেশ করা হয়ে থাকে। রাবী বলেন, সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার দেহ মোবারক চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে মাটির সাথে মিশে যাবে, তখন কিরূপে তা আপনার সামনে পেশ করা হবে? জবাবে তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলা যমীনের জন্য নবীদের শরীরকে হারাম করে দিয়েছেন। (নাসাঈ, ইব্ন মাজা)।
১৫৩২. হিশাম ইব্ন আম্মা (রহঃ) .... জাবের ইব্ন আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা নিজেদের অভিশাপ দিও না। তোমরা তোমাদের সন্তান-সন্ততিদের অভিশাপ দিও না, তোমরা তোমাদের চাকর-চাকরানীদের বদ্-দুআ কর না এবং তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদের প্রতি বদ্-দু’আ কর না। কেননা এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে যখন দু’আ (বা বদ-দু’আ) করলে তা কবুল হয়ে যায়। কাজেই তোমার ঐ বদ্-দু’আ যেন ঐ মুহূর্তের সাথে মিলে না যায়। (মুসলিম)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ نُبَيْحٍ الْعَنَزِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ امْرَأَةً، قَالَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَلِّ عَلَىَّ وَعَلَى زَوْجِي . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " صَلَّى اللَّهُ عَلَيْكِ وَعَلَى زَوْجِكِ " .
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
১৫৩৩. মুহাম্মাদ ইব্ন ঈসা (রহঃ) ..... জাবের ইব্ন আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা একজন মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে বলেন, আমার ও আমার স্বামীর জন্য দু’আ করুন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমার এবং তোমার স্বামীর উপর রহম করুন। (তিরমিযী)।
১৫৩৪. রাজা ইবনুল মুরাজ্জা (রহঃ) .... আবু দার্দা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ যখন কেউ তার মুসলিম ভ্রাতার জন্য তার অনুপস্থিতিতে দু’আ করে তখন ফেরেশ্তাগণ বলেন, আমীন! তখন দু’আকারীর জন্যও অনুরূপ হবে। (মুসলিম)।
১৫৩৫. আহ্মাদ্ ইব্ন আমর (রহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইব্ন আমর ইব্নুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ঐরূপ দু’আ অতি সত্ত্বর কবুল হয়, যদি কেউ অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দু’আ করে। (তিরমিযী)।
হাদিস নং ১৫৩৬হাসান
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ثَلاَثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ لاَ شَكَّ فِيهِنَّ دَعْوَةُ الْوَالِدِ وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
১৫৩৬. মুসলিম ইব্ন ইব্রাহীম (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তিন ব্যক্তির দু’আ নিঃসন্দেহে কবুল হয়। পিতা-মাতার দু’আ (সন্তানের জন্য), মুসাফিরের দু’আ এবং ময্লুম (নির্যাতিত) ব্যক্তির দু’আ। (তিরমিযী, ইব্ন মাজা)।
১৫৩৭. মাহাম্মাদ ইব্নুল মুছান্না (রহঃ) ..... আবু বুরদা ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তাঁর পিতা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, যখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন সম্প্রদায়ের তরফ হতে কোনরূপ বিপদের আশংকা করতেন তখন এরূপ বলতেনঃ “ইয়া আল্লাহ! আমরা আপনাকে তাদের সাথে মুকাবেলার জন্য যথেষ্ট মনে করি এবং তাদের অত্যাচার-অবিচার হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।” (আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফী নুহূরিহিম ওয়া নাউযুবিকা মিন শুরূরিহিম)। (নাসাঈ)।
১৫৩৮. আব্দুল্লাহ্ ইব্ন মাস্লামা (রহঃ) ..... জাবের ইব্ন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইস্তিখারার পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষা দান করতেন, যেমন তিনি আমাদেরকে কুরআন পাঠ শিক্ষা দিতেন। তিনি আমাদের বলতেনঃ যখন তোমাদের কেউ কোনরূপ গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সম্মুখীন হবে, তখন এরূপ বলবেঃ
“আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বে-ইল্মিকা, ওয়া আস্তাক্দিরুকা বে-কুদ্রাতিকা, ওয়া আস্আলুকা মিন্ ফাদ্লিকাল্ আজীম। ফাইন্নাকা তাক্দিরু ওয়ালা আক্দিরু, ওয়া তালামু, ওয়ালা আলামু ওয়া আন্তা আল্লামুল গুয়ূব। আল্লাহুম্মা ফাইন্ কুন্ত তা’লামু ইন্না হাযাল আম্রা (এখানে নির্ধারিত সমস্যাটির বিষয় উল্লেখ করতে হবে) খায়রান্ লী ফী দীনী, ওয়া মা’আশী ওয়া মাআদী, ওয়া আকিবাতি আম্রী ফা-আক্দির্হু লী ওয়া য়াস্সিরহু লী ওয়া বারিক লী ফীহে। আল্লাহুম্মা ওয়া ইন্ কুন্তা তা’লামুহু শার্রান্ লী মিছ্লাল্ আওয়াল ফা-আসরিফ্নী আনহু ওয়া আসরিফহু আন্নী ওয়াকদুর লী আল্-খায়রা হায়ছু কানা ছুম্মা আরদিনী বিহি, আও কালা ফী আজিলি আমরী ওয়া আযেলিহি।
(বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ, ইব্ন মাজা)।[১]
৩৭৩. আশ্রয় প্রার্থনা করা।
হাদিস নং ১৫৩৯যঈফ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَعَوَّذُ مِنْ خَمْسٍ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَسُوءِ الْعُمْرِ وَفِتْنَةِ الصَّدْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ .
বর্ণনাকারী: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
১৫৩৯. উছ্মান ইব্ন আবু শায়বা (রহঃ) .... উমার ইব্নুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম পাঁচটি বিষয় হতে আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় প্রথনা করতেন। ভীরুতা হতে, কৃপণতা হতে, বায়োবৃদ্ধি জনিত দুরবস্থা হতে অন্তরের মধ্যে সৃষ্ট ফিত্না (হিংসা-বিদ্বেষ) হতে এবং কবরের আযাব হতে। (নাসাঈ, ইব্ন মাজা)।
১৫৪০. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ..... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি শারীরিক দুর্বলতা হতে, অলসতা হতে, কাপুরুষতা হতে, কৃপণতা হতে এবং বায়োবৃদ্ধিজনিত ক্লান্তি বা কষ্ট হতে এবং আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি কবরের আযাব হতে, এবং আমি আরো আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি জীবন-মৃত্যুর ফিত্না হতে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
১৫৪১. সাঈদ ইব্ন মান্সূর এবং কুতায়বা ইব্ন সাঈদ (রহঃ) ...... আনাস ইব্ন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের খাদেম ছিলাম। আমি তাঁকে অধিকাংশ সময় বলতে শুনতামঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুশ্চিন্তা ও ভাবনা হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং করভার হতে, মানুষের অহেতুক প্রধান্য হতে তোমার আশ্রয় কামনা করছি (অর্থাৎ আমি যেন যালিম বা মাযলুম না হই)। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
১৫৪২. আল্-কানবী (রহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে কুরআনের সূরার মত এই দুআটি শিক্ষা দিতেনঃ ইয় আল্লাহ! আমি তোমার নিকট জাহান্নামের আযাব হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি তোমার নিকট কবরের আযাব হতে মুক্তি কামনা করছি, আমি তোমার নিকট মিথ্যুক দাজ্জালের ফিত্না হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং আমি তোমার নিকট জীবন-মৃত্যুর ফিত্না হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
হাদিস নং ১৫৪৩সহিহ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو بِهَؤُلاَءِ الْكَلِمَاتِ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ وَعَذَابِ النَّارِ وَمِنْ شَرِّ الْغِنَى وَالْفَقْرِ " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
১৫৪৩. ইব্রাহীম ইব্ন মূসা (রহঃ) .... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরূপ দু’আ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঐরূপ ফিত্না হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করেছি, যা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায় এবং দোযখের আযাব হতে, এবং দরিদ্রতা ও প্রাচুর্যের ক্ষতি হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইব্ন মাজা)।
১৫৪৪. মূসা ইব্ন ইসমাঈল (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরূপ বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দরিদ্রতা হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তোমার কম অনুকম্পা ও অসম্মানী হতে এবং আমি কারো প্রতি জুলুম করা হতে বা নিজে অত্যাচারিত হওয়া থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (নাসাঈ, ইব্ন মাজা)।
১৫৪৫. ইব্ন আওফ্ (রহঃ) .... ইব্ন উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের অন্যতম একটি দু’আ এই যেঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই তোমার নিয়ামত অপসারণ হতে, ভালোর পরিবর্তে মন্দ হতে, আকস্মিক বিপদাপদ হতে এবং ঐ সমস্ত ক্রিয়াকান্ড হতে যা তোমার অসন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যায়। (মুসলিম)।
১৫৪৬. আমর ইব্ন উছমান (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরূপ দু’আ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই, তোমার বিরুদ্ধাচরণ করা হতে, নিফাক্ (মুনাফিকী) হতে, অসৎ চরিত্রতা হতে বাঁচার জন্য। (নাসাঈ)।
১৫৪৭. মুহাম্মাদ ইব্নুল আলা (রহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরূপ দু’আ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কষ্টদায়ক ক্ষুধা হতে পরিত্রাণ চাচ্ছি, কেননা তা অত্যান্ত মারাত্মক এবং আমি তোমার নিকট (আমানতের) খিয়ানত হতে পরিত্রাণ চাচ্ছি, কেননা এটা একটা ক্ষতিকর স্বভাব। (নাসাঈ)।
১৫৪৮. কুতায়বা ইব্ন সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি চারটি বিষয় হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি- ১। এমন ইল্ম যা উপকারী নয়; ২। এমন কল্ব যা (আল্লাহর ভয়ে) ভীত নয়; ৩। এমন নফ্স হতে যা পরিতৃপ্ত নয় এবং ৪। এরূপ দু’আ হতে যা কবুল হয় না। (নাসাঈ, ইব্ন মাজা, মুসলিম, তিরমিযী)।
১৫৪৯. মুহাম্মদ ইব্নুল্ মুতাওয়াক্কিল (রহঃ) ..... আনাস্ ইব্ন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরূপে দু’আ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এমন নামায (আদায়) হতে তোমার আশ্রয় কামনা করি, যা কোন উপকারে আসে না। তিনি এতদ্ব্যতীত অন্য দু’আও করতেন।
১৫৫০. উছমান ইব্ন আবু শায়বা (রহঃ) .... ফারওয় ইব্ন নাওফাল (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম কিরূপে দু’আ করতেন? তিনি বলেন, তিনি বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঐ সমস্ত অপকর্ম হতে তোমার আশ্রয় কামনা করছি, যা আমি করেছি এবং যা এখনও করি নাই। (মুসলিম, নাসাঈ, ইব্ন মাজা)।
১৫৫১. আহমদ ইব্ন হাম্বল (রহঃ) ..... শাক্ল্ ইব্ন হুমায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের খিদমতে আবেদন করি যে, আমাকে দু’আ শিক্ষা দেন। তখন তিনি বলেনঃ তুমি বল, ইয়া আল্লাহ! আমি কর্ণের অপকর্ম হতে, চোখের দুষ্টামি হতে, যবানের ধৃষ্টতা হতে, কলবের অপসৃষ্টি হতে, বীর্যের অপব্যবহার হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (তিরমিযী, নাসাঈ)।
১৫৫২. উবায়দুল্লাহ্ (রহঃ) ..... আবুল ইয়ুস্র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরূপ দু’আ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঘর-বাড়ী ভেংগে চাপা পড়া হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, উচ্চ স্থান হতে পতিত হওয়ার ব্যাপার হতে, পানিতে ডুবে, আগুনে জ্বলা ও অধিক বায়োবৃদ্ধি হতে তোমার আশ্রয় কামনা করছি এবং আমি তোমার নিকট মৃত্যুর সময় শয়তানের প্ররোচনা হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার নিকট যুদ্ধের ময়দান হতে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যু হতে তোমার আশ্রয় কামনা করি এবং আমি তোমার নিকট (সাপ, বিচ্ছুর) দংশনজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করা হতে বাঁচার জন্য তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (নাসাঈ)।
১৫৫৫. আহ্মাদ ইব্ন উবায়দুল্লাহ (রহঃ) ...... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে আবু উমামা (রাঃ) নামক জনৈক আনসার সাহাবীকে দেখতে পান। তিনি তাঁকে (আনসারীকে) জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আবু উমামা! আমি তোমাকে নামাযের সময় ব্যতীত মসজিদে উপবিষ্ট কেন দেখেছি? তিনি বলেন, সীমাহীন দুশ্চিন্তা ও ঋণভার জর্জরিত হাওয়ার কারণে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! (আমি এই অসময়ে মসজিদে উপনীত হয়ে তা থেকে আল্লাহর নিকট মুক্তি কামনা করছি)। তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাকে এমন বাক্য শিক্ষা দিব না তুমি তা উচ্চারণ করলে আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দূরীভূত করবেন এবং তোমার কর্জ পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন। এতদ্শ্রবণে আমি বলিঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্।
তিনি বলেনঃ তুমি সকাল ও সন্ধায় এরূপে বলবেঃ "আল্লাহুম্মা ইন্নী আ’উযুবিকা মিনাল্ হাম্মে ওয়াল্ হুয্নে, ওয়া আ’উযু বিকা মিন্ গালাবাতিদ্-দায়নে ওয়া কাহ্রির রিজাল।" (অর্থাৎ, ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট যাবতীয় চিন্তা-ভাবনা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি তোমার নিকট দুর্বলতা ও অলসতা হতে আশ্রয় কামনা করছি, তোমার নিকট কাপুরুষতা ও কৃপণতা হতে নাজাত কামানা করছি এবং আমি তোমার নিকট ঋণভার ও মানুষের দুষ্ট প্রভাব হতে পরিত্রাণ চাচ্ছি।"
আবু উমামা (রাঃ) বলেন, অতঃপর ঐরূপ আমল করি, যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাআলা আমার চিন্তা-ভাবনা বিদূরিত করেন এবং ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন।
৪৯৯. মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর .... আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিংগা ধ্বনি করে লোকদের নামাযের জন্য একত্র করার নির্দেশ প্রদান করেন তখন একদা আমি স্বপ্নে দেখি যে, এক ব্যক্তি শিংগা হাতে নিয়ে যাচ্ছে। আমি তাকে বলি, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি কি শিংগা বিক্রয় বরবে? সে বলে, তুমি শিংগা দিয়ে কি করবে? আমি বলি, আমি তার সাহায্যে নামাযের জামাআতে লোকদের ডাকব। সে বলল, আমি কি এর উত্তম কোন সন্ধান তোমাকে দেব না? আমি বলি, হাঁ। রাবী বলেন, তখন সে বলল, তুমি এইরূপ শব্দ উচ্চারণ করবেঃ
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্।”
রাবী রলেন! অতঃপর ঐ স্থান হতে ঐ ব্যক্তি একটু দুরে সরে গিয়ে দাঁড়ায় এবং বলে- তুমি যখন নামায পড়তে দাঁড়াবে তখন বলবেঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; আশহাদুআল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্; হাইয়া আলাল-ফালাহ্; কাদ কামাতিস্ সালাহ্; কাদ কামাতিস্-সালাহ্, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”। অতঃপর ভোর বেলা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাযির হয়ে তাঁর নিকট আমার স্বপ্নের বর্ণনা করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন এটা অবশ্যই সত্য স্বপ্ন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তুমি বিলালকে ডেকে তোমার সাথে নাও এবং তুমি যেরূপ স্বপ্ন দেখেছ- তদ্রুপ তাকে শিক্ষা দাও যাতে সে (বিলাল) ঐরূপে-আযান দিতে পারে। কেননা তাঁর কন্ঠস্বর তোমার স্বরের চাইতে অধিক উচ্চ।
অতঃপর আমি বিলাল (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে দাঁড়াই এবং তাকে আযানের শব্দগুলি শিক্ষা দিতে থাকি এবং তিনি উচ্চারণ পূর্বক আযান দিতে থাকেন। বিলালের এই আযান ধ্বনি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) নিজ আবাসে বসে শুনতে পান। তা শুনে উমার (রাঃ) এত দ্রুত পদে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদ্মতে আগমন করেন যে, তাঁর গায়ের চাঁদর মাটিতে হেচঁড়িয়ে যাচ্ছিলো। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে উপস্থিত হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ! যে মহান সত্তা আপনাকে সত্য নবী হিসাবে প্রেরণ করেছেন, আমিও ঐরূপ স্বপ্ন দেখেছি যেরূপ অন্যরা দেখেছে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। (ইবনু মাজাহ, তিরমিযী, মুসলিম)।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সাইদ ইবনুল মূসাইয়্যাব ও আবদুল্লাহ ইবনু যায়েদের সূত্রে ইমাম যুহুরী (রহঃ) হতেও এইরূপ হাদীছ বর্ণিত আছ। যুহরী থেকে ইবনু ইসহাকের সূত্রে “আল্লাহু আকবার, চারবার উল্লেখ আছ। যুহরী থেকে মামার ও ইউনুসের সূত্রে “আল্লাহু আকবার” দুই বার উল্লেখ আছে, তাঁরা চারবার উল্লেখ করেননি।
বর্ণনাকারী: ইবনু আবূ লায়লাহ (রহঃ)
৫০৬. আমর ইবনু মারযূক .... ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) বলেন, নামাযের ব্যাপারে (কিবলার) পরিবর্তন তিনবার সাধিত হয়েছে। রাবী বলেন, আমাদের সাথীরা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ মুসলিমগণ একত্রিত হয়ে জামাআতে নামায আদায় করায় আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি। আমি প্রথমাবস্থায় এরূপ চিন্তা করি যে, লোকদের নামাযের আহবানের জন্য বাড়ীতে বাড়ীতে কিছু লোক প্রেরণ করি আমি এরূপও ইরাদা করি যে, লোকদেরকে জামাআতে আনার জন্য কিছু সংখ্যক লোককে (মহল্লার) উঁচু স্থানে উঠিয়ে দিব, যারা তাদেরকে নামাযের জন্য আহবান করবে, অথবা তারা শিংগা ধ্বনির মাধ্যমে লোকদেরকে জামাআতে আহবান করার চিন্তাও করেছিল।
রাবী বলেন, এমতাবস্থায় আনসারদের মধ্য হতে একজন এসে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোকদেরকে জামাআতে-হাযির করার ব্যাপারে আপনাকে উৎকণ্ঠিত দেখার পর রাতে আমি স্বপ্নে দেখি যে এক ব্যক্তি দুটি হলুদ বর্ণের কাপড় পরিধাণ করে মসজিদের সম্মুখে আযান দিচ্ছেন। আযান শেযে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর তিনি ইকামত দেন এবং এখানে তিনি আযানের শব্দের সাথে “কাদ কামাতিস-সালাহ” শব্দটি যোগ করেন। অতঃপর তিনি বলেন- মানুষের মিথ্যা অপবাদের ভয় যদি আমার না থাকত তবে নিশ্চয়ই আমি বলতাম, আমি তা জাগ্রত অবস্থায় দেখেছি- স্বপ্নে নয়।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা তোমাকে উত্তম স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তুমি বিলালকে নির্দেশ দাও যেন সে আযান দেয়। তখন উমার (রাঃ) বলেন, আমিও ইতিপূর্বে তার অনুরূপ স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু আমার আগেই অনুরূপ স্বপ্নের কথা ব্যক্ত হওয়ার কারণে আমি তা প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করি। রাবী বলেন, ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে যখন নামাযের হুকুম-আহকাম পরির্ণভাবে নাযিল হয় নাই তখন সাহাবায়ে কিরামদের মধ্য হতে যারা নামায আরম্ভের পরে আসতেন তারা জিজ্ঞেস করতেন- নামাযের কতটুকু আদায় করা হয়েছে। অতঃপর তাদের অবহিত করা হত। যারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে প্রথম হতে নামাযে শরীক হতেন তারা এক অবস্থায় থাকতেন এবং যারা পরে আসতেন তাদের কেউ দাঁড়ান, বসা বা রুকুর অবস্থায় থাকতেন।
ইবনুল মুছান্না, আমর, হুসায়েন, ইবনু আবূ লায়লা হতে বর্ণনা করেছেন যে, একদা মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) জামাআত শুরু হওয়ার পর মসজিদে আসেন। শোবা- হুসায়েন হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি তাকে এক অবস্হায় দেখতে পাই নাই- হতে, অনুরূপভাবে তোমরা কর…পর্যন্ত বর্ণনা করেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, অতঃপর আমি আমরের হাদীছ বর্ণনা করি রাবী বলেন, মুআয (রাঃ) মসজিদে আগমনের পর উপস্হিত সাহাবীগণ তাকে ইশরা করে বলেন…।
শোবা বলেন, আমি হুসায়েনের নিকট শুনেছি, মুআয (রাঃ) বলেন, আমি তাকে নামাযের মধ্যে যে অবস্থায় পাই সে অবস্থায় তাঁর সাথে নামায আরম্ভ করব। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলেনঃ মুআয তোমাদের জন্য একটি উত্তম সুন্নাত সৃষ্টি করেছে (অর্থাৎ সর্বপ্রথম ইমামের সাথে কিরূপে নামায আদায় করতে হয়, তা ভালভাবে দেখিয়েছেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে প্রাপ্ত নামায জামাআতে আদায়ের পর অবশিষ্ট নামায পরে আদায় করেন)। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরাও এরূপ করবে। রাবী বলেন, আমাদের সাথীরা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদ্বীনায় আসার পর তাদেরকে প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখার নির্দেশ দেন। অতঃপর রমযানের রোযার আয়াত নাযিল হয় সাহাবীদের ইতিপূর্বে রোযা রাখার অভ্যাস না থাকায় তা তাঁদের জন্য খুবই কষ্টকর হয়।
অতঃপর যারা রোযা রাখতে অক্ষম তাঁরা মিসকীনদের আহার করাতেন। অতঃপর এই আয়াত নাযিল হয়ঃ(فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ) “তোমাদের মধ্যে যারা রমযান মাস পাবে তারা যেন অবশ্যই রোযা রাখে।” মুসাফির ও রোগগ্রস্ত ব্যক্তির জন্যই কেবলমাত্র রমযান মাসের রোযা না রাখার অনুমতি ছিল (কিন্তু অন্য সময়ে এর কাযা আদায় করতে হত)। এভাবে তাদেরকে রমযানের রোযা রাখার নির্দেশ দেয়া হয় ইসলামের প্রথম যুগে রোযার নিয়ম এইরূপ ছিল যে, ইফতারের পর খাওয়ার পূর্বে কোন ব্যক্তি যদি কোন কারণ বশত ঘুমিয়ে পড়ত তবে তার জন্য পরের দিন সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত কোনরূপ খাদ্য গ্রহণ নাজায়েয ছিল।
এক রাতে উমার (রাঃ) তাঁর স্ত্রীর নিকট সহবাসের ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি বলেন, আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন উমার (রাঃ) এরূপ ধারণা করেন যে, তাঁর স্ত্রী মিথ্যা বাহানা করে তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর সাথে সংগম করেন। অপরপক্ষে একজন আনসার সাহাবী ঘরে ফিরে খাদ্য চাইলে তাঁর পরিবারের লোকেরা বলেন, ধৈর্য ধরুন, আমরা খাবার প্রস্তুত করে আনছি। ইত্যবসরে তিনি না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন পরের দিন ভোরে এই আয়াত নাযিল হয়ঃ (أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ) “রমযান মাসের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের বিবিদের সাথে সংগম হালাল করা হয়ছে।”
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি গরীব। তথাপি হাদীসটির সানাদ ভাল।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
সহীহঃ মুসলিম। কিন্তু (ছয় রাক’আত) কথাটি শায। মাহফুয হচ্ছেঃ (চার রাক’আত)। যেমন সামনে আসছে।
বর্ণনাকারী: সা'দ ইবন হিশাম (রহঃ)
১৩৪২. হাফস ইবন উমার (রহঃ) .... সা’দ ইবন হিশাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর (বসরা) হতে মদীনায় আমার যে যমীনটি ছিল, তা বিক্রয় করে যুদ্ধস্ত্র খরিদের উদ্দেশ্যে মদীনায় গমন করি এবং এ কাজে আমার উদ্দেশ্য ছিল (রোমকদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। ঐ সময়ে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সাথে সাক্ষাৎ করি। তখন তাঁরা বলেনঃ আমাদের মধ্যেকার ছয় ব্যক্তিও তোমার ন্যায় স্বীয় স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে যুদ্ধে গমনের ইচ্ছা করেছিল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করেন এবং ইরশাদ করেনঃ “তোমাদের জন্য আল্লাহ্র রাসূলের জীবনে উত্তম আদর্শ নিহিত আছে।"
রাবী বলেনঃ অতঃপর আমি ইবন আব্বাস (রাঃ) এর খিদমত উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিতির নামায আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাস করি। তিনি বলেনঃ এসম্পর্কে যিনি সবচাইতে অভিজ্ঞ আমি তোমাকে তাঁর ঠিকানা প্রদান করছি। কাজেই তুমি এব্যাপারে জানার জন্য আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট গমন কর। তখন আমি তাঁর নিকট গমনের জন্য ইবন আফলাহকে অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। এমতবস্থায় আমি তাঁকে আল্লাহ্র নামে শপথ প্রদান করে আমার সাথে যেতে অনুরোধ করি। তখন হাকীম ইবন আফলাহ আমাকে নিয়ে আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে গমন করে সাক্ষাৎের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেন।
আয়েশা (রাঃ) জিজ্ঞাসা করেনঃ কে? জবাবে তিনি বলেনঃ (আমি) হাকীম ইবন আফলাহ। তখন তিনি বলেনঃ তোমার সঙ্গী কে? আমি বলিঃ সা’দ ইবন হিশাম। তখন তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ ঐ হিশাম না কি, যিনি ওহোদের যুদ্ধে মারা যান? তখন হাকিম বলেনঃ হ্যাঁ। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ হিশাম ইবন আমের তো অত্যন্ত ভালো লোক ছিল। তখন সাদ বলেনঃ হে উম্মুল মুমেনীন! আপনি আমার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের পুতঃ চরিত্র সম্পর্কে কিছু বলুন। তিনি বলেনঃ তুমি কুরআন পাঠ কর না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র জীবন মুকুরই ছিল কুরআন।
আমি তাঁকে বলিঃ আপনি তাঁর রাত জাগরন সম্পর্কে কিছু বলুন। তিনি বলেনঃ তুমি কি সূরা মুযযামমিল পাঠ কর নাই? জবাবে আমি বলিঃ হ্যাঁ। তিনি (আয়েশা) বলেনঃ এই সূরায় প্রথমাংশ যখন নাযিল হয়, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ দীর্ঘ বারটি মাস সারা রাত এমনভাবে দাঁড়িয়ে (নামাযে) কাটাতেন যে, তাঁদের পা ফুলে যেত। অতঃপর ঐ সূরার শেষাংশ অবতীর্ণ হলে, এই রাত্রির দাঁড়ান (অবস্থা) ফরয হতে নফলে পরিবর্তিত হয়।
অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিতির নামায পাঠ সম্পর্কে কিছু বলতে বললে তিনি ইরশাদ করেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম রাতে প্রথম নয় রাকাত নামাযের শেষ তিন রাকাত বিতির হিসাবে আদায় করে সালাম ফিরাতেন অতঃপর তিনি বসে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। কাজেই হে প্রিয় বৎস! এটাই তাঁর সর্বমোট এগার রাকাত নামায পাঠের বর্ণনা।
অতঃপর বয়োঃবৃদ্ধির কারণে তিনি সাত রাকাত নামাযের শেষ তিন রাকাত বিতির আদায় করে সালাম ফিরাতেন। অতঃপর বসে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। হে বৎস। এটাই তার নয় রাকাত নামায আদায়ের বর্ণনা। তিনি আরো বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা রাত জেগে থেকে কোন সময়ই ইবাদত করেন নাই এবং তিনি এক রাতে কুরআন খতম কোন সময়ই করেন নাই এবং রমযান ব্যতীত অন্য মাসে তিনি সারা মাস রোযা রাখেন নাই এবং যখন তিনি কোন নামায আদায় করা শুরু করতেন, তখন তিনি তা নিয়মিতভাবে আদায় করতেন। আর রাত্রিতে যখন তিনি কোন কারনবশত নিদ্রাছন্ন হয়ে পড়তেন, তখন তিনি দিনের বেলা ঐ বার রাকাত নামায আদায় করতেন।
রাবী বলেনঃ অতঃপর আমি ইবন আব্বাস (রাঃ) এর নিকট গমন করে এরূপ বর্ণনা করায় তিনি বলেনঃ আল্লাহ্র শপথ! এটাই আসল হাদীস। আমি যদি তাঁর (আয়েশা) সাথে আলাপ করতাম তবে এব্যাপারে আমি সরাসরি তাঁর সাথে বাক্যবিনিময় করতাম। অতঃপর রাবী বলেনঃ যদি আমি জানতাম যে, আপনি তাঁর সাথে বাক্যালাপ করেন তবে এটা আমি আপনার নিকট বর্ণনা করতাম না। (মুসলিম, নাসাঈ)।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
১. ‘ইসতিখারা’ অর্থ যাতে কল্যাণ নিহিত তা কামনা করা। জীবন যাপনের সাধারণ বিষয়াদিতে কেউ কোনরূপ সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগলে সে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হাওয়ার জন্য ইসতিখারা করবে। সহীহ বুখারী কিতাবুদ দাওয়াত –এ ৪৮ নং অনুচ্ছেদে আছেঃ
“রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আমাদের প্রতিটি বষয়ে ইসতিখারা শিক্ষা দিতেন ... তোমাদের মধ্যে কেউ কোন সমস্যায় পতিত হলে সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় করে এবং সালাত সমাপ্ত করে নিম্নোক্ত দু’আ করেঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের ভিত্তিতে তোমার নিকট হতে কল্যাণ কামনা করি এবং তোমার শক্তি চাই, তোমার মহান অনুগ্রহ প্রত্যাশা করি। সকল শক্তি তোমার, আমার কোন শক্তি নাই। তুমিই সবকিছু জান, আমি কিছুই জানি না। তুমি সকল আদৃশ্য বিষয় ভালভাবে জ্ঞাত। হে আল্লাহ! আমার দীন, জীবন বিধান এবং পরিণাম হিসাবে যদি তুমি এই কাজ আমার জন্য কল্যাণকর মনে কর তবে আমাকে তার শক্তি দাও। তুমি যদি মনে কর যে, এই কাজ আমার ধর্ম, আমার জীবন ও পরিণাম হিসাবে অকল্যাণকর – তবে আমার থেকে তা দূরে রাখ এবং তা থেকে আমাকে দূরে রাখ। আমার জন্য যেখানে কল্যাণ নিহিত তার আমাকে শক্তি দাও এবং তার মাধ্যমে আমাকে সন্তুষ্ট কর।“
অনুরূপভাবে বুখারী শরীফের কিতাবুত তাওহীদ, ১০ম অনুচ্ছেদে এই দু’আ বর্ধিত আকারে বর্ণিত হয়েছে। ইব্ন মাজা শরীফের “আল-ইসতিখারা” অনুচ্ছেদে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত হয়েছে, পৃঃ ৪৪০ (সুনান, খ. ১, মুহাম্মাদ ফু’আদ আবদুল বাকী কর্তৃক বিন্যস্ত)। এই দু’আ প্রায় অনুরূপ আকারে শীআ ইমামিয়্যা মাযহাবেও প্রচলিত আছে (দ্র. আবু জাফার আল কুম্মী, মান লা ইয়াহ্দুরুহুল ফাকীহ খ. ৩৫৫ দারুল-কুতুব আল-ইসলামিয়্যা, নাজাফ ১৩৭৭ হি.)। শরীআতের নিয়ম অনুযায়ী এই ইসতিখারায় দুই রাকাত সালাতের পর আল্লাহ্ তাআলার নিকট কল্যাণ কামনা করে দু’আ করা হয়।
বিভিন্ন হাদীছ হতে এটি স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, মুসলিমগণ প্রাচীন কাল হতেই ইসতিখারার উপর আমল করে আসছিলেন। যখনই ইসতিখারা করা হোক না কেন, তা কেবল মাত্র একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের জন্য করতে হয়। কালের বিবর্তনে ইসতিখারার মধ্যে এমন কিছু নিয়ম প্রবিষ্ট হয়েছে, শরীআতের দৃষ্টিতে যার কোন সমর্থন পাওয়া যায় না। যেমন ইসতিখারার জন্য মসজিদে যাওয়া আবশ্যক ইত্যাদি। (স. স.)